• বুলবুলভাজা  আলোচনা  কৃষি  বুলবুলভাজা

  • কৃষি ও পরিবেশ: বিজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথন

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
    আলোচনা | কৃষি | ২২ মার্চ ২০২১ | ৫৯৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কৃষক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ভাষায় কৃষি বিষয়ে দীর্ঘদিনের চর্চাহীনতা, কিছুটা হলেও কমতে শুরু করছে। বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত ধারাবাহিক কাজ করছেন, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে বাধ্য। এই চিত্তাকর্ষক কথোপকথনটি চিন্তার বেশ কিছু দুয়ার উন্মুক্ত করে দিতে পারে বলেই আামাদের বিশ্বাস। গুরুচণ্ডা৯ বোধিসত্ত্বের কাছে কৃতজ্ঞ, কাজের জন্য এবং সেসব কাজ প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯-কে বেছে নেবার জন্যও।
    শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন বাসিন্দা ও ছাত্র হিসেবে, বিজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ঠিক কবে আলাপ হয়েছিল মনে পড়ে না। অসম্ভব রসবোধ সম্পন্ন, দর্শনের প্রাক্তন অধ্যাপক এই ভদ্রলোক অবসর গ্রহণের পর আপাতত জমি কিনে চাষ করছেন। সহজ করে কথা বলেন বটে, কিন্তু পেছনের অভিজ্ঞতা, পড়াশুনো, যুক্তিবোধ এবং সবচেয়ে বড় কথা মানুষের জন্য দরদ, পরিবেশের জন্য গভীর চিন্তাটা স্পষ্ট। সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে দার্শনিক অবস্থানে পৌঁছনোর ক্ষমতা, এবং বার বার নিজেকে পরীক্ষায় ফেলার মত একটা চলমান দার্শনিক খোঁজ প্রতিটি কথাতেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে। মাঠে, খামারে যে ভাবে নিজের হাতে কাজ করেন, শুধু শিক্ষণীয় বললে কিছুই বলা হয় না। শ্রীনিকেতনের কাছে বিনুরিয়া ইসলামপুর অঞ্চলে তাঁর খামার বাড়ি। প্রায় ১৪ বিঘে জমিতে চাষ করছেন, ধান, সরষে, ভুট্টা, একটা বড় অংশ জৈব পদ্ধতিতেই চাষ করেন, হাতের তালুর মত চেনেন অঞ্চলটা। বোলপুরের উত্তর পূর্বে আদিত্যপুর অঞ্চলের আদি বাসিন্দা আমার অধ্যাপকসম এই ভদ্রলোকের সঙ্গে বহুদিন পরে বস্তুত আড্ডাই হয়েছে, গত ৩১ জানুয়ারি তারিখে, একে সাক্ষাৎকার বলে অকারণ গৌরব দাবি করব না।

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত: বিজয়দা, ফোর্থ পিলার ওয়েবসাইটে আপনার লেখাটা[1] খুব ভালো লেগেছিল। সেই প্রসঙ্গেই আপনাকে ফোন করেছিলাম এবং আপনার কাছে আসা। আমি জানতাম, যে আপনি দার্শনিক অধ্যাপক, আমি জানতাম যে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন, এক সঙ্গে কাজ করেন, আমি জানতাম যে যখন বাড়ি বানিয়েছিলেন, খানিকট জমি নিয়ে বড় বাগান করেছিলেন এবং খানিকটা চাষের মত করে বাগান করেছিলেন। আমি দুটো জিনিস জানতাম না, আপনার অবসর গ্রহণ হয়ে গেছে, আর অবসর গ্রহণের পরে শুধু মাত্র পরিবেশবাদী নিরীক্ষার জন্যই আপনি একটা খামার গড়ে তুলেছেন। তো এটা কী ভাবে মাথায় এলো, কী ভেবে শুরু করলেন?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: কেমন আছিস, ভালো লাগছে তুই এসেছিস বলে। বলতে পারিস অবসর গ্রহণের সময় যে কিছু টাকা পেলাম, সেটা এই নিরীক্ষার কাজে লাগালাম। যে প্রশ্ন টা করলি, কী ভাবে মাথায় এলো, আমরা একটু গোড়া থেকে শুরু করি। ধর এই যে প্রস্তাবটা, "প্রচুর ফলন করতে হবে, ফলন না করলে মানুষ অভুক্ত থাকবে, এবং অভুক্ত রাখাটা পাপ" এটা দিয়ে শুরু করছেন, স্বামীনাথন সহ মূল ধারার কৃষি বিজ্ঞানীরা। তো এটা মেনে নিতে অসুবিধে নেই, মানুষকে অভুক্ত রাখাটা একটা রাষ্ট্রের পক্ষে কোন কাজের কথা না, কিন্তু যে পদ্ধতি তাঁরা বেছে নিচ্ছেন, সেটা সম্পর্কে যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করা হয়েছে কি?

    বোধিসত্ত্ব: একটু থামাচ্ছি, আমাকে বলুন, অনেকে বলেন, স্বাধীনতার পরে খাদ্যাভাব এমন কিছু ছিল না, যে ১৯৬৫ তে সবুজ বিপ্লবের সুচনা করতেই হত। পরিবেশের বিষয়ে প্রচুর মূল্য দিয়ে। আমি আপনার কাছে জানতে চাইছি, খাদ্যাভাবের যে অভিজ্ঞতা, আমাদের অনেকের পারিবারিক স্মৃতিতেই রয়েছে, খুব সচ্ছলতা না থাকলেও, আবার সাংঘাতিক দারিদ্র না থাকা সত্ত্বেও রয়েছে, সেটা আমি যতদূর বুঝি, মানে আপনি আমার বাবার প্রিয় বয়ঃকনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলেই বলছি, আমার বাবার প্রজন্মের অনেক কেই একাধারে অধিক ফলনশীল খাদ্য শস্যের বিষয়কে কেন্দ্র করে একদিকে কৃষিবিজ্ঞানে এবং অন্য দিকে বামপন্থায় আকৃষ্ট করেছিল। বাবা ব্যক্তিগত ভাবে ৬-এর দশকের গোড়াতেই পড়া শেষ করে গবেষণা শুরু করেছেন, অধ্যাপনা শুরু করে দিয়েছেন, ছয়ের দশকের মাঝাম্মাঝি। তো একেবারেই খাদ্যাভাব ছিলনা স্বাধীনতার পরে, এটা কি আপনার স্মৃতির সঙ্গে মেলে? এবং আরেকটা কথাও হল, আমরা বরাবর শুনে এসেছি ৯-এর দশক পর্যন্ত প্রায় ভীষণ সমাজবাদী অর্থনীতি চলছিল, ৯-এর দশকে এসে মুক্তি এলো। কৃষির ক্ষেত্রে, উৎপাদনে, বিপণনে কিন্তু এরকম কিছু প্রথম থেকেই আদৌ ছিল কিনা সন্দেহ আছে। আপনার কী মত?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: হ্যাঁ সত্যিই তাই। এবং ছয়ের দশকের মাঝে খাদ্যাভাব ছিল না, এই দাবি আমি করব না। ৬৫ তে কলকাতায় খাদ্যশস্যের অভাব ছিল। বাঙালি যখন রুটি খেতে শিখলো। আমার যতদূর মনে পড়ছে, গমের মিনিকিটটা এসেছিলো ৬৮ বা ৬৯ নাগাদ। তখন শ্রীনিকেতনে কৃষিবিজ্ঞান কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন, অধ্যাপক সলিল মজুমদার মশাই। আমি তখন পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র, আমি ওঁর সাহায্যে গমের বীজ নিলাম, এবং বাড়িতে দাদুকে বললাম, গম লাগাতে পারো। অর্থাৎ তখন এই কৃষিকে কেন্দ্র করে আধুনিকীকরণের একটা ধারায় আমারও আশ্বাস জন্মেছিল। এই দায় আমি অস্বীকার করছি না। দাদুর প্রশ্নটা আমার মনে আছে, গম করে কী হবে, আটার রুটি তো জ্বর হলে খায়, বছরে কদিন আর জ্বর হয়। অবশ্য গম হয়েছিল, তখন ইউরিয়া ছিল না, আমরা অ্যামোনিয়া সালফেট দেওয়া হয়েছিল, ভালো গম হয়েছিল, কোপাই নদীর ধারে আমাদের জমিতে। তখন গ্যামাক্সিন স্প্রে করা হত। গমের প্রচলন তার আগে বীরভূমে দেখিনি। তার আগে যব লাগানো হত, আমরা মুড়ি, যবের ছাতু, গুড় এসব খেতাম গরম কালে।

    ছয়ের দশকের শেষ দিক, আমাদের এদিকে ধানে হাই ইল্ড ভ্যারাইটি ও ওরকম সময়েই শুরু। নানা ধরনের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের ভাবনা চিন্তার সীমাবদ্ধতা, খাদ্যাভাবের অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি মিলে হাই ইল্ড ভ্যারাইটি, ফার্টিলাইজার, ইনসেকটিসাইড ইত্যাদির চক্র শুরু হল। আরেকটা জিনিস হয়েছিল, ফলনের পরে শীষের ভারে ধান হেলে যেত, সেটাকে আটকানোর জন্য থাইল্যান্ড বা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে কিছু কম উচ্চতার জাত আনা হয়েছিল, কিন্তু সেটা একেবারেই খাটেনি এখানে। যাই হোক ঐ স্বামীনাথনদের মেকসিকো থেকে আনা ধানের জাতের পরে, আরো নানা ভারতীয় গবেষণা কেন্দ্রে নানা বীজ তৈরি শুরু হল, সরকারি উদ্যোগে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কাজ শুরু হল, কিছুটা উৎপাদন বাড়লো এবং দেশি ধানের চাষ কমতে আরম্ভ করল। আটের দশকের গোড়ায় এসে একেবারেই হারিয়ে গেল অনেক দেশি ধানের জাত। এখন ঠিক মনে পড়ছে না, কয়েকটা জাত এসেছিল ১৪৪৪ বা ১৪৬০, সেগুলোতে পোকা একটু কম লাগতো, আর কয়েকটা জাত ছিল সেটাতে এই হেলে যাওয়ার প্রবণতা একটু কম ছিল। তো জনপ্রিয়তার কারণ যে ছিল না তা না, কিন্তু তার তো অন্য বিপদ ছিল।

    বোধিসত্ত্ব: বিজয়দা আপনার সঙ্গে গল্প করতে বসলে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ পুরো এড়ানো কঠিন। আমি বাবার লেখাপত্র, বাবা এই একেবারেই অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম, এবং সত্যি কথা বলতে কি বোঝার চেষ্টা করছিলাম, বাবাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে, যে কৃষি বিজ্ঞানী দের মধ্যে কবে থেকে হাই ইল্ড ভ্যারাইটির নানা পরিবেশ সংক্রান্ত বিপদ সম্পর্কে ধারণা জন্মালো, আমার ধারণা ওঁরা হয়তো ৭-এর দশকের সময় থেকেই বুঝতে আরম্ভ করছিলেন, কিন্তু ভূপালের দুর্ঘটনার পরে, কীটনাশকের কারখানায় ১৯৮৪ র ডিসেম্বরে, পরিবেশ সচেতনতার গুরুত্বটা এঁরা বুঝতে শুরু করেন। আপনার কি মনে হয়, এটা সাধারণ ভাবে মোটামুটি সঠিক পর্যবেক্ষণ?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: মোটামুটি ঠিকই বলেছিস। যাঁদের সচেতন হবার ছিল, তাঁরা এই ঘটনার পরে আর সংশয়ে হয়তো ছিলেন না, তবে আমার মনে হয়, উচ্চফলনশীল শস্যের আর্থিক লাভের হাতছানি, তার সঙ্গে ক্রমাগত সার আর কীটনাশক ব্যবহার, জৈব বৈচিত্র্যের, ফসলের বৈচিত্র্যের ক্ষতি, এগুলো কৃষি বিজ্ঞানীরা হয়তো আরেকটু আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন, কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন দূরদৃষ্টিহীন সরকারি নীতির মোকাবিলা করার জায়গায় ছিলেন না।

    বোধিসত্ত্ব: পরিবেশ আন্দোলনে কবে থেকে আপনার সিরিয়াস আগ্রহ হল?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: দ্যাখ আমি কৃষির সঙ্গে জড়িত পরিবারের ছেলে। আমি ছয়ের দশকের শেষে খড়গপুরে আই আই টি তে পড়তে গেছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখলাম, সকলেই আমেরিকা যেতে চায়, হয়তো গবেষণা করতেই চায়, তো তাতে আমার আগ্রহ ছিল না, আমার ইচ্ছে করত না, আমি জানতাম আমি দেশেই থাকবো। তো আমি এখানে চলে এসে পদার্থবিজ্ঞানে ভরতি হলাম। আশীষ ঘোষ, তোর বাবা, সমর বাগচিদের সঙ্গে যখন আলাপ হল আস্তে আস্তে, তখন কৃষি বিষয়ে পরিবেশ সচেতনতা আসতে আরম্ভ করেছিল। চাষের রেজিম তো ধর দুটো। একটা সবুজ বিপ্লবের পদ্ধতি, আরেকটা দেশিয় ঐতিহ্যের পদ্ধতি, তো আমার বার বার মনে হত, দ্বিতীয়টাতে ডেটা কোথায়। ধর কত বিঘে কোন ধানের জৈব চাষে মাঠে কই, মাগুর মাছটা চুনো মাছ কতটা পাব, তাই দিয়ে আমার পুষ্টির প্রয়োজন কতটা মিটবে, সেটা দিয়ে আমার উচ্চফলনশীল বীজের সার কীটনাশক, প্রচুর জল সহ বোরো চাষ না করার ক্ষতি কিছুটা মিটবে কিনা, এরকম বিকল্প অনুসন্ধানের, বলার মত ডেটা আমার কাছে নেই। কোথাও পাই না। বিকল্প প্রস্তাব যে প্রতিবেশী চাষিকে দেব, তো ডেটা তো নাই। তো সেই রকম কিছু করার ইচ্ছে ছিল। ভাসামানিক, গন্ধেশ্বরী ধান লাগালে কী হবে, এই ডেটা আমায় কেউ দিতে পারে নি, চর্চা থেকেই চলে গেছে, এ কি মানা যায় বল। তো সচেতন ভাবে কর্তব্য ঠিক করতে আমার সময় লেগেছে।

    আরেকটা গল্প বলি। তোর তো দেখছি আমার ব্যক্তিগত চিন্তার গতি নিয়ে একটু আগ্রহ হয়েছে। দ্যাখ শেখা জিনিসটা বন্ধ করলে তো চলবে না। আমি সব সময়ে সেটা চেষ্টা করি। অমর্ত্য সেন অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিখ্যাত ঠিকই, কিন্তু তাঁর দর্শনের কাজ নিয়ে পড়াশুনো করতে গিয়ে একটা কথা আমি বুঝতে পারছিলাম। এথিক্স যদি করতে হয়, বিশেষ করে মানুষের কাজে লাগার মত এথিক্স তাহলে আমায় ইউটিলিটেরিয়ানিজম একটু করতে হবে, এবং সেটাতে কনসিকোয়েন্স সম্পর্কে সচেতন থেকে করতে হবে। নইলে চলবে না। যারা বলছে, আহা অমুক লোক খেতে পাচ্ছে না, তারা কিন্তু তাদের বলা কৃষি পদ্ধতিতে কাজ করে পুরো যে প্রভাবটা হচ্ছে, পরিবেশে, স্বাস্থ্যে সেটা তারা দেখাচ্ছে না।

    মূলত এই ডেটা তৈরির উদ্দেশ্যেই আমি ঠিক করি, স্বর্ণ ধান লাগাবো, কিন্তু পাশে একটু গন্ধেশ্বরী লাগাবো, শুধুই ধান করব না, জল যাতে কম লাগে সেরকম শস্য, সর্ষে করব, ছোলা ভুট্টাও কিছু করব, গোবর সার ব্যবহার করব, চেষ্টা করব যাতে জমিতে কেঁচো হয়, মাছ হয়, সার দেব না বা যথা সম্ভব কম দেব, ইত্যাদি। পুঁটি, মোয়ে মাছে কতটা ফসফেট আছে, আমার ডেটা চাই, এক বিঘে ধানেতে মাছ কত পাবো, এ ডেটা তো চাই-ই। আমি কিন্তু একবার এই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু আমি ছাড়ার পাত্র নই। তোদের মাস্টারমশাই ব্রতীন চট্টপাধ্যায়ের দাদা কিছু নিরীক্ষা করেছিলেন কিন্তু সেটা মূলত বারাসাত এর ওখানে। প্রসংগত বলে রাখি ৭ / ৮-এর দশকে ব্রতীন[2]ই কিন্তু এই অঞ্চলে প্রথম পরিবেশকে তাঁর গবেষণার মধ্যে নিয়ে আসেন। খুব সংবেদনশীল মন ওঁর। শিক্ষা প্রসঙ্গেও ওঁর লেখা বই পড়লে অনেক কিছু শিখতে পারবি।

    বোধিসত্ত্ব: আপনার সঙ্গে মাঠে ঘুরে মনে হচ্ছিল, বিশেষ করে কেঁচোর বাসাগুলো যখন দেখাচ্ছিলেন, অনেক পরিবেশবিদের মত আপনি গোঁড়া নন, আপনি নানা নিরীক্ষা চালাতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত। যেমন ধরুন ইউরিয়া মাটিতে কিছুতেই দিচ্ছেন না, কিন্তু স্প্রে তো করাচ্ছেন।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: আমি এমনকি সে ভাবে ইউরিয়া ব্যবহার করলেও, প্রচুর গোবর সার দিই, সঙ্গে ফসফেট সালফেট কিছু দিই, আমার একটা চেষ্টা থাকে, আমার পদ্ধতিতে কিছু বায়ো অর্গানিক বস্তু নষ্ট হলেও, কিছু যাতে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়। কোন কোন মাঠে সম্পূর্ণ অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করি। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হল নানা ধরনের ডেটা জেনারেট করা। কোথাও কোন ডেটা নাই, পাঁচবিঘে জমিতে কতটা চুনোমাছ হতে পারে, কেউ বলতে পারে না। পুঁটি, মৈয়ে মাছে কতটা পুষ্টি কী আছে, তার কোন হিসেবও নেই কোথাও। গুণীন চ্যাটার্জি, মৃত্তিকা বিজ্ঞানী, কিছু কাজ করেছিলেন, কেঁচোর চাষ করেছিলেন, জমির উপকারে লাগবে বলে, ধান মাঠে মাছের চাষ কিছু করেছিলেন। ওঁকে আমি শ্রদ্ধা করি।

    বোধিসত্ত্ব: ফ্যাসিনেটিং। যাক একটু অন্য প্রসঙ্গে যাচ্ছি। ধানে কবে থেকে এই সব উচ্চফলনশীল জাতের চাষ আরম্ভ হল। কী ভাবে হল?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: সরকারি ভাবে কাছাকাছি সময়েই, ১৯৬৫ নাগাদ। আন্তর্জাতিক বীজ কোম্পানিগুলির ভারত ও তার কৃষি বাজার সম্পর্কে আগ্রহ ছিল, উচ্চফলনশীল জাতের খাদ্যশস্য ভারতে চাষ হলে, ভারতের খাদ্যের ব্যাপারে আত্মনির্ভরতা বাড়বে, এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য লাগবে না, এরকম একটা পরিপূরক ভাবনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ছিল বলেই মনে হয়। তার পরে ধর জয় জওয়ান জয় কিসান শ্লোগানের আমলে, স্বামীনাথনরা মেকসিকোর ধানের উপরে নিরীক্ষা চালান এবং ভারতে আনেন। সার এলো, রাসায়নিক কীটনাশক ওষুধ ইত্যাদি এলো। মনে রাখিস, এটা একটু বিচিত্র চক্রাকার বিষয়, মাঠে যেরকম দেখাচ্ছিলাম, উচ্চ ফলন চাই বলে তুই ইউরিয়া দিলি, তাতে বাড়তি নাইট্রোজেন এলো, সেটার জন্য পোকা এলো, তখন কীটনাশক দিলি। এতে শুধু তোর খাদ্যশস্যের বৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে তা না, তোর কীটনাশকহীন চাষটা বস্তুত উঠে গেল।

    যাই হোক, আমাদের ধানের একটা ফলনের পরে শীষের ভারে পড়ে কাত হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। এস ডি কে ওয়ান জিন টাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেটাকে বদলালে, এই ধানের গাছের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা যাচ্ছিল, এবং এভাবে হেলে যাওয়াটাকে আটকানোর প্রচেষ্টা হয়েছিল। থাইল্যান্ড থেকে তাইচুং বলে একটা জাত আনা হয়েছিল, বেঁটে ধানের জাতের জন্য। ফল খুব খারাপ হয়েছিল, প্রচুর সার দেওয়া হয়েছিল, কীটনাশক ফলিডল এলো, পরে আত্মহত্যার একটা পদ্ধতি হয়ে গেল এই কীটনাশক, উৎপাদন খানিকটা বেড়েছিল, দেশি ধান ৮-এর দশকে প্রায় বিলীন হয়ে গেল।

    অবশ্য তাইচুং-এর পরে আরো অনেক ভারতীয় বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের ধান আসতে শুরু করেছিল। বৃষ্টি ঝড়ে পড়ত না এগুলো[3]। ১৪৪৪ বা ১৪৬০ বলে দুটো জাত এসেছিল, তাইচুং-এর থেকে পোকা কম লাগতো।

    বোধিসত্ত্ব: আমি যেটা বোঝার চেষ্টা করি বিজয়দা, আমাকে বলুন, কোম্পানি না হয় ব্যবসা করল, সরকার না হয় তাতে তাল দিল, চাষি না হয় লোভে পড়ল, কিন্তু দেশজুড়ে হাজার হাজার কৃষি বিজ্ঞানীরা সরকারকে কি সচেতন করলেন না, নাকি যতটুকু যা সাবধান বাণী উঠলো, সবই উচ্চফলের উদ্দীপনায় চাপা পড়ল?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: কৃষি বিজ্ঞানীরা বোঝেননি তা না। যাঁরা পরিবেশ রক্ষার কথা বলছিলেন, তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয় নি, হ্যাঁ সংশয় ছিল, সেটা হয়তো খাদ্যাভাবের স্মৃতির কারণেই ছিল, কিন্তু যেটা বলছিলি, হাজার হাজার কৃষি বিজ্ঞানী কেউ এর বিপদ বুঝছিলেন না, এটা অবাস্তব। আর হ্যাঁ ওটা আগে ঠিকই বলেছিলি, যাবতীয় সংশয়, অন্তত ভূপাল দুর্ঘটনার পরে, অন্তত সচেতন মানুষের মধ্যে আর ছিল না। কারণ কৃষি বিজ্ঞানীরা জীবনচক্র দিয়ে কৃষি বোঝেন, শুধুই তো বিপণন আর অর্থনীতি দিয়ে বোঝেন না। বুঝেও যাঁরা বোঝেন না, মানুষকে বোঝাতে চান না, তাঁদের কথা আলাদা।

    তোর বাবার কাজের জগতের গল্পই একটা বলছি। শুধু যে ধানে উচ্চফলনশীলের অভ্যাস এসেছিল তা না। অজয়ের পারে, বাঁধের ভেতরে আরকি, হালসী ডাঙার ওদিকটায়, বুঝলি ভালো তরকারি হত। ওরা বানের জলটা পেত, ধান করত না, শুধু তরকারিই করত, টাকা ভালো রোজগার করত। অনেক চাষিই এটা করতেন। তো একবার রোগ হল, তোর বাবা কে নিয়ে গেলাম, তোর মনে আছে তো, সেই বিখ্যাত স্কুটার টা করে, কিছু চেনা জানা ছিল, উনি দেখেই বললেন, একট বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট, এর কোন ওষুধ বলার মত কিছু নেই। টমেটো, বেগুন লংকা হটাও, একদম চাষই করতে বারণ করলেন, অন্য তরকারি লাগাতে বললেন, কপি গাজর ধনেপাতা ইত্যাদি। যারা কথাটা শুনলো, পরপর দু বছর ক্ষতির হাত থেকে বাঁচলো, যাঁরা শুনলেন না তাঁদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল, একটা বুড়ো কৃষি বিজ্ঞানীর কথা কে আর মনে রাখে! আমি বুঝলি, ঐ গ্রামে হিরো হয়ে গেলাম (হাহা করে হাসি)। যাই হোক সেই তখনি তোর বাবা আমায় বলতে শুরু করেন, এক সব্জি, উচ্চফলনশীল সবজিই যদি কেবল লোকে করে তার ও বিপদ আছে, বীজ সার ইত্যাদি তে খরচ করে, এরা ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। এটা শুধু দানাশস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, হ্যাঁ অবশ্যই তার স্কেলটা অনেকটা বেশি।

    বোধিসত্ত্ব: কিন্তু আমাকে এই কথাটা বলেন, কৃষির সঙ্গে যুক্ত নন যাঁরা তাঁদের খাদ্য সুরক্ষার ব্যাপারে পরিবেশ আন্দোলনের অবস্থান কী, মানে এটা খুব ই ঘিসাপিটা প্রশ্ন, এর পরে, বিপণন এবং লাভটাই যুক্তি হয়ে যায়, পরিবেশ নিয়ে আর কেউ ভাবে না, কিন্তু তবু আপনার কাছে শুনতে চাইছি। অর্গানিক ফার্মিং তো এখন একটা কর্পোরেট ব্যবসা।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: সৌম্য চক্রবর্তীর বই দেখতে পারিস, অসংগঠিত শ্রমিকদের খাদ্য সুরক্ষা সেটাই মূল প্রশ্ন। গ্রাম থেকে এত এত লোক শহরে যাচ্ছে, তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে অবশ্যই। লোকে ভাবছে, শহরে শ্রমের যথার্থ মূল্য পাবে, নতুন ধরনের কাজ শিখবে, তাছাড়া শহরের লাইফস্টাইল ইত্যাদির একটা আলাদা আকর্ষণ ও রয়েছে, কিন্তু কৃষিতে মানুষের আগ্রহ, স্বাস্থ্যর সঙ্গে গভীর যোগাযোগ এসব ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে পারলে ভালো হত।

    সত্যিই অর্গানিক ফার্মিংয়ের খরচ বেশি এবং যথেষ্ট পয়সাওয়ালা লোকও সে সব্জির, শস্যের মূল্য দিতে প্রস্তুত না। আমি জানিস, স্থানীয় কয়েকজন অর্গানিক ফার্মারকে নিয়ে একটা বাজার চালানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বেশিদিন চালাতে পারিনি। আমাদের এখানে জয়শ্রী, বীরু বলে দুজন আছে, খুব গোঁয়ারতুমি করেই অর্গানিক চাষ করে, হ্যাটস অফ টু দেম।

    গন্ধেশ্বরী চাল, ওড়িয়া মল্লিফুল ধানের জেসমিন চাল এসব বিক্রির একটা চেষ্টা করেছিলাম। বলেছিলাম লোককে এর মধ্যে ফ্রি নাইট্রোজেন নাই,এক ফোঁটা ইনসেকটিসাইড নাই, বিশেষ কেউ কিনতে চায়নি। স্বাস্থ্যের সমস্যার ভয় একটা হয়েছে মানুষের, কিন্তু সচেতনতা সেরকম বাড়ে নি। সুপারস্ট্রাকচার জিনিসটা মজার, বুঝলি, যারা সচেতনতা বাড়াচ্ছে তারাই দাম দিতে চাইছে না।

    বোধিসত্ত্ব: বিজয়দা একটু অন্য প্রসঙ্গে আসছি, আপনার ফোর্থ পিলারের সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছে, আপনি মনে হয় দুটো জিনিস বলছেন। প্রথমটা হল, একটা মিথ ভাঙছেন, প্রোকিওরমেন্ট করতে গিয়ে সরকার নাস্তানাবুদ হয়ে যাচ্ছে, এটা একেবারেই বাজে কথা, কারণ ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি স্তরে, ক্রয়ের অনীহা এবং কৃত্রিম জটিলতা স্পষ্ট, আপনি স্থানীয় উদাহরণেই সেটা বলছেন, এবং সবচেয়ে যেটা কষ্টের এটা সরকার করছে, তার রাজনৈতিক ব্যবসায়ী বন্ধু দের লোভ কে প্রশ্রয় দিতে, নাগরিকের কথা না ভেবে। এই যে ধরুন স্বর্ণ ধান ছাড়া কিনবে না, জমির কাগজ জমা না দিলে কিনবে না, ব্লকে একটা ক্রয় কেন্দ্র, দিনে ৬০০ কুইন্টালের বেশি কিনবে না, সব সময়ে এইবারের তোলা ধান কিনে উঠতে পারবে না, আগের বছরের লেখানো নাম ই শেষ হবে না, সার ভর্তুকি পেতে গেলে বিশেষ জাতের ধানই চাষ করতে হবে, এই নিয়ম গুলোর তো কোন ভিত্তি নেই। যৌক্তিক ভিত্তি নেই, সমাধান অযোগ্য সমস্যাও না।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: এম এস পি দেবার দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রের হয় তাহলে তো তাকে বুঝতে হবে এত কম হারে কিনলে, সরাসরি ক্রয় ব্যবস্থার সংকোচন করলে, ক্রয়ে দেরি হলে, উৎপাদক কৃষক কোথায় রাখবে এই শস্যটা। নিরাপদে মজুত করাটা কি মুখের কথা, সবাই পারে? গুদামে রাখার জায়গা নেই, সেখানে কর্মচারী অসৎ এই কারণ দেখিয়ে মানুষকে সামাজিক বিচার না দেওয়া, এম এস পি তে ক্রয় না করাটার কোন যুক্তি নেই, কোন ভাবেই এটা সমর্থন করা যায় না। একদম আনএথিকাল। গুদাম বাড়াতে, অন্য ব্যবস্থা নিতে তো কেউ বারণ করে নাই। সোশাল জাস্টিস না দিতে পারার অজুহাত হিসেবে এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। একটা সরকারের এসব অধিকার আছে? অনেক নীতি নির্ধারকরাই এসব দেখবে না, বলবেও না।

    বোধিসত্ত্ব: পরিবেশ সুরক্ষার জন্য এম এস পি বন্ধ করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, এরকম একটা কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে, বাম বিরোধী পরিবেশপন্থীদের পক্ষ থেকে বা শিক্ষিত বিজেপি সমর্থক দের পক্ষ থেকে, আইনে যা বলা আছে, আইন যে ভাবে আনা হয়েছে, যে কাজে লাগানো হচ্ছে, তাতে কি এসব দাবি করা যায় বলে মনে হয়?

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: অশোক গুলাটি সম্পর্কে একটা কথা বলতে হবে, এম এস পি একবার বেশ অনেকটা বাড়ানো হয়েছিল, তার পেছনে কিন্তু ওঁর একটা একটা ভূমিকা ছিল। প্রশংসনীয় ভূমিকা। এখনকার মতের সঙ্গে হয়তো অনেকেই সহমত নন, কিন্তু যথার্থ অবদান স্বীকার করাই ভালো। দেখ অনেকগুলো চক্রাকার যুক্তি কাজ করে। এম এস পি বিরোধীদের কথা মোটামুটি এরকম, আমরা এম এস পি দিয়েই যাব, গুদামের প্রয়োজন বেড়েই যাবে, বিক্রি করে উঠতে পারব না, এটা কতদিন টানবো। তো প্রশ্ন হল, তুই যেরকম বললি, পি ডি এস বাড়াতে তো কেউ বারণ করে নি, আমি সেরকম বলছি, স্টেটকে চাল বেচে লাভ করতে হবে তাই বা কে বলেছে, এটা তো কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, শস্তায় বেচবে!! আমার নানা অসুবিধের কারণে, আমার তৈরি করা অসুবিধের কারণে, চাষা সোশাল জাস্টিস পাবে না, এটা কি মানা সম্ভব?

    এই ধর তৈল শস্যর ব্যাপারে আমাদের স্বনির্ভরতা তো নষ্ট হয়ে গেল। কোঅপারেটিভের মাধ্যমে তেল বিক্রি করা যে শুরু হয়েছিল, সেটা নানা হেল্থ হ্যাজার্ড-এর জন্য বন্ধ হল, অথচ তার তদন্ত হল না ভালো করে, মধ্যেখান থেকে তৈলশস্য উৎপাদনটা মার খেল, এখন আমরা মালয়েশিয়া থেকে তেল আনছি। এটাও সেই ব্যাপার হল, একটা ব্যবস্থাকে আমি ঠিক ঠাক স্বচ্ছ করতে পারলাম না বলে আমি উৎপাদকের সাবসিডি তুলে নিলাম, কৃষকের উৎসাহ ভাতা বন্ধ করলাম।

    তারপরে ধর ছোলা, আমাদের যে বাড়তি ছোলা, সেটা শস্তায় বেচে দিলেই হয়। এক্সপোর্ট তো শস্তাতেও করা যায়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশরা অন্য দেশ থেকে ছোলা কিনছে, কেন আমরা মার্কেটিং করতে পারছি না? উল্টো দিকে ভাব, তানজানিয়া থেকে সূর্যমুখী কেনে, তো তার বদলে ছোলা, গম বেচুক। গত বছরে তো কলাই ইম্পোর্ট করেছে, কেন করেছে, এখানে তো কলাই করা যায়।

    ধর গ্রাউন্ড ওয়াটার ব্যবহার হয় ধানে, সেটা নিয়ে চাষি কে গালাগাল দেওয়া হয়, তো অন্য চাষ গুলোর কথা প্রচার করা, কতটুকু হয়। এই বীরভূমেই তো স্থানীয় প্রশাসন বলতেই পারে, তোমাকে পাম্প চালনোর কারেন্ট সারাদিন দেব না, তুমি কম জল লাগে এরকম কিছু করো, কলাই কর, মুসুরি ডাল কর, কই বলে না তো। কেন্দ্রীয় ভাবে কৃষিতে নীতি চলে না, স্থানীয় মানে রীতিমত স্থানীয় নীতি, সংবেদনশীলতা, মানুষের ভালো চাওয়া, পরিবেশের ভালো চাওয়া ইত্যাদি লাগে। শুধু রাজধানী শহরে বসে এসব হয় না।

    তুই রিচা কুমারের কাজ পড়ে দেখতে পারিস।[4] ওঁর কাজের দুটো দিক। আমি তোকে যেটা বলছিলাম। আমাদের ৬-৭ দশকের সবুজ বিপ্লব নিয়ে আমরা যদি বসে থাকি, এবং সেটাকে শুধু সাফল্য হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা দুটো ভুল করব। প্রথমটা হল, তার আগে আমাদের কৃষিতে যা হয়েছে, সেটাকে কেবলমাত্র পশ্চাৎপদ বলে ধরে নিতে হয়। এবং আরেকটা হল, এখন কৃষির যা অবস্থা, তাতে খাদ্য নিরাপত্তার অভাবের যা প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাকে অস্বীকার করে যাব। দুটোই ভুল, এই পেপারগুলো পড়ে দেখতে পারিস। আমি আগেই বলেছি কোন খাদ্যাভাব ছয়ের দশকে একেবারেই ছিল না, এই কথাটা অবশ্য আমার স্মৃতির সঙ্গে মেলে না।

    বোধিসত্ত্ব: বিজয়দা, আমার শেষ প্রশ্নের দিকে চলে এসেছি, যদিও উঠতেই ইচ্ছে করছে না। কো অপারেটিভ-ভিত্তিক বিপণন, এই ক্ষেত্রটাকে বামপন্থী দের একটা ফেলিওর হিসেবেই দেখা হয়। যে তারা রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তেমন কিছু করতে পারেনি। সমবায় আন্দোলনটাকে অপেক্ষাকৃত সাম্যের একটা পদ্ধতি হিসেবে জনপ্রিয় করতে পারে নি। সমস্যাটা হল কো অপারেটিভের শস্য ক্রয়ে গণভিত্তি বাড়াতে সক্ষম হলেও, কনজিউমার এর কাছে পৌঁছনোর ব্যর্থতা, মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা গ্রহণের ব্যর্থতা, সরকারি অন্যান্য ব্যর্থতা এখন কর্পোরেটের বিগ রিটেলগুলোকে নীতির সুবিধা দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ মানে কঠিন কল। তো এটাতে আপনার কী মনে হয়।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: দেখ ভাই, সমবায় তো রবীন্দ্রনাথেরও প্রচেষ্টার মধ্যে ছিল। এই আমাদের এই আদিত্যপুইর লালদহ অঞ্চলে ধর্মগোলা বলে কো অপারেটিভ ছিল, আমি নিজে দেখেছি, তাদের কিন্তু একটা দায়্বদ্ধতা ছিল। যৌথতার বিষয় আছে, একজন লোক শুধু লাভ করবে তা না। গণতান্ত্রিক চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের বিষয় আছে। লোককে শস্তায় লোনও দিতে পারে। কো অপারেটিভকে আরো শক্তিশালী করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক নেতাদের দূরদৃষ্টি, মানুষের কাজে সৃজনশীল ভাবে লাগার জন্য গভীর ভাবনা, কল্পনাশক্তি এগুলোর একটু অভাব ছিল। নাগরিক নেতৃত্ব গ্রামীণ সমস্যা কতটা বুঝতো , আর গ্রামীণ নেতৃত্বের কতটা দূরদৃষ্টি ছিল বলা মুশকিল।

    বোধিসত্ত্ব: কো অপারেটিভের একটা সমালোচনা আছে বিজয়দা, যে এই স্ট্রাকচারটার মধ্যেও বিপণনে পটু যারা তারাই ক্রমশ ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। উৎপাদক একটা আভ্যন্তরীণ সাপ্লায়ার হয়ে যায়।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: এটা নিয়ে আমি সাংঘাতিক চিন্তিত নই। যদি কো অপারেটিভ গুলো শক্তিশালী হত, কৃষক পরিবার থেকেই বিপণনে পটু ছেলে মেয়েরা বেরিয়ে আসত। আরো জোর দিয়ে চালানো উচিত ছিল। বামপন্থীদের, অন্যান্য রাজনীতিবিদদের সমালোচনা আমি প্রায়ই করি, নিজেকে সমালোচনা করার শামিল আর কি, কিন্তু তাদের দীর্ঘ উপস্থিতির ফলেই, সামাজিক প্রভাব খাটাতো আগে গণ্যমান্য লোকেরা গ্রামীণ রাজনীতিতে, সেসব এখন করা মুশকিল আছে, ধমকানি দিয়ে সাধারণ মানুষকে, তার অধিকার বোধকে চেপে রাখা আজ অন্তত অসম্ভব, সে বামপন্থীরা রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল হলেও অসম্ভব, অন্তত বাংলায়। তাছাড়া ধর আগে যেটা বলছিলাম, আমি সেই বাবা আমতের অনশনে গেছিলাম বুঝলি, নর্মদা প্রকল্পের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন শুরুর দিকে, এখানেই আমি মেধাকে দেখেছিলাম।[5] তো সেখান থেকে ফিরে আমি যখন বলাবলি করলাম, এই বড় বড় ড্যামের পেছনে কিন্তু একটা শ্রেণি স্বার্থ আছে, এটাকে বামপন্থীদের অ্যাড্রেস করা উচিত, তবে এটা অনেকদিন আগেকার কথা, তখন আমি খুব সাড়া পাই নি। ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে তবু বামপন্থীদের কিছু টা চিন্তা ভাবনার গভীরতা ছিল, কিন্তু কৃষির ভাবনা চিন্তায় পরিবেশ সচেতনতা না থাকাটা একটা খামতি। এখন হয়তো কিছু পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।

    বোধিসত্ত্ব: বিজয়দা আমার শেষ প্রশ্ন, এই যে কৃষক আন্দোলন চলছে, এটাকে সরকারি নীতির সমর্থক দের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা বৃহৎ চাষি দের আন্দোলন, আরেকটা সমালোচনা করা হয়েছে, মানে সরকারপন্থী প্রচার যন্ত্রর পক্ষ থেকে, বামপন্থীরা উত্তর পশ্চিম ভারতে ল্যান্ড রিফর্ম করতে পারেন নি, এখন বড় কৃষকদের কুলাকদের সমর্থন করছে। বাংলার ছোটো চাষিদের এসবে সমর্থন করা উচিত না। এই বিষয়্টায় আপনার কি মনে হয়। মহারাষ্ট্রে আমরা দেখেছি, অন্ধ্রে দেখেছি, ছোটো চাষিদের সংগঠনরা বলেছে, আমাদের অনেক বিষয়ে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও এই আন্দোলনে, কৃষকের ন্যায্যমূল্যের আন্দোলনে আমরা আছি।

    বিজয় মুখোপাধ্যায়: একদম ঠিক কথা। ক্ষুদ্র চাষিরা সমর্থন জানিয়েছেন। অশোক ধাওয়ালে এটা জানিয়েছেন। ভাবতে হবে, অনেক ভাবতে হবে, কিন্তু এখন একত্রে থাকতেও হবে। বড় চাষি-ছোটো চাষির মধ্যে সমস্যা এখন আমি মনে করি না, অপেক্ষাকৃত ভাবে খুব বড় বিপদ কিছু।
    কিন্তু কৃষকের ন্যায্য মূল্য, আর কৃষির সঙ্গে যাঁরা জড়িত নন-সহ সমস্ত মানুষের খাদ্য সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জনস্বাস্থ্য এই বিষয়গুলো জড়িত, একসঙ্গেই ভাবা দরকার। বিশেষ করে জোতের জনপ্রতি মাপ সর্বত্র কমছে, আর গ্রাউন্ড ওয়াটারের মাত্রাহীন ব্যবহার শুধু সবুজ বিপ্লবের রাজ্যগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। আমি তো ধর, ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকামের পক্ষে। ছোটো চাষিদের রক্ষা তো করতে হবে। স্থানীয় ভাবনা দরকার। মার্কেটের উপরে নির্ভরশীলতা ইত্যাদির কথা বলা হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র চাষিকে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। আর ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম দিলে আর কোন ধরনের কাঠামোগত কল্যাণমূলক বিষয়ে বিনিয়োগ করব না এসব বললেও হবে না। স্বাস্থ্য শিক্ষা এসব তো দেখতে হবে।

    বোধিসত্ত্ব: অনেক ধন্যবাদ বিজয়দা। শেষ করতে না ইচ্ছে করলেও শেষ করছি। আপনি, ব্রতীনদা, কুন্তলদা, শিবদা[6], আমাদের থেকে অল্প বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলেও আমাদের অধ্যাপকসম। এতটা সময় দিলেন, অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনার এই বিরাট কর্মকাণ্ডের জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট না। সমস্ত পাঠকের পক্ষ থেকে নমস্কার, আমার দিক থেকে প্রণাম জানাই।




    কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন


    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।



    [1]https://4thpillars.com/details/Combination_of_enforcement_of_minimum_support_price_and_crop_diversification_only_solution_to_save_Indian_agriculture

    [2]ব্রতীন চট্টোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন পাঠভবন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ৮-এর দশক থেকেই ছাত্রদের মধ্যে পরিবেশচেতনার বৃদ্ধির ব্যাপারে ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এই শিক্ষা চিন্তাবিদ।  "Bursting of Pods : Life and Time of Santiniketan School from 1901-1912" গ্রন্থের ​​​​​​​প্রণেতা।

    [3]একজন কৃষি বিজ্ঞানের অধ্যাপকের সঙ্গে এই পর্যায়ে আমার যে আলোচনা হয়েছে, তাতে ম্যানিলার আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্রের আদলে গড়া সরকারি গবেষণাকেন্দ্রগুলি, তাদের গড়ে তোলার তৎকালীন নীতি, তাদের কাজের ধরন, তাদের আনা শস্যের জাত, কখন কোনটা এসেছে, ইত্যাদি নিয়ে কিছুটা বিস্তৃত ভাবে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায় অল্পদিনের মধ্যে সেটিকেও গুরুচণ্ডা৯ পাঠকদের সামনে আনা যাবে।

    [4]রিচা কুমার, আই আই টি  দিল্লির মানববিদ্যা এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপনারত India’s Green Revolution and Beyond Visioning Agrarian Futures on Selective Readings of Agrarian Pasts, Economic and Political Weekly, Vol. 54, Issue No. 34, 24 Aug, 2019

    [5]ইকোনোমিক অ্যান্ড পোলিটিকাল উইকলির  ২১ এপ্রিল ২৯৯০ সংখ্যায় বাবা আমতের প্রবন্ধটি পড়া যেতে পারে। ন-এর দশকে সরদার সরোবর প্রোজেক্ট এর বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন করেছিলেন সেখানকার আদিবাসীরা, নেতৃত্ত্বে ছিলেন মেধা পাটকর। বাবা আমতে এই আন্দোলন সমর্থন করেছিলেন। বিজয় বাবু সম্ভবত ১৯৯০ এর মে মাসের বোট ক্লাবের প্রতিবাদ টির কথা বলছেন। এই বিষয়ে যাঁদের বেশি আগ্রহ রয়েছে, রামচন্দ্র গুহ এবং মাধব গ্যাডগিল-এর Ecological Conflicts and the Environmental Movement in India নামক দীর্ঘ প্রবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন।

    [6]শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন ছাত্র, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কুন্তল রুদ্র এবং অকালে প্রয়াত অর্থনীতির অধ্যাপক শিবব্রত সেন।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২২ মার্চ ২০২১ | ৫৯৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
বাবা  - Mousumi GhoshDas
আরও পড়ুন
বাবা  - Mousumi GhoshDas
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • b | 14.139.196.16 | ২২ মার্চ ২০২১ ১০:৫১103959
  • ধন্যবাদ। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

Farmers Agitation, Farmers Act, Farmers Bill, Three Farmers Act, Farmers Act and Farmers Agitation, Environmentalist, Environmentalism, Bijay Mukhopadhyay Interview, Organic Firming, Visva Bharati Teacher Organic Firming
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন