এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  সমাজ

  • অধিকারের দু'মুখ

    প্যালারাম লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সমাজ | ২১ নভেম্বর ২০২২ | ৯৪১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৬ জন)
  • (বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: এই সাবধানবাণীর পরেই, দেবদেবী, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাস্থান – এবম্বিধ বিষয়ে হ্যাজের অবতারণা করা হইবে। দিনক্ষণ দেখিয়া লিখিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই হ্যাজ – সরলচিত্তের পক্ষে পীড়াদায়ক, সুস্থ সামাজিকতার পক্ষে হানিকারক। অতএব স্বহস্তে নিজ-প্রাণ ও বিবেক লইয়া অগ্রসর হউন...)
    পুরোনো লেখা। কর্ণাটকে হিজাব ব্যানের সময়ে। গুরুজনের গুঁতো খেয়ে সাতপাঁচ ভেবে তুলে দিলাম।



    ব্যাপারটার শুরু বিএসসি-র প্রথম বছরে। পরের দিন বিশ্বকর্মাপুজো-উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকবে শুনে আমি হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছি দেখে একজন মহীরুহসম, কিন্তু approachable শিক্ষক বললেন, “এতে অবাক হওয়ার কী আছে? যাদবপুর কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় - তা জান না?”
    সে না হয় ভেবে দেখিনি, কিন্তু তা-ও, গোটা ইউনিভার্সিটিটা বন্ধ থাকবে সেই কারণে? আর কোনো স্কুল কলেজ বন্ধ থাক, না থাক?
    সেই যে একটা অস্বস্তির সূত্রপাত, তারপর অনেক হিমবাহই জল হয়ে বয়ে গেছে। অস্বস্তির কারণ, তাৎপর্য, সমাধান – সবই এতদিনে নানাভাবে ঘুরেফিরে গেছে মাথায়। বছর আষ্টেক আগে একবার তো মনে হয়েছিল – এই তো, এরপর আর এই তক্কো আসবে না মার্কেটে।
    যে হিসেবটা মনে ছিল না, তা হল – ‘জনতার স্মৃতিশক্তি’ – নেই বললেই চলে। তাই আজ আবার ত্যানা প্যাঁচাতে বসতে হল।

    প্রশ্নটা খুব সোজা হতে পারত –
    “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজো করা কি ঠিক?”
    নেহাতই নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন। হ্যাঁ বা না বলে কাটিয়ে দেওয়া যেত, যদি না আরও নানা রঙের প্রশ্ন এসে পড়ত সামনে –
    পুজোটা করছে কারা? প্রতিষ্ঠান? না ছাত্ররা? কোনো প্রতিষ্ঠানেরই কি তার মানুষগুলোকে ছাড়া কোনো অস্তিত্ব আছে? থামাবো বললেই হল – এত বছর ধরে চলে আসা আমাদের যে ঐতিহ্য – এর পূর্ণ অবক্ষয় না দেখে কি তোদের ঘুম আসে না, মিনসে? বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো এতদিন ধরে লকডাউনে কষ্ট পাচ্ছে, তাদের সরস্বতী পুজো নিয়েও ন্যাকামো?

    আবার,

    স্কুল-কলেজে সরস্বতী পুজো হলে, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকর্মা পুজো হলে, গণেশ পুজোও করতে হয়। হাজার হোক, ভদ্রলোক মহাভারতটা লিখেছিলেন – কাজকর্ম শুরুর আগের মঙ্গল-টঙ্গলের দাবিদাওয়াও তিনিই মেটান। ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটগুলোয় তো অবশ্যই!
    তাহলে হনুমান পুজোও করতে হয়। উত্তর ভারতের বহু জায়গায় গণেশের দায়িত্বগুলো হনুমানের কাঁধে ন্যস্ত। রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলগুলোয় প্রাত্যহিক উপাসনার সঙ্গে বিশেষ দিনগুলিতে ধুমধাম করে সারদাপুজো হোক – রামকৃষ্ণ তো তাঁকে আবার সরস্বতীর অবতার বলে ঘোষণা করেছিলেন... ইত্যাদি।

    সংখ্যালঘুদের কী হবে? তাহলে ঈদও হোক। ক্রিসমাস, ইস্টার বাদ যাবে কেন? ভারতের কোন অঞ্চলের স্কুল-কলেজ নিয়ে কথা হচ্ছে, তবে তার ওপর নির্ভর করবে – কোন উৎসব পালন করা হয়, আর কোনটা করা হয় না – তাই না? সেক্ষেত্রে, প্রতিটি অঞ্চলের সংখ্যালঘু বাচ্চাকাচ্চাদের বুঝিয়ে দেওয়া যাবে – তোমার সংস্কৃতির কোনো গুরুত্ব নেই। সেটা মহারাষ্ট্রে বাঙালি, বা দিল্লিতে তামিল বাচ্চা – যা-ই হোক না কেন?

    অন্য একটা অভিজ্ঞতার কথা বলে বোঝাই। তখন চেন্নাইয়ের Institute of Mathematical Sciences (IMSc)-এ পোস্টডক। প্রায় ৮-৯ মাস থাকা হয়ে গেছে সেখানে। কোনো ধর্মীয় উৎসবই প্রতিষ্ঠানের তরফে পালন করা হয়নি, একদিনের জন্যেও। নবীনবরণ-মার্কা ধর্মনিরপেক্ষ কিছু অনুষ্ঠান বাদে।
    ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর খ্যাতনামা ব্যক্তি, সকলের প্রিয়ও বটে – রামচন্দ্রন বালসুব্রমনিয়ন – লোকে আদর করে ডাকে, ‘বালু’।

    এক খুব গরম বিকেলে, আমাদের ইমেল করা হল – ‘আয়ুধা পূজা’ হবে। ডিরেক্টরমশাই নিজেই নাকি সেই পুজো করবেন। ইন্সটিটিউটের যে গ্যারাজটির মত আছে, সেখানে। এসব ইন্সটিটিউটে বিকেলের চা খাওয়ার সময়, সেমিনার-টেমিনার থাকলে, আরও কিছু খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সারাদিন ঘুপচি ঘরে ঘাড় গুঁজে থাকা ছেলেমেয়ের দল খানিক রেহাই পায়। তারে কয় – হাই-টি। ভারতবর্ষের নানা প্রান্ত, ধর্ম আর সংস্কৃতি থেকে আসা ছেলেমেয়েরা সেদিন সেই আয়ুধা পুজোর প্রসাদ হাই-টিতে গলাধঃকরণ করল। প্রসাদ খেতে খেতে মনে পড়ল, এখানে আসার সময় ভেবেছিলাম, রিসার্চ ইন্সটিটিউট – অন্তত এর ভেতরে ‘যস্মিন দেশে যদাচার’ পালন করতে হবে না।

    শব্দটা, আমাদের উচ্চারণে ‘আয়ুধ’, মানে অস্ত্র – পুজো। অর্থকে ইলাস্টিকের মত টানলে, পেন, খাতা, কি-বোর্ড, মায় গ্রাফিক্স কার্ডও ঢোকানো যায়। অর্থাৎ? সেই – বিশ্বকর্মা পুজোর মামাতো বোন। পরে পড়ে দেখেছি, এর কাছাকাছি সময়ে ‘সরস্বতী’ পুজোও হয় – অনেক সময় পুরোটাকেই ‘আয়ুধা পূজা’ বলে চালানো হয়, তাতে ‘পেরুমল’ ঠাকুরের মূর্তিও বসে।

    বেশি না হেজিয়ে, একটা কথা প্রথমেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল – বহুজাতিক, বহুভাষিক, বহু সংস্কৃতির এই দেশে – সরকারি উদ্যোগে কোনো ‘আচার’ বা ‘উপাসনা’র অনুষ্ঠান পালন (খেয়াল করুন, ‘ধর্ম’-আচরণের কথা বলিনি, কারণ এক্ষুনি লাঙ্গুল-বাহিনী এসে বোঝাতে বসবে – কোনটা ‘ধর্ম’ আর কোনটা নয়) বাঞ্ছনীয় নয়।

    প্রতিষ্ঠান সকলের। ব্যক্তিগত পরিসরে যে আচারই পালন করা হোক না কেন – উৎসব যদি ধর্মনিরপেক্ষ না হয়, তবে তা প্রতিষ্ঠান/সরকার আয়োজন করতে পারে না। নইলে, এর ভিত্তিতে শুরু হয় বিভাজন, আর বিভাজন ঠিক কোন জায়গায় এসে যে বিদ্বেষের সূত্রপাত করবে, সেটা বোঝা খুব সোজা নয়।

    ২০১৯ এর খবর, কেরালার বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ধর্মনিরপেক্ষ, সেখানে সরস্বতী পুজো করা যাবে না। [1]

    ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি বহুদিন ধরেই ক্যাম্পেন করছে, যে শিক্ষাঙ্গনে সরস্বতী পুজো করা যাবে না। তা নিয়ে তারা কী কী করছে, সেটা তাদের পাতায় গিয়ে দেখে নিন, একটি পোস্টের লিঙ্ক দিলাম।

    কথা এখানে শেষ নয়, সবে শুরু। এ তো নয় আমি বিধান দিলুম, যে স্কুল-কলেজে পুজো কেন, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানই হতে পারবে না।

    কী হবে, ছাত্রছাত্রীরা যদি চায়?
    সে চায় তো স্কুল কলেজের বাইরে গিয়ে করুক – ক্যাম্পাসে নয়।
    ক্যাম্পাস যদি আবাসিক হয়? যদি দূরদূরান্ত থেকে আসা কমবয়সীদের অন্য কোথাও যাওয়ার না থাকে?
    যদি তারা কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে করেই ফেলে অনুষ্ঠান?

    এ ঘটনা আজকের নয় – ১৯২৮ এর (ঘটনাটা আগেই জানা ছিল – আবার দেখলাম সরস্বতী পুজোর সময় ‘ব্রাহ্ম বনাম হিন্দু’ ঢাক বাজিয়ে প্রচার পাচ্ছে)।
    সিটি কলেজের সংখ্যাগুরু হিন্দু ছাত্রের দল কর্তৃপক্ষের অমতে সরস্বতী পুজো করায়, কলেজ তাদের জরিমানা করে। ছাত্রদের পক্ষ নেন সুভাষ বোস, কর্তৃপক্ষকে সমর্থন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লাও ঠ্যালা!
    “মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন, হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয় / সেই পথ লক্ষ্য করে, স্বীয় কীর্তিধ্বজা ধরে, আমরাও হব বরণীয়... “
    — আর তো চলবে না! কাকে ছেড়ে কোন মহাজনকে রাখবেন?

    আমাদের আগের সিদ্ধান্ত অনুসারে কি রবীন্দ্রনাথ ঠিক ছিলেন?
    (কর্তৃপক্ষ ‘ব্রাহ্ম’ বলে ভুল, আর নাস্তিক হলে ঠিক – তা তো নয়, ঠিক না ভুল সেটা অবস্থাই বলে দেবে)
    আপাতত, আমাদের সুবিধের জন্যে একটা উত্তর ঠিক করা যাক। কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই কোনো অনুষ্ঠান করতে পারে না, কিন্তু, পঠনপাঠন নষ্ট না করে, ছাত্রছাত্রীরা যদি চায় – আনন্দ করতেই পারে। এখানেও গোলমাল। আসছি।

    ভুল করেও ভাববেন না, এ সমস্যা পুরাকালের। এই সেদিনও দেখেছি – একটা গোটা হোস্টেলভরা ছাত্র গণেশপুজো করছে আইআইটি গুয়াহাটিতে। চাঁদা তুলতে এসেছে আমার ঘরে। আমি নাস্তিক। জিগালাম, ইন্সটিটিউট থেকে সাহায্য পাও? উত্তর এল – না। চাঁদা দিলাম। ছেলেমেয়েগুলো খাওয়াদাওয়া, ফূর্তি করবে – এটা আমার ‘অধর্মে’ সয়।

    উত্তর হ্যাঁ হলে, দিতাম না। কর্তৃপক্ষ যদি পুজোর ব্যবস্থা করত, বলতাম – হাওয়া দাও।
    কর্তৃপক্ষ যদি ছোকরাদের পুজো করতে না দিত? ঠিক সেই ভুল করত, যা সিটি কলেজ করেছিল।
    বেশ, তবে কি সুভাষ ঠিক ছিলেন?
    তাঁর তো বক্তব্য ছিল গণতান্ত্রিক – হিন্দু ছাত্ররা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অতএব তাদের কথা মেনে নেওয়া হোক।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতাই সমস্যার সমাধান? মোটেই না।

    এই উৎসব কত বড় করে হবে? একটা সম্ভাব্য উত্তর, দেখা হোক – সংখ্যাগরিষ্ঠ কী চায়। যে অনুপাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী ঠিক হোক – ধুমধাম করে হবে, নাকি ছোটখাটো করে।

    আবার গোলমাল। সেইসব উৎসবের কী হবে, যেসব দিনে সরকার ইচ্ছে করে, কায়দা করে আগে থেকে ছুটি দেয়? যেমন এবার হল? সারা দেশ জুড়ে চ্যাঁচামেচি শুনেও যে সরকারের টনক নড়ে না – তারা ঠিক সরস্বতী পুজোর একদিন আগে স্কুল-কলেজ খুলল – ঘোষিতভাবে পুজোর প্রস্তুতির জন্যে। ফলাফল – একটা হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ডে দেখি, সারা কলেজবিল্ডিং টুনিবাল্ব দিয়ে ঢাকা, মাইকে গান বাজছে – মেদিনীপুরের কলেজ, না কলকাতার বড়লোক ক্লাব – বোঝা দায়। একদম উপরে যে লিঙ্কে কেরালার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা আছে, সেই একই খবরে একথাও লেখা আছে, সেই একইদিন, “পাটনার একটি কলেজে আবার সরস্বতী পুজো উদ্‌যাপনে বার ডান্সারদের ডেকে এনে অনুষ্ঠান করানো হয়েছে।”
    সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি ঠিক হলে – এই বা মন্দ কিসে?

    এর উল্টোদিকে, সেইসব উৎসব – যাতে ছুটি থাকে না, কিন্তু বাড়িতে খুব নিষ্ঠাভরে পালন করা হয়? খান দুই পার্সি ছেলেমেয়ে যদি থাকে ক্লাসে? আদিবাসী ক’জন? তামিল কোনো একটি ছেলে – আয়ুধা পূজাও করতে দেব তো তাকে আমরা?

    দেব না, এটা প্রমাণিত। আমরা দেব পুজো করতে! হা হতোস্মি! কে কী জামাকাপড় পরবে, সেটাও যখন আমরা ঠিক করে দিই!
    কর্ণাটকের সরকার, মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা ব্যান করেছে। বলেছে, এমন পোষাক নাকি পরা যাবে না, যা law and order-এ ভাঙন ধরায়। সংহতি নষ্ট করে। [2], [3]

    এর সমর্থনে বানরসেনা ছাড়া আর কাউকেই বিশেষ কথা বলতে শোনা যাবে না। বানরসেনা আনন্দ পাবে, কারণ তারা ইতর।
    কিন্তু যদি কেউ বলে বসে – কপালে ছাই, হাতে মাদুলি, মাথায় হিজাব, কোমরে ঘুনসি – কোনকিছুই ইউনিফর্ম-এর অংশ নয়, তাই পরা যাবে না? তাতে কি ধর্মনিরপেক্ষতার জয়গান, নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতার হত্যা হবে?

    এদিকে পূর্ণ ব্যক্তিস্বাধীনতারও মুশকিল। IMSc-র আগের ডিরেক্টর ‘বালু’ যদি বলে বসেন, “আমি একজন ব্যক্তি হিসেবে এই ‘আয়ুধা’ পুজো করেছি, তাও গ্যারাজে – আর হাইটি-র খাওয়া স্পনসর করেছি।” – সেটা ঠিক হয়ে যাবে? প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ডিরেক্টরের নিয়ম যে আসলে প্রতিষ্ঠানেরই নিয়ম – সে কথা তাঁকে বোঝানো যাবে তো?

    তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, যাঁর জীবনের সবথেকে স্মরণীয় কীর্তি – শঙ্খ ঘোষকে না চেনা (এ লেখার সময়ে তেনার সিবিআই সংসর্গ, ঘনঘন হাসপাতাল-যাপন এবং শিক্ষা-কেলেঙ্কারিতে অংশগ্রহণের কথা জানা ছিল না) – দেশ ও দশের কল্যাণে, নিজের ব্যক্তিস্বাধীনতা খাটিয়ে, এভাবেই, ৩ কুইন্টাল ৩১ কেজি বেলকাঠ, ১ হাজার বেলপাতা ও ৬০ কেজি ঘি সহযোগে তারাপীঠে মহাযজ্ঞ করেছেন সম্প্রতি। [4]

    এ-ই প্রথম নয়, প্রতি বছর বোলপুরে, পূজ্য কালীমূর্তিকে সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়ার রেওয়াজ আছে তাঁর। প্রতি বছর বাড়তে থাকা সেই সোনার পরিমাণ? গত বছরের হিসেব – ৫৭০ ভরি। বাজারমূল্য ৩ কোটির বেশি। জনগণের খরচে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয় সেই গয়নার সুরক্ষায়।[5]

    তিনি সরকারে অধিষ্ঠিত দলের নেতা হিসেবে এ জিনিস করতে পারেন কি? কে বলবে একে, যে এ কাজ অনৈতিক? কে বাঁধবে বেড়ালের গলায় ঘণ্টি? সাধারণ ব্যক্তির সাহস আছে? কই, আমি তো কিছু বলে উঠতে পারিনি, ‘বালু’র আচরণের সমালোচনা করে!

    কী কর্তব্য তবে?

    অন্য যে কোনো বিষয়ের মতই, এই প্রশ্নের উত্তরেও দু’ভাবে পৌঁছনো যায়।
    ১) আমার মতে আদর্শ অবস্থাটা ঠিক কেমন, যাতে এই সমস্যাগুলোই আর না থাকে?
    ২) সেই অবস্থায় তো আর একদিনে পৌঁছনো যায় না; তদ্দিন কী করা উচিত, যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে?
    প্রথম প্রশ্নের উত্তর যেহেতু ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে, তাই প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা হবে। ২য়, আশ্চর্যজনকভাবে, সবার জন্যে সমান হওয়ার কথা।

    উদাহরণ: আমার ক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্নের উত্তর – আদর্শ দুনিয়ায় ধর্মাচরণ কেবল আনন্দ-উৎসবের অজুহাত মাত্র। ইনফোসিসের ট্রেনিং চলাকালীন যদি জুতোর রঙের সঙ্গে বেল্টের রঙ মিলিয়ে পরতে লোকের আপত্তি না থাকে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধর্মাচরণ করা যাবে না – এতে কোনো অসুবিধেই হওয়ার কথা নয়। ধর্মাচরণ, অন্য সব আচরণের মতই, ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে। বাকি সমস্ত ছোট ছোট fringe case-এর জন্যে কমন সেন্স প্রযোজ্য।
    IIT গুয়াহাটির যে গল্পটা বলেছিলাম, সেক্ষেত্রে ভেবে দেখতে হবে – আবাসিক ছাত্রদের হোস্টেলটাই ঘরবাড়ি, যতক্ষণ না তারা তাদের থাকার জায়গার বাইরে কেত্তন বের করে নিয়ে আসছে, ততক্ষণ কোনো অসুবিধে নেই। নিয়মশৃঙ্খলা? যেভাবে বছরের অন্যান্য দিনে মেনে চলা হয়।

    এ নেহাতই আমার আদর্শ দুনিয়া। গোঁড়া হিন্দুর মনে হতেই পারে, সারা পৃথিবী সনাতনী হয়ে যাবে, আর সক্কলে দিকে দিকে মহানন্দে ‘সরস্বতী মহাভাগে’ করবে। কিন্তু আসল গল্প তো ২য় প্রশ্নের উত্তরে।

    ২য়, এবং সবার জন্যে উপযুক্ত উত্তর – empathy
    ওই একটিই বিষয় আছে আমাদের, প্রাণীজগতে গর্ব করার মত।
    দ্রাবিড় আন্দোলনের জনক, থান্থাই পেরিয়ারের একটা কোট শুনেছিলাম পিএইচডি করার সময় (তার আগে ভদ্রলোকের শুধু নামই জানতাম): "If a larger country oppresses a smaller country, I'll stand with the smaller country. If the smaller country has majoritarian religion that oppresses minority religions, I'll stand with minority religions. If the minority religion has caste and one caste oppresses another caste, I'll stand with the caste being oppressed. In the oppressed caste, if an employer oppresses his employee, I'll stand with the employee If the employee goes home and oppresses his wife , I'll stand with that woman. Overall, Oppression is my enemy."

    এই একটি বাক্যই উত্তর, ওই ২য় প্রশ্নের।
    হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরতে বাধা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে, হিন্দুদের দুর্গাপুজো আটকানো যাবে না। কর্তৃপক্ষ পক্ষ নিতে পারেন না, কিন্তু নিজেদের পালন করা নিয়ম পড়ুয়াদের ওপর নির্বিচারে চাপিয়েও দিতে পারেন না। নিজের বিশ্বাস যা-ই হোক না কেন, নিয়ামকরা তা নিজ-প্রতিষ্ঠানে পালন করতে পারেন না। তা ক্ষমতার অপব্যবহার মাত্র। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সংখ্যাগরিষ্ঠতা – যে অজুহাতেই তা চাপানো হোক না কেন, সংখ্যালঘুর কাছে তা তেতো বিষেই পরিণত হবে। আবার ঘুরবে যন্ত্রণার চাকা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যতকে ঘৃণা করতে, ভয় পেতে শেখাবে।

    আর যা-ই হোক, নিজের প্রজাতির অন্য প্রাণীদের ধ্বংস করার লক্ষ্যে অজুহাত আমদানি করতে হোমো সেপিয়েন্সের জুড়ি নেই।



    [1] কেরালার খবর: এই লিঙ্কে
    [2] হিজাব: লিঙ্ক ১
    [3] হিজাব: লিঙ্ক ২
    [4] অনুব্রত: লিঙ্ক ১
    [5] অনুব্রত: লিঙ্ক ২

  • আলোচনা | ২১ নভেম্বর ২০২২ | ৯৪১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | 2401:4900:1cd0:1280:10c8:61e3:c71f:381e | ২১ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৪৫513966
  • লেখাটা ভীষন ভালো লাগলো। অনেক দিন পর, মানে অন্তত দু তিন বছর পর, গুরুতে এরকম থট প্রোভোকিং লেখা দেখলাম। গুরুতে যে ডিবেট হতো সেটা অনেকদিন হলো বন্ধ হয়ে গেছে, যাঁরা ডিবেট করতেন তাঁরাও কেউ আর আসেন না, তাই এই টই হয়তো আর এগোবে না (দুয়েকটা আস্তাকুঁড় টিভির লিংক হয়তো আসবে), তাই প্যালাবাবুকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটার জন্য। 
     
    আর পুরানো সেই দিনের কথা - মনে পড়লো, যাদবপুরে প্রথমবার বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি দেওয়া হয় শুনে আমিও কিরকম শকড হয়েছিলাম। আর্থ মুভিং ওয়ার্কশপে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন হচ্ছে দেখে অবাক হয়েছিলাম। লেদ মেশিনের পুজো করা যেতে পারে, এরকম অবাস্তব একটা ব্যাপার দেখে যাদবপুরের যে ইমেজটা ছিল সেটা কিভাবে ভেঙ্গে গেছিল। এখন অবশ্য ব্যপারটা ফুল সার্কল হয়ে গেছে, বানরসেনাই এখন নিউ নর্মাল। তাও মাঝে মাঝে ভাবি...উই ডোন্ট নিড নো এডুকেশান, উই ডোন্ট নিড নো থট কন্ট্রোল :-)
  • dc | 2401:4900:1cd0:1280:10c8:61e3:c71f:381e | ২১ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৪৮513967
  • *তাও 
  • Kuntala Lahiri-Dutt | ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১৭513982
  • বেশ  ভালো  এবং  যুক্তিপূর্ণ  লেখা . মন্তব্য  করার মতো টাইপ পারবো  না  প্যালা রাম . কোনোদিন  কোথাও  নিশ্চয় দেখা  হবে. তখনকার  জন্য  অনেক আলোচনা তুলে  রাখলাম 
  • হজবরল | 185.241.208.232 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৪৪513983
  • শুধু সুভাষচন্দ্র নন, ওই সময় জীবনানন্দও সিটি কলেজে পড়াতেন এবং ব্রাহ্ম হয়েও ছাত্রদের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে তার চাকরি চলে গেছিল।
  • Tarun | 2a03:4000:1d:53:98a0:d7ff:fe37:7eb8 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩০513984
  • ভাল প্রস্তাব। তবে সমস্যাটার গোড়া থেকে অ্যাড্রেস করা উচিত। Holiday তো আসলে Holy day, বৃটিশরা চার্চে যাবার জন্য রবিবার ছুটি দিত। এই যুক্তিতে তো নামাজ পড়ার জন্য শুক্রবার, লক্ষ্মীপুজোর জন্য বৃহস্পতিবার ছুটি দিতে হয়। রাষ্ট্রের পক্ষে কোন দিনকেই holy ডিক্লেয়ার করা অনুচিত। রবিবারের ছুটি, ক্রিসমাসের ছুটি, দুর্গাপুজোর ছুটি সবই তুলে দেওয়া দরকার। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি মানুষের ভরসার জায়গা। আশা করি প্রবীর ঘোষ এ নিয়ে উদ্যোগ নেবেন।
  • | ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৯:২৯513986
  • খুব ভাল লেখা। আগেও পড়েছি মনে হয় ফেসবুকে। 
     
    সে অনেককাল আগে ভাটিয়া৯তে গল্প করতে করতে বলেছিলাম ইস্কুলে কেন সরস্বতী পুজো হবে? ইস্কুলের ভেতরে তো পুজো হওয়া উচিৎ নয়। ওবাবা একজন সেইটা নিয়ে আবার অন্য একটা বাংলা সাইটে গিয়ে খাপ বসিয়েছিলেন। laugh
    যাইহোক পুরো যুক্তিবিন্যাসই খুব পরিণত। ভাল লাগল। 
  • r2h | 192.139.20.199 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৫০513990
  • এই লেখাটা অতি ভালো।
    প্রশ্নগুলো গুছিয়ে করা, আর প্রশ্নগুলো মাথায় ঢোকানো বোধয় সবচে' গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
  • b | 2405:8100:8000:5ca1::c:18f9 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২১:১০513991
  • ইস্কুল-টিস্কুলে ভাগ্যবিধাতার জয় হে জয় হে, বিরাজ সত্যসুন্দর এসব গানও বন্ধ করা উচিত। বৌদ্ধ কিংবা নাস্তিকের ঘাড়ে ঈশ্বরবিশ্বাস চাপানোর জুলুম এগুলি। পাবলিক প্লেসে ধর্মাচরণ একেবারেই কাম্য না।
  • &/ | 107.77.232.58 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২১:৫৫513992
  • সিগন্যালে সিগন্যালেও তো বাজে বিরাজ সত্যসুন্দর ---এসব!!! 
  • r2h | 192.139.20.199 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:০৩513993
  • লেখাটার লক্ষ্য আমার মনে হল, কোন কিছু বন্ধ করা উচিত বা অনুচিত না, বরং প্রশ্নগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করা, কোন কিছু চলছে বলেই তাকে পাল্টানো যাবে না এমন ভাবে না ভাবা ইত্যাদি।

    ধর্মহীন সমাজ আমি ভাবি না, কারন ধর্মের মত কিছু না কিছু একটা ছাড়া মানুষ আরও হাজার খানেক বছর সমাজ টিঁকিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না, ধর্ম গেলে তার থেকে খারাপ কিছুও আসতে পারে, শান্তি সৌভ্রাতৃত্ব এসব ঠিক যথেষ্ট মাস মোটিভেটিং বিমূর্ত ধারনা না বোধহয়। ভালোও আসতেই পারে। হারারি সাহেবকে অনেকেই পচন্দ করে না, কিন্তু পুঁজিবাদ বা সাম্যবাদ প্রকৃতপক্ষে আধুনিক ধর্ম - এই ফান্ডাটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আবার সরস্বতী পুজোর ছুটি না পেলে তো আমার নিশ্চয় মনে হত লে হালুয়া, আর ছুটি বন্ধ করা বা সরস্বতী পুজোর আনুষঙ্গিক ব্যাপার স্যাপারের অভাব ঘটলে সোজা আরেসের দলে ভিড়ে যেতাম। তার মধ্যে ধর্ম ছিল না বলেই বিশ্বাস। আবার লুরুর অফিসে দেখলাম ইদ বা খ্রিসমাস রেস্ট্রিকটেড হলিডে, সাধারন ছুটির দিন না। অবাক হয়েছিলাম, আমাদের ছোটবেলায় তো গুড ফ্রাইডেরও সরকারি ছুটি থাকতো।
    এইবার যে পরিচয়গুলি পড়শিদের মধ্যে পোক্ত হয়ে ওঠার কথা ছিল, সেগুলো দুর্বল কেন হচ্ছে উল্টে, সেসব প্রশ্ন করতে গেলে ধন্ধ হয়। তো, নানান রকম প্রশ্ন করা ছাড়া উপায় কী।

    এবার ভাগ্যবিধাতা বা জয়হে বা আনন্দলোকেতে কোন অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলে তো চাপ হবেই।

    আমার মনে আছে প্রথম দেশের বাইরে একটা অডিটোরিয়ামে দাঁড়িয়ে সমবেত জনগণ শুনে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। এই জনগণই দেশের সিনেমাহলে বাধ্যতামূলক উঠে দাঁড়ানোয় অতি বিরক্তি জাগায়। তো, নানান দিক তো আছে।
  • r2h | 192.139.20.199 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:১১513994
  • আনন্দলোকে শুনে কেউ নিজেকে এক্স্ক্লুডেড মনে করলে তার যুক্তি থাকতেই পারে। আবার নাও পারে, কারন কন্টেক্সট ম্যাটার করে, দেশোদ্ধারে বন্দেমাতরমে একদল লোক এক্স্ক্লুডেড মনে করলে তাদের দোষ দেওয়া যায় না।
    এবার তার সঙ্গে অভিজিত রায়ের কল্লা নামানোকে এক করে দেখতে চাইলে মুশকিল। সিনেমা দেখে কর্নি সেনা স্কুলবাসে পাথর ছুঁড়লে তার একরকম প্রতিক্রিয়া হবে আবার মধ্যযুগ বিশেষজ্ঞ ঐতিহাসিক গাল দিলে তার অন্যরকম। যদিও কার্যকারনে আপাত সামান্য মিল আছে।
  • হজবরল | 5.45.106.207 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:২০513997
  • ইনফোসিসের ট্রেনিং চলাকালীন জুতোর রঙের সঙ্গে বেল্টের রঙ মিলিয়ে পরতে লোকের আপত্তি থাকার কথা নয় কারণ তাতে মাসের শেষে টাকা পাওয়া যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো উল্টো কেস, ছাত্রছাত্রীরা যদি বলে বসে আমি তো পড়ার ফি দিচ্ছি তাহলে ধর্মাচরণ কেন করা যাবে না?
  • dc | 2401:4900:1cd0:1280:10c8:61e3:c71f:381e | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:৩২513999
  • আরেকটা এরকম ঘটনা মনে পড়লো। চেন্নাইতে মেন অ্যাপোলো হাসপাতালে প্রথমবার ঢুকেছিলাম অনেক বছর আগে, ঢুকে দেখি হলঘরের মাঝে বিরাট বড়ো ঠাকুরের মূর্তি। এতো অবাক হয়েছিলাম যে বলার না। অনেক পরে কোন এক ম্যানেজারকে জিগ্যেসও করে ফেলেছিলাম, তোমরা হাসপাতালের ভেতর ঠাকুরের মূর্তি রেখেছো, সেখানে আবার অনেকে এসে ঢং করে ঘন্টাও বাজিয়ে যাচ্ছে, কেউ যদি কমপ্লেন করে? তাতে উনি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। 
  • &/ | 107.77.232.58 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:৩৬514000
  • ঘোর কলি - উনি মনে মনে বলেছিলেন সম্ভবত :)
  • dc | 2401:4900:1cd0:1280:10c8:61e3:c71f:381e | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:৪৭514001
  • তা হবে laugh
  • | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:৫২514002
  • আরে ডিসির কথায় মনে পড়ল সেই নয়ের দশকের প্রায় মাঝামাঝি, আমি তখন ফ্যা ফ্যা কোম্পানি। একটা কম্পুচিটিং ইন্সটিটিউটের হয়ে ঘুরে ঘুরে তাদের বিভিন্ন সেন্টারে পড়িয়ে বেড়াই আর আরেকটু ভাল বেতন দেবে এমন সব জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াই। তো টাটা--ইউনিসিস নামে একটা কোম্পানিতে গেছি কাঁকুড়গাছির ওদিকে। তাদের রিসেপশানের ঠিক মাঝখানে এক ইয়াব্বড় ইয়াগোদা গণেশ বসানো তার সামনে আবার একটা  ফোয়ারা। এমন অবাক হয়েছিলাম দেখে।  ফার্স্ট রাউন্ড ইন্টারভিউয়ের জন্য যখন যাচ্ছি তখন এক গাঁট্টাগোট্টা পুরুত এসে ঘন্টা বাজিয়ে পুজোটুজো করল।
  • I | 2405:8100:8000:5ca1::30:d1e4 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২:৫৫514003
  • হাসপাতাল নিয়ে আর কে কমপ্লেন করবে? ডাক্তাররা কত সময় বলে ভগবানকে ডাকুন, তাই নিয়েও তো কেউ মামলা করল না।
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:d4f1:4ebc:7097:4e62 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:০৬514004
  • হ্যাঁ, বেলভিউতেও একটা বিরাট বিষ্ণুমূর্তি ছিলো। আমি হেড ইনজুরি হয়ে ওখানে অনেকদিন ছিলাম। ছাড়া পাবার দিন একজন অ্যাটেনডেন্ট আমাকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তো বেরোনোর আগে ঐ মূর্তির সামনে চেয়ার দাঁড় করালেন। আমিও প্রণাম করছিনা, আর উনিও দাঁড়িয়েই আছেন। শেষে থাকতে না পেরে আমি বললাম "যাবেন না?" উনি খুব শকড হয়ে, অথচ খুব বিনয়ী গলায় বলেছিলেন যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার জন্য ঠাকুরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রণাম করতে হয়। আমার তখন খুব মাথা ব্যথা করছিলো। তর্ক করার কোনো ক্ষমতাও ছিলোনা। আমি ওনার প্রতিই মাথা নোয়ালাম। উনি ধরে নিলেন সেটা নিশ্চয়ই বিষ্ণুর ঊদ্দেশ্যেই হয়ে থাকবে। তখন গাড়ি অব্দি পৌঁছে দিলেন।
     
  • mc | 2405:8100:8000:5ca1::9e:f45c | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:১৬514005
  • লেখাটা ভাল লাগল। স্কুল কলেজ অফিস হাসপাতাল সবই এখন ধর্ম আর রাজনীতির লীলাক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শক্ত হাতে কড়া ব্যবস্থা না নিলে নির্মূল হবে না। জনসাধারণের চেতনা হবে বলে বসে থাকলে আরও হাজার বছর কেটে যাবে।
  • প্যালারাম | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:৩১514006
  • ওরে বাবা! কত কমেন্ট! surprise
    @Kuntala, অবশ্যই! দেখা হলেই আড্ডা হবে।
    @r2h, হক কথা। ওই Constructed Reality ব্যাপারটা ছাড়া যে অ-নে-কগুলো মানুষ (বা একই ধরনের বোধবুদ্ধির প্রাণী) একসঙ্গে কোনো একটা বৃহত্তর কিছুর উদ্দেশ্যে কাজ করতে অপারগ, আর তা আছে বলেই সমাজও আছে — এটা বুঝতে হারারি আমায় সাহায্য করেছেন। নিশ্চয়ই অন্য অনেকেই অনেক আগেই বলেছেন, কিন্তু আমার বোধগম্য ভাষায় আগে শুনিনি, তাই গোদা মাথায় ঢুকেছে।
    এই 'গল্প' ঘিরে বেড়ে ওঠা সমাজ নিয়ে ভাবি বলেই সায়েন্স ফিকশন ভালো লাগে। 'লেভিয়াথান ওয়েকস' বলে একটা গল্পে (আমাজনে এক্সপ্যান্স নামে আছে সিরিজ) দেখালো, যে সৌরজগতের দূরের গ্রহ/অ্যাস্টেরয়েডে যারা খননের কাজ করে, মঙ্গলে যারা অনেক প্রজন্ম থেকে আছে, আর পৃথিবী — এই তিন জায়গায় অভিকর্ষের তারতম্যের জন্যে শারীরিক গঠনের বিবর্তন আলাদারকম হচ্ছে। কেউ আর কাউকে বিশ্বাস করে না। যুদ্ধ আসন্ন।
     অথচ, সকলের অলক্ষ্যে গোটা পৃথিবী এক হয়ে গেছে। 
    আলাদা আলাদা গল্প, তাকে ঘিরে বেড়ে ওঠা যুযুধান সমাজ — এ কখনোই বদলাবে না, তাকে ধর্ম, প্রাদেশিকতা, ভাষার গর্ব, গায়ের রঙ, মিলিত ইতিহাস, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক অবস্থান — যখন যে মোড়কই দেওয়া হোক না কেন। 
    শুধু মাঝের দূরত্ব বেড়ে সৌরজগত না হয়ে যায়!
    অনেকটা বকে ফেললাম, কারণ তোমার মন্তব্যগুলো অনেকটাই আমারও মনের কথা।
     
    @হজবরল, জীবনানন্দ কেসটা জানতুম না তো! দেখবো দাঁড়ান।
     
    @দম দি আর @dc, আমার বাড়ির কাছে অ্যাপেক্স বলে একটা নার্সিংহোম আছে, আঙুল ভেঙে সেখানে গিয়েছিলাম চিকিচ্ছে করাতে। একটা ছবি তুলে এনেছিলাম। ভুলেই গেছিলাম। পরের কমেন্টে দিচ্ছি।
     
  • r2h | 192.139.20.199 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:৩৬514008
    • mc | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:১৬
    • ...স্কুল কলেজ অফিস হাসপাতাল সবই এখন ধর্ম আর রাজনীতির লীলাক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শক্ত হাতে কড়া ব্যবস্থা না নিলে নির্মূল হবে না। জনসাধারণের চেতনা হবে বলে বসে থাকলে আরও হাজার বছর কেটে যাবে।
     
    এই লাইনে অবশ্য আমার একটু খটকা লাগে। 'এখন' মানে কী? যেকোন প্রতিষ্ঠান কবে ধর্ম ও রাজনীতির লীলাক্ষেত্র ছিল না? বিংশ শতকের মাঝখান থেকে বছর পঞ্চাশেক বলা যায়? না কি তাও না?
     
    আবার 'জনসাধারণের চেতনা' না হলে 'কড়া হাতে' তেমন কোন উপকার হয় কি? এই লেখাটা অনেকখানি প্রতিষ্ঠান বা সংখ্যাগুরু বা রাষ্ট্রের কড়া হাতের বিপক্ষেও বটে।
     
    ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ঠাকুর দেবতার ব্যাপারটাও গোলমেলে। বড়বাজারের গদিতে কুলুঙ্গীতে গণেশ ব্যবসাদারের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রাইভেট স্কুল কলেজ বা হাসপাতালও ঘুরে ফিরে তাই। কিন্তু মুশকিল অনেকগুলো, জামার দোকানের মত হাসপাতাল এত সুলভ না, আবার হাসপাতালগুলো নানান ট্যাক্স ছাড়, জমি টমি পায় যেগুলো ঘুরেফিরে জনগণেরই পয়সাই। তারা হোলিয়ার দেন দাউ, জনগণের সেবায় নিবেদিত।

    জনগণের পয়সায় জনগণের জন্যে কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, যেগুলো নেই।
  • r2h | 192.139.20.199 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:৪০514009
  •  
    এইটা সাধু কাজ।
    তবে জেন্দাবেস্তা গ্রন্থসাহেব ত্রিপিটক এগুলো মিসিং।
  • হজবরল | 185.220.101.54 | ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:৪৯514010
  • গুরু গ্রন্থসাহিব রাখার অনেক ফ্যাচাং আছে। ওটা এমনিই সাজিয়ে রাখা যায় না। হাওয়া করতে হয়, সময় মতন ঘুম পাড়াতে হয় , সময় মতন ঘুম থেকে তুলতে হয়। 
     
    'জনগণের পয়সায় জনগণের জন্যে' - পুরোটাই শিব্রামের দেবতার জন্মর মতন ব্যাপার, জনগণের ডিমান্ড আছে বলেই সপ্প্লাই আছে।
  • :|: | 174.251.162.15 | ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:১৫514011
  • ২১ নভেম্বর ২০২২ ২২টা পঞ্চান্ন: অনেক দিন পর চেনা নিকের দেখা! ডাক্তারবাবুই তো নাকি? 
     
    ২১ নভেম্বর ২০২২ ২৩টা ছয়: সেবক যদি ভেবেও থাকেন প্রণামটা বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে খুব ভুল কিন্তু ভাবেননি। লেখা আছে: 
    আকাশাৎ পতিতং তোয়োং যথাগচ্ছতি সাগরম্।
    সর্বদেব নমস্কারঃ কেশবং প্রতিগচ্ছতি॥
    এখন আপনার অন্তস্থ ডিভিনিটিকে তো অস্বীকার করতে পারিনা।
  • &/ | 107.77.232.58 | ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:৩৭514012
  • কুরুক্ষেত্রে ও অর্জুন সেরকমই দেখেছিলেন বলে শোনা যায় , সবাই বিষ্ণু তে মিলিয়ে যাচ্ছে 'যথা নদীনাম বহবম্বুবেগা সমুদ্রাভিমুখাৎ অভিদ্রবন্তী '
  • r2h | 192.139.20.199 | ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:৪১514013
  • শাস্ত্রবাক্য অমোঘ তবে বিষ্ণুর অস্তিত্বে অবিশ্বাসী হলে তার মধ্যে মিলিয়ে যেতে আমার আপত্তি একটু থাকতে পারে।
     
  • &/ | 107.77.232.58 | ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:৫৩514014
  • করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব বিশ্বাস করতে  ঘোর আপত্তি করেন কিছু লোক এখনও, সেও তো তাদের চয়েস 
  • r2h | 192.139.20.199 | ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:৫৫514015
    • :|: |  ২২ নভেম্বর ২০২২ ০০:১৫
    • ...সেবক যদি ভেবেও থাকেন প্রণামটা বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে খুব ভুল কিন্তু ভাবেননি। লেখা আছে: 
      আকাশাৎ পতিতং তোয়োং যথাগচ্ছতি সাগরম্।
      সর্বদেব নমস্কারঃ কেশবং প্রতিগচ্ছতি॥
      এখন আপনার অন্তস্থ ডিভিনিটিকে তো অস্বীকার করতে পারিনা।
    তা ঠিক।

    এই বিষয়ে একটা গল্পে আমি খুব মজা পাই। 
    সেই যে, মাহুত বলছে পাগলা হাতি পালাও, শিষ্য ভেবেছে সর্ব জীবে নারায়ণ, হস্তীনারায়ণ আমার ক্ষতি কেন করবেন।

    মৃতপ্রায় ব্যান্ডেজবাঁধা শয্যাশায়ী শিষ্যকে গুরু বললেন হস্তীনারায়ণের কথা ভাবলে, আর মাহুত নারায়ণের কথা বেমালুম এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিলে, এমন ভাবে কী আর খেলা হয়?
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন