• খেরোর খাতা

  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ৫/১

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ জুলাই ২০২১ | ১৪৮ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ৫/১


    গ্রামের জন বিন্যাস একটু বলা উচিত। তিন খানা গ্রাম পাশাপাশি। সরকারি নাম দুটো। আউশাড়া উদগড়া। একসময় বাবার এক বন্ধু উদগড়া উদয় নামে কোনো রাজার রাজত্ব উদয়গড় বলে তত্ত্ব আমদানি করেন। উদগড়ায় ছয় ঘর ধনী। চারঘর কাজীপাড়া আর শেখপাড়ায়। আর দু ঘর আছে রসপুকুরে। বর্গক্ষত্রিয়। প্রচলিত নাম, বাগদি। বাগদিদের দু ঘর বড়োলোক।  গ্রামে ধনী মানে বিঘে ত্রিশেক জমি আছে, পুকুর আছে, গোয়াল আছে, নিজেদের বৈঠকখানা আছে। কারো কাছে হাত পাততে হয় না। তবে ব্যাঙ্কে সবার ঋণ আছে এবং সমবায় ব্যাঙ্কে। কম আর বেশি। কারো ৫০ বিঘে জমিও ছিল। আউশাড়ায় বড়োলোক আর শিক্ষিত লোকের সংখ্যা তখন বেশি। তবে লাঠির জো্র ছিল উদগড়ায়। বর্গক্ষত্রিয়দের কল্যাণে। আউশাড়ার ছিল কথা আর কলমের জোর। এটা সে-সময়ের কথা। এখন কথা ও কলম সর্বত্র। এবং লাঠি। আউশাড়ায় ৬৫ শতাংশ ছিলেন মুসলিম আর ৩৫ শতাংশ হিন্দু। মুসলিম পরিবার ছিল ৬৫ টি। এবং হিন্দু পরিবার ২৪ টি। এবং চর্মকার সম্প্রদায়ের আট টি। তখন নাম ছিল মুচিপাড়া। বাম আমলে সবাইকে সম্মান দিয়ে চলার রীতি চালু হয়। নাম হয় দাস পাড়া। দাস পাড়া ভোটের সময় আউশাড়া। ওঠাবসা চলায় উদগড়া। উদ্গড়ার লাগোয়া সেটি। দাস পাড়া বিচ্ছিন্ন। একটা ছোট মাঠ পেরিয়ে যেতে হয়।  যেমন আদিবাসী পাড়া বা সাঁওতালপাড়া (বর্তমান নাম খাবড়িগড়, গড় মানে গ্রামে পুকুর বোঝায়)। আউশাড়ার সঙ্গে ওঠাবসা। কিন্তু মৌজা ও ভোটের হিসাবে উদগড়া।  আউশাড়ার চারটি পাড়া। উদগড়া লাগোয়া মাঝের পাড়া। গ্রামে তখন প্রভাবশালী পাড়া। পয়সা ও রাজনীতির দাপটে। বড়োলোক আর মধ্যবিত্তের পাশাপাশি গরিবও থাকেন। গ্রামের একমাত্র দোতলা পাকা চার চার আট কামরার বাড়ি এ-পাড়ায়। গ্রামে বের হ ওয়ার রাস্তা তখন তিনটি। দুটি উত্তরপাড়ায়। একটি মাঝের পাড়ায়। পূর্ব দিকে পলাশন বাজার ও হাট। উত্তর-পূর্বে শ্যামসুন্দর কলেজ। উত্তরে রেল লাইন। দু কিমি হাঁটলে গোপীনাথপুর স্টেশন। বি ডি আর রেল চলতো। মিটার গেজ ট্রেন। পরে বিশদে বলবো। বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেলওয়ে। পূর্বে রায়না থেকে পশ্চিমে বাঁকুড়া। এখন এটি ব্রডগেজ । বিদ্যুৎচালিত। মশাগ্রাম হয়ে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত। উত্তর দিকে ডিভিসি-র ক্যান্যাল। ক্যানাল পেরিয়ে গোপীনাথপুর যেতে হয়। বছরে একবার বাঁশ দিয়ে সেতু তৈরি হতো। এখন বোধ হয় পাকা পুল হয়েছে। ক্যানাল ধরে হেঁটে বা সাইকেলে সেহারাবাজার। উত্তর পশ্চিমে। বড়ো বাজার। ভালো বিদ্যালয়। অঞ্চল পঞ্চায়েত দপ্তর। একটা ব্যাপার ছিল বাম রাজনীতির সময় সেহারা ঘাঁটি। আর কংগ্রেসের সময় শ্যামসুন্দর। নেতারা ওখানেই থাকতেন। গরম কালে মাঠে ধান না থাকলে জমির মাঝ দিয়ে সাইকেল চলার রাস্তা তৈরি করতো গোরুর গাড়ির চাকা চলে চলে। গ্রামে বলতো নিক/ লিক। সেই রাস্তা দিয়ে সাইকেলে রেললাইনে উঠে, মোরামের রাস্তা দিয়ে সাইকেলে যাতায়াত। আর নবম দশম পড়েছি  সেহারা স্কুলে। ওইভাবে। বর্ষায় মূলত ছয় কিমি ছয় কিমি বারো কিমি হেঁটে। পরে গোপীনাথপুর স্টেশনে এক আদিবাসীর বাড়িতে মাসে এক টাকা দিয়ে সাইকেল রাখা হতো। দু কিমি জমির আলপথ দিয়ে হেঁটে গিয়ে পা হাত ধুয়ে জুতো পরে সাইকেল চাপা। প্রথম প্রথম স্টেশনের ওখানেই ফাঁকায় থাকতো। তালা দেওয়া না থাকলেও সাইকেল কোনোদিন কারো চুরি হয়নি। একবার কারো সাইকেলের সিট কভার হারানোয় ফাঁকায় ফেলে রাখা বন্ধ হল।


    ২৫.০১.২০২১


    আরও পড়ুন
    বাণী - Mousumi Banerjee

  • ১৪ জুলাই ২০২১ | ১৪৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন