ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   বই

  • আপনার প্রিয় কল্পবিজ্ঞান/ ফেবারিট সায়েন্স ফিকশন 

    জয়
    আলোচনা | বই | ২২ ডিসেম্বর ২০২১ | ৩০৪৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বই উপন্যাস নভেল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:c72:40f8:1f40:54a3 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৫০735294
  • এগুলো প্রায় সতেরো বছর আগে লেখা বিভিন্ন সময়ে। এবং কী অদ্ভূত সমাপতন, আমার মেয়েও তখন সদ্য টিনেজার, জারারই বয়সী। সে রোজ গল্প শুনতে চাইত আমার কাছে। বাংলা গল্পের যত বই সঙ্গে ছিল সব তার পড়া শেষ। অবশেষে তাকে বানিয়ে বানিয়ে নতুন গল্পের জোগান দেয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না।
    এই সতেরো বছরে বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। সে সময়ে যা ছিল নিছক কল্পনা, সেসব আজ কল্পনা নয়, বাস্তব। কাজেই সময়ের তুলনায় এখন পিছিয়ে গেছে এই সব গল্পের প্রসঙ্গিকতা।
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৫৬735296
  • গ্রহনের রাত চট করে পড়ে ফেললাম, ওভারল অতোটা ভাল্লাগলো না কারন সব কিছু বড্ডো বেশী এক্সপ্লেন করা। ভালো সাই ফাইতে কোন টেকনোলজি এক্সপ্লেন করা হয়না, পাঠক নিজের মতো করে কল্পনা করে নেয়। এটা বোধায় সমস্ত বাংলা সাই ফাই এরই দুর্বলতা, আজ অবধি এমন একটাও বাংলা সাই ফাই পড়িনি যেটাকে নিউরোম্যান্সার বা ভয়েড ট্রিলজির লেভেলের সিরিয়াস সাই ফাই বলা যেতে পারে। (প্রফেসার শংকু আদৌ সাই ফাই না)। 
     
    তবে গ্রহনের রাত এ যেটা ভালো লাগলো, সেটা হলো আমিও অনেক সময়ে হাঁটতে বেরোলে বৌ আমার জন্য চা বানিয়ে অপেক্ষা করে, তারপর দুজন মিলে বসে চা খাই আর নানারকম গল্প করি :-)
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:১৪735297
  • 'গ্রহণের রাত' মেইনলি মানবিক সম্পর্কের গল্প। টেকনোলজি, অন্য গ্রহ, সেখানের দুই চাঁদ, অচেনা জীবজগৎ ইত্যাদি ব্যাকড্রপ মাত্র।
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:c72:40f8:1f40:54a3 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:২৫735298
  • কী জ্বালা শঙ্কু সাইফাই হতে যাবে কেন?
    জারার জন্য পোস্ট করেছি শুধু। অন্যদের স্কিপ করতে বলেছি তো!
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:২৮735299
  • বুঝতে পেরেছি :-) গল্পটার শুরু আর শেষ, দুটোই ভালো। 
     
    আমি যেটা বলতে চেয়েছিঃ 
     
    "এই প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক দেশকালকে বাঁকিয়ে এক বিন্দু থেকে আর এক বিন্দুতে যাওয়া সম্ভব হয় তাৎক্ষণিকভাবে, মাঝের দূরত্ব অদৃশ্য হয়ে যায়। যে দূরত্ব আলো অতিক্রম করে তিনশো বছরে, সেই দূরত্ব এই প্রযুক্তিতে চলা যান অতিক্রম করে নিমেষের মধ্যে।"
     
    এরকম এক্সপ্ল্যানেশানের ​​​​​​​দরকার ​​​​​​​নেই, ​​​​​​​অন্তত ​​​​​​​আমার ​​​​​​​মতে। ​​​​​​​পাঠককে ​​​​​​​নিজেকেই কল্পনা ​​​​​​​করে নিতে ​​​​​​​দেওয়া ​​​​​​​উচিত, ​​​​​​​হাইপাস ​​​​​​​স্পেস ​​​​​​​ট্রাভেল কিরকম ​​​​​​​হতে ​​​​​​​পারে। ​​​​​​​এমনকি ​​​​​​​এটা ​​​​​​​যে অন্য কোন গ্রহ, ​​​​​​​তাও ​​​​​​​বলার ​​​​​​​দরকার ​​​​​​​নেই। ​​​​​​​পড়তে ​​​​​​​পড়তে ​​​​​​​পাঠক ​​​​​​​ঠিকই ​​​​​​​বুঝতে ​​​​​​​পারবে ​​​​​​​এটা ​​​​​​​অন্য ​​​​​​​গ্রহ, ​​​​​​​তার ​​​​​​​দুটো ​​​​​​​চাঁদ ​​​​​​​আছে ​​​​​​​ইত্যাদি। ​​​​​​​
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:c72:40f8:1f40:54a3 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৩০735300
  • একটু আগে একটা নতুন শব্দ শিখেছি —mansplaining. আরেকটু হলে সেটাই লিখে ফেলতে যাচ্ছিলাম। ;-)
     
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৩৭735301
  • ডিসি, হ্যাঁ, সেটা ঠিকই এক হিসেবে। তবে কিনা নানারকম পাঠক আছেন তো! কারুর কারুর কাছে হয়তো ওই টেকনোলজির বর্ণনার অংশটাই বেশি আকর্ষণীয়।
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪২735302
  • একটা উদাহরন দিঃ অ্যাসিমভের Victory unintentional গল্পটা পড়ে দেখুন। প্রায় শেষের দিকে একটা টুইস্ট আছে, তার পর আরেকবার গল্পটা পড়ে দেখুন। 
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪৪735303
  • &\ তা ঠিক। 
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৫735304
  • 'ওয়াটারস অব মেরিবাহ' বলে একটা সাই ফাই আছে টোনি ব্যালানটাইনের লেখা। সেখানে গল্পের মধ্যে টেনশন বাড়িয়ে বাড়িয়ে শেষদিকে গিয়ে নানা ব্যাখ্যা দিল। আপনার হয়তো পড়া গল্প।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৬735305
  • দ্য ওয়াটারস অব মেরিবাহ
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১০:০১735306
  • এমনিতে এইধরণের গল্প আমার ব্যক্তিগত পছন্দ না, বীভত্সরস আমাকে টানে না। কিন্তু এই ওয়াটারস অব মেরিবাহ তে একধরণের অদ্ভুত আবহ সৃষ্টি হয়েছে যে যুগপৎ আকর্ষণ ও বিকর্ষণ তৈরী হয়। এরপরে কী এরপরে কী এরকম একটা কৌতূহলের চাপে পড়া ছাড়তে পারিনি। অথচ আগাগোড়া বীভৎসতা রয়েছে, শেষদিকে গিয়ে চরমে ওঠে। তবুও কোথাও একটা অন্যতর কিছুও যেন রয়েছে।
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০২735309
  • ওয়াটারস অব মেরিবাহ পড়িনি, পড়ে ​​​​​​​দেখবো ​​​​​​​তাহলে। ​​​​​​​
  • b | 117.194.210.145 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৩:৪৯735311
  • হিচহাইকার্স গাইড কে কি সাই ফাই ধরা যাবে? নাকি সাইফাই আশ্রিত একটি জীবন দর্শন ? 
  • dc | 122.164.104.41 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:০১735312
  • হিচহাইকার্স একেবারেই জীবন দর্শন :-)
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৩৮735328
  • আর একটা গল্প, সাই ফাই, 'হ্যারিসন বার্জেরন' গল্পটার নাম। পড়েছেন কেউ?
  • s | 100.36.157.137 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ০১:১৬735329
  • জয়,
    হ্যারি পটারের জন্যে হাই ফাইভ। আমাদের বাড়িতেও অনেক হ্যারি পটার ফ্যান। আমাকে দিয়ে শুরু আর তারপর বাচ্চাদের ছোটো থেকে গল্প শুনিয়েছি, একসাথে মুভি দেখা আর এখন তো নিজেরাই সব বই পড়ে ফেলেছে। আমরা রোড ট্রিপে গেলে কি হাঁটতে বেরোলে হ্যারি পটারের ক্যারাক্টারদের নিয়ে গেসিং গেম খেলি।
    আমার বাচ্চারও আর ক বছর পরে টিন এজার হবে আর মিস্ট্রি, ফ্যান্টাসি এসব পড়তে ভালবাসে। আর ওদের সাথে সাথে আমিও পড়ি। এখন আর্টেমিস ফাউল আর পার্সি জ্যাকসন সিরিজ শুরু হয়েছে। আপনার মেয়ের পড়া না থাকলে পড়ে দেখতে পারে। ভাল লাগবে।
  • kk | 68.184.245.97 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ০১:২৬735330
  • এই টইটাকে বিপথগামী করতে চাইনা। কিন্তু s পার্সি জ্যাকসন সিরিজের কথা বললেন বলে বলছি। পার্সি জ্যাকসনের ১০ টা বই শেষ হয়ে গেলে 'ম্যাগনাস চেজ' সিরিজ আর 'ট্রায়ালস অফ অ্যাপোলো' সিরিজও অবশ্যই পড়ে ফেলবেন। ইন্টার লিংকড এই তিনটে। আমার ভালো লাগে, বারবার পড়ি। আরেকটাও আছে 'কেন্  ক্রনিক্যালস' কিন্তু সেটা আমার তত পছন্দের নয়। এগুলো সবই অবশ্য ফ্যান্টাসী, সাই-ফাই নয়। 
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ০১:৩৩735331
  • অনেক ভালো ভালো সায়েন্স ফিকশনের মধ্যে ভালো ফ্যান্টাসি এলিমেন্টও থাকে। এই কিছু আগে উর্সুলা লেগুইনের ওমেলাস নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, সেই গল্পে তো ফ্যান্টাসি এলিমেন্টই বেশি।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৫ জানুয়ারি ২০২২ ০২:৫৯735332
  • আরে ভালো ভালো সাইফাইয়ের লিস্ট পাবো বলে রোজ আসি। তবে দেখুন, শুধু লিস্ট না, সাইফাই এর নামগুলো দিলে সঙ্গে সামান্য ইন্ট্রোও দেবেন প্লীজ। তাহলে টানটা বাড়বে।
  • জয় | 82.1.126.236 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:০০735342
  • ফ্রাঙ্ক হারবার্টের 'ডিউন' এবং ডিউন সাগা নিশ্চই উৎসাহীদের পড়া আছে। এখানে এখনও কেউ লেখেন নি। কালকে এ নিয়ে দেখি দুটো লাইন লিখব। এ সপ্তাহে কেমো শুরু হল- তাই শরীরটা সামান্য নড়বডে হয়ে আছে।
  • জয় | 82.1.126.236 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৫৬735344
  • লেখকঃ ফ্রাঙ্ক হারবার্ট, সাই ফাই জগতের আরেক হসতি। মূলতঃ সফ্ট সাই ফাই, বর্ডারিং ফ্যান্টাসি। 
     
    উপন্যাসঃ ডিউন। ৫০০ পাতার বেশী। তিনটে খন্ডঃ ডিউন, মুয়াডডিব, দ্য প্রফেট। ইন্টার স্টেলার গল্প। ইংরেজীটা বেশ ঝরঝরে।
    ডিউন- হল একটা দুর্গম গ্রহ অ্যারাকিস। যেখানে পাওয়া যায় সবচেয়ে দামী প্রোডাক্ট "মেলান্জ" যা নিয়ে লড়াই বিভিন্ন হাউসের মধ্যে (আরবের তেল নিয়ে ইউএস, ইউকের পলিটিকস মনে করাবে)
    মুয়াডডিব- প্রোটাগনিস্ট পল আট্রেডিসের ছদ্মনাম। রাজার ছেলে। সব হারিয়ে অ্যারাকিসের উপজাতি ফ্রেম্যানদের একজোট করে অবশেষে যুদ্ধজয় (চেনা চেনা লাগছে মরুভূমি থেকে উঠে আসা তিন প্রফেট, মুসা, যীশু, মহম্মদ- সবার মধ্যে লতায়পাতায় রাজরক্ত/ "কিন্তু তারা উচ্চ ঘর", দুনিয়ার দলিত অবমানিত মানুষদের এক করে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন)
    আরো আছে- মহিলা সিক্রেট সোসাইটি বেনে জেসেরিট, আছে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, মার্কামারা ভিলেন। আর আছে মরুভূমির নিচে ৪০০মি লম্বা ভয়ঙ্কর স্যান্ড ওয়ার্ম "সাই-হুলুদ"- কেন আছে?
     
    অবশ্যই রেকোমেন্ড করলাম। বাকী সাগার কটা মাত্র পড়েছি, সেগুলো প্রথমটার মতো প্রাইজ (নেবুলা, একটুর জন্য বোধহয় হুগো পাননি) পায়নি কেন বোঝা যায়।
    দুটি সিনেমা হয়েছে। পুরোনোটা (নেটফ্লিক্স) বেশ বাজে। নতুনটা এবছর সেপ্টেম্বর/ অক্টোবরে বেরিয়েছে- দেখা হয় নি।
  • জয় | 82.1.126.236 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ১৬:০০735345
  •  
     
    সিনেমাগুলোর ট্রেলার
  • dc | 122.174.106.229 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ১৯:৪০735348
  • ওহো ডিউনের কথাও ভুলে গেছিলাম, জয়কে ধন্যবাদ মনে করানোর জন্য। 
     
    আমিও ডিউন সাগার প্রথম তিনটে বই পড়েছি। ডিউনে ফ্যান্টাসি এলিমেন্ট অনেক বেশী, আর ওরিয়েন্টাল ইনফ্লুয়েন্সও অন্যান্য সাই ফাইয়ের থেকে অনেক বেশী, অন্তত সেই সময়ের তুলনায় তো বটেই। গম জ্যাবার (নাকি জাব্বার?) এর কথা পড়ে বেশ মজা লেগেছিল। হাইপেরিয়ন সিরিজ আর ডিউন সিরিজ প্রায় একই সময়ে পড়েছি, হাইপেরিয়ন আমার বেশী ভালো লেগেছিল। 
  • জয় | 82.1.126.236 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২০:২৭735349
  • @dc
    হাইপেরিয়নের পাঠকপ্রতিক্রিয়া আর ড্যান সিমন্সের লেখকপ্রতিক্রিয়া লিখুন না, প্লীজ সময় করে।
  • dc | 122.174.106.229 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৩৫735350
  • একক আর অন্য যারা বললেন ক্রোনোলজি সমঝাতে, তাদের কথা ভেবে আরও কিছুটা লিখব ভাবছি :-) 
     
    সায়েন্স ফিকশান কিন্তু বহু শতক ধরেই লেখা হচ্ছে, এমনকি পন্ডিতরা তো এর অরিজিন এর খোঁজে আরও পিছিয়ে যেতে চান। তবে আমার মতে একটা চলনসই ডেফিনিশান হতে পারে, অন্তত এখনকার দিনে, যে গল্পে বিজ্ঞান এর কচকচি বেশী, বা সায়েন্স আর টেকনোলজি অন্যতম ক্যারেকটার না হলেও প্রধান প্রপগুলোর মধ্যে, তাকেই বলবো সায়েন্স ফিকশান। আর কাছাকাছি আরেকরকম গল্প আছে যাকে বলে ফ্যান্টাসি, যার মধ্যে ম্যাজিকের বা মিথিকাল রিয়েলিটির প্রাধান্য বেশী।  যেমন টলকিয়েনের লর্ড অফ দ্য রিংস বা মিডল আর্থ সাগা, সি এস লুইসের নার্নিয়া সাগা। অনেক সময়ে মার্কেটিং এর তাগিদে সাই ফাই আর ফ্যান্টাসি এক করে দেখানোর চেষ্টা হলেও, আমার মতে এই দুটো একেবারেই আলাদা জঁরা। অবশ্য ক্রসওভারও আছে, যেমন ফিলিপ পুলম্যান এর নর্দার্ন লাইটস সিরিজ, তবুও সাই ফাই আমার মতে একেবারেই স্বতন্ত্র। 
     
    তো আমার মতে সাই ফাই বলতে এখন যা বুঝি, সেটা প্রথম ধারাবাহিকভাবে লেখা শুরু করেন জুলস ভার্ন আর এইচ জি ওয়েলস। টাইম মেশিন, টুয়েন্টি থাউস্যান্ড লিগস আন্ডার দ্য সি, ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস ইত্যাদির মতো জনপ্রিয় গল্প কমই লেখা হয়েছে, আর এই দুজন যেভাবে সেই সময়ের পপুলার ইম্যাজিনেশান ক্যাপচার করেছিলেন, আর পপুলার কালচার ইনফ্লুয়েন্স করেছিলেন, সেরকম খুব কম লেখকই করতে পেরেছিলেন। এখন এঁদের লেখা একেবারেই শিশুপাঠ্য মনে হয়, কিন্তু দুজনকেই বোধায় ফাউন্ডিং ফাদার্স অফ মডার্ন সায়েন্স ফিকশান বলা যায়। তবে আর্থার কোনান ডয়েলেরও দুয়েকটা লেখা আমার ছোটবেলায় সমান ভালো লেগেছিল যেগুলো সাই ফাই ক্যাটেগোরিতে ফেলা যায়, যেমন হরর অফ দ্য হাইটস। 
     
    ভার্ন আর ওয়েলস এর পরেই যার নাম মনে আসে, তিনি আইজ্যাক অ্যাসিমভ। অ্যাসিমভ প্রলিফিক লেখক ছিলেন, ফিকশান আর নন-ফিকশান দুই ক্যাটেগোরিতেই অজস্র লিখেছেন। কিন্তু ওনার রোবট আর ফাউন্ডেশান সিরিজ, বলা যায়, মডার্ন সাই ফাই এর সূচনা করে। যেটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, অ্যাসিমভ স্পেস অপেরা জঁরা পপুলারাইজ করেন, যার ভিত্তি হলো গ্র‌্যান্ড স্কেল, গ্যালাকটিক এম্পায়ার ইত্যাদির প্রাধান্য। অ্যাসিমভের গল্পগুলোর আরেকটা মজা আছে, এগুলোর বেশীর ভাগ এই গ্যালাকটিক এম্পায়ার এর সূত্রে বাঁধা। মানে ধরুন কারেন্টস অফ স্পেস পড়ছেন, হঠাত দেখবেন এটার কোন একটা ঘটনা অন্য কোন একটা গল্পে খুব ইনডাইরেক্টলি রেফার করা হয়েছে। অর্থাত অ্যাসিমভের সমস্ত সাই ফাই ছোটগল্প, নভেলা, উপন্যাস, সিরিজ ইত্যাদি পড়ে ফেললে মনে হবে আগামী কুড়ি হাজার বছরের ইতিহাস এর পাতা উল্টে নানান ছোট বড় ঘটনার সাক্ষী হলাম, যা একটা আলাদা ফিলিং। 
     
    তবে স্পেস অপেরা শুধু অ্যাসিমভই নয়, অন্য কয়েক জন সমসাময়িক লেখকের হাত ধরেও প্রভূত জনপ্রিয় হয়, যেমন রবার্ট হাইনলাইন, রে ব্র‌্যাডবেরি, Frederick Pohl, উর্সুলা লে গুইন, আর প্রথম দিকের আর্থার সি ক্লার্ক। বিশেষ করে রবার্ট হাইনলাইনএর নাম করবো, যিনি অ্যাসিমভের থেকে কোন দিক থেকেই কম ছিলেন না - গল্পের কোয়ালিটি আর কোয়ান্টিটিতেই হোক, কি পপুলারিটিতেই হোক, কি ওভারল ইনফ্লুয়েন্সেই হোক। অ্যাসিমভের যদি ফাউন্ডেশান সিরিজ থাকে তো হাইনলাইনছিল স্টারশিপ ট্রুপারস সিরিজ, সমান পপুলার আর ইনফ্লুয়েন্শিয়াল। 
     
    এঁর সবাই মিলে ১৯৫০ অবধি যা লেখালেখি করেছেন তাকে বলা হয় গোল্ডেন এজ অফ সাই ফাই। 
  • dc | 122.174.106.229 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৩৮735351
  • উইকি খুলে দেখছি এই ইরার আবার একজনের নাম ভুলে গেছি, রবার্ট সিলভারবার্গ। ওনাকেও মোটামুটি গোন্ডেন এজ এই ফেলা যায়। 
  • জয় | 82.1.126.236 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২০:৪৭735352
  • @ s আর kk
    অনেক ধন্যবাদ। আমার নিজের ফ্যান্টাসীতে অতটা যাতায়াত নেই। কিন্তু জারা(মেয়ে)র আছে। ওকে জিজ্ঞেস করে জানলাম অনেকগুলোই পড়া। আরো জানলাম এদের বন্ধুদের মধ্যে বুকক্লাব আছে। তারা রীতিমত এসবের চর্চা করে। আমি বই কিনি বলে জানি ওর কি বই কিনেছি। সেখানেও মেয়ে চমকে দিল- আর নাকি বই কেনার দরকার নেই- কাউন্সিল আর স্কুল লাইব্রেরী থেকে তোলে (লজ্জায় অধোবদন হয়ে গেলাম, লাইব্রেরী পারত পক্ষে মাড়াই না বলে- যদি না কোন জার্নালের দরকার পড়ে), বন্ধুদের মধ্যে সোওয়াপ করে পড়ে।
     
    @সে 
    শঙ্কুর দুই গল্পই বাপ-বেটির খুব ভালো লেগেছে! কি করে লেখেন এমন!!!
     
    @&/ 
    দুঃখিত- মেয়ের স্কুল খুলে গেছে। এ হপ্তাটা আমার শরীরও নানান ক্যাঁচাল পাড়ছিল। উইকএন্ডে প্ল্যান আছে জারাকে শোনানোর এবং একটা রিভিউ লেখার অনুরোধ করার।
  • dc | 122.174.106.229 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২১:২৮735353
  • ১৯৬০ থেকে সূচনা হয় নিউ ওয়েভ বা নিউ এক সাই ফাই এর। ফ্র‌্যাংক হারবার্ট এর ডিউন পাবলিশড হয়, এছাড়াও লিখতে শুরু করেন জে জি ব্যালার্ড, ব্রায়ান অলডিস ইত্যাদিরা। ফিলিপ ডিক লেখেন ডু অ্যানড্রয়েডস ড্রিম অফ ইলেকট্রিক শিপ (যা পরে ব্লেড রানার নামের সিনেমা হয়), আর ল্যারি নিভেন লিখতে শুরু করেন রিং ওয়ার্ল্ড সিরিজ। নিউ এজ মানে হলো  আগের থেকে অনেক বেশী কমপ্লেক্স আর রিয়েলিস্টিক প্লট আর প্লট এলিমেন্টস, অনেক বেশী এক্সপ্লোরেটরি, অনেক বেশী সমসাময়িক। পুরনো পাপীরাও নিউ ওয়েভ স্টাইল ফলো করতে শুরু করেন, বিশেষ করে আর্থার সি ক্লার্কের দি সেন্টিনেল (যা পরে ২০০১ঃ এ স্পেস ওডিসি নামের সিনেমা হয়), রঁদেভু উইথ রামা, সংস অফ ডিসট্যান্ট আর্থ ইত্যাদি হেভিওয়েট নভেল বা ছোট গল্প সবই এই সময়ের। এই পর্বের শেষের দিকে বেরয় ড্যান সিম্মন্স এর দুর্দান্ত হাইপেরিয়ন ক্যান্টস সাগা, যার স্ট্রাকচার চসারের ক্যান্টারবুরি টেলস এর মতো করে লেখা। অর্থাত একটা ফ্রেম স্টোরি, যার ভেতরে অনেকগুলো সাব স্টোরি। একই গল্পে একসাথে ফরোয়ার্ড আর ব্যাকওয়ার্ড টাইম ট্রাভেল, এ আই, ইত্যাদি। 
     
    আশির দশকে শুরু হয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ সাব জঁরা, সাইবারপাংক। যদিও এর আগে অনেকেই ডিস্টোপিয়ান ফিউচার, ড্রাগ অ্যাবিউস ইত্যাদি নিয়ে লিখেছিলেন, সাইবারপাংক এর প্রকৃত জনক বলা যায় উইলিয়াম গিবসনকে। উনি ১৯৮4 তে লেখেন নিউরোম্যান্সার, যাতে প্রথম ইনটারনেটের কথা লেখা হয় (সেই হিসেবে গিবসনকে অনেকে ইন্টারনেটের জনকও মনে করেন)। শুধু তাই না, নিউরোম্যান্সারে আরও অনেক কিছু ছিল যা এখন কাল্ট স্ট্যাটাসে পৌঁছে গেছে, যেমন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, ভ্যাট গ্রোন মিট, য়াকুজা, কম্পিউটার ভাইরাস, মিলিটারি সাই অপস ইত্যাদি। এর পর সাইবারপাংক জঁরায় আরও অনেকে লিখতে শুরু করেন, যেমন ব্রুস স্টার্লিং, নীল স্টিফেন্সন ইত্যাদি। 
     
    ব্রুস স্টার্লিং লেখেন অসাধারন একটা নন-ফিকশান, দ্য হ্যাকার ক্র‌্যাকডাউন, এখানে সেটা পড়তে পারেনঃ 
    এই লেখাটায় যেটা আমার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছিল, সেটা হলো, স্টার্লিং দেখিয়েছিলেন কিভাবে টেলিফোনের মতো একটা টেকনোলজি সরকারি লাল ফিতে আর বুরোক্রেসির ফাঁসে আটকে গেছিল অথচ সেই একই টেলিফোন কিভাবে অ্যামেরিকায় ফ্রি মার্কেট আর এনত্রেপ্রেনিউরিয়াল সিস্টেমে ফ্লারিশ করেছিল আর উন্নয়ন এর সমার্থক হয়ে উঠেছিল। অনেকটা আমাদের দেশের বিএসএনএল আর তার পরের অধ্যায়ের গল্প আর কি। 
     
    ১৯৯০ থেকে যা লেখালেখি হয়েছে তার সবই মডার্ন ইরা। এখন শুধু গল্পই না, আরও অনেক মিডিয়াতেই সাই ফাই নিয়ে খুব ইন্টারেস্টিং আর সিরিয়াস কাজকর্ম হচ্ছে, যেমন মাংগাতে গোস্ট ইন দ্য শেল আর সিনেমায় মেট্রিক্স সিরিজ। সিনেমার কথা বললে অবশ্য তার আগের যুগের স্টার ওয়ার্স আর স্টার ট্রেকের কথাও বলতে হয়, একবিংশ শতকের সমাজ ইতিহাস আর পপ কালচার স্টার ওয়ার্স ছাড়া অসম্পূর্ণ। 
     
    আধুনিক লেখকদের মধ্যে একজনের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করবো, ২০১২ সালে প্রয়াত ইয়ান ব্যাংকস। ওনার কালচার সিরিজ আমার মতে সেরা সাই ফাই গুলোর অন্যতম, অনায়াসে অ্যাসিমভের ফাউন্ডেশান সিরিজের সাথে পাল্লা দিতে পারে। কনসিডার ফ্লেবাস, প্লেয়ার অফ গেমস, ইউস অফ ওয়েপনস, এক্সেশান, ইনভার্শন্স, লুক টু উইন্ডওয়ার্ড, ম্যাটার, সারফেস ডিটেল, আর হাইড্রোজেন সোনাটা - এই উপন্যাসগুলো নিয়ে কালচার সিরিজ, প্রতিটা অসাধারন, দুর্দ্ধর্ষ। কালচার সিরিজ না পড়লে সাই ফাই পড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 
  • dc | 122.174.106.229 | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৫০735354
  • একটা ডিসক্লেমার দিয়ে দিঃ ওপরে যা লিখলাম তার প্রায় পুরোটাই আমার ইমপ্রেশান বা ইনটারপ্রেটেশান। (যদিও অনেক কিছু মনে পড়ছিলো না বলে গুগল আর উইকি খুলে মিলিয়ে নিয়েছি)। এটা কোন অফিশিয়াল বা রিকগনাইজড ক্রোনোলজি নয়, কাজেই ভুলভাল যা হয়েছে সেসব একেবারেই আমার। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন