ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • “যখন সন্দেশের দর চার আনা ছয় আনা তখন দেশে বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ জন্মাইলেন…” 

    Dipankar Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ এপ্রিল ২০২২ | ৮৬৯ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মঙ্গলবার সকালে গাড়িতে পেট্রোল ভরলাম ১১৪ টাকা ২২ পয়সা দরে।  আজ সকালে দেখলাম কলকাতায় পেট্রোলের লিটার আরও বেড়ে ১১৫ টাকা ১২ পয়সা।  খবরের কাগজ বলছে, "এখনও পর্যন্ত এটাই তার সর্বোচ্চ দর"।  এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নেহাতই অসার।  কারণ, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম প্রায় প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে।  আগামীকাল বা পরশুই হয়ত দেখব 'সর্বোচ্চ দরে'র রেকর্ড ভেঙে আবার নতুন সর্বোচ্চ দরের রেকর্ড তৈরি হল। কাগজের রিপোর্টেই লেখা হয়েছে, "মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে (২২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল) কলকাতায় পেট্রোল বেড়েছে মোট ১০.৪৫ টাকা, ডিজেল ১০.০৪ টাকা।" দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের দুটি জায়গায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম যথাক্রমে ১২২ টাকা ও ১০৫ টাকা ছাপিয়ে গেছে।  রাহুল গান্ধী সোমবার টুইট করেছেন, দু'সপ্তাহে দাম বেড়েছে বারো বার।  এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সব্জি, মাছ, মাংস, সর্ষের তেল সহ সব কিছুর দাম। যে পাতিলেবু মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও পাওয়া যেত কুড়ি টাকায় হাফ ডজন, আজ সেই একটা লেবুই কিনতে গেলে দিতে হচ্ছে সাত থেকে দশ টাকা। কাগজে মাঝে মাঝে খবর বেরোচ্ছে।  সংসদে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার গলা টিপে দেওয়া হচ্ছে। তবু এই পরিস্থিতেও জনজীবনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সোচ্চার প্রতিবাদ টের পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরীয়া তাগিদে  বিনা প্রশ্নে, বিনা প্রতিবাদে, পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করে সব কিছু মেনে নেওয়াই বোধ হয় ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।  যে বা যাঁরা এই পরিস্থিতির জাঁতাকলে পড়ে সহ্যের শেষ সীমায় চলে যাচ্ছেন, তাঁরা মর্মান্তিক ভাবে চরম পদক্ষেপ বেছে নিচ্ছেন। কোভিডের দরুন লকডাউনের প্রভাবে জীবিকা খুইয়ে কত পরিযায়ী কর্মীর জীবন অকালে শেষ হয়ে গেল। জীবনের দৌড়ে হেরে গিয়ে আর্থিক সংকটে মধ্যবিত্ত সমাজেও আত্মহত্যার ঘটনার খবর ইদানিং প্রায়ই চোখে পড়ছে।  মঙ্গলবার চৌরঙ্গীর এক বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে এক আইনজীবী নিজের জীবনে যবনিকা টেনে দিলেন। গত সপ্তাহে এক ব্যবসায়ীও বেছে নিয়েছেন একই পথ।

    এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছে বাবার কাছে ছোটবেলায় শোনা 'এক পয়সার লড়াই'য়ের কাহিনী।  বাবা বলেছিলেন, ১৯৫৩ সালে ট্রামের দ্বিতীয় শ্রেণীর ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।  স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছরের মধ্যে ওই জন-আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তু, কলকাতার মধ্যবিত্ত সমাজ এবং এমনকি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও।  মাসখানেক ধরে আন্দোলন, হরতাল, বিক্ষোভ, সংঘর্ষে কলকাতা হয়ে উঠেছিল রণাঙ্গন। ট্রাম-বাসে আগুন, বোমা, পুলিশের গুলি, গ্রেপ্তার কিছুই বাদ যায়নি। তা সত্ত্বেও আন্দোলন দমাতে না পেরে সরকারকে সেই ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহার করে নিতে হয়।  আজ পরিস্থিতি বদলেছে।  জাতীয় বা রাজ্যের অর্থনীতি প্রবল ভাবে আন্তর্জাতিক গতিপ্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত।  রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০৭ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন তলানিতে এসে ঠেকেছিল তখনও কিন্তু দেশে তেলের ওপর ধার্য আমদানি শুল্ক কমানো হয়নি কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারের অতিরিক্ত খরচ সংকুলানের দোহাই দিয়ে।  আজ যখন তেলের দাম বৃদ্ধিতে সকলের প্রাণান্তকর অবস্থা তখনও কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার পেট্রোপণ্যকে গুড্স অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্সের (জিএসটি) আওতায় আনার ব্যাপারে ঐকমত্যে আসতে পারছে না।  গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে যখন এই প্রস্তাব উঠেছিল তখন তাতে বাগড়া দিয়েছিল মহারাষ্ট্র, কেরল ও কর্ণাটক। তাতে নাকি তাদের রাজস্ব ক্ষতি হবে।  বছর পাঁচেক আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে জিএসটি যখন চালু হল তখন গোড়া থেকেই অশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল আর বিমানের জ্বালানিকে তার বাইরে রাখা হয়েছিল।  ফলে কেন্দ্রীয় সরকার যেমন এগুলির ওপর চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপায়, তেমনি বিভিন্ন রাজ্য এগুলির বিক্রির দামের ওপর ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) বা মূল্যযুক্ত কর চাপায়।  ফলে সাধারণ মানুষ এই দ্বিমুখী করের ঠেলায় কার্যত আক্ষরিক অর্থে সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার। তেলের ওপর করের হার বিশ্বের যে ক'টি দেশে সবচেয়ে বেশি, ভারত তার অন্যতম।

    আমাদের দেশে তেলের যা দাম তার অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ও রাজ্যের চাপানো কর।  যদি ধরেও নেওয়া যায় গড়ে এক লিটার পেট্রোলের দাম ১১০ টাকা তাহলে তার মধ্যে অন্তত ৫৫ টাকাই সরকারি কর।  অন্যদিকে জিএসটির সর্বোচ্চ হার ২৮ শতাংশ ধরে হিসেবে করলেও আজ পেট্রোলের দাম এক ধাক্কায় নেমে আসবে লিটার প্রতি ৭০ টাকায়। কিন্তু জনসাধারণকে সুরাহা দেওয়ার কথা আজ কেউ ভাবছে না।  অন্যন্য খেলো বিষয় ফাঁপিয়ে তুলে মূল্যবৃদ্ধি থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় বরং কোন ফাঁক নেই। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোন সুচিন্তিত মতামত চোখে পড়ছে না।  সকলেই যেন ভাবলেশহীন।

    আজকের যুগে এই যখন দামের পরিস্থিতি তখন খেয়াল হয় ১৯৬০ এর দশকে এক লিটার পেট্রোলের দাম ৬ টাকা ৩৩ পয়সার একটি পুরনো রশিদের ছবি কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিল।  শুধু তাই নয়, ইতিহাস আর পুরনো বই বা নথিপত্র ঘাঁটলে তখনকার সমাজজীবনে জিনিসপত্রের দামের যে ছবি মেলে তা মনে হয় নিছকই অলীক কল্পনা। মনে হয়, তখনকার সময়ের তুলনায় আমরা সত্যিই কি এগিয়েছি? যদি এগোলামই তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠছে কেন? জীবনের প্রাচুর্য, আনন্দ আর সুখ, সকলকে নিয়ে থাকার পারিবারিক স্বস্তি কেন এমন বিলীন হল?  
       
    সাধারণ খাওয়া দাওয়া নিয়ে সেকালের মানুষের এমন ভাবনা ছিল না। সবচেয়ে প্রাচীন বর্ণনা তো রয়েইছে প্রাকৃতপৈঙ্গলে।  যে নারী কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল এবং নালিতা বা পাট শাক পরিবেশন করেন, তাঁর স্বামী যে সত্যিই পুণ্যবান তাতে সংশয় নেই।  এমনই তো ছিল সেকালের চিত্র।  দুপুরের আহারে এমন তৃপ্তির খাবার পেলে আর কী চাই? আমাদের চর্যাগীতিতেও বিভিন্ন রূপকের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে তখনকার বাঙালি জনজীবনের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।  কর্মবহুল সাধারণ জীবনের বিচিত্র চিত্রশালা চর্যাগীতিতে ধনী, ঐশ্বর্যবান, অভিজাত মানুষের চৌষট্টি পদের আখ্যান যেমন আছে তেমনই শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, স্ত্রী, কখনও শ্যালিকা নিয়ে সুখে-দুঃখে ভরা বাঙালির যৌথ পরিবারের অনুপম বিবরণও রয়েছে। দুর্ভিক্ষ বা প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়া শস্য শ্যামলা, নদী-মাতৃক বঙ্গে সাংসারিক জীবনে খাওয়া-পরার সচ্ছলতার অভাব ছিল না।

    উনিশ শতকের বিশিষ্ট লেখিকা প্রসন্নময়ী দেবী তাঁর স্মৃতি-আলেখ্য "পূর্ব্বকথা"য় লিখছেন, "সে কালে খাঁটি দুগ্ধ, সর, ছানা, ঘৃত, প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাইত।  আমাদের গৃহে দৈনিক যোগান দুগ্ধ টাকায় ত্রিশ সের আসিত ও রাত্রে কর্ত্তা হইতে রাখাল পর্যন্ত তাহা অতি তৃপ্তি সহ খাইতে পাইত, মাপ করিয়া কাহারো বাটিতে দিবার প্রয়োজন হইত না।  নারিকেলমালা, কঞ্চি বাঁশের সহিত হাতার ন্যায় তৈয়ারি 'ওরং' নামক পদার্থে সেই কার্য হইত।  তাকে চারি সের 'জলবৎ তরলং' দুগ্ধ ভাগ করিবার ক্লেশ স্বীকার করিতে হইত না।" সে সময়ের প্রাচুর্যপূর্ণ সমাজের কথা উঠলে প্রথমেই মনে পড়ে ভোজনরসিকশ্রেষ্ঠ নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কথা।  তাঁর জন্যে রোজ নানান চর্ব, চোষ্য, লেহ্য, পেয় প্রস্তুত হত।  'হৈয়ঙ্গবীন' কৃষ্ণবর্ণের গাভী প্রত্যুষে দোহন করে তৎক্ষণাৎ সেই দুধের ননী তুলে যে ঘি তৈরি হত রোজ আহারের সময় তিনি সেটিই ব্যবহার করতেন। সেই কৃষ্ণচন্দ্রীয় আমলে সাধারণ লোকেও ছিল প্রকৃত ভোজনবিলাসী। আর সকলের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলেই রন্ধন ও মিষ্টান্নপাক শিল্পের মর্যাদা অর্জন করেছিল।

    'প্রবাসী' সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা শান্তা দেবীর লেখায় এলাহাবাদের কথা জানা যায় -- "তখন ওখানে গরুর দুধ টাকায় ষোল সের করে।  নির্বিচারে খরচ করতে কোন বাধা ছিল না।" তাঁদের বাড়িতে অনেক সময় বহু অনাত্মীয় মানুষ অতিথি হিসেবে থাকতেন।  তাঁরা পরিবারের সবার সঙ্গে বসে খেতেন।  তিনি লিখছেন, "যখন নেপালবাবু, গিরীশবাবুরা ছিলেন তখন তাঁরা পাল্লা দিয়ে রুটি খেতেন।  কেউ আঠারোটা, কেউ কুড়িটা।  দুই একজন বালকও চেষ্টা করত তাঁদের সঙ্গে পাল্লা দিতে।  এই রুটি বাজারে কেনা আটার নয়।  বাড়িতে জাঁতা বসানো থাকত।  গম-পিসুনি মেয়ে 'পিসনেহর' এসে জাঁতার দুই দিকে পা ছড়িয়ে বসে আটা ভেঙে দিয়ে যেত।  তারা অনেক সময় ছোট জাঁতায় করে আস্ত ডাল ভেঙে দিয়ে যেত।  সরষের তেলও ছিল খুব সস্তা।  মা একটা বড় মাটির হাঁড়িতে এক হাঁড়ি তেল নিয়ে তার মধ্যে আস্ত আস্ত কাঁচা আমের কলি বের করে নিয়ে, আমের ভিতর মশলা পুরে আমগুলিকে টেলি ডুবিয়ে রাখতেন আচার করবার জন্যে।  বড়ো বড়ো আস্ত করলাও ভিতরে মশলা ভরে আস্তই ভাজা হত।  তার নাম কলৌজী।"

    সস্তা-গন্ডার দিনকালের কথা পাওয়া যায় সুরসিক যম দত্তের ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত একটি রম্যরচনাতেও -- "আশু মুখুজ্জে মহাশয় যখন ভীমনাগের দোকান হইতে রোজ রোজ করিয়া সন্দেশ খাইতে আরম্ভ করেন, তখন সন্দেশের সের চোদ্দ আনা দাঁড়ায় আর এখন?... বিয়ে-থা থাকিলে সন্দেশের দর কোন আকাশে গিয়ে ঠেকে তাহার ঠিক ঠিকানা নাই।" সন্দেশের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তিনি বাঙালির মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির চূড়ান্ত চাঞ্চল্যকর তুলনা করেছেন।  তাঁর ভাষাতেই ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করা যাক -- "যখন সন্দেশের সের দুই আনা তিন আনা তখন দেশে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মাইয়াছেন, যখন সন্দেশের দর চার আনা ছয় আনা তখন দেশে বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ জন্মাইলেন, যখন সন্দেশের সের এক টাকা, দেড় টাকা তখন দেশে সুনীতি চাটুজ্জে, সত্যেন বসু, মেঘনাদ সাহা জন্মাইয়াছেন; যখন সন্দেশের সের দুই টাকা, আড়াই টাকা তখন শ্যামাপ্রসাদ, সুভাষ বসু জন্মাইয়াছেন।  আর এখন ছয়, সাত টাকা সের সন্দেশ কয়জনেই খাইবে?...বাঙালি মরিয়া গেল।"

    বাংলায় ইদানিং বুদ্ধিজীবী ও মেধাজীবীর শোচনীয় আকাল সম্পর্কে এর পরে আর কিছু মন্তব্য করা নিশ্চয়ই একেবারেই নিষ্প্রয়োজন!   

     
  • ব্লগ | ০৬ এপ্রিল ২০২২ | ৮৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ><>< | 216.105.168.194 | ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২২:৪৯506091
  • অসাধারন।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ০৭:১৭506098
  • চার আনা ছয় আনা সন্দেশের আমলে বাঙালি মধ্যবিত্তের মাস-মাইনে কত আনা ছিল?
  • Rumjhum Bhattacharya | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৪:৩৯506112
  • এত কথা লিখেছেন কিন্তু গভীরে তলিয়ে দেখতে পেতেন সে সময়ে মানুষের নিরাপত্তার চাহিদা এত আকাশ ছোঁয়া হয় নি। আজ পণ্যায়ণের ফাঁদে পরে মধ্যবিত্ত সমাজের নিরাপত্তার অভাববোধও মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে পা মিলিয়ে চড় চড় করে বেড়েছে। তার ফল ভোগ তো তাকে করতেই হবে। এ সব অনিবার্য ফল মাথা পেতেও জেনেছে তারা। কিসের প্রতিবাদ? তার নিজের জীবনের মূল্যবোধ বিকিয়ে সে যে জীবনের পেছনে ছুটছে তার পরিণাম তো তাকেই ভুগতে হবে। 
  • Ranjan Roy | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৮:২৫506118
  • রশিদের ছবি ভুল। আমি নিজে ১৯৭৯ সালে ছত্তিশগড়ের কোরবা শহরে মোটরবাইকে তেল ভরিয়েছি ৪.৮০ টাকা (চার টাকা আশি পয়সা) লিটার দরে। তেলের দাম লাফিয়ে  বাড়া শুরু হয় OPEC  সংকটে ওরা তেলের দাম যা তা করে বাড়িয়ে দেওয়ায়।
    আর প্রাচীন সময়ের ঘি-দুধের গল্পের সঙ্গে সে সময়ের টাকার ক্রয়মূল্যের উল্লেখ জরুরি। আমার বাবা ১৯৪৯ সালে আর্মিতে সাধারণ সৈনিক ছিলেন। মাসিক ৬০ টাকা মাইনেয় বিয়ে করেন।
    আর একটা জিনিস বলা দরকারঃ সেই দুধ-ঘি-মধুর সমুদ্রে হাবুডুবুর দিনে মানুষের গড় আয়ু কত ছিল? শিশুমৃত্যুর হার? প্রসূতির মৃত্যুর হার? ম্যালেরিয়া/টাইফয়েড/ গুটি বসন্তে মৃত্যুর হার? দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর হার?
     
    এ প্রশ্ন গুলো তোলার মানে এই নয় যে আজকের খামখেয়ালি বা আকাশ ছোঁয়া তেলের দামের ব্যাপারকে ছাড় দিতে হবে।
    উদ্দেশ্য একটাই--অবিমিশ্র ভালো আগেও ছিল না, এখনও নেই। চিন্তাটাই অবাস্তব। আজকের সমালোচনা করতে গিয়ে 'দাও ফিরে  সে অরণ্য, লহ এ নগর' বলে বুক চাপড়ানো পরিণামে আত্মঘাতী।
  • dc | 122.183.147.248 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:২৩506124
  • রঞ্জনদার সাথে একমত। সব সময়ই ভালো সময়। প্রাচীন সময়ে দুধ ঘি মধুর সমুদ্র ছিল, কিন্তু ইলেকট্রিসিটি ছিলো না, দ্রুত পরিবহণ ছিল না। 
     
    আর ইয়ে, আমি চারানার সন্দেশ খাইনি বটে, তবে চারানার ফুচকা খেয়েছি। ছোটবেলায় এক টাকায় চারটে ফুচকা পাওয়া যেত, সাথে একটা ফাউ। 
  • | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৪৫506125
  • এহ আমার ছোটবেলায় টাকায় ৭টা ফুচকা পাওয়া যেত। ১০ পয়সায় ফুলুরি।
  • একক | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৪৯506126
  • বাঙালির "প্রতিবাদ "  ব্যান্ডে অবস্থান চিরকালই এক্সট্রিম। কখনো ভেবে দেখার যে হয়ত,  এক পয়সার প্রতিবাদে এত বেশি চেঁচিয়েছে যে এখন অব্ধি গলা বসে আচে... হাতি গলে গেলেও "প্রতিবাদ" হয়না। 
     
    রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এ ইস্যু ছিল? আন্তর্জাতিক উদাহরণ দেখে লাফাতে গিয়ে সেইসব ভুল হয়েছিল যা নতুন স্টার্টআপ  গুগুল-কে মাছি টুকলে হয় ??? 
     
    রাজনীতি মানে তো বোম বাঁধার কারবার তাই না?  জনতা মশলা।  আপ্নারা কি রকেটে আগুন দিতে চকোলেট বোম ইউজ করে ফেলেছিলেন?  লজ্জা নেই,  ইতিহাস কারো কেও হয়না। আলোচনা করাই যায়  ঃ)
     
     
  • protibad | 2a0b:f4c2:2::35 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ২০:০১506127
  • এক পয়সার প্রতিবাদ তো স্পন্সরড বাই নেহরু। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু চাপা দিতে। স্পনসর জুটলে ফির প্রতিবাদ হোবে।
  • রঞ্জন (আদি) | 2405:201:3006:811b:7169:8f10:9620:14c7 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ২০:০৫506128
  • ট্রিভিয়াঃ
    পঞ্চাশের দশকে পার্কসার্কাসে চার আনায় শঙ্খ সন্দেশ, দু'পয়সায় সিঙাড়া, দু'পয়সায় বরফ ঘসে লাল-সবুজ-হলুদ রঙা আম বানিয়ে দেওয়া, চার আনায় কোকাকোলা, দু'পয়সায় হজমিগুলি এবং দু'আনায় দুধের আইসক্রিম।
    ১৯৬৮ সালে শ্যালদা থেকে পার্কসার্কাসের ট্যাক্সিভাড়া দেড় টাকা। ১৯৬৫ সালে আমাকে কাকার অফিস থেকে সন্ধ্যের সময় একজন অংক শেখাতে আসতেন, সপ্তাহে তিনদিন। মাসিক সম্মানমূল্য ২০ টাকা।
     
    ভালো অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের ফি এক টাকা। আমাদের পার্কসার্কাস ধাঙড় বাজারের সামনে তিনকামরা রান্নাঘর ও একটা বাথরুম/পায়খানার সম্মিলিত ভাড়া মাসিক ৪৮ টাকা। 
  • রঞ্জন (আদি) | 2405:201:3006:811b:7169:8f10:9620:14c7 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ২০:১২506129
  • একটা কথা। লেখক যমদত্তের কথা উল্লেখ করেছেন। যমদত্তের স্মৃতিচারণ  একত্রিত করে  ওঁর ছেলেরা (আসল নাম অন্য, ইংরেজ আমলের পুলিশে কাজ করতেন) একটি বই প্রকাশ করেন-- সম্ভবতঃ ২০১১ কি ১২ সালের বইমেলায়। গুরুর পাতায় বৈজয়ন্ত খুব প্রশংসা করে লিখলেন--অমন চমৎকার বিশুদ্ধ ভাট কদাচিৎ পাওয়া যায়।
    আমি কিনে ফেললাম। সত্যিই পয়সা উশুল। 
    পড়লে নির্মল আনন্দসাগরে সাঁতার কাটবেন --গ্যারান্টি দিচ্ছি।
  • b | 117.194.210.197 | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ২০:২২506130
  • শুধু পায়খানার ভাড়া কত? 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন