• খেরোর খাতা

  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১৩

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৬ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১৩
     
    #কাদামাটির_হাফলাইফ ১৩
    আমাদের গ্রাম সরকারিভাবে দুটো। 
    আউশাড়া উদগড়া। 
    অ-সরকারিভাবে ১২টি পাড়ায় বিভক্ত। মিলে মিশে থাকা। তার মাঝেও একটা সূক্ষ্ম ব্যবধান রচনা করে গিয়েছিলেন অতীত প্রজন্ম। তাকে ভেঙেছিলেন উনিশ  বিশ দশকের মানুষ।
    কিন্তু এখন? ভবিষ্যৎ বলবে।।
     
    উত্তরপাড়া, পণ্ডিতপাড়া, খাবড়িগড় (সাঁওতালপাড়া), মল্লিকপাড়া, বামুন/বেনেপাড়া, মাঝেরপাড়া, দাসপাড়া ( মুচিপাড়া), দখিনপাড়া, সেখপাড়া/কাজীপাড়া, রসপুকুর, দিঘিরপাড় ( চাঁড়ালপাড়া), কয়েতপাড়া ( আদমপুর)।
    উত্তরপাড়া সবাই জন্মসূত্রে মুসলিম। পণ্ডিতপাড়া সবাই তপশিলি জাতির মানুষ। পণ্ডিতপাড়ায় দুই গায়েই মুসলিম বসতি। খাবড়িগড় ( সাঁওতাল পাড়া) পণ্ডিতপাড়া থেকে ৫০০ মিটার দূরে। আদি বাসিন্দাদের বাস। ১৯২০ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের জমিতে বাস শুরু। এখন নিজেরা জমি কিনে আরেকটি পাড়া করেছেন অনেকেই। পণ্ডিতপাড়ার উত্তরে মাঠ। ক্যানাল।  দক্ষিণ দিকে মল্লিকপাড়া। মুসলিম বসতি। মল্লিকদের উচ্চবর্ণের মুসলিমরা একটু আলাদা চোখে দেখতেন। ওখানে খণ্ডঘোষের উখরিদ থেকে পাঠান পরিবারের কয়েকজন মহিলা বিয়ে হয়ে আসেন। তাঁদের বিশেষ্য ও সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ কিছু আলাদা ছিল। মল্লিকপাড়ায় দুটি ঘর বাদে কারো শৌচাগার ছিল না। ফলে ওই পাড়ায় রাস্তা পেরোতে সমস্যা হতো। পায়খানা আর পায়খানা। এখন সে সমস্যা একদম নেই।
    মল্লিকপাড়ার দক্ষিণপূর্ব দিকে বামুনপাড়া ও মাঝেরপাড়ার শুরু। হিন্দু মুসলিম এই দেওয়ালের এপিঠ ওপিঠ। দু বাড়ির কলতলায় মেয়েরা দেওয়াল ফুটো করে গল্প করতো। সবজি  আদান-প্রদান করতো। রান্না তরকারি আদান প্রদান হতো কিনা আরো জানতে হবে।
     
    আমার মামার বাড়িতেই  দেখেছি লাউ কুমড়ো, শাক দিতে নিতে।
    বামুনপাড়ায় বামুন কায়েত বেনে কলুদের  বাস। কলুবাড়ির পরেই মুসলমান বসতি মাঝেরপাড়া। মূলত মধ্যবিত্ত। মাঝের পাড়ার পূর্ব দিকে তপশিলি জাতির বাস। 
    পাশাপাশি বাড়ি হিন্দু মুসলমান।
    এক দেওয়ালের এপিঠ ওপিঠ।
    মাঝের পাড়া থেকে মাঝে ধান জমি। তারপর দাসপাড়া বা মুচিপাড়া। মুচিপাড়া লাগোয়া পূর্ব পশ্চিমে লম্বা দখিনপাড়া বা উদগড়া গ্রাম। এর পশ্চিমপ্রান্তে সেখপাড়া/কাজীপাড়া। আবার ৭০০--৮০০ মিটার ধান জমি। সেখানে তিনটি ছিটমহল। রসপুকুর। বাগদি সম্প্রদায়ের বাস। আউশাড়া ও উদগড়ার পশ্চিমদিকে একটা বড়ো দিঘি।
    তার পাড়ে তপশিলি জাতির মানুষ।
    আর উদগড়া ও আউশাড়ার মাঝে আদমপুর/ কয়েতপুর। ওখানে ১৯৮০খ্রিস্টাব্দে  ৬ টি পরিবার ছিল। এখন ২২-২৩ টি।
    ওঁরা আদমপুর থেকে বন্যার কারণে এসেছিলেন বলে আদমপু বলা হতো।
    #
    আমাদের গ্রামে ১৯৮০ তে পোস্ট গ্রাজুয়েট দুজন। জন্মসূত্রে দুজনেই মুসলিম। 
    গ্রাজুয়েট ৪ জন। তিনজন জন্মসূত্রে হিন্দু। একজন মুসলিম। । তিনজন চাকরি করতেন বা করেন স্কুলে । 
    শিক্ষক ছিলেন তিনজন । একজন রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেন।
     
    উচ্চমাধ্যমিক পাশ ৫ জন। চারজন মুসলিম একজন হিন্দু।
     
    ম্যাট্রিক পাস পাঁচজন। 
    ১৯৭৮ পর্যন্ত দুই গ্রামেই কোনো মাধ্যমিক পাস মহিলা নেই। এখন ঘরে ঘরে গ্রাজুয়েট।
    একজন ছিলেন নন-ম্যাট্রিক আদিবাসী পাড়ায়। 
    পাঁচ জন ম্যাট্রিক পাসই সত্তর দশকে কংগ্রেস করতেন। 
     
    এঁদের মধ্যে একজন ছিলেন আদিবাসী পাড়ার বৈদ্যনাথদা।
    সিপিএমের তীব্র সমালোচক। ননম্যাট্রিক। সিপিএম তাঁকে চাকরি দিল না, এই ছিল অভিযোগ। প্রতিবন্ধী ছিলেন।
    কাজকাম করতেন না তেমন। বোন ও বৌ রোজগার রে খাওয়াতো।
    পড়াশোনা করতেন। একটা আদিবাসী যাত্রাপালা লেখেন। জনপ্রিয় হয়।
    সত্তর দশকে ম্যাট্রিক পাসরা আশা করতেন কংগ্রেস করলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে। হয় নি।
    কংগ্রেসের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে দুজন অটো পান।
    অটো চলে নি। কারো চাকরি হয় নি, এক বর্গক্ষত্রিয় বড়োলোক যুবক ছাড়া।
    অটো চলে নি।
    কারণ চড়ার লোক কোথায়?
    লোকে তো হেঁটেই মেরে দিচ্ছে।
    একটাকা ভাড়া অনেক।
    তার জায়গায় একঘন্টা হাঁটবো-- এই মনোভাব।
    #
    ম্যাট্রিক পাস দুজন বামফ্রন্ট আমলে বেকার ভাতা পান। ৩৫ হাজার টাকা করে ঋণ পান।
    তাতে পোল্ট্রি খোলেন।
    কেউ কেউ ধান ব্যবসায় নামলেন। গ্রামের অর্থনীতির চাকা ঘুরতে লাগলো। গরিবি গ্রামে কমতে লাগলো।
     
    ২৮.০৭.২০২১
     
    চলবে
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন