• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • প্রসঙ্গ উত্তম সুচিত্রা

    Parichay Patra লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | ১৬৩৩ বার পঠিত
  • বিকেলের চায়ে হবে মুচমুচে নিমকি চেবানো/পুরনো দিনের কথা বলবে না দেখো একজনও/হয়ত উত্তমকুমারের প্রসঙ্গ তুলে/পারমিতা দেবে হাত মাথার লুটিয়ে পড়া চুলে/তারপর শুরু হবে কার ছেলে ফিজিক্সে ভালো...

    সুমনের এই প্রায় বিস্মৃত গানটার কথা আমরা শুনেইছিলাম উত্তমকুমার পড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই। উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেনের ছবি, আমাদের পরিভাষায় পঞ্চাশের দশকের বাংলা সোশ্যাল, তখন এমএ স্তরে পড়তে হচ্ছে। আমি বড় হয়েছিলাম ফিল্ম সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে, বাড়িতে ফিল্ম দেখা বারণ ছিল অনেককাল। ফলে জনপ্রিয় ছবি একেবারে না দেখে বেড়ে উঠেছি, তারপর একেবারে মাধ্যমিকের পর থেকে তেড়েফুঁড়ে আমার সিনেফাইল জীবন শুরু, মূলত সীগাল আর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। অতএব উত্তমকুমারকে আমার দেখা তাঁকে অ্যাকাডেমিক বিষয় হিসেবে পড়তে গিয়ে, তার আগে নয়। জনপ্রিয় সিনেমার বৃহত্তর তাৎপর্যের দিকগুলো, তার রাজনীতি, রাষ্ট্রগঠনের সময় ভূমিকা, দর্শককে নাগরিক করে তোলায় ভূমিকা এইসব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে তখন। ‘শিল্পী’র স্ক্রিনিংয়ের দিন ঘর উপচে পড়ছে, এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদেরও উত্তম-সুচিত্রা উৎসাহের দিকটা বুঝতে পারছি। তখন অনেক বেশি রিসেপটিভ হয়েছি পপুলার সিনেমা বিষয়ে, পরে আরও হব, বুঝতে পারব ‘ইমোশন’ সিনেমা ও কালচার স্টাডিজে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বিশেষ করে রিসেপশন আলোচনায়।

    উত্তম-সুচিত্রার ছবি নিয়ে অ্যাকাডেমিক আলোচনা করেছেন প্রধানত মৈনাক বিশ্বাস, তাঁর গবেষণাপত্রে, বাংলা-ইংরেজি একাধিক লেখায়, করেছেন শুভজিত চ্যাটার্জি তাঁর বাংলা সাহিত্য-সিনেমা-কালচারে রোম্যান্সের ধারণা নিয়ে গবেষণায়, দীপালী নাগ তাঁর ইকনমিক অ্যানড পলিটিক্যাল উইকলিতে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নিয়ে নিবন্ধে, শর্মিষ্ঠা গুপ্ত তাঁর রুটলেজ থেকে প্রকাশিত বাংলা সিনেমার ইতিহাসে। আমি এখানে সকলের মতামত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না, তার পরিসর এখানে নেই, আর বিশেষ করে মৈনাকদার বিশ্লেষণ এতই জটিল এবং তাত্ত্বিক যে তা সোশ্যাল মিডিয়ার তেমন উপযোগীও নয়।আমি শুধু কিছু পছন্দের ভাবনা একটু তুলে ধরব অত্যন্ত সংক্ষেপে।

    পঞ্চাশের দশকের এই উত্তম-সুচিত্রা জুটি ইতিহাসখচিত, ইতিহাসের যাত্রাপথে তা একেবারেই মুদ্রিত হয়ে রয়েছে। সেই সময়টায় সারা ভারতের সিনেমাতেই মোটামুটিভাবে স্টুডিও যুগের শেষ, আসছে স্টার-যুগ। এর লক্ষণ সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ধরে রেখেছে গুরু দত্তের ‘কাগজ কে ফুল’, ওয়াহিদা রহমান স্টার হয়ে ওঠেন, বন্ধ স্টুডিওর শূন্য সেটে নিজের চেয়ারে বসে মরে যান অতীতের পরিচালক গুরু দত্ত। আর দেশভাগ-উত্তর বাংলা সিনেমার সংকটমোচনে সহায়ক হয় এই স্টার সিস্টেম, উত্তম-সুচিত্রা জুটি পূর্ব পাকিস্তানের বিশাল বাজার হারিয়ে রক্তাল্পতায় ভোগা ইন্ডাস্ট্রিকে এবং লণ্ডভণ্ড পঃবাংলাকে নতুন নেশনের গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করেন। চল্লিশের সিনেমাও গ্রাম থেকে শহরের দিকে জার্নির কথা বলার চেষ্টা করেছিল, আইকনিক চরিত্রচিত্রণ থেকে ব্যক্তিমানুষের গুরুত্বের দিকে সরে আসতে চেয়েছিল, রাষ্ট্রনির্মাণ আর তার সমসাময়িক সামাজিক নানা পরিবর্তনের কাহিনীতে সেকুলার প্রেমের গল্পকে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়ে পৌঁছে, স্বাধীনতা-উত্তর জমিতে দাঁড়িয়ে, তবে এই প্রয়াসের সাফল্য দেখতে পাব আমরা, এবং যে স্টার জুটির শরীর আশ্রয় করে এই পরিবর্তন তারা উত্তম-সুচিত্রা। দেশভাগের অব্যবহিত পরে গ্রাম থেকে নেহরুভিয়ান সমাজতন্ত্র আর রাষ্ট্রনির্মাণ প্রকল্পের অংশীদার শহরের দিকে যাত্রা করবে উত্তমকুমার অভিনীত যুবক, তার মধ্যে এই দুইয়ের বৈশিষ্ট্যই বিরাজমান। চল্লিশের ছবি অনেকখানি সিম্বলিক পরিসরে আটকে ছিল, পঞ্চাশের নতুন নেশনের সিনেমা তাকে পেরিয়ে নিজের কংক্রিট সোশ্যাল অবস্থান খুঁজে পাবে, সিনেম্যাটিক ফর্ম, ন্যারেটিভের চলন, মিজঁ-সীন সবকিছু বদলাবে। দেশভাগ বাঙালি মেয়েকে বাধ্য করবে পথে নামতে, চাকরি করতে, শিক্ষকতা করতে, রাজনীতি বা সমাজসেবায় আসতে, যে মেয়ের জীবন আদতে হয়ত পূর্ববঙ্গের গণ্ডগ্রামে বধূ হয়েই কাটবার কথা ছিল। ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ বা ‘কোমল গান্ধার’ এমনই উদাহরণ। এখানে ছবির পর ছবিতে সুচিত্রা সেন প্রফেশনাল নিউ উওম্যান, এবং তাঁর যৌনতা, লিবিডিনাল এনার্জি, পিতৃহীন বা অনাথ নায়ককে কার্যত adopt করা, এই ছবিগুলিকে উওম্যান’স ফিল্ম হিসেবে চিহ্নিত করবে। হিন্দি ছবিতেও একই সময়ে নেহরুভিয়ান রাষ্ট্রের নিউ উওম্যানকে আমরা খুঁজে নেব, ‘আন্দাজ’ বা ‘মাদার ইন্ডিয়া’র নার্গিস, ‘সাহিব, বিবি, আউর গুলাম’ অথবা কামাল আমরোহীর ‘দায়রা’র মীনাকুমারী। কিন্তু সুচিত্রা আরও অনেক, অনেক বেশি ছবিতে এই ভূমিকা নিয়ে গেছেন, সেখানেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অনন্যতা। এখানে নায়ক আর ন্যারেটিভ ইউনিভার্সের ফেমিনাইজেশন ঘটবে।

    উত্তমকুমারের শরীরে, জেশচারে, কণ্ঠস্বরে এই জার্নি টু দ্য সিটির ছাপ থাকবে, থাকবে নতুন নেশনের নাগরিক হয়ে উঠতে চাওয়ার ঘোষণা, এই যাত্রা আদতে সিটিজেনশিপের দিকে যাত্রা। নেহরুভিয়ান রাষ্ট্রের আধুনিকায়ন প্রকল্পের শরিক এই যুবক যুবতী কলকাতা শহরের প্রেক্ষাপটে তাদের শরীরকে খুঁজে পায়, গোটা ফিল্ম টেক্সটই রয়েছে কেবল এই রোম্যান্স সম্ভব হবে বলে, অন্য প্রতিটি চরিত্র, প্রত্যেক ঘটনার অস্তিত্ব এজন্যেই, প্রতিটি ছবিই প্রায় শেষ হবে একটা ক্লাইম্যাকটিক আলিঙ্গনে, আর সেখানে কোনভাবেই থাকবে না বিগত সময়ের প্রতীক প্যাট্রিয়ার্কাল মরাল অথরিটি বা অভিভাবক। ‘শিল্পী’র ধনী, উচ্চবংশের কন্যা বেছে নেবে নিম্নবর্ণের দরিদ্র শিল্পীকে, ‘সপ্তপদী’ ধর্ম, আন্তঃধর্ম সম্পর্ক নিয়ে কার্যত তুফান তুলবে। ‘ইন্দ্রাণী’র ব্রাহ্মণকন্যা নিম্নবর্ণের পুরুষকে বেছে নেবে সিভিল বিবাহের নিয়মে, ছবিটির ঠিক এক বছর আগেই স্পেশ্যাল বিবাহ আইন, হিন্দু বিবাহ আইনের সংস্কার ইত্যাদি হয়েছে, অচল হয়ে গিয়েছে ধর্মীয় রিচুয়াল মানা বিয়ে, আর ছবিতে সে সংবাদে ধরাশায়ী হচ্ছেন কন্যার পিতা পাহাড়ি সান্যাল। ল আর মুভিং ইমেজের এইসব আশ্চর্য মিথস্ক্রিয়া আমাদের গবেষণায় সাহায্য করে, আমরা বুঝতে পারি এ গান্ধর্ববিবাহের সোশ্যাল লেজিটিমেসি অবান্তর, এদের প্রেম ও যৌনতায় সীলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্র। এই আমাদের নতুন নাগরিক, আমাদের নিজস্ব আধুনিকায়ন, মৈনাক বিশ্বাস যাকে বলবেন ভার্নাকুলার মডার্নিটি। আর অনেকগুলি ছবিতেই পঞ্চাশের হলিউডের প্রভাব বিদ্যমান, ‘সূর্য-তোরণ’ বা ‘হারানো সুর’এ সরাসরি, তার প্রভাব অভিনয় রীতিতেও পড়বে, সেসময়ের হলিউড বুর্জোয়া মেলোড্রামা কিভাবে এখানে ক্রিয়াশীল তা নিয়ে বেশি কিছু বলছি না, তা আরেকটি রচনার অবকাশ মার্জনা করে। মেলোড্রামা ফর্ম আর তার উনিশ শতকীয় অরিজিন নিয়েও কিছু বলছিনা, পরিসর বাড়বে। একটি বিষয়ের দিকে মৈনাক বিশ্বাস আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই সব ছবিগুলির অধিকাংশের চিত্রভাষা নির্মাণ করেছেন রামানন্দ সেনগুপ্ত বা দিলীপরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মত সিনেম্যাটোগ্রাফার, যে রামানন্দ জঁ রনোয়ার ‘দ্য রিভার’ বা ঋত্বিকের ‘নাগরিক’এ কাজ করেছেন, তাঁদের হাত ধরে আন্তর্জাতিক সিনেমার যোগ এসেছিল বাংলা পপুলারের, আর ঋত্বিক নিজে মেলোড্রামা ফর্মটি নিয়ে পরীক্ষার তাগিদে এঁদের ব্যবহার করেছেন, অন্য ঘরানার সিনেম্যাটোগ্রাফার সুব্রত মিত্রকে নেন নি, তিনি সত্যজিতের একচেটিয়া।

    শহরের পথে এই অভিযাত্রায় আর একজনের কণ্ঠটি এমব্লেম্যাটিক হয়ে ওঠে, নিজের কণ্ঠ তিনি উত্তমকুমারের সিটিজেন-সাবজেক্টকে ধার দেন কার্যত, তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠ এইভাবেই একটি নির্দিষ্ট নেশন আর তার ফেমিনিনিটির ধারণাকে এমবডি করবে, তাঁর আগের আমলের ‘মুসলিম ভ্যাম্প’ সুরাইয়ার কণ্ঠ আর চরিত্রদের সরিয়ে। সঞ্জয় শ্রীবাস্তব লতার কণ্ঠ বিষয়ে বিস্তৃত লিখেছেন, আর সুরাইয়াকে নিয়ে মধুজা মুখোপাধ্যায় লিখেছেন আমার সম্পাদনা করা বইতে।

    সেসময়ের বাঙালি কিন্তু এই সোশ্যাল লেজিটিমেসি-হীন প্রেম খুব সহজে মেনে নেয়নি। যুগান্তর বা বসুমতীতে ‘সাগরিকা’ বা ‘একটি রাত’ কি ভীষণ অশালীন ছবি তা নিয়ে অনেকে চিঠি লিখতেন। শুভজিত চ্যাটার্জি আর্কাইভ্যাল রিসার্চে তা প্রমাণ করেছেন।

    এদিকে শহর ক্রমেই এইসব মরাল-এথিক্যাল ট্রান্সগ্রেশনের স্থান হয়ে উঠছে। পঞ্চাশের শহর তবু, যেমন মাধব প্রসাদ বলেন, উপর থেকে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখা, রাষ্ট্রের আরবান প্ল্যানিং, যেমন ‘সূর্য-তোরণ’, বা আরেকটু অ্যালিগরিক্যাল হলে ‘শ্রী ৪২০’, বোম্বের স্কাইওলাইন পেছনে রেখে গ্যাসলাইটের মৃদু আলোয় রাজ কাপুর ও নার্গিস। সত্তরের দশকে রাষ্ট্রের উপর আস্থা হারাবে নাগরিক, তখন নীচ থেকে সে তাকাবে উপর পানে, রাস্তার জীবন মহনীয় হবে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলবে দিওয়ারের অমিতাভ বচ্চন আর শশী কাপুর। কিন্তু সে আরেক গল্প। আপাতত পঞ্চাশের ছবিতে এই ট্রান্সগ্রেশনটাই প্রধান।

    তাই ১৯৫৭ তে গুরু দত্তের ‘প্যায়াসা’ তে কীর্তনের বোলের তালে তালে সিঁড়ি বেয়ে অপ্রাপণীয় দয়িতকে ছুঁতে ছুটে যায় বেশ্যা গুলাব (ওয়াহিদা রহমান)। আমার ভাবতে ভারি ভাল লাগে একটা বিষয়। সে বছরের অস্কারে ‘প্যায়াসা’র বদলে ‘মাদার ইন্ডিয়া’কে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠিয়েছিল ভারত, সে ছবি বিদেশি ভাষার ছবির বিভাগে শেষ পর্যন্ত গিয়েওছিল। কিন্তু অস্কার পেয়েছিল ফেলিনির ‘নাইটস অব ক্যাবিরিয়া’, বিশ্বযুদ্ধ আর নিও-রিয়ালিজম উত্তর ইতালিতে সেও আরেক বেশ্যার অনায়ত্ত জীবনের গল্প। ১৯৯০ এর উদারীকরণের পরে বলিউড সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করবে পেট্রিয়ার্কের কাছে, গুলাবদের দিন আর থাকবে না, অমরীশ পুরির অনুমতি ছাড়া কাজল দৌড়ে যেতে পারবেই না চলমান ট্রেনের দিকে।

    আর ঠিক সেকারণেই উত্তম-সুচিত্রার ছবি আমাদের টেলিভিশনের একটি নির্দিষ্ট স্লট খুঁজে নেয়। স্লাভো জিজেক কোট করে গবেষকরা দেখান আমরা তখন অন্য এক গেজ খুঁজে পাই, সেটা ১৯৫০ এর দশকের দর্শকের গেজ। এই ছবি আমাদের নস্টালজিয়া, শেষ না হওয়া মডার্নাইজেশনের নস্টালজিয়া। সেই সময়ে আবদ্ধ স্পেসে উত্তম-সুচিত্রা চিরতরুণ থেকে গেছেন, আবছায়া শিলুয়েটে তাঁর চিরাচরিত ক্লোজ আপে সুচিত্রা গাইছেন “আমার জীবনে নেই আলো/আছে আঁধারেরি হাতছানি/বলিতে পারিনা মুখে কিছু/আমারে বোঝ না তা জানি”।

     

  • বিভাগ : ব্লগ | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | ১৬৩৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৫৫65870
  • ভাল লাগল, পরিচয়। কিন্তু কিছু টুকটাক প্রশ্ন আছে। পপুলার সিনেমার কথাই বলতে গেলে, পরের দিকের বাংলা সিনেমাতেও কি এই বর্ণ, শ্রেণী এবং কিছু ক্ষেত্রে ধর্মের সীমা টপকে, মরাল অভিভাবককে অস্বীকার ক'রে প্রেম, বিয়ে বেশ ভালমতনই আসেনি ?
    কিছু একটা তফাত অবশ্যই এসেছে, কিন্তু সেটা ঠিক কোথায় ? মেয়েদের চরিত্রে ? পরের দিকে নায়িকা চরিত্রের মূলতঃ ঐ কেবল সাজুগুজু নাচাগানা করা শোপিসে ট্রান্সিসান হয়ে যাওয়াতে ? নায়ক চরিত্রের প্যাটার্নে বদল কোথায় এসেছে ? হিন্দি সিনেমার কায়দার ভিলেনকে ঝাড়পিট করাতে ?

    তবে, নাগরিক নায়ক/নায়িকা, নিম্নবর্ণ / নিম্নবিত্ত , কোন কোন সিনেমাতে সেভাবে এসেছে ?

    ধর্ম, আন্তঃধর্ম সম্পর্ক নিয়ে তুফান তোলা প্রসঙ্গে মনে হল, হিন্দু ক্রিস্টিয়ান সম্পর্ক নিয়ে হয়েছে, কিন্তু হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক নিয়েই বা বাংলায় ক'টা সিনেমা হয়েছে ? তখন, বা পরেও ?

    তবে, আরেকটা জিনিস আলাদা মনে হয়, সেসময়ের সিনেমা গুলি অনেক বেশি সাহিত্য নির্ভর ছিল।

    উত্তম-সুচিত্রার এই পপুলার ধারার সিনেমাগুলোর থেকে অন্যধারার সিনেমাকে কীভাবে কোন দিন দিয়ে আলাদা করবেন ? সিনেমা মেকিং, টেকনিক নিয়ে বলছিনা, চরিত্র, গল্প, এসব দিক দিয়ে কীভাবে কোথায় আলাদা হয়েছে এই নিয়ে একটু কথা হোক ?

    আর, 'লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠ এইভাবেই একটি নির্দিষ্ট নেশন আর তার ফেমিনিনিটির ধারণাকে এমবডি করবে, তাঁর আগের আমলের ‘মুসলিম ভ্যাম্প’ সুরাইয়ার কণ্ঠ আর চরিত্রদের সরিয়ে।' ... এটা নিয়ে একটা আলাদা লেখা পড়ার ইচ্ছা রইলো।
  • sosen | 177.96.17.240 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:০০65871
  • বেশ ভালো লাগলো, আলোচনা বাড়াবার আরো পরিসর আছে বলে মনে হয়, দ্বিতীয় পর্ব হতে পারে।
  • কল্লোল | 125.242.177.227 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:২০65872
  • লতার গড়ে ওঠা (বা, তোলা) বেশ কৌতুহলোদ্দীপক।
    মিডিয়ায় (তখনকার মিডিয়া - খবরের কাগজ, সিনেমা পত্রিকা, সাধারণের পত্র-পত্রিকা, বিবিধ ভারতী, রেডিয়ো সিলোন ইঃতে) লতাকে কেমং সতী সাধ্বী হিসাবে উপস্থাপন করা হতো। লতা নিজেও সেই ভাবমূর্তি বজায় রাখতেন। সাধারণ পরিসরে গান গাইতে এসে গলায় আঁচল জড়িয়ে গাইতেন। সারাজীবন "কুমারী" রইলেন। ওঁর সাথে রাজ সিং দুঙ্গারপুরের সম্পর্ক খুব ধোঁয়া ধোঁয়া রেখে দিলেন।তার ওপর দেশপ্রেমিক (অ্যায় মেরে ওয়তন কে লোগোঁ শুনে নেহেরুর চক্ষে জল)। উল্টো দিকে, সুরাইয়া, নূরজাহাঁ তো বাদ দিন(তাঁরা তো আবার মুসলমান!!) গীতা, আশা একেবারে মানে উচ্ছ্বলতার বা উচ্ছৃংক্ষলতার (বানান ক্ষমা করবেন - কিভাবে লিখবো?) হদ্দমুদ্দ। একজন "অন্য নারীর" কারনে (কি মুশকিল, তিনিও মুসলমান!!) মদে চুর, অন্যজন দুটি "সরকারী বিয়ে" ছাড়াও ও পি নাইয়ারের সাথে "ইন্টুমিন্টু"। দুজনের গানই তখন হয় সেনসুয়াল, নয় ভ্যাম্প ওষ্ঠে বিরাজ করে।
    এমত অবস্থায় লতা সনাতন ভারতীয় নারীর যে মহড়াটি নিলেন সেটি কৌতুহলোদ্দীপক।
  • কল্লোল | 111.63.223.84 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:৪২65862
  • দারুণ লাগলো পড়তে।
    অনেকদিন ভেবেছি কেন ঐ ছবিগুলো আজও আমাদের টানে। আমাদের বলতে আমি অবশ্য আজকে ৬০+দের কথা বলছি। আজকে যারা ২৫+ তারাও কি দেখে ঐ সব ছবি? কি জানি।
    ঘটনাচক্রে বিগত প্রায় ২মাস ধরে ৫০-৬০এর বাংলা ছবি দেখছি। বিশেষ করে যাত্রিকের পরিচালিত ছবিগুলো। পলাতক, চাওয়া-পাওয়া, কাঁচের স্বর্গ, স্মৃতিটুকু থাক ইত্যাদি। পরিচয়বাবুকে ধন্যবাদ, একটা সূত্র ধরিয়ে দিলেন - আমাদের অসমাপ্ত আধুনিকায়ন। মোক্ষোম বলেছেন মশয়, এটা কি মৈনাকের মত? মৈনাক মানে আমাদের হেমাঙ্গদার পুত্র? যাদবপুর ফিল্ম স্টাডিজ?
    এটা নিয়ে আরও লিখুন, বিস্তারে লিখুন।
    আপনার সাথে সব বিষয়ে মতে মেলে না। তা, সে তো হতেই পারে।
    আপনার থেকে অতিথি আর পলাতক নিয়ে লেখা চাই।
  • PM | 59.14.107.202 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৬:২১65863
  • ভালো লাগলো। আরো ভালো লাগলো "জটিল এবং তাত্ত্বিক " না হয়ে আমাদের মতো মূর্খ সিনেমা প্রেমীদের বোধগম্য হওয়ার জন্য।

    যে বই গুলোর রেফেরেন্স দিলেন সেগুলোর এক্টু ডিটেল দিলে ভালো হয়।

    কল্লোলদা ৬০+ থেকে বছর ২০-২৫ কমালেও ডিস্ট্রিবুসন খুব বেশী হের ফের হবে বলে মনে হয় না ঃ)
  • কল্লোল | 125.185.144.131 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৭:৩৮65864
  • পিএম। ও হ্যাঁ হ্যাঁ, ভুলেই গেছিলাম, তুমিও তো শাম্মীপ্রেমী।
    তবে কি আমার কেমং যেন মনে হচ্ছে তুমি বোধহয় ব্যতিক্রম।
  • পরিচয় | 128.138.22.177 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:১২65865
  • হ্যাঁ, কল্লোলবাবু। এখানে মৈনাক বিশ্বাস মানে হেমাঙ্গবাবুর পুত্রের কথাই হচ্ছে, উনি যাদবপুরে আমার শিক্ষক ছিলেন। আমার কাছে উনি শিক্ষকের চেয়েও অনেক বেশি কিছু, আত্মীয় বলা চলে।
  • পরিচয় | 128.138.22.177 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:২১65866
  • 1. Biswas, Moinak. 2000. "'The Couple and their Spaces': "Harano Sur" as Melodrama Now". In Making Meaning In Indian Cinema, ed. Ravi Vasudevan, 122-144. New Delhi: Oxford University Press.

    2. Biswas, Moinak. 2003. Historical Realism: Modes of Modernity in Indian Cinema 1940-1960. Unpublished doctoral dissertation submitted to Monash University.

    3. Nag, Dulali. 1998. "Love in the Time of Nationalism: Bengali Popular Cinema of the 1950's." Economic and Political Weekly, April 4: 779-787.

    4. Chatterjee, Subhajit. 2007. (Mis)Reading Romance: An Enquiry Concerning Representation of 'Love' in Bengali Literature and Cinema. Unpublished doctoral dissertation submitted Manipal University.
  • পরিচয় | 128.138.22.177 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৮:২৩65867
  • 5. Gooptu, Sharmistha. 2011. Bengali Cinema: 'An Other Nation'. London and New York: Routledge.
  • Souvik | 116.220.123.44 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:০২65868
  • এই লেখাটা বেশ ভালো লাগলো।তেহাই একটা উত্তম সন্খ্যা বার করেছিলো তাতেও মৈনাক বিশ্বাস,শুভজিত,ধীমান দাশ্গুপ্তর এই নিয়ে ভালো লেখা ছিলো।সন্জয়বাবুর ও বোধ্হয় ঐ নখ্হ্ত্র
    আসে বলে এক্টা লেখা ছিলো এই নিয়ে।
  • PM | 59.14.136.156 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৯:০৩65869
  • ধন্যবাদ পরিচয়বাবু
  • কল্লোল | 125.242.143.27 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২৯65876
  • লতা নিজের একটা সতী-সাধ্বী ইমেজ খুব যত্ন করে গড়ে তুলেছেন। সারা জীবনে একটা ছাড়া ক্যাবারে নাম্বার গান নি। ভ্যাম্পের লিপে যৌনতাগন্ধী গান গাননি বললেই হয়।
    হেমন্ত বা রাজ সিং দুঙ্গারপুরের সাথে ওনার সম্পর্ক নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করেছেন। জনসমক্ষে গান গাইবার সময় গলায় আঁচল জড়িয়ে গাইতেন।
    বিয়ে করলেন না। বেশ একটা সরস্বতী সরস্বতী ভাব।
    লতা স্বইচ্ছায় এরকম একটা ইমেজ বেছে নিয়েছেন, যেটা সুরাইয়া, গীতা দত্ত, আশার চাইতে আলাদা ও তখনকার প্রচলিত পুরুষতন্ত্রের সাথে কনফর্ম করে। আমার এটুকুই বলার ছিলো।
    কিন্তু আমি তো কোথাও কোন আপত্তি করিনি!!
    তবে এসবই সম্ভব হয়েছে ওনার গলাকে ধরে রাখার ও ক্রমাগত আরও ভালো আরও ভালো গাইবার জন্য কঠোর পরিশ্রমের ফলে। তার কৃতিত্বও ওনারই।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৩৪65877
  • এ হে হে , লতার সম্বন্ধে এইসব লেখার কি দরকার? যে সব হাজার হাজার রেকর্ডের গান আছে সেই সব নিয়ে অলোচনা হোক না।

    বহুবার শুনেই এই একটা গানই তো এখনো হজম করে উঠতে পারলাম নাঃ
  • Sathi sadhbee | 122.79.37.188 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৩৬65878
  • ব্যাপার টা কি ক্লিয়ার হল কী?

    কী জানি !!

    লতা কে শিল্পী হিসাবে দেখুন। তার বাইরে উনি কী কী করেছেন সেটা নিয়ে আপনার এত মাথাব্যথা কেন ?
  • dd | 116.51.27.253 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৩৮65879
  • "ক্যা করু রাম বুঝে বুঢ্ঢা মিল গয়া" এই গানটি গাওয়ার পর লতা এক সাক্ষাতকারে বলেন তাকে ভুল বুঝানো হয়েছিলো। পরে সিনেমায় গানের সাথে সিকোয়েন্স দেখে তিনি বুঝতে পারেন এটি বড্ডো চটুল । লতা বলেন আগে জানলে উনি এই গানটি গাইতেন না। এই মনোভাব উনি পুরো সংগীত জীবনেই মেনে চলেছেন।

    কল্লোল ঠিকই লিখেছে। নিজের কোনো মন্তব্য বা ভালো/খারাপ তো কিছু বলে নি। শুধু সযত্নে লালিত লতার ইমেজটাকে ডেসক্রাইব করেছে।
  • কল্লোল | 125.242.143.27 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৩৯65880
  • একক। গীতা রায়/দত্ত, সুরাইয়া, নূরজাহাঁ, শামশাদ বেগম, রাজকুমারী, উমাদেবী (যিনি পরে কমেডিয়ান টুনটুন বলে পরিচিত হন), লীলা চিটনিস এঁরা কেউ তাঈ বা বাঈ ব্যবহার করেন নি। এঁরা প্রত্যেকেই লতার পুর্বসূরী।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৪১65881
  • এবারে গীতা দত্তের জন্মদিনে তাঁর "সযত্নে লালিত" মদ্যাসক্ত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে হবে?
  • কল্লোল | 125.242.143.27 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৪৭65882
  • একজন শিল্পীকে কিভাবে দেখবো, তার সৃষ্টিগুলো সমসময়ের প্রেক্ষিতে কোথায় দাঁড়িয়ে থাকে - এসব নিয়ে তো কথা হবেই। সবার তাতে উৎসাহ নাও থাকতে পারে। তারা এসব পড়বেন না। তাহলেই হলো।
  • কল্লোল | 125.242.143.27 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৫৩65883
  • জম্মোদিনে কেন মৃত্যুদিনেও তো ওনার অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে যাওয়া, মদ্যাসক্ত হয়ে যাওয়া, আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে যাওয়া - এসব নিয়ে তো দিস্তে দিস্তে লেখা হয়েছে হচ্ছে হবেও। তাতে দোষের কি হলো?
    একজন শিল্পীর গড়ে ওঠা, ভেঙ্গে যাওয়া সব নিয়েই তো কথা হয়। প্রচুর গবেষনাও হয়।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:৫৯65884
  • সমস্যা হচ্ছে যে গায়ক ছাড়াও, বেশীর ভাগ গানের ক্ষেত্রেই কমপক্ষে আরো দুজন একটা গানের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কাজেই কোন গান নিয়ে আলোচনা করতে বসলে এই তিনজনের "সযত্নে লালিত" জীবন ও তিনজনেরই "গড়ে ওঠা, ভেঙ্গে যাওয়া" নিয়ে আলোচনা করতে হয়। তখন তাহলে অবিশ্যি আরেকটি আলোচনা শুরু করতে হয়ঃ "জীবন এত ছোট ক্যানে?"

    তার চাইতে চোখ বুঁজে গান উপভোগ করা অনেক better option!!
  • কল্লোল | 111.63.192.17 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:০৭65885
  • আলোচনাটা গান নিয়ে হচ্ছিলো না। একটা সময় জুড়ে, একজন শিল্পীর গড়ে ওঠা নিয়ে হচ্ছিলো।
    তাতে উৎসাহ সকলের থাকতেই হবে, এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে। চক্ষুমুদে গান শোনা ও একজন শিল্পীর হয়ে ওঠা নিয়ে চর্চার মধ্যে কোন বিরোধ নাই বলে আমার মনে হয়। দুটো-ই আমার কাছে বেস্টেস্ট অপশন।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:১৭65886
  • ঐ সময় জুড়েই গীতিকার ও সুরকারেরাও গড়ে উঠেন... আর তাঁদের লেখা ও সুর দেওয়া একটা গানের মাধ্যমেই একজন শিল্পী গড়ে ওঠেন। তাঁদের বাদ দিয়ে আলোচনাটা তাহলে হয় কি করে?
  • কল্লোল | 111.63.192.17 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:৪২65887
  • লতার নিজেকে শিল্পী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার মধ্যে গান একটা বিষয়। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও, একমাত্র বিষয় নয়। কি গান গাইবেন, কেন গাইবেন, কিভাবে গাইবেন, নিজেকে কিভাবে একজন শিল্পী উপস্থাপন করবেন সেটাও আলোচনা বিষয় হতে পারে।
    রবীন্দ্রনাথ কেন রবীন্দ্রনাথ তাই নিয়ে অজস্র সমাজতাত্বিক আলোচনা হয়। তাতে কারুর উৎসাহ নাই থাকতে পারে। কেউ মনে করতেই পারে - অত কচকচির কি আছে। চক্ষুমুদে গান শুনলেই হয়, বা মগ্ন হয়ে কবিতা-গল্প-উপন্যাস পড়লেই হয়। কেউ বারন করে নি। তেমনি অন্য আলোচনাও হতেই পারে।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:৫২65888
  • না, না সে অনেক কিছু হতেই পারে।

    কিন্তু সব চাইতে বড় কথা, যে যুগে লতা "গড়ে উঠেছেন" সেটা রেডিও বা গ্রামাফোনের যুগ। অর্থাৎ কিনা আমরা লতার ইমেজ মনে মনে তৈরি করেছি তাঁর গান শুনে। তাঁকে চোখে দেখে নয়। চোখে দেখা বলতে ঔ দু একটা যা ছবি কাগজে ছাপত। বাকিটা নবকল্লোল আর উল্টোরথের রসালো গপ্প!!

    লতার জড়ানো বা খোলা আঁচল যবে দেখেছি ততদিনে তাঁর ইমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছে।
    অর্থাৎ তাঁর গানই তাঁর ইমেজ তৈরি করেছে-যেখানে সুরকার আর গীতিকারের contribution-ও অনন্যসাধারণ।
  • কল্লোল | 125.242.181.30 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৪:১১65889
  • সারা ভারতের অজস্র সিনেমা সংক্রান্ত পত্রপত্রিকায় লতাকে নিয়ে লেখা চাবি প্রচুর ছাপা হয়েছে। ওনার সাক্ষাতকার, ওনার জীবন নিয়ে গাদা গাদা লেখা। নেহেরু কেমন করে কাঁদলেন ওনার গান শুনে, ওনাকে সরস্বতীর সাথে তুলনা করে লেখা - এসব শুধু উল্টোরথে ছাপা হতো না, ব্যাবাক ভারতীয় ভাষায় ও ইংরাজীতেও ছাপা হতো। সারা ভারত জুড়ে প্রচুর মঞ্চানুষ্ঠান করতেন অনেকের সাথে। এই সব জায়গাগুলি উনি সযতনে ব্যবহার করেছেন ওনার ইমেজ গড়ে তোলার জন্য।
    গীতিকার-সুরকার যেমন খুশী সুর করতে ও গান লিখতেই পারতেন, কিন্তু লতা সব গান গাইতেন না। ওনার ইমেজ টাল খায় এমন গান উনি কাদপি করতে রাজি হতেন না। ডিডির পোস্ট দ্রষ্টব্য। সঙ্গম ছবির ঐ ঘটনার পর উনি রাজকাপুরের ছবিতে গান গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ববিতে এসে রাজকাপুর ওনার হাতেপায়ে ধরে রাজি করান। এতোটাই ইমেজ সচেতন ছিলেন লতা।
  • ranjan roy | 192.69.73.221 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৫:০৮65890
  • কী যন্ত্রণা!
    পরিচয় পাত্র মশাইয়ের লেখাটি তো আদৌ উত্তম-সুচিত্রার কতগুলো ফিল্মে অভিনয়, কোনটা সুপারহিট, ওঁদের অভিনয়শৈলীর বৈশিষ্ট্য এসব নিয়ে নয়।
    কথা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমে ওঁদের সিনেমাগুলো, ওঁদের ইমেজ ( খেয়াল করুন-- উত্তমের চেহারায় ও ব্যক্তিত্বে এবং স্ক্রিপ্টে গ্রাম থেকে শহুরে অভিমুখ নিয়ে পরিচয়বাবুর সুচিন্তিত মন্তব্য) কেমন বা কী ধরণের সমাজতাত্ত্বিক ভূমিকা বা গণমানসে কী ইমপ্যাক্ট তৈরি করেছিল তা নিয়ে।
    সেই পরিপ্রেক্ষিতেই হেমন্ত ও লতার প্রসঙ্গ এসেছে; ওঁদের গান নিয়ে বা গানের শৈলী নিয়ে আলোচনার জন্যে নয়।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৫:৪৫65891
  • যন্ত্রণা বলে যন্ত্রণা!!
    লতা ৪০-এর দশকের প্রথমেই সিনেমায় গান গেয়েছেন। আর ১৯৫৮-তে Filmfare Award for Best Female Playback Singer . অনেকেই তখন হামা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে সবে। আর ইমেজ বুঝতে যে বয়েস লাগে ততদিনে লতা অবশ্যই ১০০০ গান গেয়ে ফেলেছেন। আর সেই কালে পব-তে "ব্যাবাক ভারতীয় ভাষায় ও ইংরাজীতেও ছাপা" কাহানি কত সহজলভ্য ছিল তা এট্টু এট্টু আম্মো জানি।

    নেহেরু না কাঁদলেও এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই যে লতা সাংবাদিককে চা-পানের পয়সা দিয়ে এমনতর গপ্প ফাঁদিয়েছেন নিজের ইমেজ গড়ে তোলার জন্য। কেউ যদি লতাকে নিয়ে নিজের পত্রিকা বেচার জন্য এসব গপ্প ফঁদে থাকে সেটা লতার সমস্যা নয়।

    সমস্যা অন্যত্র। আজকাল নিরপেক্ষ আলোচনার নামে আমরা বোধহয় ট্যালেন্টের স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা বোধ করছি। নাহলে "বার খেয়ে ক্ষুদিরাম" কোন গানের কথা হয় কিম্বা রঞ্জন বন্দো শুধু রবীন্দ্রনাথের (ওঃ সরি দাড়িদাদু!) সম্পর্কের পাঁক বেচে বড়লোক হয়ে যায়?
  • sm | 233.223.159.253 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৬:২৯65892
  • কোনো বড় শিল্পী কে নিয়ে আলোচনা হলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে।লতা প্রথম জীবনে সিনেমায় অভিনয় ও গান করা শুরু করেছিলেন। এটা কিন্তু তাঁর বাবার মৃত্যুর পর;নিজের ভাই বোন্ দের বড় করার জন্য।তখন কার দিনে সিনেমায় অভিনয় অনেকে খারাপ চোখে দেখত। হয়ত সেই জিনিস টা মুছে বা ভুলে যাবার জন্যই তার এমন স্বাধ্ধি ইমেজ। আবার হতে পারে সঙ্গীতকে তিনি সাধনা করেন; সেটা বোঝাতে এই ইমেজ। অথবা সত্য সত্যই তিনি সাধিকা ও সঙ্গীত তাঁর আরাধ্য।
    আমার কিন্তু তের চোদ্দ বছরের একটি বালিকার সমগ্র পরিবারের জন্য এই ত্যাগস্বীকার ও পরিশ্রম নজর টানে।
    তবে, হ্যা, আলোচনা ও বিশ্লেষণে কোন আপত্তি নেই।
    কিছু দিন আগে অবপ তে একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম; যেখানে অনেক ওস্তাদের পারিবারিক জীবন ও নেশার কথা বিবৃত ছিল।
    ভীমসেনজি নাকি একবার মদ খেয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দর্শকদের দিকে পিছন করে অভূতপূর্ব একটি মালকোষ/ দরবারী সমাপ্ত করেন।আরো অনেক ওস্তাদ দের বিভিন্ন কাহিনী লিপিবদ্ধ ছিল। এগুলো পড়ে তো অনেক কিছু জানা গেল। বোঝা গেল খালি দেবী সরস্বতীর সামনে সাধক হয়ে ধ্যান করা ব্যক্তি ই ওস্তাদ কা ওস্তাদ হন না। তাঁদের ও একটি পারসনাল লাইফ আছে। এতে অন্যায় এর কি আছে?
  • .. | 106.2.247.250 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৬:৩৯65893
  • রাজ কাপুর এমনই হাতে পায়ে ধরলেন যে তাপ্পর "ভোর ভয়ে পনঘট পে" তেও আপত্তি রইলনা আর "তুঝে বুলায়ে ইয়ে মেরি বাঁহেন" তেও না!
    কলিয়োঁ কা চমনেও অবশ্য আপত্তি ছিলনা। যদিও সেটা রাজ কাপুর নয়।
  • Parichay Patra | 128.138.22.198 (*) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:৩৬65873
  • ঈপ্সিতাদি, অনেকদিন পরে উত্তর দিতে পারছি। এক এক করে বলি।

    ১। পরের দিকের বাংলা পপুলার তার চেহারা বদলেছে বিপুলভাবে। পঞ্চাশের বাংলা সোশ্যাল অন্য ঐতিহাসিক চেহারায় ভাস্বর। সদ্য স্বাধীন দেশ এবং রাষ্ট্র নির্মাণ প্রকল্প, আধুনিকতা প্রকল্প। পরের ছবিতে সেসব অনুষঙ্গ নেই।

    ২। ৮০র দশকের বাংলা ছবির ফর্মের পরিবর্তন র‍্যাডিকাল, তাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে আমি এর তত সমজদার নই। আর নাগরিকত্ব সেই সিনেমায় তত প্রাসঙ্গিক নয়, যত পঞ্চাশের দশকে প্রাসঙ্গিক।

    ৩। হিন্দু মুসলিম আন্তঃ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে অনেক পরে। পঞ্চাশের ছবিতে দেশভাগ সবে হয়েছে, তখন অমুসলিম বাঙালির নতুন রাষ্ট্রে আত্মপরিচয় নির্মাণের একটা ব্যাপার ছিল। ক্রিশ্চান প্রসঙ্গ এসেছে একটি নস্টালজিয়ার অংশ হিসাবে। যেমন কেউ কেউ কৃষ্ণেন্দু চরিত্রে মাইকেলের ছায়া দেখেছেন।

    ৪। উত্তম সুচিত্রার ছবি আর সমসাময়িক অন্যধারার ছবির সাদৃশ্য আর বৈসাদৃশ্য দুইই বেশ প্রকট। এ নিয়ে বেশ বড় করে লেখা যেতে পারে।

    ৫। লতা আর সুরাইয়া দুজনের কণ্ঠ নিয়েই তাত্ত্বিক রচনা আছে, আমি লেখাতেই উল্লেখ করেছি। পরে বিস্তারিত নাহয় দেব আপনাকে।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন