• খেরোর খাতা

  • কাদামাটির হাফলাইফ ২৮

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ অক্টোবর ২০২১ | ৯৪ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ২৮
     
    পানিফলওয়ালার সঙ্গে চলে যাচ্ছিলাম।
     
    আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যত্র চাকরির উমেদারি বা কসরৎ না করে মানিকতলা খালপাড়ের অধিকার/ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের 'বড়ো স্যার' (ওই নামেই আমাকে ডাকেন ওঁরা । ওঁদের নামকরণের ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। একটি উদাহরণ যথেষ্ট আপাতত,  একজনকে বলে ইস্টাইল স্যার) হতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেছি, তার বড়ো কারণ, ওই সন্ন্যাসী বা পানিফলওয়ালার সাথে চলে যাওয়ার ইচ্ছে।
    আমি যদি সত্যি সত্যি পানিফলওয়ালার সঙ্গে চলে যেতে পারতাম, তাহলে আমার পড়াশোনা হতো না। কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে বাংলার বিভাগীয় প্রধান না হয়ে পৃথিবীর একমাত্র এক প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট জংশন কালীনারায়ণপুর  স্টেশনের পাশের নয়ানজুলি থেকে পানিফল তুলে ট্রেনে ট্রেনে বেচে বেড়াতাম। কৃষ্ণনগর রাণাঘাট গেদে লোকালে । কৃষ্ণনগর চাকরি জীবনে কালীনারায়ণপুর স্টেশন ছিল আমার খুব পছন্দের। মনে হতো এটা যেন দার্জিলিঙের ঘুম স্টেশন। অসম্ভব উঁচু চারপাশের চেয়ে। পাশে শান্ত সবুজ সংকেত নিয়ে চূর্ণী নদী। আর ছিল একটি রসগোল্লার দোকান। আমার এক প্রিয় সহকর্মী ছিলেন অতনু ভট্টাচার্য। এক মাথা সাদা কাশফুল চুল। এলোমেলো। প্রথম সাক্ষাতেই মন কেড়ে নেন। বলেন, আমি আর টেলিগ্রাফ পড়তে পড়তে যাই।
    উনি ট্রেনের আসনে চার নম্বর যাত্রী হতেন। চার নম্বর যাত্রীর অবস্থা দেবেগৌড়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সঙ্গেই যোগ্য সঙ্গত দিতে পারে।
    অতনুদা বলতেন, জীবনে আমি অন্তত একজনকে সুখী করেছি।
    কাকে?
    যাকে বিয়ে করি নি।
    অতনুদা অকৃতদার।
     
    কালীনারায়ণপুর স্টেশনের মিষ্টির দোকানে রসগোল্লা ও শান্তিপুর লোকালে কম ভিড়ে শান্তিতে ফেরার লোভ দেখিয়ে অতনুদা মাঝে মাঝেই নামাতেন আমাদের। এখানে মিষ্টির দোকানে এক আট বছরের বালিকার কাছে একটি অ-সামান্য কথা শুনি।
    বড়ো হয়ে কী হতে চাও।
    মেয়ে-- মেয়ে হতে চাই।
     
    মেধা একটি বানানো শব্দ।
    পেটে ভাত, বাবা মা-র সামর্থ্য একটি বড়ো বিষয়। ব্যতিক্রম নেই? আছে। ব্যতিক্রম তো নিয়মকেই সিদ্ধ করে। অ্যাকাডেমিক কচকচি আমিও একটু আধটু জানি। তন্বিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে। কিন্তু জার্গন ঝাড়া পছন্দ করি না, পাঁচজন মানুষের প্রভাবে। হজরত মহম্মদ, লেনিন, মাওসেতুঙ, রামকৃষ্ণ এবং লালন। কত কঠিন কঠিন কথা কত সহজে বলেছেন ওঁরা।
     
    সহজ কথা যায় না বলা সহজে।
    কাঁচড়াপাড়া স্টেশনে নেমে চলেছি পানিফলওয়ালার পিছুপিছু। এক ভদ্রলোক খেয়াল করেন, নতুন প্যান্ট জামা পরা ছেলেটি পানিফলওয়ালার সঙ্গে কেন? অস্বাভাবিক ঠেকে তাঁর। তখন তো কথায় কথায় নতুন জামা প্যান্ট হতো না। দুর্গাপূজায় গ্রামে নতুন জামা পরতে ছোটবেলায় খুবই কম জনকে দেখেছি। আশ্বিন কার্তিক মাস গ্রামে চরম অভাবের সময়। ইদে বা বকরিদে একবার হতো। কম সময়ই দুবার। শীতকালে ফসল ওঠার পর গরিব মধ্যবিত্ত বড়োলোক সবার নতুন পোশাক। আর উৎসবে। বিশেষ করে বিয়ে শাদি হলে। নতুন পোশাক পরে বের হওয়ার চল খুব কম। ইস্ত্রি করে পোশাকও আমার দাদার মতো শৌখিন দু একজন পরতেন। তা নতুন পোশাক পরা আমাকে পানিফলওয়ারার সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের বাইরে চলে যেতে দেখে তিনি হাঁকডাক করায় আমার পিতা মাতাসহ  বাকিদের খেয়াল হয়, আমিই সেই বালক। 
    যার মন সর্বদাই উড়ুউড়ু।
     
    বর্ধমানে শীতকাল মানেই মোটামুটি ফাঁকা মাঠ। আলু পেঁয়াজ আছে। কিন্তু সে আর কতটুকু। শীতকালে ফাঁকা মাঠে ঘুড়ি ওড়ানোর ধুম। কাচ গুঁড়ো করে মাঞ্জা করা আর ঘুড়ির পিছু পিছু দৌড়। তা পায়ের আঙ্গুলের নখ উপড়ে গেলেও পরোয়া নেই, ঘুড়ি আগে।
    তা, নদিয়ায় দেখি সবুজে সবুজ মাঠ। এই প্রথম তামাক গাছ আর পটল গাছ দেখলাম। শুনলাম, পটল গাছের শিকড়ে নাকি বিষ। খেলেই মরে যায়। শুনে ইচ্ছে হয়েছিল, সাহস হয় নি।
    আমাদের ওখানে পুকুর/ দিঘি। এখানে বলে বিলি মানে বিল। তাতে বড়ো বড়ো চিংড়ি মাছ। ওঁরা বলেন, চ্যাংড়া। নারকেল দিয়ে চিংড়ি মাছ খাওয়া হল। নদিয়ায় নারকেল গাছ প্রচুর । আমাদের তাল খেজুর। অন্যরকম লাগলো চিংড়ি রান্না। একটু মিষ্টি মিষ্টি। আমাদের ছোট বা কুচো চিংড়ির দেশ। কুচো চিংড়ির সঙ্গে পেঁয়াজ বাটা  আর তেঁতুল মিশিয়ে টক অমৃত। এছাড়া চিঁড়ি আলু পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি দিয়ে ঝালঝাল ছিল পছন্দ।
    চিংড়ি শুঁটকির ভর্তাও ছিল বর্ধমানে অসাধারণ।
     
    ঘটিরাও প্রচুর শুঁটকি খায়, অবাক হবেন না।
     
    জীবনের কতটুকু আমরা জানি।
     
    ১২-১০-২০২০

     

  • ০৭ অক্টোবর ২০২১ | ৯৪ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন