• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আমার পূজো

    Nishan Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫৩৩ বার পঠিত
  • যেকোন দ্রব্যের আগে বিলিতি জুড়ে দিলে তার গুণ রীতিমত লোপ পায়, এ জিনিস বহুকাল যাবৎ চলে আসছে ! যেমন ধরা যাক বিলিতি বেগুন, আপনি পড়ছেন আর ভাবছেন এ বোধহয় আমেরিকার ফলন্ত ঝুলন্ত বেগুন, কিন্তু না! বিলিতি বেগুন হোলো টমেটো, পুরুলিয়ার দিকে আবার অনেকে টমেটোকে বলেন বিলিতি আমড়া। তাহলেই দেখুন, কেবল মাত্র বিলিতির গুণে বেগুনের বেগুনত্ব আর আমড়ার আমড়াগাছি লোপ পেয়ে কেমন একই রকম লালচে টমেটোয় পরিণত হোলো।
    তেমনই বিলিতি পূজোও একটি দুর্ঘট বস্তু বিশেষ, যা না বিলিতি না পূজো!
    বিলিতি বাঙালীও তাই, না বাঙালী না বিলিতি। এঁদের মূলতঃ দু একটি বিলিতি বন্ধু থাকে, আন্তর্জাতিকতার জন্য, বাকি এঁরা নিজেদের বৃত্তেই ঘুরঘুরে পোকার মত ঘুরঘুর করেন। তার মধ্যে কিছু আবার সুনীল গাঙ্গুলীর অনুপ্রেরণা, অতএব হাফ বিলিতি ধারায় স্ত্রী শয়ান দেন পরপুরুষের সাথে আর সেই অজুহাতে সোয়ামী কচি মেয়ে পেলেই কচলে হাতের সুখ করে নেন। কিন্তু রসুনের মতই মাথা আলাদা হলেও পশ্চাদ্দেশ আবিষ্ট যুগযুগান্তব্যাপী সংস্কারে, বাজারে কেচ্ছার ভয়ও আছে, অতএব বিবাহটি বজায় থাকে, আর ঐখানেই বিলিতিয়ানার শেষ। বদহজম আর কাকে বলে!
    এঁরা প্রতি সন্ধেয় প্রায় হুইস্কি বা ওয়াইন সহযোগে দেশের জন্য মড়াকান্না কেঁদে থাকেন, ফিরতে যদিও কেউ আটকাচ্ছে না, তবু নানা কাঁদুনি। অধিকাংশের এটা স্বীকার করার সৎসাহস পর্যন্ত নেই যে তাঁদের এখানে দিব্যি লাগে। দোষটাই বা কি তাতে? কিন্তু না, তাঁরা না কাঁদলে গঙ্গার জল কমে যাবে না, তাই বিদেশে বসে এঁরা নিরন্তর গঙ্গায় অশ্রু সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। আর দেশীয় রাজনীতির দুর্দশা নিয়ে টেবিলে তুফান তোলেন।
    মাঝে মাঝে দেশে গিয়ে এঁরা চাদ্দিক আলো করেন, এবং অভাগা আত্মীয়স্বজনকে বুঝিয়েই ছাড়েন বিলেতে কি হারে সুবিধা আমের মত গাছে ঝোলে আর "ইণ্ডিয়া কি ডার্টি বাবারেএএএ বাবারে, আর পারিনে!"
    গেলবার দিল্লী এয়ারপোর্টে বাঙালী বরের বিলিতি বউ দেখেছিলাম, বউ আমার সাথে বাংলায় কথা বললো দিব্যি, দাদা কিন্তু কলকাতা ছাড়ার পর বাংলায় আর শব্দক্ষয় করেননি, পাঞ্জাবী পাজামা ছেড়ে প্লেনের বাথরুম থেকে যখন বেরুলেন জিম করবেট মার্কা হাফপ্যাণ্ট পরে, কোন শালায় বলে বাঙালী সাহেব হতে শেকেনি!
    এঁরা শিখলেন না কাজের লোকের সাথে সমান ব্যবহার করতে, আমার মত ছাত্তরকে দেখলেই যাঁদের নাক হাফ কুঁচকে আসে কাজের লোকের প্রতি তাঁদের মহিমাময় ব্যবহার কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
    যাইহোক কতিপয় বন্ধুবর্গের নিরতিশয় অনুরোধে আমার দ্বিতীয়বার বিলিতি পূজোর আমড়াগাছি দেখার সুযোগ হোলো, আগেই বলেছিলাম তাঁদের, যে এ অতি দুষ্পাচ্য দ্রব্য, কিন্তু গরীবের কথা বাসি হলে ফলে, তাই তাঁরা গেলেন, ঢুকলেন, তিতিবিরক্ত হয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে এলেন।
    এখন শরৎকাল, ইংরাজমতে আটাম, যদিও মার্কিন দেশে 'ফল' কথাটা চলে, এবং গাছের পাতা সব ফাঁকা হয়ে যায় বলে ঐটেই আমার লাগসই লাগে, তবু বাটামের সাথে মিলের জন্য আটামটাই আমার পছন্দ। প্রকৃতি, শীতের কামড়টুকু বাদ দিলে সেজেছেন পরমা রূপে, প্রদীপ নেভার আগে দপ করে জ্বলার মত গাছের পাতায় উঁকি দিচ্ছে হলুদ-লাল আগুন। নাঃ বঙ্গপ্রকৃতির মাধুর্য নেই বটে, কিন্তু এ অনন্য সৌন্দর্য অস্বীকার করি কি করে? কি অসামান্যা তিনি, তাঁর রূপে দশদিশ আলোকিত হোক।
    এমন শরৎ দিনে, গাড়ি চড়ে বেরোলাম পূজা সন্দর্শনে, ভালো কথা। পথের চাদ্দিক দেখি আর কেমন যেন নেশা লাগে, নেশার মত আশ্লেষে জড়িয়ে ধরতে চায় গাছের সবকটি পাতা, সবকটি ডাল, সবকয়টি গুল্ম যেন শরীরে আগুন জ্বালিয়ে ডাকছে হাতছানি দিয়ে।
    সে যা হোক, সেসব পার করে অবশেষে উপনীত হলাম পথের উপান্তে, একটি হাইস্কুলের সামনে। (নামটা নাই বা বললাম, হরে দরে সবই এক)।
    ভিতরে ঢুকতেই দেখি, একটি টেবিলে হত্তা কত্তা বিধাতা তিনজন বসে আছেন, তাঁদের একজন আমরা কেবল প্রতিমা দর্শন করবো জেনে বললেন "১০ টাকা করে দিয়ে দিন তাহলে"। এখন মনে হচ্ছে ঐ টাকায় দু প্যাকেট রফিকির চিকেন ওভার রাইস হয়ে যেতো, অতি উপাদেয়। যা হোক দিয়ে তো ঢুকলুম, কিন্তু ঠিক ঢোকার সময়েই, যিনি আমাদের চাঁদা সংগ্রহ করছিলেন তাঁর সামনে এসে এক কাকিমা গোছের ভদ্রমহিলা এসে ইংরাজীতে কিসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করলেন, আমার মন আনন্দে চনমন করে উঠলো, ভাবলাম বাঙালী প্রাদেশিকতা ছেড়ে বোধহয় আধুনিক হচ্ছে। কিন্তু সে মোলাসেস এ স্যাণ্ড! কতিপয় মুহূর্ত পরে তাঁর বিলিতি উচ্চারণের সুশীল বাংলা শুনে আমার উৎসাহ নেমে গেলো ফুস করে!
    তার প্রভাবেই বোধকরি, আমাদের চাঁদাকত্তা কাকু ফস করে মোড সুইচ করে চলে গেছেন ইঞ্জিরিতে, আমার দুবার বাংলা গলাখাঁকারিতেও কাজ হোলো না, অতএব সাধু সাবধান। চলো প্রতিমা সন্দর্শনে, আনন্দবাজারে পড়েছো, কুমোরটুলির হেববি উপকার হয় এসবে, তাও তুমি জানো, অতএব ভজ মন দুর্গানাম।
    ভিতরে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ, উৎসবের দিন সাজগোজ না করলেই নয়, অতএব পাটভাঙা শাড়ি আর পাঞ্জাবীর ধাঁধায় চোখে তালা লেগে গেলো, ভাবতুম বিলিতিরা বোধহয় ভালোভাবে বুড়োতে জানে না, কিন্তু ঠাকুমাদের গালে লালচে আভা দেখে সে ভ্রম আমার দূরীভুত হোলো। স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে যে উটকো লোক থেকেই থাকে এই বিশ্বাসে স্থির হলাম অবশেষে।যে সমস্ত ফ্যাসান বঙ্গভূমে পাঁচ বছর আগে উপে গেছে তাদের নব আবির্ভাব। কিছু ব্লাউজ দেখে ভাবলুম বোধকরি প্রাচীন আদিবাসী সংস্কৃতি ফিরে আসছে, ওষ্ঠরঞ্জনী, গণ্ডরঞ্জনীতে সে ভুল গেলো ভেঙে।
    সাথে পাঞ্জাবী বন্ধু, সে পাছে ভাবে দুর্গাপূজার উৎস ও উদ্দেশ্য বাণিজ্যমেলা, তাই প্রাণপণে বোঝাতে শুরু করলাম কি কেন এবং কিভাবে দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসব থেকে বঙ্গীয় আবেগে পরিণত হয়েছে।
    ভুল পথে চলে পৌঁছে গেছিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘরে, সেখানে ২৫ টাকা লাগতো, যাহোক যে কাকু সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি জানালেন তিনি বঙ্গভাষণে অপারগ, কি দুঃখের কথা! তিনি জানালেন হস্তবন্ধনী (যার দাম ২৫টাকা) ব্যতিরেকে প্রবেশ নিষেধ, উল্টোপথে হাঁটা দিলুম ফের।
    করিডোরের ভিতরে হট্টগোল, একদিকে ললনারা শাড়ি জামা গয়না কিনছেন আর অন্যদিকে সুনীল গাঙ্গুলীর কিছু মধ্যমানের বই, বাঙালনামা ইত্যাদি বিক্কিরি হচ্ছে. শুনতে পেলুম "বাঙালনামাটা পড়েছিস? ব্যপক বই" (ভাগ্যিস ভারতবর্ষে রাত, নইলে তপনবাবু নিশ্চিৎ হেঁচকি তুলতেন)
  • আরও পড়ুন
    ২১৮ - Nishan Chatterjee
    আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar

  • সেসব কাটিয়ে ঢুকলাম প্রতিমা দর্শনে, ভিড়ে ভিড়াক্কার, আর কত রকমেরই চোখ দেখলুম, লাল নীল সবুজ বেগুনী রামধনু, সাথে টিসু পেপার থাকলে সৌন্দর্যের ভারী বিপদ, রঙের চলটা উঠে গেলেই কেলোর কীর্তি, সাড়ে সর্বনাশ। যাকগে সে আমার বিচার্য বিষয় নয়।
    তদুপরি ফেসবুক জমানায় পূজোয় গেলেই হয়না, একদিনের যে বাঙালীয়ানা উদযাপন, তা লোককে না জানালে হবে কেমন করে? কাজেই ফটো তোলার ঘনঘটায় গগন অন্ধকার, জনতার ফাঁকে ফাঁকে দুর্গামাতার রূপের ঝলক দেখাগেলো।
    তবে কিনা অনভ্যাসের ফোঁটা কপালে চড়চড় করবেই, বাঙালীয়ানার তালেগোলেও সেই চড়চড়ে অবস্থা!
    অতএব প্রবল ভিড়, পূজো না মেলা না মোচ্ছব বুঝতে বুঝতেই বন্ধুদের হাঁফ ধরে এলো, আমরাও বেরিয়ে এলাম।
    বাইরে আদিগন্ত সবুজ, বিকেলের রাঙা রোদ পড়েছে তেরচা হয়ে মাঠের কোণায়। হঠাৎ মনে হোলো এর আনন্দই বা কম কি?
    মৃত্যুধূপে আগুন জ্বালিয়ে ফুসফুসের শ্রাদ্ধ করলাম কিছুক্ষণ তারপর বাঙালী সুখাদ্যের আশায় পাড়ি দিলাম ক্যালকাটা অ্যাফেয়ার বলে এক রেস্তোরাঁর উদ্দেশ্যে!
    পথ বেশি না, মাইল পাঁচেক। রাস্তা ওয়ালপেপারের মত, ফোয়ারা, আর লাল হলুদ পাতা, তাই যাবার পথে শুঁড়িপথ নিলাম অষ্টাদশ শতকের এক চার্চের দিকে। চার্চের সামনে পৌঁছে দেখি, ওমা একি, সামনের মাঠে হরিণ চরে বেড়াচ্ছে। হরিণী চোখ তুলে চাইলে আমার দিকে, গাড়ি থেকে নামলাম, নিশ্চল মুর্তির মত, নিরন্তর মৃত্যুর মত হরিণী তখনো তাকিয়ে আমার দিকে, তার ঘাস খাওয়া শেষ, আর ঠিক যে মুহূর্তে আমি ভাবতে শুরু করেছি জ্যান্ত তো, একলাফে বাদামী বিদ্যুতের মত সে হারিয়ে গেলো হলুদ বনে, বোধহয় তার নাকচাবি গেছে হারিয়ে। চাদ্দিক শুনশান, কেউ কোথাও নেই, আর বাতাসে হিমেল পরশ, তাই বিশেষ কালক্ষেপ না করেই আবার উঠলাম গাড়িতে।
    মাইল তিনেক দূরেই রেস্তোরাঁ, সামনে ইলেক্ট্রিকের তারে আটকে দ্বাদশীর চাঁদ, এদেশে চাঁদ কেমন হলদে রঙের হয়। আর যখন ওঠে তাকিয়ে থাকলে কেমন ঘোর লেগে যায়। মনে হয় হেথা নয় হেথা নয় অন্য কোন কথা। মনে হয় এই সব মেকী, সব রঙের চলটা, সাদা বাদামী হলদে মানুষের ভিড় এসব কিচ্ছু নয়, এই চাঁদে লাল মানুষের বর্শা হাতে ছুটে যাবার কয়া বাদামী ঘোড়ায় চড়ে, তার বর্শা চকচক করুক হলদে চাঁদের আলোয়, আর তার বর্শা দেখুক রক্ত, হলদে আলোয় বাদামী রক্ত ঝরে যাক পাথুরে মাটিতে, আর তৃপ্ত হোক এই বন্য মৃত্তিকা।
    যাহোক, ২০১৪য় দিবাস্বপ্নের আয়ু মিনিট কয়েক, বুফে খেতে ঢুকলুম রেস্তোঁরায়। তখনও ফাঁকা ছিলো, দুটি মার্কিন পরিবার, একটি ভারতীয় গ্রুপ যার দুজন অবাঙালী। ওয়েটার পূর্ব ইউরোপীয়, ভারী অমায়িক লোক। বোধহয় পূজোর কদিন ভিড়ভাট্টা বেশি হচ্ছে, অনভ্যেসের দরূণ তিনি হাঁসফাঁস করছেন তখনো।
    কিন্তু সাধু সাবধান, কিছুক্ষণের মধ্যেই জনা দশেকের একটি বাঙালী গ্রুপ এবং জনা চারেকের আরেক বাঙালী পরিবার এসে বসলেন আমাদের সামনে। সেই একই মেকী- আনা, কিছু ওয়াইন আল্ট্রা আঁতলামি এবং চামচে দিয়ে ডালভাত খাওয়া। সামনের দশজনের দলের কথায় বুঝলুম এঁদের রাত হয় না, night হয়, আর "kids দের ওদিকে পাঠিয়ে দিলে Adults রা এদিকে বসতে পারে, degeneracy কমে" অহো বাহ্য, পাশের টেবিলে দেখি আরেক কেলোর কীর্তি। এক বয়স্কা ভদ্রমহিলা এসেছেন, তিনিই আমার সেদিনের বাঙলা। পায়ে তাঁর চটি, পরণে সবুজ শাড়ি, বোধহয় পাশের টেবিলের বঙ্গসাহেবের মা। প্রসঙ্গতঃ শহুরে ভারতীয় বিদেশে গেলে মা এর মূলতঃ আমদানি ঘটে সন্তানলাভ হলে, এদেশে আয়া রাখা অতীব খরচসাপেক্ষ। ইউরোপীয় সভ্যতা এদেশে পৌঁছতে এখনো বছর পঞ্চাশেক দেরী আছে।
    মহিলা বড়ই উসখুস করছেন, করারই কথা, আমরাই করছি। কিন্তু আমাদের বয়েস কম, হজমশক্তি বেশী।
    চামচে দিয়ে খেতে গিয়ে তাঁর নাজেহাল দশা, হাত দিয়ে শুরু করার মুহূর্তেই ছেলের কটমট দৃষ্টিপাতে আবার চামচে। হে ধরণী দ্বিধা হও!
    অখাদ্য কিছু পাঁটার মাংস, আর গোয়ানীজ চিঙড়ির ঝোল খেয়ে এমনিতেই মেজাজ খিঁচড়ে দোদমা, তায় এসব নাটক দেখে ভারী বিষাদ নেমে এলো হলদে বাল্বের আলোয়। আমরা বেরোলাম বাড়ির পথে। মাঝে হায়দার দেখার কথা নিউপোর্ট মলে।
    এবারেই চমক, ভারতীয় সভ্যতার চমক। বাঙালী সদা হীনমন্যতায় ভোগে, প্রাণপণে মুছে ফেলতে চায় আত্মপরিচয়! যে সাহেবরা মলত্যাগের পর কাগজ দিয়ে পশ্চাদ্দেশ মোছে, কিন্তু প্রস্রাবের পর হাতধোয়ার ঘনঘটায় পৃথিবীর জলসঙ্কট ঘটিয়ে ফেলে তাদের নকলে বাঙালীও নানা জিনিস রপ্ত করতে থাকে, আরো একটু বাড়ালে, একা বাঙালী কেন, ভারতীয় মাত্রেরই এই ঔপনিবেশিক দাস মনোবৃত্তি আছে। কিন্তু পার্মানেণ্ট মার্কারের কালি তোলা কি অতই সহজ? তাই যেখানেই ভারতীয় সেখানেই ক্যাঁচাল। এঁরা বাঙলা হিন্দী বলেন বিলিতি টানে, ইংরিজিটা ঠিক কিসের টান তা বোঝার সাধ্য আমার কেন? ঈশ্বরের বাবারও নেই। বাঙলা বলার ফাঁকে ফাঁকে প্রতিশব্দ হাতড়াতে হয়। অবশ্য খোদ পশ্চিমবঙ্গেই আজকাল ইংরিজি জানার চেয়ে বাঙলা না জানার গরিমা বেশি। মা মেয়েকে বলেন "দেখো দেখো night এ কত star আকাশে" "ঐ দেখো বাবু, tiger" "আজ ঐ green জামাটা পরে যেও কিন্তু"। বাড়িতে অতিথি এলে বাঙালী বাচ্চা আজকাল ছড়ার বদলে rhyme বলে। দেশোদ্ধার হচ্ছে সন্দেহ কি?
    নিউপোর্ট মলের সিনেমায় ঈদ ও দুগগোপূজোর ডবল ধামাকায় তখন ত্রাহি মধুসূদন দশা। অতএব বাথরুমেও তার ব্যতিক্রম না। অন্য সব দিন যে মলের বাথরুম ঝকঝক করে, তার ক্লোজেটে ক্লোজেটে গু ভেসে বেড়াচ্ছে, এবং জায়গাটা চেন্নাইয়ের সিএমবিটি বাসস্ট্যাণ্ডের বাথরুমের চেয়েও নারকীয় আকার ধারণ করেছে! জাতের গুণ যাবে কোথায়!
    যাইহোক হায়দার আর দেখা হোলো না, হাউসফুল, রাত ১১টা অব্দি ভয়ানক বাজে ভূতের সিনেমা দেখে নিউ ইয়র্কের রাস্তা ধরলাম।
    আর সেই রাতেই আমার পূজো, রাত দেড়টার "এল" ট্রেনে আমার সম্মুখবর্তিনী, সাদা টি শার্ট আর মেক আপ ছাড়া কবিতার মত বসে রইলো। হাই তুলতে যখন মুখ হাঁ করে আলতো সরালো, দেখি পেছনের পোস্টারে লেখা "poetry in motion", সে কোথায় নামলো, কি করে, কি খায় কোথায় থাকে আমার কিচ্ছু জানার নেই, শুধু রেখে দিলাম গতিময় কবিতার স্থবির স্মৃতিটিকে, এবারের পূজোর ছবি বলে।
    যাইহোক এই আমার পূজো, শেষে একটাই কথা, দুধের সাধ ঘোলে মেটাবেন সেও ভি আচ্ছা, কিন্তু না ঘরকা না ঘাটকা চুল্লু দিয়ে মেটালে চোঁয়াঢেকুর ও বদহজমের, এবং শেষে বমণের প্রবল আশঙ্কা!
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ | ১১৫৩৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 24.97.231.225 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৫৭74781
  • বাবা বা বেশ বোল্ড লেখা। তো, দেখি এইখানে কেউ খচে কিনা ;-)

    কিন্তু বেলুড়ের বাকী গল্পটুকুন হবে না নিশান?
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:১৫74782
  • ছাত্রাবস্থায় এরকম অম্লকষায় লেখা আমরা অনেকেই লিখেছি। হয়তো এত কাব্য ছিলনা লেখায়, ফেসবুকের রেফারেন্সও নয় - কিন্তু এরকম লেখা পুজো দেখে ও বাৎসরিক বঙ্গসংস্কৃতি দেখে আমিও লিখেছি। আমার কুড়ি বছার আগে যারা এসেছিলেন, তাঁরাও খুব সম্ভবত। দেখে ভাল লাগল কুড়ি বছরে মধ্যবয়স্ক এনারাই বাঙালির চরিত্র এক আছে, এবং ছাত্রকুলের চোখের দৃষ্টিও কিছুমাত্র পালটায়নি - অন্ধের হস্তীদর্শনে প্রবন্ধ লেখার বদভ্যাসসহ।

    তবে এ কোন জায়গা (যদিচ চিনেছি), যেখানে মধ্যবয়স্ক বাঙালিরা "প্রতি সন্ধেয় প্রায় হুইস্কি বা ওয়াইন সহযোগে দেশের জন্য মড়াকান্না"-র অবকাশ পান? আম্মো সেখানে থাকতে চাই।
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:১৬74783
  • ওরে বাবা! এনারাই দের ওপর দেখছি প্রচুর ক্ষার।
  • 00 | 181.64.40.104 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৪৮74784
  • ছাত্রাব্স্থার পরেও একরকম মনোভাব থেকে গেছে আমার। তখন ও অসহ্য লাগ্ত, আজ ও লাগে।
  • Indranath Sinha | 212.142.71.15 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০৭74785
  • টমেট ইজ নট বিলিতি আমড়া, টমেট ইজ অলঅয়েজ বিলিতি বেগুন। বিলিতি আমড়া হল অন্য জিনিস।
  • জনৈক মহিলা | 178.26.197.46 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৪ ০৯:৪৩74786
  • এইটা কেমুন ধারার ল্যাখা? বিলিতি দুর্গা পুজোর সঙ্গে বিলিতি বাঙ্গালিদের বিয়ে, পরকীয়া কিম্বা সন্ধ্যেবেলায় মদ খেয়ে দেশের জন্যে কান্নাকাটি করার কি সম্পক্ক তা ল্যাখাটি থেকে একটুও পরিষ্কার হল না। পুজোর যা বন্ননা আছে, তাতে তো দেশি আর বিদেশি পুজোর তফাত কিছুই বুঝা গেল না।

    ১। বিদেশের পুজোতে যেমন, দেশের পুজোতেও তেমনি মেয়েরা হুলিয়ে সাজগোজ করে থাকে। মেয়েদের কাছে ঠাকুর পুজোর থেকেও সাজগোজ আর আড্ডা অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ণ - দেশে বিদেশে, সেকালে এবম একালেও। সেই আড্ডার মূল বিষয়বস্তু বিভিন্ন পরিবার ও মানুষের বিভিন্ন সম্পক্ক, পারিবারিক গপ্প ইত্যাদি। যাকে মুর্খেরা পিএনপিসি বলে থাকে। এটাও দেশে বিদেশে একই।

    ২। ফটো তোলা - ফেসবুক জমানা ভারত তথা বাংলাতে কম নাকি এখন? ফটো তোলার ধুম সর্বত্র। দেশি বিলিতি কোনও তফাত নাই। ফেসবুকে গেলেই দেখা যায়।

    ৩। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বানিজ্যমেলাও দেশি এবং বিলিতি পুজোয় একই রকম। দেশে, বলা বাহুল্য, অনেক বেশি। লেখা পড়ে মনে হল যেন বিলিতি পুজোয় বানিজ্য মেলা করা এক বিশেষ অপরাধ। কারনটি স্পষ্ট নহে।

    ৪। ইঞ্জিরি বাংলা মিশিয়ে কথা বলা - ইহাও আদৌ এনারাইদের একচেটিয়া নয়। পঃবঙ্গের বাইরের বাঙ্গালীরা তো বটেই, এখন বাংরেজি কথায় পঃ বঙ্গের বাঙ্গালীরাও মোটে পিছিয়ে নেই কো। এর সঙ্গে বিলিতি পুজোর ভাল মন্দের সম্পক্কটি ঠিক কি?

    ৫। নোংরা বাথরুম ব্যাপারটা ভাবার মতন। তবে ইহাও বাঙ্গালীদের একচেটিয়া নয়। সাহেবি জায়গাতেও অতিরিক্ত জনসমাগম হলে একই ঘটনা ঘটিয়া থাকে।
    *******************************
    দেশি আর বিলিতি পুজোর আসল তফাত যেগুলো লেখক লেখেন নি ঃ
    ১। প্যান্ডেল বনাম হাইস্কুল
    ২। আলোকসজ্জা
    ৩। ৭ দিনের পুজো বনাম দুদিনের পুজো
    ৪। খাওয়া দাওয়া
    ৫। প্রচুর পরিমানে নিজেদের আত্মীয় বন্ধু যাদের সঙ্গে আনন্দের জন্যেই দেশের পুজোর আসল মজা
    ৬। বিজয়ার খাওয়া দাওয়া আর সামাজিকতা
    *******************************
    ও ভালো কথা, এনারাই মেয়েরা, যারা নিজেরা বিলেতে লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাড়িয়েছে, তারা মোটেও সন্ধ্যেবেলা মদ্য সহযোগে দেশের জন্যে মড়াকান্না কাদে না। তাদের সঙ্গে লেখক একবার বিলেতে থাকা না থাকা নিয়ে কথা বলে দ্যাখতে পারেন।

    নিজের ইচ্ছায় নয়, স্বামীর কারণে বিলেতে আসতে বাধ্য হয়েছে যেসব মেয়েরা, তারাও এমনকি সন্ধ্যেবেলা মদ খেয়ে দেশের জন্যে কাদে না। তাদের দুঃখটা জেনুইন।

    উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে না চাপালে, আর যুক্তিগুলো এত ছেলেমানুষি না হলে লেখাটি আরও উপভোগ্য হইত।
  • ranjan roy | 132.176.195.125 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০১:২৮74787
  • আ হা হা!
    সবাই এত রাগ কচ্ছে ক্যানো?
    নিশানবাবুর বিলিতি আমড়া আর কারো বিলিতি বেগুন।
    "জনৈক মহিলা" নিজের দেখা বিলিতি পূজো লিখুন না! জমে যাবে।
    আমরাও একটু দূগ্গোপূজোর রশোমনরূপ দেখি!
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০১:৫৮74788
  • সবচেয়ে কষ্ট হয় বাচ্চাগুলোর জন্যে - বাপ মা দেশে কখনো পাত্তা পায় নি - এখন বলে আমি এতগুলো টাকা চাঁদা দিয়েছি আমার বাচ্চা নাচ করবে না (এমনকি আমার বউ গাইবে না? আর কিছু না পারলে আমি স্টেজে উঠব কবিতা বা নাটক করতে)? কিংবা বাবুসোনা ডু নট ডু দুষ্টুমি শুনে যে বাচ্চা বাংলা শেখে তাকে না-বোঝা রবীন্দ্রনাথ মুখস্ত বলানো যে অত্যাচার!

    বলতে মনে পড়ল - একজন এদেশি-দেশি বাচ্চা বলেছিল
    - শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে তোমার নাকি মায়ের বিয়ে?
    - ওরে মায়ের হবে না, মেয়ের বিয়ে!
    - সো হোয়াট?
  • ... | 177.124.124.21 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:২৫74813
  • আমাদের এখনে এবার পুজো হোলো, ১২৫ ডলার উইকএন্ড প্যকেজ। সে তুমি শুধু ঠাকুর দেখো বা খাও দাও গানবাজনা শোনো যাই করো। ভালই তো লাগলো।

    আমার নিজের একটা অবসার্ভেশন হচ্ছে অনেকেই যখন প্রবাস জীবন শুরু করেন তাদের চোখে প্রথম প্রথম দেশে ফেরার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে ছেলেমেয়ে রা যখন বড়ো হতে থাকে তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের দেশে ফেরার স্বপ্ন কে জলান্জলি দিতে হয়। কারন ছেলেমেয়েদের কাছে এটাই নিজের দেশ। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে আস্তে আস্তে বাঙ্গালীয়ানা হারিয়ে যেতে থাকে আর তারা আস্তে আস্তে মেইনস্ট্রীম এ মিশে যায়। অনেক প্রবাসীর মড়াকান্নাই কিন্তু মেকী নয়।
  • jhiki | 128.136.68.84 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৩৪74789
  • আমাদের এখানকার পুজোয় এসব কিছুই হয়না, মন্দিরে পুজো.... কাজেই দোকানপাট নেই, তবে বিয়ের আগে যাঁরা প্রভূত পরিশ্রম করে নৃত্যগীতাদি শিখেছিলেন, তাঁদের সেসব প্রতিভা বিচ্ছুরণের সুযোগ থাকে.... কিন্তু মন্দিরটা বেশ বড় ও খোলামেলা হওয়ার জন্য সেই বিছুরণের আলো থেকে নিজেদের বাঁচিয়েও রাখা যায় :P

    মেয়েদের সাজগোজ নিয়ে জনৈক মহিলার সাথে একমত। তবে মূল লেখায় পাঁচ বছর আগের ফ্যাশন বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটা বুঝিনি, আশা করছি লেখকের নিয়মিত ফ্যাশন পত্রিকা পড়ার অভ্যেস আছে :)

    তবে সবচেয়ে বড় কথা হল এখানকার পুজো নিখরচায় আমোদসন্ধানীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। পুজো দেখা, পুজো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা এবং পেটপুরে ভোজন করার জন্য অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের একটাও পয়সা খরচ করতে হয়না.... সেগুলো সদস্যরা অতি আগ্রহের সাথে বহন করে থাকেন, স্পনসরও জোগাড় করে থাকেন।
  • | 183.17.193.253 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৩৫74790
  • নিশান যা যা লিখেছেন,তা দেখার জন্যে ওনাকে কষ্ট করে বাঙালিদের পুজোয় যেতে হলো কেন জানিনা। এখানে লিখে ফেলা হরেক তামাশা - দেশে বসেই (পঃবঙ্গেই) দেখা যায়।অন্য প্রদেশের কথা ছেড়েই দিলাম। দুগ্গাপুজো বাঙালিদের উৎসব কিনাঃ)
    কোলকাতা আর বিলেতে কি প্রভেদ জানা নেই- দুপুরে পেট্পুজো আর বিকেলে কাচ্চাবাচ্চাবুড়োছুড়ো দের সাংস্কৃতিক উদ্‌গীরণ- একই তো জিনিস। ছবিছাব্বা,শাড়িগয়না,ব্লাউজের ডিজাইন,মাতৃভাষাচর্চা হুবহু এক।কেউ আর কোথাও আটকে নেই। সব সুন্দর একসাথে লীন হয়ে যাচ্ছে;)বিলিতি বেগুন আর দেশি টমেটো সব একদর।

    তবে মিডওয়েস্টের বিখ্যাত পুজোয় এক কর্মকর্তা কে দেখেছিলাম লাফিয়ে টেবিলে র উপর উঠে চীৎকার করছিলেন, এই যে ,এইযে যাদের কাছে কুপন আছে,তারাই শুধু খাবেন- এমনটা এখনো দেশে বোধহয় চালু হয় নিঃ)
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪০74791
  • হয়নি মানে? খুব হয়েছে। আমাদের ব্লকে আশির দশকে মাঝামাঝি একবার কুপন হয়েছিল। এখন তো কুপন রেগুলার ব্যাপার।
  • | 183.17.193.253 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৯74792
  • একধিক 'নিরলস' কর্মী কুপন পরীক্ষা করেই হাতে থালা তুলে দিচ্ছিলেন।ইনি হঠাৎ টেবিলে উঠে পড়লেন কেন জানিনাঃ)
    কোলকাতায় ফ্ল্যাটবাড়ির পুজোতে জনপ্রতি হিসেব করে চারদিনের চাররংএর কুপন দিয়েছিলো।
  • | 183.17.193.253 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫১74794
  • ওহো,বাঙালনামা র লেখক তো জানতাম বিলেতবাসীঃ)
  • aranya | 154.160.5.25 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫১74793
  • পঃ বঙ্গ বা বাংলাদেশে, গ্রামের কোন পুজোয় যেতে পারলে হয়ত অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে, অন্যরকম ভাল লাগা।
    শহরের পুজো, বিশেষতঃ বড় শহরে, কতটা উপভোগ্য, জানি না
  • jhiki | 128.136.68.84 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৩74795
  • আমি দেশে ঠিক কুপন দেখিনি, অন্যরকম ব্যবস্থা দেখেছিলাম। সি আর পার্কে আমাদের ব্লকের পুজোয় খাওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম... আমরা ওখানে থাকিনা, তাই পাড়ার লোকজনকে বিশেষ চিনি না.. কিন্তু ষষ্ঠীর দিন প্যান্ডেলে নিজেরা গিয়ে চাঁদা দেওয়ার সময় কেউ কেউ আমাদের চিনে রেখেছিল।
    অষ্টমীর দিন আমাদের ভোগের লাইনে দাঁড়াতে দেখে তারাই ভেতরে ডেকে নিয়ে গেল এবং সর্বসাধারণের মেনুর চেয়ে কিছু অতিরিক্ত পদ ও মিষ্টি সহ ভোগ দিল। এটা ২০০৮ সালের ঘটনা।
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০০74796
  • আটলান্টা বেঙ্গলি ফোরাম - মূলতঃ বাংলাদেশিদের পূজা। চাঁদা নয়, ডোনেশন নেয়। অর্থাৎ তুমি দশ টাকা দিলে কুড়ি দিলে না কেন জানতে চাইবে না। আমি চেক কাটতে গিয়ে দেখি পাতা ফুরিয়ে গেছে। বলল - কিছু না ভাই আনন্দ করেন। পরে বাড়ি এসে চেক পোস্ট করে দিয়েছিলাম। পেট ভরে (যত খুশি সেকেন্ড থার্ড হেল্পিং) পাঁঠার মাংস আর ইলিশ মাছ খাইয়েছিল। আন্তরিকতা মন স্পর্শ করে যায়।
  • | 183.17.193.253 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৪74797
  • অভ্যু, এখানেই সেই সব হতভাগ্য বাপমা আর তাদের ছেলেপিলেদের দেখা পেয়েছিলে?:(
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৮74798
  • আরে না না, এখানে না। একটা বাচ্চা মেয়ে নাচল - ভারি ভালো লাগল। বাংলাদেশি পল্লীগীতির সাথে।

    মায়ের বিয়ে সো হোয়াট হল কলকাতাপ্রবাসীর গল্প। একবার এক যাদব্পুরের ছেলে বলেছিল আই ক্যান্ট স্পীক বেঙ্গলি। ব্যাটা জীবনের প্রথম কুড়ি বছর কলকাতায় কাটিয়েছে।
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪৩74799
  • অভ্যু ক্যায়্সা অপ্মান কিয়া। আই ক্যান নট স্পিক প্রপার বেঙ্গলি, সো কেয়া?
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪৮74800
  • আচ্ছা বাবা সরি চাইছি।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৫৫74801
  • দুগ্গো পুজো দেখতে টাকা! কেনো! দেখতে আবার টাকা কেনো! এখানে দেখা ফিরি
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৫৬74802
  • এখানে শুনেছি বাগার পুজোয় টাকা না দিলে প্রসাদও দেয় না।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৫৮74803
  • পোসাদ মানে, ছোট কাগজের বাটিতে দু পিস কালচে আপেলের টুকরো, জিলিপির এক টূকরো ঠ্যাং, দুটো খেজুর, দু পিস শসা, কপাল ভালো থাকলে একটা পুরো সন্দেশ -- ফিরি
  • Abhyu | 78.117.215.136 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:০৭74804
  • এদেশের পুজোয় ভালো কি কিছুই নেই? আছে বই কি! এদেশের পুজোতেই সিডি কিনে শুনেছিলাম ঋতু গুহর আমার নিখিল ভুবন হারালেম আমি যে।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:০৮74805
  • পুজোতে লাইভ গানবাজনা শোনা যায়। মাঝে মধ্যে বেশ ভালো। ঐ মানে যতটা ভালো হয় আর কি।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:২৩74806
  • অভ্যু, ব্রাদার শঙ্করের ওখানে পুজো হয় না?
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:০৩74807
  • কয়েকজন চটে গেলেন নাকি? আমি তো আমার পূজো বললাম, আমার পূজোর অভিজ্ঞতা কলকাতার না কোনকালেই তাই প্যাণ্ডেল ভারসাস ইশকুল আসেনি। আমিও বাংলাদেশি হিন্দু মন্দিরে দেখেছি চরম আন্তরিকতা। যুক্তি একটিও দিইনি পুরোটাই হস্তির অন্ধদর্শন, আপনারা দু চারটি দিলে বাধিত হই, আর পরকীয়া এসব এসেছে কারণ simply আমার ঝাঁট জ্বলে আছে বলে। আমি হয়তো অন্য সার্কেল কয়েকখানা দেখেছি, তাদের সাধারণ আচরণই এর মূলসুর!
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:০৬74808
  • আর seriously, ভালো করে পড়ে দেখুন আরেকবার পরকীয়াটা আমার issue নয়, আমিও হারামির হাতবাক্স (পরকীয়া না করলেও) আমার সম বিষম সবরকমের অভিজ্ঞতা আছে, এবং সেগুলো স্বীকার করার ধক আছে, আমার বিরক্তি যারা নাকিকান্না গায় তাদের জন্য!
  • Nishan Chatterjee | 110.33.3.236 (*) | ০৭ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:০৭74809
  • বেলুড় নরেন্দ্রপুর সব লিখছি তালেগোলে, পরে জট ছাড়াবো, একপিস ব্লগও খুলেছি, যদি চান দেখতে পারেন, যদি না চান, এবং পড়ার বাসনা করেন তাহলে সব লেখা তুলে একে একে এই ব্লগে দিতে পারি ওইটে বন্ধ করে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন