• খেরোর খাতা

  • কাদামাটির হাফলাইফ ১৬

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৯১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১৬
     
    পলাশন হাট থেকে পদোন্নতি মিলে  সেহারা বাজারে এসে পেলাম মোরব্বা ভরা কেক, মিষ্টি বান রুটি আর ক্রিম রোল‌। এবং বেলেতোড়ের ম্যাচা, অমর  মিত্রের ভাষায় 'আগুনের গাড়ি' তথা বড় দুঃখের রেলওয়ের বা বিডিআরের মিটারগেজ কয়লার ইঞ্জিনওলা ভঁসভঁস আওয়াজ করে ধোঁয়া উদ্গীরন করা ছোট ট্রেন।
     
    পলাশন হাট। আর সেহারা বাজার । দু'দিকে দুটোর অবস্থান। পলাশন পূর্বে। সেহারা পশ্চিমে।  পলাশনের তুলনায় সেহারা কুলীন। #সেহারাবাজার রেল জংশন। বাঁকুড়া পুরুলিয়া বর্ধমান ও হুগলির সংযোগক্ষেত্র। গোটা পাঁচেক রাইস মিল। একটা পেট্রোল পাম্প। একাধিক ব্যাঙ্কের শাখা। জমজমাট ব্যাপার। আরামবাগ থেকে বর্ধমান লাক্সারি বা এক্সপ্রেস বাস চলে। পলাশন দিয়ে যায় শুধু লোকাল বাস। #পহলানপুর থেকে বর্ধমান। বর্ধমান থেকে আরামবাগ যাওয়ার সমান্তরাল পথ দুটো। বর্ধমান জিটি রোড থেকে শেরশাহের আমলের বাদশাহি রোড #সগড়াই পর্যন্ত এক থেকে দুটি পথে গেছে বেঁকে। একটি শ্যামসুন্দর হয়ে পহলানপুর বা কারালাঘাট। অন্যটি সেহারাবাজার উচালন হয়ে আরামবাগ। সগড়াইয়ের পাঁচ কিমি আগে বাঁকুড়া মোড়।  বাস বাঁকুড়া মোড় খণ্ডঘোষ হয়ে সেই পথে ছোটে ইন্দাস সোনামুখী বাঁকুড়া।
    সগড়াই বাংলার শ্রেষ্ঠ কুমড়ো আলু গাজর বিটের সিঙ্গারা মেলে। তাতে অল্প ভাজা বাদামের চিকন নবাবি উপস্থিতি।
     
    চতুর্থ শ্রেণির পর আমার হাট থেকে বাজারে প্রমোশন  হল। ১৯৭৫-এ চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে পঞ্চম শ্রেণি। কিছু ছেলে পলাশন চলে যতো এরপর। আমরা বেশিরভাগ গেলুম না। গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে রয়ে গেলাম। জুনিয়র মানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।  কেন? এক বাবার ইচ্ছে। আর দুই পলাশন স্কুলে বৃত্তি পরীক্ষার অঙ্কের দিন এক শিক্ষকের সঙ্গে পরীক্ষার হলে ঝগড়া। সেটি পরে বলছি। না এখানেই বলে নিই, নইলে ভুলে যাবো।
    আমাদের সময় বৃত্তি পরীক্ষা হতো। এবং সেটা বাধ্যতামূলক। নিজেদের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়া যেতো না। দূরের স্কুলে  আসন পড়তো। বোর্ডের প্রশ্নপত্র। প্রশ্ন ভালোই কঠিন হতো। প্রথম বিভাগ দ্বিতীয় বিভাগ তৃতীয় বিভাগ ছিল।
    পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি আড়াই কিলোমিটার দূরে। একজন শিক্ষকের দায়িত্বে। স্নান করে ভালো জামা পরে, মসজিদে ও শিবমন্দিরের ধুলো কপালে ছুঁয়ে যাত্রা।
    আমরা ছিলাম চতুর্থ শ্রেণিতে ১৭ জন।
    প্রথম শ্রেণিতে ১৫৭ জন। দারিদ্র্য বাকিদের ছিটকে দেয়।
    আমার এক মাসতুতো ভাই ছিল, কাব। পাণ্ডুয়ায় বাড়ি। বাবা পীর। গ্র্যাজুয়েশন করে পীর হয়েছেন। বড়ো সরকারি চাকরিও জুটেছিল। পূর্ব বঙ্গে। আগে কমিউনিস্ট পার্টি করতেন। ঘুষ নেওয়ায় বড়ো সাহেবকে মেরে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসেন বলে গল্প শুনেছি। তার পরে পীর হয়ে যান। প্রচুর মুরিদ ছিল। দুই স্ত্রী। মজার মানুষ। রবীন্দ্রনাথের মতো সাদা আলখাল্লা। পাঠানদের মতো চেহারা। ছয় ফুটের বেশি লম্বা। কন্ঠস্বর অসাধারণ। আগে নাটক ও বক্তৃতা করতেন। এখন  পীরের বাণী ও ওয়াজ মাহফিল। মার্কস ও হজরত মহম্মদের মিল দেখাতেন বক্তৃতায়। ফলে শিষ্যের অভাব নাই। যিশু মহম্মদ মার্কস সবাই গরিবি হঠাতে এসেছিলেন-- এই সব বলতেন।
     
    আমার বাবার সঙ্গে তাঁর খুব উপভোগ্য তর্ক হতো। বাবা বলতেন, আপনাকে দেখে নাস্তিক হলাম, আল্লা ছাড়লাম। আর আপনি?
    বড় খালু ( বড় মেসো) উত্তর দিতেন, সেটা তখন যা বলেছি, ঠিক ছিল। এখন যেটা বলছি সেটাও ঠিক। রামায়ণের জাবালির গল্প ভুলে গেলি।
    জাবালি, রামকে বলেছিল না, তখন আমি নাস্তিক ছিলাম, এখন নাস্তিকতার কাল গত হয়েছে, এখন আমি আস্তিক। ( এই গল্প পরে লিখছি)।
     
    তা, এই বড় খালুর ছেলে কাব, বাড়িতে পড়াশোনা করে না, তাই বড়মামা তাঁকে নিয়ে এলেন। আমাদের গ্রামেই মামার বাড়ি। এ-পাড়া ও-পাড়া।
    বড়মামা গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রচণ্ড দাপুটে। এবং রাগী। নিয়মনিষ্ঠ। পড়াশোনার দিকে খুব নজর। মামার বড়ো ছেলে আজম ও আমি প্রায় সমবয়সী। খুব বন্ধু। তিনজন জুটলাম। আজম আমি পড়াশোনা করি মোটের ওপর। আমি আর আজমের মধ্যে প্রথম দ্বিতীয় নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। কিন্তু বন্ধুত্ব আজো অমলিন।   কাব মোটেও পড়াশোনা করে না। মামা বাড়ির বাইরে বের হলো তো কাবও হাওয়া। কাব কিন্তু ছোট বড়ো সবার কাছে খুব জনপ্রিয়।‌পাণ্ডুয়াতে থাকতো। পাণ্ডুয়া শহর। কাছেই কাকলি সিনেমা হল। সিনেমার পোকা। যত রাজ্যের হিন্দি গান তার মুখস্থ। আর তার সঙ্গে নাচ।
    দম মারো দম তখন খুব জনপ্রিয়।
    কঙ্গনা রানাওয়াতের আইটেমের চেয়েও কাব ফাটিয়ে দিতো।
    তা কাবের আসন  পাশে পড়েছে।  কড়া গার্ড। দেখে দেখে লিখবে না বলে সতর্কবাণী।
    কিন্তু আমি কাবকে দেখিয়ে যাচ্ছি কায়দা করে। কাবকে বলে রেখেছি, সব লিখবি না। একটু একটু বাদ দিবি। তা সেবার বুঝলাম, না পড়া থাকলে টোকাও কারো কঠিন।
    অঙ্ক পরীক্ষার দিন আট নম্বরের একটা অঙ্ক খুব কঠিন। ৯২ পেরেছি। আটে আটকে। কেউ পারছে না হলে। গার্ড দেওয়া স্যাররাও কেউ কেউ দেখলেন। কঠিন। পতিতবাবু বলে এক স্যার ছিলেন, অঙ্কটা আমার স্লেট নিয়ে কষলেন। কষে পলাশনের ছেলেদের দিলেন। আমি দেখলাম, ওঁরা করছে। আমাদের তো দেবে না। আর নিজে টুকতেও আপত্তি ছিল। স্যার একটু অন্যমুখো হতেই আমি উঠে স্লেটটা নিয়ে কেড়ে অঙ্ক মুছে দিলাম।
    লেগে গেল গণ্ডগোল। 
    স্যার বললেন, দাঁড়া তোকে তো এখানেই আসতে হবে-- তখন দেখবো কতো বাহাদুরি পারিস।
    পলাশনের ছেলেরা হুমকি দিল, মারবে। বললাম, ঠিক আছে পরীক্ষা শেষ হোক। দেখবো তোদের কতো জোর।
    আমার পরের ভাই জইনুলের ( এখন বিমানবাহিনীতে ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি দুর্গাপুরে প্রধানশিক্ষক)  ছিল গায়ে খুব জোর। মারপিটে ওস্তাদ। ওর সঙ্গে আমার দৈনিক মারামারি দৈনিক ভাব। ও তো দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বাইরে বসে আছে। আমকাটা ছুরি পকেটে নিয়ে।
    ও বলতো, মারামারি হলে তো তুই পারবি না। বুদ্ধি তোর বেশি আছে গায়ের জোরে পারবি না। সে প্রতিদিন এসে হলের বাইরে ঠায় বসে থাকতো। আর জানালা দিয়ে  দেখতো দূর থেকে।
    সে-কালে বিয়ে আর পরীক্ষা এই দুটোতেই মারামারি ছিল বাঁধা।
    পরীক্ষার শেষদিনে মোটামুটি হতোই।
    তা আমরা অকুতোভয়। ওঁরা পারবেই না। আমাদের নজরুল, কাব, জামু -- সব ওস্তাদ লড়িয়ে। যাক, পরীক্ষা শেষে আমাকে ওই স্কুলের ছেলেরা আটকাতে যেতেই বললাম, এখানে কেন, রাস্তায় চ। 
    দেখি কতো মুরোদ।
    তা ওরা আর মুরোদ দেখাল না।
    চার পাঁচ খানা গ্রামের ছেলে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। একটি ছেলে দীনবন্ধু নাম। ধারানের ছেলে। সে ধারানের ফার্স্ট বয়।‌ আমি টেস্টে প্রথম হয়েছি। দীনবন্ধু বললে, তোমার সাহস আছে ভাই।
    বন্ধু হবে। 
    হয়ে গেলাম বন্ধু। 
    তো এই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় একটা ইচ্ছে আমার পূরণ হলো। 
    বড়োমামাকে দেখতাম সাদা একটা বড়ো থালায় ভাত ডিমের পোচ ঘি আর ভর্তা আর ঘন মুসুর ডাল দিয়ে ভাত খেতে আর খবরের কাগজ পড়তে।
    আমারও খুব ইচ্ছে ছিল, ওইভাবে খেতে। মাংসের চেয়েও লোভনীয় রাজকীয় ছিল, ওটা আমার চোখে। আজও আমার প্রিয় খাবার।
    দাদাও হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দিতে যেতো ৬ কিলোমিটার দূরে শ্যামসুন্দর ওইরকম খেয়ে।
    দাদার এক বন্ধু প্রশান্ত দে পরীক্ষার সময় আমাদের বাড়িতে ছিলেন। কারণ, তাঁর বাড়ি ছিল আরও অনেক দূরে। আমাদের বাড়ি থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার। সেকালে কেউ মাথা তেমন ঘামাতো না। 
    তো আমার শখ মিটল অর্ধেক। ভাত ঘি ঘন মুসুর ডাল আলু ভর্তা আর আর ডিমের পোচ খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার।
    সঙ্গী আমার ভাইসহ ১৮ জন।
    মাস্টারমশাইকে নিয়ে এক ব্যাটেলিয়ন আড়াই কিলোমিটার হাঁটতাম।
    পঞ্চম শ্রেণিতে আমার পড়ার সময় দাদা চলে গেলেন বর্ধমান শহরে। রাজ কলেজে পড়তে। ১৯৭৬-এ। বাবা চাইলেন, দাদা শ্যামসুন্দর কলেজে পড়ুক। বাড়ি থেকে যাতায়াত করে। ছয় কিলোমিটার দূরে।
    মা বললেন, ওখানে ছেলে মানুষ হবে না। 
    সেরা কলেজেই পড়তে হবে। রাজ কলেজকে তখন বর্ধমানের প্রেসিডেন্সি কলেজ বলা হতো। আমিও পড়েছি পরে। অসাধারণ অধ্যাপকমণ্ডলী আর গ্রন্থাগার। আমার ছোটোমামাও ওই কলেজে পড়েছেন।
    দাদা চলে গেল আমার বাজারের জায়গা গেল বদলে। পলাশনের বদলে সেহারাবাজার।
    ১৯৭০ এর দশকে সবুজ বিপ্লবের আহ্বানে সরকারের অধিগৃহীত ব্যাঙ্কগুলো কৃষকদের সেচের সুবিধার জন্য শ্যালো বা অ-গভীর নলকূপ গড়তে ঋণ দেয়। আমাদের গ্রামের কয়েকজন সম্পন্ন চাষী সে ঋণ পান। আমার বাবাও‌। রাজনৈতিক কারণে বাবা গ্রাম ছাড়া হলেন। আমাদের বিঘে ত্রিশেক জমি তখন অবশিষ্ট। পার্টি ফুটবল ক্লাব মেয়ের বিয়ে ইত্যাদি করে বহু জমি বিক্রি। কিছু জমি খাস হয়েছে।  জমি চাষ করতে বাধা দেওয়া হল। ওদিকে একজন ছাড়া বাকিদের মাটির নীচে জলের অপ্রতুলতার কারণে শ্যালো ফেল মেরে গেল।
    আমাদেরও।
    বাবা নেই। দাদা তখন নবম শ্রেণি। দাদার সাইকেল পুলিশ কেড়ে নিয়েছে ১৯৭৪-এ। এস এফ আই করতো। তিনদিনের ছাত্র ধর্মঘট গেছিল। 
    স্কুলে ধর্মঘট করার অপরাধে সাইকেল কেড়ে নিয়েছে। সেই সাইকেল পরে উদ্ধার হয়।
    তাই হেঁটেই স্কুল যায়।
    এদিকে চাষ বন্ধ। কী করে? আর্থিক সংকট দেখা দিল। দুধ আলু সেদ্ধ ডাল ভাত চলল।  দাদা ওই শ্যালো মেশিন তুলে ধান ভাঙ্গার রাইস মেশিন বানালো। এদিকে কংগ্রেস বলে দিয়েছে, ওদের ঘরে ধান ভাঙানো যাবে না।
    কংগ্রেসের এক নেতা সেও বড়ো হলারের ধান ভাঙা মেশিন করেছে।
    দাদা গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে ধান চালের ব্যবসা করে সংসার চালায় আর পড়ে। রাজনীতিও করে।
    এদিকে গ্রামের মানুষ আমাদের খুব ভালোবাসতেন। তাঁরা রাতের অন্ধকারে সেদ্ধ ধানের বস্তা আর তাতে নিজের নাম লিখে মজুরি রেখে চলে যায়। রাতে সবাই ঘুমোলে ধানের কল চালায় দাদা আর গ্রামের এক মানুষ। ভোরে লোকে নিয়ে যায় সে-সব চাল।
    তো, এই ধানের কল চালানোর জন্য ডিজেল দরকার। দৈনিক তিন থেকে পাঁচ লিটার। দাদা আগে সেহারা স্কুলে পড়তো। ফেরার সময় নিয়ে আসতো।
    এখন তো দাদা বর্ধমানে থাকে। ওখানেই কলেজে পড়ে।
    আমার ওপর দায়িত্ব এল।
    আমি দু কিলোমিটার গিয়ে গোপীনাথপুর স্টেশনে বিডিআর বলে একটা ট্রেন ধরতাম ৯-২৫ মিনিটে। সেহারাবাজারে ট্রেনের ক্রসিং। জল ভরতে ১৫ মিনিট নিতো। আমি সামনের কামরায় উঠতাম। নেমেই ছুট। পেট্রোল পাম্পে। প্রায় এক কিমি রাস্তা। ডিজেল তেল নিয়েই ছুটে এসে ট্রেন ধরতাম। দাম যতদূর মনে পড়ে ১ টাকা ৩৩ পয়সা লিটার। কর্মীরা খুব ভালো ছিলেন। তাঁরা জানতেন, বিষয়টা। আমার বাবা ও দাদাকে ভালোবাসতেন। আসলে কমিউনিস্টদের প্রতি বহু মানুষের গোপন দুর্বলতা ছিল। তাই আমার তেল ওরা ভরে দিতেন। জানতেন,  না হলে, আমাকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার হেঁটে ফিরতে হবে এবং আমার স্কুল কামাই হয়ে যাবে।
    আবার ছুটতে ছুটতে ফেরা।
    এবারে পিছনের কামরায় ওঠা। 
    চলন্ত ট্রেন থেকে কায়দা করে ট্রেন থামার আগেই নেমে ছুট।
    আমাদের জুনিয়র হাইস্কুল ছিল গ্রামে।
    একটা পুকুরের পরেই।
    বাড়ি ফিরে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েই কোনোক্রমে স্কুলে পৌঁছানো।
    আমাদের প্রধান শিক্ষক সোমবার তাঁর বাড়ি শাসপুর থেকে ওই ট্রেনে আসতেন। তিনি দেখতেন, ব্যাপারটা।
    ট্রেন দেরি করলে বা দেরি হলে তাঁরও দেরি হতো।
    তবে তখন জরুরি অবস্থার কারণে ট্রেন চলতো কাঁটায় কাঁটায়। ট্রেনের যাত্রীরা এমারজেন্সির প্রশংসা করতেন।
    ওই সময় সেহারা  স্টেশনে বেলেতোড়ের ম্যাচা সন্দেশ পাওয়া যেতো। যেমন সুন্দর গন্ধ তেমনি খেতে। সময় ছিল না কেনার,  পয়সাও।
    একা  একা খেতে ইচ্ছে হতো না আর।
    এই তো প্রথম অর্থনৈতিক সংকট দেখছি। এক বছর আগেও তো দেখিনি।
     
    জরুরি অবস্থা এক ধাক্কায় আমার মতো অনেককে বড়ো করে দিয়েছিল।
     
    আমার প্রিয় স্যার Sisir Datta  র সংযোজন:
     
    এত সহজ সরল করে লিখিস  কি করে। যে পড়ে তারই তো বার বার পড়তে ইচ্ছে করে।  এতে কিন্তু  তোকে মোটেই পণ্ডিত পণ্ডিত  মনে হয় না। মনে হয়না এই ছেলেটা এখন  একটা  নাম করা কলেজের অধ্যাপক। মনে হয় না কত্ত বড় বড় মানুষের  সঙ্গে  ওঠাবসা। কাদায়  মাখা আউসাড়া গাঁয়ের  সেই ছেলেটা এখন লোক হয়ে গেছে। কবি শঙ্খ ঘোষের হাত থাকে তার মাথায়। হেথাহোথা  বক্তব্য  রাখে। আর আমাদের  মত বৃদ্ধরাও গালে হাত দিয়ে শোনে। আমরা ভাবি আরে  ওতো আমাদের ইমান না? বাংলাদেশের  এক নাম করা টি ভি সেন্টারে  হঠাৎ  দেখি কত সহজ  কত সরল  ভাবে সঞ্চালকের প্রত্যেক টি প্রশ্নের উত্তর  দিয়ে যাচ্ছে। এত ভালো লাগলো কি বলবো।ছেলেটা এখানে ওখানে  ঘুরতে  ঘুরতে  ইংরেজিটা কিন্তু  এক্কেবারে ভুলে গেছে। কারণে  অকারণে  কথায়  কথায়  মোটেই  ইংরেজি  বলে না। না বাবু এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। দু একটা  ইংলিশ না চালালে পণ্ডিত পণ্ডিত  লাগবে কেন। ও এখনও গ্রামের প্রাইমারি  স্কুলের  কথা, সেই স্কুলের মাস্টারমশাইদের কথা বলে। হাই স্কুলের মাস্টার মশাইদের  এখনও কথায় কথায়  স্মরণ  করে। মাঝে মাঝে গ্রামে এলে মাতৃসমা  যাঁরা, তাঁদের আন্টি বলে না। অদ্ভুত  ব্যাপার।  তার চেয়ে আরও অবাক লাগে  যখন দেখি ওরা প্রত্যেকটি  ভাই  ওদের বাবার মত সরলতা, উদার মানসিকতা,  অহঙ্কার মুক্ত, সবার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চলা, মানুষের  বিপদেআপদে ঝাঁপিয়ে পড়া, যে কোন সংগঠন কে সুষ্ঠু  ভাবে পরিচালনা  করার ক্ষমতা   সহজেই  আয়ত্ত করেছে।  সম্ভবত ওরা পারেনি শুধু পিতার যাত্রাভিনয়ের ক্ষমতা আয়ত্ত করতে।   আইনুলের বিবাহে নিমন্ত্রণ ছিল আমাদের স্কুলের  সব্বার।  কিন্তু  স্কুল চলাকালীন  সবার পক্ষে যাওয়া সম্ভব  ছিল না। তাই স্কুলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব  করেছিলাম আমি আর প্রিয়নাথ বাবু। সেই সময় ওদের পিতা আমাদের এমন ভাবে অভ্যর্থনার নামে সম্মানিত  করে ছিলেন তা এখনও ভুলতে পারিনি।  দেখো দিকিনি কি লিখতে কি সব লিখে  ফেললাম , সেই জন্যই বোধহয়  বলে 
                 আশিতে  আসিও  না।।
     
    ২১.০৯.২০২০
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৯১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:3104:b537:5329:4dd0 | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:২৪498457
  • বেশ 
  • Kuntala Lahiri-Dutt | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৫৯498458
  • চমৎকার লিখেছো এমানুল। খুব ভালো লাগলো পড়তে। 
  • | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০১498486
  • এই সিরিজটা খুব ভাল লাগে। 
  • বিপ্লব রহমান | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৫৯498534
  • "ঘুষ নেওয়ায় বড়ো সাহেবকে মেরে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসেন বলে গল্প শুনেছি। তার পরে পীর হয়ে যান। প্রচুর মুরিদ ছিল।"
     
    এলেম আছে বলতে হয়। 
     
    ধারাবাহিকের পর্বগুলো একটু রয়েসয়ে দেবেন ভাই? পর পর তিনটি পর্ব দেখতে অস্বস্তি লাগে। 
     
    এছাড়া লেখায় হ্যাস ট্যাগ ও ইংরেজি হরফের ব্যবহার হোঁচট খাওয়ায়। 
     
    আরো লিখুন। শুভ 
  • Emanul Haque | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৪২498604
  • ধন্যবাদ। মতামত দেওয়ার জন্য
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন