ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

    Binary লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫৪৬৯ বার পঠিত
  • কিউবায় মোট পনেরোটি প্রভিন্স আর একটি যাকে ওরা বলে স্পেশাল মিউনিসিপ্যালিটি। আমরা যেখানে গেছিলাম সেই প্রভিন্সের নাম ভিলাক্লারা। আর যে শহরের এয়ারপোর্টে নামলাম বা উঠলাম , সেটা সান্টাক্লারা। এইটুকু ইনফরমেশন অবশ্য যাবার আগেই জানতাম। আর তার সাথে যেটা আমার শিকড়গত বামপন্থা জানিয়ে রেখেছিলো, যে এই সেই সান্টাক্লারা, গেরিলা যুদ্ধের তীর্থক্ষেত্র। চে'র মাত্র সাড়ে তিনশ গেরিলা বাহিনী হারিয়ে দিয়েছিলো আমেরিকান মদতপুষ্ট পাঁচ হাজার সেনা , ট্যাংক , কামান বন্দুক আর সবচেয়ে বড়ো কথা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা-কে। রক্তপাত বেশি হয়নি তার কারণ গেরিলা বাহিনীর ছিল তুমুল জনসমর্থন। এমনকি এরকম-ও শোনা যায় , পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সৈন্যরাও পরে স্বতঃস্ফূর্ত যোগ দিয়েছিলো চে'র সঙ্গে। সে যাগ্গে যাক। এসব কথা অবশ্য কোনো গাইড সেরকম করে বলেনি। খালি 'ব্যাটেল অফ সান্টাক্লারা' মেমোরিয়াল গ্রাউন্ড দেখানোর সময় বলেছিলো ১৯৫৮'র সেই যুদ্ধের কথা। আমাদের সঙ্গে যেসব অন্যান্য টুরিস্ট ছিল , তারা বেশি জিজ্ঞেস করেনি , আমিও আর সেসব প্রসঙ্গ তুলিনি। আর তাছাড়া মেমোরিয়াল গ্রাউন্ডটা বহরে বেশ ছোট , আর গেরিলা যুদ্ধের সাক্ষি হিসেবে ট্রেনের ওয়াগনটা রাখা আছে। আসলে এই আবেগগুলো আমার যুবাবয়সের , তাই মাঝে মাঝে শিরদাঁড়া শিরশির করে।

    চে মেমোরিয়াল। অনেকগুলো কিউবিকল কংক্রিটের স্ট্রাকচার। একটা সাদা অনেক উঁচু রেকটেঙ্গুলার থামের ওপরে বাইশ ফুট দৈর্ঘের চে'র মূর্তি। এখানে ১৯৯৭ সালে বলিভিয়া থেকে উদ্ধার করা চে'র দেহাবশেষ সমাধিস্থ আছে। আর সঙ্গে তার ছয়জন গেরিলা কমরেড-এর দেহাবশেষ। রাজনীতি মানুন আর নাই মানুন, বামপন্থায় বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এইখানে দাঁড়ালে মন উতলা হবেই। আমি অন্তত রোমান্স-এ বিশ্বাস করি। এই একজনের স্বপ্নে আমার কলেজ জীবনের পরে প্রজন্ম পেরিয়ে এসেও গায়ে কাঁটা দেয় আমার। একটা সফল বিপ্লবে যার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। তারপরে-ও কঙ্গো আসে বলিভিয়া আসে। খুব কি মেলোড্রামাটিক শোনাচ্ছে ? নাহয় তাই। মেনে নিতে দোষ নেই।

    যাই হোক , সান্টাক্লারা দেখা ওই পাঁচ ছয় ঘন্টা। প্রথমত: আমরা যেখানে রিসর্টে থাকতাম , সেখান থেকে সান্টাক্লারা শহর প্রায় দুই ঘন্টার পথ। তাই রিসর্টে আরাম করব, সমুদ্রে চান করে বাদামি চামড়া আরো বাদামি করবো, সকাল বিকেল হাভানাক্লাব-উইথ-আনারসস্মুথি খাব, জীপসাফারি যাব , কার্নিভাল দেখতে যাব , মেয়ে-র বায়না মতো ডলফিনশো দেখতে যাব এইসব করে সান্টাক্লারা দেখতে দেখতে একদম ফেরারদিনে হয়ে গেল । আমাদের ফেরার উড়ান ছিল সন্ধ্যে সাতটায়। সকাল নয়টায় বেড়িয়ে , গোভিয়াটা বাস সান্টাক্লারা শহর দেখিয়ে , এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলো বিকেল পাঁচটায়। চে'মেমোরিয়াল আর ব্যাটেলগ্রাউন্ড দেখা লাঞ্চ করার পরে আর অন্যকিছু দেখার সময় ছিল না।

    এইখানে বলে রাখি। আমার সাথে যতজন কিউবান মানুষের কথা হয়েছিল তারা সবাই প্রায় নবীন প্রজন্মের। আশির দশকে জন্ম। খুব বেশি হলে সত্তরের শেষ-এ। এরাই একটু আধটু যা ইংরেজি বলতে পারে। তো এদের চে'র ওপর শ্রদ্ধা আছে , আমাদের যেমন আছে মহাত্মা গান্ধী বা নেতাজি কে নিয়ে। এরা একটা সমাজতান্ত্রিক সিস্টেম-এ জন্মেছে , বড়ো-ও হয়েছে। এদের কাছে বিপ্লবটা নকশাল আন্দোলন-এর চেয়েও আগের। এদের কাছে ১৯৫৯ এর বিপ্লব ঠিক সপ্ন নয় বরং কিউবা'র একটা গৌরবময় ইতিহাস। এই রকম-ই আমার মনে হলো। একদিন রাতের দিকে বার-এ বসেছিলাম। একটি মেয়ে সার্ভ করছিলো। বয়স চব্বিশ-পঁচিশ হবে। একটু রাতের দিকে বলে একটু ফাঁকা-ই ছিল। আমি মেয়েটাকে পাঁচ পেসো টিপস দেওয়াতে , খুব খুশি হয়ে গালে একটা চুমু দিলো। এরকম হাসি খুশি মেয়েপুরুষের কথা তো বলেই আসছি। তো সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম চে'র কথা। তাতেই মনে হলো , চে আর ফিদেল ওদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ'র মতো। আমাদের রিসোর্টের কাছে, একটা শপিং প্লাজা ছিল। বা সান্টাক্লারাতেও দেখলাম অনেক কিউবান মেমেন্টো শপ। যেরকম সব শহরে , সব টুরিস্ট স্পটেই থাকে। সেইসব দোকানে অন্য অনেক কিছুর সাথে ভরিয়ে চে। বাঁশের মগ-এ চে'র ছবি। চে টিশার্টে-র আলাদা একটা সেকশন। শটগ্লাসে চে'র ছবি। বুকসেল্ফ-এ চে'ফিদেল-র বই। বিপ্লবের ইতিহাস। আমি-ও কয়েকটা জিনিষ কিছু কিনলাম। একটা বই কিনলাম 'ফিদেল আর রিলিজিওন'। এখনো পড়তে শুরু করা হয়নি। সবচেয়ে জরুরি ছিল বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলা যারা ১৯৫০-১৯৫৫-এর আগে জন্মেছেন। এরকম মানুষ কম-ই আলাপ হওয়ার সুযোগ হলো , আর হলেও হয়তো ভাষা ব্যবধানে আলাপচারিতা জমতো না।

    শপিংপ্লাজা বলতে মনে হলো বলে রাখি , কিউবা'র শহরের রাস্তাঘাট, সান্টাক্লারাতে পেডেস্ট্রিয়ান স্ট্রিট , রিসর্টের লাগোয়া প্লাজা সবখানে ইউরোপিয়ান স্টাইল। মানে রোম , ফ্লোরেন্স মনে পরে গেলো হাতে হাতে। সেইরকম ছাতাওয়ালা বাইরে বসার রেস্তোরা। সেই রকম গিটার বাজিয়ে গাইয়ে। দোকান বাড়িগুলোর সেই রকম আর্কিটেকচার। তফাতের মধ্যে এটাই , আগে যেমন বলেছি , এখানে কোনো ম্যাকডোনাল্ডস নেই বা নাইকের শোরুম নেই। শুধু তাই নয়, একটাও বিজ্ঞাপনে-র বিলবোর্ড নেই। একদিন রিসর্টের কাছে প্লাজাতে , একটা হলুদরঙের সিমেন্টের গাজিবো মতো জায়গায় বসে আছি। বেশ বড়ো জায়গাটা। ছয়-সাতটা লোহার বেঞ্চ। চারিদিকে ঘাসের লন। তিরিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ঝলমলে রোদের মধ্যে শীতল ছায়া টাইপ। দুজন বয়স্ক লোক , স্বামী-স্ত্রী-ই হবে। বরের হাতে গিটার , আর মহিলার হাতে একটা বংগো । আমায় জিজ্ঞেস করলো 'ইংলিশ ওর স্প্যানিশ'। আমি ইংলিশ বলাতে , আমার হাতের ঝোলা থেকে বের করে দুটো ম্যারাকাস ধরিয়ে দিলো। তারপর মহিলা আমার পাশে বসে স্প্যানিশ গান ধরলেন। নিজেই বংগো বাজালেন সাথে , আর ওর বর ঝমঝমিয়ে গিটার। আমায় ম্যারাকাস নিয়ে তালে তালে ঠেকা দিতে হলো। অসাধারণ একটা নাচুনে সুর। মন খুশি হয়ে যায়। আমার মেয়ে খুশি হয়ে একটু কোমর দোলালো। তারপর ওরা আরো একটা গান গাইলো। সেটা অবশ্য অতি পরিচিত গান। গোয়ান্তানামেরা। আমরা ছাড়াও বাকি যারা আশেপাশে ছিল , সবাই তিন পেসো চার পেসো করে বকশিস দিলো বুড়োবুড়িকে।

    ***
    কিউবার সমুদ্র অত্যন্ত সুন্দর। মিহি সাদা বালির সাগর সৈকত। জুন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হ্যারিকেন সিজিন বাদ দিলে , শান্ত আটলান্টিক।
    সাদা বালিয়াড়ি পেরিয়ে , অনেকদূর হেঁটে জলের ভেতর যাওয়া যায়। প্রায় স্বচ্ছ নীল জল। মোটরাইসড স্পোর্টস প্রায় নেই বলে দিগন্তে কিছু মার্চেন্ট শীপ ছাড়া ধু ধু নীল জল। আমাদের রিসর্টের নিজস্ব বীচ-এ দুটো বীচবার ছিল। সকাল ছটা থেকে বিকেল ছটা পর্যন্ত অফুরান সূরাপানের আয়োজন। ডিসেম্বরে তাপমান আঠাশ থেকে তিরিশের কাছে সেন্টিগ্রেড স্কেলে। তবে আদ্রতা তেমন নেই , যেমন থাকার কথা সমুদ্রের জন্য। প্রতিদিন ঝলমলে রুদ্দুর ছিল , আমরা যেকদিন ছিলাম।

    ফেরারদিন দেখলাম সান্টাক্লারা এয়ারপোর্টের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ট্রানসিট লাউঞ্জ। দুটো মাত্র গেট , আর সব উড়ান-ই কানাডা-র আর একটা ফ্লোরিডা যাচ্ছে। কোনো এয়ারওব্রিজ-টিজ নেই। উড়োজাহাজ গুলো দাঁড়াচ্ছে প্রায় গেটে-র মুখে , আমরা গেট দিয়ে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে প্লেনে উঠলাম। একটা মাত্র ডিউটি ফ্রি শপ। আর একটা ক্যান্টিনের মতো কাউন্টারে বার্গার বিক্রি হচ্ছে। তিরিশ ডিগ্রি তাপে আমি গেঞ্জি আর হাপ্প্যান্ট পড়ে ছিলাম , প্লেনে ওঠার আগে বাথরুমে ঢুকে শীতের জোব্বা পরে নিলাম , কারণ পাঁচ ঘন্টার উড়ানের পরে দ্যাশে-র শহরে নামবো , ওয়েদার নেটওয়ার্ক বলছে সেখানে -৩০ ইন সেন্টিগ্রেডস্কেল।

    আগাম ওয়েদার দেখার কথায় মনে হলো , ইন্টারনেট ইত্যাদি কিউবা তে খুব-ই কন্ট্রোলড। প্রায় অলভ্য-ও বলতে পারেন। কাজকর্ম-ও বহু জায়গায় জাবেদা খাতায় হাতে লিখে হচ্ছে দেখলাম। আমাদের রিসর্টে , বাফে ছাড়াও দুটো আলাকারটা রেস্তোরা ছিল। সেখানে আগে থেকে বুকিং করতে হতো। তো সেসব বুকিং দেখলাম প্রাকঐতিহাসিক নীল রঙের বাঁধাই খাতায় হচ্ছে। রেস্তোরা-টা অবশ্য খুব-ই হাল ফ্যাশনে-র আর ভালো। একদিন স্টার্টারে , ঝিনুকের মধ্যে নারকোল আর চিংড়ি দিয়ে একটা আইটেম খাওয়ালো , মনে করলেই ভালোলাগছে। যেকথা বলছিলাম , ইন্টারনেট পরিষেবা-র অৱস্থা নেহাত-ই করুন। ETECS যেটা নাকি কিউবান টেলিকম কোম্পানি , তাদের ডাটা কার্ড কিনতে পাওয়া যেত ঘন্টাপ্রতি এক পেসো। কিন্তু তাতেও অনেক সাইট রেস্ট্রিক্টেড আর কন্ট্রোলড ছিল। এর কারণ কি, কেন, কোথায় নিয়ে বিস্তারিত অন্য কোনোখানে বলা যাবে , আপাতত বলি , ইন্টারনেট নিয়ে ওই আটদিন প্রভূত সমস্যায় ছিলাম আমরা , বিশেষ করে আমার মেয়ে।

    আমেরিকার সাথে কিউবা'র লাভ-হেট সম্পর্কের কথা হোক একটু। ১৯৫৯-এর বিপ্ল্বের পর , কিউবায় আমেরিকার যত বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান , পাওয়ার প্ল্যান্ট , তৈল শোধনাগার সব কিউবার প্রলেতারিয়েত সরকার দখল করে। তারপরে ১৯৫৯ থেকে পরবর্তী কুড়ি বছরে প্রায় দশ শতাংশ কিউবান নাগরিক আমেরিকায় পালিয়ে আসে। এরা যদিও প্রধানত বিপ্লব পূর্ববর্তী জামানার উচ্চবিত্তশ্রেণী , কিন্তু মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবি -ও আছে এদের মধ্যে। প্রথম দিকে আমেরিকান এমবার্গো'র জন্য , এরা গেছিলো বেআইনি পথে , নৌকায় , স্টিমারে। পরে আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে বছরে ২০,০০০ কিউবান কে ভিসা দেওয়ার নীতি নেয়। যাই হোক এমবার্গো চালু আছে গত অর্ধশতক। আমেরিকা কিউবার অর্থনীতিতে সাহায্য করে না, এমনকী বন্ধু দেশ যারা আমেরিকান ডলারের মুখাপেক্ষই তাদের-ও ঘুরিয়ে সাহায্য না করা শর্তাধীন রাখে। ওই আগে যেটা বললাম, কিউবা'র ইন্টারনেট ব্যবস্থার দুর্দশা হওয়ার এটাও একটা কারণ। তো যাইহোক এতো কথা বলতে গেলে ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে। আমেরিকায় চলে আসা কিউবান আমেরিকানরা দেশে ফেলে আসা আত্নীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব-কে এখনো ডলার পাঠিয়ে থাকে। ওবামা জামানায় কিছু কিছু শিথিলতা হয়েছিল এমবার্গো-তে, সেই সময়-ই কিউবার কমিউনিকেশ ব্যবস্থা-র কিছু উন্নতি হয়। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প সাহেব আবার এইরকম ডলার ট্রান্সাকশন-র ওপরেও বিধি নিষেধ আরোপ করার চেষ্টায় আছে।

    তো আমায় এলিন (সেই জীপসাফারির গাইড মেয়েটি) বললো যে , কিউবা ক্লাসলেস সমাজ। মোটের ওপরে কথাটা সত্যি হলেও আমেরিকান সাহায্য পাওয়া আত্মীয় বন্ধুবান্ধব নাগরিক বৃন্দ অপেক্ষাকৃত বিলাসিতা করতে-ও পারে। ভালো জুয়েলারি পড়তে পারে , সৌখিন জুতো জামা পড়তে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাতে অবশ্য কোনো আফশোস নেই কিউবাতে। হাজারহোক একশো আমেরিকান ডলার মানিট্রান্সফার হয়ে এলে , সে যে নামেই আসুক , একশ ডলারতো যোগ হচ্ছে কিউবার অর্থনীতিতে।

    আরেকটা গুরত্বপূর্ন কথা। ক্রিসমাসের দিন বা ক্রিসমাস ইভে দেখলাম খুব হৈচৈ। কার্নিভালের কথা তো বললাম-ই , তাছাড়া-ও রিসর্টে স্পেশাল ডিনার। রিসর্টের থিয়েটারে সান্তাক্লজ শো বাচ্চাদের জন্য। এইসব দেখে আমি সেই ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করেছিলাম , 'ডু ইউ প্রাকটিস রিলিজিওন ?, কারণ আমি জানি ক্লাসিকাল ক্যামিউনিজম ধর্ম মানে না , যেমন চীন'। তাতে বললো , কিউবান রা রোমান ক্যাথলিক। আর পুরো দস্তুর ধর্মীয় আবেগপ্রবন। চার্চ আছে প্রতিশহরে , গ্রামে। ধর্মকে আমরা সংস্কৃতি হিসেবে দেখি। তবে চার্চের কোনো একটিভিটি নেই , চার্চ থেকে সমাজের ওপর কোনো আদেশ দেওয়া নিষিদ্ধ। এইটুকু-ই জানলাম। ফুর্তিবাজ কিউবানদের ক্রিসমাস ইভে নাচতে দেখলাম।

    সান্তা ক্লারা এয়ারপোর্ট থেকে একটা ইলাস্ট্রেটেড চে'র পোস্টারে-র বই কিনে ছিলাম। তাতে চে'র বাণী দেখলাম If you tremble with indignation at every injustice, then you are a comrade of mine.

    বিদায় কমরেড। তোমার স্ট্যাচু আমার কাছে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির থেকেও উঁচু।

    (শেষ)
  • | বিভাগ : ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫৪৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Binary | 208.169.6.50 (*) | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ ০৮:৩০64468
  • .
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:০০64474
  • sm, এসব দেশ ভয়ানক করাপশনে ভর্তি আর ক্রোনি ক্যাপিটালিজমে ছেয়ে গেছে।

    কিন্তু যে দেশে সবকিছু স্টেট কন্ট্রোল করে, যে দেশে পার্সোনাল ইনিশিয়েটিভের কোন মূল্য নেই, যে দেশে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে নিজের ক্ষমতামতো আয় করার স্বপ্ন দেখা যায়্না, সে দেশে থাকতে আমার দমবন্ধ হয়ে আসবে।

    লেখক আগের পর্বে লিখেছেন, "ছোট খাটো মুদিখানা বা কিউবান মেমেন্টো বিক্রির হকারি মার্কা দোকান ছাড়া কিউবাতে ব্যক্তিগত মালিকানায় কোনো ব্যবসা নেই"

    এ আমার কাছে দুঃস্বপ্ন। এই লেভেলের কন্ট্রোল যে দেশে, সেরকম দেশে থাকতে হলে আমি পাগল হয়ে যাব।
  • Rabaahuta | 233.186.58.48 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:১৬64475
  • হুম, এ সত্যি কথা।
    তবে যাদের ক্ষমতা কম তাদের জন্যে এ হয়তো আদর্শ।
    পৃথিবীতে ক্ষমতাহীনই তো বেশী, ক্ষমতা মত আয় করতে গিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরনো।
  • PT | 213.110.242.23 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:২১64476
  • জানিনা এই লিংটা দিলে টইটা লাইনচ্যুত হবে কিনা। তবে কিউবার আশে পাশে যেখানে স্টেট কন্ট্রোল "নেই" তাদের সঙ্গে কিউবার তুলনাটা প্রণিধানযোগ্য হতে পারেঃ

    Cubans may not denounce their regime and demand a different one. Some who do so find themselves under 24-hour surveillance, are assaulted by gangs of neighbours organised by communist authorities, and run the risk of prison. In Central American countries, by contrast, laws guarantee every citizen the right to free speech. Dissidents in Guatemala, for example, are never arrested or prosecuted for their statements. The system works differently there: they are simply shot........
    ........A Cuban has no right to establish an independent newspaper. Any Guatemalan does – but if the newspaper becomes too strident, its editor might be killed. A Cuban may not form a political party. Any Haitian can – but if he speaks too stridently, he will be in danger.
    https://www.theguardian.com/commentisfree/cifamerica/2010/jan/22/cuba-communism-human-rights
  • sm | 52.110.149.154 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:২২64477
  • আপনার সঙ্গে একশ শতাংশ সহমত। এসব কম্যুনিস্ট কান্ট্রি গুলোও প্রচণ্ড বড় বড় চোর ডাকাইত ভর্তি। উপরি পাওনা রাষ্ট্রের খপর দারি। কিল মারবার গোঁসাই!তবে তার মধ্যেও একটু ফ্রি বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা থাকলে ভালো লাগে। সর্বদা ফেলো টাকা মাখো তেল ভালো লাগে না।
    ধনী দরিদ্রের তফাত একটু কম হলে ভালো লাগে।
    জ্ঞানী গুণী লোক সম্মান পেলে ভাল লাগে।
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:২৯64478
  • জানিনা, যাঁদের ক্ষমতা কম তাঁদের জন্য আদর্শ কিনা। তবে sm যাঁদের কথা বল্লেন সেই বিল গেটস বা জেফ বেজোস বা ধরুন স্টিভ জবস, এঁরাও একদিন বোধায় মোটামুটি সাধারন মানুষই ছিলেন। একেবারে গরীব না হলেও খুব বেশী ধনীও ছিলেন না। এঁরা ক্ষমতাবান বা বড়লোক হয়েছেন নিজেদের ইনিশিয়েটিভটা কাজে লাগাতে পেরেছেন বলে। কিউবা বা ওরকম স্টেট কন্ট্রোলড কোন সমাজে থাকলে আমার মনে হয়না এঁরা আদৌ আজকের জায়গায় পৌঁছত পারতেন। যে দেশে সাধারন মানুষ জানে যে সবকিছুই সরকার কন্ট্রোল করবে সেদেশে তো পার্সোনাল ইনিশিয়েটিভের দামই থাকবে না!
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:৩২64479
  • শিক্ষা আর চিকিৎসাতে অবশ্যই সরকারের কন্ট্রোল বা সাবসিডি থাকা উচিত, নামমাত্র মূল্যে সাধারন মানুষের এগুলো পাওয়া উচিত। এগুলো আর ইন্ফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট - বাকি কোন কিছুতে সরকারের ভূমিকা থাকা উচিত না।
  • sm | 52.110.144.5 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:০০64480
  • কিন্তু এঁরাও তো বিভিন্ন রকম চুরির ফসল। বিল গেটস কে বাদ দিন। জিনিয়াস। আর দুজন তো দু শ্রেণীর দালালি বিজনেস করে টাকা! তাঁরা এতো উপার্জন করছে কিভাবে? আর হোর্ড করছেই বা কিভাবে?
    আমাদের দেশেও তাই। ব্যাংক গুলো লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। নেতারা ঋণ দিতে মদত দিচ্ছে। আর এঁরা এখানে সেখানে ঘুঁশ দিয়ে, হজম করে দিচ্ছে।
    খুব একটা ব্যক্তিগত ক্যারিশমা নেই তো!
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:১২64481
  • এনারা দুয়েকটা এক্সামপল, আমি ওভারল সিস্টেম এর কথা বলছি। যেখানে সব ব্যাবসার ওপর স্টেট কন্ট্রোল সেরকম সিস্টেম আমার কাছে দমবন্ধকর। আমার শালাবাবুর স্ত্রী ব্যাঙ্গালোরে হ্যান্ডিক্রাফট্সএর ব্যাবসা শুরু করেছিল, এখন দিল্লি, বম্বে, জয়পুর ইত্যাদি নানান জায়্গার এক্সিবিশানে অংশগ্রহন করে। আমার পিসতুতো দাদার স্ত্রী কলকাতায় পুরোপুরি নিজের উদ্যোগে শাড়ীর ব্যাবসা শুরু করে আজ বিরাট উপার্জন করে। আমার মনে হয় পার্সোনাল এন্ত্রেপ্রেনিওরশিপ যে দেশে অ্যালাউ করা হয় না সে দেশে থাকা বৃথা।
  • তাহলে | 193.82.192.154 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:১৮64482
  • কি হল? শালা বাবুর স্ত্রী আর পিসতুতো দাদার স্ত্রীর স্বার্থে বিপ্লব মুলতুবি থাকুক।
  • sm | 52.110.138.242 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:০৩64483
  • এসব ফালতু এলিগেশন। বিপ্লব করে এমন কিছুই প্রাপ্তি ঘটেনা। যাঁরা ক্ষমতায় আসে তারা চুরি করে ও অত্যাচার করে পূর্বজ দের ম্লান করে দেয়।
    কথা হলো ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইন্ডিভিজুয়াল অন্ত্রেপ্রেনিয়র শিপের বিকাশ ঘটে বটে কিন্তু একটি পর্যায় পরে চুরিতে পর্যবসিত হয়।
    বিজনেস বড় হলেই আসবে শেয়ার বাজারে দাম ধরে রাখার ব্যপার, মনোপলি তৈরি করার চেষ্টা,ঋণ নেওয়া ও শোধ না করা, প্রশাসন কে প্রভাবিত করা এসব নানা চক্র।
    কারণ লোভ এর পথে পথিক হলে,ফিরে তাকানোর সম্ভবনা খুব কম।
  • Binary | 208.169.6.50 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:১২64484
  • ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-র '১৭ এর রিপোর্ট দেখলাম কিউবা ৬০ নম্বরে , কাছাকাছি মুক্ত অর্থনীতির অন্যান্য দেশ থেকে অনেক অনেক ওপরে । আমাদের ভারত বর্ষ থেকেও অনেক ওপরে । ৬০ বছরের অথিরিটেরিয়ান শাসনের পরেও কিউবার কোনো সরকারি শাসক রাজাগজা হয়ে যায়নি, সেটা তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার ।
  • Binary | 208.169.6.50 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:১৩64485
  • * করাপশন ইনডেক্স
  • Ishan | 202.189.128.15 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:২২64486
  • ১৯৫০ সালের পর থেকে সব ক্যাপিটালিজমই ক্রোনি ক্যাপিটালিজম। ফ্রি মার্কেট বলে বড়ো স্কেলে আর কিছু নেই। ইনিশিয়েটিভ কাজে লাগিয়ে বড়লোক এক আধটা সব দেশেই হয়। যেমন ভারতে আম্বানি, টি-সিরিজের মালিক (নাম ভুলে গেলাম)। আমেরিকায় বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট। ব্রিটেনে ভার্জিন এর মালিক (আবারও নাম ভুলে গেলাম, আমার অ্যামনেশিয়া না হয়েই যায়না)। অ্যামেরিকানরা ভালো প্রচার করতে পারে। এই এক আধটা কুমীরছানা দেখিয়ে ওটাকেই অ্যামেরিকান ড্রিম বলে প্রচার করে। সেটা আসলে ঢপ। পাশ্চাত্যের উন্নতির সোজা কারণ হল পৃথিবীময় কলোনির অস্তিত্ব। পুরোনো ফর্মের জায়গায় নতুন ফর্মে।

    সমাজ্তান্ত্রিক দেশে তো কখনও যাইনি, যা পড়েছি, তাতে স্টেট কন্ট্রোল, কালোবাজারি, এবং ভোগ্যপণ্যের আকাল, সব সমাজ্তান্ত্রিক দেশেই প্রকট ছিল এবং আছে। এখনকার চিনকে সমাজতান্ত্রিক বলা যায় কিনা জানিআ, গেলে, সেটা কিছুটা ব্যতিক্রম। ক্যাপিটালিস্টদের সঙ্গে এটার নানা তফাত আছে। কিন্তু অপ্রেশনের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখল্তে হলে বলতে হয়, তফাতটা মোটা দাগে একটা জায়গাতেই। সমাজ্তান্ত্রিক দেশগুলো সংকটের ঝাড় সবই নিজের দেশের লোকের উপরে চাপায়। অন্য দেশ চুষে আনার প্রবণতা কম। আর উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলো নিজেদের সংকট গোটা পৃথিবীর ঘাড়ে চাপায়। সারা পৃথিবীকে চুষে কলাগাছ হয়। তাতে নিজের দেশের লোকজন, এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, বেশ রিলিফ পায়। এবং বলতেই হবে, বাইরে থেকে দেখতে যেমনই লাগুক, ব্যবস্থাটা এখনও ভেঙে পড়েনি।
  • একক | 53.224.129.59 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:২৯64487
  • হে হে হে ভুটানের রানক ২৭ । এবং গুচ্ছ করাপশন হয় ।

    ঘটনা হলো ট্রান্সপারেন্সি মাপার টুল গুলো মূলত প্রাইভেট সেক্টর এর সঙ্গে ব্রায়বিং আর পাবলিক সেক্টরে টেন্ডার এ ঘাপলা হলো কী না দেখে । মনার্কি তে বা এই কিউবার মত দেশে কীসের প্রাইভেট কিসের পাবলিক টেন্ডার :)))
  • সিকি | 158.168.40.123 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৫:২৯64469
  • হেলমেট খুললাম।

    একটা জীবনে চে হতে পারা, সে জীবনের মূল্যই আলাদা। মোটরসাইকেল ডায়েরিজ সিনেমাটা আজও সময় পেলেই বার বার দেখি। সত্যি যদি ওরকম হওয়া যেত।

    খুব খুব ভালো আর ঝরঝরে লেখা। ... ইয়ে, একটা কথা - গেঞ্জী, হাফপ্যান্ট জোব্বা, জুয়েলারি, টুপি - "পরে"। "পড়ে" না।
  • কল্লোল | 233.227.100.140 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৮:১৯64470
  • বাইনারী। অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে বললে বাড়বাড়ি হবে, কিন্তু উত্তরের আভাষ পেয়েছি।
    খুব ভালো থেকো।
  • de | 24.139.119.174 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৮:৫৯64471
  • খুব ভালো - চে সম্বন্ধে লেখার জায়গাটায় আমারো শিরদাঁড়া শিরশিরিয়ে গেলো - বেড়াবার এমন একটা জায়গা বাছাটাই খুব ভালো লাগলো -
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ০৯:৩৭64472
  • এই লেখাটা তিনটে পর্বই পড়লাম, আগের পর্বগুলো আগে পড়েছি। বেড়ানোর গল্প পড়তে আমার এমনিতেও ভাল্লাগে, এটাও খুব ভাল্লাগলো। আর পড়তে পড়তে বারবার মনে হলো ভাগ্যিস আমি কোন সমাজতান্ত্রিক দেশে জন্মাইনি, যেখানে হাজার শেকল দিয়ে সবকিছু বাঁধা।
  • sm | 52.110.149.154 (*) | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:৩৮64473
  • কিন্তু ডিসি, সে কেমন দেশ, যেখানে ওয়ারেন বাফেট, জেফ বেজোস আর বিল গেটস এর মিলিত সম্পত্তি দেশের অর্ধেক লোকের চেয়ে বেশি!
    সে কেমন দেশ ,যেখানে মুকেশবাবুর বাড়ির দাম ৬০০০ কোটি আর তাঁর বউ তিন কোটি টাকা দামী মোবাইল ব্যবহার করে।
    আর দেশের অর্ধেক লোকের পরনে কাপড় নেই, চিকিৎসা নেই বা খাবার নেই।
    এদেশে জেনে বুঝে নেতারা আম আদমী কে লড়িয়ে দেয় ধর্মের নামে, কাস্টের নামে।
    আবার চেসেস্কু র দেশ, রাশিয়া,পূর্ব ইউরোপ দেখলেও ভয় করে। কতো বড় চোরেরা বাস করতো সেখানে।
    তবে, সত্যি করে সাম্য বাদ দেখেছি জ্যোতি বাবুর জমানায়। রুটি আর লঙ্কা পড়া ডাল!
    কোথায় গেলো সেসব দিন গুলো!
  • মানবেশ্ব | 212.142.69.42 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০১:৪০64509
  • ভালো লাগলো। পরিব্রাজকে অভিনন্দন।
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:১৯64488
  • ঈশান বোধায় ডেলিবারেটলি ভুল বুঝলেন ঃ)

    এই বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফে নামের কুমিরছানারা তো বাই ডেফিনিশান আউটলায়ার, এরা তো এক আধটা হবেই! সব গবেষক কি ফাইনম্যান বা এড উইটেন হয়, নাকি সব এন্ত্রেপ্রেনেউর বিল গেটস বা ওয়ারেন বাফে হয়? আর এই যে কয়েকজন কুমীরছানা, যেমন বিল গেটস, স্টিভ জবস, জেফ বেজোস, সের্গেই ব্রিন আর আরো কয়েকজন, এরা তো শুধু কুমীরছানা নন, এরা প্রত্যেকে গেম চেঞ্জার। গত তিরিশ, কুড়ি বা দশ বছরে এরা পুরো সমাজের গতিপথ পাল্টে দিয়েছেন। এদেরকে তো অ্যামেরিকান বা যেকোন ড্রিমের অ্যাড হিসেবে দেখানো যেতেই পারে!

    কিন্তু আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম, শুধু এরকম কয়েকজন কুমীরছানা না, অ্যামেরিকা বা ভারত বা অন্যান্য দেশে গত কুড়ি বছরে অসংখ্য লোক নিজেদের ব্যবসা করে নিজেদের মতো ইনকাম করছেন, যেটা স্টেট কন্ট্রোলড ইকনমিতে সম্ভবই না। আগেকার সোভিয়েত ইউনিয়ন বা এখনকার কিউবাতে যেখানে সব কিছু সরকারের কন্ট্রোলে সেখানে তো কেউ নিজের ব্যাবসা করার সুযোগটাই পাবেনা, সফল বা ব্যর্থ হওয়া তো পরের কথা।

    আর চীন অবশ্যই ব্যতিক্রম। চীনও অটোক্রেটিক, কিন্তু তাও সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার বা ব্যাবসা করার সুযোগ বেশী। যার জন্য চীনেও ওরকম কয়েকটা কুমীর ছানা আছে, যেমন জ্যাক মা, কিন্তু চীনেও আরো অসংখ্য এন্ত্রেপ্রেনিওর আছে যারা স্বাধীনভাবে নিজের মতো ব্যাবসা করছে, কেউ সফল হচ্ছে, কেউ ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু সবাইকে বাধ্যতামূলক ভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে না।
  • Atoz | 161.141.85.8 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:২৪64489
  • বিজ্ঞানচর্চার ব্যাপারটা ওখানে কীরকম? গবেষণা কীরকম ? সাহিত্যচর্চার ব্যাপারটা কীরকম?
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩৮64490
  • আর ইনিশিয়েটিভ কাজে লাগিয়ে বড়লোক হওয়া কুমিরছানা কিন্তু অ্যামেরিকাতে একটু বেশীই আছে। গেটস, জবস, বেজোস, ব্রিন, এলন মাস্ক, ল্যারি এলিসন, জুকু বাবু, টিম কুক - এরা তো প্রথম সারির নাম যারা গত কুড়ি বা তিরিশ বছরে কুমিরছানা হয়েছেন। এছাড়াও খানিক গুগল সার্চ করলে আরো খান দশেক দ্বিতীয় সারির কুমিরছানার নাম উঠে আসবে যারা আইটি ছাড়া অন্য ব্যাব্সাতেও বেশ সফল হয়েছেন। অ্যামেরিকায় দেখানোর মতো কুমিরছানার কিন্তু খুব একটা অভাব নেইকো। আর তার থেকেও অবাক কান্ড হলো, আগামী কুড়ি বছরে আমেরিকা বা চীনে আরও নতুন কিছু কুমিরছানা তৈরি হবে, কারন টোটাল স্টেট কন্ট্রোল নামের শেকল না থাকলে লোকজন নিজেদের ইনিশিয়েটিভ কাজে লাগাবেই আর তাদের মধ্যে থেকে অন্তত কয়েকজন গেম চেঞ্জিং কুমিরছানা হয়ে উঠবেই।
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪৭64510
  • আমার মতে সরকার নির্ধারিত আয়ের আপার লিমিট থাকা উচিত না। ম্যাক্সিমাম লিমিট এর উপরে কারুর আয় হলে সরকার কি যুক্তিতে সেটা বাজেয়াপ্ত করবে? কেউ নিজের সম্পত্তি দান করতে চাইলে কিছু বলার নেই, সেটা তার ব্যাক্তিগত চয়েস। কিন্তু সরকার কেন লিমিট বেঁধে দেবে?

    তার থেকে বেটার অপশান, অন্তত ভারতের ক্ষেত্রে ডাইরেক্ট ট্যাক্সের বেস বাড়ানো। আরও অনেক বেশী লোককে ইনকাম ট্যাক্স দিতে বাধ্য করা, যাতে সরকারের রেভিনিউ বাড়বে, শিক্ষা স্বাস্থ্য আর ইনফ্রা ডেভেলপমেন্টে সেটা খরচও করতে পারবে।
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫৯64511
  • "আরে গবেষণা টবেষণা কীরকম হয় আর লেখালিখি কীরকম হয় সেই বিষয়ে কেউ দেখি কিছু বলে না! মানুষ কি শুধু খাবেদাবে আর বগল বাজাবে নাকি?" আমার বলার কিছু নেই। আমি অলরেডি বলেছি চিকিৎসা বিজ্ঞান খুব খুব উন্নত । উনিভার্সিটি গুলোর মান খুব-ই উন্নত । এলিন এর কথাই বলবো । একনিঃশ্বাস-এ সাউথ আমেরিকান কবিদের কোট করলো । হাভানায় শুনেছি রবীন্দ্রনাথের মূর্তি আছে । যেরকম ভাবে 'কিউবায় ক্ষুধা কেউ খায় দায় আর বগল বজায় না'
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:১১64512
  • আর মোটিভেশন এর কথা যদি বলতেই হয় , তাহলে একটা ঘটনা বলি। সেপ্টেম্বরের প্রথমে হারিকেন ইর্মায় কোস্টাল এরিয়াতে ইনফ্রাস্টার্কচার পুরো নষ্ট হয়ে গেছিলো। মাত্র তিনমাসে একদম কমপ্লিট রিকভার। এটাতো আমার নিজের চোখে দেখা। আর এই নিয়ে প্রত্যেকের একটা চাপা গর্ব আছে সেটাও নিজের চোখে দেখা।
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:২২64513
  • A 1998 study by UNESCO reported that Cuban students showed a high level of educational achievement. Cuban third and fourth graders scored 350 points, 100 points above the regional average in tests of basic language and mathematics skills. The report indicated that the test achievement of the lower half of students in Cuba was significantly higher than the test achievement of the upper half of students in other Central and South American countries in the study group
  • dc | 57.15.4.98 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:২৯64514
  • কিউবার স্বাস্থব্যবস্থা তো খুবই উন্নত মানের, অনেকদিন থেকেই শুনে আসছি। হেল্থ টুরিজম থেকে কিউবান সরকারের বোধায় ভালো আয়ও হয়।
  • কল্লোল | 233.227.108.156 (*) | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:৪২64491
  • ডিসি। আপনি লিখছেন, "কিন্তু যে দেশে সবকিছু স্টেট কন্ট্রোল করে, যে দেশে পার্সোনাল ইনিশিয়েটিভের কোন মূল্য নেই, যে দেশে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে নিজের ক্ষমতামতো আয় করার স্বপ্ন দেখা যায়্না, সে দেশে থাকতে আমার দমবন্ধ হয়ে আসবে।"
    স্পষ্টতঃই এটা ব্যক্তি মানুষের দর্শনের উপর নির্ভর করে, কার কোথায় দমবন্ধ লাগবে।
    তবু দুটো কথা থাকে - "নিজের ইচ্ছেমত কাজ" - কথাটার মগনে কি? আমি ডাক্তারী করবো না ব্রিজ বানাবো, না ঝাড়ু দেবো না ইস্কুল/কলেজে পড়াবো না রন্নার কাজ করবো সেটা নিয়ে সমস্যা বোধহয় কিউবায় নেই। সমস্যা আছে "নিজের ক্ষমতামতো আয়" এতে। এই কথাটারই বা মানে কি? কেউ দারুন ব্রিজ বানাতে পারে বা ঝাড়ু দিতে পাতে। সেই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সে অন্যদের থেকে বেশী রোজগার করতে চায়। কিন্তু কেন? বেশী রোজগার করে সে কী করবে? অন্যের চেয়ে ভালো খাবে, অন্যের চেয়ে ভালো বাড়িতে থাকবে, অন্যের চেয়ে ভালো জামা কাপড় পড়বে। কারন কেউ কেউ সেটা করে। সেই ইচ্ছেটাই যদি না হয় তো? আপনি বলবেন এহুলো মানুষের স্বভাবজ চাহিদা। সমাজতন্ত্র ঠিক এই জায়গাটতেই অন্য কথা বলে। সমাজতন্ত্র নতুন মানুষ গড়ার কথা বলে। যেখানে সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে সমাজ, সেখানেই সমাজতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। কিউবা পেরেছে - অনেকটাই পেরেছে, তাই এতো বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কিউবাই........
    এই প্রসঙ্গে "উন্নয়ন" মনে পড়লো। কিউবায় "উন্নয়ন" হয় নি - দেখাই যাচ্ছে - ইন্টারনেটই নেই। বড়/ভারী শিল্প নেই। অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা খাদ্য সবই সবাই পাচ্ছে - "উন্নয়ন" ছড়াই। বলবেন কিউবা ছোট দেশ। অন্য দেশরাও কিউবার মতো ছোট ছোট দেশ হয়ে যাক না।
    আবারও বাইনারী কে অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক ধাঁধার সমাধানের দিশা পাচ্ছি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন