• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • নাগরিকপঞ্জি -- আরও এক দফা

    Saikat Bandyopadhyay
    বিভাগ : ব্লগ | ০১ জুলাই ২০১৯ | ৩০৬ বার পঠিত
  • পঞ্চাশবার লিখতে হলে পঞ্চাশবারই লিখব, কিন্তু মোদ্দা কথা হল এন-আর-সি একটি বর্বর জিনিস। কেন বর্বর? ওপার বাংলা থেকে এপারে কি লোক আসেনি? আসেনা? একশবার এসেছে। কেন এসেছে? কারণ আমাদের ধেড়ে খোকা জাতীয়-নেতারা তেলের শিশির বদলে একটা জাতির মাঝখান থেকে একটা লাইন টেনে দিয়েছিলেন। তার ফলে অন্তত কোটিখানেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে যখন পাড়ি জমাচ্ছিলেন সীমান্তের একদিক থেকে অন্য দিকে, তখন আমাদের নেতারা কী করছিলেন? নেহরু এই মানুষগুলিকে উদ্বাস্তুর স্বীকৃতি অবধি দেননি, ওপারে ফিরে যাবার উপদেশ দিয়েই কর্তব্য শেষ করেছেন। কানাকড়ি অবধি ঠেকাননি। শিয়ালদা স্টেশন যখন ভরে যাচ্ছে ছিন্নমূল মানুষে অন্য আরেকজন মহাপ্রভু শ্রী শ্যামাপ্রসাদ তো 'আমি পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছি' বলে উদ্বাহু হয়ে কাশ্মীর দৌড়চ্ছেন।

    ৫১ থেকে ৬১ হয়ে ৭১। সেই স্রোত কমেনি। পূর্ব ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দায় কার? তাঁদের, যাঁরা স্রেফ বাঙালি হবার কারণে লাথি-ঝাঁটা খেয়েছেন, হত্যালীলার শিকার হয়েছেন এপারে, ওপারে, আসামে, তাঁদের? না যাঁদের ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ হওয়ায় যাঁরা একটা লাইন টেনে দেশভাগের হুজুগ তুলেছিলেন, আর তারপর শখ মিটে যাওয়ায় হাত ধুয়ে পগার পার হয়েছিলেন, সেই নেতাদের? বছর তিরিশেক আগে পর্যন্ত এই দোষ-টোষ সরাসরি স্বীকার না করলেও উদ্বাস্তুদের কথা, তাঁদের স্বীকৃতি না দেবার কথা, দন্ডকারণ্যে ঠেলে পাঠানোর কথা, মরিচঝাঁপির কথা, এসব প্রসঙ্গ চুপচাপ এড়িয়ে যেতেন সরকারি কর্তাব্যক্তিরা। তখন অন্তত চক্ষুলজ্জাটুকু ছিল। এখন সে পাটও গেছে। এখন শোনা যাচ্ছে, উদ্বাস্তু হবার দায়ও নাকি বাঙালির। "আমরা তো একটা লাইন টেনেই দিয়েছিলাম, তোরা টপকে এলি কেন? যা শালারা বাংলাদেশ যা" টাইপের কথাবার্তা বুক বাজিয়ে বলার সাহস অর্জন করে ফেলেছেন জাতির নেতা নামক বিশুদ্ধ আপদরা।

    এন-আর-সি এই আপদদেরই নতুন মস্তিষ্কপ্রসূত খেলনা। এঁরাই ৪৭ এ তেলের শিশি ভাঙার মতো করে কোটিখানেক লোকের ভিটে-মাটি চৌপাট করে দিয়েছিলেন। আবার নতুন করে আরেকদফা সেই খেলায় নামছেন। আরও কত লোকের ভিটে-মাটি-জান-প্রাণ এতে উচ্ছন্নে যাবে জানা নেই। সেই জন্যই জোর গলায় কটি কথা বলা উচিত। যে, হ্যাঁ, সীমান্তের এপার থেকে ওপারে চলাচল হয়। হ্যাঁ, এদেশে উদ্বাস্তুরা এসেছেন, আসেন। হ্যাঁ, তাতে এদেশের অর্থনীতি, পরিকাঠামোতে চাপ পড়ে। কিন্তু এর দায় যাঁরা এসেছেন তাঁদের নয়। এর দায়, ভারত এবং পাকিস্তানের জাতির পিতাদের, যাঁরা অবস্থাটা তৈরি করেছেন। এর দায় হিন্দু মহাসভার, উদ্বাস্তু সমস্যা তৈরি হতে যাঁরা আনন্দে লাফিয়েছিলেন, এর দায় কমিউনিস্টদের, যাঁরা পাকিস্তান চেয়েছিলেন। এর দায় কংগ্রেসের, মুসলিম লিগের, যাঁরা ক্ষমতার লোভে আস্ত একটা ভূখন্ডে কোটি-কোটি মানুষকে বলি দিতে পিছপা হননি। এই দায় তাঁদের নিতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলে যৌথ উদ্যোগে সমস্যা মেটান। বাংলাকে উদ্বাস্তু কল্যাণ খাতে তার প্রাপ্য টাকা সুদসমেত ফিরিয়ে দিন। তাতেও না মিটলে অপদার্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে নিজেরাই বাংলাদেশ, বার্মা যেখানে খুশি বিদেয় হোন। কিন্তু নিজেদের অপদার্থতার দায় বাঙালি জাতির ঘাড়ে আরও একবার চাপাবেন না।

    #pakistan #india #partition
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ জুলাই ২০১৯ | ৩০৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3
  • | 236712.158.12900.34 (*) | ০১ জুলাই ২০১৯ ০৩:৪০50676
  • হ্যাঁ একমত
  • PM | 237812.68.45900.177 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৩:০৪50678
  • কিন্তু সব দোষ নেতাদের আর নাগরিক রা সব দুগ্ধ পোষ্য নিরিহ শিশু, এই রকম ধারনাও ঠিক কি?

    একটা গনভোট হয়েছিলো না? তাতে সংখ্যাগরিশ্গ্ঠ লোকে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো না ? সেই ভোট দ্বিজাতি তত্ত্বের সমর্য়্হনেও ছিলো না ? । এই "সামান্য" একটা লাইন টানার দাবি আদায়ের জন্য শয়ে শয়ে লোক মরেছিলো না দাঙ্গায় ? যারা করেছিলো তারা তো নেতা নয়? দুই পক্ষের সাধারন নাগরিক । রক্ত দিয়ে তারা ঐ দাগ টেনেছে। এখন হটাত করে ঐ সীমানা কিছু নয় -- সামান্য দাগ বল্লে হবে ?

    পরে ওপারের বাঙ্গালি কে আবার বহু রক্তের বিনিময়ের মানতে হয়েছিলো দ্বিজাতি তত্ত্বের একটা ডাইমেনসনের অসারতা-- যে সমস্ত মুসলিম এক আর অভিন্ন জাতি। সে অন্য কথা। এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
  • Ishan | 237812.68.8934.99 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৩:৫২50679
  • গণভোট? মানে?????
  • গবু | 237812.68.674512.151 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৫:৩৯50680
  • দ্বিজাতি তত্ব নিয়ে বা দেশ ভাগ হবে কিনা নিয়ে গণভোট?

    এটা নতুন লাগছে, বিস্তারিত জানতে চাই।
  • PM | 237812.69.3434.106 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৫:৪১50681
  • ১৯৪৬ এর ভোট প্রায় একটা গনভোট।
    হাতের কাছে কোনো বই নেই এই মুহুর্তে রেফার করার জন্য।

    উইকি বলছে " In early 1946, new elections were held in India. With the announcement of the elections the line had been drawn for Muslim voters to choose between a united Indian state or Partition." এর একটা সাইটেসন ও দিয়েছে উইকি
  • PM | 237812.69.3434.58 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৬:০৭50682
  • ৪৬ এর ভোটে মুসলিম লিগ এর মেন অ্যাজেন্ডা ছিলো পাকিস্তান। আর জনগন ভোট দিয়েছে ঐ অ্যাজেন্ডাতে। আর মুসলিম প্রধান অন্চলে ঐ অ্যাজেন্ডা জিতেছে বিতর্কহীন ভাবে।

    Religious slogans were utilized and the term ‘Pakistan’ was put forward. Some scholars state that the meaning of Pakistan was kept vague so that it meant different things to different people. On the other hand, Venkat Dhulipala observes that, rather than being vague, the proposals for Pakistan were vigorously debated in public, maps printed, economic foundations analysed and Pakistan was envisioned as a modern Islamic state.

    পাকিস্তানের মানে আজ ও বেশ ভেগ বেশিরভাগ পাকিস্তানির কাছে। এখনো তারা বলে

    পাকিস্তান কা মতলব ক্যয়া
    লা ইলাহা ইল্লল্লহা

    বাংলাদেশী রা এসব বলে না বিশেষ, ৭১ এর চেতনার জন্য
  • PM | 237812.69.3434.58 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৬:০৯50683
  • ইংরাজী পার্ট টা কোটেসনের মধ্যে হবে
  • বিপ্লব রহমান | 236712.158.78.70 (*) | ০২ জুলাই ২০১৯ ০৬:৫৬50677
  • বুঝলাম, রাজনৈতিক কারণে সব দায় বাংগালির ওপর চাপানো হচ্ছে। সেদিন মিডিয়ার খবরে দেখলাম, আসামের নাগরিক পঞ্জির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ললক্ষাধিক, তাদের অধিকাংশই বাংগালি। মানলাম, এও রাজনীতি।

    কিন্তু এর বাইরে যে জাতি বিদ্বেষ, ভাষা বিদ্বেষ -- তা যাবে কি করে?
  • Ishan | 237812.68.8934.69 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০২:০১50684
  • এটাকীসের কোটেশন জানিনা। তবে তিনটি কথা খুব স্পষ্ট।

    ১। অখন্ড ভারতে বিভাজন প্রসঙ্গে কোনো ভোট হয়নি। ৪৬ সালে আইনসভা নির্বাচন হয়েছিল মাত্র।

    ২। আইনসভা নির্বাচন কখনই গণভোট ছিলনা। ভারতবর্ষের জনতার মোটামুটি ১৩% উচ্চকোটির মানুষের ভোটাধিকার ছিল। কোনোভাবেই, ঘুরিয়ে পেঁচিয়েও এটাকে গণভোট বলা যায়না।

    ৩। কোনো সন্দেহ নেই, নির্বাচনে মুসলিম লিগের অ্যাজেন্ডা ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই পাকিস্তান মানে একটি আলাদা রাষ্ট্র নয়। মুসলমানদের নিজস্ব ভূমি (খুব লুজ উদাহরণ দিয়ে বলা যায় গোর্খা পার্বত্য পরিষদ যেমন গোর্খাদের নিজস্ব ভূমি, আলাদা রাষ্ট্র নয়)। ৪৬ সালে অখন্ড ঢিলেঢালা ভারতবর্ষের প্রস্তাব সেই কারণেই মুসলিম লিগ মেনে নেয়। কংগ্রেস নেয়নি। বস্তুত ভারত এবং বাংলা ভেঙে দু-টুকরো হবে, এ নিয়ে কোনো ধারণাই ৪৭ সালের আগে লোকের তৈরি হয়নি। প্রবল কনফিউশন ছিল। নানারকম মতামত ছিল। কিন্তু আলাদা রাষ্ট্রের পক্ষে কোনো ম্যান্ডেট ছিলনা।

    এক কথায়, গণভোট হয়নি। হওয়া জরুরি ছিল।
  • Du | 237812.68.121223.51 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৪:৩১50685
  • দায় যাদের সেই পার্টিগুলো কেউই আর নেই।
  • PM | 237812.68.121223.93 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৪:৪৫50686
  • ২ নং পয়েন্ট এ দ্বিমত নেই--- তিন নং এ আছে।

    পাকিস্তান মানে কি সেটা লাহোর অধিবেশন থেকেই যথেষ্ট ক্লিয়ার ছিলো। যারা লিগকে ভোট দিয়েছে তারা জেনে বুঝেই দিয়েছে। ১৯৪৫ এর আইনসভার ভোট আর ১৯৪৬ এর প্রভিন্সিয়াল ভোটের ফলের পার্থক্য খালি চোখেই দেখা যায়।

    প্যাটেল আর নেহরুর বেশ কিছু রেফারেন্স পড়েছিলাম -- যেখানে দুজনেই-- তাতে দুজনেই আর্মি তে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রিপ্রেসেন্টেসন নিয়ে চিন্তিত। পরবর্ত্তিতে পাকিস্তানের ইতিহাস দেখিয়ে দিয়েছে যে ওদের চিন্তা অমুলক ছিলো না।

    যাই হোক দেশ ভাগের আমিও সমর্থক নয়। পুর্ববঙ্গ আলাদা রাজ্য হিসেবে ভারতে থাকলেও আজকের ভারত আর বাঙ্গালি অন্য রকম হতো এটা বিশ্বাস করি।

    আমার আপত্তি আপনার ঐ বক্তব্য নিয়ে যে সব দায় নেতাদের সাধারন মানুষ নিরীহ গোবেচারা ---এই পার্ট টুকু নিয়ে।

    ১৯৪৬ এর পাকিস্তান অ্যাজেন্ডা লোকে সাব্স্ক্রাইব করেছে। তার পারেও হয়তো বাঙ্গলা ভাগ না হবার একটা সম্ভাবনা ছিলো,। ক্যাবিনেট মিশন ফেল করার পরে ডাইরেক্ট অ্যাকসন ডে তে বাংলার সামুহিক পার্টিসিপেসন ই দেশভাগ নিশ্চিত করে। যে লেভেল এর ইন্টেন্সিটিতে বাংলা জুরে মহাসমারোহে ডাইরেক্ট অ্যাকসন ডে পালন হয়েছে --- তাতে করে শুধু নেতারা দেশ ভাগ করিয়েছে এটা ধোপে টেকে না।

    তারপরেও যদি বলেন এটা শুধু চাট্টি অবাঙালী নেতার কাজ নেতাদের কাজ , তাহলে বলব আপনি পরোক্ষে PT বাবুর বিখ্যাত ছাগল তত্ত্ব সাবস্ক্রাইব করছেন। আমি বরং বলব সুইসাইডাল প্রবনতা বাঙালির জিন এ

    ( কংগ্রেস আর লিগ দুজনের কাছেই বাংলা ভাগ জরুরি ছিলো কেনো তা নিয়ে আমার মত আমি আগে নানা আলোচনায় বলেছি)
  • PM | 237812.69.3434.136 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৫:০৮50687
  • ছোট্টো করে আরেকবার বলে যাই

    ১। বাংলা এক থাকলে ভারতের একক বৃহত্তম জাতি হয় বাঙালিরা । কংগ্রেস আর তার পৃষ্ঠাপোষক দের কাছে এটা অ্যাকসেপ্টেবল ছিলো না কোনোমতেই যে স্বাধীন ভারতের পাওয়ার সেন্টার পুর্ব দিকে থাকবে

    ২। আবিভক্ত বাংলা পাকিস্তানে গেলে সেই সময় কলকাতাকে পাকিস্তানের রাজধানী না করা প্রায় অসম্ভব ছিলো । সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী আর রাজধানী দুই ই পুবে হত। আর পাকিস্তানের পওয়ার সেন্টার ও পুবেই থাকত। সেটা লিগ এর কাছেও অ্যাকসেপ্টেবল ছিলো না কোনো ভাবেই।

    অগত্যা দেশ ভাগ

    কিন্তু সাধারন বাঙ্গালী মুর্খের মতো এই খেলাটায় অংশ নিয়েছে, ঠিক যেভাবে মুল খেলোয়ার রা চেয়েছে সেই ভাবেই। আত্যন্ত আবেগ সর্বস্য আত্মঘাতী জাত আমরা
  • Ishan | 237812.68.8934.69 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৭:৫৫50688
  • কী মুশকিল ছাগলতত্ত্ব আসছে কোথা থেকে। দেশ তথা বাংলা বিভাগ বিষয়ে কোনো গণভোট হয়নি। শরৎ বসু বারবার গণভোট চেয়েছিলেন, করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি শুনলে আশ্চর্য লাগে, কেন্দ্রীয় আইনসভায় শরৎ বসু ছিলেন কংগ্রেসের দলনেতা (ধরা যাক প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য)। তাঁকেও কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। কংগ্রেসের তরফে পুরো সিদ্ধান্তই নিয়েছেন নেহরু এবং প্যাটেল, গান্ধিকে অবহিত রেখে অবশ্যই। এবং এর বাইরে আর কারো কোনো মতামত গ্রহণ করা হয়নি। ছ সপ্তাহেই মধ্যে র‌্যাডক্লিফ সায়েব, যিনি বিলেত থেকে পদার্পণ করেছিলেন, তিনি একটি লাইন টানেন। কোনো আগা-গোড়া বিবেচনা না করেই বলাবাহুল্য। সেটাই বাইবেলের মতো মেনে নেওয়া হয়। পাবলিক কেন, রাজ্যের কোনো কংগ্রেস নেতারও কোনো কিছু বলার ছিলনা ভাগাভাগির ব্যাপারে।

    প্রাদেশিক সভার ভোটেও, আগেই বললাম, ১৩% মানুষের ভোটাধিকার ছিল। কিন্তু তাতেও বিধানসভাতেও বিভাজনের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। ভোটাভুটি হয়েছে, "আপনারা পাকিস্তানে যেতে চান না ভারতে" এইরকম একটি লাইনে। বাংলা বিভাগ নিয়ে ভোটাভুটির দাবীও করা হয়েছিল। কিন্তু সরাসরি দিল্লির নির্দেশে সেটা করতে দেওয়া হয়নি। এইসব কান্ডের পরই শরৎ বসু পদত্যাগ করেন, তারপর ধীরে ধীরে নির্বাসনে। এসবের পরেও যদি বলা না হয়, যে গুটিকয়েক লোক মিলে দেশভাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বাকিদের অন্ধকারে রেখে, তো সেটায় ভুল কী? এ সবই ঐতিহাসিক সত্য। বুক বাজিয়ে করা হয়েছিল। এর দায় পাবলিক কেন নেবে? পাবলিকের ঘাড়ে দায় কেন চাপারে চাইছেন বুঝছিনা।

    বাকি রইল দুটো প্রসঙ্গ।

    ১। লাহোর প্রস্তাব। সেখানে মুসলমানদের জন্য "ইনডিপেন্ডেন্ট স্টেট" এর কথা বলা হয়েছিল, অবশ্যই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে স্টেট মানে কী? টিপিকাল যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি স্টেটই স্বাধীন, সার্বভৌম, স্ব-ইচ্ছায় একটি ইউনিয়নে থাকে। এর সঙ্গে ভারত ভেঙে পাকিস্তান বানানোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। পরের দিকে মুসলিম লিগ নেতারা অবশ্যই ভারত ভাঙার দাবী করেছিলেন, কিন্তু সেসব ৪৬ এর পরে। তার আগে অবধি ভাঙাভাঙি নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। মুসলমানের নিজস্ব ভূমির কথা অব্শ্যই হয়েছিল।

    ২। ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে। ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে তে দাঙ্গা হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালিতে। এছাড়া বাংলার আর কোথাও হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, দাঙ্গা কি পাবলিক করেছিল, না সংগঠিত ভাবে করা হয়েছিল? যথেষ্ট তথ্য আছে, যা দেখায় যে আজকের হিন্দুত্ববাদী দলগুলির মতো সেসময় হিন্দু এবং মুসলিম মৌলবাদী দলগুলি অস্ত্রশস্ত্র জমা করে সক্রিয়ভাবে দাঙ্গা বা গণহত্যা সংগঠিত করে। দুটো জায়গাতেই। কিন্তু তার পরে শত প্ররোচনাতেও ৪৭ এর পনেরোই আগস্ট পর্যন্ত আর কোথাও কোনো দাঙ্গা হয়নি। শরৎ বসু যথেষ্ট জোর দিয়েই বলেছিলেন, গণভোট নিলেই বোঝা যাবে বাংলার মানুষ সম্প্রীতি এবং ঐক্যের পক্ষে। সোচ্চারে এবং নিরুচ্চারে কিরণশঙ্কর রায়, ফজলুল হক, হাশিম, অনেকেই অবিভক্ত বাংলা মতের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু প্রস্তাবটাকে এগোতে দেওয়া হয়নি। না বিধানসভায় না গণভোটে।

    আপনি বেসিকালি যে মতটা দিচ্ছেন, সেটা খুবই বিপজ্জনক। সাম্প্রদায়িক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যে দেশভাগ না করে উপায় ছিলনা। আর এক ধাপ এগোলোএই বলা হবে, পুরোটাই পাকিস্তান হয়ে যেত, শ্যামাবাবু কোনোমতে হিন্দু বাঙালিকে রক্ষা করেন। এগুলো আদৌ সত্য নয়। ঐতিহাসিকভাবে। এই প্রচারগুলিতে সাবস্ক্রাইব করবেন না।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৮:১৯50689
  • সাইট ডাউন ছিল বলে হাজার চেষ্টা করেও লেখাটা দেখতে পারিনি যদিও সৈকতবাবুর ফেবু দেওয়ালে লেখাটা দেখেছি। পিএম ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে এবং সৈকত র‍্যাডক্লিফ লাইন নিয়ে যা বলেছেন তা ত্রুটিপূর্ণ। কাল চেষ্টা করব এ ব্যাপারে লেখার।
  • S | 237812.68.121223.141 (*) | ০৩ জুলাই ২০১৯ ০৯:৫৬50690
  • র‌্যাডক্লিফ লাইন কি অতটাও র‌্যান্ডামলি টানা হয়েছিল? যতদুর শুনেছি আসামে যাতে বাঙালীরা কখনই সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়, সেইভাবেই ভাগ হয়েছিলো। তার জন্য বোধয় একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জেলাকেও ওদিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। কেউ একটু কনফার্ম করবেন প্লিজ। এখন এই ব্যবস্থা র‌্যাডক্লিফ লাইন টানার পরে করা হয়েছিলো কিনা ঠিক জানিনা।

    ঈশানদার ইউনিয়নের ব্যাপারে যেটা বলছেন সেটা অনেকটা ইউকের মতন ব্যাপার। সেটা বোধয় অনেক বেশি লজিকাল প্রোপোজিশান হতো।

    পৃথিবীতে বেশিরভাগ নেশন স্টেট তৈরীই হয়েছে জাত এবং ভাষার নিরিখে, ধর্মের নিরিখে নয় (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে)। বেশিদুরে যেতে হবেনা - বাংলাদেশ আমার খুব প্রিয় উদাহরণ। ধর্ম যদি ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হত, তাহলে পাকিস্তান ভাগ হয়্না।

    এমনকি ভারতের আজকের কাশ্মীর সমস্যাটাও ঠিক ধর্মীয় নয়, স্বায়ত্বশাসনের। যদিও বিগত বেশ কয়েক দশকে ভারত সরকার (পাকিস্তানের ফাঁদে পা দিয়ে) এটিকে সফল ভাবে ধর্মীয় লাইনে নিয়ে গেছে এবং এখন ল্যাজেগোবরে হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যে বেলুচিস্তান নিয়ে যে ঝামেলা রয়েছে স্বাধীনতরা পর থেকেই, সেটা তো জাতিসত্ত্বার ব্যাপার। ধর্মের ব্যাপার নেই সেখানে।

    আমার ধারণা জাতি ভাষাকে ইগনোর করে শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করে আজকের এই এত সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে এই পুরো রাষ্ট্রভুমিকে। ইট ওয়াজ আ ভেরি ব্যাড একজাম্পল। দেশভাগ যেকোনও ক্রাটেরিয়াতে দেশ টুকরো করার মান্যতা দিয়েছে।
  • Ishan | 237812.68.4534.141 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৩:৩৮50692
  • আমি লিখলামই, মোটের উপর কী হয়েছিল। র‌্যাডক্লিফের লাইন টানার পদ্ধতি নিয়ে কিছু দ্বিমত থাকতে পারে, সে থাকুক। কিন্তু মোটের উপর গপ্পোটা তো এই। এতে জনতার কী ভূমিকা ছিল বলুনই না। জোর করে "আসলে পাবলিকই দুষ্ট" ফ্রেমওয়ার্কে ঢোকানোটাই অতিসরলীকরণ নয় কি?
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:০১50693
  • জনগণের ডাইরেক্ট ভূমিকা কোথায়, কোন দেশে, কোন আন্দোলন এ থাকে ? সে দেশভাগ হোক বা সিঙ্গুর এ টাটাকে তাড়ানো, সব জায়গাতেই তো কিছু নেতা নিজের স্বার্থে কিছু লুম্পেন কে নিয়ে অহিংস বা সহিংস আন্দোলন suru করে বা অনশনের নাটক করে , আর সেটাকে ই দেখায় জনগণের আন্দোলন বলে। চিট ফান্ড এর পয়সা থাকলে কয়েকটা মিডিয়া হাউস কেনা যায় আর সেই তথাকথিত গণ আন্দোলন কে ভরপুর পাবলিসিটি ও দেওয়া যায়। :) :)

    প্রতিটা বিষয়ে ১০০-% গণভোট নিয়ে সব কটা সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো কালে কোনো দেশে চালু হয় ? ইন্ডিয়া র ওই ১৯৪৫-৪৭ এর টালমাটাল সময়ের কথা ছেড়েই দিলুম, যে যার মতো দাবার গুটি সাজাচ্ছে, এই হাল আমলে ব্রেক্সিট কেই দেখেন না, এতো গণভোট নিয়েও কেমন ছড়িয়ে লাট হয়ে যাচ্ছে।

    আমার মূল বক্তব্য জাস্ট কয়েকটা।

    ১। দেশভাগ করতে সমস্ত জনগণের মত ছিল এটা যেমন এক পেশে, তেমনি জনগণ গলা জড়াজড়ি করে সম্যের গান গাইছিলো, মাঝখান থেকে নেহেরু, প্যাটেল , জিন্নাহ আর র্যাডক্লিফ - জাস্ট এই চারজন মিলে দেশটাকে কেক কাটার মতো ভাগ করে দিয়ে গেলো, এটাও তেমনি এক পেশে। কলকাতার দাঙ্গা কত দিন ধরে চলেছিল ? প্রায় কয়েক মাস। সেটাকে খুব শান্তি পূর্ণ বাতাবরণ বলা যায়না। বাকি জায়গায় বেশি দাঙ্গা হয়নি, হিন্দু মুসলিম বেশির ভাগ আলাদা ঘেটোতে থাকা তার একটা বড়ো কারণ হতেই পারে। দেশভাগের পরে যেভাবে হিন্দু সংখ্যা কমে গেলো বাংলাদেশ এ , তাতে তো শান্তির নমুনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না-? এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি ?

    এই যে মমব্যান ইমাম ভাতা, পুরোহিত ভাতা ইতুয়াদি চালু করছেন, এতে কি সংখ্যা গরিষ্ট লোকের মত আছে ? প্রমান কোথায় ? কোনো গণভোট হয়েছে ? না হয়নি , কারণ তিনি ভোট জিতে এসেছেন , এবার সংবিধানের মধ্যে থেকে তিনি কিছু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিসিশন নিতেই পারেন। এবং সেটা ভালো না লাগলে পরের ভোট ওনাকে তাড়ানো যেতেই পারে (সেই দিকেই যাচ্ছে যদিও )। কিন্তু এটা বলা যায়না যে তিনি যা করছেন, তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠের মত নিয়ে করছেন। হ্যা, ১৯৪৭ এ গণতন্ত্র বলে কিছু ছিল না ইন্ডিয়াতে ,তো কি আর করা যাবে। ঘড়ি তো আর ঘোরানো যায়না।

    ২। বাঙালির ইসলামিক নেতারা যদি পাকিস্তান নাই চাইতেন, যেটা অনেক বুজি বলে থাকেন আজকাল, দেশভাগ পুরো কংগ্রেস এর দায়, তাহলে ওনারা ভারতে থেকে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব তুললেন না কেন ? পাকিস্তান র টান র থেকে কি বাংলার টান বেশি ছিল- ? তার প্রমান কোথায় ? কল্পনা দিয়ে প্রমান কিছু হয়না।

    ৩। ভালো, খারাপ যাই হোক, দেশভাগ হয়ে গেছে। দুটো অন্য দেশ, তার নাগরিক আলাদা, আইন কানুন আলাদা। তাহলে উনকন্ট্রোলড ইমিগ্রেশন আটকানোর চেষ্টা করাটা ভারতের অধিকার এর মধ্যে পড়ে কি না ? এর মধ্যে আবার মানবতা ইত্যাদি টানবেন না, জাস্ট হ্যা বা না বললেই হবে।

    ৪। আসামের মেজর সব কটা পলিটিকাল পার্টি NRC কে সাপোর্ট করছে। তারা উনকন্ট্রোলড ইমিগ্রেশন এর বিরুদ্ধে। এবার সেটা জনগণের সাপোর্ট বলা যাবে কি না ? আমার মতে যাবে, কারণ গণতন্ত্রে মানুষ প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এবার তারা যদি গুন্ডাকে নির্বাচন করে, সেটা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু এর বিকল্প কোনো মডেল আছে কি -? এবার বিরোধিতা করতে হলে সেটাকে আইনের পথে সঙ্গবদ্ধ করা হোক।
  • | 236712.158.8956.230 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:০৪50694
  • একেবারে কপিবুক কেস অব ভিক্টিম ব্লেমিং।
  • সৈকত | 236712.158.782323.63 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:১৪50695
  • জানা ছিলই, আলোচনাটা সিঙ্গুর আর মমতায়-এ এসে পড়বে।
  • r2h | 124512.101.89900.159 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:২৩50696
  • 'এর মধ্যে আবার মানবতা ইত্যাদি টানবেন না' - এটা ভালো বলেছেন।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.23 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:২৬50697
  • সৈকতবাবু লিখেছেন --- ছ সপ্তাহেই মধ্যে র‍্যাডক্লিফ সায়েব, যিনি বিলেত থেকে পদার্পণ করেছিলেন, তিনি একটি লাইন টানেন। কোনো আগা-গোড়া বিবেচনা না করেই বলাবাহুল্য। সেটাই বাইবেলের মতো মেনে নেওয়া হয়। পাবলিক কেন, রাজ্যের কোনো কংগ্রেস নেতারও কোনো কিছু বলার ছিলনা ভাগাভাগির ব্যাপারে।

    লাইন টানার বিষয়টা এবং পদ্ধতিটা কিন্তু মোটেই অমন জলের মতো সহজ ছিল না।

    আসলে যেভাবে লাইন টানা হয়েছিল :

    ব্রিটিশ সরকারের তরফে ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন বাংলা ও পঞ্জাব প্রদেশের বিভাজন সম্পর্কিত যে বিবৃতি প্রকাশ করেন, তার সংযোজনী অংশে ১৯৪১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পঞ্জাব ও বাংলার কোন জেলাগুলিকে মুসলিম-গরিষ্ঠ এলাকা হিসাবে গণ্য করা হবে তার একটি তালিকা পেশ করা হয়। তার সতেরো দিনের মাথায় ২০শে জুন বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর ৪ জুলাই পঞ্জাব ও বাংলার সীমানা কমিশনের চেয়ারম্যান হন ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল এবং ১৯৪৬ সালে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা স্যার সিরিল জন র‍্যাডক্লিফ। বাংলার সীমানা কমিশনের দুই হিন্দু (সরকারি ভাষ্যে ‘অমুসলিম’) সদস্য হিসেবে মনোনীত হন বিচারপতি বিজনকুমার মুখার্জি এবং বিচারপতি চারুচন্দ্র বিশ্বাস। দু’জন মুসলিম সদস্য হন বিচারপতি আবু সালেহ্‌ মহম্মদ আক্রম ও বিচারপতি এস এ রহমান। ৯ জুলাই সীমানা কমিশনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকার কমিশনের প্রাথমিক কাজ চালানোর সুবিধার জন্য মুসলিম অধ্যুষিত ১৬টি জেলার তালিকা উল্লেখ করে ‘provisional boundary’ বা সাময়িক সীমানা নির্ধারণ করে দেয়।

    ওই সরকারি তালিকায় ১৬টি জেলা ছিল চট্টগ্রাম ডিভিশনের চট্টগ্রাম (মুসলিম ৭৩.৮%), নোয়াখালি (৭৮.৪৮%) ও ত্রিপুরা (৭৫.৪৮%); ঢাকা ডিভিশনের বাখরগঞ্জ (৭১.৬৩%), ঢাকা (৬৬.৮১%), ফরিদপুর (৬৩.৮%) ও ময়মনসিংহ (৭৬.৫৬%); প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের যশোহর (৬১.১৬%), মুর্শিদাবাদ (৫৫.৫৬%) ও নদীয়া (৬১.৬৭%) এবং রাজশাহি ডিভিশনের বগুড়া (৮৩.৩৬%), দিনাজপুর (৫০.৫৭%), মালদহ (৫৪.২৮%), পাবনা (৭৬.৯%), রাজশাহি (৭৫.৭৯%) ও রংপুর (৭০.৭৯%)। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের এই হিসাবে উল্লেখিত ষোলোটি জেলাই যে পূর্ববঙ্গের ভাগে পড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছিল যে পরস্পর সংলগ্ন মুসলমানপ্রধান এবং পরস্পর সংলগ্ন হিন্দুপ্রধান অঞ্চলগুলি যাতে একত্র সন্নিবেশিত হতে পারে, সে দিকে খেয়াল রেখেই কমিশন সীমানা নির্ধারণ করবে।

    র‍্যাডক্লিফ আশঙ্কা করেছিলেন যে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে রোয়েদাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে রেহাই পেতে ‘ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স বিল’-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেন। সরকার র‍্যাডক্লিফের এই যুক্তি মেনে নিয়ে ১০ জুলাই সংশ্লিষ্ট আইনের উপযুক্ত সংশোধন করে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তকেই কমিশনের অ্যাওয়ার্ড হিসাবে গ্রহণ করার কথা বলে। কমিশ গঠনের সময়েই রায় দ্বিধাহীন ভাবে গ্রহণ করা হবে বলে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিচারপতি আক্রম ও রহমান ২৮ জুলাই তাঁদের রিপোর্ট জমা দেন। বিচারপতি মুখোপাধ্যায় ও বিশ্বাস রিপোর্ট জমা দেন তার একদিন পর। র‍্যাডক্লিফ ১২ অগস্ট তাঁর রোয়েদাদ লেখা শেষ করেন। পরের দিন তা বড়লাটের কাছে জমা পড়ে এবং মাউন্টব্যাটেনের ইচ্ছানুযায়ী ১৭ অগস্ট তা প্রকাশ্যে ঘোষণা হয়। নবগঠিত দুই দেশের মধ্য ভাগ হয় নদিয়া, যশোহর, দিনাজপুর, মাল ও জলপাইগুড়ি জেলা।

    মাউন্টব্যাটেন এই রোয়েদাদের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ গোপন রাখতে চাইলেও রিপোর্টের সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করে নানা জায়গায় নতুন করে সাম্প্রদায়িক অশান্তি শুরু হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাঙ্গামা এড়ানোর জন্য ১৪-১৫ অগস্টে ক্ষমতা হস্তান্তর পর্ব শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটে যাওয়ার পর র‍্যাডক্লিফের রোয়েদাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন খোদ মাউন্টব্যাটেন। সেই অনুযায়ী তিনি প্রদেশগুলিকে জানান যে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন পঞ্জাব ও বাংলায় provisional boundary-ই চালু রাখা হবে এবং ১৬ বা ১৭ই অগস্ট এই রায় জনগণকে জানানো হবে।

    প্রসঙ্গত, র‍্যাডক্লিফের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত সমস্ত কাজ থেকেই মাউন্টব্যাটেন নিজেকে যথাসম্ভব দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। সীমানা কমিশনের চেয়ারম্যান কে হবেন, সদস্য হিসাবে কাদের গ্রহণ করা হবে, কর্মপদ্ধতি কী হবে ইত্যাদি নানা আনুষঙ্গিক বিষয়ে কোনও অবস্থাতেই তিনি তাঁর বক্তিগত মত বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি। এমনকি কমিশনের রায় তাঁর কাছে জমা পড়ার পরেও তিনি এককভাবে সেটি খুলে দেখেননি।

    র‍্যাডক্লিফের ঘোষণায় কংগ্রেস বা মুসলিম লিগের নেতৃবৃন্দ যে একশো শতাংশ সন্তুষ্ট হবেন না, মাউন্টব্যাটেন তা আঁচ করতে পেরে ১৬ অগস্ট ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোয়েদাদ সম্পর্কিত আলোচনায় বসেন। এই আলোচনায় নেহরু যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানভুক্তি মেনে নিতে পারেননি, তেমনই লিয়াকৎ আলি খান মানতে পারেননি দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির ভারতভুক্তি। এই চাপান-উতোরের মধ্যে মাউন্টব্যাটেন আপস সূত্র খুঁজে বের করার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দিলে লিয়াকৎ আলি খান গোটা র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদকেই পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন। ফলে আলোচনার সমস্ত রাস্তা চিরতরে বন্ধ হয়।
  • PM | 236712.158.8956.230 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:৪৫50701
  • "আপনি বেসিকালি যে মতটা দিচ্ছেন, সেটা খুবই বিপজ্জনক। সাম্প্রদায়িক অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যে দেশভাগ না করে উপায় ছিলনা। আর এক ধাপ এগোলোএই বলা হবে, পুরোটাই পাকিস্তান হয়ে যেত, শ্যামাবাবু কোনোমতে হিন্দু বাঙালিকে রক্ষা করেন। এগুলো আদৌ সত্য নয়। ঐতিহাসিকভাবে। এই প্রচারগুলিতে সাবস্ক্রাইব করবেন না।"

    যা বলি নি তা মুখে বসিয়ে বা দাগিয়ে যদি পয়েন্ট স্কোরিং করতে চান তাহলে করুন --কিন্তু তাহলে আলোচনার আর কিছু থাকে না।

    "ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে তে দাঙ্গা হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালিতে। এছাড়া বাংলার আর কোথাও হয়নি। " এটা সঠিক তথ্য নয়। বাংলায় প্রথম সাম্প্রাদায়িক দাংগা হয় বোধ হয় ১৯০৭ সালে মৈমন সিংহে। তারপর সাংপ্রাদায়িক হিংসার ধারাবাহিক ডকুমেন্টেড ইতিহাস আছে। আর সেটা আপনি বল্লেই পাল্টে যাবে না। আমি খুব ডিটেলে কিছু বলতে চাই না খোলা পাতায় বর্তমান পরিস্থিতে। অ্যাকাডেমিক ছাড়া এই সব ঘটনার আর কোনো ভ্যালু নেই বর্তমানে। অনেক বই পত্র আছে , উৎসাহী লোকজন পড়ে নেবেন। সুরন্জন দাস এর একটা পেপারের লিন্ক দিচ্ছি "Communal Violence in Twentieth Century Colonial Bengal: An Analytical Framework" । শুধু ডেটা গুলো দেখতে পারেন। এই সব ক্ষেত্রে সমস্যা হলো অ্যানালিসিস নিরপেক্ষ পাওয়া খুব মুসকিল। কিন্তু ডেটা ডেটাই।

    https://www.jstor.org/stable/3517477?seq=1#metadata_info_tab_contents

    লাহোর প্রস্তাব নিয়ে আপনার বক্তব্য "টিপিকাল যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি স্টেটই স্বাধীন, সার্বভৌম, স্ব-ইচ্ছায় একটি ইউনিয়নে থাকে"
    জোর করে অংক মেলানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় । এই ফরমুলা মেনে চলে এরকম দেশ ১৯৪০ সালে বিরল ই ছিলো । এখন ও EU ছাড়া এই ডেফিনিসন ফিট করা ইউনিওন/ দেশ বিরল। UK,US এর উদাহরন দিয়ে আমাকে আবার ৫০ লাইন টাইপ করাবেন না প্লিজ

    লাহোর রেসোলিউসন বলেছে-
    "The areas in which the Muslims are numerically in a majority as in the North-Western and Eastern Zones of India, should be grouped o constitute “Independent States” in which the constituent units shall be autonomous and sovereign." এখানে "সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট" বলতে ১৯৩৭ সালে যা বোঝানো হতো তাই বোঝানো হয়েছে। বাকি অন্য মানের কল্পনা আপনি নিজের মতো করতেই পারেন, তাতে GST লাগে না

    বরং ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক কেমন হবে বলতে গিয়ে এখাধিকবার জিন্না USA আর CANADA র কথা বলেছেন, সেটা ডকুমেন্টেড।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৫:৪৮50698
  • এবারে কথা উঠেছে দেশভাগ করেছিল নেতারা আর দেশের সাধারণ মানুষ কী সাধুপুরুষ ছিল? বলা বাহুল্য, এমন হাস্যকর প্রশ্ন যে গুরুর সিরিয়াস আলোচনায় উঠতে পারে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি।

    ১. ১৯৪৭-এর এপ্রিলের মাঝামাঝি নেহরু বলেছিলেন : “পাঞ্জাব ও বাংলা বিভক্ত হবে; আমি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই এ কথা বলছি” [Mansergh, N: The Transfer of Power 1942-7]।

    ২. অবিভক্ত বাংলা সম্পর্কে ৮ই জুন গান্ধী শরৎ বোসকে লিখেছিলেন, “নেহরু ও প্যাটেল অবিভক্ত বাংলার সম্পূর্ণ বিরোধী এবং তাঁদের মতে তফশিলী নেতাদের হিন্দুদের থেকে পৃথক করার এটা একটা কৌশল। এটা তাঁদের সন্দেহ নয় দৃঢ় বিশ্বাস। … তাঁরা আরও মনে করেন যে,ত ফশিলীদের ভোট কেনার জন্য জলের মত টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। যে ব্যবস্থাই হোক তার জন্য কংগ্রেস ও লীগের মধ্যে আগে চুক্তি হতে হবে। আমি যা দেখছি সেটা তোমার পক্ষে ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।” [CWMG, Vol 88, p.103]।

    ৩. কৃষ্ণ মেনন ১৯৪৭-এর ১৩ মার্চ মাউন্টব্যাটেনকে এক দীর্ঘ চিঠিতে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব দিয়ে লিখেছিলেন, বিভাগের বিরুদ্ধে বাংলার তুলনামূলকভাবে প্রবল বিরুদ্ধতা আছে। তবু স্থায়িত্বের জন্য দেশবিভাগ-রূপ দাম বাংলাকে দিতে হবে [The Transfer of Power 1942-7, Vol 9, p. 949]।

    ৪. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবার পরে ৫ জুন বিড়লা প্যাটেলকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন : “আপনি যা চেয়েছিলেন সেভাবেই সব ঘটেছে। বাংলাকে বিভক্ত করার প্রশ্নটাও যে আপনি সমাধান করেছেন তার জন্য আমি খুবই আনন্দিত ”।

    ৫. বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবার সময়ে শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, বাংলায় তথা পাকিস্তানে হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য পশ্চিমবাংলায় ও হিন্দুস্থানে মুসলমানদের জামিন হিসাবে ব্যবহার করা হবে [Gordon L, Brothers against the Raj, p. 575]।

    ৬. ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে (৪ থেকে ৬ এপ্রিল) তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার সম্মেলন থেকে সর্বপ্রথম বঙ্গভঙ্গের ডাক দেওয়া হয়। শ্যামাপ্রসাদ বলেন, 'সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধানে বাংলাকে দুই ভাগ করা ছাড়া আমি আর কোনো উপায় দেখছিনা।' বস্তুত সে সময় জিন্না বাংলাকে পাকিস্তানে নেওয়ার দাবিই করেননি। এপ্রিল মাসেরই ২৬ তারিখ, মাউন্টব্যাটেন জিন্নাকে জিজ্ঞাসা করেন, বিভক্ত বাংলা পাকিস্তানে না গিয়ে যদি যদি আলাদা হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর কী মত। জিন্না উত্তরে বলেন, 'কলকাতা ছাড়া বাংলার মানে কী? ওরা আলাদা হয়েই অনেক ভালো থাকবে। আমি নিশ্চিত ওদের সম্পর্কে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকবে।'

    এঁদের বিরুদ্ধে বাংলার সাধারণ মানুষের লড়াই করার ক্ষমতা কতটা ছিল?
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৬:০২50699
  • পিএম লিখেছেন --- ডাইরেক্ট অ্যাকসন ডে তে বাংলার সামুহিক পার্টিসিপেসন ই দেশভাগ নিশ্চিত করে। যে লেভেল এর ইন্টেন্সিটিতে বাংলা জুরে মহাসমারোহে ডাইরেক্ট অ্যাকসন ডে পালন হয়েছে --- তাতে করে শুধু নেতারা দেশ ভাগ করিয়েছে এটা ধোপে টেকে না।

    ১. সোহরাওয়ার্দি একটি অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন এবং তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল প্রায় শূন্য। ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে-তে তাঁর ভূমিকা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। কিন্তু তাঁর থেকেও অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন কংগ্রেসের হিন্দু উচ্চবর্ণের নেতারা। তাঁরা তাক বুঝে অনেক আগেই অস্ত্রশস্ত্র-গাড়ি-মাস্তান রেডি করে রেখেছিলেন। এবং পুরো দোষটা চেপেছিল মুসলিম লিগের ঘাড়ে। এটা করা হয়েছিল as an excuse to go ahead with the transfer of power to a Congress-only cabinet.

    ২. পেথিক লরেন্সকে ওয়াভেল চিঠিতে জানিয়েছিলেন --- The strong reaction by Gandhi to my suggestion that Congress should make their assurance about the grouping categorical shows how well justified Jinnah was to doubt their previous assurances on the subject. It is to my mind convincing evidence that Congress always meant to use their position in the interim Government to break up the Muslim League and in the constituent assembly to destroy the grouping scheme which was the one effective safeguard for the Muslims।

    ৩. ক্যাবিনেট মিশন --- একটা লুজ কেন্দ্র যার হাতে থাকবে কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া তিনটি অঞ্চলে থাকবে প্রদেশগুলো ক) হিন্দুপ্রধান; খ) মুসলিম প্রধান এবং গ) বাংলা ও অসম। এখানেও ঠিক হয়ে গিয়েছিল প্রদেশগুলোতে সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকলে কোনও সিদ্ধান্ত পাশ করা যাবে না। জিন্না পুরো মেনে নিয়েছিলেন এই প্রস্তাব, নেহরু সাময়িকভাবে মেনেছিলেন। এরপর ১৯৪৬এর জুলাইতে তিনি একতরফাভাবে ঘোষণা করেন the Congress was not bound by any agreements and that it would decide the fate of India in the constituent assembly itself. প্রথমে ১৯৩৭এ কোয়ালিশন না গঠন করা এবং ১৯৪৬এ ক্যাবিনেট মিশনের পিছনে ছুরি মারায় দেশভাগ বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। নাটের গুরু গান্ধী এবং তাঁর পুষ্যিপুত্তুর নেহরু।

    ৪. অবিভক্ত বৃহত্তর বঙ্গ - ফজলুল হক যথার্থ বলেছিলেন Politics of Bengal is in reality the economics of Bengal. এটা আরও শক্তিশালী হত কারণ অবিভক্ত বঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সিংভূম-মানভূম-পূর্ণিয়া জেলা-সুরমা উপত্যকা এবং অসম। তাতে বাংলার যেমন বাড়ত অর্থনৈতিক শক্তি, তেমনই বাড়ত রাজনৈতিক শক্তিও। কিন্তু না, বাঙালি এখনও পশ্চিমবঙ্গ নামক একটি প্রায় মৃত রাজ্যের ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতেই বড্ড ভালোবাসে। কারণ তাকে মুসলমানকে শত্রু মনে করতে হবে।
  • Amit | 237812.68.6789.99 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৬:০২50700
  • সাধারণ মানুষের এখন ঠিক কি কি করার ক্ষমতা আছে ? পাঁচ বছর অন্তর একটা ভোট দিতে পারা ছাড়া ? তও তো অনেক সময় পেরে ওঠে না।
  • Amit | 237812.68.6789.105 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ০৯:২০50702
  • "সোহরাওয়ার্দি একটি অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন এবং তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল প্রায় শূন্য। ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে-তে তাঁর ভূমিকা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। কিন্তু তাঁর থেকেও অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন কংগ্রেসের হিন্দু উচ্চবর্ণের নেতারা। তাঁরা তাক বুঝে অনেক আগেই অস্ত্রশস্ত্র-গাড়ি-মাস্তান রেডি করে রেখেছিলেন।"

    এসব তো ডিসক্লেইমার , তথ্য নয়। দাঙ্গা করার সময় কোন পক্ষ বেশি তৈরী ছিল, সেটা হিসেব না করে তার পেছনে যে তেতো বাস্তব টা বেরিয়ে আসে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলে যেটা ক্লেম করা হচ্ছে, সেটা আসলে ফাঁপা, নাহলে দাঙ্গার জন্য প্রস্তুতির দরকার পড়ে না। PM র লিংকটা পড়ছি, তবে ঈশেন বাবু যে ক্লেম করলেন ১৯৪৬ র একশন ডে বাদ দিলে আর বিশেষ কোথাও দাঙ্গা হয়নি, তাহলে তো মোদী বাবু ও বলতে পারেন ২০০২ র পড়ে গুজরাট এ আর কোনো বড়ো দাঙ্গা হয়নি ? তাই না ? এবার এসবকে ভিক্টিম ব্লেমিং বা যা ইচ্ছে বলা যায় , বাস্তব টা তাতে ঢাকা পড়ে না।

    আর হ্যা, মমতার উদা টা জাস্ট উদা হিসেবেই দেওয়া, কিভাবে নেতারা নিজের ওপিনিয়ন কে পাবলিক ওপিনিয়ন হিসেবে ফ্যাব্রিকেট করে, এর মধ্যে বেশি কিছু খুঁজে লাভ নেই।

    দেশভাগের জন্য শুধু হাতে গোনা কয়েকজন নেতা আর ব্রিটিশ দের দায়ী করা মনে হয় বালিতে মুখ গুঁজে রাখা। সাধারণ মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত মানুষ কোথাও, কোনো দেশে দাঙ্গা করে না, গুজরাট, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ ও করে নি নিশ্চিন্ত। কিন্তু যখন নেতারা একটা বড়ো দাঙ্গা বাধানোর জন্য গুন্ডা, মাস্তান দের বিরাট দলবল জোটাতে পারে, সেই দলবল সেই দেশের সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে থেকেই আসে, অন্য কোনো দেশ থেকে উড়ে আসে না। ১৯৪৫-৪৭ তো আর ইসিস বা তালিবান ছিল না যে মার্সেনারি ভাড়া করবে।

    সেটাই বড়ো প্রমান যে সম্প্রীতির কাঁথায় আগুন দেওয়ার জন্য গুন্ডার সংখ্যা আদৌ কম পড়ে নি তখন।

    এবার সেই দাঙ্গা তে শুধু অবাঙালিরা ভাগ নিয়েছিল, কলকাতার বাঙালিরা কেও কিচ্ছু করেন নি বা দেশভাগ একেবারে চান নি, এসব বলা হাস্যকর। তপন রায়চৌধুরী র বই একটু পড়ে নেবেন।

    আমার করা সিম্পুল কোশ্নো গুলোর কোনো উত্তর দিলেন না কেও ?

    যদি সম্প্রীতি আদৌ ছিল, বাংলাদেশ এ সংখ্যালঘু এতো কমে গেলো কেন ? সম্প্রীতি কোথায় উড়ে গেলো ? এর থেকে তো ইন্ডিয়া তে বেশি সম্প্রীতি ছিল বা আছে বলা যায় স্ট্যাটিসটিক্স র ভিত্তিতে :) :)

    আইন অনুসারে স্টেট অফ ইন্ডিয়া আনকন্ট্রোল্ড ইমিগ্রেশন ঠেকাতে পারে কি না ? শুধু আইনের কথা বলা হচ্ছে।
  • Ishan | 237812.68.4534.117 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১০:০২50703
  • পিএম।
    কী মুশকিল। আমরা তো একটা টাইমফ্রেম নিয়ে কথা বলছি। সেটা গুলিয়ে ফেললে তো হবেনা। আমাকে যা কোট কেরেছেন, দেখুন, সময়টা ডায়্রেক্ট অ্যাকশন ডে এবং তার পরে। আরও বড় করে বললে দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধোতর সময় -- ৪৬-৪৭। তার আগে এবং পরে বাংলায় অনেক সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা হয়েছে, কিন্তু ওই সময়কালে ওই দুটোই হয়েছে। ৪৬-৪৭ এ কলকাতা আর নোয়াখালি ছাড়া অন্য কোথাও দাঙ্গা হয়নি।

    দ্বিতীয় কথা হল যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীতে বেশিরভাগই নেশন-স্টেট, সেকথা সত্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। তার নাম হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভারতের গঠনে সোভিয়েতের প্রভাব নতুন কিছু না। যুক্তরাষ্ট্রও অজানা কিছুই ছিল না। ৩৭, ৩৮, ৪০ যেকোনো সময়েই। কাজেই ৩৭ সালে সভেরেন স্টেট বলতে লোকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত স্টেট বুঝতই না, এ নেহাৎই আপনার অজ্ঞতা।

    জিন্না এবং মুসলিম লিগ সাধুপুরুষ কিছু না। কিন্তু পাকিস্তান বলতে অন্তত ৪৬ সাল পর্যন্ত মুসলিম লিগ যে একটি মনোলিথিক আলাদা রাষ্ট্র ভাবতনা, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আছে। একটি ঢিলেঢালা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অখন্ড ভারতবর্ষের যে প্রস্তাব ক্যাবিনেট মিশন দেয়, মুসলিম সেটি গ্রহণ করেছিল। ডায়রেক্ট অ্যাকশানেরই কিছু মাস আগে। কংগ্রেস রাজি হয়নি। হলে ভারত-ভাগ এবং ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে কোনোটাই ঘটনা।

    আপনি পড়ছেন, খুবই ভালো কথা। কিন্তু টাইমলাইনগুলো দেখে একটু পড়ুন। ওই সময়টা খুব দ্রুত বদলের সময়। ৬ মাস এক বছরে বহু মানুষের বহু মতামত বদলে গেছে, বহু উথাল-পাথাল হয়ে গেছে। আর সুরঞ্জন দাস নিয়ে আমরা গুরুতেই অন্যত্র কোথায় যেন একটা আলোচনা করলাম। ওঁর লিস্টিতে কোনো সমস্যা নেই, যেটা আপনি দিয়েছেন, কিন্তু ৪৬ সালের দৃষ্টিভঙ্গী একটি নির্দিষ্ট ঘরানার।
  • Ishan | 237812.68.90056.167 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১০:০৮50704
  • অমিতকে পরে লিখছি।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১০:৩৬50705
  • আর দেশ পেলেন না, শেষ অবধি সোভিয়েত? সোভিয়েত রাশিয়া কিভাবে আসপাশের সব দেশ গুলোকে কব্জা করেছিল, আর সাধারণ লোকের ওপর যা অত্যাচার চলেছিল, আপনি কি সেই মডেল ইন্ডিয়াকে ফলো করতে বলছেন ? aar তখন ব্রিটিশ ইন্ডিয়াতে সোভিয়েত এর প্রভাব কতটা ছিল ? প্লিজ , একটু বাস্তব অবস্থা থেকে দেখা হোক।

    ৪৫-৪৭ যে একটা টার্বুলেন্ট সময় সেই বিষয়ে আমরা সবাই একমত। পুরো দুনিয়ার পলিটিক্স এ ঐরকম টার্বুলেন্ট টাইম হয়তো আর আসে নি এখনো অব্দি। কিন্তু এই যে কেবিনেট মিশন জিন্না মেনে নিয়েছিলেন, নেহেরু মানেন নি , সুতরাং তারই দোষ, এটাও অতি সরলীকরণ।

    জিন্না আর নেহেরু র পলিউটিক্যাল লিভারেজ তখন এক ছিল না, কংগ্রেস একটা মেজর পলিটিকাল ফোর্স সেই সময়, আর মুসলিম লীগ কয়েকটা পকেট এ মাত্র। জিন্নার কাছে মুসলিম লীগের শক্তি বাড়ানোর একটাই হাতে গরম রাস্তা ছিল, সেটা হলো ব্রিটিশ দের সাথে সহযোগিতা করা। ওই সময় অখণ্ড ইন্ডিয়াতে যদি মুসলিম লীগ ৬০-৭০-% রাজ্যে ক্ষমতায় চলে আসতো, আর কংগ্রেস ৩০-৪০% এ আটকে থাকতো , তাহলে হয়তো কেবিনের মিশন নিয়ে তাদের মতামত উল্টো হতো। আবার এটাও আমার কল্পনা , কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

    যেটা বলতে চাই, এতে জিন্নার মহানতা কিসুই নেই, সবই ওই সময়ের টালতামাল সময়ে যে যার মতো দাবার ঘুটি সাজানো। আর সাধারণ মানুষের কোনো দোষ নেই, এই কথার ও কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তার কোনো তথ্য নেই, তখন ১০০-% গণভোট হয়নি, এটাও সত্যি , হলে কি হতো সেটাও জানা নেই, এটাও সত্যি।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১০:৫৩50706
  • আর কেবিনেট প্রস্তাব কংগ্রেস মেনে নিলে নোয়াখালী বা কলকাতা দাঙ্গা কিছু হতো না, এসব আপনার কল্পনা। বাস্তব নয়। বাস্তব হলো দাঙ্গার জন্য জমি তৈরী ই ছিল, সেকথা এলেবেলে ই লিখছেন, কংগ্রেস গুন্ডা জোগাড় করেই রেখেছিলো। আমি অবশ্য ধরে নিচ্ছি মুসলিম লীগ সেই সময় হটাৎ অহিংস হয়ে যায়নি। PM র লিংক টা দেখেন একটু, ভালো লেখা।

    দাঙ্গা কোথাও নিজে নিজে ঘটে না , ঘটানো হয় কোনো পারপাস এ। ক্ষমতার দখল একটা মেজর পারপাস সব জায়গায়।
  • Atoz | 237812.69.4545.137 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১১:০৯50707
  • নেতাদের দোষ , জনগণের দোষ, বৃটিশের দোষ, সোভিয়েতের দোষ, আমেরিকার দোষ, গ্রহের দোষ ---দোষ যারই হোক, সেসব অতীত।
    বর্তমানে যে অবস্থাটা হয়েছে, সেটাকে যদি তেমন তেমন ভালোভাবে মোকাবিলা করে সাব-কন্টিনেটাল ইউনিয়ন তৈরী করা যায়,ধরেও রাখা যায় আর ক্রমাগত ভুল শুধরে শুধরে এগোনো যায়--- সম্ভবতঃ এই উপমহাদেশ ভবিষ্যতে অসাধারণ একটা গ্লোবাল পাওয়ার হয়ে উঠতে পারে। এটাই সেই সময়, এটাই সেই সুযোগ। ভাবুন, বিপুল প্রতিরক্ষা-খরচ ফ্রী হয়ে যাচ্ছে তিনটে/ চারটে দেশের, সেই টাকা কাজে লাগছে শিক্ষায়- স্বাস্থ্যে-গবেষণায়-পরিবেশরক্ষায় ইত্যাদি ভালো ভালো কাজে।
    এত মানুষ, এত ভাষা, এত ধরণের সংস্কৃতি, এত রকমের নৃগোষ্ঠী ---এই ডাইভার্সিটি, এই মানবসম্পদ সহজে পাওয়া যায় না। নিজেদের মধ্যে মারামারি ধাক্কাধাক্কি করে এত বড় সুযোগ হেলায় হারানো হচ্ছে না কি?
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১১:২২50708
  • এতোজ এর সাথে এই পয়েন্ট এ ১০০-% একমত। আগে যাই হোক, এখন সামনে দেখাটাই জরুরি। সমস্যা হলো যুদ্ধটা চাগিয়ে রাখা তিনটে দেশের নেতা আর আর্মি টিকে থাকার র জন্য বড়ো জরুরি, তাই এতো ৫৬" র বুক দাবড়ানি।

    জাস্ট এই টইতে সেই পুরোনো কবর আবার খোঁড়া শুরু হয়েছিল বলে আমার দু পয়সা দিয়ে গেলুম আর কি। :) :)
  • Amit | 237812.68.6789.99 (*) | ০৪ জুলাই ২০১৯ ১২:৩৯50691
  • ৪৬ এর আগে দেশভাগ নিয়ে কথা হয়নি কারণ দেশ স্বাধীন হবার সম্ভাবনাও ছিল না, তখন সবাই মোটামুটি একটা ডোমিনিওন স্টেটাস বা পার্শিয়াল শাসন অধিকার পেলেই বর্তে যেতেন। ২ন্ড বিশ্বযুদ্ধ, জাপানের হাতে মার্, INA , নৌ বিদ্রোহ, এসব কিছুও একুয়াসন এ ছিল না। সুতরাং মুসলিম দের স্বাত্মশাসন মানে আলাদা দেশ নয়, এসব কথার এখন কোনো অর্থ হয়না। আর বাঙালির মধ্যে যদি অতো দারুন আন্তরিকতা ছিল, কোনো হিন্দু মুসলিম বিভেদ ছিল না, তাহলে ১৯৪৭ এর পরে বাংলাদেশ র জন সংখ্যা তে হিন্দু % এতো ড্রপ করলো কেন ? আন্তরিকতা কি হাওয়াতে উড়ে গেছিলো ? নাকি সবাই শুধু মাত্র অর্থনৈতিক কারণে এদিকে চলে এসেছেন ?

    বাঙালি উদ্বাস্তু যারা এসেছেন, তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে, এই পয়েন্ট এ একমত। কিন্তু দেশের জনগণ সবাই সাধু আর নেতারা শুধু চোর, নিজেরা গদির লোভে দেশ টাকে ভেঙে দিলো, এই দৃষ্টিভঙ্গি ও অতি সরলীকরণ। যখন কোনো দেশ এ দাঙ্গা হয়, তারপরেও জনগণ ভোট দিয়ে সেই সরকার কেই আবার ক্ষমতায় আনে, তারাও কিছু সাধু নয় , তারাও সেইসব সমস্যার জন্য দায়ী। অতো সহজে হাত ধোয়া যাবে না

    গত ১০০ বছরে বহু দেশ ভেঙেছে, গড়েছে। ভারত এক মাত্র কেস নয়। অনেক দেশের মধ্যে ইউনিয়ন চালু হয়েছে, বহু দেশের মধ্যে মারামারি থাকার কারণে বর্ডার খোলা হয়নি। আসামে সব মেজর পলিটিকাল পার্টি NRC কে সমর্থন করছে, তার মানে সেখানে সাধারণ জনগণ এর সাপোর্ট আছে। দেশ ভাঙা ভালো , খারাপ এসবের মধ্যে না গিয়েও বলা যায় যে উনকন্ট্রোলড মাইগ্রেশন যদি কোনো দেশ আটকাতে চেষ্টা করে , সেটা আইনের মধ্যেe পরে।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০১:১৮50710
  • ""এবং ফ্যাক্ট হল, সেটা মেনে নিলে ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে হতনা। প্রতিক্রিয়াতে নোয়াখালিও হতনা।"

    এটা ঠিক কোন দিকে ফ্যাক্ট সেটা বোঝাবেন-? যা ঘটেনি আদৌ, সেটা ঠিক কবে থেকে ফ্যাক্ট এর মধ্যে পড়ছে ? আমি তো মনে করি সেটা কল্পনা বা ধারণা :)

    আর এবার গোলপোস্ট ৩৭-৩৮ এ চলে গেলো কেন আবার ? নেহেরু র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি কি ছিল সেটা নিয়ে কি আদৌ আলোচনা হচ্ছে এখানে ? আমার তো ধারণা ছিল আলোচনার সময়কাল শুধু ১৯৪৫-৪৭ এবং আলোচনা শুধু matro দেশভাগ নিয়ে।

    দেশভাগ কয়েক জনের গাফিলতি সেটা আপনার ধারণা থাকলে থাক, ধারণা আর ফ্যাক্ট এর মধ্যে তফাৎ আছে। যারা নেতা হয়ে যান বা হতে চেষ্টা করেন, তাদের ঘাড়ে সাফল্য বা ব্যর্থতার দায়িত্ব টাও পড়ে। এবার তাদের মতো নেতাকে যারা ওপরে তুললেন , তাদের হাত ধুয়ে ফেললেই হয়ে গেলো, তাই তো ?

    জার্মানি র নেতা হিসেবে হলোকাস্ট বা যুদ্ধের দায়িত্ব হিটলার বা তার চেলা দের ওপরেই পড়ে, তাদের ই শাস্তি হয় নিউরেম্বের্গ এ। এবার কেও যদি ভাবেন নুরেমবার্গ এ যারা শাস্তি পাননি, তারা ছাড়া জার্মানি র বাকি যাবতীয় লোক, তারা সবাই সাধু সন্ত, সেটা ও ধারণা ই, কোনো ফ্যাক্ট নয়।

    ইন ফ্যাক্ট আমার নিজের এক জার্মান কলিগ কথাচ্ছলে বলেছিলো তার ঠাকুরদা নাত্সি SS বাহিনীতে ক্যাডার ছিলেন, যুদ্ধের পারে অস্ট্রেলিয়া তে পালিয়ে আসেন। ৮০ র দশকে মারা যান, কোনো শাস্তি হয়নি। এবার তিনি দোষী না নির্দোষ ? বাকি সব কিছুর মতো সেসব ই ধূসর।

    আর মতে না মিললে তার জন্য অন্য কেও আপনার লেখা না পড়েই লিখে চলেছে এসব বলে যদি আপনি নিজের কাছে স্কোর করতে চান , করুন। সেটা আপনার ব্যাপার।
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০১:২৪50730
  • @অমিত লিখেছেন --- "সোহরাওয়ার্দি একটি অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন এবং তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল প্রায় শূন্য। ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে-তে তাঁর ভূমিকা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। কিন্তু তাঁর থেকেও অতি উত্তম খচ্চর ছিলেন কংগ্রেসের হিন্দু উচ্চবর্ণের নেতারা। তাঁরা তাক বুঝে অনেক আগেই অস্ত্রশস্ত্র-গাড়ি-মাস্তান রেডি করে রেখেছিলেন।" এসব তো ডিসক্লেইমার , তথ্য নয়।

    ডিসক্লেইমার হতে যাবে কোন দুঃখে? তথ্য তো বলছে ওই দিন মারা গিয়েছিলেন চার হাজার নিরীহ মানুষ যাঁদের অধিকাংশই মুসলমান। অথচ কায়দা করে দোষটা ফেলা হয়েছিল মুসলিম লিগের ঘাড়ে। মুসলিম লিগ যে কত বড় সাম্প্রদায়িক দল, কত সহিংস, কত বিপজ্জনক তা বোঝাতে। গোপাল পাঁঠা এবং তার দলবল গাড়ি-অস্ত্র মজুত করেই রেখেছিল গণ্ডগোল পাকাবে বলে। কারণ কংগ্রেস এটাকে ব্যবহার করেছিল 'as an excuse to go ahead with the transfer of power to a Congress-only cabinet.' ইংরেজি উদ্ধৃতিটা আমারও নয়, তথ্য হিসেবে ভুলও নয়। তাহলে এসব অভিযোগের অর্থ কী?
  • এলেবেলে | 236712.158.782323.31 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০১:৩০50731
  • দেশভাগে জনসাধারণকে দায়ী করে লাভ কী? পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম মাইগ্রেশনটি নেতারা করেছিলেন না সাধারণ জনগণ? দেশভাগের ৯০ শতাংশ দায় গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের এবং চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর। তারও আগে লাজপত রায়ের যিনি পাকিস্তান প্রস্তাবের বহু আগে তা চেয়েছিলেন। জিন্না বড়জোর ১০ ভাগ দায়ী, তা-ও তাঁকে একরকম বাধ্য করা হয়েছিল। ওই যে ১৪ দফা প্রস্তাব সে ব্যাপারে বহু আগে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধী ঘুষ হিসেবে দিতে চেয়ে আম্বেদকরকে আটকাতে চেয়েছিলেন। এসব তো ডকুমেন্টেড।
  • Amit | 237812.68.6789.99 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০১:৪৪50711
  • ইন ফ্যাক্ট এই টোয়ি টা শুরু করার উদ্দেশ্যটা ঠিক কি কি ছিল ? EU র কথা যদি বলাই হয়, সেখানেও কেও ইল্লিগ্যাল ইম্মিগ্রেশন কে সাপোর্ট করেন বলে তো জানা নেই। যারা এদেশ ওদেশ রেগুলার ঘোরাঘুরি করেন, তাদের পেপারস, পারমিট সব ঠিক ঠাক রাখতে হয়। অন্য কোনো দেশের সিটিজেন হতে গেলে সেখানে সব নিয়ম মেনে তারপর এপলাই করতে হয়। সে রকম ইউনিয়ন ইন্ডিয়া পাকিস্তান বাংলাদেশ এর মধ্যে চালু হলে হোক না, প্রপার ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে লোকে কাজ করতে আসুক যত ইচ্ছে। তাতে আপত্তি টা কোথায় ? NRC টা কি তার বিরুদ্ধে হচ্ছে ? হচ্ছে তো ইল্লিগাল ইমিগ্র্যাশন এর বিরুদ্ধে। এবার ৭০ বছর আগের কঙ্কাল দেখলে আজকের আইন তো সেটাকে সাপোর্ট করবে না। এখনকার যা নিয়ম , সেটা মানা হোক।

    ঘড়ির কাটা ঘোরানোটা নিশ্চয় উদ্দেশ্য ছিল না ? বরং সামনের দিকে তাকিয়ে যাতে তিনটে দেশের মধ্যে রিলেশন ভালো করা যায়, ডিফেন্স কস্ট কমে, আনাগোনা বাড়ে , সেটা ই তো প্রায়োরিটি মনে হয়। সেখানে নেহেরু র দোষ, তিন চার জনের দোষ গুনে এখন কোন মোক্ষলাভ হবে ?

    যদিও এই নেহেরু র দোষ ধরাটা হেভি ভালো লেগেছে, মাইরি বলছি। এই একই কারণে আমি মোদী বাবুর ও এতো ভক্ত, উনিও যাবতীয় সমস্যার পেছনে নেহেরু র কালো হাত খুঁজে পান :) :)
  • Ishan | 237812.68.4534.57 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০১:৪৬50712
  • এবং সুরঞ্জন দাস। তিনি খুব স্পষ্ট করেই একটা পক্ষ নিয়েছেন, নানা লেখায়। উভয় পক্ষেরই দোষ আছে দেশভাগে, কিন্তু মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা অধিক দায়ি -- মোটের উপর এইরকম একটা (অক্ষরে অক্ষরে নয়, কিন্তু টোনটা এইরকমই। এই লেখাতেও পড়লাম দেশভাগের জন্য নিচের দিক থেকে একটা চাপ ছিল ইত্যাদি)। উল্টোদিকে জয়া চ্যাটার্জি ঠিক উল্টো একটা অবস্থান নিয়েছেন। মোটের উপর হিন্দু ভদ্রলোকরাই সাম্প্রদায়িকতা এবং দেশভাগের জন্য দায়ি -- এইরকম একটা। এর ঠিক বা ভুলের মধ্যে আমি যাবনা। কিন্তু তথ্য যেহেতু তথ্যই, সেখানে একটা জিনিস পরিষ্কার দেখা যায়। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও, ১৯০৫ সালের আগে বাংলায় দাঙ্গার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হিন্দু ভদ্রলোকদের মুসলমান বিদ্বেষ এবং মুসলমান অভিজাতদের হিন্দুদের প্রতি নাক-কোঁচকানো সত্ত্বেও সাধারণ লোকজন অস্ত্রশত্র নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নেমে পড়ছে, এরকমটা অকল্পনীয় ছিল। বরং ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহও একটা যৌথ প্রক্রিয়া ছিল। বাংলার নীল বির্দ্রোহ, তিতুমির, সবই এই একই গোত্রের। সাম্প্রদায়িক গোলমালের লেশমাত্র ছিলনা তখন। সেই গোলমালের একটা নির্দিষ্ট টাইমলাইন আছে। তপন রায়চৌধির লেখাই পড়ুন, শেখ মুজিবের আত্মজীবনীই পড়ুন, সুমিত সরকারই পড়ুন, সুরঞ্জন দাসই পড়ুন, টাইমলাইনটা পাবেনই।

    টাইমলাইনটা হল সেটা হল ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের পরই ছোটোখাটো দাঙ্গা হাঙ্গামা শুরু হয়। অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গই সূচনাবিন্দু। এর পর ইংরেজ শাসন যত শক্তপোক্ত হয় জিনিসটা বাড়তে থাকে। তার নির্দিষ্ট কারণও আছে। বাংলা ভাগের মতই সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা, ভারত-সরকার-আইন, এগুলো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদকে বাড়ানোর জন্যই করা হয়েছিল। একদম পরিকল্পনা মাফিক। ১৯৩৫ এর পর চিত্র আসে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোও, যখন তাদের সরকার গঠনের সুযোগ আসে। ৪৬ সালে যে উভয়পক্ষের ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্র জমিয়ে রেখেছিল, সে তো আর এমনি হয়নি। তারপর তো দেশভাগই হয়ে গেল। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করে ফেললে, তারপর যে সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে, তাতে আর আশ্চর্য কী।

    এই উপর থেকে ইন্ধন জোগানোর চিত্রটা সামগ্রিকভাবেই সুরঞ্জন দাসে অনুপস্থিত। এই লেখাতেও। খুব ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস দেখলাম। ১৯৩৯ এ মুসলিম লিগ সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছিল হিন্দু মহাসভা, সেটা খুব স্পষ্ট করে লেখা আছে। কিন্তু শ্যামা-হক কোয়ালিশনের কথা এক লাইনও নেই। হয়তো শব্দসংখ্যা সীমিত। কিন্তু এইসব জিনিসগুলো এড়িয়ে গেলে তো চিত্রটাই উল্টে যায়। উপর থেকে ইন্ধন জোগানোর বিষয়টাই এড়িয়ে যাওয়া যায়।
  • Ishan | 237812.68.4534.141 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:০১50713
  • আমি খুবই দুঃখিত, আপনার প্রিয় নেহরু-প্যাটেলের দোষকে তাদের দোষই বলছি।

    আর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইল্লিগাল ইমিগ্র্যান্টদের লাথিয়ে তাড়াতে হবে, এ একটি অতি-দক্ষিণপন্থী অবস্থান। এই ধরুন, এই মুহূর্তে আমেরিকায় লাতিন আমেরিকান অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে একটা বিতর্ক চলছে। সেখানে ট্রাম্পের অবস্থান হল আপনার মতই। "এখন ঝেঁটিয়ে বিদায় কর। ভিসা নিয়ে আসুক তারপর দেখা যাবে"। আর উল্টোদিকের অবস্থান হল "ইহাদের ক্রমে নাগরিক করে তোলো"। কারণ সাধ করে এত লোক সীমান্ত টপকায়না। তবে সব লোক একসঙ্গে আশ্রয় নিতে এলে অর্থনীতি লাটে উঠবে তাও ঠিক, তাই অন্য আরেকটি দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যে, লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন হওয়া উচিত, যাতে পালে পালে লোক আমেরিকায় অবৈধভাবে চলে না আসে। এই নিয়েও আমেরিকা সরকারকে অন্য দেশের সরকারগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে হবে।

    আমি এই দ্বিতীয় মতটির পক্ষে, বলাই বাহুল্য। ত"আমাদের আইনে ভিসাহীন প্রবেশ অবৈধ" এটা অনর্থক গায়ের-জোর দেখানো, যখন কোটি-কোটি লোক সীমান্ত পাল্টায়। তখন বুঝতে হবে বিষয়টা একটা রাজনৈতিক সমস্যা, তার রাজনৈতিক সমাধান চাই, আইনী সমাধান নয়।

    এর জন্যই রাজনৈতিক সমস্যাটিকে খোঁজার চেষ্টা। আমেরিকায় দেশভাগ জাঈয় কিছু হয়নি। ভারতীয় উপমহাদেশে হয়েছে। সেটাই রাজনৈতিক সমস্যা। সেটা না বুঝে, স্রেফ "আমাদের অমুক আইন আছে" বলাটা কোনো সমাধানের দিকে নিয়ে যাবেনা। বরং চরম দক্ষিণপন্থারই উদ্ভব ঘটাবে। সেই জন্যই দেশভাগ, সেইজন্যই পাপ নিয়ে এত কথাবার্তা। দেশভাগের পাপস্খালন অবিলম্বে করা প্রয়োজন। অন্তত তিনটি দেশের সরকারের যৌথ উদ্যোগে। ভারতকেই প্রথম দায়িত্বটা নিতে হবে।
  • | 236712.158.782323.63 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:২৭50714

  • কার দোষ বেশি টা কোন ইসুই না, প্রাত্যহিক অস`দভাব, জাত পাতের গপ্প সত্ত্বেও, ঊনবিম্শ শতকের বিদ্রোহ গুলো মূলত সকলেই করেছেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। আমাদের আধুনিক ফ্রাট্রিসাইডের ইতিহাস নেহাত ই বিংশ শতকীয়।

    আমার এই দুটো এবং আরো বেশ কয়েকটা সোর্স পড়ে মনে হয়েছে যে, ১৯০৫ এর পরে স্কারমিশ হলেও, ১৯০৫ থেকে না প্রথম বিশ্বযুদ্ধ র সময় থেকে ১৯৪০ এর দশক, ধীরে ধীরে পোলিটিকাল কমিউনাল মোবিলাইজেশন বেড়েছে, এবং ১৯৩৫ থেকে আরেক রকম ভাবে। কিন্তু ১৯৪৬ এর উন্মত্ততা , রশীদ আলি দিবসের কদিন বাদে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং আনবিলিভেবল, তো এটা মোটামুটি সকলেই বোঝে এন আর সি, তার পুনরাবৃত্তি র সম্ভাবনা কে কমাবে না , উল্টে বাড়াবে।

    আমাদের ইতিহাসের ট্রেনিং এর অভাবে, একটু আধটু টেলিওলোজিকাল হয়ে গেলেও, মোটামুটি সিভিলাইজড আলোচনা হচ্ছে, ভালো-ই লাগছে। পি এম এর সাবধানতা অবলম্বন খুব ই ভালো লাগলো।

    এই আলোচনা র মেন সীমাবদ্ধতা হল, আসাম ও ত্রিপুরার ইতিহাস টা নিয়ে আলোচনা কম হচ্ছে, সেদিকে যাওয়া যাক। এবং সেটা কে বাংলার ইতিহাসের ডেরিভেটিভ হিসেবে ভাবার কারণ নেই। এবং ভারতীয় ফেডেরালিজম এর ব্যর্থতা কে এন আর সি দিয়ে ঢাকার চেষ্টা নিয়েই আলোচনা জরুরি। এবং সম্ভবত এটা বোঝাও জরুরি ভাষা ন্যাশনালিজম টা কে কমিউনাল মোবিলাইজেশন এর বিরুদ্ধে এক ধরণের সামাজিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল স্টেট ফর্মেশনে, সেটা উত্তর পূর্বে কেন ফেইল করলো।
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:৩৮50715
  • ধন্যবাদ। যখন দক্ষিণপন্থী বা ট্রাম্প এর ভক্ত এই সব ব্র্যান্ডিং করা শুরু হয় , তখন বোঝা যায় বিষয়ের ব্যাপারে বক্তব্য ক্রমশ কমে আসছে, ব্র্যান্ডিং একটা ভালো ডিভর্সন । :)

    তাহলে আপনার লেখাতেই একটা জিনিস পরিষ্কার হলো, NRC তে যেটা হচ্ছে সেটা নির্মম হতে পারে, কিন্তু হয়তো বেআইনি নয়। আর সেই জন্যেই এটার আইনি সমাধান সম্ভব নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার। ভালো কথা। কি রকম উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে হয় ? তার জন্য এতো ৭০ বছরের ইতিহাস টেনে আনার কি ছিল বুজলাম না।

    দেশভাগ আমেরিকায় হয়নি , কানাডা এ বেশ কবার ফ্রেঞ্চ ক্যুবেক আলাদা হওয়ার রিসোলিউশন এসেছে, আবার চাপাও পরে গেছে। আলাদা হলে ওখানে ইন্ডিয়ার মতো স্কেল এ রিওট হয়তো হতো না, আবার হতেও পারতো হয়তো, সবই কল্পনা। যতক্ষন না কিছু সত্যি ঘটছে সেটাকে ফ্যাক্ট বলাতে আমার আপত্তি আছে। আর দক্ষিণ আমেরিকা নিয়ে যেটা বললেন, সত্যি কথা, কিন্তু রাজনৈতিক সমাধান টা বড়ো ভেগ টার্ম। জোর করে আলোচনায় বসতে চাইলে তখন আবার বলা হবে আমেরিকা দাদাগিরি ফলাচ্ছে, এই আর কি।

    ভারতের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সেটাও ভালো কথা। তো মোদিবাও তো উদ্যোগ নিয়েছেন, বলেই দিয়েছেন মুসলিম ছাড়া বাকি দের ভেরিফাই করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তাতে রাজনীতির প্যাচ যতই থাক, লজিক্যালি এটা ঠিক যে ওই দুটি দেশে ধর্ম বিদ্বেষের কারণে এনাদের অত্যাচারিত হয়ে পালিয়ে আসার সম্ভাবনা বেশি। এটা নিয়ে কি মত ? alternative ki ?

    এবার এর রাজনৈতিক সমাধান e কি ভাবে হওয়া উচিত -? apnar মত দিলেই চলবে, ১৯৪৫-৪৭ থাক না হয়।
  • S | 237812.69.3434.136 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:৪০50716
  • "তবে সব লোক একসঙ্গে আশ্রয় নিতে এলে অর্থনীতি লাটে উঠবে তাও ঠিক"

    এটা কি করে জানা গেল? আম্রিগার বার্থ রেট এখন যা (এবং যেভাবে ক্রমশ কমছে) তাতে বাইরে থেকে লোক না এলে পপুলেশান কমে যাবে। লজিকালি এইসব ইমিগ্র্যান্টরা না এলেই অর্থনীতি লাটে উঠে যাবে।
  • dc | 124512.101.89900.123 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:৪৮50717
  • "আর উল্টোদিকের অবস্থান হল "ইহাদের ক্রমে নাগরিক করে তোলো""

    এটা আমারও অবস্থান। ফাইন্যান্স আর লেবার ফ্লো অবাধ হোক, বর্ডার কন্ট্রোল ইত্যাদি উঠে যাক, ক্যাপিটাল আর লেবার দুটোরই ফ্রি ট্রেড আরও বাড়ুক। লোকে যে দেশে খুশী গিয়ে থাকুক, যেখানে ইচ্ছে কাজ করুক, সে দেশের ইকোনমিতে কনট্রিবিউট করুক। এরকম হলে আমি নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে সেটল করবো।
  • S | 237812.68.454512.252 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০২:৫৮50718
  • আমার ক্যাপিটাল অন্যের দেশে পাঠিয়ে বা সেখান থেকে অসময়ে তুলে নিয়ে সেই দেশের অর্থনীতি চৌপাট করে দেওয়ার ক্ষমতা যদি থাকে, তাহলে লেবার ফ্লো কন্ট্রোলই বা করা হবে কেন? গ্যাট চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী লেবার ফ্লো অবাধ হবার কথা। বাকিগুলো অবাধ করে দিয়ে এখন লেবারের কথা আসতেই সবাই দরজা বন্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    এইটা এই টইয়ের ব্যাপার নয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মুলতঃ হিন্দুরাই এদেশে এসেছে। আসামে এনারসি যে হচ্ছে সেতো সেখান থেকে মুসলমান (বিজেপির ইন্টারেস্ট) এবং সবধর্মেরই বাঙালী (অসমীয়াদের ইন্টারেস্ট) তাড়ানোর আছিলা মাত্র। আর পস্চিমবঙ্গে এনারসির জন্য অতি উৎসাহিত সামান্য কিছু ঘটি পাব্লিক। এখানে নেটিভ পাব্লিকের তেমন সাপোর্ট নেই, তাই এখানে হবেনা। এইসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নেতারা চাইলেই যে কিছু হয়্না, পাব্লিকের সাপোর্ট দরকার হয় - এনারসিই তার উদাহরণ। আবার নেতারা চাইলে এটাকে ডিলে করিয়ে করিয়ে শেষে না করালেও পারতো।

    আরেকটা কথা বলি - সোশাল মিক্সিং খুব জরুরী। সেটা না হলেই দেশভাগ, এনারসির মতন ঘটনাগুলো ঘটে। পাশাপাশি বাস করেও যদি দুই ধর্ম, জাতের লোকের দুটো আলাদা দুনিয়া হয়, তখন সমস্যা তৈরী হবেই।
  • dc | 124512.101.89900.123 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৩:০৩50719
  • "বাকিগুলো অবাধ করে দিয়ে এখন লেবারের কথা আসতেই সবাই দরজা বন্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।"

    এক্স্যাক্টলি। এই বন্ধ দরজাগুলো খুলতে হবে। ক্যাপিটালিজমকে নিওরাইট হাইজ্যাক করে নিয়েছে, তাদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

    "সোশাল মিক্সিং খুব জরুরী"

    ১০০% সহমত। সবরকম মবিলিটি এনকারেজ করা জরুরি, তাতে মার্কেটও বাড়ে।
  • PM | 236712.158.78.28 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৩:৫২50720
  • সোভিয়েত গুলো " সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট" ছিলো ?
  • PM | 236712.158.67.189 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৪:২১50721
  • স্কট্ল্যন্ড সভেরেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেট" ? ওয়র্ল্ড অ্যাটলাস তা বলছে না

    "Scotland is one of the four countries that make up the sovereign state of the United Kingdom. However, Scotland is itself not a sovereign state and is recognized more closely as a province or region."

    স্কট্ল্যান্ড আর নরদার্ন আয়ারল্যান্ড এর সভেরেনিটি একটি অতি বিতর্কিত বস্তু যা নিয়ে ২০১৮ সালেও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কে রেসলিউসন পাস করতে হয়। তার মানে ইশান বাবুর মত পন্ডিতের সাথে আমার মত অজ্ঞ লোকের দুনিয়ায় অভাব নেই। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এও নেই । নইলে বিতর্ক হত না।ঃ)
  • কল্লোল | 124512.101.89900.159 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৪:৩৮50722
  • পিএম।
    হ্যাঁ, সমস্ত ইউনিয়ান রিপাবলিকগুলোর যখন খুশী USSR থেকে বেরিয়ে যাবার অধিকার ছিলো -
    Stalin’s CConstitution of the USSR
    Moscow, USSR December 1936
    ARTICLE 17. To every Union Republic is reserved the right freely to secede from the U.S.S.R.
    সূত্রঃ
    http://insidethecoldwar.org/sites/default/files/documents/Constitution%20of%20the%20USSR%20under%20Stalin_0.pdf
  • কল্লোল | 236712.158.786712.95 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৪:৫৭50732
  • পিএম।
    চ্যাপটার ২। আর্টিকেল ১৩ আর ১৪।
    ARTICLE 13. The Union of Soviet Socialist Republics is a federal state, formed on the basis of the voluntary association of Soviet Socialist Republics having equal rights, namely :
    The Russian Soviet Federative Socialist Republic
    The Ukrainian Soviet Socialist Republic
    The Byelorussian Soviet Socialist Republic
    The Azerbaijan Soviet Socialist Republic
    The Georgian Soviet Socialist Republic
    The Armenian Soviet Socialist Republic
    The Turkmen Soviet Socialist Republic
    The Uzbek Soviet Socialist Republic
    The Tajik Soviet Socialist Republic
    The Kazakh Soviet Socialist Republic
    The Kirghiz Soviet Socialist Republic
    The Karelo-Finnish Soviet Socialist Republic
    The Moldavian Soviet Socialist Republic
    The Lithuanian Soviet Socialist Republic
    The Latvian Soviet Socialist Republic
    The Esthonian Soviet Socialist Republic
    ARTICLE 14. The jurisdiction of the Union of Soviet Socialist Republics, as represented by its highest organs of state authority and organs of government, covers :
    a) Representation of the Union in international relations, conclusion and ratification of treaties with other states;
    b) Questions of war and peace;
    c) Admission of new republics into the U.S.S.R.;
    d) Control over the observance of the Constitution of the U.S.S.R. and ensuring conformity of the Constitutions of the Union Republics with the Constitution of the U.S.S.R.;
    e) Confirmation of alterations of boundaries between Union Republics;
    f) Confirmation of the formation of new Territories and Regions and also of new Autonomous Republics within Union Republics;
    g) Organization of the defence of the U.S.S.R. and direction of all the armed forces of the U.S.S.R.;
    h) Foreign trade on the basis of state monopoly;
    i) Safeguarding the security of the state;
    j) Establishment of the national economic plans of the U.S.S.R.;
    k) Approval of the single state budget of the U.S.S.R. as well as of the taxes and revenues which go to the all-Union, Republican and local budgets;
    l) Administration of the banks, industrial and agricultural establishments and enterprises and trading enterprises of all-Union importance;
    m) Administration of transport and communications;
    n) Direction of the monetary and credit system;
    o) Organization of state insurance;
    p) Raising and granting of loans;
    q) Establishment of the basic principles for the use of land as well as for the use of natural deposits, forests and waters;
    r) Establishment of the basic principles in the spheres of education and public health;
    s) Organization of a uniform system of national economic statistics;
    t) Establishment of the principles of labour legislation;
    u) Legislation on the judicial system and judicial procedure; criminal and civil codes;
    v) Laws on citizenship of the Union; laws on the rights of foreigners;
    w) Issuing of all-Union acts of amnesty.
    ARTICLE 15. The sovereignty of the Union Republics is limited only within the provisions set forth in Article 14 of the Constitution of the U.S.S.R.
    Outside of these provisions, each Union Republic exercises state authority independently. The U.S.S.R. protects the sovereign rights of the Union Republics.
    ARTICLE 16. Each Union Republic has its own Constitution, which takes account of the specific features of the Republic and is drawn up in full conformity with the Constitution of the U.S.S.R.
    ARTICLE 17. To every Union Republic is reserved the right freely to secede from the U.S.S.R.
    ARTICLE 18. The territory of a Union Republic may not be altered without its consent.
    ARTICLE 19. The laws of the U.S.S.R. have the same force within the territory of every Union Republic.
    ARTICLE 20. In the event of a discrepancy between a law of a Union Republic and an all-Union law, the all-Union law prevails.
    ARTICLE 21. A single Union citizenship is established for all citizens of the U.S.S.R.
    Every citizen of a Union Republic is a citizen of the U.S.S.R.
    সূত্রঃhttps://www.marxists.org/reference/archive/stalin/works/1936/12/05.htm
  • Amit | 237812.68.6789.111 (*) | ০৫ জুলাই ২০১৯ ০৪:৫৯50723
  • আচ্ছা, এই ওপেন মডেল যুক্তরাজ্য নিয়ে মাঝেই মাঝেই টইতে কিসব ভেসে ওঠে। সেসব দেশে নাকি যে কোনো রাজ্য যখন ইচ্ছে ধ্যাকতে পারে , যখন ইচ্ছে বেরোতে পারে , পুরো মুক্তাঞ্চল ja ke বলে। সেসব জায়গা নাকি একেবারে স্বর্গের পরের স্টেশন। ওরকম ই নাকি জিন্নার আইডিয়া ছিল, কে জানে বাবা, আর ওসব ইমপ্লিমেন্ট হলেই ইন্ডিয়া পাক বাংলাদেশের যাবতীয় সমষ্যা ইভাপোরেট হয়ে যেত। জাস্ট নেহেরু আর প্যাটেল শয়তানি করে হতে দেয়নি।

    এই তিনটে দেশ বাদ দ্যান, একেবারে আজেবাজে লোক নেতা হয়ে এগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কটা দেশে এরকম ভাঙা গড়া র মেলামেলি পুরো শান্তিপূর্ণ হয়েছে , কেও একটু উদাহরণ দিয়ে জানাবেন ? এই হালে তো দেখি স্পেন এ হৈচৈ হয়ে গেলো ক্যাটালোনিয়া কে বেরোতে দেবেনা বলে। গ্রীস আর মেকাদিনিয়ার মধ্যেও বাবল হতে দেখি। নর্থ আইর্লন্ড্ আবার ব্রেক্সিট এর পরে খেপে গেছে , গণভোট নিয়েও কি অবস্থা। যুগোস্লাভিভিয়া একখান দেশ ভেঙে এখন চারটে হয়ে গেলো, তাতেও লড়ালড়ি, আফ্রিকার দেশ গুলো আর কি বলবো, এদিকে ইন্দোনেশিয়া ভেঙে ইস্ট টিমোর বেরিয়ে গেলো , তাতেও মারামারি। কানাডা র ইতিহাস টা একটু খুঁজে দেখতে পারেন, প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় কি রকম টার্বুলেন্ট ছিল। এই সব আর কি। USA এ যদ্দুর মনে পড়ছে ১৮ শতকে ক্যালিফর্নিয়া একবার কিসব রেসল্যুশন আনছিল, সেখানেও তাড়াতাড়ি সব ধামাচাপা পরে গেলো। কোথাও সেই ওপেন মডেল দেখতে পাইনা , কোথাও শান্তি নেই।

    এই সব বড়োলোক দেশ সব ছড়িয়ে ফেলছে , আর এদিকে আশা করা হচ্ছে, দাঙ্গার মধ্যে নাকি ইন্ডিয়া পাকিস্তান ওপেন যুক্তরাষ্ট্র মডেল তৈরী করবে।

    ঈশেন বাবু অবশ্য একটা দিকে লজিক্যালি ঠিক। উনি সোভিয়েত দেশের কথা বলেছেন শুধু, ওটাকে ভালো খারাপ বা ফলো করার কথা কিছু বলেন নি । কেন বললেন বা এই টইতে তার রেলেভ্যান্সি কোথায় তা অবশ্য জানা নেই।

    আর কল্লোল দা, স্তালিন এর রাশিয়ার মডেল নিয়ে প্লিজ আর হাসাবেন না। খাতায় কলমে যাই থাক , আসলে কি কি হয়েছিল সেটা তো সবাই ভালোই জানেন। আর কষ্ট করে নাই বা লিখলাম। :) :)
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2 | 3
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত