ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা

  • কলিম খান, গরুর রচনা ও তর্কশীল বাঙালি

    দেবতোষ দাশ লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জুন ২০১৮ | ৪৫২৮ বার পঠিত
  • অকস্মাৎ আকাশ হইতে টুপ করিয়া কলিম খানের আবির্ভাব ঘটিল এই বঙ্গদেশে এবং তিনি নিত্যনতুন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সুধীবৃন্দকে চমকে দিচ্ছেন, ব্যাপার এমন নয়। যাস্ক, পাণিনি ও অন্যান্য কোষকার, প্রাচীন ভারতবর্ষের ভাষা-বিষয়ক জ্ঞানভাণ্ডারের হোতা। নীরব নিষ্ঠায় একালে এঁদের অনুসরণ করেছেন 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' প্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলিম খান এই সমৃদ্ধ কিন্তু বিস্মৃত জ্ঞানভাণ্ডারের যোগ্য উত্তরাধিকার। কিন্তু কলিম কেবল ভাষাতত্ত্ব নিয়ে থেমে থাকলেন না, পুনরুদ্ধার-করা শব্দতত্ত্ব নিয়ে ঢুকে পড়লেন প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে। এই ঢুকে-পড়াটাই হয়ে গেল বিপজ্জনক। একে অন্তর্ঘাত হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়। কেমন সেই অন্তর্ঘাত? উদাহরণ ইস্তেমাল করে দেখা নেওয়া যাক। ‘গো’ নিয়ে ইদানিং যথেচ্ছ গরু খোঁজা চলছে, আমরা এই ‘গো’ শব্দটি দিয়েই শুরু করতে পারি।

    হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'-এ 'গো' শব্দের ৪১টি অর্থ দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি অর্থ গরু। এছাড়া গো মানে বৃষরাশি, সূর্য্য, চন্দ্র, ইন্দ্রিয়, ঋষিবিশেষ, গায়ক, গৃহ, পৃথিবী, আকাশ ইত্যাদি। প্রথমেই গো শব্দের অর্থ দিয়েছেন বাক্যের সাহায্যে - যে যায়। কেবল গো-এর ক্ষেত্রে নয়, বেশিরভাগ শব্দের ক্ষেত্রেই তিনি বাক্য-অর্থ দিয়েছেন। তারপর দিয়েছেন তার অন্যান্য প্রতিশব্দ। কেন এমন করলেন তিনি? বর্তমানে চালু আমাদের কোনও বাংলা অভিধানে তো এই রীতি মানা হয় না! তাহলে? ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ মন্থন করে কলিম খুঁজে পেলেন এর উত্তর। এক্ষেত্রে হরিচরণ নিশ্চল নিষ্ঠায় অনুসরণ করেছেন আমাদের দেশের প্রাচীন বৈয়াকরণদের। তাঁর পূর্বসূরীদের। আমাদের দেশে শব্দের মানে শব্দের বাইরে ছিল না, ছিল শব্দের ভেতরেই। শব্দের ভেতর থেকে অর্থ-নিষ্কাশন একটি কৌশল, প্রাচীন ভারতে এই কৌশলের নাম 'নির্বচন'। শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে যা করতে হয়। আমাদের বাংলা ব্যাকরণের সমাস ও তার ব্যাসবাক্য নির্ণয়ের মধ্যে যার কিছুটা ভগ্নাংশ এখনও রয়ে গেছে। শব্দের ভেতরের অর্থটিকে বাক্যের সাহায্যেই প্রকাশ করা হয়। বৌদ্ধযুগের 'অমরকোষ' এই কাজটি করেছেন নিখুঁতভাবে। পরে অন্যান্য কোষকারগণ এই রীতিই মেনেছেন।

    সমাজের অগ্রগতির সঙ্গে বাচক-অর্থ বা অন্যান্য প্রতিশব্দের মাত্রা বেড়েছে, পেছনে পড়ে গেছে 'বাক্য-অর্থ'। হরিচরণও নিষ্ঠার সঙ্গে তাই করেছেন। শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে যে বাক্য-মানে বেরোয় সেই বাক্যটি লিখেছেন। তারপর এক এক করে দিয়েছেন অন্যান্য বাচক-অর্থ বা প্রতিশব্দ। সেই প্রতিশব্দ প্রদানেও তিনি স্বেচ্ছাচারী হননি। ওই অর্থ তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন, সেইসূত্রও উল্লেখ করেছেন তিনি। কোনও অর্থই তাঁর স্বকপোলকল্পিত নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে যত কোষগ্রন্থ ও অভিধান রচিত হয়েছিল, প্রায় সবগুলিই তিনি অনুসরণ করেছেন।

    যাস্ক, পাণিনি, মুগ্ধবোধ, অমরকোষ, শব্দকল্পদ্রুম, মেদিনীকোষ ইত্যাদি সবই তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। বেদ-পুরাণ-রামায়ণ-মহাভারত, সাংখ্য-যোগ-তন্ত্রবিষয়ক গ্রন্থাদি থেকে রবীন্দ্রকাব্য পর্যন্ত নানা গ্রন্থে শব্দসমূহের ব্যবহার অধ্যয়ন করে তিনি তাদের অর্থ সরবরাহ করেছেন। একটি শব্দের বহু অর্থ, আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি, তিনি কেবল সততার সঙ্গে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানোর মতো কলিম খান শব্দ ও তার শেকড় খুঁড়ে বের করতে চাইলেন ইতিহাস। একটি সচল ভাষা তো ধারণ করে ইতিহাস। গো শব্দের ৪১টি অর্থ তো একদিনে তৈরি হয়নি! সমাজবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা অর্থ। কয়েক হাজার বছরের ঐশ্বর্য এই অর্থভাণ্ডার। মহাপুরুষ হরিচরণ তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে ৪১টি শব্দের পুরো তালিকাটাই লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এইযুগের স্বেচ্ছাচারী অভিধানকারেরা 'গো'-এর ৪০টি অর্থ ফেলে কেবল 'গো মানে গরু' লিখে দিলেন। ছিঁড়ে ফেললেন আমাদের অসীম উত্তরাধিকারের সূত্রগুলো। কলিমের ভাষায়, একেই বলে 'বাপের নাম ভুলিয়ে দেওয়া'। এইভাবে আমরা নিজেরাই নিজেদের অ-নাথ করেছি, করে চলেছি।

    আমরা যে হ্যাঁগো, ওগো, কীগো ইত্যাদি বলি কথায় কথায়, কেন বলি? এই ‘গো’টি কে বা কারা? এই গো মানে কি গরু? স্ত্রী স্বামীকে বলছেন, হ্যাঁগো আজ অফিস যাবে না? বা চাষি মাঝিকে বলছেন, ওগো তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে, বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। এখানে গো মানে নিশ্চয়ই গরু নয়! স্ত্রী স্বামীকে বলছেন, ও গরু আজ অফিস যাবে না? বা চাষি মাঝিকে গরু বলে সম্বোধন করছেন, এমন নিশ্চয়ই নয়! তাহলে কী? হরিচরণ অনুসরণ করে কলিম বলছেন, এখানে গো মানে গামী, 'হে গামী'-অর্থে সম্বোধন করা হচ্ছে চলমান কারুকে।

    যে যায়, সেই তো 'গো'। তার মানে, প্রতিটি গামী বা চলমান সত্তাই 'গো'। আমাদের পূর্বসূরী বাংলাভাষিগণ যে সমস্ত গামীকে গো শব্দে চিহ্নিত করেছেন, তার সংখ্যা তাই অনেক। সেগুলিকে বিচার করতে গিয়ে দেখা যায়, অতি উচ্চ মার্গের গামী যেমন রয়েছে, অতি নিম্ন মানের গামীও তেমনি রয়েছে।

    কলিম নির্দিষ্ট করছেন, গো শব্দের সর্বোচ্চ অর্থ হল তত্ত্বজ্ঞান ( theoretical knowledge ) এবং সর্বনিম্ন অর্থ হল গরু (cow)। মাঝে রয়েছে অনেক প্রকার অর্থ; সেগুলির মধ্যে ‘হে গামী’ (হ্যাঁগো, ওগো) অর্থে শব্দটির ব্যবহার সর্বাধিক। দ্বিতীয় স্থান ‘পণ্য’ অর্থে গো শব্দটির ব্যবহার। কালীপ্রসন্ন সিংহ মহাভারত-এ বলছেন – ‘গো প্রভৃতি পবিত্রতা- সম্পাদক পদার্থসমূহের মধ্যে সুবর্ণই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ।’ তার মানে, এক কালে গরু বিনিময়ের মাধ্যম বা মুদ্রা রূপে ব্যবহৃত হত। টাকা সচল হয়, অচলও হয়; সচল টাকা তো ‘গো’ হবেই। মুদ্রারূপে ব্যবহারের কারণে সেই গো-এর ব্যবহারের আধিক্য ছিল স্বাভাবিক।

    ধরা যাক আরও দু'একটা শব্দ এবার, যেমন - গবেষণা। ছোটবেলায় সন্ধি করেছিলাম, গো + এষণা = গবেষণা। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান'-এ দেখতে পাচ্ছি এষণা অর্থ ১. গমন বা ২. অন্বেষণ বা ৩. ইচ্ছা। গো যদি গরু হয় তাহলে কি গবেষণা মানে গরুর গমন বা গরু খোঁজা/অন্বেষণ বা গরু বিষয়ক ইচ্ছা বোঝাবে? তা তো বোঝায় না! গবেষণার অর্থ জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস দিয়েছেন, কোনও বিষয়ের তত্ত্ব নিরূপণার্থ অনুসন্ধান। ইংরাজিতেও বলে রিসার্চ, যেখানে সার্চ বা অনুসন্ধান শব্দটি আছে। নির্বোধ গো-রক্ষক কোনও সঙ্ঘ, স্নিফার সারমেয়র মতো ফ্রিজে গরু খুঁজতে পারেন, কিন্তু একজন পিএইচডি স্কলার নিশ্চয়ই পাঁচ বছর ধরে গরু খোঁজেন না! তাহলে এই ‘গো’ কী? এখানে খুব স্পষ্ট, গো মানে কেবল গরু নয়। তত্ত্ব-কথাও বোঝায়।

    কিন্তু আমরা কিছুতেই বুঝব না, আমাদের বৈয়াকরণ ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিতরাও বুঝবেন না! তাঁরা গো অর্থ কেবল গরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবেন। ফলত পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার সামলাতে না-পেরে আমরা আজ দীন ভিখারি। আর এই সুযোগ নিয়ে 'ধর্ম বেওসায়ী ভক্ত'বৃন্দ গো-রক্ষা বাহিনী গড়ে ফেলেছেন পাড়ায় পাড়ায়। গরু-খেকো যবন ও ম্লেচ্ছদের ঢিট করে, দরকার হলে খুন করে, গরুকুলকে রক্ষা করতে হবে!

    যেমন গোবর্দ্ধন শব্দটি, যে বা যিনি গো-বৃদ্ধি করেন; অথবা, এখানে গো অর্থ পণ্য বা প্রোডাক্ট। গোবিন্দ = যিনি সর্ব প্রকারের গো-গণ বিষয়ে বিদিত। তিনি হলেন শ্রীকৃষ্ণ। গোবিন্দের সর্বোচ্চ অর্থ, যিনি তত্ত্বজ্ঞান-সমূহের রস দান করেন এমন এক বৃহস্পতি বা তত্ত্বদর্শী। গোবিন্দের সর্বনিম্ন অর্থ, যে রাখাল চাইলে ভাল দুধ জোগাতে পারে। কলিম তাই বলেন, গোবিন্দ'র গো কেবল গরু হলে অনর্থের আর সীমা থাকে না!

    গোস্বামী শব্দের গো মানে কী? যাঁরা গো-গণের স্বামী তাঁরাই গোস্বামী। এখানে গো মানে তত্ত্ব। গোস্বামী শব্দের সর্ব্বোচ্চ অর্থ, যিনি মানবজাতির অর্জিত জ্ঞানসম্পদের মুকুটমণি তত্ত্বসমূহের অধিকারী। সর্বনিম্ন অর্থে, যিনি গরুসমূহের অধিকারী বা মালিক। গোস্বামী'র গো যদি গরু হয় তাহলে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী কারা? গরুর পাইকার? আমাদের বঙ্গীয় ভাষাবিদেরা কী বলেন? একই নিয়মে, অতএব, গোবর-গোমূত্র বলতে সে গরুর মলমূত্রই বোঝে, এবং যেহেতু প্রসাদ হিসেবে খাওয়ার নিদান আছে, সবাইকে তা খেতেও হবে! আমরা ভাবি, নিঃসন্দেহে ঐ গোবর-গোমূত্রের ভিতরে অলৌকিক শক্তি আছে। অতএব, গোপথ্যি ও পঞ্চগব্য নিয়ে শেষমেষ ‘রাজসূয় যজ্ঞ’ শুরু হয়ে যায়। শুরু হয় রামদেবের রমরমা। কলিম খান বিস্মিত হন, এ কেমন শাইনিং ইণ্ডিয়া, যেখানে লোকেরা গরুর মলমূত্র খায় এবং প্যাকেটে ও বোতলে ভরে লেবেল সেঁটে বিক্রি করে? মহিষ, গাধা, ছাগল, ভেড়া সকলের দুধ খায় এরা, মাংসও খায় কিন্তু তাদের মলমূত্র খায় না। ওদিকে গরুর দুধ ও মলমূত্র সবই খায় কিন্তু তার মাংস খায় না!

    জ্ঞান ও জ্ঞানচর্চাকারীদের ভালোর জন্য বোঝাতে যে ‘গো-ব্রাহ্মণ হিতায়’ কথাটি বলা হত, এখন তার মানে দাঁড়িয়েছে, গরুর ও ব্রাহ্মণের ভালোর জন্য! যে ব্রাহ্মণ ব্রহ্মজ্ঞানের অধিকারী, ভারতবর্ষে যাঁর অর্জন বিশাল, ভাগ্য তাকে কিনা, নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল গরুর সমান মর্যাদায়!

    এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গো-মাতা শব্দের অর্থ-বিপর্যয়। গো-মাতা তো সুরভি, বশিষ্ঠের কামধেনু নন্দিনীর মা। সে তো কেবল দুধ, মাখন, মণ্ডা, মিঠাই প্রসব করত না; অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্যসামন্তও প্রসব করতে পারত। কেননা, নন্দিনী তো আসলে মহর্ষি বশিষ্ঠ পরিচালিত বিপুল বাহ্যসম্পদ উৎপাদনকারী এক বলিষ্ঠ সম্প্রদায়। গো-মাতার সে সব অর্থ আমরা স্রেফ ভুলে গেছি। এখন গো-মাতা মানে যে-গরুর দুধ খাওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হল, যার দুধ খাওয়া হয়, তাকেই 'মাতা' বললে ছাগ-ভেড়া-গাধা-মহিষ-উট সবাইকেই 'মাতা' বলতে হয়; কেননা তাদের সকলের দুধও আমরা খাই। তাদের মাংস খেলেও তো 'মাতা'র মাংস খাওয়া হয়! না, সে সব যুক্তি-তর্কের অবকাশ নেই। ‘গো’ শব্দের অর্থকে শুধুমাত্র গরুতে স্থির করে নিশ্চল করে দিলে যে-যে দুর্গতি হওয়া সম্ভব তা সবই হয়েছে বা হয়ে চলেছে।

    এইসব প্রশ্ন করলে আমাদের ভাষাত্ত্বাতিক পণ্ডিতরা নিশ্চুপ থাকেন। এড়িয়ে যান। যে মহাপুরুষ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মের সার্দ্ধ-শতবর্ষ পালন হল ২০১৭ সালে, তাঁর অভিধান সাহিত্য অ্যাকাডেমির সম্পদ হলেও, পণ্ডিতরা এই অভিধান পড়তে সরাসরি বারণ করেন। এক শব্দের বহু অর্থ তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। অ্যাকাডেমিক জগৎ ছাত্রছাত্রীদের এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে। কারণ, এটা মেনে নিতে পারে না পুঁজিও। বাজারের দুনিয়ায় এক শব্দের বহুরৈখিক অর্থ হলে বড় গোলমাল। ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনেই পড়েন বিপদে। ক্যাপিটাল তা মানবে কেন? তাঁর চাই এক শব্দের একটাই অর্থ।

    বহুত্ব বা বহুরৈখিকতা পুঁজির পক্ষে বাধাস্বরূপ। ফলত, পুঁজির দালাল শিক্ষাকেন্দ্রগুলি হরিচরণকে ব্রাত্য করে রাখে। নমো-নমো করে জন্মের ১৫০ বছর তারা পালন করে বটে, তবে তা 'পূজা'র উদ্দেশ্যেই, তাঁকে অনুসরণের বিন্দুমাত্র আগ্রহ তাদের নেই। এক দেশ, এক জাতি, এক ধর্ম, এক আইনের ধারক-বাহকেরাও তাই চায়, বহুরৈখিক ভারতীয় সংস্কৃতি ধ্বংস হোক। পুঁজি, শিক্ষাকেন্দ্র আর মৌলবাদীদের এক নির্বিকল্প গাঁটবন্ধন গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে দাপাচ্ছে, হরিচরণের মতো মহর্ষির স্থান সেখানে কোথায়! কলিম খান এই অন্যায় গাঁটবন্ধনকে চিহ্নিত করলেন। ফলত, তাঁকেও ব্রাত্য করল অ্যাকাডেমি।

    এই বিকারগ্রস্ত সময়ে কলিম প্রায়ই বলতেন, ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাত থেকে এই বাংলাকে রক্ষা করছে তিনটি শক্তি। কী সেই ত্রিশক্তি? বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, একটি সরোবর কত বড়ো ছিল, বোঝা যায় সেটি শুকিয়ে গেলে। আমরা সেই শুকনো সরোবরের তীরে দাঁড়িয়ে আছি এখন। ট্র্যাজেডি হল, এখনও বুঝতে পারছি না বা চাইছি না ক-ত জল ছিল একদা সেই সরোবরে। ভাষা ও সংস্কৃতির বিপুল উত্তরাধিকার হারিয়ে আমরা আজ ভিখারি। সুযোগ পেয়ে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব তো চলবেই! রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'সভ্যতার সংকট'-এ লিখেছিলেন 'অতীতের সঙ্গে ভারতের নৃশংস আত্মবিচ্ছেদ'। নৃশংস শব্দ ছাড়া এই আত্মবিচ্ছেদকে সত্যিই বর্ণনা করা যায় না। আমরা ঐশ্বর্যহীন হয়েছি স্বেচ্ছায়, ফলত প্রতি পদে পদে সহ্য করতে হবে 'মুর্খ ভক্ত'দের তাণ্ডব। কলিম-বর্ণিত ‘ত্রি’ফলা’র ফলাগুলো নষ্ট করেছি বা করে চলেছি অহরহ। নিজেদের শক্তিহীন করে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করব কীভাবে?

    ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই, কলিম খান যখন ক্রমশ প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন, চিরবিদায় নিলেন তিনি অকস্মাৎ। উপেক্ষা বা ব্যঙ্গ, এই সময় কোনও শস্ত্রই তাঁর দিকে না-ছুঁড়ে, তাঁর ভাবনা-ভুবনে সামান্য অনুপ্রবেশ করলে ক্ষতি কী? একটু চর্চা, ভাব-বিনিময় কি তর্কশীল বাঙালি করতে পারে না? অবশ্য বাঙালির সঙ্গে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ খুব যায়, কিন্তু তর্কশীল? আপনি কী বলেন?

  • | ১৭ জুন ২০১৮ | ৪৫২৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | 9001212.30.2334.138 (*) | ১৮ জুন ২০১৮ ০২:০৯84379
  • "আমাদের দেশে শব্দের মানে শব্দের বাইরে ছিল না, ছিল শব্দের ভেতরেই। শব্দের ভেতর থেকে অর্থ-নিষ্কাশন একটি কৌশল, প্রাচীন ভারতে এই কৌশলের নাম 'নির্বচন'। শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে যা করতে হয়। আমাদের বাংলা ব্যাকরণের সমাস ও তার ব্যাসবাক্য নির্ণয়ের মধ্যে যার কিছুটা ভগ্নাংশ এখনও রয়ে গেছে। শব্দের ভেতরের অর্থটিকে বাক্যের সাহায্যেই প্রকাশ করা হয়।"

    ম্যাজিকে বাংলা ভাষাকে নতুন করে সনাক্ত করার জন্যে সেল্যুট কলিম খান!
  • Abhirup Ganguly | 018912.151.451223.109 (*) | ১৮ জুন ২০১৮ ০৩:২৩84383
  • Khub bhalo
  • Abhijit Majumder | 340112.21.782312.104 (*) | ১৮ জুন ২০১৮ ০৫:৫৯84380
  • অসম্ভব ভালো। অনেক শিখলাম, জানলাম। ধন্যবাদ।
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ১৮ জুন ২০১৮ ০৬:১২84381
  • আচ্ছা এই লেখক, দেবতোষ দাশ ই 'বিন্দুবিসর্গ' রও লেখক তো। অনেকটা ড্যান ব্রাউন স্টাইলে কলিম খানের তত্ত্ব ব্যবহার করে ক্রাইম ফিকশান। মাঝামাঝি গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম, কেমন যেন ঝুলে গেছিল গল্পটা।

    আই হোক এই লেখাটা পড়ে দেখি
  • তথাগতা | 785612.48.4534.156 (*) | ১৮ জুন ২০১৮ ১০:৩৪84382
  • খুব ভাল লাগল পড়ে। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল এই আলোচনা কে জনমানসে ছড়িয়ে দেয়া যায় কি ভাবে...
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০১:২০84388
  • আমার কলিম খান কে ইন্টারেস্টিং লাগে। কেন লাগে উত্তর টা সোজা। আমাদের দেশে social history of work এর কাজের সঙ্গে আমি পরিচিত নই। কিন্তু পশ্চিমে, পপুলার কালচার এর এমনকি প্রাইমার গোছের বই গুলোতেই, কর্ম/কর্ম পদ্ধতি/পেশার বিভিন্নতা এগুলোর সোশাল হিস্টরি আলোচনা অন্তত শিল্প বিপ্লব পরবর্তী আলোচনায় খুব কমন। আমার আন্দাজ, আরো পড়ে বলতে হবে, কলিম খানের মূল অনুপ্রেরণা 'ওরা কাজ করে' গোছের একটা অবস্থান, মানুষের কাজকে তার গড়ে তোলা ভাষার গড়ে ওঠার কাজে ব্যবহার হবার সম্ভাবনা টা কে খুঁটিয়ে দেখা। এবং এটা করতে গিয়ে জ্ঞানচর্চায় আউটসাইডার এর কন্ট্রিবিউশন জিনিসটা কে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা। ক্রিয়া তে আগ্রহ সম্ভবত এই জায়গা থেকেই। সোমনাথ রায় কারেকট করে দিয়ো যদি ভুল বুঝে থাকি।

    এটা ওভারল আমার মজাই লাগে। ভালো ও লাগে। দুই তিনটা বড় গোছের আপত্তি থাগলেও লাগে। দু একটা যা পড়েছি, পোলিটিকাল লেখা গুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল লাগে। কিন্তু আমি এই লাইনে লেখাপড়া জানি কম বললেও কিসুই বলা হয় না, একেবারে গোমুর্খ বললে কিছুটা বলা হয়।
    তাই উদা গুলো জোগাড় করে একবারে বলছি। শিক্ষার্থী হিসেবে দু চারটে কথা রেকর্ড করতে পারি।

    তর্ক জরুরী। অটো ডাইডাক্ট এর স্পিরিট টাকে খুব রেসপেক্ট করি, কিন্তু তর্ক জেনুইন র‌্যাশনাল তর্ক ছাড়া কিসু এগোবে না।
    ss সহ অনেকের কাছ থেকেই কলিম খানের কাজের ক্রিটিক পাওয়া গেলে ভালো, হয়, ভাষাতত্ত্ব বিদ দের তর্ক খুব ইনটারেস্টিং। আমার এটা ভেবেই আনন্দ হচ্ছে, অসংখ্য লোক কে পাই পোবোন্দো কিন্তু দিতেই হবে বলে অ্যাবাউট দেড়শোটি করে মেল করছে। সম্পূর্ণ এসোটেরিক বিষয় নিয়ে প্রচন্ড মতের অমিল, লেখার জন্য তাড়া, সেটা করতে গিয়ে অন্য অনেক লোকের ইন্টারেস্ট তৈরী, নন স্পেশালিস্ট লোকের ফাকে তালে দুইটা পোবোন্দো পড়া এগুলো না থাকলে লেখাপড়ার কিসু থাকে না। এর মধ্যে দুইটা ছোটো ছেলে মেয়ে হয়তো কি বিষয়ে পি এইচ ডি করবে ঠিক করে ফেললো। এগুলো খুব ই আনন্দের কথা। এসব ছাড়া কাগজ চলে না। তো ss একটু বড় করে হয়ে যাক, প্লিজ, ফেরাবেন না।
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০১:২৬84389
  • হরিচরণ চর্চা নিয়ে আমি অন্তত ছাত্রাবস্থায় কোন মাশ্টারমশাই এর কাছে আপত্তি পাই নি, ইন ফ্যাক্ট বাড়িতে হরিচরণ না থাগলে যথেষ্ট সিরিয়াস না এরকম গোছের কথাই বেশি শুনেছি। আর বাংলা শুধু না, ইংরেজি ভাষাতেও এক শব্দের বিভিন্ন অর্থ কমন, এবং সেটা র ব্যবহার ও কমন। তাই এই প্রবন্ধটার এই পার্ট টা বুঝি নি। স্পেসিফিসিটির প্রয়োজনীয়তা শুধু কমার্সে না, বিজ্ঞানেও আছে, ঐ পার্টে একটু রিজয়েন্ডার পেলে ভালো হয়।
  • বাঙাল | 342323.176.121212.215 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০১:৩১84390
  • রিডার্স রেসপন্স থিওরি সম্পর্কে একটু বিশদে বলা যায়?
  • sagnik ray choudhury | 450112.191.564523.191 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০২:৩৩84384
  • কলিম খানের বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ ইন্টারনেটে পাওয়া যায়? এবং কলিম খান পাঠ করতে গেলে কিভাবে শুরু করবো যদি কেউ লিখে দেন বড়ো ভালো হয় ।
  • শান্তনু সরকার | 7845.15.234523.49 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০৬:৩৯84385
  • "আমাদের দেশে শব্দের মানে শব্দের বাইরে ছিল না, ছিল শব্দের ভেতরেই "
    দেবতোষ কে ব্যাপারটা আবার ভাবতে বলবো। এ বক্তব্য নিয়ে আমার একেবারেই ভিন্নমত।আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভিন্নমত আছে, কিন্তু লেখাটা ভালো।
  • π | 7845.29.454512.158 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ০৭:৪৮84386
  • ভিন্নমতের জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা হোক না।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ১০:৩৯84391
  • ভাষাবিদ কেউ যিনি সক্রিয়ভাবে এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন, তিনি বা তাঁরা লিখলে ভালো হয়। বর্তমানে গবেষণার ধারা কী এই বিষয়ে, এইরকম ক্রিয়াবর্ণভিত্তিক অদ্ভুত তত্ত্ব গ্রহণযোগ্য কিনা, এর পক্ষে ও বিপক্ষে কিছু প্রমাণ আছে কিনা, উপযুক্ত রেফারেন্স ইত্যাদি ইত্যাদি ।
  • একক | 3445.224.9002312.52 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ১০:৫৭84392
  • স্পষ্টতঃ এনার থিওরি আমি বুঝিনি । কিছু কিছু জায়গা পড়ে একটু বোঝার মত লেগেচে কিন্তু ওভারঅল আন্কন্ক্লুসিভ হাইপারপ্রাইমিং এর মত মনে হয় । তার কারন মূলত, শব্দের ক্ষুদ্রতম একক ও ধ্বনির ক্ষুদ্রতম এককের দ্বারা যেভাবে তুলনা করে ভাবতে অভ্যস্ত সেটা এনার লেখায় এসে কেমন গুলিয়ে মত যায় । এবার হতেই পারে যে ইনি সম্পূর্ণ একটা আলাদা থিওরি দিচ্চেন যা বুঝতে গেলে কিছু নতুন জার্গন ও তার সংজ্ঞা জেনে নেওয়া দরকার যা আমি জানি নে । হতেই পারে । আপাতত তাই অপেক্ষা কচ্চি । কিন্তু মুশকিল হলো অলরেডি এনাকে ঘিরে ভাষাবিদ দের চে ওয়ানাবি রাজনীতিবিদদের ভীড় বেশি ,কাজেই কে আমায় আলো দেকাবে সে নিয়েও খানিক শঙ্কা আচে .....
  • একক | 3445.224.9002312.52 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ১১:০১84393
  • *ইন্কন্ক্লুসিভ
  • ss | 7845.15.670112.3 (*) | ১৯ জুন ২০১৮ ১২:১৬84387
  • প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তো দিব্যি ভাষার (রূপমূল, শব্দ, বাক্য জবানি বা ডিসকোর্স) বহ্বর্থ (বহু+অর্থ) নিয়ে ব্যাপক কাজকম্মো চলছে। প্লুরাল রিডিং অব টেক্সটস, রিডার্স' রেসপন্স থিওরি (সার্বভৌম পাঠকের সার্বভৌম বহু মানে তৈরির অধিকার এখানে স্বীকৃত, অথরের অথরিটির ইন্তেকাল ঘটেছে), অনেকান্ত পাঠ, পোলিসেমি ইত্যাদি লব্জ তো হামেশাই শোনা যায়। জুলিয়া ক্রিস্তেভা তো থেটিক (স্ট্যাটিক) মানে নিয়ে গত শতাব্দীর সাতের দশকে কত কথাই না কয়েছেন। তবে এমন কিম্ভুত ক্রিয়াবর্ণভিত্তিক কাজ তাঁরা কেউই করেন নি।

    মীমাংসক অন্বিতাভিধানবাদ ও অভিহিতান্বয়বাদ এবং ভর্তৃহরির স্ফোটতত্ত্বে নিষ্ণাত প্রাজ্ঞ কখনোই এই ক্রিয়াবর্ণভিত্তিক আটভাট কাজ স্বীকার করবেন না। "দার্শনিক, মনীষী, মহর্ষি" ইত্যাদি বলাটা তাই রীতিমতন বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।

    মুশকিল হলো যে পুঁজি এখন যেযেভাবে ভানসর্বস্ব (সিমুলেটেড) মেকি বিশ্বরচনা করে, তাতে এই বহুত্বের উদ্ভাসকেও গিলে ফেলা হয়। পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমাজের বৈশিষ্ট্যই তো তাই!
  • পিনাকী | 3489.250.017812.166 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০১:৩৩84405
  • হ্যাঁ, হনুদার বক্তব্যের সাথে একমত। বিশাল চর্চা না করেও এটা বুঝতে পারি যে অ্যাকাডেমিয়ায় কলিম খানের তত্ত্ব স্বীকৃত নয়। অথচ পরিচিত বেশ কিছু পড়ুয়া লোক কলিম খানের প্রবল অনুরাগী। তাঁদের কারো কারো কিছু সমালোচনা যে একেবারে নেই তা নয়। কিন্তু মোটের ওপর স্পিরিটটা অনুরাগের, ভালোলাগার এবং শ্রদ্ধার। এবং তাঁদের বেশ দৃঢ় মত যে কলিম খানকে নিয়ে খানিকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই অ্যাকাডেমিয়ায় নৈঃশব্দ বজায় রাখা হয়। তাঁকে সচেতনভাবে ইগনোর করা হয়। তো এই দুয়ের মাঝামাঝি ব্যালান্সড আলোচনা হওয়া দরকার বলে মনে হয়। অ্যাকাডেমিয়ার সমালোচনা যদি খুব জার্গনভিত্তিক হয়ে পড়ে যা লিঙ্গুইস্টিক্সের বেসিক জানাবোঝা না থাকলে বোঝাই যাবে না, তাহলে মুশকিল। কারণ উল্টোদিকে কলিম খানের লেখা জার্গন বর্জিত। সাধারণ পাঠকের বোধগম্য। ফলে অ্যাকাডেমিক সমালোচনাকেও খানিকটা জার্গনের খোলশ ছেড়ে আসতে হবে বলে মনে হয়। বা জার্গন ব্যবহার করলেও উদাহরণ দিয়ে সেটা জনবোধ্য ফর্মে লিখতে হবে। এটা একটু কঠিন ও সময় সাপেক্ষ হতে পারে। কিন্তু এরকম লেখা লেখা উচিৎ। নইলে পোলারাইজেশন হচ্ছে, কিন্তু মীনিংফুল কনভার্সেশন হচ্ছে না। সাধারণ পাঠকেরও লাভ হচ্ছে না। কে সি পালের তত্ত্বে প্রচুর পড়ুয়া লোকজন মুগ্ধ - এরকম তো দেখিনি। কাজেই কেসি পালের সাথে তুলনাটা একটু এক্সট্রীম লাগল। আবার উল্টোদিকে ‘কমোডিটি মানে কামের উদিতি’ এরকম দাবীদাওয়াও শুনলে বিশুদ্ধ পানিং মনে হয়। আলোচনায় ভারসাম্য আসা প্রয়োজন। কতদূর অব্দি কলিম খানের তত্ত্ব ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করতে কার্যকরী, কোথায় গিয়ে সেটা ব্যর্থ - উদাহরণসহ এসব লেখা আসুক না।
  • Ekak | 12.39.678912.127 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০২:০২84406
  • থোত্ত পোশ্নো ঃঃ যারা কলিম এ মুগ্ধ তারা ভাষাতাত্বিক না সম্পুর্ন আলাদা ফিল্ডের মুগ্ধতা ? কারন, কেসি পালে মুগ্ধ বৈষ্নব সাহিত্যে এম ফিল এমন জনতা কিন্তু আমি চিনি । জাস্ট আস্কিঙ্গ।
  • পিনাকী | 3489.250.017812.166 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০২:১৩84407
  • ভাষাতাত্বিক কিনা জানিনা, কিন্তু বাংলা সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে ফর্মাল পড়াশুনো করা লোকজনই দেখেছি।
  • Debasis Bhattacharya | 340112.242.9008912.247 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০২:৩৭84408
  • সব চর্চা ছেড়ে দিয়ে বাঙালি এখন 'কোশ্চেন অফ ফ্যাক্ট' থেকে 'কোশ্চেন অফ ইন্টারেস্ট' এবং 'কোশ্চেন অফ মর‍্যাল জাজমেন্ট'-কে সর্বাগ্রে আলাদা করতে শিখুক, না হলে সবই বৃথা হবে । কোনও একটি তত্ত্ব সত্যি বা অন্ততপক্ষে সম্ভাব্য কিনা সে নিয়ে সম্যক বিচারের আগেই এই যে আমরা ব্যস্ত হয়ে ভাবতে চাইছি এটি তেমন করে সাড়া না ফেলতে পারার পেছনে পুঁজি বা এলিট বা অ্যাকাডেমিক্স ইত্যাদির ষড়যন্ত্র কাজ করছে কিনা, এটাই আমাদের মূল রোগ । এই রোগ এখুনি না সারাতে পারলে আমাদের বোধবুদ্ধির উন্নতির কোনও আশা দেখতে পাই না ।

    হ্যাঁ, কে সি পাল-এর থেকে কলিম খান কিঞ্চিৎ বেশি সমাদর পেয়েছেন । কিন্তু, এবার ধরুন কে সি পাল-এর এক সমর্থক এসে দাবি করলেন যে, এটা কলিম খানের বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ নয়, বরং নিছকই কে সি পাল-এর বক্তব্যের তীব্র বৈপ্লবিক সত্যতা এবং সেইহেতু তাঁর বিরুদ্ধে আরও বৃহৎ এক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মাত্র (যে ষড়যন্ত্রে কলিম খান হয়ত ক্ষমতাতন্ত্রের দিকেই আছেন) । এঁকে থামাবেন কীভাবে ?
  • Debasis Bhattacharya | 561212.187.4534.207 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০৩:২৯84394
  • আমার কিন্তু রবি চক্রবর্তী আর কলিম খানকে নিয়ে বিস্তর আপত্তি আছে, তাঁদেরকে আমার ভাষাতত্ত্বের 'কে সি পাল' বলেই মনে হয় । তাঁদের সব লেখা আমি পড়িনি, বিনা কারণে একটা গোটা অর্থহীন ডিকশনারি কেন যে আদৌ পড়ে উঠতে হবে তাও বুঝিনি । কিন্তু সামান্য যা পড়েছি তাতে বুঝেছি, আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সাথে তাঁদের তত্ত্বের কোনও সম্পর্ক নেই (যদিও নিজেদের সমর্থনে খামচা খামচা করে হঠাৎ হঠাৎ আধুনিক ভাষাতত্ত্বের রেফারেন্স টানার প্রবণতা আছে)। অথচ, তাঁদের দাবিটি কিন্তু মোটেই ছোটখাটো নয় । আধুনিক ভাষাতত্ত্বের ধারার ভেতরে কোনও একটি নতুন তত্ত্ব তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, এমন তুচ্ছ দাবি করতে তাঁরা পছন্দ করেন না । সম্পূর্ণ নতুন একটি সমান্তরাল ভাষাতত্ত্ব তাঁরা আবিষ্কার করেছেন --- ঠিক এতটাই নাটকীয় তাঁদের দাবি । তাঁদের দাবিটা আমি বুঝতে পেরেছি, কিন্তু কেন যে ওই দাবিটা করছেন সেটা কিছুতেই বুঝতে পারিনি । সত্যি বলতে কি, কেন যে তাঁদের দাবিটা সত্যি বলে ধরতে হবে তা বুঝিয়ে বলার খুব বেশি তাগিদও তাঁদের মধ্যে দেখিনি । বিলিতি ভাষাতত্ত্বের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁরা অবহেলিত দেশীয় চিন্তাকে তুলে আনছেন, অতএব তাঁদেরকে সমর্থন করা অত্যন্ত বেশিরকম উচিত হবে, এই জোরালো নৈতিক আবেদনটুকুই তাঁরা যথেষ্ট বলে মনে করেন, 'প্রমাণ' বস্তুটি তাঁদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় ।

    আর তার ওপর, তাঁরা নিছক ভাষাতত্ত্বে সীমাবদ্ধ নন, বস্তুত তাঁদের বক্তব্যটি হচ্ছে ভাষা-মাইথোলজি-ইতিহাস নিয়ে একটি গোটা প্যাকেজ । কোনও ভাষাবিদ যদি দেখেন যে তাঁর আবিষ্কৃত তত্ত্বের সাথে আমাদের প্রামাণ্য ঐতিহাসিক বোধের সংঘাত ঘটছে, তাহলে তাঁর বেশ চিন্তায় পড়বার কথা, কিন্তু এঁরা তাতে ঘাবড়াবার পাত্র নন । নিজের তত্ত্বের সাথে যদি ইতিহাস না মেলে, তাহলে এঁরা অর্ডারমাফিক একটা নতুন ইতিহাস বানিয়ে নেন । ভুয়ো তত্ত্ব দিয়ে পৌরাণিক কাহিনীর ভুয়ো ইন্টারপ্রিটেশন, এবং সে ইন্টারপ্রিটেশন-এর সাহায্যে আস্ত একটি বিকল্প ইতিহাস রচনা --- ঠিক এই রকমটি এর আগে আমি শুধু দানিকেন-এর লেখায় পেয়েছি ।

    তা, সে যা-ই হোক । আমি তো আর ভাষাতত্ত্বের পণ্ডিত নই, কাজেই ভাষা বিষয়ক কোনও তত্ত্বের ঠিক-ভুল বলে দেবার অথরিটি হিসেবেও নিজেকে দাবি করতে পারি না । এই দুজনের কাছে, কিম্বা তাঁর তত্ত্ব যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁদের কাছে, আমার দুটি মাত্র ছোট্ট দাবি --- (১) বৈপ্লবিক কোনও তত্ত্ব যদি কেউ আবিষ্কার করে থাকেন তো সেটা সর্বাগ্রে বিশেষজ্ঞদেরই জানানো দরকার । কাজেই, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাবার আগে ভাষাতত্ত্বের কোনও স্বীকৃত জার্নালে তা ছাপানো দরকার, শুধু বিলিতি ষড়যন্ত্রের কাঁদুনি গেয়ে লাভ নেই । (২) আর, যদি সাধারণ মানুষের কাছে তা এখুনি তুলে ধরাটা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাহলে আধুনিক ভাষাতত্ত্বের স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট সমালোচনা করে এবং নিজের বক্তব্যের মূল যুক্তিটা পরিষ্কারভাবে বিবৃত করে একটা বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করুন, শুধু আলাদা আলাদা শব্দ আর মিথের আনকোরা নতুন ব্যাখ্যা হাজির করে অপ্রয়োজনীয় কথার পাহাড় গড়বেন না ।

    --- দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য, যুক্তিবাদী সমিতি
  • বাঙাল | 342323.176.2367.107 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০৩:৪১84409
  • কলিম তত্ত্বে অবিশ্বাসীরা নির্ঘাৎ সিপিএম।
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০৪:১০84395
  • দেবাশিষ ভট্টাচার্য্যের দাবীদুটির সাথে সহমত পোষণ করছি।
  • বিদ্যুৎ ব্যানার্জী | 2345.110.125612.63 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০৬:১১84396
  • আমি কলিম খান ও রবি চক্রচক্রবর্তী মহাশয়ের সব লেখা পড়েছি।।।মায় দুইখণ্ড অভিধানের প্রতিটি পাতা।।সেখানে পূরণের বর্ণ ধরে যেমন ব্যাক্ষ্যা দেয়ার চেষ্টা আছে তেমনি পরাতে
  • বিদ্যুৎ ব্যানার্জী | 2345.110.674512.135 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ০৬:৪৪84397
  • কলিম খান মহাশয়ের প্রতিটি বই আমি পড়েছি মায় ওনার দুখণ্ড অভিধানের প্রতিটি পাতা!সেখানে উনি বর্ণ নিয়ে যেমন কাজ করেছেন তেমনি পুরাণের ব্যাক্ষার মারফত এক দর্শনেরও রূপরেখা তৈরী করেছেন !যেটি পুঁজির পক্ষে ও মার্ক্স বিরোধী অবস্থান! এই অবস্থানটি খাপে খাপ মিলে যায় আনন্দমার্গ ও আমরা বাঙালীর প্রতিষ্ঠাতা প্রভাত রঞ্জন সরকারের ভাষাতত্ব ও প্রাউট মতবাদের সঙ্গে!উৎসাহী পাঠক পড়ে দেখতে পারেন!
    এবার বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটা বিষয় একটু পাশাপাশি রেখে একটু ভাবার চেষ্টা করুন, কলিম খান ...প্রভাত রঞ্জন সরকার ...আনন্দ মার্গ...আমরা বাঙালী...বাংলা পক্ষ ...হিন্দু সংহতি ....বিশ্ববাংলা...আরএসএস...!
    সবাই একটু ভাবুন ...নেহাত না বুঝে কোনো বড় খেলার বড়ে না হয়ে যান সেই জন্যে একটু ভাবনার সূত্র দিলাম!কি ভাববেন কি করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিষয়!
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১১:১৩84398
  • বাঙালি ন্যাশনালিস্ট পজিশন তো পরতে পরতে, কলিম খানের লেখার এটাই মূল দুর্বলতা, কিন্তু, সেটা যে স্বীকৃত আকাদেমিয়ায় নেই সেটা খুব হলপ করে বলা যায় না। সিস্টেমিক ক্রিটিক এলে ভালো হয়।

    সুনীতি বাবু কি বাঙালি ন্যাশনালিস্ম দ্বারা কোনোদিন একেবারে অ্যাফেকটেড ছিলেন না? ভীষ্ম সাহনি উর্দু হিন্দি কন্ট্রোভার্সি তে কোন পক্ষ গ্রহণ করেছিলেন, তিনি তো আমাদের দেশে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেকুলার ইনটেলেকচুয়াল হিসেবে স্বীকৃত। মুজতবা অফ অল পিপল ঊনবিংশ শতকীয় জাতি বিশুদ্ধতার ধারণা থেকে মুক্ত ছিলেন না, সেল্ফ ডেপ্রিকেটিং যবনের পোলা হওয়া সত্ত্বেও। তো এই গুলা সময়ের সমস্যা। সব দিক থেকে একজন মানুষ সময়কে অতিক্রম করতে পারেন না। এগুলোর কোনটাই কি কমিউনাল মোবিলাইজেশন কে আরো ধারালো করে তোলে নি?

    একটা লোক মার্ক্স বিরোধী এবং পুঁজির স্বপক্ষে হলে, সে আকাদেমিয়ায় স্বীকৃত হবে না, বা শুধুই কাল্ট ফিগার হয়ে থাকবে সেটাতো এমনিতে ঘটনা না। আকাদেমিয়ায় সর্বত্রই মার্ক্স বিরোধী দের জয় জয়াকার। তো কি হয়েছে। ক্যাপিটালিজম এর জেনেরাল নেচার অ্যানালিসিসে মার্ক্স এর অ্যাটেম্প্ট এবং পোলিটিকাল রেজিস্টান্স ফর্ম করার জন্য মার্ক্স এর অবস্থান আরো বহুদিন মানুষকে আগ্রহী করবে, আর না করলেও ক্ষতি নেই অন্য কোন ভাবে রেজিস্টান্স গড়ে উঠবে, কি হয়েছে তাতে?

    আমাদের জেনেরালি কলিম খানের রাজনৈতিক রচনা ও অবস্থান দুর্বল লাগে, কিন্তু শব্দার্থ তত্ত্ব একটা ইন্টারেস্টিং টেক লাগে। কর্মের স্বীকৃতির একটা অ্যাটেম্প্ট মনে হয়। এটাকে যাঁদের ভেগোলজি মনে হয়, কেন মনে হয় সিস্টেমিক ক্রিটিক সাধারণ মানুষের জন্য লিখলে ক্ষতি কি, লিখুন না। তবে আমার চক্রান্ত তত্ত্ব দেখতে এই মুহুর্তে ইচ্ছে করছে না।
    কলিমখানের ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থ তত্ত্বের দুর্বলতা যেগুলো, আঞ্চলিক ভাষার বিকাশের স্বীকৃত তত্ত্ব গুলির মূল দুর্বলতা গুলি তার থেকে ন্যাহনালিজম বিরোধী কন্ট্রারিয়ান এর চোখে খুব দূরে না। সংস্কৃত কে একমাত্র ক্লাসিকাল ভারতীয় ভাষা বলে স্বীকার করা এবং ভাষার বিবর্তনে অন্যান্য ট্রিবিউটারি গুলি কে অথবা ভাষার চলমানতা কে কম বেশি অস্বীকার করা। এর লেজে লেজেই আসে, বহুভাষিকতা এবং প্রান্তিক ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় চরিত্র যে সম্ভব সেটাকেই অস্বীকার করা।

    এটা ঘটনা, হিন্দু ন্যাশনালিস্ট দের বাঙালি ন্যাশনালিস্ট দের সঙ্গে মেল বন্ধন খোঁজার একটা রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা উপস্থিত হয়েছে। এটা হয়তো দু পক্ষের মুসলমান বিরোধী দের লাস্ট হার্ডল, কিন্তু ঘৃণার প্র্যাকটিকাল মিলনাত্মক শক্তি বেশ দৃঢ়, এত তত্ত্ব কপচানোর প্রয়োজন হবে না।

    তাই বোধগম্য স্পেসিফিক ক্রিটিক হলে ভালো হয়। এমন নয় যে যারা কলিম খান কে পড়ে বোর হয়ে গেছেন, তাদের করতে বলা হচ্ছে, বা কলিম খান কে খন্ডন না করতে পারলে, হিন্দু ন্যাশনালিজম কে বাংলায় বেড়ে ওঠার থেকে প্রতিহত করা যাবে না। ঘটনা হল, ডিসপ্যাশনেট ইনকোয়াইর চর্চাটা থাকা ভালো। এবং চক্রান্ত তত্ত্বের অবতারণা না করে স্পেসিফিক দুর্বলতা, ডুবিয়াস তত্ত্ব প্রচেষ্টার সঙ্গে যদি মিল পাওয়া যায় সেগুলো স্পেসিফিক ভাবে দেখালেই হয়।
  • Debasis Bhattacharya | 781212.194.5634.121 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১১:২৯84399
  • 'ব্যাক্ষ্যা' না দিয়ে ক্ষ্যামা দিলে হয় না ?
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১১:৩৫84400
  • *আমাদের হবে না, 'আমার' হবে। চতুর্থ প্যারার শুরুতে।
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১১:৩৭84401
  • দেবাশিস বাবু, হলেই হল, এটা হেবি দিয়েছেন ঃ-))))))))))))))))
  • ভাষিক | 2390012.42.671212.17 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১২:১৯84402
  • অ্যাপ্লাইড লিংগুইস্টিক্সের সাবসেট লেক্সোলজি (শব্দবিদ্যা)। লেক্সোলজির একটা সাবসেট লেক্সিকোগ্রাফি (অভিধানরচনাবিদ্যা), যার সাবসেট এটিমোলজি। লেক্সিকোগ্রাফিতে নানান ধরনের অভিধান নিয়ে কারবার। জেনারেল ডিকশনারি থেকে বাইলিংগুয়াল ডিকশনারি, বিষয়ভিত্তিক ডিকশনারি, থেসরাস (সমার্থবোধক শব্দের অভিধান), এবং এটিমোলজিক্যাল ডিকশনারি (শব্দের উৎস ও বিবর্তন খোঁজে এমন ডিকশনারি)

    তো এইসব নিয়ে সামান্য ও বিক্ষিপ্তভাবে হলেও একাডেমিয়াতে কাজ হয়েছে ও হয়ে চলেছে। এরিখ ফন ডানিকেন এর মতো আউটল্যান্ডিশ (এলিয়েন দুনিয়াতে সভ্যতা, ধর্ম এনেছেএবং প্রাচীন মেগাস্ট্রাকচারগুলো বানিয়েছে, সম্পূর্ণভাবে রিফিউটেড, যদিও সত্তরে খানিক ঝড় তুলেছিল ডানিকেনের বইগুলো) ক্লেইম না করে কম্প্যারাটিভলি ব্যাখ্যা করে কোনটা কলিম খানের একান্ত নিজস্ব তত্বায়ন যা একাডেমিক ক্রিটিসিজম সারভাইভ করতে পারে।

    সিরিয়াস বিষয়ে সিরিয়াস ক্লেইম করলে দাবীর সপক্ষে দলিল ও সাউন্ড মেথোডলজির প্রমাণ আনতে হয়।

    লেখাটা ওবিচুয়ারিজনিত হ্যাজিওগ্রাফি হলে কাটিয়ে দিন।
  • h | 340123.99.121223.133 (*) | ২০ জুন ২০১৮ ১২:৩২84403
  • হ্যাজিওগ্রাফি তো খানিকটা হবে, একটা আহা উহু অবিচুয়ারি তে হবে। এটাকে নিন্দে করতে নেই ঃ-) আমি অশোক মিত্র র অবিচুয়ারি লিখলাম মাইরি সেটা হাজিওগ্রাফি অ্যাভয়েড করতে গিয়ে দেখলাম, যাঁরা সারাজীবন অশোক বাবু কে গাল দিয়েছেন তাঁরা (মানে সাড়ে দুই জন মত টোটাল পাঠক সংখ্যা) খুব দুঃখ পেলেন, বললেন অশোক বাবু কত্ত ভালো একরোখা জেদী লোক ছিলেন, কদিন আগেই এরা বলতেন, অশোক বাবু কি একরোখা জেদী লোক ছিলেন, কি খারাপ কি খারাপ ঃ-) মাইরি আমি জেনু ঘেটে গেসলাম।

    আমার জেনেরালি ইটিমোলোজি ভালো লাগে, এবং শব্দের অর্থের ভিন্নতা এবং বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ধরণের রুট, ভাষার গড়ে ওঠা টা যে প্রচন্ড ইন্টারেস্টিং একটা জার্নি সেটাকে মনে করায়। এবং এটা মেনস্ট্রীমে স্বীকৃত। তাই এই পার্টিকুলার জায়গায় কলিম খানের ওরিজিনালিটি টা বুঝি নি। এই প্রবন্ধ টা অন্তত সেদিকে দিক নির্দেশ করে নি। তো সেটা এই প্রবন্ধের সমস্যা হতে পারে, কলিম খানের সমস্যা নাও হতে পারে। আমি সিরিয়াস এবং উত্তেজনা বর্জিত এনকোয়ারির পক্ষে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন