• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • করোনাকালীন পর্ব তিন

    Anuradha Kunda
    আলোচনা : বিবিধ | ১৬ জুলাই ২০২০ | ৭১ বার পঠিত

  • ইটারসি থেকে দলটা একটু ছোট হয়েছে।ভাগ হয়েছে। প্রায় কুড়ি জনের একটা দল চলে গেছে দক্ষিণের দিকে।সুখনলালরা এখন আটজন। আটজন চলেছে নাগপুর স্টেশনের দিকে।দুই পায়ে দপদপে ব্যথা। দিনে নয়ঘন্টা হাঁটছে এখন ওরা।ভোর তিনটের সময় চলা শুরু ।দিনে পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার হাঁটতেই হবে।বাড়ি যেতে হবে।বাড়ি । এক একেক দিন পেটে ব্যথা ওঠে।এত ব্যথা করে যে পেটে গামছা বেঁধে শুয়ে পড়ে।সুখনলালের একদিন খুব ব্যথা উঠেছিল।মনে হয়েছিল আর বাঁচবে না।সে কী গোলানি পেটে।সেদিন ওকে বাঁচিয়েছিল এক ট্রাক ড্রাইভার। রাস্তার একটা বেখাপ্পা জায়গাতে বেদ্না উঠল। সেটা ন্যাশনাল হাইওয়ে ।দলের বড় অংশটা বেরিয়ে গেছে তখন।সুখনের সঙ্গে সাতারিয়া হেমব্রম, সহিল কুমার গৌড, তার বউ বাচ্চা, বাসরাও মুণীশ আর তিন চারজন। ওরা সবাই নভি মুম্বাইতে পূরণপানি পঞ্চায়েতে কাজ করতো। প্রাণপণে দলটা ছুটছে তখন নাগপুরের দিকে। পয়লা মে থেকে নাকি চালু হয়েছে শ্রমিক টেরেইন। মুম্বাই থেকে ছেড়েছে আগের দিন সকাল সোয়া আটটায় । নাগপুরে যদি টেরেইন ধরা যায় তো পরেসানি অর্ধেক হয়ে যাবে।সরকার বলেছে টেরেইনে শুধু সেকেন ক্লাসের ভাড়া। ওই দিয়ে খাবার, ওষুধ,খাবার জল, কাপড়, জুতা সব পাওয়া যাবে।এ যেন হাতে চাঁদ পাওয়া।কতদিন হল কাপড় ছাড়া নাই।পায়ে চটি ছিঁড়ে গেছে। খাবার নাই রোজ।গত দুদিন কিছুই জোটে নি।পেট কামড়ায়। বমি হলে শুধু জল।
    ভোর রাতে পেট যেন কে টেনে ধরলো। সুখন ভাবল মাঠে গেলে ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু হল না। কামঠ যেন ছিঁড়ে খাচ্ছে নাড়িভুঁড়ি । সুখন মাটিতে পড়ে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল।নাগপুরে টেরেইন ধরা বুঝি হল না আর।
    ট্রাক ড্রাইভার গুরবংশ সিং। গোটা দলটাকে তুলে নিয়েছিল ট্রাকে। সুখন যন্ত্রণাকে গিলছিল।কিছু নাই।খাবার নাই।শুধু বেদ্না আছে। তাই খাই। সুখন ঠোঁটে ঠোঁট চেপে যন্ত্রণাকে গিলে খায়।একটা একটা করে ঘাই আসে পেটে। সুখন কাতরায় আর বলে, আয়, আয় শালা বেজন্মা বেদ্না। তোকে গিলে খাব। তোর গুষ্টি গিলে খাব। সূখনলাল বাঁচবে। পৌঁছাতে হবে ছেলেটার কাছে।ট্রাক চলেছে দুরন্ত বেগে।সুখনলালের যন্ত্রণা ফিরে ফিরে আসছে।দরদর করে জল পড়ছে চোখ দিয়ে ।আরে মারে।বাঁচা লিয়ো।সহিলের বউ বলেছিল ট্রাক ড্রাইভারকে, ভাইয়াজি গাড়ি রোকো। ইয়ে আদমি মর যায়েগা।

    অনেকক্ষণ বাদে জ্ঞান ফিরেছিল সুখনের। শরীর হাল্কা লাগছে কিছুটা। পেট গোলাচ্ছে।কিন্তু বেদ্না কম।একটা ধাবাতে খাটিয়ার উপর শুয়ে সুখনলাল। পেটের উপর ভিজা কাপড়। পেটে হাত দিয়ে সুখন বোঝে পেট তেলতেল করছে। গন্ধ শোঁকে। সর্ষের তেল। কেউ আচ্ছা করে সর্ষের তেল দিয়েছে তার পেটে।জল দিয়েছে।তারপর ভিজা কাপড় দিয়ে দিয়েছে । সহিলের বউ ঐদিকে গাছের তলার খাটিয়াতে বসে বাচ্চাদের রুটি খাওয়াচ্ছে।গুরবংশ সিং হাত ধুতে গিয়েছিল।মুছতে মুছতে ফিরে আসছে।
    - ক্যা ভাইয়া।ঠিক হো আমি? আচ্ছা খাসা হট্টা কট্টা আদমি,ক্যা হালত বানা লিয়া। চলো রোটি শোটি খাও।
    রুটি না।সুখনের প্রাণ তখন দুমুঠো ভাত চাইছে। দুদিন পেটে কিছু নাই।
    গুরবংশ সিং পেটে তেল আর জল মালিশ করে দিয়েছে । গুরবংশ সিং খাদ্যের খোঁজও দিয়েছে। বাড়ি থেকে টিফিন বাক্সে এনেছিল চাউল, কালি দাল। সবজি।সামান্য খেতে পারল সুখন। সর্দার ধাবার রুটি তরকা খেয়েছে। অ্যাসিডিটির ওষুধ গুরবংশের কাছে সবসময় থাকে।লম্বা রাস্তা চলে ট্রাক নিয়ে ।ওষুধ রাখতে হয়। গমের ট্রাক নিয়ে বেরিয়েছে। নাগপুর পর্যন্ত ওদের ছেড়ে দেওয়াই যায় ।
    দুদিন তিনদিন বাদে বাদে পেটে কিছু পড়ে।তারপর আবার চলা।সুখন বুঝল শরীর খুব দুর্বল। চলার শক্তি নাই।সামান্য ভাত ডাল পেটে পড়েছে। ওষুধ ।সুখনলাল ট্রাকের পিছনে গমের বস্তার ফাঁকে শুয়ে পড়ে। কী আরাম।ব্যথা কমল অনেক। এত আরামে অনেকদিন শোয়া হয়নি সুখনলালের। বস্তা বস্তা গম যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে কে জানে।সুখনলাল জানতেও চায়না।বস্তার ফাঁকে ফাঁকে নিজের শরীরগুলো ঢুকিয়ে নিয়ে চলেছে হতক্লান্ত মানুষগুলো।চলোরে চলো।শ্রমিক টেরেইন পকড়না হ্যায়
    পা খসে পড়ে যেন।কতদিন বাদে এই গতিময় শোয়াটুকু। ঘর আউর কিতনা দূর?
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৬ জুলাই ২০২০ | ৭১ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ক্ষমা - Rumela Saha
আরও পড়ুন
#আমি - Jinat Rehena Islam
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • করোনা

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত