• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আমার পূজো

    Nishan Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫২২ বার পঠিত
  • যেকোন দ্রব্যের আগে বিলিতি জুড়ে দিলে তার গুণ রীতিমত লোপ পায়, এ জিনিস বহুকাল যাবৎ চলে আসছে ! যেমন ধরা যাক বিলিতি বেগুন, আপনি পড়ছেন আর ভাবছেন এ বোধহয় আমেরিকার ফলন্ত ঝুলন্ত বেগুন, কিন্তু না! বিলিতি বেগুন হোলো টমেটো, পুরুলিয়ার দিকে আবার অনেকে টমেটোকে বলেন বিলিতি আমড়া। তাহলেই দেখুন, কেবল মাত্র বিলিতির গুণে বেগুনের বেগুনত্ব আর আমড়ার আমড়াগাছি লোপ পেয়ে কেমন একই রকম লালচে টমেটোয় পরিণত হোলো।
    তেমনই বিলিতি পূজোও একটি দুর্ঘট বস্তু বিশেষ, যা না বিলিতি না পূজো!
    বিলিতি বাঙালীও তাই, না বাঙালী না বিলিতি। এঁদের মূলতঃ দু একটি বিলিতি বন্ধু থাকে, আন্তর্জাতিকতার জন্য, বাকি এঁরা নিজেদের বৃত্তেই ঘুরঘুরে পোকার মত ঘুরঘুর করেন। তার মধ্যে কিছু আবার সুনীল গাঙ্গুলীর অনুপ্রেরণা, অতএব হাফ বিলিতি ধারায় স্ত্রী শয়ান দেন পরপুরুষের সাথে আর সেই অজুহাতে সোয়ামী কচি মেয়ে পেলেই কচলে হাতের সুখ করে নেন। কিন্তু রসুনের মতই মাথা আলাদা হলেও পশ্চাদ্দেশ আবিষ্ট যুগযুগান্তব্যাপী সংস্কারে, বাজারে কেচ্ছার ভয়ও আছে, অতএব বিবাহটি বজায় থাকে, আর ঐখানেই বিলিতিয়ানার শেষ। বদহজম আর কাকে বলে!
    এঁরা প্রতি সন্ধেয় প্রায় হুইস্কি বা ওয়াইন সহযোগে দেশের জন্য মড়াকান্না কেঁদে থাকেন, ফিরতে যদিও কেউ আটকাচ্ছে না, তবু নানা কাঁদুনি। অধিকাংশের এটা স্বীকার করার সৎসাহস পর্যন্ত নেই যে তাঁদের এখানে দিব্যি লাগে। দোষটাই বা কি তাতে? কিন্তু না, তাঁরা না কাঁদলে গঙ্গার জল কমে যাবে না, তাই বিদেশে বসে এঁরা নিরন্তর গঙ্গায় অশ্রু সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। আর দেশীয় রাজনীতির দুর্দশা নিয়ে টেবিলে তুফান তোলেন।
    মাঝে মাঝে দেশে গিয়ে এঁরা চাদ্দিক আলো করেন, এবং অভাগা আত্মীয়স্বজনকে বুঝিয়েই ছাড়েন বিলেতে কি হারে সুবিধা আমের মত গাছে ঝোলে আর "ইণ্ডিয়া কি ডার্টি বাবারেএএএ বাবারে, আর পারিনে!"
    গেলবার দিল্লী এয়ারপোর্টে বাঙালী বরের বিলিতি বউ দেখেছিলাম, বউ আমার সাথে বাংলায় কথা বললো দিব্যি, দাদা কিন্তু কলকাতা ছাড়ার পর বাংলায় আর শব্দক্ষয় করেননি, পাঞ্জাবী পাজামা ছেড়ে প্লেনের বাথরুম থেকে যখন বেরুলেন জিম করবেট মার্কা হাফপ্যাণ্ট পরে, কোন শালায় বলে বাঙালী সাহেব হতে শেকেনি!
    এঁরা শিখলেন না কাজের লোকের সাথে সমান ব্যবহার করতে, আমার মত ছাত্তরকে দেখলেই যাঁদের নাক হাফ কুঁচকে আসে কাজের লোকের প্রতি তাঁদের মহিমাময় ব্যবহার কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
    যাইহোক কতিপয় বন্ধুবর্গের নিরতিশয় অনুরোধে আমার দ্বিতীয়বার বিলিতি পূজোর আমড়াগাছি দেখার সুযোগ হোলো, আগেই বলেছিলাম তাঁদের, যে এ অতি দুষ্পাচ্য দ্রব্য, কিন্তু গরীবের কথা বাসি হলে ফলে, তাই তাঁরা গেলেন, ঢুকলেন, তিতিবিরক্ত হয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে এলেন।
    এখন শরৎকাল, ইংরাজমতে আটাম, যদিও মার্কিন দেশে 'ফল' কথাটা চলে, এবং গাছের পাতা সব ফাঁকা হয়ে যায় বলে ঐটেই আমার লাগসই লাগে, তবু বাটামের সাথে মিলের জন্য আটামটাই আমার পছন্দ। প্রকৃতি, শীতের কামড়টুকু বাদ দিলে সেজেছেন পরমা রূপে, প্রদীপ নেভার আগে দপ করে জ্বলার মত গাছের পাতায় উঁকি দিচ্ছে হলুদ-লাল আগুন। নাঃ বঙ্গপ্রকৃতির মাধুর্য নেই বটে, কিন্তু এ অনন্য সৌন্দর্য অস্বীকার করি কি করে? কি অসামান্যা তিনি, তাঁর রূপে দশদিশ আলোকিত হোক।
    এমন শরৎ দিনে, গাড়ি চড়ে বেরোলাম পূজা সন্দর্শনে, ভালো কথা। পথের চাদ্দিক দেখি আর কেমন যেন নেশা লাগে, নেশার মত আশ্লেষে জড়িয়ে ধরতে চায় গাছের সবকটি পাতা, সবকটি ডাল, সবকয়টি গুল্ম যেন শরীরে আগুন জ্বালিয়ে ডাকছে হাতছানি দিয়ে।
    সে যা হোক, সেসব পার করে অবশেষে উপনীত হলাম পথের উপান্তে, একটি হাইস্কুলের সামনে। (নামটা নাই বা বললাম, হরে দরে সবই এক)।
    ভিতরে ঢুকতেই দেখি, একটি টেবিলে হত্তা কত্তা বিধাতা তিনজন বসে আছেন, তাঁদের একজন আমরা কেবল প্রতিমা দর্শন করবো জেনে বললেন "১০ টাকা করে দিয়ে দিন তাহলে"। এখন মনে হচ্ছে ঐ টাকায় দু প্যাকেট রফিকির চিকেন ওভার রাইস হয়ে যেতো, অতি উপাদেয়। যা হোক দিয়ে তো ঢুকলুম, কিন্তু ঠিক ঢোকার সময়েই, যিনি আমাদের চাঁদা সংগ্রহ করছিলেন তাঁর সামনে এসে এক কাকিমা গোছের ভদ্রমহিলা এসে ইংরাজীতে কিসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করলেন, আমার মন আনন্দে চনমন করে উঠলো, ভাবলাম বাঙালী প্রাদেশিকতা ছেড়ে বোধহয় আধুনিক হচ্ছে। কিন্তু সে মোলাসেস এ স্যাণ্ড! কতিপয় মুহূর্ত পরে তাঁর বিলিতি উচ্চারণের সুশীল বাংলা শুনে আমার উৎসাহ নেমে গেলো ফুস করে!
    তার প্রভাবেই বোধকরি, আমাদের চাঁদাকত্তা কাকু ফস করে মোড সুইচ করে চলে গেছেন ইঞ্জিরিতে, আমার দুবার বাংলা গলাখাঁকারিতেও কাজ হোলো না, অতএব সাধু সাবধান। চলো প্রতিমা সন্দর্শনে, আনন্দবাজারে পড়েছো, কুমোরটুলির হেববি উপকার হয় এসবে, তাও তুমি জানো, অতএব ভজ মন দুর্গানাম।
    ভিতরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ, উৎসবের দিন সাজগোজ না করলেই নয়, অতএব পাটভাঙা শাড়ি আর পাঞ্জাবীর ধাঁধায় চোখে তালা লেগে গেলো, ভাবতুম বিলিতিরা বোধহয় ভালোভাবে বুড়োতে জানে না, কিন্তু ঠাকুমাদের গালে লালচে আভা দেখে সে ভ্রম আমার দূরীভুত হোলো। স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে যে উটকো লোক থেকেই থাকে এই বিশ্বাসে স্থির হলাম অবশেষে।যে সমস্ত ফ্যাসান বঙ্গভূমে পাঁচ বছর আগে উপে গেছে তাদের নব আবির্ভাব। কিছু ব্লাউজ দেখে ভাবলুম বোধকরি প্রাচীন আদিবাসী সংস্কৃতি ফিরে আসছে, ওষ্ঠরঞ্জনী, গণ্ডরঞ্জনীতে সে ভুল গেলো ভেঙে।
    সাথে পাঞ্জাবী বন্ধু, সে পাছে ভাবে দুর্গাপূজার উৎস ও উদ্দেশ্য বাণিজ্যমেলা, তাই প্রাণপণে বোঝাতে শুরু করলাম কি কেন এবং কিভাবে দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব থেকে বঙ্গীয় আবেগে পরিণত হয়েছে।
    ভুল পথে চলে পৌঁছে গেছিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘরে, সেখানে ২৫ টাকা লাগতো, যাহোক যে কাকু সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি জানালেন তিনি বঙ্গভাষণে অপারগ, কি দুঃখের কথা! তিনি জানালেন হস্তবন্ধনী (যার দাম ২৫টাকা) ব্যতিরেকে প্রবেশ নিষেধ, উল্টোপথে হাঁটা দিলুম ফের।
    করিডোরের ভিতরে হট্টগোল, একদিকে ললনারা শাড়ি জামা গয়না কিনছেন আর অন্যদিকে সুনীল গাঙ্গুলীর কিছু মধ্যমানের বই, বাঙালনামা ইত্যাদি বিক্কিরি হচ্ছে. শুনতে পেলুম "বাঙালনামাটা পড়েছিস? ব্যপক বই" (ভাগ্যিস ভারতবর্ষে রাত, নইলে তপনবাবু নিশ্চিৎ হেঁচকি তুলতেন)
  • আরও পড়ুন
    ২১৮ - Nishan Chatterjee
    আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar

  • সেসব কাটিয়ে ঢুকলাম প্রতিমা দর্শনে, ভিড়ে ভিড়াক্কার, আর কত রকমেরই চোখ দেখলুম, লাল নীল সবুজ বেগুনী রামধনু, সাথে টিসু পেপার থাকলে সৌন্দর্যের ভারী বিপদ, রঙের চলটা উঠে গেলেই কেলোর কীর্তি, সাড়ে সর্বনাশ। যাকগে সে আমার বিচার্য বিষয় নয়।
    তদুপরি ফেসবুক জমানায় পূজোয় গেলেই হয়না, একদিনের যে বাঙালীয়ানা উদযাপন, তা লোককে না জানালে হবে কেমন করে? কাজেই ফটো তোলার ঘনঘটায় গগন অন্ধকার, জনতার ফাঁকে ফাঁকে দুর্গামাতার রূপের ঝলক দেখাগেলো।
    তবে কিনা অনভ্যাসের ফোঁটা কপালে চড়চড় করবেই, বাঙালীয়ানার তালেগোলেও সেই চড়চড়ে অবস্থা!
    অতএব প্রবল ভিড়, পূজো না মেলা না মোচ্ছব বুঝতে বুঝতেই বন্ধুদের হাঁফ ধরে এলো, আমরাও বেরিয়ে এলাম।
    বাইরে আদিগন্ত সবুজ, বিকেলের রাঙা রোদ পড়েছে তেরচা হয়ে মাঠের কোণায়। হঠাৎ মনে হোলো এর আনন্দই বা কম কি?
    মৃত্যুধূপে আগুন জ্বালিয়ে ফুসফুসের শ্রাদ্ধ করলাম কিছুক্ষণ তারপর বাঙালী সুখাদ্যের আশায় পাড়ি দিলাম ক্যালকাটা অ্যাফেয়ার বলে এক রেস্তোরাঁর উদ্দেশ্যে!
    পথ বেশি না, মাইল পাঁচেক। রাস্তা ওয়ালপেপারের মত, ফোয়ারা, আর লাল হলুদ পাতা, তাই যাবার পথে শুঁড়িপথ নিলাম অষ্টাদশ শতকের এক চার্চের দিকে। চার্চের সামনে পৌঁছে দেখি, ওমা একি, সামনের মাঠে হরিণ চরে বেড়াচ্ছে। হরিণী চোখ তুলে চাইলে আমার দিকে, গাড়ি থেকে নামলাম, নিশ্চল মুর্তির মত, নিরন্তর মৃত্যুর মত হরিণী তখনো তাকিয়ে আমার দিকে, তার ঘাস খাওয়া শেষ, আর ঠিক যে মুহূর্তে আমি ভাবতে শুরু করেছি জ্যান্ত তো, একলাফে বাদামী বিদ্যুতের মত সে হারিয়ে গেলো হলুদ বনে, বোধহয় তার নাকচাবি গেছে হারিয়ে। চাদ্দিক শুনশান, কেউ কোথাও নেই, আর বাতাসে হিমেল পরশ, তাই বিশেষ কালক্ষেপ না করেই আবার উঠলাম গাড়িতে।
    মাইল তিনেক দূরেই রেস্তোরাঁ, সামনে ইলেক্ট্রিকের তারে আটকে দ্বাদশীর চাঁদ, এদেশে চাঁদ কেমন হলদে রঙের হয়। আর যখন ওঠে তাকিয়ে থাকলে কেমন ঘোর লেগে যায়। মনে হয় হেথা নয় হেথা নয় অন্য কোন কথা। মনে হয় এই সব মেকী, সব রঙের চলটা, সাদা বাদামী হলদে মানুষের ভিড় এসব কিচ্ছু নয়, এই চাঁদে লাল মানুষের বর্শা হাতে ছুটে যাবার কয়া বাদামী ঘোড়ায় চড়ে, তার বর্শা চকচক করুক হলদে চাঁদের আলোয়, আর তার বর্শা দেখুক রক্ত, হলদে আলোয় বাদামী রক্ত ঝরে যাক পাথুরে মাটিতে, আর তৃপ্ত হোক এই বন্য মৃত্তিকা।
    যাহোক, ২০১৪য় দিবাস্বপ্নের আয়ু মিনিট কয়েক, বুফে খেতে ঢুকলুম রেস্তোঁরায়। তখনও ফাঁকা ছিলো, দুটি মার্কিন পরিবার, একটি ভারতীয় গ্রুপ যার দুজন অবাঙালী। ওয়েটার পূর্ব ইউরোপীয়, ভারী অমায়িক লোক। বোধহয় পূজোর কদিন ভিড়ভাট্টা বেশি হচ্ছে, অনভ্যেসের দরূণ তিনি হাঁসফাঁস করছেন তখনো।
    কিন্তু সাধু সাবধান, কিছুক্ষণের মধ্যেই জনা দশেকের একটি বাঙালী গ্রুপ এবং জনা চারেকের আরেক বাঙালী পরিবার এসে বসলেন আমাদের সামনে। সেই একই মেকী- আনা, কিছু ওয়াইন আল্ট্রা আঁতলামি এবং চামচে দিয়ে ডালভাত খাওয়া। সামনের দশজনের দলের কথায় বুঝলুম এঁদের রাত হয় না, night হয়, আর "kids দের ওদিকে পাঠিয়ে দিলে Adults রা এদিকে বসতে পারে, degeneracy কমে" অহো বাহ্য, পাশের টেবিলে দেখি আরেক কেলোর কীর্তি। এক বয়স্কা ভদ্রমহিলা এসেছেন, তিনিই আমার সেদিনের বাঙলা। পায়ে তাঁর চটি, পরণে সবুজ শাড়ি, বোধহয় পাশের টেবিলের বঙ্গসাহেবের মা। প্রসঙ্গতঃ শহুরে ভারতীয় বিদেশে গেলে মা এর মূলতঃ আমদানি ঘটে সন্তানলাভ হলে, এদেশে আয়া রাখা অতীব খরচসাপেক্ষ। ইউরোপীয় সভ্যতা এদেশে পৌঁছতে এখনো বছর পঞ্চাশেক দেরী আছে।
    মহিলা বড়ই উসখুস করছেন, করারই কথা, আমরাই করছি। কিন্তু আমাদের বয়েস কম, হজমশক্তি বেশী।
    চামচে দিয়ে খেতে গিয়ে তাঁর নাজেহাল দশা, হাত দিয়ে শুরু করার মুহূর্তেই ছেলের কটমট দৃষ্টিপাতে আবার চামচে। হে ধরণী দ্বিধা হও!
    অখাদ্য কিছু পাঁটার মাংস, আর গোয়ানীজ চিঙড়ির ঝোল খেয়ে এমনিতেই মেজাজ খিঁচড়ে দোদমা, তায় এসব নাটক দেখে ভারী বিষাদ নেমে এলো হলদে বাল্বের আলোয়। আমরা বেরোলাম বাড়ির পথে। মাঝে হায়দার দেখার কথা নিউপোর্ট মলে।
    এবারেই চমক, ভারতীয় সভ্যতার চমক। বাঙালী সদা হীনমন্যতায় ভোগে, প্রাণপণে মুছে ফেলতে চায় আত্মপরিচয়! যে সাহেবরা মলত্যাগের পর কাগজ দিয়ে পশ্চাদ্দেশ মোছে, কিন্তু প্রস্রাবের পর হাতধোয়ার ঘনঘটায় পৃথিবীর জলসঙ্কট ঘটিয়ে ফেলে তাদের নকলে বাঙালীও নানা জিনিস রপ্ত করতে থাকে, আরো একটু বাড়ালে, একা বাঙালী কেন, ভারতীয় মাত্রেরই এই ঔপনিবেশিক দাস মনোবৃত্তি আছে। কিন্তু পার্মানেণ্ট মার্কারের কালি তোলা কি অতই সহজ? তাই যেখানেই ভারতীয় সেখানেই ক্যাঁচাল। এঁরা বাঙলা হিন্দী বলেন বিলিতি টানে, ইংরিজিটা ঠিক কিসের টান তা বোঝার সাধ্য আমার কেন? ঈশ্বরের বাবারও নেই। বাঙলা বলার ফাঁকে ফাঁকে প্রতিশব্দ হাতড়াতে হয়। অবশ্য খোদ পশ্চিমবঙ্গেই আজকাল ইংরিজি জানার চেয়ে বাঙলা না জানার গরিমা বেশি। মা মেয়েকে বলেন "দেখো দেখো night এ কত star আকাশে" "ঐ দেখো বাবু, tiger" "আজ ঐ green জামাটা পরে যেও কিন্তু"। বাড়িতে অতিথি এলে বাঙালী বাচ্চা আজকাল ছড়ার বদলে rhyme বলে। দেশোদ্ধার হচ্ছে সন্দেহ কি?
    নিউপোর্ট মলের সিনেমায় ঈদ ও দুগগোপূজোর ডবল ধামাকায় তখন ত্রাহি মধুসূদন দশা। অতএব বাথরুমেও তার ব্যতিক্রম না। অন্য সব দিন যে মলের বাথরুম ঝকঝক করে, তার ক্লোজেটে ক্লোজেটে গু ভেসে বেড়াচ্ছে, এবং জায়গাটা চেন্নাইয়ের সিএমবিটি বাসস্ট্যাণ্ডের বাথরুমের চেয়েও নারকীয় আকার ধারণ করেছে! জাতের গুণ যাবে কোথায়!
    যাইহোক হায়দার আর দেখা হোলো না, হাউসফুল, রাত ১১টা অব্দি ভয়ানক বাজে ভূতের সিনেমা দেখে নিউ ইয়র্কের রাস্তা ধরলাম।
    আর সেই রাতেই আমার পূজো, রাত দেড়টার "এল" ট্রেনে আমার সম্মুখবর্তিনী, সাদা টি শার্ট আর মেক আপ ছাড়া কবিতার মত বসে রইলো। হাই তুলতে যখন মুখ হাঁ করে আলতো সরালো, দেখি পেছনের পোস্টারে লেখা "poetry in motion", সে কোথায় নামলো, কি করে, কি খায় কোথায় থাকে আমার কিচ্ছু জানার নেই, শুধু রেখে দিলাম গতিময় কবিতার স্থবির স্মৃতিটিকে, এবারের পূজোর ছবি বলে।
    যাইহোক এই আমার পূজো, শেষে একটাই কথা, দুধের সাধ ঘোলে মেটাবেন সেও ভি আচ্ছা, কিন্তু না ঘরকা না ঘাটকা চুল্লু দিয়ে মেটালে চোঁয়াঢেকুর ও বদহজমের, এবং শেষে বমণের প্রবল আশঙ্কা!
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫২২ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ekak | 24.99.187.118 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৫৬74982
  • আমি যে দুজনের কথা বোল্লুম তারা একাই বেরয় । একজন আগের সীসনে একা পিন পার্বতী করে এলো । আর হ্যা বাত্থুমের ব্যাপারে একটা আলটিমেট কথা , টয়লেট পেয়ে গেলে ভালই না পেলে এদিক ওদিক জায়গা খুঁজে করার অভ্যেস করতে হবে । যে কোনো হাই রোডে গাড়ি থামিয়ে সেফ ।
  • Ekak | 24.99.187.118 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৫৯74983
  • মালপত্র মিনিমাম নেবেন । একটা ব্যাকপ্যাক ব্যাস । আমি ছেলেদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছিনা । ব্যাকপ্যাকার মেয়েদের অভিজ্ঞতা থেকেই জানা প্রাত্যহিক ইনার ওয়ার চেঞ্জ করা ছাড়া এক্সট্রা পোশাক থাকে মাত্র এক সেট । ছোট ব্যাকপ্যাক নিয়ে সর্বর্ত্র যাওয়া যায় । বেস্ট ।
  • sosen | 24.139.199.11 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:০০74984
  • ভাগী সত্যি বাথরুম তকতকে শুকনো রাখে। খুব খুঁতখুঁতে। ঢাল ঠিক না হলে সবেতেই জল জমে, কিউবিকলে-ও। ওদের বাথরুমের ঢাল অসাধারণ ভালো।
    হুচি, এখন কেন ভয় করে জানিনা। অনেকগুলো জীবন জুড়ে আছে বলে হয়ত। বা বাবল লাইফ লিড করি বলে।
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:০১74985
  • ওহো! বুঝতে ভুল হয়েছিল।
    ছোট বাথ্রুমে খোলা মাঠ খারাপ কি! বড় বাথ্রুম অবশ্য কদাপি প্র্যাকটিস করিনি।
    (ধুর! এটা লিখে লজ্জা লাগল। আমাদের দেশেই কত মানুষ এখনও খোলা মাঠে যেতে বাধ্য হয়। ধুর! ধুর!!)
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:০২74986
  • বাহ্যি চান টয়লেট এসবের পেছনে ভৌগলিক অবস্থানের কিছু ব্যাপার আছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোয় সাধারনত বাহ্যির পরেই চান করে বেরোয় বাথরুম থেকে, এবং সেটা দিনের বেলাতেই। কারণ চানের পরে মাথা ভেজা থাকলেও ঠান্ডা লাগার সমস্যা নেই। শীতপ্রধান দেশে বাহ্যি সকালে করেও তারপরে মাথা ভিজিয়ে চান করলে মুশকিল, বাইরে বেরিয়ে ঠান্ডা লেগে যায়। রাতের বেলায় অনেকেই চান করে।
    জলের ব্যবহার পূবের দেশগুলোয় বেশি। অনেক পুকুর নদী ইত্যাদি বরাবরই ছিলো, সসব কারণেই সংস্কৃতিতে মিশে গেছে। পশ্চিমে (ইয়োরোপ এক্ষেত্রে) সেরকম তো নয়, এবং খৃষ্ট ধর্মের মধ্যযুগীয় কিছু শাসন অনুশাসনে কৃচ্ছসাধন (শারীরিক) এর অঙ্গ হিসেবে জলের কম ব্যবহার একটা ঘটনা। একটু বইপত্র ঘেঁটে দেখলে জানা যাবে, বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিসিজমে। সেটা কেন হয়েছিলো সেই নিয়ে অনেক তত্ত্ব আছে। ফলতঃ রোজ রোজ চান করবার ব্যাপারটা ইউরোপের ক্যাথলিক কালচারে খুব একটা আশকারা পেত না। তার ওপরে ঠান্ডা এবং জলের অপ্রতুলতা।
    মধ্যযুগে স্নান ব্যাপারটাই ছিলো বিলাসিতা। এক টব জলে পরিবারের সকলে চান করত। প্রথমে গৃহকর্তা সেখানে ডুবে চান করেন, তাঁর হয়ে গেলে সেই জলেই পরিবারের হায়ারার্খিতে যিনি দ্বিতীয় তিনি, তাঁর হয়ে গেলে সেই জলেই তাঁর পরের জন, এইভাবে সবশেষে বাচ্চারা ও সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে সবচেয়ে ছোটো শিশুটিকে সবার ব্যবহার হয়ে যাওয়া ঘোলা নোংরা জলে চান করানো হোতো। সেরকমই রেয়াজ ছিলো। এগুলো বানিয়ে বলছিনা।
  • sosen | 24.139.199.11 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:০৩74987
  • খোলা মাঠে না হলেও ঝোপে ঝাড়ে বাথরুম গেছি। এক্স কারশনে।
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:০৪74988
  • হুঁ, লাগেজ খুব কমই হয়। তবে আজকাল ব্যাকপ্যাক বইতে ভালো লাগে না। স্ট্রলার নিই।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৫১74989
  • নিশানের 10:22:55 র বেশ কিছু পয়েন্টে একমত।

    আর হুচিকে, দেশে একলা টইটই করেছি বইকি। বিদেশেও। এবং বিদেশে বহু জায়গায় একলা টইটই করার জন্য অনেকে চোখ কপালে তুলেছেন। সেটা শুধু মেয়ে বলে নয়, ইন জেনেরালই। নিরাপত্তার প্রশ্নে। এমন কিছু জায়গায় থেকেছি যেখানে মাত্র কয়েক ব্লক দূরের আপিসে যেতে গেলেও ইউনির বাসে উঠতে বলতো, ঘোর দিন দুপুরেও। গাঁটে গাঁটে সিকিওরিটি আপিসারের পোস্টের পরেও মোটামুটি হপ্তায় দুটো তিনটে চুরি ছিনতাই জখম সংক্রান্ত মেইল আসতো। আর আগে ইউনি চত্বরে ধর্ষণের খবরও এসেছে। স্টকিং সংক্রান্ত নিজের অভিজ্ঞতাও বিশেষ ভালোনা।
    তবে ঐ আর কি , ঐ জায়গাটাই পুরো আম্রিগা নয়, আবার ওটা বাদ দিয়েও আম্রিগা নয়। এই আর কি। দেশ নিয়েও একই কথা বলা যায়। তবে দেশের এত এত সমস্যা তাই দেশে থাকিনা সেটা কেউ বলতেই পারেন, কিন্তু তার থেকে কেউ যদি বলেন সেই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমিও কিছু করতে চাই ( সেটা আমার মতে দেশে থাকলে অবশ্যই অনেক বেশি করা যায়, কিন্তু বিদেশে থেকেও কিছু করা যায়না, এমন নয়), তাঁর কথা আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হবে। নইলে কোথাও হয়তো একটা পালিয়ে যাওয়া মনে হয় কি কিম্বা কোন দায় দায়িত্ব না নিয়ে কেবল দোষারোপ করে চলা ? তাতেও কোনরকম দোষ বা অপরাধের কিছুই নাই, প্রত্যেকের পূর্ণ অধিকার আছে নিজের মত করে জীবন যাপনের কিন্তু ঐ আর কি, তা নিয়ে কিছু মনে হবার অধিকারও সবার আছে।
    আর হ্যাঁ, আধুলির 'দেশের মত ধর্ষকের দল এখানে ঘুরে বেড়ায় না।' মন্তব্যটা অতিসরলীকৃত আর আপত্তিকর লেগেছে বটে।
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৫১75031
  • শ্রী ম যে কমেণ্টে কথাটা বলেছি তার আগের গুলো পড়ুন, তাহলেই দেখতে পাবেন, এটা এতটাই লম্বা হয়ে গেছে আমার খোঁজার এনথু নেই।

    আমি মিশিও না, দুশ্চিন্তা করবেন না, আমি দিব্যি আছি আমার পাড়ায়, লেখাটা আরেকবার পড়ুন দেখবেন স্বেচ্ছায় যাইনি। যে কবারই এরকম হয়েছে কারো না কারো পাকে পড়ে।

    আমি বাইরের সব দেশের লোকের সাথেই মিশি, নিউ ইয়র্কে আসুন চেনা রেস্তোরাঁয় ফ্রিতে খাওয়ানোরও লোক আছে :) আমার পাড়ার মোড়ের দোকানে আমার বাড়ি জিজ্ঞেস করবেন দেখিয়ে দেবে, অথচ আমার বাড়িওলা এই পাড়ায় ২৫ বছর আছে আমি ৩।

    এসব লোকদের সাথে মিশতেই সময় চলে যায়, আর সাধারণ লোক ভারী interesting, New York আরোই, এক ধুপওলা আমাকে একবার চমকে দিয়েছিলো, সে কথা নাহয় আরেকদিন লিখবো :)
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৫৪75032
  • আপনার set of axiom গুলো ভারী বড় হয়ে যাচ্ছে কয়েকটা ছেঁটে ফেলুন, আমি CCNY এবং CUNY GC তে student union এ কাজ করি, Left Forum এ যাই, যাবতীয় আন্দোলনে গিয়েই চেঁচামেচি করি। উপরের লেখাটা আমার আত্মজীবনী নয়, জীবনের একদিনের একটা ঘটনা মাত্র, সেখান থেকে দশখানা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তো আপনিও অন্ধের হস্তিদর্শন দোষে দুষ্ট হবেন :)
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৫৮74990
  • বিগত তিনবছর আমি সিটি কলেজে পড়াতাম, ১৩৭ স্ট্রীট এবং ব্রডওয়ে, সেখান থেকে 8th Av Line এর 145st হেঁটে যেতে সময় লাগে ৭ মিনিট বাসে ৫ মিনিট। আমার অ্যাদ্দিন ধারণা ছিলো লোকে বাস নেয় সময় বা পরিশ্রম বাঁচাবার জন্য, কিন্তু আমার সহকর্মীরা জানালেন যে সাথে দামী কিছু থাকলে সবসময় বাস, এবং রাত্তির ৯টার পর হয় 1 ট্রেন নাও যেটা ব্রডওয়ে দিয়ে যায়, নয়তো বাসে করে স্টেশন যাও, ১৪৫ এ, প্রাণ বাঁচাবার জন্য বাস, এই প্রথম দেখলাম।

    এছাড়াও Upper west side, Upper East side, Lower East Side, এর বেশ কিছু জায়গা আছে যে জায়গাগুলো সন্ধের পর মোটে নিরাপদ না।

    সিটি কলেজের পাশেই কদিন আগেই একটা গাড়ি পাওয়া গেছিলো, যার সব দরজা বন্ধ, ভেতরে তিনজন, এবং প্রত্যেকের মাথায় গুলি। এসব জিনিস বাপু আগে ফিলিমেই দেখেছি!

    আর মার্কিন নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গেলে বন্দুক সংক্রান্ত আইন নিয়েও দু চার কলি বলা দরকার বলে আমি মনে করি, মোটেও ফেলে দেবার মত ব্যপার না!
  • de | 190.149.51.67 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০২74992
  • আধুলির দেশে পথে-ঘাটে ধর্ষকেরা ঘুরে বেড়ায় - এইটে আমারো আপত্তিকর লেগেছে।
  • dd | 132.172.98.251 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০২74991
  • ইয়েস। সে'র পোস্টো দেখুন।

    ওর থেকেই "থ্রোয়িং দ্য বেবী উইথ দ্য বাথ ওয়াটার' প্রবচনটি এয়েছে।
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০৪74993
  • বলেন কি মশাই? প্রাণরক্ষার্থে বাস? বাপ্‌রে! খুবি বিপজ্জনক দেখছি। আমার ধারণার বাইরে।
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:১৮74994
  • পাই, তোমার কথা অনস্বীকার্য। এখনও পর্যন্ত একটাই ছিনতাই হয়েছে আমার সাথে এবং সেটা আমেরিকাতেই। ব্যাগ উদ্ধার হয়নি। কিন্তু ডাকা মাত্র পুলিশ এসেছিল। তো আমার কাছে এই ডাকা মাত্র পুলিশ আসাটা একটা বড় ভরসার ব্যাপার। হয়তো সত্যি করে এটা কিছু বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে না, কিন্তু মানসিক জোর পাই একটা। দেশেও ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু নিতে পারেনি কারন দেশে খুবই সতর্ক হয়ে চলাফেরা করি। আমেরিকাতে যখন হল তখন একেবারেই সতর্ক ছিলাম না এটাও ঘটনা। যাই হোক, একটা নাম্বার আছে যেখানে ফোন করলে সাহায্য পাবো এটা আমাকে একলা থাকার সময় অনেক ভরসা যুগিয়েছে। ভগবানে বিশ্বাসের মত বোধহয় ঃ-)
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:১৯74995
  • ৯১১ র মত সিস্টেম দেশে চালু করা খুবই দরকার।
  • | 183.17.193.253 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৩৩75033
  • আপনার জীবনী কিনা জানিনা, তবে একদিন দেখে যা লিখেছেন তা সর্বৈব সত্যি বলে ধরে নিলেও- হস্তীদর্শনের মতই হয়েছে বটে :)
    বদ লোক সর্বদেশে সর্বকালে আছে- তাতে সবাই কে একসঙ্গে দাগিয়ে দিলে তাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলতেই হয়।এইটুকুই বলার।

    আপনার অন্যান্য অভিজ্ঞতার কথা নিশ্চয়ই লিখুন। আপনার মিশন সংক্রান্ত লেখাটা বড্ড ভালো লেগেছিলোঃ)

    ভালো থাকবেন।
  • Tim | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৩৪74996
  • আপত্তির কি আছে? স্ট্যাটিস্টিকালি দেশে বিদেশে পথেঘাটে যারা ঘোরে (ধরেন বিশাল একটা স্যাম্পল সাইজ নিলাম দেশ ও প্রথম বিশ্ব মিলিয়ে) তার মধ্যে খুচখাচ যৌন অপরাধ থেকে ধর্ষণের পোটেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট হয়ত দেশেই বেশি পাওয়া যাবে। ৯১১ পুলিশ ভালো ইত্যাদি সবই ঠিক আছে, কিন্তু তার থেকেও বড়ো কথা কুইন্সের মত নেইবারহুড আম্রিকাতে কমই আছে। সেগুলো এক্সেপশন। অন্যদিকে ভারতে প্রায় গোটা দেশটাই মেয়েদের জন্য মোটামুটি বিপজ্জনক, কয়েকটা মরুদ্যান বাদ দিলে।
  • Tim | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৩৮74997
  • ডিঃ এটা আমার মনে হওয়া একান্তই। পার্সেপশন বল্লে তাই, হয়ত শব্দটা ব্যবহার করেছি কারণ সত্যিই স্ট্যাট নেই। তবে যেটা পয়েন, সেটা হলো, দেশে মেয়েরা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না, তার কারণ শুধু ৯১১ এর অনুপস্থিতি বা পুলিশ দুষ্টু এটা না।
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৪৮74998
  • 911এর অনুপস্থিতি, পুলিশের অপদার্থতা দুটোই কিন্তু বেশ বড় কারন। অপরাধীরা সময়মত শাস্তি পেলে অপরাধ এত বাড়ত না। কোর্টে কেস তুলে ফেলে রাখাও আরেকটা ইস্যু। এর সাথে সামাজিক অসাম্য তো আছেই। সেটা নীল/গোলাপীর চেয়ে বেশিই।
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৫২74999
  • ইনফ্যাক্ট নীল/গোলাপী নিয়ে একটা প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়। সেটা করে ফেলি। নীল/গোলাপী দিয়ে এটা বোঝানো হয় যে তোমরা আলাদা। নীল বেশি ভালো, গোলাপী কম - এরকম কিছু বোঝানো হয় কি? নীল/গোলাপীর সমর্থক নই একেবারেই। গোলাপী রং বিচ্ছিরি লাগে। কিন্তু ব্যাপারটা কি আদৌ মেয়েদের বঞ্চিত করার জন্য তৈরী হয়েছে?
  • Tim | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:৫৫75000
  • স্টিরিওটাইপিং করা হলো তো, নাকি। তুমি মেয়ে অতএব রান্না করো আর বাচ্চা মানুষ করো ইত্যাদির মতনই তো। তবে ঐটুকু প্রকৃতিগত সাদৃশ্যই আছে, আকৃতিগত বৈসাদৃশ্যটাই বেশি।
  • d | 144.159.168.72 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০০75001
  • নীল তো নীলই, গোলাপি তোঅই তো আপত্তিকর। গোলাপিই কিনতে হবে এমন ধারা স্টিরিওটাইপিং
  • hu | 188.91.253.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০১75003
  • হ্যাঁ, স্টিরিওটাইপিং তো বটেই। মেয়েরা একরকম খেলনা নিয়ে খেলবে, ছেলেরা অন্যরকম - তার ইমপ্যাক্টটা বুঝি। কিন্তু এই রং-এর তফাতে কি হয় সেটা বুঝিনি। রং থেকেই ওরা-আমরা আলাদা এই ধারনা তৈরী হতে শুরু করে? কিন্তু সে তো টয়লেটও ওদের-আমাদের আলাদা। দুটো বিপরীত লিঙ্গ আলাদা তো বটেই। তফাতটাকে অ্যাড্রেস করেই ইকুয়াল রাইট আনতে হবে। তাই না?
  • d | 144.159.168.72 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০১75002
  • নীল তো নীলই, গোলাপি তোগোলাপিই কিনতে হবে এমন ধারা স্টিরিওটাইপিংই তো আপত্তিকর।
  • bhoye bhoye | 79.174.58.100 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০৩75034
  • বলেই ফেলি।
    এই ব্যপারটা প্রথম শুনে ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।
    কেউ কেউ কমোডের ওপর উবু হয়ে বসে কম্মো সারেন। কারণ শুনেছিলাম - ঐভাবে কমোডে অন্য লোকের জার্মস এড়ান যায়। দেশে তো সর্বত্র কমোডে পাতার পাতলা কাগজ পাওয়া যায় না!

    এইটে কখন আগে মাথায় আসে নি - মানে এইভাবে কম্মো সারাটাও যে একটা অপশান হতে পারে!
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০৮75004
  • আমি একবারও বলিনি দেশে সমস্যা নেই। আমার মনে হয় প্রবল মাত্রায় আছে, এবং আমার দেশ বলেই আমি সমস্যাগুলো ঝেড়ে ফেলতে পারছি না। কারণ এসব সমস্যার পেছনে আমিও দায়ী। নিজেদের বন্ধুবান্ধবের মধ্যে খুঁজলে পর্যন্ত পাঁচ ছটা পোটেনশিয়াল রেপিস্ট বেরিয়ে আসবে। পাঁচটা উগ্র হিন্দু তিনটে উগ্র মুসলমান বেরিয়ে আসবে, কিন্তু আমার বক্তব্য হোলো সেটা প্রমাণ করেনা এদেশে সমস্যা নেই।

    আমার এক পরিচিত মার্কিন বান্ধবী উবাচ: তার প্রথম বয়ফ্রেণ্ড তাকে ঘরে আদর করার নাম করে ডেকে একটি দলবদ্ধ যৌনক্রীড়ার মাঝে ফেলেছিলো (বলা বাহুল্য সেখানে বান্ধবী বাদে বাকি তিনজনই ছেলে) এবং সে জীবনে এ ঘটনা পুলিশ ইত্যাদিতে জানায়নি।

    তার একটা কারণ যৌনতা নিয়ে ছুঁৎমার্গ এদেশে কম। কিন্তু তার জবানিতে বলতে গেলে এটাও ধর্ষণই।

    এছাড়াও আমি এক ভদ্রলোককে চিনি, তিনি আমার শিক্ষক, নিপাট বাঙালী, এদেশে আছেন ৯০ সাল থেকে, এখনও কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, ইংরিজির মাঝে মাঝে আচ্ছা বলেন। গাড়ি কেনেন নি, সদা বাস ও ট্রেন ব্যবহার করেন। সাতকূলে কেউ নেই, সেজন্য দেশে ফেরেননি। কিন্তু এদেশে ট্যাক্সি ইউনিয়ন এবং আরো নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত। তিনি দেশ কাল মানেন না। তাঁকেও আমি ভয়ানক শ্রদ্ধা করি।
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:০৯75005
  • রঙ নিয়ে ইয়েটা বাড়াবাড়ি, আমার দুখানা সুন্দর গোলাপী জামা আছে, কিন্তু লোকে সমকামী ভাববে, এমনিতেই মেয়ের বাজারে খরা, তাই ভয়ে পরে উঠতে পারিনা!
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:১১75007
  • এই দেশে মধ্যবিত্ত সুখে আছে এটাও আমি মানতে নারাজ। ভাগ্যিস দেশে মাস্টার্স করে এসেছিলাম, নাহলে আমার ফতুর হওয়া কেউ ঠেকাতে পারতো না। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে এরকম বাঁদরামো পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে নাকি সন্দেহ!
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:১১75006
  • নীল-গোলাপি নিয়ে পরে লিখছি, এখন বাজার যেতে হবে, ভাঁড়ার শূণ্য।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন