ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রৌহিন | ২৮ অক্টোবর ২০২০ ০৯:৪৩99248
  • "আইন সবার জন্য সমান" আর "আইন আইনের পথে চলবে" - এই দুটি ফ্রেজ নিয়ে কম ঠাট্টা ইয়ার্কি হয়নি। অথচ এগুলো এখনো ব্লাসফেমিই। আইন এখনো ঈশ্বরের সিংহাসনেই রয়ে গেছে

  • অনির্বাণ বসু | ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৭:৫৮99432
  • কিন্তু কমরেড, কোড তো লাগবেই। কোন একটা ফর্মে। যে নদী থেকে খাবার জল আসে, সেখানে কারখানার বর্জ্য ফেলা যাবে না, এটা একটা কোড। কোড থাকলেও যার ক্ষমতা থাকবে, সে কোড ভাঙবে, বর্জ্য ফেলবে। কোড কিভাবে তৈরি হবে আর প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে ব্যক্তি-স্বার্থের সঙ্গে সমষ্টির বোঝাপড়া তো চলতেই থাকবে। কিন্তু কোন কোড/আইন কিছুই থাকবে না, তা হলে তো ক্ষমতাবানেরই সুবিধা হবে। বরং একটা লিখিত আইন/ সংবিধান থাকলে - সেই অনুযায়ী চেপে ধরা যাবে। বরং কোড বানানোর প্রক্রিয়াতে যত বেশি মানুষ অংশ নিতে পারে সেটা দেখা দরকার। কোড নির্দিষ্ট সময়ের পরে রিভিউ হবে এটাও করা যেতে পারে। 

  • Somnath Roy | ০১ নভেম্বর ২০২০ ০৮:০৮99486
  • এই আলোচনার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছিলাম। আইনের শাসনের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যে আই জিনিসটা নিজে নিজেকে স্যাক্রোস্যাংক্ট দাবি করে বক্তব্য শুরু করে। বিচারপতি-রা মি-লর্ড হয়ে প্রায় ঈশ্বরের জায়গায় বসেন।  আইন ব্যবস্থাও যে পাবলিক সার্ভিসের অংশ- এইটা প্রায়শঃই ভুলে যাওয়া হয়।


    দ্বিতীয় সমস্যা, এটা একটা কমার্শিয়াল ব্যাপার।  উকিল পয়সা নিয়ে আপনাকে জেতানর জন্যে লড়বে। দুই-দিকেই বাদী বিবাদী লড়বে না, মূলতঃ লড়বে পয়সা নেওয়া উকিল। ফলে যে বেশি পয়সা ্দিতে পারবে, তার জেতার চান্স বেশি- এইটা যতদিন থাকবে, কোনওদিনও আদালত ব্যবস্থায় গণমানুষের খুব বেশি উপকার হবে না।  এবং এইটাই আরেকটু ওপরের স্তরে হয়ে যায়, কোড নির্মানের পদ্ধতি। ইলেটরাল বন্ড, লবিয়িং ইত্যাদি যে নামেই হোক, রাজনৈতিক দলকে যে বেশি পয়সা দেবে, কোড তার দিকে ঝোল টেনেই হবে।
    কোড নির্মাণের ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হয় তো, পঞ্চায়েত স্তর থেকে কোড গুলো র‍্যাটিফাই করানো, এবং সাহমত্য তৈরি করা।  তেমনি বিচারের ক্ষেত্রে, অপেশাদারদের সাহায্য নেওয়া (জুরি) ব্যপারটাকে পণ্যায়নের চূড়া থেকে নামাতে সাহায্য করতে পারে।


    তবে, আইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা, পুলিশ ছাড়া এ নুলো। পুলিশ হাত তুলে নিলে বিচারব্যাবস্থার গাছের একটা পাতা ছেঁড়ারও ক্ষমতা নেই।
    ফলে রাষ্ট্রীয় আইনব্যবথা, চারিত্রিক দিক থেকে হিংসানির্ভর এবং পণ্যায়িত।

    সামাজিক আইন, সামাজিক বিচারের চরিত্র এর থেকে কম নিষ্কলুষ বলে আমার মনে হয়। কিন্তু, সেখানেও অবশ্যই একটা জোর খাটানোর জায়গা, প্রভাবশালীদের প্রতিপত্তি, বংশগত দাদাগিরি থাকবে (সেগুলো রাষ্ট্রীয় আইনেও ব্যতিক্রম নয়)। সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে, আঞ্চলিক ইকুয়েশন প্রাধান্য পাওয়ায় এবং মান্য কোড না থাকায় দুর্বল এবং সংখ্যালঘু অংশ (নারী, দলিত, বিষমকামী, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি)-দের স্বার্থ ভীষণভাবে উপেক্ষিত হতে পারে। 
    কেজরিওয়ালের স্বরাজ গ্রন্থে পঞ্চায়েতের শাসনে সংখ্যালঘুর স্বার্থ কীভাবে দেখা যায় তাই নিয়ে আলোচনা আছে। উনি বলছেন, গ্রামসমাজের বাইরে দুর্বল অংশগুলির দেশব্যাপী সংগঠন রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে হবে (আমরা রাষ্ট্রের বদলে, তাঁদের নিজস্ব আন্দোলনের মাধ্যমে এইধরণের সংস্থার গড়ে ওঠা ভাবতে পারি)। এবং যেখানে এঁদের স্বার্থ্য চ্যালেঞ্জড হবে, সেখানে এই সংগঠনগুলি বিচারে অংশ নেবে।

  • অনির্বাণ বসু | ০১ নভেম্বর ২০২০ ১৬:৫২99518
  • "ফলে রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থা, চারিত্রিক দিক থেকে হিংসানির্ভর এবং পণ্যায়িত।"  - একমত। 


    "ব্যবস্থায়" অনেক সমস্যা রয়েছে, কিন্তু তাই বলে আইন- ব্যাপারটাই উঠে যাবে, বা আইনের শাসন বাস্তবসম্মত নয় তা তো নয়। এর বদলে অন্য ব্যবস্থা হবে। আইন ব্যাপারটাই উঠে যাবে, কারণ কিছু মানুষের কিছু আইন পছন্দ নয়, সেটা হতে পারে না। যেমন শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা থাকলে শিক্ষাই তুলে দিতে হবে, বা কিছু মানুষ কিছুতেই ইশকুল যাবে না, তাই ইশকুলের কোন মানে হয় না এটা যুক্তি হতে পারে না। 


    আর যদি এইটা পয়েন হয় যে আইন থাকলেই কিছু মানুষ তা ভাঙবে - সে তো অবভিয়াস। 

  • Somnath Roy | ০১ নভেম্বর ২০২০ ১৯:৪৬99529
  • শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আইনব্যবস্থার তুলনা খুব সঠিক কি? একই দেশের মধ্যে, একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকে, প্রাইমারি-সেকেন্ডারি ছাড়া আবকি শিক্ষা কম্পালসরিও নয়। অনেক দেশে হোম স্কুলিংও অ্যালাউ করে ইত্যাদি। আইন সেখানে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সঙ্গে প্রায় একার্থক। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করেও রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে এমন কি আজকের দিনেও হাজার হাজার মানুষ শিক্ষাব্যবস্থায় পার্টিসিপেট না করে বা ন্যূনতম পার্টিসিপেট করে টিকে থাকতে পারেন। কিন্তু, আইন সেরকম নয়।


    কিছু মানুষ আইন ভাঙবেনই এরকম আমি মনে হয় বলিনি, বলেছি আইন ব্যবসা যতদিন থাকবে, কিছু হাতে গোণা কিছু লোকই সেটার সুবিধে তুলবে।

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন