ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৫

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ৩০ নভেম্বর ২০২১ | ৮৮১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)

  • ভাঙা দেউলের দেবতা
    ২৩শে অগাস্ট, ২০৩০
    শুক্রবার
    সবিতা যদি এখন আমাকে দেখে তো চিনতে পারবে না। আমি এখন ঘর ঝাঁট দিতে, টান টান করে মশারি টাঙাতে ও আছড়ে আছড়ে কাপড় কাচতে ওস্তাদ । কাপড় কাচার সাবানটায় ফেনা হয় কম, তবে টিকে যায় অনেকদিন; সহজে গলে না। এটি পুরোপুরি স্বদেশী সাবান, স্থানীয় একটি এনজিও সাপ্লাই দেয়।  সংস্থাটি বিধবা ও দুঃস্থ মহিলাদের নিয়ে সেলফ হেল্প গ্রুপ বানিয়ে নানারকম অর্থকরী কাজ করায়।
    কিন্তু এসব হল বাইরের ব্যাপার। আসলে আমার মধ্যে কিছু একটা ঘটছে। বোধহয় ঘায়ের উপরে পাপড়ি জমার মত। যেমন আমি বুঝে গেছি যে আমি আর এখান থেকে বেরোতে পারব না। বাবা-মা’র আর  ইলেক্টোর‍্যাল রোলের প্রমাণ পাওয়া যাবে না।
    না, এতে সরকারের কোন খামতি নেই। আসলে আমার বাবা-মা কোনদিন ভোটই দেননি যে! বাবার কেমন মনে হয়েছিল ভোট দিয়ে কোন লাভ নেই। এসব ছোটবেলায় খেয়াল করি নি।
    আর্মি থেকে জওয়ানেরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিত। আর আর্মি থেকে বেরিয়ে আসার পর বাবা কয়েক মাস  বেকার ছিল। তখন আমরা গাঙ্গুলীবাগানের ওদিকে একটা ভাড়াবাড়িতে থাকতাম।  তারপর বাবা প্রাইমারি স্কুলে মাস্টারি পেয়ে গেল তাঁর ইংরেজিতে দখলের জন্যে। উঁচু ক্লাসে পড়াতে গেলে সেসময় অন্ততঃ গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট লাগত। বাবা ম্যাট্রিক পাশ করেছিল ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল থেকে। কিন্তু আর্মিতে সেপাই হয়ে ঢুকে পড়ার পর আর পড়াশোনা করা দরকার মনে করেনি।
    এখন একটু একটু মনে পড়ে। ভোটের দিনে কাপের পর কাপ চা খেত, চারমিনারের পুরো একটা প্যাকেট ফুঁকে দিত। আর বিড়বিড় করত—কাকে দেব? একটা চোর তো আরেকটা গাঁটকাটা।
    আজ মনে হয় তখন যদি নোটা থাকত, তাহলে বাবা নিঘঘাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে বুথে গিয়ে নোটায় ছাপ মেরে আসত।  
    আরও বুঝে গেলাম যে আমার পেনশন  এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কথা আমাকে ভুলে যেতে হবে।
    আমি এখন আমার আগের জরদগব ভাবটা কিছুটা কাটিয়ে উঠেছি। এবার জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হবার পর দুটো সিদ্ধান্ত নিলাম।
      এক, সবিতাকে আমাদের মেয়ের কাছে চলে যেতে হবে। কারণ আমার পেনশন বন্ধ হয়ে গেছে। এবার পেটে টান পড়ার জোগাড়; জমা পয়সা প্রায় সব শেষ। তার উপর বাড়িভাড়া! অনেকটা চাপ হয়ে যাচ্ছে। গত মাসে মেয়ে দেখা করতে এসে খুব কান্নাকাটি করছিল। আমি অনেক বুঝিয়েছি। জামাই সংগে আসেনি। ওর সরকারি চাকরি, শ্বশুরের ‘ডাউটফুল’ ক্যারেকটার জানাজানি হলে চাকরিতে অসুবিধে হতে পারে।
    --মা, তোকে অনেক শক্ত হতে হবে। বছরে একদিন গরম কাপড় আর পুজোর সময় আন্ডারওয়ার গেঞ্জি পাঠিয়ে দিস, তাহলেই হবে; আসতে হবে না। সবিতার নাম দিয়ে পার্সেল করে দিস। নইলে সবিতার হাত দিয়েই পাঠাস। ওর থেকে তোদের খবরাখবর পেয়ে যাব। এখন থেকে তোর মাকে তোকেই দেখতে হবে; আর কোন উপায় দেখছি না।
    মেয়ে ভেঙে পড়ে। ডুকরে ওঠে—এমন কেন হল বাবা? আমরা কী পাপ করেছি? তুমি তো কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই। তোমার সংগে এ’রকম--
    --সেটাই তো বুঝতে পারছি না মা। কীসের থেকে কী যে হচ্ছে!
    --শোন বাবা;  আমার নাম, মায়ের নাম সব নাগরিক পঞ্জীতে উঠে গেছে, অথচ তোমার নাম ওরা কেটে দিল!  এটা কী করে হয়!
    এর উত্তর আমার জানা নেই। মেয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তার টিচার বাবা, বই আর খবরের কাগজ পড়া বাবার  জানা নেই এমন কিছু কি দুনিয়ায় আছে? ওর বিশ্বাস হয় না। ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে কিছু জানতে চেয়ে কখনও ‘না’ শোনেনি। যেটা জানিনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়ে বলেছি-দুটো দিন সময় দে; খোঁজ করে জেনে বলব।
    আজ আমি মুখ ফিরিয়ে নিই, জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থেকে প্রায় শোনা যায় না এমন স্বরে বলি—জানিনা রে!
    মেয়ের হাত ধরে সবিতা চলে গেল,  যাওয়ার আগে একবার আমাকে দেখল—বোবা দৃষ্টি। ওর চোখের মণি কেমন যেন সাদাটে, নাকি আমার মনের ভুল। আর পেছন ফিরে তাকায়নি।
    দুই, আমাকে এই জীবনকে মেনে নিতে হবে। আর মেনে নিতে হলে  একে ভালবাসতে হবে, অন্ততঃ ভাল লাগাতে হবে। নইলে একটা দিনও এখানে টিকতে পারব না।
    হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার সময় কোচিং ক্লাসে অনুর সংগে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। চুলবুলি মেয়েটা, ভাল লাগত। ও আমাদের সংগে একেবারে ছেলেবন্ধুর মত মিশত। ছেলেদের পেরাইভেট জোকস , গালাগাল, স্ল্যাং সব ছিল ওর ঠোঁটের আগায়।
    আমি একদিন পরীক্ষা নিলাম। ওই উঠতি মেয়েটাকে দেখছিস, ওকে দেখলে ছেলেরা কী বলে জানিস?
    ও মাথা নেড়ে একগাল হাসে।
    -- বি এইচ , এম এইচ।
    -- ফুল ফর্ম?
    - বড় হলে মাল হবে।
    -আচ্ছা? তুই তো এককাঠি বাড়া। এটা বল- এই যে আমাদের কোচিং এর মালিক চাঁদু ব্যানার্জি, মানে সিবি স্যার। ওর খুব আলুর দোষ আছে। ওকে আমরা কী বলি?
    --এমবি বিসি সিবি।
    আমার চোখ বড় বড়। তবু হাল ছাড়ি না। ফুল ফর্ম?
    -মাগীবাজ বোকা-দা সিবি।
    ব্যস্‌ , আমার সংগে দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গেল। একদিন অনু বলল-- শোন তারিণীদা ,তোমাকে নিয়ে কোচিঙে কানাকানি হচ্ছে—তোমার আমার মধ্যে নাকি কিছু একটা আছে।
    আমি দাঁত বের করি, চালিয়াত চন্দরের মতন বলি—আগুন ছাড়া ধোঁয়া হয় না। লোকে যখন বলছে তখন নিশ্চয়ই কিছু একটা ঘটছে।
    অনু খুশি হয়, গর্বে পেখম তুলে নাচে, ওর সখীদের জানিয়ে দেয় ওরও আছে একজন, একেবারে চি-লা-চি-ভা-চি-র!
    এরপর পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর মুখে ওর বাবা বদলি হয়ে গেলেন শ্রীরামপুর। যাবার আগে নাকতলা সেকেন্ড স্কীমের মাঠে আমাদের গ্রুপের ফেয়ারওয়েল পার্টিতে অনু বলল- বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। গ্র্যাজুয়েট হয়ে দেখা কর। বাবাকে আমি বলব, আমার কথা বাবা কখনও ফেলতে পারবে না।
    আমি ইতস্ততঃ করি। তারপর তেতো কথাটা বলে দিই। আমি ওকে শুধু বন্ধুর মত দেখি, অন্য কিছু নয়।
     বন্ধুদের গ্রুপ দু’ ভাগ হয়ে যায়। সবাই অনুকে ভাল বাসত। দীপক আমাকে বোঝাতে চাইল—এমন করিস না। ফাইনাল বলার আগে সময় চেয়ে নে। ও এত ভাল মেয়ে। তোর প্রবলেমটা কী?
    --আরে ও খারাপ মেয়ে হবে কেন? কিন্তু সারাজীবনের জন্যে? তার আগে ওকে দেখে ভেতরে একটু সেতার বাজা দরকার।
    --বাজবে বাজবে! সেতার গিটার সব বাজবে। একটু ধৈর্য ধর। একসঙ্গে থাকতে থাকতে সব হবে। তুই ওকে ভালবাসতে শুরু করবি।
    -ধুর বাল! এ’রকম হয় নাকি? জোর করে ভালবাসা? থাকতে থাকতে হয়ে যাবে? সে তো বাড়ির পোষা ময়না বা মেনির জন্যে হয়। কিন্তু কোন মেয়ের জন্যে? আগে বুকের মধ্যে অল্প স্বল্প সেতার বাজা দরকার।
    আজ মনে হয় দীপক কী বলছিল তা খানিকটা বুঝতে পারছি, নিজেকেও চিনছি নতুন করে। আজ আমি সেই পুরনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ভালবাসতে হবে, এই হীনমন্যতার হযবরল জীবনকে ভাল বাসতে হবে। এর কুশ্রী দিকগুলো ভুলে যেতে হবে। এর মধ্যে আনন্দ, সৌন্দর্য  সব খুঁজে বের করতে হবে। সেই থাকতে থাকতে ভাললাগানোর সাধনা।
    আর এই সাধনার প্রধান বাধা সবিতা। ওকে দেখলেই বুকের মধ্যে উনুনে ফুটন্ত দুধের মত উথলিয়ে ওঠে ফেলে আসা জীবন।
    মনে হয়-কিছু না, রোজ সকালে উঠে পরপর দু’কাপ চা শেষ করে খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন পর্য্যন্ত চেটেপুটে নেয়ার পর কাপড়ের থলি নিয়ে লক্ষ্মীনারায়ণ কলোনিতে বাজার করতে যাওয়া এবং ফেরার পথে খালপাড়ে ভবেশের চায়ের দোকানে কারও সংগে রাজনীতি নিয়ে আজাইর‍া তর্ক—দেশটা যে দিনকে দিন জাহান্নুমে যাচ্ছে সে’নিয়ে আমরা সচেতন কিনা- সেরে বাড়ি ফিরে সবিতার মৃদু বকুনি; এইটুকু ফিরে পাওয়ার জন্য আমি কী না করতে পারি!
    হ্যাঁ, আমাদের ডিটেনশন সেন্টারের আগের ডায়রেক্টর বদলি হয়ে গেছেন। নতুন যিনি এসেছেন তিনি আমাদের সংগে মেশার চেষ্টা করছেন। প্রথম দিনই বললেন—আমি অনুপম হালদার। আমাকে স্যার বলবেন না, অনুপম বাবু, হালদারবাবু বা সোজা অনুপম। আমার ভাল লাগবে।  আমি চেষ্টা করব এখানে আপনারা যতদিন আছেন সেটা একটু সহনীয় করে তুলতে। আগামী সপ্তাহে দেখতে পাবেন।
    পরের দিন সকালে উনি জলখাবারের সময় কিচেনে এসে আমাদের খাবার দাবার রান্নার ব্যবস্থা সব দেখলেন। ভাত রান্নার বড় ডেকচি ও কড়াই বেশ তেলচিটে এবং অপরিষ্কার । বললেন –এসব চলবে না। আগের থালা বাসন সব বদলে দিতে হবে, জল খাবার গেলাসও। প্রত্যেক ঘরে একটা করে জলের কুঁজো রেখে দেওয়া হবে। স্নানের জায়গার কলতলার শ্যাওলা চুণ দিয়ে ঘষে সাফ করতে হবে। আর পায়খানার বাইরের কোণায় একটা লোহার বালতি এবং  প্ল্যাস্টিকের র‍্যাকে কাপড় কাচার সাবানের ছোট টুকরো ও এলুমিনিয়ামের মগ থাকবে।  
    পরের দিন থেকে ডালের জল একটু ভারি হল, তাতে কিছু শাক ও তরকারি পড়ল। রুটিগুলো আগের মতই পোড়া, কিন্তু পাতলা ও নরম হল, ভেতরটা কাঁচা রইল না।
    অফিস ঘরে একটা নোটিস বোর্ড টাঙিয়ে বলা হল যে সবার বাড়ি থেকে লোকজন সপ্তাহে দু’দিন দেখা করতে আসতে পারে। কিন্তু দু’সপ্তাহ আগে থেকে আবেদন করতে হবে, কর্তৃপক্ষ রোটেশন করে কোনদিন কার কার বাড়ি থেকে দেখা করতে আসছে তার লিস্টি করে নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেবেন। এর ফলে একদিনে বেশি ভীড় হবে না। কারণ লোক বেড়ে গেছে, এই শিবিরে এখন আমরা ১৭ জন।
    সাতদিনের মাথায় উনি আমাকে অফিসে  ডেকে পাঠালেন।
    --সারাদিন কী করেন মাস্টার মশাই? মানে সময় কাটান কীভাবে?
    আমি চুপ করে থাকি। এ আবার কী পেঁয়াজি হচ্ছে? সারাদিন কী করি তুমি জান না শালা?
    --শুনুন মাস্টারমশাই, আপনি মুখ ফুটে না বললেও আমি ঠিকই বুঝতে পারছি। ডিটেনশন সেন্টারে এটা আমার তিননম্বর পোস্টিং। এই বয়সে কিছু এনগেজমেন্ট না থাকলে মানুষ সেনাইল হয়ে যায়। দাবা খেলেন বা তাস?
    আমি দু’দিকে মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিই।
    --ঠিক আছে, আপনি ছাড়াও অন্যরা তো আছেন। একতলার ৮ নম্বর রুমটা এখন থেকে রিক্রিয়েশন রুম হবে। তাতে এক প্যাকেট তাস, একটা লুডো ও দাবার বোর্ড থাকবে। আর সবার জন্যে আসছে একটা টিভি সেট।, লাগানো হবে দেয়ালের গায়ে, কিন্তু আপনাদের নাগালের বাইরে  বেশ উঁচুতে। এটা  আপনাদের সেফটির কথা ভেবে করা হচ্ছে। এখানে কেউ কেউ আছেন যাঁদের ভাঙচুর করার পুরনো রেকর্ড আছে। (শালা! আমাকে এসব শোনাচ্ছে কেন?)
    না,না, আমাকে ধন্যবাদ দেবেন না। এটা আমাদের লেভেলের ব্যাপার নয়। এই নির্দেশ এসেছে ওপর থেকে। ওপর মানে অনেক ওপর, বুঝতেই পারছেন। এটা সর্বাধিনায়কের চিন্তার ফল। উনি বিনা প্রেজুডিস সবার জন্যে ভাবেন।
    --আমার জন্যেও? আমাকে তো উনি চেনেন না, চিনলে কবে ছেড়ে দিতেন। পেনশন বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আটকাতেন না।
    হালদারবাবু মুচকি হাসলেন। ওনার গজদন্ত দেখা যাচ্ছে, ওঁর চেহারায় একটা আলগা আকর্ষণ আছে।
    --সবাই ওনাকে ভুল বোঝে। উনি আপনাকে চেনেন না, জানেন না। আপনার ফাইল ওঁর টেবিল অব্দি যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু উনি আপনার কথা ভাবেন, আপনার সমস্যা বা কিসে আপনি একটু ভাল থাকবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করেন। বিশ্বাস হচ্ছে না?
    তাহলে শুনুন, আপনার বা আপনার মত শিক্ষিত বুদ্ধিজীবিদের জন্য লাইব্রেরি থেকে নিয়মিত বই এনে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। আমরা নাকতলার পুরনো লাইব্রেরি শক্তি সং ঘের থেকে ব্যবস্থা করছি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। কিছু ম্যাগাজিনও আসবে।
    আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। এই অযাচিত ভদ্রতা কেন? চোলি কে পিছে ক্যা হ্যায়?
    অনুপম হালদার গম্ভীর হলেন।
    --তবে একটা শর্ত আছে। আপনি আপনার পছন্দের বইয়ের তিনটে নাম দেবেন। আমরা শক্তি সংঘের লাইব্রেরিতে কী আছে সেটা দেখে এনে দেব। কিন্তু একটা বই আসবে আমার পছন্দের। সেটা পড়তে হবে, পড়ে আমার সংগে আলোচনা করতে হবে। আশা করি এতে আপনার আপত্তি হবে না। না, আমার সুরে সুর মেলাতে হবে এমন শর্ত রাখছি না। বরং আমার সংগে খোলা মনে তর্ক করলে আমার ভাল লাগবে। আপনাদের অমর্ত্য সেন লিখেছেন না ‘তর্কপ্রিয় ভারতীয়’ বলে বইটি? উনি তো মনে করেন এটাই ভারতের ট্র্যাডিশন, তা আপনিও সেই ট্র্যাডিশন মেনে একটু ‘আর্গুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান’ হয়ে যান না? অন্ততঃ আমার সংগে।
    --একটা কথা, অমর্ত্য সেন খালি ‘আমাদের’ হবেন কেন? উনি তো গোটা ভারতের, এমনকি সমগ্র বিশ্বের। ওঁর লেখার পরিধি কেস স্টাডি সব তো পুরো দুনিয়ার মানুষের জনজীবন নিয়ে।
    --অ্যাই দেখুন, লাইনে এসে গেছেন। আপনারা বামপন্থীরা তর্ক করার সুযোগ সহজে ছাড়েন না। অমর্ত্য যদি ‘তর্কপ্রিয় বামপন্থী’ নাম দিয়ে বই লিখতেন, তবে একেবারে খাপে খাপ হত। দেখুন না, কমিউনিস্টদের শুধু ভারতবর্ষেই কতগুলো দলঃ তিন রকম সিপিআই, ফের নানা রকম সোস্যালিস্ট। এছাড়া আপনাদের যারা দেবতা তাদের মধ্যেও গোড়া থেকেই বিতর্কের অন্ত ছিল না। মার্ক্স বনাম বাকুনিন, প্রুধোঁ। লেনিন বনাম মেনশেভিক । স্তালিন বনাম ট্রটস্কি, বুখারিন, ইত্যাদি । মাও বনাম লিও শাও চি –এর শেষ নেই। অবশ্য এসব আপনি আমার চেয়ে ভাল জানেন।
    -- মানে? আমি এসব কেন জানতে যাব? আমি তো—
    হা হা করে হেসে উঠে অনুপম বাবু চোখ মটকে বললেন—সেকী! সত্তরের দশকের গোড়ায় নাকতলা স্কুলে প্রতি শনিবার যে মার্ক্সবাদী পাঠচক্রের বৈঠক হত, তাতে আপনি অল্পবয়েসি ছেলেদের ‘সারপ্লাস ভ্যালু’ বোঝাতেন না? ভুলে গেছেন? শুনেছি আপনি ওইসব কঠিন কঠিন কথা বেশ সহজ করে নানান উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। আসলে ওয়ান্স এ টিচার, অল ওয়েজ এ টিচার! কী বলেন তারিণীবাবু, ভুল বললাম?
    দুলে দুলে হাসতে থাকেন অনুপম।
    কী বলল? ‘শুনেছি’; কোথায় শুনেছে? কার কাছে? প্রথম জীবনের অল্পসময়ের ওই অধ্যায় ছাইচাপা পরে গেছল; কে খুঁড়ে বের করল?
    অনুপম আমার হাজার ভোল্টের শক খাওয়া চেহারা দেখে হাসি থামিয়ে ওঁর টেবিল থেকে একটা জলের বোতল এগিয়ে দিয়ে বলেন—আরে ঘাবড়াবেন না। এই বয়সে কে ফালতু ঝামেলা চায়! আমার কথাটা বুঝুন। আমরা ও আপনারা খুব আলাদা কিছু নই। সবাই  চাই জনসাধারণের ভাল হোক, সবাই খেয়ে পরে বাঁচুক, বিশ্বজুড়ে আমাদের দেশের নাম হোক। ফারাকটা খালি পদ্ধতি নিয়ে।
    আমরা চাই এই পরিবর্তনটা আসুক ভারতীয় পদ্ধতিতে, আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য মেনে। আপনারা চান বিদেশি পাশ্চাত্ত্য আদর্শে দেশ বদলাতে , সমাজ বদলাতে।
    আমরাও দেবতার পুজো করি, আপনারাও করেন। দেখতেই পাচ্ছেন, আজকের বিশ্বে আমাদের দেবতা বেশ জাগ্রত।  কিন্তু আপনাদের? এক কথায় বলতে গেলে ভাঙা দেউলের দেবতা।
    ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০৩০
    শুক্রবার
    বল বল বল সবে
    গতকাল ছিল সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন, শিক্ষক দিবস।  কী যেন বলেছিলেন হালদার বাবু? মনে পড়েছে—ওয়ান্স এ টিচার, অলওয়েজ এ  টিচার।
    আর কী যেন মনে পড়ছে? হ্যাঁ, আসলে ওই দিনটা—৫ই সেপ্টেম্বর-- আমারও জন্মদিন। কিন্তু দার্শনিক ও উপ-রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের সংগে একই তিথিতে জন্মেছি? নাঃ, ভুল বললাম। একই দিনে জন্মেছি, তিথিটা আলাদা এবং আমার আধার ও ভোটার কার্ডে তারিখটা আলাদা- ৫ই জুন। কারণ, প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির হওয়ার সময় মা দেখল যে সরকারি বয়সের হিসেবে আমি তিনমাসের ছোট, তাই দিল তিনমাস বাড়িয়ে-- আমি স্কুলে  ভর্তি হয়ে গেলাম। ফলটা হল এই যে আমাকে প্রৌঢ় বয়সে আসল বয়সের চেয়ে তিন মাস আগে রিটায়ার করতে হল । আজ হাসি পাচ্ছে, তবে এখন এসব অবান্তর।
    লাইব্রেরি থেকে বই আসছে। কিন্তু যে বইয়ের লিস্টি করে দিই তার অধিকাংশ হয় শক্তি সংঘের পরিচালিত সরলাবালা স্মৃতি পাঠাগারে নেই, নয় কেউ না কেউ আমার আগে ইস্যু করে নিয়েছে।
    যেমন কাঞ্চা ইলাইয়া ও ভগত সিং এর ‘কেন হিন্দু নই’ এবং ‘ কেন নাস্তিক হলাম’ – লাইব্রেরিতে নেই। মহাশ্বেতা দেবীর গল্প সংগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না। শেষে সত্যজিত রায়ের ফেলুদা, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ঘনাদা আর পরাশর বর্মা সিরিজ পেয়ে গেলাম।
    হালদার বাবু দিয়েছেন দুটো বই—সাভারকরের ‘হিন্দুত্ব’ এবং জনৈক গুরু শিভালকরের ‘র‍্যান্ডম থটস’। খাবলে খুবলে পড়ছি ও’দুটো। তারপর উনি পরীক্ষা নেবেন। বলছেন আলোচনা করতে , বুঝতে পারছি সেটা আসলে একরকম ভাইভা হবে।
    আমাদের দৈনন্দিন দিনচর্যাও কিছু বদলে গেছে।
    সবাইকে একটা করে গাছ লাগাতে হয়েছে। চারাগাছ এসেছে সরকারি উদ্যানবিভাগ থেকে। আমি পেয়েছি একটা বেল ফুলের চারা। সেটাকে জাল দিয়ে ঘেরা আঙিনার এক কোণে লাগিয়েছি। ওটার দেখাশুনো করা এখন আমার দায়িত্ব। তাই রোজ ওর গোড়ায় দু’বেলা জল দিই। সপ্তাহে একদিন গোড়ায় একটু মাটি খুঁড়ে দিই, যাতে শেকড়গুলো অক্সিজেন পায়, জল শুষে নিতে পারে।
    চারাগাছটার একটা নাম দিয়েছি, আমার মেয়ের নামে। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিই আর ফিস ফিস করি—বড় হয়ে ওঠ্‌ মা! তাড়াতাড়ি। তোদের সময় যেন ভাল যায়, আমার মত বিনা মেঘে বাজ পড়ার অবস্থা না হয়। ওর সংগে কথা বলার সময় আশপাশ ভাল করে  দেখে নিই—নাঃ , কেউ শুনতে পায়নি, কেউ খেয়াল করেনি।
    ইদানীং রাষ্ট্রভক্তি শিক্ষার ক্লাস সপ্তাহে তিনদিন-- মঙ্গল , বৃহস্পতি আর রবি।  রবিবার সাধারণতঃ কোন না কোন বিশেষ ব্যক্তি গেস্ট স্পীকার হয়ে আসেন।
    গত রবিবার যিনি এসেছিলেন আমাদের তাঁর নাম বলা হয়নি।
    ভদ্রলোকের পরনে চেক বুশশার্ট, ট্রাউজার আর চামড়ার ফিতে বাঁধা কালো শু, বেশ পালিশ করা। উনি চৌকাঠের বাইরে জুতো খুলে মোজা পায়ে ঢুকলেন। বসলেন একটা কাঠের চেয়ারে। বেশ দূর থেকে এসেছেন। এসেই ঢক ঢক করে দু’গ্লাস জল খেলেন। তারপর গেলাসটা ঠক করে নামিয়ে রেখে পাশের টেবিলে  কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে এককাত হয়ে বসে আমাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
    আমার কেমন অস্বস্তি হতে লাগল। মনে হল এঁকে কোথায় যেন দেখেছি। বেশ বড় বড় টানা টানা চোখ, মাথায় ঢেউ খেলানো চুল, মাঝখানে সিঁথে কেটে যত্ন করে  আঁচড়ানো।
    হঠাৎ টিউবলাইট জ্বলে উঠল।
    চিনতে পেরেছি। ওই স্টাইলে অমন করে কাত হয়ে তাকিয়ে থাকা—ওটাতো স্বামী বিবেকানন্দের পুরনো ছবি, অনেক বইয়ে দেখেছি। এই ভদ্রলোক সচেতন ভাবে বিবেকানন্দকে কপি করছেন! ভাবি, তাতে কী হয়েছে? বিবেকানন্দ হয়ত ওনার আদর্শ পুরুষ; উনি হয়ত স্বামীজির ফ্যান, যেমন কয়েক দশক আগে দক্ষিণের সিনে স্টারদের ফ্যান ক্লাব হত,-- এম জি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা, রামা রাও, রাজকুমার। অথবা হিন্দু যুবা বাহিনী গোছের উনিও হয়ত বিবেকানন্দ আর্মি বানিয়েছেন।  এক দশক আগে বিটিএস নামের সাউথ কোরিয়ার একটা পপ মিউজিক গ্রুপের ফ্যানের দল মিলে দুনিয়া জুড়ে বিটিএস আর্মি বলে রেজিস্টার্ড ফ্যান ক্লাব বানিয়েছিল। এখন আমাদের দেশেও কত কী হচ্ছে আমি যার খবর রাখি না।
      একটু পরে উনি সোজা হয়ে বসে আমাদের ক্লাস শুরু করলেন, খানিকটা ইন্টার-অ্যাক্টিভ মোডে, কিন্তু কথা থেকে একটা বিচ্ছিরি পচা গন্ধ আসছে কেন? আমি বুঝতে পারি, উনি মোজা খুলে বাইরে জুতোর মধ্যে রেখে আসলে ভাল করতেন। এখন নাকে হাত চাপা দেওয়া যাবে না।
    --আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় রাষ্ট্রভক্তি। আচ্ছা আপনারা কেউ আমাকে বুঝিয়ে দেবেন—রাষ্ট্র ও দেশের মধ্যে তফাৎ কী? রাষ্ট্রপ্রেম ও দেশপ্রেম কি এক?
    সবাই চুপ। ওঁর চোখ  একবার সার্চলাইটের মত সবার দিকে ঘুরে গেল।  হালদার বাবু বিপন্ন মুখে আমাদের দেখতে দেখতে বললেন—আরে কেউ কিছু বলুন। এখানে নতুন পুরনো বলে কিছু নেই। যে কেউ বলতে পারেন।
    কেউ একজন চটাস করে একটা মশা মারল।
    গতমাসে বসিরহাট থেকে এখানে আসা একরাম আলি দাঁড়িয়ে উঠেছে, বলল--  দেশ মানে স্থান বা জায়গা, যেখানে আমরা জন্মেছি। কথায় বলে না দেশকাল? একটা গান আছে না –আমার এই দেশেতেই জন্ম যেন এই দেশেতেই মরি! আবার রবিঠাকুরের গানও আছে—সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে। দেশ মানে মায়ের মতন, স্বাভাবিক ভাবেই তার জন্য প্রেম হয়। যার খেয়ে পরে বাঁচি—
    --বেশ; আর রাষ্ট্র। রাষ্ট্র প্রেম বা রাষ্ট্র ভক্তি?
    একরাম আলি এদিক ওদিক তাকিয়ে ধপ কড়ে বসে পড়ল।
    -- রাষ্ট্রকে ভক্তি করা যায়, ভালবাসা যায় না।
    সবাই চমকে পেছনে ফিরে তাকাল। লাস্ট লাইনে সতরঞ্জিতে বসা লোকজনের থেকে কথাটা হাওয়ায়  ভেসে এল। কেউ দাঁড়ায়নি, কিন্তু গলার স্বর যে আমার চেনা,-- খুচরো বইয়ের দোকানের মালিক গুরুপদ দাস।
    -কে বলছেন উঠে দাঁড়ান, মুখ দেখতে চাই।
    গুরুপদ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। আমার হাত-পা একটু একটু কাঁপছে। ব্যাটা যে আমার ঘরের । সেবার মিচকে রহমান, এবার গুরুপদ—শেষে কি আমায় ধরবে পালের গোদা ভেবে? আর চাপ নিতে চাইনা।
    --বলুন কী ভাবছেন। রাষ্ট্রকে ভক্তি করলে ভালবাসা যাবে না কেন? ভক্তি আর ভালোবাসায় বিরোধ কোথায়?
    --দেখুন, ভক্তির মধ্যে ভয় মেশানো থাকে। আমরা ভক্তি করি তাঁকে যিনি আমার চেয়ে অনেক বড়, মহা শক্তিধর—যেমন ভগবান। রাষ্ট্রও তেমনি। আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, অনেক উঁচুতে বসে আছে।
    কিন্তু ভালবাসি মাকে, ভালবাসি বউকে , নিজেদের ছেলেমেয়েকে। দেশ হল ঠিক অমনি।
    --কোথাও আপনার একটুখানি ভুল হচ্ছে। আমরা ভগবানকেও ভালবাসি, শুধু ভক্তি নয়। রাধা-কৃষ্ণের কথা ভাবুন। রবি ঠাকুরের গান ভাবুন—আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর তোমার প্রেম হত যে মিছে!
    বাংলার সাধক কবি রামপ্রসাদ কি কালীমাতাকে মেয়ের মত করে দেখে গান লেখেননি?
    --হ্যাঁ, কবি কুমুদরঞ্জনও লিখেছেন “মহামায়ায় যতই মানাক সিংহ এবং সিংহাসনে,
                                                   রামপ্রসাদের বেড়ার ধারে দেখেই যে হয় হিংসা মনে”।
    কী জানেন, সাধনার দুটো পথ—ভক্তির আর প্রেমের। মন্দিরের লোলজিহবা করালবদনা কালী শ্মশানবাসিনী, শবদেহের উপর পা তুলে দাঁড়িয়ে। তাঁকে দেখলে ভয়ভক্তি হয়, কিন্তু ভালবাসা?  আর রামপ্রসাদের কালী ছোটমেয়ের রূপ ধরে ওঁর বেড়া বাঁধতে হাত লাগিয়ে দেন । সুফী বা আউল বাউলের সাধনা হল প্রেমের পথ, আর মন্দিরে ঘন্টা নেড়ে বলি দিয়ে সাধনা হল ভয়মিশ্রিত ভক্তির পথ। রাষ্ট্রভক্তিও খানিকটা তাই।
    ভদ্রলোকের চোখ কুঁচকে উঠল। বললেন আগামী ক্লাসে রাষ্ট্রভক্তি নিয়ে আরও আলোচনা হবে, উনি সবার কথা শুনতে চান।
    ক্লাস শেষের গানটা হালদারবাবু আমাদের শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
    আমরা সরু মোটা স্বরে গাইতে থাকিঃ
    “বল বল বল সবে,
    শত বীণা বেণু রবে,
    ভারত আবার জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে”।
    উনি জুতোয় পা ঢোকাতে ঢোকাতে হালদারবাবুকে কিছু বললেন। কটু গন্ধটা সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।
                                                                                                (চলবে)
     
     
     
     
     
     
     
     
     
  • ধারাবাহিক | ৩০ নভেম্বর ২০২১ | ৮৮১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • lcm | ৩০ নভেম্বর ২০২১ ২৩:৪৪501559
  • আর একবার চেষ্টা করে দেখা যাক।

    রঞ্জনদা, প্রতিটি স্টেপ দেখে নিন, একটা উইন্ডোতে এই ইন্সট্রাকশন রাখুন, অন্য উইন্ডোতে ফলো করুন, তাহলে সুবিধে হবে।

    (১) গুরুতে লগ ইন করুন। এই স্টেপটা আপনি জানেন, নইলে আর লিখলেন কি করে।

    (২) ইউজার মেনু থেকে "ব্লগ" এ ক্লিক করুন, ওপরে ডান দিকে কোনায় আছে ইউজার মেনু, আপনার নাম (বা নামের প্রথমাংশ) দেখতে পাবেন, ওখানে ক্লিক করলে একটা মেনু আসবে, তার দ্বিতীয় আইটেম দেখবেন "ব্লগ"।

    (৩) আপনার ব্লগের পাতায় গেলে দেখবেন এখন পর্যন্ত যত লেখা লিখেছেন তার লিস্ট আসবে, একদম ওপরের দিকে থাকবে এই লেখাটি "কোথায় তোমার দেশ গো বন্ধু? পর্ব ৫" -  প্রত্যেক লেখার সঙ্গে একটা নীল রঙের "সম্পাদনা করুন" বাটন আসবে। এই লেখার সঙ্গের ঐ বাটনটিতে ক্লিক করুন।

    (৪) এবার এই লেখাটি এডিট করার পাতায় চলে আসবেন। এই ফর্মে একদম নীচে দুটো ফিল্ড আছে

    - ধারাবাহিক: প্রথম আর্টিকল#

    আপনি এই যে "কোথায় তোমার দেশ..." ধারাবাহিক লিখছেন এর প্রথম আর্টিকলটি হল https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=23036 , আর্টিকল নম্বর 23036 , এই সংখ্যাটি এখানে ভরে দিন, খেয়াল রাখবেন এটা কিন্তু ইংরেজি হরফে দেবেন, না হলে কিন্তু কাজ করবে না। এই ভ্যালুটা গুরুত্বপূর্ণ, ধারাবাহিকের প্রথম আর্টিকেলের নম্বরটি এখানে ইংরেজি অক্ষরে ভরে দিন।

    - ধারাবাহিক: এপিসোডের লিংক বিবরণ

    এখানে আপনি লিখবেন এই এপিসোডের সংক্ষিপ্ত লিংক টেক্সট, যেমন ধরুন "পর্ব ৫" বা "৫ম পর্ব" বা "৫ম কিস্তি" বা "পঞ্চম পর্ব" ...। এই ফিল্ডে বাংলা বা ইংরেজিতে লিখতে পারেন।

    ----
    আপনি বাংলা টাইপ করে অত লেখার ঝক্কি নিচ্ছেন, আজ থেকে নয়, বহুদিন ধরে, তার তুলনায় এটি কিছুই নয়। আপনি এটা ঠিকই পারবেন। দেখুন চেষ্টা করে, আস্তে আস্তে করবেন, একদম স্টেপ বাই স্টেপ ইন্সট্রাকশন মিলিয়ে।

     
  • Ranjan Roy | ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:৩৬501560
  • থেংকু এলসিএম,
     এভাবে হ্যান্ড হোল্ডিং হল, আর ভুল হবে না। গ্রান্টি!
  • aranya | 2601:84:4600:5410:e477:9ef3:9c7b:f9a4 | ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ০১:০৫501563
  • বেশ লাগছে। 
    রঞ্জন দা প্রতিভাবান গল্পকার 
  • Amit | 121.200.237.26 | ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:২৭501571
  • একটা প্রশ্ন এলো রঞ্জনদা-একটু অফ টপিক । এমনিই মিনিস্ট্রি অফ হোম অ্যাফেয়ার্স এর ওয়েবসাইট টা দেখছিলাম- 
     
    সেখানে আন্ডার রেজিস্ট্রেশন সেকশন ৫।১ এ বলা আছে এরকম কেসে - মানে কারোর স্বামী বা স্ত্রী যদি অলরেডি সিটিজেন থাকে তাহলে -  Persons who are married to a citizen of India and who are ordinarily resident in India for SEVEN YEARS (as mentioned at (a) above) before making application under section 5(1)(c). Application shall be made in Form-II.
     
    কিন্তু আসামে এরকম ​​​​​​​বেশ ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​কেস ​​​​​​​মিডিয়াতে এসছে ​​​​​​​এই ​​​​​​​গল্পের ​​​​​​​মতো  ই। ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​কি CAA তে ​​​​​​​এটা এপলাই ​​​​​​​হচ্ছেনা ​​​​​​​? 
  • Ranjan Roy | ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৪৫501573
  • আইনের অক্ষর আর প্রয়োগে বিস্তর ফারাক, আসল হল প্রয়োগকর্তার ইনটেন্ট। যদি অনাগরিক ভারতে 7 বছর "বৈধ" ভাবে বাস করার পর কোন নাগরিককে বিয়ে করে তাহলে ধারা 5(ক) প্রযুক্ত হবে। ধরুন কোন ইউরোপীয় মহিলা বা পুরুষ, ভিসা নিয়ে ভারতে , চাকরি বা পড়াশুনো উপলক্ষে সাত বছর কাটিয়ে কোন নাগরিককে বিয়ে করল।
    কিন্তু ভারতে এন আর সি আপডেটেড নয়। কোন সিটিজেনশিপ কার্ড ইস‍্যু করা হয় না। আমরা ধরে নিই এদেশে জন্মেছি, ভোটার কার্ড আছে, আধার আছে -- আমি তো নাগরিক। 
    সমস‍্যা এখানেই। আমি যদি আমার জন্মের সরকারি প্রমাণ দেখাতে না পারি তাহলে আমার 7 বছর তো দূরস্থান, আজীবনের ভারত বাস ' অবৈধ' হয়ে যায়। আমার স্থান হবে ডিটেনশন সেন্টারে। আর আমাকে সন্তুষ্ট করতে হবে ফরেন ট্রাইব‍্যুনালকে। যার সদস‍্যদর অনেকেই আইনজ্ঞ নন, কাগজে নির্দেশ থাকলেও।
     একেবারে কাফকার দুনিয়া।
  • Ranjan Roy | ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৫১501574
  • তাই ভোটার ও আধার কার্ড থাকা সত্বেও আমি এক ঝটকায় অনুপ্রবেশকারী হয়ে যেতে পারি।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন