• টইপত্তর  অন্যান্য

  • লকডাউনে অর্থনীতিঃ ৫—টাকা ছাপানো কি “ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ”? এবং -৬ বদলে যাওয়া জীবিকা

    রঞ্জন
    অন্যান্য | ১২ জুলাই ২০২০ | ৪২৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • লকডাউনে অর্থনীতিঃ ৫টাকা ছাপানো কি ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?

    [ শুরু হয়েছে লকওপেন-১ বা তালা খোলা। এই সময়ে একটু দেখে নিই আমরা কে কোথায় দাঁড়িয়ে]

    কেউ কথা রাখেনি:

    প্রথম লকডাউন ঘোষণার পর মোদীজি বারাণসীর জনসভায় বলেছিলেন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ে লাগবে ২১ দিন , কুরুক্ষেত্র ধর্মযুদ্ধের চেয়ে মাত্র তিনদিন বেশি।[1] সবাই থালা বাজিয়ে শাঁখ ফুঁকে স্বাগত জানাল। কিন্তু চারচারটে লকডাউনের পর এখন ‘লক ওপেন’ এর সময় ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দু’লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। এই বাবদ ভারত এখন বিশ্বে চারনম্বর। তবে মৃত্যু দর মাত্র ২.৮%, রাশিয়ার পরেই (১.১৫%)।

     অবশ্য উনি নোটবন্দীর সময়েও দেশবাসীর কাছে ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন কালোটাকা ধরবার জন্যে, ‘ব্যর্থ হলে শাস্তি দিও’ বলেছিলেন।[2]  যদিও দু’বছর পরে দেখা গেল ৯৯% কালো টাকা সাদা হয়ে ব্যাংকে ফিরে এসেছে।

    প্রচারমাধ্যমে শোনা গেছল শ্রমিক ট্রেনের টিকিটের ৮৫% ব্যয়ভার কেব্দ্রীয় সরকার বহন করবে। কিন্তু ২রা মে তারিখে রেলদপ্তরের অর্ডার জানাচ্ছে যে রাজ্যসরকার শ্রমিকদের থেকে ট্রেনে চড়ার আগে ভাড়া আদায় করে রেলওয়েকে জমা দেবে।[3] শেষে সুপ্রীম কোর্টে বিচারকদের প্রশ্নের উত্তরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার নয় রাজ্যসরকারই টিকিটের খরচ বহন করছে। কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে যেন এক পয়সা না নেওয়া হয়  এবং তাদের যেন বিনামূল্যে জল ও খাবার সরবরাহ করা হয়।[4]

    আর্থিক বিকাশের দর বা জিডিপি গ্রোথ নিয়ে সরকারের ডেটা ৪.২% বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোর কাছে খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না । ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড বলছিল ১.৯%,[5] প্রাক্তন মুখ্য স্ট্যাটিস্টিশিয়ান প্রণব সেন বলছেন অন্ততঃ ১% বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। নমুরা রিসার্চ এবং অন্য সংস্থারাও এই গ্রোথ এ বছর ১% থেকে ২% এর বেশি ভাবছে না। [6]স্টেট ব্যাংকের চিফ ইকনমিস্ট সৌম্যকান্তি ঘোষ বলছেন ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অর্গানাইজেশন ওদের হিসেবের পদ্ধতি স্পষ্ট করুক।[7]

    এককথায় কোবিদ-১৯ এবং লকডাউনের ফলে কোম্পানির বড়কর্তা থেকে দিন -আনি- দিন-খাই মজুর সবার আয় কমেছে দারুণভাবে। এটা গোটা বিশ্বের সবদেশেই ঘটছে। কিন্তু ভারতে ২০১৬ সালের নোটবন্দী ইত্যাদির ফলে ইনফর্মাল ইকনমি যা কিনা অর্থনীতির ৯০%, আগেই মার খেয়ে কুঁকড়ে গেছে। ফলে বর্তমান সংকট আরও তীব্র।

    সরকারের রিলিফ প্যাকেজের প্রভাব কতদূর?

    আগেই বলেছি ভারতের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সেগমেন্ট হল মাইক্রো-স্মাল অ্যান্ড মিডিয়াম -এন্টারপ্রাইজ (এমএসএমই)। এদের অবদান দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং আউটপুটের ৪৫%, রফতানির ৪০% এবং জিডিপি’র ৩০%। এরা কাজ যোগায় ১১ কোটি মানুষকে।

    তাই সরকারের রিলিফ প্যাকেজের অভিমুখ ছিল এই ইউনিটগুলোকে সস্তাদরে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করাতে। বিভিন্ন সার্ভে থেকে মনে হচ্ছে না যে এই মানিটরি দাওয়াই বর্তমান সংকটে কাজে আসবে। [8]

    এক, এই ছোট ছোট ইউনিটগুলোর ঋণের চাহিদা হল প্রায় ৭০ লক্ষকোটি টাকা। এর মাত্র ১৫% যোগান আসে ব্যাংক বা অন্য ফর্ম্যাল ফিনান্সিয়াল সংস্থার থেকে।

    দুই, এই দাওয়াই বাজারে সক্রিয় প্রভাব ফেলতে অনেক সময় নেয়। ততদিনে অনেক ইউনিট ঝাঁপ ফেলে দেবে।

    তিন, এই লকডাউনের বাজারে ব্যাংক বা কেউ সহজে ঋণ দিতে চাইছে না। রিজার্ভ ব্যাংক জানুয়ারি থেকে এপ্রিল নাগাদ আর্থিক ব্যবস্থায় ৮ ট্রিলিয়ন ঠুঁসে দিয়েছিল ( দ্বিতীয় প্যাকেজ দেখুন)। কিন্তু  ব্যংকগুলো সেই টাকায় ঋণ না দিয়ে অন্ততঃ ৮.৫ ট্রিলিয়ন কম সুদে (রিভার্স রেপো রেটে) ফের রিজার্ভ ব্যাংকেই জমা করে দিয়েছে ।[9]

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এক প্রেস কনফারেন্সে বললেন – ব্যাংক যেন সিবিআই, সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স এবং অডিটের তোয়াক্কা না করে যোগ্য প্রার্থীদের ‘অটোমেটিক্যালি’ লোন দেয় ।[10]

    এদিকে অনেক নাম করা ব্যবসায়ীগ্রুপ, যেমন অনিল আম্বানী গ্রুপ, ক্যাফে কফি ডে, জেট এয়ারওয়েজ এবং  আইএলএফ এস এর মত সংস্থা  ব্যাংকের ডিফল্টার হয়েছে। ব্যাংক ভয় পাচ্ছে এই ঠান্ডা বাজারে যখন এমএসএমই এবং কন্সট্রাকশন কোম্পানির  শ্রমিক কর্মচারিদের বড় অংশ ঘরে ফিরে গেছেন তখন অধিকাংশ  ইউনিট লোন নিতে চাইবে না। অথবা হুড়মুড়িয়ে সস্তা লোন তারাই নেবে যারা সেটা নিয়ে বাজারে তাদের ধার দেনা চোকাবে, কিন্তু বিজনেসে লাগাবে না এবং একবছর পর  লোন অনাদায়ী হলে ১০০% গ্যারান্টি নেওয়া সরকারকে দেখিয়ে দেবে।

    আসলে মন্দার সময় বাজার চাঙ্গা করতে চাই অ্যান্টিবায়োটিক বা শর্ট টার্ম সমাধান--  রাজকোষ ব্যয় বা ফিস্ক্যাল এক্সপেন্ডিচার বাড়িয়ে। সোজা কথায় লোকের হাতে টাকা দেওয়া। তাতে বাজারে এফেক্টিভ ডিমান্ড বা ‘ক্রিয়াশীল চাহিদা’ বাড়বে।

    কীভাবে?

    যেমন সরকারের জনকল্যাণে খরচা বাড়ানো। বর্তমান এমার্জেন্সিতে বিনামূল্যে রেশন এবং সরকারের রাজকোষ থেকে লোককে কাজ হারানোর জন্যে বেকারভাতা দেওয়া।

     কতদিন? যতদিন কলকারখানা, বাজারহাট , দোকানপাট, গাড়িঘোড়া চলাচল শুরু হয়ে স্বাভাবিক জীবনশুরু হচ্ছে না , ততদিন। ধরুন, অন্ততঃ ছ’মাস। এমনও হয়? হ্যাঁ, আমেরিকা ইংল্যান্ড দিচ্ছে এবং ইউরোপের অনেক দেশ দিচ্ছে।

    আমেরিকা ২ ট্রিলিয়ন ইকনমিক রেসকিউ প্ল্যান সেনেটে পাস করিয়ে [11]কাজ হারানো.২২ মিলিয়ন নাগরিককে বেকার ভাতা এবং অতিরিক্ত প্রতি সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে দিচ্ছে আর ৫০০ বা তার কম কর্মচারিওলা এমপ্লয়ারকে স্টাফের মাইনে দিতে দু’মাসের জন্যে বিনা সুদে ঋণ দিচ্ছে।[12]

    ডেনমার্ক বলছে এই সময় ছাঁটাই না করার শর্তে মাইনের ৯০% কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেবে। ইউকে.৮০% এবং নেদারল্যান্ডও ঘরে বসে থাকা কর্মচারিদের ভর্তুকি দিচ্ছে।[13]

    আর দরকার কিছু পরিষেবা নির্মাণের কাজ প্রাইভেট সেক্টরের ভরসায় না থেকে  নিজেরা শুরু করা। বিশেষ করে হেলথকেয়ারে; গাঁয়ে গঞ্জে ছোট ছোট হাসপাতাল , সরকারি ওষূধের দোকান এবং সাপ্লাই চেন গড়ে তোলা। এর চাহিদা এবং এতে রোজগারবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুটোই রয়েছে।

    কিন্তু সরকার খরচ করবে কী করে? টাকা কোথায় ? এমনিতেই  ডেফিসিট বা ঘাটতি বাজেট হয়েছে।

    টাকা কোত্থেকে আসবে? নোট ছাপানো?

    সরকার  বাজারে বন্ড ছাড়লে নেবার পাবলিক নেই। মন্দা এবং করোনাতে জনতার আয় এবং সেভিং দুটোই কমে গেছে।  যদি আর্থিক সিস্টেম বা ব্যাংকের থেকে বন্ড বেচে টাকা নিতে হয় তো চাপ আছে; অন্ততঃ ৫ থেকে ৬% সুদ দিতে হবে। নইলে ব্যাংকগুলো রেপো রেটের কম সুদে (এখন ৩.৭৫% থেকে কমে ৩.৩৫%) রিজার্ভ ব্যাংকে বাড়তি টাকা জমা রাখবে। কারণ এটা অল্প সময়ের জন্যে । সরকারি বন্ড আরও  বেশি সময়ের জন্যেও টাকা আটকে রাখবে।

    অগত্যা? সেই রিজার্ভ ব্যাংকে ট্রেজারি বিল বা অল্পকালীন বন্ড জমা রেখে নতুন টাকা ছাপাতে বলা। ট্রেজারি বিল ৯১ দিন, ১৮২ দিন বা ৩৬৪ দিনের জন্যে বিনা সুদে জারি হয়।  সরকার লিখে দেয় যে অমুক তারিখে এই টাকা সরকার রিজার্ভ ব্যাংককে ফেরত দেবে ।  এ যেন মাসে পকেটে টান পড়লে বন্ধুর থেকে ধার নেয়া।

    এই হল মনিটাইজেশন অফ ফিস্ক্যাল ডেফিসিট  বা রাজকোষের ঘাটতিকে নোট ছাপিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যাতে মানি মার্কেট এবং ব্যাংককে এড়িয়ে সরকার সোজা রিজার্ভ ব্যাংকের থেকে লেনদেন করে নেয়।

    ইদানীং কালে কোন আধুনিক দেশ এই নোট ছাপানো কেস করেছে?

    ২০০৭-০৮ সালে আর্থিক বাজারে যে ব্যাপক মন্দা শুরু হল তা ক্রমশঃ সমস্ত উন্নত দেশে ছড়িয়ে পড়ল। তখন ওয়েলফেয়ার স্টেট তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যাঙ্কগুলোতে টাকা ঢালা এবং বেকার ভাতায় বৃদ্ধি শুরু করল। তারপর টাকার ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের অল্পকালীন বন্ড কিনে সরকারকে টাকা ধার দিল, অর্থাৎ নোট ছাপাল, ফলে বাজারে টাকার যোগান বাড়ল। যেমন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ২০০৯ সালে দু’দফায় ১৬৫ এবং ১৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারি বন্ড কিনল মানে, বদলে সরকারকে নতুন নোট দিল। আমেরিকার ফেডারেল ব্যাঙ্ক , ইউরোপের অন্যান্য ব্যাংক এবং জাপানও পিছিয়ে ছিল না । আরে এই সেদিনও করোনা -১৯ এর ঠেলা সামলাতে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এই বছরের এপ্রিলের ৯ তারিখে সরকারকে সাহায্য করতে বণ্ড নিয়ে নোট ছাপাতে রাজি বলে প্রস্তাব পাশ করেছে। যদিও ব্যাংকের গভর্নর এন্ড্রু বেইলি শেষ মুহুর্ত পর্য্যন্ত এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে গেছেন।[14]

    সবাই স্বাধীন এ বিপুল ভবে , ভারত শুধুই ঘুমায়ে রয়!

    তো সবাই এতসব করল কিন্তু ভারত কি এতদিন শুধু সুবোধ বালক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে? আমাদের দেশ কখনও নোট ছাপানোর লোভে পড়েনি কালীদা?

    পড়েনি আবার ! আমাদের সবই তো বৃটিশের কাছ থেকে নেওয়া। এই ডেফিসিট ফাইনান্স তত্ত্বের গুরুদেব হলেন বৃটেনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বিত্তমন্ত্রী লর্ড জন মেনার্ড কেইন্স । দেশ স্বাধীন হবার পর নেহেরুজী ভারতে মিশ্র অর্থনীতির ভিত তৈরি করতে কেম্ব্রিজ থেকে অধ্যাপক ক্যালডোরকে নিয়ে এলেন পরামর্শদাতা হিসেবে। ভারতের তৎকালীন করনীতি, সরকারের বাজেট পরিকল্পনা সবেতেই অধ্যাপক ক্যালডোরের প্রভাব রয়েছে। আর উনি হলেন খাঁটি কেইন্সপন্থী যারা মনে করেন অনুন্নত দেশের জন্যে ঘাটতি বাজেট এবং সেটা সামলাতে ডেফিসিট ফাইনান্স বা দরকার মত রিজার্ভ ব্যাংককে দিয়ে নোট ছাপানো কোন পাপ নয় , বরং উন্নয়নের হাতিয়ার।

    সেই গোড়া থেকেই সরকারের বাজেটের রাজকোষীয় ঘাটতি বা ফিস্ক্যাল ডেফিসিট ‘অটোমেটিক্যালি মনিটাইজড’ বা নোট ছাপিয়ে পূর্ণ হতে লাগল। কিন্তু ১৯৯১ সালে লাগাতার বছর বছর নোট ছাপানোর কুফল বিষফোঁড়ার মত দেখা দিল মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের চেহারায়। ফলে ১৯৯৪ সালে ডঃ মনমোহন সিং (প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর এবং তৎকালীন বিত্তমন্ত্রী) এবং সি রঙ্গরাজন (তৎকালীন রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর) এই ‘অটোমেটিক্যালি’ ব্যাপারটাকে ১৯৯৭ থেকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আজ বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে এরাই কিন্তু ফিসক্যাল ডেফিসিটকে ‘মারো গোলি’ বলে নোট ছাপিয়ে বাজারে অতিরিক্ত টাকা যোগানোর এবং উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবার পরামর্শ দিচ্ছেন। [15]

    তাহলে আজকে সরকার রিজার্ভ ব্যাংককে সরাসরি নোট ছাপাতে বলছে না কেন?

     এই প্রশ্নে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দুটো মত রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ মিহির শর্মা বলেছেন – সরকারের কাছে যে টাকা নেই তা খরচা করবে কেন?[16] এবং রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ডি সুব্বারাও সতর্ক করছেন এখনও টাকা ছাপানোর অবস্থা হয়নি।   ভারত সহজেই ইনফ্লেশনের ফাঁদে পড়ে যায়। সরকার জোর করে টাকা ছাপালে ইনফ্লেশনের সম্ভাবনা; রিজার্ভ ব্যাংক যেভাবে অপ্রত্যক্ষ ভাবে ব্যাঙ্কের বন্ড কিনে টাকা জুগিয়ে বা কম রেপো রেটে ওদের টাকা ধার দিয়ে যাচ্ছে তাই ভাল।[17]

    উনি এটাও বলেছেন যে সরকারের এই রাজকোষ ঘাটতি যদি (এখন ৩.৫% থেকে ৪.৫% ) ফিসক্যাল রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট( এফ আর বি এম)  বেঁধে দেওয়া লক্ষণরেখা ( জিডিপির ৩%) ডিঙোয়, তাহলে বাজারে সরকারের আর্থিক  নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খারাপ রিপোর্ট কার্ড তৈরি হবে।  করোনার জন্যে সরকারের আরও খরচা হবে, ফলে এই ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে, এখন থেকে রাশ টেনে ধরতে হবে। 

    অন্যদিকে ভারতের প্রাক্তন আর্থিক উপদেষ্টা এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডঃ কৌশিক বসু (বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইকনমিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট) জানালেন যে ওই আইনে দুটি উপধারা আছে যাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে ( যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় সংকট ইত্যাদি) লক্ষ্মণরেখা ডিঙোনোর নিদানও দেওয়া আছে। কোবিদ -১৯ অবশ্যই অমন একটি পরিস্থিতি।

    উনি আরও বলেছেন যে  ভারত সরকারের মোট ডেট (ঋণ) জিডিপির ৬৮% থেকে ৬৯%। দেশ এখন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকনমি।  তাই এখনও আরও ১০% ঋণ, মানে ইকনমির ৮০% পর্য্যন্ত , বেড়ে গেলে চিন্তার কারণ নেই।[18]

    ইউরোপের দেশগুলো জিডিপি’র ৮০% থেকে ১০০% অব্দি ধার করেছে।

    রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর এবং বর্তমানে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রঘুরাম রাজন বলছেনঃ ঘাটতি মেটাতে হিসেব করে নোট ছাপালে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অর্থব্যবস্থার স্বার্থে যা দরকার তা খরচা করতে হবে। এতে অল্পদিনে কোন ‘রান অ্যাওয়ে’ ইনফ্লেশন বা সর্বনেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে না। মিডিয়াম টার্মে ইকনমি বাগে এলে মিটিয়ে দিলেই হবে।[19]

    পঞ্চদশ ফিনান্স কমিশনের চেয়ারম্যান এন কে সিং—যাঁর কমিটি ২০০৩ সালে ওই লক্ষণরেখা বা এফ আর বি এম  আইন বানিয়েছিল—বলছেনঃ এই প্যানডেমিকের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যসরকার ওই লক্ষণরেখা ডিঙোতেই পারে, তবে দুর্যোগ কেটে গেলে আবার আর্থিক ডিসিপ্লিনে ফিরে আসলেই হবে।[20]

    কিন্তু ফিসক্যাল ডেফিসিটের বেড়া ডিঙোলে যে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলো খারাপ রিপোর্ট দেবে !

    রঘুরাম রাজন পাত্তা দিচ্ছেন না। তেতো উচ্চারণে বলছেনঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতিনির্ধারকেরা যদি  সমস্যার ঠিকমত মোকাবিলা না করতে পারে তো সরকারের উচিত বিরোধীদের থেকে প্রতিভা ধার নেয়া! খিদে এবং কাজের ব্যবস্থা হল আশু সমস্যা। খালি শুকনো রেশন নয়, রান্নার তেল, মাথার উপরে ছাদ এবং হাতে নগদ টাকা দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে।[21]

    অন্যমতের অর্থনীতিবিদদের টাকা ছাপানোয় আপত্তি ঠিক কোনখানে? ওঁরা মানছেন যে মন্দার বাজারে যখন প্রাইভেট ডিমান্ড ঢলে পড়েছে বা সুষুপ্ত অবস্থায় চলে গেছে,তখন তাৎকালিক ব্যবস্থা হিসেবে আর্থিক উদ্দীপনা জোগাতে এটি সরকারের চমৎকার হাতিয়ার।

    কিন্তু ভয় তারপর। সরকারের অভ্যেস খারাপ না হয়ে যায় । এই অবস্থা থেকে ফিরতে দেরি না হয়! যদি দু’পেগের পর টেবিল থেকে উঠে পড়ে বাড়ি ফিরে আসতে মন না চায়! তাহলে আগামীদিনে ভয়ংকর ইনফ্লেশনের বীজ পোঁতা হবে যে!

    সরকারের অবস্থা হল শ্যাম রাখি, না কুল রাখি! শেষে শ্যামের দিকেই ঢলে পড়ে ব্যয় সংকোচের সিদ্ধান্তকেই মেনে নিয়েছে। তাই ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা ২০ লক্ষকোটি টাকার যে রিলিফ প্যাকেজ, তাতে রাজকোষ থেকে বাস্তবিক খরচা ২.৫ লক্ষকোটির বেশি নয়। এবং এই লেখার সময় আজ কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছেন যে করোনা প্যানডেমিকের ফলে উদ্ভূত আর্থিক সংকটের কারণে এ’বছর বাজেটে ঘোষিত সমস্ত নতুন প্রোজেক্ট বাবদ খরচ একবছরের জন্যে স্থগিত থাকবে। তবে ভারত আত্মনির্ভর যোজনা (২য় রিলিফ প্যাকেজ) এবং পিএম গরীব কল্যাণ যোজনা জারি থাকবে।

    [ ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং বা সাময়িক ধার করে অর্থব্যবস্থা পরিচালনা কি কোন অন্ধগলি? অর্থশাস্ত্রের ইতিহাস এবং নীতি কী বলে? ভারত কোন দিকে হাঁটছে? এর আলোচনা আগামী কিস্তিতে।]                                     (আগামী কিস্তিতে সমাপ্ত)

    লকডাউনে অর্থনীতিঃ ৬ আগামী দিনে জীবন ও জীবিকা

    [ ইতিমধ্যে আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। আমরা স্পেন ও ইতালিকে পেছনে ফেলে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে, যদিও মৃত্যুহার (২.৭%) ক্রমশঃ কমছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দুগুণো হবার পিরিয়ড ক্রমশঃ দীর্ঘ (এখন ২৩ দিন) হয়ে চলেছে। শেষ কিস্তিতে আমরা সংক্ষেপে দেখে নেয়ার চেষ্টা করব সরকারের আর্থিক নীতির ফলে করোনা পরবর্তী ভারতের বদলে যাওয়া ছবিটা কেমন হবে।]

    লকডাউন-৫ বা লকওপেনের গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর গত একবছরের খতিয়ান দিতে গিয়ে কোন অর্থনৈতিক সাফল্য বা নতুন কোন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা শোনাতে পারেননি; বিশেষ যে উপলব্ধির কথা বলেছেন সেগুলি—ধারা ৩৭০, তিন তালাক, রামমন্দির ও  সিএ এ—বাস্তবে বিজেপির ইলেকশন ম্যানিফেস্টো এবং রাজনৈতিক এজেন্ডার অঙ্গ, কিন্তু দেশের আম জনতার আর্থিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কহীন।

    তবে গত ১৭ই মে  “আত্মনির্ভর ভারত” বা রিলিফ -২ এর শেষদিনের প্রেজেন্টেশনে নির্মলা সীতারমন শিল্প এবং কৃষি নীতিতে যে ‘রিফর্ম’ বা পরিবর্তনের কথা বলেছেন তা তাক লাগিয়ে দেবার মত বটে।

    দেশের অর্থনীতি ক্রমশঃ বাজারের হাতে?

    শিল্পক্ষেত্রে আগে যেগুলো কেবল সরকারি বিনিয়োগের জন্যে নির্ধারিত ছিল তার প্রায় সবই প্রাইভেট সেক্টরের—দেশি এবং বিদেশি-- বিনিয়োগের জন্য হাট করে খুলে দেওয়া হল। যেমন সবরকম অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী; যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধজাহাজ; এটমিক এনার্জি;  রেল পরিবহন ; খনিজ তেল; কয়লা, লোহা তামা, ম্যাঙ্গানিজ, সোনা হীরে ইত্যাদি খনি থেকে তোলা ইত্যাদি।

      এয়ার ইন্ডিয়াকে বেচতে পারলে নাগরিক উড্ডয়ন পুরোটাই প্রাইভেট হবে। বীমাতে প্রাইভেট কোম্পানি ক্রমশঃ জাঁকিয়ে বসছে। পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলোর গঙ্গাযাত্রা কেবল সময়ের অপেক্ষা। বলা হচ্ছে সরকারের কাজ দেশ চালানো, ব্যবসা করা নয়।

    কৃষিক্ষেত্রে ফসল সরকারি মন্ডিতে বেচার কোন বাধ্যবাধকতা রইল না। যেকোন রাজ্যের কৃষক তার ফসল দেশের যে কোন জায়গায় খোলা বাজারে বেচতে পারে। এছাড়া জোর পড়বে কন্ট্র্যাক্ট ফার্মিং বা নীলচাষের মতন আগে প্রাইভেট কোম্পানির থেকে দাদন নিয়ে নিজের জমিতে কোম্পানির মর্জিমত ফসল ফলানো।

    কিন্তু কিরণ বিসসা,সহ--আহ্বায়ক , ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স  ফর সাস্টেনেবল এগ্রিকালচার,  সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে এসেনশিয়াল অ্যাক্টে যা সংশোধন  হয়েছে তাতে ব্যাপক কৃষকের বদলে ধনী কৃষক এবং কৃষি পণ্যের বড় কোম্পানিগুলোকে খুশি করা হয়েছে।

    লঘু এবং সীমান্ত কৃষকের ফসল গূদামে রাখার ধরে রাখার ক্ষমতাই নেই, ওদের পেটের দায়ে চটপট ফসল কম দামে বেচে দিতে হয়। ওরা কী করে এই আইনের সুবিধে পাবে?[22]

    আর গতবছর থেকে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে বছরে ৬০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে তাতে বাদ পড়ছেন ভুমিহীন ও খেতমজুরেরা; কারণ যোজনায় কৃষক বলতে বোঝানো হয়েছে শুধু যাদের জমি আছে।

    এদিকে রিজার্ভ ব্যাংকের ছ’সদস্যীয় মনিটারি পলিসি কমিটি্র (এমপিসি) গত ২০-২২ মে তারিখের বৈঠকে দেশের অর্থনীতিতে করোনা সম্পর্কিত লকডাউনের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানান যে ম্যাক্রো ইকনমির তিনটে প্রধান প্যারামিটার বাজারে চাহিদা, ব্যক্তিগত উপভোগ এবং শিল্পপতি-ব্যবসায়ীদের আর্থিক বিনিয়োগ মার খেয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ বৃদ্ধি বলার মত নয়। তবে কৃষির সাফল্যে ভর করে ইকনমি আগামী বছরে ঘুরে দাঁড়াবে এটাই আশা।

    (অথচ জিডিপিতে কৃষির অবদান  মাত্র ১৭%! তবে জনসংখ্যার প্রায় ৪৮% লোক কৃষিনির্ভর।)

    আবার ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র মনে করেন --আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এত গভীর যে সারতে কত বছর লাগবে বলা কঠিন।[23]

    রিজার্ভ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটি্র(এমপিসি) কাজটা কী?

    এরা নিয়মিত দেশের অর্থনীতিতে  টাকার যোগান এবং চাহিদার হিসেব কষে কতোটা টাকা বাজারে থাকা উচিত সেটা ঠিক করে। অর্থাৎ বাজারে উপলব্ধ পণ্য এবং সেবার অনুপাতে টাকার যোগান স্বাস্থ্যকর কী না—সেটা এই কমিটি নিয়মিত দেখাশুনো করে।

     রিজার্ভ ব্যাংক সেই পরামর্শ অনুযায়ী মন্দার সময় আর্থিক ব্যবস্থায় টাকার যোগান বাড়ায়—ব্যাংকের বন্ড আদি সিকিউরিটি পেপার কিনে বা কম দরে ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিয়ে, যাতে ব্যাংক কম সুদে বাজারে টাকা ধার দিতে পারে। আবার মুদ্রাস্ফীতির সময় বাজারে টাকার যোগান কমায়—ব্যাংককে সরকারি বন্ড বিক্রি করে এবং ব্যাংককে ধার দেবার সুদের হার বাড়িয়ে, যাতে ব্যাংকের কাছে শস্তায় লোন দেবার মত টাকা না থাকে।

    আপনা হাত, জগন্নাথ?

    কিন্তু অক্টোবর ২০১৮তে রিজার্ভ ব্যাংকের স্বাধিকার বা অটোনমি প্রশ্নের মুখে দাঁড়ায়। স্বাধীনতার পর প্রথম বার কেন্দ্রীয় সরকার  রিজার্ভ ব্যাংক অ্যাক্টের ধারা ৭(১) এর অধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের রাজকোষের চাপ কমাতে রিজার্ভ ব্যাংকের ৭০ বছরে আয় থেকে সঞ্চিত জমা রাশি নিয়ে্‌ নেবার জন্যে চাপ সৃষ্টি করে । তাতে তৎকালীন গভর্নর উর্জিত প্যাটেল পদত্যাগ করেন। ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য রিজার্ভ ব্যাংকের স্বায়ত্ত রক্ষার পক্ষে তিক্ত বক্তব্য রাখেন।[24] তারপর বিরল আচার্যকেও পদত্যাগ করতে হয় এবং নিয়ম বদলে রিজার্ভ ব্যাংকের বোর্ড অফ ডায়রেক্টর্সে সরকারের প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ানো হয়, ফলে বাজারে টাকার যোগানের সংকুচন বা প্রসারণের প্রশ্নে রিজার্ভ ব্যাংক  ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কোন মতভেদ বা বিতর্কের সম্ভাবনাই থাকে না। অবশেষে ২৭ অগাস্ট, ২০১৯ তারিখে রিজার্ভ ব্যাংক নিজেদের রিজার্ভ থেকে ১,৭৬,০৫১ কোটি টাকা বা ১.৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা কেন্দ্রীয় সরকারকে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় ।[25] এতে আর্থিক মন্দা এবং ক্রমাগত কমতে থাকা ট্যাক্স আদায়ের ফলে সরকারের রাজকোষে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল তা অনেকটা কমে যায় । [26] অর্থনীতিবিদেরা আশা করেছিলেন এর ফলে সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্মাণ ও কৃষক এবং ছোট বিজনেস এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে কিছু রিলিফ দেবে যাতে বাজারে কেনাকাটা বাড়ে।

    গরীবি হটাও

    ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল মনে করে দারিদ্র্য দূর হওয়া উচিত এবং এতে সরকারের ভূমিকা আছে।  কিন্তু কাকে গরীব বলব, গরীবি রেখার দাঁড়ি কোথায় টানা হবে সে নিয়ে বিস্তর মতভেদ। তেন্দুলকার কমিটির মতে এই লাইনটি হল প্রতিব্যক্তি  দৈনিক খরচ ২৭ টাকা।

    ২০০৯ সালে তেন্দুলকর কমিটি মনে করেন এখন জনসংখ্যার ২২% দারিদ্র্য রেখার নীচে বাস করে। তবে রঙ্গরাজন কমিটির(২০১২) মতে এই সংখ্যাটি ৩০%।  ইউনাইটেড নেশন্স ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টের মতে ২০০৫-৬ থেকে ২০১৫-১৬র মধ্যে ২৭১ মিলিয়ন ভারতীয় গরীবি রেখার উপরে উঠেছে । কিন্তু নভেম্বর ৮, ২০১৬ থেকে উলটো গঙ্গা বইছে। নোটবন্দী এবং জিএসটির জটিলতা ও ডিজিটাল বাধ্যবাধকতার ফলে মার খেল ইনফর্মাল ইকনমি। জিডিপি দ্রুত নিম্নগামী। শেষে করোনার প্রকোপে গত মার্চে এল চারঘন্টার নোটিসে লকডাউন—কাজ হারিয়েছে কত লোক? বিভিন্ন মতে প্রায় ৫০ থেকে ১২০ মিলিয়ন লোক। এদের উপর নির্ভরশীল পরিবার দ্রুত গরীবি রেখার নীচে নেমে যাচ্ছে। এরা জিরো-ইনকাম গ্রুপ থেকে কবে লোয়ার ইনকাম গ্রুপে ফিরবে আন্দাজ করা কঠিন।[27]

    অভিজিত ব্যানার্জি এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক দীর্ঘ সাক্ষাতকারে বলেন যে ভারতের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং চীন থেকে কাজ ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন্স বা বাংলাদেশে চলে গেছে বলে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। ভারতের আর্থিক কাঠামো, টেকনোলজি, আঁতেপ্রেনারের সাইজ –সবই ওদের তুলনায় বেশি। যদি একবছরে জিডিপি বৃদ্ধির দর ৬% বা ৭% পৌঁছে যায় তাহলেই কাজ হারানো মানুষেরা অনেকেই কাজ ফিরে পাবে। কিন্তু সবই নির্ভর করছে সরকারের সঠিক নীতি নির্ধারণের উপর।

    অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষের বর্তমান সংকটের আশু সমাধান হিসেবে ওঁর নোট ছাপানোর যুক্তিকে  সমর্থন করে উনি আরও বলেন যে গোটা বিশ্বে সবাই এই পথ নিয়েছে—আমেরিকা, বৃটেন , জার্মানি, জাপান সবাই। ভারত কেন শুধুমুদু উলটো পথে হাঁটবে?[28]

    সরকার রাজকোষ ঘাটতি মেটাতে নতুন করে টাকা ছাপাবে কি না?

    তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দ্বিতীয় রিলিফ প্যাকেজ (২০ ট্রিলিয়ন) ঘোষণার আগে জানিয়েছিলেন যে করোনা-জনিত রিলিফ ইত্যাদির ফলে রাজকোষ ঘাটতি বাজেটের সময়  বলা ৩% এর জায়গায় ৫% হবে; অর্থাৎ৭.৮ লক্ষকোটির বদলে ১২ ট্রিলিয়ন টাকা ধার করতে হবে। কিন্তু রিলিফ ঘোষণার সময় বাড়তি টাকা কোত্থেকে আসবে সেই প্রশ্ন উনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।  

    সরকার যদি এই টাকাটা তুলতে বাজারে বন্ড বিক্রি করে তাহলে প্রাইভেট সেক্টরের ধার নেওয়ার জন্যে উপলব্ধ টাকা কমবে, ফলে বাজারে সুদের হার বাড়বে। কিন্তু তা না করে সোজা রিজার্ভ ব্যাংকে ট্রেজারি বিল (বিনা সুদের অল্পকালীন বন্ড) জমা রেখে নোট ছাপিয়ে নিলে বাজারে সুদের হারে কোন প্রভাব পড়বে না, তাই মনে হচ্ছিল নোট ছাপানো হবে  ।[29]

    কর্পোরেট দুনিয়া কী ভাবছে?

    কোটক মহীন্দ্র ব্যাংকের কর্ণধার এবং কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সি আই আই) এর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান উদয় কোটক প্রধানমন্ত্রীর “আত্মনির্ভর ভারত” যোজনার প্রতি আস্থাশীল। ওঁর মতে লকডাউন খুলে দেওয়ায় মানুষের দুমাসের চেপে রাখা খরচ করার স্পৃহা বাজারে ডিমান্ড বাড়িয়ে দেবে। মদের দোকানে ভিড় তারই ইঙ্গিত  বলে উনি মনে করেন। তাই সরকার এখন সাপ্লাই সাইড বা শিল্পব্যবসায়কে টাকা যোগানোর বন্দোবস্ত করে সঠিক নির্ণয় নিয়েছে।  উনি মনে করেন আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ দরকার হেলথকেয়ার ও শিক্ষায়।[30]

    তবে  আর এক ইন্টারভিউয়ে উনি জানিয়েছেন যে নোট ছাপানোর বদলে রিজার্ভ ব্যাংক যে ‘ওপেন মার্কেট অপারেশন’(অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর জমা সরকারি বন্ড কিনে নিয়ে ওদের টাকার যোগান বাড়িয়ে দেওয়া) করছে, সেটাই ঠিক।[31]                 

    বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর মতে আশু দরকার হল প্রতি মাসে ১০০০০ টাকা করে গরীবদের হাতে দেয়া এবং এমএস এমইর জন্যে নগদভিত্তিক রিভাইভাল প্যাকেজ।[32]

    আত্মনির্ভর ভারতও চীনের মাল বয়কট?

    লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের সৈনিকদের হাতাহাতি খুব বেশি দূর গড়ায়নি। দু’পক্ষেই উচ্চস্তরের আলোচনার মধ্যে দিয়ে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এবং টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে একটা আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে—চীনের মাল বয়কট কর; ভোক্যাল ফর লোক্যাল হও এবং এভাবেই ভারত “আত্মনির্ভর” হবে।

    মজার ব্যাপার হল ভারতের চীন থেকে আমদানি  ২০১৪  সালে ১২ বিলিয়ন ডলার ছিল, কিন্তু মোদীজির সময় মাত্র পাঁচ বছরে বেড়ে গিয়ে ২০১৮-১৯শে ৭০.৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছেযাতে  ভারতের রপ্তানি ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার এবং চীন থেকে আমদানি ৭০.৩ বিলিয়ন ডলার। মানে চীনের পাওনা ৫৩.৫ বিলিয়ন ডলার।

    বর্তমান ভারতে অধিকাংশ মোবাইল যেমন রেডমি, অপ্পো , ভিভো, সব চীনের।  গত দু’বছরে ভারতে স্টার্ট আপে চীনের প্রাইভেট বিনিয়োগ বেড়ে ২ ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে। ভারতে ৩০ টি বড় স্টার্ট আপের মধ্যে ১৮টি স্টার্ট আপে চীনের প্রাইভেট বিনিয়োগ রয়েছে। ওলা, হাইক, বিগ বাস্কেট, ওওয়াইও, পেটেম ( নোটবন্দীর সময় প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞাপন), স্ন্যাপডীল, জোম্যাটো, বোইজু, টিকটক-- সবেতেই চীনের বিনিয়োগ। [33]

    ভারতের কিছু  কোম্পানিও চীনে বিনিয়োগ করেছে।

    কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি্র দু’বছর আগের একটি স্টাডি রিপোর্ট অনুযায়ী চীনে ৫৪টি ভারতীয় কোম্পানি ম্যানুফ্যাকচারিং, হেলথকেয়ার এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে যুক্ত রয়েছে।[34]

    চীনে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কয়লা এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ে আদানি গ্লোবাল (সিঙ্গাপুরে অফিস), ডঃ রেড্ডিজ ল্যাব, জিন্দাল স্টিল এন্ড পাওয়ার, বিইএম এল, বি এইচ এম এল, , অরোবিন্দো ফার্মা এবং মহীন্দ্র এন্ড মহীন্দ্র।

    অনেকের মতে এই বয়কটের আহ্বান খুব একটা ফলপ্রসু হবে না। কারণ সরকারি বাণিজ্য ছাড়াও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রোগ্রামে ভারতে  তৈরি বহু উৎপাদনে ব্যবহৃত মেশিন বা তার যন্ত্রাংশ, কেমিক্যালস সব চীন থেকে আসে। এছাড়া অনেক স্টার্ট আপে চীনের আলিবাবা ইত্যাদির বিনিয়োগ রয়েছে। কাজেই কাকে চীনে মাল বলা হবে এটাও একটি বিতর্কিত প্রশ্ন।

    এমনকি, সর্দার প্যাটেলের স্ট্যাচুর বাইরের ব্রোঞ্জের আবরণের প্লেটগুলো পর্য্যন্ত চীনের সিয়াংসি টংকিং কোম্পানিতে ঢালাই হয়ে এসেছে।[35]

    এছাড়া ভারতে চীনের রফতানি ৭৫ বিলিয়ন ডলার  ওদের সমগ্র রফতানির  ৩%। কিন্তু চীনে ভারতের রফতানি ১৭ বিলিয়ন ডলার যা কিনা দেশের  সমগ্র রফতানির ৫.৩%। কাজেই দু’দেশের বাণিজ্য মার খেলে ভারতের লোকসান বেশি।[36]

    কিন্তু কিছু ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন ১০ জুন থেকে দেশ জুড়ে চীনামাল আমদানি বন্ধ করার ডাক দিয়েছে।[37]

    খাব খাব, কোথায় পাব? ধার কর না! শুধবে কে ? লবডংকা!

    অর্থশাস্ত্র নামের বিদ্যাটির জন্মের, অর্থাৎ অ্যাডাম স্মিথ এর সময়ে সরকার বাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ করত মূলতঃ যুদ্ধবিগ্রহের খরচা মেটাতে। অভিজাত এবং সম্পন্ন বর্গের লোকজন সেটা কিনতেন কারণ তাতে সুদের হার চড়া ছিল । ওদের যুক্তি ছিল সরকার এভাবে ঋণ করলে দেশের কোন ক্ষতি নেই । ধার দিচ্ছে দেশের কিছু লোক, নিচ্ছে এবং খরচ করছে ও সুদ দিচ্ছে দেশের সরকার।‘এক হাত থেকে আরেক হাতে যাচ্ছে-দেশের বাইরে তো যাচ্ছে না’ !

    অ্যাডাম স্মিথ তাঁর ম্যাগনাম ওপাস ‘ওয়েলথ অফ নেশন্স’ (১৭৭৬) এর দ্বিতীয় ভল্যুমে এই লাইনের যুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন—মূলতঃ দুটো দিক থেকে।[38]

    এক, এটা নৈতিক ভাবে অনুচিত। কারণ এতে দেশের সম্পত্তি শান্তিপূর্ণ উৎপাদক কাজ থেকে সরে যুদ্ধের জন্যে খরচ হয় । এর পরিশোধ হয়  আগামী দিনে দীর্ঘসময় ধরে। এভাবে অর্থনীতি ‘বিকৃত’ হয় ।

    দুই, এছাড়া সরকারী ঋণ দেশের সম্পত্তির মালিকানা “উৎপাদক শ্রেণী”র হাত থেকে নিয়ে “ বসে বসে খাওয়া” শ্রেণীর হাতে চালান করে এবং মিলিটারি এই টাকায় যুদ্ধে নামে, পরিণামে জীবন ও সম্পত্তি নষ্ট হয় ।

    মার্ক্স এবং উনিশ শতকের প্রায় সব সমাজবাদীরাই ধার করে দেশ চালানোর বিরুদ্ধে ছিলেন । তাঁদের চোখে এটা ব্যক্তি-পুঁজির আধিপত্য জমানোর একটা কল মাত্র । মার্ক্স তাঁর  “ক্লাস স্ট্রাগল ইন ফ্রান্স” – ১৮৪৯-৫০ সালে লেখা—বইয়ে সরকারি বন্ডের ওপর ভূস্বামীদের পাওনা মেটাতে নেপোলিয়নের বিত্তমন্ত্রীর হঠাৎ করে মদের উপর ট্যাক্স বাড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন[39]

    মজার ব্যাপার হল বৃটেনের সরকারি ঋণ ১৭৭০ সালে জাতীয় আয়ের ১০০% প্রতিশত এবং ১৮১০ সাল নাগাদ ২০০% ছুঁয়েছিল । এবং বৃটেন এই ধার একশ’ বছর ধরে শোধ করেছিল, বেশির ভাগ সময় শুধু সুদ দিয়ে । ফলে উচ্চবর্গের কাছে খামোকা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়ার বদলে ধার দিয়ে সুদ কামানো অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল।[40]

    কিন্তু দেড়শ বছর পরে কি ইকনমিস্টদের চিন্তা বদলে গেছে? নইলে হরদম ফিসক্যাল ডেফিসিট কড়া হাতে সামলানো নিয়ে এত উপদেশের পাশাপাশি ডেফিসিট ফাইনান্স বা সরকারের ধার করে খরচ করা নিয়ে এত বিতর্ক কেন ?

    এনিয়ে এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি কী বলছেন শুনুন।

    “ বিংশ শতাব্দীতে পাবলিক ডেট বা সরকারের ঋণ নিয়ে একেবারে অন্যরকম কথা  শোনা যেতে লাগল। মনে করা হল যে এই ঋণ নীতিগত ভাবে সরকারের উন্নয়নমূলক ব্যয় বাড়িয়ে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অংশের পক্ষে দেশের সম্পত্তি পুনর্বণ্টনে সহায়ক হতে পারে”।

    উনি আরও বলছেন যে এই দুটো দৃষ্টিকোণের মধ্যে ফারাক বেশ সরল ও স্পষ্ট। উনবিংশ শতাব্দীতে উত্তমর্ণদের ( উচ্চবর্গ এবং ভূস্বামী) থেকে ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেবার সময় রাষ্ট্র(খাতক) সুদে-আসলে ভাল করে পুষিয়ে দিত। ফলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ফুলে ফেঁপে উঠত। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে মুদ্রাস্ফীতির (ইনফ্লেশন) ঘায়ে ধার নেওয়া টাকার মূল্য কমে যেত , এবং ফেরত দেওয়া হত মূল্য কমে যাওয়া টাকায় । এভাবে রাষ্ট্র বাজেটের ঘাটতি হলে নতুন কর না বসিয়ে উত্তমর্ণদের টাকায় ঘাটতি পূরণ করে দেশ চালাতে শুরু করল ।[41]

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালোবাজারি ইত্যাদিঃ

    পিকেটি দেখিয়েছেন যে মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে সম্পত্তির পুনর্বন্টন  সমাজের একটা ছোট অংশের জন্যেই খাটে।

    আমরা কোলকাতা এবং বঙ্গে বিশ্বযুদ্ধের সময় দুটো জিনিস দেখেছি।

    এক, বিয়াল্লিশের ভয়ংকর মন্বন্তর। চাল বৃটিশ ফৌজের জন্যে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে এবং মজুতদাররা লুকিয়ে ফেলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। ফলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ এবং অনাহারে মৃত্যু।

    দুই, একশ্রেণীর মানুষেরা যুদ্ধের আবশ্যকীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ এবং কালোবাজারি করে রাতারাতি ছিরু পাল থেকে শ্রীহরি ঘোষ হয়ে যাচ্ছে। এরা সম্পত্তি কিনছে ভবানীপুর, বালিগঞ্জ এবং ঢাকুরিয়ার রেললাইনের এপারে। আর এই কালোবাজারি দেশের অর্থনীতিকে খানিকটা চালু রাখে বটে!

    ডেফিসিট ফাইন্যান্সিংঃ ভাল না মন্দ?

    এখানে দুইখান কথা আছে। আমেরিকা ইউরোপের মত উন্নত অর্থনীতিতে সাধারণতঃ ইকনমির অন্তর্নিহিত শক্তির প্রায় পূর্ণ দোহন হতে থাকে। তখন বাজারে অতিরিক্ত পয়সা এলে উৎপাদন বা  শ্রমশক্তির নিয়োগে বিশেষ তফাত হয় না । তাই বাড়তি টাকা বাজারে পণ্যের দাম দ্রুত বাড়িয়ে দেয় । এই পরিস্থিতিকে বলে ‘টু মাচ মানি চেজিং টু ফিউ গুডস’।

    কিন্তু ভারতের মত তৃতীয় বিশ্বের লোকজনের আয় কম, জমাপুঁজি কম, জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ হয় বেকার বা ছদ্ম-বেকার, মানে নাম-কে-ওয়াস্তে কিছু একটা করছে। ফলে বাজারে জিনিসের যোগান বাড়লে বা নতুন পণ্য এলেই যে সাততাড়াতাড়ি বিক্রি হবে সে সম্ভাবনা কম। তাই ইন্ডাস্ট্রিও “ফুল ক্যাপাসিটি”তে উৎপাদন করেনা। মহাগুরু কেইন্সের মতে এইসময়, বিশেষ করে মন্দার সময়, সরকার এগিয়ে এসে লোকের হাতে বেকার ভাতা দিলে বা রাস্তা হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মাণ কাজের মাইনে হিসেবে নগদ দেয়ার বন্দোবস্ত করলে লোকে বাজারে ভোগ্যপণ্য কিনতে আসবে, ক্রমশঃ বাজার আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়াবে।

    যেটা দরকার হিসেব করে ধার নিয়ে নোট ছাপানো এবং প্ল্যান করে কয়েকবছরের মধ্যে সেই ধার চুকিয়ে ফেলা। এভাবে এই ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যে বিকাশের সহায়ক হবে , লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির পথে হাঁটবে না।

    আগামী দিনের জীবিকার রূপঃ

    অর্থনীতি কেবল শুকনো টাকাকড়ির হিসেব নয়, কোন বিমূর্ত ছবি বা রকেট সায়েন্স নয়, এটি একটি সামাজিক বিজ্ঞান। তাই এতে প্রতিফলিত হয় আমাদের জীবনশৈলী এবং সংস্কৃতি ও তার বিবর্তন। মনে হচ্ছে জুনের শেষে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে এবং জুলাইয়ের শেষে ১০ লক্ষ ।

    এর আতংক এবং বাধ্যবাধকতা আমাদের জীবিকা ও জীবনশৈলীতে কী ধরণের পরিবর্তন আনবে আজ সেটা আন্দাজ করা কঠিন। তবু কয়েকটা কথা বলাই যায় । যেমন কেনাকাটিতে নগদে লেনদেন কমে ক্রমশঃ ডিজিটাল হবে। অনেকগুলো ব্যবসায় এবং ইন্ডাস্ট্রিতে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” হবে ‘নিও-নর্মাল’। স্কুলকলেজের পড়াশুনোতেও এর ছাপ পড়বে। কিন্তু এর জন্যে দরকার উন্নত স্কিল-সেট যা ব্যয়সাধ্য। ফলে গাঁ এবং ছোট শহরের খেটে খাওয়া পরিবারের নতুন প্রজন্ম হয়তো পিছিয়ে পড়বে এবং কম আয়ের কাজে আটকে থাকবে।

    লকডাউন শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে মার খেয়েছে খেলাধূলো, বিনোদন শিল্প এবং ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ব্যবসায়।

    ‘সামাজিক দুরত্ব’ বজায় রাখতে গিয়ে নতুন খোলা রেস্তোরাঁতে টেবিল সাজানো হচ্ছে ফাঁক রেখে, গ্রাহক বসছে পাশাপাশি নয় , মুখোমুখি। এতে ব্যবসায়ের টার্ন ওভারে বিরাট লস। মনে হয় যতদিন না করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে এবং তা আমজনতার হাতে পৌঁছচ্চে ততদিন এভাবেই চালাতে হবে।

    খেলাধূলো

    সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মুখে মুখোস এঁটে কোন খেলাটি খেলা যায়? দাবা। টেনিস? ফুটবল? ক্রিকেট? আইপিএল? আইসিএল? কুস্তি-বক্সিং—সাঁতার?  

    তবে বার্সিলোনা রিয়েল মাদ্রিদের সঙ্গে মাঠে নামছে, মেসি ট্রেনিং করছেন; দেখা যাক ।

    নাটক-সিনেমা

    টিভি সিরিয়ালের শ্যূটিং শুরু হচ্ছে, কিন্তু গ্রুপ থিয়েটার এবং পথ-নাটকের কী হবে? আবেগের প্রকাশ হবে হাত না ধরে? শুধু ডায়লগ বলে?

    জাদুই ঝাপ্পিঃ করোনামুখর দিনে[42]

    ভার্জিনিয়া টেক এর বিজ্ঞানী লিনসে মার – বায়ুবাহিত অসুখের ছড়িয়ে পড়ার বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ --জানাচ্ছেন  মাস্ক লাগিয়ে মুখ পাশের দিকে করে বেঁধে ছোট্ট একটু আলিঙ্গনে সংক্রমণের ভয় নেই বললেই চলে।

    আদিম জীবিকা কি করোনার সামনে মাথা নোয়াবে?

    অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অফ সেক্স ওয়ার্কার্সের প্রেসিডেন্ট কুসুম জানিয়েছেন যে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সের ভয়ে গ্রাহকেরা আসছে না। তাই কাজ হারিয়ে দিল্লির যৌনকর্মীদের ৬০%-- প্রায় ৩০০০ কর্মী-- তাঁদের নিজের গৃহরাজ্যে ফিরে গেছেন। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ শালিনীর মত উত্তর প্রদেশের গাঁয়ের বাড়ি ছেড়ে পরিবারের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে দিল্লিতে এসেছিলেন,  এখন সেখানেই ফিরে যেতে হচ্ছে।[43]

    গার্স্টিন বাস্টিয়ন রোড বা জিবি রোডের শর্মিলা, রজনীদের মত অনেকেরই এখন বাচ্চাকে খাওয়ানোর পয়সা জুটছে না—সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

    কোলকাতার সোনাগাছি এবং অন্যান্য লালবাতি এলাকাতেও প্রায় একই অবস্থা। যৌনকর্মীদের ইউনিয়ন ‘দুর্বার’ এবং কিছু এনজিও’র সহায়তায় এঁদের কোনরকমে দু’বেলা মোটা ভাতের জোগাড় হচ্ছে বটে, কিন্তু কতদিন? খবরে প্রকাশ বড়তলা থানার ওসি দেবজিত ভট্টাচার্য্য ৫০০০ যৌনকর্মী মহিলাকে চিহ্নিত করে কিছু এনজিওর সহায়তায় দুবেলা খাবার জোগানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।[44]

    কিন্তু মানুষ বাঁচতে চায়, তাই বিষম পরিস্থিতিতে হার না মেনে প্রাণপণ লড়াই করে। করোনার হট জোন মুম্বাইনগরী এখন ভয় ধরায়। এখানে বিশেষ ধার্মিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষও বাড়ছে । মুম্বাইয়ের গ্রান্ট রোডের যৌনপল্লীর বাসিন্দা রিয়া ( নাম বদলে দেওয়া) ও তাঁর সাথীরা টেকনলজি ব্যবহার করে পেশার কৌশল পালটে নিয়েছেন। তাঁরা মোবাইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হিন্দু এবং মুসলিম দুটো নাম নিয়ে ।উনি নির্ধারিত সময়ে সেজেগুজে কিন্তু ওড়নায় মুখ ঢেকে ভিডিও চ্যাটে বসেন। সময় ৩০ মিনিট, এভাবে প্রতিদিন ঘরে বসেই প্রতি গ্রাহক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে দুই বা তিনজন গ্রাহকের মনোরঞ্জন করেন। উনি খুশি, কাউকে কমিশন দিতে হয়না, গুন্ডা বা পুলিশের উপদ্রব নেই এবং সবচেয়ে বড় কথা স্বাস্থ্যের উপর চাপ নেই।[45]

    নতুন সম্ভাবনাঃ

     মনে হচ্ছে এই প্যানডেমিকের ঠেলায় আগামী দিনে রাষ্ট্রের ভূমিকা আরও বাড়বে। মার্ক্স-লেনিনের মত সমাজতন্ত্রী এবং প্রুধোঁ-বাকুনিনের মত নৈরাজ্যবাদীদের স্বপ্নটি  ---রাষ্ট্র ক্ষয়ে গিয়ে ফুরিয়ে যাবে বা ধ্বংস হবে—সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা আপাততঃ নেই।  

    কিন্তু দুটো বিষয়ে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভুমিকা নিয়ে করোনা -পরবর্তী দশকে বড় বিতর্ক শুরু হতে চলেছে। এক, ইউনিভার্সাল হেলথ-কেয়ার বা সার্বজনিক  স্বাস্থ্য -প্রকল্প  এবং ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম বা সার্বজনিক  মৌলিক আয় । দ্বিতীয়টি নিয়ে  কেনিয়া, ইরান ও আলাস্কায় প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে আলাদা করে কথা বলা যাবে।

                                                                                    (সমাপ্ত)


    [1] দি হিন্দু, ২৬ মার্চ, ২০২০।

    [2] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৪ নভেমবর, ২০১৬।

    [3]  মিনিস্ট্রি অফ রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তি ক্রমাংক ডিটিপি/২০২০/০৫/১৭ , তারিখ ২রা মে, ২০২০।

    [4] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৮ মে, ২০২০।

    [5] ইকনমিক টাইমস, ১৪ এপ্রিল, ২০২০।

    [6] ইকনমিক টাইমস, ২৮ এপ্রিল, ২০২০।

    [7] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২ জুন, ২০২০।

    [8] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ৫ জুন, ২০২০।

    [9] ইকনমিক টাইমস, ৯ মে, ২০২০।

    [10] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৩ মে, ২০২০।

    [11] নিউ ইয়র্ক টাইমস, মার্চ ২৮ ২০২০।

    [12] সিএনবিসি ডট কম, ৮ মে, ২০২০।

    [13]  মার্কেট ইন্সাইডার , ২৫ মার্চ, ২০২০ এবং বিবিসি নিউজ, ২০ মার্চ, ২০২০।

    [14] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৫ এপ্রিল ২০২০; উদিত মিশ্রের প্রবন্ধ।

    [15] ২৪ এপ্রিল, ২০২০; ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    [16] মিহির শর্মা, দ্য প্রিন্ট, ২১ মে, ২০২০।

    [17] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৮ মে, ২০২০।

    [18]  ইন্ডিয়া টুডে চ্যানেলে ইন্টারভিউ, ১লা মে, ২০২০।

    [19]  বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৮ মে, ২০২০।

    [20]    ঐ; ২১ মে, ২০২০।

    [21]  ঐ ; ২১ মে , ২০২০।

    [22] বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৫ জুন, ২০২০।

    [23]  লিভমিন্ট ডটকম, ৫ জুন, ২০২০।

    [24] ইকনমিক টাইমস, ১১ নভেম্বর ২০১৮।

    [25] দি টাইমস অফ ইডিয়া, ২৮ আগস্ট, ২০১৯।

    [26]  দি হিন্দু এবং ইন্ডিয়া টুডে, ২৭ ও ২৮ অগা

    [27] বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দেবাংশু দত্তের প্রবন্ধ, ৬ জুন, ২০১০।

    [28]  অভিজিৎ ব্যানার্জি, এনডিটিভিতে রবীশকুমারকে দেয়া সাক্ষাৎকার; ৫ জুন, ২০২০।

    [29] ইকনমিক টাইমস, ১৯ মে, ২০২০।

    [30] উদয় কোটক; ইন্ডিয়া টুডে চ্যানেলে রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকার ; ৬ জুন, ২০২০।

    [31]  বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৮ জুন্‌ ২০২০।

    [32] হিন্দুস্থান টাইমস ডটকম এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ৬ জুন, ২০২০।

    [33] জি  নিউজ মিডিয়া ব্যুরো,

     ৮ জুন, ২০২০।

    [34] “গ্রোয়িং ফুটপ্রিন্টস অফ ইন্ডিয়ান কোম্পানিজ ইন চায়না”—এ  সার্ভে বেসড রিপোর্ট অফ সি আই আই, ফেব্রুয়ারি, ২০১৮।

    [35] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

    [36] লাইভ মিন্ট, ৩ জুন, ২০২০।

    য়েইকনমিক টাইমস, ৩ জুন, ২০২০।

    [38] অ্যাডাম স্মিথ, “ অ্যান ইনকোয়ারি ইন্টু দ্য নেচার অ্যান্ড কজেস অফ ওয়েলথ অফ নেশন্স” , ২য় খন্ড,(১৭৭৬)।

    [39] পিকেটি; ঐ, পৃঃ ১৬৪।

    [40]  পিকেটি; ঐ, পৃঃ ১৬১ - ১৬৩।

    [41] পিকেটি, ঐ; পৃঃ ১৬৪-৬৫।

    [42]  টারা পার্কার-পোপের নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রবন্ধ,  ৭ জুন, ২০২০।

    [43] টাইমস অফ ইন্ডিয়া; ১৭ মে, ২০২০।

    [44]  টাইমস অফ ইন্ডিয়া; ২০ এপ্রিল, ২০২০।

    [45] লাইভমিন্ট ডটকম,  ২২ মে, ২০২০।

আরও পড়ুন
লোনার - Saswati Basu
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অনিন্দিতা | 103.87.56.209 | ১৩ জুলাই ২০২০ ০৯:৩১732389
  • ভালো লেখা। অর্থনীতির তত্ত্ব খুব সুন্দরভাবে সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে। ভাবনার জগতে পরিবর্তন আগেই এসেছে, state versus market তর্ক প্রায় শেষ, সময় state and marketএর। ২০০৮ সালেই স্লোগান উঠেছিল Mr Keynes is back. 

  • রঞ্জন | 122.162.198.135 | ১৩ জুলাই ২০২০ ১৫:১১732390
  • @অনিন্দিতা,

                  বিশ্লেষণে বা ইকনমিক্সের লজিকে ভুল চোখে পড়লে নির্দ্বিধায় বলবেন। আমার একটু কনফিডেন্স কম এবং কমপ্লেক্স রয়েছে।

  • Sekhar Sengupta | ১৬ জুলাই ২০২০ ১১:৫৩732407
  • অনেক জটিল বিষয় সহজ করে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    ট্রেজারি বিল নিয়ে কয়েকটা কথা আছে। ট্রেজারি বিলে কুপন রেট অর্থাৎ সুদের হার নির্দিষ্ট  কিছু থাকে না ঠিকই, তবে ট্রেজারি বিল ডিসকাউন্টে ইস্যু হয়। একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ-

    ধরা যাক ১০০ টাকার ফেস ভ্যালুর ৯১দিন মেয়াদের ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হলো ৯৮ টাকায়, অর্থাৎ ২ টাকা ডিসকাউন্টে। বিনিয়োগকারী ৯৮ টাকা বিনিয়োগ করে মেয়াদ শেষে কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংক থেকে পাবে  ১০০ টাকা। সুতরাং কুপন রেট শূন্য হলেও প্রকৃতপক্ষে ৯১ দিনে বিনিয়োগকারীর  উপার্জন  হলো ২ টাকা। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের ইল্ড = (১০০-৯৮)/৯৮x ৩৬৫/৯১ x১০০= ৮.১৯%

    আশাকরি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বল্পমেয়াদী ঋণ ( ট্রেজারি বিল) আর দীর্ঘমেয়াদী ঋণ ( যেখানে কুপন রেট বা সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে) তফাৎটা বোঝাতে পারলাম।     

  • রঞ্জন | 122.162.196.19 | ১৮ জুলাই ২০২০ ১৩:৩৬732413
  • শেখর,

         অনেক ধন্যবাদ। তুই রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলি। কাজেই আরও কিছু টেকনিক্যাল বা বেসিক ভুল চোখে পড়লে প্লীজ ধরিয়ে দিবি।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন