• খেরোর খাতা

  • কাদামাটির হাফলাইফ ২২

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৭ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ২২
    গোরু একটা গালাগাল। শহরে। গ্রামে গোরু ছিল আপনার জন। আত্মার আত্মীয়। প্রতিটি গোরুর নাম ছিল। তেমন ছিল কুকুরের। বেড়াল, মুরগি, হাঁসেরও। ছেলে মেয়ে পালনের মতোই যত্নে এদের পালন। নতুন গোরু কিনে আনা হলে তার পায়ে জল দিয়ে ধুয়ে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন বাড়ির গিন্নি।
    গাই হলে আলাদা খাতির।
    গোরুরা মালিক ও তার চাকরদের কথা স্পষ্ট বুঝতো। গোরু মুরগি হাঁস ছাগল চুরি হতো না আমাদের গ্রামে।
    গোরু চরাতে নিয়ে যেতো বাগালেরা আমানিভাত খেয়ে। আমরা পান্তা বলেছি শহরে এসে। গ্রামে আমানি। গোরু পিছু দুপয়সা ছিল মজুরি। দিনে দুপয়সা। ছাগল এক পয়সা। 
    তবে গোরু ছাগল লোকের ধান খেয়ে খোঁয়াড়ে গেলে এক টাকা লাগতো।
    ছাগল ২৫ পয়সা। পরে বেড়ে হয় ৫০ পয়সা।
    খোঁয়াড় ডাক করাতো পঞ্চায়েত। খোঁয়াড় ডাক করা লোকের পয়সা হতো। কিন্তু তাঁকে লোকে নিষ্ঠুর ভাবতো। আমাদের ছাগল দু একবার খোঁয়াড়ে গেছে।
    এতো কষ্ট হতো তাকে দেখে।
    করুণ  জল ভরা চোখে তাকিয়ে থাকতো। ১৯৭৭ এ সিপিএম ক্ষমতায় এলো
    ১৯৭৮ এ বাবা পঞ্চায়েত সদস্য হলো, আমাদের অর্থনীতি আরো খারাপ হলো। 
    চা জলখাবার খাওয়ার লোক বাড়লো। পার্টি নেতাদের আনাগোনা বাড়লো। আয় কমলো।
    এই সময় আমি একটু হাল ধরি। বয়স কম। কিন্তু পয়সার মূল্য বুঝেছি।
    ১৯৭৭ এ আমার বার্ষিক পরীক্ষার প্রগতিপত্র আটকে দেওয়া হয়েছিল। মাইনে দেওয়া হয় নি বলে। ক্লাসে প্রথম হতাম তাই কেবল তিন মাসের বেতন ৩ টাকা ৭৫পয়সা করে ১১ টাকা ২৫ পয়সা লাগতো। আর ১৫ টাকা পরীক্ষার ফি।
    মোট ২৬ টাকা ৭৫।
    এই প্রগতিপত্র যখন আটকানো হয় তখন স্কুলের সম্পাদক আমার বাবা।।
    পরে বড়োমামা এসে মার্কশিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরের দিন টাকা দিয়ে দিই।
    এই কারণে আমি বিনা বেতনে ছাত্র ছাত্রীদের পড়ানোর সমর্থক। প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করার সময় দেখেছি মাসে মাত্র ১২ টাকা বেতন তাও বহু ছাত্র ছাত্রী দিতে পারে নি। তাই ভোট দিতে পারে নি। এঁরা শতকরা ১০০ ভাগ ছিলেন তপশিলি জাতির ছাত্র ছাত্রী। মুসলিম ছাত্র ছাত্রী ২% ও ছিল না প্রেসিডেন্সি কলেজে। 
     
    একজন খেতমজুরের মাসিক মজুরি ছিল ২৫ টাকা। বাবা সংসার উদাসীন। আর আমি কোনোদিনই বাড়ি থেকে টাকা পয়সা চাইতে পারতাম না। ফলে মাইনে বাকি থেকেছে বলা হয় নি। বাবা সমাজসেবায় ব্যস্ত। মা অসুস্থ।১৯৭৬-এ মেজদিকে শ্বশুরবাড়িতে নোড়া দিয়ে দাঁত ভেঙে মুখে বিষ ঢেলে মেরে ফেলে শাশুড়ি। খুব কম খেতে দিতো। একদিকে পণ অন্যদিকে মেজদি খুব গল্পের বই পড়তো।
    এই অপরাধ। বাবা অভিযোগ করেন নি থানায়। গান্ধীবাদী কমিউনিস্ট। বাবার মায়ের মতো দেখতে ছিলেন মেজদি। আমি তৃতীয় শ্রেণি থেকেই সুযোগ পেলেই ৩০ কিলোমিটার দূরে ইন্দাস থানায় পাড়ি দিতাম বিডিআর ট্রেন।
    মেজদি আমাকে কোনোদিন মারে নি।
    মারামারি ছিল না তাঁর স্বভাবে।
    দুই ভাই-বোন মিলে গল্পের বই পড়তাম। পড়া বইয়ের গল্প শোনাতাম।  লুকিয়ে বই নিয়ে যেতাম গল্পের।
    মেজদি ছিল অতীব সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী। স্কুলের স্যাররা বলতেন, চলন্ত ওয়ার্ড বুক। এই ঘটনার পর মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রান্না বান্না করতো ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া দিদি। 
    এই সময় ছাগল চাষে মন দিলাম।
    ছয়টা ছাগল ছিল বাড়িয়ে ৩৬ টা করে ফেললাম দু বছরে। কিন্তু যখন ছাগল বিক্রি করা হতো আমি কেঁদে ভাসিয়ে দিতাম।
    বলতেও পারতাম না। সৎ লোক। পার্টি চালায় ঘরের পয়সা দিয়ে। কী বলবো।
    গোরুও বিক্রি হতো।
    কিন্তু সেটা সহজে করা যেতো না।
    একে তো সবার সামনে থাকে।
    দুই, একবার বিক্রি করার ফল ভালো হয় নি। গোঁজ দড়ি সমেত গোরু ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘরে এসে হাজির।
    গোরু বোকা নয়, গোরু নিয়ে রাজনীতি করারা শয়তান। 
    বড়ো বড়ো তামার ডেকচি ছিল গোটা আষ্টেক। সারাতে যাওয়ার নাম করে বেচে এসেছে ছয় খানা।
    মা অশান্তি করলেন।
    কিন্তু তাতে গেলো জমি। বাবা বাড়িতে মিষ্টি ফল কোনোদিন আনতেন না।
    কিন্তু যেদিন লুচি মিষ্টি র প্যাকেট ঢুকতো, বুঝতাম কোনো জমি বিক্রি করে আসা হলো।
     
    ১০.০৭.২০২১

     

  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন