• খেরোর খাতা

  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১০

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ জুলাই ২০২১ | ১৪৩ বার পঠিত
  • #ইস্টবেঙ্গল_১০০


    #কাদামাটির_হাফলাইফ ১০


    ১৯৭৫।। 


    ভাস্কর গাঙ্গুলি হাউহাউ কাদঁছেন। 


    চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের সবার ঠিকানা সেদিন মতিলাল দাদুর দোকান। প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে। কাদা ভর্তি রাস্তা। এ-রকম দিনে ফুটবল খেলার মজাই আলাদা। বলের পিছনে ছুটতে গিয়ে সড়াৎ করে বলের বদলে বিপক্ষের গোলে সেঁধিয়ে যায় কেউ কেউ। বড়রা আগরাপুরার মাঠে যায়। মেজো সেজো ছোটদের ঠিকানা গোলামহলের মাঠ। দুটো মাঠেই খেলা বন্ধ। রেডিও অল্প কজনের বাড়িতে আছে। তাঁরাও অনেকে চলে এসেছেন। একসঙ্গে বসে শোনার মজা বাডিতে হয় না।


    সবাই একদলের সমর্থক।


    মোহনবাগান।


    আজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলা। কিন্তু কোন বাঙাল বিদ্বেষ নেই। গ্রামে একজন মাত্র বাঙাল। তার উচ্চারণ নিয়ে মজা করে লোকে। কিন্তু বিদ্রূপ নয়। এমনিতেই খুব আমুদে ও মজাদার মানুষ।


    সবাই মোহনবাগান। কেন না, ইংরেজদের হারিয়েছে। দেশের গর্ব। 


    একটার পর একটা গোল ঢুকছে মোহনবাগানের জালে।


    ধারাভাষ্যকার বলছেন, ভাস্কর গাঙ্গুলি কাঁদছেন।


    সবাই ভাস্কর গাঙ্গুলিকে গাল দিচ্ছে। ঠিক টাকা খেয়েছে ব্যাটা 


    আমার খুব মায়া হল। খুব। আমি ভাস্কর গাঙ্গুলির জন্য কাঁদলাম। আহা রে বেচারা।


    আমি ভাস্কর গাঙ্গুলির ফ্যান হয়ে গেলাম ধীরে ধীরে।


    সে সময় গোলকিপার ভালো হলে লেভ ইয়াসিনের নামে নামকরণ হতো।


    আমাদের গ্রামের রাম-মামা যখন ছুটে আসা বল লম্বা হাত দিয়ে টেনে নিতেন-- আমার মনে হতো লেভ ইয়াসিন।


    আমার লেভ ইয়াসিন ভাস্কর গাঙ্গুলি পরের বছর ইস্টবেঙ্গলে গেলেন। আমিও ইস্টবেঙ্গল। 


    সেখানে তখন পিন্টু চৌধুরি, গৌতম সরকারের রাজ। তাঁদের অনুরাগী আমি। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের লড়াকু মনোভাব আমাকে টানতো।


    ক্রিকেটে যেমন প্রিয় ছিলেন মহিন্দার অমরনাথ। বাদ পড়েন। আবার দলে ঢোকেন।


    তখন একজন সাংবাদিকের লেখা পড়ি আর কাঁদি। রূপক সাহা।


    অসহায় বঞ্চিত খেলোয়াড়ের কথা লেখেন। আর লিখতেন নির্মলকুমার সাহা। পরে 'আজকাল'-এ সহকর্মী। 


    আরেকটি দল এই সময় খুব প্রিয় ছিল উয়াড়ি। বহু বড় বড় টিমকে নাকাল করে দিত।


    ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলা থাকলে বিপদ। আমি দলপ্রেমী থেকে ক্রীড়াপ্রেমী বনে যেতাম।


    ভালো খেলা চাই।


    দলের চেয়ে খেলা বড়ো। এটা শিখিয়েছে উয়াড়ি।


    বর্ধমানের ঘটি পরিবারের সন্তান হয়েও ইস্টবেঙ্গল।  চারপাশে সব বন্ধু আত্মীয় স্বজন মোহনবাগান। তবু কেন? শুধু ভাস্কর-মায়া?  কিছুটা বাবার প্রভাব কিছুটা সমরেশ চৌধুরী, গৌতম সরকার, ভাস্কর গাঙ্গুলির আকর্ষণে এবং বাবার কথা ছিল, যাঁরা সংখ্যায় কম-- তাঁদের পাশে থাকবি: সবমিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল। । তাঁদের ১০০ বছর। তাঁদের প্রকাশনা কাজের সঙ্গে সামান্য যুক্ত থাকার সুবাদে মঞ্চে ডেকে সম্মান জানালেন।


    মঞ্চে ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। 


    এই করোনা বিষাদ কালে বিরাট পাওয়া।


    আজ বোধহয় ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মদিন।


    ১৩ আগস্ট সে-কারণেও আমার কাছে অন্যরকম।


    ছবি পাবো ভাবিনি । এক সুদর্শন তরুণ পথ আটকালেন।


    কিছু মনে করবেন না, আপনি কি ইমানুল হক?  মুখোশে তো কিছুই চেনা যায় না।


    হ্যাঁ।


    আমি আপনাকে আজ প্রথম দেখলাম, প্রিয়াঙ্কার কাছে এত নাম শুনেছি। নাম শুনে, ওঁকে দেখানোর জন্য ছবি তুললাম। 


    সুদীপবাবু নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের প্রকৌশলী।


    প্রিয়াঙ্কা ১৯৯৯ এর কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজের ছাত্রী। 


    ধন্যবাদ গোয়েঙ্কা কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ সুজিত রায়, ও ইস্টবেঙ্গলের সহ-সভাপতি রূপক সাহা। তাঁদের কারণেই আবার ইস্টবেঙ্গল যোগ। তাও ঐতিহাসিক ১০০ বছরে। এই রূপক সাহা সাংবাদিক নন।  রূপবান পুরুষ।  চমৎকার কথা বলেন। পেশায় স্বর্ণব্যবসায়ী।


    পুনশ্চ:


    আজকাল এইসব কথা বেশি হয় না। কিংফিসারের মালিক দুই ক্লাবে টাকা ঢালার পর আবেগ দেখানো কমে আসে। 


    আমার প্রধান শিক্ষক ভাই মনে করালো, বাবার প্রভাবে তিন ভাই ইস্টবেঙ্গল। বড়দা মোহনবাগান। আরেকজন ক্রীড়াপ্রেমী নুরুল জানাল, সেও আমার বাবার প্রভাবে ইস্টবেঙ্গল হয়েছিল।


    #কাদামাটির_হাফলাইফ


    ১৩.০৮.২০২০

  • ১৬ জুলাই ২০২১ | ১৪৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন