• হরিদাস পাল  ব্লগ

    Share
  • বিজেপি নির্বাচনে হারলেও অ-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূলোচ্ছেদ হবে কি ?

    Debasis Bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৭ মে ২০১৯ | ৩৩১ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • সে ছিল এক দিন আমাদের যৌবনে কলকাতা, যখন, শিক্ষিত ভদ্রজনের এক বড় অংশের মনের ভেতরে লুকোনো সাম্প্রদায়িকতা পোষা থাকত বটে, কিন্তু তাঁরা জানতেন যে সেটা খুব একটা গর্বের বস্তু নয় । সর্বসমক্ষে সে মনোভাব প্রকাশ করতে তাঁরা কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধ করতেন । ভাল জামাকাপড় পরা শিক্ষিত লোক, তার হাতে জ্যোতিষের আংটি, জামার হাতার তলায় লুকোনো মাদুলি, কথাবার্তার অসতর্ক মুহূর্তে বেরিয়ে পড়া সাম্প্রদায়িকতার ইঙ্গিত, এইসব দেখলেই তাকে নিয়ে আমরা খুব হাসাহাসি করতাম । ওই যে তখন সুমন ‘এমনি আর ওমনির গান’-এর এক পংক্তিতে লিখেছিলেন --- ‘এমনিতে যারা দিব্যি বলেন বাঙালি আর মুসলমান, অমনিতে তারা গম্ভীর মুখে সম্প্রীতি-মিছিলে হাঁটতে যান’ (অনেক পুরোনো স্মৃতি, বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিনা জানিনা) --- ওই লাইনটা তখন ভারি প্রিয় ছিল আমাদের ।

    কিন্তু, কে-ই বা আর জানত তখন, সময় হাঁটছে ভুল দিকে । কে-ই বা আর জানত, এর তিন দশক বাদে আমাদের বিস্মিত হয়ে দেখতে হবে, ধর্মীয় ঘৃণা আর হিংসা সর্বসমক্ষে উগরে দেওয়াটা যে আর লজ্জা-অস্বস্তির বস্তু হয়ে নেই শুধু তা নয়, এটা এখন দেশপ্রেমের মাপকাঠিও বটে । আপনি যদি দেশপ্রেমিক হন, তাহলে আজকে আপনি পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় সর্বসমক্ষে ভারতীয় সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ আইকনদের মূর্তি ভেঙ্গে খান খান করতে পারেন, স্রেফ আপনার ধর্মের লোক না হওয়ার জন্য কারুকে খুন বা মারধোর করতে পারেন, ক্ষতিকর প্রাণঘাতী মিথ্যে খবর চারিদিকে ছড়াতে পারেন, এবং সে সমস্ত কেউ পছন্দ না করলে তাকে পাকিস্তানে চলে যাবার পরামর্শও দিতে পারেন । আহা, করতে পারেনই বা কেন, করবেনই তো, সেটা দেশপ্রেমিক হিসেবে আপনার কর্তব্য, ভুল দিকে হাঁটা সময়ের দাবি ।

    কিম্বা, কে জানে, সময় হয়ত আসলে কোনও ভুল করেনি । ওই যে একটু আগে বললাম, ‘সময় হাঁটছে ভুল দিকে’, সেটা ঠিক বলিনি বোধহয় । বিজ্ঞানীরা বলেন, সময় বেচারা নাকি মাত্র একটা দিকেই হাঁটতে জানে । মনে পড়ে, প্রায় ওই সময়েই, অর্থাৎ তিন দশক আগে, কাটোয়া অঞ্চলের অজ গ্রামে যুক্তিবাদী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, বিস্তীর্ণ ফাঁকা ক্ষেতজমির মাঝে বাঁশের খুঁটিতে লাগানো মস্ত হোর্ডিং । তাতে স্থানীয় গ্রামের নাম দিয়ে বড় বড় করে লেখা, “অমুক কীর্তন সঙ্ঘ”, আর তার নিচে আরেকটু ছোট অক্ষরে ব্র্যাকেট দিয়ে ইংরিজিতে লেখা, “অ্যাফিলিয়েটেড টু আর এস এস” ! না, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামক দলটির জন্ম তখনও ভবিষ্যতের গর্ভে, আর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির পরিসরে বিজেপি-কে তখন শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যেত না । ওই কীর্তন সঙ্ঘের হোতা ও পৃষ্ঠপোষকরা নিশ্চয়ই গ্রামেরও মাথা ছিলেন । তাঁরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়াতেন কিনা, বা দাঁড়ালে কোন দলের হয়ে দাঁড়াতেন, সে খোঁজ আর নেওয়া হয়ে ওঠেনি তখন ।

    তবে, সে খোঁজ নেওয়া না হলেও, আরও কিছু খোঁজখবর হয়ত আমরা অনেকেই রাখি । যেমন, আমরা সকলেই জানি, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাকে ধর্ম থেকে আলাদা করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আসলে আমাদের দেশে বিদ্যালয়-শিক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলো, আর সেখানে সরকারি শিক্ষা-ব্যবস্থার হাল ক্রমশ খারাপ হচ্ছে । এইসব ধর্মীয় প্রভাবাধীন বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক পাঠক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেবার (কিম্বা না দেবার) সাথে সাথে প্রাচীনপন্থী রক্ষণশীল ধর্ম-সম্পৃক্ত মূল্যবোধের শিক্ষাও দেওয়া হয় অতি সুচারুভাবে । এবং ফলত, এইসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠ নিয়ে আসা ছাত্রেরা, যারা অনেকেই মেধাবী ও পরবর্তী জীবনে সফল, তাদের মনে ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের বীজ আর কোনওদিনই উপ্ত হয় না । অথচ এরাই একদিন এই কাগজে-কলমে ধর্মনিরপেক্ষ দেশটার রাজনীতি-প্রশাসন-শিক্ষা-চিকিৎসা-বিচারব্যবস্থা-গবেষণার সমগ্র পরিসরের এক বৃহদংশ দখল করে বসে, এবং ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে ছাইচাপা দিয়ে এক উন্নত আধুনিক দেশ হিসেবে আমাদের গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে প্রতিমুহূর্তে অঙ্কুরে বিনাশ করতে থাকে ।

    তা, ধর্মের মাথারা তো সেক্যুলার রাষ্ট্র ও সমাজে থাবা বসাতে চাইবেই । সে নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই, দুঃখটা বরং অন্য জায়গায় । আসল প্রশ্নটা হল, সেক্যুলার-রা কী করেছেন শিক্ষা-ব্যবস্থায় ধর্ম-নিরপেক্ষ মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ? এমন একটিও প্রতিষ্ঠান তাঁরা তৈরি করতে পেরেছেন কি, যেখানে শিক্ষার মান হবে অত্যন্ত উঁচু, এবং সেই সঙ্গে ছোটবেলা থেকে গড়ে তোলা হবে অনুসন্ধিৎসু যুক্তিবাদী কুসংস্কারমুক্ত মনটাও, পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে বিজ্ঞান ও মানবতার মূল নীতিগুলোর সঙ্গে, বোঝানো হবে মানুষে মানুষে ভেদবুদ্ধির অসারতা ?

    হ্যাঁ, এটা করা কঠিন বটে, মঠ-মিশন বানানোর তুলনায় অনেকই কঠিন । নতমস্তক ধার্মিক বানানোর কারখানা তৈরির জন্য ধনীরা যতটা হাত খুলে পয়সা দেবে, চোখের ওপর চোখ রেখে কথা বলা মানুষ বানানোর জন্য অবশ্যই ততটা দেবে না । এমন কি, যে শিশুরা সেখানে পড়বে, তাদের অভিভাবকরাও হয়ত এমন একটা ভবিষ্যৎকে শিশুর পক্ষে খুব বেশি লোভনীয় বলে মনে করবেন না । কিন্তু তবু, সেসব কথা মেনে নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়, ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মত করে না হয় না-ই পারলেন, কিন্তু আমাদের দেশের বাম-সেক্যুলাররা মিলে এ রকম একটিও আদর্শস্থানীয় দৃষ্টান্ত বানাতে পারলেন না ? এ রকম একটি দৃষ্টান্ত যদি সফল হয়, সেখান থেকে শিক্ষিত হয়ে শিশুরা যদি সমাজে সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তাহলে তার অভিঘাত হবে সুদুরপ্রসারী । কিন্তু হায়, বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোর মত ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী মধ্যযুগীয় প্রথার বিরোধিতাটুকু পর্যন্ত করতে যারা ভয়ে কাঁপে, সেই পঙ্গুরা আর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা-ব্যবস্থা নির্মাণের আকাশছোঁয়া পাহাড়টি কীভাবেই বা লঙ্ঘাবে !

    আচ্ছা, বাদ দিন এত সব বড় বড় পরিকল্পনার কথা । জাতীয় রাজনীতির দুই দশক আগের এক ছোট্ট ঘটনার কথাই না হয় স্মরণ করুন । নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে প্রথম এন ডি এ সরকার যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে, তখন শিক্ষামন্ত্রী হলেন মুরলী মনোহর যোশী --- সেই অসাধারণ ভদ্রলোক, যিনি গর্ভবতী মহিলাদের এই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, নাক দিয়ে বটপাতার রস টানলে পুত্রসন্তান লাভ করা যাবে । তো, তাঁরই উদ্যোগে এক সরকারি সার্কুলার জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়-অনুমোদিত পাঠ্যসূচির মধ্যে জ্যোতিষশাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । দেশ তথা সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের প্রতিবাদে তারা বিষয়টিকে বাস্তবে চালু করার ব্যাপারে বিশেষ এগোতে পারেনি, কিন্তু আবার, সেই কুখ্যাত সার্কুলার-টি প্রত্যাহারও করেনি । পরবর্তীকালে তাদের সরিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বে যখন ইউ পি এ সরকার দিল্লির মসনদে অধিষ্ঠিত হয়, এবং অর্জুন সিং তার মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী নিযুক্ত হন, তখন তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবেই ঘোষণা করেন যে, সেই কুখ্যাত সার্কুলার-টি তাঁরা আদৌ প্রত্যাহার করবেন না । বামপন্থীরা তাঁকে সে ব্যাপারে যথেষ্ট চাপ দিয়েছিলেন এমন কোনও ইঙ্গিত সংবাদ-মাধ্যম থেকে পাওয়া যায়নি, এবং, সে সার্কুলার আজও চালুই আছে । অল্প কয়েক বছর আগে এক জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী সমিতি প্রতারণার অভিযোগ আনলে সেই জ্যোতিষী আদালতে ওই সার্কুলারটি হাজির করে জ্যোতিষকে এক সরকার-স্বীকৃত বৈধ পেশাদারি শিক্ষা বলে দাবি করে, এবং বিচারক মহোদয় তাকে বেমালুম খালাস করে দেন । লক্ষ করুন, এক্ষেত্রে বিজেপি অপসারিত হওয়া সত্ত্বেও, বেচারা শিক্ষা কিন্তু বিজ্ঞান-বিরোধী ধর্মীয়করণের হাত থেকে মোটেই বাঁচল না ।

    এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে বৃন্দা কারাতের কথাও, যিনি বাবা রামদেবের ধর্মগন্ধী ভুয়ো ওষুধের ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রায় একক প্রচেষ্টায় কিছু প্রতিবাদ করলেও শেষে ব্যর্থ হয়েছিলেন । তাঁর নিজের দল প্রথম দিকে সমর্থন জোগালেও, দিল্লিতে সদর দপ্তর হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হলে তাদের সমস্ত প্রতিরোধ শেষ হয়ে যায় ।

    সময় তবে পিছু হাঁটেনি, পুরো সোজাসুজিই হাঁটছে, তাই না ?

    সংক্ষেপে, এই হল আমাদের দেশের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ গল্প । আমাদের বৃহৎ ও জটিল নির্বাচনী-ব্যবস্থার পাকেচক্রে নরেন্দ্র মোদি ও তার সঙ্গীসাথীদের দুঃস্বপ্নের রাজত্ব একদিন বিদায় হবে, আজ অথবা কাল । কিন্তু তারপরেও তো নেতা-মন্ত্রীরা নির্বাচনে জিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে মন্দিরে পুজো চড়াবেন, ইসরো-র কৃতী মহাকাশ-বিজ্ঞানী সফল রকেট উৎক্ষেপণের পর তিরুপতিতে ছুটবেন মানত রক্ষা করতে, ধর্মীয় অত্যাচার ও প্রতারণার ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ নিতে চাইবে না, আর ধর্ম-বাবাজির স্বপ্নাদেশের ওপর ভর করে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া নেমে যাবে গুপ্তধন-সন্ধানে ।

    অ-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূলোচ্ছেদটা তাহলে কারা করবেন, আর কবেই বা করবেন ?
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৭ মে ২০১৯ | ৩৩১ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
    Share
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Debasis Bhattacharya | 561212.187.4534.202 (*) | ১৯ মে ২০১৯ ০৭:৪৭48252
  • এলেবেলে,

    হ্যাঁ, আমার মতে বাস্তবিকই "সাংখ্য ও বেদান্তের প্রতিষেধক হিসাবে জন স্টুয়ার্ট মিলের Logic এবং ডেভিড হিউমের Treaties অব্যর্থ", এবং, "বিদ্যাসাগরের সময়েই 'সাংখ্য ও অন্যান্য ভারতীয় দর্শন মৃত, ভ্রান্ত' ছিল এবং Logic ও Treaties জীবিত ও অভ্রান্ত ছিল" ।

    এবং হ্যাঁ, মিল এবং হিউম আজও ভীষণভাবেই প্রাসঙ্গিক। মিল-এর লজিক এখনও আরোহী যুক্তি (ইন্ডাকটিভ লজিক) শেখার জন্য পড়ান হয়, স্রেফ যুক্তিশাস্ত্রের ইতিহাস হিসেবে নয়, আধুনিক যুক্তিশাস্ত্রের অঙ্গ হিসেবেই । বেকনীয় আরোহী পদ্ধতিকে মিল যেভাবে বিকশিত করেছিলেন, তা আজও 'সায়েন্টিফিক মেথড'-এর ভিত্তি । বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার পদ্ধতি এবং পরিসংখ্যানতত্ত্ব আজও এর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে ।

    ডেভিড হিউম তাঁর অন্যতম ক্লাসিক 'ডায়ালগ্‌স্‌ কনসার্নিং ন্যাচারাল রিলিজিয়ন'-এ ধর্মশাস্ত্রের যে বিধ্বংসী সমালোচনা করেছিলেন, আজও ধর্মের ধর্মনিরপেক্ষ সমালোচনার ইতিহাসে তা আদর্শস্থানীয় । তাঁর আরেক বিখ্যাত ক্লাসিক 'অ্যান এনকোয়ারি কনসার্নিং হিউম্যান আন্ডারস্ট্যান্ডিং'-এর শেষ অধ্যায় 'অন মির‍্যাক্‌ল্‌স্‌'-এ তিনি অলৌকিকতাকে যে নিখুঁত নির্মমতার সাথে খণ্ডন করেছিলেন, আধুনিক যুক্তিবাদী আজও চোখ বুজে তার ওপর নির্ভর করতে পারেন ।

    শুধু ধর্ম না, বেকনীয় আরোহীবাদের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বৈজ্ঞানিক দর্শনেরও ঘাম ছুটিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন । যে প্রশ্ন তিনি তুলেছিলেন, আজও তার পুরোপুরি সদুত্তর পাওয়া যায় নি । এই প্রশ্নকে এড়ানর জন্য কার্ল পপার আরোহীবাদকেই বাতিল করে 'ফলসিফিকেশন থিওরি' বলে এক নতুন বিজ্ঞান-দর্শন গড়তে চাইলেন, কিন্তু তাতেও গণ্ডগোল মেটেনি । কাজেই, দর্শন-চর্চায় হিউম আজও এক মাইলস্টোন ।

    মনুস্মৃতি এক ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর বস্তু, তবে মূলত দর্শনগ্রন্থ নয়, ধর্ম-বিষয়ক করণীয়-অকরণীয়ের নির্দেশাত্মক গ্রন্থ । এ নিয়ে এখানে বোধহয় কথা না বললেও চলে ।
  • sm | 2345.110.783412.249 (*) | ১৯ মে ২০১৯ ০৮:৩২48244
  • যে ব্রহ্ম এর স্বরূপ জানে,সেই ব্রাহ্মন।শাস্ত্র অনুযায়ী জন্মসূত্রে ব্রাহ্মন নাও হতে পারে।
    দুই,ধর্ম ,সমাজের কিছু অনুশাসন মাত্র।এই অনুশাসন গুলো মরালিটির ওপর ভিত্তি করেই রচিত।কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এর নানা ব্যাখ্যা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে।
    ধরাযাক, বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে অহিংসা পরম ধর্ম।
    হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে ও তাই।জীবে হিংসা না করা বা আত্মহত্যা না করার কথা বলা আছে।
    আবার,ধর্মের আর একটা দিক হলো স্যাক্রিফাইস।বা,ঈশ্বরের প্রতি আত্ম সমর্পন।
    এখন এই দুটি মত কখনো পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে বসে।
    কেউ স্যাক্রিফাইস এর উদ্দেশ্যে চাল কলা দেয়,কেউ অর্থ,কেউ নিজের গবাদি পশু (যেমন ছাগল/মোষ),কেউ বা নিজের প্রাণ (প্রয়োপবেশন)পর্যন্ত।এগুলো পরস্পর বিরোধী।
    এই জন্যই বহু শতক হিন্দু ধর্মে সতীদাহ প্রথা, কঠিন বৈধব্য প্রথা চালু ছিল।আবার দেখুন,বিদ্যাসাগর,রামমোহন এরা শাস্ত্রীয় যুক্তি উপাস্থাপনা করেই এইসব কু প্রথা বিলোপ করে দিয়েছেন।এভাবেই সমাজ সংস্কারকরা কাজ করে থাকেন।
    সুতরাং সব ধর্মের মূল কাঠামোতেই কিছু সার্বজনীন নৈতিকতা আছে।
    যেমন অহিংসা, আত্ম সমর্পন,সদ আচরণ,জীবে দয়া, পাপ কার্য না করা,সত্যকথা বলা ইত্যাদি প্রভৃতি।এসব জিনিষ পালন করলে তো সমাজ বর্তে যাবে।
    উল্টো দিকে আছে ধর্ম বিবর্জিত আইনের শাসন।আইনের শাসন এর মূল কাঠামোতেও আছে কিছু নৈতিকতা।যা কিনা ধর্ম থেকেই ধার করা।
    কিন্তু মজা হলো আইন আর মরালিটি সর্বদা হাত ধরে ধরি করে চলে না।প্রচুর উদাহরণ দেওয়া যায়।
    আপাতত এটুকুই।
  • Mridha | 3478.71.455612.186 (*) | ১৯ মে ২০১৯ ০৯:৫৮48253
  • আজ ভারতীয় রাজনীতি এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে। এইখান থেকে সেটা কোন দিকে অগ্রসর হবে তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ আজকের মত দিকবিদিক শূন্য আগে কখনো হয় নি. স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের শিক্ষিত মানসিকতা এক সরল সেকুলার মানসিকতা অবলম্বন করেই চলেছে , তার মধ্যেই দেশের দিশা খুঁজে পেয়েছে আর নিজেরও ইন্টেলেক্চুয়াল স্যাটিসফেকশন খুঁজেছে। সেইখান থেকেই যে কোন সংকীর্ণ আদর্শ কে আঘাত হেনেছে। এই মানসিকতার একটা অবস্থান হল , আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ঈশ্বর মানি বা নাই মানি যে যেই ঈশ্বর ই মানুক আমি সবাইকে সমান চোখেই দেখবো। এই অবস্থান যে কোন ধর্মের শিক্ষিত মানুষকেই একটা আদর্শগত কমফোর্ট জোন দিয়েছে। আর রাজনীতির public face টা এটাই রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির ব্যবহারিক দিক কোন দিনই এইটা ছিল না , সেই সত্য টাকে অস্বীকার করেই এত দিন রাজনীতি হয়ে এসেছে ভারতে। অতি বাম ,অতি ডান এর মত এই সিউডো সেকুলারশিম ও আঁকড়ে থাকার জিনিস নয়। আমার আশা আমার দেশ এর বাইরে গিয়েও ধ্রুবতারা হীন হবে না।

    I am proud to belong to a religion which has taught the world both tolerance and universal acceptance. We believe not only in universal toleration, but we accept all religions as true. I am proud to belong to a nation which has sheltered the persecuted and the refugees of all religions and all nations of the earth. I am proud to tell you that we have gathered in our bosom the purest remnant of the Israelites, who came to Southern India and took refuge with us in the very year in which their holy temple was shattered to pieces by Roman tyranny. I am proud to belong to the religion which has sheltered and is still fostering the remnant of the grand Zoroastrian nation. I will quote to you, brethren, a few lines from a hymn which I remember to have repeated from my earliest boyhood, which is every day repeated by millions of human beings: "As the different streams having their sources in different paths which men take through different tendencies, various though they appear, crooked or straight, all lead to Thee."
  • ) | 457812.254.892312.25 (*) | ১৯ মে ২০১৯ ১০:১৬48254
  • যদিও ১২৫ বছর ধরেই বিখ্যাত, এমন একটি বক্তৃতার অংশ, তবু উদ্ধৃতি চিহ্ন দেওয়া যথাযথ হত।
  • Mridha | 3478.71.455612.186 (*) | ১৯ মে ২০১৯ ১০:২৫48255
  • তাড়াতাড়ি copy পেস্ট করতে গিয়ে ভুল হয়ে গেছে , তবে যারা জানে না নাম দিলেও , কথা গুলোর ঔজ্বল্যের পার্থক্য কিছু হবে বলে মনে হয় না।
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.115 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৫:২১48265
  • এ বিষয়ে যা যা বলার মোটামুটি বলে ফেলেছি, এর পর আরও বলতে থাকলে সম্ভবত পুনরাবৃত্তি ঘটবে, এবং সেইহেতু সবার বিরক্তি উৎপাদনও ঘটবে । কাজেই, দুয়েকটি শেষ কথা বলে বিদায় নেওয়াই ভাল । অবশ্য, অন্যরা কথা চালিয়ে যেতেই পারেন ।
  • কল্লোল | 127812.79.5689.107 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৫:৩০48256
  • দেবাশিস। এটা আপনি কি বললেন? "ধর্ম একটা হাতুড়ি বা কাঁচের গ্লাস নয়, যে তার 'খারাপ' বা 'ভাল' ব্যবহার করার প্রশ্ন উঠবে"।
    তাহলে কি শিক্ষা/সংস্কৃতি - এগুলো হাতুড়ি বা কাঁচের গ্লাস? এগুলোর অপব্যবহার তো হয়েই থাকে।
    শিক্ষা সংস্কৃতির মতো ধর্মও একটা সামজিক বিষয়। এর উচ্ছেদ হবে না। ধীরে ধীরে সমাজ পরিবর্তনের সাথে ধর্ম প্রাসঙ্গিকতা হারাবে। খুব গোদা ভাবে বললে রাষ্ট্র (যা আদতে নিপীড়নের যন্ত্র) থাকলে ধর্মও থকবে। কারন - Religious suffering is, at one and the same time, the expression of real suffering and a protest against real suffering. Religion is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of
    soulless conditions. It is the opium of the people.সূত্র - Introduction to A Contribution to the Critique of Hegel's Philosophy of Right by Karl Marx
    রাষ্ট্রের মতো নিপীড়নের যন্ত্রের প্রয়োজন ফুরালে, অর্থাৎ মানুষের ওপর নিপীড়ন বন্ধ হলেই ধর্মের প্রয়োজন ফুরাবে। তার আগে নয়।
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.115 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৫:৪৪48266
  • কল্লোল,

    চুরি-ডাকাতি-খুন-জখম-ধর্ষণ-যুদ্ধ-প্রতারণা-দারিদ্র্য ইত্যাদির মত ধর্মও একটি 'সোশ্যাল ইভিল', তার 'সদ্ব্যবহার' বলে কিছু হয় না, তার বিলুপ্তির জন্য লড়তে হয় । সেটা ধীরে ধীরে হবে কি হুহু করে হবে, সেটা আমার আলোচ্য বিষয় ছিল না । এ বিলুপ্তির জন্য জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি অবশ্যই অতি প্রয়োজনীয়, কিন্তু রাষ্ট্রের বিলুপ্তির কোনও প্রয়োজন নেই, বরং রাষ্ট্র এ অবলুপ্তিতে জরুরি ভূমিকা নিতে পারে । চিন এ কাজ সফলভাবেই করছে ।

    আর্থিক সমৃদ্ধি যেমন এ ক্ষেত্রে একটি নির্ধারক বিষয়, তেমনি মতাদর্শগত ঐতিহ্যও অতি গুরুত্বপূর্ণ, তা না হলে ভিয়েতনামের মত গরিব দেশে ধর্মমুক্তি এত বেশি করে হতে পারত না ।

    মার্ক্সের যে অতি-পরিচিতি উদ্ধৃতিটি হাজির করেছেন, সেটি যে রচনার অংশ তার প্রথম বাক্যটি লক্ষ করেছেন কি ? যদি না করে থাকেন তো বলি, মার্ক্স ওই লেখাটি শুরু করেছিলেন এই কথা বলে যে, বাস্তব পৃথিবীর সমালোচনা শুরু হয় ধর্মের সমালোচনা দিয়ে । যদি মার্ক্স আদৌ মানেন, তো এইটাও আপনাকে মানতে হবে যে, আপনি যদি ধর্মের সমালোচনা না করে থাকেন, তো আপনি বাস্তব পৃথিবীর সমালোচনা শুরুই করেন নি ।
  • Debasis Bhattacharya | 5645.64.012323.115 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৬:১১48267
  • এলেবেলে,

    আরোহী পদ্ধতিকে মান্যতা দেওয়া এবং বিজ্ঞান ইতিমধ্যে যা জেনেছে তাকে স্বীকার করে চলতে পারাটা দর্শনের অভ্রান্ততা ও জীবিত থাকার পক্ষে আবশ্যিক, কিন্তু যথেষ্ট নয় । তার অভিমুখ ও উদ্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ । চার্বাক দর্শনের সবকটি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা বড়জোর থ্যালেস-এপিকিউরাস-ডিমোক্রিটাস জাতীয় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের চিন্তাধারার সমগোত্রীয় হতে পারে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক দর্শনের সমগোত্রীয় হতে পারবে না । পঞ্চভূতের তত্ত্ব দিয়ে তো আধুনিক বৈজ্ঞানিক ডিসকোর্সের ভেতরে ঢোকা সম্ভব না !

    পাশ্চাত্ত্য দর্শনের এক বিরাট অংশই যুক্তিবিরোধী এবং বিজ্ঞানবিরোধী, এবং সেইহেতু বৈজ্ঞানিক/যুক্তিবাদী দর্শন পদবাচ্য নয় । যেমন, বিশপ বার্কলি-র দর্শন যে যুক্তিবিরোধী, সেটা বিদ্যাসাগর তখনই বুঝেছিলেন এবং তার বিরোধিতা করেছিলেন । তেমন দৃষ্টান্ত আজও আছে, এবং তার মধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালীও বটে ।
  • Amit | 340123.0.34.2 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৬:২১48257
  • কিন্তু কল্লোলদা,
    স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোতে ধর্মের প্রভাব এতো কম কেন ? ওখানে নাস্তিক দের সংখ্যা গত ১০-২০ বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, গুচ্ছের চার্চ বন্ধ হয়েছে জাস্ট লোক না পেয়ে। কিন্তু সবকটি HDI মেট্রিক্স এ ওই দেশ গুলো টপ দশের মধ্যে থাকে। তাহলে রাষ্ট্র থাকলেই ধর্ম থাকবে যুক্তিটা খাটছে কি করে ?
  • কল্লোল | 127812.79.5689.107 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৬:৫৯48259
  • অমিত।
    প্রশ্নটা সহজ - উত্তরও তো জানা।
    একমাত্র স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ গুলোতেই রাষ্ট্রের অন্যরকম রূপ দেখা গেছে। কল্যানমূলক রাষ্ট্রের ঠিকঠাক প্রকাশ এই দেশগুলোতে হতে পেরেছে। জনসংখ্যার স্বল্পতা, তুলনায় রিসোর্স বেশী। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষে সহজে সামলানো যায় এমন অবস্থা।
    রাষ্ট্রের চাপ কমলেই ধর্মের প্রয়োজন কমবে। এই দেশগুলোতে তাইই হয়েছে। তার মানে এই নয় যে ওখানে ক্রিসমাস বা গুড ফ্রাইডেও পালিত হয় না।
  • sm | 2345.110.014512.172 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৭:০২48261
  • এই লিংকটা পড়া যেতে পারে।বেশ কিছু উত্তর মিলবে।
  • | 453412.159.896712.72 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৭:০৫48262
  • মানুষ যত সভ্য হবে ততই ধর্মের প্রয়োজন ফুরাবে। এই তো ব্যপার।
    তা অসভ্যের মতন ঠকিয়ে গুন্ডামি করে,, আইন শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যতদিন ভারতে চলবে, ততদিন ভারতে ধর্মের উপস্থিতি থাকবে, সে যেই আসুক।
  • এলেবেলে | 230123.142.67900.95 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৭:৫১48263
  • দেবাসিস্‌বাবু, আবারও বলি বড্ড ভালো লিখেছেন। আসলে সাংখ্য নিয়ে কথাটা উঠেছিল কল্লোলবাবুর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে বিদ্যাসাগর এসেছিলেন এই যা। তাহলে কি আমরা ধরে নিতে পারি এই ভাবে --- যে দর্শন আরোহী পদ্ধতিকে মান্যতা দেয় এবং বিজ্ঞান ইতিমধ্যে যা জেনেছে তাকে স্বীকার করে চলতে পারে তাই অভ্রান্ত ও জীবিত দর্শন। ঠিক বললাম? এই প্রসঙ্গে আরও দু'টো প্রশ্ন রেখে গেলাম যার উত্তর আপনি বা যে কেউ দিতে পারেন।

    ১. চার্বাক দর্শন কি সেই মাপকাঠির আওতাভুক্ত হতে পারে?
    ২. পাশ্চাত্য দর্শনের কোনগুলি এই মাপকাঠির অন্তর্ভুক্ত নয়?

    কল্লোলবাবুর সঙ্গে একশো শতাংশ সহমত 'খুব গোদা ভাবে বললে রাষ্ট্র (যা আদতে নিপীড়নের যন্ত্র) থাকলে ধর্মও থকবে।' অ্যান্টি-ড্যুরিং তাই বলে বোধহয়।
  • Atoz | 125612.141.5689.8 (*) | ২০ মে ২০১৯ ০৭:৫৯48264
  • কিন্তু কন্ট্রোলের যেকোনো মেকানিজম চালু থাকলেই সেটা হরেদরে ধর্মের ইকুইভ্যালেন্টই হয়ে দাঁড়ায় না কি?
  • দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য | 561212.187.4534.28 (*) | ২১ মে ২০১৯ ০২:১০48270
  • কল্লোল,

    আমিও আর তর্কে যাব না, বলেই দিয়েছি । শুধু একটা কথা বলি । "The abolition of religion as the illusory happiness of the people is the demand for their real happiness" --- এর অর্থ সম্ভবত, "ধর্মের অলীক সুখকে নিকেশ করাটাই হচ্ছে বাস্তবে সুখলাভ করার দাবি ।" অর্থাৎ, ধর্মের "illusory happiness" নিকেশ না করতে না পারলে "real happiness"-এর দাবিটাই উঠবে না ।

    আরও বলে রাখি, মার্ক্স কোনও কিছু বলেছিলেন কি বলেন নি সেটা আসলে ঠিক-ভুলের যত্থার্থ মাপকাঠি বলে মনে করিনা ।
  • Du | 7845.184.4556.246 (*) | ২১ মে ২০১৯ ০২:২৪48268
  • অ ধর্মনিরপেক্ষ না লিখে সাম্প্রদায়িক লিখুন।
  • কল্লোল | 232312.163.340112.180 (*) | ২১ মে ২০১৯ ০৫:১৩48269
  • দেবাশিস।
    Introduction to A Contribution to the Critique of Hegel's Philosophy
    of Rightএর প্রথম বাক্যটি এরকম - For Germany, the criticism of religion has been essentially completed, and the criticism of religion is the prerequisite of all criticism.
    প্রথমতঃ ধর্মের ক্রিটিক হবে না একথা আমি কদাপি বলিনি।
    দ্বিতীয়তঃ মার্ক্স আবার লিখছেন The abolition of religion as the illusory happiness of the people is the demand for their real happiness.
    সুতরাং ঐ real happiness না পাওয়া পর্যন্ত illusory happiness থেকেই যাবে। আর বিজেপির পরাজয়ের সাথে মানুষের real happiness পাওয়ার কোন সম্পোক্কো নাই।
    ঐ <real happiness পেতে গেলে রাষ্ট্রের অবলুপ্তির প্রয়োজন - এটা আমার মত।
    আপনি লিখেছেন -"চুরি-ডাকাতি-খুন-জখম-ধর্ষণ-যুদ্ধ-প্রতারণা-দারিদ্র্য ইত্যাদির মত ধর্মও একটি 'সোশ্যাল ইভিল', তার 'সদ্ব্যবহার' বলে কিছু হয় না"
    আমি এই মতে সায় দিতে পারলাম না।
    তবে বুঝতে পারছি - আপনার সাথে এটা নিয়ে তক্কো করে লাভ নাই।
    তাই, থামলাম।
  • রঞ্জন | 011212.227.016712.107 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৬:১৬48274
  • খানিকটা হল বৈকি।
    লেখাটি এবং সবার আলোচনা ভাল লেগেছে।
    অবৈজ্ঞানিক মানসিকতা তৈরি করতে বিজেপি উঠেপড়ে লেগেছে। এই জাতীয় লেখা ও বিতর্ক দরকার।
    আমি দিল্লিতে থাকি। আর এস এস নিয়ে পড়াশুনো শুরু করেছি মাত্র।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৬:৩৫48275
  • কুসংস্কার ছড়ানোর মুল উদ্দেশ্য হলো অসহায় লোকেদের উপরে ছড়ি ঘোরানো এবং তাদের জীবনের দখল নেওয়া।
  • % | 781212.194.010123.158 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৭:০১48276
  • দেবাশিসবাবু,
    ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনে, জাতিদ্বেষ নিশ্চিহ্নকরণের লক্ষ্যে, ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্তির লক্ষ্যে আপনাদের কর্মসুচী সম্পর্কে জানতে চাই। আর কীভাবে কী কী করলে এই কাজে আও বেশি সাফল্য আসবে বা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো যাবে বলে ভাবছেন? রাজ্যে এবং দেশে। এক বা একাধিক ধর্মগন্ধহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ধরে নিলাম শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান-চেইন ) স্থাপনের প্রস্তাব আপনি এই লেখাতেই করেছেন। এর বাইরে জানতে চাইছি।
  • রঞ্জন | 238912.68.8934.122 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৯:২৭48271
  • আমি কি দেবাশিস বাবুকে ঠিক চিনেছি? উনি কি কল্লোলের পুরনো বন্ধু সেই দেবাশিস? তাহলে দুই বন্ধুর বৈচারিক মতভেদ একটা পর্যায়ে গিয়ে ' লেট আস এগ্রি টু ডিসএগ্রি' বলে শেষ হওয়ার মত বিরল ঘটনা বেশ ভাল লাগল।
  • Debasis Bhattacharya | 781212.194.3489.185 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৯:৫৭48272
  • না, কল্লোলের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই । দুয়েকজন কল্লোলকে আমি চিনি বা চিনতাম, কিন্তু ইনি তাদের মধ্যে কেউ কিনা, সে ব্যাপারে আমার কোনও ধারণা নেই ।
  • Debasis Bhattacharya | 781212.194.3489.185 (*) | ২২ মে ২০১৯ ০৯:৫৮48273
  • আমি যুক্তিবাদী সমিতির দেবাশিস্‌, কুসংস্কার-বিরোধী আন্দোলনের কর্মী । এতে আপনার পক্ষে আমাকে চেনার ব্যাপারে খুব সুবিধে হল কিনা, জানিনা ।
  • Debasis Bhattacharya | 781212.194.3434.53 (*) | ২৩ মে ২০১৯ ০৮:৪১48277
  • রঞ্জন,

    এই জাতীয় লেখা ও বিতর্ক দরকারি বলে মনে করার জন্য ধন্যবাদ । বিজেপি যা করতে উঠেপড়ে লেগেছে, তার একটা পোক্ত ভিত্তি আগে থেকেই ছিল, ফলে আমাদেরকে অনেক গোড়া থেকে শুরু করতে হবে, এটাই এখানে আমার বক্তব্য ছিল । বিতর্ক যা হয়েছে তা এনজয় করেছি । কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপ ও প্রয়োজনীয়তাটাই যে এদেশের আলোকপ্রাপ্তদের একটা বড় অংশ এখনও সেভাবে উপলব্ধি করে উঠতে পারেননি --- সেটা এ ধরনের বিতর্ক থেকে বোঝা যায় । তেতো বাস্তবতা এটাই ।

    আপনি যে চর্চা করছেন, তার ফলাফল জানার আগ্রহ রইল । কোথাও কিছু লিখলে জানাবেন প্লিজ ।
  • কল্লোল | 232312.163.340112.180 (*) | ২৩ মে ২০১৯ ০৯:০০48278
  • বিজেপি কি আগের চেয়েও ভলো ফল করবে?
    যদি করে, কেন?
  • Debasis Bhattacharya | 781212.194.3434.53 (*) | ২৩ মে ২০১৯ ১০:৫৯48279
  • শতকরা (%),

    আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ ।

    যুক্তিবাদী সমিতি হচ্ছে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদ প্রচারকারী একটি সংগঠন, খানিক সাফল্য ও বিগত প্রায় তিন দশকের পরিচিতি সত্ত্বেও, যার বিত্ত ও ক্ষমতা কোনও রাজনৈতিক দল বা সরকারের তুলনায় অতি অকিঞ্চিৎকর । আমরা কুসংস্কারবিরোধী অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী করি, বাবাজি-মাতাজি-জ্যোতিষী-তান্ত্রিকদেরকে তাদের অলৌকিক ক্ষমতা প্রমাণের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করি, বিভিন্ন মাধ্যমে যুক্তিবাদী প্রকাশনা লেখালিখি এইসব করি (যেমনটি এখানে লিখলাম), আদর্শবাদী চিকিৎসকদের সাথে মিলে গণস্বাস্থ্য ও যুক্তিসম্মত চিকিৎসার আন্দোলন করি, কুসংস্কারপীড়িত/অসহায় মানুষকে সাহায্য করারও যৎসামান্য চেষ্টা করে থাকি । এসবের মধ্য দিয়ে আমরা ব্যক্তি-সমাজ-প্রশাসনকে নানা স্তরে প্রভাবিত করতে চাই, জনমত গড়তে চাই, 'প্রেশার গ্রুপ' হিসেবে আমাদের ভূমিকা পালন করতে চাই ।

    তবে কী জানেন, এক অর্থে এ সবই হচ্ছে মূলত প্রচারমূলক কর্মসূচী । প্রচারমূলক কর্মসূচী দিয়ে আমরা হয়ত সবার সামনে বলতে পারি আমরা কী চাই বা কী চাই না, কিন্তু সেইটা বলে উঠতে পারলেই যে যা চাই সেটা আপনা থেকে হয়ে যায়, এমন তো আর নয় । যা চাই সেটা হতে গেলে বাস্তব পরিকাঠামো বানাতে হয় । সত্যিকারের যুক্তিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বানাতে গেলে ঠিকঠাক পাঠ্যসূচী, প্রতিষ্ঠান, পাঠদান-পদ্ধতি এইসব বানাতে হবে, অল্প খরচায় বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা দিতে গেলে মেডিক্যাল কলেজ আর হাসপাতাল বানাতে হবে, ধর্মীয় অত্যাচার ও প্রতারণা বন্ধ করতে গেলে আইন ও বিচার-ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কার লাগবে । সেটা ভীষণই কঠিন, সময়সাপেক্ষ ও এমন কি অনিশ্চিত ব্যাপার ।

    আমাদের কর্মসূচী ক্রমশই বাড়ছে, মিডিয়া অ্যাক্সেস-ও বাড়ছে, ফলে মানুষের কাছে যে ক্রমশই বেশি বেশি পৌঁছচ্ছি তাতে সন্দেহ নেই । তাতে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও আরও কিছু বস্তুগত ফল হয়, যেমন, কোনও একটি গ্রামের স্থানীয় বিদ্যালয়ে হয়ত পড়াশোনার মান খানিক বাড়ল, বা স্থানীয় হাসপাতালে সাপে কামড়ের চিকিৎসার কিছুটা সুব্যবস্থা হল, স্থানীয় মানুষেরা ওঝা-গুণিনের কাছে দ্বারস্থ হল না । কিন্তু, বড় পরিকাঠামো গড়তে গেলে সংগঠনের বিপুল বিত্ত ও ক্ষমতা থাকতে হবে । সেটা ধর্মীয় সংগঠনের থাকে, আমাদের মত সংগঠনের থাকে না, সহজবোধ্য কারণেই । ফলত, প্রান্তিক কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত খাড়া করা, আর সরকারের কাছে ক্রমাগত দাবি করে যাওয়া, এ দুটো ছাড়া এই মুহূর্তে বাস্তব অপশন আমাদের হাতে খুবই কম ।

    আমাদের কর্মসূচী অনেকই আছে, কেন তা জরুরি তার ব্যাখ্যাও আছে, আপনি চাইলেই পেতে পারেন । উন্নত মানের শিক্ষা-প্রকাশনা-গবেষণার প্রতিষ্ঠান তৈরি, ধর্মের দ্বারা প্রতারিত ও অত্যাচারিতদেরকে চিকিৎসা ও আইনি সাহায্যের ব্যবস্থা, যুক্তিবাদী আইন ও পাঠ্যসূচী প্রণয়নের দাবি তোলা ও তা আদায় করা ।

    তবে, এ সব কতটা পারব, আর কবেই বা পারব, তা শুধু ভবিষ্যতই বলতে পারে । আমরা শুধু চেষ্টা করে যেতে পারি, বাকিটা তো আর আমাদের হাতে নয় । নিকট ভবিষ্যত হয়ত বা খুব সুখেরও নয় । দ্রুত ফলের আশা না করে নির্বিকার নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়াটা বোধহয় জরুরি ।
  • রঞ্জন | 238912.68.3423.138 (*) | ২৩ মে ২০১৯ ১১:৫৮48280
  • ্দেবাশিসবাবু,
    নিশ্চয়ই জানাবো।
    বুঝতে পেরেছি, আপনাদের প্রবীরবাবুর লেখা বই কয়েক দশক আগে কোলকাতা থেকে কিনেছিলাম।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত