• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • জীবে খুন করে যেইজন

    প্যালারাম লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বুদ্বুদবাসী জীবন আমার। কখনো বিজ্ঞান, কখনো সাহিত্য, কখনো দার্শনিক সব প্রশ্ন – একের পর এক এমন নানা বুদ্বুদে লাফিয়ে লাফিয়ে কেটে যায় দিন। কালেভদ্রে একেকটা সময় আসে, বা কিছু ঘটনা ঘটে, যা শুকনো, ঝোড়ো হাওয়ায় ওই ফেনা ফাটিয়ে বের করে নিয়ে আসে। ক্ষণেক আগের ঐ জীবনযাপন তখন ধোঁয়াটে, অলীক – খুব দূরের মনে হয়।
    আজ সেরকমই একটা দিন। আগেও বহুবার এমন দিনের যমজ ভাইয়েরা এসেছে – নাড়া দিয়ে, উত্যক্ত করে, চলে গেছে। মাঝরাতে জেগে ওঠা খোকার মত খুব খানিক চেঁচিয়ে আবার গুটিয়ে গেছি গর্তে। দিনগত পাপক্ষয়ে অবসাদ আসে, গ্লানি জন্মায় না। আবারও তা-ই হবে।
    আজ নয়। আজ কাজে মন বসবে না। মাথায় ভিড় করা প্রশ্ন, ছবি, কথা – সবই ঘুরবে একই বিষয় ঘিরে। তার চেয়ে কথাগুলো উগরে ফেলে হালকা হওয়া ভাল।
     
    বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ শয়তান?
    জীবে খুন করে যেইজন, সেইজন আসল শয়তান...

    ... যদি কোনো ব্যক্তি (বা সংগঠন বা গোষ্ঠী) মনে করে, যে কিছু সহ-মানুষকে খুন করার মধ্যে দিয়েই তার দেশকে, জাতিকে, বা শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন করা যায় – তবে সে-ই হচ্ছে আসল শয়তান, আসল অপশক্তি। সুপার-ন্যাচারাল জিনিসপত্র না খুঁজে, আগে তার বিরোধিতা করতে হবে।
    The Day of the Beast (1995) সিনেমার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে, চন্দ্রিলের উক্তি। আজ সকালেই শোনা। বন্ধুস্থানীয় জুনিয়রের পাঠানো ভিডিওয়। প্রায় দু’ঘন্টার ভিডিও-তে চিন্তার খোরাক অনেক। এই অংশটা শোনার সময় মাথায় আলাদা করে প্রথমেই আসে নাগরিক-পঞ্জি (NRC)-র কথা। মনে পড়ে, নোনাডাঙার উচ্ছেদের সময় এসেছিল এমনই এক ঝোড়ো-বাস্তবের বাতাস – আমার ফেনাবাসী অস্তিত্বের গোড়া ধরে নাড়ানো কোনো এক দিনে। সেই তখনই পড়েছি, শঙ্খ ঘোষের ‘ভিখিরির আবার পছন্দ’। সে লেখায় কোথাও উচ্ছিন্নের ক্রোধ নেই, প্রতিবাদ নেই, দল-পাকানো ভীরু পুলিশের উদ্দেশে একা লাঠি-হাতে ছুটে যাওয়ার অবিমৃশ্যকারী উন্মত্ততা নেই। আছে অসহায় মেনে নেওয়া – কখনো হয়তো বা নিরুপায় আনন্দেই –
     
    “থাক সে পুরোনো কাসুন্দি / যুক্তিতর্ক চুলোয় যাক
    যেতে বলছো তো যাচ্ছি চলে / ভাঙবার শুধু সময় চাই
    ভাঙবার শুধু সময় চাই / এ রাস্তা থেকে ও রাস্তায়
    হব কদিনের বাসিন্দা / কে না জানে সব অনিত্য
    কে না জানে সব অনিত্য / নিয়ে যাই তাই খড়কুটো
    বেঁচে যে রয়েছি এই-না ঢের / ভিখিরির আবার পছন্দ!
    ভিখিরির আবার পছন্দ / ঠিকই পেয়ে যাব যে-কোনো ঠাঁই
    আবারও ভাঙার প্রতীক্ষায় / কেটে যাবে দিন আনন্দে
    কেটে যাবে দিন আনন্দে / ভাসমান সব বাসিন্দার
    জীবন তো একই কাসুন্দি / ভিখিরির আমার পছন্দ”
  • আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar

  • এ লেখা পড়ে মন খারাপ হয়, অসহায়তা গ্রাস করে, সমবেদনা জাগে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও, এ-ই যথেষ্ট ছিল হয়তো। আজ আর নয়।
     
    গুরুর দু’টো চটি আছে এনআরসি নিয়ে, তার একটি নিতান্ত নামেমাত্র বই - দু’টি-মাত্র লেখা তার সম্বল। সেই নিতান্ত রোগা বইয়ের তেজ কম নয় কিন্তু! প্রথমবার পড়ে মাথা ধরে গিয়েছিল।  এর কারণ যতটা লেখার জোর – প্রায় ততটাই, আমার এনআরসি-বিষয়ে তৎকালীন অজ্ঞতা। বইয়ের পিছনের লেখাটিই তার বিজ্ঞাপন: ‘এ কোনো তত্ত্বের বই নয়। এ ঠিক তত্ত্বকথার সময়ও নয়। অত্যন্ত তাড়াতাড়ি করে তৈরি পুস্তিকার আকারের সাদাকালো এই বই শুধু ভয় পাওয়ানোর জন্য তৈরি। সে ভয় একেবারেই অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে সমগ্র বাঙালি জাতিকেই ধবংসস্তূপে পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে সর্বভারতীয় স্তরে। আসামে এনআরসির নামে কী হয়েছে, এবং পশ্চিমবঙ্গে কী হতে পারে, সেই সংক্রান্ত দুটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে এই বইয়ে। আসামের লেখাটি মূলত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাপ্রসূত। বাংলা সংক্রান্ত লেখাটি আসামের অভিজ্ঞতাকে বাংলায় ফেললে কী হতে পারে, তার সম্ভাব্য রূপরেখা। লেখা দুটি পড়লে যদি হাড়ের ভিতর কাঁপন ধরে পাঠকের, তবেই এই বইয়ের সার্থকতা। এই ওলটপালট সময়ে ভয়ই হয়ে উঠুক প্রতিরোধের উৎস, বাঙালির রক্ষাকবচ।’  
    বইয়ের প্রথম লেখাটি দেবর্ষি দাসের। নাম জানার পরে গুরুসন্ধান করে খুঁজে বের করি তাঁর লেখাগুলি। এরকমই এক লেখার নাম ‘আসামের উচ্ছেদ অভিযান’। ২০১৭ সালের লেখা। লেখার শুরুর কিছু অংশ এইরকম -
    গুয়াহাটী শহরের উপকণ্ঠে আমসাং অঞ্চলে ২৭ তারিখ থেকে এক বাহিনী অভিযান চালায়। প্রায় ২০০০ পুলিশ ও নির্মাণ কর্মী, ডজন খানেক হাতি ও বুলডোসার নিয়ে গঠিত এই বাহিনী। বাহিনীর কাজ আমসাং-এর গরিব লোকেদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া। তিন দিনে প্রায় হাজার খানেক বাড়ি ভাঙা হয়। জনা সাতশো পরিবার উচ্ছিন্ন হন। খেপা জনতাকে সামাল দিতে পুলিশ লাঠি, কাঁদানে গ্যাস চালায় তাতে আবার কিছু লোক আহত হন।
    এই লেখাতেই, এ প্রশ্নও তোলা হয়েছে, ‘উচ্ছিন্নরা স্থানীয় জনজাতি (খিলঞ্জিয়া) না হলে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এতটা জোরালো হত কি?’ এই লেখা পড়লেও, মনে প্রতিবাদ, সমবেদনা, বিষণ্ণতা – সবই জাগে – যা যা ঐ শঙ্খবাবুর কবিতারও বৈশিষ্ট্য।
     
    এ সব অন্তত ৩-৪ বছর আগের কথা। দিনকাল বদলেছে। বিবিসি বাংলা গতকাল বলেছে
    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের দরং জেলায় ... হাজার হাজার বাঙালি মুসলিমকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার পর বৃহস্পতিবার সেই আশ্রয়চ্যুতদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে ... ধলপুর গ্রামে একটি প্রাচীন শিবমন্দিরকে অনেক বড় আকারে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরেই আসাম সরকার সেখানে দফায় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, যদিও সেই ভিটেমাটি-হারানোরা দাবি করছেন তাদের সব ধরনের সরকারি নথি ও পরিচয়পত্রই আছে ... প্রায় ৭৭ হাজার বিঘা জমি দখল করে বিশাল একটি শিবমন্দির কমপ্লেক্স বানানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বেশ কয়েক মাস ধরেই।
     
    আজকের খবর? চন্দ্রিলের ভিডিও দেখা শেষ করেই যা চোখে পড়ল, তা হল সারা ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি মানুষের হত্যার ভিডিও। কবিতা কৃষ্ণনের ট্যুইটে শেয়ার হওয়া সেই ভিডিওর নীচে যে শেষমেশ রাজনীতি, পুলিশের আসল উদ্দেশ্য, পুলিশের নিজেকে রক্ষা করার উচিত কিনা – এসব নিয়ে জলঘোলা করা হবে, তাতে কারুর কোনো সন্দেহ ছিল না। কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে, কতদিন ধরে, উচ্ছেদ কতটা ন্যায়সঙ্গত, কোনো মূল্যেই – নাগরিক, পুলিশ – কারুর জীবনের বিনিময়েই কি মন্দির বানানোর নামে উচ্ছেদ করা দরকার – এ সব প্রশ্ন ছাপিয়ে উঠে আসবে, ভিডিওতে দেখানো একটিমাত্র লোককে অনেক পুলিশ মিলে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা ছাড়াও কোনো ‘বৃহত্তর’ ছবি ছিল কিনা। কেউ আর একটা ভিডিও শেয়ার করে দেখাবে, ‘আহা, পুলিশ বলে কি মানুষ নয়?’ মুখ্যু-মন্ত্রী হিমন্ত শর্মা এরই প্রতিধ্বনি করে বলবেন, ‘পুলিশ তো নিজের কাজ করছিল, ওই লোকগুলোই লাঠিসোটা নিয়ে ওদের মেরেছে।’
     
    কেউ প্রশ্ন করবে না, কি করে মানুষ-খেদানো ‘কাজ’ হতে পারে। তার বদলে, কেউ জিগাবে, ঐ ফটোগ্রাফারটা কে ছিল? কেউ বলবে, “ওই যে পুলিশ প্রথমে পিছিয়ে এল না, ওটা ভয়ে নয় মশাই, স্ট্র্যাটেজি। লোকটাকে কাছে টেনে নিয়ে ঘিরে ধরে ক্যালাবে বলে।” সত্যিই তো! ভেবে দেখিনি এভাবে। এসব যে কেন স্কুলের সিলেবাসে থাকে না!
     
    মরা লোকের হয়ে কে কথা বলবে জানি না। আদৌ কি কেউ বলবে? সব মৃত্যুর মতই, এ-ও কি সেই থুতু-ছোঁড়াছুঁড়ির খেলার অজুহাত-মাত্র হয়ে উঠবে না? বাম বলবে,
    “Amit Shah you called East Bengal-descent Muslims ‘termites’ to explain NRC CAA ‘chronology’. No one feels a paroxysm of glee jumping on dead termites; only the ‘high’ of hate-filled murder of a human weaker than you does that. Congrats, your words are the drug that caused this.”
    – যেমন বলেছেন কবিতা কৃষ্ণন, তাঁর ফেসবুকের পোস্টেডান বলবে, “... Muslim Bangladeshi encroachers attack Police party and seriously injured 11 Police officers who was there to evict encroachers. In retaliation @assampolice opened defensive fire and neutralised two attackers.” ইতর বলবে, “I thank a lot to Assam police for their bravery, this is exactly how terrorists should be treated.”
     
    ইতরেতর? হাতে ক্যামেরা নিয়ে একটা লোকের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে তাকে মেরে ফেলার মাধ্যমে, নিজের সমস্ত অপছন্দ, অপ্রাপ্তি, অসুখের জন্যে অন্য গোষ্ঠীর মানুষেরা দায়ী – এই তত্ত্বের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করার ভেজা স্বপ্ন দেখবে।
    না শঙ্খবাবু, ‘যেতে বললে’ই আর কেউ চলে যায় না। তার চেয়ে, লাশ হওয়া শ্রেয় মনে করে। যাওয়ার আর জায়গা কোথায়? 
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • santosh banerjee | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৫২498667
  • অসম দেশের চিন্তা শীল, বুদ্ধি জীবী, এতদিন ধরে ঐ ফ্যাসিসট শক্তি র বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা মানুষ গুলো কোথায়? ভূপেন হাজারিকা র দেশে, হেমাঙ্গ দার চারণ ভূমি তে, জ্যোতি প্রসাদ আগর ওয়ালা'র দেশে, বিষ্ণু রাভার দেশে কতগুলো লুম্পেন, গুণডা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? ওদের দোষ ওরা মুসলমান, রাজনৈতিক নেতাদের অতীতের ব্যাভিচার, "হিন্দু ধর্মের নামে পৈচাশিক উল্লাস, এই আসামের বেশিরভাগ মানুষ মেনে নেবে?
  • বিপ্লব রহমান | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৫৮498675
  • "মরা লোকের হয়ে কে কথা বলবে জানি না। আদৌ কি কেউ বলবে? "
     
    প্রশ্নটি অন্তত জারি থাকুক 
  • guru | 103.135.229.128 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫৬498681
  • মুক্তিযুদ্ধের ৫০ তম বছরেও বাঙালিকে এই রকম বর্বর আক্রমনের পরেও বাংলাদেশ রাষ্ট্র চুপ কেন ? তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি ব্যর্থ হয়েছে পুরোপুরি ? শাহবাগের সেইসব "মুক্তমনা ","ধর্মনিরপেক্ষ"  যুবক যুবতীরা আজকে কোথায় ? এখন তো দেখা যাচ্ছে আসামের এই ঘটনাটির   বেশি প্রতিবাদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চেয়ে পাকিস্তান করেছে .  বাংলাদেশ রাষ্ট্র যদি বাঙালিদের উপর অসম সরকারের এই নিদারুন অত্যাচারের প্রতিবাদ নাই করে তাহলে মুক্তিযুদ্ধ করে লাভ কি হলো ? বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি তাহলে সমস্ত বাঙালিদের স্বার্থরক্ষায় জন্য তৈরী হয়নি ? আমি একজন সাধারণ চিন্তিত বাঙ্গালী হিসেবে এই কথা বললাম ।আমার বাংলাদেশী বন্ধুদের উত্তরের অপেক্ষা রইলাম |
  • | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:০৫498682
  • 'ল্যাঞ্জা ইজ আ টাফ থিং ট্যু হাইড'  প্রাচীন প্রবাদ।  গুর‍্য নিকটাকে দেখে অনেকদিন বাদে মনে পড়ল।
  • হিমন্ত | 2405:201:9002:30a1:79e7:7f83:eb6e:5996 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:১৮498685
  • শুয়োরের গুষ্টি বাঙালের বাচ্চারা সব ঢুকেছে পিল্পিলিয়ে, শুয়োর তাড়ানো করেই তাড়ানো হবে।
     
    আসাম তো আরেকটা কাশ্মীর হতে চলেছে এই মোল্লার দলের ঠেলায় 
     
     
     
    তবে গুলি বুকে মেরে ঠিক করে নি, পঁদে মারা উচিৎ ছিল :)))))))))
  • প্যালারাম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:৫৫498693
  • @বিপ্লব রহমান - সেইটেই একমাত্র আশা, তবে সে আশাও অপসৃয়মান। প্রশ্নকারীদের জ্যান্ত থাকতে হবে তো!
     
    @হিমন্ত - জানি না মশয়, আপনাকে কি বলি। হয় মস্করা কোচ্চেন, নয় বাস্তবিক ক্রনিক অম্লশূলের রোগী। প্রথমটি হলে, অসংখ্য ধন্যবাদ, অধমকে ট্রোলিং-এর উপযুক্ত মনে করার জন্যে।
    দ্বিতীয়টি হলে,... টাইমসের প্রতিবেদনের দাবি-দাওয়া, সুর - ইত্যাদি নিয়ে কথা না বলে, এমনি গল্প করি, কেমন? 
    এই দেখুন, গত শতাব্দীর 'শুয়োরের গুষ্টিদের' ছবি
    সেবারও, জানেন তো, মুসলিম ব্যাটারা 'পঁদে গুলি'র ভয়ে সব 'ধর্মস্থানে' সেঁদিয়েছিল। বুঝতেই পারছেন, আমি আপনার সাথে একমত।
    প্রসঙ্গত, রান্নাঘরের থালা রাখার তাকের পিছন থেকে দেখি, এক পুঁচকে মাকড়সা, ওই যেগুলো তিড়িং তিড়িং করে লাফায়, উঁকি মারচে। দাঁত কিড়মিড় করে বিশাল একটা হিট-স্প্রে নিয়ে মারতে যাচ্ছি, বান্ধবী থামিয়ে বল্লো, 
    -'কি ক্ষতি করছে ও তোর?' 
    - 'আমার মাকড়সা দেখলে ভয় করে। ডিকশনারিতে দেখিস, নাম আছে তার - অ্যারাকনোফোবিয়া'। আমারই বাড়িতে আমি ঠিক করবো না, মাকড়সা থাকবে, না আমি?
    এইখানে বলে দেওয়া উচিত, হপ্তাখানেক আগে, একইধরনের একটা আলোচনা হয়েছিলো। বান্ধবী টিকটিকি মারতে চাইছিলেন, আমি আটকাতে।

    অমিত শাহের বাড়িতে শুনেছি উইপোকার খুব উপদ্রব।

    আপনার বুঝি শুয়োরে বেজায় ভয়?  
  • guru | 103.135.229.128 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:২৫498714
  • @প্যালারাম  প্রথমেই এই অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই |
     
    দেখুন বাংলাদেশ পুরোপুরি চুপ nrc বা caa এর পর থেকেই . কিন্তু পাকিস্তান প্রতিবাদ করছে আসামের এই সাম্প্রতিক ঘটনার . ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ চুপ আসামের বাঙালিদের সমস্যা নিয়ে . আজকে পাকিস্তান কাশ্মীর বা খালিস্তান নিয়ে যা বলে তার অর্ধেক বাংলাদেশ অসম বা nrc/caa নিয়ে বললেও আজকে এইসব দেখতে হতোনা . যতই জিডিপি গ্রোথ দেখাক সত্যি কথাটি হলো যে বাংলাদেশের কথা এখনো কেউ শোনেনা কোনো geopolitics এর ব্যাপারে তা রোহিঙ্গ্যা হোক মায়ানমার বা অন্য কিছু . এরকম আরো কয়েকটি বছর চললে বাংলাদেশকে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের ৪-৫ কোটি মুসলমান শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হবে . সেই প্রবল চাপ যাতে নিতে না হয় তার জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে এখন থেকেই আসামের এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে নাহলে কিন্তু তখন বাংলাদেশের পাশে কেউ দাঁড়াবেনা যেমন এখনো রোহিংগা ইস্যুটা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছেনা |
     
    আসামের এইসব ঘটনা ততক্ষন ঘটবে যতক্ষণ না বাংলাদেশ এইসব নিয়ে প্রতিবাদ করে ঠিক যেইভাবে পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে বলে . নাহলে আসামের তথা সমগ্র পূর্ব ভারতের বাঙালিদের কোন ফিউচার নেই |
     
    আপনার মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম |
  • guru | 103.135.229.128 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:২৫498715
  • @প্যালারাম  প্রথমেই এই অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই |
     
    দেখুন বাংলাদেশ পুরোপুরি চুপ nrc বা caa এর পর থেকেই . কিন্তু পাকিস্তান প্রতিবাদ করছে আসামের এই সাম্প্রতিক ঘটনার . ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ চুপ আসামের বাঙালিদের সমস্যা নিয়ে . আজকে পাকিস্তান কাশ্মীর বা খালিস্তান নিয়ে যা বলে তার অর্ধেক বাংলাদেশ অসম বা nrc/caa নিয়ে বললেও আজকে এইসব দেখতে হতোনা . যতই জিডিপি গ্রোথ দেখাক সত্যি কথাটি হলো যে বাংলাদেশের কথা এখনো কেউ শোনেনা কোনো geopolitics এর ব্যাপারে তা রোহিঙ্গ্যা হোক মায়ানমার বা অন্য কিছু . এরকম আরো কয়েকটি বছর চললে বাংলাদেশকে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের ৪-৫ কোটি মুসলমান শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হবে . সেই প্রবল চাপ যাতে নিতে না হয় তার জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে এখন থেকেই আসামের এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে নাহলে কিন্তু তখন বাংলাদেশের পাশে কেউ দাঁড়াবেনা যেমন এখনো রোহিংগা ইস্যুটা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছেনা |
     
    আসামের এইসব ঘটনা ততক্ষন ঘটবে যতক্ষণ না বাংলাদেশ এইসব নিয়ে প্রতিবাদ করে ঠিক যেইভাবে পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে বলে . নাহলে আসামের তথা সমগ্র পূর্ব ভারতের বাঙালিদের কোন ফিউচার নেই |
     
    আপনার মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন