• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

  • বিজ্ঞান -- অপবিজ্ঞান -- যুক্তিবাদ -- কোভিড১৯ -- টিকাকরণ

    অমিতাভ সেন
    আলোচনা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ২৬ জুন ২০২১ | ৩০৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৬ জন)
  • এই লেখাটা লিখবো লিখবো করেও লিখছিলাম না। এই বয়সে এসে বন্ধু বিচ্ছেদ আর ভালো লাগে না। কিন্তু নীচে যার ছবি, তার স্মৃতি সতত তাড়িয়ে বেড়ায়, লেখার জন্য তাড়া দেয়। তাও হয়তো লিখতাম না। কিন্তু অতি সম্প্রতি একজন "তুখোড় বিজ্ঞানমনস্ক" ডাক্তারবাবুর একটা ব্লগ পড়ার পর আর স্থির থাকা গেলো না। অত্যন্ত সুললিত ভাষায় লেখা প্রবন্ধে তিনি আকার ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে টিকা, মাস্ক, বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের কোন যুক্তি নেই। কিন্তু লেখাটি বেশ কয়েকবার পড়েও ঠিক কী বলতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার হল না। সব কথাই ইঙ্গিতে বলা, সোজা সাপটা কিছু নেই। যদিও তার আগে যখন দ্বিতীয় ঢেউ উঁকিঝুঁকি মারা শুরু করে দিয়েছে তখন তিনি সোজা কথা সোজা করেই বলেছিলেন – টিকাকরণের বিরুদ্ধে।

    প্রদীপ, আমার ভ্রাতৃপ্রতিম এক সহকর্মী। এত বড় মনের মানুষ আমি আমার জীবনে খুব বেশি দেখিনি। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ওকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে। বয়েস ৫০, নীরোগ মানুষ, কোনো নেশা কখনো করেনি, দিনে অন্তত ঘন্টা দুই হাঁটা, যোগব্যায়াম ইত্যাদি শরীরচর্চা করত, খাবার একদম মাপমত - balanced diet। মাস্ক ছাড়া কোথাও বেরোতো না। মার্চের প্রথম থেকে টিকা নেবার সুযোগ ছিলো, নেয় নি। প্রতিদিন, হ্যাঁ প্রতিদিন সকালে অফিসে দেখা হওয়ার সময়, চেষ্টা করেও রাজি করাতে পারি নি। যেদিন রাজি হল, সেদিন আর টিকার যোগান নেই। তার ঠিক তিন দিন পর আক্রান্ত হল। সুদীর্ঘ এক মাসের লড়াই - কোভিড ওয়ার্ড, ICCU, ECMO সাপোর্ট - সমস্ত ঘুরে প্রদীপের যাত্রা শেষ হলো মে মাসের নয় তারিখে। রেখে গেল স্ত্রী দুই ছেলে আর আমার মত প্রচুর গুণমুগ্ধ মানুষ।

    এটা কি অবশ্যম্ভাবী ছিলো? সোজা উত্তর, না, একেবারেই নয়। যদি প্রদীপ টিকাটা নিতো তাহলে আজ ওর আমাদের মধ্যেই থাকার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো ।

    কেনো রাজি হল না প্রদীপ? মার্চের মাঝামাঝি থেকে তো প্রায় প্রতিদিন কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে দুজনে একসঙ্গে তাকিয়ে দেখেছি যে দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। একসঙ্গে পড়েছি টিকার ট্রায়াল ডেটা। তাহলে?

    প্রদীপ যে তার সঙ্গে পড়ত আরো অনেকের লেখা। "বিজ্ঞানমনস্ক" লেখকদের লেখা। যাদের বক্তব্যগুলো মোটামুটি ভাবে ছিলো এরকম

    ১। কোভিড এক সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত
    ২। কোভিডের মৃত্যু হার সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই।
    ৩। যারা কোভিড১৯ ছড়িয়েছে তারাই এখন টিকা বানিয়েছে আর প্রভূত মুনাফা লুটছে।
    ৪। টিকা আসলে টিকা নয় - অন্য কিছু।
    ৫। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক।

    না, প্রদীপ এই তথ্য গুলো আমার সাথে আলোচনা করেনি, কিন্তু প্রভাবিত হয়েছে। কয়েকটা পয়েন্টে বিশেষ করে টীকা নিয়ে মনের মধ্যে অসংখ্য দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ লেখাগুলো তো "বিজ্ঞান মনস্ক" মানুষের, তাদের মধ্যে ডাক্তারবাবুরাও আছেন যে।

    এরকম বেশ কিছু লেখা পড়ার যন্ত্রণা আমাকেও নিতে হয়েছে। অদ্ভূত সেসব যুক্তিবিন্যাস।

    ১। কেউ বললেন, বিল গেটস, এন্থনি ফাউচি ইত্যাদিরা উহানয়ের ল্যাবরেটরিতে এই মারণ ভাইরাস তৈরি করিয়েছেন আর তার সঙ্গে সঙ্গেই প্রস্তুতি নিয়েছেন টিকা তৈরির। এদের টার্গেট নাকি পৃথিবীর জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলা আর সেই করতে করতে প্রচুর মুনাফা করে নেওয়া। আর ভারি মজার কথা প্রত্যেক ধাপেই, সেই ২০০৫ সাল থেকে, এঁরা অনেক প্রমাণ রেখে গিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে সে চক্রান্ত ধরে ফেলতে আমাদের একটুও অসুবিধে না হয়।

    ২। কারও বক্তব্য এটা কোনো মারণ ভাইরাসই নয়। সাধারণ সর্দি জ্বর মাত্র। ফার্মা কোম্পানি কোভিডের ভয় দেখিয়ে টিকা বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা করবে বলেই এই ইনফোডমিক-এর সৃষ্টি। এই ইনফোডেমিকের উদ্দেশ্য সফটওয়ার আর ওষুধ তৈরির বহুজাতিক সংস্থাগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা বৃদ্ধি করা। এরা এতই কৌশলী যে অন্য শিল্প সংস্থাগুলো সব দেখবে শুনবে আর বসে বসে বুড়ো আঙুল চুষবে। তারপর আবার আর এক ষড়যন্ত্র-- সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আসন্ন বিপ্লবকে পিছিয়ে দেবার বা প্রতিহত করার প্রচেষ্টা।

    ৩। এর পর - এত কম সময়ে টিকা তৈরি হতেই পারে না। এটাও একটা চক্রান্ত। আমরা বোকাসোকা সাধারণ মানুষ কিসসু না বুঝে, বুদ্ধুর মত টিকার পিছনে দৌড়াচ্ছি। আমরা নাকি বুঝতেই পারছি না আগামী দিনে আমাদের "নাজানি দেশের অজানি কি" ভয়ঙ্কর সব অসুখ হবে।

    ৪। আর একদলের বক্তব্য -- সব হোক্স হে সব হোক্স। দ্বিতীয় ঢেউ বলে কিছু হয় না। টিকার কোন দরকার নেই। স্বাভাবিক সংক্রমণেই তৈরি হবে হার্ড ইমিউনিটি।



    আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে ১ বা ২ নম্বরের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করা মানে অহেতুক আপনাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া। তাছাড়া ১ ও ২ ভয়ঙ্কর ভাবে পরস্পরবিরোধী দুই থিওরি। এই থিওরিগুলো এতই হাস্যকর তা আমরা সবাই এক বিশাল মূল্য দিয়ে বুঝেছি। অবশ্যই আমি এটা বলছি না যে ভাইরাসটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয় নি। কিন্তু সেটাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভিন্ন দেশে ছড়ান হয়েছে টিকার বাজার তৈরির জন্য -- এই আজগুবি রূপকথা নিয়ে আলোচনা না-ই বা করলাম।

    একটু লিখতেই হবে ৩ ও ৪ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে। পাঠক দুহাতের আঙুলে একবার গুনুন তো - সেইসব প্রিয়জনের সংখ্যা যাঁদের আপনি হারিয়েছেন গত আড়াই মাসে। একহাতে রাখুন সেই সংখ্যা যাঁরা টিকা নিয়েছিলেন, আরেক হাতে যাঁরা টিকা নেননি। আমার কথা যদি জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বলি আমি ১১ জন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছি - যাদের আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি -- বন্ধুর বাবা, সহকর্মীর ভাই -- যাঁদের আমি সরাসরি চিনতাম না তাঁরা এই হিসেবে নেই। ১১ জনের মধ্যে ৯ জন সুযোগ থাকা সত্বেও টিকা নেন নি। ১ জন নিয়েছিলেন কিন্তু এত দেরি করে ফেলেছিলেন, যে প্রথম ডোজ কাজ শুরু করার আগেই আক্রান্ত হন। আর ১ জনের ক্ষেত্রে আমার জানা নেই, টিকা নিয়েছিলেন কিনা। মনে হয় না আপনাদের সংখ্যাগুলো কোনো ব্যতিক্রমী ট্রেন্ড দেখাবে।

    এ তো গেল এখনকার কথা। যখন মাস দুই আগেও এই "বিজ্ঞানমনস্ক" রা টিকার বিরুদ্ধে নিদান দিয়েছিলেন তখন কি তাঁরা একবারও ভেবে দেখেছেন যে বিগত দুই দশকে আধুনিক কম্পিউটারের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। শুধু কত দ্রুত এখন genome sequencing হচ্ছে ৩০ বছর আগের তুলনায় তার একটা তুল্যমূল্য হিসেব করেছিলেন কি? বিশেষ করে যখন তাঁরা প্রশ্ন তুলছিলেন কি করে মাত্র ১ বছরেই টিকা আবিষ্কার হয়? বিজ্ঞানের একটা অন্যতম মহান অবদানকে কি নির্দ্বিধায় ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন, সব দিক যাচাই না করেই। ১৯৪৮ সালের মে মাসে মুম্বাই থেকে লন্ডন যেতে সময় লাগতো ১৫ দিন। জুন মাসে চালু হয় বাণিজ্যিক উড়ান। তাহলে যদি কেউ বলেন তিনি ১৯৪৮-এর জুন মাসে মুম্বাই থেকে লন্ডন গেছেন কয়েক ঘণ্টায় তাহলে কি সেটা মিথ্যে প্রমাণিত হয় শুধু এই কারণে যে তার আগের মাসেই এই সময়টা ছিল ১৫ দিন !!

    ভারত বায়োটেক এর কোভ্যাক্সিন এর Phase 3 ট্রায়াল হবার আগেই তাকে অস্থায়ী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সত্যি। কিন্তু এই "বিজ্ঞানমনস্ক" রা তাদের সুললিত ভাষায় যে বিন্যাস করলেন তাতে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রাখলেন যে কোনো টিকারই Phase 3 ট্রায়াল হয় নি। অক্সফোর্ড, ফাইজার, মডার্না - এদের Phase 3 ট্রায়াল ডেটা কিন্তু অন্তর্জালেই পাওয়া যাচ্ছে আর এই ডেটাগুলো সবই কিন্তু peer reviewed এবং ল্যান্সেট পত্রিকায় প্রকাশিত। বামপন্থীদের বহু পুরনো সমস্যা – জুতোর মাপে পা কাটা, পায়ের মাপে জুতো কেনা নয়। প্রথমে থিওরি তৈরি করো তারপর সেই অনুযায়ী তথ্য দাও বা তথ্যের অভাবে তথ্য উৎপাদন কর। এতো ঝড়ঝাপটার পরেও এই অভ্যেস আজও যায় নি। অবাক হয়ে পড়তে হয়, যে এটাও লেখা হল, টিকাকেন্দ্রগুলিতে টিকার বদলে প্রচুর placebo ইঞ্জেকশান দেওয়া হচ্ছে!

    টিকাবিরোধীদের আর একটা বক্তব্য -- Adverse Event Following Immunization (AAFI)। এর সমস্ত ডেটা - সারা বিশ্বের -- সেটাও কিন্তু অন্তর্জালে আছে। সেই সংখ্যাগুলো যা দেখাচ্ছে AAFI কোটিতে গুটিক -- দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে/ঘটছে – কিন্তু খুব কম সংখ্যায়। BMJ জানাচ্ছে ডেনমার্ক ও নরওয়ে তে প্রতি ১ লাখ লোকের মধ্যে ২ জনের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হয়েছে – ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মে র মধ্যে (২,৮০,০০০ এর মধ্যে ৫৯ জন)। কেউ মারা যাননি। খোদ ইংল্যান্ড-এ ৩০৯ জনের এই সমস্যা হয়েছে যার মধ্যে ৫৬ জন মারা গেছেন – প্রথম ডোজ পেয়ছেন ২,৩০,০০,০০০ জন। সোজা অঙ্কের হিসেবে প্রতি ১০ লাখ টিকা প্রাপকের মধ্যে ১৩ জনের রক্ত জমাট বেঁধেছে। মারা গেছেন প্রতি ১০ লাখে ২.৬ জন। এই হিসেব মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। “বিজ্ঞানমনস্ক” যুক্তিবাদীরা এই নগণ্য সংখ্যাকে তুলনা করলেন কি টিকা না নিয়ে কোভিডের মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে? করলেন না। বেশ করলেন। কিন্তু মানুষকে AAFI এর ভয় যখন দেখালেন তখন এই সংখ্যাটা কি তুলে ধরা উচিত ছিল না? তারপর মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নিতেন – কারন এই ভাইরাস কী করতে পারে তা বোঝার জন্য অন্তত আমাদের দেশের মানুষকে আর কোন জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ পড়তে হবে না।

    আপাতত শেষ পয়েন্ট। এই যুক্তিবাদীদের বক্তব্য টিকা নয়, স্বাভাবিক সংক্রমণের মাধ্যমেই আসবে হার্ড ইমিউনিটি। পুনের একটা তথ্য দেখা যাক। ২০২০ র মার্চ থেকে গত ১লা মে পর্যন্ত পুনেতে প্রতি ১০ লাখ লোকের মধ্যে ৪৫,০০০ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন – মানে এঁদের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ICMR এর সেরো সার্ভে বলে ভারতে ডিটেক্টেড কেস : ইনফেক্টেড কেস :: ১:২০/৩০। যদি কম করে ২০-ই ধরি তাহলে শুরু থেকে ১লা মে অবধি পুনেতে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৯ লাখ সংক্রমিত। তাহলে তারপর সংক্রমণ এভাবে ছড়ায় কী করে? প্রথম ঢেউয়ের পরে দিল্লির সেরো সার্ভে জানিয়েছিল ৫০% এর বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন রাজধানী শহরে। আমরা সবাই দেখেছি দ্বিতীয় ঢেউ দিল্লিতে কী করেছে। স্বাভাবিক সংক্রমণের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটির অর্জনের থিওরি কি কাজে আসছে? আর টিকার প্রভাব? IMA ডেটা দিয়েছে, বাঙ্গুর হাসপাতাল ডেটা দিয়েছে, আরো ডেটা আসছে। সব ডেটা একই জিনিস দেখাচ্ছে। টিকার পর মৃত্যু হবার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

    একদিন আমরা ঠিক জানতে পারবো সারা বিশ্বে এবং আমাদের দেশেও মোটামুটি কতো মানুষকে কোভিড নিয়ে গেলো। এটাও জানা যাবে তার মধ্যে কতজন টিকা নেবার সুযোগ ছিলো কিন্তু নেননি। যেটা কোনোদিনই জানা যাবে না -- এই মানুষগুলির মধ্যে কতজনের টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই যুক্তিবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।

    ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় কুসংস্কার আর অন্ধ বিশ্বাস থেকে বহু যোজন দূরে থেকেছি। কারণ আর কিছুই না এরা অপবিজ্ঞানের প্রচারক বলে। বিজ্ঞান তাকেই বলবো যা তার থিওরি দিয়ে জানা তথ্য গুলিকে ব্যাখ্যা করতে পারে। যখন নতুন তথ্য আসে তখন বিজ্ঞান তার থিওরিটাকেই পাল্টায়, উন্নীত করে। বৈজ্ঞানিক থিওরি একটা সতত পরিবর্তনশীল বস্তু। অপবিজ্ঞান কিন্তু একটা থিওরি দিয়ে দেবে, ব্যস সেটাই শেষ কথা। নতুন তথ্য যা থিওরির সঙ্গে মিলবে না সেই তথ্যটি অস্বীকার করা হবে। ধর্মগ্রন্থে যা লেখা আছে বা ধর্মগুরু যা বলেছেন সেটাই অমোঘ সত্য – অপরিবর্তনীয়। তথ্য যাই বলুক না কেন। যদি তাঁরা বলেন সূর্য পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে, তবে তাই ধ্রুব সত্য। যদি বলেন গোচোনা সেবনে কোভিড মুক্তি বা নামাজ পড়লেই আর ভয় নেই তবে তাই।সব থিওরি সম্পূর্ণভাবে, ১০০% পূর্ব নির্ধারিত বিশ্বাস নির্ভর। কোনও নতুন তথ্য এই বিশ্বাসকে টলাতে পারে না।

    ছোটবেলা থেকেই আস্থা রেখেছিলাম বিজ্ঞানে, সত্যে, যুক্তিতে। ঠিক সেই কারণেই আজ যাদের বিরুদ্ধে কলম ধরতে বাধ্য হলাম, তাঁদের একএকটা রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবেই ধরতাম। তাঁরা যখন কিছু লিখতেন, বলতেন, যাচাই না করেই সেই ফ্যাক্টগুলো মেনে নিতাম, অনেক সময় দ্বিমত হতাম তথ্যের ব্যাখ্যায়, কিন্তু তথ্যে বা basic framework এ নয়। একটা আস্থা ছিলো, বিশ্বাস ছিলো, শ্রদ্ধা ছিলো - তাঁদের সততায়, জ্ঞানে, বুদ্ধিবৃত্তিতে। কিন্তু এখন যখন দেখি এঁদের অনেকেই পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে বাস্তবকে অস্বীকার করে অন্ধ বিশ্বাসের প্রচার করেন তখন মানতেই হলো, কোভিড১৯ অনেক কিছুই কেড়ে নিয়ে গেল তার মধ্যে নিয়ে গেলো এই আস্থাটাও, এতেও কম রিক্ত হলাম না – অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে । এই বয়সে আস্থার জায়গা খুব কম, সেখানেও যখন টান পড়ে, হতাশ লাগাটা বোধহয় অস্বাভাবিক নয়।

    একদিকে নামাজ পড়ে বা গোচোনা খেয়ে কোভিড আটকানোর প্রচার, অন্য দিকে টিকার বিরুদ্ধে সওয়াল। বড় যন্ত্রণার সঙ্গে দেখতে হলো পরম শ্রদ্ধার আসনে রাখা মানুষগুলোও এক অন্ধ বিশ্বাসের জেলখানায় বন্দি -- ঠিক ধর্মীয় মৌলবাদীদের মতোই।

    N.B.:

    ১। ওষুধ কোম্পানিগুলোর ঐতিহাসিক ভাবেই বহু অনৈতিক কার্যকলাপ আছে -- সরকারকে অন্যায় ভাবে প্রভাবিত করা -- অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বেচা -- সস্তার ওষুধের পেটেন্ট কিনে সেটাকে চেপে দেওয়া -- এইসব অভিযোগ পূর্ণ ভাবে স্বীকার্য।

    ২। কোভিডের সুযোগ নিয়ে বহু ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, বহুজাতিক সংস্থা হাজার হাজার কোটি টাকা করে নিয়েছে -- বাস্তব।

    ৩। তবে একথাগুলো সব ধরণের জায়গাতেই খাটে। উচ্চ রক্তচাপ বা মধুমেহ বা কেমোথেরাপি বা ডায়ালিসিস -- সব সব জায়গায়। কাজেই টিকার বিরুদ্ধে বলতে হলে এগুলোর বিরুদ্ধেও বলতে হয়।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৬ জুন ২০২১ | ৩০৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৬ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | 45.119.28.223 | ২৬ জুন ২০২১ ২২:৫৬495328
  • এটা আসলে ডিপ স্টেটের বানানো ভাইরাস। ডিপ স্টেটের নির্দেশে সিআইয়ের চররা এই ভাইরাসটা আমেরিকার থেকে চীনে নিয়ে গেছিল, আর তার পর চীন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছিল (রাশিয়া আর ইরানও সাহায্য করেছে)। বিল গেটস আর ফাউচির সহযোগিতা ছাড়া এতো তাড়াতাড়ি ভাইরাসটা বানানো আর ছড়ানো যেত না। আর তার পর সোরোসের টাকায় ফার্মা কোম্পানিগুলো চটপট রিসার্চ করে ভ্যাক্সিন বানিয়ে ফেলেছে, এখন সেই ভ্যাক্সিন বেচে ফার্মা কোম্পানিগুলো আর মাইক্রোসফট প্রভূত লাভ করছে। অন্য কোম্পানিগুলোও এই সুযোগে মোটা টাকা লাভ করছে, সেই লাভের এক অংশ যাচ্ছে ডিপ স্টেটের কাছে। এই তো হলো ব্যপার। 

  • নাম নেই | 2409:4060:30a:1593:c6c1:3090:bb6:fa38 | ২৬ জুন ২০২১ ২৩:০৪495329
  • বক্তব্য 1 ও 3 ঠিক হতেও পারে। কিন্তু vaccine না নিয়ে উপায় নেই। কম্পিউটার এর virus কে বানায় সেটা আমরা জানি না, কিন্তু anti virus না কিনে কোন উপায় নেই।


    যুক্তিবিন্যাসের 1 এবং 2 . Davos great reset ব্যাপারটি কি বলতে পারেন? ওখানে রাষ্ট্র নায়করা  গোলগোল কথা বলেছেন। সেসব বাদ দিয়ে, আসল এজেন্ডা টা কি ছিল?


    Covid এর দায় পুরোপুরি সাধারণ গরীব নিম্ন মধ্যবিত্ত এর উপর চাপিয়ে দেওয়া হলো, lockdown করে। ধনী ব্যক্তি রা plane এ চড়ে ভাইরাস নিয়ে এলেন, বিমানবন্দরে isolation টুকুও হলো না। কেন ? 

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ২৭ জুন ২০২১ ০৬:৪২495339
  • অত্যন্ত যথাযথ লেখা, আশা করি অনেকে পড়বেন।

  • Ramit Chatterjee | ২৭ জুন ২০২১ ১০:৩৭495342
  • জরুরি লেখা 

  • বিষাণ বসু | 2405:201:8008:c955:5060:1f8a:ea65:4c01 | ২৮ জুন ২০২১ ০৮:২৩495383
  • খুব খুউব গুরুত্বপূর্ণ লেখা। লেখা হিসেবেও বড্ডো ভালো।


    টিকা-বিরোধীদের ছদ্মবিজ্ঞান নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছিলাম। এতখানি গুছিয়ে লিখতে পারিনি অবশ্য।


    https://www.4numberplatform.com/?p=25594

  • জয়ন্ত ভট্টাচার্য | 117.201.124.250 | ২৮ জুন ২০২১ ০৯:৫৩495387
  • সুন্দর লেখ। কার্যকর। যৌক্তিক, সায়েন্টিফিক এবং প্রাঞ্জল।


    অ্যান্টিভ্যাক্সারদের বক্তব্য অর্ধসত্য, মিথ্যে এবং সজ্ঞানে ভুল বোঝার অনবদ্য ককটেল। 


    তবে ক্ষতি হচ্ছে। এপিডিআরের সুদীপ্ত কি অসহায়ভাবে মারা গেল এই চিন্তার গুণাগার দিতে গিয়।। 

  • Indra Mukherjee | ২৮ জুন ২০২১ ১৩:২২495392
  • বিজ্ঞান অপবিজ্ঞান...... অমিতাভ সেন   ধন্যবাদ  জানবেন ।লেখাটির জন্য । গুরুচণ্ডালিকেও অনেক শুভেচ্ছা ।

  • সৌরেন্দু ঘোষ | 103.242.189.240 | ২৮ জুন ২০২১ ১৮:৫৮495395
  • গুছিয়ে লেখা, প্রভাবশালী, কর্পোরেট ধাঁচে, কিন্তু এই কোরোনা কালে আমি যথেষ্ট সজাগ ও সচেতন ভাবে দেখলাম একজন পাগল, ভাবঘুরে, স্কাভেন্জার, রাস্তার কুকুরের রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যু দূরের কথা একটু রোগা প্রজন্ত হলো না। ওদের মনে হয়ে ফার্মা কোম্পানিগুলো প্রায়োরিটি বাসিস ভ্যাকসিন দিয়ে ছিলো।

  • ভাস্বতী লাহিড়ী | 2409:4060:e8a:fb0f::7c9:930b | ২৮ জুন ২০২১ ২০:০৯495399
  • ওপরের লেখাটা সর্বৈব সত্য। আজও আমার চারপাশে মাস্ক থুতনিতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখি প্রচুর ছেলে মেয়েকে।কখনো ডেকে বলি আমার নিজের দেখা একটু তুলে দিয়েই আমি মুখ ঘুরালেই নামিয়ে দেয়, এরা বোঝালেও  বোঝেনা।সবচেয়ে বড়ো কথা এরা কিন্তু অশিক্ষিত নয়।

  • পার্থপ্রতিম গুপ্ত | 2401:4900:104f:d4a9:0:45:af5:4001 | ২৮ জুন ২০২১ ২০:৫১495400
  • সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি,ধন‍্যবাদ।

  • সুকান্ত | 2409:4061:41b:b14d::254c:90a1 | ২৮ জুন ২০২১ ২১:২১495402
  • পূর্ণ সমর্থন জানিয়েও বলছি 'বামপন্থী' শব্দটা ব্যবহার করে আবার চুলকোতে গেলেন কেন? 

  • Dasyu | 45.250.246.207 | ২৮ জুন ২০২১ ২২:০৭495403
  • একটি প্রশ্ন আছে। বস্তুত আমার এক কনস্পিরেসি থিওরি প্রেমিক বন্ধু আমাকেএই প্রশ্নটি করে যেটার কোন উত্তর আমিদিতে পারিনি ভারতের বা অন্যান্য দেশের death rate (per thousand) সম্পর্কে আমার কোন স্ট্যাটিস্ক্যাল নলেজ  নাথাকার কারণে।  বন্ধুবরের বক্তব্য হল ভারতে বা অন্যন্য দেশগুলিতেডেথ রেট (প্রতি হাজারসিগ্নিফিক্যান্টলি বাড়েনি কোভিড প্যান্ডেমিকশুরু হওয়ার পরেও। যেমন ২০২০ তে ভারতেডেথ রেট (প্রতি হাজার ) ছিল 7.3  2019, 2018, 2017 তেভারতের  ডেথ রেট ছিল যথাক্রমে  7.3, 7.2 এবং 7.2। এত মৃত্যু  হওয়া  সত্ত্বেও এটা কিভাবে সম্ভবআমার মনেহয় যে প্রিকশনয়ারি মেজার (লক ডাউনস্যানিটাইজার আরমাস্কের  ব্যবহারভ্যাক্সিনেশন নেওয়ার ফলে মৃত্যুরসংখ্যা কমান  সম্ভব হয়েছে এবংযে মৃত্যুগুলি আটকান যায়নি সেগুলো টোট্যাল পপুলেশনের তুলনায় এত কম যে ওভারঅল ডেথ রেট - সেটাকোন সিগ্নিফিক্যান্ট ছা ফেলছেনা। অন্য কোন উত্তর হতে পারে কি

  • arun chakrabarti | ২৯ জুন ২০২১ ০২:০১495414
  • @সৌরেন্দু ঘোষ


    আপনার অবগতির জন্য জানাই, পাগল,ভবঘুরে


    ইত্যাদির কাছাকাছি তো দূরের কথা ত্রিসীমানায়ও


    কোন মানুষ আসে না৷ তাই এক্ষেত্রে Social Distancing


    অনিচ্ছা সত্বেও খুব ভালোভাবে মানা হতে থাকে৷


    তাই সংক্রমণও হয় না৷


    আর কুকুরদের আবার এখানে টানাটানি কেন?


    ওদের Corona হয় না—সেটা ওদের শারীরবৃত্তীয়


    কারণে—এতো সবাই জানে!!


    ওরা Covid19 virus carrier হতে পারে হয়তো


    (সেটা এখনো একশোভাগ প্রমাণিত হয় নি৷)


    কিন্তু Coronaয় ভোগা? নৈব নৈব চঃ


     যাকগে সেকথা৷ আর সবার না হলেই হলো তো?

  • avi | 2409:4061:38b:32f2:9289:86f7:a38c:e8ae | ২৯ জুন ২০২১ ১১:৩৩495421
  • আমাদের মেডিক্যাল কলেজের সাইকিয়াট্রি ইনডোরে এপ্রিল মে মাসে এগারোজন কোভিড আক্রান্ত হন, দুজনের মৃত্যু হয়।


    প্রসঙ্গত, ২০১৭ থেকে আমাদের ওয়ার্ডে এ ছাড়া ডেথ রিপোর্টেড নেই। 

  • অমিতাভ সেন | 2409:4060:9f:8116::147c:b0b0 | ২৯ জুন ২০২১ ১৬:৫৯495433
  • @Dasyu এটা একদম ঠিক যে ভারতবর্ষে প্রতি হাজারে সাত জনের কিছু বেশি মানুষ প্রতি বছর মারা যান। কোভিডের কারণে কতজন মারা গেলেন তার হিসেব করে অতিমারী চলার সময় এক সুকঠিন কাজ, প্রায় অস্বম্ভব। তবে হিসেব করার একটা রাস্তা আছে, উন্নত দেশগুলোতেও একই রাস্তায় মৃত্যু সংখ্যা গোনে, অতিমারী শেষ হবার পর। 


    এই পদ্ধতিতে প্রথমে দেখতে হবে অন্যান্য বছরের হিসেব অনুযায়ী ২০২০ বা ২০২১  এ কত মানুষ মারা যাবার কথা। এবার দেখতে এই দুই বছরে কতজন মারা গেলেন।  অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হয় সরাসরি কোভিড অথবা অন্য কোনো অসুখ কিন্তু কোভিডের জন্য সেই অসুখের চিকিৎসা স্বম্ভব হয় নি।


    The Hindu গত ১৫ দিনে বেশ কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে এই হিসেব টা করেছে। এই দুই বছরের অতিরিক্ত মৃত্যু কে কোভিডের official death toll দিয়ে ভাগ করলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে The Hindu বলেছে under counting factor (UCF). 


    এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসে এই UCF ছিলো: মধ্যপ্রদেশ ৪২, অন্ধ্রপ্রদেশ ৩৪, তামিলনাড়ু ৬.২, কর্ণাটক 5 ও কেরালা ১.৬। অন্যান্য রাজ্যের হিসেব বাকি। 


    কাজেই কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যার একটা আন্দাজ এই হিসেব থেকে বোঝা স্বম্ভব।

  • অমিতাভ সেন | 2409:4060:9f:8116::147c:b0b0 | ২৯ জুন ২০২১ ১৭:০৬495434
  • @বিষাণ বসু আমি আপনার লেখা অনেক আগেই পড়েছিলাম। কিন্তু আমার নিজের অজ্ঞানতার জন্য চেষ্টা করেও কমেন্ট পোস্ট করতে পারিনি। আপনার লেখাটা আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছিল, খুব সহজ কথায় কঠিন জিনিষ বুঝিয়েছেন। আপনার লেখাটা আমাকে লেখার প্রেরণা দিয়েছে। আরও লেখা পড়ার প্রতীক্ষায় রইলাম।

  • প্রদীপ রায় | 115.187.53.58 | ২৯ জুন ২০২১ ১৯:৪৭495439
  • টিকা নিয়ে চমৎকার স্বচ্ছ লেখা। অপবিজ্ঞানের চেয়ে ছদ্মবিজ্ঞান কম ক্ষতিকারক নয়। ক্ষতিটা বরং বেশি। কারণ দুটিই বিজ্ঞানবিরোধী, কিন্তু অপবিজ্ঞানকে সহজে চেনা যায়, ছদ্মবিজ্ঞানকে চেনা যায় না। টিকার বিষয়ে ছদ্মবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যাঁরা প্রচার করছেন তাঁরা অনেকে আবার নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত। প্র

  • বিভাস ঘোষ | 103.89.169.74 | ২৯ জুন ২০২১ ২৩:০৫495458
  • @সৌরেন্দু ঘোষ 


      ভবঘুরে পাগলদের জন্ম মৃত্যুর হিসেব রাখা হয় কি? আপনি রাখেন কি ? সেই জন্য তথ্যহীন থিয়োরী নামিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না ।

  • অভিজিৎ ম | 103.21.127.60 | ৩০ জুন ২০২১ ০৪:৪৯495460
  • @দস্যু 


    আপনার বন্ধুবরকে তথ্যসূত্র দিতে বলুন। ভারতের ২০২০-র ডেথ ডেটা এখনো নেই। লোকজন যে ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য দিচ্ছে,সেখানে স্পষ্ট দুটো কথা বলা আছে: 


    ১। ২০২০-র ডেথ নাম্বারটা প্রেডিকশন  ডেটা নয়। 


    ২। এই প্রেডিকশনে প্যান্ডেমিকের এফেক্ট ধরা হয় নি। 


    অর্থাৎ ২০২০-র ডেথ সিম্পলি আগের বছরগুলির ডেথ রেট ধরে পাওয়া ট্রেন্ড থেকে এক্স্ট্রাপোলেট করে দেওয়া হয়েছে। আর আপনার বন্ধুবরের মত কিছু অতি চালাক মানুষ সেইটা দেখিয়ে বলছেন, "কই  ট্রেন্ড তো কিছু পাল্টায় নি।" 

  • Dola Sen | ৩০ জুন ২০২১ ১০:৩৫495463
  • খুব প্রয়োজনীয় এবং বাস্তবসম্মত। টিকা না নেবার জন্য কিছু আত্মজন ছেড়ে চলে গেলেন। অসহায় ভাবে দেখলাম। টিকা নিয়ে দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় ফাটকাবাজিও দেখলাম। সারা বিশ্বব্যাপী ছিছিক্কারও দেখছি। তবু তার প্রতিকার টিকা না নেওয়া নয়।

  • Mitra Choudhuri | 223.223.138.243 | ৩০ জুন ২০২১ ১২:৩৮495470
  • Khub juktipurno lekha...valo laglo

  • Somenath Guha | ৩০ জুন ২০২১ ১৩:৩৮495476
  • চক্রান্ত থিওরির সুবিধা হলো, আমার দায়িত্ব খালাস। ষড়যন্ত্রে আমাদের কার কী বা করার আছে, আদর ব্যাপারী আর কি! আচ্চা কোভিসিলদের থার্ড ট্রায়াল কি হয়েছে? না কি এটা অক্সফোর্ড এর যেটা বলছেন ল্যান্সটে চাপা হয়েছে।

  • ঋদ্ধিমান বসু | 42.110.148.167 | ৩০ জুন ২০২১ ১৫:৪২495480
  • কোন প্রশ্ন না করে সবকিছু ঠিক আছে বলে মেনে নেওয়া টা বিজ্ঞান নই, একটা ধর্ম, যেটাকে Scientism বলা হয়। আর ভ্যাক্সিন মারা যাবে না, সেই কথাটাই পুরো ভুল। ডক্টর অমিতাভ নন্দীর বক্তব্য শুনুন, তাহলেই সবটা পরিস্কার হয়ে যাবে। উনি কিন্তু প্রশ্ন করতে বলছেন। ব্রেনওয়াশড এর মতো সব কিছু মেনে নিতে বারন করছেন। ভ্যাক্সিন এর এফিকেসির যে জালিয়াতিটা সেটা সুন্দর বুঝিয়েছেন।


    https://fb.watch/6r_Rzgkvxe/

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ৩০ জুন ২০২১ ২১:৩৯495488
  • যদুবাবু, ভ্যাক্সিন এফিকেসির সো-কলড জালিয়াতি ইত্যাদি হাবিজাবি বক্তব্য কাউন্টার করে একটা লেখা লেখ না। এই লিংকটা থাকুক https://www.bbc.co.uk/programmes/w3ct2gh3

  • সৈকত | 103.75.163.62 | ০১ জুলাই ২০২১ ০৮:২৫495502
  • একটা ছোট্ট তথ্য যোগ করছি। আমি বিগত ১০ বছরের বেশী ফার্মাকোভিজিল্যান্স এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চ এর সাথে যুক্ত। ভ্যাকসিন বানিয়ে যে ফার্মা কোম্পানি গুলো মুনাফা করবে এটা ঠিক যুক্তি না। কারণ অন্য রোগের ওষুধ নিয়ে গবেষণা এই সময়ে ব্যাহত হচ্ছে যেটা মোটেও লাভজনক না দীর্ঘ সময়ের কথা চিন্তা করলে। 

  • চঞ্চল নন্দী | 103.87.143.130 | ০১ জুলাই ২০২১ ১৭:২৮495511
  • আমি একজন প্রবাসী বাঙালি। লেখাটি নিয়ে বেশ কয়েকজন আবাঙালি অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বললাম। লেখাটির বিষয়বস্তু তাঁদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁদেরও পরিচিত অনেকে করোনা ভ্যাকসিন বিরোধী প্রচারে প্রভাবিত হয়ে সুযোগ থাকা সত্বেও ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না। সেকারণেই তাঁরা এই মর্মস্পর্শী লেখাটি ইংরেজি অনুবাদে পড়তে এবং অনলাইনে যথাসম্ভব প্রচার করতে চাইছেন।


    লেখক অমিতাভ সেনকে অনুরোধ,অনুগ্রহ করে লেখাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে, সেটা কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে, অনুদিত লেখাটির লিঙ্ক গুরুচন্ডালীতে সত্ত্বর দিন।


    ধন্যবাদ সহ


    চঞ্চল নন্দী

     
  • Ramit Chatterjee | ০১ জুলাই ২০২১ ২২:৩৭495515
  • আজ abp আনন্দে ডাক্তার অমিতাভ নন্দী বললেন ভ্যাকসিন নিয়ে নাকি কোনো উপকারই নেই, এটা যে করোনা কে আটকায় তার কোনো প্রমান নেই। মৃত্যু তো দূর, সংক্রমন রো খা তো   দূর   এমনকি রোগ সিভিয়ার হওয়া    থেকেও আটকাতে পারেে না এই ভা কসিন। 


    এরম ভাবে পাবলিক ফোরামে গণ মাধ্যমে এই কথার তো প্রচন্ড বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। 


    আপনা দের কি অভিমত ? 


    ওনার কথার সারবত্তা কতটা ?

  • Ramit Chatterjee | ০১ জুলাই ২০২১ ২২:৪৪495516
  • দুঃখিত এটা আজকের নয়, পরশুর অনুষ্ঠান। আজ রি টেলিকাস্ট হচ্ছিল।


    লিংক রইল।



    ওনার বক্তব্য 1 ঘন্টা 3 মিনিট মার্কে পাবেন। 5 মিনিট মতো বক্তব্য রেখেছেন।

  • Atish Sarkar | ০২ জুলাই ২০২১ ০১:০৪495524
  • অসাধারণ লেখা। "গুরুচন্ডা৯" কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন