• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • অভিজিৎকে কি আমি চিনতাম?

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ৫৯৪ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আমি একটু নড়েচড়ে গেছি। অভিজিৎ রায়ের প্রোফাইল এখনও জ্বলজ্বল করছে ফেসবুকে। পাঁচ ঘন্টা আগে শেষ আপডেট। বিডি নিউজের একটা লেখার লিংক। অভিজিতেরই লেখা। সাত্র নাথিংনেস বিজ্ঞান এসব নিয়ে লেখা একটা ছোট্টো প্রবন্ধ।তার প্রথম লাইন "কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?" আর সেই আপডেটের ঘন্টা পাঁচেক পরে পড়ছি বিডি নিউজেরই আরেকটা লিংক। এটা খবর। "একুশের বইমেলার থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা লেখক অভিজিৎ রায় ও ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যাকে। তাদের দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিজিতের মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে, আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তার স্ত্রী রাফিদার।" শুনছি, আহত নয়, মারাই গেছেন অভিজিত। শেষ লেখার লাইনটা শুধু উল্টে গেছে। কিছু থাকার বদলে কোনো কিছুই আর নেই। প্রশ্নটাও থেকেই গেছে। কেন কোনো কিছু থাকার বদলে নেই হয়ে গেছে? কেন?

    সোজাসুজি জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু তাও আমি একটু নড়েচড়ে গেছি। কেন? অভিজৎকে কি আমি চিনতাম? বলা কঠিন। খুব অনুসরণ করেছি তো নয়, মুক্তমনার লেখক হিসেবে একরকম করে চিনতাম। গুরুতে একটা লেখা ছাপা হয়েছিল, তার কিঞ্চিৎ সম্পাদনা করেছি। দু-চারটি বাক্য বাদ দিয়েছি, নাড়াচাড়া করেছি। মেল চালাচালি হয়েছিল কি? নিশ্চয়ই হয়েছিল, কিন্তু মনে পড়েনা। খুঁজে বার করা যেতে পারে, কিন্তু এখন, ঠিক এই মুহূর্তে খুঁজে বার করতে চাইছিনা। পারবও না, ইচ্ছেও নেই। কখনও সাক্ষাৎ, ফোনে কথাবার্তা? হয়নি। তাহলে কেন লিখছি? কারণ, আমি নড়েচড়ে গেছি। কেন? একটা লোক, যে এতদিন পাশেই ছিল, নেট দুনিয়ায় গা ঘেঁষে ছিল, ইচ্ছে হলেই টুক করে ফেসবুকে একটা মেসেজ কিংবা মেল করে দিলেই ধরে ফেলা যেত, সে তো আমার পড়শীই ছিল এতদিন। আমার পড়শী, আমার পাশের বাড়ির লোক, স্রেফ বাংলা লেখার জন্য, বাংলা ভাষায় লেখার জন্য, বাংলা ভাষায় নিজের চিন্তা প্রকাশ করার জন্য লাশ হয়ে যাবে, এটা অচিন্তনীয় না? সন্ত্রাস-টন্ত্রাস তো পৃথিবীর অন্যপ্রান্তের বিষয় ছিল। যা নিয়ে তত্ত্ব করতে হয়, মূল্যবান মতামত দিতে হয়। কিন্তু ঠিক পাশের বাড়ির লোকের মুন্ডু কেটে নিয়ে গেলে কেঁপে যাবনা?

    আমি নড়েচড়ে গেছি, কারণ, আমি এসবকে এতদিন দূরের জিনিস ভেবেছি। দূরবীন দিয়ে দেখা বৃহস্পতির উপগ্রহের মতো। এই তো কদিন আগে নেটে চেনা এক মহিলার উপরে ফতোয়ার কথা পড়লাম নেটে। মহিলা নিজের অসম্ভব উদ্বেগের কথা লিখছিলেন। চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন মৌলবাদীদের কথা। লোকে নানা মতামত দিচ্ছিল। পক্ষে বিপক্ষে। কোন মতামতটা হিন্দু মৌলবাদীদের পক্ষে যাবে, কোনটা বিপক্ষে, এইসব। আমি দূর থেকে বসে দেখেছি, নিস্পৃহতায়। কেন? দূরের জিনিস ভেবেছি বলেই তো। তত্ত্বকথা ভেবেছি বলেই তো। আজ দুম করে সব কাছে চলে এসেছে, আজ আমি মহিলার নাম আর লিখছিনা। ভয়ে লিখছি না। কারণ এসব আর শখের তত্ত্বচর্চা নয়, লেখার জন্য এখন আমার পাশের বাড়ির লোককে কুপিয়ে মারা হয়। মহিলার নাম নিলে, কি জানি, তাঁরও মুন্ডু উড়ে যেতে পারে। বৃহস্পতির উপগ্রহ দূবরীনে দেখার পর গ্যালিলিওর ও এরকমই হয়েছিল নিশ্চয়ই। এটা তো ঠিক মহাজাগতিক ব্যাপার নয়, বৃহস্পতির উপগ্রহই হোক আর বিশ্বজগৎ, সে তো দূরের কিছু নয়, স্রেফ ওইটুকু দেখার জন্যই মানুষকে যেতে হতে পারে ইনকুইজিশনে।

    আমি নড়েচড়ে গেছি, কারণ, লেখার জন্য জীবন দেওয়া আর দূরের জিনিস নয়। এ যেন ব্রেখটের নাট্যতত্ত্ব, নিদারুণ বিচ্ছিন্নতায় অন্য একটা নাটকের দৃশ্যাবলী দেখার পর, দুম করে অনুভব করা, আরে এ তো আমারই কথা বলছে। আমার বা আমার পাশের বাড়ির। কিন্তু শুধু সেটুকুই নয়। এখানে রয়ে গেছে আরেক পরত ম্যাজিক রিয়েলিজম। কাঁটাতারের বেড়া। একই ভাষায় কথা বলি, আমি আর অভিজিৎ। বলি নয়, বলতাম। একই বিষয় নিয়ে তক্কো করতাম। করিনি, কিন্তু করতেই পারতাম। ভালোবাসতে পারতাম, ঝগড়া করতে পারতাম। নেট জগতে, গুরুর গ্রুপে, গুরুর পাতায়, যেখানে খুশি। সেজন্যই তো পাশের বাড়ির লোক মনে হয়, হচ্ছে, বা হবে। কিন্তু তারপরেও অভিজিৎ মারা গেলে আমার কিচ্ছু করার নেই। আমি নন্দীগ্রামের মিছিল দেখেছি, কলরবের মিছিল দেখেছি, থাকি বা না থাকি, উত্তাপ নিয়েছি, মতামত দিয়েছি। কাউকে কোথাও একটা জবাব দিয়েছি বলে মনে হয়েছে। আমার জবাব দেবার একটা জায়গা আছে বলে মনে হয়েছে। কিন্তু এখানে? আমার পড়শী খুন হয়ে গেলে আমার কিচ্ছু করার নেই। কারণ ওটা অন্য দেশের ব্যাপার। ওটা বাংলাদেশ। ওরা ওদের ব্যাপার নিজেরা বুঝে নেবে। কারণ মধ্যে আছে কাঁটাতার। আমার পড়শী খুন হবে, খুন হয়ে যাবে, মাথায় বাড়ি খেয়ে ছটফট করবে, আমারই মাতৃভাষায় চিৎকার করবে, আর আমি কাঁটাতারের এপাশ থেকে জুলজুল করে দেখব। এতেও যদি নড়ে না যাই তো কিসে যাব?

    ছোটোবেলায় গণসংগীত শুনতাম। সাথীদের খুনে রাঙা পথে দেখো, হায়নার আনাগোনা। কাঁটাতারের এপার থেকে এখন আমি হায়নার আনাগোনা দেখছি। আমি বহু হাজার মাইল দূর থেকে অফিস ফাঁকি দিয়ে শুধু লিখছি। নিরাপদে বসে। কারণ আমি এটুকুই পারি। মিছিলে আমার অধিকার নেই। ওদের ঝুঁকি ওদের, আমার নয়। ওদের ভূখন্ড ওদের, আমার নয়। আমার হাত-পা বাঁধা। আমার তেমন দুখ নেই, নড়ে-চড়ে যাওয়া আছে। আর আছে একটু ক্রোধ। আর মাঝে-মাঝে ঝিলিক মারছে একটা সুখস্বপ্ন। কোনো ভাবে এই কাঁটাতারটা ওপড়ানো যায়না? মৌলবাদকে রোখা যায়না একসঙ্গে?

    এ হয়তো ঠিক লেখা হলনা। কতো কিছু জরুরি কথা বাদ গেল। এবং এ সবই ইনস্ট্যান্ট কফির মতো চটজলদি আবেগের কথা। অফিসের ডেস্কে বসে ১০ মিনিটে লেখা। তবে নড়ে গেছি কথাটা মিথ্যে নয়। আর ক্রোধটাও আশা করি জাস্ট এই কি-বোর্ড পিষেই উবে যাবেনা। বাংলাদেশের বন্ধুরা হাত বাড়ান। সঙ্গেই আছি।

  • বিভাগ : ব্লগ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | ৫৯৪ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:২৫68825
  • হ্যাঁ, প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। আর এই রাগটা আশা করি জাস্ট এই কি-বোর্ড পিষেই উবে যাবেনা। অনেকেরই হচ্ছে। একসাথে কিছু করা দরকার।
  • | 24.97.29.225 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:৩৬68826
  • নামের বানানটা ঠিক করে দাও। প্লীজ সৈকত।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৬:৪৫68827
  • এখনো এই পোস্টগুলো আসছে।

    Nurul Absar ধর্ম বিদ্ধেশী নাস্তিকদের হত্যা করা উচিত / তসলিমা নাসরিন কেউ এই ভাবে হত্যা করা দরকার .
    --
    কিছু করা যায় এগুলোর স্ক্রিনশট দিয়ে ?
  • SFTP | 24.141.234.196 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:২০68828
  • সাম বাস্টার্ডস মাস্ট পে ডিয়ারলি ফর দীজ কোল্ড ব্লাডেড এক্সিকিউশনস। কীভাবে, কোথায় রিপোর্ট করা যায় এগুলোকে, বা তার চেয়েও বেশী কিছু। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন শাসনব্যবস্থার এরকম বেহাল দশায় এই জন্তুগুলোর আগেইনস্টে কিচ্ছু করতে পারবে না। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমটা এখন কিছু করতে পারত, বাদবাকি ম্যাচগুলো না খেলে এই ঘটনার প্রতিবাদে ঘটনাটাকে ইন্টারন্যাশন্যাল স্টেজে নিয়ে আসতে পারত, অথবা অন্যরকম কিছু। প্রবাসী বাংলাদেশী মানুষেরা অন্য দেশে নিজেদের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে বা জমায়েত করে - এই মৌলবাদী শুওরের বাচ্চাগুলোর আসল পরিচয় দিয়ে এগুলোকে ইন্টারন্যাশন্যাল থ্রেট হিসেবে দাবী করে এই ধরনের প্রতিটা অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনাকে এসক্যালেট করতে পারা। সোশ্যাল মিডিয়াতে এগুলোর দেওয়া এখনপর্যন্ত সব থ্রেট - যা কিছু ডকুমেন্টেড, সেগুলো এভিডেন্স হিসেবে সাবমিট করা ইনক্লুডিং এই জানোয়ারগুলোর নোন সমব্যথীদের ইনফরমেশন সমেত। একটা বিপুল সংখ্যক কম্যুনিটির একসাথে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সেভাবে দেখলে এটা কারুর একার ফাইট নয়। কিন্তু এই ফাইটটায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পারলেও অনেক কাজ হবে। অনেক মানুষকে একসঙ্গে চাই।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:২৩68829
  • ফারাবি আমাকে বহুদিন ধরে সেক্স্যুয়ালি হ্যারাস ও স্টক করে চলেছে। সমস্ত স্ক্রিনশট সহ ওর নামে এফ আই আর করেছি ক'দিন আগে। আজ লিখেছে এই খুনের ঘটনায় ও 'অনেক আনন্দ' পেয়েছে। এগুলোও এবার জোড়া দরকার মনে হচ্ছে। সিকিকেও থ্রেট করেছিল। এগুলো নিয়ে কিছু করা দরকার।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:৪১68830
  • X | 127.194.203.86 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৭:৫৬68831
  • পাঁচটা লাইকের নাম ও প্রকাশিত হোক।
  • sswarnendu | 198.154.74.31 (*) | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৮:৪৩68832
  • ভীষণ রাগ হচ্ছে... ভীষণ...
  • pp | 174.67.157.226 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:৩২68834
  • বাংলাদেশ সরকারকে কি ভাবে চাপ দেবেন? এক যদি সরকারী ভাবে চাপ দেওয়া যেত তাতে হয়্ত কাজ হোতো। কিন্তু তা বোধকরি সম্ভব নয়। ভারত বা অন্য দেশ গুলোর উচিত বন্গ্লাদেশ কে এই গ্রাউন্ডে বয়্কট করা।
  • সে | 188.83.87.102 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:৫৩68864
  • আপনারা, যারা নিয়মিত ফেসবুকে থ্রেট পান - কীভাবে সেটা দিনের পর দিন সহ্য করেন? এই প্রশ্নটা গতকাল মাথায় এসেছে। আপনারা কি এই সব টেররিস্টদের ফ্রেন্ড্স্‌ লিস্টে আছেন, নাকি ফলো করছেন? কীকরে তারা আপনাদের মেসেজ দেয়? ব্লক করে দেন না কেন?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০১:৫৬68865
  • মেসেজ পাওয়ার জন্য বন্ধুও হতে হয়না,ফলোয়ারও। আর ব্লকের ব্যাপারে কালকেই লিখেছি। ব্লক কোন সমাধান নাওহতে পারে,অন্ততঃ কারুর কারুর ক্ষেত্রে। একটা প্রোফাইলকে ব্লক করলেঅন্য পাঁচটা ফেক্প্রোফাইল থেকে মেসেজ আসতে থাকে। আর ব্লক করলেও কোন একজনকে নাম করে নানা জায়গায় নানা বাজে কথা বলতে বা থ্রেট দিতেও তো বাধা নেই। অভিজিত রায়কে দেওয়া থ্রেট গুলো সেরকমই ছিলো।
  • সে | 188.83.87.102 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:২৮68866
  • বুঝলাম। আসলে এ ধরণের অভিজ্ঞতা হয় নি, তাই এভাবে যে মেসেজ আসে জানতামই না।
  • ranjan roy | 113.242.196.80 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৩৪68868
  • "না,আমি অভিজিৎ দা কে চিনতাম না। উনি কেমন লিখতেন আমি জানি না কিন্তু আমি মানুষের মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাসী।এমন কি কারো মতের সাথে যদি আমার এক বিন্দু না মিলে তবুও।"
    --- আমি সহমত।

    হু,
    কয়টা বইকে প্রশ্ন করবে? বই তো অজুহাত।
    ওই যিনি হকিং কোট করেছেন--
    The greatest enemy of knowledge is not ignorance, it is the illusion of knowledge.
    যখন চারু মজুমদার লেখেন " যে শ্রেণী শত্রুর রক্তে হাত রাঙায় নি সে কমিউনিস্ট নয়", আর সে কথা বিশ্বাস করে আমরা হননযজ্ঞে মেতে উঠে ভাবি খুব মহান দায়িত্ব পালন করছি তখন ফরাবি আর রঞ্জনের মধ্যে খুব ফারাক থাকে না।
    ধর্মযুদ্ধে শহীদ হওয়ার প্রলোভন সব ধর্মেই দেওয়া রয়েছে যে! বৌদ্ধধর্ম বোধ্হয় ব্যতিক্রম। তাই অজাতশত্রু ফরাবির মতন ফরমান দেন।
    আজ দরকার মতবিরোধ হলেই গলা কেটে ফেলে তর্কের সমাধান করতে হবে --এই জায়গাটার বিরোধ করা।
    খপ পঞ্চায়েতের মৃত্যুদন্ড গুলোও একই জাতের।
  • ranjan roy | 113.242.196.80 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৩৪68867
  • "না,আমি অভিজিৎ দা কে চিনতাম না। উনি কেমন লিখতেন আমি জানি না কিন্তু আমি মানুষের মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাসী।এমন কি কারো মতের সাথে যদি আমার এক বিন্দু না মিলে তবুও।"
    --- আমি সহমত।

    হু,
    কয়টা বইকে প্রশ্ন করবে? বই তো অজুহাত।
    ওই যিনি হকিং কোট করেছেন--
    The greatest enemy of knowledge is not ignorance, it is the illusion of knowledge.
    যখন চারু মজুমদার লেখেন " যে শ্রেণী শত্রুর রক্তে হাত রাঙায় নি সে কমিউনিস্ট নয়", আর সে কথা বিশ্বাস করে আমরা হননযজ্ঞে মেতে উঠে ভাবি খুব মহান দায়িত্ব পালন করছি তখন ফরাবি আর রঞ্জনের মধ্যে খুব ফারাক থাকে না।
    ধর্মযুদ্ধে শহীদ হওয়ার প্রলোভন সব ধর্মেই দেওয়া রয়েছে যে! বৌদ্ধধর্ম বোধ্হয় ব্যতিক্রম। তাই অজাতশত্রু ফরাবির মতন ফরমান দেন।
    আজ দরকার মতবিরোধ হলেই গলা কেটে ফেলে তর্কের সমাধান করতে হবে --এই জায়গাটার বিরোধ করা।
    খপ পঞ্চায়েতের মৃত্যুদন্ড গুলোও একই জাতের।
  • sosen | 212.142.95.115 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৩৫68835
  • ধর্ম, ধর্ম, ধর্ম!
    যতোদিন ধর্মকে তোল্লাই দেওয়া চলবে ততোদিন কোনো লেখা, আবেগ, নড়ে যাওয়া বিশ্বাস,আতঙ্ক কিছুই এই স্রোত থামাতে পারবে না।
    ক্লান্ত লাগে, খুব!
  • a x | 138.249.1.202 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৫৮68869
  • এই আবেগের মুহুর্তগুলোতেও বুঝে নেওয়া প্রয়োজন কে সাথে আছে, কে নেই। যারা আছে, তাদের দূরে সরালে অপরপক্ষেরই লাভ। ইসলাম কী, হিন্দুত্ব কী, এগুলো ডিফাইন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নাহলে। যাঁরা রিক্লেইম করতে চান, তাদের সেই স্পেসটা না দিলে, উল্টো ফল ছাড়া কিছু দেখতে পাইনা।

    আমরা তো রাস্তায় নেমে খুন করতে পারবনা, আমরা শাসকের পৃষ্ঠপোষকতাও পাব না। আমাদের এক এবং একমাত্র অস্ত্র লেখা ও কথা চালিয়ে যাওয়া, জানিয়ে যাওয়া যে সংখ্যায় আমরাও কম নই। দেখাই যাচ্ছে ওরা এগুলোকেই ভয় পায়। যে ভাবেই হোক এগুলোকেই আরো আরো বাড়াতে হবে। নিজেদের আশে পাশের মানুষের সাথে, পরের প্রজন্মের সাথে, প্রতি মুহুর্তে এ নিয়ে কথা বলা দরকার।
  • কান্তি | 113.24.190.152 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৫৯68836
  • বাক রুদ্ধ হোয়ে যাচ্ছি। তবু প্রতিবাদী কন্ঠ।
  • ranjan roy | 113.242.196.80 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২১68871
  • অনেকটা এরকমই বলতে চেয়েছিলাম। গুছিয়ে বলতে পারিনি। একা লড়াই করা যায় না। ব্যুহ্রচনা জরুরী।
  • pp | 118.185.174.237 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২১68870
  • ''কাজেই আমার ধর্ম আর তোমার ধর্ম কখনই এক হতে পারে না।যারা শিরচ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করে বলে ইসলাম রক্ষা প্রতিষ্ঠা করছে তাদের সাথে আমার ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই।যারা চাপাতি দিয়ে কুবিয়ে মানুষ মারে তাদের ইসলামের সাথে আমার ইসলামের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না।
    মুহাম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ এরা যা করছে তা ইসলাম সম্মতই বটে। এটা অস্বীকার করলে সত্যি টা কে অস্বীকার করা হয়। মানুন বা না মানুন।
  • hu | 101.185.27.29 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২২68872
  • এটা এতই ডেলিকেট বিষয় যে যেকোন মুহুর্তে ভুল বোঝার সম্ভাবনা আছে। তবু আরেকবার চেষ্টা করি। যে বই বিরুদ্ধমতকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়, যে বই দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায় সে বইকে প্রশ্ন করতেই হবে। এইরকম যত বই আছে তার প্রতিটিকে প্রশ্ন করার অভ্যাস জারি রেখে যেতেই হবে। যে বইয়ের একটি কথার দশ রকম মানে হয় তার আর্কাইভাল মূল্য থাকলেও থাকতে পারে, মানুষের ব্যবহারিক জীবনে তার স্থান হওয়া উচিত নয়।
  • potke | 126.202.157.22 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২৭68873
  • অদ্ভুত বিষন্ন সময়, জ্যেঠু আছেন এখনো, চিন্তা হয়।
  • তাতিন | 132.252.251.242 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২৯68874
  • অভিজিৎ রায়-এর লেখা আমার খুব পছন্দ হতো এরকমটা না। আমি নাস্তিকও নই, 'atheist' অর্থে। ফলে ওনার লেখা পড়ে লাইনের পর লাইন বিরোধী যুক্তি এসেছে বহুবার। কিন্তু যেটা কাল থেকে শুধু নাড়িয়ে যাচ্ছে, ঐ সাহসটুকু। হুমকি, আঘাত আর প্রবল বিরুদ্ধতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কথাগুলো বলে যাওয়া, লোককে সেটা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করার দম।
    নিজের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী কথা বলতে গেলে, এদিকে বলছি বা ওদিকে বলছি, সবসময়ই কোনও একদলের অপ্রিয় হওয়ার জায়গায় আমরা নিজেকে নিয়ে যাই। সেই অপ্রীতি যখন প্রাণঘাতী হতে পারে, চোখের সামনে হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দারের দৃষ্টান্ত দেখার পরও- বলে যেতে পারা-র দমটা- এইটাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত স্যালুট জানাতে পারি যেন, অভিজিৎ রায়ের নামে কসম খেয়ে।
    আমি নাস্তিক না হলেও মৃত্যু-উত্তর কিছুতে বিশ্বাস করিনা। মনে হয় অভিজিৎও করতেন না। তাই তাঁকে ভালো থাকতে আর বলবনা। আমাদের অস্বস্তিগুলো যেন আমাদের 'ভালো' না থাকতে দ্যায়, এইটুকু কামনা করছি শুধু।
  • sm | 233.223.154.200 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:৩১68875
  • অক্ষ, কে ক। বিশেষত শেষ অংশটুকু।
  • kapurush | 109.88.121.59 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:৪২68837
  • ঢাকা আর কলকাতায় কোন তফাত নেই। কলকাতার বইমেলায় তসলিমা রুশদির প্রবেশ নিষিদ্ধ, ঢাকাতেও। ঢাকার মতন কলকাতায় ও রাজাকার দের সমর্থনে বিশাল মিছিল হয়। অভিজিতরা আজ কোনো বাংলায় নিরাপদ নয়।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:০৩68838
  • নানা সময়ে দেওয়া থ্রেটের স্ক্রিনশট।



  • কল্লোল | 125.185.156.8 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:১৩68839
  • নানান ফোরামে অনেকেই দেখছি লিখছেন যে ভাগ্যিস তাদের পূর্বপুরুষেরা ঐ দেশটা ছেড়ে এসেছেন। বা দেশটা ক্রমশঃ "বাল" হয়ে যাচ্ছে।
    দুটো কথা না লিখে পারলাম না।
    অভিজিৎএর হত্যাকান্ড বর্বরোচিত, এ নিয়ে কোন কথা হবে না। এর আগেও রাজিব হায়দার শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাতে বাংলাদেশটা "বাল" হয়ে যাচ্ছে কোন যুক্তিতে?
    একই যুক্তি (যদি তাকে যুক্তি বলা যায়) ভারত দেশটাও কি "বাল" হয়ে যায় নি?
    একজন নির্বাচিত বিধানসভা সদস্যকে তার বাড়িতে হাত পা কেটে তারই লাইব্রেরীর বইয়ে আগুন লাগিয়ে তাতে ঝলসে মারা হয় নি কি, এই ভারতেই? তাতে যারা মদত দিয়েছে তাদের ভোট দিয়ে ভারতের দন্ডমুন্ডের কর্তা বানাতে এই ভারতের লোকই ভোট দিয়েছে।
    গডসের মন্দির বানাতে চাঁদাও তো কম লোকে দেয় নি, এই ভারতেই!!
    বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র? এখনো কালো বলে খুন হচ্ছে, পিটিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। এই কদিন আগেকার কথা মাত্র।

    অভিজিৎ রায় হত্যার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকাল ১১ টায় টিএসসিতে মুক্তমনাদের সমাবেশ। আজ প্রতিবাদে মুখর হবে বাংলাদেশ। আসুন ওদের পাশে থাকি।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:১৬68840
  • আসিফ মহিউদ্দীনের যে বইটি বের করা হয়েছিল, তার ভূমিকা লিখেছিলেন অভিজিত রায়।

    আসিফ আজ ওটা শেয়ার করেছেন। এখানেও রইলো। কেমন একটা লাগছে পড়তে গিয়ে। বিশেষ করে এই অংশটা।

    'হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, রাজীব হায়দারকে হত্যা করে কিংবা আসিফকে ছুরিকাঘাত কিংবা কারাবন্দী করে জনযুদ্ধ বন্ধ করা যায়নি, যায় না। স্মরণ করি মিখাইল বুলগাকভের উপন্যাস ‘মাস্টার এণ্ড মার্গারিটার’ বিখ্যাত উদ্ধৃতি –‘পাণ্ডুলিপি পোড়ে না’। মুক্তচিন্তককে আক্রমণ করা যায়, কিন্তু তার চিন্তাকে নাশ করা যায় না।'

    ---

    "আসিফ মহিউদ্দীন লেখক। তিনি লেখেন। না তিনি গাদা গাদা ‘আঁতেলেকচুয়াল’ বই বের করেননি, কোন প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রেও তিনি কলাম লেখেন না। আসিফের বিচরণ ইন্টারনেটে – মূলতঃ বাংলা ব্লগে, ফেসবুকে। এ ধরনের লেখকেরা সাধারণত সবার অগোচরেই থেকে যান। কিন্তু আসিফের ক্ষেত্রে তা হয়নি। আসিফ আক্রান্ত হয়েছেন। মৌলবাদীরা তো তাকে কুপিয়েই মেরে ফেলতে চেয়েছে। পারেনি। হেফাজতী মাওলানারা, যারা আসিফের কেন কোন ব্লগারদের লেখাই কোনদিন পড়ে দেখেনি, ব্লগের সংজ্ঞা যাদের চিন্তায় কেবল ‘ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানো’ পর্যন্ত, তারা ব্লাসফেমি আইনে আসিফের বিচার করতে চেয়েছে। আসিফ কেবল মৌলবাদীদেরই রোষের শিকার হয়নি, আক্রান্ত হয়েছে রাষ্ট্র-যন্ত্র দিয়েও। যে রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা দেবার জন্য তৈরি বলে আমরা জানি, যে দেশের সংবিধানে ‘নাগরিকদের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা সুরক্ষিত’ থাকার কথা বলে, যে রাষ্ট্রের ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার কথায় কথায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ বুলি কপচায়, সেই দেশ, সেই সরকার, সেই রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা আসিফকে তার লেখার জন্য নির্যাতন করেছে, কারাগারে প্রেরণ করেছে একাধিকবার। চাপ প্রয়োগ করে আসিফের ব্লগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সামহোয়্যারইনে। নতুন করে কালাকানুন বানানো হয়েছে যাতে আসিফের মত ব্লগাররা আর কাউকে কখনো ‘জ্বালাতে’ না পারে। কিন্তু এতে করে কি মুক্তচিন্তার গতি স্তব্ধ করা যায়? আমরা তো জানি, একটা সময় বাইবেল বিরোধী সূর্যকেন্দ্রিক সত্য উচ্চারণের কারণে গ্যালিলিওকে অন্তরিন করে রাখা হয়েছিল, ব্রুনোর মত দার্শনিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, কিন্তু সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন থামাতে পারেনি ঈশ্বরের সুপুত্ররা।
    হাজারো অপন্যাস আর চটুল সাহিত্যের ভীরে আসিফের ব্লগ আর ফেসবুক স্ট্যাটাস যেন একপ্রস্ত সুবাতাস। আসিফের লেখা অজ্ঞেয়বাদী মুক্তচিন্তক রবার্ট গ্রিন ইঙ্গারসোলের উক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয় – ‘বিশ্বাসী মন খাঁচায় বন্দী পাখি, আর মুক্তমন যেন মুক্ত বিহঙ্গ – ঘন মেঘের পর্দা ভেদ করে উড়ে চলা অবিশ্রান্ত এক ডানামেলা ঈগল’। এই নীলিমায় ডানামেলা ঈগলদের ডানা ভেঙে খাঁচায় বন্দী করে রাখতে চেয়েছিল সরকার। এ বছরের পয়লা এপ্রিল জামাতি আর হেফাজতি মোল্লাদের তোষামোদ করতে গিয়ে যেভাবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রগতিশীল ব্লগারদের হাতকড়া পরিয়ে পাকড়াও করা হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এর পর থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি ব্লগারদের মুক্ত করতে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী। আমাদের সে আহবানে সাড়া দিয়ে সারা বিশ্বের মুক্তচিন্তক আর মানবতাবাদীরা রাস্তায় নেমেছেন প্ল্যাকার্ড হাতে। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিএফআই, অ্যাথিস্ট ইন্টারন্যাশনাল, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস সহ বহু সংগঠনই বিবৃতি দিয়েছিল সরকারের বাক স্বাধীনতার উপর এই আগ্রাসনের প্রতিবাদে। আমি নিজেও বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছিলাম আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। আর বাংলাদেশে ব্লগার এবং অ্যাক্টিভিস্টরা তো কয়েক দফা করে পথে নেমেছেন। আসিফ সহ অন্যান্য ব্লগারদের অবশেষে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
    হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, রাজীব হায়দারকে হত্যা করে কিংবা আসিফকে ছুরিকাঘাত কিংবা কারাবন্দী করে জনযুদ্ধ বন্ধ করা যায়নি, যায় না। স্মরণ করি মিখাইল বুলগাকভের উপন্যাস ‘মাস্টার এণ্ড মার্গারিটার’ বিখ্যাত উদ্ধৃতি –‘পাণ্ডুলিপি পোড়ে না’। মুক্তচিন্তককে আক্রমণ করা যায়, কিন্তু তার চিন্তাকে নাশ করা যায় না। মুক্তপথের সৈনিকদের ওপর ক্রমাগত আগ্রাসনে বোঝা যাচ্ছে রাষ্ট্র আর ধর্ম দুই ‘পালোয়ান’ই কতোটা মরিয়া। এখন আর ব্লগার এবং ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্টদের প্রভাবকে তারা অস্বীকার করতে পারছেন না। মুক্তচিন্তার প্রসারে তারাই আসলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, তাই বেছে নিয়েছে সহিংসতা আর নির্যাতনের পথ। আসিফ প্রমাণ করে দিয়েছে ঈশ্বরের আর ‘শান্তির ধর্মের’ সাচ্চা সৈনিকদের আদর্শ আর ঠুনকো বিশ্বাস যুক্তির সামনে কত অসহায়, কত মুমূর্ষু। বিজ্ঞান, যুক্তি আর মানবতার আঘাতে যেন তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে ধর্মের অচলায়তন। শান্তির মুখোশ ভেদ করে উঁকি দেয় ধর্মের সফেদ মুখ। বড় কুৎসিত সেই রূপ। আসিফ যেন অভিমন্যুর মতোই ব্যূহভেদ করে ভেতরকার কদর্য রূপটি আমাদের চিনিয়ে দিয়েছে। অভিনন্দন আসিফ।
    বাংলাদেশের একজন ব্লগারের নামও বহির্বিশ্বে কেউ জানলে, সেটা আসিফ। আসিফ আজ একটি চেতনার নাম, নাম একটি অসমাপ্ত জনযুদ্ধের। যে জনযুদ্ধ মৌলবাদ, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপোষহীন। নিঃসীম আঁধারের সমস্ত কালিমা ঘুচিয়ে আলোর নিশান জ্বালাবার ব্রত নিয়েছে যেন আসিফ। স্বর্গলোভ, আত্মা, অমরত্ব, ব্রাহ্মণ্যবাদী কপটতা প্রভৃতি অস্বীকারের যুক্তিবাদ আর মুক্তবুদ্ধির যে বহ্নিশিখা সেই চার্বাক, ভৃগুদের হাতে প্রজ্বলিত হয়েছিল এক সময়, যে শিখা জাজ্বল্যমান রেখেছিলেন ভগৎ সিং, আরজ আলী মাতুব্বর, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ, কিংবা পশ্চিমে ফ্রান্সিস বেকন, বার্ট্রান্ড রাসেল, রবার্ট গ্রিন ইঙ্গারসোল আর রিচার্ড ডকিন্সের মত বরেণ্য চিন্তাবিদেরা, তরুণ আসিফ আমাদের সময়ে সেই চলমান যুদ্ধের মশালবাহী পাঞ্জেরি।

    আসিফকে অভিবাদন আবারো, সেই সাথে অভিবাদন গুরুচণ্ডালীকেও এরকম একটি ব্যতিক্রমী প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।

    অভিজিৎ রায়
    গবেষক এবং বিজ্ঞান লেখক
    মুক্তমনা সাইটের প্রতিষ্ঠাতা
    আটলান্টা, জর্জিয়া।
    "
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:২৩68842
  • আজ যাদবপুরে।
  • potke | 126.202.157.22 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:৪০68876
  • আশা রাখি, এইবার প্রশ্ন উঠবে "হোলি টেক্স্ট" নিয়ে, মুসমিল কমুনিটির মধ্যেই।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত