ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লালন সম্পর্কে দুটো একটা কথা যা আমি জানি...

    বিপ্লব রহমান লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৩১৭৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)




  • মরমী আত্মধিক সাধক লালন ফকিরকে তার অনুসারীরা সাঁই হিসেবে ডাকেন, তিনি মোটেই মুঘল পদবী ধারী "শাহ্" নন! 
     
    অজ্ঞতা বশত: এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক "লালন শাহ্ (?) সেতু" বানিয়ে অজ্ঞতাটিকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। 
     
    আবার কিছু বাউল নিজেরাই উদাসীনতায় নামের ক্ষেত্রে "শাহ্" কথাটি ব্যবহার করেন, যেমন আরেক বিখ্যাত বাউল "শাহ্ আব্দুল করিম"। কিন্তু বংশ লতিকা খুঁজে তার সাথে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক বর্গের কোনো যোগসাজস না পাওয়ারই কথা। 
     
    "সাঁই" কথাটির ভাবার্থ হচ্ছে -- বাবা, কর্তা, গুরু, পথ প্রদর্শক ইত্যাদি। 
     
    লালন ফকির ছিলেন একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক। তার গানের মধ্যে সন্ধান পাওয়া যায় এক বিরল মানব দর্শনের।



    লালন ফকিরকে "বাউল-সম্রাট" বা "বাউল গুরু" হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তার গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি প্রায় দু হাজার গান রচনা করেছিলেন বলে লালন গবেষকরা বলেন।
     
    তবে স্বাধীন বাংলাদেশে আটের দশকে ফরিদা পারভীন বেতারে লালন গীতি নিয়মিত পরিবেশন করে সুধী সমাজে নতুন করে লালনকে প্রতিষ্ঠা করেন। 
     
    তিনি সাঁইজীর অনুসারী কুষ্টিয়ার বাউল মোকসেদ আলী সাঁইয়ের কাছে দীর্ঘদিন ধরে লালনের দর্শন জেনেছেন ও গান শিখেছেন। 
     
    ফরিদা পারভীন জাদুকরী কোকিল কণ্ঠে ক্রমে সারা বিশ্বে লালনের গান নিয়ে যান। নতুন করে এই অহিংস কবি, গীতিকার ও দার্শনিকের চিন্তা জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়। বাউল ফকিররা বাদেও দুই বাংলার মধ্যবিত্ত সমাজে "লালন গীতি" চর্চা ব্যাপকভাবে শুরু হয়। 
     
    ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা একটি "শ্রোতা জরিপ" এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো - সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০ জনের জীবন নিয়ে বিবিসি বাংলায় বেতার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ২০০৪-এর ২৬ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
     
    বিবিসি বাংলার সেই জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ ২০ জন বাঙালির তালিকায় ১২ তম স্থানে আসেন সাধক লালন ফকির ।
     


    এর আগে লালন সাঁই অবশ্য তার গভীর দর্শন দিয়ে জীবনদশাতেই ঠাকুর পরিবার ও সে সময়ের প্রগতিশীল সুধী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন। 
     
    লালনের জীবদ্দশায় তার একমাত্র স্কেচটি তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তার বজরায় বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যেখানে তিনি ক্যাপশন লিখেছেন, "লালন ফকির, শিলাইদহ"।
     
    ছবিটিতে খোলা চুল-দাড়িতে চেয়ারে ঝুঁকে বসা লালনকে দেখা যাচ্ছে এক পাশ থেকে, বাম হাতে দোতরা ধরা; ধুতি বা লুঙ্গি পাঞ্জাবী পরা লালন ডান পায়ের ওপর বাম পা ভাঁজ করে বসেছেন।
     
    জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে জমিদারির কাজে এলে নিয়মিত 
    লালনের কাছে মানবতাবাদী ধর্মকথা ও তার গান শুনতেন। নিরক্ষর এই মহাপুরুষের গানে বরাবরই সাধারণ পল্লী জীবনকে আশ্রয় করে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা প্রকাশ পেয়েছে। 
     
    খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে লালন ও অন্যান্য বাউল গানে আকৃষ্ট হন। তার অনেক গানে এর প্রভাবও পড়েছে। 
     
    রবীন্দ্রনাথ নিজে তার বাউল প্রভাবিত গানগুলোকে "রবীন্দ্র-বাউলের গান" হিসেবে অভিহিত করেন। এ ধরনের অসংখ্য গান আছে। যেমন —
    ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’; ‘তুমি যে সুরের আগুন জ্বালিয়ে দিলে’; ‘সে দিনে আপদ আমার যাবে কেটে’; ‘সবাই যারে সব দিতেছে’; ‘রইল বলে রাখলে কারে’; ‘ফিরে চল মাটির টানে’; ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়’; ‘কান্না হাসির দোল দোলানো’; ‘আমি তারেই খুঁজে বেড়াই’; ‘ও আমার মন যখন’; ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ’; ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’; ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক’; ‘যে তোরে পাগল বলে’; ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’; ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’; ‘ও আমার দেশের মাটি’; ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন হবেই হবে’; ‘মালা হতে খসে পড়া’; ‘আমি যখন ছিলাম অন্ধ’; ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’; ‘ডাকব না ডাকব না’ ধরনের অনেক গান। 

    "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি", বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতটিও বাউলসংগীত, যা "আমি কোথায় পাব তারে" গানটি দ্বারা প্রভাবিত।



    লালন ফকিরের  (১৭ অক্টোবর ১৭৭২ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০) সঠিক জন্ম ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কোন কোন লালন গবেষক মনে করেন  বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে লালন জন্মগ্রহণ করেছিলেন সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে। বাবা মাধব কর ও মা পদ্মাবতীর একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।
     
    কিন্তু এ বিষয়ে দ্বিমতও আছে। কেউ বলেন তার জন্ম ঝিনাইদহে, কেউ বলেন যশোরে।
     
    কথিত আছে শৈশবে পিতৃবিয়োগ হওয়ায় অল্প বয়সেই তাঁর ওপর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ তার হয়নি।
     
    কোন কোন গবেষকের বিবরণ অনুযায়ী প্রতিবেশী বাউলদাস ও অন্যান্য সঙ্গীদের নিয়ে "পুণ্যস্নান" বা তীর্থভ্রমণ সেরে ঘরে ফেরার পথে লালন বসন্তরোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন।
     
    রোগ বৃদ্ধি পেলে অচৈতন্য লালনকে মৃত মনে করে সঙ্গীরা কোনরকমে তার মুখাগ্নি করে তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এক মুসলমান রমণী নদীকূল থেকে লালনের সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার করে সেবাশুশ্রূষা করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন। কিন্তু তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
     
    এই গবেষণার তথ্যমতে, এরপর বাড়ি ফিরে গেলে সমাজপতি ও আত্মীয়স্বজন মুসলমানের গৃহে অন্নজল গ্রহণ করার অপরাধে তাকে সমাজে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যথিত লালন চিরতরে গৃহত্যাগ করেন।
     
    বলা হয় এই ঘটনা সমাজ-সংসার, শাস্ত্র আচার এবং জাতধর্ম সম্পর্কে তাঁকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এবং এখান থেকেই হয় তার নতুন জন্ম।
     
    বাউল গুরু সিরাজ সাঁইয়ের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করে তার প্রকৃত সাধক জীবনের সূচনা হয়।
     
    "সিরাজ সাঁই কয় কোথায় রে মন, সোনার খাট পালঙ্ক এমন? /লালন কহে সব অকারণ, সার হবে মাটির বিছানা"...
     
    লালনের গানে বার বার ঘুরে ফিরে তার ভাবগুরু "সিরাজ সাঁই" এর কথা এসেছে, যদিও গবেষকরা তার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান, সিরাজ সাঁই এর ঐতিহাসিক সূত্র বা অন্য কোনো লোকগীতিতে তার উল্লেখ নাই।
     
    কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়ায় নিজের আখড়ায় ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর, বাংলা ১২৯৭ সালের পয়লা কার্তিক ১১৬ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন মহাত্মা ফকির লালন সাঁই।
     


    এ কথা বলে নেওয়া ভাল, বাউল একটি গুপ্ত সাধনার ধর্ম, বৈষ্ণব সহজিয়া, বৌদ্ধ সহজিয়া ও সুফিবাদের সংমিশ্রণে মানবগুরুর ভজনা, দেহ-কেন্দ্রিক সাধনাই লালন প্রদর্শিত বাউল ধর্মের মূলমন্ত্র, দেহতত্ত্ব, "যাহা নাই দেহ ভান্ডে, তাহা নাই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে" ইত্যাদি। গুপ্ত সাধনার ধর্ম বলেই বাউলরা অনেক কথা ধাঁধায় গানে গানে প্রচার করেন। 
     
    যেমন, লালন সাঁই বলেন, "চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করবো কী?/ ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তোমরা তারে বলবে কী?" 
     
    গান হচ্ছে লালনের বাউল ধর্মের কালাম বা বাণী মাত্র, "জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন" যার আধ্যাত্মিক লক্ষ্য। লালন সাঁই যেমন তার গানে বলেন, "মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে?"
     


    লালন সাঁই তার গানে বলেন, "যেদিন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান / জাতি-গোত্র নাহি রবে / এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে?"
     
    লালন ফকিরের যখন আর্বিভাব ঘটেছিল সেই সময়টা বাঙালির জীবনের এক ক্রান্তিকাল। পলাশীর যুদ্ধে স্বাধীনতার সূর্য তখন অস্তমিত। গ্রামীণ সমাজ নানাভাবে বিভক্ত। ধর্ম জাত-পাত ইত্যাদি নিয়ে সমাজে ছিল বিভিন্ন সমস্যা।
     
    লালন এই জাত-পাত ও ধর্ম বর্ণ-বিভেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি জাত ধর্ম বর্ণ গোত্রহীন সমাজ গড়ে তুলতে। সবকিছুর ওপরে তিনি স্থান দিয়েছিলেন মানবতাবাদকে।
     
    তিনি শুধু জাত-পাতের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন না, লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সামাজিক অনাচার, বিভেদ বৈষম্য এবং সামন্ত শোষণের বিরুদ্ধেও তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
     
    "শিলাইদহের ঠাকুর জমিদাররা যখন প্রজাপীড়ন আরম্ভ করলেন তখন কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ তার 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকায় ঠাকুর জমিদারদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। এতে ঠাকুর জমিদাররা কাঙাল হরিনাথকে শায়েস্তা করার জন্য গুণ্ডা নিয়োগ করেন। লালন ফকির তখন তাঁর এই বন্ধুকে রক্ষা করার জন্য তাঁর শিষ্যদের নিয়ে জমিদারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।"
     
    সে সময় লালনের গানের কোনো লিখিত রূপ ছিল না। শুধু মাত্র মুখে মুখে, গানে গানে বাউল ফকিররা লালনের গান অবিভক্ত ভারতে ছড়িয়ে দেন। 
     
    দেড়শ বছর পরে আজও প্রতি দোল পূর্ণিমায় লালনের জন্ম উৎসব তিথিতে দুই বাংলা থেকে হাজার হাজার বাউল ফকির, ভক্ত কুষ্টিয়ায় মাজারে জড়ো হন, তারা দিন রাত গান গানে স্মরণ করেন সাঁইজীকে। 



    এইসব ইতিহাস পরম্পরা ও মূল ভাব দর্শন বাদ দিয়ে শুধু মাত্র গান দিয়ে লালন সাঁইকে 
    তথা বাউল কথাকে বিচার করার চেষ্টা গুরুতর অজ্ঞতার নামান্তর। 
     
    বলা ভাল, রণজিৎ কুমার লালনকে নিয়ে "সেনবাউল রাজারাম" নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন। পরেশ ভট্টাচার্য রচনা করেন "বাউল রাজার প্রেম" নামে একটি উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস "গোরা" শুরু হয়েছে লালনের গান "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়" দিয়ে।
     
    এছাড়া বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনী নিয়ে রচনা করেন "মনের মানুষ" (২০০৮) উপন্যাস। এই উপন্যাসে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই লালনকে হিন্দু কায়স্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছ, নাম দেয়া হয়েছে "লালন চন্দ্র কর(!)"। এটি মোটেই লালনের আত্মজীবনী নয়, ইতিহাস তো নয়ই, ঐতিহাসিক চরিত্র লালন ফকিরকে উপজীব্য লেখা এটি শেষ পর্যন্ত উপন্যাসই। 
     
    "মনের মানুষ" (২০১০) সিনেমাটিও কাল্পনিক। বরং সিনেমায় বাউল জীবনাচারকে আরও বেশ কিছুটা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 
     
    আর বাংলা ব্যান্ড সংগীতে বাউল গান নিয়ে পশ্চিমা বাদ্য যন্ত্রে ফিউশন ইত্যাদি তৈরি, মানবতার দর্শনটির সর্বশেষ বিকৃত ও কর্পোরেট রূপ। 
     
    *সংযুক্ত : সব সৃষ্টি করলো যে জন, তারে সৃষ্টি কে করেছে? ... রব ফকিরের লালন গীতি
     
     

    _______
    তথ্য সূত্র : অখন্ড লালন সংগীত, আবদেল মান্নান, বিবিসি বাংলা, উইকিপিডিয়া, অন্যান্য। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এলেবেলে | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৪৭501976
  • আমার মন্তব্যকে এভাবে ব্যবহার করায় আমি নিজে যারপরনাই অবাক হয়েছি। বিশেষত এই মন্তব্যটিতে আমি যখন স্পষ্ট ঘোষণা করেছি যে লালনের টইতে আমার যাওয়ার ইচ্ছে নেই, সেখানে আমাকে এভাবে টেনে আনা কতটা ন্যায়সঙ্গত? এখন গুরুর কুখ্যাত ট্রোলবাহিনী যদি ফের নোংরামো করা শুরু করেন, তাহলে সেটাকে আটকানোর দায়িত্ব কারা নেবেন? তাঁরা প্রায় ২৪ ঘন্টা আগে করা আমার মন্তব্যটি দেখেননি, এমন তো নয়। আমি কেবল তাঁদের খবরটা বিপ্লববাবুকে জানিয়ে দিতে বলেছিলাম। কারণ দুটো। এটি শিশুতোষ লেখা কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রামাণ্য গবেষকের সবচেয়ে প্রমাণ্য গ্রন্থটির অনুল্লেখ এবং আমার প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া তাঁর বাছাই করা কিছু বিশেষণ। কাজেই অনেক আগেই খোদা হাফেজ বলে বেরিয়ে যাই। আবুল আহসান এমনকি জ্যোতি ঠাকুরের স্কেচটিও ব্যবহার করেননি। তিনি নন্দলাল বসুর স্কেচটিকে ব্যবহার করেছেন। 
     
    যাই হোক, রিডারের এত ইফস এবং বাটস-এর কোনও প্রয়োজন নেই। এটা স্পষ্ট যে তিনি আবুল আহসানের বইটি না পড়লেও তাঁকে নস্যাৎ করতে পারেননি। অন্তত এই কাণ্ডজ্ঞানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। গ্রন্থটিতে এ বাংলার দুই লালন গবেষক সুধীর চক্রবর্তী (পৃ. ৮৭৫-৮৯৩) ও শক্তিনাথ ঝা (পৃ. ৮৯৪-৯০৪)-এর প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। কাজেই তিনি তাঁদের কাজ সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল। আবুল আহসান চৌধুরীর এই আকর গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। তার ১৩ বছর পরেও যদি সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেন, তাহলে কেউ কেউ তার প্রতিবাদ করবে। 
     
    উল্লিখিত গানটি নিয়েও এত গবেষণার দরকার নেই। আবুল আহসান গানটি সম্পর্কে নিজেই জানিয়েছেন---
     
     
     
     
    অনেক আগেই বলেছিলাম, এলেবেলে যে রেফারেন্স দেয় তা সামলাতে পারবে বলেই দেয়। অনেকের কাছেই সেসব নতুন লাগে। ফলে হ্যাহ্যাহিহি করে সেই খামতি ঢাকতে হয়। আজ বলে গেলাম, এলেবেলে তার দেওয়া রেফারেন্সের ব্যাক আপও রাখে।
  • সম্বিৎ | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:১৬501994
  • আরেক অসামান্য লালন গবেষক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের ক্যারল স্যালোমন। আমি ক্যারল স্যালোবনের নাম প্রথম শুনি সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। সুদীপ্তর সঙ্গে আমার আলাপের প্রথম দিনে, সে তখন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছে, যদিও মূলতঃ সুমনের গান নিয়েই বেশি আলোচনা হয়, এটা বুঝতে অসুবিধে হয়নি যে তার লালনপ্রীতিও অত্যন্ত উঁচুদরের। সেটা ১৯৯৩ সাল। এরপরে সুদীপ্ত বার্কলেতে যখন পড়াতে এল, ২০০২-২০০৩ নাগাদ, যদ্দুর মনে পড়ছে, বিভিন্ন আড্ডায় লালন সম্বন্ধে আলোচনা হত। আমি সুধীরবাবুর 'বাউল-ফকির কথা" সেই সময়ে পড়ি। তখন সে 'ম্যান অফ দ্যা হার্ট' নামের নাটকের পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই সময়েই তার আছে ক্যারলের নাম আর কাজের কথা শুনি। সুদীপ্ত আর নাট্যপরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় ফিল্ড স্টাডি করতে কুষ্ঠিয়ায় যায়। ফিরে এসে উল্লসিত হয়ে জানায় তারা সম্পূর্ণ নতুন এক লালনগীতির সন্ধান পেয়েছে। আগে কোন সংকলনে বা কারুর মুখে রেকর্ডে সেই গান শোনা যায়নি। এরপর সুমন বার্কলেতে আসে। তার পরিচালনায় আর সুদীপ্তর স্ক্রিপ্টে ও একক অভিনয়ে 'ম্যান অফ দা হার্ট' নাটক (নাটক না বলে পারফর্মেন্স বলা ভাল) তৈরি হয় ও মঞ্চস্থ হয়। মোটামুটি কাছ থেকে তার নির্মাণ দেখেছি। পরে পরিমার্জিত হয় কলকাতাতেও মঞ্চস্থ হয়েছিল। সদ্য খুঁজে পাওয়া গান 'কে বানাইল এমন রংমহলখানা' গানটিও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পরে দেখেছি শক্তিনাথ ঝা'য় (২০১০ সালের এডিশন) গানটা আছে। তাহলে সুদীপ্ত কেন বলেছিল নতুন গান? তাহলে কি তার এই গানের সুর প্রথম শুনেছিল? নাকি অন্য কোন গানের কথা বলেছিল। পরে আর তাকে জিগেস করা হয়নি।
     
     ক্যারল স্যালোমন তিরিশ বছর ধরে লালনকে নিয়ে গবেষণা করেছেন। পিয়ার-রিভিউড গবেষণা। সুধীরবাবুর লেখা গবেষণার ভক্ত হয়েও বলব, তাঁর গবেষণা গবেষণার রীতি মেনে হয়নি। তিনি নিজেও সে নিয়ে এক জায়গায় আক্ষেপ করেছেন। বাঙ্গালিদের অনেক ভাল কাজেই এই এক ফোঁটা চোনা রয়ে গেছে। বিনয় ঘোষ, তারাপদ সাঁতরা, রাধারমণ মিত্র - সবাই। ক্যারলের গবেষণা ধরা আছে 'সিটি অফ মিররস' নামের একটা অসাধারণ বইতে। গানের সঙ্গে তার গবেষণালব্ধ টীকায় বইটি পূর্ণ। এতসব বলার এই কারণ যে আমার কাছে ক্যারলের বইটা নেই। আজ খুঁজতে খূঁজতে আর্কাইভ ডট অর্গে বইটা পেয়ে গেলাম। গানটা ক্যারলের বইতেও নেই, এইটাই বলার। ('কে বানাইল এমন রংমহলখানা' ক্যারলেও আছে।)
     
    ক্যারল মারা যাবার পরে সুদীপ্তর লেখা পরবাসে - https://www.parabaas.com/translation/database/authors/texts/carolsalomon.html

    সিটি অফ মিররের লিঙ্ক - https://archive.org/details/city-of-mirrors-songs-of-lalan-sai

  • এলেবেলে | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:৪৫502006
  • সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় মানে কি তিনি যিনি একদা আলফা বাংলায় (জি বাংলার প্রাচীনতম সংস্করণ) দিনদিন প্রতিদিন নামে একটি পাঁচ কি দশ মিনিটের স্কিট পরিচালনা করতেন? যেখানে রুদ্রনীল ঘোষ সেই পরিবারের চাকরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন? যিনি খুব সিগারেট খেতেন? যাই হোক, তিনিই হন বা অন্য কোনও সুদীপ্তই হন- তাঁর এহেন উচ্ছ্বাস প্রকাশের কোনও কারণ ছিল না। কারণ বহু আগে অর্থাৎ কিনা ১৯৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে লালন-গীতিকা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, তার ১৫২ সংখ্যক গান হিসেবে কে বানালে (বানাইলে নয়) পদটি আছে। এখন যিনি ১৯৯৩ থেকে লালন সম্পর্কে আগ্রহী, তিনি যে কেন এটি দেখেননি, তা তিনিই বলতে পারবেন। উপরন্তু তার জন্য অন্তত শক্তিনাথ ঝা-এর অপেক্ষা না করলেও চলে।
     
    এবারে আসা যাক ক্যারল সলোমন প্রসঙ্গে। তাঁর অনুবাদের আকর কী কী ছিল। প্রধানত রবি ঠাকুরের সংগৃহীত দুটি খাতার গানগুলি এবং এই লালন-গীতিকা। তার বাইরে তিনি শুকচাঁদ শাহের অনুগামী খোদা বক্‌স এবং আব্দুল করিম শাহের ওপর নির্ভর করেছেন। তো সে অর্থে তাঁর 'পিয়ার-রিভিউড' গবেষণার মূল উপাদান কিন্তু দুটি খাতা, একটি গ্রন্থ এবং দুজন নির্ভরযোগ্য ফকির। সাহেব-মেমদের প্রতি আমাদের দুর্বলতা একটু বেশিই। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম দেখলাম না!
     
    কিন্তু ন্যাজন্যাড়ানিরা কোতায় গেলেন? ফের সব গর্তে সেইদ্যে গেলেন নাকি? বলি ও মোহায়, আপনাদের গেরামে শেয়াল আচে? আর রন্টিপাগলাদের দলদের মোট্টে দেকচিনাকো। দ্যাকো কাণ্ড। যান, গুলি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন বরং।
     
    কে বানালে-র প্রামাণ্য ভার্সনটা থাকল।
     
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:7d7e:2007:824b:f29d | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:২৯502008
  • সুনীতি চট্টোপাধ্যায়ের নাতি।
  • ইয়ে | 74.201.73.194 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ২১:৪২502012
  • এলবোর যথারীতি বায়ু চড়েছে, পিত্ত ভয়ানক কুপিত হইছে! পন্ডিত মানুষদের 'পিয়ার-রিভিউড' গবেষনায় অল্প উপাদানই ইনাফ। তাঁদের ত ভবদুলালের মত গুরুর পাতায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়না। সাড়ে তিনশ রেফারেন্স দিইচি, অতেব হ্যাচার সায়েবকে টপকে গেচি, এহেন বাতুলতা এলবোর ন্যায় ফুটো পন্ডিতগন করে থাকেন। আর ফুটো পন্ডিতরা 'পিয়ার-রিভিউড' গবেষনার মর্ম বুজলে তারা ফুটো থাকত না। অতেব খোরাক সুদুই খোরাক হেঁহেঁ।
  • dc | 122.178.16.164 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৪৪502013
  • "পন্ডিত মানুষদের 'পিয়ার-রিভিউড' গবেষনায় অল্প উপাদানই ইনাফ"
     
    এটা একেবারেই ঠিক ​​​​​​​না। ​​​​​​​পিয়ার ​​​​​​​রিভিউড গবেষনায় বরং উপাদান বেশী ​​​​​​​থাকারই কথা। (অবশ্য জানি যে ​​​​​​​এই ​​​​​​​পোস্টটা ​​​​​​​ট্রোল ​​​​​​​করে ​​​​​​​লেখা)। 
     
    বড়ো করে ডিসক্লেমারঃ লালন সম্পর্কে এক্কেবারে কিছু জানি না। শুধু এই লাইনটা ভুল মনে হলো বলে পোস্ট করলাম। 
     
    (আরেকটাও কথা লিখে দি, পোস্ট যখন করলামই। এখানে কোন একটা গান অরিজিনাল, না অন্য কারুর বানানো সে নিয়ে তর্ক হচ্ছে। এরকম কিন্তু অনেক সময়েই হয় যে বহু দশক বা শতাব্দী আমরা মনে করি একটা লেখা বা গান বা অন্য কিছু অমুকবাবু রচনা করেছেন, কিন্তু তার পর গবেষনা করে দেখা যায় সেটা অন্য কারুর রচনা। আবারও, আমার লালন সম্পর্কে একেবারেই আইডিয়া নেই। কিন্তু এলেবেলেবাবু যেটা বলতে চাইছেন সেরকম কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে অনেক বার হয়েছে।) 
  • এলেবেলে | 202.142.119.237 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৫৫502015
  • ডিসিজনাব, ইন ফ্যাক্ট আমার পোস্টটাও ভয়ানক ট্রোল করে লেখা। কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত ট্রোল। বুদ্ধিদীপ্ত মানুষদের সেটা বুঝতে পারারই কথা। কিন্তু সবাই তো বুদ্ধিদীপ্ত নন। কিছু গাছগাম্বাট ন্যাজনাড়ানিও থাকে। এমনিতেই তারা দোলাচলে। মানে শক্তিনাথ আর ক্যারলকে নস্যাৎ করলে একে তো মাসোহারা ঘ্যাচাং ফু হবে, সঙ্গে ফাউ হিসেবে এলেবেলে এসে আচ্ছাসে রন্টিপাগলাদের খুঁজবে। যাকে বলে প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিন। কাজেই এই অস্তিত্ব সংকট থেকে ও'রম একটু-আধটু হয়, বুইলেন কি না। কিন্তুক আপনি আবার কবে থেকে আমাকে বাবু বলা শুরু করলেন? চুক্তি তো এটাই ছিল যে আমি জনাব বলব আপনাকে, কিন্তু আপনি আমাকে বাবু বলতে পারবেন না। অঙ্কের জাহাজরা আমার মতো আদার ব্যাপারিদের বাবু বলে বুঝি? আপনিও যেমন!
  • dc | 122.178.16.164 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৫৮502016
  • এলেবেলে। ভুল করে বাবু লিখে ফেলেছি, সরি চাইছি :-)
  • সম্বিৎ | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৩০502020
  • তো এখনও অব্দি "এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে" গান সম্বন্ধে  কী দেখা যাচ্ছে?

    তিনজন মান্য লালন-গবেষক এই গানটা তাঁদের লালন-সংকলনে (২০১০ সাল অব্দি) স্থান দেননি। ক্যারল বা শক্তিমান এ সম্বন্ধে কিছু বলেছেন বলেও জানা যাচ্ছে না। আবুল আহসান বলেছেন এটি লালনগীতি নয়, কিন্তু বিশেষ কোন যুক্তি দেননি। আর বলেছেন আরেক শ্রদ্ধেয় লেখক সুধীর চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন কেন এই গান লালনগীতি হতে পারেনা। কিন্তু সেই যুক্তিগুলো ধোপে টিঁকছে না।
     
    অন্যদিকে আরও কিছু লালন-সংগ্রহে গানটা লালনগীতি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। অনেক মান্য লালন-গায়ক গানটা লালনগীতি হিসেবে গেয়ে থাকেন। যুগ যুগ ধরে দেখে এসেছি মান্যতা রচনা প্রতিষ্ঠিত রচনাকারের নাম দিয়ে চালনো হয়। এ গান সেরকম হতে পারে। আমি এখনও অব্দি যা দেখেছি, সেই মতেই ভরসা রাখছি।
     
    এখানে কটা ব্যক্তিগত কথা বলে নিই। এই আলোচনা খুবই মনোজ্ঞ হতে পারত। যুক্তিতর্ক দিয়ে কাটাছেঁড়া করে বৌদ্ধিক আদানপ্রদান। সে না হয়ে শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল বাক্যস্ফোট এবং ব্যক্তি-আক্রমণ। তবে এ ব্যাপারে অন্য কারুর কিছু করার নেই। যার যেরকম রুচি। তবে আগেও যা বলেছি, আবার বলি, এলেবেলে নামক ব্যক্তিটির সঙ্গে আমি কোনরকম এনগেজমেন্টে যাব না, কারণ তাঁকে আমি ইন্টালেকচুয়ালি ডিজঅনেস্ট র‍্যাবেল রাউজার মনে করি।
  • এলেবেলে | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৪১502022
  • যিনি তিনদিন আগেও গোপনে ঋত্বিক ছাড়ানোর নিদান চেয়েছেন এবং সাতদিন আগে তার থেকেই ঋত্বিকের বাণিজ্যসফল ছবির তালিকা চান, তার থেকে ইন্টেলেকচুয়াল ডিজঅনেস্ট উন্নাসিক আর কে হতে পারেন? যে নেড়ুখোকন সুনীতি চাটুজ্যের নাতি হয়েও ক.বি-র প্রকাশনা সম্পর্কে নিরেট অজ্ঞ, তার সঙ্গে যে আরেক নেড়ুখোকনের মোলাকাত হবে - এটাও পূর্বনির্ধারিত। সর্বোপরি গান্ধী নিয়ে তীব্র  ব্যারাকিং এবং রামকেষ্ট ভটচাজ পুঁজি সম্বল করে চরম হ্যাটা প্রদর্শন এখনও স্মৃতিতে অমলিন আছে। আছে সেন্টার স্টেজের খোঁচাও। সঙ্গে অন্যকে ভার্বাল ডায়েরিয়া বলাটা ফাউ। কাজেই ওসব ফুটোকড়ি উন্নাসিকদের আমার পক্ষে পূর্ণকুম্ভ মনে করার কোনও চান্সই নেই। ক্যারলের খাতা বা ডায়েরির সঙ্গে আবুলের সংকলনের পাঠভেদ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পিয়ার-রিভিউড গবেষণার হাল। সেই নিয়ে কেউ ধেইনেত্য করতেই পারেন, সে নাচে অংশ নিতে আমার বয়েই গেছে।
  • এলেবেলে | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৪৬502023
  • আর 'বাক্যস্ফোট এবং ব্যক্তি-আক্রমণ' অনেক আগে থেকেই খোদ থ্রেড স্টার্টার শুরু করেছেন। ইন্টেলেকচুয়াল ডিজঅনেস্টির আরেকটি উদাহরণ। যেমন নির্মলা সীতারামণের অঙ্কের ভুল দেখানোর পরে বিশাল বাকতেল্লা এবং জঁ দ্রেজের উল্লেখ করা মাত্র টুক করে লুকিয়ে পড়াও। মশারি করে চালুনির বিচার! আর কে এনগেজ হতে চাইছে!!!
  • এলেবেলে | 2402:3a80:1163:400:dffd:141b:9ef7:6c5d | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৫৮502024
  • বোঝাই যাচ্ছে, তির একেবারে মোক্ষম জায়গায় বিঁধেছে!
  • সত্যিই তো | 2a06:1700:0:12::2 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৪৭502029
  • এনগেজ হতে চাইলে কি আর কেউ পরপর পোস্টের হ্যাটট্রিক করে?
    কত রঙ্গ দেখালি পদি অম্বলে দিলি আদা।
  • অ এলেবেলেবাউ | 216.245.192.66 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৫০502030
  • আপনাগো গেরামে শ্যাল আচে?
  • এলেবেলে | 2402:3a80:1162:ebd0:4fdf:4a05:477e:3a63 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৩৩502031
  • এবারে ফের মাঠে নামবে মাসোহারা পাওয়ার দল। সে ইঙ্গিত কাল রাতে দেওয়া হয়েছে। প্রভু আশ্বাস দিয়েছেন। এভাবে মুষড়ে পড়লে চলবে না। আমি আছি, কাজেই তোমরা তোমাদের কাজে লেগে পড়ো।
  • @সম্বিৎ | 2a03:e600:100::31 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৩৬502032
  • এলেবেলের সমস্যাটা আসলে আমাদের শিক্ষাপদ্ধতির সমস্যা। এখানে ছাত্রছাত্রীরা মাস্টারের কথাকে আপ্তবাক্য বলে মানে। দেখেটেখে মাস্টারও একসময় নিজের বাক্যিকে আপ্তবাক্য ঠাউরাতে থাকে। পড়াশোনা আর বোধবুদ্ধির অভাব বিষয়টাকে আরও প্রকট করে তোলে। ইন্টেলেকচুয়াল ডিজঅনেস্টি হয়ত না, এলেবেলে আসলেই বন্ধুর কাছে গালাগাল শুনে সুধীর চক্রবর্তীকে খাতাচোর মনে করে, আবার সুধীর চক্রবর্তীর লেখা পড়ে কোন লালনগান ফেক সিদ্ধান্ত করে, দোষের মধ্যে কোনটাই খতিয়ে দেখে না। সুকি এবং বিপ্লব যখন সুধীরবাবুর যুক্তিগুলোকে খণ্ডন করে সেটা আসল কথা না, কথা হচ্ছে এলেবেলে কখনওই যুক্তিগুলোকে প্রশ্ন করেনি (যেমন করেনি বন্ধুর গালাগালকে), সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়েছে।   
  • এলেবেলে | 2402:3a80:1162:ebd0:4fdf:4a05:477e:3a63 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৪৪502033
  • এতই যখন পাণ্ডিত্য, তাহলে সেই কাটাকুটির খেলায় আপনি অংশ নিলেন না কেন? পণ্ডিতরা তো এমন দাবিও করলেন আবুলকে ফেক গানের লিস্ট দিতে হবে! এর থেকে হাস্যকর প্রস্তাব কী হতে পারে। সবচেয়ে প্রামাণ্য রেফারেন্স দিয়েছি। তারপরে সুধীর চক্রবর্তীর যুক্তি নিয়ে এত কথা উঠছে কেন? তিনি গানটিকে ফেক বলেছেন কিনা এটাই মূল ব্যাপার। হঠাৎ ক্যারল সলোমন আসে কেন? মানে তুমি শুধু জানবে তা তো হবে না, আমি তো গানের বিশাল সমঝদার। আমাকে তো ভাবটা রাখতে হবে। কিন্তু এমনই ভাব যে ১৯৫৮ সালে যে গান লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, তাকে আমি ২০১০ সালে আবিষ্কার করি!!!
  • এলেবেলে | 2402:3a80:1162:ebd0:4fdf:4a05:477e:3a63 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৫২502035
  • আর আবুল গানটা নিয়ে কিছু লেখেননি মানে? চোখে নেহাত ছানি না পড়লে গানটিকে নিয়ে যে তীব্র ব্যঙ্গ আবুল করেছেন তা চোখে পড়ার কথা। যুক্তি হিসেবে ওটাই যথেষ্ট। আসলে মূল ব্যাপারটা হল আমাদের কাছে আবুল নেই, তোমার কাছে কেন থাকবে!!! তাই একমাত্র ঢাল হচ্ছে ট্রোল এবং তাতে উস্কানি দেওয়া।
  • উফ | 176.126.253.190 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৫৮502036
  • কি ন্যাংড়ার নাচন! পেচুনে পুরো লঙ্কাবাটা ঘষে দিইচে গো!
  • এলেবেলে | 2402:3a80:1163:7c80:299c:806a:1a2d:95b1 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:০১502037
  • অনুস্বরটা বোধহয় এক্সট্রা পড়ে গেছে! এডিট করে দিন!!
  • আবুল বাবুল কাবুল | 104.148.30.74 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:২০502038
  • "সুধীর চক্রবর্তীর যুক্তি নিয়ে এত কথা উঠছে কেন? তিনি গানটিকে ফেক বলেছেন কিনা এটাই মূল ব্যাপার।"
    এই বুদ্ধি নিয়ে এলবেল ম্যাস্টরি করে। আবার বাংলাবাজারে মস্ত ল্যাখক হইচে।
     
    যাকগা, ন্যাড়াবাউ দিসেম্বরের মাসোহারা এট্টু বাড়িয়ে দেবেন। দশ ডলার বেশি দিলেই চলবা। কেষ্টমাসে মাইয়াডারে নুতন জামা কিনি দিতি হবা।
     
    এলবেলকে আইটিসেলের বাবুরা কত ডিএ দিচ্চে গো?
  • guru | 176.10.99.200 | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:৪২502039
  • "যুক্তি নিয়ে এত কথা উঠছে কেন?" এলেবেলের এই জায়গাটাই গুরুদের বাই ইন পাচ্ছে না, তাতে এলেবেলে চটে যাচ্ছে। ঋত্বিকের ছবির ব্যবসার হিসেবেও কতকগুলো ফাঁকা ডেট দিয়ে আশা করেছিল সবাই ধন্য ধন্য করবে, হয়নি। বিজেপি বিধানসভায় হইহই করে জিতবে বলে জানিয়েছিল যুক্তিফুক্তির ধার না ধেরে, তাতেও লোকে আহাবাহা করেনি। একটা এক্সপেক্টেশন মিসম্যাচ হচ্ছে দুদিকে। তায় আবার এলের কাছে আবদেল মান্নান নেই, বিপ্লবের কাছে কেন আছে?
  • বিপ্লব রহমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:৩৯502042
  • দূর পাহাড়ে নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম। তাই একটু দেরীতে বলছি : 
     
    @ সম্বিৎ, 
     
    আলোচনাটিকে সার - সংক্ষেপে উপসংহারে উপস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানবেন। 
     
    শেষ বাক্যে প্রচন্ড একমত। 
     
    কাজেই চারি চ্ন্দ্র থেকে সাঁই পর্যন্ত অপ্রসঙ্গসহ লালন মারানোর তালগাছটি উহারই থাক। রেফারেন্সের রম্য নাটক  উপভোগ্য। 
     
    জ্জয় গুরু! 
     
     
     
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৫২502077
  • যদিও কমেন্ট থ্রেড কাদা ছোড়াছুড়ি (চন্দ্রবিন্দু পড়ছে না, দুঃখিত)তে পরিণত হয়েছে, তবুও একটা ব্যাপার নিয়ে জানতে আগ্রহী। লালনের ছবিটা হয়তো সঠিক নাও হতে পারে এই ব্যাপারে আরো তথ্য চাইছি।
    দুপক্ষ কেই বলছি, ব্যক্তি আক্রমণ ও উস্কানি মূলক কথা বার্তা বাদ দিলে টই টা আরো মনোগ্রাহী হতে পারত।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:b40f:b06c:fe21:5e1c | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:০০502080
  • 'ব্যক্তি আক্রমণ ও উস্কানি মূলক কথা বার্তা বাদ দিলে টই টা আরো মনোগ্রাহী হতে পারত' - সার কথা 
  • সুকি | 49.207.192.33 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০১502092
  • ছবিটি নিয়ে অনেকের আগ্রহ দেখে
     
  • সুকি | 49.207.192.33 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০১502093
  • সুকি | 49.207.192.33 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০২502094
  • সুকি | 49.207.192.33 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০৩502095
  • সুকি | 49.207.192.33 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:০৪502096
  • আর এই যে নন্দলাল বাবুর আঁকা লালন
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন