• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

    Saikat Bandyopadhyay
    বিভাগ : ব্লগ | ০১ জুলাই ২০১৯ | ৩০৭ বার পঠিত
  • পঞ্চাশবার লিখতে হলে পঞ্চাশবারই লিখব, কিন্তু মোদ্দা কথা হল এন-আর-সি একটি বর্বর জিনিস। কেন বর্বর? ওপার বাংলা থেকে এপারে কি লোক আসেনি? আসেনা? একশবার এসেছে। কেন এসেছে? কারণ আমাদের ধেড়ে খোকা জাতীয়-নেতারা তেলের শিশির বদলে একটা জাতির মাঝখান থেকে একটা লাইন টেনে দিয়েছিলেন। তার ফলে অন্তত কোটিখানেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে যখন পাড়ি জমাচ্ছিলেন সীমান্তের একদিক থেকে অন্য দিকে, তখন আমাদের নেতারা কী করছিলেন? নেহরু এই মানুষগুলিকে উদ্বাস্তুর স্বীকৃতি অবধি দেননি, ওপারে ফিরে যাবার উপদেশ দিয়েই কর্তব্য শেষ করেছেন। কানাকড়ি অবধি ঠেকাননি। শিয়ালদা স্টেশন যখন ভরে যাচ্ছে ছিন্নমূল মানুষে অন্য আরেকজন মহাপ্রভু শ্রী শ্যামাপ্রসাদ তো 'আমি পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছি' বলে উদ্বাহু হয়ে কাশ্মীর দৌড়চ্ছেন।

    ৫১ থেকে ৬১ হয়ে ৭১। সেই স্রোত কমেনি। পূর্ব ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দায় কার? তাঁদের, যাঁরা স্রেফ বাঙালি হবার কারণে লাথি-ঝাঁটা খেয়েছেন, হত্যালীলার শিকার হয়েছেন এপারে, ওপারে, আসামে, তাঁদের? না যাঁদের ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ হওয়ায় যাঁরা একটা লাইন টেনে দেশভাগের হুজুগ তুলেছিলেন, আর তারপর শখ মিটে যাওয়ায় হাত ধুয়ে পগার পার হয়েছিলেন, সেই নেতাদের? বছর তিরিশেক আগে পর্যন্ত এই দোষ-টোষ সরাসরি স্বীকার না করলেও উদ্বাস্তুদের কথা, তাঁদের স্বীকৃতি না দেবার কথা, দন্ডকারণ্যে ঠেলে পাঠানোর কথা, মরিচঝাঁপির কথা, এসব প্রসঙ্গ চুপচাপ এড়িয়ে যেতেন সরকারি কর্তাব্যক্তিরা। তখন অন্তত চক্ষুলজ্জাটুকু ছিল। এখন সে পাটও গেছে। এখন শোনা যাচ্ছে, উদ্বাস্তু হবার দায়ও নাকি বাঙালির। "আমরা তো একটা লাইন টেনেই দিয়েছিলাম, তোরা টপকে এলি কেন? যা শালারা বাংলাদেশ যা" টাইপের কথাবার্তা বুক বাজিয়ে বলার সাহস অর্জন করে ফেলেছেন জাতির নেতা নামক বিশুদ্ধ আপদরা।

    এন-আর-সি এই আপদদেরই নতুন মস্তিষ্কপ্রসূত খেলনা। এঁরাই ৪৭ এ তেলের শিশি ভাঙার মতো করে কোটিখানেক লোকের ভিটে-মাটি চৌপাট করে দিয়েছিলেন। আবার নতুন করে আরেকদফা সেই খেলায় নামছেন। আরও কত লোকের ভিটে-মাটি-জান-প্রাণ এতে উচ্ছন্নে যাবে জানা নেই। সেই জন্যই জোর গলায় কটি কথা বলা উচিত। যে, হ্যাঁ, সীমান্তের এপার থেকে ওপারে চলাচল হয়। হ্যাঁ, এদেশে উদ্বাস্তুরা এসেছেন, আসেন। হ্যাঁ, তাতে এদেশের অর্থনীতি, পরিকাঠামোতে চাপ পড়ে। কিন্তু এর দায় যাঁরা এসেছেন তাঁদের নয়। এর দায়, ভারত এবং পাকিস্তানের জাতির পিতাদের, যাঁরা অবস্থাটা তৈরি করেছেন। এর দায় হিন্দু মহাসভার, উদ্বাস্তু সমস্যা তৈরি হতে যাঁরা আনন্দে লাফিয়েছিলেন, এর দায় কমিউনিস্টদের, যাঁরা পাকিস্তান চেয়েছিলেন। এর দায় কংগ্রেসের, মুসলিম লিগের, যাঁরা ক্ষমতার লোভে আস্ত একটা ভূখন্ডে কোটি-কোটি মানুষকে বলি দিতে পিছপা হননি। এই দায় তাঁদের নিতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলে যৌথ উদ্যোগে সমস্যা মেটান। বাংলাকে উদ্বাস্তু কল্যাণ খাতে তার প্রাপ্য টাকা সুদসমেত ফিরিয়ে দিন। তাতেও না মিটলে অপদার্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে নিজেরাই বাংলাদেশ, বার্মা যেখানে খুশি বিদেয় হোন। কিন্তু নিজেদের অপদার্থতার দায় বাঙালি জাতির ঘাড়ে আরও একবার চাপাবেন না।

    #pakistan #india #partition
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ জুলাই ২০১৯ | ৩০৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3
  • dc | 124512.101.780112.71 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:০৮50724
  • "সমস্ত ইউনিয়ান রিপাবলিকগুলোর যখন খুশী USSR থেকে বেরিয়ে যাবার অধিকার ছিলো"

    দিদিও বলেছেন কাটমানি ফেরত দিতে হবে।
  • কল্লোল | 236712.158.676712.20 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:০৮50733
  • অমিত। আপনি লিখেছেন - "আচ্ছা, এই ওপেন মডেল যুক্তরাজ্য নিয়ে মাঝেই মাঝেই টইতে কিসব ভেসে ওঠে। সেসব দেশে নাকি যে কোনো রাজ্য যখন ইচ্ছে ধ্যাকতে পারে , যখন ইচ্ছে বেরোতে পারে , পুরো মুক্তাঞ্চল জ কে বলে। সেসব জায়গা নাকি একেবারে স্বর্গের পরের স্টেশন। ওরকম ই নাকি জিন্নার আইডিয়া ছিল, কে জানে বাবা, আর ওসব ইমপ্লিমেন্ট হলেই ইন্ডিয়া পাক বাংলাদেশের যাবতীয় সমষ্যা ইভাপোরেট হয়ে যেত। জাস্ট নেহেরু আর প্যাটেল শয়তানি করে হতে দেয়নি।"
    বোঝা গেল না। এটা কে দাবী করেছে যে ঠিকঠাক যুক্তরাষ্ট্র হলে (সোভিয়েৎ ইউনিয়ানের মত) ইন্ডিয়া পাক বাংলাদেশের যাবতীয় সমষ্যা ইভাপোরেট হয়ে যেত।
    যা হতো হতো। অন্ততঃ আমরা (বাঙ্গালীরা) আমাদের সমস্যা বুঝে নিতাম।
    আপনার যুক্তি ধরলে তো বাংলাদেশের স্বাধীন হাওয়া উচিৎ হয়নি। স্বাধীন হয়ে কি যাবতীয় সমষ্যা ইভাপোরেট হয়ে গেছে???
    যায়নি তো। তাহলে বলুন বাংলাদেশ স্বাধীন হাওয়াটাও ভুলভাল।
  • কল্লোল | 236712.158.786712.95 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:২০50725
  • স্তালিনের মডেল কি মডেল না, সেটার চেয়েও বড়ো ক্থা এই অধিকার ছিলো - এটা সত্যি। এটুকুই।
  • Ishan | 237812.68.4534.93 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:৩১50726
  • "ঈশেন বাবু অবশ্য একটা দিকে লজিক্যালি ঠিক। উনি সোভিয়েত দেশের কথা বলেছেন শুধু, ওটাকে ভালো খারাপ বা ফলো করার কথা কিছু বলেন নি । কেন বললেন বা এই টইতে তার রেলেভ্যান্সি কোথায় তা অবশ্য জানা নেই।"

    যথেষ্টই বুঝেছেন। মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাবের কথা উঠেছিল। সেখানে পাকিস্তান প্রসঙ্গে সার্বভৌম শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছিল। আমি বলি, যে, সার্বভৌম মানেই আলাদা জাতিরাষ্ট্র হতেই হবে এমন না। ১৯৪০ সালের হিসেবে। পিএম বললেন সে সময়ে সার্বভৌম রাজ্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনসেপ্ট চালু হয়নি। সে প্রসঙ্গেই সোভিয়েত। সোভিয়েতে এই কনসেপ্টটি ছিল। ইউক্রেনে বা কাজাকস্তানে কী হয়েছিল, সে অন্য প্রসঙ্গ, কিন্তু কনসেপ্টটা অবশ্যই ছিল।

    ভারতবর্ষের ইতিহাস দেখলে দেখবেন, এই ধারণাটি নিয়ে প্রচুর টানাপোড়েন হয়েছে। শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলা সার্বভৌম হতে চেয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত সার্বভৌম হতে চেয়েছিল। কাশ্মীরও তাই। কাশ্মীর অবশ্য দেশীয় রাজ্য ছিল। এরকম আরও কয়েকটি দেশীয় রাজ্য ছিল। তারা সার্বভৌমত্ব চেয়েছিল, কিন্তু আলাদা থাকবে বলে নয়। তারা স্ব-ইচ্ছায় সারভৌমত্ব সমেত ভারতীয় ইউনিয়নে (বা পাকিস্তানে) যোগ দিতে চেয়েছিল। ভারতবর্ষের এবং পাকিস্তানের এই ধারণাটি ছিল আল্গা। ঢিলে-ঢালা। উল্টোদিকে প্যাটেল এবং নেহরু একটি কেন্দ্রীভূত ভারতবর্ষ চেয়েছিলেন। মূলত সেই জন্যই ক্যাবিনেট মিশন প্রস্তাব প্রত্যাখান, বাংলা ভাগ, ইত্যাদি।

    শেষমেশ যদিও ভারতের নাম ইউনিয়ন, পশ্চিমবঙ্গ বা তামিলনাড়ু একটি স্টেট, রাজ্যগুলি ভাষা বা জাতিভিত্তিক, কিন্তু তাতেও জিনিসটা বকচ্ছপ হয়েই দাঁড়িয়েছে। মস্কোর আধিপত্যের মতো দিল্লির আধিপত্য। অনেকে অবশ্য তাতে খুশিই, কারণ এতে করে রাজকাপুরের নাম সারা পৃথিবীতে অনেকে জেনে গেছে, আর ভারতের ক্রিকেট টিম কতবার যেন বিশ্বকাপ জিতেছে।
  • | 236712.158.78.96 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:৩৯50727
  • অনেকেই খুশী হবেন জেনে যে কর্ণাটকেও ডিটেনশান ক্ল্যাম্প বানিয়েছে কংগ্রেস সরকার।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৫:৪৩50728
  • আরে সেটাই তো জানতে চাইছি । এই সার্বভৌম মডেল এর ঠিকঠাক কোথায় কোথায় শান্তি পুর্ন ইমপলিমেনট হয়েছে? রেগে যাচ্ছেন কেন ?
  • PM | 236712.158.78.28 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৮:১১50729
  • ধন্যবাদ কল্লোলদা। এটা জানা ছিলো না যে অন্তত খাতায় কলমে সোভিয়েত দের বেরিয়ে যাবার অধিকার ছিলো।

    কিন্তু তাতে তর্ক টা থামছে না। ১৯২২ বা ১৯৪০ এর সংবিধানে কোথাও দেখি নি যে সোভিয়েত গুলো সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট। অপানি কোথাও তার রেফেরেন্স পেলে দিন । সেচ্ছায় বেরিয়ে যাবার ক্ষমতা একটা মাত্র ট্রেট সভেরেনিটির।

    Moldova was declared a sovereign state on June 23, 1990 যদি মলদোভা আগে থেকেই সভেরেন থাকবে , তাহলে নতুন করে সভেরেনিটি ডিক্লেয়ার করার দরকার হলো কেনো ১৯৯০ তে?

    মুল প্রশ্নটা হলো "ইন্ডিপেন্ডেন্ট সভেরেন স্টেট" বলতে ৯৯% যা বুঝত , লাহোর রেসেলুসনে তা বোঝাতে চাওয়া হয় নি, অন্য কিছু বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, এরকম ক্লেম করতে হলে এর সপক্ষে যতটা তথ্য দেওয়ার কথা লেখক তা দেন নি। তাই দেশ ভাগ হটাত হয়েছে---নেতারাই দাই--- আর পাবলিকের কোনো দায় নেই এই প্রোপোসিসন সাব্স্ক্রাইব এখ্নো করার মতো যুক্তি আসে নি।

    এর মানে কিন্তু এই নয় যে নেতাদের দায় নেই। অবশ্যি আছে। কিন্তু দুপারের সাধারন বাঙালী ও সমান দায়ী।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ১০:২২50734
  • এলেবেলে,

    আমার পয়েন্ট টা হলো নেতারা অন্য গ্রহ থেকে উঠে আসা কোনো এলিয়েন এনটিটি নয়, ডেমোক্রেটিক সিস্টেম এ নেতা হলো সমাজের একটা বড়ো অংশের মানুষের নিজেদের বিশ্বাস, ভয়, এম্বিশন সবকিছুর একটা ব্রড রিফ্লেকশন। পাবলিক এর মধ্যে থেকেই নেতা উঠে আসে, যারা সেই বিশ্বাস বা ভয় কোনো কিছুকে ভালো করে এক্সপ্লইট করে সেটাকে একটা ভয়েস দিতে পারে। এখানে সমাজ বা দেশ বলতে ওপর থেকে নিচে সবাইকে মিলিয়ে ধরেছি আমি, কয়েকজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নয়। আপনি নিজেই বলছেন দাঙ্গার প্রস্তুতি ছিল, কাদের বেশি কম ছিল সেটা প্রশ্নই নয়। কিন্তু সেই প্রস্তুতি কি ? তাতে একটা বড়ো গুন্ডা বাহিনী বা দলবল লাগে না ? তো সেই দলবল কি অন্য দেশ বা গ্রহ থেকে এসেছিলো ? তা নয় , সেই গুন্ডার দলবল যে একই সমাজ থেকে উঠে আসা এটা নিশ্চয় মানবেন ?

    আমি মনে করি না আদৌ ক্যাবিনেট মিশন মেনে নিলে দাঙ্গা হতো না, এটা ভুল প্রেডিকশন, জমি তৈরী করাই ছিল, না হলে তার জন্য প্রস্তুতি দরকার পড়ে না। কিছু না কিছু ছুতোয় দাঙ্গা লাগানো হতোই two নেশন তত্ত্বের র সাকসেসফুল এপ্লিকেশন করার জন্য। ততদিনে two নেশন তত্ত্ব ভালো মতো মান্যতা পেয়ে গেছে।

    ওই সমাপতন হিসেবে করলে কালকে মোদী বাবু ও বলবেন গোদরাতে ট্রেন জ্বালানো না হলে ২০০২ গুজরাট হয়না। সেটাও মেনে নেবেন আশা করি ? এই প্রশ্নটা ঈশেন বাবু কে অবশ্য।

    একই যুক্তি তে আমি মনে করি ২০১৯ এ যে জনগণ মোদিকে জিতিয়ে এনেছে, পাঁচ বছর পরে যদি দেশকে একটা বড়ো যুদ্ধের মুখে ফেলে দেওয়া হয়, যদি এমন হাল হয় যে পুরো দেশটাই জিজি তে গেলো , তখন সব দোষ মোদী বাবুর ঘাড়ে ফেলে জনগণ হাত ধুয়ে ফেললে হবে না, সেই জনগণের মেজরিটি অংশ এদেরকে জিতিয়ে এনেছে। এখানে ইন্ডিভিজুয়াল কেও কেও তার বিরোধিতা করেছে , সেটা ইম্প নয়, মেজরিটি যেটা বললো সেটাই ম্যাটার। এটা ভালো না লাগতে পারে, আমার ও লাগে না সব সময়, কিন্তু তাও বাকি অপশন গুলোর থেকে গণতন্ত্রকে বেটার অপশন মনে হয় কারণ বাকি গুলো বলতে, মোনার্কি, ডিকটেটরশীপ , টোটালিটারিয়ান - এগুলো আরো বেশি খারাপ।

    ঈশেন বাবু ক্লেম করছেন ক্যাবিনেট প্রস্তাব মেনে নিলে নাকি কোনো দাঙ্গা হতো না এবং সেটা ফ্যাক্ট। যা ঘটেনি সেটা ফ্যাক্ট কি করে হয় বুঝলাম না। আর জিন্নাহ কেন ক্যাবিনেট প্রস্তাব মেনে ছিলেন , তার দু একটা কারণ অলরেডি লিখেছি। তার মধ্যে এই তথাকথিত সরভোমত্ব-ফত্ব কিস্যুই ছিল না, যেটা মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস সেই সময়ে মুসলিম লীগ কে জাস্ট সংখ্যার জোরে স্টিম রোল না করতে পারে তার জন্য রাস্তায় একটা গোদা রোড বাম্পার লাগানোর চেষ্টা। এই ওপেন যুক্তুরাষ্ট্র মডেল খাতায় কলমে অনেক দেশে আছে, যেমন কল্লোলদা দেখালেন সোভিয়েত :) , কিন্তু প্রাক্টিক্যালি একটা মডেল কাজ করেছে একটা বড়ো দেশ এ শান্তিপূর্ণ ভাবে, তার উদা কিন্তু এখনো এলো না। সুতরাং যেটা কোথাও মেজর স্কেল এ রিয়েল লাইফ এ ট্রাইড এন্ড টেস্টেড মেথড নয়, শুধু কাগুজে তত্ত্বের র ওপর ভিত্তি করে সেই কেবিনেট মিশন তত্ত্ব বা জিন্না কে ফুল মার্ক্স্ দেওয়াটা আমার কাছে হাস্যকর লাগছে। উদা দেখান যেগুলো ইন্ডিয়ার সাথে তুলনায় আসছে, তাহলে নিশ্চয় ভুল মেনে নেবো।

    কংগ্রেস আর মুসলিম লীগ দুজনেই দাবার গুটি খেলে গেছে ওই টালতামাল সময়ে, যে ম্যাক্সিমাম মাইলেজ পেতে পারে ব্রিটিশ দের থেকে ৪৫-৪৭ এর চৈত্র সেল এর বাজারে। বাকিরা ও পারলে খেলতো নিশ্চয় , কিন্তু তারা পাত্তা পাওয়ার জায়গায় জাস্ট ছিল না। মুসলিম লীগ তখন মাত্র ৬ টা স্টেট এ ক্ষমতায়, বাকি সবকটাতে কংগ্রেস, সুতরাং বার্গেইনিং পাওয়ার তাদের ন্যাচারালি বেশি ছিল। এর মধ্যে কি হলে কি হতনা, এসব প্রেডিকশন জাস্ট পইন্টলেস।

    আর হ্যা, অত যদি জিন্নার সার্বভৌমত্বের প্রতি এতো প্রগাঢ় প্রেম ছিল, তাহলে ১৯৭১ এ রক্তগঙ্গা হয়না।

    আমার কাছে সামনে তাকানোটা জরুরি, আগে কি হয়েছে সেটাকে উল্টোনো যাবে না। বড়ো জোর হয়তো ৫০-১০০ বছর পরে পরিস্থিতি বদলালে একটা ক্ষমা প্রার্থনা আসবে ব্রিটিশ বা কংগ্রেস বা মুসলিম লীগের থেকে। তাতে ইতিহাস বদলাবে না।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ১০:৪২50735
  • কল্লোল দা,

    এর আগে একটা টোয়িতে আপনার সাথে বাংলাদেশ নিয়ে লম্বা আলোচনা হয়েছিল। খুঁজে পেলে তুলে দিচ্ছি। আপনারা অখণ্ড বাংলার স্বপ্নে বিভোর, খুব ভালো কথা। মনে আছে আপনার যুক্তি ছিল অখণ্ড থাকলে নাকি হিন্দু মুসলিম পপুলেশন কাছাকাছি থাকতো , তাহলে দাঙ্গা হতো না। যখন আমি ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এ হিন্দু পপুলেশন কমে যাওয়ার ট্রেন্ড দেখলাম, তখন আপনার যুক্তি ছিল দেশভাগের ফলে মুসলিম পপুলেশন বেড়ে যাওয়ায় এর জন্য দায়ী। এবার যখন আমি লেবানন এর উদা দিলুম যেখানে মুসলিম খ্রীষ্টান পপুলেশন প্রায় ৫০-৫০ % থাকা সত্ত্বেও দাঙ্গা আটকায়নি , তখন আপনি যুক্তি নিয়ে এলেন বাংলায নাকি লালন ফকির , বাউল গানের যে সংস্কৃতি ইত্যাদি, তাতে নাকি বাঙালি কোনোদিন দাঙ্গা করতেই পারে না।

    বেশ লম্বা আলোচনা ছিল , অনেক কিছু লেখালেখি হয়েছিল, পারলে তুলে দেব ওটা।

    কিন্তু সমস্যা হলো ফ্যান্টাসি আর লজিক হাত ধরাধরি করে চলে না সব সময়।

    আর ঈশেন বাবু লাস্ট পোস্ট এ সেই আবার যথারীতি হিন্দি বনাম বাংলা র, রাজ্ কাপুর , ক্রিকেট ইত্যাদি চেনা ট্র্যাকে ফিরে গেছেন। তো সেটা সোজা করে বললেই হয়ে যেত , তার জন্য নরক দিয়ে শুরু করে এতো ১৯৪৫-৪৭ আমড়াগাছি টেনে আনার কি দরকার ছিল বুঝি না।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ১০:৪৩50736
  • ota NRC hobe last line e
  • S | 236712.158.90056.129 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ১১:৫৩50737
  • এমনিতেই মিডল অর্ডার নড়বড় করছে, ধোনি ব্যাটে বলে করতে পারছেনা আর এদিকে ঈশানদা ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের উপর নজর দিচ্ছেন।

    পাকিস্তান টীমটা মনে হয় শেষমেষ দাঁড়িয়ে গেলো।
  • Ishan | 237812.68.4534.117 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ১২:৩৯50709
  • আপনি বোধহয় না পড়েই লিখে চলেছেন। আমি সোভিয়েত মডেল আদর্শ, নাকি খুব খারাপ এ নিয়ে কোনো কথাই বলিনি। শুধু বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রীয় মডেল ৩৭ সালের পৃথিবীতে অজানা কিছু না। পরিচিত মডেল। সোভিয়েত ইউনিয়নে চালু ছিল। এটুকু ফ্যাক্ট। এর বাইরে আর কিচ্ছু বলিনি।

    পরের কথা হল, যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন, সোভিয়ের প্রভাব, সেই ব্রিটিশ ভারতবর্ষে বাস্তবিকভাবেই কতটা ছিল? ৩৭ সালের কথা হচ্ছে। নেহরু তখন কংগ্রেসের সভাপতি। কট্টর বাম বলে পরিচিত। বোম্বে গিয়ে ভাষণ দিয়ে এসেছিলেন, সমস্ত শিল্প জাতীয়করণের পক্ষে। বোম্বে গ্রুপ একজোটে তার বিরোধিতা করেছিল। পরের বছর। ৩৮ সাল। সুভাষ কংগ্রেস সভাপতি। তৈরি করলেন পরিকল্পনা কমিশন। এ সবই সোভিয়েত প্রভাবিত। বাস্তব যদি বলেন, তো সোভিয়েতের চিন্তাধারার পক্ষে এবং বিপক্ষে দুটোকেই যদি সোভিয়েত প্রভাব বলেন, তা বাস্তব রাজনীতিকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল। এটাও ফ্যাক্ট।

    তৃতীয় কথা হল ক্যাবিনেট মিশন। আমি কখনও বলিনি "কেবিনেট মিশন জিন্না মেনে নিয়েছিলেন, নেহেরু মানেন নি , সুতরাং তারই দোষ"। দোষ-গুণ অন্য বিষয়, এখানেও ফ্যাক্ট বলেছি। এবং ফ্যাক্ট হল, সেটা মেনে নিলে ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে হতনা। প্রতিক্রিয়াতে নোয়াখালিও হতনা। এটুকু একেবারেই কল্পনা নয়। অন্য কোথাও অন্য কিছু অন্য কোনো ফর্মে হত কিনা সে অবশ্য সত্যিই জানা নেই।

    এবং যে পয়েন্টে আমার আপত্তি, সেটা কী হলে কী হত নয়। সেটা খুব পরিষ্কার। ভারতবর্ষে চাট্টি লোক দাঙ্গা করেনি তা নয়। করেছে। সাম্প্রদায়িক লোক ছিলনা তা নয়, নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু কথা খুব পরিষ্কার, যে, দেশভাগের দায় তাদের নয়। কারণ তাদের কোনো সিদ্ধান্তের অংশীদার করা হয়নি। দেশভাগ খুব নির্দিষ্টভাবে তিন-চারটি লোকের সিদ্ধন্ত। নেহরু-প্যাটেল-জিন্না-গান্ধি-মাউন্টব্যাটেন। এর বাইরে এক আধটা লোককে একটু আধটু যোগ করা যায়, কিন্তু আপামর জনসাধারণের এমনকি রাজনৈতিক কর্মীদেরও কোনো ভূমিকা ছিলনা। পুরোটাই উপর থেকে চাপানো। এখানে দায়িত্ব নেবার কথা গুণে গুণে কয়েকটি লোকের। বাকি কারো নয়।
  • dc | 236712.158.565612.19 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০২:১২50738
  • অ্যাঁ অখন্ড বাংলাদেশের স্বপ্ন আবার কি? বাংলাদেশের আর পব এক হওয়া মোটেও চাইনা, দুটো আলাদা আছে তাই থাক। কারা যেন ভাগ হওয়ার জন্য দায়ী, তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হোক, কিন্তু আমরা ইন্ডিয়াতে আছি আর ওরা বাংলাদেশে আছে এটাই থাকবে। ইটস আ ডান ডিল।
  • কল্লোল | 237812.68.674512.199 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৪:০৮50739
  • অমিত। অখন্ড বাংলা হলে সেটা একটা মধুমাখা দেশ হতো এমনটা কেউ দাবী করেনি। সমস্যা থাকবেই। সেই দেশের মানুষ তার সমাধান খুঁজবে - ব্যস। আজ বাংলাদেশে সমস্যা নেই? তারা তাদের মতো করে সমাধান খুঁজছে। সমস্যা আছে বলে কি বাংলাদেশ স্বাধীন হাওয়া ভুল ছিলো?

    আপনার এই কথাটার মানে বোঝা গেলো না।
    "আমার পয়েন্ট টা হলো নেতারা অন্য গ্রহ থেকে উঠে আসা কোনো এলিয়েন এনটিটি নয়, ডেমোক্রেটিক সিস্টেম এ নেতা হলো সমাজের একটা বড়ো অংশের মানুষের নিজেদের বিশ্বাস, ভয়, এম্বিশন সবকিছুর একটা ব্রড রিফ্লেকশন। পাবলিক এর মধ্যে থেকেই নেতা উঠে আসে, যারা সেই বিশ্বাস বা ভয় কোনো কিছুকে ভালো করে এক্সপ্লইট করে সেটাকে একটা ভয়েস দিতে পারে।"
    এর মানে কি? গান্ধী, নেহেরু, সুভাষ, জিন্না শ্যামাপ্রসাদ, চিত্তরঞ্জন, ফজলুল হক, সোরাবর্দি এরা একই সঙ্গে সমাজের একটা বড়ো অংশের মানুষের নিজেদের বিশ্বাস, ভয়, এম্বিশন সবকিছুর একটা ব্রড রিফ্লেকশন। কোন সমাজ? কোন বড় অংশ? এত বিভিন্ন মতের পথের নেতার জম্মো দিয়েছে?

    আপনি লিখেছেন - "জমি তৈরী করাই ছিল, না হলে তার জন্য প্রস্তুতি দরকার পড়ে না"।
    এটা আপনার মত। আমি মনে করি দাঙ্গা হয় না, দাঙ্গা করানো হয়। সে অর্থে বিপ্লবও হয় না, করানো হয়। সম্ভাবনা থাকলেই হয় না - বাইরে থেকে ক্রিয়ার দরকার পড়ে সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিনত করার। ডিমের ভিতর বাচ্চার সম্ভাবনা থাকে। তা না দিলে বাচ্চা হয় না। পাথরে তা দিলে বা ডিমে তা না দিলে বাচ্চা হয় না।
    আপনি হয়তো পড়েছেন - তবু তিনটে উপন্যাস পড়ে নিন আরএকবার - গৌরকিশোর ঘোষ - প্রাতিবেশী, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় - নীলকন্ঠ পাখীর খোঁজে, মিহির সেনগুপ্ত - বিষাদ বৃক্ষ। তিনটেই সেই সময়কার অসাধারণ দলিল।
    সোভিয়েৎ-এ বাস্তবে কি ঘটেছিলো, তা এখনো আমাদের অনেকটাই অজানা। তবু, একটা দেশের সংবিধানে ঐ অধিকারগুলো দেওয়া ছিলো। নাও তো দেওয়া থাকতে পারতো। কতো দেশের সংবিধানে তো নেই। আমাদের দেশেই ত নেই। তাতে কি ভায়ানক শান্তির পরিবেশ আছে বা ছিলো বলে মনে হয়?
    ঈষাণের যেটা বলার ছিলো, তাত্ত্বিকভাবে ওরকম যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ১৯৪৭এর অনেক আগেই এই ধরাধামে বিরাজ করতো এবং তা হগ্গলের জানাও ছিলো।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৫:৫১50745
  • যা বুঝলাম তা হল গান্ধী ডেমোক্র্যাসিতে বিশ্বাস করতেন এবং গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল-জিন্নার সময়ের জনগণ আর মোদীর গোধরার সময়ের জনগণ একই চরিত্রের!!!
  • PM | 236712.158.565612.163 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৬:০২50740
  • "তাত্ত্বিকভাবে ওরকম যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ১৯৪৭এর অনেক আগেই এই ধরাধামে বিরাজ করতো এবং তা হগ্গলের জানাও ছিলো।"

    কল্লোলদা, লাহোর রেসোলিউসনে "কনফেডেরসন " এর কথা বলা নেই , কিন্তু পরিস্কার ভাবে " ইন্ডিপেন্ডেন্ট সভেরেন স্টেট " এর কথা বলা আছে।

    " ইন্ডিপেন্ডেন্ট সভেরেন স্টেট "= কনফেডারেসন এই তত্ত্ব টা মানছি না।

    লাহোর রেসোলিউসন বলছে-
    "That geographically contiguous units are demarcated regions which should be constituted, with such territorial readjustments as may be necessary that the areas in which the Muslims are numerically in a majority as in the North Western and Eastern Zones of (British) India should be grouped to constitute ‘independent states’ in which the constituent units should be autonomous and sovereign."

    আচ্ছা, তর্কের খাতিরে ধরুন সেরকম "কনফেডেরেসন" অ্যাকসেপ্টেড হলো ইন রিয়েলিটি। তাহলেও কিন্তু দুই বাংলা কোন সুত্রে ঐ ধর্মের ভিত্তিতে "territorial readjustments" এ একসাথে থাকত?
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.23 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৭:০৩50741
  • অমিত, গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল-জিন্না 'সমাজের একটা বড়ো অংশের মানুষের নিজেদের বিশ্বাস, ভয়, এম্বিশন সবকিছুর একটা ব্রড রিফ্লেকশন'? আপনি তাই বিশ্বাস করেন? নেতারা আমাদের চালান না আমরা নেতাদের চালাই?

    লাহোর প্রস্তাবে কিন্তু স্পষ্টভাবে লেখা ছিল --- “adequate, effective and mandatory safeguards shall be specifically provided in the constitution for minorities in the units and in the regions for the protection of religious, cultural, economic, political, administrative and other rights of the minorities, with their consultation.” সেটাকে নষ্ট করার মূলে কারা?

    হডসন 'The Great Divide' গ্রন্থে Sir Francis Tukerকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-তে দাঙ্গা বাধানোর উদ্দেশ্য নিয়ে “buses and taxis were charging about loaded with Sikhs and Hindus armed with swords, iron bars and firearms”. কেন সেইদিন কলকাতা ছাড়া দেশের অন্য কোথাও দাঙ্গা হল না? ওই দাঙ্গা না হলে পরবর্তীতে বোম্বে, নোয়াখালি, বিহার, গড়মুক্তেশ্বরে দাঙ্গা আদৌ হত কি?

    কংগ্রেস যে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করার জন্যই দাঙ্গা বাধিয়েছিল তা বলেছিলেন স্বয়ং ওয়াভেল (যে উদ্ধৃতিটি আমি আগে দিয়েছি)। তারপরেই কিন্তু বাজারে আসছেন মাউন্টব্যাটেন। এগুলো কোনও সমাপতন নয়?
  • Amit | 237812.68.6789.105 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৭:২৯50742
  • পরে লিখছি ভালো করে। কিন্তু নেতারাই যদি সব চালান, তাহলে শেষে মেনেই নেওয়া হল ছাগল থিওরি -? ভালো।
  • aranya | 347812.245.2356.108 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ০৮:২২50746
  • গোধরা না হলে , ২০০২-এর গুজরাত রায়্ট হত না, সেটা টেকনিকালি ঠিক, কারণ বানর সেনারা মুসলিম হত্যার কোন হাতে গরম অজুহাত তক্ষুনি পেত না।

    অন্য কোন অজুহাতে গুজরাত বা অন্য কোথাও রায়ট হত ঠিকই, তবে হাজারের ওপর - অত বেশি সংখ্যক মানুষ হয়ত মারা যেত না। সেই গণহত্যার নায়ক দেশের সুপ্রিম লিডার, তাকে আদালতে শাস্তি দেওয়া গেল না, এ বড় দুঃখের, লজ্জারও
  • | 236712.158.676712.108 (*) | ০৬ জুলাই ২০১৯ ১০:৫৫50743
  • "ওই সমাপতন হিসেবে করলে কালকে মোদী বাবু ও বলবেন গোদরাতে ট্রেন জ্বালানো না হলে ২০০২ গুজরাট হয়না। সেটাও মেনে নেবেন আশা করি ? এই প্রশ্নটা ঈশেন বাবু কে অবশ্য।"

    মানে??? 'কালকে মোদীবাবুও বলবেন' মানেটা কী!!?? এটা তো মোদীরা একেবারে প্রথম থেকেই বলে আসছে। মোদীর মত মুর্খ এই প্রসঙ্গে নিউটনের তৃতীয় সুত্রের কথা বলেছিল।(নিউটনের নাম জানে সেটাই অবাক কান্ড)। এই গুরুতেও এক চাড্ডিসখী এই কথাই লিখেছিল। এটাই ওদের বক্তব্য প্রথম থেকে বরাবর।

    ৪৬-৪৭ নিয়ে নাহয় বইপত্র পড়ার ব্যপার আছে কিন্তু এটা তো ২০১৪ তেও পেপারে টিভিতে এসেছে!!
  • কল্লোল | 237812.69.453412.122 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০১:১৯50747
  • পিএম। কনফেডারেশন কাদের মধ্যে হয়। ভারত কি কনফেডারেশন? না। কেন? কারন রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসনই নেই। তাদের দায়িত্ব ও অধিকার ভাগ করা কেন্দ্র তালিকা ও রাজ্য তালিকা এবং যৌথ তালিকায়।। আর ক্রমাগত রাজ্য তালিকা ছোট হচ্ছে। সোভিয়েৎ-এ কনফেডারেশন কারন সেখানে স্বাধীন দেশগুলো একত্র হয়েছে। তাই কনফেডারেশন বললে - স্বাধীন দেশের সমষ্টিই বোঝায়। হ্যাঁ, স্বাধীনতা কতখানি সেটাও দেখতে হবে।
  • PM | 236712.158.67.219 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:২৩50753
  • বাকি সব কিছু ঠিক থাকলেও আমি পারমানন্ট রেসিডেন্সি বা নাগরিকত্বের সরর্থক নয়। অহজ সর্তে লোক আসা যওয়া করুক, ব্যবসা বানিজ্য করুক সকলে , ট্যক্স দিক ঠিক আছে। কিন্তু সমস্যা হলো ফ্লো টা একদিকেই। আর সেটা ইর্রেভারসিবল ফ্লো।

    কারনটা পুরোটাই অর্থনৈতিক ধর্মীয় নয়। আমার মনে হয় না পঃব এর অর্থনীতির সেই স্ট্রেন্থ আছে যে আনলিমিটেড মানুষের ফ্লো অ্যাবসর্ব করতে পারবে।

    বাংলাদেশ সব রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না কেনো ? একটি নির্দিষ্ট যায়্গায় আটকে রাখছে কেনো ? কেনো মিশে যেতে দিছে না ওদের বৃহত্তর বাংলাভাষী জনগোষ্ঠির সাথে ? । ওটা তো অনেক বেশী মানবতা মুলক সমস্যা তা সত্ত্বেও। বিশ্ব শুদ্ধ দেশের কাছ থেকে সাহায্য চাইছে কেনো ওদের ভরন পোষনের জন্য--- আর ভালোভাবে ফেরত পাঠানোর জন্য নিজের দেশে? ওখানে তো কো ধর্মীয় বাধাও নেই ? একটাই কারন অর্থনৈতিক। ই অর্থনৈতিক চাপ নেবার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। আর নিজের ভালো পাগলেও বোঝে।

    একই সমস্যা এখ পাকিস্তানে আফগান সরনার্থী নিয়ে। আফ্গান আর KPK বর্ডারে দুদিকেই পাশতুন , ভাষা এক , ধর্ম এক। জদ্দিন আমেরিকা পয়্সা দিতো সব ঠিক ছিলো। এখন দিচ্ছে না, আফ্গান্দের জোর করে ফেরানো হচ্ছে। ৩০ বছর থাকার পরেও কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় নি। টেম্প রেসিডেন্সি কার্ড দেওয়া হয়েছিলো।

    সহজ সর্তে কাজের ভিসা দেওয়া এক জিনিষ। আর নাগরিকত্ত্ব আরেক জিনিষ। দুটোকে মিশিয়ে ফেলার কোনো
    কারন নেই।

    আর বাংলাদেশে ভারতীয় পন্য অবাধ নয়। প্রচুর ট্যক্স বসায়। একি গাড়ির দাম কলকাতার দ্বিগুন। ভুল কিছু করে না, ঠিক ই করে। শুধু মানুষের ক্ষেত্রে অবাধ হবে কেনো ?

    কাল বাংলাদেশের অর্থনীতি , মাথাপিছু আয় ভারতের ৫ গুন ভালো হলে, ওরা এপার থেকে ফ্লো অবাধ করবে ? গেলেই নাগরিকত্ব দেবে ?

    প্রশ্নগুলো জরুরী
  • PM | 236712.158.67.219 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৩৫50754
  • এলেবেলের লাস্ট পোস্ট টা পড়ে দিওয়ার এ অমিতাভ এর ডায়লগ মনে পড়ে গেলো মাইরি-- কার কার সই আনতে হবে তার একটা লিস্টি ছিলো তাতে
  • dc | 236712.158.895612.192 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৪০50755
  • পিএমদা, শুধু যে পবতে ফ্লো হবে তা তো না, পুরো ভারতেই তো হবে! ইন ফ্যাক্ট শুধু পব এখানে ইমেটিরিয়াল কারন পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পুরো রিজিয়নটাতেই ফ্রি ট্রেড আর ফ্রি ফ্লো অফ লেবার হতে দেবার কথা বলেছি। পুরোটা একটা ইউনিফায়েড মার্কেট তৈরি হবে।
  • PM | 236712.158.78.98 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৪২50748
  • কিন্তু কনফেডেরসন তো বলা হয় নি কোথাও লাহোর রেসেলিউসানে !? ।। মুসলিম দের জন্য " সভেরেন ইন্ডেপেন্ডেন্ট স্টেট" চাওয়া হয়েছিলো। কনফেডরেসনের কথা উঠছে কেনো? কনফেডরেসন তো এখন
    কার কবিদের কল্পনা।

    ১৯৪০ থেকেই "সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট" এর জন্য কাজ শুরু হয়। ১৯৪৬ এর ভোট এ লাহোর রেসেলিউসনে বলা "Muslims are numerically in a majority as in the North Western and Eastern Zones of (British) India " র এলাকা নির্ধারন হয়।

    ১৯৪৬ এ পাকিস্তান ( লাহোর রেসেলিউসানের সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট এর নাম ) এর অ্যাজেন্ডা নিয়েই মুসলিম লিগ ভোট এ গেছিলো এইটুকু ফ্যক্ট। এখন ঐ ভোটে ১৪ % এলিট নাগরিক ভোট দিয়েছিলো মাত্র ইশান বাবুর এই দাবীও ঠিক । সেক্ষেত্রে ওটকে গন ভোট বলা যাবে কিনা তা নিয়েও বিতর্ক থাকবেই। আমার ধারনা ১০০% অডাল্ট ভোটারা ভোট দিলেও ১৯৪৬ সালে ফলাফলের হেরফের হতো না। এটা অবশ্য ফ্যক্ট নয় , ধারনা।
  • PM | 236712.158.67.9 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৪৮50756
  • "আমার প্রশ্ন, "অনুপ্রবেশকারী" কেন? বাংলাদেশের সঙ্গে আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কোন দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমস্যাটা আছে যে জন্য সীমান্ত এভাবে সীল করে রাখতে হবে?"

    একটা এক্সপেরিমেন্ট করুন। ধরে নিচ্ছি আপনার পাড়ার সকলের সাথে আপনার খুব ভালো সম্পর্ক। সামনের দুমাস আপনি পাড়াশুদ্ধ লোককে বলুন আপনার বড়িতে এসে ২ বেলা খেতে , শুতেও । এক্টু কষ্ট হবে। হয়্তো আলুসেদ্ধ ভাত খেতে হবে। শোবার সময় হয়্ত পাশের লোক আপনার বুকে পা তুলে দেবে -- তাতে কি। ২ মাস একটু কষ্ট করুন। আপনার প্রশ্ন টার উত্তর নিজেই পেয়ে যাবেন

    আর এখানে ২ মাস নয় , সারাজীবন শুধু নয় , প্রজন্মান্তরে থাকার কথা বলা হচ্ছে।

    কাজ কম্ম করা, ব্যাবসাবানিজ্য করা এসবে সমস্যা নেই। সমস্যা বাই ডিফল্ট নাগরিকত্বে
  • dc | 236712.158.895612.192 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৫২50757
  • আমার মনে হয় অ্যানালজিটা ভুল হচ্ছে, মানে ম্যাক্রোইকনমিতে যা খাটে তা মাইক্রোইকনমিতে নাও খাটতে পারে ঃ-)

    পাড়ার সব লোক আমার বাড়িতে এসে হাজির হলে আমার কষ্ট হবে কারন আমার রিসোর্স খুব সীমিত, কিন্তু পাশের দেশের লোক আমার দেশে এলে (বা আমার দেশের লোক পাশের দেশে গেলে) কষ্ট হবেনা কারন একটা দেশের রিসোর্স অনেক বেশী। পাশের লোক এসে আমার দেশে কাজ করবে, ইকোনমিতে কনট্রিবিউট করবে, কেউ কেউ ইনোভেট করবে, নতুন কোম্পানি খুলবে, অন্য লোকেদের কাজ দেবে। পুরো রিজিয়নটার ইকোনমিক গ্রোথ হবে।
  • PM | 236712.158.67.237 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৫৪50758
  • ডিসি , কম্প্রিহেন্সিভ বানিজ্য চুক্তি হোক, তাতে ওয়ার্ক পারমিট ও পার্ট হোক। কোনো সমস্যা মেই তো-- ভালো প্রস্তাব।

    কিন্তু ১৯৪৭ এর দোহাই দিয়ে একটা রাজ্যের মানুশকে চিরকাল অপরাধী বানিয়ে রাখার বিরোধী।

    বাই ডিফল্ট নাগরিকত্ব দেবার ও বিরোধী
  • dc | 236712.158.895612.192 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০২:৫৯50759
  • ১৯৪৭ নিয়ে আমি লিস্ট ইন্টারেস্টেড, যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে ঃ-)

    বাই ডিফল্ট নাগরিকত্ব না দিলেও ধরুন ৫ বছরের ওয়েটিং লিস্টে রাখা হলো, তাই বা খারাপ কি? আমার মনে হয় বর্ডার কন্ট্রোল, ট্যারিফ, ডিউটি ইত্যাদি যতো কমানো যাবে ততো ইকোনমি ভালো হবে।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.23 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৩:২৩50760
  • পিএম

    প্রশ্নগুলো কমন না পড়লে অমিতাভের দিওয়ারের কথা মনে পড়ে! আমার তো এখানে কারও কারও মন্তব্য পড়ে অনুসন্ধানের উৎপল দত্তের কথা মনে পড়ছিল!! কালীর কোনও দোষ নেই হুজুর!!!
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৬:১৮50749
  • '১৯৪৬ এ পাকিস্তান ( লাহোর রেসেলিউসানের সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট এর নাম ) এর অ্যাজেন্ডা নিয়েই মুসলিম লিগ ভোট এ গেছিলো' --- হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে ফ্যাক্ট। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গিয়েছিল কেন? উস্কানি কাদের ছিল? মুসলিম লিগ কেবলমাত্র মুসলমানদের কথা ভাবে অথচ কংগ্রেস ভাবে সারা দেশের মানুষের কথা --- এই ন্যারেটিভটা তৈরি করে ছিল কারা?

    ১৯৩৭ এর প্রাদেশিক নির্বাচনে কংগ্রেস মুসলিম লিগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার না গঠন করলেও আজাদের সাহায্যে জামাত-এ-উলেমা-হিন্দ-এর হাত ধরতে দু'বার ভাবেনি। কেন? মুসলিম লিগের থেকে কম সাম্প্রদায়িক বলে?

    ওই বছরেই মুসলিম লিগ নির্বাচনে শোচনীয় ফল করলে নেহরু জিন্নাকে 'depend on the league’s inherent strength’ বলে খোঁচা দিয়েছিলেন কেন?

    জনৈক ঐতিহাসিকের এই উদ্ধৃতিটায় "More than Iqbal, it was Nehru who charted a new mass strategy for the League, prodding and challenging Jinnah to leave the drawing rooms of politics to reach down to the hundred million Muslims... There was of course only one possible way for the league to stir that mass, to awaken it and lure it to march behind Muslim leadership." কতটা সারবত্তা আছে?

    কেন মুসলিম লিগের বিরোধিতা করে ক্ষমতায় আসা বাংলার ফজলুল হক এবং পাঞ্জাবের সিকান্দার হায়াত জিন্নার নেতৃত্বে সমবেত হলেন? কেন ৪৬এর নির্বাচনে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত ৪৯০টা আসনের মধ্যে ৪৪৫টা আসন ছিনিয়ে নিতে পারল লিগ? তারপরেও কেন কংগ্রেস গোঁ ধরে থেকে ক্যাবিনেট মিশনের ব্যাপারে ডিগবাজি খেল?

    এই প্রশ্নগুলো নিয়েও তো আলোচনা জরুরি।
  • Atoz | 237812.69.4545.147 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৬:২১50761
  • ডিসির সঙ্গে ক। বিশাল প্রায়-অবাধ ইউনিফায়েড সাবকন্টিনেন্টাল ইকোনোমিক রিজিয়ন তৈরী হলে আজকের বহু সমস্যা এমনিতেই উপে যাবে। উপরন্তু অনেক ভালো ভালো ব্যাপারও ঘটবে।
    ধরুন হু হু করে ট্রেনে চড়ে বিনা বাধায় মহেঞ্জোদাড়ো, তক্ষশীলা দেখে আসা যাবে, তারপরে মায়ানমারও যদি যোগ দেয়, ওদের প্যাগোডাগুলো দেখে আসা যাবে। ঃ-)
  • b | 124512.101.89900.213 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৬:৫৭50762
  • দেখুন, নেপালের সাথে তো অনেকদিনই ঐ চুক্তি আছে। সেই চুক্তির নানা ফাঁকফোঁকর দিয়ে বহু নেপালী মানুষ এখন ভারতের নাগরিক টাগরিক হয়ে গেছেন।অসমের তেজপুরের প্রাক্তন এম পি মনি সুব্বাকে নিয়ে বিতর্ক ভুলে যাননি নিশ্চয়।
    যদি নেপালীদের চোখ বুজে ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া যায়,তবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায়? প্রশ্নগুলো সহজ ইত্যাদি।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৯:২৫50763
  • টোয়ি বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে, তবুও এলেবেলে র র পোস্ট বা পরের দু একটা পোস্ট র এর প্রেক্ষিতে দু একটা কথা বলে যাই।

    ১। লর্ড ওয়াভেল র সাথে কংগ্রেস বা নেহেরু র সম্পর্ক প্রায় ব্যক্তিগত শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছে ছিল , প্রধানতম সেই কারণে ওনাকে সরিয়ে মাউন্টব্যাটেন কে আনা হয় ১৯৪৭ এ। সুতরাং তিনি নেহেরু সম্পর্কে একটা কি ব্যক্তিগত মতামত দিলেন সেই সূবাদে যদি নেহরুকে অপরাধী মানতে হয়, তাহলে তো মাউন্টব্যাটেন এর লেখা পড়লে জিন্নাকে ফাঁসিতে চড়াতে হয়। :)

    ২। এখানে কংগ্রেস কে অন্ধ সমর্থন কেও করছেন না, এটাই বলা হচ্ছে বারবার যে তখন সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক যে অবস্থায পৌঁছেছিল, সেখানে দেশ ভাগ না হলে পরিস্থিতি হয়তো আরো খারাপ হতে পারতো । আবার বলা যাক এটাও ধারণা মাত্র। কি হলে কি হতে পারতো সেটা নস্ত্রাদামুস বলুক বা ধর্মতলার মোড়ে টিয়াপাখিবা এখানে গুরুর বিদগ্ধ জনের , কিছু ইতর বিশেষ হয়না। কল্পনা কল্পনাই। তার বেশি কিস্যু নয়।

    ৩। ১৪-% লোকের ভোটাধিকার ছিল, সুতরাং সেটা প্রপার গণভোট নয়, সেটা যেমন ১০০-% সত্যি, তেমনি ১০০-% গণভোট হলে তার ফল কিছু আলাদা বা উল্টো হতে পারতো, সেটাও কারোর জানা নেই , এটাও ১০০-% সত্যি। সেসব নিয়ে বলা মানে সবই নিজের নিজের কল্পনা, যে যেদিকেই ভাবুন না কেন।

    হ্যা দেশভাগ হয়েছে, ওয়ার্ল্ড এর লার্জেস্ট মিগ্রাসন হয়েছে, অসংখ্য মানুষ ভিটেহারা হয়েছেন, ঘটনাচক্রে আমার দাদু এবং ঠাকুরদা দুজনেই তার মধ্যে পড়েন, কিন্তু তবুও তাদের যা অভিজ্ঞতা বা আত্মীয়দের মধ্যে যারা রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের যা অভিজ্ঞতা, সেটার বেসিস এ তারা নিজেরাই বলেছেন বহুবার যে ভাগ না হলে হয়তো আরো অবস্থা খারাপ হতে পারতো। আবার সেটাও তাদের কল্পনা। কিন্তু যাই হয়ে থাক, সেটা যুগ যুগ ধরে টেনে যাওয়ার কোনো অর্থ দেখি না বা সেটাকে জাস্টিফাই করে অবৈধ অনুপ্রবেশ কেও মান্যতা দেওয়ার কোনো কারণ দেখি না।

    ৪। যারা ওপেন বর্ডার এর পক্ষে সবল করছেন , তারা উস-কানাডা, বা ইউ, বা নিদেন পক্ষে ঘরের কাছে আশিয়ান খোলা বর্ডার দেখেছেন নিশ্চয়। কোথাও অবৈধ অনুপ্রবেশ কে এন্টারটেইন করা হয়না। যারাই সেখানে এদিকে বা ওদিকে ঢোকে বেরোয়, প্রত্যেকের পাসপোর্ট বা আশিয়ান পাস থাকে, প্রতিটা এন্ট্রি বা এক্সিট রেকর্ড করা হয়। সেটা হলে ১০০-% হোক না, এখানে কে আপত্তি করছেন ? আপত্তি না দেখেই ওপেন বর্ডার নিয়ে হল্লাগুল্লা তও হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে। এস ইফ সেসব দেশে যে যেখানে ইচ্ছে গিয়ে সেটল হতে পারেন কোনো ইডেন্টিফিকেশন ছাড়াই :)

    ৪। নেপাল থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে সেটা ঠিক এখানে কে ক্লেম করছে ? সেটাই অবৈধ। সেটাও ঠেকানো হোক। এবার একটা ভুল হচ্ছে বলে আর একটা ভুল কেও স্বীকার করতে হবে, এতো সেই চোর ধরা যাচ্ছে না বলে পুলিশ পকেটমার ধরবে না , সে রকম যুক্তি। আর ফর টি রেকর্ড, যখন গোর্খা ল্যান্ড আন্দোলন চলছিল, তখন মোমবয়ান বুক বাজিয়ে গোর্খা দের অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করেছিলেন, যে নেপাল থেকে এসে বেতার এখন পাব ভেঙে নিজের রাজ্য চাইছে।

    অবশ্য এটাও কারণ হতে পারে হয়তো ওনার ভোট ব্যাঙ্কের পলিটিক্স গোর্খারা সেই ভাবে ফিট করে নি। কারণ যাই হোক, তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই, প্রপার প্রসেস ছাড়া অন্য দেশে ঢোকা অনুপ্রবেশ ই। এবার সেটা যদি হিউম্যানিটেরিয়ান গ্রাউন্ড এ হয়, যেমন রোহিঙ্গা দের কে বাংলাদেশ থাকতে দিয়েছে, সেটা অন্য কথা। তার প্রভিশন NRC তে আছে। তো সেটা নিয়ে কি বক্তব্য?

    ৫। ওপেন যুক্তরাজ্য মডেল এরশান্তিপূর্ণ অপ্প্লিকেশন এর উদাহরণ এখনো এলো না।

    ৬। ১৯৪৭ এর কবর খুঁড়ে কার কি সাধপূরণ হচ্ছে জানা নেই, কিন্তু দেশভাগ এর ভিক্টিম ভারত একা নয়। তো অন্য কোন দেশ ভাঙার পরে অবাধ অনুপ্রবেশ কে বা বর্ডার এর একদিকে বা অন্য দিকে কোনো পেপার ছাড়াই ৫০-৬০ বছর ধরে যেতে আসতে দিয়েছে , তার উদাহরণ আছে ? এর সাথে ওপেন বর্ডার , বাণিজ্য এর কোনো সম্পর্ক বা কনফ্লিক্ট নেই , সেটা অনেক বার বলা হয়েছে।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ০৯:৫৪50764
  • এখানে রৌহিন বর্ডার সিল করার প্রসঙ্গ এনেছেন দেখলাম। বর্ডার কোথায় সিল করা আছে- ? বর্ডার সিল এর অর্থ হলো কোনোভাবেই অন্য দেশের মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হবে না , কোনো ভিসা ই দেওয়া হবে না।

    বাংলাদেশ এর সাথে কি সেটা হচ্ছে ? বহুজন বাংলাদেশ থেকে এখানে চিকিৎসা করতে আসেন বা কাজ বা ব্যবসাতে, ইন্ডিয়া থেকে বহু লোকজন বাংলাদেশ এ চাকরি বা ব্যবসা করতে যান রেগুলারলি, টাটা বড়ো প্রজেক্ট করছে ওখানে, কে আটকাচ্ছে তাদেরকে ? কোনো ভিসা আটকানো হয়েছে ?

    ওপেন বর্ডার মানে কি কোনো রকম আইডেন্টিফিকেশন ছাড়া ই যে যেখানে যাওয়ার বা থাকার অধিকার ? ঠিক কোন কোন দেশের মধ্যে হয় সেটা ?

    ভিসা লেস এন্ট্রি নিশ্চয় চালু করা উচিত , যদি আসিয়ান ব্লক এর মতো উপমহাদেশ এর সবকটা দেশ মাইল ওরকম ব্লক তৈরী করে, সেটা ১০০-% একমত। সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাতেও যারা আসা যাওয়া করেন, তাদেরকে প্রপার ট্রাভেল ডকুমেন্টস নিয়ে ই আসতে হয়, কোনো দেশ ই কাউকে কোনো ট্রাভেল ডকুমেন্টস বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যে যখন যেভাবে ইচ্ছে ঢুকে পড়াকে এলাও করে না।

    এবার সেটা কি হইনা একেবারে ? মেক্সিকো থেকেই তো বর্ডার টপকে ঢুকছে রোজ USA তে। তারাও যে সোনামুখ করে সেটা মেনে নিচ্ছে তা তো নয় ? তাহলে ইন্ডিয়া করলেই যত গন্ডগোল - ?

    যদি কোথাও এমন অবাধ প্রবেশ থেকে থাকে, উদা দেখান , তাহলে মেনে নেবো।
  • Rouhin Banerjee | 236712.158.782323.5 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ১২:০১50750
  • কী হলে কী হতে পারত, সে আলোচনায় গিয়ে লাভ নেই - বাংলা ভাগের আগে যে বাংলার অধিকাংশ মানুষের মতামত নেওয়া হয়নি, এটা ঘটনা। কলকাতা বা নোয়াখালির দাঙ্গা যে আলাদা করে কিছু প্রমাণ করে না, সেকথা এই থ্রেডেই আলোচিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা হল, দেশভাগ হয়ে গিয়েছে, পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশও হয়ে গিয়েছে - অতঃকিম? সীমান্তে "অনুপ্রবেশকারী" আটকানোর চেষ্টা ভারত সরকার করবে কি না, এই প্রশ্ন উঠেছে দেখলাম - আমার প্রশ্ন, "অনুপ্রবেশকারী" কেন? বাংলাদেশের সঙ্গে আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কোন দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমস্যাটা আছে যে জন্য সীমান্ত এভাবে সীল করে রাখতে হবে? নেপাল বা ভূটান সীমান্তে যেমন আছে, সেরকম মুক্ত সীমান্ত বাংলাদেশের সাথে হবার অসুবিধাটা কোথায়? উভয় দেশের নাগরিকেরা ভিসা ছাড়া কেন দুই দেশে যাতায়াত করতে পারবেন না? কেন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য অবাধ হবে না? সেটা হলেই তো এই "অবৈধ" শব্দটাই অবৈধ হয়ে পড়ে - এটা করলে ভারতের কী কী অর্থনৈতিক / অন্যান্য ক্ষতি হতে পারে - কেউ যদি একটু বুঝিয়ে বলেন
  • Du | 890112.162.122323.208 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ১২:৩৯50751
  • একে তো নাগরিকপঞ্জী তারপর রক্তসূত্রে নাগরিকত্ব তার ভিত্তি। এ যে কি করে সংবিধানসম্মত হতে পারে সেইটাই আশ্চর্য।
  • dc | 236712.158.565612.163 (*) | ০৭ জুলাই ২০১৯ ১২:৪৬50752
  • রৌহিন বাবুর সাথে পুরোপুরি একমত। সীমান্ত সিল করে রাখার বদলে যদি খুলে দেওয়া হয়, পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান-মায়ানমার পুরো অঞ্চলটায় যদি ইইউর মতো ভিসা ফ্রি যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায় আর পুরোটা যদি একটা ফ্রি মার্কেট এর আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে পুরোটার ইকনমি আরও ভালো হবে। নাগরিকরা শুধু পাসপোর্ট থাকলেই এক দেশ থেকে আরেক দেশ যাতায়াত করতে পারবে, পাকিস্তান থেকে ভারত, বাংলাদেশ হয়ে মায়ানমার অবধি বুলেট ট্রেন ছুটবে, এমনকি পরে সেই লাইন চায়নার হাইস্পিড নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দেওয়া হবে। জিডিপি গ্রোথ অন্তত দু পয়েন্ট বেড়ে যাবে।
  • aranya | 237812.68.234512.124 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০১:২৮50765
  • 'যদি নেপালীদের চোখ বুজে ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া যায়,তবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায়?'
    - বাংলাদেশে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের রমরমা, সেটা একটা অসুবিধা। নেপাল থেকে একসময় মাওবাদীদের আসার সম্ভাবনা ছিল, এখন তার সম্ভাবনা অনেক কম।
  • dc | 236712.158.895612.80 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০১:৪৯50766
  • অমিত, আমি ঠিক অবৈধ অনুপ্রবেশের কথা বলিনি। বলেছি বর্ডার কন্ট্রোল কমাতে বা শুধু পাশপোর্টে আসা-যাওয়া করতে দিতে। যেমন ধরুন অনেক দেশেই ভিসালেস এন্ট্রির সিস্টেম আছে। পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ, শ্রী লংকা, নেপাল ইত্যাদি দেশগুলো আলাদাই থাকবে, কিন্তু নাগরিকদের আসা যাওয়া আরও সহজে হবে। বা বাইরে থেকে কেউ এলে তার জন্য শেংগেন ভিসা টাইপের কিছু একটা ইস্যু করা হলে সে পুরো রিজিয়নটাই ঘুরতে পারবে। ইন ফ্যাক্ট এটা করলে টেরোরিজম বাড়ার বদলে কমবে, আর ইউনিফায়েড মার্কেট হতেও সুবিধে হবে। তাছাড়া পুরোটা একটা ট্রেড ব্লক হলে বার্গেনিং পাওয়ারও বাড়বে।
  • Amit | 237812.68.6789.99 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:০৪50767
  • ডিসি, আমিও তো একই কথা বলছি । ভিসালেস এন্ট্রি চালু হোক ১০০-বার, ,আসিয়ান ব্লকের মতো একটা ব্লক যদি উপ মহাদেশ এর সবকটা দেশ কে নিয়ে তৈরী হয় তাহলে তো খুব ভালো কথা। এতো বড়ো পপুলেশন, এতগুলো দেশ, একটা মেজর বের্গেইনিং পাওয়ার।

    কিন্তু মূল লেখাটা আর পরের কিছু কমেন্ট কি সেটা বলছে ? কেমন তো মনে হচ্ছে ভিসালেস এন্ট্রি, ওপেন বর্ডার আর তার সাথে অনুপ্রবেশ, নরক, বাঙালি আবেগ সব কিছু এক সাথে মিলিয়ে একটা অদ্ভূত ঘেটে ঘ করা হচ্ছে।

    আর দেশভাগ এর কবর খুঁড়ে এখন যে কি লাভ হবে সেটা খোদাই জানেন , যে বা যারা দায়ী, তারা তো বহুকাল আগেই স্বর্গে বা নরকে গেছে। অনেক অভযোগ আছে , থাকবে, কিন্তু সামনের দিকে তাকানোটা কি ভাবে হবে ? সেটাই জানতে চাইছি।
  • Du | 237812.69.0178.232 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:০৪50768
  • অসমের নাগরিকপঞ্জী সঠিক আর বিনা জুলুমে করার দাবীটাই এই অবস্থায় জরুরি । ব্ল্যাংকেটে বরং আরো লোককে আসতে দিতে হবে এইরকম দাবির বাস্তবিকতা কি? যে লোকগুলো এসেছে, চিরকালই ছিল অথবা আছে বহুদিন থেকে তাদেরকে যেন ঐ লিস্ট এ ঢোকানো যায় নির্বিশেষে সেটাই কি কাম্য নয়। খামোখা সকলকে আসতে দিতে হবে বললে মানবে তো না ই উল্টে তুমুল জাতিদাঙ্গার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বরং পব যারা অসম চুক্তির বাইরে তাদের নিয়ে নিতে পারে এবং উদ্বাস্তু বাবদ কেন্দ্রের টাকা দেওয়া উচিত পবকে যেমন লেখাতে বলা হয়েছে।
  • Amit | 237812.68.6789.99 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:০৫50769
  • ওটা NRC হবে।
  • Ishan | 237812.68.4534.93 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:১৪50770
  • আমরা চক্রাকারে ঘুরছি। তবু আরেকবার বলি।

    "যদি কোথাও এমন অবাধ প্রবেশ থেকে থাকে, উদা দেখান , তাহলে মেনে নেবো।"
    -- নেপাল ও ভারত। পাসপোর্ট ভিসাহীন যাতায়াত ১০০% বৈধ। সম্ভবত কাজ করাও। এই টইয়েই লেখা হয়েছে। এবার প্লিজ মেনে নিন, এমন হয়।
    আমেরিকায় লাতিন আমেরিকান অভিবাসন নিয়েও আগেই লিখেছি। এই নিয়ে দুটি মত আছে। একটি হচ্ছে "ধরে ওপারে পাঠাও"। অন্যটি হল "এদের নাগরিকত্ব দাও"। আপাতত ট্রাম্প সায়েবের "ওপারে পাঠাও" নীতি চলছে। কিন্তু অন্যটিও যথেষ্ট স্ট্রং। পরের নির্বাচনেই উল্টে যেতে পারে।

    আসলে সমস্যাটা তো এখানে নয়। শরনার্থী একটি রাজনৈতিক সমস্যা, তার রাজনৈত্ক সমাধান চাই, এতে সবাইই একমত হবেন। অন্তত এখানে। সমস্যাটা অন্যত্র। দেশভাগের একটা সাম্প্রদায়িক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে, সেটার গ্রহিতা বা প্রচারক হয়ে গেলেই সমস্যা। অমিত বা পিএম ধরেই নিয়েছেন, যে, অবিভক্ত ভারতের অবস্থা এমন ছিল, যে, দেশভাগ না করে উপায় ছিলনা। এর জন্য শুরুর দিকে "ওই তো লোকে ভোট দিয়েছিল" জাতীয় কথাবার্তার উপস্থাপনা। উল্টোদিকের পয়েন্টটা হল, এটা সম্পূর্ণ একটি সাম্প্রদায়িক প্রচার। ব্রিটিশ এবং ভারতীয়/পাক শাসকদের তৈরি করা মিথ। ১৯০৫ সালের আগে যে বাংলায় দাঙ্গা বলে কিছু ছিলনা, সে আগেই লিখেছি। বঙ্গ্ভঙ্গ, সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা, ভারত সরকার আইন, এইসব দিয়ে ক্রমান্বয়ে বিষবাষ্প ঢালা হয়েছে। তার ফলে কিছু দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কি ৪৬ সালে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল, যাতে দেশ ভাগ না করলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হত? তথ্য বলে, একেবারেই তা নয়। দাঙ্গা বা খুনজখম এগুলো দেশভাগের ফল, কারণ নয়। দেশভাগ ঘোষণার আগে খুব সামান্যই দাঙ্গা হয়েছে। বাংলায় দুটো, পাঞ্জাবেও খুব সামান্য। কিন্তু ঘোষণার পরই পাঞ্জাবে রক্তগঙ্গা বয়। সীমান্তের দুই দিকেই। বাংলায় দাঙ্গা শুরু হয় ভাগের অব্যবহিত পর থেকে। এগুলো সবই হঠকারিতার ফল। কারণ নয়। এই পাপ ঢাকার জন্য দেশনেতারা এই ন্যারেটিভটি চালু করেন, "দেকেচো ভাগ করেই এই অবস্থা, না করলে কী হত"? এই আতঙ্কের সাম্প্রদায়িক ন্যারেটিভটি অনেকদিন ধরেই ছড়ানো হয়েছে। এবং এর ফলশ্রুতিতেই তিনটি দেশ একে অপরের শত্রু হয়ে উঠেছে।

    এবার কথা হল, সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এমন খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যে দেশের লোকই ভাগ চাইছিল, একথা যে ঠিক নয়, তা জানার উপায় কী। জানার কোনো উপায় নেই। দেশনেতারা সে ব্যবস্থা রাখেননি। শুধু এইটুকু নিশ্চিত করে জানা যায়, যে, যেকোনো রকম গণভোটের প্রস্তাবকে তাঁরা এড়িয়ে গেছেন। আইনসভাকেও প্রায় পুরোটাই এড়িয়ে গেছেন। এই ভাগ অল্প কয়েকটি মানুষের সিদ্ধান্ত। দেশের অধিকাংশ মানুষ, এমনকি প্রতিনিধিদেরও বিশেষ সে ছিলনা। তাহলে প্রশ্ন হল, যে, দেশনেতারা জানলেন কীকরে, যে ভাগ করাটাই একমাত্র উপায়? এর উত্তর হল, তাঁরা জানতেননা, জানার চেষ্টাও করেননি। কাজেই দায়িত্বটা ২০০% তাঁদের। গণভোট করে ভাগ করলে এই দায়িত্ব তাঁদের ঘাড়ে চাপতনা। করেননি যখন, এই দাঙ্গা, খুন, শরনার্থীর স্রোত, এর দায়িত্ব তাঁদের নিতে হবে।

    কথা হল, তাঁরা তো আর বেঁচে নেই। দায়িত্ব নেবে কে? অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কয়েকশো বছর পরে ক্ষমা চেয়েছেন, এখানে সত্তর বছর এমন কিছু বেশি ব্যাপার নয়। ক্ষমার চেয়েও বড় হল, সেই দলগুলি এখনও টিকে আছে। কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, হিন্দু মহাসভার উত্তরপুরুষ বিজেপি। এর দায় তাঁদের নেওয়া দরকার। নিতে বাধ্য করানো দরকার। নইলে একই ন্যারেটিভ তাঁরা বছরের পর বছর দিয়ে যাবেন, এবং লোককে টুপি দিয়েই চলবেন, যে, ভাগটা অনিবার্য ছিল, এখনও এই শত্রুতা ইত্যাদি রক্ষা করেই চলতে হবে। এই আপদমস্তক সাম্প্রদায়িক ন্যারেটিভটি মেনে নেবার কোনো কারণ নেই।
  • Ishan | 237812.68.4534.141 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:২৪50771
  • "ডিসি, আমিও তো একই কথা বলছি । ভিসালেস এন্ট্রি চালু হোক ১০০-বার, ,আসিয়ান ব্লকের মতো একটা ব্লক যদি উপ মহাদেশ এর সবকটা দেশ কে নিয়ে তৈরী হয় তাহলে তো খুব ভালো কথা। এতো বড়ো পপুলেশন, এতগুলো দেশ, একটা মেজর বের্গেইনিং পাওয়ার।"

    এ তো খুবই আনন্দের কথা। এ ব্যাপারে আমরা সবাই একমত।

    যদি লেখা, আর তার কমেন্টের কথা বলেন, তো তক্কো-বিতক্কো শুরু হয়েছে, একটাই পয়েন্টে। সেটা হল দেশভাগ হল আমজনতার দায়িত্ব। এমনকি গণভোট হয়েছে টয়েছে জাতীয় হাস্যকর কথাও শুনলাম। এই অদ্ভুত কথাগুলি বলে ঘেঁটে ঘ করে না দিলেই বাকিগুলি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। তবে এগোতে গেলেই, আসাম হোক বা বাংলা, দেখবেন, দেশভাগ অ্যাড্রেস না করে কোনো উপায় নেই।

    খুব সহজ উদাহরণ। এন-আর-সির একটা বড় কারণ কী? উগ্র অসমীয়া জাতিয়তাবাদ। তাদের এইরূপ মারমুখী হবার কারণ কী? সংখ্যালঘু হয়ে যাবার ভয়। তাই তারা যত পারে বাঙালিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায়। এ হল একদম সিধে হিসেব। দেশভাগ, বাংলাদেশ যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ-শরণার্থী এসবকে অ্যাড্রেস না করে এগোবেন কীকরে? আমি সিরিয়াসলি জানতে চাই।
  • dc | 236712.158.895612.210 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:৩৫50772
  • ইন ফ্যাক্ট এনারসির কি দরকার তাও তো বুঝিনা। এই প্রসঙ্গে বোধায় প্রোহিবিশানের উদাহরন দেওয়া যায়। যখন সরকার বললো মদ হাওয়া উচিত না আর তার জন্য আইন করলো তখন একগাদা স্পিকইজি তৈরি হলো, বুটলেগিং হলো, মাফিয়াদের রমরমা বাড়লো। আর যখন প্রোহিবিশান তুলে নেওয়া হলো তখন সেসব সমস্যাও চলে গেল। আমার মনে হয় বর্ডার কন্ট্রোল কমানো হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ব্যপারগুলোও আর সেভাবে থাকবে না, মানুষের যাতায়াত আরও বাড়লে ইকোনমিক অ্যাটিভিটিও বাড়বে। এনআরসি করার দরকারই আর থাকবে না।
  • pi | 236712.158.676712.108 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:৪৬50773
  • প্রশ্নটা কার ছিল পড়িনি, মামুর শেষ পোস্ট পড়ে লিখছি।

    ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নানা দেশের মধ্যেও ঘোরা যায়না?

    ইন্দোনেশিয়া যেতেও ভিসা লাগেনি।
    লিস্টে তখন অনেক দেশের নাম দেখেছিলাম।

    এই লিস্টে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্দোনেশিয়ার নাম কেন নেই জানিনা, আমি কাজে গেছিলাম বলে লাগেনি কিনা তাও, কিন্তু এম্নকি এই লিস্টের এত দেশের মধ্যে বাংাদেশ ভারতের সাধারণ মানুষ নেই, ৯০ দিনের স্টের জন্য!

    https://mea.gov.in/bvwa.html

    এছাড়াও
    Citizens of countries allowed visa-free entry to India
    Bhutan
    Maldives (Up to 90 days stay)
    Nepal

    এই লিস্টটা দেখেও চমকে উঠলাম। মানে provided they are not Bangladeshi, Pakistani দেখে।

    India has plans to grant visa on arrival to 180 countries. As of now, India grants visa on arrival to the citizens of the following nations, provided they are not of Bangladeshi or Pakistani origin:

    Cambodia
    Finland
    Indonesia
    Japan
    Laos
    Luxembourg
    Myanmar
    New Zealand
    Philippines
    Singapore
    South Korea
    Vietnam
  • pi | 236712.158.676712.108 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:৫২50774
  • ওহহ, শেষ পোস্ট না, মাঝে আরো পোস্ট পড়ে গেছে দেখছি।
  • PM | 124512.101.89900.159 (*) | ০৮ জুলাই ২০১৯ ০২:৫৯50775
  • এই গুলোতে কি সমস্যা ? ঘুরে বেড়ানো , ভিসা ফ্রি / অন অরইভাল মানে আন্ডকুমেন্টেড এনট্রি নয় তো , নাগরিকত্ব ও নয় । ভোট দেবার অধিকারো নয়। জমি বাড়ি কিনে সরকারী চাকরী নিয়ে বসে যাবার অধিকার ও নয়। গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে কেনো ?
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত