এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  পড়াবই  প্রথম পাঠ

  • মায়েদের বলা মিথ্যে গল্পগুলোঃ পাঠ-প্রতিক্রিয়া

    রঞ্জন রায়
    পড়াবই | প্রথম পাঠ | ১৩ নভেম্বর ২০২২ | ১৭৯৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)

  • [বইটির নাম “Lies Our Mothers Told Us—The Indian Woman’s Burden”; লিখেছেন নীলাঞ্জনা ভৌমিক।]

    বন্ধুরা বলেন--একুশ শতকে ভারতের মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের সমাজে পিতৃতন্ত্রের ভিত এখন অনেক দুর্বল, থাম গুলোয় ফাটল দেখা দিচ্ছে। মেয়েরা এখন পুলিশ- মিলিটারি- প্রশাসন - সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সবেতেই উঁচু পদে বসছেন।


    তাই কি? একজন ইন্দিরা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার  বা একজন এ পি জে আবদুল কালামের রাষ্ট্রপতি হওয়ার উদাহরণ দেখে কি ভারতে মেয়েদের এবং অল্পসংখ্যকদের বাস্তবিক অবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত টানা যায়?


     আইনের চোখে তো মেয়েরা পুরুষের সমান—সেই সংবিধান প্রণয়নের দিন থেকেই। রয়েছে নারীপুরুষের ভোট দেবার সমান অধিকার। কিন্তু গাঁয়ের দিকে ক’জন ঘরের বৌ নিজের ইচ্ছের ক্যান্ডিডেটকে ভোট দিতে পারে? বেশির ভাগের ভোট দেবার নির্ণয় কী আগে ভাগে পরিবারের কর্তাব্যক্তিটি ঠিক করে দেন না?


    আচ্ছা, দেশের জনসংখ্যায় নারী -পুরুষের অনুপাতের কী অবস্থা? পিউ রিসার্চ সেন্টারের রিপোর্ট বলছে ইদানীং জেন্ডার গ্যাপ অনেক কমেছে, প্রতি ১০০ জন মহিলা পিছু ১০৮ জন পুরুষ, প্রায় সমান সমান।[1] তাহলে সংসদে নারী-পুরুষ জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও প্রায় সমান সমান না হোক, কাছাকাছি হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সমান সমান ছেড়ে দিন, সংসদে ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্যে এক-তৃতীয়াংশ সিট রিজার্ভ করার জন্যে সংবিধান সংশোধনের বিল(২০০৮) আজও পাশ হয় নি।


    পঞ্চায়েতের জন্যে ১/৩ সীট মহিলাদের জন্য এখন সংরক্ষিত। মহিলারা এখন পঞ্চায়েত-প্রধান বা  সরপঞ্চ হতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে কী হয়? বর্তমান সমীক্ষকের হাতে-গরম অভিজ্ঞতা বলে মহিলা-সরপঞ্চের বদলে তাঁর পতিদেবতা বৈঠকে আসেন। তিনি  খরচার জন্যে অনুমোদিত নোটশীটে এবং ব্যাংক থেকে টাকা তোলার চেকে মহিলার দস্তখত  করিয়ে নিয়ে আসেন অথবা বৈঠকে উপস্থিত মহিলা সরপঞ্চ হালকা ঘোমটা টেনে কোন রা’ না কেড়ে পতিদেব যা বলেন তাতে সায় দেন। তাই গাঁয়ের দিকে দু’দশক ধরে একটা নতুন শব্দ চালু হয়েছে—‘সরপঞ্চ পতি’।


    ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটা ব্যতিক্রমই। এটুকু বলা যায় যে ব্যতিক্রমের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে। আশার কথা, এতদিন ম্যারিটাল রেপের অবধারণা নিয়ে কথা বলাই ব্ল্যাসফেমির পর্যায়বাচী ছিল। কিন্তু ইদানীং সুপ্রীম কোর্টের কিছু রায় দেখে (যেমন মেয়েদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের অধিকার) আশা জাগছে।


     আমার পরিচিত দু’জন মেয়ে আইন পড়ার সময় ম্যারিটাল রেপ নিয়ে ফিল্ড স্টাডি করার সময় কথা বলেছিল উকিল এবং পুলিশ অফিসারের সঙ্গে। তাঁরা ভারতীয় প্রেক্ষিতে ‘ম্যারিটাল রেপ’ ধারণাটিকে পাত্তা দিতে নারাজ।


    তাঁদের মতে প্রজাপতির নির্বন্ধে বিয়ে ঠিক হয়েছে।মেয়েটি সপ্তপদী গমন এবং যজ্ঞের মাধ্যমে স্বামীকে নিজের শরীর ছোঁয়ার অধিকার তো দিয়েই দিয়েছে। এ নিয়ে আবার প্রশ্ন তোলা মূর্খতা। কেন?


    ওঁদের মতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর মেয়েটি স্বামী যখন চেয়েছে তখন দেহদান করেছে—আজ হঠাৎ না করবে? ন্যাকামি?আরে স্বামীর ওই অধিকার তো এত বছরে ব্যভার সিদ্ধ। আজ নতুন কথা বললে সেটা শোনা হবে কেন?


    যখন বলা হল—ধরে নিলাম আপনার কথা ঠিক, কিন্তু এত সব সত্ত্বেও কি কোনদিন মেয়েটির শারীরিক ক্লান্তি বা মানসিক যন্ত্রণা (ধরুণ, বাবা-মার অসুখের খবর পেয়ে) তাকে –আজ নয়, বলতে প্রেরিত করতে পারে না? আর তখন স্বামীদেবতাটি নিজের পাওনাগণ্ডা যদি জোর-জবরদস্তি করেন সেটা কি আইনের পরিভাষায় ম্যারিটাল রেপ হবে না?


    না, ওঁরা শুনতেই চান না।


    কখনও বিশিষ্ট হিন্দি কথাসাহিত্যিক শ্রীমতী মন্নু ভাণ্ডারী তাঁর একটি গল্পে লিখেছিলেন যে অফিসে পুরুষ সহকর্মীরা মহিলার পদোন্নতি সহ্য করতে পারেনা, তাঁর  দক্ষতাকে মেনে নিতে পারে না। তাই চাকরিতে এগিয়ে যাওয়া মহিলাকে নিয়ে মুখরোচক দ্বিপদী তৈরি হয়—ইয়া তো বড়ে ঘর কী বেটি, নহীঁ তো অফসর সঙ্গ লেটি।


    প্রমোশন পেয়েছে? হয় ক্ষমতাশালী পরিবারের মেয়ে, নয় বসের সঙ্গে শুয়ে।


    মনে হয় ওসব স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের বিবর্ণ সাদাকালো ছবি। আজ ওসব অপ্রাসঙ্গিক।


    কাজের ক্ষেত্রে মেয়েদের সুরক্ষার জন্যে রয়েছে বিশাখা আইন। অফিসে বড়কর্তাটি নিজের চেম্বারের নিরাপদ ঘেরাটোপে অল্পবয়েসি স্টেনো বা পিএ মেয়েটিকে চেপে ধরে হামলে চুমু খাচ্ছেন—এ ঘটনা আজকাল বিরল।


    মজাটা হল এসবই  ছেলেদের চোখে দেখা মেয়েদের দুনিয়া। কিন্তু মেয়েদের চোখে? পর্দার ওদিক থেকে দেখলে? মেয়েরা যখন মেয়েদের কথা বলবে? সেই মেয়েরা, যারা না সমাজের উঁচুস্তরের সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারের, আর না নীচুতলার খেটেখাওয়া পরিবারের।


    বলতে চাইছি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের কথা। আজ ‘মহানগর’ সিনেমার আরতিকে ঘর থেকে বেরিয়ে চাকরি খুঁজতে পরিবারের অন্যদের পূর্ব অনুমতির দরকার হয় না। পারিবারিক বাজেটে বড়সড় যোগদানের ফলে ঘরেলু সমস্যা্র সমাধানে যাদের কণ্ঠস্বর কিছুটা হলেও শোনা হয়, তারা কতটা সফল? কতখানি নিজের জীবন নিয়ে নির্ণয় নেবার অবস্থায় আছেন?


     তাঁদের অফিসে কেউ মেয়ে বলে রেয়াত করবে না। মাইনে তো সমান সমান, তাহলে বিশেষ ছাড় কেন? এমনিতেই তো মাসে ক’দিন ভগবানের ভুলে ঘরে থাকে, আবার বাচ্চার মা হবার সময় তিন থেকে ছ’মাস!      


    তবু ঘরে এসে রান্নার কাজ, ঘর পরিষ্কারের কাজ খানিকটা হলেও সামলাতে তো হবে। বাচ্চাদের হোমটাস্ক করানো? স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, ফেরত আনা? ক’জন বাড়িতে সর্বক্ষণের না হলেও রান্না এবং ঘরের বাকি কাজ, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যাদির জন্যে আলাদা আলাদা কাজের মাসি রাখতে পারেন?


    তারপর আরও আছে।


     রাত্তিরে অবুঝ স্বামী? এখন সন্তান চাই, নাকি কিছুদিন স্থগিত রাখা যায়? কজন চাকরি করা মেয়ে বরের পারমিশন না নিয়ে অফিস থেকে বা ছুটির দিনে নিজের বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে বা রেস্তোরাঁয় খেতে যেতে পারেন?


    যদি পালটা প্রশ্ন করা যায় যে স্বামীদেবতাটি কি অফিস ফেরত বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে বা মদ খেতে যাবার আগে স্ত্রীর পারমিশন নেন?


    কী অ্যাবসার্ড প্রশ্ন! আমার মাইনের টাকায় যদি কখনও সখনও কিছু এদিক সেদিক খরচা করি তার জন্যে বৌয়ের অনুমতি নিতে হবে? মামাবাড়ির আবদার! আর আমরা, আধুনিক প্রগতিশীল পিতা বা পার্টনারের দল কি ঘরের কাজকর্মে হাত লাগাই না? রান্না বা বেবিকেয়ারের ক্ষেত্রে  বৌকে সাহায্য করি না?


    সত্যিই কি অবস্থা খুব বদলে গেছে?


    কিছু তথ্য দেখা যাক।


    একটি সার্ভে বলছেঃ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভারতবর্ষের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি খেটে মরে। “Women are overworked, underpaid, and more stressed: Deloitte Study’.[2]


    ভারত সরকারের ২০১৯ সালের সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে মহিলারা প্রতিদিন গড়পড়তা  ২৯৯ মিনিট ঘরের কাজে ব্যয় করেন এবং ১৩৪ মিনিট বাচ্চা ও বুড়োদের দেখাশুনোয় (কেয়ার গিভিং ডিউটি)। সেখানে পুরুষের বরাদ্দ গড়ে ৯০ মিনিট ঘরের কাজ আর ৭৬ মিনিট দেখাশুনোর কাজ। [3]


    আমাদের দেশে মহিলারা ঘরের কাজের প্রায় ৮২% এবং দেখাশুনোর ২৮% দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে ওই অনুপাতটি যথাক্রমে ঘরের কাজের জন্যে  ২৬% থেকে সামান্য বেশি এবং দেখাশুনোর ১৪% মাত্র।[4]


    আচ্ছা, ঘরের কাজের যদি মূল্যায়ন করা যায়? মিনিমাম ওয়েজ ধার্য করা যায়? এব্যাপারে আমাদের আদালত কী বলেন?



    • মুম্বাই হাইকোর্ট ঘরে বাইরের চাপে ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করা প্রিয়ংকার মৃত্যুর দায় থেকে ওর শাশুড়ি এবং স্বামীকে এই বলে অব্যাহতি দিয়েছিল যে ভোর চারটেয় উঠে ঘরের কাজ সেরে বাইরের কাজ করতে বেরিয়ে ফের সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলে মেয়েটিকে ঘরের আরও কাজ করতে বলাকে আদৌ নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। এসব তো বিবাহিত তিরিশ বছরের মেয়েটির দৈনন্দিন দায়িত্বের অংশ।[5]
    • কর্ণাটক হাইকোর্ট ২০০৬ সালে স্টেট বনাম কৃষ্ণা পরশরাম কেসে বলেন-আলসে এবং ঘরের কাজ করতে অনিচ্ছুক বউকে বারবার ঠিকমত কাজ করতে, কাজে মন লাগাতে এবং শ্বশুরবাড়ির কথা শুনতে চাপ দেওয়া নিষ্ঠুরতা নয়। এর জন্য মহিলাটি আত্মহত্যা করলেও স্বামী এবং শাশুড়ি দায়ী নন।
    • কেরালা হাইকোর্ট মনে করে শাশুড়ি যদি ঘরের কাজ করার জন্যে ছেলেবৌয়ের উপর কিছু জোর খাটিয়ে থাকেন (সার্জারির পরও ঘরের কাজ করতে বাধ্য করা, গায়ে হাত তোলা) সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়! [6]
    • অথচ দিল্লি হাইকোর্টের রায় বলছে যদি নতুন বৌ নিজের ঘরে চুপচাপ থাকতে চায়, ঘরের কাজে উৎসাহ না দেখায় সেটা শ্বশুরবাড়ির প্রতি বৌয়ের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ নয়[7]  
    • তবে সুপ্রীম কোর্ট জানুয়ারি ২০২১এর একটি রায়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে আদেশ দেয় যে মহিলাদের ঘরের কাজকে ‘আনপেইড ওয়ার্ক’ ধরে তার মূল্য ঠিক করে ক্ষতিপূরণ দিতে। [8]


    অথচ, ১৯৯৮-৯৯ সালের সরকারি সার্ভে মেয়েদের ঘরের কাজকে ‘নন-প্রোডাক্টিভ ওয়ার্ক’ বা অনুৎপাদক শ্রমের পর্যায়ে ফেলেছিল।


    হাওয়া বদলাচ্ছে, সুপ্রীম কোর্টের উপরের রায়ের পর বিতর্ক উঠেছে যে কীভাবে মহিলাদের ঘরের কাজ এবং বাচ্চা সামলানোকে ‘আন-পেইড’ কাজ স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রের থেকে ন্যাশনাল পলিসি নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে -স্বামীর পকেট থেকে নয়—সরকার থেকে একটি নির্ধারিত টাকা মহিলাদের দেয়া যায় কিনা


    ওসব তো ভবিষ্যতের কথা। কবে ন’মণ তেল পুড়বে আর কবে রাধা নাচবে!


    বর্তমান অবস্থাটি কীরকম?



    ‘Modern Indian women are burdened with so much housework and caregiving that they are leaving their hard-won financial independence, dropping out of schools, and dropping off the labour force. Many women self-identify as housewives but work in low paid jobs in the informal sector, and their struggle with the ‘double shift’ is largely invisible’.[9]


    পিটিআই জানাচ্ছে যে একটি ন্যাশনাল পোর্টালে ২০২১ সালে নাম রেজিস্ট্রি করা ৪০ মিলিয়ন ইনফর্ম্যাল বা অনিয়মিত শ্রমিকের মধ্যে আদ্দেকের বেশি মহিলা।


    ‘These women soldier on, unhappy, stressed, and overworked, knowing they deserve better, that they deserve more, that they need help, but not knowing how, or whom to ask’.[10]


    হ্যাঁ, ওই মহিলারা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, অসুখী মন এবং ভাঙা স্বপ্নের ভার বহন করে খেটে চলেন উদয়াস্ত, ঘরে-বাইরে। অভিনয় করেন তথাকথিত ভাল নারী, ভাল বৌ, ভাল মা হবার। আর নিজেকে কুয়াশায় ঢেকে গড়ে তোলেন এক মহিমামণ্ডিত জ্যোতির্বলয়।


    দেখেছ, কী ভাল!  হাসিমুখে ঘরে-বাইরে কেমন সামাল দিয়ে চলছে। মডার্ন হলে কী হবে, আমাদের দেশের কালচার, সনাতন ঐতিহ্য সব মেনে চলে।


    তোর আর কি চিন্তা! অমন গুণের বৌ পেয়েছিস, হিংসে হয়। আমার না, কী আর বলব, সবই তো বুঝিস।


    সত্যি মাসীমার কত গুণ!  


    আরেকটি ব্যাপার ঘটে। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল ধরে নিয়ে অনেক মেয়ে চাকরি ছেড়ে ফের হাউস ওয়াইফ হয়ে যান, নিজের পড়াশুনো,  অনেক পরিশ্রমে গড়ে তোলা  ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়ে ‘পুনর্মুষিকঃ ভব’ হয়ে সেটাকেই তাঁর নিয়তি বলে মেনে নেন।


    কিন্তু তাঁর অন্তর্মন কি সেটা স্বীকার করে? সেটা জানতে হলে আমাদের শুনতে হবে মেয়েদের কথা, উদারহৃদয় পুরুষ স্বামী বা সন্তানের মুখে নয়, তাঁদের অন্তরঙ্গ আলাপন, মন খুলে বলা গোপন কথাগুলো।


    এত সাতকাহন বলার একটাই কারণ। ইদানীংকালের লেখা একটি বই আমাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বুঝতে পারছি যে ঘরের কাজে সামান্য যতটুকু সাহায্য করি বা টেনশন ভাগ করে নেওয়ার ভান করি, সেটা ভানই। যেটা হওয়ার কথা ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মত স্বাভাবিক –সেটাকে নিজের বিশেষ ব্যতিক্রমী ভূমিকা বলে বিশ্বাস করি এবং তার জন্যে ভ্যালিডেশন এবং সার্টিফিকেট আশা করি। একটুখানি কৃতজ্ঞতাও কি?


    বইটির নাম “Lies Our Mothers Told Us—The Indian Woman’s Burden”; লিখেছেন নীলাঞ্জনা ভৌমিক। এতে কুড়িটি পরিচ্ছেদে মধ্যবিত্ত মহিলারা নিজেদের এই ঘরে বাইরে খেটে মরা এবং মুখ বুজে ‘গুড কন্ডাক্টের’ সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রবঞ্চনার কথা তাদের নিজেদের ভাষায় বলেছেন।


     প্রখ্যাত সমাজতাত্ত্বিক এবং নারীবাদী আন্দোলনের প্রধান মুখ কমলা ভাসিন বলতেন—মেয়েরা কবে মুখ ফুটে নিজেদের কথা বলবে?


    এই বই সেই জিজ্ঞাসার উত্তর।


    নীলাঞ্জনা সততার সঙ্গে এই আখ্যান শুরু করেছেন তাঁর মায়ের ইন্টারভিউ দিয়ে। মা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। চাকরি করতেন, সেখানেও গঞ্জনা শুনতেন এবং প্রমোশন নিতেন না। নিলে তাঁর ট্রান্সফার হবে, অথবা বেশি বেশি কাজের দায়িত্ব নিতে হবে। রাতবিরেতে এমার্জেন্সি কল অ্যাটেন্ড করত হবে। ঘড়ি ধরে সময়ে বাড়ি ফেরা হবে না।


    তাহলে তাঁর দুই মেয়েকে দেখাশুনোর দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন? যদিও ঘরে উদারহৃদয় স্বামী বর্তমান।


    নীলঞ্জনার মা খালি একবারই তাঁর স্বামীদেবতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন—মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে হায়ার স্টাডিজ এর অনুমতি এবং সাহায্য চাই। ওরা যতদিন ইচ্ছে পড়ুক , নিজের পায়ে দাঁড়াক।


    ফলে নীলাঞ্জনারা দুইবোনই আজ প্রতিষ্ঠিত।


    উনি নিজে লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাংবাদিক, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস রেডিও, লণ্ডন; টাইম ম্যাগাজিন, ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জজিরা ইত্যাদি মিলিয়ে একুশ বছরের সাংবাদিক জীবন। জেন্ডার ইস্যু এবং উন্নয়নের বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে প্রতিবেদনের ফলে তিনটে আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছেন।


    আলেফ বুক কোম্পানি থেকে প্রকাশিত এবং রূপা পাবলিকেশন দ্বারা ভারতে প্রচারিত এই হার্ডকভার সুমুদ্রিত ও গ্রন্থিত বইটির দাম ৬৯৯ টাকা।


    বইটি ছেলেদের বেশি করে পড়া উচিত।


    কারণ আমার এন জি ও বন্ধু রাণু ভোগলের মতে নারীমুক্তি আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য তার সঙ্গী পুরুষকে ক্রমাগত সচেতন করা যে হাজার বছরের সুবিধাভোগী অবস্থানের ফলে তারা কত বর্বর এবং সংবেদনহীন হয়ে পড়েছে। পিতৃতন্ত্রের অনেক গোপন এবং প্রকাশ্য এজেন্ডাকেই তারা স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক অধিকার বলে মনে করে।




    [1] দ্য ইকনমিস্ট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২।


    [2] Business   Standard, 19 May, 2021.


    [3] Ministry of Statistics & Programme Implementation, ‘NSS Report: Time Use in India-2019, PIB Delhi, 29 September, 2020.


    [4] Ibid.


    [5] ইকনমিক টাইমস, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২।


    [6] ঐ, ৩০ মে, ২০২০।


    [7] ন্যাশনাল হেরাল্ড, ২ জুলাই, ২০২০।


    [8] হিন্দুস্থান টাইমস, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।


    [9] নীলাঞ্জনা ভৌমিক, ‘লাইজ আওয়ার মাদার্স টোল্ড আস’, pp. xi.


    [10] ঐ; pp. xi.


  • পড়াবই | ১৩ নভেম্বর ২০২২ | ১৭৯৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kaktarua | 192.82.150.103 | ১৫ নভেম্বর ২০২২ ০২:১৫513797
  • ভালো লাগলো। এরকম বই আরো আরো প্রকাশ্যে আসুক। 
  • anindita | 103.212.144.215 | ১৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:২১513836
  • বুঝতে পারছি যে ঘরের কাজে সামান্য যতটুকু সাহায্য করি বা টেনশন ভাগ করে নেওয়ার ভান করি, সেটা ভানই। যেটা হওয়ার কথা ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মত স্বাভাবিক –সেটাকে নিজের বিশেষ ব্যতিক্রমী ভূমিকা বলে বিশ্বাস করি এবং তার জন্যে ভ্যালিডেশন এবং সার্টিফিকেট আশা করি।
     
    এই চেতনা পুরুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক আর তার ফল মেয়েদের দৈনন্দিন যাপনে অনুভূত হোক এই আশা রইলো। 
  • PM | 118.179.121.122 | ১৭ নভেম্বর ২০২২ ০৯:২২513845
  •   " কিন্তু এত সব সত্ত্বেও  কি কোনদিন মেয়েটির শারীরিক ক্লান্তি বা মানসিক যন্ত্রণা (ধরুণ, বাবা-মার অসুখের খবর পেয়ে) তাকে –আজ নয়, বলতে প্রেরিত করতে পারে না? আর তখন স্বামীদেবতাটি নিজের পাওনাগণ্ডা যদি জোর-জবরদস্তি করেন সেটা কি আইনের পরিভাষায় ম্যারিটাল রেপ হবে না? " ----
     
    রঞ্জনদা --- এটার পক্ষে বা বিপক্ষে ওপিনিয়ন ফর্ম করতে পড়ছি না বলে সমস্যায়  আছি ।যেখানে এই আইন আছে সেখানে লিগ্যালি মেরাইটাল রেপ কিভাবে প্রমাণ হয় কোর্টে ? কিভাবে প্রমাণ হয় ৩৬৪  দিন সহমত এর ভিত্তিতে সহবাস হয়েছিল কিন্তু ২২১ তম দিনে সহমত ছিল না ? হাসব্যান্ড কিভাবে প্রমাণ করবে যে  সে নির্দোষ . সেকি বিছানায় যাবার আগে পার্টনারের সই নেবে রোজ সম্মতিপত্রে ?
     
    আসলে ৪৯৮এ r মারাত্মক অপব্যবহার এর পরে আইনের আগে তার সেফগার্ড গুলো জানা জরুরি। আপনার আইনি ব্যাকগ্রাউন্ড আছে বলে আপনি ভালো ভাবে বোঝাতে পারবেন 
     
  • স্বাতী রায় | 117.194.38.220 | ১৭ নভেম্বর ২০২২ ২৩:২২513858
  • থ্যাংক ইউ। এই বইটার কথা আগে কক্ষনো শুনিনি। মনে হচ্ছে পড়তে হবে। 
  • Ranjan Roy | ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩০513894
  • PM
    আজ আপনার পোস্ট দেখলাম।
    মোদ্দা কথা, আদালতের দরজায় যাওয়ার চেয়েও নিজেদের মূল্যবোধ, এবং পরিবারের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের।
    যার প্রভাব আমাদের পরের প্রজন্মের উপরও পড়বে।
      না, স্বামীকে বিছানায় যাওয়ার আগে রোজ স্ত্রীর কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার দরকার নেই।
    যেটা দরকার, মহিলা 'নো' বললে আমরা পুরুষেরা যেন সেটা মেনে নেই। জোর জবরদস্তি না করি, এইটুকুই। ওদের শরীরকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড না মনে করি।
     --নো মীন্স্‌ নো, ব্যস!
     
    আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন-- যদি মিথ্যে অভিযোগ করে?
    কেন করবে? আমি যদি ওর ইচ্ছে অনিচ্ছেকে সম্মান করি, তাহলে আমার পার্টনারও আমাকে সম্মান করবে। মতভেদ বা ঝগড়া হলেও ওই অভিযোগ করবে না, অন্য অভিযোগ করবে।
     
    মেয়েরাও মানুষ।
     
    আসলে আমরা (সমাজ/কম্যুনিটি) উল্টোটাই নর্মাল ধরে নিয়েছি যে!
     
    আর আইনের অপব্যবহার! সে তো সব আইনেই হতে পারে এবং হয়, তাতে আইনের ভিত্তিটি মিথ্যে হয়ে যায় না। 
    একই ছুরি দিয়ে সার্জনের অপারেশন এবং গলা কাটা দুটোই হতে পারে।
    যেমন বিয়ে হলে ডিভোর্সও হতে পারে। সেই আশংকায় কি আমরা বিয়ে এড়িয়ে যাই? বা দুর্ঘটনার ভয়ে গাড়ি চড়ি না?
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২২:১৬513897
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২২:১৮513898
  • ভারতে গার্হস্থ্য হিংসা, নারীদের প্রতি নির্যাতন সবকিছুই আছে। অবশ্য‌ই সত্য।
    কিন্তু আরেকটা দিক‌ও আছে। সেটা জানাও দরকার।
  • all bengal men's forum | 185.220.101.40 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০০:১৭513901
  • র২হ | 96.230.209.161 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০১:৫৬513903
  • কোন কাগজে বেরিয়েছে তথ্যগুলি বোঝা গেল না। আবার রিপাবলিক টিভির লিংক।
     
    ভালোই।
     
     
    এদিকে
    • Ranjan Roy | ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩০
    • "...
      কেন করবে? আমি যদি ওর ইচ্ছে অনিচ্ছেকে সম্মান করি, তাহলে আমার পার্টনারও আমাকে সম্মান করবে। ..."
    এমন বক্তব্য একটা উদ্ভট ও বিপজ্জনক স্লিপারি স্লোপ। সব কাজ অপর পক্ষের কাজের প্রতিক্রিয়া দিয়ে হিসেব করলে গার্হস্থ্য হিংসা "কেন করবে?"রও যুক্তি খোঁজা হবে।
    কেন করবে বা যদি করে সেটা অন্য জিনিস। পাঁচটা অপব্যবহারের জন্যে পঁচানব্বইজন ভিক্টিমকে যেন নিরুপায় হয়ে বসে না থাকতে হয় সেটা লক্ষ্য।
  • দীপ | 2401:4900:3a0a:bda6:e149:b8df:d6c4:39cc | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:০৭513904
  • দীপ | 2401:4900:3a0a:bda6:e149:b8df:d6c4:39cc | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:০৮513905
  • দীপ | 2401:4900:3a0a:bda6:e149:b8df:d6c4:39cc | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:১৪513906
  • ও রিপাবলিক টিভির লিঙ্ক বিশ্বাসযোগ্য নয়! কথাগুলো কিন্তু কোনো টিভির নয়! একজন আইনজীবীর! উনি দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছেন। একটু জেনে কথা বলা ভালো!
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৩৫513908
  • |। মিথ্যা মামলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ।|
     
    ঘটনা ১
     
    প্রথম যেদিন রাত সাড়ে বারোটার সময় অর্চিতকে(নাম পরিবর্তিত) হঠাৎ পুলিশ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল সেদিন অর্চিতের বাড়ীর কেউ বুঝে উঠতে পারেনি ঠিক কি করতে হবে ? সেই দিন রাতটা অর্চিত কাটিয়েছিল হাজতে। পরের দিন সকালে যখন ওকে আদালতে তোলা হয় তখন জানা যায় ওর স্ত্রী ওর নামে মামলা করেছে থানায়। বধূ নির্যাতনের জন্য 498a, 308 আরো অন্যান্য ধারায়। পাক্কা আঠারোদিন পরে যখন জেল থেকে বেরিয়েছিল ছেলেটা, ততদিনে মন, শরীর সব ভেঙে চুরে শেষ। আবার চাকরীর জায়গাতেও সাসপেন্ড করা হয় অর্চিতকে যেহেতু জেলে থাকতে হয়েছিল তাই। আজ অর্চিত তীব্র মনোকষ্টে আছে। বাইরে অবশ্য দেখায় না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে মানুষটা আস্তে আস্তে ক্ষয়ে যাচ্ছে। মুখে একটা লোকদেখানো হাসি ঝুলিয়ে রাখতে হয় ঠিকই কিন্তু তা বাধ্য হয়ে। এখন অর্চিতের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। অর্চিতের আগের স্ত্রী দিব্যি অন্য লোকের সাথে সংসার করছে। অবশ্য ডিভোর্সের আগে অর্চিতের থেকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা অ্যালিমনি আদায় করে নিয়েছে সে। অর্চিতকে বাধ্য করা হয়েছে পরাজয় স্বীকার করে নিতে। 
     
    ঘটনা ২
     
    ইমরান ( নাম পরিবর্তিত ) বরাবর ভালো পড়াশোনায়। বাবা স্কুলের হেড মাস্টার মশাই ছিলেন। গ্রামে সবাই শ্রদ্ধা করত। মেধাবী ইমরান প্রথমে শিবপুর থেকে ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে। এখন যাদবপুর থেকে পিএইচডি করছে। বিয়ের পর ভালোই ছিল সংসার। হঠাৎ করে বাপের বাড়ীর কুযুক্তিতে তার স্ত্রী, ইমরান আর তার বয়স্ক বাবা মা বোন সবার বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা হল। শিবপুর, যাদবপুরের ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র ইমরান আগে কোনোদিন 498a, DV এসব শোনে নি। আজ হঠাৎ করে তার দুনিয়াটাই যেন রাতারাতি বদলে গিয়েছে। গবেষনার বদলে এখন দিনরাত মামলা আর কোর্ট থানা এইসব কাটাতে হয় ইমরানকে। চূড়ান্ত ডিপ্রেশন আর মানসিক হতাশায় রাতের পর রাত জেগে থাকে। মনোচিকিৎসকের কাছে গিয়ে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ চালু হয়েছে। কিন্তু আগের ইমরান এখন সেই ইমরান নেই। 
     
    ঘটনা ৩
     
    হাওড়া, শিয়ালদার থেকে বিপুল উদ্যমে ট্রেন চালিয়ে নিয়ে যেত রঞ্জন (নাম পরিবর্তিত)। অল্প বয়েসে উদ্দীপনা প্রচুর। বিয়ের পর যখন প্রথম বাচ্চা হয় রঞ্জন শখ করে ল্যাপটপ কিনেছিল। ভেবেছিল মেয়েকে অনেক কিছু ছোটবেলা থেকে শেখাবে। কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক। বাচ্চা হবার কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রী বাড়ী ছেড়ে চলে যান। এখন মেয়ের বয়স প্রায় পাঁচ বছর। কোনো মামলা হয়নি। কিন্তু প্রায় তিন বছর হল মেয়েকে আর ঠিকমতো দেখতে পান না রঞ্জন। স্ত্রী কোনো যোগাযোগ রাখেন না। ডিভোর্স‌ও হয় নি। এক তীব্র অনিশ্চয়তা আর মিথ্যা মামলার ভয় নিয়ে দিন কাটছে রঞ্জনের। মাঝে কয়েকবার মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন রঞ্জন। স্ত্রী দরজা খোলেননি। এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে রাখতেই এখন শরীরে হাজারটা রোগ বাসা বাঁধছে রঞ্জনের। 
     
    উপরের তিনটে ঘটনার চরিত্র কোনোটাই কাল্পনিক নয়। তীব্র বাস্তব। এইরকম হাজার হাজার ছেলে প্রতিদিন আমাদের সমাজে তৈরী হচ্ছে যাদের মধ্যে এই কারনে মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে কারন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন তাদের স্ত্রীরা। তারা তাদের বাচ্চাকে কাছে পান না। 
     
    কি ভাবছেন বাড়িয়ে বলছি ? না। একবার দয়া করে খোজ নিন ভারতবর্ষে আত্মহত্যার মধ্যে নারী পুরুষ অনুপাত কতটা। দেখবেন ভারতীয়দের মধ্যে শতকরা একাত্তর জন আত্মহত্যাকারী একজন পুরুষ। আর এই Overwhelming male suicide এর মুখ্য কারন কি ? মুখ্য কারন পারিবারিক এবং দাম্পত্য অশান্তি। এটা আমার মত নয়। National Crime Records Bureau অনুযায়ী হার্ড ফ্যাক্ট। কখনো পারলে একবার মন দিয়ে পড়বেন। 
     
    ল্যানসেট একটি নামি মেডিক্যাল পত্রিকা। সম্প্রতি এই পত্রিকার সমীক্ষায় জানা যায় ভারতীয়দের মধ্যে অবসাদ এবং উদ্বেগজনিত সমস্যা বেড়েছে ৩৫% হারে। World Happiness Report অনুযায়ী Happiness Index এ ভারতবর্ষ 2013 তে 111তম স্থান থেকে ক্রমাগত নীচে নেমে যাচ্ছে। এখন 2021 এ ভারতের স্থান 139। এটা বুঝতে হবে এই এক‌ই সময়ে ভারতের আর্থিক উন্নয়ণ কিন্তু যথেষ্টই দ্রুতগতির সাথে হচ্ছে। হ্যাপিনেস ইনডেক্সে এই নিম্নগতির একটা অন্যতম কারন পরিবার নামক জিনিসটি আস্তে আস্তে ভেঙে যাওয়া। আমার মতে শহর এবং মেট্রোপলিটন অঞ্চলে এই পারিবারিক ভাঙন খুব দ্রুত। ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ভারতে ২০১৭ সালে The Mental Health care Act পাশ করানো হয় সংসদে।
     
    আমি 'পুরুষ কল্যাণ' নামে একটা সংগঠন করি। বিভিন্ন পারিবারিক মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাবার পর বিভিন্ন পুরুষ আমাদের সাথে কথা বলেন। আমাদের সংগঠন ছোট। প্রায় প্রত্যেকেই সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নেহাতই সমাজসেবার জন্য প্যাশন হিসাবে আমরা কাজ করি। এই সংগঠনের কাজ করতে করতে পুরুষদের চোখের জল, তাদের অব্যক্ত হতাশা যা আমরা দেখি, তা দেখলে যে কোনো মানুষ চমকে উঠবে। গুমরে গুমরে ওঠা অসহায় কান্নাগুলো না শুনলে বিশ্বাস করা যায় না একজন পুরুষ এতটা অসহায় হতে পারে আইনী ব্যবস্থার কাছে। এতটা বিদীর্ণ হতে পারে নিজের পরাজয়ের সামনে । 
     
    আরো মজার কথা জানেন ! একদিকে চরচর করে বাড়ছে প্রতি বছর পুরুষ আত্মহত্যার হার। এতো এতো পুরুষ মানুষ হতাশা এবং ডিপ্রশনে ভুগছেন। অথচ National Family Health Survey তে 'পুরুষদের উপর অত্যাচার' এই বিষয়ে কোনো সার্ভে করা হয় না। শুধু মহিলাদের উপর সার্ভে করা হয়। সম্প্রতি NFHS-5 এর রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তার কোথাও পুরুষদের উপর অত্যাচারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নেই। নারীদের উপর কত অত্যাচার হচ্ছে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু পুরুষদের বাদ দেওয়া হয়। জাষ্ট ভ্যানিস।
     
    এই যে একটা চূড়ান্ত অসহায়তা, পুরুষদের জন্য 'কিছু নেই, কিছু হবে না' এই পারসেপশন কিন্তু পুরুষদের আত্মহত্যা এবং অবসাদের একটা মূল কারণ। আমাদের ছেলেদের মধ্যে সবাই ধরেই নেই ছেলেদের জন্য কোনো আইন নেই, সমাজ, রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা কেউ পুরুষদের জন্য সময় নষ্ট করার জন্য রাজী নয়। ফলে একজন পুরুষ কতদিন একলা একলা লড়বে। অসম লড়াই করতে করতে একসময় সেই পুরুষটি হারিয়ে যায় অবসাদ আর পরাজয়ের অতলে! তারপর কেউ তার খোঁজ রাখে না।
     
    বিঃদ্রঃ : উপরের তিনটে ঘটনা সত্যি। গোপনীয়তার খাতিরে শুধু নাম পাল্টানো হয়েছে। আমি ঐ তিনজন লোকের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের অসহায়তা নিজে প্রত্যক্ষ করেছি।
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৩৮513909
  • আইনি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য।
     
    একবার‌ও বলা হয়নি গার্হস্থ্য হিংসা হয়না, মহিলাদের উপর নির্যাতন হয়না! শুধু বলা হয়েছে আরেকটা দিক‌ও আছে, যা নিয়ে আলোচনা জরুরি! 
     
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৩৯513910
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৪০513911
  • আরো কয়েকটি উদাহরণ। এগুলো একটু জানা প্রয়োজন!
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৪৭513912
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০২:৪৮513913
  • আরেকটি ঘটনা। একটু জানা প্রয়োজন।
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৩:০৪513915
  • দীপ | 2402:3a80:196c:4f91:31c2:29c4:65ae:2c67 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৩:১৫513917
  • ব্যাস | 185.100.86.122 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৩:১৬513918
  • এই টইটাকেও দীপ চাড্ডি মায়ের ভোগে পাঠিয়ে দিল
  • all bengal men's forum | 23.128.248.20 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৩:২৬513919
  • বাহ | 2405:8100:8000:5ca1::8b:79df | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৫০513920
  • যে কোন লেখাকে ধাপার মাঠ বানিয়ে  সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে দীপহারামির জোড়া নেই। শুয়োরের পুতের এক লাইন নিজে লেখার ক্ষমতা নেই এদিকে  বুকভরা ঘেন্না আর বিদ্বেষ। এটাকে পোঁদে লাথি মেরে না ভাগালে কোন লেখা সুস্থ থাকবে না।
  • dc | 2401:4900:1f2a:4853:c8d3:c123:a236:20db | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৫৪513921
  • রিপাবলিক টিভির লিংকও পোস্ট করা হয়! আস্তাকুঁড় টিভি নাম দিয়ে পোস্ট করলেই তো হয় laugh
  • আশ্চর্য্য | 2402:3a80:1cd3:a082:478:5634:1232:5476 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৯:২৯513922
    • বাহ | 2405:8100:8000:5ca1::8b:79df | ২০ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৫০513920
    • যে কোন লেখাকে ধাপার মাঠ বানিয়ে  সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে দীপহারামির জোড়া নেই। শুয়োরের পুতের এক লাইন নিজে লেখার ক্ষমতা নেই এদিকে  বুকভরা ঘেন্না আর বিদ্বেষ। এটাকে পোঁদে লাথি মেরে না ভাগালে কোন লেখা সুস্থ থাকবে না।
    ----
    এসে গেছে গুরুর পোষা ট্রোল।দীপ, কিছু তথ্য দিয়েছে।অস্বাভাবিক কিছু নয়।ইন্ডিয়ার নামী সংবাদ মাধ্যম ও সরকারি ডেটা আছে।
    ট্রোল , দেড় টাকা পেয়ে অমনি খিস্তি দিতে শুরু করেছে।এর পোস্ট গুরু মুছবে না।
  • হে হে | 2a03:e600:100::21 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৬513925
  •  
     
    চাড্ডিরা বাই ডিফল্ট মিসোজিনিস্ট সেক্সিস্ট। দীপচাড্ডী আর স্যাঙাৎ্রাও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। এদিক ওদিক থেকে কপিপেস্টের আমাশায় ভাল লেখা নষ্ট করাই এদের পেটের ভাত গ্লাসের গোমুত যোগায়।
    তাই দুটাকার আঁটিসেল নেমে পড়েছে।
  • দীপ | 42.110.146.164 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ১১:৪৩513926
  • dc, আপনি কি বক্তব্য একবার‌ও শুনেছেন? আশা করি অপরের বক্তব্য শুনে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করবেন। অনর্থক ব্যক্তিগত আক্রমণ করবেন না।
    অন্যদিকে পোষ্য সারমেয়কুল ছুটে এসেছে!
  • দীপ | 42.110.146.164 | ২০ নভেম্বর ২০২২ ১১:৪৬513927
  • আর ঐ আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন। একটু জেনে কথা বলা ভালো! 
    তা টাইমস অফ ইন্ডিয়া, আনন্দবাজারের লিংকগুলো কি হবে? ওগুলোও কি আস্তাকুঁড়?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন