• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  শনিবারবেলা

  • রসুইঘরের রোয়াক ১৪ - শাক ঘণ্ট, মুলা শাকের সাথে চিংড়িমাছ, বেগুন আর আম কাসুন্দির ঘণ্ট

    স্মৃতি ভদ্র
    ধারাবাহিক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৮১৮ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • পলকা একটু হাওয়াতেই বারবেলার রোদ বুজে যায় আর দেবরারুর ছায়া উঠোন ছুঁতে না ছুঁতেই ওদিকে ভোকাট্টা হয়ে যায় বেলা। সুপারি বাগানের মাথাছোঁয়া আকাশটা লাল হবার আগেই টুপ করে অন্ধকার এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় দিনের সব আলো এখন।

    ক-দিন আগেই অগ্রহায়ণের নতুন খাওয়া শেষ হয়েছে। কাঠের দোতলার মাটির ডোলায় উঠে গেছে নতুন ধান। তবে সব ধান নয়। মুড়ি ভাজার ধান এখনও লাল বারান্দার কোণে চট দিয়ে ঢাকা। সে ধান সারারাত জলে ভিজবে আজ। আর ভোর হলেই ঠাকুমা উঠোনের খোলা উনুনে তা সেদ্ধ বসাবে।

    —ও ঠাকুমা, ভোরে আমাকে ডাকবে কিন্তু।

    “অত ভোরে উঠে কী করবে দিদি? আমি ফুল তুলতে যাবার আগে তোমাকে ডেকে তুলব।” বলতে বলতেই তোশকের তলে মশারি গুঁজে দেয় ঠাকুমা।

    সাদাটে মশারিটা বহুদিনের ব্যবহারে নিজের জেল্লা হারিয়েছে অনেক আগেই। তবে সাদা কাপড়ের বর্ডারগুলোতে সুতোয় তলা লাল-সবুজ লতাগুলোয় যা একটু আধটু চাকচিক্য এখনও অবশিষ্ট। আমি মশারির জালের ছাদ ভেদ করে বড়োঘরের কড়িবরগা আর কাঠের পাটাতনের দিকে তাকাই।

    সে কড়িবরগায় লেখা শ্রীযুক্ত মোহিনীলাল সাহা, ১৩৪৯ সন।

    ঠাকুমা আমার পাশে শুতেই আমি পাশ ফিরি।
    —ও ঠাকুমা, ওই যে বরগার সাথে লেখা আছে ১...৩...৪....৯, সেসবের মানে কী? ঘর বানালেই এগুলো লিখতে হয়?

    ঠাকুমা আমার গা ঘেঁষে আসে। এক হাতে আমার গা বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, “ও দিদি, সবাই তো লেখে না। ওটা এঘর কবে বানানো হয়েছে এটা মনে রাখার জন্য লেখা হয়েছে।”

    —তুমি জান না ঠাকুমা, সবাই লেখে। গোলেনূর দাদির বড়োঘরের বরগাতেও এমন করে লেখা তো।
    ঠাকুমার হাত থেমে যায়। একটা দীর্ঘশ্বাস হুট করে হারিয়ে যায় মশারির ফোকর গলিয়ে।

    —দিদি, ও ঘর আগে এ বাড়িরই ছিল যে। ওই ঘর আর এ ঘর একই মানুষের বানানো।

    আমি হঠাৎই কী যেন খুঁজে পাই সে কথায়!

    —ও ঠাকুমা, তাহলে গোলেনূর দাদি এ বাড়িরই মানুষ।

    ঠাকুমা একটু হাসে, “আমরা সবাই এক বাড়িরই মানুষ দিদি। এখন ঘুমাও।”

    ঠাকুমা আমাকে আর-একটু কাছে টেনে নেয়।
    আমি হাকিমপুরি জর্দার ঘ্রাণে শ্বাস নিতে নিতে ঘুমে তলিয়ে যেতে থাকি।

    ভোরবেলায় ঠাকুমা যতই না ডাকুক আমাকে, বিছানায় ঠাকুমার ওম ফুরিয়ে গেলেই আমার ঘুম ভেঙে যায়।

    আজ উঠোনের খোলা উনুনে আঁচ পড়েছে অনেকদিন পর।

    লাল আগুন উঠোনের অন্ধকারে একটু পর পর ফুলকি ওড়াচ্ছে। সেই ফুলকির আলোতে ঠাকুমার সিঁদুর পরা মুখটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে আমার কাছে।

    “দিদি, তুমি উঠে পড়লে?” টিনের বালতি থেকে আর-একটু জল ঢেলে দেয় ঠাকুমা মাটির হাঁড়িতে।
    আমি লাল বারান্দার সিঁড়িতে বসি উঠোনে পা রেখে।

    ঠাকুমার ফুরসত নেই। উনুনের জলন্ত কাঠ আর-একটু ঠেলে দেয়, টিনের বালতি নিয়ে বারবার কলতলায় দৌড়ায়।

    উঠোনের অন্ধকার কমে আসছে। প্রকাণ্ড বরইগাছের মাথায় অন্ধকার আকাশে আবছা কুয়াশা মাখা আলো আলগোছে গা মেলছে। তবে সে আলো এখনও উঠোন ছোঁয়নি।

    বাড়ির ফটকে পূর্ণির মা।

    —ও জেঠিমা, আমার দেরি হয়ে গেল নাকি?

    ঠাকুমা তাড়াহুড়া করে খড়ির মাচার দিকে যেতে যেতে বলে, “না না দেরি হবে কেন, ধানের হাঁড়িতে জল লাগলে দাও।”

    পূর্ণির মা ধানে হাত দিতেই ঠাকুমা আর আমি বের হবার জন্য প্রস্তুত হই। আমার হাতে ফুলের সাজি ধরিয়ে দিতে ভোলে না মণিপিসি।

    আমি সবার আগে দৌড়ে বরইগাছ তলা যাই। গাছ জড়ানো কুঞ্জলতায় কত ফুল ফুটে আছে। সে ফুলের ঘ্রাণ এ বাড়ির উঠোন ছাড়িয়ে পাড়ার দুয়ারে পৌঁছে গেছে।

    —ও ঠাকুমা, কত ফুল দেখেছ? ক-টা নিয়ে নেই। না হলে পাড়ার সবাই পূজার ফুল নিয়ে ফুরিয়ে দেবে সব ফুল।

    বরইগাছের গোড়ায় জড়ানো লতাটুকু থেকে ফুলগুলো তুলতেই সাজি অনেকটা ভরে যায়।

    —ও দিদি, আর ফুল তুলতে হবে না। কী হবে এত ফুল?

    —কেন, সাহাপাড়ার পিসিঠাকুমাকে দেবে না! পিসিঠাকুমা তো তোমার সাজির ফুলের জন্য বসে থাকে।
    বিধবা এই পিসিঠাকুমার সাদাপাকা চুলগুলো সবসময় ছোটো করে ছাটা থাকে। ভাইফোঁটায় দাদুর জন্য নাড়ু, মোয়া, ক্ষীরের মিষ্টি, চন্দনকাঠ পিঠা, ক্ষীরের তক্তি নিয়ে হাজির হয়। ও হ্যাঁ, কার্তিক মাসের প্রথম রবিবারে এগুলোর সাথে কিন্তু পায়েসও থাকে।

    আর হাজির হয়েই হাঁক দেয়, “ভাই কত্তদিন পর তোর মুখখান দেখবার আইছি রে!”

    পিসিঠাকুমার এই ডাকে দাদুও কেমন উদ্‌বেল হয়ে ওঠে, “দিদি চল, বাইরবাড়িতে গিয়া বসি।”

    দু-ভাইবোনে কাঠের বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসে মাঝখানে পেতলের পানের বাটা নিয়ে। একখানা পান মাঝখানে ছিঁড়ে দু-ভাগ করে দুইজনে খায় আর গল্পে বেলা যায়।

    সেসব সময় পিসিঠাকুমাকে আমার খুব হিংসে হয়। দাদুর তখন গিন্নির কথা মনেই পড়ে না।

    “এবার চলো দিদি, বেলা উঠে গেলে আর অন্য ফুল পাব না।” ঠাকুমার ডাকে আমার হুঁশ ফেরে। বেলা তো সত্যিই উঠে গেছে।

    এর মধ্যেই ঠাকুমা বাড়ির ফটক পেরোয়।

    দৌড়ে গিয়ে আমি ঠাকুমাকে ধরে ফেলি।

    আমি আর ঠাকুমা পা চালিয়ে সাহাপাড়া ছেড়ে গৌর-নিতাই আঙিনার দিকে এগোই। রাস্তার দু-পাশে তাঁতঘরে মাকুর টানা ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে। বসাকপাড়া ঢুকতেই পিসিঠাকুমার আঙিনা দেখা যায়। ওই তো কুটিপিসি উঠোনে চরকি নিয়ে বসে গেছে। কুটিপিসির কাছে এলেই সোনালি জরির ভাঙা ববিনটা আমার হয়ে যায়।

    আমি ঠাকুমাকে ছেড়ে ছুটে যাই কুটিপিসির চরকির কাছে, “ও কুটিপিসি আজ ভাঙা ববিন নেই?”
    একগাল হেসে কুটিপিসি বলে, “তুমি ববিন চেয়েছ, আর ববিন থাকবে না বুড়ি?”

    ও হ্যাঁ, এ বাড়ির সবার কাছে আমি কিন্তু বুড়ি।

    কুটিপিসি বারান্দায় নতুন বানানো বাঁশের মাচার তল থেকে একঝুড়ি ভাঙা ববিন বের করে আনে। তাতে শুধু জরির ববিন নয়, লাল নীল কত রঙের সুতোর ববিন!

    আমি সোনালি জরির ববিন বেছে নিতেই আরও কয়েকরকম রঙিন সুতোর ভাঙা ববিন আমার দিকে এগিয়ে কুটিপিসি বলে, “মণিপিসিকে এগুলো দিও, কাপড়ে নকশা তুলবে।”

    অতগুলো ববিন আমার হাতে আঁটে নাকি? আমি কোঁচড় ভরে তা নেই।

    ওদিকে পিসিঠাকুমা আমাদের বাড়ির কুঞ্জলতা ফুল পেয়ে খুব খুশি। ফুলগুলো নাড়েচাড়ে আর বলে, “কত্তদিন পর এই ফুল দেখলাম বউ, এই ফুলের লতা ব্যাবাক বরইগাছে ছড়াইয়া গ্যাছে?”

    ঠাকুমা হাসে, “অত বড়ো গাছে ছড়াতে সময় লাগবে দিদি; তবে এবার ফুল আসছে খুব।”

    “ভাইয়ের লাগানো গাছ সক্কল সময়েই ভালো হয়”, পিসিঠাকুমার পান খাওয়া লাল দাঁতের হাসি ছড়িয়ে পড়ে ঠাকুমার মুখেও।

    কিন্তু আজ ঠাকুমা আর দাঁড়াবে না। মুড়ি ভাজার ধান সেদ্ধ উনুনে বসিয়ে ঠাকুমা বের হয়েছে। ফিরে বাড়িতে অনেক কাজ। তাই ঠাকুমা বাড়ি ফেরার জন্য তাড়াহুড়া শুরু করে।

    —বউ, তুই সক্কল সময় এমন হুড়োপাড়া করিস। দাঁড়া একটু, খেতের কচি মুলার শাক আইছিল কাল; আমি রাতে ঘরের চালে নীহরে রাইখ্যা দিছিলাম।

    মই বেয়ে ঘরের চাল থেকে শাক পেড়ে আনে পিসিঠাকুমা।

    মুলোশাকের কচি সবুজ পাতায় তখনও নীহার লেগে আছে। চটের ব্যাগে ভরে পিসিঠাকুমা তা ঠাকুমার হাতে দেয়।

    আর দেরি করে না ঠাকুমা। পা চালিয়ে বাড়ি ফেরে।

    উঠোনের খোলা উনুনের আগুনের আঁচ কমে এসেছে ততক্ষণে। তার বদলে হালকা ধোঁয়া আর সেদ্ধ ধানের ঘ্রাণ উঠোন দখল করেছে।

    ঠাকুমা বাড়ি ঢুকতেই পূর্ণির মা উঠোনে চট পাততে শুরু করে। আর ঠাকুমাও হাতের সব জিনিস লাল বারান্দায় রেখে খোলা উনুনের কাছে চলে যায়। পূর্ণির মাকে সাথে নিয়ে সেদ্ধ ধানের হাঁড়ি নামায়। এরপর উঠোনে পেতে রাখা চটে ধান ঢেলে দেয় দুজনে মিলেই।

    “জেঠিমা আপনে কলতলায় যান, বেলা উঠে গ্যাছে দ্যাখছেন; আমি ধানে পা দিতাছি”—পূর্ণির মায়ের এ বাড়িতে একমাত্র ঠাকুমাকে শাসন করার অধিকার আছে।

    ঠাকুমাও কথা না বাড়িয়ে কলতলা চলে যায়।

    আর আমি গিয়ে উঠি বড়োঘরে দাদুর কাছে।

    —ও দাদু, আজ পিসিঠাকুমার বাড়ি গিয়েছিলাম জান? জরির ববিন এনেছি।

    —তাই নাকি গিন্নি, তা তোমার যত্নআত্তি হয়েছে তো ঠিকমতো সে বাড়িতে?

    দাদুর রসিকতা আমি না বুঝেই বলে চলি, অত সকালে আর কী করবে? আর আমরা তো অল্প সময় ছিলাম।

    দাদু রেডিয়ো-র নব ঘোরাতে ঘোরাতে বলে, “এরপর তাহলে একটু বেশি সময় নিয়ে যেও।”
    রেডিয়োতে সকাল সাতটার খবর শুরু হল।
    আমি মণিপিসির কাছে গিয়ে দাঁড়াই। মণিপিসি তখন রঙিন ববিনগুলো থেকে পছন্দের সুতো বেছে নিচ্ছে।

    ঠাকুমার আজ নিত্যপূজাও শেষ হয়ে যায় তাড়াতাড়ি।

    রান্নাঘরের উনুনের আজ গোলারুটি ভাজা হচ্ছে। সাথে খেজুরের ঝোলা গুড়।

    তবে দাদুর জন্য কালরাতের রুটি জ্বাল। শীত এলেই দাদুর জন্য ঠাকুমা রাতে দুধ আর খেজুরের গুড়ে রুটি জ্বাল করে রাখে। সকালে জমে থাকা সেই রুটি জ্বাল খেয়ে দাদু স্কুলে যায়।

    আজও তাই হল। তবে দাদু বেরোবার আগে ঠাকুমা একবার বড়োঘরে এল। আর বেশি করে লাল খয়ের দেওয়া পান হাতে দিয়ে বলল, “বাজারে চিংড়ি ওঠে এখন?”

    দেখি গিয়ে, দাদু পান মুখে দিয়ে বেরিয়ে গেল।

    এরপর ঠাকুমা কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় চলে গেল। আমি মণিপিসির চৌকিতে বসে কাঠের পাটাতনে ঠাকুমার পায়ের আওয়াজ গুনে জায়গা আন্দাজ করতে শুরু করি।

    ঠাকুমা উপরতলায় গিয়েই দক্ষিণ কোণায় চলে গেল। ওখানে ঠাকুমার সব আচারের বয়াম রাখা। ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস শব্দ বেড়ে গেল। ঠাকুমা এখন বয়ামগুলো সরিয়ে অন্যদিকে রাখছে। এরপর আবার ঠাকুমার হাঁটার শব্দ। দক্ষিণ দিক থেকে সরে একটু উত্তরদিকে গেল। ওখানে ঠাকুমার কাসুন্দির বয়াম রাখা।

    আমি লাল বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। উঠোনে মেলে রাখা সেদ্ধ ধানে পেয়ারা গাছের ছাড়া পড়ছে।
    আমাদের উঠোনে সবসময় রোদের আগে ছায়া আসে।

    একটু পরেই ফটকে রিক্সাওয়ালার হাঁক, “বাবু বাজার পাঠাইছেন।”

    উঠোনে ধপ করে বাজারের ব্যাগ পড়ে।

    মা বাজারের ব্যাগ থেকে সবার আগে বের করে আনে কুচোচিংড়ি। সাথে আইড়মাছ।

    আজ দুপুরের উনুনে শুরুতেই উঠেছে শাকঘণ্ট। কড়াইয়ের সর্যের তেল তেতে উঠতেই তাতে পড়ে হলুদ লবণ মাখানো কুচোচিংড়ি। তেলের আঁচ গায়ে লাগতেই মাছগুলো লাল হয়ে ওঠে। একটু ভেজেই ঠাকুমা মাছগুলো তুলে নেয়। এরপর সেই তেলেই ঠাকুমা ডুমো করে কেটে রাখা বেগুন ভেজে তুলে রাখে।

    এরপর কড়াইতে আর-একটু তেল পড়ে। তাতে ফোড়নে কালোজিরা আর কাঁচামরিচ। ফোড়ন পটপট করে উঠতেই ঠাকুমা কুচানো মুলা শাক দিয়ে দেয়।

    ও হ্যাঁ, মুলা শাকে কিন্তু ঠাকুমা লবণ মাখিয়ে জল ঝরিয়ে নিয়েছে।
    এরপর শাকে পড়ে হলুদ। একটু নেড়েচেড়ে আঁচ বাড়ায় ঠাকুমা উনুনের।

    —ও ঠাকুমা, কড়াইয়ে ঢাকনা দিলে না?

    —দিদি, সবুজ শাক কম ঢাকতে হয়, না হলে রঙ নষ্ট হয়ে যায়।

    বলেই আবার খুন্তা দিয়ে শাক নেড়ে দেয় ঠাকুমা। তেল আর হলুদে মুলা শাকের রং আরও সবুজ হয়েছে। ঠাকুমা নেড়ে নেড়ে শাকের জল শুকিয়ে নেয়।

    এরপর ভেজে রাখা কুচোচিংড়ি আর ডুমো বেগুন শাকে মিশিয়ে দেয় ঠাকুমা। ডুমো বেগুন শাকের কাছে আসতেই কেমন একাকার হয়ে মিশে যায়। এরপর ঠাকুমা আম কাসুন্দির বয়াম থেকে অনেকটা কাসুন্দি তুলে নেয় বাটিতে।



    শাকের সাথে বেগুন মিশে ততক্ষণে কড়াইয়ের ঘণ্ট প্রায় হয়ে এসেছে। এরপর ঠাকুমা শাকঘণ্টে আম কাসুন্দি মিশিয়ে উনুন থেকে নামিয়ে নেয়।

    দাদু স্কুল থেকে টিফিনে এসেছে। স্নান করে জপ সেরে লাল বারান্দায় পেতে রাখা পিঁড়িতে বসে পড়েছে।

    দাদুর পাতে আজ বেগুন পোড়া মাখা, শাকঘণ্ট আর নতুন আলু ডুমো ভাজা। আর বাটিতে আইড়মাছের রসা।

    আমি আজ ঠাকুমার সাথে খাব বলে জেদ ধরেছি।

    —ও গিন্নি, বসে পড়ো আমার সাথে; পিসিঠাকুমার খেতের শাকের কত স্বাদ দ্যাখো।
    দাদু শাকঘণ্ট দিয়ে ভাত মাখিয়ে সবুজ ভাত তুলে মুখে দেয়।

    সামনে দাঁড়িয়ে ঠাকুমার স্বগতোক্তি, দিদি মুলা শাক দিতেই আম কাসুন্দির কথা মনে হয়েছিল আমার।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৮১৮ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
মা - Ajay Mitra
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন