• খেরোর খাতা

  • কাদামাটির হাফলাইফ ১৫

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৮৮ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১৫
    ছোটো বেলায় দুটি বিস্কুটের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। এক পলাশন স্কুল তলার নারকুলে বিস্কুট। ওখানেই ছিল বেকারি। পাঁউরুটি তৈরির গন্ধে ম ম করতো। গরম গরম পাঁউরুটি এই ইতর স্লাইস মার্কা নয়, সে চমৎকার স্বাদের সোয়াদের চিহ্নরেখা ভোলাই যায় না। আমার মা জীবনের শেষতক, স্লাইস রুটি খেতে   পারেন নি। বলতেন, পানসে লাগে । স্বাদ সোয়াদ নেই।
    বেকারির নাম মনে নাই। বেকারি মালিকের মুখ মনে আছে। মাঝেসাঝে স্বপ্নে হানা দেন।
    হাটে যেতাম সপ্তাহে দুদিন। মঙ্গল আর শনিবার। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে হাটে যাই (১৯৭৩)। অবাক হবেন না, সেকালের দস্তুর এটাই। আড়াই কিলোমিটার হাঁটা পথ। সাইকেল মিললে হাফ প্যাডেলের মজাই আলাদা।
    তো, আমার পাওনা ১০-১৫ পয়সা। নারকুলে বিস্কুটের দাম ১০ পয়সা, কোয়ার্টার পাউন্ড পাঁউরুটি ১৫ পয়সা। পিছনের কালো অংশে ঘি জাতীয় কিছু মাখাতো। সেথেকেই সুবাস। 
    আর একটি বিস্কুট এল বাইরে থেকে। দিলীপ কুমারের জায়গায় অমিতাভ বচ্চনের মতো। ক্রিম বিস্কুট। হালকা জাফরানি রঙ। মাঝে ডিমের কুসুমের হালান কমলালেবু স্বাদের ক্রিম। পাঁচ পয়সা না দশ পয়সায় একটি ঠিক মনে পড়ছে না।
    নারকুলি বিস্কুটকে পেড়ে ফেলল।
    বাজার থেকে ১০-১৫ পয়সার বেশি নেওয়া ন্যায্য নয়।
    কারণ আলু শীতকালে এক পাল্লা মানে পাঁচ কেজির দাম ১৫ থেকে ২০ পয়সা। বুঝছেন, তিন থেকে চার পয়সা কিলো। এখনকার মতো ৪০ টাকা কিলো নয়। ১৯৮১ তে আলু ৩৫ পয়সা কিলো হওয়ায় কংগ্রেস দেওয়াল লিখেছিল।
     
    'বিলিতি বেগুন' তখনও টমেটো পদবাচ্য হয় নি, ১০-১৫ পয়সা কিলো। কাঁচা লঙ্কা ফ্রি।
    পেঁয়াজ কুলীন বরাবর ২০ পয়সা কিলো।  মুলোর দাম মনে পড়ছে। ৫-১০ পয়সা কিলো হবে। বেগুন দামী। ১৫ পয়সায় এক কেজি। মাছ কেনার ব্যাপার ছিল না। পুকুর যাদের আছে তাঁরা মাছ কিনবেন কেন? পলাশনের চাকুরিজীবীরা কিনতেন। ২-৩ টাকা কিলো। চুনোমাছ আসতো না। চিংড়ি থাকতো। কুচো চিংড়ি। ইলিশ কোনোদিন দেখি নি হাটে। দেখলাম বর্ধমান শহরে এসে। ১৯৮২তে। সপ্তাহে একদিন মাত্র, কেবল মঙ্গলবার মিলতো। তাও বছরে মাস পাঁচেক বর্ধমান হেড পোস্ট অফিসের উল্টোদিকে। ২০০--২৫০ টাকা কিলো। বিকেলে পাওয়া যেতো। সকালে নয়।‌কলকাতা থেকে ট্রেনে আসতো।।
    ধনেপাতা কেউ কিনতেন না। বেচতেনও না। লোকে চাষ করতো।
    বাঁধাকপি ফুলকপি সব‌ সিজন্যাল। ১৯ মাঘ গ্রামে ওলাইচণ্ডী পূজা উপলক্ষে মেলা বসতো‌। ঘরে ঘরে আত্মীয় কুটুম। মেলা ও যাত্রা দেখতে। ২০-২১ মাঘ গ্রামে মেলা শেষের পর লোকে ফুলকপি বাঁধাকপির খেতে গোরু ছেড়ে দিতো। ও এখন গোরুর খাদ্য। মুখ পচে গেছে গো বাঁধাকপি আর ফুলকপি খেয়ে খেয়ে-- লোকে বলাবলি খরতো।  এই সময় উঠতো নতুন আলু। মধ্যবিত্ত বাড়িতে আলু পোস্ত রোজ। পোস্ত চার টাকা কিলো ছিল ১৯৭৩ এ। ১৯৮০-৮১তে হয় ছয় টাকা। ১৯৮০-৮১ তে সরষের তেল ২ টাকা ৪০ পয়সা কিলো। চিনি তিনটাকা কিলো।
    সজনে ডাঁটাও বিক্রি হতো না।
    আলু পটল পেঁয়াজ লঙ্কা লাউ কুমড়ো এইসব সামগ্রী। দু টাকার বাজার বয়ে আনা কঠিন হতো। অন্তত ১০-১৫ কেজি ওজন। সাইকেলে ঝুলিয়ে কিছুটা হাফ প্যাডেল কিছুটা হেঁটে সামলে আনা।
    কষ্ট একটু হতো।
    কিন্তু নারকুলে বিস্কুট এবং তার নতুন সতিন ক্রিম বিস্কুট সব ভুলিয়ে দিতো।
    #
    এবং ঝোলাগুড় ছাড়াই গরম পাঁউরুটি।
     
    বন্ধু অমিত বিশ্বাস প্রশ্ন করেছেন, আলুর দাম ৫ পয়সা কেজি?  নারকুলি বিস্কুট ১০ পয়সা?
     
    অমিত বিশ্বাস লিখেছেন: 
    আলু যেখানে ১৫ পয়সা পাল্লা, সেখানে নারকোলি বিস্কুট দশ পয়সা ?  আমরা খিদিরপুর থেকে গরম খাস্তা বিস্কুট পেতাম ১০ পয়সায় ছ টা। ঐ গরম কোয়াটার পাঁউরুটি রোজ সন্ধ্যেবেলায় লোকে লাইন দিয়ে কিনতো। মাঝে রেশনিং হয়ে গেল। রেশন কার্ড দেখিয়ে কিনতে হতো। তবে যে গন্ধের কথা বললেন, সেটা যেন 
    আজো ভুলতে পারিনি।
    নিউ মার্কেটের কেক পট্টি তে এমনিই ঘুরতাম ঐ গন্ধের জন্য। সেখানে ২৫ পয়সায় মাটন প্যাটি পাওয়া যেতো। গরম। মা খেতে দিতো না। বলতো খাসির ছাঁট দিয়ে বানানো। আর ছিল spiral shaped লজেন্স। সেটা বাবা শুধু বড়দিনে কিনে দিতো। তার গন্ধ ও স্বাদ অতুলনীয়।
    খাসি ছিল ৬ টাকা (৭২-৭৫ সাল) মুরগী খাওয়াটা ছিল বিলাসিতা কারন মুরগী ওজনে নয়, গোটা বিক্রি হতো। দেশী মুরগী।
    ১ টাকায় তিনটে ওমলেট। একটা ৩৫ পয়সা।
    আমরা শহুরে তাই শহরের দাম বললাম।
     
    আমার বিনীত জবাব:
     
    Amit Biswas চাষীর জিনিসের দাম কোথায়?
    ২০১৯ এ মহারাষ্ট্রের চাষী ৫ পয়সা ( হ্যাঁ পাঁচ পয়সা) কেজি পেঁয়াজ বেচেছিল। আনন্দবাজারে খবর ছিল। ছাগল গোরুকে দিয়ে পেঁয়াজ খাওয়ানোর ছবি ছিল। সেই পেঁয়াজ আমরা ২০০ টাকা কেজি কিনেছে ২০১৯ নভেম্বর ডিসেম্বরে।
     
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
     
    Kunal Thakur Thakur লিখেছেন
     
    আ‌মি ছ‌য়ের দশ‌কেও ৪টাকা সের(তখন কেজির মাপ স‌বে ঢুক‌ছে)পাঁঠা/খাঁ‌সির মাংস,একটা মোরগ বড় হ‌লে তিন/চার টাকা আর টাকায় চার‌টে ডিম কি‌নে‌ছি ৷ অবশ‌্য তখন থাকতাম মধুপু‌রে ৷
     
    আমার সংযোজন:
    ১৯৮০ পর্যন্ত আমাদের গ্রামে খাসির মাংস ১০ টাকা কেজি।
    মুরগির দাম দ্বিগুণ। ২০ টাকা কেজি। পালকসহ।
    মানে খাসির মাংস ১০০ গ্রাম এক টাকা।
    মুরগির মাংস ১০০ গ্রাম কার্যত ৩ টাকা ১৬ পয়সা।
    এক টাকায় ১০ -১২ টি মুরগির ডিম পাওয়া যেতো।
    কয়লা টাকায় ১২ কেজি ৫০০ গ্রাম।
    নুন আট পয়সা কিলো।
    চাল ৫০/৬০/৮০ পয়সা কিলো।
    খাসচাল / গোবিন্দভোগ চাল দামী ২০ টাকা কেজি।
    ১২০০টাকা বস্তা। ৬০ কেজিতে বস্তা।
     
    @Shuva Roy লিখলেন
     
    আমরা খেতাম মাছ লজেন্স। পাঁচ পয়সা দাম। চেটে চেটে ফুরোতে আধ ঘন্টা লাগত। আর খেতাম বদল বিস্কুট। ছেঁড়া পুরনো জুতো দিয়ে বিস্কুট নিতাম। অনেক সময় রাস্তা থেকেও কুড়াতাম।  বদল বিস্কুট ওলা ঘন্টি বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে গেলেই জুতো নিয়ে পিছনে ছুটতাম। সেই বিস্কুট এর স্বাদ অতুলনীয় ছিল। অমন বিস্কুট আর পাই নি বড় হয়ে
    Dilip Banerjee লিখলেন
     
    অনেক কিছু মনে পড়ছে। সব কিছু মনে নেই। আমি হুগলি জেলার গ্রামে, মামার বাড়িতে থাকতাম। দুধ আর চাল কিনতে হয়, এটা একটু বড় হয়ে বুঝেছি, পুজোর ছুটিতে শিবপুরে এসে। খুব আশ্চর্য লেগেছিলো ঐটুকু একটা দুধের বোতল নিয়ে (হরিণ ঘাটার দুধের ডিপো) কজনে খাবে? বন্ধুর সাথে গেছি, আমি একটা বোতল চাইতে, খুকি দি বলেছিলো তোদের কার্ড নেই দুধ পাবি না। মা কে এসে খুকি দির নামে অভিযোগ করেছিলাম।
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৮৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন