ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

    Binary লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫৪৬৬ বার পঠিত
  • কিউবায় মোট পনেরোটি প্রভিন্স আর একটি যাকে ওরা বলে স্পেশাল মিউনিসিপ্যালিটি। আমরা যেখানে গেছিলাম সেই প্রভিন্সের নাম ভিলাক্লারা। আর যে শহরের এয়ারপোর্টে নামলাম বা উঠলাম , সেটা সান্টাক্লারা। এইটুকু ইনফরমেশন অবশ্য যাবার আগেই জানতাম। আর তার সাথে যেটা আমার শিকড়গত বামপন্থা জানিয়ে রেখেছিলো, যে এই সেই সান্টাক্লারা, গেরিলা যুদ্ধের তীর্থক্ষেত্র। চে'র মাত্র সাড়ে তিনশ গেরিলা বাহিনী হারিয়ে দিয়েছিলো আমেরিকান মদতপুষ্ট পাঁচ হাজার সেনা , ট্যাংক , কামান বন্দুক আর সবচেয়ে বড়ো কথা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা-কে। রক্তপাত বেশি হয়নি তার কারণ গেরিলা বাহিনীর ছিল তুমুল জনসমর্থন। এমনকি এরকম-ও শোনা যায় , পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সৈন্যরাও পরে স্বতঃস্ফূর্ত যোগ দিয়েছিলো চে'র সঙ্গে। সে যাগ্গে যাক। এসব কথা অবশ্য কোনো গাইড সেরকম করে বলেনি। খালি 'ব্যাটেল অফ সান্টাক্লারা' মেমোরিয়াল গ্রাউন্ড দেখানোর সময় বলেছিলো ১৯৫৮'র সেই যুদ্ধের কথা। আমাদের সঙ্গে যেসব অন্যান্য টুরিস্ট ছিল , তারা বেশি জিজ্ঞেস করেনি , আমিও আর সেসব প্রসঙ্গ তুলিনি। আর তাছাড়া মেমোরিয়াল গ্রাউন্ডটা বহরে বেশ ছোট , আর গেরিলা যুদ্ধের সাক্ষি হিসেবে ট্রেনের ওয়াগনটা রাখা আছে। আসলে এই আবেগগুলো আমার যুবাবয়সের , তাই মাঝে মাঝে শিরদাঁড়া শিরশির করে।

    চে মেমোরিয়াল। অনেকগুলো কিউবিকল কংক্রিটের স্ট্রাকচার। একটা সাদা অনেক উঁচু রেকটেঙ্গুলার থামের ওপরে বাইশ ফুট দৈর্ঘের চে'র মূর্তি। এখানে ১৯৯৭ সালে বলিভিয়া থেকে উদ্ধার করা চে'র দেহাবশেষ সমাধিস্থ আছে। আর সঙ্গে তার ছয়জন গেরিলা কমরেড-এর দেহাবশেষ। রাজনীতি মানুন আর নাই মানুন, বামপন্থায় বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এইখানে দাঁড়ালে মন উতলা হবেই। আমি অন্তত রোমান্স-এ বিশ্বাস করি। এই একজনের স্বপ্নে আমার কলেজ জীবনের পরে প্রজন্ম পেরিয়ে এসেও গায়ে কাঁটা দেয় আমার। একটা সফল বিপ্লবে যার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। তারপরে-ও কঙ্গো আসে বলিভিয়া আসে। খুব কি মেলোড্রামাটিক শোনাচ্ছে ? নাহয় তাই। মেনে নিতে দোষ নেই।

    যাই হোক , সান্টাক্লারা দেখা ওই পাঁচ ছয় ঘন্টা। প্রথমত: আমরা যেখানে রিসর্টে থাকতাম , সেখান থেকে সান্টাক্লারা শহর প্রায় দুই ঘন্টার পথ। তাই রিসর্টে আরাম করব, সমুদ্রে চান করে বাদামি চামড়া আরো বাদামি করবো, সকাল বিকেল হাভানাক্লাব-উইথ-আনারসস্মুথি খাব, জীপসাফারি যাব , কার্নিভাল দেখতে যাব , মেয়ে-র বায়না মতো ডলফিনশো দেখতে যাব এইসব করে সান্টাক্লারা দেখতে দেখতে একদম ফেরারদিনে হয়ে গেল । আমাদের ফেরার উড়ান ছিল সন্ধ্যে সাতটায়। সকাল নয়টায় বেড়িয়ে , গোভিয়াটা বাস সান্টাক্লারা শহর দেখিয়ে , এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলো বিকেল পাঁচটায়। চে'মেমোরিয়াল আর ব্যাটেলগ্রাউন্ড দেখা লাঞ্চ করার পরে আর অন্যকিছু দেখার সময় ছিল না।

    এইখানে বলে রাখি। আমার সাথে যতজন কিউবান মানুষের কথা হয়েছিল তারা সবাই প্রায় নবীন প্রজন্মের। আশির দশকে জন্ম। খুব বেশি হলে সত্তরের শেষ-এ। এরাই একটু আধটু যা ইংরেজি বলতে পারে। তো এদের চে'র ওপর শ্রদ্ধা আছে , আমাদের যেমন আছে মহাত্মা গান্ধী বা নেতাজি কে নিয়ে। এরা একটা সমাজতান্ত্রিক সিস্টেম-এ জন্মেছে , বড়ো-ও হয়েছে। এদের কাছে বিপ্লবটা নকশাল আন্দোলন-এর চেয়েও আগের। এদের কাছে ১৯৫৯ এর বিপ্লব ঠিক সপ্ন নয় বরং কিউবা'র একটা গৌরবময় ইতিহাস। এই রকম-ই আমার মনে হলো। একদিন রাতের দিকে বার-এ বসেছিলাম। একটি মেয়ে সার্ভ করছিলো। বয়স চব্বিশ-পঁচিশ হবে। একটু রাতের দিকে বলে একটু ফাঁকা-ই ছিল। আমি মেয়েটাকে পাঁচ পেসো টিপস দেওয়াতে , খুব খুশি হয়ে গালে একটা চুমু দিলো। এরকম হাসি খুশি মেয়েপুরুষের কথা তো বলেই আসছি। তো সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম চে'র কথা। তাতেই মনে হলো , চে আর ফিদেল ওদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ'র মতো। আমাদের রিসোর্টের কাছে, একটা শপিং প্লাজা ছিল। বা সান্টাক্লারাতেও দেখলাম অনেক কিউবান মেমেন্টো শপ। যেরকম সব শহরে , সব টুরিস্ট স্পটেই থাকে। সেইসব দোকানে অন্য অনেক কিছুর সাথে ভরিয়ে চে। বাঁশের মগ-এ চে'র ছবি। চে টিশার্টে-র আলাদা একটা সেকশন। শটগ্লাসে চে'র ছবি। বুকসেল্ফ-এ চে'ফিদেল-র বই। বিপ্লবের ইতিহাস। আমি-ও কয়েকটা জিনিষ কিছু কিনলাম। একটা বই কিনলাম 'ফিদেল আর রিলিজিওন'। এখনো পড়তে শুরু করা হয়নি। সবচেয়ে জরুরি ছিল বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলা যারা ১৯৫০-১৯৫৫-এর আগে জন্মেছেন। এরকম মানুষ কম-ই আলাপ হওয়ার সুযোগ হলো , আর হলেও হয়তো ভাষা ব্যবধানে আলাপচারিতা জমতো না।

    শপিংপ্লাজা বলতে মনে হলো বলে রাখি , কিউবা'র শহরের রাস্তাঘাট, সান্টাক্লারাতে পেডেস্ট্রিয়ান স্ট্রিট , রিসর্টের লাগোয়া প্লাজা সবখানে ইউরোপিয়ান স্টাইল। মানে রোম , ফ্লোরেন্স মনে পরে গেলো হাতে হাতে। সেইরকম ছাতাওয়ালা বাইরে বসার রেস্তোরা। সেই রকম গিটার বাজিয়ে গাইয়ে। দোকান বাড়িগুলোর সেই রকম আর্কিটেকচার। তফাতের মধ্যে এটাই , আগে যেমন বলেছি , এখানে কোনো ম্যাকডোনাল্ডস নেই বা নাইকের শোরুম নেই। শুধু তাই নয়, একটাও বিজ্ঞাপনে-র বিলবোর্ড নেই। একদিন রিসর্টের কাছে প্লাজাতে , একটা হলুদরঙের সিমেন্টের গাজিবো মতো জায়গায় বসে আছি। বেশ বড়ো জায়গাটা। ছয়-সাতটা লোহার বেঞ্চ। চারিদিকে ঘাসের লন। তিরিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ঝলমলে রোদের মধ্যে শীতল ছায়া টাইপ। দুজন বয়স্ক লোক , স্বামী-স্ত্রী-ই হবে। বরের হাতে গিটার , আর মহিলার হাতে একটা বংগো । আমায় জিজ্ঞেস করলো 'ইংলিশ ওর স্প্যানিশ'। আমি ইংলিশ বলাতে , আমার হাতের ঝোলা থেকে বের করে দুটো ম্যারাকাস ধরিয়ে দিলো। তারপর মহিলা আমার পাশে বসে স্প্যানিশ গান ধরলেন। নিজেই বংগো বাজালেন সাথে , আর ওর বর ঝমঝমিয়ে গিটার। আমায় ম্যারাকাস নিয়ে তালে তালে ঠেকা দিতে হলো। অসাধারণ একটা নাচুনে সুর। মন খুশি হয়ে যায়। আমার মেয়ে খুশি হয়ে একটু কোমর দোলালো। তারপর ওরা আরো একটা গান গাইলো। সেটা অবশ্য অতি পরিচিত গান। গোয়ান্তানামেরা। আমরা ছাড়াও বাকি যারা আশেপাশে ছিল , সবাই তিন পেসো চার পেসো করে বকশিস দিলো বুড়োবুড়িকে।

    ***
    কিউবার সমুদ্র অত্যন্ত সুন্দর। মিহি সাদা বালির সাগর সৈকত। জুন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হ্যারিকেন সিজিন বাদ দিলে , শান্ত আটলান্টিক।
    সাদা বালিয়াড়ি পেরিয়ে , অনেকদূর হেঁটে জলের ভেতর যাওয়া যায়। প্রায় স্বচ্ছ নীল জল। মোটরাইসড স্পোর্টস প্রায় নেই বলে দিগন্তে কিছু মার্চেন্ট শীপ ছাড়া ধু ধু নীল জল। আমাদের রিসর্টের নিজস্ব বীচ-এ দুটো বীচবার ছিল। সকাল ছটা থেকে বিকেল ছটা পর্যন্ত অফুরান সূরাপানের আয়োজন। ডিসেম্বরে তাপমান আঠাশ থেকে তিরিশের কাছে সেন্টিগ্রেড স্কেলে। তবে আদ্রতা তেমন নেই , যেমন থাকার কথা সমুদ্রের জন্য। প্রতিদিন ঝলমলে রুদ্দুর ছিল , আমরা যেকদিন ছিলাম।

    ফেরারদিন দেখলাম সান্টাক্লারা এয়ারপোর্টের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ট্রানসিট লাউঞ্জ। দুটো মাত্র গেট , আর সব উড়ান-ই কানাডা-র আর একটা ফ্লোরিডা যাচ্ছে। কোনো এয়ারওব্রিজ-টিজ নেই। উড়োজাহাজ গুলো দাঁড়াচ্ছে প্রায় গেটে-র মুখে , আমরা গেট দিয়ে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে প্লেনে উঠলাম। একটা মাত্র ডিউটি ফ্রি শপ। আর একটা ক্যান্টিনের মতো কাউন্টারে বার্গার বিক্রি হচ্ছে। তিরিশ ডিগ্রি তাপে আমি গেঞ্জি আর হাপ্প্যান্ট পড়ে ছিলাম , প্লেনে ওঠার আগে বাথরুমে ঢুকে শীতের জোব্বা পরে নিলাম , কারণ পাঁচ ঘন্টার উড়ানের পরে দ্যাশে-র শহরে নামবো , ওয়েদার নেটওয়ার্ক বলছে সেখানে -৩০ ইন সেন্টিগ্রেডস্কেল।

    আগাম ওয়েদার দেখার কথায় মনে হলো , ইন্টারনেট ইত্যাদি কিউবা তে খুব-ই কন্ট্রোলড। প্রায় অলভ্য-ও বলতে পারেন। কাজকর্ম-ও বহু জায়গায় জাবেদা খাতায় হাতে লিখে হচ্ছে দেখলাম। আমাদের রিসর্টে , বাফে ছাড়াও দুটো আলাকারটা রেস্তোরা ছিল। সেখানে আগে থেকে বুকিং করতে হতো। তো সেসব বুকিং দেখলাম প্রাকঐতিহাসিক নীল রঙের বাঁধাই খাতায় হচ্ছে। রেস্তোরা-টা অবশ্য খুব-ই হাল ফ্যাশনে-র আর ভালো। একদিন স্টার্টারে , ঝিনুকের মধ্যে নারকোল আর চিংড়ি দিয়ে একটা আইটেম খাওয়ালো , মনে করলেই ভালোলাগছে। যেকথা বলছিলাম , ইন্টারনেট পরিষেবা-র অৱস্থা নেহাত-ই করুন। ETECS যেটা নাকি কিউবান টেলিকম কোম্পানি , তাদের ডাটা কার্ড কিনতে পাওয়া যেত ঘন্টাপ্রতি এক পেসো। কিন্তু তাতেও অনেক সাইট রেস্ট্রিক্টেড আর কন্ট্রোলড ছিল। এর কারণ কি, কেন, কোথায় নিয়ে বিস্তারিত অন্য কোনোখানে বলা যাবে , আপাতত বলি , ইন্টারনেট নিয়ে ওই আটদিন প্রভূত সমস্যায় ছিলাম আমরা , বিশেষ করে আমার মেয়ে।

    আমেরিকার সাথে কিউবা'র লাভ-হেট সম্পর্কের কথা হোক একটু। ১৯৫৯-এর বিপ্ল্বের পর , কিউবায় আমেরিকার যত বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান , পাওয়ার প্ল্যান্ট , তৈল শোধনাগার সব কিউবার প্রলেতারিয়েত সরকার দখল করে। তারপরে ১৯৫৯ থেকে পরবর্তী কুড়ি বছরে প্রায় দশ শতাংশ কিউবান নাগরিক আমেরিকায় পালিয়ে আসে। এরা যদিও প্রধানত বিপ্লব পূর্ববর্তী জামানার উচ্চবিত্তশ্রেণী , কিন্তু মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবি -ও আছে এদের মধ্যে। প্রথম দিকে আমেরিকান এমবার্গো'র জন্য , এরা গেছিলো বেআইনি পথে , নৌকায় , স্টিমারে। পরে আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে বছরে ২০,০০০ কিউবান কে ভিসা দেওয়ার নীতি নেয়। যাই হোক এমবার্গো চালু আছে গত অর্ধশতক। আমেরিকা কিউবার অর্থনীতিতে সাহায্য করে না, এমনকী বন্ধু দেশ যারা আমেরিকান ডলারের মুখাপেক্ষই তাদের-ও ঘুরিয়ে সাহায্য না করা শর্তাধীন রাখে। ওই আগে যেটা বললাম, কিউবা'র ইন্টারনেট ব্যবস্থার দুর্দশা হওয়ার এটাও একটা কারণ। তো যাইহোক এতো কথা বলতে গেলে ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে। আমেরিকায় চলে আসা কিউবান আমেরিকানরা দেশে ফেলে আসা আত্নীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব-কে এখনো ডলার পাঠিয়ে থাকে। ওবামা জামানায় কিছু কিছু শিথিলতা হয়েছিল এমবার্গো-তে, সেই সময়-ই কিউবার কমিউনিকেশ ব্যবস্থা-র কিছু উন্নতি হয়। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প সাহেব আবার এইরকম ডলার ট্রান্সাকশন-র ওপরেও বিধি নিষেধ আরোপ করার চেষ্টায় আছে।

    তো আমায় এলিন (সেই জীপসাফারির গাইড মেয়েটি) বললো যে , কিউবা ক্লাসলেস সমাজ। মোটের ওপরে কথাটা সত্যি হলেও আমেরিকান সাহায্য পাওয়া আত্মীয় বন্ধুবান্ধব নাগরিক বৃন্দ অপেক্ষাকৃত বিলাসিতা করতে-ও পারে। ভালো জুয়েলারি পড়তে পারে , সৌখিন জুতো জামা পড়তে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাতে অবশ্য কোনো আফশোস নেই কিউবাতে। হাজারহোক একশো আমেরিকান ডলার মানিট্রান্সফার হয়ে এলে , সে যে নামেই আসুক , একশ ডলারতো যোগ হচ্ছে কিউবার অর্থনীতিতে।

    আরেকটা গুরত্বপূর্ন কথা। ক্রিসমাসের দিন বা ক্রিসমাস ইভে দেখলাম খুব হৈচৈ। কার্নিভালের কথা তো বললাম-ই , তাছাড়া-ও রিসর্টে স্পেশাল ডিনার। রিসর্টের থিয়েটারে সান্তাক্লজ শো বাচ্চাদের জন্য। এইসব দেখে আমি সেই ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করেছিলাম , 'ডু ইউ প্রাকটিস রিলিজিওন ?, কারণ আমি জানি ক্লাসিকাল ক্যামিউনিজম ধর্ম মানে না , যেমন চীন'। তাতে বললো , কিউবান রা রোমান ক্যাথলিক। আর পুরো দস্তুর ধর্মীয় আবেগপ্রবন। চার্চ আছে প্রতিশহরে , গ্রামে। ধর্মকে আমরা সংস্কৃতি হিসেবে দেখি। তবে চার্চের কোনো একটিভিটি নেই , চার্চ থেকে সমাজের ওপর কোনো আদেশ দেওয়া নিষিদ্ধ। এইটুকু-ই জানলাম। ফুর্তিবাজ কিউবানদের ক্রিসমাস ইভে নাচতে দেখলাম।

    সান্তা ক্লারা এয়ারপোর্ট থেকে একটা ইলাস্ট্রেটেড চে'র পোস্টারে-র বই কিনে ছিলাম। তাতে চে'র বাণী দেখলাম If you tremble with indignation at every injustice, then you are a comrade of mine.

    বিদায় কমরেড। তোমার স্ট্যাচু আমার কাছে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির থেকেও উঁচু।

    (শেষ)
  • | বিভাগ : ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫৪৬৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:৫৫64559
  • শুধু হাইতি কেন ? বাহামাস , ডমিনিক রিপাবলিক ইভিন মেক্সিকো-র তুলনায় ও কিউবা দশ ধাপ ওপরে । কিউবা একমাত্র দেশ ওই জায়গার , যেখানে ড্রাগ কার্টেল শূন্য
  • T | 165.69.191.252 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:১৬64560
  • চারটি পর্বই পড়লাম। বেশ লাগল।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:৩১64561
  • ম্যালেরিয়ার ওষুধের জন্য নোবেলপ্রাপ্তা বিজ্ঞানী কোন দেশে বাস করেন, দেখে নেবেন। আর বাইনারিদার একটা কথা রিপিট করতে ইচ্ছে করল, একটু গুগল করলেও তো হয়।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:৪৭64562
  • আমাদের সেই ঝম্পিতাদির কথা মনে পড়ে। বিদেশে বাগানে একটা মশা পেয়ে কী উল্লাস! "আছে রে আছে। এখানেও মশা আছে। "
    ঃ-)
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:৫০64563
  • সিরিয়াসলি বাইনারিদা,
    বিপজ্জনক ভাবে বোটে চড়ে শয়ে শয়ে লোক স্বর্গরাজ্য ছেড়ে পালায় কেন, সেটার কারণ খোঁজাটা কি দরকার না?
  • T | 165.69.191.252 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:৫৪64564
  • বিদেশে বাগান আছে। আর বাগোঁ মে বাহার হ্যায়।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:০১64565
  • বাগিচায় বুলবুলি ও আছে। কবি বাগিচার বুলবুলিকে বলেছেন, "ফুলশাখাতে দিস নে আজি দোল"
    ঃ-)
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:২৬64566
  • Atoz, কিউবাতে প্রথম সারির বিজ্ঞানী, লেখক বা অন্যান্য কলাকুশলী কজন তৈরি হয়েছেন, এটা বোধায় অতোটা ইমপর্ট্যান্ট প্যারামিটার নয়। মানি কিউবা বলতে আমি টোটাল স্টেট কন্ট্রোলের কথা বলছি, যে দেশে সবকিছু সরকারের হাতে। তার কারন দেখুন, আগেকার সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ইস্ট ব্লক নেশানগুলোতে যখন এরকম স্টেট কন্ট্রোল ছিল, তখনও সেসব দেশে অনেক পরিমানে দিকপাল বিজ্ঞানী আর সাহিত্যিক এসেছেন, ইতিহাসে যাঁদের নাম থেকে যাবে।

    আমি আগেও লিখেছি, স্টেট কন্ট্রোলের আসল অসুবিধে হলো মানুষের ইনিশিয়েটিভ নষ্ট করে দেয় (আমি য্টুকু বুঝেছি আর কি)। স্টেট কন্ট্রোল একটা অ্যাবসোলিউট পাওয়ার হায়ারার্কির জন্ম দেয়, সে কিউবাতেই হোক বা আগেকার সোভিয়েত ইউনিয়ন, যাতে স্টেটাস কুওকে বা অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করার ইচ্ছেটা নষ্ট করে দেয়। আর যার ফলে দেশটা স্ট্যাগনেট করতে শুরু করে, যা সোভিয়েত ইউনিয়নে হয়েছিল।

    কিউবার ক্ষেত্রে এরকম প্রশ্ন হতে পারতো, ওখানের হেল্থ সিস্টেম সারা পৃথিবীর মধ্যে এতো ভালো, তাহলেও ওখানে মেডিসিনে বা মেডিকাল টেকনোলজিতে তেমন কোন গ্রাইন্ডব্রেকিং কাজ হচ্ছে না কেন। এখানে হয়তো কিছুটা ঐ ইনিশিয়েটিভের কথা আসতেও পারে, যে কিউবান মেডিকাল কমিউনিটিতেও কোন ইন্ডিভিজুয়ালের সেই পাথব্রেকিং ডিশিশান নেওয়ার ক্ষমতা নেই যা অনু কিছু দেশের মেডিকাল লোকজনের আছে। তবে আমার মনে হয় এর অন্য কারন থাকতে পারে, যার অন্যতম হলো কিউবার বিরুদ্ধে আমেরিকার ভয়াবহ ইকোনমিক ব্লকেড।

    আগেই লিখেছি, স্টেট কন্ট্রোলের দুঃস্বপ্নের দিকটা হলো ইনিশিয়েটিভ এর জায়গা না থাকা (আমার মতে)।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩৬64567
  • ডিসি,
    পুরাতন সোভিয়েতেও খুব কম দিকপালের নামই বাইরে মুক্ত দুনিয়ায় এসেছে। অপরদিকে মুক্ত দুনিয়ার লোকগুলোকে দেখুন, সে লেজারের কাজ হোক, কসমোলজির কাজ হোক, কোয়ান্টাম এনট্যাংগমেন্টের কাজ হোক, হিউম্যান জেনোম প্রোজেক্ট হোক, সুপার স্ট্রিং তত্ত্ব হোক ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি হোক, সামরিক গবেষণা না হলে সবটাই বেশ ভালোভাবে প্রচারিত। কিছু কিছু সামরিক গবেষণাও অনেকসময় ডিক্লাসিফাই করে দেওয়া হয়। কাজগুলো প্রচারিত হলে সব ক্ষেত্রেই গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নাম বাইরে আসে।
    কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, এইসব ক্ষেত্রগুলোতেই সোভিয়েত আমলে খুব কাজ হয়েছে, অনেক অগ্রগতি হয়েছে, অথচ কজন বিজ্ঞানীর নাম সেভাবে বাইরে এসেছে? আরে ওরা তো পেপারও দ্রুত পাবলিশ করতে পারতো না, সোভিয়েত সেন্সর পার হতে হত, তাতে বছরের পর বছর লেগে যেত। সোভিয়েত ভেঙে যাবার পর এইরকম বহু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেক বিজ্ঞানী বলেছেন যাঁরা এখন নানা দেশে বাস করেন ও কাজ করেন।
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩৭64568
  • "বিদেশে ভারতীয়্দের এই "ছ্ড়াছড়ি" ঠিক বোধগম্য হয়না। তাঁরা সফল হন কারণ সম্ভবতঃ তাঁরা বিদেশে কোন আর্থসামাজিক সিস্টেম তৈরি করেন না। যেটা প্রচলিত ব্যব্স্থা, নিজের বুদ্ধি প্রয়োগ করে সেটার ব্যবহার করেন মাত্র।"

    পিটিদা, একদম ঠিক বলেছেন। এই যে একটা আর্থসামাজিক সিস্টেম বা এমপাওয়ারিং এনভায়রনমেন্ট, এটা খুব জরুরী (এটাই বলতে চাইছি, কিউবা বা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো স্টেট কন্ট্রোলড দেশে এরকম সিস্টেম থাকে না)।

    মাইক্রোসফটের উদাহরন দেখুন। স্টিভ বলমারের আন্ডারে মাইক্রোসফট ডুবতে বসেছিল, অথচ সত্যবাবু এসে আবার কোম্পানিটাকে টেনে তুলছেন। নতুন অর্গ কালচার আমদানি করেছেন, অন্য লিডারশিপ মডেল তুলে ধরেছেন, যার ফলে মাইক্রোসফট পুরনো চিন্তাভাবনা ছেড়ে নতুনভাবে সার্ভিস ডেলিভারির জায়গায় যাচ্ছে। তো এরকম সত্য নাদেলারা ভারতে কেন এরকম নতুনভাবে কাজ করতে পারেন না? একজন নারায়নমূর্তি, একজন ক্যাপ্টেন গোপীনাথ কেন, অন্তত দশপনেরোটা কুমীরছানা কেন ভারতে তৈরী হয়না? সেটা কি ওরকম এমপাওয়ারিং এনভায়রনমেন্ট বা ওরকম আর্থসমাজিক সিস্টেম নেই বলে? আমাদের দেশে কি আমরা অথরিটি বা স্ট্যাটাস কুওকে সহজে পাল্টানোর কথা ভাবতে পারিনা?
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩৯64569
  • ডিসক্লেমার দিতে ভুলে গেছিঃ আমার একটা ভাই মাইক্রোসফটের রেডমন্ড অফিসে কাজ করে, তার সাথে মাঝে মাঝে সত্যবাবুকে নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সে ব্যাটা আমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করে না।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪১64570
  • গবেষণা বা নতুন ধরণের সাহিত্য রচনা এইসব জিনিসগুলোই তো নতুন পথে যাওয়া, অজানাকে জানতে চেষ্টা করা, প্রশ্ন করা---সেই জিনিসটা বাই ডেফিনিশন কন্ট্রোলের ধারণার উল্টো। কোনো সমাজ স্টেট কন্ট্রোলড হলে এইগুলোর উপরে পাহারা বসবেই।
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪৬64571
  • Atoz, পুরোটা একমত হতে পারছি না। পিওর সায়েন্সে সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের অনেক কনট্রিবিউশান আছে, লেভ ল্যান্ডাউ আর চেরেঙ্কভ এর নাম তো হাতের কাছেই আছে, একটু মনে করলে আরো কয়েকজনের নাম বলে দিতে পারবো। আর সাহিত্যেও তো কারা যেন সব আছেন, আমি সহিত্যে লবডংকা বলে নাম বলতে পারছিনা, তবে গোর্কি টোর্কি আর অন্য কারা যেন আছেন।

    হ্যাঁ পশ্চিম দুনিয়ায় যে লেভেলের সাস্টেন্ড কাজ হয়েছে, সেরকম হয়তো সোভিয়েত ইউনিয়নে হয় নি। তার একটা কারন ঐ ক্ষমতার হায়ারার্কি, যেটা অন্যরকম ভাবার অবকাশ দেয়না। তবে পশ্চিম দুনিয়া যেভাবে মিডিয়াকে ব্যবাহার করতো সেভাবে ইস্ট ব্লক করতে পারতো না, সেটাও একটা কারন হতে পারে।
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪৯64572
  • "কোনো সমাজ স্টেট কন্ট্রোলড হলে এইগুলোর উপরে পাহারা বসবেই"

    অনেকটাই একমত। আজকের চীনেও দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে চীন ফ্রিমার্কেটের দিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা সরে এসেছে বটে (পুরো দেশে না হলেও, কয়েকটা বড়ো বড়ো ফ্রিমার্কেট এরিয়া তৈরি করেছে), কিন্তু চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে নজরদারী চালিয়েই যাচ্ছে। কিউবাতেও মনে হয় এরকম নজরদারীর ব্যাব্স্থা আছে, তবে হয়তো চীনের থেকে লো টেক।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫২64573
  • আরে পাস্তেরনাক না কে যেন, বিখ্যাত সাহিত্যিক, তাঁকে তো নোবেল নিতে যেতে দিল না! কী অবস্থা!
    আর তারপর সেই লাইসেঙ্কোবাদ, সেই নিয়ে ধুন্ধুমার!
    আর এই আন্দ্রেই লিন্ডে, ইনি তো কসমোলজি নিয়ে সে এ এ এ ই কোন সত্তরের দশক থেকে তুমুল ভালো কাজ করছেন, কাজগুলো বের হতেই পারতো না বেশিরভাগ! সেন্সরে নাকি আটকে যেত। তারপর সোভিয়েত ভাঙল, উনিও সুড়ুৎ করে চলে গেলেন স্ট্যানফোর্ডে, নিশ্চিন্তে কাজ করছেন।
  • dc | 57.15.29.228 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫৬64574
  • আহা আন্দ্রেই লিন্ডে! য়ুটুবে ওনার বেশ কিছু ভিডিও আছে, ওনার অ্যাক্সেন্টটা দুর্দান্ত ঃ)
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫৮64575
  • ব্যক্তিগতভাবে এইখানেই আমার আপত্তি। টাকাকড়ি বাড়ি গাড়ি চুলোর দোরে যাক, দিক ব্যারাক বানিয়ে, সবাইকে নীলজামা পরতে দিক, দুবেলা দুমুঠো খেতে দিক, কোনো আপত্তি নেই। ন্যূনতম চাহিদাগুলো খাদ্য বস্ত্র আশ্রয় শিক্ষা চিকিৎসা যদি দেয়, বেশি চাই নে।

    কিন্তু মানুষের মুক্ত অনুসন্ধিৎসার উপরে পাহারা বসবে, এ মানতে পারবো না।

    আলোচাল খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু হরিন্নামে বাধা দিলে মানতে পারবো না।
  • প্রক্ষালণ | 195.220.101.18 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:১৬64576
  • কিন্তু কিউবার কমোড কীরকম দেখলেন কমরেড? বুর্জোয়া না প্রলেতাড়িয়েত? শাওয়ার জেট আছে?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:১৮64577
  • ক্যান্সার নিয়ে কিউবাতে পাথব্রেকিং কাজই হচ্ছে আর সব ঠিকঠাক চললে অনেক অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।
  • PT | 213.110.242.25 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:২৪64578
  • "কিউবান মেডিকাল কমিউনিটিতেও কোন ইন্ডিভিজুয়ালের সেই পাথব্রেকিং ডিশিশান নেওয়ার ক্ষমতা নেই"
    ভারতে তো আছে। তো এখানে কেমন পাথব্রেকিং কাজ হচ্ছে?
  • dc | 116.208.89.232 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:৪৯64579
  • পাই ম্যাডাম এই কাজ নিয়ে আরো ডিটেলে লিখুন না, জানতে চাই।

    পিটিদা, আছে কি? আমার তো মনে হয় অথরিটিকে বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া একেবারে ভারতীয় সভ্যতার অঙ্গ।
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:৫৭64580
  • আহারে এতো এতো বুর্জোয়া পুঁজিবাদী দেশ , যেখানে নাকি মানুষ সর্গদ্বারে বাস করছে , গরিবি নেই , হোমলেস নেই , ঝাঁ চকচকে কোমড আছে , ইউরিনাল আছে , একটা ইনসিগ্নিফিক্যান্ট দেশ কিউবার কিছু ভালো বললে গায়ে জ্বালা ধরছে গো । এতো হিংসুটে হতে নেই ভাই ছি: :) :)
  • sm | 52.110.145.142 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:০৮64581
  • আমার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
    একটি ক্যাপিটালিস্ট দেশে , ধরা যাক আমেরিকা-সেখানে অনেক গবেষণা বড় বড় কোম্পানি ,স্পনসর করে।
    উদাহণস্বরূপ,একটিটেবল এ তিনজন বসলো তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে, ব্রেস্ট ক্যানসার এর কারণ, ডিমেনশিয়া র ঔষধ ও ফাইলেরিয়া সংক্রান্ত রিসার্চ। এই তিনটির মধ্যে থেকে ডিমেনশিয়া ঔষধ এর গবেষণা ছাড়পত্র পেল। কেন? না, কোম্পানি জানে এই ঔষধ সামান্য কাজ করলেও মার্কেট থেকে প্রচুর টাকা তোলা যাবে।
    সিমিলারলি কোন সফটওয্যারের গবেষণাতে প্রচুর টাকা ঢালা হবে ,পিয়র ফিজিক্স এর তুলনায়।
    অর্থাত বাজারী অর্থনীতি আমার স্বাধীনতায় ডাইরেক্ট হস্তক্ষেপ করছে। যেটা কোনো মতেই স্টেট কন্ট্রোলড কম্যুনিস্ট কান্ট্রির তুলনায় কম নয়।
    তাহলে আমেরিকার তুলনায় সর্বক্ষেত্রে রাশিয়া বা পূর্ব ইউরোপ পিছিয়ে কেন?
    কারণ আমেরিকা বা অনুরূপ ধনতান্ত্রিক দেশের পয়সা খুব বেশি। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যতটা খরচ করতে পারে সেটা সমাজতান্ত্রিক দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
    আবার তাদের আবিষ্কার বা ইনোভেশন অনেকাংশে বাজার কেন্দ্রিক বলে আখেরে, অর্থনীতি শক্তিশালী ও বটে। তাঁর মানে এই নয় কোন উদ্ভাবনী ইচ্ছা জাগলেই সেই চারা গাছ জল দেবার জন্য ধনতান্ত্রিক দেশ সর্বদা ঝাড়ি নিয়ে প্রস্তুত।
    আর একটা দিকে আলোক পাত করি।
    ধনতান্ত্রিক দেশে পয়সা ও লোভের কদর খুব বেশী।
    আমার ছেলের হার্ট অপারেশন করতে কুশলী সার্জেন এর কাছে নিয়ে গেলাম, কিন্তু জানা গেল এক ধনকুবের কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে দুদিনের প্রাইভেট চিকিৎসক হিসাবে বুক করে রেখেছেন।( মাইকেল জ্যাকসন স্মর্তব্য।)
    কম্যুনিস্ট বা সোস্যালিষ্ট কান্ট্রি তে এটা সম্ভব নাও হতে পারে।
    যেকোনো দেশেই উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী শতকরা .০০১ শতাংশ হতে পারে কিন্তু বাকী ৯৯.৯৯৯ শতাংশ জনতার কথা তো চিন্তা করতে হবে নাকি?
  • কল্লোল | 233.227.120.193 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:১২64587
  • সোভিয়েত আর চিন দিয়ে কিউবার বিচার হয় না। সোভিয়েত বা চিনে এমবর্গো হলেও তাদের কিছু এসে যেতো না, যায়ও নি।
    তা ছাড়া ঐ দুই রাষ্ট্র ক্ষমতাধর হতে চেয়েছিলো, চায়, ফলে সমাজতন্ত্রের পিছন মারা গেছে বহুকাল আগেই। মাও সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে একটা পরীক্ষা চালাতে গেছিলেন - ব্যর্থ হয়েছিলেন।
    কিউবা প্রমাণ করে দিয়েছে "উন্নয়ন"এর নামে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যে ঢপের্চপ প্রথম বিশ্ব রপ্তানী করেছে, তার বাইরেও উন্নয়ন হয়, যেখানে মানুষ আনন্দে থাকতে পারে ঐ তথাকথিত সিল্পোন্নয়ন ছাড়াই।
    আমি জানি না কিউবার মতপ্রকাশের অধিকারের কি অবস্থা। বাইনারীর পক্ষেও সম্ভব ছিলো না সেট যাচাই করা।
    সামনে তো ভোট কিউবাতে। দেখা যাক।
  • dc | 116.208.68.124 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:২২64582
  • sm বোধায় ইনোভেশান, ইনভেনশান আর ডিসকভারি, এই তিনটে আলাদা প্রসেসকে গুলিয়ে ফেলছেন। তবে এখন বেরিয়ে পড়েছি, পরে আবার লিখবো।
  • ল্যাগব্যাগর্নিস | 128.185.75.71 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:৫৯64583
  • ভারতের ক্ষেত্রে, বিশেষতঃ আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে, জুগাড় ইনোভেশনে আসল রিসার্চের ইসে মেরে রেখেছে।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:৪৯64588
  • Cuba has the most repressive environment for the media in the Americas. The Cuban government continues to suppress dissent, including harassing, intimidating, and detaining independent journalists. Despite enthusiasm about the warming of relations between the Cuban and U.S. governments that was announced in December 2014, there have been few notable improvements in Cuba’s human rights or press freedom climate.

    -এইটা নেটে পেলাম।

    এটাও -

    As Guevara wrote to a friend in 1957, ‘My ideological training means that I am one of those people who believe that the solution to the world’s problems is to be found behind the Iron Curtain.
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫০64589
  • বাইনারী-র লেখা, বরাবরের মতই, লা জবাব।
  • ni | 113.232.241.5 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৫64584
  • ল্যাগ, কোর ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ক্ষেত্রেও আমার ঠিক এই কথাই মনে হয়েছিল।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৬64590
  • ভাল-মন্দে মিশিয়ে মানুষ, সাদা-কালোয় বিভাজন মুশকিল, অনেক ধূসর ক্ষেত্র।

    চে গুয়েভারা বা অনেক ছোট স্কেলে, ধরা যাক আমাদের চারু মজুমদার বা কিষেণজী, এদের আদর্শ, আত্মত্যাগ ও লড়াই-কে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এরা বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ - প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে।

    এরা আমার হিরো নন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন