ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • আফগানিস্তান নিয়ে তসলিমা নাসরিন 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৯০৯৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)
  • তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ প্রতিদিনে আফগানিস্তান ইত্যাদি নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন। তার সারকথা মোটামুটি এইঃ
     
    ১। আমেরিকা আফগানিস্তানে গণতন্ত্র গড়ে দিতে গিয়ে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে।
    ২। সাধারণ মুসলমানরা এখন আফগানিস্তান থেকে পালাচ্ছেন, বা পালাতে চাইছেন, কারণ মুসলমানরাই সপ্তম শতাব্দীর ধর্মীয় আইনকে খুব ভয় পায়। 
    ৩। তালিবানি আইন চূড়ান্ত নারীবিরোধী। সামান্য স্বাধীনতা উপভোগ করতে গেলেই মেয়েদের তারা পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলে। এবারও ফেলবে। বিয়ের নামে যৌনদাসী বানাবে। 
    ৪। এই তালিবানি আইন এক দেশের ব্যাপার না। সিরিয়া এখন এসে গেছে আফগানিস্তানে, আফগানিস্তান বাংলাদেশে। এ হল প্যান ইসলামিজম। গোটা উপমহাদেশকে তার ফল ভুগতে হবে। 
    ৫। বর্বর এই জঙ্গীরা নারীর সর্বনাশ করবে। তাদের মদত দেবার দায় পাকিস্তান, চিন, রাশিয়ার। 
    ৬। দুনিয়ার মুসলমানরা নারীর এই অবমাননার বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ করছেনা, যেমন তারা করে থাকে পালেস্তাইনের ক্ষেত্রে। মুসলমান মৌলবাদীরা তো জায়গায় জায়গায় তালিবানের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে।
    ৭। নারীর পরনে যে দাসত্বের শৃঙ্খল, তা ভেঙে ফেলতে কয়েক শতাব্দী লেগেছে। এখন দুদিনেই আবার পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের আরেক নাম পুরুষতন্ত্র। কিন্তু ধর্মন্ধতা, মৌলবাদ, নারীবিদ্বেষ পুরুষকে রক্ষা করবেনা।
     
    এই সারসংক্ষেপ আমার তৈরি (শুধু পরের মুখে ঝাল না খেয়ে আসল লেখাটি অবশ্যই পড়ুন -- https://www.bd-pratidin.com/editorial/2021/08/19/681973 ) । আলোচনার জন্য। না, তসলিমাকে নিয়ে কিছু বলার নেই, বরং ধন্যবাদই দেবার আছে। এই ধরণের একটি ন্যারেটিভ আভাসে ইঙ্গিতে টুকরো-টাকরায় পশ্চিমী এবং প্রাচ্যের মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে, সেটাকে গুছিয়ে স্পষ্ট করে লিখে ফেলার জন্য। না লিখলে আলোচনাটাই করা যেতনা। 
     
    তা, এই ন্যারেটিভের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নিয়ে কথা বলা যাক। এই ন্যারেটিভের প্রথম লক্ষণ হল, আফগানিস্তানকে আফগানিস্তান বানানোর জন্য পাকিস্তান, চিন এবং কখনও সখনও দুষ্টু রাশিয়াকে দায়ী করা। আর আমেরিকাকে স্রেফ একটু ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করা। আমেরিকা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাট করেছে, সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য তো ভালোই ছিল, গণতন্ত্রই তো গড়তে গিয়েছিল। মানুষকে ধর্মান্ধতা থেকে স্বাধীনতা দিয়েছিল, মেয়েদের দিয়েছিল ওড়ার আকাশ। কাইট রানার সেই পশ্চিমী স্বাধীনতার প্রতীক, মালালা হল মুখ। এখন আমেরিকার পিছিয়ে আসায় সে আকাশ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, এবার অ্যাসিড বৃষ্টি আসন্ন -- এরকম একটা ভাব। 
     
    তো, এ ন্যারেটিভ এতই মোটাদাগের, এবং এতটাই অলীক, যে, আলাদা করে সমালোচনা করার এমনি কোনো কারণই নেই। তবু লেখা যখন হচ্ছে, তখন সংক্ষেপে, স্পষ্ট করেই বলা যাক, বাস্তবতা থেকে এসব অনেক দূরে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে আরব পর্যন্ত মৌলবাদীদের উত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, মদৎ ছিল কাদের তা কোনো গোপন তথ্য নয়। আফগানিস্তানে মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ, সৌদি আরবের অগাধ কনট্র‌্যাক্ট, এবং তালিবানদের সঙ্গে চলমান আলোচনা, এসব নিশ্চয়ই গণতন্ত্র এবং নারীর অধিকারের স্বার্থে করা হয়নি। বস্তুত জঙ্গী ইসলাম, মূলত প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমের তৈরি।  
     
    এই ন্যারেটিভের দ্বিতীয় লক্ষণটি আরও কৌতুহলোদ্দীপক। লেখাটিতে, এই ধরণের লেখাগুলির সবকটিতেই, দুইটি বর্গের রমরমা। নারী এবং ইসলাম। এই দুটিকে ঘিরেই চর্চা চলে অবিরত। তা, এই নারী বর্গটি নিয়ে বিস্ময়ের কিছু নেই। গোটা পশ্চিমী মিডিয়াতেই এখন তথাকথিত 'অপর'দের প্রাধান্য। নারী হোক বা কালো রঙের লোক। এও এক নির্মিতি। কিন্তু তার গতিবিধি আলোচনা এখানে করা হচ্ছেনা। যেটা আকর্ষণীয়, সেটা হল, অন্য এক 'অপর'এর ক্ষেত্রে এই অপরবান্ধবতা একেবারেই ভেঙে পড়ছে। সেই অপর হল 'ইসলামিজম'। ইসলামও পশ্চিমের এক 'অপর'। পশ্চিমী সভ্যতার আলোর উল্টোপিঠ। কিন্তু এই 'অপর'কে গৌরবান্বিত করার ব্যাপার তো নেইই, বরং পুরোটাই ভিলেনের রঙে আঁকা। প্যান ইসলামিজম এখানে ভিলেন। দুষ্টু লোক। 
     
    এটা একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললেই ব্যাপারটা বোঝা যাবে। ধরুন, হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন যুদ্ধবাজ। বা মার্গারেট থ্যাচার উজিয়ে ফকল্যান্ডে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু এঁদের জন্য নারীবাদকে বা নারীকে পশ্চিমী মিডিয়ায় কেউ ভিলেন ঠাওরায়না। যদি আদৌ কথাটা ওঠে, তখন বলা হয়, ওগুলো ব্যক্তির লক্ষণ, নারী নামক বর্গের নয়। কথাটা অবশ্য ওঠেইনা, বস্তুত এঁদের গৌরবের প্রশ্নে এই লক্ষণগুলোকে সযত্নে আড়াল করা হয়। যেমন হিলারি ক্লিন্টনের পক্ষের মিডিয়া ন্যারেটিভ ছিল 'গ্লাস সিলিং ভাঙা'। যুদ্ধ টুদ্ধ তার অনেক পিছনে। এই সমর্থন  বা সহমর্মিতা কিন্তু ইসলামিজম পায়না। আড়াল করার তো প্রশ্নই নেই, বরং হিলারির সম্পূর্ণ উল্টোদিকে গিয়ে লাদেন একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ নন, একটি প্রতীক হয়ে যান, যদিও হিসেব করলে দেখা যাবে, লাদেনের আদেশে একটি শহরের একটি বহুতল ভেঙেছে, হিলারির আদেশে হয়তো একশটি। মুসলমানরা সদলবলে তালিবানদের নিন্দে না করে ভিলেন হয়ে যান, কিন্তু দুনিয়ার পশ্চিমীরা, মিডিয়া সহ, বুশ নামক এক রাষ্ট্রনায়কের স্রেফ গুলবাজি করে ইরাক নামক একটি গোটা দেশকে ধ্বংস করে দেবার নিন্দে সজোরে কখনই করে উঠতে পারলনা, তাই তারা গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। এই অন্তর্নিহিত দ্বিচারিতা, আলোকজ্জ্বল পশ্চিমে আছে। ফলে লিঙ্গ বা গাত্রবর্ণ নিয়ে যতই ঢক্কানিনাদ চলুক, আদতে অপরবান্ধবতা, বোঝা যায়, পশ্চিমের আর পাঁচটি গিমিকের মধ্যে একটি।
     
    তৃতীয় এবং সর্বশেষ লক্ষণটি এখানে লক্ষ্যণীয়, যে, শুধু ইসলামিজম-বনাম-নারী দ্বৈত নয়, আরও একটি দ্বৈতও এখানে প্রকট। সেটি হল নারী বনাম পুরুষ। নারীকে শুধু জঙ্গী ইসলামই পীড়ন করছে তা নয়, সামগ্রিক ভাবে পুরুষও একই দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ শুধু 'ঐস্লামিক' পুরুষ নয়, এই ক্ষেত্রে বৃহত্তর ভিলেনটি হল পুরুষ। এর জন্য নির্মান করা হয়েছে একটি নতুনতর বর্গ, পুরুষতন্ত্র। ইংরিজিতে যে কথাটি ব্যবহৃত হত, বা এখনও হয়, তার বাংলা হল পিতৃতন্ত্র। সেটা ব্যবহার করা হত, বা হয়, একটি নির্দিষ্ট কারণে। পিতৃতন্ত্র একটি ব্যবস্থা, যা পুরুষ এবং নারীর জন্য অসমঞ্জস অবস্থান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, পুরুষ যুদ্ধ করবে, দেশনেতা হবে, নারী বাড়ির কাজ করবে, নার্স ও শিক্ষিকা হবে -- মোটাদাগে বললে, এইরকম। নারীর স্বার্থে এই ব্যবস্থাটা বদলানো দরকার, বিংশ শতকের নানা ঢেউএর নারীবাদ, সেই কথাই বলত, আভ্যন্তরীন নানা বিতর্ক এবং মতভেদ সত্ত্বেও। এখানে কাঠামোগতভাবে কোনো ভিলেন ছিলনা। কিছু পুরুষ নিশ্চয়ই বদ, পুংরা জাতিগতভাবেই ভিলেন না, ভিলেন হল কাঠামোটা। একবিংশ শতকে জনপ্রিয় আখ্যানে বিষয়টা বদলাতে শুরু করে। ব্যবস্থা নয়, সরসরি 'ম্যান'কে ভিলেন তৈরি করা হয়। পুরুষের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে চিহ্নিত করে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। তৈরি হয় 'টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি' বা 'ম্যানসপ্লেনিং' এর মতো বর্গ। বিংশ শতকের 'এমসিপি' জাতীয় বর্গের সঙ্গে এর তফাত হল, এমসিপি বা মেল-শভিনিস্ট-পিগ বলা হত কিছু ব্যক্তিকে। কিন্তু 'বিষাক্ত পৌরুষ' জাতীয় বর্গ সামগ্রিকভাবে পুরুষের লক্ষণকে উদ্দেশ্য করে তৈরি। ইংরিজিতে পিতৃতন্ত্র বর্গটি এইভাবেই তার পুরোনো অর্থ থেকে নড়েচড়ে গেছে। শব্দটি যদিও বদলায়নি। বাংলায় সোজাসাপ্টা ভাবে শব্দটিই বদলে পিতৃতন্ত্রের জায়গায় পুরুষতন্ত্র করে ফেলা হয়েছে। এই বর্গের ব্যবহার একটুও আপতিক না, কারণ তসলিমার আখ্যানও এই একই লক্ষ্যে ধাবিত। 
     
    এটাও একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললে, ধরুন, আপনার চারদিকে 'প্রগতিশীল' মনে করেন এমন একজন মানুষকেও দেখেছেন, যিনি তালিবানদের সমর্থক? লিঙ্গ বা ধর্ম নির্বিশেষে? খবরের কাগজে এরকম লোকেদের কথা নিশ্চয়ই পড়েছেন, কিন্তু কাছে পিঠে? সম্ভবত দেখেননি। কারণ তালিবানি কথাটিই প্রায় সর্বজনস্বীকৃত নিন্দাসূচক শব্দ। খোদ আফগানিস্তানেও পুরুষরা কি খুন হচ্ছেন না, না লড়ছেন না? নিশ্চয়ই তালিবানরা সংখ্যায় অনেক, কিন্তু উল্টোদিকটাও, কম হলেও তো আছে। তার মরছে টরছেও। তাহলে ধর্ম পুরুষদের রক্ষা করছে, বা চিরকাল করবেনা, এই কথাটার মানে কী? 
     
    মানে একটাই। এই কথাটা শুধু নয়, সামগ্রিক ভাবে তিনটি লক্ষণেরই। একবিংশ শতকে রাজনীতির নতুন বয়ান তৈরি হচ্ছে। এগুলো তার অংশ। সেখানে আমেরিকা বা সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ আর ভিলেন নয়। মূল ভিলেন সন্ত্রাসবাদ, বা পড়ুন প্যান ইসলামিজম। খুচরো ভিলেন সামগ্রিকভাবে পুরুষরা। এবং সহমর্মিতা ধাবিত হবে, নারী, কালো, নিচু জাত এই বর্গগুলির দিকে। বিংশ শতকের রাজনীতির থেকে যা অনেকটাই আলাদা। 
     
    বিংশ শতকের রাজনীতির এরকম নির্দিষ্ট কেন্দ্রিকতা ছিলনা। পশ্চিমী দুনিয়ায় মূল শত্রু ছিল কমিউনিজম। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত। তৃতীয় বিশ্বে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল। সেখানে চিরশত্রু ছিল পুঁজিপতিরা এবং আমেরিকা। দুই জায়গাতেই এই রাজনীতিই মূল প্রাধান্য পেত। নারী বা কৃষ্ণাঙ্গ বা সমকামীদের ইস্যু ছিল পিছনের সারিতে। তারা মাঝেমাঝে উপচে পড়ত মূল ধারায়। চলত বিতর্ক। এখন হয়েছে ঠিক উল্টো। লিঙ্গ-বর্ণ-জাত -- শুধু উপচে পড়েছে নয়, নির্ণায়ক জায়গা নিয়ে নিয়েছে রাজনীতিতে। অবাস্তবরকম চরম জায়গায়ও চলে যাচ্ছে থেকেথেকেই। উল্টোদিকে পুঁজিবাদ আর ভিলেন নয়, নতুন ভিলেন হয়েছে, আগেই যা বলা হল, সন্ত্রাসবাদ, পুং ইত্যাদি। 
     
    রাজনীতি এভাবেই বদলায়। বিতর্ক হয়। আবার বদলায়। তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একবিংশ শতকের রাজনীতির একটা জায়গাই খুবই বিপজ্জনক। তার রাজনীতির এককেন্দ্রিকতা। বিতর্কের অভাব। বিংশ শতকের রাজনীতি, তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বিতর্কের অভাবে কখনও ভোগেনি। বিতর্কের অভাব, পৃথিবীর ইতিহাসে, বরাবরই টোটালিটারিয়ান বা প্রায়-টোটালিটারিয়ান ব্যবস্থা ডেকে এনেছে। সে ম্যাকার্থির আমেরিকাই হোক, বা হিটলারের জার্মানি। শুধু তসলিমা তো নন, তাঁর লেখায় যে তিনটি লক্ষণের কথা বলা হয়, বাম-দক্ষিণ নির্বিশেষে সেগুলি সকলেরই গ্যান্ড ন্যারেটিভ হয়ে উঠছে। ভয়টা সেখানেই। গ্র‌্যান্ড ন্যারেটিভের ভয়। দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ এর ভয়। যে ভয়, বিংশ শতকে কেউ কখনও পায়নি। 
  • | রেটিং ৪.৪ (৫ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৯০৯৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 122.164.74.238 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৩:১৫497414
  • "কিন্তু আবার কত দেশের কত মানুষ হয়ত ঐ আশাটুকুর দিকে চেয়েই দিন কাটায়"
     
    ওরা দেশদ্রোহী, ওদের মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে দেওয়া হবে। 
  • Kallol Dasgupta | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৮:৫৪497418
  • দেবাঞ্জন। 
    কিউবা - সাক্ষর হার % ৯৯.৮। প্রতি ১০০০ জনে ৫.৩টি হাসপাতাল শয্যা
    ভিয়েৎনাম - সাক্ষর হার % ৯৫। প্রতি ১০০০ জনে ২.৬টি হাসপাতাল শয্যা
    ভারত - সাক্ষর হার % ৭৭। প্রতি ১০০০ জনে ০.৫টি হাসপাতাল শয্যা
    বাংলাদেশ - সাক্ষর হার % ৭৪.৭। প্রতি ১০০০ জনে ০.৮টি হাসপাতাল শয্যা 
    নেটে পেলাম ।
    এটুকুই।
    আর হ্যাঁ। ভিয়েৎনাম বা কিউবায় বাক স্বাধীনতা নেই এটা ধরে নেওয়া হয়, কারন সমাজতান্ত্রিক দেশ। আর ভাএওতে বাংলাদেশে ! হ্যাঁ অনেক টিভি চ্যানেল আছে, অনেক খবরের কাগজ আছে, তারা সরকারের সমালোচনা করে। তারপরে কাশ্মীর আছে, নাগাল্যান্ড, মণিপুর আছে, ইউএপিএ আছে আফস্পা আছে, থলেতে গরুর মাংস সন্দেহে পিটিয়ে মারা আছে। ফেসবুকে লিভ করে বিনা শাস্তিতে বরং পুরস্কারে দলিত পোড়নো আছে। বাংলাদেশে শুধু হিন্দু বা বৌদ্ধ বলে নির্বিচ্রে হত্যা আছে। 
    এই আর কি। 
  • Debanjan Banerjee | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২০:৪৩497420
  • কল্লোল তথ্য একদমই ঠিকঠাক দিয়েছেন | dekhun ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ এই সব দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিরই কিছু বেসিক সমস্যা আছে |
     
    ১। ব্রিটিশ রাজের ফেলে যাওয়া প্রথিষ্ঠানগুলিই মোটামুটি গত ৭ দশকে এই তিনটি দেশে শাসন করেছে | এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেউই কোন জাতীয় রাজনৈতিক  আন্দোলন এর মাধ্যমে গড়ে ওঠেনি | এরা মূলত তৈরী হয়েছিল ডিভাইড এন্ড রুল করে ব্রিটিশ শাসকের শাসনকে নিরঙ্কুশ করতে | এই কারণেই এই দেশগুলিতে সাধারণ মানুষের ততটা গুরুত্ব নেই যেহেতু শাসক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত স্টেট সারভাইভাল এর বাইরে কিছুই ভাবতে শেখেনি | 
    ২ | আসলে এতো বছর ধরে এই শাসনব্যবস্থার মধ্যে থাকতে থাকতে এখন সাধারণ মানুষ মূলত সারভাইভাল নিয়ে ভাবে তাই রাষ্ট্র কল্যানমুলক কি না তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই এই তিনটি দেশেই সাধারণ মানুষের | grassroot thekey কোন রাজনৈতিক আন্দোলন না হলে asole prathomik শিক্ষা ও sasthyo এর উন্নতি hoa সম্ভব নয় | গ্রাসরুট রাজনৈতিক আন্দোলন না হলে মানুষের মধ্যে আসলে এই জাতীয় সচেতনতা গড়ে ওঠা মুশকিল | আসলে মানুষ ক্রিকেট , বলিউড , কাশ্মীর , গোরু , হোয়াটসআপ , ব্লাসফেমি এই সব নিয়েই ব্যাস্ত শিক্ষায় বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য এইগুলি প্রায়োরিটি পায়না | 
    ৩ | ভিয়েতনাম কিউবা বা চিনে মানুষের এইসব বেসিক স্বাস্থ্য বা শিক্ষ্যার দিকে সচেতনতা বেশি তাই সেখানকার রাষ্ট্র বাধ্য হয়েই মানুষের জন্য এইসব দিকে বেশি খরচ করতে বাধ্য হয়েছে | আমাদের দেশে স্ট্যাচু অফ unity বা বালাকোটের মতো ব্যাপার বেশি ভোট আনে প্রাথমিক হাসপাতাল বা স্কুল নয় | 
    ৪ | ভিয়েতনাম কিউবা বা চিনে রাষ্ট্রনায়করা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও কেউ যেহেতু বিরোধী নেই তাই তাদের কোন ভয়ও নেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে | চিনে জাস্ট কয়েক সপ্তাহ আগেই রাতারাতি অনলাইন এডুকেশনকে প্রায় বোতলবন্দি করে দেওয়া হয়েছে যেহেতু সরকার চায় যে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেটের বোকা বাক্সে যাতে সময় বেশি না কাটায় | এর ফলে রাতারাতি অনেক চীনা বিলিওনিরে পথে বসেছে | ভারতে এইসব করা প্রায় অসম্ভব যেহেতু অনলাইন এডুকেশনের পিছনে ধনকুবেররা আছেন যারা চাইলে সরকার ফেলে দিতেই পারেন | 
    ৫ | এতো সবকিছুর মধ্যেও আপনাকে মানতেই হবে যে আমাদের দেশে এতো সমস্যার মদ্ধ্যেও নিয়মিত ভোট হয় ও সম্পূর্ণ বাকস্বাধীনতা আছে যেটা ভিয়েতনাম কিউবা বা চিনে নেই | আপনি ভারতে চাইলেই দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর মুণ্ডপাত করতে পারেন কিন্তু চিনে তা অসম্ভব | কাজেই এই দিকে আমরা এগিয়ে থাকবো চীনের তুলনায় | 
    ৬ | যেহেতু আমরা গণতন্ত্র তাই আমরা অনেক বেশি রেসিলিয়েন্ট চীন বা ভিয়েতনামের তুলনায় | আমাদের সিস্টেম হয়তো সব মানুষের সমান সুযোগসুবিধা দিতে পারেনা (কারণটা উপরেই বলেছি যে আমাদের সিস্টেম সব মানুষের কথা ভেবে তৈরী হয়নি ) কিন্তু আমাদের সিস্টেম অনেক বেশি টেকসই ও মজবুত | চিনের সিস্টেম ভঙ্গুর যেহেতু সেখানে অবাধ নির্বাচন নেই |
     
    আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম | আপনার সঙ্গে আলোচনা করেও ভালো লাগছে |
  • guru | 103.211.20.33 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২১:২৩497422
  • r2h লিখেছেন "পাকিস্তান বাংলাদেশে যা করেছে তারপর না হলো কোন ক্ষমাপ্রার্থনা না হলো একটা ন্যুরেমবার্গ, বরং নানান খোপের বাঙালীরা নানান বিষয়ে পাকিস্তানের ওপর সহানুভূতিশীলই হয়ে পড়লো। আরো লজ্জাজনকভাবে তাদের মধ্যে অসংখ্য বাংলাদেশীও আছেন।
    বাংলাদেশের অপরাধের জন্যে যতদিন বিচার বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা হয় ততদিন পুরোপুরি ব্রাত্য করে রাখা হয়তো উচিত ছিল। তার বদলে আমরা পাকিস্তানি সিরিয়েলে রবিগান শোনালে খুশি হয়ে যাই।"
     
    পাকিস্তানের সবচেয়ে বড়ো ​​​​​​​সফট ​​​​​​​পাওয়ার ​​​​​​​হলো ​​​​​​​ওই ​​​​​​​সিরিয়ালটির ​​​​​​​সেই ​​​​​​​নায়িকাটি ​​​​​​​যে রবিগান শোনালো |
    অনলাইনে ​​​​​​​একজন প্রবাসী ​​​​​​​বাংলাদেশী ​​​​​ ​​​​​​​ভদ্রলোক ​​​​​​​সম্প্ৰতি ​​​​​​​একটি ​​​​​​​মন্তব্য ​​​​​​​করেছেন ​​​​​​​"কে বলেছে ​​​​​​​যে ​​​​​​​আমরা ​​​​​​​পাকিস্তানীদের ​​​​​​​ঘৃণা ​​​​​​​করি ​​​​​​​আসলে ​​​​​​​আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ​​​​​​​চেতনা ​​​​​​​হল যে আমরা পাকিস্তানী ​​​​​​​পুরুষদের ​​​​​​​ঘৃণা ​​​​​​​করি ​​​​​​​এবং ​​​​​​​সেইসব ​​​​​​​পাকিস্তানী ​​​​​​​মেয়েদের ​​​​​​​ঘৃণা ​​​​​​​করি ​​​​​​​যারা ​​​​​​​আমাদের ​​​​​​​পাত্তা ​​​​​​​দেয়নি |" কে বলতে পারে স্বয়ং শেইখ সাহেব , তাজউদ্দীন আহমেদ এরাও মাহিরা খান বা সানাম সাঈদের মতো গার্লফ্রেইন্ড পেলে হয়তো ছয় দফা দাবিও তুলতেননা | ১৯৪৭-৭১ এলিট পূর্ব পাকিস্তানি মহলেও পাঞ্জাবী বা পশতুন মেয়েদের সঙ্গে খুব বেশি বিয়েশাদি হতোনা | হলে হয়তো ১৯৭১যের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো | ভেবে দেখুনতো ১৯৭১ এর মার্চে ঐতিহাসিক বৈঠকের সময় ভুট্টো শেখ সাহেবকে প্রস্তাব দিলেন যে আমার মেয়ে বেনজিরের সঙ্গে আপনার ছেলে রাসেলের বিবাহ দেওয়া হবে | ইটা হলে ১৯৭১ এর ইতিহাস নিশ্চয় অন্য রকম হতো | "রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি " খ্যাত মোহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন সাহেবের একটি থ্রিলার উপন্যাস "করাচী "| সেখানে কিন্তু লেখক একজন পাকিস্তানী নারীর সঙ্গে তার হীরোর প্রেম সম্পর্ক দেখিয়েছেন যেইখানে ভিলেন পাকিস্তানী মেয়েটির প্রথম জীবনে রাজাকার বাবা | এই বইটি পড়লেই r2h আপনি আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন | 
     
    এই youtube চ্যানেলটি দেখুন | 
     
         
     আসলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের পাকিস্তানের সম্পর্কে মনোভাব পরিবর্তনের কারণ জানতে পারবেন |   
     
    আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম r2h
     
  • Kallol Dasgupta | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২১:৪৯497423
  • দেবাঞ্জন। আমি চীনকে এই আলোচনা থেকে বাদ রাখতে চেয়েছি খুব সচেতনভাবে। মাওএর আমলের চিন আর আজকের চীনে খুব বেসিক তফাৎ ঘটে গেছে। "সমাজতান্ত্রিক" দেশগুলোর দুটো খারাপ দিক আমার আজকে মনে হয় (৩০ বছর আগে মনে হতো না) - ১) এক পার্টি ব্যবস্থা, ২) রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। দ্বিতীয় কারনটি "সমাজতন্ত্র"এর পতনের মূল বলে আমি মনে করি। সে অন্য আলোচনা। দ্বিতীয় কারনটির মতো প্রথম কারনটিও মার্ক্সের অবদান। এক্ষেত্রে মার্ক্সের "ভুল" বলাটা হয়তো ঠিক হবে না। মার্ক্স তার সময়ে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের যে চেহারা দেখেছেন  সেখানে সর্বজনীন ভোটাধীকার ছিলো না। ভোট দেওয়ার অধিকারী শিক্ষিত সম্পত্তিওয়ালা মানুষ। সত্যি কথা বলতে কি ১৯৪৭এ সম্ভবতঃ ভারতেই প্রথম ১ নাগরিক ১ ভোট চালু হয়। আমেরিকায় সেটা চালু হয় ১৯৬৪ সালে। ফলে মার্ক্সের কাছে সাধারন মানুষের গণতন্ত্র সুরক্ষিত রাখতে কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কত্ব ছাড়া উপায় ছিলো না। কিন্তু এটার ফল হয়েছে মারাত্মক। 
    কিন্তু বলুন তো পৃথিবীর কোন ব্যবস্থায় একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকা একমাত্র পার্টির প্রধান ডাক দিয়ে পারেন - সদর দপ্তরে কামান দাগো। পার্টি আমলাতন্ত্রে ছেয়ে গেছে, বুর্জোয়া পথের পথিক হচ্ছে তারা। তাই পার্টি ভেঙ্গে দিয়ে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নতুন পার্টি গড়ে উঠুক। মাও ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারও কারন ঐ এক পার্টির শাসন। আর কোন দ্বিতীয় জায়াগা নেই প্রতিবাদকে ভাষা দেবার। কিন্তু এটা মাও-ই করতে পেরেছিলেন। আর করতে চেয়েছিলেন গান্ধী। কংগ্রেস ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলেন। কেউ পাত্তাই দেয় নি। 
    খোঁজ নেবেন কিউবা ও ভিয়েৎনাম ঠিক অমনটা নয়। এই গুরুর পাতায় কোন একজন যিনি কানাডায় থাকেন (বাঙ্গালী) তার কিউবা বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন। সাংঘাতিক সব দেখা। একটা কথা মনে আছে। উনি ওনার হোটেল থেকে নানান জায়গায় গেছেন। শহর-গ্রামের ভিতর দিয়ে গেছেন - কোথাও "নিরানন্দ" দেখেন নি। আমার বোনের মেয়ে সম্প্রতি ভিয়েৎনাম ঘুরে এলো। এক কথা তার মুখেও শুনেছি। এটা ব্যবস্থায় পরিচয় হিসাবে অসাধারণ। 
    "ভিয়েতনাম কিউবা বা চিনে মানুষের এইসব বেসিক স্বাস্থ্য বা শিক্ষ্যার দিকে সচেতনতা বেশি " - সেটা আজকে। বিপ্লবের আগে ? পার্ল বাকের গুড আর্থ পড়ুন। শিক্ষা বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোন মাথাব্যথাই ছিলো না। কারন অসম্ভব দারিদ্র। 
    আপনার ১ নং পয়েন্টটি আমার সব কথা বলে দিয়েছে। ভিয়েৎনাম বা কিউবা ঔপনিবেশীক ব্যবস্থাকে ফেলে দিয়ে নিজেদের মতো ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এটাই পড়ে পাওয়া স্বাধীনতা আর লড়ে নেওয়া স্বাধীনতার তফাৎ। 
  • s | 100.36.157.137 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২২:৫৫497427
  • তালিবানি জমানায় নিউজ অ্যাঙ্কর। তালিবানদের পিস স্টুডিও থেকে সম্প্রচার -
  • guru | 103.211.20.33 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২৩:০৭497428
  • কল্লোল dekhun আমি মনেকরি শেষ পর্যন্ত একটা সিস্টেম সে যেটাই হোক না কেন (সমাজতন্ত্র বা পুঁজিতন্ত্র বা আমাদের মতো পোস্ট-কলোনীয়াল দেশে ) সেটা টিকে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত শীর্ষ নেতারা যতটা বেশি সম্ভব মানুষের ভালোর কথা মাথায় রাখেন | অনেক সময় খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা যদি মানুষের ভালো করে তাহলে সিস্টেমটি টিকে যায় | মাও এইরকম একজন ছিলেন কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এইধরণের লোকের সংখ্যা খুবই কম হয় কেননা নেতা মাত্রই প্রথমে হয় নিজের বা নিজের স্টেট সারভাইভাল এর কথা ভাবে | আম্রিগাতে গতবছর আমি ভেবেছিলাম যে ডেমোক্র্যাটরা বার্নি সান্ডার্স কে তুলবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আম্রিগার ডিপ স্টেট সাহস দেখতে পারেনি যদি রিপাবলিকান স্টেটগুলি গৃহযুদ্ধের দিকে যায় এই ভেবে তাই বিডেনের মতো কবরের দিকে একপা বাড়িয়ে থাকা লোককে তুলতে হয়েছে |     
    পৃথিবীতে কোনো সিস্টেমই শেষপর্যন্ত চিরস্থায়ী নয় মানুষ যেহেতু নিজেই পরিবর্তনশীল সেহেতু সব সিস্টেমকেই বারবার ভাঙতে ও গড়তে হয় ইটা নাহলে মানুষের অবস্থা dinosaurder motoi হতো | আর তাছাড়া মানুষের সমাজ এতো বিচিত্র যে কখনোই একটা জায়গার সিস্টেম অন্যজায়গায় খাটবেনা | এখন চীনের  সমাজতন্ত্রের সামনে এইটাই বড়ো প্রশ্ন যে কিকরে মানুষের ভালো করা যায় আবার  সিস্টেমকে খুব তাড়াতাড়ি চেঞ্জ না করে (সোভিয়েত ইউনিয়ন এর উদাহরণ টা হাতেই আছে )| এইটা বড়ো কঠিন প্রশ্ন যা ইতিহাস সি জিনপিং এর সামনে রেখেছে | কে জানে কি উত্তর এর আসবে ? আমি জ্যোতিষী নই শুধু চীনের ইতিহাসের আর ভূরাজনীতি একজন ছাত্র হিসেবে এইটুকুই চাইবো যাতে চীনের তথা এশিয়ার মানুষের শেষ পর্যন্ত ভালো হয় | এটা তো সত্যি কথা মাও ইতিহাসে না আসলে হো-চি-মীনঃ বা ক্যাস্ত্রোর আসাও খুব কঠিন হতো | আসলে ওয়েস্টার্ন কলোনিয়ালিজম এশিয়া আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার মানুষকে গত তিনশো বছর ধরে নিজের বা নিজের স্টেট survival এর বাইরে কিছু শেখায়নি | তাই এশিয়ার ইতিহাসে একজন গান্ধী বা মাও এর প্রয়োজন ছিল যাকে দেখে ভবিষয়তে একজন হো-চি-মীনঃ বা ক্যাস্ত্রোর উঠে আসা সম্ভব হবে | কে জানে কি হবে ? আপনার কি মনে হয় কি হওয়া উচিত চীনের ক্ষেত্রে ?
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 14.140.229.202 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ২৩:৪২497431
  • আমি শুধু সৈকতের মূল প্রবন্ধটা পড়েছি। চমৎকার লেগেছে। 
     
    আর অন্য মন্তব্য বা সিরিয়াস ইনটারভেনশন গুলো পড়িনি। 
    আমি বিষয়টাকে অকারণ ঐক্যমত্যের সমস্যা হিসেবে দেখি না, তবে একবিংশ শতকের বিতর্কের অভাব বা বলা ভালো বিতর্কের রেজিস্টান্স টার্মিনোলোজির অভাবের সমস্যাটা আমিও অনুভব করেছি। মূলতঃ যত অকিঞ্চিতকর ই হোক, পোবোন্দো লিখতে গিয়ে। হ্যাঁ এই প্রবলেম টি সিরিয়াস।
     
    আমি যে ভাবে দেখি সেটা অতি সংক্ষেপে এই। বৃহৎ ঐকমত্য যদি থেকে থাকে সেটা আছে অর্থনীতির ক্ষেত্রে। সকলেই চীনে মুগ্ধ। নিও কনজারভেটিজম আর নিও লিবেরাল এর মিলন মেলা যদি ইরাক এর দ্বিতীয় যুদ্ধের সময়ে এসে থাকে, তার আগে থেকেই যেটা হচ্ছিল, এবং এখন প্রচন্ড করোনার মত পোলিটিকাল ক্লাসের মধ্যে ছাড়িয়ে পড়েছে, সেটা হল, চীন প্রমাণ করে ছেড়েছে, কনজিউমার চয়েস ও ডিমান্ড , ইনডাস্ট্রিয়াল প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের উচ্চ মাপের ডিমান্ড রাখতে গণতন্ত্র আর লাগে না। এবং পশ্চিমী লিবেরাল ডেমোক্রাসির বেসিক  প্রিমাইস টাই ছিল যে একটা গণতন্ত্র ও প্রোগ্রেসিভলি ইনক্লুসিভ গণতন্ত্র লাগে , নইলে ইনডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ড কমে, কারণ যেটা অনেক সময়ে উহ্য রাখা হত, সোশাল চয়েস কমে ইত্যাদি। 
    এবার সমস্যা হল, লিবেরাল ডেমোক্রাসির সার্থক আমল বলে যদি ধরি ১৯৪৫ থেকে ২০০৮ (অনেকে বলেন, ১৯৪৫ থেকে ওয়াশিংটন কনসেন্সাস, আটের দশকের প্রথম ভাগ,, অনেকে বলেন ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৪ , এটা উল্ফগ্যাঙ স্ট্রীক বলেন। আমি ২০০৮ বলবো ঠিক করেছি করেছি, কারণ ক্রেডিট ক্রাইসিস টাকে , ১৯৯৯ এর সিয়াটল মুভমেন্ট এর সময়ের  অ্যানটি ক্যাপিটালিস্ট আউট বার্স্টের বদলে বড় ইম্প্লোশন হিসেবে মনে করি বলে। এইবার এই পিরিয়ডে, ১৯৪৫-২০০৮ যা যা রেজিস্টান্স এর ক্রিটিকাল থিয়োরী তৈরী ও তার টারমিনোলোজি তৈরী হয়েছে, একেবারে ধরেন ইমিগ্রেশন বিষয়টির ভাঙ্গা গড়া সহ, , সেটা সবকটাই হয়েছে, ওয়েলফেয়ার স্টেট কে ফাইন টিউন করার উদ্দেশ্যে। 
    কিন্তু এই থিয়োরাইজেশন এর বড় সীমাবদ্ধতা হল, প্র‌্যাকটিকালি, ১৯২০ এর দশকের গ্রামশি এবং ১৯৩০ এর দশকের ফ্রাংকফুর্ট স্কুল ই এগুলির মূল ভিত্তি।  ১৯৫০ এর দশকের ফরাসী থট। সিমোনে দ্য বোভোয়া ইত্যাদি। আর রয়েছে কলোনী গুলির গান্ধী আম্বেদকর সহ ইন্টেলেকচুয়াল দের লেখা পত্র, চীনের এক্সপেরিমেন্ট, এবং আমেরিকান সিভিল রাইট্স ইত্যাদি। এবার এর মধ্যে কলোনী গুলি তে স্ট্রাগল এগিয়েছে পিছোছে। কিন্তু সমস্যাটা হল, এই সমস্ত ক্রিটিসিজম ই যতই র‌্যাডিকাল হোক না কেন, মূলতঃ ওয়েলফেয়ার স্টেট এর ফাইন টিউনের উদ্দেষ্যে লেখা। ১৯১৭ আর ১৯৪৯ এর দুই মডেল ছাড়া র‌্যাডিকাল ওভারহল এর গল্প তো নাই। 
    এবং সেই জন্যেই এই ১৯৪৫ er পরে তৈরী হওয় aরেজিস্টান্স টার্মিনোলোজি, ১৯৪৫ এর ইম্ডিয়েট আগের যে টোটালাটারিয়ান রেজিম কে রেজিস্ট করার লব্জ তার জন্য প্রস্তুত না। অথচ এদের মূল ইনস্পিরেশন গ্রামশি এবং ফ্রাংকফুর্ট স্কুল, এবং সাফ্রেজ মুভমেন্ট হওয়া সত্তএও। তাই গণতান্ত্রিক দেশের টোটালাটারিয়ান ঝোঁক আর একেবারে থিয়োক্রাটিক দেশ কোনো টার ই বীভৎসতার বিরুদ্ধে রেজিস্টাস টামিনোলোজি , ফ্রেম অফ রেফারেন্স এখনো পাই নি। একটা কারণ তো ক্যাপিটালিজম কে পুরো চ্যালেঞ্জ এই ১৯৪৫ পরবর্তী থিয়োরাইজেশন করতে পারছে না, কিন্তু আরো কারণ আছে, সেটা হল, থিয়োক্রাসি,  ক্যাপিটালিজম এবং মডার্নিটির সম্পর্ক টাকে চ্যালেঞ্জ করছে, বলে হয়তো ইরান ব সৌদি র মত প্রমাণ করার চেষ্টা করবে, যে কারবারে অ্যাকচুয়ালি ওপেননেস না থাগলেই ভালো। ইত্যাদি। 
    অর্থাৎ মূল সমস্য হল শুধু জেন্ডার পলিটিক্স এর আর্টিকুলেশন না, গোটা ক্রিটিকাল থিয়োরীর মধ্যেকার যে প্রগতির ধারণা, যেটা মার্ক্সবাদী প্রগতির ক্রিটিক থেকেই উঠে আসা, সেটা ওএলফেয়ার স্টেটের ফাইন টিউনিং এর বাইরে  বড় অস্ত্র হিসেবে থাকছে না, কর্তৃত্ত্ববাদী ঝোঁক গুলোর কাছে হতভম্ব হয়ে যাচ্ছে। 
     
    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত    
  • Amit | 203.0.3.2 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:০৪497435
  • বাপরে। গুরু ওনার ২১:২৩ এর ​​​​​​​পোস্টে ​​​​​​​একটা ​​​​​​​পুরো ​​​​​​​অন্য ​​​​​​​অ্যাঙ্গেল এনে ফেলেছেন। ​​​​​​​এতো ​​​​​​​আগেকার ​​​​​​​দিনে ​​​​​​​রাজা ​​​​​​​বাদশার ​​​​​​​আমলে ​​​​​​​হতো। ​​​​​​​এর ​​​​​​​ছেলে -​​​​​​​ওর ​​​​​​​মেয়ের ​​​​​​​সাথে ​​​​​​​বিয়ে ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​দিয়ে এলায়েন্স। :) :) 
     
    এভাবে ধরে ধরে বিয়ে দেওয়া সমর্থন করিনা যদিও। কিন্তু যেকোনো সোসাইটিতে জাত পাত না দেখে ছেলে মেয়েদের ফ্রি-মিক্সিং আর নিজের লাইফ পার্টনার নিজে বেছে নেওয়ার এর সুযোগ দিলে হেট্রেড এমনিতেই আস্তে আস্তে কমে আসে। কিন্তু তাহলে তো আবার হেট্ পলিটিশিয়ান দের বিপদ। আর এই বিষয়ে হিন্দু -মুসলিম -খ্রীষ্টান -শিখ -সক্কলের মধ্যেই গোড়ামি দেখেছি- দেশে হোক কি বাইরে। বাইরে মুখে বড়ো বড়ো কথা বললেও যেই নিজের ছেলেমেয়ের পালা আসে তখন আসল রূপটা বেরিয়ে পরে। 
     
    যাকগে - মূল সাবজেক্টে ফেরা যাক। বেলাইন হয়ে যাচ্ছে। 
     
  • aranya | 2601:84:4600:5410:9d4:440c:332b:c5f7 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৫৬497440
  • তালিবান-দের এই সপ্তম শতাব্দীর বর্বর শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে এবং হবে, আফগানদের মধ্য থেকেই। গত ২০ বছরে  বহু মেয়ে স্কুল, কলেজে গেছে, শিক্ষার স্বাদ পেয়েছে। আফগানিস্তানে কম বয়েসী ছেলেমেয়ে সংখ্যায় প্রচুর, তারা স্বাধীনতা কী জিনিস  দেখেছে, প্রতিরোধ জারি থাকবে 
    এ ছাড়া বলার তেমন কিছু নেই। উড়ন্ত হেলিকপ্টারে বাঁধা লাশের ছবি দেখলাম। তাত্বিক আলোচনা চলতে থাকুক 
  • Kallol Dasgupta | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:৪৫497442
  • গুরু। আপনার ৩১ আগস্ট ২০২১ ২৩:০৭ এর পোস্টের সাথে এমনিতে কোন দ্বিমত নেই। আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন - চীনের ক্ষেত্রে কি হওয়া উচিৎ। আমি আমার আগের পোস্টে যেখানে চীনকে  আমার আলোচনা থেকে বাদ রাখার কথা লিখেছিলাম, সেখানে সমাজতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে দুটো কথা বলা ছিল - ১) এক পার্টি ব্যবস্থা, ২) রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। 
    দ্বিতীয় সমস্যাটি নিয়ে আমার একটা লেখা গুরুতেই আছে - 
    এখানে -  https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=18514 । খুব পুরোনো লেখা তারপর গুরু ফরম্যাট পাল্টেছে তাই লেখায় কিছু কিছু শব্দ পড়া যায়না, তবে বোঝা যায়। তবে পরে লেখাটিতে আরও কিছু সংযোজন হয়েছে। সে অন্য বিষয়। পড়ে দেখতে পারেন। 
    আমার মনে হয় মার্ক্সএর দেখানো পথে যেখানে বিপ্লবোত্তর সব পুঁজি রাষ্ট্রীয় পুঁজিতে পরিনত হবে, ওখানেই খুব বড় গন্ডোগোল। রাষ্টীয় পুঁজি বলে কিছু হয় না। মার্ক্সীয় মতে পুঁজি একটি সামাজিক শক্তি আর ওদিকে রাষ্ট্র একটি সমাজবিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে একটা সামাজিক শক্তি কিছুতেই একটা সমাজবিচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রকের হাতে থাকতে পারে না। সে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজবে এবং ৭০ বছরে পুঁজির সমাজে ফিরে আসার গল্প সম্পূর্ণ হবে। 
    এবার তবে কি করা ? আমি মনে করি পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে যতোটা আলাদা, সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাও  পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার থেকে ততোটাই আলাদা হওয়া দরকার। মুস্কিল হলো মার্ক্স যখন সমাজতন্ত্রের কথা বলছেন, তখন পুঁজিবাদের বেড়ে ওঠার সময়। ফলে এমন কোন উৎপাদন ব্যবস্থা মার্ক্সের পক্ষে ভেবে ওঠটা বেশ কঠিন ছিলো। তার উপর দুটি সমস্যাও ছিলো। প্রথমতঃ  মার্ক্স পুজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার শোষনের দিকটা দেখতে পেয়েছেন কিন্তু তখনো তার পরিবেশ দূষণের দিকটা সামনে আসেনি। তাই তাকে মার্ক্স "প্রগতি" বা "উন্নয়ন" বা "উন্নত ব্যবস্থা" হিসাবেই দেখেছেন।  দ্বিতীয়তঃ সমাজবিকাশ নিয়ে মার্ক্সের চিন্তাভাবনা ছিলো রৈখিক (লিনিয়ার)।  তিনি কোনদিন একথা ভাবেন নি যে সমাজতন্ত্র কখনো পুঁজিবাদে ফিরে যেতে পারে। ফলে তার পক্ষে পুঁজিউত্তর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে রাষ্ট্রীয় পুজি ভিত্তিক ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছু ভাবার মতো ছিলো না। যদিও মার্ক্স একেবারে শেষের দিকে তার রৈখিক ধারনা থেকে সরে আসছিলেন । মারা যাবার দুই বছর আগে ১৮৮১তে ভেরা জাসুলিচকে তার চিঠির উত্তরে সামন্ততান্ত্রিক কিছু ব্যবস্থার নির্যাস নিয়ে সমাজতন্ত্রে উত্তরনের কথা লিখেছেন, তাতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়েই সেটা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। উৎসাহীরা পড়ে দেখতে পারেন - https://www.marxists.org/archive/marx/works/1881/zasulich/index.htm।
    অন্যদিকে পুঁজিবাদের সাথে অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে থাকা শিল্পায়ন আজ মানুষের/পৃথিবীর টিঁকে থাকার জন্যই বড় বিপদ হিসাবে দেখা দিয়েছে। 
    ফলে পুঁজিউত্তর ব্যবস্থা যে রৈখিক ভাবে আরও "আগে" যেতে হবে তার কোন মানে নেই। হয়তো ধাপে ধাপে বিশিল্পায়ন বা উল্টোদিকে মানুষের শ্রমকে উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনাবশ্যক করে দেওয়া উৎপাদন ব্যবস্থার চূড়ান্ত যন্ত্রায়ন  - যা মার্ক্স গ্রুন্ডিজে নোট বুকে বলছেন তেমন কিছুও হতে পারে।   কি হতে পারে তা নিয়ে পড়াশোনা করছি।  মার্ক্সের মতো মেধা বা প্রতিভা আমার নেই, তাই শেষ পর্যন্ত কোথাও পৌঁছাতে পারবো কি না জানিনা। বয়সও তো হলো। তবে ভাবনার জন্য আমার চিন্তা রেখে গেলাম। আশা করি আলোচনা জারি থাকবে। দরকারে গুরুচালকদের বলবো, এই প্রসঙ্গের মন্তব্যগুলো নিয়ে আর একটা লেখা চালু হতে পারে কি ? 
     
  • কেউ ​​​​​​​খুশি ​​​​​​​নয়, ​​​​​​​কেন ​​​​​​​ | 174.249.83.151 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:২৬497443
  •  
     
    “In a phone call with U.S. Secretary of State Antony Blinken on Sunday, China’s Foreign Minister Wang Yi said the U.S. needed to remain involved in Afghanistan, including by helping the country to maintain stability and combat terrorism and violence, according to a statement on the Chinese foreign ministry’s website.
     
    Moscow, too, urged the U.S. and allies not to turn away. Zamir Kabulov, President Vladimir Putin’s special envoy for Afghanistan, said Western countries should reopen embassies in Kabul and engage in talks with the Taliban on rebuilding the country’s economy.”
  • Kallol Dasgupta | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৩৯497444
  • কেউ খুশি ​​​​​​​নয়, ​​​​​​​কেন ​​​​​​​ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:২৬ পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে। 
    খেলা জমে গেছে। রাশিয়া চীন উদ্যোগ নিয়ে তালিবানেদের স্বীকৃতি পাওয়াতে চাইছে। ওরা চাইছে সব পশ্চিমী দেশ আবার দূতাবাস খুলুক কাবুলে। চীনার রাশিয়ার উৎসাহ কৌতুহলোদ্দীপক। তালিবানেদের সাথে চিন-রাশিয়ার যোগ বেশ স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমেরিকাও খেলবে। খনিজ সম্পদের ভগ না পেলে সেইই বা কেন গা করবে ? 
  • dc | 122.164.87.150 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৫২497445
  • আচ্ছা মার্ক্সকে আবার বাঁচিয়ে তোলা যায়না? তাহলেই তো সব বিষয়ে মার্ক্সের তাজা মতামত পাওয়া যায়, একশো বছরের পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে হয় না। বেচারা মরে গিয়ে ঐতিহাসিক ভুল করে ফেলেছেন একেবারে। 
  • Kallol Dasgupta | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৪৩497453
  • ডিসি। মার্ক্সবাদীরা তো "ঐতিহাসিক ভ্ল"ই করেন। কি আর করা !!!
  • Amit | 121.200.237.26 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:২৪497454
  • বোঝো। আমি জাস্ট সেটাই কল্লোলদাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি গত কদিন ধরে যে আর একটা করবেন না। উল্টে খেপে যাচ্ছেন আর বর পেটানো ফেটানো কিসব বলে গাল দিচ্ছেন। 
     
    গরিবের কথা বাসি হলে ফলে বোঝা গেলো। :) :) 
  • Kallol Dasgupta | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১৪497458
  • অমিত গরীব মানুষই বটে। হা হা হা। যাগগে। এখন আমার প্রিয় বিষয় চলে এসেছে সমাজতন্ত্র ও তার সংকটের উৎস । ফলে আর সবে এখন নেই। গুরু আর দেবাঞ্জনের কথা শুনতে আগ্রহী।   
  • guru | 103.151.156.135 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৫৮497462
  • কল্লোল খুব ভালো আলোচনা হচ্ছে | আপনি লিখেছেন "রাষ্টীয় পুঁজি বলে কিছু হয় না। মার্ক্সীয় মতে পুঁজি একটি সামাজিক শক্তি আর ওদিকে রাষ্ট্র একটি সমাজবিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে একটা সামাজিক শক্তি কিছুতেই একটা সমাজবিচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রকের হাতে থাকতে পারে না। সে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজবে এবং ৭০ বছরে পুঁজির সমাজে ফিরে আসার গল্প সম্পূর্ণ হবে। 
    এবার তবে কি করা ? আমি মনে করি পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে যতোটা আলাদা, সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাও  পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার থেকে ততোটাই আলাদা হওয়া দরকার। "  আমার মনে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​কোন ​​​​​​​কিছুই ​​​​​​​মানুষের ​​​​​​​জন্য ​​​​​​​খারাপ ​​​​​​​নয় ​​​​​​​যদি ​​​​​​​সেইটে ​​​​​​​মানুষের ​​​​​​​ভালোর ​​​​​​​জন্য ​​​​​​​ব্যবহার ​​​​​​​করা যায় | পুঁজির ​​​​​​​মধ্যেও ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​ভালোকরার ক্ষমতা ​​​​​​​আছে ​​​​​​​যদি তাকে ​​​​​​​মানুষের ​​​​​​​ভালোর ​​​​​​​কাজে ​​​​​​​লাগানো ​​​​​​​যায় | এখন ​​​​​​​আমি ​​​​​​​মনে ​​​​​​​করি ​​​​​​​এইখানেই ​​​​​​​রাষ্ট্রের ​​​​​​​দায়িত্ব ​​​​​​​যে ​​​​​​​পুঁজির ​​​​​​​গতি ​​​​​​​নিয়ন্ত্রণ ​​​​​​​করতে ​​​​​​​পারবে | জানি ​​​​​​​এটা ​​​​​​​খুবই ​​​​​​​কঠিন হয়তো প্রায় অসম্ভব বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​আর ​​​​​​​তো ​​​​​​​কোন ​​​​​​​উপায়ও ​​​​​​​নেই | 
     
    শিল্পবিপ্লবের পরে পাশ্চাত্যে মূলত তিনটি রাষ্ট্রব্যবস্থার মডেল দেখা যায় | ব্রিটিশ ফ্রেঞ্চ ও জার্মান | ব্রিটিশ মডেল মূলত জমিদার ও পরবর্তী কালের পুঁজিপতি শ্রেণীর সুবিধার্তে তৈরী একটি ব্যবস্থা যাতে সংসদীয় গণতন্ত্র একটা সেফটি ভালভের কাজ করে যাতে নিচের দিকে থাকা মেহনতি শ্রেণী বিদ্রোহ না করে | ব্রিটেন ও তার কলোনীসমূহ এই মডেল চালিয়েছে ও চালাবে | এই সিস্টেম কিন্তু সবচেয়ে রেসিলিয়েন্ট ও টেকসই যেহেতু একটা রেগুলার ইলেক্শনের ব্যবস্থা আছে | এই সিস্টেমের মূল সমস্যা হলো পুঁজির নিয়ন্ত্রণ একটা শ্রেণীর হাতেই কেন্দ্রীভূত হয় যা সমাজে অসাম্য বাড়ায় |  
     
    ফ্রেঞ্চ সিস্টেম মূলত তৈরী ফরাসি বিপ্লবের পরে তাই এখানে মূল হচ্ছে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র যে জোর করে সমাজের সম্পদ বন্টন করতে চায় সবার মধ্যে সমভাবে | এখানে লেনিন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই মডেলটাই মূলত ফলো করেছেন | সোভিএট্ উনিয়নের পতনের পরে আপাতত এই মডেল সবচেয়ে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে |
     
    এই দুটি মডেলের মাঝখানে আছে বিসমার্কের জার্মান মডেল | ব্রিটিশ মডেলে পুরো নিয়ন্ত্রণ পুঁজির উপরে এবং ফ্রেঞ্চ মডেলে পুরো নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের উপরে কিন্তু বিসমার্কের মডেল মূলত মজঝিম পন্থা নেয় যেইখানে রাষ্ট্র পুঁজিকে বিস্তারের জায়গা করে দেয় কিন্তু তারই সঙ্গে তার গতিও নিয়ন্ত্রণ করে যাতে মানুষের বিকাশের একটা জায়গা থাকে | স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল বা জার্মানির মডেল মূলত এইটে এইকারণেই এইগুলি মূলত পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হলেও সেখানে আর্থিক অসাম্য খুবই কম | রাশিয়াতে পুতিন বা চিনে সি জিনপিং এখন এইরকম একটা সিস্টেমই করতে চাইছেন | 
     
    দেখুননা এখন এইযে চিনে আলিবাবা টেন্সেন্ট এদের উপরে লাগাম পড়ানো হচ্ছে তার কারণ রাষ্ট্র চায় যে এরা নিজেদের শেয়ার বুইব্যাক করে আরো ধনী না হয়ে কোনভাবে জনকল্যাণকারী কিছু যেমন সেমিকন্ডাক্টর বা এরোপ্লেনে এইসব ইন্ডাস্ট্রি তে বিনিয়োগ করুক যার ফলে ভবিষ্যতে ওভারঅল সোসাইটি উন্নতি করতে পারে | এই মডেলের সমস্যা যে এটাতে সত্যি সত্যি উন্নতি হতে অনেক সময় লাগে | 
     
    আমেরিকার আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে ইনভেষ্টমেন্ট করেও কিছুই করলোনা কিন্তু ওয়াল স্ট্রিটে লোকহীড মার্টিনের শেয়ার ১০-১৫ গুণ বাড়লো | এর মূল কারণ আমেরিকান রাষ্ট্র সত্যি সত্যি আফগানিস্তানের মানুষের জন্য কিছুই করলোনা কিন্তু শুধুমাত্র ওয়াল স্ট্রিটের কথা ভাবলো | 
     
    আপনার মতামতের অপেক্ষায় রইলাম | 
     
  • guru | 103.151.156.135 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫১497463
  • অমিত লিখেছেন  "বাপরে। গুরু ওনার ২১:২৩ এর পোস্টে ​​​​​​​একটা ​​​​​​​পুরো ​​​​​​​অন্য ​​​​​​​অ্যাঙ্গেল এনে ফেলেছেন। ​​​​​​​এতো ​​​​​​​আগেকার ​​​​​​​দিনে ​​​​​​​রাজা ​​​​​​​বাদশার ​​​​​​​আমলে ​​​​​​​হতো। ​​​​​​​এর ​​​​​​​ছেলে -​​​​​​​ওর ​​​​​​​মেয়ের ​​​​​​​সাথে ​​​​​​​বিয়ে ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​দিয়ে এলায়েন্স। :) :) 
     
    এভাবে ধরে ধরে বিয়ে দেওয়া সমর্থন করিনা যদিও। কিন্তু যেকোনো সোসাইটিতে জাত পাত না দেখে ছেলে মেয়েদের ফ্রি-মিক্সিং আর নিজের লাইফ পার্টনার নিজে বেছে নেওয়ার এর সুযোগ দিলে হেট্রেড এমনিতেই আস্তে আস্তে কমে আসে।"
     
    আপনি একদম ঠিক জায়গাটাই ধরেছেন | আসলে rightwing যেকোনো দল মানুষকে polarize করে ভয় দেখিয়ে এবং যেকোনো সমাজের সবচেয়ে বোরো ভয় হলো যথেষ্ট পরিমানে সেক্সচুয়াল পার্টনারের অভাব | সমস্ত hindutvabadi আসলে মুসলিম মেয়েদের উপভোগ করতে চায় যেহেতু হিন্দু মেয়েদের সংখ্যা খুব কমে যাচ্ছে | বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারাও (বা তাদের বর্তমান সমর্থকরাও )মূলত  পাকিস্তানের মেয়েদের চায় বর্তমানে এবং ইটা না পেলেই পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণার জন্ম | ভারত বাংলাদেশ দুজনেই এই ব্যাপারে এক |
     
    মূল বিষয় আফগানিস্তানে ফিরে আসছি | আম্রিগা সন্ত্রাসবাদ বা নারীমুক্তি কোনটা করতেই আফগানিস্তানে যায়নি | সন্ত্রাসবাদ ব্যাপারটা ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে কাশ্মীর , পাকিস্তান বা তালিবান মূল সমস্যাঃ নয় | স্ট্যাটিসটিক্স দেখলে বলা যায় ভারতে মাওবাদী সন্ত্রাস আরো বড়ো সমস্যা | ২০০৮ এর পড়েও আর ভারতে তেমন বড় ইসলামিক  সন্ত্রাসের সমস্যাও হয়নি |Kashmire যেটকু আছে সেটা মূলত বর্তমান সরকারের ভুল নীতির ফল | কিন্তু মাওবাদী সমস্যা আরো গভীর | কাজেই আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের ইস্যুটাকে ইন্ডিয়ার দিক থেকে বড়ো সমস্যা বলা যায়না | আসলে ইন্ডিয়ার মূল সমস্যা হল যে তালিবান যদি চীন ও পাকিস্তান বিরোধী TTP,ETIM,BLA eei গ্রুপগুলিকে তাড়িয়ে দেয় এবং CPEC এর সমর্থন করে তাহলেই ইন্ডিয়ার ইন্টারেস্ট ব্যাধিত হয় | এর সমাধান খোলা মনে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসা | 
     
    কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা এখন ভারতের মানুষের আইডেন্টিটি এর একটা সবচেয়ে বড়ো অংশও হয়ে গেছে | এখন একজন ভারতীয় নিজেকে ভারতীয় হিসেবে ডিফাইন করে মূলত আন্টি-পাকিস্তানী হিসেবে | অর্থাৎ পাকিস্তান বিরোধী না হলে একজন ভারতীয় ভারতীয়ই হতে পারেনা | শুধু বিজেপি কে দোষ দিয়ে লাভ নেই সবকটি দল INC , Left, TMC সবাই এক | এখন ঘটনা হলো আফগানিস্তানে তালিবান যদি আফগানিস্তানের লাভের কথা ভাবে তাহলে তাদের পাকিস্থানের (ও চীনের ) সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার আর কোন বিকল্প নেই | কাজেই আফগানিস্তানে ইন্ডিয়ার মূল সমস্যা তার পাকিস্তানের মূল সমস্যার একটা সাবসেট মাত্র | পাকিস্তানের সঙ্গে খোলা মনে আলাপ আলোচনার কোন বিকল্পও নেই এবং আমি মনে করি যে একমাত্র বিজেপি ছাড়া অন্য কেউ এই কাজটি করে উঠতে পারবেনা | কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় সমাজের এতো আইডেন্টিটি পাকিস্তান বিরোধী হিসেবে হয়ে গেছে যে কোন নেতাই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় যেতে পারবেননা |   
     
    এটাই আমার মনে হয় | অমিত কি বলেন ? আপনার মতামতের অপেক্ষায় রইলাম |apnar কি মনে হয় পাকিস্তান-বিরোধিতা কেন ভারতের আইডেন্টিটি এর মূল অংশ হয়ে গেলো ?
     
  • a | 14.201.190.139 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০০:০৬497464
  • আচ্ছা যিনি গুরু নামে লিখছেন তিমি কি আগে দেব নামে লিখতেন? 
  • Amit | 203.0.3.2 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:১৯497467
  • গুরুকে ,
     
    ভারতে আন্টি পাকিস্তান ফিলিং যেমন আছে , তেমনি পাকিস্তানও আন্টি ইন্ডিয়া ফিলিংস আছে। যেরকম রায়ট আর বিটারনেস এর মধ্যে দিয়ে দেশভাগ হয়েছিল আর তারপর তিন চারটে যুদ্ধ, বাংলাদেশ -কার্গিল -সেটা আরো বেড়েছে গত ৭৫ বছরে। কমেনি । প্লাস যুদ্ধের জিগির ​​​​​​​বাঁচিয়ে ​​​​​​​রাখা ​​​​​​​দু ​​​​​​​দেশের ​​​​​​​মিলিটারি ​​​​​​​এস্টাব্লিশমেন্ট ​​​​​​​এর ​​​​​​​জন্যে ​​​​​​​আর ​​​​​​​পলিটিকাল ​​​​​​​ডিভার্সন ​​​​​​​এর জন্যে ​​​​​​​খুব জরুরি। দু দেশের মিলিটারি এস্টাব্লিশমেন্ট ই সবথেকে করাপ্ট মেশিনারীজ । মিলিটারি হার্ডওয়্যার এর ব্যবসা আর মিলিটারি রেশনে যে পরিমান কাটমনি চলে , তার তুলনায় বাকিরা তো নেহাত নভিস। সত্যি ​​​​​​​করে ​​​​​​​যুদ্ধ ​​​​​​​বাধুক এটা ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​আর্মিম্যান ​​​​​​​চায়না। ​​​​​​​তখন ​​​​​​​মরার ​​​​​​​ভয়ে ফেটে যায় সবার​​। ​​​​​​​কিন্তু ব্ল্যাঙ্ক ​​​​​​​যুদ্ধের ​​​​​​​জিগির ​​​​​​​টা বাঁচিয়ে ​​​​​​​রাখতে ​​​​​​​পারলে ​​​​​​​নিজেদের ​​​​​​​সাজানো ​​​​​​​বাগান বেশ ​​​​​​​ফুলে ​​​​​​​ফলে ​​​​​​​ভরে ​​​​​​​থাকে। ​​​​​​​হাফ ​​​​​​​দামে ​​​​​​​সিঙ্গল ​​​​​​​মল্ট, ডিসকাউন্টে বাড়ি ​​​​​​​গাড়ি ​​​​​​​-ডিসকাউন্টেড ​​​​​​​রেশন ​​​​​​​দিব্যি ​​​​​​​চলতে ​​​​​​​থাকে। 
     
    আর পলিটিশিয়ান দের তো আরো পোয়াবারো - গরিব লোক ​​​​​​​খেতে ​​​​​​​না ​​​​​​​পাক, স্কুলে না যাক, সিয়াচেনে ​​​​​​​জওয়ান ​​​​​​​দাঁড়িয়ে ​​​​​​​আছে ​​​​​​​জিগির তুললেই ​​​​​​​কাজ ​​​​​​​সারা ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​যায়। দু ​​​​​​​দেশেই ​​​​​​​এক। ​​​​​​​পাকিস্তানে আর্মির ​​​​​​​হোল্ড ​​​​​​​তো ​​​​​​​আরো ​​​​​​​বেশি। সরকার ​​​​​​​বেগড়বাঁই ​​​​​​​করলে ​​​​​​​ডাইরেক্ট টেক ​​​​​​​ওভার। ইন্ডিয়াতে ​​​​​​​আজকাল ​​​​​​​পুলওয়ামাতে ​​​​​​​ব্যোম ​​​​​​​ফাটিয়ে ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​নিজেদের এক্সপেন্ডেবলস লোক মারতে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​ন্যাশনালিজম ব্যাপারটাকে ​​​​​​​পাম্প করার ​​​​​​​জন্যে। ​​​​​​​বডি ​​​​​​​কাউন্ট ​​​​​​​না ​​​​​​​দেখলে শালার পাবলিক ​​​​​​​ভোট ​​​​​​​দিতে ​​​​​​​চায়না ​​​​​​​আবার। 
     
    এর সাথে আবার ইন্ডিভিজুয়াল রিলেশনস এর সত্যি অতটা সম্পর্ক নেই। আমার বেশ কটি অত্যন্ত্য ঘনিষ্ঠ পাকিস্তানী বন্ধু হয়ে গেছিলো মিডল ইস্টে থাকার সময়। এখনো কন্টাক্ট আছে তাদের সাথে। কারোর কারোর সাথে ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচ করে গেলে অটোমেটিক বন্ধুত্ব হয়ে যায়। দেশ-কালচার -ল্যাঙ্গুয়েজ সব ব্যারিয়ার টপকে। কিন্তু আবার সেটা হওয়ার সুবাদে আমরা দুদিক থেকেই বাঁকা নজর পেয়েছি। বাকি ইন্ডিয়ান বন্ধুরা ডাইরেক্ট বা ইঙ্গিতে বোঝাতো ওদের সাথে বেশি না মেশাই ভালো। তারাও তাই বলতো। একজন পাকিস্তানী বন্ধু কিছুদিন পরে আমাকে বলেই ফেলেছিলো যে আমার সাথে আলাপ হওয়ার আগে সে সমস্ত ইন্ডিয়ানকে সন্দেহের চোখে দেখতো। এখন বোঝে যে আমরা বেসিক্যালি একই কালচারের লোক। 
     
    তাই আমার মনে হয় ইন্ডিভিজুয়াল লেভেলে যাই হোক সেগুলো এক্সেপশন ই থাকবে। হাইয়ার লেভেলে এসব ফেক ডিসপ্লে অফ রিভালরি ইস একচুয়ালি এ বিগ বিসনেস। 
     
    কল্লোল দা কে আর কিছু বলবো না।উনি অমার কথা আর শুনবেন না বলে দিয়েছেন। শুধু দীপাঞ্জন আর গুরুর সাথে কথা বলবেন এখন। 
    :(:(
     
     
    কিন্তু ভাবছি এই আলোচনাটা কোথায় শুরু হয়েছিল আর কোথায় পৌঁছে গেছে। সৈকতবাবু আম্রিগার কালো হাত ভেঙে দাও - তসলিমা কত ভুলভাল বলেন - কিসব গ্রান্ড ন্যারেটিভ -এসব বলে শুরু করলেন। তার ওপর মালালা র মতো অভিজাত ক্লাসের মেয়েরা কতটা নিজেদের সমাজ -কালচারের থেকে দূরে সরে গেছে ইত্যাদি , তারা তাদের সমাজের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ , চেঞ্জ ভেতর থেকে আস্তে হবে ওপর থেকে চাপালে হবেনা এসব ভিউপয়েন্ট এসে গেলো । কিন্তু সেসব কিভাবে হবে , কিভাবে বাকি মালালাদের গুলি খাওয়া বা সেক্স স্লেভ হওয়া থেকে বাঁচানো যাবে এই সো কল্ড ভেতর থেকে চেঞ্জ করে এই অবস্থায় -  সেসব একটু ডিটেলস জিগাতেই সব ভ্যানিশ  ? 
     
    সৈকতবাবু অবশ্য আম্রিগা হাত গোটালেই নাকি সব অটোমেটিক ঠিক হয়ে যাবে ক্লেম করছিলেন।হ্যা -হেলিকপ্টার থেকে বডি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। সেই পথেই যাচ্ছে হয়তো। কল্লোলদা অবশ্য বেশ কিছু লাশ না পড়লে ভালো কিচ্ছু হবেনা বলেই  দিয়েছেন। 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:4441:ff48:9fed:f502 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৪৯497468
  • অমিতের কথায় প্রায় ২৫ বছর আগের এক পাকিস্তানী বন্ধুর কথা মনে পড়ল। আমার কলীগ ছিল, অরণ্য - প্রকৃতি প্রেম কমন ইন্টারেস্ট, দারুণ সখ্যতা -মনে আছে আলাস্কা থেকে গ্রিজলি ভালুকের ছবি পাঠাল - পিছনে লেখা তোমার কথা মনে পড়ছে 
    তখনও অবিশ্যি ভুঁড়ি সহযোগে বর্তমানের ভল্লুকাকৃতি লাভ করি নি, তাই চেহারার তুলনা করে ঠ্যাঙ টানছিল না মনে হয় :-)
  • aranya | 2601:84:4600:5410:4441:ff48:9fed:f502 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:০১497469
  • গুরু-র পোস্ট পড়লাম। পাকিস্তানী মেয়েদের না পাওয়ায় পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণার জন্ম - এটা ঠিক ​​​​​​​মনে  ​​​​​​​হয় ​​​​​​​না। ​​​​​​​মানে ​​​​​​​অল্প ​​​​​​​কিছু পুরুষের ​​​​​​​ক্ষেত্রে ​​​​​​​সত্যি ​​​​​​​হতে ​​​​​​​পারে, ​​​​​​​তবে ​​​​​​​মূল ​​​​​​​কারণ ​​​​​​​নয় 
    মূল কারণ অমিত যেগুলো বলেছেন - যুদ্ধ ইঃ + ইসলামের প্রতি ঘৃণা । এই ঘৃণারও বিবিধ কারণ আছে, তার মধ্যে একটা হল এখন দুনিয়া এত কানেক্টেড, বোকো হারাম, আইসিস, আল কায়দা আরও হরেক ইসলামিক জঙ্গী গ্রুপ কোথায় কী করছে, তা মানুষ ঘরে বসেই জানতে পারছে। এবং অনেকেই সেটাকে ইসলাম ধর্মটার অন্তর্নিহিত সমস্যা বলে মনে করছে। 
    ইসলামের রিফর্ম খুবই দরকার, যাতে শরিয়া আইনের মত মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা গুলোকে কাটানো যায়, যেমন হিন্দু ধর্মে সতীদাহ-কে মোটের ওপর কাটানো গেছে (রূপ কানোয়ার সতী হন , ১৯৮৭-তে, সেটাই বোধ হয় রেকর্ডেড শেষ সতী দাহ )
     
  • Amit | 203.0.3.2 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৪৯497470
  • আর কি , হিন্দুইজম ও একই রাস্তায় যাচ্ছে এখন মোদী যোগীর রাজত্বে। পাবলিক বাসে পেছনের দিকে এগিয়ে চলার মত। 
     
  • aranya | 2601:84:4600:5410:4441:ff48:9fed:f502 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:১২497471
  • সচলায়তনে ইসলামিক সমাজতন্ত্র-র ওপর একটা আর্টিকল পড়ছি। গত শতকের মধ্যভাগে এর চর্চা ও  প্রসার। এই মতবাদের একজন প্রস্তাবক, গোলাম পারভেজ কোরান এবং অন্যান্য কোরানিক টেকস্ট গুলে খেয়েছিলেন। 
    তার মতে শরিয়া র মাধ্যমে ইসলামের বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছিল। উনি এও বলেছেন যে বেশির ভাগ হাদীস- ই প্রাচীন স্বেচ্ছাচারী শাসকদের ঐশ্বরিক বৈধতা দিতে তৈরী করা হয়েছে। 
    এই কথাগুলো সামনে আসা দরকার। 
  • Kallol Dasgupta | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১০497474
  • গুরু। না, আমি মনে করি না, পুঁজি মানুষের ভালোর কাজে লাগানো যায়। কিন্তু তার আগে আমি পুঁজি বলতে কি বোঝাচ্ছি সেটা পরিস্কার করা দরকার। 
    পুঁজি হলো সেই সম্পদ যা শ্রমের সাহায্যে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য বাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করে । সেই মুনাফার একটি অংশ দিয়ে পুঁজি নিজের বৃদ্ধি ঘটায়। সেই বর্ধিত পুঁজি বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে উৎপাদন, উৎপাদিকা শক্তি এবং পুঁজির ক্রমাগত বৃদ্ধি হতে থাকে। পুঁজি যে মুনাফা অর্জন করে তার পুরোটি শ্রমের প্রাপ্য। এই নিয়ে আমি বিশদে যাচ্ছি না । মার্ক্স তার সারপ্লাস ভ্যালু থিয়োরীতে তা খুব প্রাঞ্জল ভাবে লিখে গেছেন। তা ভুল বলে মনে করার মতো কোন তত্ত্ব বা তথ্য আমার কাছে নেই। 
    ফলে একদন মানুষের ন্যায্য পাওনাকে বঞ্চিত করে বেড়ে ওঠে যে ব্যবস্থা তা কখনোই মানুষের পক্ষে কল্যানকর নয়। 
    আর তার চেয়েও বড়ো হয়ে উঠেছে এই ব্যবস্থার পরিবেশ ধ্বংসকারী ভূমিকা। শিল্পকে পুরোপুরি পরিবেশ বান্ধব করে ফেলা সম্ভব কি না, তা আজও তর্কযোগ্য বিষয়। 
  • Kallol Dasgupta | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১৭497475
  • অমিত লিখছে - " কিন্তু সেসব কিভাবে হবে , কিভাবে বাকি মালালাদের গুলি খাওয়া বা সেক্স স্লেভ হওয়া থেকে বাঁচানো যাবে এই সো কল্ড ভেতর থেকে চেঞ্জ করে এই অবস্থায় -  সেসব একটু ডিটেলস জিগাতেই সব ভ্যানিশ  ? "
    তাহলে আর এতো কথা হলো কি করে ? কি জানি ? আর একটা কথা, আফগানিস্তানের মানুষ ঠিক করবেন তারা কি চান। সেটা কিভাবে ঠিক করবেন সেটা আমি বা সৈকত বলার কে ? আমরা তো ঐ মানসিকতাটারই বিরোধী। আমি, সৈকত, অমিত, আমেরিকা, রাশিয়া কেউ ঠিক করে দেবে না আফগানিস্তান কিভাবে চলবে। সেটা তারাই ঠিক করবে। ডিটেলস তারাই ঠিক করবে বাইরে থেকে আমরা কেউই সেটা ঠিক করতে পারিনা। বাইরে থেকে ঠিক করে দেবার বিরুদ্ধেই এই লেখা।  
  • Amit | 121.200.237.26 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫৮497477
  • ওকে। তাহলে কালকে যোগীর রাজ্যে কাউকে গরু খাওয়ার দায়ে গোরক্ষকেরা পেটালে আপনার একই লজিক থাকবে আশা করি ? উত্তরপ্রদেশের  মানুষই  ঠিক করবেন তারা কি চান। সেটা কিভাবে ঠিক করবেন সেটা আমি আপনি বা সৈকতবাবু  বলার কে ? 
  • dc | 122.164.46.159 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:২৪497479
  • এই লজিক আমাদের প্রধানসেবকও ব্যবহার করে। বা যেকোন ডিক্টেটরই ব্যবহার করে। আমার দেশে যতো ইচ্ছে লোক মারি, যেমন ইচ্ছে হিউম্যান রাইটস ভায়োলেট করি, সে আমার দেশের ব্যপার। আমি কজনকে মারবো বাইরের কেউ ঠিক করে দেবার কে?  
  • avi | 2409:4061:11d:dea7:2d74:3914:b90a:d2a1 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৪২497480
  • Let us all stay united in this hour of disagreements. Talibans are an integral part of their country and I'm sure an amicable solution will be found between all parties to bring about peace and move forward together. #AfghanTogether
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন