• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আমার পূজো

    Nishan Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫২৩ বার পঠিত
  • যেকোন দ্রব্যের আগে বিলিতি জুড়ে দিলে তার গুণ রীতিমত লোপ পায়, এ জিনিস বহুকাল যাবৎ চলে আসছে ! যেমন ধরা যাক বিলিতি বেগুন, আপনি পড়ছেন আর ভাবছেন এ বোধহয় আমেরিকার ফলন্ত ঝুলন্ত বেগুন, কিন্তু না! বিলিতি বেগুন হোলো টমেটো, পুরুলিয়ার দিকে আবার অনেকে টমেটোকে বলেন বিলিতি আমড়া। তাহলেই দেখুন, কেবল মাত্র বিলিতির গুণে বেগুনের বেগুনত্ব আর আমড়ার আমড়াগাছি লোপ পেয়ে কেমন একই রকম লালচে টমেটোয় পরিণত হোলো।
    তেমনই বিলিতি পূজোও একটি দুর্ঘট বস্তু বিশেষ, যা না বিলিতি না পূজো!
    বিলিতি বাঙালীও তাই, না বাঙালী না বিলিতি। এঁদের মূলতঃ দু একটি বিলিতি বন্ধু থাকে, আন্তর্জাতিকতার জন্য, বাকি এঁরা নিজেদের বৃত্তেই ঘুরঘুরে পোকার মত ঘুরঘুর করেন। তার মধ্যে কিছু আবার সুনীল গাঙ্গুলীর অনুপ্রেরণা, অতএব হাফ বিলিতি ধারায় স্ত্রী শয়ান দেন পরপুরুষের সাথে আর সেই অজুহাতে সোয়ামী কচি মেয়ে পেলেই কচলে হাতের সুখ করে নেন। কিন্তু রসুনের মতই মাথা আলাদা হলেও পশ্চাদ্দেশ আবিষ্ট যুগযুগান্তব্যাপী সংস্কারে, বাজারে কেচ্ছার ভয়ও আছে, অতএব বিবাহটি বজায় থাকে, আর ঐখানেই বিলিতিয়ানার শেষ। বদহজম আর কাকে বলে!
    এঁরা প্রতি সন্ধেয় প্রায় হুইস্কি বা ওয়াইন সহযোগে দেশের জন্য মড়াকান্না কেঁদে থাকেন, ফিরতে যদিও কেউ আটকাচ্ছে না, তবু নানা কাঁদুনি। অধিকাংশের এটা স্বীকার করার সৎসাহস পর্যন্ত নেই যে তাঁদের এখানে দিব্যি লাগে। দোষটাই বা কি তাতে? কিন্তু না, তাঁরা না কাঁদলে গঙ্গার জল কমে যাবে না, তাই বিদেশে বসে এঁরা নিরন্তর গঙ্গায় অশ্রু সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। আর দেশীয় রাজনীতির দুর্দশা নিয়ে টেবিলে তুফান তোলেন।
    মাঝে মাঝে দেশে গিয়ে এঁরা চাদ্দিক আলো করেন, এবং অভাগা আত্মীয়স্বজনকে বুঝিয়েই ছাড়েন বিলেতে কি হারে সুবিধা আমের মত গাছে ঝোলে আর "ইণ্ডিয়া কি ডার্টি বাবারেএএএ বাবারে, আর পারিনে!"
    গেলবার দিল্লী এয়ারপোর্টে বাঙালী বরের বিলিতি বউ দেখেছিলাম, বউ আমার সাথে বাংলায় কথা বললো দিব্যি, দাদা কিন্তু কলকাতা ছাড়ার পর বাংলায় আর শব্দক্ষয় করেননি, পাঞ্জাবী পাজামা ছেড়ে প্লেনের বাথরুম থেকে যখন বেরুলেন জিম করবেট মার্কা হাফপ্যাণ্ট পরে, কোন শালায় বলে বাঙালী সাহেব হতে শেকেনি!
    এঁরা শিখলেন না কাজের লোকের সাথে সমান ব্যবহার করতে, আমার মত ছাত্তরকে দেখলেই যাঁদের নাক হাফ কুঁচকে আসে কাজের লোকের প্রতি তাঁদের মহিমাময় ব্যবহার কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
    যাইহোক কতিপয় বন্ধুবর্গের নিরতিশয় অনুরোধে আমার দ্বিতীয়বার বিলিতি পূজোর আমড়াগাছি দেখার সুযোগ হোলো, আগেই বলেছিলাম তাঁদের, যে এ অতি দুষ্পাচ্য দ্রব্য, কিন্তু গরীবের কথা বাসি হলে ফলে, তাই তাঁরা গেলেন, ঢুকলেন, তিতিবিরক্ত হয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে এলেন।
    এখন শরৎকাল, ইংরাজমতে আটাম, যদিও মার্কিন দেশে 'ফল' কথাটা চলে, এবং গাছের পাতা সব ফাঁকা হয়ে যায় বলে ঐটেই আমার লাগসই লাগে, তবু বাটামের সাথে মিলের জন্য আটামটাই আমার পছন্দ। প্রকৃতি, শীতের কামড়টুকু বাদ দিলে সেজেছেন পরমা রূপে, প্রদীপ নেভার আগে দপ করে জ্বলার মত গাছের পাতায় উঁকি দিচ্ছে হলুদ-লাল আগুন। নাঃ বঙ্গপ্রকৃতির মাধুর্য নেই বটে, কিন্তু এ অনন্য সৌন্দর্য অস্বীকার করি কি করে? কি অসামান্যা তিনি, তাঁর রূপে দশদিশ আলোকিত হোক।
    এমন শরৎ দিনে, গাড়ি চড়ে বেরোলাম পূজা সন্দর্শনে, ভালো কথা। পথের চাদ্দিক দেখি আর কেমন যেন নেশা লাগে, নেশার মত আশ্লেষে জড়িয়ে ধরতে চায় গাছের সবকটি পাতা, সবকটি ডাল, সবকয়টি গুল্ম যেন শরীরে আগুন জ্বালিয়ে ডাকছে হাতছানি দিয়ে।
    সে যা হোক, সেসব পার করে অবশেষে উপনীত হলাম পথের উপান্তে, একটি হাইস্কুলের সামনে। (নামটা নাই বা বললাম, হরে দরে সবই এক)।
    ভিতরে ঢুকতেই দেখি, একটি টেবিলে হত্তা কত্তা বিধাতা তিনজন বসে আছেন, তাঁদের একজন আমরা কেবল প্রতিমা দর্শন করবো জেনে বললেন "১০ টাকা করে দিয়ে দিন তাহলে"। এখন মনে হচ্ছে ঐ টাকায় দু প্যাকেট রফিকির চিকেন ওভার রাইস হয়ে যেতো, অতি উপাদেয়। যা হোক দিয়ে তো ঢুকলুম, কিন্তু ঠিক ঢোকার সময়েই, যিনি আমাদের চাঁদা সংগ্রহ করছিলেন তাঁর সামনে এসে এক কাকিমা গোছের ভদ্রমহিলা এসে ইংরাজীতে কিসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করলেন, আমার মন আনন্দে চনমন করে উঠলো, ভাবলাম বাঙালী প্রাদেশিকতা ছেড়ে বোধহয় আধুনিক হচ্ছে। কিন্তু সে মোলাসেস এ স্যাণ্ড! কতিপয় মুহূর্ত পরে তাঁর বিলিতি উচ্চারণের সুশীল বাংলা শুনে আমার উৎসাহ নেমে গেলো ফুস করে!
    তার প্রভাবেই বোধকরি, আমাদের চাঁদাকত্তা কাকু ফস করে মোড সুইচ করে চলে গেছেন ইঞ্জিরিতে, আমার দুবার বাংলা গলাখাঁকারিতেও কাজ হোলো না, অতএব সাধু সাবধান। চলো প্রতিমা সন্দর্শনে, আনন্দবাজারে পড়েছো, কুমোরটুলির হেববি উপকার হয় এসবে, তাও তুমি জানো, অতএব ভজ মন দুর্গানাম।
    ভিতরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ, উৎসবের দিন সাজগোজ না করলেই নয়, অতএব পাটভাঙা শাড়ি আর পাঞ্জাবীর ধাঁধায় চোখে তালা লেগে গেলো, ভাবতুম বিলিতিরা বোধহয় ভালোভাবে বুড়োতে জানে না, কিন্তু ঠাকুমাদের গালে লালচে আভা দেখে সে ভ্রম আমার দূরীভুত হোলো। স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে যে উটকো লোক থেকেই থাকে এই বিশ্বাসে স্থির হলাম অবশেষে।যে সমস্ত ফ্যাসান বঙ্গভূমে পাঁচ বছর আগে উপে গেছে তাদের নব আবির্ভাব। কিছু ব্লাউজ দেখে ভাবলুম বোধকরি প্রাচীন আদিবাসী সংস্কৃতি ফিরে আসছে, ওষ্ঠরঞ্জনী, গণ্ডরঞ্জনীতে সে ভুল গেলো ভেঙে।
    সাথে পাঞ্জাবী বন্ধু, সে পাছে ভাবে দুর্গাপূজার উৎস ও উদ্দেশ্য বাণিজ্যমেলা, তাই প্রাণপণে বোঝাতে শুরু করলাম কি কেন এবং কিভাবে দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব থেকে বঙ্গীয় আবেগে পরিণত হয়েছে।
    ভুল পথে চলে পৌঁছে গেছিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘরে, সেখানে ২৫ টাকা লাগতো, যাহোক যে কাকু সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি জানালেন তিনি বঙ্গভাষণে অপারগ, কি দুঃখের কথা! তিনি জানালেন হস্তবন্ধনী (যার দাম ২৫টাকা) ব্যতিরেকে প্রবেশ নিষেধ, উল্টোপথে হাঁটা দিলুম ফের।
    করিডোরের ভিতরে হট্টগোল, একদিকে ললনারা শাড়ি জামা গয়না কিনছেন আর অন্যদিকে সুনীল গাঙ্গুলীর কিছু মধ্যমানের বই, বাঙালনামা ইত্যাদি বিক্কিরি হচ্ছে. শুনতে পেলুম "বাঙালনামাটা পড়েছিস? ব্যপক বই" (ভাগ্যিস ভারতবর্ষে রাত, নইলে তপনবাবু নিশ্চিৎ হেঁচকি তুলতেন)
  • আরও পড়ুন
    ২১৮ - Nishan Chatterjee
    আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar

  • সেসব কাটিয়ে ঢুকলাম প্রতিমা দর্শনে, ভিড়ে ভিড়াক্কার, আর কত রকমেরই চোখ দেখলুম, লাল নীল সবুজ বেগুনী রামধনু, সাথে টিসু পেপার থাকলে সৌন্দর্যের ভারী বিপদ, রঙের চলটা উঠে গেলেই কেলোর কীর্তি, সাড়ে সর্বনাশ। যাকগে সে আমার বিচার্য বিষয় নয়।
    তদুপরি ফেসবুক জমানায় পূজোয় গেলেই হয়না, একদিনের যে বাঙালীয়ানা উদযাপন, তা লোককে না জানালে হবে কেমন করে? কাজেই ফটো তোলার ঘনঘটায় গগন অন্ধকার, জনতার ফাঁকে ফাঁকে দুর্গামাতার রূপের ঝলক দেখাগেলো।
    তবে কিনা অনভ্যাসের ফোঁটা কপালে চড়চড় করবেই, বাঙালীয়ানার তালেগোলেও সেই চড়চড়ে অবস্থা!
    অতএব প্রবল ভিড়, পূজো না মেলা না মোচ্ছব বুঝতে বুঝতেই বন্ধুদের হাঁফ ধরে এলো, আমরাও বেরিয়ে এলাম।
    বাইরে আদিগন্ত সবুজ, বিকেলের রাঙা রোদ পড়েছে তেরচা হয়ে মাঠের কোণায়। হঠাৎ মনে হোলো এর আনন্দই বা কম কি?
    মৃত্যুধূপে আগুন জ্বালিয়ে ফুসফুসের শ্রাদ্ধ করলাম কিছুক্ষণ তারপর বাঙালী সুখাদ্যের আশায় পাড়ি দিলাম ক্যালকাটা অ্যাফেয়ার বলে এক রেস্তোরাঁর উদ্দেশ্যে!
    পথ বেশি না, মাইল পাঁচেক। রাস্তা ওয়ালপেপারের মত, ফোয়ারা, আর লাল হলুদ পাতা, তাই যাবার পথে শুঁড়িপথ নিলাম অষ্টাদশ শতকের এক চার্চের দিকে। চার্চের সামনে পৌঁছে দেখি, ওমা একি, সামনের মাঠে হরিণ চরে বেড়াচ্ছে। হরিণী চোখ তুলে চাইলে আমার দিকে, গাড়ি থেকে নামলাম, নিশ্চল মুর্তির মত, নিরন্তর মৃত্যুর মত হরিণী তখনো তাকিয়ে আমার দিকে, তার ঘাস খাওয়া শেষ, আর ঠিক যে মুহূর্তে আমি ভাবতে শুরু করেছি জ্যান্ত তো, একলাফে বাদামী বিদ্যুতের মত সে হারিয়ে গেলো হলুদ বনে, বোধহয় তার নাকচাবি গেছে হারিয়ে। চাদ্দিক শুনশান, কেউ কোথাও নেই, আর বাতাসে হিমেল পরশ, তাই বিশেষ কালক্ষেপ না করেই আবার উঠলাম গাড়িতে।
    মাইল তিনেক দূরেই রেস্তোরাঁ, সামনে ইলেক্ট্রিকের তারে আটকে দ্বাদশীর চাঁদ, এদেশে চাঁদ কেমন হলদে রঙের হয়। আর যখন ওঠে তাকিয়ে থাকলে কেমন ঘোর লেগে যায়। মনে হয় হেথা নয় হেথা নয় অন্য কোন কথা। মনে হয় এই সব মেকী, সব রঙের চলটা, সাদা বাদামী হলদে মানুষের ভিড় এসব কিচ্ছু নয়, এই চাঁদে লাল মানুষের বর্শা হাতে ছুটে যাবার কয়া বাদামী ঘোড়ায় চড়ে, তার বর্শা চকচক করুক হলদে চাঁদের আলোয়, আর তার বর্শা দেখুক রক্ত, হলদে আলোয় বাদামী রক্ত ঝরে যাক পাথুরে মাটিতে, আর তৃপ্ত হোক এই বন্য মৃত্তিকা।
    যাহোক, ২০১৪য় দিবাস্বপ্নের আয়ু মিনিট কয়েক, বুফে খেতে ঢুকলুম রেস্তোঁরায়। তখনও ফাঁকা ছিলো, দুটি মার্কিন পরিবার, একটি ভারতীয় গ্রুপ যার দুজন অবাঙালী। ওয়েটার পূর্ব ইউরোপীয়, ভারী অমায়িক লোক। বোধহয় পূজোর কদিন ভিড়ভাট্টা বেশি হচ্ছে, অনভ্যেসের দরূণ তিনি হাঁসফাঁস করছেন তখনো।
    কিন্তু সাধু সাবধান, কিছুক্ষণের মধ্যেই জনা দশেকের একটি বাঙালী গ্রুপ এবং জনা চারেকের আরেক বাঙালী পরিবার এসে বসলেন আমাদের সামনে। সেই একই মেকী- আনা, কিছু ওয়াইন আল্ট্রা আঁতলামি এবং চামচে দিয়ে ডালভাত খাওয়া। সামনের দশজনের দলের কথায় বুঝলুম এঁদের রাত হয় না, night হয়, আর "kids দের ওদিকে পাঠিয়ে দিলে Adults রা এদিকে বসতে পারে, degeneracy কমে" অহো বাহ্য, পাশের টেবিলে দেখি আরেক কেলোর কীর্তি। এক বয়স্কা ভদ্রমহিলা এসেছেন, তিনিই আমার সেদিনের বাঙলা। পায়ে তাঁর চটি, পরণে সবুজ শাড়ি, বোধহয় পাশের টেবিলের বঙ্গসাহেবের মা। প্রসঙ্গতঃ শহুরে ভারতীয় বিদেশে গেলে মা এর মূলতঃ আমদানি ঘটে সন্তানলাভ হলে, এদেশে আয়া রাখা অতীব খরচসাপেক্ষ। ইউরোপীয় সভ্যতা এদেশে পৌঁছতে এখনো বছর পঞ্চাশেক দেরী আছে।
    মহিলা বড়ই উসখুস করছেন, করারই কথা, আমরাই করছি। কিন্তু আমাদের বয়েস কম, হজমশক্তি বেশী।
    চামচে দিয়ে খেতে গিয়ে তাঁর নাজেহাল দশা, হাত দিয়ে শুরু করার মুহূর্তেই ছেলের কটমট দৃষ্টিপাতে আবার চামচে। হে ধরণী দ্বিধা হও!
    অখাদ্য কিছু পাঁটার মাংস, আর গোয়ানীজ চিঙড়ির ঝোল খেয়ে এমনিতেই মেজাজ খিঁচড়ে দোদমা, তায় এসব নাটক দেখে ভারী বিষাদ নেমে এলো হলদে বাল্বের আলোয়। আমরা বেরোলাম বাড়ির পথে। মাঝে হায়দার দেখার কথা নিউপোর্ট মলে।
    এবারেই চমক, ভারতীয় সভ্যতার চমক। বাঙালী সদা হীনমন্যতায় ভোগে, প্রাণপণে মুছে ফেলতে চায় আত্মপরিচয়! যে সাহেবরা মলত্যাগের পর কাগজ দিয়ে পশ্চাদ্দেশ মোছে, কিন্তু প্রস্রাবের পর হাতধোয়ার ঘনঘটায় পৃথিবীর জলসঙ্কট ঘটিয়ে ফেলে তাদের নকলে বাঙালীও নানা জিনিস রপ্ত করতে থাকে, আরো একটু বাড়ালে, একা বাঙালী কেন, ভারতীয় মাত্রেরই এই ঔপনিবেশিক দাস মনোবৃত্তি আছে। কিন্তু পার্মানেণ্ট মার্কারের কালি তোলা কি অতই সহজ? তাই যেখানেই ভারতীয় সেখানেই ক্যাঁচাল। এঁরা বাঙলা হিন্দী বলেন বিলিতি টানে, ইংরিজিটা ঠিক কিসের টান তা বোঝার সাধ্য আমার কেন? ঈশ্বরের বাবারও নেই। বাঙলা বলার ফাঁকে ফাঁকে প্রতিশব্দ হাতড়াতে হয়। অবশ্য খোদ পশ্চিমবঙ্গেই আজকাল ইংরিজি জানার চেয়ে বাঙলা না জানার গরিমা বেশি। মা মেয়েকে বলেন "দেখো দেখো night এ কত star আকাশে" "ঐ দেখো বাবু, tiger" "আজ ঐ green জামাটা পরে যেও কিন্তু"। বাড়িতে অতিথি এলে বাঙালী বাচ্চা আজকাল ছড়ার বদলে rhyme বলে। দেশোদ্ধার হচ্ছে সন্দেহ কি?
    নিউপোর্ট মলের সিনেমায় ঈদ ও দুগগোপূজোর ডবল ধামাকায় তখন ত্রাহি মধুসূদন দশা। অতএব বাথরুমেও তার ব্যতিক্রম না। অন্য সব দিন যে মলের বাথরুম ঝকঝক করে, তার ক্লোজেটে ক্লোজেটে গু ভেসে বেড়াচ্ছে, এবং জায়গাটা চেন্নাইয়ের সিএমবিটি বাসস্ট্যাণ্ডের বাথরুমের চেয়েও নারকীয় আকার ধারণ করেছে! জাতের গুণ যাবে কোথায়!
    যাইহোক হায়দার আর দেখা হোলো না, হাউসফুল, রাত ১১টা অব্দি ভয়ানক বাজে ভূতের সিনেমা দেখে নিউ ইয়র্কের রাস্তা ধরলাম।
    আর সেই রাতেই আমার পূজো, রাত দেড়টার "এল" ট্রেনে আমার সম্মুখবর্তিনী, সাদা টি শার্ট আর মেক আপ ছাড়া কবিতার মত বসে রইলো। হাই তুলতে যখন মুখ হাঁ করে আলতো সরালো, দেখি পেছনের পোস্টারে লেখা "poetry in motion", সে কোথায় নামলো, কি করে, কি খায় কোথায় থাকে আমার কিচ্ছু জানার নেই, শুধু রেখে দিলাম গতিময় কবিতার স্থবির স্মৃতিটিকে, এবারের পূজোর ছবি বলে।
    যাইহোক এই আমার পূজো, শেষে একটাই কথা, দুধের সাধ ঘোলে মেটাবেন সেও ভি আচ্ছা, কিন্তু না ঘরকা না ঘাটকা চুল্লু দিয়ে মেটালে চোঁয়াঢেকুর ও বদহজমের, এবং শেষে বমণের প্রবল আশঙ্কা!
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫২৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:২০74810
  • যে জায়গায় এরকম মদ্য সহযোগে কাঁদুনি গাওয়া হয় তার নাম লম্বুদ্বীপ, এবার খুঁজে বের করুন :)
  • ... | 138.178.69.138 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ১০:১০74811
  • বাবারে...
    লঙ আইল্যান্ড কে লম্বুদ্বীপ না বললে বোধহয় শুদ্ধ বাঙ্গালিয়ানা হয় না :)
  • de | 69.185.236.54 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৪৫74812
  • যার অবজার্ভেশন সে লিখলো - পড়ে পছন্দ না ও হতে পারে - কিন্তু আড়াল থেকে তীর ছোঁড়া কেন?

    বিদেশের পুজো আমারও একই রকমের বাজে লেগেছে!
  • kk | 117.3.196.87 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ১১:১২74814
  • এখানে এই বিশেষ লেখা সম্পর্কে মতামতের থেকেও বিদেশের পুজো বা বিদেশী বাঙালীদের কালচার সম্পর্কে মতামত বেশি দেখলাম!
    যাই হোক, আমার মতটুকু বলি।লেখার স্টাইল ভালো লাগলো। কিন্তু বিষয়বস্তুতে নতুন কিছু খুঁজে পেলামনা।
  • jaladhar | 117.128.145.31 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৫৭74815
  • লেখাটা ব্যাপক হয়েছে। জলধরবাবুদের প্যান্টুলুন খুলে দিয়েছে। খোদ জলধর হোকে বোলতা হ্যায়।

    জনৈক দিদি এটা লিখেছেন
    "নিজের ইচ্ছায় নয়, স্বামীর কারণে বিলেতে আসতে বাধ্য হয়েছে যেসব মেয়েরা, তারাও এমনকি সন্ধ্যেবেলা মদ খেয়ে দেশের জন্যে কাদে না। তাদের দুঃখটা জেনুইন।"
    তাই? স্বামীরা বলবেন কাজের জন্য আসতে বাধ্য হয়েছেন। মানে ঠিক কি কারণে ওনাদেরটা জেনুইন সেটা যদি জানা যেত।
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০১:০৬74829
  • racism নেই? পূর্ণমাত্রায় আছে। ফার্গুসন কোথায় যাবে?
  • জলধর ৩ | 178.26.197.46 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০১:৪৫74830
  • হাহাহাহাহা এইটা নিশানবাবু হেব্বি দিয়েছে - "আমি যদি কোনোদিন না ফিরতে পারি তার কারণ হবে ইন্টারনেটের স্পীড"!!!!
    এইটা তো ছেলেমেয়েরা ভারতে মানিয়ে নিতে পারবে না তার থেকেও জব্বর কারণ!!!!
    বোঝাই যাচ্ছে নিশানবাবু নিতান্ত ছেলেমানুষ! দশবছর পরে নিশানবাবুর মতামত শুনতে চাই। :-)

    আর জলধর ইত্যাদিদের ল্যাখা পড়ে মনে হচ্ছে যেন ভারত তথা পঃবঙ্গের পুজো কমিটিতে কোনো পোড়খাওয়া বজ্জাত লোকের অস্তিত্ব নেই। আজকাল নতুন গজানো ফ্ল্যাট কমিউনিটির পুজো এবং কালচারগুলো কিরকম? বজ্জাতি থেকে শুরু করে বাচ্চাদের বাংরেজি বলা পর্যন্ত সবই একদম ডিটো মিলে যায় যে।
  • rabaahuta | 172.136.192.1 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৩৭74831
  • sm on 08 October 2014 11:13:40 IST 233.223.159.253 (*) # - বাড়িতে হাগজ ব্যাবহার করাটাও নিন্দার্হ? ঝাঃ।
    এনারাইদের দেখছি সবই খারাপ।
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪০74832
  • সত্যি বলতে কি প্রবাসের বেশীরভাগ দূর্গা পুজাই কিন্তু ঠিক সার্বজনীন দুর্গোত্সব নয়। কিছু বাঙ্গালী এই সময় পুজো পুজো খেলে দুধের স্বাদ পিটুলি গোলায় মেটায়। তা ধরুন সবাই তো আর মোটা টাকা স্পন্সর দের কাছ থেকে পায় না, তবে তিন দিন ধরে হল ভাড়া, আট বেলার খাওয়া এসবের খরচ আসবে কোথা থেকে। তাই এন্ট্রী ফী বা চাদা নেওয়া হয়।

    ছেলেমেয়ের ব্যাপার টা কাটিয়ে দিন। নিজেরা যখন বাপ মা হবেন দুনিয়ার অনেক কিছুই নতুন করে বুঝতে শিখবেন।
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৪74833
  • এনারাই তুমি ইয়ে লোক,
    তোমর ইয়েতে ইয়ে হোক!
  • এনারাই | 178.26.197.46 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০০74834
  • বিদেশে জমাদার পাওয়া গেলে অবশ্যই টয়লেট জমাদারকে দিয়ে পরিষ্কার করাতাম।
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৫74835
  • রবাহুত, আমার আগের পোস্ট টা পড়েন নি বোধ হয়। আমি তো বললাম এন আর আই দের অনেক ভালো দিক আছে, সে সব নিয়ে পরে লেখা যাবে খন।
    বস্তুত হাগজ ব্যবহার টা আমার অব্সার্ভেশন। এটা কে আপনি নিন্দা ধরলে নিন্দাই।
    আমার এটাকে ভারী রহস্য জনক মনে হয়। কারণ অধিকাংশ বাঙালি ই (পব তে থাকাকালীন) বাড়িতে হাগজ ব্যবহার করার কথা তুললে নাক শিটকবেন বা তীব্র পিতিবাদ করবেন।
    কিন্তু যেই বাঙালি এন আর আই হয়ে গেল, অমনি হাগজের মহিমা সম্যক উপলভ্ধি করে ফেলল।
    অভ্যেস এমন দাড়ালো যে নিজে বাড়ি কিনলেও, বাথরুমে কলের আর মগের ব্যবস্থা রাখল না।
    পয়সা দিয়ে সুপার মার্কেট থেকে হাগজ কিনতে শুরু করলো(অবশ্যই ডিস্ কাউন্টে বা অফারের। )।
    এটা আপনাকে আশ্চর্য্য করে না? যে হস্ত প্রক্ষালন করে জীবনের অর্ধেকের বেশি বসন্ত পার করে দিল, সে নিজের বাড়িতে সে রকম কোনো ব্যবস্থা রাখলোনা কেন?
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২০74836
  • ছেলেমেয়ের ব্যাপার টা কাটিয়ে দিন। নিজেরা যখন বাপ মা হবেন দুনিয়ার অনেক কিছুই নতুন করে বুঝতে শিখবেন।

    @ ---,
    ছেলে মেয়ের বাপ মা, হওয়া টা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ধ্রুবক।
    কথা টা হলো , গুজু, পাঞ্জাবি, তামিল, শ্রীলংকান, বাংলা দেশী রা দেশে ফিরে যাবার অন্তরায় হিসেবে, ছেলে মেয়ে কে খাড়া করে না। এক্ষেত্রে তারা একটু কম দ্বিচারী।
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২৬74837
  • বিদেশে জমাদার পাওয়া গেলে অবশ্যই টয়লেট জমাদারকে দিয়ে পরিষ্কার করাতাম।
    -----
    এই কথা টা মনে ধরল। পয়সার জোর থাকলে জমাদার ডাকতাম,সফার দিয়ে গাড়ি চালাতাম, পরিচারক/চারিকা রাখতাম। খুব ভালো কথা। যুক্তিপূর্ণ। এটা কেউ পেশা হিসেবে বেছেচে আর আপনি পয়সা দিয়ে শ্রম কিনছেন।
    কিন্তু অনেকে দেশে গিয়ে ফাটিয়ে আসেন, আমি না নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসি। প্রশ্ন হলো কেন?
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২৮74838
  • "কথা টা হলো , গুজু, পাঞ্জাবি, তামিল, শ্রীলংকান, বাংলা দেশী রা দেশে ফিরে যাবার অন্তরায় হিসেবে, ছেলে মেয়ে কে খাড়া করে না। "

    - কি জানি বাপু আমি তো অনেক গুজু, পাঞ্জাবি, তামিল, শ্রীলংকান, বাংলা দেশী দের জানি যারা ঠিক এর উল্টো টাই বলে! মোদ্দা কথা হলো আমার ছানার ভবিষ্যত এখানে থাকলে বেটার আর আমি আমার ছানার কাছাকাছি থাকতে চাই। তাই এই দেশ টাই ভালো। এমন টাই তো লোক্জনের সাথে কথা টথা বলে মনে হলো।
  • aranya | 154.160.226.93 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২৯74839
  • ইয়ে, মানে ঐ হাগজের ব্যাপারটা আর কি, sm আম্রিগা বা ইউরোপের কমোড সমৃদ্ধ বাড়ির বাথরুম-গুলো দেখেছেন নিশ্চই, সেখানে হাগজের পরিবর্তে জল ব্যবহার করা একটু মুশকিল না?

    আমার এক বন্ধু জলের ভক্ত, শৌচ কর্মের জন্য বাথটব এবং জল ব্যবহার করতেন। চান করার জন্যও সেই একই বাথটব ইউজ করতে হত, কি আর করা ..
  • লম্বুদ্বীপ নিবাসী | 214.194.141.29 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩০74840
  • "তার মধ্যে কিছু আবার সুনীল গাঙ্গুলীর অনুপ্রেরণা, অতএব হাফ বিলিতি ধারায় স্ত্রী শয়ান দেন পরপুরুষের সাথে আর সেই অজুহাতে সোয়ামী কচি মেয়ে পেলেই কচলে হাতের সুখ করে নেন"

    নিশানবাবু, এই পরকীয়াপ্রেমী বৌদিদের কোথায় পাওয়া যাবে ? আমিও "লম্বুদ্বীপ" নিবাসী বিগত বেশ কিছু বছর ধরে, কিন্তু অদ্যাবধি পরকীয়াপ্রেমী বৌদিদের খোঁজ পাই নাই, আপনি এই স্বল্পদিনে তা অনুসন্দ্ধান করে ফেলায়, আপনার প্রখর দৃষ্টিশক্তির ক্থা ভেবে যারপরনাই পুলকিত বোধ করছি।

    যাই হোক আমিও একটি জমিয়ে পরকীয়া করতে চাই , নিকষিত হেম নয় , যাকে বলে একেবারে প্যাঁজ, রসুন, আদা দিয়ে ঃ)

    আপনি অনুগ্রহ করে , একটু সাহায্য করলে , বাধিত ও আল্হাদিত হব ।
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৪০74841
  • অরন্য, মানতে নারাজ। আমাদের দেশে ফ্ল্যাট বাড়ি গুলোতে কমোড এর প্রচলন বহুদিন এসে গ্যাছে । তাতে কি বাঙালিরা প ব তে হাগজ ব্যবহার করতে লেগেছেন? কি ভাবে ম্যানেজ করছে?
    বিদেশে অনেকে কার্পেটের অবস্থান কে খাড়া করবেন, কিন্তু বাস্তব হলো বহু বাড়িতে এখন টাইলস বা উডেন ফ্লোর এর ব্যবহার হচ্ছে।নিজের বাড়ির টয়লেট নিজের মত করে নিলেই হয়? ফালতু হাগজের পিছনে খচ্চা কেন?

    আর ---,বাংলাদেশী, গুজু, তামিল জনতা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা এক ই আছে পাল্টায় নি। তারা বলেই থাকে এখানে সুযোগ সুবিধে বেশি, এখানেই থাকব।
    হ্যা, মাঝে মাঝে দেশের জন্য হা হুতাশ করে না যে তা নয়। তবে তা মাত্রাতিরিক্ত নয়।
  • Nishan | 156.96.24.205 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৫২74842
  • হেহেহে, সেরকম বৌদির খোঁজে আমিও আছি, আমি শখ করে নাম জানিনি জেনে গেছি, নাম দিয়ে লিখতেই পারি, কিন্তু ক্যালানি খেলে বাঁচাবে কে?

    ইন্টারনেট এর স্পিড এর কথাটা রসিকতা করে বলা, আজকাল কোলন পি কোলন ডি না দিলে পাবলিক বুঝ্ছেই না!
  • Nishan | 156.96.24.205 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৫৪74843
  • ইয়ে গুজ্জু পাঞ্জাবি দের এক ই সমস্যা আছে, কিন্তু তারা আমার জাতভাই অতটা না বলে গায়ে খুব একটা লাগে na
  • Nishan | 156.96.24.205 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৫৬74844
  • আর তেমন জরুরি বৌদির দরকার হলে ফোন করুন, এখানে লেখা যাবে না :-P
  • aranya | 154.160.226.93 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:০০74845
  • আম্রিগান বাথরুমের টাইলের মেঝে ওয়াটার প্রুফ কিছু নয়, রেগুলার বেসিসে জল ঢাললে কদিন পরেই মেঝে থেকে লিক করে নিচের লিভিং রুম, ফ্যামিলি রুম বা কিচেন জল পড়তে থাকবে (বাথরুম যদি ওপরের ফ্লোরে হয়)।

    ভারতের বাথরুমের মেঝের মত করে তৈরি করা কঠিন মনে হয়
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩১74846
  • নিচের ফ্লোরেই একটা টয়লেট থাকুক না কেনে? উপরের ফ্লোরে নয়,
    বাচ্চাদের জন্য হাগজের ব্যবস্থা থাকবে।
    আমার কাছে এটা কিন্তু কোনো সমস্যাই নয়। আমরা সকলে সাহেব দেশে গিয়ে তাদের শিষ্ঠাচার , সময়ানুবর্তিতা,রাস্তায় থুতু না ফেলা, রুমালের বদলে টিসু তে সর্দি মোছা ইত্যাদি নকল করি। কিন্তু নকল করতে গিয়ে বেশি করে ফেলছি কি?
    আর একটা জিনিস তুলনামূলক ভাবে আসে। বাচ্চ্চা শিশুকে একেলা অন্য ঘরে শুইয়ে আসা। পরিসংখ্যান বা রিসার্চ যাই বলুক; আমার মতে এটা শিশুর উপর বেদম টর্চার। কেন ভারতীয় মতে, মায়ের পাশে শোয়ানো যাবে না, এই নিয়ে কোনো প্রতিবাদ দেখেছেন?
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৬74847
  • "বাচ্চ্চা শিশুকে একেলা অন্য ঘরে শুইয়ে আসা" -- ধুর! কে বললো? আমার শিশুই তো তার মায়ের কাছে শুয়েছে।
  • aranya | 154.160.226.93 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪০74848
  • sm, এগুলো কোন ইস্যু নয়, আমার কাছে।
    কে বাংলা বলতে পারে না, বা খারাপ বলে, কার ইংলিশ অ্যাকসেন্ট বাজে, কোন পুজোতে কত চাঁদা নেয়, কোন বৌদি পরকীয়া করে - এগুলো ও নয়।
    কে কেমন মানুষ সেটা জরুরী , তবে ভাল মানুষ হওয়ার সাথে ওপরের ব্যাপারগুলোর কোন সম্পর্ক নেই
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৩74849
  • কোনো সমস্যা নাই। দেশ থেকে গাড়ু নিয়ে যান, কোমোডে বসেই ছুঁচুতে পারবেন। দেশেও তো আজকাল কোমোডের পাশে হ্যান্ডশাওয়ার থাকে, চাপ দিলে জল বেরোয়, ছুঁচু করতে হাতেও জল লাগে না।
    ছুঁচু নিয়ে এত সমস্যা কেন?
    ভেজা টয়লেট পেপারও তো মেলে। যদি শুকনো পেপারে ড্রাই লাগে ভেজা পেপারও পাওয়া যায়।
    বাথরুমের মেঝে শুকনো রাখা তো ভালো। শ্যাওলা হয় না।
    পেপার ন্যাপকিনে নাক ঝাড়া কিন্তু রুমালে নাক ঝাড়ার থেকে স্বাস্থ্যকর।
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৩74820
  • দারুন লেখা হয়েছে নিশান।
    এন আর আই দের দূর্গা পুজো এক কোথায় অসঝ্য। এখানে পুজো টা মেইনলি উপভোগ করে কমিটি মেম্বার্স রা। এরা প্রায় প্রত্যেকেই পোড় খাওয়া এন আর আই, আর হাড় বজ্জাত। একদিকে থাকে প্রতিমা, আর এক দিক আলো করে থাকে এদের অহংকার আর আতম্ভরিতা। ২৪ ঘন্টা চলতে থাকে পি এন পি সি আর শো অফ করার প্রতিযোগিতা।
    এদের কেউ কেউ আবার বেশ সরেশ (সারদার খবরে প্রকাশিত)। নিশান বর্ণিত বর্ণনা গুলো এদের সঙ্গে খাপ খায়।
    এরাই অদ্ভূত ইংরিজি তে কথা বলে, বাংলা বলে স্বস্থি পায়না; কোনো এক দুর্বোধ্য কারণে বাড়িতেও হাগজ ব্যবহার করে। বাথরুমে বেসিন ছাড়া কোনো কলের অস্তিত্ব রাখে না। অথচ এদের প্রায় প্রত্যেকেই বড় অংশ প ব তে কাটিয়েছে।এরাই বিদেশে নিজের টয়লেট সাফ করে, দেশে এলে জমাদার ডাকে। বিদেশে সুযোগ সুবিধে কত বেশি, কত পরিস্কার, এই সব আমড়া গাছি করে । রহস্য জনক ভাবে পাঞ্জাবি, গুজু, বাংলা দেশী, এদের মধ্যে এই দ্বিচারিতা একটু কম। কারণ তারা বিদেশ কে ওয়ান ওয়ে রাস্তা হিসেবে দেখে। প্রথম থেকেই বলে, এদেশে এসেছি এখানেই থাকব। দেশে ফিরতে পারছিনা কারণ ছেলে মেয়ে রা বড় হয়ে গ্যাছে এমন ফালতু অজুহাত দেয় না।
    কারণ এডাল্ট হবার পরে ছেলে মেয়েরা বাড়ির থেকে সম্পর্ক ছিন্ন(মাঝে মাঝে ভিসিট করা ব্যাতীত) করে বাইরে থাকবে এমন টাই দস্তুর।

    দ্বিতীয় দলে রয়েছে, এদের সন্তান সন্ততি। এদের জন্য সত্যি ই কষ্ট হয়। কারণ এরা প্রায় সব্বাই আক্ষরিক অর্থে বিলিতি।দেশী পুজো বা সংস্কৃতি এদের বাবা মা পুজোর চার দিন জোর করে চাপিয়ে দেয়। এরা না পারে গিলতে না পারে উগরোতে। বাচ্চা বয়সে তাও চালিয়ে দেয়, কিন্তু টিন এইজ হয়ে গেলেই বিবমিষা জাগে।
    দুখের কথা খুব যত্ন করে এদের বাবা মা দেশের নতুন আগত লোকেদের প্রতি ঘৃনা ঢুকিয়ে দেয়। সর্বত্রই এদের চেষ্টা থাকে নিজেকে হনু প্রমান করার। যেমন আপনি যদি সেকেন্ড জেনেরেশন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে এমন কায়দার একসেন্টে ইংরিজি শুনবেন, যেটা কোনো সাহেব ও চেষ্টা করে বলতে পারবেনা। আপনার দিকে এমন দৃষ্টি টে তাকাবে, যেন কত অন্যায় করে ফেলেছেন এদেশে এসে। কিতু দুকখের কথা হলো, এত সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও এদের মধ্যে খুব কম যুগান্ত কারী কোনো কাজ কর্মের সঙ্গে যুক্ত। এ ব্যাপাত্রে ফার্স্ট জেনেরেশন বোধ হয় একটু বেশি এগিয়ে।
    তৃতীয় দলে আছে, দেশ থেকে নতুন আগত লোকজন। যারা কিছুদিন হলো পা রেখেছেন।
    তারা নস্টালজিক, পুজোর আনন্দ ভোগ করতে আসে। ভালো মন্দ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
  • | 24.97.53.148 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৭74850
  • আসলে উহারা এখনও হ্যান্ড শাওয়ার বা জেট স্প্রে ব্যবহার করতে শেখে নাই তো। sm ওদের মাপ করে দেন।
  • | 24.97.53.148 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৯74851
  • হ্যাঁ বাংলাদেশের লোকজন দেশ ছাড়ার সময় যে চেকলিস্ট ব্যবহার করে জিনিষপত্র যোগাড় করে তাতে 'বদনা' একটি অবশ্য নিয়ে যাবার জিনিষ। একই প্রকার বস্তু টার্গেটের গার্ডেনিং সেকশানে পাওয়া যায়।

    জাস্ট জানিয়ে রাখলাম আর কি ..... নিতান্তই যদি কারো কাজে লাগে।
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৫১74852
  • সদ্যোজাত শিশুকে মায়ের পাশে কেন, বাবার পাশেও শোয়ানো ঠিক নয়। আলাদা একটা ঘেরা জায়গায় শোয়ানো ভালো, ঘুমের মধ্যে মা/বাবা পাশ ফিরে শুতে গিয়ে বা হাতের চাপে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুমৃত্যু ঘটে থাকে। তাই আলাদাই শোওয়ায়। আমাদের দেশে তো আলাদা ঘর একটা শিশুর জন্যে সবসময় পাওয়া যায় না, তাই ঘরেই রাখে, কিন্তু আলাদা ঘর থাকলে তো ভালো। বড়োদের শ্বাস প্রঃশ্বাস রাত্রিবেলা শেয়ার করবার দরকার নেই তো। সে শান্তিতে আলাদা ঘরে ঘুমোক। বাপ মা অনেক রাত অবধি জেগে থাকতে পারে, ঘরে আলো জ্বলতে পারে, সেসবেও শিশুর ঘুমে ব্যাঘাত হতে পারে। সে যদি কোনো কারণে কেঁদে ওঠে তখন বাপ মা গিয়ে তাকে দেখে আসবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন