এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ইসকুল-টিসকুল

    Rana Alam লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৭ মার্চ ২০১৫ | ৩১৯৮ বার পঠিত
  • প্রথমেই একটা কথা সগর্বে বলে নেওয়া দরকার যে আমি হচ্ছি সেই অবলুপ্তপ্রায় ছাত্র সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি যারা ইসকুল লাইফে মাস্টার মশাইদের নিরন্তর ঠ্যাঙ্গানি খেয়ে বড় হয়েছে এবং মাথা নামিয়ে স্বীকার করি যে সেইসব মাস্টার মশাইরা আমার এবং আমার মতন অনেক গাধার জীবনে না এলে আজ হয়ত এই জায়গায় থাকতুম না।

    প্রলোভন কি ছিলনা,ছিল সার,দস্তুরমতন ছিল।ইসকুলের মাস্টারমশাইরা যখন বাবা বাছা করে মাথায় হাত বুলিয়ে কড়া কড়া ট্রানস্লেশন কি হোয়াংহো নদী কোথায় গোছের টাস্ক করিয়ে নিয়েছেন,তখনই বুঝেছি যে সাধকের পথে কত বাধা,কত বিপত্তি।লাস্ট বেঞ্চ থেকে আমাদের তোলার যাবতীয় অপচেষ্টা সারেরা করে গিয়েছেন গোটা ইসকুল লাইফ।

    মাধ্যমিকের টেস্টে ভূগোলে তিনের ঘরে নাম্বার ছিল। আমার স্প্যাশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এম্নিতেই হেব্বি খারাপ।তার উপরে কোন বাতাস কোথায় বইলে কিরম বৃষ্টি হয়, অমুক দ্যাশের তমুক মালভূমি কি তমুক নদীর নাম কি গোছের বাক্যবাণগুলো চিরকালই মাথার উপর দিয়ে ট্যান থিটা হয়ে বেরিয়ে যেত।ভাবুন দেখি,চীনের চেয়ারম্যান আমাগো দ্যাশের চেয়ার-টেবিল কি সিলিং ফ্যান ম্যান হল কিংবা হতেও পারে,তাই বলে চীনের কোন নদী’র নামও জানতে হবে,এটা কি অত্যাচার নয়?

    কিন্তু বুঝছিলাম যে ভূগোলের যে হাল তাতে মাধ্যমিকে পাশ করা অসম্ভব।ভূগোল পড়াতেন বদ্যিনাথ সার।খুব কড়া লোক।বাঘকেও তার থেকে আমরা কম ভয় পেতুম।একদিন গুটি গুটি পায়ে আমি এবং আরো কয়েকজন ফেলু ছাত্তর সারের কাছে হাজির হলুম। ইসকুল টাইমের বাইরে সার নিজেই আলাদা করে দেখাতে শুরু করলেন।

    মাধ্যমিকে ভূগোলে লেটার পেয়েছিলুম।পুরো ক্রেডিট সারের।নইলে আমার মতন গাধার সাধ্যি ছিলনা।সার এখন নেই।সারের জুতোটা বয়ে নিয়ে যাওয়ার অক্ষম চেষ্টায় রত আছি আমি এবং আমার মতন আরো অনেকে।

    অনেক পরে যখন ইসকুলে পড়াতে এলুম এবং পড়াতে ঢুকেই ইসকুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হল তখন বুঝলুম যে আমাদের মাস্টার মশাইরা আদতে কি কঠিন কাজ করে গিয়েছেন দিনের পর দিন।

    আরেকটা পাতি সত্য কই।অনেকের কাছে শুনি যে ইসকুলের ছেলে মেয়েদের গায়ে হাত তোলা উচিত না। তাদের নাকি বুঝিয়ে সুঝিয়ে পড়াশুনো করানো যায় ইত্যাদি ইত্যাদি।এই সব পন্ডিতেরা দয়া করে পশ্চিমবঙ্গের সেইসব ইসকুলে একটু যাবেন যেখানে শিক্ষক পিছু ছাত্র ছাত্রী একশোর কাছাকাছি। কোনো অফেন্স নেবেন না সার,আমার ইসকুলে সাড়ে তিনশো ছাত্র ছাত্রী।তিনজন পার্মানেন্ট টিচিং স্টাফ।চারটে ক্লাস।ছড়ি হাতে না বেরোলে ইস্কুল আর গরুর হাটের কোনো পার্থক্য থাকে না। আমাদের জুনিয়র হাই স্কুল।ক্লাস এইট অব্দি ক্লাস হয়। সরকারী পরিভাষায় নিউ সেট আপ স্কুল বলে।যেখানে যেখানে ইস্কুলের চাহিদা আছে সেখানে এরম একটা ইস্কুল খুলে এসএসসি থেকে আমাদের মতন কিছু হতভাগ্য কে পাঠিয়ে সরকার বাহাদুর হাত ধুয়ে ফেলেছেন।
    কাঁদুনি গাইছিনা।বিশ্বাস না হলে ফ্যাক্টগুলো মিলিয়ে নেবেন।গোটা পশ্চিমবঙ্গে এরম হাজারের বেশি ইস্কুল আছে।কোনো কোনো ইস্কুলে ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা কুড়ি বাইশ।টিচার সেই তিন জন।অনেক ইস্কুলের নিজস্ব জমি নেই।প্রাইমারী ইস্কুলের ঘরে ক্লাস হয়। পরিকাঠামোর কোনো বালাই নেই।আমার ইস্কুলের জমি ছিল।মোটামুটি একটা বলার মতন পরিকাঠামো গড়া গেছে।বেশিরভাগ ইস্কুলের তাও হয়নি।

    এই ইস্কুলগুলো শুরু হয় রিটায়ার্ড টিচারদের হাতে।পরে এসএসসি থেকে আসা টিচাররা দায়িত্ব নেয়।এসএসসি তে নিয়োগের গপ্পো আপাতত নেই।অনেক কটা ইস্কুল,যেগুলোতে রিটায়ার্ড টিচাররাই আছেন,তারা বয়সজনিত কারণে ( ৬৫ বছর অব্দি থাকা যায়) সরে যাচ্ছেন।নতুন টিচার আসেননি।ফলে বেশ কিছু ইস্কুল বন্ধ হবার মুখে।মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতেই এরম একটা ইস্কুল বন্ধ হয়ে গেলো,সেখানে তিনশোর উপর ছাত্র ছাত্রী ছিল।

    এসএসসি থেকে আসেন শুরুতে ল্যাঙ্গুয়েজের ( ইংরেজি),সোসাল সায়েন্স( ইতিহাস বা ভূগোল) আর ম্যাথামেটিকসের একজন।পরে যুক্ত হয় বাংলা আর বায়ো সায়েন্সের পোস্ট।বেশিরভাগ নিউ সেট ইস্কুলে টিমটিম করে ওই তিনজন টিচাররাই আছেন।অনেক ইস্কুলে তো একজন টিচারও আছেন।

    তাও ইসকুল চলছে।ওই সরকার চলার মতনই। বোঝেনই তো।

    আমি ইংরেজি পড়াই।একই সাথে ইস্কুলের দায়িত্বে আছি। মাঝে মধ্যেই সরকারী মিটিং আর গুচ্ছের পেপার ওয়ার্ক থাকে।আমি না পড়ালে ইংরেজি পড়াবার লোক নেই।তিনটে মাস্টার,চারটে ক্লাস।একইসাথে দুটো করে ক্লাস নিতে হয়।
    আমি মাস্টারদের কথা বলছিনা।কিন্তু যে ছাত্র ছাত্রীগুলো ইসকুলে ভর্তি হল,তাদের কি ঠকানো হচ্ছেনা? দায় কার?
    ইতিহাসের মাস্টার দিয়ে ভূগোলের ক্লাসে ঠেকা দেওয়া চলে,তাতে ক্লাস হয়না।আমি বারো ক্লাসের পর বাংলা পড়িনি।আমিও সেই ঠেকাই দিয়ে যাচ্ছি।

    আমি একটা প্রত্যন্ত গ্রামের ইস্কুলে পড়াই।সেখানে প্রায় সবাই ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার।অনেকে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয় যারা একটুও ইংরেজি জানেনা।এবছরই ফাইভে অন্তত পাঁচ জন আমার ইসকুলে ভর্তি হয়েছে যারা ইংরেজি বা বাংলা কোনোটাই পড়তে পারেনা।কোনোরকমে আঁচড় কাটার মতন নামটা লিখতে পারে।

    বিএড এ পড়ে এসেছিলাম যে একটা ক্লাসে তিন শ্রেণীর লার্নার থাকে- অ্যাডভান্স লার্নার,নর্মাল লার্নার আর স্লো লার্নার।নর্মাল লার্নারের সংখ্যাটা বেশি হয়। এখন এই সব থিওরি মনে পড়লে হাসি আসে।আমার ইসকুলেই একটা ক্লাসে লার্নারদের মধ্যে একাধিক সাব গ্রুপ আছে। একটা চল্লিশ মিনিটের ক্লাসে একশো জনের ক্লাসে কিই পড়াব আর কাকেই বা পড়াবো তা নিয়ে ধাঁধা লেগে যায়।

    ক্লাস ফাইভের একটা নির্ধারিত সিলেবাস আছে।প্রতিবছরই ক্লাস ফাইভের কম করেও ষাট সত্তর জনকে ইংরেজিতি হাতে খড়ি দিতে হয়। ফাইভের সিলেবাস মাথায় ওঠে।এদের বাবা-মা ডে-লেবার।বাড়িতে পড়াশুনো দেখাবার কেউ নেই।চাইল্ড লেবার বেল্টে গতর খাটিয়ে টাকা পাওয়ার পথ প্রচুর।যে ছেলে গুলোকে খেটেখুটে হয়ত আমরা একটু গতে নিয়ে এলাম,সেভেনে উঠলেই তারা বিদেশে বা প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতে চলে যায়।স্বপ্নগুলো খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে।

    এর সাথে যুক্ত হয়েছে এক শ্রেণীর শিক্ষকদের অসহ্য স্নবিশ মেন্টালিটি যারা স্টাফরুমে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্যালেন যে এই গরিবগুর্বোদের কি আর লেখা পড়া হয়? নিম্নবর্গের এবং খেটে খাওয়া হিন্দু-মুসলমান ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি এক শ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা রীতিমত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ আর ঘেন্না পোষণ করেন।এ আমার নিজের চোখে দেখা।

    একটা বড় অংশের শিক্ষক নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কিন্তু পরিকাঠামোগত উন্নতি না হলে এরাই বা কি করবেন? স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার-প্রোজেক্টর দেওয়া হয়েছে।খুব কম স্কুলেই তা ব্যবহার হয়। ব্যবহারের জন্য ট্রেনিং দেওয়া দরকার।তা কতটা ঠিকঠাক হয় তা নিয়ে সংশয় আছে। যারা সরকারী উদ্যোগে ট্রেনিং ক্যাম্প বা ওয়ার্কশপগুলোতে যান তারা এই বাস্তবটা জানেন।
    বছরখানেক আগে গুরুচন্ডালী ওয়েবসাইট থেকে একজন সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন কিছু ছেলে মেয়েকে যদি ভালো কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।কথা বার্তা কিছুদূর এগিয়েছিল।কিন্তু স্থানীয় সমস্যায় তা আর করা গেলনা।

    নিউ সেট আপ স্কুল গুলোকে নিয়ে আদৌ সরকার বাহাদুর কিছু ভাবছেন কিনা জানিনা।প্রতিদিন ছেলে মেয়েগুলোর মুখ দেখি আর নিজেরই হতাশ লাগে।

    যে বাচ্চাটা আজ হাসি মুখে খালি পায়ে আমার ইস্কুলে ভর্তি হল জানি তিন বছর পর হাওড়া কি কেরালাতে লেবার খাটতে যাবে।যে ফুটফুটে মেয়েটা স্কুলে ঢোকার মুখে রোজ আমাকে ‘গুড মর্নিং সার’ বলে সম্বোধন করে সে ক্লাস এইটের পর আমার ইস্কুল ছাড়লেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবে।সে দুবেলা বিড়ি বাঁধে।মাস্ক ছাড়াই বিষ বাস্পে শ্বাস নেয়।

    যতদিন না সঠিক পরিকাঠামো আর পর্যাপ্ত শিক্ষক দিয়ে স্কুল শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত না করা যাবে তদ্দিন একটা বিপুল পরিমাণ মানব সম্পদ এভাবেই নষ্ট হবে।সস্তা শ্রমের দেশ বলে সরকারী প্রচারযন্ত্রে গুচ্ছের শিল্পপতির হাসিমুখ ফুটে উঠতে পারে কিন্তু পিছনের সুদীর্ঘ অবহেলা আর বঞ্চনার ইতিহাসটা মিথ্যে হয়ে যায়না।

    আপাতত কসাইখানার দারোয়ান হয়ে মেয়াদ কাটাচ্ছি সার।মাসকাবারি বেতন পাই,এই আগাছার পাল গরিবগুর্বোদের কথা ভেবে কি হবে বলুন?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৭ মার্চ ২০১৫ | ৩১৯৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • সিকি | 132.177.100.105 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৩:২৮68611
  • রানাকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি এইজন্য, খুব কঠিন পরিস্থিতিগুলো ও এইরকম ভাবে লিখে ফেলতে পারে বলে।
  • Abhyu | 118.85.88.75 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৩:৩৯68612
  • শুধু লিখেই ফেলে না, কিছু করারও চেষ্টা করে। আমাদের অনেকের মতো নেট বিপ্লব করেই ক্ষান্তি দেয় না। (নতুন একটা কথা শিখেছিলাম - ট্যাগটিভিস্ট।)
  • রাণা আলম | 113.24.110.192 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৬:০৮68613
  • অভ্যুদয়, পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে অনেকগুলো সাব গ্রুপ তৈরী করে প্রথম সারির ছেলে মেয়েদের দিয়ে আলাদা ক্লাস করাচ্ছি।কিছু উপকার হচ্ছে।শনিবার ছুটির পর বাড়তি ক্লাস নিচ্ছি।শিক্ষকদের আর কিছু শুভানুধ্যায়ীদের চেষ্টায় ছেলে মেয়েরা কিছু সরকারী স্কলারশিপ পাচ্ছে।যেটা উৎসাহের সঞ্চার করেছে কিছুটা।

    তবে যেটা তোমার সাথে যেটা কথা হয়েছিল সেটা এগোনো গেলোনা। একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে সম্প্রতি। স্কুল থেকে উদ্যোগ নিয়ে ছেলেমেয়েদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করাচ্ছিলাম।ফর্ম ফিলাপ করে দিচ্ছিলাম আমরাই।এবার গ্রামের মানুষ যখন স্কুলে ভর্তি করেন তখন নামের একরকম বানান লেখান আর আধার কার্ডের সময় আরেকরকম বানান লেখেন।ব্যাঙ্কে গিয়ে নামের বানান না মেলায় তারা অ্যাকাউন্ট নয়া করে ফেরত পাঠায়।তাই নিয়ে একদল গার্জেন স্কুলে ফেরত এসে আমার দুই স্টাফকে রীতিমত হেকল করেন।আমি সেসময় স্কুলে ছিলাম না। এটা নিয়ে মিটিং হয়। কমিটির নেতারা আমাদের পরিষ্কার জানান যে অতিরিক্ত উপকার করার চেষ্টা করবেন না।শুধু তাই নয়,স্কলারশিপের টাকা কম দিচ্ছি এরকম একটা অভিযোগে এক গার্জেনকে দিয়ে আমায় প্রকাশ্য রাস্তায় গালাগাল করান শাসক দলের এক নেতা।অথচ সেই গার্জেনের তিন ছেলে মেয়েকে আমি ফ্রি অ্যাডমিশন সমেত যাবতীয় সুবিধে দিয়েছি।

    এই যাবতীয় হ্যারাসমেন্টে আমি খানিক হলেও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।আমি যদি কিছু ছেলে মেয়েকে তোমার সাহায্যে হোস্টেলে পাঠাই এবং সেখানে বিরূপ কিছু অভিজ্ঞতা হয় তাহলে তার দায় আমার উপরেই পড়বে অভ্যুদয়।এইটুকু বোধ আমার হয়েছে।

    স্কুলের ছেলেমেয়েদের ভালবাসি।তারাও আমাকে ভালবাসে।নিজের পরিধির মধ্যে থেকে আপাতত যদ্দিন আছি তার মধ্যে স্কুলের যাবতীয় পরিকাঠামো গড়ে দিয়ে যেতে চাইছি।আর রঘুনাথগঞ্জ সার্কেলে যাবতীয় নিউ সেট আপ স্কুলের মধ্যে আমার স্কুল পরিকাঠামো আর ছাত্র ছাত্রী সংখ্যায় প্রথম।ছেলে মেয়েদের আলাদা টয়লেট,পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা,প্রত্যেক ঘরে ইলেক্ট্রিফিকেশন,হোয়াইট বোর্ড,লাইব্রেরি,খেলার সরঞ্জাম,দেওয়াল পত্রিকা এগুলো আমরা করে ফেলেছি ।রেজাল্টের ভিত্তিতে এবার আমার এগারো জন ছেলেমেয়ে সরকার থেকে বার্ষিক স্কলারশিপ পেয়েছে।

    রাজবংশী আর মুসলিম ছেলেমেয়েদের জন্য স্কুলের উদ্যোগে বিডিও অফিসের সাথে যোগাযোগ করে এসসি আর ওবিসি সার্টিফিকেট করিয়েছি যাতে তারা সংরক্ষণের সুবিধে পায়।

    এবং খুব দাবী রেখে বলছি বছরে বারো হাজার টাকা মেন্টেনান্স গ্রান্ট আর বিল্ডিঙ্গের টাকা ছাড়া সরকার আমাকে কিচ্ছু দেয়নি।আমি আর আমার দুই কলিগ নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করিয়ে টাকা বাঁচিয়ে এতটা পরিকাঠামো গড়েছি।

    আমি যে পরিস্থিতিতে কাজ করি সেখানে কোনোকিছুর গ্রান্ট এলে রাজনিতির লোকেরা শকুনের মতন ঝাঁপিয়ে পড়ে।এতকিছু করা সত্ত্বেও গার্জেনদের কাছে অভিযোগ শুনতে হয় যে অন্য স্কুলে নাকি এর থেকে বেশি সুবিধে পাওয়া যায়।

    আমাকে অনেক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় অভ্যুদয়,যেটা হয়ত বাইরে থেকে বোঝাটা অতটা সহজ নয়।আশা করি আমার অবস্থাটা বোঝাতে পারলাম।
  • রাণা আলম | 113.24.110.192 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৬:১৭68614
  • অভ্যুদয়,আসলে তুমি যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছিলে তাতে আমিও খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম।কারণ অনেকেই সাহায্যের কথা বলেন কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কিছু করেননা। কিন্তু এই সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে আমি পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।তোমাকে বলবনা ভেবেছিলাম কিন্তু জাস্ট মন খারাপ থেকেই বলে ফেললাম।আমার নীরবতার জন্য ক্ষমা চাইছি কারণ তোমার সদর্থক ভাবনায় পাশে থাকতে পারিনি।
  • Tim | 188.91.253.190 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৬:৩৪68615
  • রাণা আপনাদের কাজের কথা পড়ে ভালো লাগলো, আবার সমস্যার কথা পড়ে খারাপও লাগলো। আপনারা যতদিন আছেন ততদিনই ছোট ছোট পকেটে কিছু ভালো কাজ হতে থাকবে। অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
  • 4z | 80.24.55.239 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৭:৫৩68616
  • রাণা, প্রাইভেট গ্রান্ট বা ডোনেশনের ক্ষেত্রেও কী লোকাল পার্টিগুলো একই রকমভাবে ঝামেলা করে?

    ঐ এলাকায় এরকম কিছু কি করা সম্ভব যাতে এই বাচ্ছাগুলোকে অকালে পড়া ছাড়তে না হয়?
  • Abhyu | 118.85.88.75 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৮:০৮68617
  • রাণা, তোমার নীরবতায় আমি কিছুই মনে করি নি, বুঝতে পেরেছিলাম যে তোমার কিছু সমস্যা হয়েছে তাই আর অনর্থক বিব্রত করিনি। যদিও দেশের পরিস্থিতি এমন যে কিছুই আর অস্বাভাবিক লাগে না, তবু স্থানীয় গুণ্ডাদের হাতে হেনস্থা হবার কথা শুনে খুব খারাপ লাগল। ভবিষ্যতে তোমার যদি মনে হয় যে আমি কোনো ব্যাপারে কিছু সাহায্য করতে পারি তো নির্দ্বিধায় যোগাযোগ কোরো।
  • একক | 24.99.215.247 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ০৮:৪৫68618
  • রাণার কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কে শ্রদ্ধা করি । বাচ্চাদের প্রতি ভালবাসা তো মাপার জিনিস না । মুর্শিদাবাদ একটি অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে খিটকেল জায়গা । সেখানে থেকে ঠান্ডা মাথায় দায়ীত্ব সামলানো.............। কীপ ইট আপ বস !
  • Rana Alam | 113.24.110.233 (*) | ০৭ মার্চ ২০১৫ ১২:৪৩68610
  • ঈপ্সিতাদি স্কুলের কথা লিখতে বলেছিল।পিএইচডি'র হ্যাপায় একদম সময় পাচ্ছিনা।পরের কিস্তিটা ডেটা সমেত লেখার ইচ্ছে রইলো।
  • sosen | 212.142.121.72 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০১:৪৬68619
  • চারদিকের অনেকগুলো ছেলেমেয়ে, আত্মীয় এইরকম পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে স্কুলে চাকরি করে--রাণার মতো অনেকেরই অভিজ্ঞতা। তবে শিক্ষকতাকে ভালোবেসে রাণা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমার মনে হয় স্কুলটি আরো ভালো হবে। কয়েকজনকে বিগত কয়েক দশকে এইভাবে দুটি স্কুলকে খাড়া করতে দেখেছি। তাদের যা বক্তব্য বিভিন্ন সময়ে শুনেছি-ফ্রাস্ট্রেশন, আনন্দ, তাতে একটা জিনিস ভীষণভাবে মনে হয়েছে, এবং নিজে পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের অ্যাকাডেমিকস এ একই জিনিস দেখেছি--রাজনীতির ইনট্রুশন এতো বেশী যে নিজের পরিধির মধ্যে থেকে খুব সাবধানে কাজ না করলে টিঁকে থাকা মুশকিল। প বঙ্গে লোক কাজ করায় অভ্যস্ত নয়, সরকারি চাকরিতে অভ্যস্ত, এবং সকলের টেম্পারামেন্ট-ও থাকেনা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে যাওয়ার। আমি নিশ্চিত রাণা পরবর্তীকালে যে স্কুলে যাবে সে স্কুল উপকৃত হবে, পাশাপাশি, জোরগলায়" আমার স্কুল"বলার মতো ভালোবাসা কম লোকের থাকে। রাণাকে খুব শ্রদ্ধা হয়, জানিয়ে যাই।
  • gunomughdho | 116.51.243.213 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০৩:১৬68620
  • সরাসরি কোনো আর্থিক সাহায্য করা যাবে কি? যদি যায় কিভাবে?
  • Abhyu | 118.85.88.75 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০৫:০০68621
  • সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? রাণাকে? নিশ্চয়ই নয়।
    সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? একটি ছেলে বা মেয়েকে অনেক টাকা দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়, কারণ তাতে কোনো সুরাহা হবে না, উল্টে বাকিরা খাপ্পা হবে।
    সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? সবাইকে এক টাকা করে দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়, কারণ তাতেও কোনো সুরাহা হবে না।
    সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? সবাইকে অনেকটা করে টাকা দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তাতে অনেকxঅনেক টাকা লাগবে। আর সেই টাকাটাও তাদের বোনের বিয়ের পণে নয়্ত বাবার চোলাইতে যাবার চান্স বেশি।
    সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? স্কুলের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তাতে রাণার বাজারে আড়ং ধোলাই খাবার পথ প্রশস্ত হবে, টাকা চুরির অভিযোগে। শালা আমাদের বাচ্চাদের দেখিয়ে ডোনেশন মারছে।

    পলিটিকাল পার্টির কথা বাদই দিলাম।

    গল্প অত সহজ না।
  • ranjan roy | 229.64.68.168 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০৭:০২68622
  • রাণা ও অভ্যুর বক্তব্য ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের মত সত্যি।
    এর চোরাগলি থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা জানা নেই।
    রাণা তো অফিসের কাজে পিএইচডির কাজে কোলকাতায় আসেন।

    যদি কখনো সময় করে আমাদের বাড়িতে চাট্টি ডাল-ভাত খেয়ে যান বা একরাত্তির কাটিয়ে যান, খুব খুশি হব।
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০৭:৪০68623
  • কি আর লিখব। রাণা-কে অশেষ শ্রদ্ধা, অবশ্যই। তা বাদে, আর কি লিখব জানি না
  • অপাত্র | 160.107.176.255 (*) | ০৮ মার্চ ২০১৫ ০৭:৫১68624
  • রানার কথা শুনে মনে হয়, শিক্ষক নামের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি এখনও বেঁচে আছে। স্নবিশ গাণ্ডুগুলো ম্যাক্সিমাম দুই প্রজন্মের লার্নার। এদেরই এখন রবরবা। নিজে বাঁড়া কাঁধে ল্যাপটপ নিয়ে অফিস যাচ্ছে সরকারি বাসে, অথচ বেলচা নিয়ে সরকারি প্রোজেক্টে কাজ করা লোক বাসে উঠেল নাক সিঁটকোয়।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ০১:৩৫68627
  • টাকাটা মনে হয় তেমন বড় সমস্যা না। সমস্যা হল মানুষ-মানসিকতার। যদ্দুর সম্ভব।
  • Abhyu | 118.85.88.75 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ০২:০২68628
  • রাণা, খুবই উল্লেখযোগ্য কাজ করেছ।
    - ছেলে মেয়েদের আলাদা টয়লেট,
    - পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা,
    - প্রত্যেক ঘরে ইলেক্ট্রিফিকেশন,
    - হোয়াইট বোর্ড,
    - লাইব্রেরি,
    - খেলার সরঞ্জাম, দেওয়াল পত্রিকা
    - রেজাল্টের ভিত্তিতে এবার আমার এগারো জন ছেলেমেয়ে সরকার থেকে বার্ষিক স্কলারশিপ পেয়েছে।
    - রাজবংশী আর মুসলিম ছেলেমেয়েদের জন্য স্কুলের উদ্যোগে বিডিও অফিসের সাথে যোগাযোগ করে এসসি আর ওবিসি সার্টিফিকেট করিয়েছি যাতে তারা সংরক্ষণের সুবিধে পায়।
    এগুলো প্রত্যেকটিই আলাদাভাবে প্রশংসার দাবী রাখে। তোমার নিজের বাড়তি ক্লাস নেওয়া ছাড়াও পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে অনেকগুলো সাব গ্রুপ তৈরী করে প্রথম সারির ছেলে মেয়েদের দিয়ে আলাদা ক্লাস নেবার প্রকল্পটা খুব ভালো। এটা অত্যন্ত এফেকটিভ এবং পরীক্ষিত একটি মেথড। সাফল্য আসবেই।
    তুমি যখন অন্যত্র ট্রান্সফার নেবে তখন মনে হয় ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে আটকাতে আসবে। ভালো থেকো।
  • sosen | 113.225.178.221 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ০২:৩৩68630
  • সুচিত্রা ভটচাজের একটা অম্নি লেখায় ছিল এস এস সিতে চাগ্রি পেয়ে গিয়ে একজন দেখে ইস্কুল -ই নেই। কাছাকাছি অভিজ্ঞতা একজনের -চালা বাঁধা ইস্কুল , দরজা জানালা দেওয়াল কিছু নাই। চালার নিচে মিড ডে মিল রান্না হয়, মাস্টারেরা তদারক করেন, বাচ্চারা এসে খেয়ে আবার বাড়ি চলে যায়-বা জন খাটতে। ঐ চালার দেওয়াল তোলার টাকা নাকি বছরের পর বছর ধরে এসেই চলেছে।
  • Tim | 101.185.30.182 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ০২:৫৯68631
  • আমার জানা কিছু প্রাইমারি স্কুল এভাবে চলছে, দঃ চব্বিশ পরগণায়। তবে সেখানে পড়াশুনো হয়, খুব আস্তে হলেও, একটা করে পাকা ঘর ওঠে। আর প্রচুর টাকা চুরি হয়, মানে লোকাল পলিটিকাল পার্টির হাত হয়ে টাকা আসে, বা সই লাগে এরকম কিছু একটা।
    অভ্যু লিখেছে দেখলাম। খুব জটপাকানো পরিস্থিতি। সহজে অবস্থা পাল্টানোর অসুবিধে আছে। এইসব স্কুলগুলোতে যারা পড়তে আসে তাদের অনেকেই চাষ বা অন্য কোন কাজের পিক সিজনে লাগাতার স্কুলে আসেনা। মিনিমাম ওয়েজ বলে কিছু নেই তাই অনেক খেটেও সুরাহা খুব একটা হয়না।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ০৮:০৩68629
  • রাণা, যা করছিস, তার জন্য কোন কথাই যথেষ্ট নয়, তোর সাথে আলাদা কিছু কথাও বলার আছে। এখন একটা দুটো জিনিস একটু জানার ছিল।

    তোরা কি প্যারা টিচার নিতে পারিস ? থাকলে তাঁদের নিয়ে অভিজ্ঞতা কীরকম ?

    আর এখানে কি এই নিউ সেট আপ স্কুলের ডাটা এসেছে ? তোদের স্কুলের ডাটা ঢুকেছে ?
    http://schoolreportcards.in/SRC-New/Default.aspx
    জানতে চাইছি কারণ, এই স্কুলগুলির এই ভয়াবহ স্টুডেন্ট-টিচার রেশিও পঃবঙ্গের রিপোর্ট কার্ডে প্রতিফলিত হয় কিনা জানতে চাইছিলাম।

    ওদিকে আমার এক আত্মীয়া হাওড়ার এক গ্রামের স্কুলের শিক্ষিকা। ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগই অত্যন্ত গরীব মুসলিম, বাড়ির লোকজন এবং তারাও বেশিরভাগ জরির কাজের সাথে যুক্ত। এবার ওদের সমস্যা হল বেশি ছাত্র-ছাত্রী নয়, উল্টোটা। কারণ নিতান্তই গরীব না হলে, মানে সামান্য অর্থ সামর্থ্য থাকলেই বাবা মা কোন না কোন ইংলিশ, মানে প্রাইভেট স্কুলে বাচ্চাদের পাঠিয়ে দেন, না, সেখানে শুধু ইংলিশ বলেই না, পড়াশুনোই কিছু হবে বলে। সরকারি স্কুলের উপর কোন আস্থাই নেই। তো, ওদের জিগেশ করলাম, তোরা তো পড়াস। বললো, কীভাবে কী পড়াবো। মিড ডে মিলের পরে সব কেটে পড়ে, স্কুলে একটা সিকিওরিটিও নেই, যা বাচ্চাদের আটকে রাখবে। পরিকাঠামো তো ভয়াবহই। ওখানে শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্যেও কোন বাথরুম ছিল না, ছাত্রছাত্রীদের জন্য দূরস্থান, আলাদা বাথরুম তো অনেক পরের কথা। এইসব আরো অনেক কিছু। এখন সরকার থেকে বলেছে, ওদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝাতে হবে, সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের পাঠানোর জন্য, ওরা বোঝায়ওও, ফল তেমন কিছু হয়নি এখনো ( এর মধ্যেও যেটুকু আশার কথা, সেটা হল স্কুলে মুসলিম ছাত্রী অনেক)। আগে শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে বলতাম, এখন তো মনে হয়, মানে অন্তত ঃ এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যদি কিছু অঞ্চলে এই বেসরকারি স্কুলে কিছুটা ছাত্রভার চলে যাওয়ায় সেখানকার সরকারি স্কুলে যে এক্স্ট্রা শিক্ষক সিক্ষিকা থাকছেন তাঁদের তোদের মত স্কুলগুলোতে পাঠিয়ে দেবার কোন নিয়ম থাকতো ! তবে সেটা আদৌ কোন স্থায়ী বা কোন সমাধান ই হয়তো নয়। এত শূন্য শিক্ষকপদ থাকতেও নিয়োগ কীভাবে কেন আটকে থাকে জানিনা। গ্রামে ডাক্তারের অভাবজনিত সমস্যার একটা বড় কারণ অনেক ডাক্তার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে চাননা। শিক্ষকদের তো যাওয়া এখন বাধ্যতামূলক, আর অনেকেই এই চাকরির জন্য পদপ্রার্থী। তারপরে এই নিয়োগ না করা, পরিকাঠামোর এই দশা, এগুলো কি আসলেতে সরকারি ব্যবস্থাটা একেবারে লাটে তুলে দেওয়ার কোন চক্রান্তের অংশ নাকি এসবের ডিসিশন মেকিং এর সাথে কিছু লোকের সদিচ্ছা বা পারদর্শিতার অভাব, বুঝতে পারিনা।

  • aranya | 154.160.98.91 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ১২:৩২68625
  • রাণা-র লেখা আর অভ্যুর শেষ পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে - শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারী বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু করা খুব কঠিন মনে হয়। সেটা অবশ্য সত্যি আরও অনেক ক্ষেত্রেই।
  • shatadal | 214.85.191.30 (*) | ০৯ মার্চ ২০১৫ ১২:৫০68626
  • সাহায্য করতেই পারেন। রানার সাথে সোজাসুজি যোগাযোগ করে জানতে চান স্কুলের জন্য কি দরকার। তারপর সেটি কিনে দিন। রানা বলুন জিনিষটি তিনি নিজের টাকায় কিনে দিলেন।

    দুটি সমস্যা। এক, আপনার নিজের নাম একেবারে আড়ালেই থাকল। দুই, রানা এতে রাজী না হতে পারেন। আপনার সাথে কোন কারণে মতান্তর হলে উনি খারাপ কথা শোনার ঝুঁকি না নিতেই পারেন। দ্বিতীয় কথা, এভাবে বেশী সাহায্য করতে পারবেন না। রানা অনেক টাকা পকেট থেকে বের করছেন এটা চাউর হয়ে গেলে ওনার অসুবিধা হতে পারে।
  • Rana Alam | 113.24.109.98 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৫:৩৪68633
  • একক, এগিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে পিছিয়ে থাকাদের পড়ানোর আইডিয়াটা তোমার দেওয়া।সেটা এখানে বলা উচিত।আমি জাস্ট ইমপ্লিমেন্ট করার চেষ্টা করেছি।এবং এখন অব্দি এটা বেশ সফল।তবে স্কুল আওয়ারস এক্ষেত্রে সমস্যার।
  • Rana Alam | 113.24.109.98 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৫:৩৭68634
  • যারা সাহায্য করতে চাইছেন তাদের ধন্যবাদ।কিন্তু এভাবে তো পরিস্থিতির সুরাহা হচ্ছেনা,মানে এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়। আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা দিয়ে এটুকু বুঝেছি যে এই স্কুলের পড়াশুনোটাকে কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করতে হবে।নইলে পড়ে কি হবে গোছের প্রশ্ন শুনতেই হবে।

    বেশ কিছু স্কুলে ভোকেশনাল এডুকেশন চালু আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার হাল খারাপ।চলতে হয়। তাই চলছে।
  • Rana Alam | 113.24.109.98 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৫:৪৯68635
  • রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটা বড় ফ্যাক্টর।আমি মিড ডে মিল প্রকল্প থেকে একটা অ্যাডিশনাল রান্নাঘর পেয়েছি।২০১৩ সালে স্যাংশন হয়েছিল।বিডিও অফিস ঘুরে ঘুরে শেষ অব্দি ২০১৫ তে মাননীয় বিডিও দয়া করে টেন্ডার ডেকেছেন।স্থানীয় মেম্বার এলেন খবরটা দিতে।ঠিকাদার তার পার্টির লোক।আমি ঠিকাদারের ওয়ার্ক শিডিউল চাইলাম।সেই মেম্বার সবার সামনে দিব্যি হাসতে হাসতে বললেন,
    " আপনি উসব লিয়ে কি করবেন? আমি দুপয়সা খাবোনা নাকি?"

    সমস্যাটা এইখানে।রঘুনাথগঞ্জেই শ্রীকান্তবাটী নামে একটা হাইস্কুল আছে। হেডস্যার উৎপল দা দারুণ কাজের লোক।স্কুলটা খুব ভালো গড়ে তুলছেন।কিছুদিন আগে শাসক দলের এক শিক্ষক নেতার মদতে তাকে স্কুলের মধ্যেই হেনস্থা করা হল।এরকম চললে তো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে যায়।

    অবশ্য উল্টোটাও আছে। মুর্শিদাবাদ জেলাতেই একাধিক হাইস্কুল আছে যেখানে হেডস্যার আর ম্যানেজিং কমিটি মিলে সর্বশিক্ষার লাখ লাখ টাকা জাস্ট মেরে দিয়েছে।

    ধরুন সর্বশিক্ষা কাউকে এক লাখ টাকা দিল।তার মানে ওই টাকার মধ্যে টেন পার্সেন্ট ঠিকাদারের প্রফিট ধরা থাকে।এর মানে যদি কেউ নিজে হাতে লেবার টেন্ডার দিয়ে কাজ করে তাহলে দশ হাজার এমনিতেই বাঁচার কথা।আমরা এবং অনেক স্কুল এভাবেই প্রচুর টাকা বাঁচিয়ে স্কুলের চেয়ার বেঞ্চ,রং,গ্রিল ইত্যাদি করেছি।

    এরকম গুচ্ছের স্কুল আছে যেখানে গাদা গাদা অনুদান পাওয়া সত্ত্বেও তিনতলার ঘরের দরজা জানালা হয়নি টাকার অভাবে।মানে বুঝে নিন যে কি পরিমাণ টাকা মেরেছে।
  • Rana Alam | 113.24.109.98 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৫:৫৩68636
  • আমি একটা স্কুলের কথা বলছি।মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রামের দিকে ইন্দ্রানী নামের জায়গাতে স্কুলটা আছে। সর্বশিক্ষার টাকা আর শিক্ষকদের সদিচ্ছা একসাথে যুক্ত হলে কি হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই স্কুলটা।ওখানে প্রজেক্টরে ক্লাস হয়। ছাত্র ছাত্রিরা নিজেরা ডকুমেন্টারি বানায়।
  • Rana Alam | 113.24.109.98 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৬:০৩68637

  • আমি নিজে ইংরাজি পড়াই।বইএর কন্টেন্ট আরবান ফোকাসড।গ্রামের ছেলে মেয়েরা নিজেদের অ্যাসোসিয়েট করতে পারেনা।এইটে মস্ত বড় সমস্যা। আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষাটা বড্ড অবহেলিত।আমার স্কুলে যারা আসে তাদের বেশিরভাগের দেখেছি ক্লাসে বসে পড়াশুনোর হ্যাবিটটাই তৈরী হয়নি।কারণ প্রাইমারি স্কুলে ওই গরুর পালের মতই দিন কেটে যায়।ভাবুন যে এবার অন্তত পাঁচজন কে পেয়েছি যারা ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয়েছে এবং ইংরেজি বাংলা কিস্যু জানেনা।এরা ফোর পাস করলো কি করে?

    এবার গোড়ায় ভাবুন।ক্লাস এইট অব্দি পাস ফেল নেই।যা হবার তাই হচ্ছে।সরকার সাক্ষরের সংখ্যা দেখিয়ে বাহবা লুটছে।অথচ যেটাকে এফেক্টিভ লিটারেসি বলে তার হার খুবই কম।এফেক্টিভ মানে সেকি ব্যাঙ্কে ফর্ম ফিলাপ করতে পারে বা অফিস কাছারির লেখাপত্তর প্রাথমিকভাবে করতে পারে ইত্যাদি।২০১০ এর একটা ডেটা পেয়েছিলাম যে পশ্চিমবঙ্গে এই এফেক্টিভ লিটারেসি মোটামুটি ৩৫%।
  • Abhyu | 179.237.46.240 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৭:০৬68638
  • রাণা 10 March 2015 23:07:25 IST - গুচ্ছ গুচ্ছ ক।
  • Abhyu | 179.237.46.240 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৭:১০68639
  • এতো গুরুগম্ভীর আলোচনা মাঝে একটা সত্যি ঘটনা শুনুন। আমার মামা গড়বেতার (আজ্ঞে হ্যাঁ সেই গড়বেতা) একটা মাধ্যমিক স্কুলে জীবন বিজ্ঞান পড়াতো। তা, টেস্টের পরে মাধ্যমিকের সাজেশন নিতে এসেছে। মামা বলল লিখে নে
    - সালোকসংশ্লেষ...
    ছেলেটা ইতস্ততঃ করছে।
    - কি হল, লেখ।
    ছেলেটা লেখে আর না।
    - কি হল রে বাবা?
    - স্যার, দন্ত্য-স টা ভুলে গেছি।
  • Atoz | 161.141.84.175 (*) | ১০ মার্চ ২০১৫ ০৭:৩৮68640
  • অ্যাঁ!!!!
    কী সাংঘাতিক!
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন