• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  ইতিহাস

  • ।। দেশবিদেশের অন্ত্যেষ্টি শিল্প (সপ্তম পর্ব- প্রণয়স্মৃতি) ||

    Sudipto Pal লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২৯ আগস্ট ২০২০ | ৩৯০ বার পঠিত
  • ৫/৫ (১ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • © SUDIPTO PAL
    কথা দিয়েছিলাম, আজকের অন্ত্যেষ্টিশিল্পের বিষয় হবে- ভালবাসা। প্রেমাস্পদের বিদায়-স্মারক হিসাবে মানুষ কী কী বানায়? স্মৃতিফলক বানায়, সমাধিসৌধ নির্মাণ করে, স্মারক পুরস্কার দেয়, তাজমহল পর্যন্ত বানায়। কিন্তু তার থেকেও বেশী কিছু বানাতে পারে? হ্যাঁ। রোম সম্রাট হেদ্রিয়ান করেছিলেন। গোটা একটা নগরের পত্তন ও পুরোপুরি নূতন একটা ধর্মবিশ্বাসের প্রবর্তন- দুটোই নিজের প্রেমিক আন্তিনোসের নামে। প্রাচীন গ্রীস ও রোম সাম্রাজ্যে সমকামিতা বা উভকামিতা অবৈধ তো ছিলই না বরং রাজদরবারে, অভিজাতবর্গে এবং দেবমণ্ডলীতে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল- গ্রীস, রোম দুই জায়গাতেই। যেমন সক্রেটিস, জুলিয়াস সীজার এঁরা উভকামী ছিলেন, দেবতাদের মধ্যে হারকিউলিস, অ্যাকিলিস ইত্যাদি। হেদ্রিয়ান দ্বিতীয় শতকের প্রথমার্ধে রাজত্ব করেছিলেন, এবং তাঁর বিশেষ অবদান ছিল সাম্রাজ্যের বিকেন্দ্রীকরণ, সাম্রাজ্যের অনেক দূর-দূরান্তে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছোনো, এথেন্সের হাদ্রিয়ান গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠা এবং রোমের প্যান্থেওনের সংস্কার। হেদ্রিয়ান ছিলেন গ্রীক সংস্কৃতির বিশেষ অনুরাগী, এবং পুরো সাম্রাজ্য জুড়ে গ্রীক সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আন্তিনোসও গ্রীক ছিলেন। আধুনিক তুরস্কের একটি গ্রীক শহরে তাঁর জন্ম। মোটামুটি তাঁর যখন বারো বছর বয়স তখন হেদ্রিয়ান ওনাকে রোমে নিয়ে আসেন।

    আগেও বলেছি- কথায় আছে- সব পথই রোম যাবার পথ। তাই এই নিয়ে তৃতীয়বার আমার ধারাবাহিকে রোমের প্রসঙ্গ ফিরে এল। যাই হোক, গ্রীসের মত উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা রোমে ছিল না। রাজাদের নিজস্ব ছোটখাটো স্কুল থাকত যেখানে মূলত গ্রীক দাসেরা শিক্ষকের কাজ করতেন (বা বলা ভাল গ্রীক শিক্ষকদের দাস হিসাবে ধরে নিয়ে আসা হত)। এই স্কুলগুলোকে পেডাগগিয়াম বলা হত। এরকমই একটি পেডাগগিয়ামে হেদ্রিয়ান আন্তিনোসের শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। আরও বছর তিনেক পরে আন্তিনোস যখন কিশোর তখন হেদ্রিয়ান ওনাকে নিজের সামরিক ও প্রাশাসনিক সফরগুলোতে সঙ্গে নিয়ে যেতে শুরু করেন। ১২৭ থেকে ১৩০ সাল অবধি এই তিন বছর দুজনে একসাথে কাটান। ইতালি থেকে গ্রীস, সেখান থেকে আনাতোলিয়া, জর্ডান, ইসরায়েল হয়ে মিশর। মিশরে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয় আন্তিনোসের- নীলনদের জলে। অনেকের মতে দুর্ঘটনা, অনেকের মতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অনেকের মতে হেদ্রিয়ানের কঠিন অসুখ সারানোর জন্য ধর্মীয় আত্মবলিদান। সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তখন মোটামুটি আঠেরো থেকে কুড়ির মধ্যে বয়স ওনার।

    মিশরের রীতি মেনে হেদ্রিয়ান আন্তিনোসের মমি তৈরী করান এবং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এবং এর জন্য ছয়মাস উনি মিশরে থিতু হন। এরই মধ্যে উনি ঘোষণা করেন নূতন একটি নগর পত্তনের কথা- আন্তিনোপোলিস। এখানে হেদ্রিয়ানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা লক্ষণীয়। এই শহরের জায়গায় রামেসিসের মন্দির আগে থেকেই ছিল, যার ফলে এই জায়গাটার ধর্মীয় গুরুত্ব ছিলই। রামেসিসের মন্দিরটা কিন্তু উনি ভেঙে ফেলেননি, তবে শহরটা উনি গ্রীক আদলে গড়ে তোলেন- ঐ অঞ্চলে গ্রীক সংস্কৃতির প্রসারের জন্য। নীলনদের মধ্য-উপত্যকায় এটিই প্রথম গ্রীক ধাঁচের শহর। আন্তিনোসকে উনি দেবতার স্থানে উত্তীর্ণ করেন ওসিরিস-আন্তিনোস নাম দিয়ে। ওসিরিস ছিলেন মিশরের প্রজনন ও পরলোকের দেবতা। এর মাধ্যমে ওনার একটা প্রচেষ্টা দেখা যায় গ্রীক ও মিশরীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন করার। অনেক বড় বড় মন্দির ও অন্যান্য স্থাপত্য এই শহরে গড়ে তোলা হয়। এছাড়া আন্তিনোসের নামে আন্তিনোইয়া নামের ক্রীড়া অনুষ্ঠান- অনেকটা অলিম্পিকের মত- প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হত। ঘোড়দৌড়, রথের দৌড়, অ্যাথলেটিক্স এসবের প্রতিযোগিতা হত- এছাড়া শিল্পকলার প্রদর্শনী, সঙ্গীতানুষ্ঠানও হত। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার নানারকম হত- আর্থিক পুরস্কার, এই শহরের নাগরিকত্ব পাবার সুযোগ (হ্যাঁ, নগরের নাগরিকত্ব একটা দুর্লভ জিনিস ছিল সেযুগে) ইত্যাদি। অর্থাৎ হেদ্রিয়ান আন্তিনোসকে দেবোত্তীর্ণ করার সবরকম উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

    মানুষকে দেবতার স্থানে উত্তীর্ণ করা হলে রোমে তাদেরকে দিহ্বুস (পুং- divus) বা দিহ্বা (স্ত্রী- diva) বলা হত, আর অপৌরুষেয় দেবতাদেরকে দেউস (deus) বলা হত। এই সবকটি শব্দই গ্রীক শব্দ 'থেওস' (theos) আর সংস্কৃত 'দেব' শব্দের সাথে তুলনীয়। যাই হোক,এর আগে কি এরকমভাবে কোনও মানুষকে দেবতার স্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল রোমান সংস্কৃতিতে? উদাহরণ আছে, তবে তারা সবাই রাজবংশজাত। সম্রাটের প্রণয়ী হলেও আন্তিনোস রাজবংশজাত ছিলেন না। এটা একটা উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। হেদ্রিয়ান আন্তিনোসকে দেবোত্তীর্ণ করার জন্য সেনেটের প্রয়োজনীয় অনুমোদন কিন্তু নেননি। তা সত্ত্বেও কিন্তু এই নূতন ধর্মবিশ্বাস ভালভাবেই জনপ্রিয় হয়েছিল। দেবোত্তীর্ণকরণ খুব বিশাল ব্যাপার নয়, রাজপরিবারগুলোর অনেক লোকেরই হত, কিন্তু যার রাজবংশের সাথে জন্মগত বা বৈবাহিক সম্পর্ক কোনওটাই নেই, তার এই সম্মান পাওয়া এবং এত বিশাল একটা কাল্টে পরিণত হওয়াটা বিশাল ব্যাপার। জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় দুই জায়গা থেকে। এক, আন্তিনোসের যে পরিমাণ মূর্তি সারা রোম সাম্রাজ্য জুড়ে পাওয়া যায়, এক অগস্টাস আর খোদ হেদ্রিয়ান ছাড়া সেযুগের অন্য কারও পাওয়া যায় না। অনেক মূর্তি খৃষ্টানরা ধ্বংস করে দিয়েছে, তা সত্ত্বেও মূর্তির প্রাচুর্য লক্ষণীয়। দুই, একটা ধর্মবিশ্বাসের জনপ্রিয়তা বোঝা যায় তার প্রতি অন্য ধর্মমতগুলির বিদ্বেষের বাহুল্য থেকে। খৃষ্টধর্মের প্রথম যুগের লেখক ও সন্তদের মধ্যে অন্ততঃ চারজনের লেখার মধ্যে আন্তিনোস-কাল্টের প্রতি বিদ্বেষ দেখা গেছে। রোমান সনাতন বা পেগানধর্মীদের মধ্যেও আন্তিনোস-কাল্টের প্রতি প্রথমদিকে বিদ্বেষ ছিল, তবে পরের দিকে কিন্তু তারা এই মতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়- বিশেষ করে চতুর্থ শতকে কনস্টানটাইনের সময় থেকে, যখন খৃষ্টধর্ম রোমে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে থাকে।

    খৃষ্টধর্মে সমকামবিদ্বেষ শুরু থেকেই ছিল, সেটা বাইবেলের সোদোম ও গোমরার কাহিনীতে, বিশেষ করে লূতের কাহিনীতে দেখা যায়। তাই শুরুর দিককার খৃষ্টান লেখকরা আন্তিনোসের কাল্টকে এবং হেদ্রিয়ান ও আন্তিনোসের সম্পর্ককে অনৈতিক বলেছেন। য়ুরোপের অন্যান্য পেগান ধর্মের পাশাপাশি মুছে গেছে আন্তিনোসের কাল্টও।

    খাতায় কলমে আন্তিনোসের কাল্ট হয়তো ইম্পেরিয়াল কাল্ট বা রাজধর্ম ছিল না কারণ সেনেটের অনুমোদনের দপ্তরী প্রক্রিয়া হেদ্রিয়ান অনুসরণ করেননি, কিন্তু জনপ্রিয়তায় কোনও খাদ ছিল না। নানা কারণে এই কাল্ট বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল-

    ১) গ্রীক ও রোমান সংস্কৃতিতে স্বর্গের পুরুষ দেবতারাও আকৃষ্ট হতেন সুদর্শন কিশোর ও যুবকদের প্রতি। এই কাল্ট সেই পরম্পরাকেই চিত্রায়িত করে।

    ২) আন্তিনোসের মূর্তি খুব সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হত- গ্রীক পুরুষালি সৌন্দর্য ও পবিত্রতার পরাকাষ্ঠা হিসাবে- রূপ-যৌবনের প্রতীক হিসাবে। মূর্তিগুলোর সৌন্দর্য ও এরোটিকা অনেক মানুষকে টানত। পশ্চিমের সমস্ত বড় মিউজিয়ামে ওনার সুন্দর সুন্দর মূর্তি পাওয়া যায়।

    ৩) আন্তিনোসের মূর্তি নানারকম রূপে তৈরী করা হত- বেকাস, ডিয়নিসুস, ওসিরিস নানারকম দেবতার রূপে- গ্রীক, রোমান, মিশরীয় নানা সাজে- কখনও পুরোহিতের বেশে, কখনও যোদ্ধার বেশে- বৈচিত্রময় রূপে। মানুষকে দেবতা বানানোর জন্য তাকে নানারূপে দেখানো, শিল্পসুষমা সহকারে দেখানো এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী দেবদেবীর সাথে যুক্ত করে দেখানো খুব জরুরী- যেটা আমরা বুদ্ধ, কৃষ্ণ ও যীশুর ক্ষেত্রেও দেখি।

    ৪) তাছাড়া উনি মানুষ থেকে দেবোত্তীর্ণ হয়েছিলেন- ফলে মানুষ তার সাথে রিলেট করতে পারত।

    ৫) প্রথম দিককার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, রোমে কোনও রাজবংশ কয়েক দশক এবং কয়েক প্রজন্মের বেশি রাজত্ব করেনি। অর্থাৎ শুধু রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটা ধর্ম, বিশেষ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধর্ম বেশিদিন চলা সম্ভব ছিল না। আর আন্তিনোসের নিজের কোনও সন্তান ছিল না। এমনকি হেদ্রিয়ানেরও কোনও সন্তান ছিল না- এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের পুত্রকে উনি দত্তক নেন। অতএব উত্তরসূরীদের মাধ্যমে দেবতা হয়ে টিকে থাকা আন্তিনোসের পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ কিছু মানুষের সত্যিকারের আগ্রহ এখানে ছিল।

    ৬) সমকামিতা যথেষ্টভাবে প্রচলিত ছিল সেই যুগে। সমকামী মানুষদের দেবতা হিসাবে উপাসনা বা সমকামী দেবতাদের উপাসনা (যেমন হারকিউলিস) সেইযুগে অশ্রুতপূর্ব ছিল না। উদাহরণ দেবার জন্য আমাকে আরেকটি যুগলের কাহিনী ও আরেকটি অন্ত্যেষ্টিশিল্পের কাহিনী বলতে হবে। চলুন আরো সাতশ বছর পিছিয়ে যাই।

    হার্মোদিউস ও আরিস্তোজেইতন- ষষ্ঠ পূর্বশতকের দুজন গ্রীক বীর যাঁরা সমকামী ছিলেন- এথেন্সের মানুষেরা গণতন্ত্রের যুগে তাঁদের দেবতার মত সম্মান দিত। কারণ এঁরা এথেন্সের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভুমিকা পালন করেছিলেন। জীবদ্দশায় ওনারা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু এথেন্সে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবার পর পঞ্চম পূর্বশতকে বিশেষভাবে অর্থসংগ্রহ করে ওনাদের মূর্তি তৈরী করা হয়। এথেন্সের ইতিহাসে এই প্রথম পাবলিক ফান্ড ব্যবহার করে কারও মূর্তি তৈরী হয়েছিল- কৃতজ্ঞতার চিহ্ন হিসাবে। ওনারা কোনও উত্তরসূরী রেখে গিয়েছিলেন কিনা জানা নেই, কিন্তু মরণোত্তর সম্মানের জন্য সন্তান প্রজনন যে বিশেষ জরুরী নয়, তার উদাহরণ এটা। এখন যে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে গণতন্ত্র আছে তার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ওনাদের প্রাপ্য। পাশ্চাত্যের অনেক মিউজিয়ামেই এঁদের মূর্তি এখনও পাবেন। শুধু গ্রীসে নয়- পারস্য ও রোমেও অনেক জায়গায় ওনাদের মূর্তি ছিল। আর শুধু মূর্তি নয়, অনেক বন্দনাকাব্যও রচনা হয়েছিল ওনাদের উদ্দেশ্যে গ্রীক ভাষায়- এডগার এলান পো'র ইংরাজী অনুবাদও আছে।

    গ্রীস বা রোমের প্রাপ্তবয়স্ক বা মধ্যবয়স্ক পুরুষের সাথে কিশোর পুরুষদের সম্পর্ককে বলা হত পেডেরাস্টি। গ্রীসে এই ধরনের সম্পর্কের মাধ্যমে কিশোররা অনেক গঠনমূলক শিক্ষা পেত। আবার অনেকক্ষেত্রে ক্রীতদাসত্ব, অপহরণ, বা বেশ্যাবৃত্তিও পেডেরাস্টির সাথে যুক্ত হত। আবার ওখানে সবরকম সমকামী সম্পর্কই যে পেডেরাস্টি হত তা কিন্তু নয়। সমবয়স্ক স্বাধীন পুরুষদের মধ্যেও সম্পর্ক হত। হেদ্রিয়ান আন্তিনোসের সম্পর্কটাকে অনেকে পেডেরাস্টি হিসাবে চিহ্নিত করে। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে আন্তিনোসের কাল্টে আন্তিনোসের সমস্ত মূর্তিতেই তাকে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক হিসাবেই দেখানো হয়, কিশোর হিসাবে নয়।

    আন্তিনোপোলিসের শেষ চিহ্নগুলোও বিলুপ্ত হয়ে যায় যখন মিশরের শিল্পপতিরা ঐ শহরের পাথরগুলো খুলে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় ব্যবহার করা শুরু করে- উনবিংশ শতকে। তবে এখনও ল্যুভ, ভ্যাটিকান মিউজিয়াম, এথেন্স আর্কিওলোজিকাল মিউজিয়াম সহ অনেকগুলি সংগ্রহশালায় তাঁর অনেকগুলি মূর্তি সংরক্ষিত আছে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে হেদ্রিয়ান ও আন্তিনোসকে। প্রণয়ী, বা স্বামী বা স্ত্রীর স্মৃতিতে স্মারক গড়ার আরও অনেক উদাহরণ আছে। ভারতেই আছে- তাজমহল- যার বিষয়ে নূতন করে বলাটা বাহুল্য। জাপানে আছে তোকেই-জি বৌদ্ধ মন্দির, যেটা সন্ন্যাসিনী কাকুসান-নি তাঁর প্রয়াত স্বামী যোদ্ধা হোজো তোকিমুনের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন। প্রণয়ীর নামে গোটা একটা শহরের পত্তনের উদাহরণ ইতিহাসে থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু প্রেমিকের স্মৃতিতে গোটা একটা ধর্মবিশ্বাসের প্রচলনের উদাহরণ ইতিহাসে বিরল।

    ছবি: ছবিতে আন্তিনোস নানা রূপে। ২, ৩, ৪ নং ছবিতে উনি পুরোহিত, ওসিরিস (মিশরীয় প্রজননের দেবতা) ও বেকাস (রোমের মদিরা, কৃষি ও প্রজননের দেবতা) রূপে। ৬ নং ছবিতে হেদ্রিয়ানও আছেন (ব্রিটিশ মিউজিয়ামে)। শেষ ছবিটা হার্মোদিউস ও আরিস্তোজেইতনের। ছবিগুলির মধ্যে প্রথমটি লেখকের নিজের তোলা, বাকিগুলি উইকিমিডিয়া থেকে।







    image credit: By Miguel Hermoso Cuesta - Own work, CC BY-SA 3.0, https://commons.wikimedia.org/w/index.php?curid=26763859

    তথ্যসূত্র:
    https://en.wikipedia.org/wiki/Antino%C3%B6polis

    https://en.wikipedia.org/wiki/Antinous

    https://en.wikipedia.org/wiki/Hadrian

    https://en.wikipedia.org/wiki/Harmodius_and_Aristogeiton
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৯ আগস্ট ২০২০ | ৩৯০ বার পঠিত
  • ৫/৫ (১ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন