• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • আফগানিস্তান নিয়ে তসলিমা নাসরিন 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৬৭৪৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)
  • তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ প্রতিদিনে আফগানিস্তান ইত্যাদি নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন। তার সারকথা মোটামুটি এইঃ
     
    ১। আমেরিকা আফগানিস্তানে গণতন্ত্র গড়ে দিতে গিয়ে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে।
    ২। সাধারণ মুসলমানরা এখন আফগানিস্তান থেকে পালাচ্ছেন, বা পালাতে চাইছেন, কারণ মুসলমানরাই সপ্তম শতাব্দীর ধর্মীয় আইনকে খুব ভয় পায়। 
    ৩। তালিবানি আইন চূড়ান্ত নারীবিরোধী। সামান্য স্বাধীনতা উপভোগ করতে গেলেই মেয়েদের তারা পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলে। এবারও ফেলবে। বিয়ের নামে যৌনদাসী বানাবে। 
    ৪। এই তালিবানি আইন এক দেশের ব্যাপার না। সিরিয়া এখন এসে গেছে আফগানিস্তানে, আফগানিস্তান বাংলাদেশে। এ হল প্যান ইসলামিজম। গোটা উপমহাদেশকে তার ফল ভুগতে হবে। 
    ৫। বর্বর এই জঙ্গীরা নারীর সর্বনাশ করবে। তাদের মদত দেবার দায় পাকিস্তান, চিন, রাশিয়ার। 
    ৬। দুনিয়ার মুসলমানরা নারীর এই অবমাননার বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ করছেনা, যেমন তারা করে থাকে পালেস্তাইনের ক্ষেত্রে। মুসলমান মৌলবাদীরা তো জায়গায় জায়গায় তালিবানের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে।
    ৭। নারীর পরনে যে দাসত্বের শৃঙ্খল, তা ভেঙে ফেলতে কয়েক শতাব্দী লেগেছে। এখন দুদিনেই আবার পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের আরেক নাম পুরুষতন্ত্র। কিন্তু ধর্মন্ধতা, মৌলবাদ, নারীবিদ্বেষ পুরুষকে রক্ষা করবেনা।
     
    এই সারসংক্ষেপ আমার তৈরি (শুধু পরের মুখে ঝাল না খেয়ে আসল লেখাটি অবশ্যই পড়ুন -- https://www.bd-pratidin.com/editorial/2021/08/19/681973 ) । আলোচনার জন্য। না, তসলিমাকে নিয়ে কিছু বলার নেই, বরং ধন্যবাদই দেবার আছে। এই ধরণের একটি ন্যারেটিভ আভাসে ইঙ্গিতে টুকরো-টাকরায় পশ্চিমী এবং প্রাচ্যের মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে, সেটাকে গুছিয়ে স্পষ্ট করে লিখে ফেলার জন্য। না লিখলে আলোচনাটাই করা যেতনা। 
     
    তা, এই ন্যারেটিভের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নিয়ে কথা বলা যাক। এই ন্যারেটিভের প্রথম লক্ষণ হল, আফগানিস্তানকে আফগানিস্তান বানানোর জন্য পাকিস্তান, চিন এবং কখনও সখনও দুষ্টু রাশিয়াকে দায়ী করা। আর আমেরিকাকে স্রেফ একটু ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করা। আমেরিকা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাট করেছে, সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য তো ভালোই ছিল, গণতন্ত্রই তো গড়তে গিয়েছিল। মানুষকে ধর্মান্ধতা থেকে স্বাধীনতা দিয়েছিল, মেয়েদের দিয়েছিল ওড়ার আকাশ। কাইট রানার সেই পশ্চিমী স্বাধীনতার প্রতীক, মালালা হল মুখ। এখন আমেরিকার পিছিয়ে আসায় সে আকাশ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, এবার অ্যাসিড বৃষ্টি আসন্ন -- এরকম একটা ভাব। 
     
  • তো, এ ন্যারেটিভ এতই মোটাদাগের, এবং এতটাই অলীক, যে, আলাদা করে সমালোচনা করার এমনি কোনো কারণই নেই। তবু লেখা যখন হচ্ছে, তখন সংক্ষেপে, স্পষ্ট করেই বলা যাক, বাস্তবতা থেকে এসব অনেক দূরে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে আরব পর্যন্ত মৌলবাদীদের উত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, মদৎ ছিল কাদের তা কোনো গোপন তথ্য নয়। আফগানিস্তানে মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ, সৌদি আরবের অগাধ কনট্র‌্যাক্ট, এবং তালিবানদের সঙ্গে চলমান আলোচনা, এসব নিশ্চয়ই গণতন্ত্র এবং নারীর অধিকারের স্বার্থে করা হয়নি। বস্তুত জঙ্গী ইসলাম, মূলত প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমের তৈরি।  
     
    এই ন্যারেটিভের দ্বিতীয় লক্ষণটি আরও কৌতুহলোদ্দীপক। লেখাটিতে, এই ধরণের লেখাগুলির সবকটিতেই, দুইটি বর্গের রমরমা। নারী এবং ইসলাম। এই দুটিকে ঘিরেই চর্চা চলে অবিরত। তা, এই নারী বর্গটি নিয়ে বিস্ময়ের কিছু নেই। গোটা পশ্চিমী মিডিয়াতেই এখন তথাকথিত 'অপর'দের প্রাধান্য। নারী হোক বা কালো রঙের লোক। এও এক নির্মিতি। কিন্তু তার গতিবিধি আলোচনা এখানে করা হচ্ছেনা। যেটা আকর্ষণীয়, সেটা হল, অন্য এক 'অপর'এর ক্ষেত্রে এই অপরবান্ধবতা একেবারেই ভেঙে পড়ছে। সেই অপর হল 'ইসলামিজম'। ইসলামও পশ্চিমের এক 'অপর'। পশ্চিমী সভ্যতার আলোর উল্টোপিঠ। কিন্তু এই 'অপর'কে গৌরবান্বিত করার ব্যাপার তো নেইই, বরং পুরোটাই ভিলেনের রঙে আঁকা। প্যান ইসলামিজম এখানে ভিলেন। দুষ্টু লোক। 
     
    এটা একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললেই ব্যাপারটা বোঝা যাবে। ধরুন, হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন যুদ্ধবাজ। বা মার্গারেট থ্যাচার উজিয়ে ফকল্যান্ডে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু এঁদের জন্য নারীবাদকে বা নারীকে পশ্চিমী মিডিয়ায় কেউ ভিলেন ঠাওরায়না। যদি আদৌ কথাটা ওঠে, তখন বলা হয়, ওগুলো ব্যক্তির লক্ষণ, নারী নামক বর্গের নয়। কথাটা অবশ্য ওঠেইনা, বস্তুত এঁদের গৌরবের প্রশ্নে এই লক্ষণগুলোকে সযত্নে আড়াল করা হয়। যেমন হিলারি ক্লিন্টনের পক্ষের মিডিয়া ন্যারেটিভ ছিল 'গ্লাস সিলিং ভাঙা'। যুদ্ধ টুদ্ধ তার অনেক পিছনে। এই সমর্থন  বা সহমর্মিতা কিন্তু ইসলামিজম পায়না। আড়াল করার তো প্রশ্নই নেই, বরং হিলারির সম্পূর্ণ উল্টোদিকে গিয়ে লাদেন একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ নন, একটি প্রতীক হয়ে যান, যদিও হিসেব করলে দেখা যাবে, লাদেনের আদেশে একটি শহরের একটি বহুতল ভেঙেছে, হিলারির আদেশে হয়তো একশটি। মুসলমানরা সদলবলে তালিবানদের নিন্দে না করে ভিলেন হয়ে যান, কিন্তু দুনিয়ার পশ্চিমীরা, মিডিয়া সহ, বুশ নামক এক রাষ্ট্রনায়কের স্রেফ গুলবাজি করে ইরাক নামক একটি গোটা দেশকে ধ্বংস করে দেবার নিন্দে সজোরে কখনই করে উঠতে পারলনা, তাই তারা গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। এই অন্তর্নিহিত দ্বিচারিতা, আলোকজ্জ্বল পশ্চিমে আছে। ফলে লিঙ্গ বা গাত্রবর্ণ নিয়ে যতই ঢক্কানিনাদ চলুক, আদতে অপরবান্ধবতা, বোঝা যায়, পশ্চিমের আর পাঁচটি গিমিকের মধ্যে একটি।
     
    তৃতীয় এবং সর্বশেষ লক্ষণটি এখানে লক্ষ্যণীয়, যে, শুধু ইসলামিজম-বনাম-নারী দ্বৈত নয়, আরও একটি দ্বৈতও এখানে প্রকট। সেটি হল নারী বনাম পুরুষ। নারীকে শুধু জঙ্গী ইসলামই পীড়ন করছে তা নয়, সামগ্রিক ভাবে পুরুষও একই দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ শুধু 'ঐস্লামিক' পুরুষ নয়, এই ক্ষেত্রে বৃহত্তর ভিলেনটি হল পুরুষ। এর জন্য নির্মান করা হয়েছে একটি নতুনতর বর্গ, পুরুষতন্ত্র। ইংরিজিতে যে কথাটি ব্যবহৃত হত, বা এখনও হয়, তার বাংলা হল পিতৃতন্ত্র। সেটা ব্যবহার করা হত, বা হয়, একটি নির্দিষ্ট কারণে। পিতৃতন্ত্র একটি ব্যবস্থা, যা পুরুষ এবং নারীর জন্য অসমঞ্জস অবস্থান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, পুরুষ যুদ্ধ করবে, দেশনেতা হবে, নারী বাড়ির কাজ করবে, নার্স ও শিক্ষিকা হবে -- মোটাদাগে বললে, এইরকম। নারীর স্বার্থে এই ব্যবস্থাটা বদলানো দরকার, বিংশ শতকের নানা ঢেউএর নারীবাদ, সেই কথাই বলত, আভ্যন্তরীন নানা বিতর্ক এবং মতভেদ সত্ত্বেও। এখানে কাঠামোগতভাবে কোনো ভিলেন ছিলনা। কিছু পুরুষ নিশ্চয়ই বদ, পুংরা জাতিগতভাবেই ভিলেন না, ভিলেন হল কাঠামোটা। একবিংশ শতকে জনপ্রিয় আখ্যানে বিষয়টা বদলাতে শুরু করে। ব্যবস্থা নয়, সরসরি 'ম্যান'কে ভিলেন তৈরি করা হয়। পুরুষের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে চিহ্নিত করে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। তৈরি হয় 'টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি' বা 'ম্যানসপ্লেনিং' এর মতো বর্গ। বিংশ শতকের 'এমসিপি' জাতীয় বর্গের সঙ্গে এর তফাত হল, এমসিপি বা মেল-শভিনিস্ট-পিগ বলা হত কিছু ব্যক্তিকে। কিন্তু 'বিষাক্ত পৌরুষ' জাতীয় বর্গ সামগ্রিকভাবে পুরুষের লক্ষণকে উদ্দেশ্য করে তৈরি। ইংরিজিতে পিতৃতন্ত্র বর্গটি এইভাবেই তার পুরোনো অর্থ থেকে নড়েচড়ে গেছে। শব্দটি যদিও বদলায়নি। বাংলায় সোজাসাপ্টা ভাবে শব্দটিই বদলে পিতৃতন্ত্রের জায়গায় পুরুষতন্ত্র করে ফেলা হয়েছে। এই বর্গের ব্যবহার একটুও আপতিক না, কারণ তসলিমার আখ্যানও এই একই লক্ষ্যে ধাবিত। 
     
    এটাও একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললে, ধরুন, আপনার চারদিকে 'প্রগতিশীল' মনে করেন এমন একজন মানুষকেও দেখেছেন, যিনি তালিবানদের সমর্থক? লিঙ্গ বা ধর্ম নির্বিশেষে? খবরের কাগজে এরকম লোকেদের কথা নিশ্চয়ই পড়েছেন, কিন্তু কাছে পিঠে? সম্ভবত দেখেননি। কারণ তালিবানি কথাটিই প্রায় সর্বজনস্বীকৃত নিন্দাসূচক শব্দ। খোদ আফগানিস্তানেও পুরুষরা কি খুন হচ্ছেন না, না লড়ছেন না? নিশ্চয়ই তালিবানরা সংখ্যায় অনেক, কিন্তু উল্টোদিকটাও, কম হলেও তো আছে। তার মরছে টরছেও। তাহলে ধর্ম পুরুষদের রক্ষা করছে, বা চিরকাল করবেনা, এই কথাটার মানে কী? 
     
    মানে একটাই। এই কথাটা শুধু নয়, সামগ্রিক ভাবে তিনটি লক্ষণেরই। একবিংশ শতকে রাজনীতির নতুন বয়ান তৈরি হচ্ছে। এগুলো তার অংশ। সেখানে আমেরিকা বা সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ আর ভিলেন নয়। মূল ভিলেন সন্ত্রাসবাদ, বা পড়ুন প্যান ইসলামিজম। খুচরো ভিলেন সামগ্রিকভাবে পুরুষরা। এবং সহমর্মিতা ধাবিত হবে, নারী, কালো, নিচু জাত এই বর্গগুলির দিকে। বিংশ শতকের রাজনীতির থেকে যা অনেকটাই আলাদা। 
     
    বিংশ শতকের রাজনীতির এরকম নির্দিষ্ট কেন্দ্রিকতা ছিলনা। পশ্চিমী দুনিয়ায় মূল শত্রু ছিল কমিউনিজম। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত। তৃতীয় বিশ্বে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল। সেখানে চিরশত্রু ছিল পুঁজিপতিরা এবং আমেরিকা। দুই জায়গাতেই এই রাজনীতিই মূল প্রাধান্য পেত। নারী বা কৃষ্ণাঙ্গ বা সমকামীদের ইস্যু ছিল পিছনের সারিতে। তারা মাঝেমাঝে উপচে পড়ত মূল ধারায়। চলত বিতর্ক। এখন হয়েছে ঠিক উল্টো। লিঙ্গ-বর্ণ-জাত -- শুধু উপচে পড়েছে নয়, নির্ণায়ক জায়গা নিয়ে নিয়েছে রাজনীতিতে। অবাস্তবরকম চরম জায়গায়ও চলে যাচ্ছে থেকেথেকেই। উল্টোদিকে পুঁজিবাদ আর ভিলেন নয়, নতুন ভিলেন হয়েছে, আগেই যা বলা হল, সন্ত্রাসবাদ, পুং ইত্যাদি। 
     
    রাজনীতি এভাবেই বদলায়। বিতর্ক হয়। আবার বদলায়। তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একবিংশ শতকের রাজনীতির একটা জায়গাই খুবই বিপজ্জনক। তার রাজনীতির এককেন্দ্রিকতা। বিতর্কের অভাব। বিংশ শতকের রাজনীতি, তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বিতর্কের অভাবে কখনও ভোগেনি। বিতর্কের অভাব, পৃথিবীর ইতিহাসে, বরাবরই টোটালিটারিয়ান বা প্রায়-টোটালিটারিয়ান ব্যবস্থা ডেকে এনেছে। সে ম্যাকার্থির আমেরিকাই হোক, বা হিটলারের জার্মানি। শুধু তসলিমা তো নন, তাঁর লেখায় যে তিনটি লক্ষণের কথা বলা হয়, বাম-দক্ষিণ নির্বিশেষে সেগুলি সকলেরই গ্যান্ড ন্যারেটিভ হয়ে উঠছে। ভয়টা সেখানেই। গ্র‌্যান্ড ন্যারেটিভের ভয়। দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ এর ভয়। যে ভয়, বিংশ শতকে কেউ কখনও পায়নি। 
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৬৭৪৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ? | 103.76.82.100 | ২৮ আগস্ট ২০২১ ১৯:১২497319
  • ভারতে ব্রিটিশ কলোনি কি এই কারণেই ছিল না? এই অসভ্য জাতি যারা না ইংরিজি বলতে পারে না পারে ক্রিকেট খেলতে না মানে God কে! উপরন্তু বুড়ো বামুন কচি শিশু বিয়ে করে মরে গেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারে।  তাদের সভ্য করে তোলার জন্যেই না? অতঃপর এখানের লোক ব্রিটেন আমেরিকায় গিয়ে সে দেশের মানুষকে দর্শন ও আধ্যাত্মের মহত্তম পাঠ বিতরণ করা শুরু করলে, এখানকার মানুষদের স্বাধীন হওয়ার আকুতি সেদেশের সভ্য সমাজের নরনারীদের কাছে পৌঁছলে তারাই তাদের সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে থাকে এমন দেশকে সভ্য করে তোলার ভড়ং বন্ধ করার জন্য।  তবেই না ব্রিটিশ ভারত ছেড়ে গেল?
  • একক | ২৮ আগস্ট ২০২১ ১৯:৪০497320
  • হ্যাঁ  ছিল তো তাতে সমস্যা কী?  
     
    আকবর হওয়ার জার্নি তে একটা করে বৈরাম খাঁ থাকে বা লাগে। আবার সময় এলে তাকে সরাতেও হয়। এটাই ইতিহাসের পথ। পরের টা হল মানে আগেরটি ভুল এরকম না :)))
  • avi | 2409:4061:2c93:f7f0:78f9:73c1:4678:553c | ২৮ আগস্ট ২০২১ ২০:৩২497322
  • বৈরাম খাঁ। এই নাম বহুদিন পর যেন শুনলাম। আলোচনায় প্রায় শোনাই যায় না। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী তুর্কমেন মানুষ।
    প্রসঙ্গত, আফগান ক্রাইসিসে তাজিক বা উজবেক লোকজনের মাথা ঘামানোর যত উদাহরণ পাচ্ছি, তুর্কমেনিস্তান দেশটির নাম একদম শুনছি না। পাগলাটে অটোক্র্যাট মাথার ওপরে আছে বলে হয়তো। অথচ আফগানিস্তানে ভারতের সেই পুরোনো চাবাহার থেকে রেললাইন বানানোর প্রোজেক্ট বেশি করে ভাবা হয়েছিল তুর্কমেনিস্তান সংযোগের অভিলাষে। 
  • Kallol Dasgupta | ২৯ আগস্ট ২০২১ ০৭:০৮497329
  • একক। আমি এখনো এঙ্গেসলের রাষ্ট্র সম্পর্কিত ধারণা পাল্টানোর কোন কারন দেখিনি। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক যারা তারা অন্য আর সবাইকে দমন করে। এটাই এখনো সত্যি। কিছু রাষ্ট্র নানান জনকল্যানমূলক কাজ করে প্রেশার কুকারের সেফটি ভালভ হিসাবে, তার বেশী কিছু নয়।  রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকে তার মূর্ত রূপ সরকারের উপর যা আমলাতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা, সংসদ ও সেনাবাহিনী দিয়ে তৈরী। এরা সমাজবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা। দেশের আইন এই চার স্তম্ভের উপর খাটে না। এদের উপর আইনী ব্যবস্থা নিতে গেলে বিশেষ অনুমতি লাগে যা, আবার এরাই দেবে। দরকারে আইন পালটে এরা সেই রাস্তাও বন্ধ করে দেয়। এরা সমাজের ঊর্ধে নিজেদের স্থাপন করে। এঙ্গেলসের পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্র বইটায় বিশদ যুক্তি ইত্যাদি আছে। আমায় কি সেগুলো আলাদা করে দেবার দরকার আছে ? সিস্টেমটা পাগলাটে - সেটা তুইই লিখলি। ফলতঃ সমাজ, যেটা পাগলাটে নয়, তার চেয়ে আলাদা তো বটেই। এটুকুই। 
  • Sara Man | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১১:৪৫497343
  • সবই বুঝলাম সৈকত বাবু। মেয়েদের যে হাথরস থেকে বাঁচতে হবে, আবার বোকো হারাম থেকেও পালাতে হবে। মেয়েরা কি করে বলুন দেখি। তসলিমা বাইরে বলে। আর বাকি মেয়েরা মনের মধ্যে পোষে। তার ওপর একবিংশ শতকে উত্তর আধুনিকতাবাদ, পরিবেশবাদ আর রোজগার হারিয়ে মরার ভয় সব মিশিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে ঘ হয়ে যাচ্ছে। ধনতন্ত্র কমিউনিজম কে শেষ ক‍রতে জঙ্গি ইসলাম তৈরি করেছে। কমিউনিজম মোটামুটি শেষ, এবার জঙ্গি ইসলামের সঙ্গে লড়াই। একবিংশতে যা হবার ছিল, তাইতো হচ্ছে। অসুবিধা কি? 
  • guru | 146.196.45.188 | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১৩:৫২497345
  • আফগানিস্তান এ আমেরিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে | অনেকেই যারা আফগানিস্তানে আমেরিকার হস্তক্ষেপ somorthon করেছেন যেমন অমিত তারা ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাপোর্ট করার প্রসঙ্গ তুলেছেন | তাদের জানাই এখানে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে| এক হলো হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা | যেটা ১৯৭১ সালে ভারতের ছিল kenona তখন পাকিস্তান অনেক দুর্বল রাষ্ট্র ছিল | আমেরিকা আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে কেননা আফগানিস্তান দুর্বল কিন্তু ইরান রাশিয়া আর চীন এর ব্যাপারে করেনা কেননা এরা সবল | এই কারণেই ভারত বাংলাদেশে সৈন্য পাঠাতে পেরেছে কিন্তু বালুচিস্তানে পারেনি | রিয়ালিজম অনুযায়ী রাষ্ট্র সেইখানেই হস্তক্ষেপ করে যেইখানে তার স্বার্থ জড়িত ও যেইখানে তার সামরিক সাফল্যের ভালো সম্ভাবনা আছে | ১৯৭১ সালের ​​​​​​​আগেই ​​​​​​​পাকিস্তানের ​​​​​​​হাতে ​​​​​​​পরমাণু ​​​​​​​বোমা ​​​​​​​এলে ​​​​​​​ভারত ​​​​​​​১৯৭১ ​​​​​​​সালেও ঢাকায় সৈন্য ​​​​​​​পাঠাতনা | আমেরিকা ​​​​​​​ভারতে হস্তক্ষেপ কোনোদিন করবেইনা ​​​​​​​যেহেতু ​​​​​​​সিম্পলি ​​​​​​​তার ​​​​​​​এতো ​​​​​​​বড়ো ​​​​​​​দেশকে ​​​​​​​দখল ​​​​​​​করার ​​​​​​​মতো ​​​​​​​সৈন্য ​​​​​​​নেই |
     
    আরেকটা বিষয় হলো নৈতিক | যে এটাও সত্যি যদি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত সাপোর্ট করতে পারে তাহলে তো নৈতিক ভাবে ৮০-দশকের পরবর্তী খালিস্থান আন্দোলনে ও ৯০ দশকের পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরের জঙ্গিদের সমর্থন করার জন্য পাকিস্তান কে দোষ দেওয়া উচিত নয় | যেহেতু খানসেনারা বাঙালি মা বোন দের উপর ১৯৭১ সালে অত্যাচার করেছিলো সেই একই যুক্তিতে পাকিস্তানও ৮০-রে দশকে পাঞ্জাবে ও ৯০ দশকের কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করতেই পারে "ভারতীয় অপশাসন " থেকে ওই দুটি জায়গার অত্যাচারিত মানুষকে রক্ষা করতে | অমিতবাবু যদি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন তাহলে কি পরবর্তী কালে খালিস্তান ও কাশ্মীরে পাকিস্তানের নীতিকেও সমর্থন করেন বলে ধরে নেবো আমি ?? 
     
    এই দুটি ব্যাপারে পাঠকদের বক্তব্য জানার অপেক্ষায় রইলাম | 
  • Ranjan Roy | ২৯ আগস্ট ২০২১ ১৭:০৭497356
  • প্রথম প্যারায় পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার অস্ত্র থাকলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের  অভ্যন্তরে ভারত আর্মি  পাঠাতো কিনা সন্দেহ রয়েছে, সত্যিই!
    আপনার দ্বিতীয় প্যারার সঙ্গে অনেকটাই সহমত। এমনকি ইন্দিরার সময়ে ভারত যেভাবে সিকিমকে অধীনে আনলো সেটাও বেশ প্রব্লেম্যাটিক। যার ফলশ্রুতিতে সত্যজিত রায়ের 'সিকিম' ডকুটিকে চেপে দেওয়া হয়েছিল।
    আমার প্রশ্নঃ বর্বর পিছিয়ে পড়া অন্ধ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা তিব্বতে কম্যুনিস্ট চীনের সৈন্য পাঠিয়ে আধুনিক ও উন্নত করার ব্যাপারে আমাদের কী অবস্থান?
    ষাটের দশকে পূর্ব জার্মানীর স্টুয়ার্ট ও রোমা গেল্ডার নামের এক সাংবাদিক দম্পতির তিব্বত ঘুরে আসার বই পড়ে ছিলাম। তাতেও চীনের সমর্থনে ওই ধরণের সব যুক্তি ছিল।
     
    সাধারণভাবে আমি কোন দেশের অভ্যন্তরে অন্য দেশের সৈন্য প্রবেশ করানোর বিরুদ্ধে।
  • Amit | 121.200.237.26 | ৩০ আগস্ট ২০২১ ০৯:০৮497369
  • গুরুকে -
     
    "পরমাণু বোমা ​​​​​​​এলে ​​​​​​​ভারত ​​​​​​​১৯৭১ ​​​​​​​সালেও ঢাকায় সৈন্য ​​​​​​​পাঠাতনা"- একদম ​​​​​​​এগ্রিড। ​​​​​​​শধু ​​​​​​​নৈতিকতা ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​তো ​​​​​​​আর ​​​​​​​দুনিয়া ​​​​​​​চলেনা , রাজনীতি -ব্যবসা - অলটেরিওর মোটিভস - এলায়েন্স পলিটিক্স সব হাত ধরাধরি করে চলে  আণ্ডার দা টেবিল।  সেটা উচিত কিনা ​​​​​​​সে অন্য ​​​​​​​কথা। ​​​​​​​পুরোটাই ​​​​​​​তত্ত্বকথা র চাষ। হ্যা , আমেরিকা ​​​​​​​নিজে ​​​​​​​তালিবানদের ​​​​​​​বানিয়েছে ​​​​​​​তখনকার ​​​​​​​রাশিয়াকে ​​​​​​​কাউন্টার ​​​​​​​করতে ,  নাজিবুল্লাকে হটাতে , তারপর ​​​​​​​সেই ​​​​​​​দৈত্যকে ​​​​​​​আর ​​​​​​​বোতলে ​​​​​​​ঢোকাতে ​​​​​​​পারেনি। ​​​​​​​নিজের হাত ​​​​​​​পুড়িয়েছে  9/11 এ । ​​​​​​​ইট ​​​​​​​হেপেন্স। ​​​​​​​ইন্দিরা ​​​​​​​গান্ধী ​​​​​​​খালিস্তানের ​​​​​​​কাউন্টার ​​​​​​​করতে ভিন্দ্রানওয়ালে ​​​​​​​কে ​​​​​​​এগিয়ে ​​​​​​​দিয়েছিলো , তারপর ​​​​​​​সে পাল্টি ​​​​​​​খেয়ে ​​​​​​​নিজে খালিস্তান ​​​​​​​পন্থী ​​​​​​​লিডার সেজে ​​​​​​​গেলো ​​​​​​​-তারপর ​​​​​​​অপারেশন ব্লুস্টার-তার ফল  ইন্দিরা ​​​​​​​এসাসিনেশন নিজের বডিগার্ডের হাতে - সব ​​​​​​​একের ​​​​​​​পর ​​​​​​​এক। ​​​​​​​সেম উইথ রাজীব গান্ধী। কি ​​​​​​​আর ​​​​​​​করা ​​​​​​​-আগুন ​​​​​​​নিয়ে খেললে ​​​​​​​হাত ​​​​​​​পোড়ার ​​​​​​​রিস্কও ​​​​​​​থাকে ​​​​​​​-তবু ​​​​​​​মেজর ​​​​​​​পাওয়ার ​​​​​​​গুলো ​​​​​​​খেলে ​​​​​​​কারণ ​​​​​​​গ্লোবাল বা রেজেওনাল ডোমিনেন্সের ইঁদুর ​​​​​​​দৌড় ​​​​​​​এড়ানোর ​​​​​​​লোভ ​​​​​​​কঠিন। 
     
    হ্যা আমি ১৯৭১ এ বাংলাদেশে ম্যাস কিলিং এর সময় ইন্ডিয়ার হস্তক্ষপ সমর্থন করি (কল্লোলদা কাঁচা পাকা যাই ভাবুনগে)। কম্বোডিয়ায় পল পটকে হটাতে ভিয়েতনাম আর্মির হস্তক্ষেপ সমর্থন করি। তালিবান দের হটাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ  সমর্থন করি। এরা কেউই শুধু হিমানিটারিয়ান সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসেনি -প্রতিটা ক্ষেত্রে  এরা সবাই নিজের নিজের কস্ট-বেনিফিট ক্যালকুলেট করে এসেছে -কিন্তু তাও কিছু লোকের প্রাণ বেচেছে -আমার কাছে সেটা জরুরি। 
     
    যদিও ভিয়েতনামের আমেরিকান অকুপেশন একেবারেই সমর্থন করিনা  -কল্লোলদা যথারীতি আমার মুখে কথা বানিয়ে বানিয়ে বসিয়েই  যাবেন যেহেতু তালিবান দের নিয়ে একবার ওপেন পেজে উলুত পুলুত করে ফেলার পর নিজেকে যেভাবেই হোক আসল বাম এবং আম্রিগান কালোহাত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রমান করার দায় আছে  ওনার -সুতরাং ওনার এন্টি ভিউ যাদেরই  আছে -তাদেরকে প্রো -আমেরিকান -সাম্রাজ্যবাদী প্লাস ভেজাল বাম প্লাস বর পেটানো এক্সপার্ট কাম প্রটেকশন দেওয়ার নামে ঘরের জিনিস চুরি করা ছ্যাঁচোড় প্রমান করা টা ভীষণ জরুরি এখন ওনার কাছে - :) :)।) ও ঠিক আছে। 
     
    কেবল বুঝতে পারিনা কেও সৌদিতে চাকরি করতে গেলে উনি খুব খারাপ চোখে দ্যাখেন সেটা -পয়সার লোভে লোকে কি না করতে পারে -কিন্তু সব দোষের মুলে যে আম্রিগা তেনারা নিজেরাই ল্যাখেন -সেখানে গুচ্ছ গুচ্ছ গুরুজন (ইনক্লুডিং সৈকতবাবু ) বসে বসে আম্রিগার সাম্রাজ্যবাদের মুন্ডুপাত করে দিস্তে দিস্তে নামিয়ে ফ্যালেন , তাদেরকে কেন কিছু বলে উঠতে পারেন না - আর ওনারাও এতো খারাপ একটা দেশে পড়ে থাকেন অনন্তকাল ধরে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেয় -এটা সত্যি দুঃখের :) :) অবশ্য বললেই বা কার কি এলো গেলো ? 
     
    খালিস্তান বা কাশ্মীর এ একটা ​​​​​​​মেজর  স্কেলে ​​​​​​​হিউমান ​​​​​​​রাইটস ভায়োলেশন ​​​​​​​হয়েছে ​​​​​​​তাতে ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​সন্দেহ ​​​​​​​নেই আমি মনে করি। আমি চাই কাশ্মীরে হোক বা নর্থ ইস্টে - ইন্ডিয়ান আর্মি সরে আসুক , সেখানের লোক রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আর শুধু কাশ্মীর বা খালিস্তান কেন দুনিয়ার যেকোনো কোথাও লোকের সেন্ট্রাল লিডারশিপ নিয়ে গ্রিভান্স  থাকলে ল্যাংগুয়েজ বা কালচারাল ডিফারেন্স থাকলে যদি অন্য দেশ বা রাজ্য নিয়ে আন্দোলন তৈরী হয় - সেটাকে প্রপার গণভোট নিয়ে এড্রেস করা উচিত। যেভাবে স্কটল্যান্ড ব্রিটেনে থাকবে কিনা বা কুইবেক কানাডায় থাকবে কিনা বা ব্রিটেন ইইউ তে থাকবে কিনা ভোট নিয়ে ডিসাইড করা হয়। 
     
    কিন্তু এগেন সব সমস্যার ইডিয়াল সল্যুশন তো হয়না শুধু কয়েকজন চাইলেই। স্ট্রং আর্মস ট্যাকটিকস স্পেন ক্যাটালান দের ওপর চালায় , গ্রিস ম্যাসিডোনিয়ার ওপর চালায় - চীন টিবেটের ওপর চালায় , ইন্ডিয়া কাশ্মীরি দের ওপর চালায় । এখন নৈতিকতা যাই হোক  গে  , জোর যার মুলুক তার এভাবেই চলছে - 
     
    এখন দুনিয়ায় কে চাইলেই চীনকে ধম্কানোর ক্ষমতা রাখে ? সুতরাং উইঘুর দের ওপর অত্যাচার নিয়ে কল্লোলদা যতই চান না কেন , ইন্ডিয়া চীনকে এটাক করবে না মাইরি :) :) আর এতগুলো ইসলামিক দেশ যারা নিজেদের দেশের মিনোরিটিদের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে মেরে মেরে সবদিকে , তাদের কাউকে একবার চোখ তুলতে দেখেছেন চীনের দিকে  ? নিজের পাড়ায় যারা বাঘ তারা সব চীনা মাঞ্জা দেখলেই এক্কেরে কেঁচো হয়ে যাচ্ছে কেন -সে নিয়ে কবি কল্লোলদা নীরব।  
     
    তাবলে  পাকিস্তানের নীতিকেও  সমর্থন করিনা। পাকিস্তান বা আরো অনেকগুলো ইসলামিক দেশগুলো নিজেদের দেশে সংখ্যালঘুদের পুরো সাব হিউমান এর মতো রেখেছে-অন্যের রাইটস নিয়ে কোনো কথা বলার এদের কোনো  মরাল রাইটস ই নেই । আর ​​​​​​​কাশ্মীরিদের ​​​​​​​অধিকার নিয়ে ​​​​​​​তাদের ​​​​​​​মোজা ​​​​​​​ছেড়া ​​​​​​​যায়। ​​​​​​​তাদের ​​​​​​​একমাত্ৰ লক্ষ্য ​​​​​​​ইন্ডিয়ার ​​​​​​​বাংলাদেশ ​​​​​​​এডভেঞ্চার ​​​​​​​এর ​​​​​​​পাল্টা ​​​​​​​শোধ তোলা। ​​​​​​​হিসেব বরাবর করা -ব্যাস।  তারা ​​​​​​​দখল ​​​​​​​নিতে ​​​​​​​পারলে ​​​​​​​ওখানে ​​​​​​​বাকি ​​​​​​​যেকটা ​​​​​​​হিন্দু ​​​​​​​শিখ ​​​​​​​বা বুদ্ধিস্ট ​​​​​​​এখনো টিকে আছে  কোনোমতে , তাদের ​​​​​​মাস কিলিং হবে।
     
    কল্লোলদা একগাদা স্পেকুলেশন আমার মুখে বসলেন নিজের তালিবান প্রেম ঢাকার জন্যে। মানে নিজের এন্টি আমেরিকান স্ট্যান্ড জাস্টিফাই করতে একদল জঙ্গিকে সাপোর্ট করতে তার আপত্তি নেই। একমাত্র যুক্তি যে তারা ভূমিপুত্র। সে ঠিক আছে। যার যার যুক্তি তার কাছে।  
     
    আমার কাছে আইসিস বা তালিবান -টেরর স্কেলে দশে দশ। এরা মানুষ নয় -জাস্ট জানোয়ার। সৌদি -পাকিস্তান -ইরানের মত দেশগুলো আমার কাছে দশে সাত -আমি নিজে কাটিয়েছি এসব জায়গায় কিছুদিন। এরা শরিয়া আইনের নামে সংখ্যালঘুদের জানোয়ারের মতো ট্রিট করে  - ধর্মান্ধতা পুরোপুরি লিগ্যাল। দুৰ্ভাগ্য যে চাইলেই এদেরকে টাইট দেওয়ার শক্তি নেই কারোর চাইলেও । ইরানের ওপর সাংসন চলছে বহু বছর ধরে -তাতে ফল কি হচ্ছে সক্কলের সামনে -স্পেশালি কল্লোলদা -কারণ তিনি এই সলুশনটাই দিচ্ছিলেন কিনা। 
     
    মোদির ইন্ডিয়া আমার কাছে এখনো দশে চার - অনেক ভায়োলেন্স হয়েছে এন্ড গেটিং ওয়ার্স। কিন্তু দেশের আইন -সংবিধান এখনো সেক্যুলার। ধর্মান্ধতা কে সরকারি ভাবে লিগাল করে দেওয়া আর কিছু লুম্পেন এলিমেন্টস দের ঘটানো ইন্সিডেন্টস কে আমি এক করে দেখিনা।  কিন্তু এখনো এই দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেটার  আছে। কতদিন থাকবে -জানিনা। আপনারা যার যার মত রেটিং করতেই পারেন। 
     
    হ্যা -যদি কখনো ইন্ডিয়া তালিবান লেভেলে পৌঁছয় - যেখানে কথায় কথায় মাইনোরিটি দের মুন্ডু কেটে নেওয়া হয় বা গ্যাস চেম্বারে বা গুলি চালিয়ে মাস কিলিং হয় ডাইরেক্ট সরকারি ইনভল্ভমেন্টে -সেক্ষেত্রে আম্রিগা -চীন -ব্রিটেন যদি আর্মি পাঠায় নর্মালসি রেস্টোর করতে -আমি সেক্ষেত্রে ভূমিপুত্র আরএসএসকে সাপোর্ট করবোনা। 
     
    যদিও গুরু যেটা বললেন খুব ঠিক - তখনই বাইরের শক্তি ইনভল্ভড হয় যখন জেতার চান্স বেশি থাকে। তাই ইস্রায়েল নিয়ে মুসলিম দুনিয়ায় যত হইচই হয় উইঘুর দের ওপর অনেক বেশি অত্যাচার হলেও কারোর মুরোদ নেই চীনকে চোখ রাঙানোর। একই কারণে ইন্ডিয়ায় মাস কিলিং হলেও ওতো সহজে কেও এগোতে সাহস পাবে না। 
     
    কল্লোলদার কথা জানিনা অবশ্য। উনি আবার ১০০-% খাঁটি অকুপেশন বিরোধী -আশা করি তখন ভূমিপুত্র আরএসএস  দের সমর্থন করতেও পারেন। 
     
    আমার একটাই  লাস্ট প্রশ্ন: ওপেন টু ফোরাম: 
     
     
    ১। এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ার সিকিউরিটির জন্যে আফগানিস্তানে আম্রিগান আর্মি থাকা ভালো ছিল না তালিবান-রা আসা বেটার হল  ? 
     
    সিম্পল হ্যা না তে উত্তর দিলেই হবে। এর মধ্যে একগাদা ভ্যারিয়েবল বা একোয়াশন আছে সবাই জানে  , কালকে তালিবান লিডারশিপ এর সঙ্গে আম্রিগা বা ইন্ডিয়ার পলিটিকাল একোয়াশন কি দাঁড়াবে কেও জানেনা। তাই অত রকম জটিলতায় না ঢুকে একদম সিম্পল কয়েন টস আনসার চাইছি।  
     
  • Ramit Chatterjee | ৩০ আগস্ট ২০২১ ১১:১২497375
  • আমার মনে হয়, অমিতবাবু এই কমেন্টে নিজের স্ট্যান্ড সঠিক ভাবে ও প্রাঞ্জল ভাবে দেখিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর স্ট্যান্ড অনেকটাই সমর্থন যোগ্য।
  • Amit | 121.200.237.26 | ৩০ আগস্ট ২০২১ ১১:২৬497376
  • যাকগে. খেপে গিয়ে লিখতে গিয়ে কল্লোলদাকে গুচ্ছের গালাগাল দিয়েছি মাইরি। সরি কল্লোলদা। আপনার ওই প্রতিবেশী  পেটানোর এনালজিটা দেখে একটু বেশিই খচে গেসলাম। 
  • Kallol Dasgupta | ৩০ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩৬497379
  • অমিত লিখছে "যদিও ভিয়েতনামের আমেরিকান অকুপেশন একেবারেই সমর্থন করিনা"

    কিন্তু কেন করো না?

    কারন অমিত মনে করে ভিয়েৎনামে কোন মেজর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন হয় নি। কিন্তু সেটা তো অমিতের মনে হওয়া। লিন্ডন জনসন মনে করতেন কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় এলেই গণতন্ত্র থাকবে না। এক পার্টির রুল হবে। আর এগুলো হলেই হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন হবেই। ফ্রিডম অফ স্পিচ থাকবে না। ফলতঃ বিরোধী মানুষের উপর অত্যাচার হবে। মানে যা যা তালিবানেরা আফগানিস্তানে করবে বলে আমেরিকা মনে করেছে।

    তাহলে ভিয়েৎনামে আমেরিকার “অকুপেশন” সমর্থন কেন নয়?

    অমিত লিখেছে – “খালিস্তান বা কাশ্মীর এ একটা মেজর স্কেলে ​​​​​​​হিউমান ​​​​​​​রাইটস ভায়োলেশন ​​​​​​​হয়েছে ​​​​​​​তাতে ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​সন্দেহ ​​​​​​​নেই আমি মনে করি। আমি চাই কাশ্মীরে হোক বা নর্থ ইস্টে - ইন্ডিয়ান আর্মি সরে আসুক, সেখানের লোক রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।”

    “স্ট্রং আর্মস ট্যাকটিকস স্পেন ক্যাটালান দের ওপর চালায় , গ্রিস ম্যাসিডোনিয়ার ওপর চালায় - চীন টিবেটের ওপর চালায় , ইন্ডিয়া কাশ্মীরি দের ওপর চালায় । এখন নৈতিকতা যাই হোক গে, জোর যার মুলুক তার এভাবেই চলছে – ”

    অথচ ম্যাসিডোনিয়ার, টিবেটে, ক্যাটলুনিয়ায়, কাশ্মীরে বা পাঞ্জাবে আমেরিকা “অকুপেশন” অমিত চাইছে না বা আগে চায় নি, কেন ?

    এগুলো করা “প্র্যকটিকাল” নয়, তাই? অমিত তো আর অকুপাই করতে যাচ্ছে না। সে অকুপেশন চাইতে পারে। অকুপেশন অমিত চাইলেই হয়ে যবে না। কিন্তু চাইতে তো পারে। চাইছে না কেন?

    চীনের উইঘুরদের উপর অত্যাচার নিয়ে আমিই তো লিখলাম, নীরব তো থাকিনি। আমি বরং বলেছি আমেরিকা সেখানে অকুপাই করছে ন কেন ? চীনকে কাঠি করার ক্ষমতা আমেরিকার নেই। তাতে তো আফগানিস্তান অকুপাই করা জাস্টিফায়েড হয় না। অন্য ইসলামী দেশ কেন ট্যাঁফুঁ করে না তারও কারন ঐ। কিন্তু আইসিস ক্যানো চীনে আত্মঘাতী বোমা পাঠায় না ? কারন একসাথে আমেরিকা আর চীনকে চটানো যাবে না। কিন্তু তাতে তো আফগানিস্তানে রকেট হামলা করে আমেরিকাকে গলা ফটানোর সুযোগ করে দেওয়া জাস্টিফায়েড হয় না।

    অমিত লিখেছে “যেহেতু তালিবান দের নিয়ে একবার ওপেন পেজে উলুত পুলুত করে ফেলার পর নিজেকে যেভাবেই হোক আসল বাম এবং আম্রিগান কালোহাত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রমান করার দায় আছে ওনার”

    আমি ঠিক কোন জায়াগায় “তালিবান দের নিয়ে একবার ওপেন পেজে উলুত পুলুত” করেছি। কোথাও না। আমি মনে করি একটা দেশের সমস্যা দেশের মানুষকেই সমাধানের রাস্তাবের করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। তালিবানেরা আমেরিকার চাইতে আরও খারাপ নয়। এর মানে হলো তালিবানেরা নাকি কি ভালো, কি ভালো!! এই জন্যই বন্নোপরিচয় আর সওজ পাট পাঠাবো বলেছিলাম।

    অমিত লিখেছে, “কেবল বুঝতে পারিনা কেও সৌদিতে চাকরি করতে গেলে উনি খুব খারাপ চোখে দ্যাখেন”

    আমি লিখেছিলাম সৌদীতে যে শাসন চলে তা তালিবানি আফগানিস্তানের মতোই “বর্বর”। কিন্তু সৌদীর বেলা “বর্বরতা” চোখে পড়ে না, চোখে পড়ে শুধু আফগানিস্তান।

    খেয়াল করবেন আমি আফগানিস্তানের তালিবানি শাসনকে “বর্বর” বললাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকার আকুপেশন সমর্থন করি না। আফগানিস্তানের মানুষকে বুঝে নিতে দিন।

    প্রতিবেশী পেটানোর কথা লিখলাম বলে রাগ করেছো ? দুঃখিত। কিন্তু ভেবে দ্যাখো আমেরিকা তো অকুপাই করে ঠিক ওগুলোই করে। সেই কাজগুলোই তোমায় করতে বললে রেগে যাচ্ছো? তুমি নিজে যে কাজটা করতে ঘেন্না পাও, সেটা আমেরিকা করলে সমর্থন করছো কেন ভাই? তালিবান বর, পুতুল সরকার বউ, ঝাঁটা, লাঠি ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্র। বড়ির দামী জিনিস হলো খনিজ সম্পদ। বুঝিয়ে বললাম আর কি।
  • guru | 103.211.20.30 | ৩০ আগস্ট ২০২১ ১৩:৪৩497380
  • অমিতকে ধন্যবাদ এতো বিস্তারিত ভাবে নিজের বক্তব্য বলবার জন্য |  প্রথমেই আফগানিস্তান নিয়ে উত্তর দিয়ে দি | আপনি বলেছিলেন "১। এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ার সিকিউরিটির জন্যে আফগানিস্তানে আম্রিগান আর্মি থাকা ভালো ছিল না তালিবান-রা আসা বেটার হল  ? "  
    আমি বলছি যে আফগানিস্তান এর ব্যাপারে পুরো পৃথিবীর তিনটি ইস্যুই ​​​​​​​আছে | ১ ​​​​​​​সন্ত্রাসবাদ ​​​​​​​২ ​​​​​​​ট্রানজিট ​​​​​​​ট্রেড ​​​​​​​৩ ​​​​​​​লিথিয়াম | ইন্ডিয়ার ​​​​​​​মূল ​​​​​​​ইন্টারেস্ট ইসু ​​​​​​​আফগানিস্তানকে ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​যে ​​​​​​​আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের মধ্যে TTP/BLA এই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ গুলি কে সাহায্য করা এবং চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক কাররিডোর কে ফলপ্রসূ না হতে দেওয়া যাতে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বা চীন কারুর অর্থনীতি বিকশিত না হয় | বর্তমান পরিস্থিতে তো ইন্ডিয়ার সেই স্বার্থগুলি সত্যি সত্যি বিঘ্নিতও হতেই পারে যদি তালিবানেরা তাদের নিজের স্বার্থ দেখে | সত্যি কথা বলতে কি আফগানিস্তানে তালিবান কেন যে কোন সরকার যদি আজি TTP/BLA এই পাকিস্তানের শত্রু সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ গুলি কে desh থেকে তাড়িয়ে দেয় তাহলে তাদের সঙ্গে পাকিস্তান ও চীন (সঙ্গে ইরান /রাশিয়া ) বন্ধুত্ব করে নেবে এবং সবরকম আর্থিক সাহায্য দেবে | এর ফলে আজ থেকে ১০-২০ বছর পরেই হয়তো আফগানিস্তানের চেহারাই বদলে যাবে |  এখন বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো তালিবান ke সেই দিকেই যেতে হবে যেইখানে তাদের পাকিস্তান /চীন এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে হবে | এর ফলে হয়তো উপরিউক্ত ইন্ডিয়ার ​​​​​​​মূল সিকিউরিটির স্বার্থগুলি ​​​​​​​ব্যাহত ​​​​​​​হবে ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​আফগানিস্তানের ​​​​​​​হয়তো ​​​​​​​লাভ ​​​​​​​হবে যদি ​​​​​​​সে ​​​​​​​পাকিস্তানের ​​​​​​​সঙ্গে ​​​​​​​বন্ধুত্ব ​​​​​​​করে ​​​​​​​নেয় | ভু ​​​​​​​রাজনীতি ​​​​​​​তে ​​​​​​​শুধু ​​​​​​​ইন্ডিয়ান ​​​​​​​ইন্টারেস্ট দেখতে ​​​​​​​গেলে ​​​​​​​বলতেই ​​​​​​​হয় ​​​​​​​যে আফগানিস্তানে আম্রিগান আর্মি থাকা ভালো ছিল | কিন্তু ​​​​​​​যদি ​​​​​​​আফগানিস্তানের ​​​​​​​স্বার্থ ​​​​​​​দেখতে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​বোলতে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​যে ​​​​​​​পাকিস্তানের ​​​​​​​সঙ্গে ​​​​​​​বন্ধুত্ব করে ​​​​​​​চীনের সিপেক ও ​​​​​​​লিথিয়াম ​​​​​​​সংক্রান্ত ​​​​​​​ব্যাপারে সহায়তা ​​​​​​​করলে ​​​​​​​তাদের ​​​​​​​দীর্ঘমেয়াদি ​​​​​​​লাভের সম্ভাবনা | ভূ ​​​​​​​রাজনীতিতে ​​​​​​​আফগানিস্তানের লং-টার্ম স্বার্থের কথা ভেবে যদি তালিবান চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার সিদ্ধান্ত নেয় তা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার যেহেতু তারা আফগনিস্তানের ভূমিপুত্র এবং রীতিমতো ২০ বছর যুদ্ধ করে তারা তাদের দেশ থেকে তাদের কাছে যারা বিদেশী আক্রমণকারী সেইসব শত্রুদের তাড়িয়েছে | ভূ ​​​​​​​রাজনীতির ক্ষেত্রে নৈতিকতা ​​​​​​​বলে ​​​​​​​কিছুই ​​​​​​​হয়না ​​​​​​​এটা ​​​​​​​তো ​​​​​​​চানক্য ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​বছর আগেই ​​​​​​​বলেছেন |
     
    আপনি ​​​​​​​আরো bolechen যে "হ্যা আমি ১৯৭১ এ বাংলাদেশে ম্যাস কিলিং এর সময় ইন্ডিয়ার হস্তক্ষপ সমর্থন করি| কম্বোডিয়ায় পল পটকে হটাতে ভিয়েতনাম আর্মির হস্তক্ষেপ সমর্থন করি। তালিবান দের হটাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ  সমর্থন করি। এরা কেউই শুধু হিমানিটারিয়ান সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসেনি -প্রতিটা ক্ষেত্রে  এরা সবাই নিজের নিজের কস্ট-বেনিফিট ক্যালকুলেট করে এসেছে -কিন্তু তাও কিছু লোকের প্রাণ বেচেছে -আমার কাছে সেটা জরুরি। "   আসলে ​​​​​​​এটা ​​​​​​​একটা ​​​​​​​খুব বিতর্কিত বিষয় | অনেক কাশ্মীরি বলবেন (বিশেষ করে ২০১৯ সালের পরে ) যে কাশ্মীরে পাকিস্তানি শাসন থাকলে অন্ততঃ বুরহান Wanirmoto কিছু মানুষ বেঁচে থাকতো |Amit আপনি যেহেতু বিদেশে থাকেন আপনি আরো ভালো করে জানবেন যে খালিস্তানি শিখরা বা কাশ্মীরিরা পাকিস্তানকে সেইভাবে ভারতের অন্য প্রান্তের মানুষের মতো শত্রু বলে মনে করেনা যেহেতু ভারতের অন্য প্রান্তের মানুষের চেয়ে পাকিস্তানের মানুষের সঙ্গে পাঞ্জাবি বা কাশ্মীরির ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল অনেক বেশি | এখন তারা মনে করতেই পারে যে পাকিস্তান , চীন তাদের সাহায্য করুক নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে | বাংলাদেশের ১৯৭১ সালেও ঠিক এই সেন্টিমেন্ট কাজ করেছিল | এখন ১৯৭১ সালে ভৌগোলিক কারণেই ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের গণহত্যা আটকাতে সাহায্য করা সম্ভব ছিল ঠিক যেমনভাবে খালিস্তান বা কাশ্মীরে আপনার ভাষায়  ​​​​​​​মেজর  স্কেলে ​​​​​​​হিউমান ​​​​​​​রাইটস ভায়োলেশন হোলে ​​​​​​​ভৌগোলিক ​​​​​​​কারণেই ​​​​​​​পাকিস্তানের ​​​​​​​পক্ষে ​​​​​​​হস্তক্ষেপ ​​​​​​​করা ​​​​​​​সম্ভব যাতে সেইসব জায়গায় ​​​​​​​মেজর  স্কেলে ​​​​​​​হিউমান ​​​​​​​রাইটস ভায়োলেশন না ​​​​​​​হয় |  প্রতিবেশীর ঘরে বৌ পেটানো হলে অবশ্যই তো পাশের বাড়ির লোকই হস্তক্ষেপ করবে | কি বলেন ?
     
    সবশেষে বলি ভূরাজনীতিতে কোনোদিনই নৈতিকিতা বলে কিছু নেই কিন্তু ভূরাজনীতিতে বিভিন্ন শক্তি একে অন্যের কাজ থেকেই শিক্ষা নিয়ে থাকে | ১৯৭১ সালের ভারতের বাংলাদেশের হস্তক্ষেপের কাজ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীকালে পাকিস্তান খালিস্তান বা কাশ্মীরে নীতি গ্রহন করেছে | অমিতের বক্তব্য জানবার অপেক্ষায় রইলাম |
     
    "আমার কাছে আইসিস বা তালিবান -টেরর স্কেলে দশে দশ। এরা মানুষ নয় -জাস্ট জানোয়ার।" অমিতবাবু তালিবানরা ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​মাত্র ​​​​​​​একমাসের ​​​​​​​মধ্যে ​​​​​​​যেইভাবে ​​​​​​​জিতে ​​​​​​​গেলো ​​​​​​​প্রায় ​​​​​​​সম্পূর্ণ ​​​​​​​বিনা ​​​​​​​রক্তপাতে ​​​​​​​তাদের ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​পুরোপুরি জাস্ট জানোয়ার বলা ​​​​​​​যায়না | বরঞ্চ তারা  এখনো  পর্যন্ত যেইভাবে নিজেদের ভার্সন 2.0bole পেশ করেছে এদের একেবারেই ৰুদ্ধিহীন বলা যায়না | তালিবানেরা যদি ইন্ডিয়ার শত্রুও হয় শত্রুকে দুর্বল বা বুদ্ধিহীন ভাবা কিন্তু ভয়াবহ | স্বয়ং কৌটিল্য এই কথাই তো বলেছেন | যেহেতু  আমরা  এই বছর মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর সেলেব্রেট  করছি  মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যের সঙ্গে  তালিবানদের সাফল্যের  তুলনা  একটা করাই যায়  | মুক্তিযোদ্ধাদের  মাত্র ৩৪ হাজার খানসেনাকে  হারাতে ভারতের সম্পূর্ণ  সাহায্য নিয়েও  প্রায়  ১০ মাস  লেগেছিলো  | আরেকটা  কথা ভুলে যাবেননা  সারা পৃথিবীর  নৈতিক  সমর্থন  তখন মুক্তিযোদ্ধাদের  পিছনেই  ছিল | তালিবানেরা  কিন্তু  সারা পৃথিবীতে সম্পূর্ণভাবেই একা  এবং লড়েছে  একমেরু  বিশ্বের একছত্র  অধিপতির  বিরুদ্ধে যেখানে  তাদের  শক্তি  তাদের  প্রতিদ্বন্দীর  তুলনায়  ছিল  তৃণমাত্র  | ভূরাজনৈতিক  দিক থেকে  এই ব্যাপারটা  কোনভাবেই  খাটো  করা যাবেনা  | 
     
    অমিতবাবুর উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম | 
     
    পাঠকদের কাছে এই প্রশ্নটাই রাখলাম পাকিস্তানের দিক থেকে আফগানিস্তানের নীতি কি ঠিক ছিল না ভুল ? আপনাদের খোলা মনে মতামত চাইছি | 
     
     
  • Amit | 120.17.113.220 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ০২:০৫497395
  • না। কল্লোলদা কে থামানো যাবেনা। 
    আপনি ডাইরেক্ট তালিবান দের প্রশংসা করছেন না। কিন্তু যা করছেন হরে দরে সেটাই দাঁড়াচ্ছে। আফগান মেয়েদের কেও জোর করে মিনি স্কার্ট পড়ায় নি। কিন্তু সেটা পড়া যে একটা অপসন আর সেটা পড়লে মুন্ডু কাটা উচিত নয় , এই ফিলিং টা দিয়েছে। সেখানে আপনি আপনার লেখায় সেই পৃহিস্টোরিক , রিলিজিয়াস ঘৃণা পুষে রাখা , রিগ্রেসিভ খাপ সোসাইটি কে এসব লিখে গ্লোরিফাই করছেন আম্রিগান অকুপেশন কে খারাপ দেখাতে। কখনো ভেবেছেন কেন এতো মুসলিম ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতেই মিগ্রান্ট হতে চান ? এতো গুচ্ছের মুসলিম দেশগুলো কেন তাদের চোখে পড়েনা ?
     
    সৈকতবাবু লিখলেন জঙ্গি ইসলাম নাকি পুরোপুরি পশ্চিমের অবদান। তো সেই পশ্চিম জঙ্গি বুদ্ধিস্ট বানালোনা , জঙ্গি হিন্দু বানালোনা জঙ্গি জৈন বানালোনা , কেবল দারুন শান্তি প্রিয় , সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী নিরীহ মুসলিমদের ধরে ধরে ব্রেন ওয়াস করে জঙ্গি ইসলাম বানিয়ে দিলো ? এই দেশগুলোতে কি ওয়েস্টার্ন ইনফ্লুয়েন্স আসার আগে খুব শান্তির ইতিহাস ছিল ? বীজ না থাকলে সার জল দিলেই গাছ হয়ে যায় ? তার জন্যে যে বীজটা ছিল সেটা বলাটা জরুরি। নাহলে সবই অন্ধের হস্তিদর্শন। 
     
    বিধবা বিবাহ মানে কোনো বিধবাকে জোর করে ধরে বিয়ে দিয়ে দেওয়া নয় , কিন্তু সেটা যে একটা অপসনসেটার রাস্তা খুলে রাখা। আপনার লাফালাফি দেখে মনে হোচ্ছে ব্রিটিশ শাসন ১০০ বছর আগে শেষ হলে ভালো হতো। বিদ্যাসাগর কুড ওয়েট। সতী বা বিধবা বিবাহ এসব  নট দ্যাট ইম্পরট্যান্ট। সে মনে হতেই পারে। ইতিহাস তো আর আমার আপনার মনের খেয়ালে চলেনা। 
     
    আজকে স্পেন গ্রিস টিবেট কাশ্মীর কোথাও কি মাস লেভেলে রিফুজি এক্সডস হোচ্ছে ? আমার কাছে সেটা একটা মেজর ইনডিকেটর অবস্থা কতটা খারাপ বোঝাতে - যেমন ৭১ বাংলাদেশ। যেমন এখন আফগানিস্তান। আপনি যতই তালিবান শাসন আম্রিগান দের থেকে খারাপ নয় বলে চেচান. মায়াপাতায়  ,  সেখানকার লোক প্লেনের চাকায় ঝুলে পালাচ্ছে , তার মানে তারা এ লজিকে কন্ভিন্সড নয়।
     
    তো আমি স্পেন গ্রীস ইত্যাদি দুনিয়ার সব জায়গায় অকুপেশন চেয়ে বেড়াবো কেন ? অবশ্য আমি চাইলেই বাঁ* শুনছে কে ?নেহাত আপনিই এতো পাত্তা দ্যান , এতো পাত্তা তো নিজের ঘরেও পাইনা। আর দিন আনি দিন খাই, ওতো জায়গার খোঁজ রাখতে গেলে তো চাকরিটা যাবে। ভাট মেরে কি ভাত জোগাড় হবে ? 
     
    আর ফর ইনফো স্কটল্যান্ড ইউকে তে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে , কুইবেক কানাডাতে। সুতরাং কোথাও একটা আন্দোলন হচ্ছে মানেই যে সেখানে তাদের মেজরিটি সাপোর্ট আছে তা নয়। সেটা প্রমান সাপেক্ষ। 
     
    কাশ্মীর বা পাঞ্জাব নিয়ে গুরুর বক্ত্যবের সাথে এক্কেবারে  একমত। লিখছি পরে ডিটেল এ। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ০৫:৫৯497396
  • কাশ্মীর বা পাঞ্জাব নিয়ে গুরু ঠিক লিখেছেন। আমি যে দেশে আছি সেখানে পাঞ্জাবি পপুলেশন অনেক আর তার মধ্যে ইন্ডিয়া পাকিস্তান দুদিক থেকেই পাঞ্জাবিরা আছেন। আমাদের এদিকে অবশ্য  ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবির সংখ্যাই বেশি- তাদের মধ্যে শিখ আর হিন্দু দু দলই আছে। আমার বেশ কটা বন্ধু থাকার সুবাদে আর একটু গান বাজনার সুবাদে ওনাদের বৈশাখী বা নবরাত্রি ফেস্টিভ্যাল গুলোতে রেগুলার হাজির হয়ে যেতাম. এতদিন দিব্যি চলছিল। গত কয়েক বছর দেখছি পাকিস্তানী দের জয়েন করা নিয়ে মন কষাকষি চলছিল  শিখ আর হিন্দুদের  মধ্যে- হিন্দু পাঞ্জাবি রাই মেনলি আপত্তি করছিলো-শিখরা ততটা নয় । গতবার ফার্মার্স প্রোটেস্ট এর পর থেকে শিখ আর হিন্দুদের মধ্যে দেখছি রিফট আরো বেড়ে গেছে আর এবছর সব আলাদা আলাদা সেলিব্রেট করছে।অবশ্য করোনার জন্যে অনেক জায়গায় নাম্বারস রেস্ট্রিক্ট করছে -সেটাও আরো একটা কারণ। 
     
    তবে ইন জেনারেল আমার দেখা বাঙালি বা পাঞ্জাবিরা যেভাবে বাংলাদেশী বা পাকিস্তানিদের সঙ্গে মেশেন - ইন্ডিয়ার বাকিরা - নর্থ বা সাউথ সেভাবে মেশেন না।একই ভাবে হয়তো তামিলরা শ্রীলঙ্কানদের সাথে বেশি করে মেশেন -ল্যাংগুয়েজ /কালচার সবই ম্যাটার করে আর কি। তার মধ্যেও ​​​​​​​আবার ​​​​​​​শ্রীলঙ্কান ​​​​​​​আর ​​​​​​​শ্রীলঙ্কান তামিল ​​​​​​​দের ​​​​​​​মধ্যে ​​​​​​​আকচা ​​​​​​​আকচি ​​​​​​​আছে ​​​​​​​যেটা খুব  ​​​​​​​স্বাভাবিক হিস্টরিকাল এঙ্গেল থেকে। 
     
    আমি হেট্রেড বা ক্রুয়েলটির দিক থেকে তালিবান বা  আইসিসকে জানোয়ার বলেছি। বুদ্ধি কম বলিনি। যুদ্ধের বুদ্ধি তো এদের অবশ্যই  আছে  ভালো রকম। এরা সবাই ব্যাটল হার্ডেন্ড- ওয়ারিয়র রেস। কিন্তু এতো সহজে একমাসে যুদ্ধ জেতাটা আমার মনে হয় অনেকটাই গোটআপ। আম্রিগা পাতি হাত তুলে নিয়েছে-ওদের আর জাস্ট পোষাচ্ছে না । আর দুর্ভাগ্যক্রমে আফগান সরকার বলতে যেটা ছিল , জাস্ট কতগুলো করাপ্ট লোকের ক্লাব-যারা বসে বসে নিজের আখের গুছিয়েছে এতদিন ধরে। ভালো লোক হয় ছিলনা বা এগোতে পারেনি এদের ঠেলে। এখন ওখানকার যেসব ম্যাংগো লোকজন হয়তো করাপ্ট সরকারকে গালাগাল দিতো এতদিন , এখন তারাই গরম কড়াই থেকে আগুনে এসে পড়েছে। 
     
    যেমন ইন্ডিয়ার ম্যাংগো পাবলিক করাপ্ট ইউপিএ সরকারকে সরাতে গিয়ে গোরক্ষকদের ডেকে এনেছে। কিন্তু তাও অন্তত বলতে হবে সেটা একটা ডেমোক্রেটিক প্রসেস এ হয়েছে - তালিবানদের মতো বন্দুকের ডগায় নয়। লোকে নিজের পেছনে সেধে বাঁশ নিয়েছে -তার ফল ভুগুক। 
     
    কল্লোলদা কথায় কথায় বলছেন যে আফগান দের লড়াই আফগান দের ই লড়তে হবে -খুব ভালো কথা- খুব সত্যি কথা -100-% এগ্রিড অন প্রিন্সিপল । কিন্তু একদল বন্দুক ধারী ট্রেনড রুথলেস জঙ্গিদের সাথে খালি হাতে ম্যাংগো লোকে ঠিক কিভাবে লড়বে তার রাস্তা টা একটু বাতলাবেন কি ? সবার তো ক্ষার খেয়ে ক্ষুদিরাম হওয়ার ইচ্ছে বা মনের জোর থাকেনা। 
     
    একটা আমার আপনার মতো পাতি সাধারণ লোক -যার বাড়িতে বৌ বাচ্চা আছে , সে হয়তো চায় যে তার মেয়ে কোনোমতে পড়াশোনা শিখে ডাক্তার বা টিচার হোক কোনো তালিবানের বা খাপ লিডার এর বোরখা পরা তিন বা চার নম্বর সেক্স স্লেভ না হয়ে - এবার সে ঠিক কিভাবে সেই লড়াইটা লড়বে একা একা ? ওখানে গান্ধীগিরি দেখাবে -? সেক্ষেত্রে এক্সটার্নাল একটা সাপোর্ট না থাকলে তো লাশের পাহাড় জমবে রোজ। 
     
    অবশ্য তাদেরকে সামনা সামনি গান্ধীগিরির  ডেমো দিতে চাইলে আপনি নিজে আফগানিস্তানে ঘুরে আসুন না ?  -আমরা চাঁদা তুলে টিকেট কেটে দিচ্ছি। 
     
    একসময় ব্রিটিশ রাজের বিরোধিতা করতে বিপ্লবীরা ফ্রান্স জার্মানি থেকে অস্ত্র আনতেন। নেতাজি তো আবার এক্কেরে জাপান-জার্মান এর সাথে এলিয়েন্সই করে ফেললেন। সব ভুল ছিল ওসব - তাইতো ? ওদের নিজেদের লড়াই শুধু নিজেদের ই লড়া উচিত ছিল। ব্রিটিশের বন্দুকের বিরুদ্ধে বাঁশের লাঠি দিয়ে। 
     
    ও হ্যা ভুলেই গেসলাম - কল্লোলদা আবার বলেছেন বেশ কিছু লাশ না পড়লে স্বাধীনতা আবার পাকাপোক্ত হয়না। ঠিক কটা লাশ -এখনো বলেননি যদিও -গুনছেন বোধহয়। 
  • Kallol Dasgupta | ৩১ আগস্ট ২০২১ ০৭:৪১497397
  • "একসময় ব্রিটিশ রাজের বিরোধিতা করতে বিপ্লবীরা ফ্রান্স জার্মানি থেকে অস্ত্র আনতেন" - একদম ঠিক - জার্মান বা ফ্রেঞ্চ সৈন্য আনাতেন না। 
    "নেতাজি তো আবার এক্কেরে জাপান-জার্মান এর সাথে এলিয়েন্সই করে ফেললেন। "- একদম ঠিক। কি করলেন ? "এলিয়েন্স" করলেন। আজাদ হিন্দ ফৌজ বলে একটা বস্তু কি খেয়ালে আছে ? নেতাজি সফল হলে নিশ্চই র একটা গন্ডোগোল লাগতো। জাপানীরা তো আর নিঃস্বার্থ বুদ্ধ ছিলো না। সেটা আবার আর একটা লড়াই হতো। 
    মানুষ মরুক আমরা কেউই চাই না। কিন্তু কি আর করা ? বাবা বৃটিশ ভারত ছেড়ে যাও বলাতে না গেলে বোমা পিস্তল ব্যবহার করতে হয়। তাতে মানুষ মরে উভয় দিকেই। জালিয়ানোয়ালাবাগ হয়, হিজলী জেল হয়। তাতেও এই পোকায় কাটা দয়ার দান স্বাধীনতা যে কি মনোরম তা আমরা এই ৭৫ বছরে টের পাচ্ছি। কিউবা বা ভিয়েৎনাম সে কষ্ট পায় না। বাংলাদেশ কি প্রচন্ড ভালো আছে, তা বাংলাদেশের মানুষই জানে। মূল্য চোকাতে হয় সব কিছুরই। 
    ভারতের মানুষ বা চীনের মানুষ বা ভিয়েৎনামের মানুষ যখন বিদেশী হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়েছিলো তাদেরও প্রথম অবস্থায় অস্ত্র নিজেদের জোগাড় করতে হয়েছিলো। কিন্তু লড়েছিলো তারা নিজেরাই। আফগান মানুষও তাইই করবে। 
    আমি আফগানিস্তানে গিয়ে কিছু করতে পারবো না। কারন আমিও বাইরের মানুষ। তাই ঐ ক্লান্তিকর ব্যবহৃত ব্যবহৃত ব্যবহৃত হতে হতে পচে যাওয়া কৌতুকটির জন্য আদিগন্ত করুণা রইলো। আব্দুল গফফর খানকে লেগেছিলো ঐ উত্তর-পশ্চিম-সীমান্তের উপজাতিদের মধ্যে গান্ধীর বার্তা নিয়ে যেতে - গান্ধী নিজেও পারেন নি। 
    এই আর কি।  
  • Amit | 203.0.3.2 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ০৯:০৬497398
  • কল্লোলদা সেই আবার "ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায়" মোডে চলে গ্যাছেন। 
     
    যাকগে - আমার এই টইতে আর নতুন কিছু বলার নেই। 
  • Debanjan Banerjee | ৩১ আগস্ট ২০২১ ০৯:১৫497399
  • অমিত লিখেছেন "কখনো ভেবেছেন কেন এতো মুসলিম ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতেই মিগ্রান্ট হতে চান ? এতো গুচ্ছের মুসলিম দেশগুলো কেন তাদের চোখে পড়েনা ?"  
     
    কথাটা সত্য নয় | শুধু ​​​​​​​পাকিস্তানেই ​​​​​​​গত ​​​​​​​৪০ ​​​​​​​বছরে ​​​​​​​প্রায় ​​​​​​​৩-৪ ​​​​​​​মিলিয়ন ​​​​​​​আফগান ​​​​​​​শরণার্থী ​​​​​​​আছে  | ইরানে ​​​​​​​প্রায় ​​​​​​​১ ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​দেড় ​​​​​​​মিলিয়ন | তুরস্ক ​​​​​​​গত ​​​​​​​কয়েকবছরে ​​​​​​​প্রায় ​​​​​​​৩ ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​৪ ​​​​​​​মিলিয়ন ​​​​​​​সিরিয়ান শরণার্থী ​​​​​​​আছে | আমাদের পাশের দেশ বাংলাদেশ গত কয়েকবছরে প্রায় ১ মিলিয়ন রোহিংগা রেফিউজি নিয়ে থাকছে |  কাজেই মুসলিম দেশগুলি তে  সবচেয়ে বেশি মুসলিম গত বেশ কয়েকটি বছর ধরে শরণার্থী হয়ে আছে | পাকিস্তান বাংলাদেশ , ইরান বেশ গরিব দেশ |  
     
    আপনি আফগানিস্তান থেকে যাদের কাবুল এয়ারপোর্টে দেখছেন এরা আফগানিস্তানের জনগণের ওয়ান পার্সেন্টও নন | কাবুলের আম্রিগা নিয়ন্ত্রিত occupation ইকোনমি দ্বারা এরা প্রতিপালিত হতো | এরা সবাই ট্রান্সলেটর , মডেল , টিভি anchor এই সব এলিট ক্লাসের আপনার ভাষায় জাস্ট কতগুলো করাপ্ট লোকের ক্লাব| এরা নিজেদের হাইক্লাস লাইফস্টাইল মেইনটেইন করতে অবশ্যই বিদেশে ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতেই মিগ্রান্ট হবার ​​​​​​​কথা ​​​​​​​ভাবেন | 
     
     
    উল্টোদিকে Afghanistan পাকিস্তান বর্ডার চামান পোস্টে যথরীতি লক্ষ্য লক্ষ্য শরণার্থী ভিড় করেছেন | এরা সবাই চাষা জনমজুর মুচি ছুতোর ধোপা নাপিত এই সব মেহনতি মানুষ | তারা আশ্রয় নেবার জন্য তাই পাকিস্তানেই জায়গা খোঁজে যেহেতু তাদের কোনো না কোনো আত্মীয় গত ৪০ বছর ধরে ওখানে আছে | 
     
    আপনি ​​​​​​​লিখেছেন "একটা আমার আপনার মতো পাতি সাধারণ লোক -যার বাড়িতে বৌ বাচ্চা আছে , সে হয়তো চায় যে তার মেয়ে কোনোমতে পড়াশোনা শিখে ডাক্তার বা টিচার হোক "  এটা ​​​​​​​সমাধান ​​​​​​​করবার জন্য আফগান লোকটির পক্ষ্যে সহজ উপায় হলো সে পরিবার নিয়ে পাকিস্তানে চলে যাক শরণার্থী হিসেবে | লাহোর বা করাচিতে এখনো ডক্টরের প্রয়োজন আছে | Urdu ভাষাটি শিখে নিলেই হলো | বলিউড আর ক্রিকেটের দৌলতে এটা খুব কঠিন কাজ নয় | কয়েকশো বছর ধরেই আফগানিস্তানের পাশতুনরা লাহোর মানে পাঞ্জাবে ইমিগ্র্যাটে করছে রুটির জন্য | আয়ুব খান ,Yahya খান , ইমরান খান এরা সবাই মূলত আফগান পশতুন বংশ থেকেই এসেছেন | 
     
    "সৈকতবাবু লিখলেন জঙ্গি ইসলাম নাকি পুরোপুরি পশ্চিমের অবদান। তো সেই পশ্চিম জঙ্গি বুদ্ধিস্ট বানালোনা , জঙ্গি হিন্দু বানালোনা জঙ্গি জৈন বানালোনা , কেবল দারুন শান্তি প্রিয় , সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী নিরীহ মুসলিমদের ধরে ধরে ব্রেন ওয়াস করে জঙ্গি ইসলাম বানিয়ে দিলো ? "   LTTE প্রথম ​​​​​​​উপমহাদেশে ​​​​​​​সুইসাইড ​​​​​​​বম্বিং ​​​​​​​চালু ​​​​​​​করে | তারা ​​​​​​​কি ​​​​​​​মুসলিম ? আর ​​​​​​​এটা ​​​​​​​তো ​​​​​​​একটা ​​​​​​​ফ্যাক্ট ​​​​​​​যে ​​​​​​​২০বছর ধরে আফগানিস্তানে আম্রিগা বসে থাকার পরেও কি করে এখনো ওখানে ISIS তৈরী হতে পারে সিআইএ না থাকলে ? ISIS তো সিরিয়া আর ইরাকে তা তারা কি করে আফগানিস্তানে এলো  আমেরিকার মদত না থাকলে ? পেপে এস্কোবার আর MK ভদ্রকুমার পড়ুন বুঝতে পারবেন | ইরান আর পাকিস্তানকে চাপে রাখতে সিআইএ আফগানিস্তানে ISIS কে এনেছে | এটাও একটা চানক্য নীতি | আফগানিস্তানে তালিবানের এখন সবচেয়ে বড়ো শত্রু আমেরিকা নয় Northern এলায়েন্স নয় ISIS/Daish!  এই লেখাটা পড়ুন https://thesaker.is/enduring-terror-forever-from-al-qaeda-to-isis-k/  
     
    কল্লোল লিখেছেন "তাতেও এই পোকায় কাটা দয়ার দান স্বাধীনতা যে কি মনোরম তা আমরা এই ৭৫ বছরে টের পাচ্ছি। কিউবা বা ভিয়েৎনাম সে কষ্ট পায় না। বাংলাদেশ কি প্রচন্ড ভালো আছে, তা বাংলাদেশের মানুষই জানে। মূল্য চোকাতে হয় সব কিছুরই। "  এটা ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​একটু বাড়াবাড়ি ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​গেলো | কিউবা ​​​​​​​বা ​​​​​​​ভিয়েতনামে ​​​​​​​কোন ​​​​​​​গণতন্ত্র ​​​​​​​বা ​​​​​​​বাকস্বাধীনতা ​​​​​​​নেই | ভারত ​​​​​​​বা ​​​​​​​বাংলাদেশে ​​​​​​​অন্তত ​​​​​​​পরিপূর্ণ ​​​​​​​গনতন্ত্র ​​​​​​​ও বাকস্বাধীনতা আছে | ভারত ​​​​​​​বা ​​​​​​​বাংলাদেশে huge জিডিপি গ্রোথ হচ্ছে কত কয়েক দশকে একটু ইন্টারনেট থেকে জেনে নিন | কিউবা বা ভিয়েতনামের কি আর্থিক কোনো সাফল্য আছে ?
     
    আপনাদের মূল্যবান অপিনিওনের apekkhay রইলাম |
     
     
  • Amit | 203.0.3.2 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১০:০৪497400
  • হ্যা ইমিগ্র্যান্ট বলতে আমি মেনলি তাদের কথাই ধরেছিলাম যারা স্বেচ্ছায় নিজের চয়েস এ অন্য দেশে লিগ্যালি মুভ করতে চাইছেন। সেক্ষেত্রেই ওয়েস্টার্ন দেশগুলোর প্রেফারেন্সের কথা বলেছি। 
     
    একটা যুদ্ধের সিচুয়েশনে পড়ে তো অনেক আফগানকেই তো এখন পাশে ইরান- পাকিস্তান বা তাজিকিস্তান -এসব দেশে পালাতে হচ্ছে। যেমন অনেককেই ৭১ এ বাংলাদেশ ​​​​​​​থেকে ইন্ডিয়ায় ​​​​​​​রেফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় ​​​​​​​নিতে ​​​​​​​হয়েছিল ​​​​​​​খান ​​​​​​​সেনাদের ​​​​​​​অত্যাচারে।  সেগুলো নয়। 
     
    যুদ্ধ রায়ট ছাড়াও অনেক আফগান হয়তো চাকরি বা আত্মীয়তার সূত্রে পাকিস্তানে যেতেই পারেন-গিয়ে সেটল করতেই পারেন । যেমন বাংলাদেশ থেকে এতো বছরে অনেকেই এসেছেন বা ওখানে গ্যাছেন গত ৭০ বছরে ।সেগুলো তো নরমাল সিচুয়েশন  এর আসা যাওয়া। ওগুলো তো এই লেখার প্রেক্ষিতে নয়। 
  • dc | 122.183.167.139 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১০:৩৮497401
  • "আপনি আফগানিস্তান থেকে যাদের কাবুল এয়ারপোর্টে দেখছেন এরা আফগানিস্তানের জনগণের ওয়ান পার্সেন্টও নন | কাবুলের আম্রিগা নিয়ন্ত্রিত occupation ইকোনমি দ্বারা এরা প্রতিপালিত হতো | এরা সবাই ট্রান্সলেটর , মডেল , টিভি anchor এই সব এলিট ক্লাসের আপনার ভাষায় জাস্ট কতগুলো করাপ্ট লোকের ক্লাব| এরা নিজেদের হাইক্লাস লাইফস্টাইল মেইনটেইন করতে অবশ্যই বিদেশে ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতেই মিগ্রান্ট হবার কথা ​​​​​​​ভাবেন"
     
    সত্যিই ​​​​​​​তো ​​​​​​​এই ​​​​​​​ট্রান্সলেটার, মডেল, ​​​​​​​টিভি অ্যাংকর ​​​​​​​এর ​​​​​​​মতো ​​​​​​​এলিট ​​​​​​​লোকগুলোর ​​​​​​​জন্যই ​​​​​​​সব ​​​​​​​জায়গায় ​​​​​​​সমস্যা তৈরি ​​​​​​​হয়। ​​​​​​​আর মডেল ​​​​​​​ফডেলরা ​​​​​​​তো ​​​​​​​শুধু ​​​​​​​এলিট ​​​​​​​না, ​​​​​​​ওরা ​​​​​​​নানারকম ​​​​​​​ইয়েও ​​​​​​​করে। ​​​​​​​কোন লাজলজ্জা নেইকো। সব ​​​​​​​এই ​​​​​পাপী ​​ওয়েস্টার্ন সংস্কৃতির ​​​​​​​ফল। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১১:০৫497403
  • যা শালা। আমি কখন ট্রান্সলেটর , মডেল , টিভি এঙ্কর - এদেরকে "করাপ্ট লোকের ক্লাব" বললাম আবার -? আমি  তো ​​​​​​​ওটা ​​​​​​​আফগান এক্স সরকারের মন্ত্রী-​​​​​​​ফন্ত্রীগুলোকে বলতে ​​​​​​​চেয়েছি। বোঝো। ​​​​​​​ভাগ্যিস ​​​​​​​ডিসি ​​​​​​​ধরলেন। 
     
    যাকগে -  ঠিক মোটামুটি কতগুলো লাশ পড়লে স্বাধীনতা পাকাপোক্ত না দমপোক্ত কি যেন একটা হয় - কল্লোলদা কি সেই ফিগারটা ফাইনালি কষে উঠতে পারলেন ? + বা - 20-% হলেও চলবে। ওটুকু ভেরিয়েশন চলেবল। 
  • lcm | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১১:১৯497405
  • "...কখনো ভেবেছেন কেন এতো মুসলিম ওয়েস্টার্ন দেশ গুলোতেই মিগ্রান্ট হতে চান ? " ---

    এটা বোধহয় ঠিক নয়। আমেরিকাতে অন্তত - চিন/ভারত/মেক্সিকো - এই তিন দেশ থেকেই ইমিগ্রেশন আবেদনের সিংহভাগ আসে
  • Amit | 203.0.3.2 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১১:৪৯497406
  • ইয়ে লসাগুদা -"এতো" বলতে সেটা "মেজরিটি"-ই বোজাচ্ছে - এটা কোন স্ট্যাটিসটিকাল ডেফিনিশনে আসে ? 
     
    ইয়েস। আমার কাছে ডাটা নেই কতজন কোন দেশ থেকে এপলাই করেছেন। কিন্তু আমার  বেশ কয়েকটা শহরে রেগুলার কমিউনিটি সার্ভিসের দৌলতে  যতটুকু দেখা, সেখানে আফগান -সিরিয়ান-পাকিস্তানি-প্যালেস্টিনিয়ান-সুদানিস -বাংলাদেশ ইত্যাদি ইত্যাদি দেশগুলো থেকে যারাই আসেন তারাই চেষ্টা করেন নিজের ভাই -বোন -আত্মীয়দের নিয়ে আসতে। অনেকেই পারেন , আবার অনেকে ভিসার চক্করে পারেননা। কয়েকজন আবার অন্য পথে চেষ্টা করতে গিয়ে ফেঁসেও যান - ইত্যাদি। 
     
    আমার ডাউট টা হল কেন এনারা আবার এই দেশগুলোতেই নিয়ে আসতে চান্ নিজের লোকজনদের ? কেন এতগুলো মুসলিম দেশ থাকতে সেসব দেশে তাদের জন্যে চেষ্টা করেন না ? 
     
    সৌদির কথা ছেড়ে দ্যান নাহয়। ওরা কাউকে ঢুকতে দেয়না -এতই মহান এরা যে শুধু অন্য দেশে মসজিদ বানানোর পয়সা দেয়।  কিন্তু মালয়েশিয়া - ইন্দোনেশিয়া আরো একগাদা ইসলামিক দেশ তো এখনো আছে যারা ইমিগ্রেশন দেয় ? 
     
    কাউকে জিগাইনি অবশ্য। সইত্যের খাতিরে। অন্য কারোর অভিজ্ঞতা আলাদা হতেই পারে। 
  • lcm | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১১:৫২497407
  • ভারতীয়রাও নিজেরা যেখানে থাকে আত্মীয়স্বজনদের সেখানেই আনতে চায়। চীনেরাও তাই। সেটাই স্বাভাবিক, যে যেখানে আছে।
  • lcm | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১২:০৫497408
  • "...তালিবান দের হটাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ সমর্থন করি..."

    অমিত,

    ২০০১ এ মার্কিন সেনা কিন্তু এসেছিল, আলকায়দাকে ধরতে, বিন লাদেন কে ধরতে, তালিবান হঠাতে নয়। পরের ২০ বছরেরেও তালিবান হঠায় নি। ওটা কোনোদিনই মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

    ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল অবধি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যখন খবর দিত যে আফগানিস্তানে হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন হচ্ছে তখনও কারও খুব একটা উৎসাহ ছিল না।

    অর্থাৎ, আফ্গানিস্তানে মার্কিন সেনা হস্তক্ষেপ সমর্থন করতেই পারো, তবে মানবাধিকারের কারণটা খুব জোরদার কিছু নয়। কারণ, আফগানদের মানবাধিকার রক্ষার জন্য তখন ওখানে সেনা নামে নি। সেটা হলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এর মধ্যেই নামতে পারত।
  • Amit | 103.60.200.23 | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১২:৫৩497409
  • হ্যা. এটা এগ্রিড. মার্কিন সেনা কোনো আফগানদের মসীহা নয়। হিউমান রাইটস নিয়েও ওদের কোনো হাতিঘোড়া প্রায়োরিটি নেই . সবই নিজের ইন্টারেস্ট। ওদের সাপোর্ট করলে ওরা সৌদির মত এক্সট্রিমিস্ট দের দালালি করবে। 
     
    কিন্তু আমি মেনলি আফগান ওমেন দের দিক থেকে এবং এই মুহূর্তে ইন্ডিয়ার সিকিউরিটি পয়েন্ট র দিক থেকে তালিবানদের বেশি ক্ষতিকারক মনে করছি। মার্কিন সেনা সেক্ষেত্রে আমার চয়েস অফ লেসার এভিলস। 
  • r2h | 2405:201:8005:9947:9071:8fe7:153f:cebc | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৩:০২497410
  • ব্যাপারটা অনেকটা এরকম হচ্ছে, একপক্ষ বলছে তালিবান যাই হোক, আমেরিকা খুবই বদ। আর আরেকপক্ষ (যেমন আমি) বলছে, আমেরিকা বদ তাতে সন্দেহ নেই, তবে তালিবানও ভয়ানক বদ।

    তবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপরস্যাপারও আলাদা। পাকিস্তান বাংলাদেশে যা করেছে তারপর না হলো কোন ক্ষমাপ্রার্থনা না হলো একটা ন্যুরেমবার্গ, বরং নানান খোপের বাঙালীরা নানান বিষয়ে পাকিস্তানের ওপর সহানুভূতিশীলই হয়ে পড়লো। আরো লজ্জাজনকভাবে তাদের মধ্যে অসংখ্য বাংলাদেশীও আছেন।
    বাংলাদেশের অপরাধের জন্যে যতদিন বিচার বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা হয় ততদিন পুরোপুরি ব্রাত্য করে রাখা হয়তো উচিত ছিল। তার বদলে আমরা পাকিস্তানি সিরিয়েলে রবিগান শোনালে খুশি হয়ে যাই।

    এবার কথা হল শত্রুতা পুষে রেখে কী হবে। ডাখাউ ফেরত ইহুদী যদি দেখতো নাজিদের সঙ্গে বাকিদের বেশ রিকন্সিলিয়েশন হয়ে গেছে তাহলে কেমন লাগতো ভাবি। সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ইত্যাদি খুব ভালো কথা। কিন্তু বাংলাদেশে যা হয়েছিল এবং যা বিনা বিচারে পার পেয়ে গেল, সেটা নট ডান।

    আমি জানি না প্রাচ্য পাশ্চাত্যের চিন্তাভাবনার তফাত আছে কিনা কিছু, বা যাদের খাওয়া পরার ভাবনা কম তারা হয়তো এসব এফর্ড করতে পারে। ভিয়েতনাম নিয়ে আমেরিকার নাগরিকরাই নিজের দেশকে এমন খিস্তি দিল যে তা পুরো আন্তর্জাতিক স্তরে শোনা গেল। ইরাক আফগানিস্তানে সেনা রাখা নিয়েও আমেরিকার অসংখ্য সাধারন লোকের মনে ক্ষোভ আছে, সেসব কান পাতলে শোনা যায় তাই শুধু না, পপুলার মিডিয়াতেও চলে আসে। আমাদের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদ ব্যাপরটার এমনই বদহজম হয়েছে যে তার চোঁয়া ঢেকুরের তলায় বিবেক ব্যাপারটা চাপা পড়ে যায়।

    একটু আপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল, যাগ্গে।
  • lcm | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৩:০৩497411
  • সেটা তো ঠিক। গত কুড়ি বছরে আফগান মহিলাদের ওপর পাবলিকলি অত্যাচার কম হয়েছে, অন্তত তার আগের ৫ বছরের (১৯৯৬-২০০১) থেকে। মেয়েরা স্কুলে গেছে, রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেছে, কিছু কিছু চাকরিতে জয়েন করেছে।
  • lcm | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৩:০৭497412
  • আসলে, প্রত্যেক দেশের যুদ্ধ, তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সমসাময়িকতা - এগুলো আলাদা --- একথা ঠিক যে একটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে অন্য দেশের কোনো অব্স্থাতেই ঢুকে পড়া অনভিপ্রেত - কিন্তু আবার কত দেশের কত মানুষ হয়ত ঐ আশাটুকুর দিকে চেয়েই দিন কাটায়।
  • r2h | 2405:201:8005:9947:9071:8fe7:153f:cebc | ৩১ আগস্ট ২০২১ ১৩:১৩497413
  • আজকের মুক্ত বাজারের দিক থেকে হয়তো বাণিজ্যিক চাপ সবচে এফেক্টিভ। বিকল্প জ্বালানি হয়ে গেলে যদি সৌদির সঙ্গে বাকি পৃথিবী বাণিজ্য বন্ধ করে...

    আবার ভারতে এই সময়ে যা হচ্ছে... কাল দেখলাম বারো ঘন্টার কর্মদিবস, ওদিকে ইতিহাস ধুয়েমুছে সাফ করে দিচ্ছে, জালিয়ানওয়ালাবাগ থেকে কাশী পর্যন্ত উৎকট পমেটম মাখিয়ে দিচ্ছে, শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন, ক্রমাগত ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ভিজিলান্তে পুলিশিং - আমি তো চাই বাইরের পৃথিবী এসব জানুক, বাণিজ্য নিয়ে চাপ সৃষ্টি হোক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন