এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

    তির্যক লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ | ১০৩০৮ বার পঠিত
  • ঘরকন্না ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প

    যে জীবন ফড়িং-এর দোয়েলের, মানুষের সাথে তার যে দেখা হয় না, সেকথা জানাই ছিল। কিন্তু যেসব জীবন মানুষের-মানুষীরই, তাদের আশেপাশেই থেকেও সেইসব জীবনের সাথেও যে মানুষের আসলে দেখা হয় না, তাও মাঝে মাঝে এমনভাবে জানতে পেরে অবাক হতে হয়।
    এই ক’দিন আগে আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ঘরের কাজের জন্য মাইনে দেবেন না কেন ?’ পড়ে নানাজনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো পড়তে পড়তে কথাগুলো মনে হল। সেদিনটা দোলের ছুটির পরের দিন, কাগজের প্রিন্ট বেরোয় নি তাই লেখাটা শুধু আবাপ’র ওয়েব সংস্করণেই বেরিয়েছিল, যাঁরা পড়েছেন তাঁরা প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্তও। এবং মহিলারা বেশির ভাগই কর্মরতা। তাই এই লেখা, এই ‘ঘরের কাজের জন্য মাইনে’র ধারণা হয়তো সরাসরি তাঁদের জন্য নয়। যে মধ্যবিত্ত / নিম্ন মধ্যবিত্ত গৃহবধুদের কথা ভেবে এই লেখা, তাঁদের হয়ত এই লেখা পড়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু তাঁদের যে আমরা একেবারেই চিনি না, এমনও তো নয় ! কিন্তু দেখা গেল এই লেখা যাঁরা পড়েছেন সেই পাঠকগোষ্ঠীর সিংহ ভাগ মহিলা ও কিছু পুরুষ এই ব্যাপারটায় নানাভাবে আপত্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। লেখকের কাছে প্রতিটি মতামতই মূল্যবান, বিরুদ্ধ মতামত বেশীই মূল্যবান কারণ তা প্রায় টর্চের আলোর মত যেকোন ধারণার অন্ধকার কোণায় আলো ফেলে দেখিয়ে দেয় তার ভুল ভ্রান্তি। উল্টোদিকে বিরুদ্ধ মত যারা পোষণ করেন, লেখকেরও দায় থাকে তাঁদের বোঝার ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়া।
    তাই প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো গৃহশ্রমের / গৃহকর্মের মূল্যায়নই এই লেখার মূল কথা। গৃহকর্ম বলাই বেশী ভালো কারণ ততটা শ্রমসাধ্য নয় কিন্তু অনেকটা যত্ন ও ভালোবাসা (এবং আত্মত্যাগ) মেশানো যে সব ছোট ছোট কাজ একটা ঘর কে সংসার করে তোলে আর গৃহবধু কে পরিচারিকার থেকে আলাদা করে সেগুলোর কথাও এখানে ভাবা হয়েছে। সেই গৃহকর্ম যাতে একটা সম্মানজনক পেশায় পরিণত হতে পারে এবং গৃহবধুও নিজেকে বঞ্চিত না ভাবেন বা ‘আমি তো কিছু করি না’ জাতীয় হীনম্মন্যতায় না ভোগেন, সেই জন্য তাঁর একটা নিয়মিত বেতনের কথা ভাবা, যেটা তাঁর স্বামীর বেতনের একটা অংশ (ধরুন ২০%)হিসেবে নিয়মমাফিক সরাসরি তাঁর কাছে আসবে (যেভাবে ডিভোর্সী স্ত্রীর কাছে আসে)। স্বামী এখানে এমপ্লয়ার নন, দাতা তো ননই, তাঁর রাজী হওয়া না হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যেভাবে ট্যাক্স, পি এফ এর টাকা কাটা যায় সেই ভাবেই নিয়মমাফিক তাঁর বেতন থেকে স্ত্রীর বেতন কাটা হবে (অবশ্যই যদি স্ত্রী চাকরী না করেন)। সেই বেতন ঘরের কাজের দরুণ মহিলাটির নিজস্ব উপার্জন, আর এই উপার্জনই তাঁকে স্বনির্ভর করে তুলবে। নিজের ছোটখাটো চাহিদার জন্য স্বামীর কাছে হাত পাততে হবে না, কৈফিয়ৎ দিতেও হবে না। একজন গৃহবধু সসম্মানে বলতে পারবেন ‘আমি ঘরের কাজ করি’।
    এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অজস্র যুক্তি ও আপত্তির মধ্যে প্রথমই হল, গৃহবধুর আর আলাদা করে কাজ কি ? ঘরের সব কাজই তো পরিচারিকা করেন, বাচ্চাকে পড়ান টিউটর আর স্কুলে নিয়ে যায় পুলকার বা স্কুলবাস। তাছাড়াও এইসব মহিলারা স্বামীর কাছ থেকে মোটা টাকা হাতখরচা পান, তাতেই তাদের শখ-আহ্লাদ দিব্য মিটে যায়। আর খাওয়া-পরা সমেত সংসারের বড় খরচ তো পুরুষটির(স্বামী)উপার্জন থেকেই হয়, এর পর আবার মাইনে কিসের ! এই কথাগুলো পড়েই মনে হয়েছিল আমরা কবে খিড়কি থেকে সিংহদুয়ারের বাইরের পৃথিবীটা চিনতে শিখব ! অথচ আমরা যে একেবারেই সংবেদনশীল নই তাও নয়, গায়ক অভিজিৎ যেদিন রাস্তায় থাকা মানুষদের গালাগাল দিয়েছিলেন, সেদিন আমরা তাঁকে ছেড়ে কথা বলিনি। বাড়ির পরিচারিকাদের এমনকি যৌনকর্মীদেরও শ্রমিকের সম্মান দেওয়া নিয়ে আমরা ভাবি। তাহলে গৃহবধুদের ব্যাপারে আমরা এত উদাসীন কেন !
    আসলে আমরা অনেকেই নিজেদের চাকরী করা জীবনটা দেখতে পাই, পাশের বাড়ির / ফ্ল্যাটের গৃহবধুর আরামের জীবনটা দেখতে পাই আর দেখতে পাই নীচের তলার বাসিন্দা আমার ‘কাজের মাসি’র কঠিন জীবনটা। এর বাইরে মধ্যবিত্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন উপার্জন স্তরের বাসিন্দা যে গৃহবধুরা তাঁদের জীবনটা আমরা দেখতেই পাই না। এই শহর কলকাতায় আমাদের আশেপাশেই তাঁরা থাকেন, কোনো একটা সরকারী ইস্কুলের গেটের কাছে ছুটির সময়টা একটু দাঁড়াবেন, বাচ্চাদের নিতে আসা মায়েদের কথায় কান দেবেন, তাঁদের চেহারা-সাজগোজের দিকে নজর দেবেন, বুঝতে পারবেন গৃহবধু কাকে বলে। একপর্ব রান্নাবান্না সেরে বরকে কাজে পাঠিয়ে বাচ্চাকে নিতে এসেছেন, গিয়ে বাকি রান্নাটা সারতে হবে, ফেরার পথে হয়ত এটা ওটা বাজারও করে নিতে হবে। ঠিকে কাজের লোক একটা এঁদেরও আছে, বাসন মেজে ঘর মুছে কি সপ্তাহে একদিন কিছু কেচে দিয়ে যায়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। রোজকার কাচাকাচি, ঘরগোছানো, বাচ্চাকে স্নান করানো, খাওয়ানো, পড়ানো, জামা কাপড় ইস্ত্রী করা, অতিথি আপ্যায়ন, অসুখে সেবা, এই সব কাজ এঁরা নিজের হাতেই করেন। এই ডিউটি নিয়ে কিছু বলার নেই, এঁদেরও নেই, আমারও নেই কিন্তু দিনের শেষে এঁরা কেন নিজেদের ‘স্বনির্ভর’ মনে করবেন না, উপার্জনের প্রশ্নে মাথা নীচু করে থাকবেন, সেই প্রশ্ন আমাকে ভাবায়। কারণ এটাই বাস্তব, পয়লা বৈশাখে নিজের মাকে একটা শাড়ী দিতে গেলে এই মহিলাদের বরের কাছে হাত পাততে হয়, আর হাত পাতলেই সব সময় হাত ভরে এমনও নয়। এই জীবনটা ‘আমাদের’ নয়, কিন্তু মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের ওই প্রান্তে যে বিরাট সংখ্যক মহিলা বাস করেন যাদের স্বামীরা ছোটখাটো চাকরী বা ব্যবসা করেন, তাঁদের জীবনটা এইরকমই।
    কিন্তু নিয়ম যদি করতেই হয় তাহলে তা সকলের জন্যই করতে হবে আর তাতে আখেরে কিছুটা যাতে সুরাহা হয় সেটাই দেখতে হবে। স্বামীর মাইনের / উপার্জনের কিছু নির্ধারিত অংশ যদি স্ত্রী-র হাতে আসে আর মহিলাটি যদি তার থেকেই পরিচারিকার মাইনে দেন তাহলে একটা কিছুটা সুরাহা হতে পারে। কারণ সে ক্ষেত্রে যিনি বেশির ভাগ কাজ নিজের হাতে করেন আর যাঁর সব কাজ পরিচারিকা করে দেয় তাঁদের মধ্যে উপার্জনগত ভাবে একটা তফাৎ থাকবে। স্বামীকে আর আলাদা ভাবে বৌকে হাত-খরচ দিতে হবে না, আর স্ত্রীও নিজের এই উপার্জনের কতটা সংসারে খরচ করবেন, কতটা নিজের হাতে রাখবেন সেটা তিনিই ঠিক করবেন। কিন্তু তাঁকে স্ব-নির্ভর বা উপার্জনক্ষম নন একথা আর বলা যাবে না কারণ মাসের শেষে তাঁর হাতেও নিয়ম করেই কিছু টাকা আসছে আর সেই টাকাটা তাঁর স্বামী দিচ্ছেন না। এই কথাটিই এই ব্যবস্থার মূল কথা আর এই কথাটা হয়তো অনেকের নজর এড়িয়ে গেছে তাই আবার লিখতে হল।
    কিন্তু যাঁরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই বুঝতেই পারছেন না, বাড়ির কাজ যা অনেকটা নিজের জন্যও করা, যা ভালবেসে করা তার জন্য মাইনে কেন ! পুরুষেরা কেউ কেউ আরও এক পা এগিয়ে বলেছেন যে মাইনে থেকে ভাগ দিতে হলে তো কাজের লোক রাখলেই হয়, বিয়ে করার দরকার কিসের ! আর মেয়েরা অনেকেই একটা কথা বলেছেন যে সংসারের পেছনে একজন মহিলার যা অবদান তা কি টাকা দিয়ে মাপা যায় ! অর্থাৎ নিজের সংসারে কাজ করে টাকা নিতে তাঁদের ‘ইগো’তে লাগছে। আবারও বুঝিয়ে বলি, দেখুন, একটা রাস্তায় যানজটের জন্য দেরী হলে সেই দেরীর দরুণ ক্ষতিটুকুও অর্থমূল্যে মাপা যায় কারণ তা দেশের উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করে। ওপরে যেসব কাজের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা সমেত একটা পূর্নাঙ্গ সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে গৃহবধুরা যে তাকে তাকে সুষ্ঠু ভাবে চালান, সেটা কাজের মানুষটির(পড়ুন পুরুষটির)উৎপাদনশীলতাকে ও কর্মক্ষমতাকে নিশ্চই প্রভাবিত করে কিন্তু সেই বিরাট পরিমাণের শ্রম আমাদের অর্থনীতিতে উহ্যই থেকে যায় যুগের পর যুগ তার কোন ‘মূল্যায়ন’ হয় না, এটা কতটা সঙ্গত সেটা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। সংসারের ‘সমস্ত’ কাজের জন্য কাজের লোক রাখা এমনিতেই সম্ভব নয়, যতটা রাখা সম্ভব তার জন্যও খরচের অঙ্ক বিরাট। কিন্তু সেই খরচ দিয়েও একজন গৃহবধুর মত পরিষেবা পাওয়া যায় না, এইটা ছেলেদের ও মেয়েদের সবাইকেই বুঝতে হবে। সেভাবে দেখতে গেলে কোনো পেশাতেই পেশাগত দক্ষতা, যত্ন ও ভালোবাসা টাকা দিয়ে মাপা যায় না; যে যত্ন নিয়ে একজন আদর্শ ডাক্তার একটি শিশুর জন্ম ঘটান বা যে ভালোবাসা নিয়ে একজন শিক্ষক কঠিন বিষয়কে সহজ করে শেখান তাও কি টাকায় মাপা যায় ? তবু সেই সব পেশার ক্ষেত্রেই আমরা আর্থিক মূল্যায়নকে মেনে নিয়েছি কারণ এ ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। তাই গৃহকর্মকে একটা পেশা হিসেবে সম্মান দিলে তার মূল্যায়নের কথাও ভাবতে হবে।
    কিন্তু হয়নি এযাবৎ। আর সেই জন্যই কেউ গৃহকর্মকে পেশা হিসেবে ভাবতে পারেন না আর সেই ভাবেই সংসারের ছোটবড় কাজগুলো অকিঞ্চিৎকর হয়ে ওঠে। কিন্তু সে কাজগুলো না করলে যে চলবে এমনও নয়। খেতে আপনাকে হবেই, গৃহবধু রান্না না করলে রান্নার লোক রাখা, না হলে হোম ডেলিভারী। রান্নার লোকের ওপর তদারকি না করলে রান্না খারাপ, তেল বেশি, পরপর ক’দিন খারাপ / একঘেয়ে রান্না খেলে একদিন বাইরের খাওয়া চাইই। তার মানে রান্না-খাওয়া ব্যাপারটা একেবারে এলেবেলে নয়, কিন্তু যখন তা বাড়ির বৌটি করছেন তখন আমরা সেটা আলাদা করে ভাবছি না। সেই রকমই অন্যন্য কাজও। কাউকে না কাউকে সেগুলো যত্ন করে করতেই হয়, না হলে পরিবারের ধারণা দাঁড়ায় না। তাই বিয়ে করাটা নারী-পুরুষ কারুর কাছেই সমাজসেবা নয়, নারীর যেমন নিরাপত্তা চাই, পুরুষেরও দিনের শেষে নিজের সংসার নিজের ভালোমন্দ দেখার মানুষ দরকার।
    তবে এখানে ঘরের কাজ মূলতঃ মেয়েরা করেন এবং পুরুষ বাইরেই কাজ করেন বলেই বার বার ‘গৃহবধু’ বলা হয়েছে, তবে আসলে এটা গৃহশ্রমের মূল্যায়নের গল্প। তাই যে নারী বাইরে কাজ করতে চান করুন, যে পুরুষ ঘরে কাজ করতে চান করুন (সেই ‘কি’ আর ‘কা’ এর গল্প), বেতনের নিয়মটা আলাদা কিছু হবে না কারুর জন্য। দুজনেই বাইরে কাজ করলে ঘরের কাজ তাঁরা কিভাবে করবেন সেটা নিজেরাই ঠিক করবেন কারণ সে ক্ষেত্রে মহিলাটিরও নিজের মত জানানোর যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। কিন্তু ঘরের তথাকথিত ‘মেয়েলী’ কাজগুলো সে মেয়েরা করুন বা ছেলেরা করুন, কাজ হিসেবে যে কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেটাই মনে করানোর জন্য এবং তাকে স্বীকৃতি দেবার জন্য এই নিয়ম।
    গৃহশ্রমের এইভাবে মূল্যায়নকে যারা সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করতে পারেন না দেখা গেছে তারা এর বাস্তবায়ন নিয়ে ভয়ানক চিন্তিত। যেমন গৃহবধু যদি ‘মাইনে’ পান তাহলে ইনক্রিমেন্ট, পি এফ, গ্রাচুইটি, ইত্যাদি কি ভাবে হবে, সি-এল, ই-এল এর সুযোগ থাকবে কিনা, আরো ভালো ‘মাইনে’ পেলে গৃহবধুর চাকরী বদলানোর সুযোগ থাকবে কিনা ইত্যাদি। বোঝাই যাচ্ছে এর অনেক কিছুই স্রেফ বিরোধিতা করার জন্য বলা, কিন্তু লেখকের দায় থাকে সব প্রশ্ন নিয়েই ভাবার। তাই এই ধরনের সমস্যারও কিছু সমাধানের কথা ভাবতে হয়। স্ত্রীর বেতন যেহেতু স্বামীর বেতনের একটা অংশ হিসেবে আসবে, সে ক্ষেত্রে স্বামীর আয় যেমন যেমন বাড়বে, স্ত্রীরও সেই অনুপাতেই বাড়বে, পেনশনও পাবেন সেই ভাবেই। কিন্তু দেশের সমস্ত চাকরীর শর্ত যেমন একরকম নয়, সেইরকম এই চাকরী থেকে ‘ছাঁটাই’ এর প্রশ্ন নেই কারণ বর এর এমপ্লয়ার নন, মহিলাই বা চাকরী ‘বদলানো’-র কথা ভাবতে পারবেন কি করে, নিজের স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্য সংসারে অন্য স্বামী-সন্তানের মাঝখানে ফিট করে যাওয়া কি বাস্তব সম্মত কথা হল ! যাঁরা এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা সম্ভবতঃ এত কিছু না ভেবেই বলেছেন। কিন্তু এর পর থেকে এইরকম প্রশ্ন করার আগে আশা করব একটু ভেবে করবেন। আর সি-এল-ই-এল ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বলব আপনি যেমন অফিসে প্রয়োজনমত ছুটি নেন, গৃহবধুও দরকার মত নেবেন, তখন ঘরের কাজ কিভাবে হবে তা তিনিই ঠিক করবেন। তবে এই সব অনেক প্রশ্নই অবান্তর কারণ গৃহবধু পরিচারিকা নন, নিজের দায়িত্বেই তিনি সংসারের নানাদিক দেখে থাকেন। বিনা পারিশ্রমিকেই। শুধু পারিশ্রমিক নিলেই তাঁকে ভাড়া করার কাজের লোকের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া উচিৎ নয়। গৃহবধুকে তাঁর জায়গায় রেখে তাঁর পরিষেবাকে সম্মান জানাবার জন্যই এই ভাবনা।
    এই নিয়ম চালু হতে গেলে প্রাথমিকভাবে হয়তো অনেক মেয়েরা নিজেরাই এই পারিশ্রমিক নিয়ে চাইবেন না। কিছুটা চক্ষুলজ্জা (নিজের সংসারে কাজ করে পয়সা নেবো ! ছিঃ, লোকে কি বলবে ), কিছুটা ইগোয় লাগা (আমার দায়িত্ব কি টাকায় মাপা যায় !) যে কথা আগে বললাম। কিন্তু ‘সাফারার’ এর মতামত নিয়ে নিয়ম চালু করতে গেলে হয়তো সতীদাহ-বিধবা বিবাহ-বহুবিবাহ কিছুই রদ করা যেত না। কিন্তু যখনি একটা নিয়ম চালু হয়, কিছু মানুষ তার সুবিধে পেতে শুরু করেন, তখনই আস্তে আস্তে সেটা অর্থবহ হয়ে ওঠে। তার বাস্তবায়নের নানা সুবিধে অসুবিধেও তখনই সামনে আসে আর তার সংশোধনেরও রাস্তা খোলা থাকে। কিন্তু প্রস্তাবটা গোড়ায় বিনাশ করে দিলে এ সব কিছুই আর হয়ে ওঠে না।
    গৃহশ্রমের মূল্যায়নের এই মডেল একটি ধারণা মাত্র। মানে এটা নিয়েও যে ভাবা দরকার আর এভাবেও যে ভাবা যেতে পারে, সেইটা জানানো। এভাবেই যে হতে হবে তা কোথাও দাবী করা হয়নি কিন্তু কিভাবে হতে পারে সেইটা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। কিন্তু মজার কথা হল, যাঁরা বিরোধিতা করেছেন তাঁরা কেউ কিন্তু কোনও সমাধান দেননি, শুধু নানারকমের প্রশ্ন তুলে ঠাট্টা-তামাশা করেই কর্তব্য সেরেছেন। তবু এই অবকাশেই এই বিষয় নিয়ে দু-চারটে কথা আবারও লেখার সুযোগ হল, এটাই বা কম কি !
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ | ১০৩০৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sosen | 177.96.59.145 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪১52192
  • যাঁরা (গৃহস্বামীরা) কাজ ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী নন তাঁদের কথাই বোধ্হয় তির্যক বলছেন। ভাগ করে নিলে তো চুকেই গেল।

    যদিও গৃহ নামক ইউনিটের জন্য শ্রমের মূল্যায়নে আমি বিশ্বাসী নই।
  • Atoz | 161.141.84.108 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৬52193
  • হুঁ, এই তো এই সাইটেই দুখেবাবুই তো বলেছিলেন রান্নাবান্না বাসন ধোয়া এইসব পারেন না, তাই বিয়ে করেছেন। অন্যায় মনে করলে যেন পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
    ঃ-)
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৪৯52194
  • যত পড়ছি ততই কনফিউশন বেড়ে যাচ্ছে। আপাতত একটা প্রশ্ন করি। যেসমস্ত মানুষ চাকরি পান নি, ঘরের কাজ করতে চান না, তার বদলে নানা ক্রিয়েটিভ কিন্তু অর্থকরী/অপরিহার্য্য নয় এমন কাজে লেগে থাকেন তাঁদের জন্য বেতন চালু করলে (কারণ তাঁদের পরিবারে হয়ত এর জন্য শিক্ষা সংস্কৃতি বা ক্রিয়েটিভিটির ফ্লো বাড়ে) এই গৃহশ্রমের মূল্যায়ণের চেয়ে সেটা আলাদা হবে কী? কারণ ঐ শিল্প ইত্যাদিরও প্রয়োজন সবার না, সিলেক্টেড কিছু মানুষের।
  • Atoz | 161.141.84.108 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫১52196
  • সব কথার শেষে এসে একটা ঘোর গিট্টুমতন প্রশ্ন জেগে উঠছে, "এতরকম বেতন দেবে কে?"
    গৌরী সেন?
    ঃ-)
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫১52195
  • যারা কাজ ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী নয় তাদের ধরে উদুম ক্যাল দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়।
  • Atoz | 161.141.84.108 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৩52197
  • ঐ ভদ্রলোককে ক্যাল দেওয়া হবে? কিন্তু উনি তো পুলিশে বিশ্বাসী। আইন নিজের পথে চলবে।
    ঃ-)
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৪52198
  • আইপিএল বন্ধ করে সেই টাকা

    যে দেশে এখনও ডোমেস্টিক হেল্প, ড্রাইভার এইসব পেশায় ভয়ানক কম বেতন সেখানে গৃহশ্রমের মূল্যায়ণ ও বেতন শুধুই থিসিস।
  • sswarnendu | 198.154.74.31 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৬52200
  • সোসেন,
    যাঁরা (গৃহস্বামীরা) কাজ ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী নন তাঁরা মাসের উপার্জন ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী হবেন, এটাই যদি তির্যকের অ্যাসাম্পশন হয়, সেটা কি খুব বাস্তবোচিত?
    আর ওনার মডেল এ কাজের লোকের মাইনে যাবে 'গৃহবধূ' র 'মাইনে' থেকে... এরকম পরিস্থিতিতে আমি 'গৃহস্বামী' হলে ঘরকন্নার কাজকর্ম সাব-কন্ট্র্যাক্টিং করার ওভারসিয়ারের মাইনে দেওয়ার থেকে সেই পয়সা কাজের লোকদেরই দেব, কারণ মোটামুটি নিশ্চিতভাবে তাঁর বাড়িতে কাজের লোক নেই।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৬52199
  • আইন ক্যালের পথেই চলে। শুধু পুলিশটা কার সেটা জানা দরকার
  • Atoz | 161.141.84.108 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৫৭52201
  • এই রোজভ্যালি, সার্দা, নারদ ইত্যাদি কেলেংকারীর টাকাগুলো কেড়েকুড়ে এনে অবশ্য একটা চেষ্টা নিতে পারে। সহজ হবে না, একেবারেই সহজ হবে না।
  • Atoz | 161.141.84.108 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১১:০৮52202
  • স্বামী স্ত্রী দুইজনে চাকরি করতেন, একটিমাত্র পে-চেক যেত তাদের জন্য। ভদ্রলোকের নামে। কারণ তখন নাকি খুবই অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, কোনো হাউসহোল্ডে ডাবল ইনকাম যাবে না এরকম একটা নিয়ম হয়েছিল। এই ভদ্রমহিলা বিনা বেতনে গবেষণার কাজ করতেন। (মনে হয় কর্মদাতারা এইরকম একটা ভাব নিতেন, "ই রে, খুকি, শখ কত! কাজ করতে দিয়েছি এই না কত, আবার মাইনে চায়! অন্য মহিলারা তো বাড়িতে রান্না করে আর ছেলেপিলে মানুষ করে, তাই করুন্না আপনি।") এই মহিলা পরবর্তীকালে নোবেল প্রাইজ পান।
  • sosen | 177.96.59.145 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১৩52203
  • না তির্যকের মডেল বাস্তবোচিত নয় একেবারেই, কিন্তু প্রশ্নগুলো বহুদিক থেকে ট্রিকি,এক এক ইকনমিক, কালচারাল ক্লাসের জন্য এক এক রকম। মাইনে দিলে গৃহশ্রমের মর্যাদা বাড়বে এই ভাবনাটার গোড়ায় গলদ, যেহেতু ডিপেন্ডেন্ট শব্দটা চিরকাল অসম্মানজনক থেকে এসেছে ও থাকবে, মাইনে যদি সেই রোজগেরে ব্যক্তির পকেট থেকেই যায় তাহলে আরো বেশি করে প্রভু ভৃত্য সম্পর্কের গোড়ায়ই জল পড়বে।আসলে প্রশ্নটা উপার্জনে নয়, ডিসিশন মেকিং-এ ভূমিকা-নিম্নবিত্ত পরিবারগুলিতে মেয়েরা বাধ্যতামূলক ভাবেই রোজগার করে, রোজগারের গ্লোরি তাদের যে খুব একটা থাকে তা নয়, রোজগারের অভ্যাস হয়ে যায়, কারণ কোনো গৃহ্স্বামী তাদের দেখবে এরকম আশাই থাকে না। প্লাস, সংসারের ডিসিশন নেওয়ায় একটা বড় ভূমিকা থাকে হাতে আয় থাকলে, ঐ যেরকম স্বর্ণেন্দু বলছেন, আমি স্ত্রীকে মাঝখানে রেখে কাজের লোককে মাইনে দেবো কেন? অর্থাৎ যে পয়্সা দেবে, ডিসিশন কিন্তু শেষ অব্দি তার থাকে,থাকাটাই আমরা উচিত মনে করি। মাঝখানের এই ব্যাপারটা ছেলেখেলা বলেই প্রতিপন্ন হবে, ওটার কোনো মানে নেই। বরং গৃহশ্রমে ডিভিশন অফ লেবার এবং একই সঙ্গে গৃহবধূত্ব যে কোনো পেশা নয়, হতে পারে না এই মতবাদকেই প্রোমোট করাটাই যুক্তিযুক্ত মনে হয়।
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৫৫52185
  • উফ - আবার সেই গোরুর রচনা -

    কেউ বাই চয়েস গৃহবধূ হয়ে থাকলে তো বাই চয়েস সে আয়ের চেষ্টা করতে চায় না! সে ক্ষেত্রে ঘরেও থাকবো আবার মাইনেও পাবো, এই গাছেরও খাবো তলাও কুড়োবো অ্যাটিটিউড কেন?

    ঘরের যে সমস্ত কাজ গৃহবধূরা করেন প্রত্যেকটা কাজই চাকুরীবধূরাও করে থাকেন। বরং অনেক বেশী করেই করেন। সেক্ষেত্রে আলাদা করে মাস কয়েকের গ্যাপে গ্যাপে এই গৃহবধূদের জন্য কুমীরকান্নার মানে?

    বৃথাই লেখা - জানি - তবুও লিখলাম।

    কেউ আয় করতে চাইলে, স্বনির্ভর হতে চাইলে কেউ আটকে রাখতে পারে না। সুতরাং গৃহবধূদের জন্য অতো চোখ ছলো ছলো করারও কিছু নেই!
  • de | 69.185.236.55 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১১:৫৮52186
  • আর শুধু "সংসারে সাশ্রয়" করার জন্য সবাই বাইরে কাজ করতে বেরোয় না - কাজটাই কারো কারো কাছে ইম্পরট্যান্ট হয় -
  • :o)) | 69.160.210.3 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১২:০৫52187
  • এটা কি আবার ঘরে পোষা বরে পোষা বনাম চাকুরিজীবী তে কনভার্জ করল? অবশ্য করতই, জাস্ট সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
  • Arpan | 233.227.171.32 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৮52188
  • ও এটা কেসচা/সচাদের জন্য প্রকল্প? তা হেডলাইনে লিখে দিলেই হত। বৃথাই এত টাইপালাম। ঃ)
  • 0 | 132.176.27.175 (*) | ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৯52189
  • দুই পর্বের লেখা আর কমেন্ট্‌গুলো পড়ছি। এখনো শেষ হয়নি :-)

    দুটো এপেক্স্‌-কোর্টের কেস এক্ষুনি মনে পড়ছে। দুটোই ছিল দুর্ঘটনায় গৃহবধূ-মৃত্যূর পরে ক্ষতিপূরণের পরিমাপের বিষয় নিয়ে।
    দুটো রায়ই শেষ অব্দি আপিলান্টের পক্ষে গেছিল। প্রথমটা ছিল জয়ন্তীবেনের কেস। এটা খুব শোরগোল ফেলেছিল। অনেক বছর বাদে গুজরাট হাইকোর্টের পুরনো রায়ের দেয়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
    অন্যটা রেণু আগরোয়ালের কেস। ২০১০'এর। এখানেও এলাহাবাদ হাইকোর্টের পুরনো রায়ের দেয়া ক্ষতিপূরণের টাকা প্রায় তিনগুণ বাড়ানো হয়।
  • আরেকটি সমাধান | 178.26.197.46 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০১:৩২52211
  • আচ্ছা এমন আইন করে দিলেই তো হয় যে স্বামী স্ত্রীর যৌথ ইউনিটের মোট আয়ের ৫০% স্বামীর, ৫০% স্ত্রীর। কে চাকরি করছে, কে গৃহকাজ করছে এসব জটিলতার মধ্যে যাবারই দরকার নেই। হাত খরচা থেকে শুরু করে নিজের নিজের বাপ মার দেখাশুনো করা ইত্যাদি যাবতীয় ব্যক্তিগত খরচ ৫০-৫০ স্প্লিট হবে। আর কমন খরচ যা কিছু যেমন খাওয়া দাওয়া, বাচ্চাদের খরচ ইত্যাদি এসবের জন্যে কমন ফান্ড থাকবে।
  • Please Naa | 74.233.173.181 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:২৭52212
  • খেলব না। আগের টা তে মোটামুটি এইটা নিয়ে ভাটিয়েই আমি ৬-৭ পাতা বাড়িয়েছিলাম। কপিরাইট ইনফ্রিন্জমেন্ট।
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৩৫52213
  • আমিও তো এরকম একটা প্রস্তাব করেছিলাম। তাতে কেউ সায় দিলোনা। বোধয় বড্ড সোজা সাপটা - কোনো টকিঙ্গ পয়েন্ট থাকেনা আর।
  • Ekak | 53.224.129.50 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৪৮52214
  • একেবারেই সোজা সাপ্টা না । আপনি ওই দুরকম ইকনমিক রেঞ্জ এর যে প্রবলেম টা আমি বললাম সেটার ওপর এই সলিউশন প্রজেক্ট করুন , মজা বুঝতে পারবেন :) যাঁর মাইনে কম তার বাড়িতে গৃহকর্ম বিশাল । কাজেই সেই কম মাইনের অর্ধেক স্ত্রী কে দেওয়া তখনি সম্ভব যদি সেটা শুধুমাত্র সংসারের কাজেই ব্যবহার হয় । কোনো ব্যক্তিগত কাজে নয় । এক্ষেত্রে স্ত্রী শুধুমাত্র একটা মানি সায়ফনিং এজেন্ট । নিজের খেয়াল খুশিমত কোনো খরচ করতে পারবেন না ।
    আর যার মাইনে বেশি সে তার গৃহকর্ম ও কম । কাজেই অর্ধেক স্ত্রী কে দিতে হলে সে আর কাজের লোক রাখা -অটোমেশন এ খরচ করতে পারবে না । গৃহকর্ম বেড়ে যাবে । ঘুরেফিরে সেই মানি সায়ফনিং এজেন্ট । আরেকটা দিক হলো বেশি মাইনের বেশ কিছু লোক স্ত্রী র পার্ট টুকু থেকে কর ছার পাবে ।

    গোটা মডেল টা যতবার দেখছি সেই পোয়াতি ছাগল নৌকো পার হতে গিয়ে বাচ্চা দিলে নৌকো ডুববে কি ডুববে না সেই গল্প মনে পরে যাচ্ছে :))
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৫২52215
  • করের ব্যাপারটা ম্যানেজ করাই যায় - ম্যারিড কাপলদের জন্যে আলাদা স্ল্যাব তৈরী করে। অতেব ওটা প্রবলেম নয়।

    আর ঐ ৫০% এর একটা ম্যাক্সিমাম অ্যামাউন্ট রেখে দিলেই হয়।
    মানে স্ত্রীর পোর্শান = ম্যাক্স(৫০% অব টোটাল ইনকাম, মাসে ১০০০০ টাকা)
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৫৩52216
  • হ্যাঁ যুগান্তকারী থিসিস না হলে আর চলবে কি করে?
    তির্যক যে মডেল সাজেস্ট করছেন তাতে গৃহশ্রমে নিযুক্ত (তাই বলবো, কারণ পারিশ্রমিক আসছে) স্পাউসের প্রতি অশ্রদ্ধা, তাচ্ছিল্য আরো বাড়বে। কারণ অন্যজন জানবে যে টাকাটা তার স্যালারি থেকেই আসছে। এখন যেমন লোকে ট্যাক্স বাড়লে চেঁচামেচি করে সেরম করবে, তবে তফাৎ হলো এখন কারো উপায় নেই অর্থমন্ত্রীকে চাবকানোর, তখন সেই অ্যাকসেস থাকবে। তার থেকে বাধ্যতামূলক সেপারেট অ্যাকাউন্ট করে, সেখানে মোট পারিবারিক আয়ের ৫০% চলে যাওয়া আপাতত বেটার লাগছে।
    ইয়ে, গৃহশ্রম রেগুলেট হবে কি করে? ধরেন কেউ যদি মনে করেন "যথেষ্ট" কাজ হচ্চেনা, বা কিছুই হচ্ছেনা, তখন কি তিনি অভিযোগ করবেন বিশ্রীতি ম্যামের কাছে?
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৫৫52217
  • তার থেকে বিয়ে আইন করে বন্ধ করে দিক না, সব ল্যাঠাই চুকে যায়
  • sswarnendu | 138.178.69.138 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৫৯52218
  • আমার কিন্তু তির্যকের এই যুগান্তকারী থিসিস দারুণ পছন্দ হল... পুর্ণ সমর্থন...
    কারণ গৃহবধূত্ব পাকাপাকি তুলে দেওয়ার এর চেয়ে ভাল বন্দোবস্ত ভাবা শক্ত... কেউ আর উপার্জন করে না এমন কাউকে বিয়েই করবে না :)
    একে তো বিয়ে করতেই মেলা খরচ ও হ্যাপা, তারপর যদি বিয়ে করে মাইনে হাফ হয়ে যায় উজবুক ছাড়া কেউ বিয়ে করবে না :D
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০০52219
  • ক্ক ঃ-)))
  • S | 108.127.180.11 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০৯52220
  • টিম যে কি বলেন? আপানার আদ্ধেক টাকা যিনি রাখছেন তাকে আপনি চটাবেন? ফট করে যদি সব খরচ করে দেয়। ঃ))
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:১৫52221
  • আমি ৫০% মডেল নিয়ে না, তির্যক মডেলের মূল্যায়ণ হয়ে বেতন পাওয়া গৃহশ্রমের কথা বললাম
  • | 24.97.148.119 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:১৫52205
  • এহ একেবারেই লেখার সময় পাচ্ছি না, কিন্তু স্বর্ণেন্দু আর সোসেন মিলে আমার বক্তব্য অনেকটাই বলে দিয়েছেন।

    দেখুন তির্যক আপনি যতই বলুন বেতনের কিছু অংশ গৃহবধুটিকে দেবার --- তাতেও বধুটির নির্ভরশীলতা কমছে না একটুও। গৃহ নামক ইউনিটটিকে সচল রাখতে গেলে গৃহের সকল অধিবাসীকেই এফোর্ট দিতে হবে বলে আমি মনে করি। সকল মানে সকল। তাতে ৫+ বয়সের বাচ্চারাও ইনক্লুডেড। একদম ছোটবেলা থেকেই যদি ৫+ বয়সের ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই খাবারের থালাটা তুলে অল্প জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা, গ্লাসে জল ভরা, বিছানায় বালিশগুলো ঠিকঠাক করে সাজিয়ে রাখা এগ্লো শেখানো যায় তাহলে একে তো ঐ শিশুগুলি বড় হবে জেন্ডার স্টিরিওটাইপিং একটু কম শিইখে, কোনও কাজকেই 'এটা মেয়েদের কাজ' বা 'ছেলেদের কাজ' বলে দাগাতে শিখবে না। দ্বিতীয়তঃ গৃহবধুটির উপর অহেতুক চাপও কমবে আর তিনি অন্য কিছু করার দিকে মন দিতে পারবেন। একইভাবে সংসারের পুরুষটি বা বয়স্ক কিন্তু সক্ষম পেরেন্টস এন্ড ইন-লস রাও তাঁদের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজগুলো হাতে হাতে করে দিলে সকলেই হাতে বেশ খানিক সময় পাবেন।

    দে যে বলেছে চাকরি করলে দ্বিগুণ চাপ, সেটা এইজন্য নয় যে ঘরের কাজে চাপ বেশী, বরং সেটা এইজন্য যে বাইরের কাজ করলেও অনেকসময় এক্সপেক্ট করা হয় ঘরের কাজও মেয়েটিই করবে। অথচ যদি ব্যপারটা ডিসি বা সিবির মত যে যখন যা পারছে করে নিচ্ছে এমন হত, তাহলে এই প্রত্যাশাও থাকত না আর 'বেশী চাপ' এর গল্পও আসত না।

    আর একটা কথা। তির্যক দেখলাম বলেছেন যে কাজ নিজের ঘরে করলে কোনও মূল্য নেই, যথা রান্না, সেইটা অন্যের বাড়ী করে দিয়ে আসলে মূল্যবান হয়ে যায় কেন?

    তো, এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হল, সে তো সারোগেট মাদার হলেও তার আর্থিক মূল্য আছে। ইন ফ্যাক্ট ভারতে গর্ভ ভাড়া করা শস্তা পড়ে বলে অনেক প্রথম বিশ্বের দেশ থেকে এখানে গর্ভ ভাড়া নেওয়া হয় নিয়মিত ভাবে। কিন্তু নিজের গৃহে সন্তান উৎপাদনের জন্য তো এখনও অর্থমূল্য ধার্য্য করার কথা শুনি নি। তাহলে আপনি কি সেটাও প্রস্তাব করছেন এখানে?
  • Ekak | 53.224.129.50 (*) | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:১৭52222
  • এস সি -এস টি কোটা তে যে গ্যাস স্টেশন আর রেশন দোকানের লাইসেন্স পাওয়া যায় সেগুলোর প্রকৃত মালিক সমাজের কোন ক্লাসের লোকেরা জানা আছে তো ? কেও বিয়ে করবেনা , নাকি বিয়ে করার ধুম পরে যাবে টাকা সাইফন করাতে ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন