• মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:০৯498762
  • ভাল লাগল। 
  • b | 14.139.196.16 | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪০498772
  • ঘরের কাছের উদাহরণ : অক্ষয় মালবেরি 
  • Ranjan Roy | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:২০498777
  • বি,
    একদম লাগসই উদাহরণ। 
  • বিপ্লব রহমান | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৪৯498847
  • আরেকটু বড় করে লিখলে পারতেন।
     
    অসমাপ্ত আত্মজীবনীর অনুসন্ধান ভাল লাগল 
  • bodhisattvagc dasgupta | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:১৩498850
  • ভালো লাগল । আমি অটো বায়োগ্রাফি র ভক্ত খুব একটা  নই, তবু এটা ঠিক ই , নেরুদা , চ্যাপলিন এদের ব ই গুলোয় বিখ্যাত হবার পরের অংশ সলিড বোরিং। বেশির ভাগ আত্মজীবনী ই যেমন প্রথম থেকেই বোরিং অন্তত সেরকম না। সেলিব্রিটি অটোবায়োগ্রাফি আলাদা একটা জনরা মাইরি , মুদির দোকানে‌, স্টেশনারি দোকানেও লঞ্চ হয়। এই সোশাল নেটওয়ার্কিং এর বাজার গরম হবার পরে আত্মজীবনী একটা আপদ ।
  • সিএস | 49.37.34.2 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:২৬498855
  • এই বইটার সুন্দর প্রচ্ছদ, সুন্দর ছাপা, ছবি ও হরফ। হাতে নিলেই স্পর্শসুখকর অনুভুতি ঘটে।

    পড়া হয়নি যদিও এখনও। 
     
    প্রথমে ভেবেছিলাম কিনব না, কিন্তু তার পরে কেনা হয়ে গেল !

     
  • b | 14.139.196.16 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫০498856
  • ঐ জন্যেই আমি আত্মজীবনী লিখি নি। বড্ড  বেশি নেম ড্রপিং কত্তে হবে। 
  • dc | 27.57.5.175 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৪৯498865
  • দেরিদা, নেরুদা, মানুদা ইত্যাদিরাও কি আত্মজীবনী অসমাপ্ত রেখে গেছেন? 
  • bodhisattvagc dasgupta | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৫৮498879
  • লেখাটা বেশ মজার পড়ে দেখতে পারো। আমি বোধহয় এটা লোভ করে হার্ডব্যাক কিনে ফেলেছিলাম। ১৬ পাউন্ড মতো খরচ হয়েছিল মাইরি।  তিন চারটে জিনিস বেশ মনে আছে
    - একটা হিলারিয়াস জায়গায় নিজের ইংরেজি ভাষা শিখতে না পারার জন্য দায় দিচ্ছেন মা কে এবং বলছেন মা প্রোটেস্টান্টদের বিশ্বাস করতেন‌না বলে ইংরেজি শেখা হয় নি। 
    - আরেকটা জায়গা আছে মানে নানা ভাবে বোগোটার কাফে কালচার নিয়ে  বন্ধু দের নিয়ে
    - ১৯৪৮ এর বড় মুভমেন্ট এর সময়কার নেতাদের সঙ্গে কথা র কিছ রেফারেন্স আছে সম্ভবত 
    - আর যথারীতি দাদু মা দিদা বাবা দের নিয়ে , ভাই বোন কে নিয়ে এবং ' দ্য হাউজ'‌ নিয়ে এবং সম্ভবত কার্টাগেনা পর্যন্ত জাহাজ মাত্রার ক্যাওস ইত্যাদি নিয়ে নানা মজার কমেন্ট আছে।
    - লিফ স্টর্ম এর গল্পটা এবং ইউনাইটেড ফ্রুট এর কলার বাগানের  গন্ডোগোল এবং মৃতের  সংখ্যা নিয়ে নানা কথা আছে। এবং যথারীতি ইয়ার্কি মেরে।
     
    সিরিয়াস যেটা আছে , সেটা হল স্প্যানিশ সাহিত্যের রোমান্টিক ট্রাডিশন টা নিয়ে এবং কবিতার ট্রাডিশন নিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং কিছু খবর আছে। আমার এটা পড়ার সময় গ্রোসম্যানের লাইফ এন্ড ফেট মনে পড়ছিল কারণ রুশ ঊনবিংশ শতকের সাহিত্য ও পোলিটিকাল ফিলোসফি এবং আকচুয়ালি পাস্টোরাল ট্রাডিশন টা নিয়েও কিছু কথা ছিল যেটা আমি অনেক পরে পাস্টেরনাকের সম্পর্কে 
    অন্য একটা লেখা এল আরবি তে কিছু কনফার্মেশন পেয়েছিলাম। পিরিয়ড টা আলাদা  হওয়ায় হরি বাসুদেবনেও হয়তো পাইনি। ঠিক অত যত্ন ও খেয়াল করে পড়িনি তাও হতে পারে।  প্রগতি প্রকাশনার বাইরের রুশ সাহিত্য বা ধর লোরকা নেরুদা দের লেখার মধ্যে কনটেম্পোরারি দের নিয়ে যাআছে তার বাইরে এই দুই টা পড়ে কিছুটা জানা গেথীল বলে ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।
  • bodhisattvagc dasgupta | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৪৩498882
  • আমার একটা খুব ফেভারিট গুলোনো স্মৃতি আছি, আই আম নট  পার্টিকুলারলি কিন অন স্ট্রেটনিং আট আপ। হুয়ান রুল্ফো টায়ার সেল্সম্যান ছিলেন শোনা যায়, মার্কেজ ছিলেন এনসাইক্লোপিডিয়া সেলসম্যান । এবার সময়টা কাছাকাছি  এবং দেশটা সম্পূর্ণ আলাদা হলেও আমার কিরকম মনে হয় , দে বোথ হার্ড স্টোরিজ আবাউট ক্যারাকটারস লাইক পেড্রো পারামোস আন্ড দ্যা ভেরিয়াস লাইন্স অব বাস্টার্ডস। এবং আরো মজাটা হলো রুল্ফো অনেক বেশি কড়া মডার্নিস্ট হ ওয়ায় , হি রাইটস হোয়াট ইজ নোন আ্যজ স্পেয়ার প্রোজ। লাইক হেমিংওয়ে। আর মার্কেজ তো অতিরিক্ত মাচো হওয়ায় , বর্ষার বন্যার মত  অতিরিক্ত উত্তেজিত। তাই রুল্ফোকে প্রায় একশো বছর পুরোনো লাগে ধীর গতিটা র জন্য।  তবু আমার মনে হয় ওদের স্টোরিটেলিং চরিত্র গুলো র মধ্যে কমন শেয়ার্ড হিস্টোরি আছে। 
    এনরিক ভিয়া মাতাস এর একটা জোক আছে, সম্ভবত বার্টলেবি উপন্যাসে  রে রুল্ফো কম লিখতেন কারণ নাকি ওর যে মামা গপ্প গুলো বলে দিত সে নাকি শ্রীনিবাসের মত হঠাৎ মারা যায়। তো আমার কল্পনায় সেই মামাবাবু কোনো না কোনো দিন বোগোতার কাফে বা বেশ্যালয়ে এসেছিলেন:---)))))))))
  • সিএস | 49.37.34.2 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৪৭498883
  • বোধি, আমি মার্কেজের আত্মজীবনীর কথা লিখিনি, মার্কেজের বড় ছেলের লেখা সদ্যপ্রকাশিত বইটির কথা লিখলাম, যে বইয়ের উল্লেখ এই লেখাটির লেখক করেছেন।

    মার্কেজের বইটিও পড়িনি যদিও।
     
     
  • ওফ | 69.65.43.86 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:০০498884
  • হানুবাবু নতুন কিচু পড়ুন। মার্কেজ ফার্কেজ ত অনেকদিন হোলো। জাপানি লেখক পানুচিনি নাকাহাসির The Lonely Guitar পড়েচেন? কিংবা ব্রেজিলের বিচ্ছু সাহিত্যিক হোসে মারিনেজের Whiskey Correspondences? নাইজিরিয়ান টিকিয়া গাম্বালার Invisible Man নিয়ে এই সেদিন কত ঝড় বয়ে গেল, অরুন্ধতী রায় গার্ডিয়ানে পোবোন্দো লিখলেন, সে খবর রাখেন?
  • bodhisattvagc dasgupta | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:১০498885
  • হ্যাঁ সৈকত ২য়, আচ্ছা আমি ভাবলাম এই ছেলের  বইটা তো পড়েইছো , আত্মজীবনী নিজের লেখাটা পডনি।  ওকে তার মানে দুটোই পড়েছো , সরি বুঝতে পারিনি। ফালতু বাইট খচ্চা হলো:--)))
     
    ওফ, না আমি কোনো খবর রাখিনা, আর কিছু ই পড়ি নি আপনার তুলনায়। আই অ্যাম এগ্রি।
  • সিএস | 49.37.34.2 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:৫৮498886
  • হুয়ান রুল্ফোর এই যে মৃতদের শহর আর তার চরিত্ররা, পুরো লেখাটাই enigmatic আর আর  ক'দিন আগে আর্জেন্টিনার সেজার আইরার তিনটি উপন্যাস উপন্যাস নিয়ে গঠিত একটি বই পড়তে গিয়ে দেখলাম সেখানে Ghosts নামে একটি উপন্যাস আছে যেখানে নির্মীয়মাণ বহুতলের কেয়ারটেকার, তার পরিবার আর তাদের পরিচিত কিছু চরিত্র, এদের আশেপাশেই ঐ বহুতলে উড়ে বেড়াচ্ছে, জীবিত মানুষদের কাছাকাছিই রয়েছে ভূতেরা, স্বাভাবিকভাবেই, মানুষের প্রতিবেশী হয়েই যেন। কিন্তু লেখাটা এমন, এমনই মুন্সিয়ানা লেখার, ঐ enigmatic হয়ে রয়ে যায়। রুল্ফোর লেখাটিতে কত কী যে গুঁজে দেওয়া ছিল যেমন, সেই পর্যায়ের না হলেও সেজার আইরার লেখাটিতেও কত কী, দৈনন্দিন আর শহর দেশ ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছুই গল্পের মধ্যে ঢাকা দিয়ে রাখা আছে।

    রুল্ফোর সাথে কোন তুলনা নয়, এই এখন রুল্ফো প্রসঙ্গ এল বলে লেখাটির কথা মনে পড়ল।

    তো, মনে করি - সেজার আইরার বইটি পড়তে গিয়ে বা বোলানোর সংবাদপত্রে লেখা সাহিত্যবিষয়ক কলামগুলো আর কিছু স্পীচ নিয়ে যে সংকলন, সেই বইতে বিশেষ করে বোলানোর সমসাময়িক লাতিন আমেরিকার একাধিক লেখক আর উপন্যাসের কথা পড়তে গিয়ে, কিছু লেখা নেট থেকে নামিয়ে, একটু আধটু পড়ে - উনিশ শতকে ফরাসেরা বা রাশিয়ানরা গদ্য বা উপন্যাস নিয়ে যা  করেছিল, তার থেকে হয়্ত কিছু ধাপ নীচুতে থেকেই, সেই রুল্ফো - বোরহেস - কারপেন্তিয়ার - সাবাতো থেকে বুম - টুম হয়ে ১৯৯০ - ২০০০ সাল টাল অবধি লাতিন আমেরিকানরা উপন্যাসে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়ে গেছে। খুবই তৃপ্তিদায়ক আর আর্টসমন্বিত আর দেশ - কাল ধরে রাখা আর মডার্নিস্ট - ইম্যাজিনেটিভ  এইসব লেখাপত্তর !
     
     
  • সিএস | 49.37.34.2 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:২২498888
  • ভিয়া - মাতাসের Bartleby বইটার উল্লেখ করেছ, সেই বই এখনো পড়া হয়নি কিন্তু মেলভিলের Bartleby গল্পটা পড়লাম - মেলভিলের আরো কিছু ছোট লেখার সাথে - যে চরিত্রটাকে ভিয়া - মাতাস ব্যবহার করেছেন, তো মেলভিলের সেই Bartleby, কেরানী, মুখ নীচু করে ভালই কাজ করত , কিন্তু করতে করতে একদিন হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দিল, যাই করতে বলা হয় কিছুই সে আর করল না, করবে না, একসময়ে পাগলা গারদেই যেতে হল, মরেও গেল শেষে, তো সেই Bartleby কে দেখতে দেখতে বারবারই মনে হচ্ছিল, কাফকা কি এই গল্প পড়েছিল ? কাফকার লেখার আত্মীয় যেন এই গল্পটি, বোরহেস যেমন কাফকার লেখার সুত্র ধরে কাফকার উত্তরসূরীদের খুঁজে পেয়েছিলেন, এই লেখাটিও যেন তেমনই !

    তারপর নেটে দেখলাম, হ্যাঁ, প্রবন্ধ লেখা হয়েছে কীভাবে মেলভিলের Bartleby কাফকা বা কামুর লেখাকে অ্যান্টিসিপেট
    করে !

    সব ভাবনাগুলোই লোকজন আগেই লিখে ফেলেছে !
     
     
  • সায়ন্তন চৌধুরী | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:৪৪498891
  • আই প্রেফার নট টু: ভিয়া-মাতাসের ঐ উপন্যাসটি লেখকদের নীরব হয়ে যাওয়া নিয়ে; এটা সম্পর্কে বোলানিওর (সম্ভবত প্লেবয়কে দেওয়া) সাক্ষাতকারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য পাওয়া যাবে, যেখানে উনি বিভিন্ন ধরনের নীরবতার কথা বলছেন। যেমন কাফকা যখন ম্যাক্স ব্রডকে পান্ডুলিপি পুড়িয়ে দিতে বলেন, তিনি একধরনের নীরবতা চান। আবার রুলফোর নীরবতা, সেটা অনেক বেশি সম্পূর্ণ, কেননা তাঁর মনে হচ্ছে যা বলার ছিল তাঁর বলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে নীরবতা র‍্যাঁবোর, তা অনেক বেশি চিন্তিত করে। পৃথিবীর উদ্দেশ্যে র‍্যাঁবোর ঢের কিছু বলার ছিল বলে মনে হয়, যে সুযোগ তাকে প্যারিসের 'লিরিক-প্রস্রাবকারী' লিটেরারি এস্টাবলিশমেন্ট দেয়নি।
  • bodhisattvagc dasgupta | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:৫৪498892
  • বুমের  পরের লেখক দের মধ্যে মানুয়েল পুইগ মূলতঃ সেক্সুয়ালিটি নিয়ে,  রর্বোটো বোলানো খুব ই বিবলিওম্যানিয়ায় ভর্তি এবং সবচেয়ে ভারসাটাইল।  আরনেস্টো  সাবাতো , ইগনোসিও ডি লয়োলা ব্রান্ডাও , রোডোল্ফো ওয়াল্শ এদের একটা‌ ডিসটোপিয়ান ভিসন আছে যদিও সাবাতোই সবচেয়ে বড় আর্টিস্ট বলে মনে হয়।  ওয়াল্শ তো জার্নালিস্ট , কিন্তু ঘটনাটা এত ভয়ঙ্কর যে কল্পিত ডিসটোপিয়া মনে হবে।  ক্রিস্টিনা মার্টিনেজ আমি ভালো করে ধরতে পারিনি, আমার পক্ষে হয়তো বেশি সেনসিটিভ। কিন্তু আমার সমস্ত সমঝদার বন্ধুরাই তাকে কদর করেন।  আরেকটা কি যেন মার্টিনেজ ছিল , আরজেন্টিনিয়ান সে বিবলিওম্যানিয়াকাল  থ্রিলার লিখেছিল। কিন্তু ঐ জনরাটায় আমি একেবারে মাস্টার্স দের কিছু পড়েছি বলে চট করে ইমপ্রেসড হই না। কিন্তু যাকে  বলে ডেফিনিটলি সেক্সি লেখা। ছাড়তে পারবে না। 
     
    আমি জানিনা তুমি এগ্রি করবে কিনা লাটিন‌ আমেরিকান সাহিত্য যেমন সেই গখর্ডেন অফ ফোর্কিং পাথস এর মতো বোরহেসিয়ান সংশয়ে ভোগে, এখন মোটামুটি গ্লোবালাইজেশনের পরে সারা পৃথিবীর মতোই তাদের সাহিত্যেও আর্বিনিটি এত জেঁকে বসেছে যে তিনটে  জিনিসকে প্র্যাকটিকালি‌তারা রিজেক্ট করেছে। একটা হল ঊনবিংশ শতক ও‌ কলোনি , আরেকটা হল স্মল টাউন এবং রুরাল‌ লাইফ , আরেকটা হল আইডিয়া অফ ধর্ম গ্র্যান্ড সেটা হয়তো ওদের ঊনবিংশ শতাব্দীর বা বিংশ শতাব্দীর শুরুর কথা বেশি মনে পড়িয়ে দেয়, মেটার থেকে ওদের বাস্তবতা এগিয়ে গেছে। 
    অন্য দিকে স্পেনে , বা গোটা ইবেরিয়া তেই ইউরোপীয় ট্রাডিশন , বলা ভালো হাপসবার্গ ভিয়েনা ট্রাডিশন এর সঙ্গে নিজেদের ট্রাডিশন কে জুড়ে দেখার প্রবণতা বেড়েছে। এটা বোলানোর ও ‌শেষের দিকে হয়েছিল । আমি টাইমলাইনে দেখেছি এটা বার্লিন ওয়াল পতন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাথমিক সাফল্য যেটা আয়ারল্যান্ড স্পেন এবং পর্তুগাল কে ছুঁয়েছিল সেটার এফেক্ট বলেই মনে করি।  ওদের কলোনি র সঙ্গে পাঁচশো বছরের সম্পর্ক ফাইনালি সিভিয়ার্ড হয়েছে আউট অফ এমব্যারাসমেন্ট, সে খারাপ না। তবে আয়ারল্যান্ড এর সাহিত্য কে খাঁটি ইউরোপীয় হিসেবে দাবী করতে গিয়ে এবং তার আন্টি ইম্পেরিয়াল ট্রাডিশনকে অস্বীকার করতে গিয়ে প্রচন্ড  স্মার্ট হ ওয়া সত্ত্বেও এনরিক ভিয়া মাতাস প্রচুর ঝাড় খেয়েছে ন টেরি ইগলটনের কাছে। 
  • সিএস | 49.37.34.2 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ০০:৫২498894
  • সায়ন্তনের পোস্টটি পড়ে মনে হল -
     
     মেলভিলের গল্পটি যখন পত্রিকায় বেরোয়, তখন লেখকের নাম ছিল না, anonymously প্রকাশিত হয়েছিল, পরে মেলভিলের একটি বইতে সংকলিত হয়।

    এ যেন, জন্ম থেকেই গল্পটির সাথে কোন ব্যক্তির 'পরিচয়' লুকিয়ে ফেলা বা হারিয়ে যাওয়া যুক্ত; আরো লক্ষ্য করার যে মেলভিল আমেরিকান সাহিত্যে এমন একজন লেখক যার লেখাগুলি ওনার জীবিতকালে মোটামুটি অপঠিত, মেলভিল যেন পাঠকের আড়ালে চলে যাচ্ছেন, চুপ করে যাচ্ছেন, ক্যাপ্টেন আহবকে আর তিমি মাছ নিয়ে উপন্যাসটি তো কোন মর্যাদাই পাচ্ছে না, প্রায় সত্তর আশি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরে মেলভিল আমেরিকান সাহিত্যের প্রধাণ লেখক হয়ে উঠবেন।

    লেখকের আত্মপ্রক্ষেপ যেন গল্পের চরিত্রটিতে ধরা থাকছে, লেখকের হারিয়ে যাওয়া ধরা থাকছে বা সেই সুতো যেন ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে।

    ফলে Bartleby চরিত্রটির সাথে প্রথম থেকেই যেন লেখকনিয়তি জুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, সেই রকম লেখক যারা আড়ালে চলে যাবে ক্রমশঃ, কাফকা বা রবার্ট ওয়ালসারের মত কোন লেখক।

    বোলানো বা ভিয়া - মাতাস এই বিষয়টি ধরতে পেরেছিলেন।
     
     
  • সিএস | 49.37.34.2 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ০১:১৯498896
  • বোধিকে লেখার ছিল যে, ধর লাতিন আমেরিকান সাহিত্যে ১৯২০ - ৩০ নানা শহরকেন্দ্রিক লেখার একটা ধারা ছিল। জয়েস প্রভাবিত City novel যার মধ্যে দিয়ে সময়টাকে দেখা, সেরকম লেখা জার্মানীতে ডবলিন যখন Berlin Alexanderplatz লিখছেন, মোটামুটি সেই সময়ে বুয়েনসএয়ার্সকে বিষয় করে আর্জেন্তিনায় লেখা হচ্ছে, বোরহেসের এক গুরু স্থানীয়, লেখার দিক দিয়ে, নাম ভুলে গেছি, বোরহেসের বাবার বন্ধ, তার সেরকম লেখা একটি উপন্যাস ছিল, আভা - গার্দে, কমপঠিত। বোরহেস তো প্রথমদিকে যেন বুয়েনসএয়ার্সেরই কবি, যদিও pampas চেতনার মধ্যে পুরোমাত্রায়, শহর ও শহরের বাহির, তার কনফ্লিক্ট ক্রমশঃ লেখায় এসে যাবে, বোরহেসের লেখায় দুই দিকই ক্রমশ মিশে যাবে।

    এই যে pampas যা অনেকটাই মনোজাগতিক, সেটা যেন স্পষ্ট ও সরাসরি হয়ে লেখায় জায়গা করবে মার্কেজের লেখায়, বড় শহরের বিপরীতে, আমার কাছে যার বড় উদাহরণ হল Chronicle of a death foretold এর শহরটি। কেন, কীভাবে বিষয় ক্রমশ শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে আমার বিশদে ধারণা নেই, সমাজ - রাজনীতি আর লেখকেরা কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাচ্ছে, সেসবের সাথে নিশ্চয় যুক্ত, মার্কেজের নন ফিকশন লেখাগুলো থেকে হয়ত ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেখানে দেখা যায় মার্কেজ বিভিন্ন কারণেই ছোট শহরে যাতায়াত করছে।

    গ্লোবালাইজেশন আর মানুষের চলাচল একটা কারণ নিশ্চয় - সেজার আইরার যে উপন্যাসটার কথা লিখলাম সেখানেও পড়ি যে কেয়ারটেকার পরিবারটি সান্রিয়াগো থেকে কাজের খোঁজে বুয়েনসএয়ার্স চলে আসছে, লেখাটির বিবিধ দিকের মধ্যে এটি একটি সাবটেক্স্ট - কিন্তু কিছুটা হয়ত মার্কেজ নিয়ন্ত্রিত ম্যাজিক রিয়ালিজম যার মধ্যে ক্রমশ রিয়ালিজম কমে গিয়ে ফাঁপানো ম্যাজিকই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশী, সেই রকম লেখার রিয়াকশন হিসেবে শহর কেন্দ্রিক লেখার দিকে লাতিন আমেরিকানদের লেখা ঘুরতে থাকবে। লেখকের দেখা রিয়ালিটি পাল্টে যাবে; টেকনলজি দুনিয়া স্থানু হতে থাকবে, ডিসটপিক ভিশনের দিকে লেখা সরে যাবে, মনে হয় rixhardo piglia র এরকম লেখাপত্তর আছে, তদুপরি মার্কেজের অনুকরণে আইয়েন্দের লেখা নিয়ে বোলানোদের মস্করা তো আছে।
     
     
  • সিএস | 49.37.34.2 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ০১:২৪498897
  • ** বাবার বন্ধু
    ** সান্তিয়াগো থেকে
    ** Richardo Piglia
     
     
  • সায়ন্তন চৌধুরী | ০১ অক্টোবর ২০২১ ০৩:০৫498898
  • সিএসের সঙ্গে একমত। আমেরিকার আইডিয়াটিকে ধারণ করে আছে মবি ডিকহাক ফিন এই দুটি উপন্যাস। আবসালোম, আবসালোম পড়তে গিয়ে মনে হয়েছিল ফকনার কোথাও এই দুটি উপন্যাসের সংশ্লেষ ঘটিয়েছেন এবং এভাবেই তাঁর উপন্যাসটি আমেরিকান সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালগ হয়ে উঠেছে মনে হয়। যদিও করম্যাক ম্যাকার্থিকে ফকনারের উত্তরসূরী হিসেবে দেখা হয় এবং হ্যারল্ড ব্লুম খুবই প্রশংসা করেছেন, তবুও ফকনারের দানবিকত্ব আমি কারোর মধ্যেই পাইনা।
     
    অন্যদিকে, ফকনারের মতো করেই মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসকে ধরার চেষ্টা করেছেন সেখানকার লেখকরা; লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে একটা ভূরাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তাদের সেই নিঃসঙ্গতার কথা পাজ থেকে মার্কেজ সবার লেখাতেই এসেছে। কিন্তু উত্তর-ঔপনিবেশিক প্রথম প্রজন্মের লেখায় যে ইউরোপের প্রতিস্পর্ধী গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ ছিল, সেটা সত্তরের দশকে এসে ফুরিয়ে গিয়েছে। কবিতার দিকে যদি তাকাই, ঐ সময়ে পাজ, নেরুদা, পারা প্রভৃতি মহতী কবিদের মত মহতী কবি আর উঠে আসছে না, পরিবর্তে লাতিন আমেরিকায় ছোটো ছোটো আন্দোলন ঘটছে, যাদের মধ্যে হোরা জিরো বা জিরো আওয়ার নামে সবচেয়ে র‍্যাডিক্যাল আন্দোলনটি পেরুতে ঘটছে। তারা সেজার ভায়েহো ছাড়া পেরুর বাকি সাহিত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। এদের মধ্যে এক আভাঁগার্দ কবি মেক্সিকো আসছে এবং রবার্তো বোলানিও ও মারিও সান্তিয়াগো নামে দুই অখ্যাত কবি হোরা জিরোর প্রেরণায় ইনফ্রারিয়েলিজম নামক মুভমেন্টটি শুরু করছেন। বোলানিওর স্যাভেজ ডিটেকটিভ উপন্যাসে এঁদের পাওয়া যাবে আর্তুরো বেলানো ও ইউলিসিস লিমা নামে, যারা ভিসেরাল রিয়েলিজম নামক কাল্পনিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। [বেলানোকে একটি চরিত্র তৃতীয় বিশ্বের আঁদ্রে ব্রেতোঁ বলে ব্যাঙ্গ করে, কেননা ইনফ্রারিয়েলিজমের সঙ্গে ব্রেতোঁর একটা সম্পর্ক আছে: রবার্তো মাতা নামে এক চিলির শিল্পীকে ব্রেতোঁ পরাবাস্তববাদীদের দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং চল্লিশের দশকে মাতা শুরু করেছিলেন ইনফ্রারিয়েলিজম আন্দোলন, যার পুনর্জন্ম ঘটে সত্তরের দশকে।]
     
    এঁদেরকে বিট জেনারেশনের মেক্সিকান রূপ বা বোলানিও নিজেই যেমন বলেছেন দাদাইজম আ লা মেক্সিকানা সেভাবে দেখা ঠিক নয়। নব্বইয়ের শুরুতে মেক্সিকোর ক্র্যাক মুভমেন্ট বা চিলির ম্যাকোন্দো [ম্যাকডোনাল্ডস+মাকোন্দো] আন্দোলনের পূর্বসূরী হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। তাতে অনেকটা ভুল হয়ে যায়। ১৯৬৮ সালের ইউনামের হিংস্র ঘটনাটি বা ১৯৭৩ সালের চিলির ৯/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এঁদের বাধ্য করছে নতুন রকম লিখতে। স্যাভেজ ডিটেকটিভকে যদি রাজনৈতিক হিংস্রতা থেকে পালানোর বিবরণ হিসেবে ধরি, অ্যামুলেট উপন্যাসটিকে পড়তে হবে অন্ধকারের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হিসেবে। বোলানিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ মনে করি লিটারেচার অ্যান্ড এক্সাইল লেখাটি (বিটুইন প্যারেন্থিসিসে আছে)। সেটা পড়লে এঁদের চিন্তাভাবনা ও সংকটগুলো ধরা যাবে। মারিও সান্তিয়াগোর কবিতাও ২০১৮ সালে ইংরেজিতে বেরিয়েছে [পোয়েট্রি কামস আউট অফ মাই মাউথ]। একজন হাইডেগার ভক্তকে দেওয়া মার্ক্সের এক শিষ্যের উপদেশ শীর্ষক তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবিতাটি পড়া দরকার মনে করি। 
     
    ১৯৯৮ সালে মারিও সান্তিয়াগো মারা যান মেক্সিকো সিটিতে রাস্তা পেরোতে গিয়ে এবং লাশটা কোনো মর্গে বেশ কিছুদিন পড়ে ছিল। বোলানিও ২৬৬৬ লিখে মারা যাচ্ছেন ২০০৩ সালে। সেই উপন্যাস গড়ে উঠেছে বাস্তব মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেজে শ'য়ে শ'য়ে ওয়ার্কিং ক্লাস মেয়েদের খুনের অমীমাংসিত কেসগুলিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করব ঐ উপন্যাসের প্রথম অংশের একটি দৃশ্যের দিকে, যেখানে তিনজন সুশিক্ষিত সভ্য সাহিত্য সমালোচক লন্ডনের উপকণ্ঠে একজন পাকিস্তানী ট্যাক্সি ড্রাইভারকে লাথি মারতে মারতে প্রায় মেরে ফেলে এবং লাথি মারার সময় বলে এটা সলমন রুশদির হয়ে প্রতিশোধ। সভ্যতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ফ্যাসিস্ট প্রবণতা বোলানিওর প্রায় সমস্ত লেখার মূল বিষয়। এই হচ্ছে অপরিসীম ভায়োলেন্স, যা এইসব ভবঘুরে কবিদের লেখায় বারবার এসেছে। সেখানেই র‍্যাঁবোর সাথে এঁদের সখ্যতা। এটা শুধু আর্বানিটির ব্যাপার নয় বলেই মনে হয়েছে।
     
    এই আভাঁগার্দ কবিদের নিয়ে কোনো একদিন আমার লেখবার ইচ্ছে ছিল। এঁদের সমান্তরালে যে নববারোক রীতি তা নিয়ে বাংলায় শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলাম চোখে পড়েছে; ওনার কবিতায় নববারোকের প্রভাব আছে, আমি পছন্দ করি।
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.35.174 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ১১:২৩498915
  • আসলে বিষয়টা তো শুধু নগর নাগরিকতা বনাম গ্রাম এবং ভাষার আদি সত্ত্বা ইত্যাদির না, বিষয়টা হলো কলোনী হজম হলো না হলো না। খুব স্বাভাবিক ভাবেই ১৯১০-১৯৩০-৩৫ এর মধ্যে প্রচুর নাগরিক লেখা পত্র হচ্ছে লাতিন আমেরিকার স্প্যানিশ ভাষার জগতে ,বোরহেজ  কোর্তাজার  রা তো তার ই ফসল। এবার বামপন্থী বিকল্প ইতিহাসের ধারণা যখন দানা বাঁধছে, তখন ফকনার একটা স্পেশিয়াল মডেল দিচ্ছেন, অন্য দিকে কার্পেন্তিয়ের একদিকে পোলিটিকাল ডিরেকশন আনছেন, সেটা করতে গিয়ে ওনারা কলোনী ইত্যাদি নিয়ে ভাবছেন। কিন্তু প্র‌্যাকটিকালি ১৯৩৬-৩৭ থেকে ধরো নেরুদার নোবেল পুরস্কার অব্দি চলছে। কিন্তু লোক সংস্কৃতি এবং স্পিরিচুয়ালিটি র একটা নতুন আপসার্জ কে পোলিটিকাল বা এক্সপেরিমেন্টাল রাইটার রা বিশেষ হজম করতে পারছেন না। এটা আমেরিকান ফোক মিউজিক এর সঙ্গে এক্সপেরিমেন্টাল রাইটিং এর জটিল সম্পর্ক এবং আমাদের দেশেও ধরো নবান্ন ঘরণার আইপিটিএর কাজের সঙ্গে আর্বান থিয়েটার এর সম্পর্কের মত জটিল এবং অ্যাকচুয়ালি তুলনা টানা যায়। এটা দ্বন্দ্ব তো নকশাল আন্দোলনের মধ্যে প্রকট ছিল। সত্ত্বা , এসেন্স ইত্যাদির খোঁজ, অ্যান্থ্রোপোলজিকাল কোয়েস্ট, আর্বান ফ্লিটিং এক্সপেরিয়েন্স এবং এক্সপেরিমেন্টাল রাইটিং এর সঙ্গে একটা দ্বন্দ্বে পড়ে যাচ্ছে। নিকানর পারা ইত্যাদি রা নতুন করে আর্বান এক্সপেরিমেন্ট , যেখানে ক্ষমতার ক্রিটিক টাই মূল বিষয় , এটাকে গুরুত্ত্ব দিয়ে আনছেন। 
    আমি বলছি, যে গ্লোবালাইজেশন যেটা করছে, বোলানো দের প্রজন্মে এসে, ১৯৬৮-১৯৭৪ এর ইমিডিয়েট অ্যাটাক এর  স্মৃতি টাকে উসকে দিচ্ছে অন্যদিকে ফ্লিটিং এক্সপেরিয়েন্স, একসাইল অ্যাজ আ ক্রিয়েটিভ ইম্পাল্স এগুলো একমাত্র নগরে এবং মহানগরে একটা পরিসর পাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা যেটা থাকছে, সেটা হল, মোমেন্টারিজম এতটাই বড় হয়ে উঠছে, বড় বিকল্প সন্ধান আর কোন বিকল্প থাকছেনা , মুহুর্তের সত্য ও সততা একটা বড় বিষয় হচ্ছে, আর্টিস্টিক ইন্ট্রিগ্রিটি র একমাত্র প্রমাণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মদার্নিস্ট গ্রেট দের প্রতি মুগ্ধতা টাও ফিরে আসছে, কারণ সেখানে এই নাগরিকতার , নানা স্তরের নাগরিকতার , নানা ধরণের রিফিউজাল এবং অ্যালিয়েনেশন এর এক্সপেরিয়েন্স টা , যেটা ক্যাপিটালিজম এর অন্যতম দান সেটা সৃজনশীল ব্যক্তিকে নতুন করে ঘিরে ফেলছে। 
    বুম এর আগে, বুম এর সময়ে, বুম এর পরের লাতিন সাহিত্যকে আমি এভাবে দেখার প্রস্তাব আমার বিভিন্ন প্রবন্ধনে অগেও করেছি । কারণ আর কিছুই না,সভ্যতা র প্রতি , জীবনের প্রতি একটা সেন্স অফ বিট্রেয়াল যেটা সেটার এক ধরণের ট্রান্সফর্মেশন হচ্ছে। এবং একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যকে ইউরোপীয় ট্র‌্যাডিশন কে অতিক্রম করতে সাহায্য করছে, যেটা তোমার ধর আমেরিকান সাহিত্যে একটু অন্য ভাবে হয়েছে। তার চলন ইতিহাস ইত্যাদি আলাদা। 
     
    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত    
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.35.174 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ১৫:৫৫498922
  • বোলানোর লেখা র মধ্যে ২৬৬৬ এর মধ্যেই সরাসরি পাস্তোরাল এবং রুরাল এবং স্মল টাউনের বিষয় ও লেখক দের সম্পর্কে একটা স্পষ্টোচ্চারিত ডিসডেইন আছে, কারণ আর কিছুই না, অলটারনেটিভ এর চর্চা , কলোনীর ছোঁয়া লাগে নি এরকম বিশুদ্ধতার খোঁজ, বিকল্প ইতিহাস নির্মাণ প্রচেষ্টা এক ধরণের সেল্ফ সাসটেন্ড গ্রাম্যতা ব মুক্তাঞ্চল আনছে, যেটা আখেরে ফ্যাসিজম এর নানা ফর্মের বিরুদ্ধে যে ক্রিটিক, ক্যাপিটালিজম এর ক্লস্ট্রোফোবিক এক্সপেরিয়েন্স তার সঙ্গে সম্পর্ক রহিত। এটা খুব ই রেকারিং থিম বোলানোর মধ্যে। প্রোফেসর আমালফিতানো ক্যারাকটার টা তো যাকে বলে দিগন্ত পার প্র‌্যাকটিকালি ছাত্র ছাত্রীহীন ইউনিভারসিটির সাহিত্যের অধ্যাপক। তিনি অকারণে বার্সিলোনায় পুরোনো প্রেমিক কে চিঠি  লিখছেন, দুশ্যাম্প এর এক্সপেরিমেন্ট গুলো নিয়ে ভাবছেন, একই কারণে।
    সত্যিকারের ফ্যাসিজম, তার মিলিটারি স্ট্র‌্যাটেজি, আপাতঃ শান্তিকালে, সেই মিউজিক বক্স সিনেমার মত লুকোনো প্রবল ঘৃণা, এবং তার জন্য সুদূর থেকে আসা প্রগতিশীল আততায়ী, শান্তিকালে আত্মগোপন্কারী ফ্যাসিস্ট মনোভাব কে ল্যাম্পুনিং করার জন্য কল্পিত ফ্যাসিস সমব্যাথী  মহিলা কবি এবং তার ব্যর্থ লেসবিয়ান প্রেম এবং করুণ ভয়ানাক এক্সপ্লোসিভ পরিণতি এই যে জিনিস গুলো বোলানোতে ঘটছে, এটার প্রধান উদ্দেশ্যটাই হল, কবিতা রচনা, সাহিত্য কর্ম জিনিসটা যে যাপনেই মূলতঃ ব্যস্ত থাকছে, উত্তরণের সময় নেই, সেটাকে এম্ফাসাইজ করার জন্য লেখা। শুধুই মডার্নিস্ট কন্টিনিউইটি , সেজার টিনিয়েরো কে খোঁজার বিষয় না, বা বলা যেতে পারে, তিরিশের দশকের ফ্যাসিজম, বা ডিকটেটরশিপ কে জুঝবার সময় কার যে রেজিস্টান্স এর ধারণা, এই স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারে ইনট্যারন্যাশনাল ব্রিগেড এর মত, সেটা আরো বেশি আক্রমণে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়ে লড়াই টা পার্সোনাল হয়ে যাচ্ছে। পারা, বোলানো, আমি তো বলব নবারুণ  দের জেনারেশন টার ক্ষেত্রে এটাই পোস্ট সেভেন্টিজ এক্সপেরিয়েন্স অফ ডিফিট (ক্রিস্টোফার হিল স্মর্তব্য) । 
    নবারুন এর প্রথম দিক কার লেখায়, দেখছি, বালিগণ্জের কার শো রুম চুরমার করে দিচ্ছে এক শ্রমিক, সপ্তাহ পত্রিকায় বেরোনো গল্প ১৯৭০ এর আশে পাশে। আর ৯ এর দশকে দেখছি, ফ্যাতারু রা উড়ছে। চুরমার কিছুই করছেনা, হাগু টাগু ছুঁড়ে মারছে। বোলানোর লেখায় রেজিস্টান্স এর ভূমিকা যত আছে, রেজিস্টান্স কত টুকু আছে। ফ্যাসিস্ট আক্রমণ আরো তীব্র হয়েছে, সিস্টেমেটাইজ্ড হয়েছে, আরো ওভার এম্পাওয়ারিং হয়েছে, সেই অ্যালিয়েনেশন থেকেই, সেই আমুলেট এর অসামান্য দৃশ্যটা তৈরী হচ্ছে, যেখানে ১৯৬৮ র মেক্সিকো র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মিলিটারি r গুলি যখন চলছে সেটাকে রিকস্ন্ট্রাক্ট করা হয়েছে, গুলি যখন চলছে, বুটের আওয়াজ করিডরে,  তখন ভেনেজুয়েলান কবি , বাথরুমে লুকিয়ে থেকে ভাবছে, এই লুকোনো থেকে যদি বেঁচে ফিরতে পারি, আগামী প্রজন্মের জন্য আজকে খাদের ধারে যাদের গুলি করে মারা হল, তাদের জীবনামৃত টা আমি ই রক্ষা করে রাখবো। অসহায়তার কোন উচ্চারণ এদের আগের প্রজন্মের কোন আভা গর্দ , নিরীক্ষাপ্রেমী কবি লেখক দের মধ্যে এত বীরত্বপূর্ণ হয়েছে কি? নবারুন তো আরো মজার জিনিস করছেন। বাংলার কনটেক্সট এ যখন গ্লোবাঅলাইজেশনের , জবলেস গ্রোথের সমালোচনা করে , রেজিস্টান্স এর ধরণ খুঁজতে গিয়ে ফ্যাতাড়ু দের ইনভেন্ট করছেন, তাদের ইয়ার্কির স্বাধীনতাটাকে অন্তত তাদের হাতের অস্ত্র করে রেখে দিচ্ছেন, সেই একই লোক, উত্তর আর পশ্চিম ভারতের স্টীল অ্যান্ড গ্লাস সিটি গুলোর প্রেক্ষিতে যখন চিতামানুষ লিখছেন, তখন কিন্তু ইয়ার্কির স্বাধীনতাটাও আর মানুষ টার হাতে রাখছেন, অন্ধকারের দিকে ক্লান্ত সাইকেল চালানো টাকেই একটা ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া মেসেজ হিসেবে দেখাচ্ছেন। অর্থাৎ অনেক পুরোনো প্রগতিশীল দের মত পছন্দের চরিত্রে একটা একলা চলার গৌরব  নতুন করে প্রত্যর্পন করছেন। 
     
    এই বিভিন্ন প্রজন্মের নিরীক্ষা মূলক লেখালিখির মধ্যে যারা অন্তত একটু বেশি পোলিটিকাল, তাদের লেখায় রেজিস্টান্স প্রকরণ জিনিসটাই স্থান ও কাল ভেদে নানা রূপ নিচ্ছে। এবং বিপদের লোকেল আর মুক্তির লোকেল er একটা খোঁজ ও থাকছে। মার্কেজের স্মল টাউনে , ফকনার এর স্মল টাউনে কি , স্থানগৌরব গাথা আর ছোটো জায়গার প্রতিভার অ্যাসপিরেশন আছে নাকি, ওসবের বালাই নেই, ইন ফ্যাক্ট ছোটো টাউনের পশ্চাদপদতা আর দমবন্ধ পরিবেশ , ভাগ্যের পরিহাস টাই অনেক সময়ে মূল প্রতিপাদ্য। কিন্তু তবু কলোনীর ইতিহাসের মধ্যে বিকল্প জ্ঞান চর্চার একটা বিষয় রয়েছে, তার একটা খোঁজ রয়েছে, যেটা সরাসরি বিংশ শতকের ৪ থেকে ৬ এর দশকের রেজিস্টান্স এর আইডিয়া র সঙ্গে জড়িত। সেটার পরাজয়ের পরেই , এক্সপেরিয়েন্স অফ ডিফিট এবং ক্লস্ট্রোফোবিয়া এবং মোমেন্টারি ট্রুথ এর গল্প  ইত্যাদি।  
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.35.174 | ০১ অক্টোবর ২০২১ ১৫:৫৮498923
  • ** আর রাখছেন না
  • সায়ন্তন চৌধুরী | ০১ অক্টোবর ২০২১ ২৩:৫২498956
  • ঠিকই বলেছেন। সেজন্যেই বোলানিওকে আমি কেবল কন্ট্রারিয়ান হিসেবে পড়িনা। বোলানিও তাঁর লেখায় দূরবর্তী সাহিত্যের প্রভাবকে গ্রহণ করেছেন। যেমন, তাঁর কবিতা নিউ ইয়র্ক স্কুলের কাছাকাছি বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে ফ্র্যাঙ্ক ও'হারার সবচেয়ে কাছাকাছি। এই যে সীমানা-অনির্দিষ্ট সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক, এটা একটা সময়ের ব্যাপার; হয়তো জাতীয়তাবাদী রাজনীতির হিংস্রতাই তাঁকে লাতিন আমেরিকার গন্ডির বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। যদি ইউরোপের কাউন্টারকালচার লক্ষ্য করা যায়, দেখা যাবে লৌহ পর্দার দুদিকেই সেটা ঘটছে। নানাভাবে ঘটছে। সোফি পোডোলস্কির কথা আমাদের বলে যেতে হবে, কেননা সোফি পোডোলস্কি একজন অসামান্য কিন্তু ভুলে-যাওয়া কবি ও গ্রাফিক আর্টিস্ট। একুশ বছর বয়সে স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এই বেলজিয়ান কবি আত্মহত্যা করছেন, কুড়ি বছর পর্যন্ত তিনি ছিলেন স্টেটলেস; তাঁর পরিবার এসেছিল ইউক্রেন থেকে। ফরাসী ভাষায় তাঁর নোটবুকটিই তাঁর একমাত্র বই যে দেশে সবকিছুর অনুমতি আছে, সেটা আজও ইংরেজিতে পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ হয়নি। আমার কাছে যেটা আছে, তা পোডোলস্কির আর্টের প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে ছাপানো একটা স্মরণিকা গোছের; তাতেই কিছু কবিতা ও আঁকা পাওয়া যায়। তো এঁর কবিতা সাইকেডেলিক ইমেজারি, পপুলার কালচার রেফারেন্স, যৌনতা আর গ্রাফিক ভায়োলেন্সে ভর্তি; ইনি ছিলেন সমকামী, এবং এঁর কবিতার মধ্যে যেন ক্যুইয়ার ইউটোপিয়া ধরা রয়েছে। পৃথিবীর এরকম প্রায়বিস্মৃত কবিদের সঙ্গে আমাদের সেতু বোলানিও; ভিয়া-মাতাস কোথাও যেমন লিখেছেন, আমাদের সৌভাগ্য যে বোলানিও সবই পড়তেন। বোলানিও সোফি পোডোলস্কির মৃত্যুর বেশকিছু বছর পরে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছেন ফ্রান্সে লুনা পার্ক ২ নামে অধুনালুপ্ত একটি আভাগার্দ পত্রিকায় এবং ইনফ্রারিয়েলিজমের যে ম্যানিফেস্টোটি তিনি লিখছেন, সেখানে সোফি পোডোলস্কির প্রভাব থাকছে। এভাবেই ভাষাসাহিত্য ক্রমশ ভৌগোলিক সীমানা ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। সেটা ঘটছে হয়তো গ্লোবালাইজেশনের জন্যেই; কিন্তু তার ভায়োলেন্সের চিহ্নগুলি ধরা থাকছে।
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৩ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৩499003
  • আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুব সাংঘাতিক টনভিন্সড নই, আন্তর্জাতিকতা নিয়ে রাজনৈতিক অর্থে বোলানো খুব দুশ্চিন্তা করতেন। তাঁর আন্তর্জাতিকতাটা একদিকে পশ্চিমী সাহিত্যের সমস্ত স্বল্প পঠিত জিনিসপত্রের উপরের একটা কৌতুহল ছিল। আর পাকে চক্রে ভাষাকেই নিবাস করার একটা বাধ্যবাধকতা তাংর জীবনে এসেছে, সাহিত্যিক , কবির জীবনের এক্সাইল , নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি বিষয় তাঁর লেখায় এসেছে, কিন্তু কোর্তাজার এর হপ্সকচের চরিত্ররা যেরকম দেশের ভাবনার ঘোরে থাকছে বা আজকের অর্থে যেটাকে অভিবাসী সাহিত্য বলি কোনো টাই বোলানোর সেন্সিবিলিটির মধ্যে নেই। বোলানোর একটা যাপনের এবং আর্টের বিশুদ্ধতার খোঁজ আছে , সেটা তাঁকে খানিকটা তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, এক ই সঙ্গে চিলি বা মেক্সিকো থেকে বার্সিলোনার সাবার্বে চলে আসাটা একটা গ্লানির জন্ম দিয়েছে, সে জন্যেই খুঁজে খুঁজে দক্ষিণ আমেরিকার ফ্যাসি্সট হত্যা করা প্রগতিশীল আত্মগোপনকারী আততায়ী রে কিনা আসলে আয়েন্দের আয়লের  পুলিশ এরকম সব বিচিত্র চরিত্র উদ্ভাবন করতে বাধ্য করছে।
    রাজনৈতিক ভাবে দেখতে গেলে বোলানো চুড়ান্ত এসকেপিস্ট অথবা ব্যর্থ বিপ্লব নিয়েই বেশি স্বচ্ছন্দ। এবং শিখন্ডীটা হল ব্যক্তিগত প্রকরণের বিশুদ্ধতা র খোঁজের, যা কিনা বিশুদ্ধ স্বল্পপঠিত আর্টের খোঁজে র সঙ্গে ওভারল্যাপ করছে। :-)))) ধরুন জার্মানির মাওবাদী বাদের মেইনহফ দের যখন গ্লোরিফাই করছেন তাদের ইউরোপীয় মাওবাদ তখন‌ মৃত , এমন কি ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সেমর মিক্সড রেস সমসাময়িক বিপ্লব প্রচেষ্টার গুলোর সেরকম রেকগনিশন নেই। অন্য দিকে নিউ ইয়র্কে র এক কৃষ্ণাঙ্গ কমিউনিস্ট কে তার পরাজয়ের মাধ্যমে ই মহান করছেন, তিনি সেই বিচিত্র লোক যিনি এতটাই আনকম্প্রোমাইজিং যে একজনের কমিটি মিটিং নিজেই রিপোর্ট পড়ে নিজেকেই শোনাচ্ছেন। ইত্যাদি।
    আসলে বোলানো , নিকানর পারা দের যে আর্বানিটির খোঁজ সেটা , ম্যাজিক রিয়ালিস্ট দের কেন্দ্র করে যে এসোটেরিক টেন্ডেন্সি নিয়ে পশ্চিমে বেশি কথা চলেছিল তার বিরুদ্ধে রেগে গিয়ে। ম্যাজিক রিয়ালিজম সেরা আর্টিস্ট রাও এই প্রকোষ্ঠীকরণে অসোয়াস্তিতে ছিলেন। 
    তো যেহেতু এই আর্বানিটির খোঁজ একধরণের সাতের দশকের শুরু থেকেই ,‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌আয়েন্দের  হত্যা,‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌নেরুদার প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার অভিযোগ, পিনোশের ক্ষমতা   দখলের পরে, আর্জেন্টিনা , ব্রাজিল ইত্যাদিতে জুন্টারা আসার পরে তীব্র এক্সপেরিয়েন্স অফ ডিফিট এর সঙ্গে কো ইনসাইড করছে তাই ব্যক্তিগত পলায়ন, বিশুদ্ধতা র খোঁজ , ব্যক্তিগত রেজিস্টান্সের খোঁজ ইত্যাদির একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করছে বোলানো দের মনে, তার পরে সেই সেনসিবিলিটিতে এক্সাইল ও ইউরোপ , এবং নিউ ইয়র্ক আর্বানিটি‌ জায়গা পেয়ে  বসছে। 
     
    মনে করে দেখুন পোল্যান্ডের পর্ণোগ্রাফিয়ার লেখক  উইটোল্ড গোম্বরোউইচ , শেষ জীবনটা কাটাচ্ছেন বুয়েনাস এয়ারেস এ, এমিগ্রে পলিটিক্স এ যেখুব জড়াচ্ছেন তার না। ১৯৪৫ এর আগে থেকেই রাইট উই়ং লোকেরা আর্জেন্টিনায়, বামপন্থী বিপ্লবীরা মেক্সিকোতে ইত্যাদিতে নানা কারণে গিয়ে উপস্থিত হতো, যুদ্ধ থেকে পালানো, নিজের দেশের নতুন এমার্জিং অর্ডার থেকে পালানো, ফ্যাসিস্ট দের সাদা স্বর্গের হাতছানি, আবার নতুন বিপ্লব সম্বভাবনা সব ই তার মধ্যে ছিল। গোম্বরোউইচের কথা বললাম, একটা দশক আগে ভিকটোর সার্জ অফ অল‌ পিপল , মস্কো থেকে ব্রাসেলসে বহুদিন‌বাদে ফিরে আবার ট্রটস্কির পেছন পেছন মেক্সিকো গেছিলেন। অন্যদিকে বুল্গাকভদের যে মস্কোর আন্ডারগ্রাউন্ড আড্ডা সেটা কখনোই পশ্চিমের সঙ্গে যোগাযোগ হারায় নি। আপনি ওলগা গ্রুশিনের ড্রিমস অফ সুখানভ বা ভ্লাদিমির সোরোকিন দের লেখায় এর আন্দাজ পাবেন। ছয়ের দশকে পালিয়ে আসা কুন্দেরা তো সরাসরি ফরাসী কমিউনিস্ট আরাগোঁর সহায়তা পাচ্ছেন। এবং প্রবল কমিউনিস্ট বিরোধিতা র আইকন হয়েও সেটা স্বীকার করছেন। এই যোগাযোগ গুলো না থাকলে এবং তাতে প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই ব্যক্তিগত ও সাবভার্সিভ অনুমোদন না থাকলে গ্রোসম্যান , এরেনবুর্গ, আখতামোভা, পাস্তেরনাক,  ম্যান্ডেলস্টামদের টেক্সট পশ্চিমে এসে পৌছতো‌না কয়েক দশক ধরে , কোল্ড ওয়ারের মধ্যে।
    আসলে সোভিয়েত ইউনিয়নে স্বপ্নের মৃত্যু টা নানা ফর্ম নিচ্ছে, কোথাও কলোনি র সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার আকাঙ্খার যে ধারা তার সঙ্গে জুড়ে গিয়ে লোকে বুঝছে সোশালিস
    ট রিয়ালিজম চলবেনা আমার কল্পনার স্বাধীনতা কে ফেরাতে হবে , এ ই করতে গিয়ে কোথাও ম্যাজিক রিয়ালিজম হচ্ছে, কোথাও মর্ডানিজমেই আস্থা থাকছে ( আরবে এটাই বেশি হচ্ছে, যেটা একটু‌ পরে লাতিন‌ আমেরিকাতেই হচ্ছে) , আবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে যেমন একদিকে বুল্গাটভ রা বা আর্টে অন্য নিরীক্ষাবাদীরা তারা সকলেই পোট মর্ডানিস্ট নন, অন্যদিকে সোশ্যালিস্ট রিয়ালিজমের ধারাতেই স্টালিনিজমের সবচেয়ে সাসটেইনড ক্রিটিসিজম আনছেন গ্রোসম্যান এবং এরেনবুর্গ। 
    ইত্যাদি।
    সাতের দশকের একদিকে শান্তি আন্দোলন আর সিভিল‌ রাইটস আন্দোলনে জয় ,  বিপ্লব প্রচেষ্টা গুলির‌ পরাজয় এবং বছর কুড়ি বাদে সোভিয়েত পতনের আগেই বিকল্পের  ধারণায় বড় ধাক্কা লেগে গেছে,  আস্তে আস্তে সেই বৃহৎ পরাজয় রাডিকাল‌ রাইটিং এর সমস্ত ধারাকেই  ওয়েলফেয়ার স্টেটের ফাইন‌ টিউনিং এ পর্যবসিত করছে। অন্তত ইউরোপীয় ভাষার জগতটায়। বোলানো তার ব্যতিক্রম নন, মূলতঃ কবি বলে এবং ১৮-১৯ বছর বয়সের বাচ্চাদের মত রাগটাকে আমরা একটু আহ্লাদ বেশি দেই। সেটা ঠিকই আছে। তবে বোলানো কে আমি ভিয়া মাতাসের থেকে সম্মান একটু বেশি করি , হিস্ট্রি অফ পোর্টেবল‌ লিটারেচার এর অন্যান্য বক্তব্যের মধ্যে যেটা আকচুয়ালি আপত্তিকর এবং গদগদ বোধ করার কোনো কারণ নেই সেটা হল সরাসরি বলছেন আর মহত সাহিত্য হবার কোনো সম।ভাবনা খুব কম, হিউমর হিসেবেই ‌‌‌‌‌‌‌‌বলছেন কিন্তু এটার জন্য ওনাকে আমি অন্তত সারাজীবন প্যাঁক দেবো। এগুলি বলা উচিত, এবং পাঠ অভিজ্ঞতা র রমরমার বাজারে ক্রিটিসিজমের ট্রাডিশনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটুকু আমরা করতেই পারি। :--)))) 
      
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৩ অক্টোবর ২০২১ ১১:১৯499006
  • ২০০২-২০০৩ নাগাদ , লন্ডন‌ শহরের বার্কবেক, ইউ সি এল‌এ, সো আস , স্কুল‌অফ র, স্কুল অফ এডুকেশন ইত্যা ইন্স্টিটিউটের কাছেই, আকচুয়ালি বিভিন্ন সময়ে অয়লার, রামমোহন, ডিকেন্স এবং এলিয়টের বাড়িগুলো র কাছেই, মেকলেনবার্গ স্কোয়ারের উইলিয়াম গুড এনাফ হলে আমার একটা বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয় । একজন রোগা চশমা পড়া তিতিবিরক্ত নীচুতলার‌ ডিপ্লোম্যাট একটা বক্তৃতা দেন , লাতিন‌ আমেরিকান‌ সাহিত্য সম্পর্কে,‌ নেরুদা, মার্কেজ,‌ই সাবেল‌ আয়েন্দে কে তুলোধুনো করেন, ফুয়েন্তেস নিয়ে একটু সাবধানে কথা বলেন, এবং নিকানর পারা কে নিয়ে এবং আমোরেস পারোস সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের একটি মেয়ে , আমার বন্ধু,  ভাষার আন্তর্জাতিকতা ,‌‌‌‌‌‌‌‌‌বর্ডার হীনতা  ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্নের খুব ই রুড জবাব দেন ভদ্রলোক, বলেন‌এসফ আজগুবি প্রস্তাব।   ভাষাকে দেশ‌ ভাবতে পারি কিন্তু বর্ডার তো থাকবেই। 
    এরপরে শুধু ই সম্ভাবনার কাহিনী। অল্প কিছু দিন পরে ফুয়েন্তেস এর ক্রিস্টাল‌ ফ্রন্টিয়ার্স এর ইংরেজি অনুবাদ বাজারে আসে এবং আমরা 
    গোগ্রাসে গিলি, যেটা ঐ মেক্সিকো র আরিজোনা বর্ডারের‌ গল্প, বোলানো টেরিটোরি। এবং আরো বেশ‌কিছুদিন বাদে দেশে ফিরে আমি স্যাভেজ ডিটেকটিভ, বাই‌ নাইট ইন‌ চিলি, এবং ২৬৬৬ আর ডিস্টান্ট স্টার, পুলিশের গল্পটা আর বোধহয় গেমার দের ছুটি কাটানোর গল্পটা পড়ি, আইস স্কেটিং রিংক ইত্যাদি বোধহয় পরে পড়ি, আর ভাষাবন্ধনের জন্য ‌‌‌‌‌‌প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে বোলানোর ছবি দেখি আর নাতাশা উইমারের লেখা গুলো‌ পড়ি।
    ছবিতে যাকে দেখি তাঁর চেহারার সঙ্গে সেই মেকলেনবার্গ স্কোয়ারের তিতিবিরক্ত ভদ্রলোকের চেহারার আশ্চর্য মিল । বাকিটা তো যাকে বলে ইতিহাস হতে গিয়েও শুধু ই সম্ভাবনা হয়ে রইলো। আমার জীবনে এটাই মাইরি রবিন সিং এর‌খেলা ভালো‌লাগার অভিশাপ , যার ডেবিউ হয়েছিল ৩৭ বছর‌বয়সে:---)))))))) হাহাহাহাহা:--)))))))))
  • Sandipan Majumder | 43.252.250.123 | ০৪ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৪৪499050
  • এতজন বিদগ্ধ মানুষের  এখানে  সমাবেশ হয়েছে যাঁরা  লাতিন আমেরিকার  সাহিত্য  সম্পর্কে  আমাদের অনেক কিছু জানালেন। মনে হচ্ছিলো একটা  জমাটি সাহিত্য  সম্পর্কিত  আড্ডার শরিক  হয়ে উঠেছি। আমি আনন্দিত  এবং অভিভূত। লিংকটা ফেসবুকে শেয়ার  করলাম  যাতে বন্ধুবৃত্তের আগ্রহীরা  পড়তে  পারেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন