• খেরোর খাতা

  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ৬

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ জুলাই ২০২১ | ১৩৭ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ৬


    ইমানুল হক


     পোষ সংক্রান্তি। আমরা ছোটবেলায় পৌষ নয় পোষ সংক্রান্তি ই শুনে এসেছি মা মাসিদের কাছে। আজ স্মৃতি কণ্ডুয়নের ভাবসকাল।


    ভোর ভোর উঠে মা দিদি এবং বাড়ির সহায়িকাদের মিলে মিশে পিঠে বানানো শুরু।  অবশ্য গোটা শীতকাল জুড়েই সকালে পিঠের রেওয়াজ ছিল বাড়িতে। তবে এদিন একটু বিশেষ আয়োজন। বাঁধাকপি দিয়ে মাংস রান্নার গন্ধ চাগিয়ে দিত আমাকে। বাড়িতে খেজুর রসের অভাব ছিল না। খেজুরের গুড় তখনো কেনা শুরু হয়নি। বাড়িতেই হতো।


    বাবা বলতেন, দূর দূর দোকানের কেনা গুড় মানে ভেলিগুড় মেশানো। ও গোরুতে খায়। মানুষ খাবার অযোগ্য। 


    অযোগ্যতে একটু বেশি জোর।


    অতএব বাড়িতেই রস থেকে গুড়। ভোর চারটেয় উনুন জ্বলতো। নিভতো বেলা দুটো নাগাদ। 


    চা নয়, সকালে চুমুক দিয়ে এক গ্লাস  ধোঁয়া ওঠা


    খেজুর রস। টগর ভাইয়ের পিছু পিছু ঘুরে বেড়াতাম আমি আর আমার সেজভাই। 


    ও তো কলসীতে চুমুক দিয়ে চমকের পক্ষপাতী। বালতি ভর্তি দোয়ানো দুধ মেরে দিত চোঁ চোঁ করে। ( ও না পড়লেই মঙ্গল। এখন আবার প্রধান শিক্ষক) । 


    খেজুর গুড় দিয়ে ধুঁকি আর গোঁজা পিঠে দিয়ে সুরুয়াত। গোঁজা মানে খানিকটা মোমো ধাঁচের। মোমোতে মাংসের পুর থাকে এখানে নারকেলের পুর।


    ধুঁকি চালের গুঁড়ো হালাকা ভিজিয়ে একটা বাটিতে টাইট করে বসিয়ে তলা থেকে জলের ভাপ। খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।


    এই পিঠে মুর্শিদাবাদে বিক্রি হতে দেখেছি।


    ২০১০ এ এক টাকা করে দাম ছিল। খেজুর গুড় দিয়ে বা  ফোটানো রস দিয়ে খেতে হয়।


    পাটিসাপটা শহুরে ব্যাপার। ওসব গ্রামে ছিল না।


    তারপর আঁশকে পিঠের সাথে বাঁধাকপি আর হাড় মেশানো মাংস।


    ইসস।


    আর লিখতে পারছি না।


    এর মাঝে সেদ্ধ হতো ডিম।


    অন্তত 70 টি।


    বড়রা পাবে 6 টি।


    আমরা মেজরা অর্থাৎ 10-12 র দল 4 টি। ছোটরা 2 টি।


    এটিকে ডিম সেদ্ধ বলে অপমান করবেন না।


    এর নাম ছিল আন্ডা ভোগা।


    ডিম সিদ্ধ করে ছাড়িয়ে কাঠি দিয়ে ফুটো করে নুন হলুদ মাখিয়ে হাল্কা ভাজা।


    আহা কী তার সোয়াদ!


    এ পোল্ট্রির ডিমের যুগ নয়।


    সত্তর দশকের মাঝামাঝি। 


    ভাতের সঙ্গে দুপুরে টমেটো/ (বিলিতি বেগুন বলে ডাকা হতো টমেটোকে)   দিয়ে ডাল।  শেষে হাতায় রসুন তেল দিয়ে কড়াৎ করে ফোড়ন।


    স্বাদই আলাদা।


    প্রয়াত অধ্যাপক নেতা হিমাচল চক্রবর্তীর স্ত্রী মীরা মাসিমা বলেছিলেন, এই ডাল খেয়ে এক মুসলমান ছেলের প্রেমে পড়েছিলেন, তার মায়ের হাতের অপূর্ব ডাল খেতে পারবেন বলে!


    ডাল ভাত, নিজেদের খেতের ধনে পাতার চাটনি, আলু মাংসের টুকটুকে ঝোল, বাঁধাকপি মাংস ছিল এদিনের স্পেশ্যাল, শিস পালং, বড়ি মুলো আর শিম দিয়ে। সব্জি ( শুধু বাঁধাকপিও হতো। পাঁচফোড়ন দিয়ে। তবে এটি বন্ধু জগন্নাথদের বাড়ির মতো জম্পেশ হতো না: আমি তো শীত এলেই কল্পনায় পাঁচফোড়ন দিয়ে আলু  বাঁধাকপির গন্ধ খুঁজে বেড়াই, বেনে পাড়ায়, আহা আর মিলবে কি সেই  গন্ধ!); 


    এর সঙ্গে দিনে দুটি আন্ডা ভোগা/ ভাজা সেদ্ধ ডিম।


    তারপর ওড়াউড়ি ঘুড়িদের। আমি তেমন চৌকস ছিলাম না। আমার দাদা আর পরের ভাই জইনুল ছিল ঘুড়ির শাসনকর্তা।


    তাঁদের মাঞ্জা দেওয়ার ধুম ছিল দেখার মতো।


    আমার গম্ভীর পরে মাস্টারমশাই ছোটমামাকেও দেখেছি বামুনপাড়ার মাঠে দেদার ঘুড়ি ওড়াতে।


    তবে একটা দুঃখ যাওয়ার নয়।


    পোষ সংক্রান্তি আর মকরসংক্রান্তির দিন #দীঘলগ্রাম আর বর্ধমান পলেমপুরে মেলা/ জাত বসতো।


    নদীর ধারে বিশাল নাকি সে মেলা/ জাত।


    ছোটবেলায় কোন দিন যাওয়ার অনুমতি মেলে নি।


    যে বাবা আট বছরের ছেলেকে মাঘের শীতে সাইকেল চাপিয়ে১৫ কিলোমিটার দূরে 'মাওসেতুঙ' পালা দেখাতে নিয়ে গেছেন, তাঁর কথা-- জাতে ছেলেমেয়েদের স্বভাব নষ্ট হয়।


    চৌধুরী নানা বলতেন, ভাই সদরঘাটের মেলা মানে ঘুড়ি আর ছুঁড়ি।


    তোমার তো ভাই ছুঁড়ি দেখার বয়স হয় নি।


    পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েরা যখন রাতে গরুর গাড়িতে বাঁশি বাজাতে বাজাতে মেলা/জাত দেখে ফিরতো-- ভাবতাম কবে বড় হবো। একা একাই যাবো মেলা দেখতে।


    বড় হয়ে এগার ক্লাসে পড়তে বর্ধমান এলাম।


    দামোদরের সেই বিশাল চরে ঘুড়ি আর ছুঁড়ির মেলা দেখলাম।


    কিন্তু মনের আয়েশ মিটল না। কী, সে রঙিন কল্পনা! 


    ছোটবেলার আবেগ বড়বেলায় এমন ভোঁতা হয়ে যেতে আছে?


    ১৩ জানুয়ারি ২০১৮


    Emanul Haque ইমানুল হক


    আরও পড়ুন
    বাণী - Mousumi Banerjee

  • ১৪ জুলাই ২০২১ | ১৩৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন