ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লালন সম্পর্কে দুটো একটা কথা যা আমি জানি...

    বিপ্লব রহমান লেখকের গ্রাহক হোন
    ০১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৩১৫৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)




  • মরমী আত্মধিক সাধক লালন ফকিরকে তার অনুসারীরা সাঁই হিসেবে ডাকেন, তিনি মোটেই মুঘল পদবী ধারী "শাহ্" নন! 
     
    অজ্ঞতা বশত: এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক "লালন শাহ্ (?) সেতু" বানিয়ে অজ্ঞতাটিকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। 
     
    আবার কিছু বাউল নিজেরাই উদাসীনতায় নামের ক্ষেত্রে "শাহ্" কথাটি ব্যবহার করেন, যেমন আরেক বিখ্যাত বাউল "শাহ্ আব্দুল করিম"। কিন্তু বংশ লতিকা খুঁজে তার সাথে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক বর্গের কোনো যোগসাজস না পাওয়ারই কথা। 
     
    "সাঁই" কথাটির ভাবার্থ হচ্ছে -- বাবা, কর্তা, গুরু, পথ প্রদর্শক ইত্যাদি। 
     
    লালন ফকির ছিলেন একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক। তার গানের মধ্যে সন্ধান পাওয়া যায় এক বিরল মানব দর্শনের।



    লালন ফকিরকে "বাউল-সম্রাট" বা "বাউল গুরু" হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তার গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি প্রায় দু হাজার গান রচনা করেছিলেন বলে লালন গবেষকরা বলেন।
     
    তবে স্বাধীন বাংলাদেশে আটের দশকে ফরিদা পারভীন বেতারে লালন গীতি নিয়মিত পরিবেশন করে সুধী সমাজে নতুন করে লালনকে প্রতিষ্ঠা করেন। 
     
    তিনি সাঁইজীর অনুসারী কুষ্টিয়ার বাউল মোকসেদ আলী সাঁইয়ের কাছে দীর্ঘদিন ধরে লালনের দর্শন জেনেছেন ও গান শিখেছেন। 
     
    ফরিদা পারভীন জাদুকরী কোকিল কণ্ঠে ক্রমে সারা বিশ্বে লালনের গান নিয়ে যান। নতুন করে এই অহিংস কবি, গীতিকার ও দার্শনিকের চিন্তা জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়। বাউল ফকিররা বাদেও দুই বাংলার মধ্যবিত্ত সমাজে "লালন গীতি" চর্চা ব্যাপকভাবে শুরু হয়। 
     
    ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা একটি "শ্রোতা জরিপ" এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো - সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০ জনের জীবন নিয়ে বিবিসি বাংলায় বেতার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ২০০৪-এর ২৬ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
     
    বিবিসি বাংলার সেই জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ ২০ জন বাঙালির তালিকায় ১২ তম স্থানে আসেন সাধক লালন ফকির ।
     


    এর আগে লালন সাঁই অবশ্য তার গভীর দর্শন দিয়ে জীবনদশাতেই ঠাকুর পরিবার ও সে সময়ের প্রগতিশীল সুধী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন। 
     
    লালনের জীবদ্দশায় তার একমাত্র স্কেচটি তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তার বজরায় বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যেখানে তিনি ক্যাপশন লিখেছেন, "লালন ফকির, শিলাইদহ"।
     
    ছবিটিতে খোলা চুল-দাড়িতে চেয়ারে ঝুঁকে বসা লালনকে দেখা যাচ্ছে এক পাশ থেকে, বাম হাতে দোতরা ধরা; ধুতি বা লুঙ্গি পাঞ্জাবী পরা লালন ডান পায়ের ওপর বাম পা ভাঁজ করে বসেছেন।
     
    জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে জমিদারির কাজে এলে নিয়মিত 
    লালনের কাছে মানবতাবাদী ধর্মকথা ও তার গান শুনতেন। নিরক্ষর এই মহাপুরুষের গানে বরাবরই সাধারণ পল্লী জীবনকে আশ্রয় করে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা প্রকাশ পেয়েছে। 
     
    খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে লালন ও অন্যান্য বাউল গানে আকৃষ্ট হন। তার অনেক গানে এর প্রভাবও পড়েছে। 
     
    রবীন্দ্রনাথ নিজে তার বাউল প্রভাবিত গানগুলোকে "রবীন্দ্র-বাউলের গান" হিসেবে অভিহিত করেন। এ ধরনের অসংখ্য গান আছে। যেমন —
    ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’; ‘তুমি যে সুরের আগুন জ্বালিয়ে দিলে’; ‘সে দিনে আপদ আমার যাবে কেটে’; ‘সবাই যারে সব দিতেছে’; ‘রইল বলে রাখলে কারে’; ‘ফিরে চল মাটির টানে’; ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়’; ‘কান্না হাসির দোল দোলানো’; ‘আমি তারেই খুঁজে বেড়াই’; ‘ও আমার মন যখন’; ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ’; ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’; ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক’; ‘যে তোরে পাগল বলে’; ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’; ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’; ‘ও আমার দেশের মাটি’; ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন হবেই হবে’; ‘মালা হতে খসে পড়া’; ‘আমি যখন ছিলাম অন্ধ’; ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’; ‘ডাকব না ডাকব না’ ধরনের অনেক গান। 

    "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি", বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতটিও বাউলসংগীত, যা "আমি কোথায় পাব তারে" গানটি দ্বারা প্রভাবিত।



    লালন ফকিরের  (১৭ অক্টোবর ১৭৭২ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০) সঠিক জন্ম ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কোন কোন লালন গবেষক মনে করেন  বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে লালন জন্মগ্রহণ করেছিলেন সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে। বাবা মাধব কর ও মা পদ্মাবতীর একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।
     
    কিন্তু এ বিষয়ে দ্বিমতও আছে। কেউ বলেন তার জন্ম ঝিনাইদহে, কেউ বলেন যশোরে।
     
    কথিত আছে শৈশবে পিতৃবিয়োগ হওয়ায় অল্প বয়সেই তাঁর ওপর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ তার হয়নি।
     
    কোন কোন গবেষকের বিবরণ অনুযায়ী প্রতিবেশী বাউলদাস ও অন্যান্য সঙ্গীদের নিয়ে "পুণ্যস্নান" বা তীর্থভ্রমণ সেরে ঘরে ফেরার পথে লালন বসন্তরোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন।
     
    রোগ বৃদ্ধি পেলে অচৈতন্য লালনকে মৃত মনে করে সঙ্গীরা কোনরকমে তার মুখাগ্নি করে তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এক মুসলমান রমণী নদীকূল থেকে লালনের সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার করে সেবাশুশ্রূষা করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন। কিন্তু তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
     
    এই গবেষণার তথ্যমতে, এরপর বাড়ি ফিরে গেলে সমাজপতি ও আত্মীয়স্বজন মুসলমানের গৃহে অন্নজল গ্রহণ করার অপরাধে তাকে সমাজে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যথিত লালন চিরতরে গৃহত্যাগ করেন।
     
    বলা হয় এই ঘটনা সমাজ-সংসার, শাস্ত্র আচার এবং জাতধর্ম সম্পর্কে তাঁকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এবং এখান থেকেই হয় তার নতুন জন্ম।
     
    বাউল গুরু সিরাজ সাঁইয়ের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করে তার প্রকৃত সাধক জীবনের সূচনা হয়।
     
    "সিরাজ সাঁই কয় কোথায় রে মন, সোনার খাট পালঙ্ক এমন? /লালন কহে সব অকারণ, সার হবে মাটির বিছানা"...
     
    লালনের গানে বার বার ঘুরে ফিরে তার ভাবগুরু "সিরাজ সাঁই" এর কথা এসেছে, যদিও গবেষকরা তার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান, সিরাজ সাঁই এর ঐতিহাসিক সূত্র বা অন্য কোনো লোকগীতিতে তার উল্লেখ নাই।
     
    কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়ায় নিজের আখড়ায় ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর, বাংলা ১২৯৭ সালের পয়লা কার্তিক ১১৬ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন মহাত্মা ফকির লালন সাঁই।
     


    এ কথা বলে নেওয়া ভাল, বাউল একটি গুপ্ত সাধনার ধর্ম, বৈষ্ণব সহজিয়া, বৌদ্ধ সহজিয়া ও সুফিবাদের সংমিশ্রণে মানবগুরুর ভজনা, দেহ-কেন্দ্রিক সাধনাই লালন প্রদর্শিত বাউল ধর্মের মূলমন্ত্র, দেহতত্ত্ব, "যাহা নাই দেহ ভান্ডে, তাহা নাই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে" ইত্যাদি। গুপ্ত সাধনার ধর্ম বলেই বাউলরা অনেক কথা ধাঁধায় গানে গানে প্রচার করেন। 
     
    যেমন, লালন সাঁই বলেন, "চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করবো কী?/ ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তোমরা তারে বলবে কী?" 
     
    গান হচ্ছে লালনের বাউল ধর্মের কালাম বা বাণী মাত্র, "জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন" যার আধ্যাত্মিক লক্ষ্য। লালন সাঁই যেমন তার গানে বলেন, "মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে?"
     


    লালন সাঁই তার গানে বলেন, "যেদিন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান / জাতি-গোত্র নাহি রবে / এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে?"
     
    লালন ফকিরের যখন আর্বিভাব ঘটেছিল সেই সময়টা বাঙালির জীবনের এক ক্রান্তিকাল। পলাশীর যুদ্ধে স্বাধীনতার সূর্য তখন অস্তমিত। গ্রামীণ সমাজ নানাভাবে বিভক্ত। ধর্ম জাত-পাত ইত্যাদি নিয়ে সমাজে ছিল বিভিন্ন সমস্যা।
     
    লালন এই জাত-পাত ও ধর্ম বর্ণ-বিভেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি জাত ধর্ম বর্ণ গোত্রহীন সমাজ গড়ে তুলতে। সবকিছুর ওপরে তিনি স্থান দিয়েছিলেন মানবতাবাদকে।
     
    তিনি শুধু জাত-পাতের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন না, লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সামাজিক অনাচার, বিভেদ বৈষম্য এবং সামন্ত শোষণের বিরুদ্ধেও তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।
     
    "শিলাইদহের ঠাকুর জমিদাররা যখন প্রজাপীড়ন আরম্ভ করলেন তখন কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ তার 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকায় ঠাকুর জমিদারদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। এতে ঠাকুর জমিদাররা কাঙাল হরিনাথকে শায়েস্তা করার জন্য গুণ্ডা নিয়োগ করেন। লালন ফকির তখন তাঁর এই বন্ধুকে রক্ষা করার জন্য তাঁর শিষ্যদের নিয়ে জমিদারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।"
     
    সে সময় লালনের গানের কোনো লিখিত রূপ ছিল না। শুধু মাত্র মুখে মুখে, গানে গানে বাউল ফকিররা লালনের গান অবিভক্ত ভারতে ছড়িয়ে দেন। 
     
    দেড়শ বছর পরে আজও প্রতি দোল পূর্ণিমায় লালনের জন্ম উৎসব তিথিতে দুই বাংলা থেকে হাজার হাজার বাউল ফকির, ভক্ত কুষ্টিয়ায় মাজারে জড়ো হন, তারা দিন রাত গান গানে স্মরণ করেন সাঁইজীকে। 



    এইসব ইতিহাস পরম্পরা ও মূল ভাব দর্শন বাদ দিয়ে শুধু মাত্র গান দিয়ে লালন সাঁইকে 
    তথা বাউল কথাকে বিচার করার চেষ্টা গুরুতর অজ্ঞতার নামান্তর। 
     
    বলা ভাল, রণজিৎ কুমার লালনকে নিয়ে "সেনবাউল রাজারাম" নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন। পরেশ ভট্টাচার্য রচনা করেন "বাউল রাজার প্রেম" নামে একটি উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস "গোরা" শুরু হয়েছে লালনের গান "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়" দিয়ে।
     
    এছাড়া বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনী নিয়ে রচনা করেন "মনের মানুষ" (২০০৮) উপন্যাস। এই উপন্যাসে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই লালনকে হিন্দু কায়স্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছ, নাম দেয়া হয়েছে "লালন চন্দ্র কর(!)"। এটি মোটেই লালনের আত্মজীবনী নয়, ইতিহাস তো নয়ই, ঐতিহাসিক চরিত্র লালন ফকিরকে উপজীব্য লেখা এটি শেষ পর্যন্ত উপন্যাসই। 
     
    "মনের মানুষ" (২০১০) সিনেমাটিও কাল্পনিক। বরং সিনেমায় বাউল জীবনাচারকে আরও বেশ কিছুটা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 
     
    আর বাংলা ব্যান্ড সংগীতে বাউল গান নিয়ে পশ্চিমা বাদ্য যন্ত্রে ফিউশন ইত্যাদি তৈরি, মানবতার দর্শনটির সর্বশেষ বিকৃত ও কর্পোরেট রূপ। 
     
    *সংযুক্ত : সব সৃষ্টি করলো যে জন, তারে সৃষ্টি কে করেছে? ... রব ফকিরের লালন গীতি
     
     

    _______
    তথ্য সূত্র : অখন্ড লালন সংগীত, আবদেল মান্নান, বিবিসি বাংলা, উইকিপিডিয়া, অন্যান্য। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এলেবেলে | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:০১501689
  • নাঃ, এবারে লগিন করতেই হল কারণ বিষয়টা মাত্রা ছাড়িয়েছে। এক এক করে আসি।
     
    • m | 2a0f:9100:110:a::92 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৪৫501678
    • এলেবেলে আগে রেফারেন্স দিতে গিয়ে গুরুতে চ্যালেঞ্জড হয়ে শেষ অবধি সামলাতে পারেননি।
     
    এলেবেলে যে রেফারেন্স দেয়, তা সামলানোর ক্ষমতা রাখে বলেই দেয়। কাজেই ওটা আপনার কষ্টকল্পনা। ঋত্বিকের কোন ছবি হলে কতদিন চলেছিল, তার সর্বাধিক প্রামাণ্য রেফারেন্সটি সে এখানেই হাজির করেছিল। ভার্বাটিম। তাই রেফারেন্সটির দুটি জায়গায় ? থাকায় সে কোনও তঞ্চকতার আশ্রয় নেয়নি। যদিও সে জানত সেখানে কাল্পনিক একটি তারিখ গুঁজে দিলেও বাকিদের সেটা ধরার মুরোদ হবে না। কিন্তু গুরুর প্রবল প্রাজ্ঞ, জ্ঞাননিধি একটি 'সম্ভবত' ও একটি 'হয়তো' গুঁজে সত্যজিতের অপরাজিত বাদে সমস্ত ছবিই তুমুল বাণিজ্যসফল বলেন। এবং তার সমর্থনে আজ অবধি কোনও রেফারেন্স হাজির করা যায়নি। আমার দৃঢ় ধারণা, আমার ইহজীবনে সে রেফারেন্স দেখে যেতে পারব না (এক যদি না আমি দিই)। কিন্তু তাঁর বচন যেহেতু বেদবাক্য সমান কিংবা তা আপ্তবচনের সমতুল, তাই সেসব নিয়ে কেউ পোস্নো-টোস্নো করে-টরে নি। এই হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা।
     
    • lcm | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৫৭501669
    •  
      কিন্তু শেষে এলেবেলে বলছেন, ওনার কাছে রেফারেন্স আছে যে এটি লালনের গান নয়, কিন্তু উনি সেটি উনি দেখাবেন না, আগে বিপ্লবকে মানতে হবে যে ওটি লালনের নয়, এবং চারিদিকে সেটি প্রচার করতে হবে, তারপরে এলেবেলে সেই রেফারেন্স দিলেও দিতে পারেন। 

      প্রমাণ জমা দেওয়ার আগেই বিচারের রায় বেরোনোর দাবী - হোয়াই ইজ দিস বিকস, হোয়াই, হোয়াই  :-)
     
    মোটা হরফের শব্দগুলো আপনি আমার মুখে বসিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন, কিন্তু এই কথাগুলো আমার নয়, আপনার। কাজেই এ সম্পর্কে কোনও কথা বলার প্রয়োজন দেখছি না। দ্বিতীয়ত, বাউল বা লালন সম্পর্কে সামান্য পড়াশোনা থাকলেই বুঝতেন, আমার বক্তব্যেই অবলিকভাবে রেফারেন্সটা দেওয়া ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্যি, গুরুতে গান নিয়ে অপরিসীম জ্ঞানের ভাণ্ডারিও সেটা ধরতে পারেন্নিকো। তিনি তাই শক্তিমান ঝা-এর উল্লেখ করেছেন।
     
    বিপ্লব রহমানকে লেখা আমার প্রথম মন্তব্যে লেখাটিকে শিশুতোষ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে পরিপূর্ণ বললেও লেখককে একটি জায়গাতেও ব্যক্তি আক্রমণ করিনি। এমনকি তাঁকে লেখা আমার দ্বিতীয় মন্তব্যটিতেও তাঁকে যথোচিত সম্মান জানিয়ে তিনি যে গুরুর বাংলাদেশের মানুষদের লেখালেখির অন্যতম প্রতিনিধি, সে কথাও বলতে দ্বিধা করিনি। কিন্তু একটি প্রকাশিত লেখার প্রত্যাশিত সমালোচনায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লববাবু আমাকে যথাক্রমে এই বিশেষণগুলিতে ভূষিত করলেন --- যুক্তিতর্কের চেয়ে এলেবেলে বক্তৃতা, খেরো খাতায় গভীর জ্ঞানতত্ত্ব খুঁজতে আসা, বিদ্যাধরী বাহাদুরী, লেজে গোবরে ছড়ানোর মাত্রা, এঁড়ে সুলভ লম্ফঝম্ফ, নামকরনের স্বার্থকতা (বানান অপরিবর্তিত), ফের ব্যাক্তিগত আক্রমণ ও গালাগাল, ইতরপনা, নিছকই নাদান প্রশ্ন এবং রেসিডেন্স ভাঁড়। তওবা তওবা!
     
    তো আপনার পাটকেলের বদলে উপযুক্ত রেফারেন্সের একটা আস্ত থানইট ছুঁড়লাম। লক্ষ্যভ্রষ্ট তো হবেই না বরং জোঁকের মুখে নুন ফেলার জন্য যথেষ্ট হবে।
     
     
    এখানে যে কেউ সুধীর চক্রবর্তীর বাউল ফকির কথা পড়েননি বা পড়লেও এই বিষয়টা মনে রাখতে পারেননি, সেটা জানা ছিল না। নাদানরা সুধীর চক্রবর্তী, বাউল ফকির কথা, কলকাতা, আনন্দ পাবলিশার্স, জুলাই ২০১২, পৃ. ২৩-২৪ পড়ে নেবেন। অবিশ্যি বিপ্লববাবু যে সুধীর চক্রবর্তীর চার কাঠি ওপরে, সেটা আগেই বুঝে গেছি। তাই জ্যোতি ঠাকুরের 'লালন স্কেচ'-এর মিথটা আর আছড়ে ভাঙলাম না। বেকার উলুবনে মুক্তো ছড়িয়ে কী লাভ?
     
    খোদা হাফিজ। 

     
     
  • এলেবেলে | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:১৪501690
  • মান্যবর বিপ্লব রহমান, একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে নেবেন তো সেখানে 'অক্ষমের শেষ হাতিয়ারই তাই, হয় গালাগাল, না হয় ঘেউ ঘেউ!' শব্দগুলো ফুটে উঠছে কি না!!!
  • সেই তো নথ খসালি | 43.243.207.145 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:২৪501709
  • মহামান্য অবশেষে রেফারেন্স দিয়ে সবাইকে ধন্য করলেন। উলুবনে যখন এত সার্কাসই দেখালেন, তখন শেষবেলায় জ্যোতি ঠাকুরের লালন স্কেচের মিথটা না হয় আছড়েই ভাঙুন, এইটুকু অন্তত কৃপা করুন।  

     
  • :) | 2a09:2dc0:0:18:: | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:২৭501710
  • সেই খাতাচোর সুধীর চক্রবর্তী। এলেবেলে এখন তার থেকে টুকছে। সুধীর চক্রবর্তী খাঁচার ভিতর অচিন পাখি শোনেননি? আচ্ছা তা নয় জানার উপায় নেই, এলেবেলে শুনেছে? লালন নিজেকে ফকির বলেনি?
  • টুকলির টুকলি | 185.65.205.10 | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৫৭501711
  • লে হালুয়া! এই এলেবেলেই তো সুধীর চক্রবর্তী মারা যাবার পর তাকে টুকলিবাজ লেখক বলে কি কেচ্ছাই না করেছিল, ভদ্রলোক মারা গেছে বলে কটা দিন রেহাই দেয় নি। আর এখন তার লেখা থেকেই আবার কোট করছে। যখন যেমন সুবিধে হয়, আজ কাউকে টুকলিবাজ বলবে, কাল আবার তার লেখা থেকেই রেফারেন্স দেবে। ফালতু পাবলিক। 
  • dc | 122.164.217.47 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:১৩501713
  • এলেবেলে নিজের বক্তব্যের পক্ষে রেফারেন্স দিয়েছেন। এবার সেই রেফারেন্সের ভ্যালিডিটি নিয়ে আলোচনা করলেই তো হয়! যদি মনে হয় রেফারেন্সটা সঠিক, তাহলে এলেবেলের বক্তব্যও সঠিক বলে মেনে নিতে হবে। সেটা না করে এরকম পোস্ট করার কি দরকার? 
  • sunday | 2a0b:f4c2:1::1 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:১৪501714
  • দেখুন, এলেবেলে কে কেচ্ছা নিয়ে কিছু বলবেন না, ওটা ওনার সেকেন্ড নেচার। বিদ্যাসাগর হোক বা ঋত্বিক ঘটক - ওনার কেচ্ছা প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
    অধুনা বাংলা কেচ্ছাসাহিত্যের সম্রাট রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় কে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখেন দেবোপম চক্রবর্তী ওরফে এলেবেলে।
  • নিননিছা | 2a02:898:218::2 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:২৪501715
  • আবে এই সানডে, কে বে তুই। নামটাও তো ঠিকঠাক জানিস না, দেবোপম না, দেবোত্তম। দেবোত্তম চক্রবর্তী। নামটা লিখে রাখ। বাংলা সাহিত্যের দুনিয়ায় একদিন ইতিহাস হবে এই নাম।

    গুরু,
    তুমি এই নাদানদের কথায় পাত্তা দিও না। লিখে যাও গুরু। 
  • এলেবেলে | 202.142.119.109 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৪৬501716
  • ডিসিজনাব, বিন্দাস থাকুন। এরা হচ্ছে গুরুর বিখ্যাত বুকাশু*র দল। যাদের বিদ্যার ভাঁড়ে মা ভবানী, তাই ঝিনুক-চামচ করে খাইয়ে না দিলে এরা দুধুটুকুও খেতে পারে না। আম ও ছালা দুই-ই যাওয়ায় যেখানে আচ্ছা আচ্ছা মিঞা তানসেন মুখে আট ঘন্টা হল সযত্নে কুলুপ এঁটে রেখেছে, সেখানে তাঁদের প্রবল অনুরাগী এই হনুদের দাঁতখিঁচুনি আমি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করি। একটা রেফারেন্সের থানইটে কতজন ঘায়েল হয়েছেন ও হবেন, সেটা কেবল খ্যাল রাখবেন। এই বালেরা আবার লালন মারায়! 
  • এলেবেলে | 202.142.119.109 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৫২501717
  • এই সুযোগে আরও জানান যাক, বাংলাদেশের বিখ্যাত লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী লালনের সমগ্র গানের সংকলন প্রকাশ করেছেন। সেখানে 'খাঁচার ভেতর অচিন পাখি' পদটি দেখে নেওয়া যেতে পারে। অবিশ্যি যাঁরা গান পড়ে নয়, কেবল শুনে সেইকি নিয্যস লালন গীতি বলার যুগপৎ স্পর্ধা ও মূর্খতা বজায় রাখেন - সেই তালিকাটিও কতটা দীর্ঘায়িত হয় সেটাও নজর করবেন ডিসিজনাব।
  • syandi | 45.250.246.185 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৩১501718
  • এখানে মারপিট শুরু হয়েছে বলে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে এখানে sunday নামে যিনি ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:১৪-এ পোষ্ট করেছেন তিনি আমি নই। প্রসঙ্গত আমি syandi নিকে লিখে থাকি।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:992b:6ff:3270:dbdd | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৫:৪৩501722
  • 'ইটস নট হোয়াট ইউ সে, বাট হাউ ইউ সে'
     
    বিপ্লব লালন কে  নিয়ে লিখেছেন,  এলেবেলে সে ​​​​​​​লেখার ​​​​​​​কিছু বক্তব্য  ​​​​​​​কাউন্টার ​​​​​​​করেছেন। ​​​​​​​সুন্দর, ​​​​​​​সুস্থ আদানপ্রদান ​​​​​​​হতেই ​​​​​​​পারত, ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​হল না  :-(
     
  • :|: | 174.251.169.106 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৫:৪৯501723
  • যাই বলুন প্রসিধ্য বানামটা প্রসিদ্ধতে অভ্যস্ত চোখে  একটু বেশীই লাগে। 
  • এলেবেলে জিন্দাবাদ | 81.17.18.62 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:৫৬501731
  • "এই বালেরা আবার লালন মারায়! "

    এলেবেলে গুরু, কি দিয়েচো গুরু! কাঁপিয়ে দিয়েচো। কোনো কতা হবে না । সক্কালবেলা উঠে তোমার এই ভাষা দেখে দিল খুশ হয়ে গেল।
    কিন্তু গুরু, তুমি আর একটু জোশ দিলে পারতে, এই একটু বাঞ্চোত বা চ দিয়ে কিছু দিলে পারতে, তুমি তো এসব ব্যাপারে ওস্তাদ।
    এই তুমি, দিলিপদা, কেষ্টোদা - তোমরা না থাকলে তো বাংলা সাহিত্তো, গান, সমোস্কিতি - কি যে হোতো । তোমরাই তো ধরে রেখেচো।
    বাঙালি হিসেবে তোমার জন্য গব্বো হয়।
  • বিপ্লব রহমান | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:৫৭501732
  •  
    "একটা রেফারেন্সের থানইটে কতজন ঘায়েল হয়েছেন ও হবেন, সেটা কেবল খ্যাল রাখবেন। এই বালেরা আবার লালন মারায়!" 
     
    "অবিশ্যি যাঁরা গান পড়ে নয়, কেবল শুনে সেইকি নিয্যস লালন গীতি বলার যুগপৎ স্পর্ধা ও মূর্খতা বজায় রাখেন -"
     
    থান ইট ও গুপ্ত কেশের কারবারি @এলেবেলে ভাই, 
     
    "যেদিন হিন্দু মুসলমান" লালন গীতি নয়, বক্তব্যের সমর্থনে প্রথমেই তথ্য সূত্র দিলে পানি বোধহয় এতদূর গড়াত না, কিন্তু কী আর করা, পানি ঘোলা করে খাওয়াই যার রীতি। 
     
    যা হোক, কথিত খাতাচোর (?) সুধীর চক্রবর্তী সঠিক হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট লালন গবেষক আবদেল মান্নান সম্পাদিত "অখন্ড লালন সংগীত" (রোদেলা প্রকাশনী, পরিমার্জিত তৃতীয় সংস্করণ, ২০১৩, পৃষ্ঠা ৭৬৭) সহ অন্যত্র গ্রন্থনায় যখন "অচিন পাখি" গানে লালন নিজেকে "ফকির" বলেই উল্লেখ করেছেন। 
     
     
    এছাড়া ফরিদা পারভীন (যিনি গুরু পরম্পরা মোকছেদ আলী সাঁই এবং তার মৃত্যুর পর বহু বছর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছে লালন সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেই এক আইকন হয়ে উঠেছেন) সহ আরো অর্ধ ডজন প্রখ্যাত গীতিকারের কণ্ঠেও "অচিন পাখি" গানে লালন নিজেকে "ফকির" বলে উল্লেখ করেছেন। 
     
     
    জ্বি, আপনার তাবৎ ফতোয়া উপেক্ষা ও বাড়া ভাতে ছাই দিয়েই চণ্ডাল "গান পড়ে শুধু নয়, শুনেও নির্যাসকে লালন গীতি" বলার ধৃষ্টতা রাখে, কারণ গুণীজনের কণ্ঠে যা মূলত শোনার ও অনুভবের বস্তু। 
     
    জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লালন স্কেচ নিয়ে "ইফ ও বাটের" কেচ্ছাও পানি ঘোলা করেই এই বনেই বলবেন, এ ও আশা রাখি। 
     
     
    এই খেরো খাতার চলতি নোট নিয়ে প্রথম দফায় উল্লেখ করা আপনার পাঁচটি অপ্রসঙ্গ বক্তৃতামালা না হয় এই বেলা তোলা রইলো। 
     
    এলাহী ভরসা। 
  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৩৪501737
  • সুধীর বাবু তাঁর মত প্রতিষ্ঠা করতে একটু উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন মনে হয়। নাহলে তাঁর জানার কথা, যে দাবী তিনি করেছেন, মানে, লালন আর কোন গানে ‘লালন ফকির’ লেখেন নি, এটা কিন্তু পুরোপুরি সত্যি নয়। কম লিখেছিলেন সেটা ঠিক, কিন্তু একেবারেই লেখেন নি সেটা ভুল  

     

    “—আর বেদ বেদান্ত পড়বে যত বাড়বে তত লক্ষণ

    আমি আমি কে বলে মন,

    যে জানে তার চরণ শরণ লেনা

    ফকির লালন বলে, বেদের গোলে হলাম চোখ থাকতে কানা”।

     

    এটা উল্লেখিত আছে বেশ কিছু বইতেই। সময়ের হিসাবে ধরলে – ১) শ্রীমতি সরলা দেবী, ‘ফকির লালন ও গগন’ ভারতী, ভাদ্র ১৩১২; ২) উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ‘বাংলার বাউল ও বাউল গান, কলকাতা ১৩৬৪

    এবার কেউ যদি বলেন এঁরা দুজনেও ছড়িয়েছিলেন, তাহলে আমার কিছু বলার নেই J

     

    “বাংলার বাউল ও বাউল গান” বইটিতে সংগ্রীহিত আছেঃ

     

    “--- বার মাস চব্বিশ পক্ষ, অধর ধরা তার সনে

    স্বর্গ-চন্দ্র দেহ-চন্দ্র হয়।

    তাতে ভিন্ন কিছু নয়;

    এ চাঁদ ধরিলে সে চাঁদ মিলে, ফকির লালন কয় নির্জনে”।

     

  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৩৮501738
  • সাঁই এর আলোচনাটা ঠিক ধরতে পারছি না – হয়ত আমার বোঝার ভুল এই ক্ষেত্রে। তবে আমার জানামতে লালন তো নিজেকে ‘সাঁই’ বলে উল্লেখ করেছেন কিছু গানে। একটা গান,

     

    – নিরপেক্ষ নহে আছে পক্ষ,

    বাদ-বাদী প্রতিবাদী আছে একসাথী

    আমি যাব বলে ডানি

    হাতে দেয় সে হানি,

    সিতু বলে, লালন সাঁই যদি দেয় উপাধি”।

  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৪১501739
  • লালন নিজেকে ফকির বলেছেন এমন আরো গান,

     

    “—গুরুর অঙ্কুর না বসিলে তাকে কেবা শিষ্য কয়

    ফকির লালন বলেন, সাঁইয়ের বচন শিষ্য হওয়া বড় দায়

    তিন মনকে এক মন করে ঐ চরণে সাধন-ভজন করতে হয়”।

  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৪৪501740
  • “ - - ফোঁটা তিলক তসবি-মালা

    তা জপো কি কারণে?

    ফকির লালন বলে, তোমার দেহে আছে ছয়জন রিপু

    বলি দাও গুরুর শ্রীচরণে”

  • lalan | 37.228.129.5 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৪৬501741
  • আহা বেচারা এলেবেলে মিঞা তানসেন দের কাছে পাত্তা পেতে ব্যাকুল। এদিকে তেনারা ওকে পোঁছেন না। কেন এই উপেক্ষা ঠাকুর? আমায় একটু পাত্তা দাও গো মায়ের মন্দিরে বসি। সো স্যাড।
  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:০৭501743
  • “ - - ও ফুল রসিক ধইরাছে-প্রেম ডুরিতে

    যে তারে কইছে ধরো,

    খোদার ছোট, নবীর বড়

    ফকির লালন বলে, নড়চড়

    থাক সেই চরণ মিশে-প্রেম ডুরিতে”।

     

    “ - - হাঁটতে মানা, আছে চরণ,

    মুখ আছে তার, খাইতে বারণ।

    ফকির লালন কয়, এ যে কঠিন মরণ,

    তা কি পারবি তোরা”?

     

     “এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে” এটা হয়ত লালনের রচনা নয়, হয়ত তাঁরই রচনা। যেটা বলার, সুধীর বাবু এটা লালনের গান নয় প্রমাণ করতে গিয়ে যে যুক্তি গুলির দাবী করেছেন সেগুলো খুব ওয়াটার-টাইট নয়। এর আগেই দেখা গেল বহু পদে লালন নিজেকে ‘ফকির লালন’ বলেছেন। সুতরাং সুধীর বাবুর একটা দাবী বেঠিক। এবার তিনি দাবী করেছেন গানটির রচনা শৈলী দুর্বল – এটা একটা সাবজেক্টিভ ব্যাপার। এর থেকেও ‘দুর্বল’ প্রামাণিত লালন গান আছে J আর ওই যে অন্ত্যমিলের ব্যাপারটা, রবে, দেবে, পাবে – এগুলো খেলো অন্ত্যমিল ধরলে অন্য অনেক কিছু যেমন, করে, মারে, তারে, ঝরে বা দায়, যায়, গায় বা তাই, চাই, পাই – এগুলো কেমন তুলনায়?

     

     সুধীর বাবুর এই দাবীও ভুল যে দুই বাংলার কোন মান্য লালন গীতির সংকলনে এই গানটি নেই।  ওয়াকিল আহমদ এর “বাউল গানের ধারা” বইতে [এনার অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার খুব একটা খারাপ নয় J] এটি লালনের গান বলেই লিপিবদ্ধ আছে।  

     

     

  • সুকি | 49.207.207.49 | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৪৪501746
  • পরিশেষে বলা, সুধীর ববুর বাকি দাবী “হিন্দুমুসলমানখ্রীষ্টান সকলকে নিয়েই গানের শরীর গড়ে উঠেছে, ভাবা হয়নি যে লালনের সময়ে জাতিভাবনার এত বিস্তার ছিল না, অন্তত প্রত্যত গ্রামে”। এই সেই হিসেবে কনক্লুশন টানার চেষ্টা হয়েছে যে “এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে” গানটা লালন লিখতে পারেন না।

     

    সুধীর বাবু এখানটাও তলিয়ে দেখেন নি। এই মুহুর্তে মূল লেখাটি হাতের কাছে নেই, কিন্তু ক্রশ রেফারেন্সটা দিই, লালনের মৃত্যু শত বার্ষিকী স্মারকগ্রন্থে তৃপ্তি ব্রক্ষ্মা নামে একজন এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন, “ লালনের মনবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক ভিত্তি” – তো সেখানে একটা লালনের গানের উদাহরণ আছে,

     

    “আরবী ভাষায় বলে আল্লা

    ফারসীতে হয় খোদা তালা

    গড বলিছে যীশুর বেলা

    ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভাবে

    মনের ভাব প্রকাশিতে

    -------------

    --------------

    আল্লা হরি ভজন পূজন

    সকলি মানুষের সৃজন”

     

    বা তার থেকেও স্পষ্ট পাওয়া যায় সরলা দেবীর “লালন ফকির ও গগন” বইটিতে সংগ্রীহিত লালনের এই গানটি

     

    “জগন্নাথ দেখ রে যেয়ে

    জাত কেমন রাখে বাঁচিয়ে

    চন্ডালে আনিলে অন্ন ব্রাহ্মণে তাই খায় চেয়ে

    জোলো ছিল কবীর দাস

    তার তোড়নি বার মাস

    উঠছে উথলিয়ে সেই তোড়নি খেয়ে

    যে ধনী সেই আসে দর্শন পেয়ে

    ধন্য প্রভু জগন্নাথ,

    চায় না রে সে জাত-অজাত

    ভক্তের অধীন সে, এবার জাত-বিরোধী দুরাচারী

    যায় তারা সব দূর হয়ে

    জাত না গেলে পাইনে হরি

    কি ছার জাতের গরব করি

    ছুঁসনে বলিয়ে

    লালন কয়, জাত হাতে পেলে পোড়াতাম আগুন দিয়ে।“

     

    লালনের মৃত্যু শত বার্ষিকী স্মারকগ্রন্থে  উল্লিখিত আরো একটি গান

    “বারো তাল উদয় হলো কলিকালে

    কি করি কোন পথে যাই

    পড়ে গোলমালে

    কাশী কি গয়াতে যাই

    ভেবে কিছু দিশে না পাই

    ও কথা কারে শুধাই

    মেলে কি মক্কাতে গেলে

    পাপ-ক্ষয় গঙ্গা চানে,

    খ্রিষ্টানেরা কয় জর্ডনে

    একথা নেয় না মনে

    আন্দাজে তীর্থ ঠেলে

    যথা যাই মানুষ দেখি

    মানুষ দেখে জুড়াই আঁখি

    লালন বলে, আমি বা কি

    না জেনে খুঁজি জঙ্গলে”।

     

    তো যেটা বলার, লালনের অনেক গানেই ‘জাতিভাবনার’ পরিচয় আছে। সেই যুক্তি দিয়ে  “এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে” গানটি লালনের লেখা নয় তা প্রমাণ করা যায় না।

  • বিপ্লব রহমান | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:১১501749
  • সুকি, 
     
    আলোচনাটিকে লাইনে ফিরিয়ে আনায় প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ। 
     
    আপনার অন্যান্য গানে "ফকির লালন" এর উদাহরণ এবং ওয়াকিল আহমেদের গ্রন্থনায় "হিন্দু মুসলমান " গানের উল্লেখ, এই নোটটিকে সমৃদ্ধ করেছে। 
     
    তাছাড়া অন্তমিল ও লালনের
    "হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান" জাতি ভাবনার কথাও সুন্দর করে বলেছেন। 
     
    "সুধীর বাবু তাঁর মত প্রতিষ্ঠা করতে একটু উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন মনে হয়।" 
     
    শুধু তাই নয়, সুধীর চক্রবর্তী বলছেন, "হিন্দু মুসলমান" গানটিতে "সিরাজ সাঁইয়ের নাম নেই কেন?" 
     
    এই গানে সিরাজ সাঁই নাই, "অচিন পাখি" গানে সিরাজ সাঁই নাই, এরকম লালনের আরও অসংখ্য গানেও সিরাজ সাঁইয়ের কথা আসে নাই। তার মানে এই নয় যে সে সব গান লালনের নয়! 
     
    কাজেই এক সুধীরে ঈমান আনা গুরুতর গোস্তাকি হতে পারে। 
     
    শুভ 
  • হেহে | 154.16.171.167 | ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৩১501810
  • এলবেলের বেলুন ফুটো করে দিলেন ত!!
  • পালা৯? | 43.243.207.145 | ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১৪:১৬501818
  • দুদিন পর তিনি ঠিকই আবির্ভুত হবেন। লালন মারালেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

  • Sobuj Chatterjee | ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:২৮501822
  • উৎকৃষ্ট চ্যুত মা রানি! বেশ হচ্ছিল লালন-পালন;  শুরু হয়ে গেল পশু পালন! মচৎকার!!
  • Reader | 103.76.82.175 | ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৫১501830
  • আশরাফ / আতরাফ 

    বিভাজন এর কাল ক্রমাঙ্ক বিচার টা হলে সুধীরবাবুর শেষ যুক্তিটির ও ফয়সলা হয়।
     
    LCM, ফর্ম্যাটিং রিমুভ করার একটা বাটন দিলে সুবিধে হয়। কপি পেস্ট করলেই অবাঞ্ছিত ফর্ম্যাটিং এসে হাজির হয়। সে সরানো যাচ্ছে না।
  • বিপ্লব রহমান | ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:১৬501872
  • @Reader 
     
    "আশরাফ / আতরাফ বিভাজন এর কাল ক্রমাঙ্ক বিচার টা হলে সুধীরবাবুর শেষ যুক্তিটির ও ফয়সলা হয়।"
    প্রাপ্ত তথ্য মতে, লালন ফকিরের মোটামুটি জীবদ্দশা : ১৭ অক্টোবর ১৭৭২ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০। 
     
    অন্যদিকে এর পরবর্তী সময়ে মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম লেখক কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬)। আর তার প্রধান কীর্তি "আবদুল্লাহ্" (১৯৩৩) উপন্যাস।
     
    এই গ্রন্থের ভূমিকায় ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ বলছেন, "আবদুল্লাহ্ উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিমসমাজের পীরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে বুর্জোয়া মানবতাবাদী প্রতিবাদ।" 
     
    "আবদুল্লাহ্ উপন্যাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিমত, আবদুল্লাহ্ বইখানি পড়ে আমি খুশি হয়েছি–বিশেষ কারণে, এই বই থেকে মুসলমানের ঘরের কথা জানা গেল। এদেশের সামাজিক আবহাওয়া-ঘটিত একটা কথা এই বই আমাকে ভাবিয়েছে। দেখলুম যে ঘোরতর বুদ্ধির অন্ধতা হিন্দুর আচারে হিন্দুকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করেছে, সেই অন্ধতাই চাদর ত্যাগ করে লুঙ্গি ও ফেজ পরে মুসলমানের ঘরে মোল্লার অন্ন জোগাচ্ছে। এ কি মাটির গুণ? এই রোগবিষে ভরা বর্বরতার হাওয়া এদেশে আর কতদিন চলবে?"
     
     
    এ পর্যায়ে সহজেই অনুমেয় মুসলিম সমাজের হীন "ইতর/আতরাফ - আশরাফ" বিভাজন লালনের সময়েও  জোরেশোরেই বহাল ছিল। 
     
    আপনাকে ধন্যবাদ 
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
  • Reader | 182.76.110.171 | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:৩৬501970
  • আবুল আহসান চৌধুরী-র সংকলন পদ্ধতির সমস্যাটা একটু বলা যাক। 
    ১) তিনি বলেছেন এই সংকলন লালনের গানের শতভাগ প্রামাণ্য সংকলন এমন দাবি তিনি করছেন না। ধরা যাক এটিতে লালন রচিত ৯৫% গানই অন্তর্ভুক্ত। (তর্কের খাতিরে এই ৯৫% সংখ্যাটা ৮০% বা ৯৯.৯৯% যা খুশি হতে পারে)
    ২) তিনি বলেছেন এই সংকলন লালনের বিকৃত-খণ্ডিত-জাল-নকল গান মুক্ত একটি সংকলন।
     
    এবার তিনি যেহেতু লালনের জাল-নকল গানের কোনো তালিকা দেননি ফলে যে গান এই সংকলনে নেই, তা সেই বাকি থেকে যাওয়া ৫% (তর্কের খাতিরে ২০% বা ০.০১%) অসম্পূর্ণতার অংশ নাকি জাল-নকল গান তা বোঝার কোনো উপায় থাকছে না। 
     
    ----------------------------------
    হ্যাভিং সেইড দ্যাট, পাঠক সমাবেশ এর বই তে প্রবল দাম ছাড়াও গবেষণার প্রাচুর্য অস্বীকার করার বোধহয় উপায় নেই। সেক্ষেত্রে সুধীরবাবুর এই বিশেষ গানটি নিয়ে মন্তব্য ও আলোচনা আবুল আহসান চৌধুরী-র চোখে পড়েনি এটা ধরে নেওয়া কঠিন [ যদিও উনি সুধীরবাবুর উল্লেখ কোথাও করেননি (সম্ভবত) ফলে পড়েইছে যে, সেটাও ধরে নেওয়া যায় না ]।  তাই, একথা মনে করা অসমীচীন হয়তো নয়, যে অন্তত আআচৌ-র মতে গানটি সহি লালনগীতি নয়। সেক্ষেত্রে গানটি কোনো সংকলনভুক্ত ও কোনো সংকলনে অপ্রবিষ্ট থাকায় এর প্রামাণ্যতা সংশ্লিষ্ট সংকলকের স্কলারশিপের তর্ক হয়ে দাঁড়াতে চলেছে, যা হয়তো অভিপ্রেত নয়।
     
    ভাটিয়া৯ থেকে :
    • এলেবেলে | ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:০৯491760
    • ... আমি আমার রেফারেন্সেই অটল থাকছি। আবুল আহসান চৌধুরীতেও এমন মানবসমাজ গানটি নেই। গানটি ফেক লালনগীতি। তার সমর্থনে পাঁচটি পাতার ছবি দিয়ে গেলাম। ...
       
       
      আবুল আহসান চৌধুরীকেও নস্যাৎ করলে অবশ্য কিছু বলার নেই।  
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন