• বুলবুলভাজা  অপর বাংলা

  • সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

    কল্লোল মুস্তাফা লেখকের গ্রাহক হোন
    অপর বাংলা | ২৯ আগস্ট ২০১৩ | ১১২৮ বার পঠিত
  • ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩৬০০ মেগাওয়াটের কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প (Cuddalore power project) থেকে  পিচাভারম (Pichavaram) নামের ছোট্ট ম্যানগ্রোভ বনটির দূরত্ব ৮ কিমি। ভারতের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আইন ১৯৮৭ অনুসারে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি সীমার মধ্যে কোন বনভূমি থাকা চলবে না। ফলে তামিল নাড়ুর রাজ্য সরকার ২০১০ সালে কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র দিলেও ২০১২ সালের ২৩ মে সেই ছাড়পত্র স্থগিত করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রীন ট্রাইবুনাল। ভারতীয় হিন্দু পত্রিকার রিপোর্টে এ বিষয়ে বলা হয়েছে: “the proposed power plant location violated the criteria for thermal power plants, being within 25 km of Pichavaram, an ecologically sensitive area.”

    (সূত্রঃ Green tribunal suspends environmental nod for Cuddalore power project. http://www.thehindu.com/todays-paper/tp-national/tp-tamilnadu/green-tribunal-suspends-environmental-nod-for-cuddalore-power-project/article3454339.ece)

    পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বনটির আয়তন ১১ বর্গ কিমি যা ১০ হাজার বর্গকিমি আয়তনের সুন্দরবনের মাত্র ৯০০ ভাগের এক ভাগ। ভারতে ছোট্ট একটি ম্যানগ্রোভ বনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না-জায়েজ হলেও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের পাশে বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিরই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন জায়েজ!

    একই ভাবে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে অবস্থিত রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কিমি এর মধ্যে চামালাপুর গ্রামে ১ হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে নি ভারত ২০০৮  সালে। রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের বিস্তৃতি ৬৪৩ বর্গকিমি জুড়ে যা সুন্দরবনের আয়তনের ১৬ ভাগের এক ভাগ। যে ভারত তার নিজ দেশে সুন্দরবনের ১৬ ভাগের একভাগ আয়তনের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক এবং ৯০০ ভাগের একভাগ আয়তনের পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ২৫ কিমি সীমার মধ্যে তাপ ভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি, সেই ভারত বাংলাদেশে সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, জীব বৈচিত্রের অফুরন্ত আধার, রামসার সাইট এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে ঘোষিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাত্র ১৪ কিমি এর মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল তাপ ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে!ভারতের সীমানার ভেতরের বনাঞ্চল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে যুক্ত সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের যেন কোন গুরুত্ব নেই,যেন বাংলাদেশের সুন্দরবন একটি এতিম বনাঞ্চল যার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নাই! 

    অথচ শুধু গোলাপাতা, কাঠ, মোম, মধু, মাছ , সারি সারি গাছ আর নদ-নদী-খালের সজীব আধারই নয়, সুন্দরবন যেন গোটা বাংলাদেশকেই লালন করছে, আগলে রাখছে। একদিকে বনের গাঢ় সবুজের সমারোহ সাগরের উপর থেকে মেঘ টেনে আনে স্থল ভাগে, শিকড়ের জাল পেতে নদী বাহিত পলি ধরে রাখে অন্যদিকে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বুক পেতে রক্ষা করে গোটা উপকূল। সেই সুন্দরবন, সেই সজীব প্রাণের স্পন্দনে ভরা প্রিয় বাদাবন নিজেই এবার বিপদে পড়েছে। কঠিন বিপদ। গাছপালা-পশুপাখি-মানুষ সহ যে জগৎটাকে সে এতদিন আগলে রেখেছে, সেই গোটা জগৎটার অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখোমুখি। এমনিতেই প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট নানা দুর্বিপাকে সুন্দরবন অস্তিত্ব বিপন্ন,তার উপর এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াটের ঐ বিশাল কয়লা বিদুৎ প্রকল্প। গত এপ্রিল ২০১৩ তারিখে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসির সাথে প্রয়োজনীয় চুক্তিও হয়ে গেছে। এর আগে স্থানীয় জনগণের প্রবল বিরোধিতা স্বত্বেও এমনকি পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়াই ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছিল।সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিতর্কিত পরিবেশ সমীক্ষারও অনুমোদন হয়ে গেছে। সরকার জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরী করে, রাষ্ট্রের পেশিশক্তি প্রদর্শন করে, দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত, স্থানীয় জনগণ এমনকি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যেমনঃ বন বিভাগ,নৌ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইত্যাদির বিরোধিতা আগ্রাহ্য করে,ভারতীয় কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে সামরিক বাহিনীর সাবসিডিয়ারি বাংলাদেশ ডিজেল পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডকে দিয়ে প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    সুন্দরবনের পাশেই রামপালে প্রস্তাবিত কয়লা বিদুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে সুন্দরবন যেসব বিপর্যয়ের শিকার হবে তার কয়েকটি নমুনাঃ

    ১) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড(SO2) ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড(NO2) নির্গত হবে যার ফলে পরিবেশ আইনে বেঁধে দেওয়া পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার সীমার (প্রতি ঘনমিটারে ৩০  মাইক্রোগ্রাম) তুলনায় এইসব বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি হবে (প্রতি ঘনমিটারে ৫৩ মাইক্রোগ্রামের বেশি) যার ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি, শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি সহ গাছপালা জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হবে।  অথচ জালিয়াতি করে সুন্দরবনকে পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার বদলে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা’ হিসেবে দেখিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ নিরাপদ মাত্রার মধ্যেই থাকবে বলে প্রতারণা করা হচ্ছে।

    সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যেমন ১৪ কিমি দূরত্বের কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে,  যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফায়েত্তি কাউন্টিতে ১৯৭৯-৮০ সালে ১২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সময়ও স্থানীয় মানুষকে এভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।  এমনকি কিছু দিন পরে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৬৯০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা হয়। ফলাফল সাথে সাথে বোঝা না গেলেও ৬৬ থেকে ১৩০ ফুট উচু বিশালাকৃতি পেকান বৃক্ষগুলো(একধরণের শক্ত বাদাম, কাজু বাদামের মতো) যখন একে একে মরতে শুরু করল ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের হিসেবে ফায়েত্তি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বিশেষত সালফার ডাই অক্সাইডের বিষ ক্রিয়ায় পেকান, এলম, ওক সহ বিভিন্ন জাতের গাছ আক্রান্ত হয়েছে, বহু পেকান বাগান ধ্বংস হয়েছে, অন্তত ১৫ হাজার বিশালাকৃতির পেকান বৃক্ষ মরে গেছে। এবং এই ক্ষতিকর প্রভাব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এমনকি ৪৮ কিমি দূরেও পৌছে গেছে।

  • ফায়েত্তি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন সালফারডাই অক্সাইড নিঃসরণের ফলে সালফার ও অ্যাসিড দূষণে হাইওয়ে ২১ এর ৪৮ কিমি জুড়ে গাছপালার এই অবস্থা যদি হতে পারে তাহলে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরকারি হিসেবেই দৈনিক ১৪২ টন হারে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন (ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজার বা এফজিডি ব্যাবহার না করার কারণে দূষণ অপেক্ষাকৃত বেশি ) সালফার ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হলে মাত্র ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত সুন্দরবনের কি অবস্থা হবে তা ভাবতেও ভীষণ আতংক হয়!

    ২)  সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কালে নির্মাণের মালামাল ও যন্ত্রপাতি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদী পথে পরিবহন করার সময় বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নিঃসরণ, শব্দদূষণ, আলো, বর্জ্য নি:সরণ, ড্রেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেম বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, ম্যানগ্রোভ বন ইত্যাদির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

    ৩) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরে ৪ ৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে  ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এই ফ্লাই অ্যাশ, বটম অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে কারণ এতে বিভিন্ন ভারি ধাতু যেমন আর্সেনিক, পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে। এই দূষণকারী ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ৬ মিটার উঁচু করা হবে। ফলে এই ছাই উড়ে, ছাই ধোয়া পানি চুইয়ে আশপাশের নদী খাল এবং আন্ডারগ্রউন্ড ওয়াটার টেবিল দূষিত করবে।

    ৪) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন, জেনারেটর, কম্প্রেসার, পাম্প, কুলিং টাওয়ার, কয়লা উঠানো নামানো, পরিবহন ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন থেকে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হয়। বলা হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সুন্দরবনকে রক্ষা করা হবে। কিন্তু সবুজ বেষ্টনী বেড়ে উঠতে তো সময় লাগবে। ঐ কয় বছর শব্দ দূষণ প্রতিহত করা হবে কী ভাবে কিংবা সবুজ বেষ্টনীর বাইরে যন্ত্রপাতি ওমালামাল পরিবহন, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজের সময় যে শব্দ দূষণ হবে তার ক্ষতিকর প্রভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?

    ৫) প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি পশুর নদীতে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে। পরিশোধন করার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিশোধনের পরও পানিতে নানান রাসায়নিক ও অন্যন্যা দূষিত উপাদান থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকেই। তাছাড়া নদী থেকে এই হারে পানি প্রত্যাহার, তারপর বিপুল বেগে পানি আবার নদীতে নির্গমন, নির্গমনকৃত পানির তাপমাত্রা ইত্যাদি নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, পানির প্লবতা, পলি বহন ক্ষমতা, মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন চক্র ইত্যাদির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেই যা নদী নালা খাল বিলের মাধ্যমে গোটা সুন্দরবনের জলজ বাস্তুসংস্থানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

    ৬) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনী থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের তাপমাত্রা হবে ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা চারপাশের পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

    ৭) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই পরিবহন করা হবে। এ জন্য বছরে ৫৯ দিন কয়লা বড় জাহাজ এবং ২৩৬ দিন লাইটারেজ জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লার মতো দূষণকারী কার্গো নিয়ে চলাচল করবে। ফলে কয়লা পরিবহন, উঠানো –নামানো, জাহাজের ঢেউ, নাব্যতা রক্ষার জন্য ড্রেজিং, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ নিঃসৃত তেল, দিন রাত জাহাজ চলাচলের শব্দ, জাহাজের সার্চ লাইট ইত্যাদি সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ও জীব বৈচিত্র্য বিনাশ করবে। এগুলো আমাদের নিজেদের কথা না, প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়ে তারপর প্রকল্প জায়েজ করার জন্য যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে, শত জালিয়াতি করেও এইরকম ভয়ংকর ফলাফলগুলোকে ঢেকে রাখা যায় নি। বনঅধিদপ্তর থেকে গত ২৯ সেপ্টম্বর ২০১১ তারিখে পরিবেশ ও বনমন্ত্রালয় বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়ঃ

    “কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তথা সমগ্র সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশ Ramsar Conservation এর Signatory থাকায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিক ভাবেও আরও বেশি দায়িত্বশীল করে। বন সংরক্ষক, খুলনা অঞ্চল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। Sundarbans Ramsar Site(World Heritage Site) বিধায় কয়লা ভিত্তিক  Power Plant প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পু্নর্বিবেচনা করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হল।"

    কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর কোন ভ্রূক্ষেপ নেই,স্থানীয় জনগণ, সারা দেশের জনমত, বিশেষজ্ঞ মতামত এমনকি রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের মতামত পর্যন্ত উপেক্ষা করে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। শুধু রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পই নয়,তিস্তার পানি বন্টন,তিতাসের বুকে বাঁধ দিয়ে ভারতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর,টিপাইমুখ বাঁধ, ট্রানজিট, সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই শাসক শ্রেণীর নতজানু অবস্থান খুব স্পষ্ট। ভারতের সরকারি বেসরকারি বৃহৎ কর্পোরেশনের মুনাফা নজরে এক দিকে ভারতেরই আদিবাসী, কৃষক,ভূমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে,প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশি দেশের নদী,বনাঞ্চলও সাম্রাজ্যবাদের মুনাফা নজর থেকে মুক্ত নয়। ভারতীয় শাসকদের মুনাফা ও আধিপত্যের সম্প্রসারণে কখনও জুনিয়র পার্টনার,কখনও সাবকন্ট্রাক্টজীবি কিংবা কমিশনভোগী হিসেবে বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর এই নতজানু ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠা জরুরি। টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধে যেমন উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম মণিপুরের জনগণের সাথে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ জরুরি,বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ জুড়ে থাকা এই সুন্দরবন ধ্বংসের  রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ভাবে শুধু রামপাল বা বাংলাদেশের জনগণই নয়, ভারতীয় এমনকি সারা দুনিয়ার সংগ্রামী জনগণের পারস্পরিক সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলা দরকার।

  • বিভাগ : অপর বাংলা | ২৯ আগস্ট ২০১৩ | ১১২৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • দেব | 212.54.176.14 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ০১:২৫77039
  • বাঙ্গলাদেশের সরকারের কাছে কোন আবেদন জমা পড়েছে এর বিরুদ্ধে? কোন জবাব এসেছে?
  • বিপ্লব রহমান | 212.164.212.20 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ০১:৪৭77040
  • আমি যতোদূর জানি, এই নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে অসংখ্য স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি দফতরে। ইমেইল, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, কলাম লেখা -- সবই চলছে। কিন্তু সরকার তো "কানে তুলো" দিয়ে বসে আছে।

    সবশেষ খবর, পরিবেশ, বন, জলাধারসহ বিভিন্ন আইন উপেক্ষা করে রামপাল প্রকল্প পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমোদন দিয়েছে। নির্বাচনের মৌসুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব জনমত উপেক্ষা করে শিগগিরই প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।

    অদ্ভুদ উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ!
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ০৩:১৭77041
  • ভয়াবহ ব্যাপার! এর সাথে জড়িত সব সরকারী/বেসরকারী ক্রিমিনাল-দের কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত, সে শাস্তি আর কে দেবে..
    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই নিয়ে কিছু মুভমেন্ট হলে, ইউনেস্কো বা বিদেশী সরকার/অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে এই প্রজেক্ট বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া গেলে ভাল হত।
    জীববৈচিত্র ছাড়াও এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সাইক্লোনের হাত থেকেও দেশকে অনেকটা রক্ষা করে
  • sch | 126.202.204.100 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ০৪:৩৯77042
  • বাংলাদেশে কি PIL করা যায়? তাহলে ব্যাপারটাকে কোর্টে ঝিলিয়ে দিলেই তো হয়
  • বিপ্লব রহমান | 212.164.212.20 (*) | ৩০ আগস্ট ২০১৩ ১১:২৩77038
  • কি নির্লজ্জ পররাষ্ট্রনীতি!!

    রামপালে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র হলে শুধু সুন্দরবন বা দক্ষিনাংশই নয়, পুরো দেশেরই ভূ-প্রকৃতি ধ্বংসের মুখে পড়বে। ভেবে অবাক লাগছে, এই নিয়ে দেশের ভেতরে জোর প্রতিবাদ হচ্ছে, [বোধগম্য কারণেই বড় রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য আশ্চর্য নিশ্চুপ], শিগগিরই ঢাকা-রামপাল লং মার্চও হতে যাচ্ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর এখনো ঘুমই ভাঙছে না!

    সমস্য তাহলে কোথায়? শুধুই ভারত প্রেম?
  • আশানুর | 133.176.77.60 (*) | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১০:০২77043
  • সারা পৃথিবীতে কতো % কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে একটু বলবেন কি অ্যাডমিন? আমার জানা মতে আমেরিকার বর্তমান উৎপাদন ১.১ ট্রিলিয়ন মেগাওয়াট। যার ২২% কয়লা। চায়নার মোট উৎপাদন মাত্র ১ ট্রিলিয়ন মেগাওয়াট। তাদের ৭০% উৎপাদন কেন্দ্র কয়লা ভিত্তিক। ঠিক তেমনি ভারতের অ একই অবস্থা। আমাদের মোট উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ৮ গেগাওয়াট, যা আমেরিকার মোট উৎপাদনের ১৪০ ভাগের এক ভাগ এবং চায়নার মোট উৎপাদনের ১২০ ভাগের এক ভাগ। বাংলাদেশে বড় পুকুরিয়ায় যে কয়লা খনি আছে সেইটা মুলত ২৫০ মেগা ওয়াটের একটা প্লান্ট। আর পৃথিবীর চতুর্থ বিদ্যুৎ উৎপাদন কারি দেশ ভারতের ময়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ১ লাখ মেগাওয়াট মানে ১ গেগাওয়াটের সমান। চায়নার যার পরিমাণ ৭০০ গেগাওয়াট। আমরা কি সীমারেখা দিয়ে দূষণ এরাতে পেরেছি? না পেরেছি পরিবেশ রক্ষা করতে? আর আপনি আপনার লেখায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রযুক্তি সম্পর্কে বেমালুম চেপে গেলেন।।তেমনি চেপে গেলেন খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষিরা সহ আরও অনেক কয়েকটা জেলায় লবানক্ত পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করে ধানি জমির নষ্ট করবার সকল পাঁয়তারা। কিন্তু কেন?
  • indranil | 127.194.193.176 (*) | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৬:৩৯77044
  • World Citizen Concern for Rampal and Phulbari

    Resuscitating a Dinosaur couple

    In a time when the basis of civilization, the so called modernism is challenged, in a time when Bolivia is passing the Law of the Rights of Mother Earth, Bangladesh is resuscitating a Dinosaur couple – an open pit coal mining in Phulbari and a thermal power plant in Rampal, Sunderban. As a concerned global citizen, we feel the urge to stand by the struggle of the people in BD fighting this couple.

    The Phulbari Project

    The Phulbari Coal Project would excavate an immense open pit coalmine in the Phulbari region of northwest Bangladesh. The project threatens to destroy the homes, lands, and water sources of as many as 220,000 people, and forcibly evict tens of thousands of people. The families whose farmlands would be destroyed are at risk of being made destitute, as the project would not provide replacement land to those who are displaced. The project has faced widespread opposition in Bangladesh, with massive protests involving tens of thousands of people beginning in 2006 and continuing through today.

    Project Details

    Location: Dinajpur district of northwest Bangladesh, just six miles from the Indian border
    Land acquired for the project: 14,660 acres, 80% of which is fertile farmland
    Projected lifespan of the mine: 36+ years
    Total coal extraction: 572 million tons; 16 million tons annually at peak production
    Use: investment agreement allows for export of all coal; estimated one-fifth to be used for domestic energy consumption in Bangladesh with the remainder earmarked for export.
    Coal-fired power plants: at least one 500 MW plant in the port city of Khulna
    Revenues & taxes to Bangladesh: 6% fixed sales royalty; no export duties; and a nine-year tax holiday

    The Rampal Project

    Bangladesh Power Development Board and the National Thermal Power Corporation of India signed a contract to build, under joint venture, the 1320MW Rampal Coal Fired Power Plant near Sundaban. This is an invitation to a developmental disaster, one which can help destroy one of the world’s natural wildlife wonders.

    Please mail me at [email protected] for further details.

    An Appeal – it is time to speak out

    Considering the need of the hour, we invite all concerned global citizens to exercise their right and join the protest initiative on fighting this Dinosaur couple.

    NCBD is leading the protest in both Phulbari and Rampal. A long march from Dhaka to Rampal has been scheduled from 24th to 28th September. In solidarity with this, we are planning a deputation and demonstration to Kolkata NTPC at Pretoria Street on 27th September.

    We are meeting in on 21st September, Saturday at Favorite Café, College street to discuss the way forward. Please join and share your valuable thoughts.
  • বিপ্লব রহমান | 212.164.212.20 (*) | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১২:২৩77045
  • আপডেট-০১:

    "সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়; আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার ঋণ শোধ করি" -- অবশেষে এই শ্লোগানে রুখে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

    তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি'র ব্যানারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রামপাল লং মার্চের কর্মসূচি পালন করছে। এই নিয়ে সারা দেশে সাজ সাজ রব পড়েছে।

    ___

    চলতি থ্রেডে সহ ব্লগার ফিরোজ আহমেদের প্রাসঙ্গিক ভাবনাটুকুও যুক্ত থাক:

    "পুরো অগোচরে অবশ্য ঘটনাটা ঘটতে পারছে না, তার কারণ জাতীয় স্বার্থ নিয়ে দিবারাত্র কাজ করেন, ভাবেন এমন কিছু মানুষের সক্রিয় উদ্যোগ। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ীর আন্দোলনের মতই রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎপ্রকল্প বিরোধী আন্দোলনকে ভাষা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি একদিকে যেমন এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির দিকগুলো চিহ্নিত করে দেখিয়ে দিয়েছে এতে ক. পরিবেশগত সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি বাংলাদেশের হলেও, খ. স্থাপনাটি বাংলাদেশে অবস্থিত হলেও, গ. নগদ বিনিয়োগ বাংলাদেশ ভারত উভয় সরকার ১৫ ভাগ করে বিনিয়োগ করলেও (বাকিটা খুব সম্ভবত ভারতীয় আর্থিক সংস্থা থেকে চড়া সুদে নেয়া হবে) মুনাফার ভাগ হবে ৫০:৫০! এতে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম নিয়েও আছে মহা লুণ্ঠন, সেটা পিডিবি উৎপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে বহুগুন বেশি। কিন্তু জাতীয় কমিটির বক্তব্য অনুসারে, সামান্য বিনিয়োগে মুনাফার অর্ধাংশ নয়, ভারতের আসল লাভ হবে প্রকল্পের সুদে টাকা খাটিয়ে, চড়া দামে যন্ত্রাংশ ক্রয় করিয়ে এবং আরও নানান উপায়ে প্রকল্পব্যায়ের মাঝে বিপুল পরিমান মুনাফার বন্দোবস্ত করে।

    জাতীয় কমিটি শুধু জনগণের নগদ টাকার লুটপাট না, প্রকল্পটিকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে বড় পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনার উদ্যোগ হিসেবেও। রামপালের বিদুৎ কেন্দ্রটি ১৩২০ মেগাওয়াটের, জাতীয় কমিটি দেখিয়েছে একটি ৫০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্প গড়ে ১০ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড নির্গমন ঘটায়। সালফার ডাই অক্সাইড যে অম্লবৃষ্টি ঘটাবে তাই সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। পারদ আর একটি পদার্থ যা প্রাণীদেহের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতির এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাণ ঘটায়; যে বিপুল পরিমান পারদ নির্গমন ঘটবে সেটা সুন্দরবনের গোটা প্রাণীকূলকে অচিরেই বিনষ্ট করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সুন্দরবনের মত স্পর্শকাতর অরণ্যে কোন একটি উপাদানের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিই সমগ্র বনটির অস্তিত্ব বিপন্ন করবে। পশুর নদীর পানি লবনাক্ত বলে প্রকল্পের জন্য খুব সম্ভবত ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানি উত্তোলন করে ব্যবহার করা হবে, বিদ্যুৎকেন্দ্রকে শীতল রাখার জন্য যে পরিমান পানি টেনে তুলতে হবে, তা গোটা এলাকায় ভূগর্ভে পানিশূন্যতা তৈরি করবে। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপজাত হিসেবে আসা তরল কয়লা বর্জ্য এবং ছাই; এতে আর্সেনিক, পারদ, ক্রোমিয়াম, এমনকি তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামও থাকে। ৫০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ছাই এবং ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টন তরল কয়লা বর্জ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমান বর্জ্য শোধন একটা ব্যয়বহুল এবং গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
    বলা হচ্ছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থাকবে, কিন্তু এই ধরনের প্রকল্প দুর্ঘটনা একটি স্বাভাবিক ঘটনা, ছাই বাতাসে উড়ে গেলে, পানি চুইয়ে কিংবা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেলেই বিপর্যয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। সুন্দরবন শুধু প্রতিবেশগত অর্থেই স্পর্শকাতর না, খেয়াল রাখতে হবে যে এই এলাকাটি দুর্যোগপ্রবণও বটে। সিডর- আইলা মত এক একটি ঘুর্নিঝড় কি সমূহ বিপর্যয় ডেকে আনবে,তা বলাই বাহুল্য।"

    http://bangla.bdnews24.com/opinion_bangla/article573803.bdnews
  • ইন্দ্রনীল | 127.194.194.141 (*) | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৮:৩২77046
  • দুই বাংলার সুন্দরবন, দুই রাষ্ট্রের মুনাফা
    ==========================

    সুন্দরবন দুই বাংলা জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ৬০% বাংলাদেশে আর ৪০% পশ্চিমবঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই এপারে যেসব মাছ আসে তার অনেকাংশেরই জন্ম হয় বাংলাদেশের সুন্দরবনে। এভাবেই চলছে। গত ২০০ বছরে সভ্যতার অগ্রগতির কোপ গিয়ে পড়েছে সুন্দরবনের উপরে। প্রায় ৬৬% বনভূমি আজ লুপ্ত। এই আক্রান্ত বনভূমির উপর আজ নতুন আক্রমণ বাংলাদেশ সুন্দরবন ঘোষিত বনভূমির মাত্র ১৪ কিমি দূরে ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে চলেছে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এক বিশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পুরো পরিকল্পনা অনুসারে অধিগৃহীত ১৮৩৭ একর জমিতে দুই ধাপে তৈরি হবে মোট ২৬৪০মেগাওয়াট উৎপন্ন কারি তাপবিদ্যুৎ-কেন্দ্র। প্রথম ধাপে তৈরি হবে দুটি ইউনিট ৬৬০ মেঃওঃ ক্ষমতার। সময় ধার্য করা হয়েছে সাড়ে চার বছর। পুরো কাজটি হবে ভারতের NTPC এবং বাংলাদেশের BPDB র যৌথ উদ্যোগে। ২০শে এপ্রিল, ২০১৩ সালে এই মর্মে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে ঢাকাতে। সরকারি আইন অনুযায়ী, এই ধরনের প্রকল্পের জন্য যে কোনও রকম কাজ শুরু হবার আগেই পরিবেশগত সমীক্ষা (ইআইএ) ও তার ছাড়পত্র পাওয়া আবশ্যিক। এক্ষেত্রে কিন্তু প্রকল্পের স্থান চূড়ান্ত করণ ও জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর ইত্যাদি যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার পর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বা এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট(ইআইএ) করা ও তার জন্য জনসাধারণের কাছে মতামত চাওয়া হয়! এই তামাশার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। অর্থাৎ, অনেক অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলিকে হয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে নয়তো বিভ্রান্তিকর উত্তর দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আজ পথে নেমেছেন। জাতীয় কমিটি (NCBD) র নেতৃত্বে ঢাকা থেকে সুন্দরবন এক বিশাল লং মার্চে যোগ দিতে চলেছেন ১০হাজারেরও বেশি মানুষ। এই মিছিল মনে করিয়ে দিচ্ছে ফুলবাড়ির কথা। সেদিনের সেই লং মার্চ আটকে দিয়েছিল ফুলবাড়ি প্রকল্পকে। এই মিছিল সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে কিনা ইতিহাস তার জবাব দেবে। ৫লাখ মানুষের রুটি রুজি, ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে নেড়া বনভূমি, ৬৩,৬৩৮টন ধান, ৫৭৮৭ মেট্রিক টন মাছ এবং নগদ বার্ষিক ৫০০০ কোটি টাকার সম্পদের বিনময়ে পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ।

    এদিকে এপার বাংলাতেও গড়ে উঠছে প্রতিরোধ। এপার বাংলার উদ্যোগে, ইন্টারনেটে একটি অনলাইন পিটিশন করা হয়েছে। সই সংগ্রহ করা হচ্ছে ইন্টারনেটের বাইরেও। অনলাইন ও সংগৃহীত সই সহ সম্পূর্ণ পিটিশনটি দেওয়া হবে NTPC র কলকাতা অফিসে ২৭শে সেপ্টেম্বর। বড় মিডিয়ার চুপ করে থাকার কারনে বেশিরভাগ মানুষই এই প্রকল্পের কথা জানেনই না। আশার কথা, এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও পত্র পত্রিকা যেমন গুরু। রামপালের খবর পৌঁছে যাচ্ছে দুই বাংলার ঘরে ঘরে। মানুষ এগিয়ে আসছেন এর বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত প্রায় ১২০০ মানুষের সই করেছেন অনলাইন পিটিশনটিতে। এই প্রতিবাদপত্র পৌঁছে যাবে পশ্চিমবঙ্গে NTPC র দপ্তরে আর একই সময় ঢাকা থেকে সুন্দরবণে গিয়ে পৌছাবে লং মার্চ। একটাই কথা দুই দেশের সরকারকে সবাই বলতে চাইছেন “বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, সুন্দরবণের কোনো বিকল্প নাই”।

    https://secure.avaaz.org/en/petition/Save_Sundarbans_Stop_Rampal/
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০৯:৪৬77047
  • খুবই ভাল উদ্যোগ। এপারের মেন স্ট্রীম মিডিয়ায় এ নিয়ে কিছু দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। ওপার বাংলার কি খবর - বড় কাগজ বা টিভি চ্যানেলে কিছু বের করা যাবে না?
  • sarkar chaandaan | 141.228.29.99 (*) | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:১৭77051
  • রেডিও টুডে ৮৯.৬ এর সান্ধ্য খবর শুনলাম যে এই বিদ্যুত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের দিকে বিরাট মিছিল এগিয়ে চলেছে।আমি আন্দোলনের পক্ষে আছি
  • indranil | 127.194.198.17 (*) | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:২২77049
  • Save Sunderbans - Stop Rampal
    ==============================

    We have crossed 1000 signatures. Thanks to all of you for all your support and guidance.
    Let us now meet on 27th at 2 P.M. at NTPC, Kolkata office to submit it.
    Contact @9674242004 for details.
  • দেব | 116.218.49.22 (*) | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০২:১২77050
  • @ইন্দ্রনীল

    তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন লাভ লোকসান নিয়ে যে হিসেবটা আছে সেটা বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানেই স্থাপিত হোক না কেন একই থাকবে। এই ক্ষেত্রে বিশেষ বিপদটা প্রস্তাবিত কেন্দ্রটির অবস্থান সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী হওয়া নিয়ে।

    প্রশ্ন ১। বিকল্প কোন স্থানের প্রস্তাব কি দেওয়া হচ্ছে এই পিটিশনে?

    প্রশ্ন ২। যদি না দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎএর যোগান দেওয়া যাবে কিভাবে?

    সাইটটাতে কিছু চোখে পড়ল না। মিস করে গিয়ে থাকলে দুঃখিত।
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১২:২৬77048
  • ক্লান্ত লাগে। সুন্দরবন-কে বাঁচানো বাংলাদেশের মানুষের জন্যই দরকার, পশ্চিমবঙ্গের তথা ভারতের মানুষের জন্যও দরকার। দুদেশেরই সরকার একের পর এক এমন সব ধ্বংসকারী প্রজেক্ট নিতে থাকে - নিয়মগিরি, সুন্দরবন আরও কত..
    শুধুই আন্দোলন করে যেতে হবে, তাতে হয়ত স্স্থগিত হবে দু একটা নিয়মগিরি, ফুলবাড়ি, বন্ধ হবে না আরও অনেক কিছুই, আরও নতুন প্রজেক্ট আসবে, আরও পরিবেশ ধ্বংস হবে, স্থানীয় মানুষ, আদিবাসী উৎখাত হবে..
    ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এই ম্যানগ্রোভ বনের ৬৬% ইতিমধ্যেই হারিয়ে গেছে। “বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, সুন্দরবণের কোনো বিকল্প নাই” - একথা মুনাফালোভী মানুষেরা আর কবে বুঝবে?
  • সংহারক | 138.141.230.213 (*) | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১১:২০77052
  • বাংলাদেশের লোকেদের তাদের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এই প্রজেক্ট বন্ধ করা উচিত । বাংলাদেশের কোথায় বিদ্যুতকেন্দ্র হবে তা বাংলাদেশ সরকারের বিচার্য্য। কমেন্ট -এ অনেক ভারত কে গলা গাল করছেন কেন বোঝা গেল না। নিয়ম্গিরি পাহাড়কে ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত আমাদের দেশের নাগরিক রা বন্ধ করেছে। সুন্দরবন কে রাখার জন্য বাংলাদেশীরা এমন আন্দোলন করুক যাতে ওদের সরকার রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
  • বিপ্লব রহমান | 127.18.229.33 (*) | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:২৭77053
  • ঢাকা-রামপাল ৪০০ কিমি দীর্ঘ লং মার্চের তথ্য সংবাদ প্রচারের জন্য পুরোটা সময় বহরের সঙ্গে ছিলাম। সে এক অবর্ণীয় কষ্টকর, কিন্তু আনন্দময় পথযাত্রা। প্রখর রোদ, অর্ধাহার, প্রায় নির্ঘুম রাত, পথ ক্লান্তি, প্রবল বর্ষন, প্রশাসনিক চাপ -- এসব কিছুই দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার বিশাল বহরকে।

    পথে পথে সম্বর্ধিত হয়েছে লং মার্চ। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন লং মার্চে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পাঁয়ে হেঁটে, রিকশা ভ্যান বা নসিমনে [স্থানীয়ভাবে নির্মিত মোটরযান] করে এসেছে লং মার্চের প্রায় ২০ টি জনসভা ও পথ সভায়।

    শাহবাগ গণজাগরণের পর ঢাকা-রামপাল লং মার্চ বাস্তবিক অর্থেই আরেক নবজাগরণ। পুরো পথ মাতিয়ে রাখে খোলা ট্রাকে ভ্রাম্যমান আট-দশটি সাংস্কৃতিক দল। মাথার ওপর ছাদ না থাকায় এই দলগুলোর তরুণ ছেলেমেয়েদের কষ্টই হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এমন কি লং মার্চ খুলনায় পৌঁছালে প্রচণ্ড জলশুন্যতার কারণে সেখানের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে কর্মী বাহিনীর কয়েকজনকে।

    ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে সুমন গান বেঁধেছেন। গান বেঁধেছেন এপারের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ। লং মার্চ থেকেও আন্দোলন নিয়ে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গান। রচনা হয়েছে পথ নাটক। একটি গানের কথা মনে পড়ছে:

    ”উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন না ছাই
    রামপালে কাপ্তাই লেকের
    কান্না শুনতে পাই...”

    এতো যে কষ্টকর যাত্রা, তবু কোথাও তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কারো কোনো অভিযোগ নেই, খুবই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে কর্মসূচি।

    এরআগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করার সময় তথ্য-সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে সময় সচিত্র সংবাদের পাশাপাশি সংবাদ নেপথ্য কথা নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্লগ লিখেছি। এবারও একটি শীর্ষ দৈনিকে কাজের সুবাদে প্রথমে শাহবাগ এবং এখন রামপাল গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখছি। শাহবাগ নিয়ে এরই মধ্যে গুচসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে একাধিক বিশ্লেষণ, সংবাদ নেপথ্য কথা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা লেখার চেষ্টা করেছি। এখন ইচ্ছে আছে লং মার্চের টুকরো কথা নিয়েও কিছু লেখার। তবে আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম চাই।...
    --
    ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে কথা আমার কয়েকটি প্রতিবেদন পড়া যাবে নীচের লিংকগুলোতে।

    'সুন্দরবন ঘোষণা'য় শেষ হলো লংমার্চ ১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প বাতিল, নইলে প্রতিরোধ .. fb.me/1QXnlQTP6

    পিছু হটল প্রশাসন, লংমার্চ রামপাল যাচ্ছে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ... fb.me/1nIb3ShJE

    রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: লংমার্চ রামপালে ঢুকতে দেবে না প্রশাসন
    ... fb.me/1xg1A24aE

    UPDATE: #LongMarch reached at Jessor; #SaveSundarban #SaveBangladesh fb.me/6pg0B4VdQ

    রামপাল অভিমুখী লংমার্চকে পথে পথে সংবর্ধনা আ. লীগের পাল্টা কর্মসূচি সংঘর্ষের আশঙ্কা ... fb.me/1IEBzJdl2

    সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়। আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার ঋণ শোধ করি।... #SaveSundarBans #WildLife #SaveBangladesh fb.me/Kn9nkm8Q

    ["শোনো, ওখানে নদীর নাম "পশুর", কিনতু জবরদখল অমানুষের... মেশিনের... সাবমেরিনের.... আরো কতো ঘের ও... fb.me/2H2ZfQdZY
  • বিপ্লব রহমান | 127.18.229.33 (*) | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ০১:২৭77054
  • ঢাকা-রামপাল ৪০০ কিমি দীর্ঘ লং মার্চের তথ্য সংবাদ প্রচারের জন্য পুরোটা সময় বহরের সঙ্গে ছিলাম। সে এক অবর্ণীয় কষ্টকর, কিন্তু আনন্দময় পথযাত্রা। প্রখর রোদ, অর্ধাহার, প্রায় নির্ঘুম রাত, পথ ক্লান্তি, প্রবল বর্ষন, প্রশাসনিক চাপ -- এসব কিছুই দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার বিশাল বহরকে।

    পথে পথে সম্বর্ধিত হয়েছে লং মার্চ। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন লং মার্চে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পাঁয়ে হেঁটে, রিকশা ভ্যান বা নসিমনে [স্থানীয়ভাবে নির্মিত মোটরযান] করে এসেছে লং মার্চের প্রায় ২০ টি জনসভা ও পথ সভায়।

    শাহবাগ গণজাগরণের পর ঢাকা-রামপাল লং মার্চ বাস্তবিক অর্থেই আরেক নবজাগরণ। পুরো পথ মাতিয়ে রাখে খোলা ট্রাকে ভ্রাম্যমান আট-দশটি সাংস্কৃতিক দল। মাথার ওপর ছাদ না থাকায় এই দলগুলোর তরুণ ছেলেমেয়েদের কষ্টই হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এমন কি লং মার্চ খুলনায় পৌঁছালে প্রচণ্ড জলশুন্যতার কারণে সেখানের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে কর্মী বাহিনীর কয়েকজনকে।

    ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে সুমন গান বেঁধেছেন। গান বেঁধেছেন এপারের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ। লং মার্চ থেকেও আন্দোলন নিয়ে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গান। রচনা হয়েছে পথ নাটক। একটি গানের কথা মনে পড়ছে:

    ”উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন না ছাই
    রামপালে কাপ্তাই লেকের
    কান্না শুনতে পাই...”

    এতো যে কষ্টকর যাত্রা, তবু কোথাও তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কারো কোনো অভিযোগ নেই, খুবই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে কর্মসূচি।

    এরআগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করার সময় তথ্য-সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে সময় সচিত্র সংবাদের পাশাপাশি সংবাদ নেপথ্য কথা নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্লগ লিখেছি। এবারও একটি শীর্ষ দৈনিকে কাজের সুবাদে প্রথমে শাহবাগ এবং এখন রামপাল গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখছি। শাহবাগ নিয়ে এরই মধ্যে গুচসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে একাধিক বিশ্লেষণ, সংবাদ নেপথ্য কথা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা লেখার চেষ্টা করেছি। এখন ইচ্ছে আছে লং মার্চের টুকরো কথা নিয়েও কিছু লেখার। তবে আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম চাই।...
    --
    ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে কথা আমার কয়েকটি প্রতিবেদন পড়া যাবে নীচের লিংকগুলোতে।

    'সুন্দরবন ঘোষণা'য় শেষ হলো লংমার্চ ১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প বাতিল, নইলে প্রতিরোধ .. fb.me/1QXnlQTP6

    পিছু হটল প্রশাসন, লংমার্চ রামপাল যাচ্ছে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ... fb.me/1nIb3ShJE

    রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: লংমার্চ রামপালে ঢুকতে দেবে না প্রশাসন
    ... fb.me/1xg1A24aE

    UPDATE: #LongMarch reached at Jessor; #SaveSundarban #SaveBangladesh fb.me/6pg0B4VdQ

    রামপাল অভিমুখী লংমার্চকে পথে পথে সংবর্ধনা আ. লীগের পাল্টা কর্মসূচি সংঘর্ষের আশঙ্কা ... fb.me/1IEBzJdl2

    সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়। আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার ঋণ শোধ করি।... #SaveSundarBans #WildLife #SaveBangladesh fb.me/Kn9nkm8Q

    ["শোনো, ওখানে নদীর নাম "পশুর", কিনতু জবরদখল অমানুষের... মেশিনের... সাবমেরিনের.... আরো কতো ঘের ও... fb.me/2H2ZfQdZY
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ০২ অক্টোবর ২০১৩ ০১:১২77055
  • এপার বাংলার কাগজে প্রতিবেদন - 'সুন্দরবন ধ্বংস করে ব্যবসা করবে ভারত-বাংলাদেশ'
    http://www.aajkaal.net/archive/report.php?hidd_report_id=206438
  • দেব | 59.136.196.179 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৪ ০৫:৪৩77057
  • এই নিন। এইটা নির্ঘাত ব্যাগড়ার স্তরে পড়বে। নিউক ফিউকও নয়। পাতি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।
  • dd | 125.244.236.70 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৪ ০৩:৪১77058
  • মাস খানেক আগে TOI'র লুরু এডিশনে দেখেছিলাম তাপবিদ্যুতের ফলে (ইন্ডাইরেক্টলি) কতো লোক মারা যায়। খেলাচ্ছলে গুগুলে টাইপ করলেম danger of coal based power। একেবারে পিলে চমকানো সব তথ্য বেড়িয়ে এলো।

    অ্যাক্চুয়ালি প্রতিবাদকে যারা ফাজলামি বা পণ্যের স্টেজে নিয়ে গেছে তাদের কাছে তাপবিদ্যুত একটি স্বর্ণখনি। একবার ট্রাই করেই দেখুন।
  • dc | 132.164.176.52 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৪ ০৫:১০77059
  • এই সবকটা দিয়েই সার্চ করে দেখা যায়

    danger of coal based power
    danger of nuclear based power
    danger of solar power
    danger of wind power
    danger of hydro power

    সবটাতেই বিরাট বিরাট বিপদ বেরিয়ে আসছে। কি মুশকিল রে বাবা! ঃ( আমার মনে হচ্ছে এবার গুগল সার্চটা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
  • একক | 24.96.28.76 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৪ ১১:০১77060
  • ডেঞ্জার অফ ড্রিংকিং ওয়াটার লক্ষে সার্চ করেছেন কখনো ? জানেন কি যে এক্ল্শ ডিগ্রির ওপরে জল ফতালেও তাতে একরকম এমিবা থাকতে পারে যা কিনা আপনার্মাথার ঘিলু ফিলু চেতে খেয়ে ভুস্তিনাশ করে দেবে !!!!!!!!!!!!!!!!
  • dd | 125.241.83.86 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৪ ১১:১৩77061
  • না। বেমালুম হার মানছি। Danger of breathing oxygen টাইপ করে একটাও লিং পেলাম না।

    তবে এই টইটি মারাত্মক উপাদেয়। কয়লা পুড়িয়ে এনার্জি নিয়ে কি হাড় হিম করা "তথ্য" আছে, পড়লেই নতুন পরিষ্কার এনার্জির জন্য একটা উলুৎপুলুতা বোধ হয়।
  • dc | 132.164.200.116 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৪ ১২:১১77062
  • danger of living দিয়ে সার্চ মারলাম। যা সব রেজাল্ট দেখাচ্ছে, এ তো বেঁচে থাকতেই ভয় করছে!
  • ডেঞ্জার অফ | 233.29.202.118 (*) | ১০ জুলাই ২০১৪ ০৫:৪৬77063
  • মাইসেলফ দিয়ে সার্চ করুন । দেখবেন হয় পিলে চমকানো তথ্য পাবেন নয় কোনো তথ্যই পাবেন না । এবং তখন হয়ত ফলতই *************************************************
  • প্রতিভা সরকার। | 233.191.20.100 (*) | ৩০ জুলাই ২০১৬ ০৮:৩৯77064
  • এই অরণ্যের অধিকারের জন্য সব আন্দোলনে যোগ দেব।
    মুনাফার হাঁ মুখ এবার বন্ধ করার সময় এসেছে।
  • | 116.221.137.195 (*) | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ০৫:৩৮77066
  • এখানে পৃথিবীর অন্য ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভেতরে বা সীমান্তে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কথা বলা হয়েছে। যেমন মালয়েশিয়া এবং ফ্লোরিডা। লেখক দেখাচ্ছেন এইসব জায়গায় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস হয় নি বিদ্যুৎকেন্দ্র চলা সত্ত্বেও।

    http://www.sachalayatan.com/himu/56119
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.56 (*) | ১৫ আগস্ট ২০১৬ ০৬:১৫77067
  • " মালয়শিয়ার জিমাহ পাওয়ার স্টেশনের আশেপাশে খুব অল্প পরিমান ম্যানগ্রোভ আছে। তানজুং বিন পাওয়ার স্টেশন, এবং সুলতান সালাউদ্দিন আব্দুল আজিজ শাহ পাওয়ার স্টেশন এর আশে পাশে বেশ ভালো পরিমানে ম্যানগ্রোভ আছে, কিন্তু এ তিনটির কোনটাই প্রটেক্টেড ফরেস্ট না। globalforestwatch.org এ গেলে ২০০১ – ২০১৪ ফরেস্ট কভার এবং লস নিজেই দেখতে পাবেন "

    " অন্যদিকে সুন্দরবন হচ্ছে (৪৯৭, ৭২৫ হেক্টরের) IUCN VI (highest) ক্যাটাগরির প্রটেক্টেড এরিয়া। প্রটেক্টেড ফরেস্ট তখনই করা হয় যখন সেটি ইকোলজিকালি অনন্যসাধারণ, এবং ঝুঁকির মুখে থাকে (মালয়শিয়ার কোনটাই তা না)। "

    " এই সকল বনের সাথে সুন্দরবনকে তুলনা করা মাইকেল ফেল্পস এর সাথে রবেল কিরোস হাতে’র (Robel Kiros Habte) তুলনা করা সমান। দুজনেই অলিম্পিয়ান, কিন্তু..."

    " আর ফ্লোরিডার ১৯৬৬, ৮২, ৮৪ এর জ্ঞান আর কমনসেন্স দিয়ে যদি ২০১৬ এর উদ্যোগকে বিচার করা কি ঠিক হবে? ১৯৬৬ তে পরিবেশ , গ্লোবাল ওয়ারমিং খায় না মাথায় দেয় গোত্রের বস্তু ছিল ।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন