ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • প্রসঙ্গ কোভিড ও ভ্যাকসিন : মাননীয় ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক, আপনাকে বলছি স্যার

    Debasis Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ | ৮৬৫৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৬ (৭ জন)
  • আন্তর্জালে ভুয়ো খবর আর ভুলভাল হাস্যকর অবান্তর কথাবার্তার প্রবাহ নিরন্তরই চলে, চলতেই থাকে। তার বেশিরভাগই চোখে পড়েনা, এবং যা চোখে পড়ে তারও প্রায় সবটাই নীরবে উপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর থাকেনা। কারণ, প্রথমত, যেসব বিচিত্র ব্যাপার নিয়ে কথা হয় তার সব কিছু বিস্তারিত ভাবে জানা থাকেনা, আর জানা থাকলেও তার পেছনে পড়ে থাকতে গেলে নাওয়া খাওয়া ভুলতে হয়। কিন্তু, মাঝে মাঝে সত্যিই কিছু না বলে আর পারা যায়না, এবং এখন বোধহয় সেই মুহূর্ত আবার এসেছে। গত বছরখানেক যাবৎ কোভিড আর তার ভ্যাকসিন নিয়ে ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিকদের নির্বোধ ও কুৎসিত শোরগোলে কান পাতাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সত্যি, এ আর বাস্তবিকই নেওয়া যাচ্ছে না!

    ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব অবশ্য, বলা বাহুল্য, একটা নয়, অনেক। এবং, শুধু অনেক নয়, অনেক ধরনের। যেমন ধরুন, (১) চিন পরিকল্পনা করে সারা পৃথিবীতে মহামারি ছড়াচ্ছে (আর আমেরিকা ইউরোপ বসে বসে চুপচাপ বুড়ো আঙুল চুষছে --- চমৎকার, তাই না?)। (২) চিন আর আমেরিকা দু পক্ষ মিলে ইচ্ছে করে মহামারি ছড়াচ্ছে (এবং ইউরোপ আর রাশিয়াকে খেলায় না নিয়ে দুধুভাতু করে রেখেছে, আর তেনারাও সাইডলাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ খেলা দেকচেন, অভিমানে কতাবাত্রা বোলচেন্নাকো)। (৩) করোনা ভাইরাস হচ্ছে উহানের ল্যাবরেটরিতে তৈরি জৈব অস্ত্র, গণহত্যার উদ্দেশ্যে বানানো (এ বাবা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তবে এ ভাইরাসের ‘আরএনএ’–তে কাটাছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেল না কেন?)। (৪) এ সবই হচ্ছে বিল গেটস সায়েবের কুকীর্তি, তিনি তিন বছর আগেই এক সেমিনারে মহামারির ঘোষণা করে রেখেছিলেন (পৃথিবীব্যাপী ষড়যন্ত্রের প্ল্যান আগেভাগেই সেমিনারে ঘোষণা করে দিচ্ছেন --- বেচারা --- ঘটে ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিকদের মতন তীক্ষ্ণবুদ্ধির সাপ্লাই না থাকলে কেমন দুর্দশা হতে পারে, দেকেচেন্তো?)।

    তবে, ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের যে সংস্করণগুলো সোশাল মিডিয়ায় বাঙালি পোগোতিসিলদের মার্কেটে সবচেয়ে বেশি চলছে সেগুলো এইরকম। (১) এ হল এক ‘পুঁজিবাদী চক্রান্ত’, অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো নাকি বড়বড় পুঁজিপতি, উচ্চপদাসীন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে অতিমারির ভয় দেখিয়ে লকডাউন করে গরিবের রুটিরুজি কেড়ে নিচ্ছে, যাতে করে ধনীদেরকে আরও ধনী করে তোলা যায় (কিন্তু, গরিবরা কাজকর্ম না করলে ধনীর মুনাফা হবেটা কীভাবে?)। (২) এ হল ‘বিগফার্মা’-র তরফে মহামারির ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে ভ্যাকসিন বেচার ষড়যন্ত্র (কিন্তু, যাদের সে স্বার্থ নেই, তারা লকডাউনের বেয়াদবি সহ্য করবে কেন?)। (৩) প্রাণঘাতী ভ্যাকসিন দিয়ে দিয়ে বদমাইস কোম্পানিগুলো মানুষকে মেরে ফেলতে চাইছে (তা, পিত্থিমি শ্মশান হয়ে গেলে খাবে কী বাওয়া?)। (৪) এ রোগটি যে খালি সম্পন্ন শহুরেদের হচ্ছে, এবং শহুরে শ্রমজীবী বস্তিবাসী আর গ্রামের কৃষকদের হচ্ছেনা, তাতেই প্রমাণ, এ আসলে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো এক ভুয়ো আতঙ্ক মাত্র (তা, শহুরে রোগাক্রান্তরা তবে সাধ করে হাসপাতাল-ভ্রমণে যাচ্ছেন বুঝি?)। (৫) কোভিডের যেসব ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কোনও কাজের নয়, কারণ, ইজরায়েলে টীকাকরণ অতিদ্রুত সম্পূর্ণ করার পরেও কোনও কাজ হয়নি (তথ্যটি সঠিক, নিশ্চিত তো?)। (৬) লকডাউন অর্থহীন, কারণ, সুইডেন তা না করেই বিন্দাস আছে (আবারও প্রশ্ন, তথ্যটি সঠিক, নিশ্চিত তো?)।

    এমন আরও আছে, যেমন আইটি আর ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি-র ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব। তবে, ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের সম্ভাব্য সমস্ত দিক নিয়ে সবিস্তার গবেষণামূলক লেখা ও সবকটি ভুয়ো-তত্ত্বের নিষ্পত্তিমূলক খণ্ডন পেশ করাটা এখানে আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং, ওপরের দ্বিতীয়োক্ত ষড়যন্ত্র-তত্ত্বগুচ্ছ (১-৬) নিয়ে দু-এক কথা বললেই গুজবের বহরটা খানিক অন্তত বোঝা যাবে, তাই আপাতত সেটুকুই একে একে হোক।

    (১) লকডাউন করে কর্মস্থল আর গণপরিবহন বন্ধ করে দিলে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের যে অসীম দুর্দশা হয়, সে তো আর ব্যাখ্যা করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু, জোরজার করে এইটা চাপিয়ে দিলেই যে ধনীরা আরও ধনী হবে, এ দাবির অর্থ কী? দরিদ্র লোককে স্রেফ না খেয়ে বসিয়ে রেখে রেখে তো আর ধনীরা ধনী হয়না, ধনীরা ধনী হয় তাদেরকে খাটিয়ে, তাদের শ্রমজাত মুনাফা সংগ্রহ করে। কাজেই, গায়ের জোরে আইন জারি করে তাদেরকে ঘরে বসিয়ে রেখে পুঁজিবাদের কোনও লাভ নেই, ওভাবে লাভ হলে তো ধনী ও ক্ষমতাবানেরা সব সময়েই সে চেষ্টা করত, তার জন্য অতিমারির দরকার হত না। এত দিন যে কলকারখানা স্কুল কলেজ গণপরিবহন খোলা ছিল, সে তো আর সমাজতন্ত্রের জন্য নয়, পুঁজিবাদের স্বার্থেই। সরকারি ভরতুকি দেওয়া সস্তার লোকাল ট্রেনে চড়ে মফস্বলের শ্রমিকটি যে সাতসকালে কলকাতা এসে পৌঁছতেন হন্তদন্ত হয়ে, সেটা নিশ্চয়ই ‘ক্ষমতা অনুযায়ী সমাজকে দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নেবার’ জন্য নয়, বরং এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যেই সারাদিন নিজেকে নিংড়ে দিয়ে পরিবার পালনের জন্য দিনান্তে (বা মাসান্তে) যৎসামান্য রসদ সংগ্রহের জন্য। সেটা বন্ধ হলে শ্রমিকের বিপদ তো বটেই, কিন্তু মালিকের লাভটা কী? অবশ্য, যদি বলেন, সঙ্কটের মুহূর্তে দরিদ্র শ্রমজীবীর প্রতি এই নিষ্ঠুর অবহেলাটাও পুঁজিবাদেরই অঙ্গ, তাতে আমার খুব বেশি আপত্তি নেই। কিন্তু, ওইভাবে এবং ওই অর্থে যদি পুঁজিবাদকে দায়ী করতে চান, তো অভিযোগের বর্শামুখটা ষড়যন্ত্রের দিক থেকে সরকারি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অসংবেদনশীলতার দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে, আর তার জন্য প্রথমেই বিসর্জন দিতে হবে জলজ্যান্ত অতিমারিকে অস্বীকার করবার নির্বোধ সুখটিকে।

    এবং, লকডাউনের উল্টোপিঠটাও এখানে দেখতে হয়। এতে যে শুধু প্রচুর মানুষ কাজ হারিয়েছেন, তাইই নয়, বেশ কিছু মানুষ আবার বাড়ি বসে বসে দিনের পর দিন বেতনও পেয়েছেন, সংখ্যায় অনেক অল্প হলেও। এই ঘটনাটিকে আবার বৃহৎ পুঁজির সঙ্গে মধ্যবিত্তের একাত্মতার প্রমাণ হিসেবে কেউ কেউ পেশ করতে চান, কিন্তু আসলে তারও কোনও মানে হয়না। পুঁজিবাদ খামোখা কারুকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে চাইবে কেন? লকডাউনের ফলে সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেলে, প্রচুর লোককে বসিয়ে মাইনে দিতে হলে, প্রচুর লোক মারা গেলে বা হাসপাতালে গেলে বা অসুস্থ অক্ষম হয়ে বাড়ি বসে রইলে পুঁজিবাদের মোটেই কোনও লাভ নেই, বরং চূড়ান্ত ক্ষতি। এসব করে পুঁজিবাদ নিজেই নিজের সর্বনাশ করবে কেন? যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা কোভিড অতিমারি কতটা বোঝেন তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, পুঁজিবাদ কী বস্তু সেটা যে মোটেই বোঝেন না, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

    (২) এবার আসুন বিগফার্মার ষড়যন্ত্রের গল্পে। ভ্যাকসিন বানাবার কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র ভ্যাকসিন বেচার স্বার্থে অতিমারির ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীকুল এবং প্রত্যেকটি দেশের সরকারকে হাত করে, গোটা পৃথিবী জুড়ে লকডাউন ঘটিয়ে দিচ্ছে --- এ অভিযোগ যে কতটা উদ্ভট অবাস্তব হাস্যকর হতে পারে, সে ব্যাপারে আপনার কোনও ধারণা আছে কি? না, পৃথিবী জুড়ে এতগুলো লোককে এইভাবে একসাথে সম্পূর্ণ বশংবদ বানিয়ে এতবড় চক্রান্ত আদৌ কার্যকর করা যায় কিনা সে প্রশ্নে আমি যাচ্ছিই না (সেটা অতি সঙ্গত প্রশ্ন ছিল যদিও), আমি শুধু এর অর্থনৈতিক অবাস্তবতার কথাটা বলতে চাইছি। ভাল করে ভেবে দেখুন।

    প্যান্ডেমিক-এ গোটা পৃথিবীর জিডিপি কমেছে মহাজাগতিক অঙ্কে --- ৫ ট্রিলিয়ন ডলার! সেখানে, ভ্যাকসিন-নির্মাতা ফার্মা কোম্পানিগুলোর মুনাফা সব মিলিয়ে বেড়েছে পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, দাবিটা এই রকম দাঁড়াচ্ছে যে, কেউ বা কাহারা ষড়যন্ত্র করে গোটা অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাতে বাধ্য করেছিল, শুধুমাত্র বিশেষ কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোগের মুনাফা মাত্র পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার বাড়তে দেবে বলে! পুঁজিবাদের হত্তাকত্তাদের মাথা খারাপ হয়েছে বলে মনে হয় বুঝি আপনার?

    এখন গোটা পৃথিবীর জিডিপি ধরুন ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার মত, আর তার মধ্যে ফার্মা-দের ভাগ হল ৫০০ বিলিয়ন, মানে আধ শতাংশের একটু বেশি। আর, এদের মধ্যে যারা কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে তাদের মোট মুনাফা ৫০ বিলিয়ন, মানে তারও দশ শতাংশ। অর্থাৎ, ভ্যাকসিন ব্যবসার মুনাফা হচ্ছে গোটা পৃথিবীর অর্থনীতির .০৫ শতাংশ। তো এই ক্ষমতা নিয়ে ভ্যাকসিন নির্মাতা কোম্পানিগুলো নাকি গোটা পৃথিবীর অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দেবে, আর অর্থনীতির বাকি ৯৯.৯৫ শতাংশের দাবিদাররা তাতে বাধা না দিয়ে তা বসে বসে দেখবে আর বুড়ো আঙুল চুষবে --- ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিকদের আবদারটা এইরকম! এই সঙ্কটের মুহূর্তে এইসব অবান্তর উদ্ভট কথাবার্তা নিয়ে চ্যাঁচামেচি করাটা যে একটা ভয়ঙ্কর দায়িত্বজ্ঞানহীন বোকামো হচ্ছে, তাতে কোনও সংশয় থাকতে পারে কি?

    (৩) এও শোনা যাচ্ছে, প্রাণঘাতী ভ্যাকসিন দিয়ে দিয়ে বদমাইস কোম্পানিগুলো নাকি মানুষকে মেরে ফেলতে চাইছে। মানে, শিব্রামের সন্দেশের ব্যবসার প্ল্যান আর কি! তাঁর এক অসামান্য গল্পে শিব্রাম চেয়েছিলেন, তিনি রোজ প্রচুর সন্দেশ বানিয়ে নিজেই কিনে খেয়ে নেবেন, এবং বিক্রির মুনাফা দিয়ে রোজই আরও আরও সন্দেশ বানিয়েই চলবেন। তাতে করে নিয়মিত সন্দেশও খাওয়া হবে, আর ব্যবসারও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিকদের বক্তব্য মোতাবেক, এখানে ফার্মা-দের পরিকল্পনাও সম্ভবত সেটাই --- করোনা আর ভ্যাকসিন দিয়ে সব লোকজনকে মেরে দিয়ে পৃথিবীটাকে এট্টু ঠাণ্ডা করে নিয়ে তারপর শান্তিতে মনে সুখে ওষুধপত্তর বানাবেন, আর নিজেদের বানানো ওষুধ নিজেরাই কিনে খেয়ে খেয়ে মুনাফার পাহাড় গড়বেন! ওষুধ খেয়ে শরীলটাও ঠাণ্ডা থাকবে, আর ব্যবসাটাও জমবে!

    (৪) কেউ কেউ এ যুক্তিও দিচ্ছেন যে, এই যে এ দেশে শুধু শহুরে সম্পন্নরা কোভিডের কবলে পড়ছেন, এবং দরিদ্র শহুরে শ্রমজীবী ও গ্রামীণ কৃষকেরা অনাক্রান্ত থাকছেন, এইটাই নাকি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, কোভিড অতিমারি এক বানানো গল্প (আর, বানানো অতিমারির ভ্যাকসিনও যে বানানো গল্প হবে, তাতে আর আশ্চর্য কী!)। কিন্তু, যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা আরেকটু ভাল করে খোঁজ নিলে জানতে পারতেন, সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে অতিমারি শহরাঞ্চলে আবদ্ধ থাকলেও, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ঢেউয়ে তা আর শহরে আবদ্ধ থাকেনি আদৌ। গ্রামে তা ঠিক কতটা ছড়িয়েছে, সেটা পুরোপুরি বোঝা যায়নি যদিও, নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অভাবে। বস্তুত, অতিমারির দুই বছরে (২০২০ ও ২০২১) দেশে মোট মৃত্যু কত হয়েছে, আর কোভিডে মৃত্যুই বা ঠিক কত, সে ব্যাপারে সরকারি তথ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে তথ্য রোজই গণমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো সবই প্রতিষ্ঠিত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি থেকে পাওয়া। কিন্তু গ্রামে প্রচুর রোগি এসব ব্যবস্থার আওতার বাইরে, এবং তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন অপরীক্ষিত ও অচিকিৎসিত অবস্থায়, যা সরকারি ব্যবস্থায় আদৌ নথিভুক্ত হচ্ছে না, এবং তা সরকারি তথ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছেনা। এখন পাঠক অবশ্যই জানতে চাইবেন, জানা যদি না-ই যায়, তো আমরাই বা তবে জানলাম কীভাবে? হ্যাঁ, এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা ও বিশ্লেষণ হয়েছে। অতি সম্প্রতি এক প্রামাণ্য গবেষণাপত্রে তিনটি স্বতন্ত্র উৎস থেকে পাওয়া পরোক্ষ তথ্যগুচ্ছ ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে, আসলে এই দুই অতিমারিময় বছরে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি তথ্যে প্রকাশিত সংখ্যার ছয় থেকে সাত গুণ পর্যন্ত হতে পারে! অবিশ্বাস্য লাগছে, তাই না? কিন্তু, মৃত্যুর কারণ হিসেবে 'ডেঙ্গু' লেখার জন্য সরকারি চিকিৎসক অরুণাচল দত্ত চৌধুরিকে কীভাবে বরখাস্ত হতে হয়েছিল সে সংবাদ যদি আপনার স্মরণে থাকে, এবং অতিমারিতে মৃত ও গণ-চিতায় অর্ধদগ্ধ রোগিদের লাশ কীভাবে দলে দলে গঙ্গায় ভেসে এসেছিল সে স্মৃতি যদি আপনাকে কিছুমাত্রও বিচলিত করে থাকে, তবে এ গবেষণাপত্রের সিদ্ধান্ত আপনার তত অসম্ভব বলে মনে না-ও হতে পারে।

    আচ্ছা, বাদ দিন। গ্রামের গরিবেরা কোভিডে মরেছে কি মরেনি, সে তর্ক ছেড়েই দিন না হয়। মনে করুন না কেন, এ অতিমারিতে সত্যিই তারা সম্পূর্ণ অনাক্রান্ত আছে। যদি তা হয়, সে তো পরম সুখের কথা। কিন্তু, যদি তাইই হত, তাতেও কি এ কথা প্রমাণ হত যে, কোভিড অতিমারি একটি ভুয়ো গুজব মাত্র? ভাল করে ভেবে দেখুন একটু। শহরের সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ আক্রান্ত হননি, অতএব কোভিড আসলে তৈরি করা আতঙ্ক --- এ অভিযোগের প্রকৃত অর্থ কী? শহুরে রোগিরা বিল গেটসের ষড়যন্ত্রে এমনই সাথ দিচ্ছেন যে, তার চাপে শরীরে জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট এসে যাচ্ছে, এবং তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে লাখ টাকা খুইয়ে আসছেন? মানে কী, এ সব কথার? আপনারা নিজেরা পাগল হয়েছেন, না কি আমাদেরকে পাগল ভাবছেন, সেটা ভেঙে বলবেন একটু?

    (৫) অভিযোগ উঠেছে, করোনা-ভ্যাকসিন একটি অপরীক্ষিত ভুয়ো ওষুধ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে এ ভ্যাকসিন নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে বড় বড় ওষুধ কোম্পানিরা মুনাফা লুটতে পারে। বলা হচ্ছে, ভ্যাকসিন নিয়ে আদৌ যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে, এর নাকি কোনও প্রমাণ নেই। এর প্রমাণ হিসেবে আসছে ইজরায়েলের নাম, যেখানে নাকি সবার আগে ভ্যাকসিনেশন করেও ফল হয়নি। কথাটা কি সত্যি? দেখা যাক। গোটা পৃথিবীতে ইজরায়েলই সর্বপ্রথম গণটিকাকরণ শুরু করে, এবং সবচেয়ে দ্রুত তা রূপায়িত করে। ২০২০-র মে মাসেই ইজরায়েল সরকার ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি করে ফেলে, এবং ওই বছর ডিসেম্বরে ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়ে যায়। টিকার প্রথম প্রাপক ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু, যাঁর টিকা নেওয়ার ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারিত হয়। পরের বছর মার্চের মধ্যেই গোটা জনসংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশ ভ্যাকসিনের দুটি ডোজই পেয়ে যায়, এবং পঞ্চাশোর্ধ্বদের মধ্যে মাত্র লাখ খানেক মানুষ বাকি থাকেন। এর পর থেকে হুহু করে কমতে থাকে সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয়েরই হার, তবে এত আগে থেকে নিয়ে নেওয়ার ফলে অনেকের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে আসে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে যথারীতি সংক্রমণ ও মৃত্যু আবারও কিছু বেড়েছিল, যদিও প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে অনেক কম, এবং সেটাও নেমে যায় অতি দ্রুত। অনেককে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়, এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে চতুর্থ ডোজও। তৃতীয় ঢেউতেও সংক্রমণ বেড়েছে, কিন্তু অন্য দেশের চেয়ে অনেক কম, এবং মৃত্যু প্রায় নেই। কাজেই, ইজরায়েলে টিকা ব্যর্থ হবার গল্পটি এক অত্যন্ত বাজে মিথ্যে গল্প।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার প্রশ্নে বাকি পৃথিবীর সঙ্গে ইজরায়েলের অভিজ্ঞতা মেলে কি? ভ্যাকসিন-নির্মাতারা টিকার যে কার্যকারিতা দাবি করেছেন, আদৌ গণ-টিকাকরণের পরে বাস্তব ফলাফল কি তাই পাওয়া যাচ্ছে? এর উত্তর পেতে গেলে সমস্ত পৃথিবীর অভিজ্ঞতা এক জায়গায় করে ঠিকঠাক তুলনা করতে হবে। বিভিন্ন দেশে পরিস্থিতির প্রকট বিভিন্নতার কারণে সেটা বেশ কঠিন কাজ, যার জন্য এতদিন উপযুক্ত প্রামাণ্য গবেষণা পাওয়া কঠিন হচ্ছিল, প্রতিটি দেশের তথ্য আলাদা করে হাতড়াতে হচ্ছিল। সুখের বিষয়, সে পরিস্থিতি কেটে যাচ্ছে, এবং সুবিধাজনক ও প্রামাণ্য গবেষণার ফলাফল একটু একটু করে সামনে আসছে। এ রকম একটি সাম্প্রতিকতম গবেষণার কথা বলি। ‘ইন্টান্যাশনাল জার্নাল অফ ইনফেকশাস ডিজিসেস’ পত্রিকার জানুয়ারি ২০২২ সংখ্যায় কতিপয় চৈনিক গবেষক টিকাকরণ সংক্রান্ত বহু সংখ্যক তথ্যগুচ্ছকে এক জায়গায় করে একটি মোদ্দা বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন, যাকে পরিভাষায় বলে ‘মেটা-অ্যানালিসিস’। কী বোঝা গেছে তাতে? বোঝা গেছে এই যে, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মোট সংক্রমণের ক্ষেত্রে ৮৯.১%, হাসপাতালে ভর্তি হবার ব্যাপারে ৯৭.২%, আইসিইউ-তে ঢোকার প্রশ্নে ৯৭.৪%, এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৯৯%। কী অর্থ এ সব সংখ্যার? হ্যাঁ, গোল পাকানো হচ্ছে তা নিয়েও। ‘অমুক ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অমুক শতাংশ’ বললেই ভ্যাকসিন-বিরোধী ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক হাঁহাঁ করে তেড়ে এসে বলছেন, আরে, তার মানে তো সংক্রমণ এগারো শতাংশ, হাসপাতালে ভর্তি তিন শতাংশ আর মৃত্যুহার এক শতাংশ। তা, সে তো ভ্যাকসিন-ট্যাকসিন না নিয়েই সংক্রমণ, হাসপাতাল-গমন, মৃত্যু ইত্যাদির হার এমনিতেই ওর চেয়ে কম, তাহলে ভ্যাকসিন নিয়ে কি ছাই লাভটা হচ্ছে? এখানে সমস্যাটা হচ্ছে, মাননীয় ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক মহাশয় বিল গেটস সায়েবের গোপন মনোবাসনাটি জেনে ফেললেও, ‘ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা’ বস্তুটি কী সেটাই এখনও জেনে উঠতে পারেন নি, মোট সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারের সঙ্গে তাকে গুলিয়ে বসে আছেন। অনেকেই ভাবছেন, একটা ভ্যাকসিনের ‘এফিকেসি’ বা ‘কার্যকারিতা’ ৮০ শতাংশ মানে হচ্ছে, একশো জনকে ওই ভ্যাকসিন দিলে আশি জনের সংক্রমণ হবে না, বাকি কুড়ি জনের হবে। সেটা হলে খুব খারাপ ব্যাপার, সন্দেহ নেই, কিন্তু ব্যাপারটা আসলে আদৌ তা নয় তো! ‘কার্যকারিতা’ ৮০ শতাংশ হবার মানে হচ্ছে, ভ্যাকসিন আদৌ না নিলে কোনও একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যায় যতটা সংক্রমণ হত, ওই ভ্যাকসিন-টা নিলে তার চেয়ে আশি শতাংশ কম হবে। সংক্রমণ বা মৃত্যুর মোট হারের সঙ্গে তার ধারণা ও পরিমাণ --- এ দুয়েরই আকাশ-পাতাল ফারাক।

    ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে যাঁরা সোশাল মিডিয়াতে এইসব ভুলভাল বলছেন, তাঁদের মধ্যে সবাই কিন্তু অজ্ঞ আনপড় নন। অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জার বিষয়, এবং আতঙ্কেরও, যে কিছু অভিজ্ঞ চিকিৎসকও এ ব্যাপারে মানুষকে ভুল বোঝানোর কাজে লিপ্ত হয়েছেন।

    একটা তথ্য দিয়ে এ প্রসঙ্গ শেষ করি। যখন ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা শুরু হয়, তখন বিজ্ঞানীরা স্বয়ং এর কার্যকারিতা কতদূর হবে সে নিয়ে সংশয়ী ছিলেন, এবং খুবই বিনয়ী অবস্থানে ছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা যদি অন্তত ৫০% হয় সেটাও চলতে পারে, এবং ৭০% হলে সেটা খুবই ভাল। অথচ, সব প্রত্যাশা ও সংশয় ছাপিয়ে প্রায় সমস্ত ভ্যাকসিনেরই কার্যকারিতা এখন ঘোরাফেরা করছে ৮০% থেকে ৯০% সীমার মধ্যে। একে নিছক সাফল্য বললে হবে না, অভাবনীয় সাফল্যই বলতে হবে। কাজেই, আপনি যদি একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলেন, এবং আপনি যদি অজ্ঞ না হন, তো আপনি অকৃতজ্ঞ আচরণ করছেন কিনা, একটু ভেবে দেখবেন।

    (৬) সুইডেনের লকডাউন না করার সিদ্ধান্তও এক উত্তপ্ত চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে, যদিও, আসলে তত উত্তাপের বিশেষ কিছুই নেই। বলা হচ্ছে, সুইডেন অতিমারির প্রেক্ষিতে আদৌ লকডাউন করেনি, এবং সুইডিশরা তাতে নাকি চমৎকার আছে, কোনও অসুবিধে হয়নি, বা অন্তত লকডাউন করা দেশগুলোর থেকে বেশি অসুবিধে হয়নি। এখানে যা বলা হচ্ছে না, সেটা তবে এবার বলি একটু।

    সুইডেনে প্রথম কোভিড কেস ধরা পড়ে ২০২০-র জানুয়ারিতে, এবং অন্য দেশ থেকে সংক্রমণের খবরও আসতে থাকে ক্রমশ বেশি বেশি করে। সুইডেনের সরকার কঠোরভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, লকডাউন করা হবেনা, এবং সমস্ত কাজকর্ম চালু রাখা হবে, এবং এমন কি মাস্ক-ও পরার দরকার নেই। তাদের ধারণা ছিল, ব্যাপারটা অল্প কিছু জ্বরজারির ওপর দিয়ে যাবে, এর জন্য সব কিছু বন্ধ করে দেবার দরকার নেই। কিন্তু, স্পষ্টতই এ ভাবনা ছিল ভুল। সংক্রমণ ও মৃত্যু হুহু করে বাড়তে থাকে, এবং বছরখানেক পরে সংক্রমণ হার গিয়ে দাঁড়ায় সমতুল্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রদের দশ গুণ। হাসপাতালে ভর্তি হবার হিড়িকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-গুলোর সমস্ত বিছানা ভর্তি হয়ে যায়। এমন কি, এতে করে অর্থনীতি বাঁচবে বলে যে ধারণা করা হয়েছিল তা-ও ভুল বলে প্রমাণিত হয়, এবং জাতীয় আয় প্রায় নয় শতাংশ নেমে যায় ও বেকারি প্রায় দশ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটি যদি সুইডেনের মত একটি অত্যন্ত কম জনসংখ্যা ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশ না হত, তো এ হেন সিদ্ধান্ত গণহত্যার সামিল হয়ে দাঁড়াতে পারত। ফলত, শেষে ২০২০-র ডিসেম্বরে সরকার লকডাউন নামাতে বাধ্য হয়। অবশ্য, ২০২১-এর মে মাস থেকে গণটিকাকরণ সুষ্ঠুভাবে চালু হলে আবার লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। কী বোঝা গেল এ সব তথ্য থেকে? না, সুইডেন লকডাউনের অকার্যকারিতার দৃষ্টান্ত নয়, বরং ঠিক উল্টো। সুইডেনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পোক্ত ও সুশৃঙ্খল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং মানবোন্নয়নের সুদীর্ঘ উজ্জ্বল ইতিহাস-ওয়ালা একটি অত্যন্ত উন্নত দেশেও কোভিড বিধি অমান্য করলে কী ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে।

    এর অর্থ কি এই যে, আমাদের দেশে যেভাবে লকডাউন করা হয়েছে তার মধ্যে কোনও গণ্ডগোল নেই, বা তার সমালোচনা হতে পারেনা? না, তা অবশ্যই হতে পারে এবং হওয়া উচিত। কিন্তু, লকডাউন ব্যাপারটাই একটা লোক ঠকানো ষড়যন্ত্র --- এভাবে ভাবাটা বোধহয় নিছকই পাগলামি। লকডাউন করাটা যদি ‘পুঁজিবাদী চক্রান্ত’ হয়, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আর জাইর বোলসোনারো যেভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুর তোয়াক্কা না করে লকডাউনের বিরোধিতা করেছেন তাকে কী বলব --- পুঁজিবাদ বিরোধী সংগ্রাম? অনুগ্রহ করে একটু ভেবে দেখবেন।

    যাই হোক, খেপে গিয়ে অনেক কথাই বলে ফেললাম, এবার তাহলে গুটিয়ে আনা যাক।

    একট অভূতপূর্ব অতিমারির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। তাতে মৃত্যু তো হচ্ছেই, এবং তার চেয়েও অনেক বেশি হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, সঙ্কটকালীন চিকিৎসার সম্মুখীন হয়ে প্রচুর অর্থ খরচ হয়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন ধরে তার জের হিসেবে শরীর দুর্বল অশক্ত হয়ে থাকা, নানা বিচিত্র উপসর্গ, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর সমাধান ছিল অজানা। বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন সমাধান, কিন্তু কোনও সমাধানই হাতের মোয়া নয় --- প্রয়োজন স্থৈর্য, প্রয়োজন ধৈর্য, প্রয়োজন কঠোর যুক্তিসম্মত অনুসন্ধান, প্রয়োজন সৃজনশীলতা, প্রয়োজন সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবাধ সহযোগিতা ও আদানপ্রদান। সরকারগুলোর তরফে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে যথেষ্ট অর্থ সংস্থান করে যুক্তিসম্মত ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ, এবং অতিমারি সংক্রান্ত তথ্যাবলী বিষয়ে যথোপযুক্ত সংরক্ষণ, সহজপ্রাপ্যতা ও স্বচ্ছতার সুব্যবস্থা। এবং, আমাদের মত আমজনতার তরফে প্রয়োজন এ বিষয়ে সচেতনতা, এবং অন্যকে সচেতন থাকতে সাহায্য করা। কিন্তু, অবান্তর আজগুবি সব অভিযোগ তুলে ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়াতে থাকলে তাতে কার লাভ?

    হ্যাঁ, অজানা বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে বিভ্রান্তি ও ভুলভ্রান্তি স্বাভাবিক বইকি, যেমনটি স্বাভাবিক নিরন্তর সমালোচনাও --- সেটা কাঙ্ক্ষিতও বটে। কিন্তু সে সমালোচনা যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক হওয়া চাই। বিজ্ঞানীরা যা এখনও জানতে পারেননি তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবেই, কিন্তু যা ইতিমধ্যে জানা গেছে সেটা একটু কষ্ট করে জেনে নিলেই হয়, মনে মনে কালনেমির লঙ্কাভাগ করা অর্থহীন। এবং, আজকাল নেটে যা পাওয়া যায়, তাতে বিভ্রান্তি খুব বেশি থাকার কথা না, যদি কী খুঁজতে হবে এবং কোথায় খুঁজতে হবে সেটা জানা থাকে। সেটা জেনে নেওয়াটাও কঠিন না, যদি জানার ইচ্ছেটা থাকে, এবং, 'জানা' কাকে বলে সে বিষয়ে একটা ধারণা থাকে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, সে ধারণাটুকু অনেকেই রাখেন না। ফলত, সকলেই নেটে ঠিক সেটাই খুঁজে পাচ্ছেন, যা পেলে তাঁরা খুশি হন। আর, সেটাই সোশাল মিডিয়াতে ক্রমাগত শেয়ার করে যাচ্ছেন, গণপরিসর বানভাসি হয়ে যাচ্ছে বর্জ্যপদার্থে। সবিস্ময়ে দেখছি, বাম র‍্যাডিক্যালদের একাংশ সোৎসাহে ও নির্বিচারে গিলছেন আমেরিকার কট্টর দক্ষিণপন্থী অ্যান্টি-ভ্যাকসারদের বানানো সব ভুয়ো খবর, আর প্রবল কর্তব্যবোধ সহকারে তা বমি করে দিচ্ছেন সোশাল মিডিয়ায়, অবশ্যই তার সঙ্গে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’, ‘পুঁজিবাদী চক্রান্ত’, ‘মুনাফালোভী বহুজাতিক’ জাতীয় কিছু পরিচিত বাম-বুলি এবড়োখেবড়োভাবে মিশিয়ে। কেন যে এমন করছেন সে ব্যাখ্যা তাঁরা নিজেরাই সবচেয়ে ভাল দিতে পারবেন, তবে তাঁদের কীর্তিকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, সঙ্কটের মুহূর্তে স্বাভাবিক যুক্তি-বুদ্ধি সবই বুঝি জলাঞ্জলি দিয়ে বসে আছেন।

    তাঁদের কাছে আমার সবিনয় নিবেদন, লকডাউনে মানুষের বিপন্নতা নিয়ে অবশ্যই সোচ্চার হোন, কিন্তু অনুগ্রহ করে অযৌক্তিক সন্দেহ আর ভুয়ো খবর ছড়াবেন না, আর কোভিড বিধি অমান্য করতে অন্যকে প্ররোচনাও দেবেন না। একটু মনে রাখবেন, দুর্ঘটনায় আপনার হাত-পা ভাঙলে তা সারাবেন কি সারাবেন না সেটা আপনার ব্যক্তিগত অধিকার হতে পারে, কারণ সেটা ছোঁয়াচে নয়, কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়া আর মাস্ক পরার ব্যাপারটা মোটেই ও রকম না। ভ্যাকসিন দেবার লক্ষ্য ব্যক্তিকে বাঁচানো নয়, একটি গোটা জনগোষ্ঠীকে বাঁচানো। ভ্যাকসিন দেবার পরেও নানা কারণে ব্যক্তিবিশেষের সংক্রমণ ও মৃত্যু হতে পারে --- বিরল হলেও --- যে কোনও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই, শুধু কোভিডের ক্ষেত্রে নয়। কিন্তু, ভ্যাকসিন দেবার পরে একটি বিশেষ জনসংখ্যায় সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেকখানি কমে যায়, সেটুকুই লাভ। তাতে ব্যক্তিবিশেষ হিসেবে আপনি বাঁচবেন কিনা সে প্রশ্ন বাতুলতা, বরং আপনার দেশ ও সমাজের আরও কিছু বেশি মানুষ যে বাঁচবে, এটুকু আশ্বাসই যথেষ্ট। কাজেই, ভ্যাকসিন নেওয়া ও মাস্ক পরাটা যতটা না ব্যক্তির লাভ-ক্ষতির প্রশ্ন, তার চেয়েও বেশি যৌথ দায়িত্বের প্রশ্ন। আপনি যদি ভ্যাকসিন না নেন এবং মাস্ক না পরেন, তাহলে আপনার কোনও ক্ষতি নাও হতে পারে, কিন্তু সংক্রমণটা যাকে দিলেন তার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। আর, খুব বেশি লোক যদি এইটা করেন, তাতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে গোটা জাতি, যেমনটি ঘটেছে আমেরিকা ব্রাজিল সুইডেনে।

    মুখ ঢাকতে আর ছুঁচ ফোটাতে ভাল লাগেনা বলে অবাধে চলাফেরা করতে দিয়ে সংক্রমণ ছড়াতে দেওয়া হোক, এইটা যদি ষড়যন্ত্র-তাত্ত্বিক ভ্যাকসিন-বিরোধীদের দাবি হতে পারে, তাহলে ওই একই কারণে ভ্যাকসিন-পন্থীরাও পাল্টা দাবি করতে পারেন, যিনি মাস্ক পরবেন না এবং ভ্যাকসিন নেবেন না, তাঁকে অবরুদ্ধ করা হোক। দুটোর কোনওটিই কাম্য নয়, কিন্তু একটির অস্তিত্ব অন্যটিকে ন্যায়সঙ্গত করে তুলতে পারে। ‘মাই বডি মাই রাইট’ শ্লোগান যদি ভ্যাকসিন-বিরোধীদের আশ্রয় হতে পারে, তো ওই একই কারণে তো তা ভ্যাকসিন-পন্থীরও আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।

    পারে না? বলুন!

    সাহায্যকারী তথ্যসূত্র

    1) https://www.gavi.org/vaccineswork/how-effective-are-covid-19-vaccines-real-world
    2) https://www.science.org/doi/10.1126/science.abm5154
    3) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1201971221008572
    4) https://www.who.int/news-room/feature-stories/detail/vaccine-efficacy-effectiveness-and-protection
    5) https://www.healthdata.org/covid/covid-19-vaccine-efficacy-summary
    6) https://en.wikipedia.org/wiki/COVID-19_pandemic_in_Sweden
    7) https://www.businessinsider.in/science/news/a-year-and-a-half-after-sweden-decided-not-to-lock-down-its-covid-19-death-rate-is-up-to-10-times-higher-than-its-neighbors/articleshow/85514410.cms
    8) https://www.worldometers.info/coronavirus/country/sweden/
    9) https://en.wikipedia.org/wiki/COVID-19_vaccination_in_Israel
    10) https://www.worldometers.info/coronavirus/country/israel
  • | রেটিং ৪.৬ (৭ জন) | বিভাগ : ব্লগ | ১৭ জানুয়ারি ২০২২ | ৮৬৫৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    চিঠি - Shomita Banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.18.84 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০১:১১502913
  • রঞ্জন যে সংখ্যাগুলো দিয়েছেন তার হিসেব হবে এই রকম। ভ্যাকসিন না নেওয়া ৩০ জনের মধ্যে ২৩ জন সংক্রামিত, অতএব তার শতকরা দাঁড়াচ্ছে ৭৭। আর, ভ্যাকসিন নেওয়া দলে সংক্রমণের শতকরা হিসেব দাঁড়াচ্ছে (৫/৭০)×১০০=৭। তাহলে রিলেটিভ রিস্ক দাঁড়াচ্ছে ৭/৭৭=.০৯। একে এক থেকে বাদ দিলে পাচ্ছি .৯১, তাকে একশো দিয়ে গুণ করলেই পাবো ৯১, এবং এটাই ওই ভ্যাকসিনের এফিকেসি। 
     
    দ্বিতীয় ক্ষেত্রে হিসেবটা দাঁড়াবে এই রকম। ভ্যাকসিন নেওয়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার (৬৫/৭০)×১০০=৯৩, আর ভ্যাকসিন না নেওয়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার (৭/৩০)×১০০=২৩। অতএব রিলেটিভ রিস্ক দাঁড়াচ্ছে ৯৩/২৩=৪। একে এক থেকে বাদ দিলে পাই -৩। তাকে শতাংশে নিলেই -৩০০ ভ্যাকসিন এফিকেসি। অর্থাৎ, এই ভ্যাকসিনটি দিলে সংক্রমণ আটকানো দূরের কথা, আরও বেশি ঘটবে।
     
    বন্ধুরা, কিছু ভুল বললাম কি?
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.18.84 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০১:১৩502914
  • বেনামা পোকামাকড়ের জ্বালায় অস্থির কাণ্ড দেখছি!
  • lcm | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:২৮502915
  • :) | 2605:6400:30:eed4:573a:7181:677f:f5ab | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:০১502916
  • ভ্যাক্সপ্রেমীদের জন্য সুখবর। নতুন ভ্যাক্স আসিতেছে, আসিতেছে, আসিতেছে। লইতে ভুলিবান না।
     

    An omicron-specific Covid vaccine will be ready by March but some experts warn it could be “too late” due to the variant’s highly transmissible nature.

    On Monday, Pfizer CEO Albert Bourla told CNBC that its vaccine with BioNTech that targets omicron — and other variants that are currently circulating — will be ready for distribution by spring and that the company has already started manufacturing doses.

    But an omicron-targeted vaccine was needed in December, says Dr. William Moss, executive director of the International Vaccine Access Center at the Johns Hopkins Bloomberg School of Public Health. “It still could be valuable but I do think in many ways, it’s too late” for the current omicron wave, Moss says.

     
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.18.84 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪২502917
  • যদি দরকার পড়ে নেব বইকি, শুধু তৃতীয় কেন, চতুর্থ বা পঞ্চম ডোজও নেব। সাত-আটশো টাকায় একটা ডোজ না নিয়ে কোয়ারান্টাইন হাসপাতাল মৃত্যু এইসবকে বরণ করতে যদি প্রস্তুত থাকেন, সেটা আপনার ব্যাপার, কিন্তু অন্যকে প্ররোচিত করা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
  • | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১০:১৪502918
  • আগে তো প্রত্যেক বছর পক্সের টীকা নিতাম। পৌরসভা থেকে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার করে দেওয়া হত শীতের দিনে। বোধহয় আশির দশকের শুরুতে জানা গেল আর লাগবে না। কোভিডও তাই নিতে হবে যা বুঝছি। 
    এই টীকাকরণের দায়িত্ব ও  খরচ সরকারের নেওয়া উচিত। 
     
    লেখাটা ভাল আর কমেন্ট সেকশান খোরাকের খনি। 
     
    যাই হোক দেবাশিস আপনি লেখা সম্পাদনা করে ডেঙ্গু করে দিতে পারেন। ব্লগে সম্পাদনা করার অপশান আছে তো। 
  • Debasis Bhattacharya | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৪৫502919
  • আমি বুঝতেই পারছি না, কীভাবে সম্পাদনা করব, জানলে তো করেই দিতাম এতক্ষণে। মাঝে তো সে অপশন পাচ্ছিলাম  বলেই মনে পড়ছে, এখন আর খুঁজে পাচ্ছিনা। গাইড করবেন প্লিজ? 
  • | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:২৫502920
  •  যে প্রথমে প্রোফাইল থেকে ব্লগে যান  তারপর এই ছবিগুলো দেখুন। 
     
     
  • | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:২৭502921
  • Debasis Bhattacharya | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৪৮502922
  • 'দ'
    হ্যাঁ, করতে পেরেছি, ধন্যবাদ। অনেকদিন লিখিনি, কায়দা কানুন সব ভুলে গিয়েছিলাম!
  • Debasis Bhattacharya | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:০০502928
  • বিহারে সিপিআই-এম এল (লিবারেশন) পার্টির নিজস্ব সমীক্ষাজাত অনুমান অনুযায়ী, শুধু বিহারেই কোভিডে অ-নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে দু-লাখ, যা সরকার লুকোচ্ছে। বিহার সরকার ঘোষিত কোভিড মৃত্যুর সংখ্যাটি যেহেতু দশ হাজারের কম, অতএব, এ সমীক্ষার ফলাফল যদি সত্য হয়, তাহলে বিহার সরকার অন্তত কুড়ি গুণ মৃত্যুর ঘটনা লুকোচ্ছে।
  • Ranjan Roy | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৫১502929
  • যা চাইছিলাম সেটা এলসিএম করে দিলেন।
    অর্থাৎ লার্জ স্যাম্পল স্টাডিতে চেক করা -- কোনটা বাস্তব তথ্যের সংগে মিলছে? আমার দেয়া কাল্পনিক মডেল বা অন্য একজন বন্ধুর দেওয়া ডেটা? 
    এছাড়া ১ মিলিয়ন স্যাম্পল নিয়েও ভ্যাকসিন স্টাডি আছে, সম্ভবতঃ ল্যান্সেট বা অন্য কোন বিশ্বস্তরের মেডিক্যাল জার্নালে বেরিয়ে ছে। 
    ড্যানিয়েল কাহ্নেম্যান দেখিয়েছেন কীভাবে আমরা সবাই নিজেদের বায়াসের সংগে মিলে গেলে কন্ট্রা চেক বা রেলিভ্যান্ট ডেটা না নিয়ে যতটুকু পেয়েছি তার ভিত্তিতে ইম্প্রেশনকে ফেইথ বানিয়ে ফেলি।
     
    আমার ১৯ বছর বয়সে টিবি হয়েছিল। শয্যাশায়ী, দুটো ফুস্ফুসের ছবি চাঁদের পাহাড়। 
    তখন চিকিৎসা বলতে পাস ও আইসোনেক্স ট্যাবলেট ও স্ট্রেপটোমাইসিন ইঞ্জেকশন। আমার ১৪৪ টা লেগেছিল । প্রাণে বেঁচে গেলাম, কিন্তু ওভার মেডিকেশনের সাইড এফেক্টে  ক্রনিক ব্রংকিয়াল অ্যাজমা হয়ে গেল।
    আজ ঐসব  চিকিৎসার দরকার পড়ে না। এসে গেছে মিয়াম্বুটল, রিফ্যালসিন ইত্যাদি। সাকসেস অনেক বেশি। 
    কিন্তু আমি যদি তখন (৫০ বছর আগে) ওই চিকিৎসা সাইড এফেক্টের ভয়ে না নিতাম? বা আজ যদি কেউ 'নতুন নতুন ওষুধ খামু ক্যান? আমাগো আগের গুলিই ভাল ছিল' বলে আজকের অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট না নেয়?
  • চণ্ডাল | 2a0b:f4c2:2::44 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:১৩502930
  • একই সঙ্গে বিগ ফার্মা ও লিবারেশনে আস্থাশীল জনতা গুরুর চিড়িয়াখানাতেই পাওয়া যায়।
  • Ranjan Roy | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৪৬502931
  • শুধু তাই?  নো ভ্যাকসিন ট্রাম্পভক্ত  রামদেব বাবাভক্ত (ডক্টর টর টর) এবং  একই সংগে বিপ্লবভক্ত স্যাম্পলও পাওয়া যায়। তবে না চিড়িয়াখানা।!
    বাই দ্য ওয়ে, লিবারেশনের কমরেডগণ অসুস্থ  হইলে কি বিগ ফার্মা নির্মিত ওষুধ সকল বয়কট করিয়া স্মল স্মল ফার্মার ওষূধ খোঁজেন? মিনিমাম কৌতুহল মাত্র!
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.16.59 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৪৪502933
  • অহো, লিবারেশনও বিগ ফার্মার দালাল? এ কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!
  • subarna | 2a0b:f4c0:16c:4::1 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৩৩502937
  • দেবাশিসবাবু চমৎকার বলেছেন। ওমিক্রন পেরিয়ে গেলেও উনি ওমিক্রনের ভ্যাক্সিন নেবেন। পরের ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এই ভ্যাক্সিন কাজ করবে কিনা সে ওনার ভাবনার বিষয় না। ওনার টাকা আছে, বাজারে ভ্যাক্সিন আছে  উনি কিনবেন। কিছু বলার নেই। বেড়ালের বিয়ে দেওয়ার চল যখন উঠে গেছে, পকেটে টাকা কুটকুট করতেই পারে।
    অরূপবাবুর লেখাটির বিরুদ্ধে ওনার যুক্তি (যুক্তি বলব? সেটাই ওনার পছন্দের শব্দ) শুরু হয়েছে বানান ভুল ধরে। কম্পিউটারে বাংলা টাইপ করতে গেলে সবাই জানে ক্যাপিটাল স্মল গণ্ডগোল হয়ে গেলে অমন বেশ কিছু হয়। ভদ্রলোকে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। দেবাশিসবাবু অবশ্য নিজেকে ভদ্রলোক বলে দাবিও করেননি। সে ঠিক আছে।
    উনি আকাশ থেকে পড়ে ভেবেছেন - টাকার আবার জিডিপি কি? দুশো টাকার মাছ শুনলে ওনার বিস্ময় আরো বাড়বে হয়তো - টাকার আবার মাছ কি? সোজা বাংলায় ওর মানে হল যে মাছের বিনিময়মূল্য দুশো টাকা। তেমনি অরূপবাবু বলেছেন বারবার হাতবদল হতে থাকলে জিডিপিতে দুশো টাকার অবদান দুশো টাকার বেশি হতে পারে।
    সমস্যা হল অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান দুটোতেই যুক্তি লাগে কিন্তু যুক্তিবাদী সমিতিতে নাম লেখালেই অর্থনীতি বা স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ হওয়া যায় না। দেবাশিসবাবু এই ফ্যালাসিতে ভুগছেন। গুরুরা কেউ  এইটে ওনাকে লজিকের সূত্রে বুঝিয়ে দিতে পারবেন না?  
  • স্কুল | 115.114.47.197 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৩৬502938
  • Sujan Bhattacharyya এর ফেসবুক পাবলিক পোস্ট

    ইনি সব কটি ওয়েভের কোভিড সংক্রান্ত এমার্জেন্সি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফেস করেছেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করেছেন ও করছেন সামাজিক সংগঠনের তরফে।
     
    স্কুলকলেজ খোলার দাবীতে জনমানসের সুর ক্রমশ চড়ছে। একটি জনস্বার্থ মামলাও হয়েছে হাই কোর্টে। পাশাপাশি বিপরীত মতটাও উঠে আসছে। স্কুলকলেজ এখনই পূর্ণমাত্রায় চালু হলে নাকি ভয়ংকর বিপদ হয়ে যাবে। বলা হচ্ছে, বাচ্চাদের ডাবল ডোজ ভ্যাক্সিন না দিয়ে স্কুল খোলা ঠিক হবে না। একজনও যদি মারা যায়, তার দায় কে নেবে!
    আশঙ্কা হিসাবে ঠিকই আছে। কিন্তু সর্বদাই গেল- গেল ভাব বজায় রাখার সমস্যা হল চশমার কাচও ঘোলাটে হয়ে যায়। হিসাবমাফিক কলেজের ছাত্রছাত্রীদের তো ডবল ডোজ ভ্যাক্সিন হয়ে যাবার কথা। তাহলে কলেজ-ইউনিভার্সিটির গেটে তালা কেন? তার মানে শিক্ষায়তন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র ভ্যাক্সিনকেন্দ্রিক নয়। আরো কিছু গোপন উপাদান আছে। আলোচনা গড়ানোর আগে, আপাতত স্কুল বন্ধ রাখার যারা পক্ষপাতী, তাদের কয়েকটা নির্মল প্রশ্ন করা যাক –
    ১/ ইয়ার এন্ডে পুরী বা পুরুলিয়া ট্যুরে সন্তানকে ছাড়াই কি গিয়েছিলেন?
    ২/ শেষ মরসুমে কটি বিয়েবাড়ি অ্যাটেন্ড করেছেন? একটিতেও নিজের সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিলেন কি?
    ৩/ শেষ পুজোর মরসুমে নতুন ড্রেস কেনার জন্য দোকান বা শপিং মলে গিয়েছিলেন কি? সেখানে আপন সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিলেন কি?
    ৪/ আপনার সন্তান টিউশন কি অন লাইনেই নিচ্ছে? নাকি সরাসরি টিউটরের দরজায় হাজিরা দিচ্ছে?
    ৫/ বছরশেষের বিবিধ মেলাখেলার একটিতেও হাজির হয়েছিলেন কি? নিজের সন্তানকেও কি সঙ্গে নিয়েছিলেন?
    প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যদি নঞর্থক হয়, একমাত্র তাহলেই একজনের নৈতিক অধিকার থাকবে স্কুল খোলার বিরুদ্ধে মত দেবার। অন্যথায় তার বক্তব্য আদতে চালাকি মাত্র। আবার খুব সরলভাবে চালাকি বলতেও একটু ধন্দ আছে। কারণটি ক্রমশ প্রকাশ্য।
    এবারে মূল বক্তব্যে আসি। মেলাখেলা সহ পৃথিবীর সবকিছু চলছে, আর জীবনের দায় কেবল ছাত্রদের? আর ভ্যাক্সিনের দোহাই! আজ পর্যন্ত একটি ভ্যাক্সিন নির্মাতাও কি সজোরে ঘোষণা করেছে যে তাদের ভ্যাক্সিন ফুলপ্রুফ? না, করেনি। এমনিতেই কোন ভ্যাক্সিনই ফুল প্রুফ নয়। কিন্তু করোনা ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে আদৌ কোন চলনসই পরীক্ষা হয়েছে কিনা, ঘোরতর সন্দেহ আছে। ডাবল ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়েও করোনার সংক্রমণ হয়েছে, এমন ঘটনা বিস্তর। অনেকে মারাও গেছেন। তাহলে ডাবল ডোজ ভ্যাক্সিন নেবার পরেও ছাত্রছাত্রীদের যে করোনা হবেই না, এমন গ্যারান্টি আছে কি?
    না, নেই। তাহলে একমাত্র করণীয় হল স্কুলব্যবস্থাটাই তুলে দেওয়া। অন লাইন ক্লাসের ঢপবাজি আর লার্নিং অ্যাপের বেওসাগিরি দিয়েই পুরোটা সামলে দেওয়া। অন লাইন ক্লাস যে আদ্যন্ত ঢপবাজি, ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন। কেন? অনেকগুলো সমস্যা আছে। প্রথমত প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর একান্ত নিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে কি? ফেসবুকিয় এলিট সোসাইটির বাইরে বেরিয়ে চোখ মেলুন। না, নেই। অধিকাংশেরই নেই। হর্টিকালচারাল ফ্যামিলি বাদে প্রায় সব বাড়িতেই ভাইবোনেরা সবাই পড়ুয়া হলে, তাদের সবার জন্য বরাদ্দ একটিমাত্র ফোন। সেটি আবার তার বাবা কিংবা মায়ের ফোন। আপনার পাড়ার ভিখারীর হাতের ফোন দিয়ে জগত বিচার করবেন না, প্লিজ।
    তার উপর আছে নেটওয়ার্কের সমস্যা। আর তার থেকেও জরুরী হল ছেলে বা মেয়ে মোবাইলে ক্লাস করছে না সিনেমা দেখছে, তদারকির সমস্যা। এলিট পরিবার বাদে এই সমস্যা প্রায় সার্বজনীন। নিট ফল কী হয়েছে? বহু ছাত্র স্কুলের মায়াপাশ কাটিয়ে জীবিকা সংগ্রহে নেমে পড়েছে। দামি স্কুলের আঙিনায় এদের খোঁজ পাবেন না। চলুন মুর্শিদাবাদ, সুন্দরবন, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া কিংবা চা বাগান সন্নিহত অঞ্চলে। কন্যাশ্রী প্রকল্প একটা বিষয়ে অন্তত গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। কম বয়েসে মেয়েদের বিয়ে দেবার প্রবণতা ক্রমশ কমছিল। আর গত দেড় বছরে চেহারাটা আবার উলটো হয়ে গেছে। অনার্স পাঠরতা মেয়ের পড়া বন্ধ করে বিয়ের উদযোগ শুরু হয়ে গেছে। মেয়েটিও বুঝে উঠতে পারছে না কী করবে। এই সংকটের সন্ধান রাখেন?
    স্কুলে ছেলেমেয়েদের আসা বন্ধ রাখায় সবথেকে লাভবান হয়েছে লার্নিং অ্যাপ সিস্টেম। এদের দৌড় এখন শিক্ষামহলেও পৌঁছে গেছে। নাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ং লার্নিং অ্যাপের বিজ্ঞাপন করেন? স্কুল বন্ধ রাখার আসল কারণ এখানেই। লার্নিং অ্যাপের মালিকানা বা প্রসাদজীবীর তালিকায় রাজনৈতিক মহল, মিডিয়া, সংস্কৃতিজীবীদের নামও খুঁজে পাওয়া যাবে নিশ্চিত। আর এরাই নানান যুক্তিতে স্কুল খোলার বিরোধিতা করে যাচ্ছেন। এবং সেই তাত্ত্বিক আক্রমণ কাজেও দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারপোষিত স্কুলগুলো কিছুদিনের জন্য খুলেছিল। উপস্থিতি আশঙ্কাজনক। একাংশ অবশ্যই পড়াশুনোর বৃত্ত থেকে ছিটকে গেছে। আরেকদল লার্নিং অ্যাপেই সামলে নেবার পক্ষপাতী। স্কুলে আর পড়ায় নাকো, টিউশনই ভাল, এমন প্রচার আমরা আগেই শুনেছি। এখন শুনছি লার্নিং অ্যাপের কিস্যা।
    বিজ্ঞানের তত্ত্ব নৈর্ব্যক্তিক হলেও প্রযুক্তির প্রয়োগ অবশ্যই সমাজ ও ব্যক্তিসাপেক্ষ। আপনার পাড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠলেও, অধিকাংশেরই কিছু যাবে আসবে না। কারণ পকেটে পোষাবে না। লার্নিং অ্যাপও ঠিক তাই। যার সামর্থ্য আছে, সে বাড়িতেই টিউশনের ব্যবস্থা করে নেবে। যার নেই, তার অন লাইন ক্লাসও মরীচিকা। ব্যাপকতাই সমাজের বিবেচ্য। কার ছেলেমেয়ে জুম বা ওয়েবেক্সে আড্ডা মারে, তাই দিয়ে রামা কৈবর্ত আর রহিম শেখের দিন চলবে না। তাই আজকের দাবী একটাই, অবিলম্বে স্কুলকলেজ খুলতে হবে। ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতে হবে আসার জন্য। কারণ স্কুলে আসা মানেই ভয়ের কোটর থেকে বেরিয়ে আসা। সেটাই চাই।
    সবশেষে একটাই তথ্য দিই। সরকারপোষিত একটি অত্যন্ত ভাল স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিভাবক স্কুলের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন, তাদের ছেলেমেয়েদের হাল খুব খারাপ। অফ লাইন ক্লাসের বন্দোবস্ত করে তাদের একটু মাজাঘষা করা হোক। যার যন্ত্রণা, সেই ভাল বোঝে। যে অন্যের হাতে তামাক খায়, তার এসব দায় নেই।
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.16.59 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:২৭502942
  • Subarna,
     
    আমি বলতে চেয়েছিলাম, কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে এমন যে কোনও ভ্যাকসিনই আমি নিতে রাজি। কথাটা বলেছিলাম শুধু তাদেরকে উদ্দেশ করে, যাদের ধারণা আছে, 'কার্যকারিতা' বস্তুটি কী, এবং কীভাবে তা 'প্রমাণ' হয়। ওটা আপনাকে বলিনি। ছেড়ে দিন না, কী করবেন ওসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে!
     
    ওহো, অরূপবাবুর কীবোর্ডে বড়হাত-ছোটহাতের গণ্ডগোলে 'বাম' শব্দের উৎস 'ব্রাহ্ম' হয়ে যায় বুঝি? ভারি সমস্যা তো! বুঝতে পারছি, ওই বদমাইশ বিল গেটসের তৈরি কীবোর্ড কিনে রামঠকা ঠকে বসে আছেন! 
     
    না, দুশো টাকার মাছ শুনলে ততটা অবাক হই না, কারণ ওটা প্রায়ই বাজার থেকে কিনি। দুশো টাকায় কোটি টাকার জিডিপি শুনলে একটু অবাক হই, কারণ, বাজার থেকে কখনও কোটি টাকার জিডিপি কিনিনি। আপনি অবাক হন না, কারণ, আপনি হয়ত রোজই ওইটা কেনেন। হতে পারে। সবার সুযোগ সুবিধেগলো তো আর এক না!
     
    যুক্তিবাদী সমিতিতে নাম লেখালেই অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে তার সমস্ত কথাবার্তা ঠিক হয়ে যায় না, ঠিকই তো। তবে কিনা, নিছক যুক্তিবাদী সমিতিতে নাম লেখানোর অপরাধে কারুর কথাবার্তা ভুলও হয়ে যায় না। ভুল-ঠিক বিচার করতে গেলে কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হয়, কিছু প্রস্তুতিও লাগে। সবার তো তা থাকেনা, তাই না? ডিডাকটিভ লজিকের টেক্সট বই পড়লে এসব কথা বেশ গোড়ার দিকেই পাবেন।
     
    ফ্যালাসি-ট্যালাসির কথা পাড়তে গেলে এইসব যে এট্টু জেনে আসতে হয় সোনামণি!
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.16.59 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৩৩502943
  • স্কুল,
     
    আপনার মন্তব্যের সঙ্গে আমার পোস্টের সম্পর্ক খুঁজে পাইনি। কী ধরনের মন্তব্য এখানে করা যাবে বা যাবেনা সেটা গুরু-র পরিচালকরাই বুঝবেন। তবে, আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এই থ্রেডটিকে যথেচ্ছ টেক্সটের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক না। 
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | 223.191.16.59 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৩৬502944
  • আমার ধারণা, একশো সত্তরের কাছাকাছি কমেন্ট পড়ে যাবার পরে কারুরই আর বলবার মত তেমন কিছু বাকি থাকেনা, অন্তত আমার তো নেই। সবাই আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে আমি আপাতত বিদায় নিচ্ছি। নমস্কার, সবাই ভাল থাকবেন।
  • ফ্যান | 2a03:e600:100::83 | ২১ জানুয়ারি ২০২২ ২২:০২502946
  • বলি হ্যাঁ ভটচাজদা, সুবিধেগলো কি বাংলা শব্দ? নাকি কীবোর্ডে বড়হাত-ছোটহাতের গণ্ডগোলে এমন হল? কীবোর্ড পাল্টান মশায়, পাল্টান। ডিডাকটিভ লজিক দিয়েই বেছে নিন একটা। সেই টেক্সট বই পড়ে তো সর্ববিদ্যাবিশারদ হলেন স্যার, একজন যেমন এন্টায়ার পলিটিকাল সায়েন্স পড়ে হয়েছেন। উৎসাহ আর চেষ্টা এই তো আসল, কীবোর্ড বলুন বা জিডিপি সবই মালুম হবে।
  • সম্বিৎ | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০০:১০502948
  • অ্যান্টি-ভ্যাক্সার মন্তব্যকারীরা তো আর অনলাইনে ক্লাস করে আর লার্নিং অ্যাপে বড় হননি, তাহলে তাদের বোধবুদ্ধি, যুক্তি-শিক্ষার এই হাল কেন!
  • ব্যবসা | 115.114.47.197 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০১:২২502950
  • কনস্পিরেসি থিয়োরির মাদার লিংকটা আবার দিলাম
    ----------------
    কোভিডে মৃত্যুহার % ব্যপারটা খুবই দৃষ্টিকটুভাবে কম হয়ে যাওয়াতে এখন আসল মৃত্যু অনেক বেশি হয়েছে গোছের লিংক ভরে যাচ্ছে ও যাবে, তবে সেগুলোকে আবার ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলা যাবে না।
    -----------------
    দেবাশিস ভট্টাচার্য সুজন ভট্টাচার্য-র পোস্ট পড়ে রেলিভেন্স খুঁজে পাননি।  সেটা অবশ্য এই ছয় পাতার মন্তব্য থেকে প্রশ্ন বেছে বুছে উত্তর দেওয়া থেকেই স্পষ্ট। অন্য কোনো মন্তব্য থেকে কী কী অস্বস্তিকর প্রশ্নের অবতরণা হচ্ছে সে বিষয়ে চোখ বুজে থাকাই শ্রেয় যতক্ষণ না সরাসরি সেই প্রশ্নটা করা হয়। উত্তর দিতে গিয়েও রসবোধের পরিচয় দিতে সার্কাজম করার সুযোগে অনেক কথাই এড়িয়ে যাওয়া যায়। যাই হোক, এ লেখার উদ্দেশ্য দেবাশিসবাবু নন, একটা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির ধারক সব মানুষই, তাই এখানেই কন্টিনিউ করলাম। 
    ----
    অধীশা সরকার: (পাবলিক পোস্ট
    ----
     
    এখন যা আমি লিখব, তা অনেকেরই অপছন্দ হবে। হোক। সেই কারণেই লেখা জরুরি। মধ্যবিত্ত মানসিকতার সমস্যা হল, নিজের পরিধীর বাইরে আর বিশেষ কিছু দেখতে না পাওয়া। অতএব, কোভিড অতিমারী সংক্রান্ত অহেতুক প্যানিক নিয়ে কথা বললেই তাঁরা চেঁচামেচি শুরু করেন, কারণ 'আমার কোভিড হয়ে বড় কষ্ট হয়েছে' এবং 'আমার প্রিয়জন কোভিডে মারা গেছেন', ইত্যাদি। পৃথিবীতে প্রত্যেক সেকেন্ডে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছেন, যাঁরা প্রত্যেকেই কারও না কারও প্রিয়জন। বিবিধ অসুখবিসুখে কাবু হয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। এবং আ্যকচুয়ালি পরিসংখ্যান নিয়ে বসলে দেখা যাবে, এই বিভিন্ন অসুখ বা অন্যান্য যেসব কারণে লোকজন অসুস্থ হচ্ছেন বা মারা যাচ্ছেন, তার বেশ কিছু কোভিডের প্রথম থেকে তৃতীয় ওয়েভ পর্যন্ত টোটাল ডেথ কাউন্টের চেয়ে বেশী ডেথ কাউন্টের দায় ঘাড়ে নিয়ে বসে আছে। কিন্তু কোভিড যেহেতু এখন 'ট্রেন্ডিং', তাই অতি অবশ্যই বড় ভয়ংকর। বছরের পর বছর বাড়িতে দরজা বন্ধ করে বসে থাকলেই কোভিড হবে না। লকডাউন করে স্কুল, কলেজ, অফিস, যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজারঘাট, সব বন্ধ করে রাখলেই একমাত্র এই ভয়ংকর অতিমারীর হাত থেকে মুক্তি, এবং কেউ এর বিপরীত কিছু বললেই শিক্ষাটিক্ষা ইত্যাদি তুলে চরম লেকচার দিয়ে তবে শান্তি। ভেবে দেখার বিষয়, যে এভাবে বছরের পর বছর স্কুল কলেজ বন্ধ রাখলে পরের জেনারেশন একে অপরের শিক্ষা তুলে গালিই বা কীভাবে দেবে। শিক্ষিত তো আবার স্কুল-কলেজে না পড়লে হওয়াও যায় না৷
    তো, আপনারা সকলেই আশা করি শিক্ষিত, এবং ইংরেজি পড়তে পারেন। যে নিউজ রিপোর্টটা দিলাম, সেটা পড়ুন (লিংক প্রথম কমেন্টে)। এটা এনসিআরবি'র পরিসংখ্যান। কী বলছে? প্রথমত, ২০২০ সালে গোটা দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা কোভিডে মৃত লোকের সংখ্যার চেয়ে বেশী। দ্বিতীয়ত, আত্মহত্যার সংখ্যা, যদিও ভাবা হয়েছিল অসুখের ভয়ে বেড়েছে, কিন্তু আসলে দেখা যাচ্ছে এক চতুর্থাংশের চেয়ে বেশী আত্মহত্যা ঘটেছে লকডাউনে কাজকর্ম হারিয়ে ফেলা দিনমজুরদের।
    "While illness was the most attributed cause behind suicide, daily wage workers made up the largest share of total suicides, shows NCRB data. A total of 37,666 daily wage workers died by suicide in 2020 — accounting for one-fourth of total suicides."
    দেখুন, অর্থনীতি ব্যাপারটা মজার। যেহেতু দেশটা ক্যাপিটালিস্ট, তাই আপনার-আমার মত হোয়াইট কলারদের গায়ে মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া আর বিশেষ আঁচ লাগবে না, এই ধ্বসে পড়া অর্থনীতির। লকডাউন হওয়ার ফলে আবার আরওই মজা হয়েছে আমাদের। আবিষ্কার করা গেছে, একটা ল্যাপটপ দিয়ে কর্মীদের বাড়িতে বসিয়ে দিলে কর্পোরেটেরও লাভ, আমাদেরও লাভ। আমাদের অফিস যাওয়ার খরচা বাঁচে, কর্পোরেটের এস্ট্যাব্লিশমেন্ট কস্ট বাঁচে। সুতরাং, 'ওয়র্ক ফ্রম হোম' বড়ই আরামের, এবং অতি অবশ্যই খুব প্রয়োজনীয় এই ভয়ংকর সময়ে। আর তাছাড়া চাদ্দিকটা তো স্বাভাবিকই দেখাচ্ছে, কারণ শপিং মল খোলা আছে, রেস্তোঁরা খোলা আছে। ট্রেনের টাইম মোটামুটি তেমনই দেওয়া হয়েছে যাতে আপনার-আমার অসুবিধে না হয়। কিন্তু খোলা বাজারে যারা জিনিস বিক্রি করে, ফুটপাথে যারা হকারি করে, যারা লোকের বাড়িতে কাজ করে, যারা রাজমিস্ত্রী, এবং লাস্ট ট্রেন ধরে ফেরাই যাদের একমাত্র অপশন, তাদের বিষয়টা কী হচ্ছে? দিনের পর দিন স্বাভাবিক জীবন ব্যহত রাখার ফলে দিনমজুরদের রোজগারপাতির কী হচ্ছে? মেলা, হাট, ইত্যাদি সব বন্ধ করে দেওয়ার ফলে, ক্ষুদ্র হস্তশিল্পীদের কী হচ্ছে? পুজোর সময়ে হাজার হাজার মানুষের রোজগার বন্ধ ছিল; কলেজ স্ট্রিটের কী হাল হয়েছে যারা জানে তারা জানে; যারা বাজারে মাছ বা সবজি নিয়ে বসে তাদের দুটো লকডাউনে তাদের কোমর গুঁড়িয়ে গেছে। যারা বিভিন্ন শোরুমে, ফ্যাক্টরি ইত্যাদিতে কাজ করত তাদের অবস্থাও তথৈবচ।
    এরা বেঁচে ছিল, সুস্থ ছিল, খেটে খাচ্ছিল। দিনমজুররা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোভিড হয়ে মরেনি। হঠাৎ একদিন দৈনন্দিন রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেটের খিদে সহ্য না করতে পেরে ঝুলে পড়েছে। উচ্চ এবং উচ্চমধ্যবিত্তের ফিয়ার সাইকোসিসের কারণে এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে, এটা হল প্লেন আ্যন্ড সিম্পল ফ্যাক্ট। সরকার কতটা দায়ী সেসব হিসেব তো আছেই। কিন্তু আমরাও কম দায়ী নই। আমরা প্রচুর বিদেশী জার্নাল পড়ে জেনেছি রোগ বড় কঠিন, দুইদিন জ্বর হলেও কঠিন হতে পারে, এবার না হলেও পরেরবার হবে, না হলেও তার পরেরবার নিশ্চয়ই হবে, তাছাড়া আমাদের ছোটমামা, বড়পিসি, ফেবুবন্ধু, ইত্যাদিরা মারা গেছে, ফলে 'প্যানিক' শব্দটা উচ্চারণ করা পাপ।
    দেখুন, দেহে ইম্যুনিটি কম থাকলে, কোমর্বিডিটি থাকলে, আগে থেকে অন্যান্য রোগ থাকলে, কোভিড ফ্যাটাল হতেই পারে। যেমন নিউমোনিয়াও হতে পারে। আমার নিজের বাপ-মা'র শারীরিক পরিস্থিতি যা, যখন হল আমি ধরেই নিয়েছিলাম বড় কিছু হবে। এবার হয়নি, পরেরবার হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে বছরের পর বছর স্বাভাবিক জীবন ব্যহত করে রেখে যে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং কর্মঠ মানুষগুলোকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুর দায়টা সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে শান্তিতে থাকব, এইটা আমার দ্বারা হবে না। আমাদের পরিচিত কারও বড়কাকা বা ছোটপিসি দিনমজুর নন, আনলাইকলি। তাই তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ প্যানিকটা করবে না।
    ফলে আমার এখনও মতামত একই। লোকে মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে কিনা সে দায় আমার নয়। সেটা তাদের নিজের দায়, কারণ তারা আ্যডাল্ট। আমি অবশ্যই খুব জোর গলাতেই বলব, যে লকডাউন তুলে নেওয়া উচিৎ পুরোপুরি। যাদের ফার্মা ক্যাপিটালের পেছনে পয়সা ঢালার ক্ষমতা আছে তারা ঢালবে। যাদের অসুখ হবে তারা চিকিৎসা করাবে। আর যারা দিন আনে দিন খায়, তারা একটু কম মরবে।
    আপনার যদি মনে হয় বাড়ি থেকে না বেরোলেই কোভিড হবে না, তাহলে বাড়ি থেকে বেরোবেন না। কিন্তু আপনার এই আতংকের দায় সহনাগরিকরা কেন নেবে, সেটা তো বুঝলাম না। যার যার প্যানিক তার তার কাছে৷ যাদের ভয় করছে না, তাদের অন্তত বাঁচতে দিন।
    ধন্যবাদ।
    ---------------------------------------------------------
     
    সুজন ভট্টাচার্য বামপন্থী বটে। কট্টর তৃণমূল অর্ণব সাহা (পাবলিক পোস্ট নয়) কী বলেছেন দেখা যাক। এর মধ্যে দিয়ে এই ব্যাপারে পোলারাইজেশনের জন্য রাজনৈতিক রংগুলোর প্রভাবও দেখার। তবে অর্ণব সাহার পোস্ট আনার মূল উদ্দেশ্য তার কমেন্ট সেকশনে অভীক শঙ্কর মৈত্র-র (নামের সাদৃশ্যটা বড্ড দৃষ্টিকটু) বক্তব্যের অনুসরণ। বাকি হ্যাজ বাদ দিলেও সেখানে এই চরম দক্ষিণপন্থী দলের মধ্যেকার বিভাজন সম্পর্কে ওঁর মতামত ব্যপারটা লক্ষ করার। ট্রাডিশনাল ব্যবসা ও ডিজিটাল ব্যবসার পার্থক্য। দেবাশিসবাবু যেখানে এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারটা ধরতে গিয়ে ছড়িয়েছিলেন অরূপশঙ্কর মৈত্র-র সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে। এটা বোঝার আছে। টেকনোলজি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যেমন প্রচুর শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে, কারণ অতখানি গতর শ্রমের দরকার আর মালিকের নেই, সেটুকু যন্ত্র করছে। সেই যন্ত্র চালানোর মত অল্প কিছু দক্ষ লোক হলেই মালিকের মুনাফা ম্যাক্সিমাম। তেমনি বর্তমান পৃথিবীতে যারা শোষণ পিরামিডের চূড়ায় বসে, তাদের জন্যেও পৃথিবীর প্রচুর মানুষ একেবারে অদরকারি। কারণ যে ব্যবসায় তাদের সবচেয়ে বেশি লাভ, তাতে ওই মানুষগুলো প্রায় কিছুই কনট্রিবিউট করছে না। ডিপপুলেশনটা তাই একটা লেভেলে তাদের কাছে জরুরি। একটা জিনিস বলুন, ভারতের জনসংখ্যা ১৩৮ কোটি (চীনের ১৪০ কোটি, প্রায় ধরে ফেলেছি, কিছুদিনেই ছাড়িয়ে যাব) কতজনের আধার কার্ড আছে? যাদের নেই তারা ভ্যাক্সিন নিতে পেরেছেন কিনা জানেন? ব্রিজের নিচে, পুলের নিচে স্টেশনে, ফুটপাথে রাতে শুয়ে থাকেন যে মানুষেরা, ডেইলি ওয়েজ আর্নার আক্ষরিক অর্থে দিন-আনি-দিন-খাই যে মানুষেরা তারা ভেবে দেখবেন সেই লেয়ারের মানুষ, যাদের না থাকাতে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী পিরামিডশীর্ষের মানুষদের একেবারেই কিছু যায় আসে না। এরা না থাকলে বরং তারা অনেক বেশি অর্ডারড একটা পৃথিবীর মালিকানা হাতে পাবে। মালিকানাই বলছি কারণ পরোক্ষভাবে তারাই গ্রহটির ম্যাক্সিমাম মানুষদের জীবনযাত্রা কন্ট্রোল করছে। এদের আপনি প্রতি দেশের জন্য আলাদা আলাদা করে ভেবে নিতে পারেন, মূল দর্শনটা পাল্টাবে না।
     
     ----
     
    অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের বুস্টার-সহ তিন ডোজ ভ্যাক্সিন শেষ হবার পরেই ব্রিটেনে কোভিড-বিধি শিথিল হয়েছে। ইউরোপ,আমেরিকা, কানাডায় অধিকাংশ ১২ থেকে ১৮ বয়সীদের ভ্যাক্সিনেশন কমপ্লিট হয়ে যাবার পর তবেই স্কুল সম্পূর্ণ খুলেছে। ভারতে এর কোনওটাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ভারতের জনসংখ্যা ও জনবৈচিত্র এইসব দেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
    মাও-মাকুরা এই পরিষ্কার তথ্যটা এড়িয়ে যাচ্ছে কেন? ভারতের সঙ্গে পশ্চিমি দেশের পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র মিল নেই।
    যে বিপ্লবীগুলো স্কুল-কলেজ এখনই খুলে দেবার পক্ষে চিৎকার করছে, তারা জেনেও না জানার ভাণ করে আছে, যে, থার্ড ওয়েভে স্কুল-কলেজশিক্ষকদের মধ্যে 25-30% কোভিড-আক্রান্ত। এদের মধ্যে একটা অংশ বয়স্ক। তাদের শারীরিক রিস্ক বেশি। স্টুডেন্টদের মধ্যেও একাংশ ইনফেক্টেড। এই অবস্থায় স্টুডেন্ট ভ্যাক্সিন কমপ্লিট না হওয়া অব্দি সরকারের পক্ষে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া ঝুঁকির। কারণ এই সুপারস্প্রেডার ভাইরাস কোনও স্টুডেন্ট বা শিক্ষককেই রেয়াত করবে না। স্কুল কলেজে ফিজিক্যাল ক্লাস খুলে দিলে এই ইনফেকশন আরও ছড়াবে এবং ক্রমশ তা আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে।
    কোনও দল বা সরকারের পক্ষেই অনন্তকাল স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির ফিজিক্যাল ক্লাস বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। স্কুল কলেজ অতি অবশ্যই খুলবে। কিন্তু সরকারকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতেই হবে। এটাও গণ-স্বাস্থ্যের প্রশ্ন। ইউরোপ-আমেরিকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমাদের নেই। এই সামান্য কথাগুলো ওই বিপ্লবীদের মাথায় ঢুকেও ঢুকছে না। বিপ্লব মারানো বন্ধ হয়ে যাবে নইলে।
    ------------------------------
     

    Avik Sankar Maitra

    আমেরিকা এবং ব্রিটেনে স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল আবার বন্ধও ছিল, কিছু জায়গায় হাইব্রিড ছিল, পুরো ২০২০-২১ সময়। ১২-১৮ বয়সে টীকা চালু হওয়ার আগে থেকেই।

    আমেরিকায় এখনো ৬০% লোকের টীকাকরন সম্পূর্ণ হয়েছে, আজ অব্দি।

    এইরকম ভুল তথ্য কি দেওয়া হল ইচ্ছাকৃতভাবে?

    কারণ এই তথ্য সহজলভ্য।

    Arnab Saha

    সেই পরীক্ষানিরীক্ষা আমাদের রাজ্যেও হয়েছে। অন্তত দু-বার আমাদের রাজ্যে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি খোলা হয়েছে। সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করায় ফের বন্ধ হয়েছে। কিন্তু মোটের উপর ভ্যাক্সিনেশনের হার আমাদের দেশে অনেক কম। আমাদের জনসংখ্যা ওদের চেয়ে অনেক বেশি। আবার জনগণের সমস্ত অংশের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা একরকম নয়। ভারতে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

    মার্কিনপ্রবাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির যতজনকে জানি, তাদের প্রত্যেকের বুস্টার সহ তিন ডোজ ভ্যাক্সিন হয়ে গেছে। বাচ্চাদের 12 থেকে 18 ভ্যাক্সিনের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে কী তা হয়েছে?

    Avik Sankar Maitra

    ওদেশে স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থেকেছে কম, খোলা থেকেছে বেশী। আমাদের হয়েছে ঠিক উল্টো। আর আশেপাশের মধ্যবিত্তদের দেখে, যদি সামগ্রিক চিত্রটা ভাবি, তাহলে আমাদের দেশেও ৯৯% ডবল ভ্যাক্সিন হয়ে গেছে। 

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10159727175172184&set=p.10159727175172184

    Arnab Saha

    স্কুল কলেজে কি শুধু মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলেমেয়েরা পড়ে? স্কুলে ভ্যাক্সিন দেওয়া তো শুরু হয়েছে মাত্র। এখনও শেষ হতে অনেকটা পথ হাঁটতে হবে।

    অবশ্য যদি বলেন, করোনা কেবল মধ্যবিত্তের রোগ। তাহলে আর কথা এগোবে না। আর মধ্যবিত্ত শিক্ষকদের একটা বড়ো অংশ থার্ড ওয়েভে কাবু। তারা কীভাবে এই অবস্থায় ক্লাস নেবে এবং ফ্রিতে কোভিড ছড়াবে? সেটাই চাইছেন কি?

    Avik Sankar Maitra

    আমি তো সেটা বলিনি।

    আমি বলতে চেয়েছি। আপনি ভুল তথ্য দিয়েছেন আপনার পোস্টে। একজন শিক্ষক হিসাবে ভুল তথ্য দেওয়া অশ্লীলতার নামান্তর, যেখানে তথ্যগুলো সহজলভ্য।

    দ্বিতীয়, আপনি আপনার জানা আমেরিকা মধ্যবিত্তদের খোঁজ নিয়ে ধারণা করলেন, ১২-১৮ বয়েসের বাচ্চাদের টীকাকরণ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে, স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে। আমি সেই ধারণা করার পদ্ধতি কে ভুল বলেছি।

    Arnab Saha

    দেখুন, টিকাকরণের হার ইউরোপ আমেরিকায় ইন জেনারেল বেশি। অসংখ্য বাম ও দক্ষিণপন্থী গ্রূপ আছে ওখানে যারা ভ্যাক্সিন বিরোধী। ব্রাসেলসে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে ভ্যাক্সিনবিরোধীদের। ওদের জনসংখ্যা আমাদের চেয়ে অনেক কম। ওদের পরিকাঠামো, বিশেষত ইউরোপের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমি নিজের চোখে দেখে এসেছি। ভারতের সঙ্গে কোনও তুলনাই চলে না। এই এগিয়ে থাকা ব্যবস্থার সঙ্গে আমি আমাদের পরিস্থিতির তুলনা করেছি মাত্র।

    একটা জিনিস লক্ষ করেছেন কি না জানি না। ভ্যাক্সিন, মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব এগুলোর চরম বিরোধিতা প্রথম থেকে করে আসছে উগ্র দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রনায়কের দল। ডোনাল্ড ট্রাম্প। জায়ের বোলসেনারো। বরিস জনসন। সবকটা আল্ট্রা রাইট উইং। আমেরিকা ও ব্রিটেনে এদের সমর্থকও প্রচুর। এরা কোন কোন কারণে কোভিড কোনও রোগ নয় বলে যাচ্ছিল, সেগুলোও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। আর আমাদের এখানকার কুচো বিপ্লবী নকশালগুলো এই আল্ট্রা রাইট উইং এর সুরে সুর মেলাচ্ছে। এটাও আমার কাছে কৌতুকপ্রদ।

    Avik Sankar Maitra

     শতকরা হিসাবে পশ্চিমের দেশ গুলো এগিয়ে থাকবে, তা খুবই স্বাভাবিক। তাও বিভিন্ন কারণে অনেকেই ওদেশে এই ট্রায়াল ভ্যাক্সিন নেয়নি এটাও সত্য।

    কোভিড আছে এটা যেমন সত্য, তেমনি কোভিডের মারনক্ষমতা (সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিরিখে , ব্যক্তিগত জীবনের ভিত্তিতে নয়) অনেক কম, যেপ্রকার আতংক ছড়ানো তার ভিত্তিতে।

    আতংক অনেকাংশে তৈরি করা, সেটা বোঝা যায়, ব্রুজখলিপা বা পার্কস্ট্রিটের ভীড় দেখে।

    দুম করে বিশ্বের নেতারা বড় বড় প্রাইভেট কোম্পানিগুলো গোটা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশাল চিন্তিত হয়ে পড়লো কেন সেটাও ভাববার দরকার।

    "যখন কোনো কিছু বিনামূল্যে বিতরণ হচ্ছে, ভয় হয় হয়তো আমরাই তাদের প্রোডাক্ট"

    Arnab Saha

    অবশ্যই। কোভিড আছে এবং এর স্প্রেড করার ক্ষমতা, আক্রান্ত করার ক্ষমতা যথেষ্ট। এটা একটা নতুন অসুখ, তাই এখনও চিকিৎসাশাস্ত্রের কাছেও এটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এটা অবশ্যই সত্য।

    একইসঙ্গে এটাও সত্য কর্পোরেট মাফিয়ার দল এই কোভিডকে মুনাফা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। পরিসংখ্যান থেকেই তা পরিষ্কার।

    কিন্তু আপনি আমার তোলা প্রশ্ন এবং সংশয়ের কোনও জবাব দিলেন না। কেন বলুন তো আল্ট্রা রাইট উইং দেশনায়কগুলোই সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছিল, "কোভিড বলে কিছুই নেই?"। কেন বোলসেনারো প্রকাশ্যে মাস্ক ছিঁড়ে ফেলেছিল টিভি ক্যামেরার সামনে? কর্পোরেটপ্ৰভুদের পুতুলেরা কেন বলুন তো কোভিড প্রোটেকশন চাইছিল না, প্রথমদিকে? কারণগুলো কী বলে মনে হয়? কেন আল্ট্রা রাইট উইং আর আল্ট্রা লেফট উইং মতামত একজায়গায় মিশে যাচ্ছিল? কেন?

    Avik Sankar Maitra

    এর উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তবে এটা পরিস্কার, দুটি দলে বিভক্ত হয়েছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলো। একদল ট্রেডিশনাল ব্যাবসা করে, তাদের জন্য এই কোভিড আতংক তাদের ব্যাবসার পরিপন্থী। অন্যদিকে ২০০৭-০৮ মন্দার পরে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা ডিজিটাল ব্যাবসার ভীষণ সুবিধা করে দিয়েছে এই কোভিড আতংক। ক্রিপ্টোকারেন্সি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি, মেশিং লার্নিং, ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে ব্যাবহার করার সুযোগ এনে দিয়েছে কোভিড আতংক, লোকডাউন, অনলাইন ব্যাবসা বাড়বাড়ন্ত।

    ট্রাডিশ্যনাল ব্যাবসার থেকে যে অসাম্যের ইন্ধন যোগায়, তার থেকে অনেক বেশী অসাম্যের ইন্ধন যোগায় এই নব ডিজিটাল ঢেউ। ২০১৯ আগে আর ২০১৯-২০২১ বিশ্বে আয়ের অ-সাম্য দেখলেই বোঝা যায়।

    Avik Sankar Maitra

    আরেকটু সহজভাবে বলতে গেলে, যা ছোয়া যায় এমন দ্রব্য বিক্রি করে খায়, তারা ট্রেডিশনাল ব্যাবসা, আর যারা কিছু বিক্রি না করে খায়, তারা ডিজিটাল ব্যাবসা।

    লোকডাউনে এই বিক্রি কমে গেছিল ভীষণ ভাবে। ক্ষতি হয়েছে ছোট বড় সব ট্রেডিশনাল ব্যাবসার। কিন্তু ঠিক সেই সময় বিশাল অংকের লাভ ঘরে এনেছিল এই নব্য ডিজিটাল ব্যাবসা।

    মাথায় রাখতে হবে যারা বিক্রি করে খায়, ক্রেতার হাতে পয়সা যোগান নিশ্চিত করতে তারা বাধ্য।

    কিন্তু ডিজিটাল ব্যাবসায়ীদের সেই দায়বদ্ধতা নেই।

    Arnab Saha

    আমেরিকায় ফার্স্ট ওয়েভ এবং সেকেন্ড ওয়েভের গণমৃত্যু, গণ-সংক্রমণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উলঙ্গ চেহারা তুলে ধরেছে। ট্রাম্প। জনসন। বলসেনারো। কেউই গরিব মানুষের জীবন নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয়। মানুষের শ্রম নিংড়ে যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বেঁচে থাকে, সেই ব্যবস্থার মালিকদের পাশে দাঁড়াতেই এই উগ্র দক্ষিণপন্থীরা চিৎকার করছিল কোভিড বলে কিছু নেই।

    আপনি ট্র্যাডিশনাল ক্যাপিটালিজম আর ডিজিটাল ক্যাপিটালিজমের ফারাক ঠিকই বলেছেন। ট্রাম্প এই দুটো গোষ্ঠীরই চাকর মাত্র। আমেরিকায় মোট কোভিড মৃত্যু সংখ্যা প্রায় 10 লক্ষ। ভারতের চেয়ে বেশি। ম্যাক্সিমাম মারা গেছে ব্ল্যাক, ইমিগ্র্যান্ট, বৃদ্ধ এবং চাকরিহীন, স্বাস্থ্যবীমাহীন মানুষেরা। এরা মার্কিন সমাজের বোঝা। এরা মরে গিয়ে ওদের পার ক্যাপিটা ইনকাম স্থিতিশীল রেখেছে।

    Avik Sankar Maitra

    ডিজিটাল ক্যাপিটাল ট্রাম্প কে চাইছিলেন না, তা বাইডেনের ইলেকশন ক্যাম্পিংয়ের টাকা ঢালার পরিমাণ দেখলেই বোঝা যায়।

    আরেকটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দিয়ে রাখি,

    https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/the-top-10-causes-of-death

     

  • dc | 122.164.51.21 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:১৭502963
  • "দিনমজুররা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোভিড হয়ে মরেনি। হঠাৎ একদিন দৈনন্দিন রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেটের খিদে সহ্য না করতে পেরে ঝুলে পড়েছে"
     
    তাই নাকি? ​​​​​​​ল্যান্সেটে ​​​​​​​পাবলিশড ​​​​​​​এই ​​​​​​​পেপারটাতে ​​​​​​​বলছেঃ 
     
    After controlling for all these variables, we find that persons in the lowest income decile still had a probability of dying from COVID-19 five times greater than those at the top decile.
     
    স্টাডিটা মেক্সিকোতে ​​​​​​​হয়েছিল। ইনকাম পার্সেন্টাইল বনাম হসপিটালাইজেশান আর ফ্যাটালিটি রেটের ​​​​​​​ছবিটাও ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​দিলামঃ 
     
  • dc | 122.164.51.21 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৩২502965
  • এটা একটা সিমুলেশান স্টাডি। ট্রেনিং ডেটা নেওয়া হয়েছিল বেশ কয়েকটা দেশ থেকে। 
     
    Substantial inequalities in COVID-19 mortality are likely, with disproportionate burdens falling on those who are of racial/ethnic minorities, are poor, have less education, and are veterans. Healthcare systems must ensure adequate access to these groups. Public health measures should specifically reach these groups, and data on social determinants should be systematically collected from people with COVID-19.
     
     
    ইনকাম লেভেলের ​​​​​​​কনফিডেন্স ​​​​​​​ইন্টারভালটা ​​​​​​​খেয়াল ​​​​​​​করবেন, রেঞ্জ ​​​​​​​বেশ ​​​​​​​কম, ​​​​​​​মানে ​​​​​​​ভেরিয়েবিলিটি ​​​​​​​কম। ​​​​​​​
     
    We found that disproportionate deaths occurred among individuals with nonwhite race/ethnicity (54.8% of deaths, 95% CI 49.0%–59.6%, p < 0.001), individuals with income below the median (67.5%, 95% CI 63.4%–71.5%, p < 0.001), individuals with less than a high school level of education (25.6%, 95% CI 23.4% –27.9%, p < 0.001), and veterans (19.5%, 95% CI 15.8%–23.4%, p < 0.001).
  • Amit | 60.240.147.97 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৩৬502966
  • তবে ডেভেলপড দেশের সাথে ইন্ডিয়ার গরিবদের তুলনা করে কোনো লাভ নেই। এসব দেশে সোশ্যাল সিকিউরিটি থাকায় একেবারে গরিব লোকও না খেয়ে মারা যাবেনা। অন্তত দুধ পাউরুটি কিনে খেতে পারবে। ইন্ডিয়াতে গরিব লোকেরা লিটারালি হেল্পলেস উইথ আউট কোনো সাপোর্ট। বই চান্স কোনো লিডার র দয়ার দান বা কোনো এনজিও র হেল্প পেলে বেচে গেলো , নাহলে গন। 
  • Amit | 60.240.147.97 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৩৮502967
  • যদিও সেসব অন্য আলোচনা। ভ্যাকসিন এর সাথে কোনো রিলেসন নেই। আগেও তাই ছিল , সেটা আরো এক্সট্রিমে গেছে কোভিদ এর আমলে.
  • স্মৃতি | 2a02:418:6017::148 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১০:১৮502968
  • অসাধারণ প্রবন্ধ। ক্লাস ফাইভে একবার হ্যালির ধূমকেতু নিয়ে রচনা লিখতে দিয়েছিল। খায় না মাথায় দেয় সিওর ছিলাম না। দয়ালু দিদিমণি দশে দুই দিয়েছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় বেরনো বাংলা রচনাগুলো ক্ষণে ক্ষণে সেই স্মৃতি উসকে দেয়। এটিও সেই 'দশে দুই সমগ্র'-তে জায়গা পেয়ে যাবে। পাঠকদের মুগ্ধতা আরো ডবল মুগ্ধ করল।
  • স্টাডি | 115.114.47.197 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৪০502969
  • ও  ভুলে গেছিলাম ডিসি তো নিজের পছন্দের লিংক ছাড়া অন্য লিংক খুলে পড়ার কষ্ট করেন না। news18.com এর লিংকটাও পড়েননি। ওঁর জন্য সেখান থেকে গ্রাফও চিপকে দিলাম, যার বেসিসে অধীশা স্টেটমেন্টটা দিয়েছেন।
     
    আর, ডিসির দেওয়া ল্যান্সেটের স্টাডি আগের পোস্ট-এর ডিপপুলেশন র‍্যাশনেলকেই পোক্ত করল না কি? আলোচনাতেও এ প্রসঙ্গ এসেছে।
    আগের পোস্ট-এ লাস্ট বাট ওয়ান কমেন্টটা, অর্ণব সাহার, যেটা সব দেশের জন্যেই মোটামুটি নীতিগতভাবে একস্ট্রাপোলেট করা যায়: "আমেরিকায় মোট কোভিড মৃত্যু সংখ্যা প্রায় 10 লক্ষ। ভারতের চেয়ে বেশি। ম্যাক্সিমাম মারা গেছে ব্ল্যাক, ইমিগ্র্যান্ট, বৃদ্ধ এবং চাকরিহীন, স্বাস্থ্যবীমাহীন মানুষেরা। এরা মার্কিন সমাজের বোঝা। এরা মরে গিয়ে ওদের পার ক্যাপিটা ইনকাম স্থিতিশীল রেখেছে।"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন