বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অমানুষিক ব্যাপার স্যাপার -১

খবরোলার প্রতিবেদন


১) ম্যাসাচুসেটসের বেভার্লি এয়ারপোর্টে কদিন আগে রীতিমত হইহই কান্ড। একটি প্রশিক্ষণ বিমানের বাঁদিকের ডানার ওপর বসে পড়েছেন হাজারদশেক মৌমাছির এক বিশাল বাহিনী!! এহেন আচরণের হেতু? বিমানে চেপে ওড়ার শখ হয়েছে হয়ত বা! ডাক পড়ল পেশাদার মৌমাছিতাড়ুয়া উইলকিন্স সায়েবের। তিনি জানালেন উড়তে উড়তে নিশ্চয়ই রাণীমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন হয়েছিল, অনুগত প্রজাগণও যথারীতি রাণীমা কে অনুসরণ করেছেন।

২) হাওয়াই দ্বীপ নিবাসী শ্রী কার্ট কারিস সমুদ্রতটে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল অগভীর জলে সাঁতার কাটা ইঞ্চি দশেক একটি মাছ। হাত বাড়িয়ে ধরেও ফেললেন। কিন্তু মাছটার পেটটা যেন কেমন ফুলে রয়েছে! কিছু গিলে-টিলে ফেলেছে নাকি? ও মা! মাছের পেট থেকে বেরোল একটা সোনার ঘড়ি! কান্ড দেখুন, এত গোলমালের পরেও সে ঘড়ি একদম ঠিকঠাক সময় দিচ্ছে!!

৩) মিশিগানের এক সমাধিক্ষেত্রে এক দেশপ্রেমিক কাঠবিড়ালির খোঁজ মিলেছে। প্রতি বছর মেমোরিয়াল ডে-র দিনে সেখানে শায়িত সৈনিকদের সমাধির পাশে জাতীয় পতাকা পুঁতে দেওয়ার রেওয়াজ চলে আসছে। এবছরের অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ার পর সমাধিক্ষেত্রের কর্মীরা একদিন হঠাৎ লক্ষ্য করলেন অনেকগুলো খুঁটিতে কোনো পতাকা নেই! খানিক খোঁজাখুঁজির পরে রহস্য উন্মোচন হল। দেখা গেল এক কাঠবেড়ালি একটা খুঁটি থেকে পতাকা ছিঁড়ে নিজের বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। তার বাসায় উঁকি দিয়ে আরো অনেক পতাকার সন্ধান মিলল!



কিন্তু দাঁড়ান কমরেড। এইসব মিশিগান, ম্যাসাচুসেট্‌স,হাওয়াই নিয়ে ডোন্ট থিংক লোক্যালি । গুচ র এক গোপন আন্তর্জালিক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে এই আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি যে বিশ্বায়নের ভুবন জোড়া ফাঁদে এক ই সূত্রে বাঁধা।

 পরিচয় গুপ্ত প্রেম করছেন। খুবই ভালো খবর। মানে, যতটা ভালো হওয়া সম্ভব আর কি। যাঁরা এখনও পরিচয় গুপ্তকে চিনতে পারেন নি, তাঁদের জানাই, ওঁকে না চেনাই ভালো। বিখ্যাত বিপ্লবী সাময়িকী গুরুচন্ডালী'র একমাত্র স্টাফ রিপোর্টারের নাম পরিচয় গুপ্ত। গুরুচন্ডালীর সবই বৈপ্লবিক, মায় ফ্রিকোয়েন্সি পর্যন্ত। আপাতত র‌্যান্ডম ওয়াকের নিয়ম মেনে প্রকাশিত হচ্ছে। এহেন কাগজের জন্য এক্কেবারে খাপে খাপ সাংবাদিক পরিচয় গুপ্ত।

সে যাই হোক, তিনটে আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনা জুড়ে নিয়ে তদন্ত করতে হবে, এইরকম একটা কাজ নিয়ে পরিচয় এসেছেন। খুবই নি:শব্দে এসেছিলেন, অনেকটা প্রেমের মত। এখন কাজ সেরে পার্কে বসে বান্ধবীর সাথে সুখদু:খের কথা কইছেন। অদূরেই নদী বয়ে যাচ্ছে, মৃদুমন্দ বাতাস বইছে, মাথার ওপর ঝাঁকড়ামত একটা গাছে, উঁহু কাক না, একদল মৌমাছি ল্যাদ খাচ্ছে -- সব মিলিয়ে একটা অপার্থিব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এই অপূর্ব রোমান্টিক পরিবেশে বান্ধবী পরিচয়ের ডানহাতের কব্জিতে (আহা আপনারা উতলা হবেন না, রাখীপূর্ণিমা এখনও ঢের দূরে) একটা সোনার ঘড়ি পরিয়ে দিলেন। পরিচয় খুব জেমস বন্ডের ছবি দেখেন। আর একটু পরেই পরিচয় সবান্ধবে সাঁতার কাটবেন। তাই আমরা এখন অন্য প্রসঙ্গে যাচ্ছি।

গাছের ডাল থেকে লক্ষকোটি চোখ মেলে ম্যাডি ও তার দলবল সবই দেখছিলো। নাইন ইলেভেনের পরে আম্রিকা ভয়ানক কড়া হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে, আজকাল ওখানে ছাগলেরাও দাড়ি কামাতে শুরু করেছে। রাসায়নিক অস্ত্র তো দূর, লোকজন কাপড়কাচার সাবান পজ্জন্ত সাথে রাখতে ভয় পায়। তাই বেকায়দায় পড়ে আলকায়দা নতুন ফন্দী বের করেছে। তৈরী হয়েছে তিনটি নতুন শাখা - মৌমাছিদের নিয়ে মৌবহর, কাঠবেড়ালীদের নিয়ে স্কুইসাইড স্কোয়াড ( সংক্ষেপে এসেস) আর একদল বিরল প্রজাতির মাছ নিয়ে বিশেষ দূতবাহিনী - ফিসায়েঁ। তিনটে দলই দুর্দান্ত কাজ করছে। সরকার দুধের শিশুকে পর্যন্ত এক্স রে মেশিনে ঢোকাতে চাইছে, কিন্তু এদের বেলায় ট্যাঁ ফোঁ করার জো পাচ্ছে না। একটু এদিক ওদিক দেখলেই পরিবেশবিদ আর পশুপ্রেমীরা চিল্লিয়ে পাড়া মাথায় করে দিচ্ছেন। সবকিছু একেবারে পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে দেখে লাদেন (জীবিত বা মৃত) দারুণ খুশি।

এইবারে মূল ঘটনায় ফিরে আসি। ম্যাডি গাছের ডাল থেকে ভাবছিলো কয়েকদিন আগের কথা। ওদের ওপর ভার ছিলো একটা প্লেন হাইজ্যাক করার। প্ল্যানমাফিক ম্যাডি দলবল নিয়ে প্লেনের ডানায় গিয়ে বসেওছিলো। উদ্দেশ্য , প্লেন আকাশে উড়লেই ওরা সবাই মিলে সেটাকে ঠেলে ওদের ডেরায় নিয়ে যাবে। অ্যাক্সিডেন্টের ভয়ে পাইলট বাধাও দেবেনা, প্লেন নির্বিঘ্নে গন্তব্যে ( মানে কিনা যেখানে যাওয়ার কথাই নয়) পৌঁছে যাবে, এক্কেবারে ফুল প্রুফ প্ল্যান। কিন্তু মারে পরি রাখে কে? পরি হলো পরিচয়ের ডাকনাম। তিনি এয়ারপোর্টের অদূরেই কোথাও ঘাপটি মেরে দূরবীন নিয়ে বসেছিলেন। দূরবীনে প্লেনের ডানায় একটা প্রকান্ড হলদেটে ছাপ দেখে তক্ষুনি ব্যাপারটা বুঝে ফ্যালেন, ম্যাডি ও তার দলবল ধরা পড়ে যায়। তবে তাদের বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি, বিমানবন্দরেই এখন পশুপ্রেমীদের আপিস থাকে, ওরা মুহূর্তমধ্যে জড়ো হয়ে আন্দোলন করে মৌবহরকে মুক্ত করে দেন। সেই থেকে ম্যাডি হন্যে হয়ে পরিচয়কে খুঁজছে। আজ এসপার কি ওসপার!

স্কুইসাইড স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য সিলির ওপর দায়িত্ব ছিলো আম্রিকানদের সবচেয়ে গর্বের বস্তু, তাদের জাতীয় পতাকার ওপর আঘাত হানার। এসেসের কাজের বৈশিষ্ট্য হলো, ওরা এককভাবে কাজ করে। কোনো লিংক না রেখে এগোয়। সিলি তার নিজের মত করে কাজ শুরু করে দিয়েছিলো। সে তার সবথেকে কাছের সমাধিক্ষেত্র থেকে পতাকা চুরি করে এনে ঘরবোঝাই করে আসছিলো আজ বেশ কয়েকদিন। কিন্তু এখানেও পরিচয় নিজের সাফল্যের সাক্ষর রাখলেন। এক সন্ধ্যায় পরিচয় সমাধিক্ষেত্রে বসেছিলেন। আসে পাশে প্রচুর কাঠবেড়ালি খেলে বেড়াচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে পরি'র মনে হলো, ওদের মধ্যে একজন একটু বেশি নড়াচড়া করছে। ভালো করে দেখে বুঝলেন, ওর মধ্যে নির্ঘাৎ কোনো গোলমাল আছে। সেই বিশেষ কাঠবেড়ালিটাই সিলি। সে সবথেকে বেশি ছুটছিলো, কথাও বলছিলো ঢের বেশি। অত:পর সিলিকে ট্রেস করে তার ডেরায় গিয়ে পতাকা উদ্ধার হয়। বিশেষজ্ঞরা সিলিকে পরীক্ষা করে বলেছেন, দীর্ঘসময় পতাকাগুলোর সান্নিধ্যে থেকে সিলির মধ্যে কিছু বায়োলজিকাল পরিবর্তন এসেছে। খুব সম্ভবত পতাকাগুলো রেডিওঅ্যাক্টিভ। সিলিও পরে ছাড়া পেয়েছে। এখন সে মিশন কো-অর্ডিনেট করছে গাছতলায় বসে।

এর পরের গল্প অতি সংক্ষিপ্ত। পরি ও তার বান্ধবী সাঁতারের পোষাকে জলের দিকে এগোতেই ম্যাডি তার দলবল নিয়ে তাদের আক্রমণ করে। গাছতলায় রাখা পোষাকের সাথে নবলব্ধ সোনার ঘড়িখানাও ছিলো। সেটা নিয়ে সিলি চম্পট দেয়। জলের ধারেই অপেক্ষা করছিলো ফিসায়েঁর ডোরা। সে টপ করে ঘড়িটা গিলে নিয়েই সাঁতরাতে থাকে তাদের গোপন ডেরার দিকে। সেখানে এই ঘড়ির সাংকেতিক চিহ্ন ডিকোড করার জন্য আল কিলেস শাখার সদস্যরা বসেছিলো। কিন্তু বিধি বাম। এক সদাশয় ভদ্রলোক খেলাচ্ছলে ডোরাকে ধরে ফেল্লেন। তীরে এসেও ডুবে গেল সোনার ঘড়ি।

কিন্তু ওদিকে যে ম্যাডি এন্ড কোং এর তৈরি মধুর ডিব্বা নিয়ে এক ভালুমা আর ভালুছা আরেক কান্ড ঘটিয়ে বসে আছে। সেসব অমানুষিক ব্যাপার স্যাপার ক্রমশ: প্রকাশ্য।


জুলাই ৫, ২০০৯

201 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ মজারু 
শেয়ার করুন


Avatar: বিষ্ণু

Re: অমানুষিক ব্যাপার স্যাপার -১

বাকিটা ও পড়বো ।
Avatar: dd

Re: অমানুষিক ব্যাপার স্যাপার -১

হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা। (দুলে দুলে হাসির শব্দো)

খুব মজার তো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন