বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা— এই যোজনায় আপনার কি পাওয়ার কথা? আপনি কি পাচ্ছেন?

    Punyabrata Goon লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ অক্টোবর ২০১৩ | ১২৭৬৯ বার পঠিত
  • ২০০৮-এর ১লা এপ্রিল দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষদের জন্য ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা বা RSBY নামে এক স্বাস্থ্যবিমা চালু করেছেন। অন্য স্বাস্থ্যবিমায় যার নামে বিমা তাকে প্রিমিয়াম দিতে হয়। এই বিমায় কিন্তু সরকার সেই ‘প্রিমিয়াম’ দিয়ে দেন, ও গরীব মানুষ বিনামূল্যে একটা নির্দিষ্ট মূল্যমান অবধি অনেক চিকিৎসা সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেই পেতে পারেন। কিন্তু গরীব মানুষ কি জানেন তাঁর কি পাওয়ার কথা? যা পাওয়ার কথা তা তিনি পাচ্ছেন কি?

    •রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা কাদের জন্য?
    এটা হল গরীব মানুষদের জন্য করা একটা স্বাস্থ্য বিমা। সাধারণত বিমা করলে যিনি বিমা করেন, অর্থাৎ বিমাকারীকে, কিছু টাকা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিমা কোম্পানিকে দিতে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় বিমাকারীকে বিমা কোম্পানিকে কোনও টাকা দিতে হয়না। সরকার সেই টাকাটা দিয়ে দেন। বিমাকারীকে একটা কার্ড করাতে হয়। একে বলে স্মার্ট কার্ড। এই কার্ডে তথ্য সঞ্চিত থাকে—কারা পরিবারের সদস্য, ওই বছরে কতটা টাকা চিকিৎসার জন্য পরিবার ব্যয় করেছে আর কতটা টাকা তাঁরা আরও ব্যয় করতে পারেন, ইত্যাদি সবই ওই স্মার্ট কার্ড থেকে উপযুক্ত যন্ত্র দ্বারা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
    •কিভাবে স্মার্ট কার্ড করাতে হয়?
    সরকার এই কার্ড করার জন্য বিভিন্ন গ্রামে শিবির করেন। দারিদ্র-সীমার নীচে থাকা সমস্ত পরিবারকে আগে থেকে করা তালিকার সাহায্যে চিন্হিত করা থাকে। তাঁদের সবাইকে পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে শিবিরে ডাকা হয়। সেখানে বিমাকারীকে পরিবার-পিছু এককালীন ত্রিশ টাকা দিয়ে কার্ড করাতে হয়। একটি কার্ডে এক পরিবারের পাঁচজন পর্যন্ত বিমার আওতায় আসতে পারেন। কোনও পরিবারে পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকলেও কিন্তু পাঁচজনের বেশি বিমার সুবিধা পাবেন না। কোন পাঁচজন পাবেন সেটা পরিবারের প্রধান ঠিক করে দেন।
    •একটা স্মার্ট কার্ডে ক’টা ফটো থাকে?
    একটিই ফটো থাকে পরিবারের প্রধানের। বাকিদের ফটো তোলা হয়, এবং সরকারি কমপিউটারে সেটি থাকে, যাতে প্রয়োজন হলে বা বিতর্ক হলে দেখা যায় যে অন্যদের সবাই সত্যিই পরিবারের সদস্য কিনা। ফটো ছাড়াও থাকে সবার আঙ্গুলের ছাপ – তারও কাজ ওই একই।
    •স্মার্ট কার্ড করার শিবির অনুষ্ঠিত হবার কতদিনের মধ্যে পরিবারটি স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ পেতে পারেন?
    আগে ফটো তোলার শিবির হবার পরে স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে কয়েক মাস লেগে যেত। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফটো তোলার দিনই ওই শিবির থেকেই স্মার্ট কার্ড হাতে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ পেতে তারপর কয়েকদিনের অপেক্ষা।
    •রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার স্বাস্থ্য বিমার সাহায্যে কী কী চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়?
    যেখানেই হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার দরকার সে সমস্ত ক্ষেত্রেই RSBY-এর স্বাস্থ্য বিমার সাহায্যে চিকিৎসার সুযোগ আছে। হাসপাতাল সরকারি হোক আর বেসরকারি, বা হোক নার্সিং হোম, সবক্ষেত্রেই একই সুযোগ। শুধু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমের ক্ষেত্রে তাদের নামটা রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার তালিকায় নথিভুক্ত থাকতে হবে। যেহেতু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমগুলো সরকার থেকেই পয়সা পেয়ে যায়, এবং সেই পয়সাটা খুব কম কিছু নয়, তাই আজকাল খুব বড় বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোম ছাড়া অধিকাংশ নার্সিং হোম বা বেসরকারি হাসপাতাল RSBY-এর তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করছে। ফলে বহু জায়গায় এই বিমার সুবিধা মিলছে।
    •যেসব ক্ষেত্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার দরকার হয় না সেক্ষেত্রে বিমাকারী কি খরচ পাবেন?
    বেশ কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন না হলেও বিমাকারী সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন। একে পরিভাষায় বলা হয় ‘ডে কেয়ার’। যেমন ধরুন ছানি কাটার অপারেশন করে ডাক্তারবাবু রোগীকে একদিন ভর্তি রাখতে না-ও পারেন। সকালে অপারেশন করে সন্ধ্যেয় ছেড়ে দিতে পারেন। তবু রোগী কিন্তু বিমার পুরো সুবিধা পাবেন। এরকম কতকগুলি বিশেষ ক্ষেত্র আছে—যেমন কিডনির রোগীর জন্য ডায়ালিসিস। এইসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের একটি তালিকা আছে। এর বাইরে অন্য চিকিৎসার জন্য যদি রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হন তো তাঁকে বিমার সুবিধা দেওয়া যাবে না, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে চিকিৎসা চালাতে হবে।
    •হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে আউটডোর চিকিৎসা অর্থাৎ ডাক্তারের ফি ও ওষুধের খরচ কি তাহলে এই বিমা থেকে পাওয়া যাবে না?
    সাধারণভাবে বলতে গেলে, না, পাওয়া যাবে না। কিন্তু সেখানেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই খরচ পাওয়া যেতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হবার আগে ভর্তি হবার জন্য কিছু পরীক্ষা করাতে হলে বা কিছু ওষুধ খেতে হলে হাসপাতাল সেই বিমাকারীকে সেসব বিনাপয়সায় করিয়ে দিতে পারে – কিন্তু প্রমাণ রাখতে হবে দেখাতে হবে যে তিনি যথাযথ ডাক্তারি পরামর্শক্রমে হাসপাতালে ভর্তি হবার আগের ধাপ হিসেবেই ওই পরীক্ষাগুলি করিয়েছিলেন, এবং পরে নিয়মমাফিক ভর্তিও হয়েছিলেন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় হাসপাতালটি রোগীকে বাড়িতে ব্যবহারের জন্য পাঁচদিনের ওষুধ ইত্যাদি দিয়ে দেবে – সেটার খরচও হাসপাতাল বিমার টাকা থেকেই পেয়ে যাবে।
    •‘প্যাকেজ চার্জ’ ব্যাপারটা কী?
    ‘প্যাকেজ চার্জ’ ব্যাপারটা হল এই যে কিছু বিশেষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে সব কিছু হাসপাতাল নিখরচায় করে দেবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভর্তি হবার আগের ওষুধ, অপারেশন, ভর্তি থাকাকালীন শয্যা, নার্সিং, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার, ও ছেড়ে দেবার পরে দরকারি ওষুধ ও ডাক্তারের কাছে ফলো-আপ – এই সব মিলিয়ে একটা থোক টাকা ধরা থাকে। পুরোটাই হাসপাতাল করে দেবে ও রোগীর কাছ থেকে এক পয়সা নেবে না – পরে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাছ থেকে পুরোটাই পেয়ে যাবে। ‘প্যাকেজ চার্জ’-এর লিস্টে নেই, কিন্তু প্যাকেজে আসতে পারে, এমন কিছু কিছু চিকিৎসাতেও হয়তো হাসপাতাল আগেভাগে অনুমতি নিয়ে রোগীকে ‘প্যাকেজ চার্জ’-এর সুবিধা দিতে পারে।
    •কোন কোন মেডিকাল রোগের ক্ষেত্রে ভর্তির সুবিধা পাওয়া যাবে?
    ব্যাক্টেরিয়াল মেনিঞ্জাইটিস, ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস-ঘটিত ব্রংকাইটিস, জল বসন্ত, ডেঙ্গু-জ্বর, ডিপথেরিয়া, আমাশা, মৃগী, ফাইলেরিয়াসিস, খাদ্য থেকে বিষ-ক্রিয়া, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, হাম, প্লেগ, নিউমোনিয়া, সেপ্টিসিমিয়া, সব ধরনের যক্ষ্মা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ভাইরাল জ্বর, মূত্র নালীর জীবাণু-সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের নীচের অংশের সংক্রমণ, ইত্যাদি যে সব রোগে ভর্তি থাকার দরকার হতে পারে, সে সব ক্ষেত্রে বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রতিদিনে সর্বোচ্চ মাত্র ৫০০টাকা খরচ বিমা কোম্পানি দেয়।
    •মেডিকাল রোগী কি কি পাবেন?
    জেনেরাল ওয়ার্ডে বেড ভাড়া, সব ধরনের ডাক্তারের ফি, রক্ত, অক্সিজেন, ওষুধ, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা, রোগীর খাবারের দাম ধরা থাকে মেডিকাল রোগীদের প্যাকেজে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির এক দিন আগে থেকে, হাসপাতাল থেকে ছুটির পাঁচ দিন পর অবধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ হাসপাতালের দেওয়ার কথা। কিন্তু বলা বাহুল্য দিনে ৫০০ টাকা এসবের জন্য একান্তই অপর্যাপ্ত।

    •মেডিকাল রোগী আইসিইউ-তে ভর্তি হলে কি পাবেন?

    জেনেরাল ওয়ার্ডের মত সব কিছুই পাবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দিনে ৭০০টাকা অবধি বিমা কোম্পানি দেবে।

    •সার্জিকাল রোগীর কি কি সুবিধা পাওয়ার কথা?

    অধিকাংশ অপারেশনের প্যাকেজ নির্দিষ্ট আছে। এই প্যাকেজে জেনেরাল ওয়ার্ডে বেড ভাড়া, নার্সিং-এর খরচ, শল্যচিকিৎসক, অজ্ঞান করার চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসকের ফি, অজ্ঞান করার গ্যাস ও ওষুধ, রক্ত, অক্সিজেন, ওটি ভাড়া, শল্যচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ওষুধ-পত্র, প্রস্থেসিস ও ইমপ্ল্যান্টের দাম, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা, রোগীর খাবারের দাম ধরা থাকে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির এক দিন আগে থেকে, হাসপাতাল থেকে ছুটির পাঁচ দিন পর অবধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ হাসপাতালের দেওয়ার কথা। সার্জিকাল প্যাকেজগুলোতে অর্থের পরিমাণ কিন্তু পর্যাপ্তই।

    কি অপারেশন?কত দিন ভর্তি থাকবেন?প্যাকেজে অর্থের পরিমাণ (টাকায়)
    ড্যাক্রাওসিস্টোরাইনোস্টমি (নেত্রনালীর অপারেশন)১ ৯০০০
    টনসিল অপারেশন (দুইদিকের)১৭০০০
    টনসিল অপারেশন (একদিকের)১৫৫০০
    অ্যাপেন্ডিসেক্টমি২৬০০০
    অ্যাপেন্ডিক্সের ফোঁড়ার পূঁজ বার করা ২৭০০০
    স্তন কর্তন৩১২,২৫০
    স্তনের টিঊমার কেটে বাদ দেওয়া (একদিকের)২৫০০০/৬২৫০
    পেট কেটে পিত্তথলি বাদ দেওয়া ৩১৩,২৫০
    মলদ্বারের ফিসার কেটে বাদ দেওয়া২৭০০০
    মলদ্বারের পাশে ফিসচুলা অপারেশন২৭৫০০
    এপিগ্যাস্ট্রিক হার্নিয়া ৩১০,০০০
    অপারেশন পরবর্তী ইনসিশনাল হার্নিয়া৩১২,২৫০
    আম্বিলিকাল হার্নিয়া ৩৮৪৫০
    ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া৩৭০০০
    একদিকের হাইড্রোসিল২৩৭৫০/৪০০০
    দুদিকের হাইড্রোসিল২৫০০০
    অর্শ ২৫০০০
    সিবেসিয়াস সিস্ট ভর্তি হবে না১২০০
    পেট কেটে জরায়ু কর্তন৫১০০০০/১২৫০০
    যোনি পথে জরায়ু কর্তন ৫১০০০০
    স্বাভাবিক প্রসব২২৫০০
    সিজারিয়ান সেকশন৩৪৫০০
    ল্যাপ অ্যাপেন্ডিসেক্টমি২১১০০০
    ল্যাপ কোলিসিস্টেক্টমি৩১০০০০
    ছানি (একচোখের)ভর্তি হবে না ৩৫০০
    ছানি (দুই চোখের) ভর্তি হবে না ৫০০০
    বাচ্চাদের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (একদিকের)৩৭০০০
    বাচ্চাদের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (দুইদিকের) ৩১০,০০০
    মূত্রনালীপথে প্রস্টেট-কর্তন৩১৪,২৫০
    পেট কেটে প্রস্টেট-কর্তন২১৫,৭৫০
    মূত্রনালীকে বাড়ানো (ইউরেথ্রাল ডায়লেটেশন)১২২৫০
    সব প্যাকেজের সাম্প্রতিক অর্থমূল্যের জন্য ওয়েবসাইট দেখুন।

    •হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে গিয়ে রোগী কার সঙ্গে কথা বলে এইসব সুবিধা সম্পর্কে জানবে?
    যে সব হাসপাতাল বা নার্সিং হোম রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় নথিভুক্ত, সেখানকার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হল RSBY-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট কাউন্টার রাখা। সেখানে এইসব সুবিধা কিভাবে পাওয়া যায় সেব্যাপারে রোগীকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এমনকি যদি সেখানকার স্মার্ট কার্ড মেশিনটি কোনও কারণে কাজ না করে, সেই অজুহাতে রোগীকে ফেরানো বা টাকা চাওয়া চলবে না; হাসপাতালের দায়িত্ব হল যেভাবে হোক ওই কার্ডটির ব্যবহার করা। রোগীর দায়িত্ব কেবল যথাযথ কার্ডটি সঙ্গে নিয়ে পৌঁছানো। পরিবারে নথিভুক্ত যে কোনও সদস্যের হাতের ছাপ দিলেই কার্ডটি মেশিনে নথিভুক্ত হবে, কার্ডে কত টাকা আছে জানা যাবে, এবং তত টাকার চিকিৎসা হাসপাতাল বা নার্সিং হোম (ভর্তি রোগীর ক্ষেত্রে) বিনা পয়সায় করাতে বাধ্য। তার চাইতে বেশি টাকা লাগলে সেটা আগেভাগে জানিয়ে রোগীর কাছ থেকেই সেই অতিরিক্ত পয়সাটা নিতে হবে।
    •তার মানে স্মার্ট কার্ড থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগী পকেট থেকে খরচা করবে?
    আগেই বলা হয়েছে, পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্য পিছু বছরে সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা। ধরুন পরিবারে বাবা, মা, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলের হাইড্রোসিল চিকিৎসার জন্য চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এক মেয়ের পিত্তপাথুরির জন্য দশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, মায়ের গর্ভাশয় কেটে বাদ দিতে গেছে চোদ্দহাজার টাকা। তাহলে মোট আটাশ হাজার টাকা একবছরে খরচ হয়েই গেছে। এবার বাবার চোখ অপারেশনের জন্য যদি সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগে তো রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার স্মার্ট কার্ড থেকে দুহাজার টাকার বেশি দেবেনা, বাকি দেড় হাজার টাকা পকেট থেকে দিতে হবে। কিন্তু এই অপারেশনটা যদি সেই বছরের পরে করা যায় তো কার্ডে আবার ত্রিশ হাজার টাকা জমা করবেন সরকার, এবং বাবার চোখ অপারেশনের জন্য সাড়ে তিন হাজার হাজার টাকা পুরোটাই সেখান থেকে পাওয়া যাবে। কার্ডের হিসেবে কবে নতুন বছর শুরু হবে সেটা জানতে হবে। সেটা কার্ড দেবার সময়ে বলে দেওয়া হয়, তাছাড়া হাসপাতালে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাউন্টার থেকেও সেটা জেনে নেওয়া যায়।
    •যে সব অসুখ আগে থেকে আছে সে ক্ষেত্রে কি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে?
    সাধারণত স্বাস্থ্যবিমা করার আগে থেকে কোনও অসুখ থাকলে বিমা কোম্পানিগুলো সেই অসুখ বা তার ফলে উদ্ভূত কোনও অসুখের চিকিৎসার জন্য টাকা দেয় না। ধরা যাক কোনও ডায়াবেটিস রোগী সাধারণ কোম্পানির কাছে পয়সা খরচ করে স্বাস্থ্যবিমা করালেন – বিমা কোম্পানি দেখে নিল বিমা করার আগে থাকতেই তাঁর ডায়াবেটিস রোগ আছে। এবার ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে খরচ করলে বিমা কোম্পানি একপয়সাও দেবে না। শুধু তাই নয়, ধরা যাক তাঁর ডায়াবেটিস-এর ফলে কিডনি নষ্ট হয়ে গেল, ডায়ালিসিস করতে হল। বিমা কোম্পানি ডায়ালিসিস-এর জন্যও একপয়সাও দেবে না। এদিক থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা অনেক বেশি, কেননা বিমা করার আগে থাকতে কোনও অসুখ থাকলেও সেব্যাপারে চিকিৎসার খরচ এই বিমাতে পাওয়া যাবে। তাই এই বিমা করার সময়ে বিমাকারীর কোনও অসুখ আছে কিনা সেসব পরীক্ষাও করা হয়না।
    •প্রসবকালীন খরচ কি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার থেকে পাওয়া যায়?
    হ্যাঁ। আগেই বলেছি স্বাভাবিক প্রসবে প্যাকেজ ২৫০০ টাকার, জটিল প্রসব বা সিজারিয়ান সেকশনে ৪৫০০ টাকা।
    •RSBY-তে রাহা খরচ পাওয়া যায়?
    একটা খরচ রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার থেকে পাওয়া যায়, যা আর কোনও বিমায় পাওয়া যায় না। তা হল হাসপাতালে ভর্তির জন্য যাতায়াতের খরচ, বা রাহাখরচ। প্রতিবার হাসপাতালে ভর্তির জন্য বিমাকারী যাতায়াতের খরচ হিসাবে ১০০ টাকা পান। তবে একটি বিমা চালু থাকা অবস্থায় বিমাকারী পরিবার সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার বেশি রাহাখরচ পাবেন না, তারপর হাসপাতালে ভর্তি হলেও নিজের খরচে যেতে-আসতে হবে। এই রাহাখরচ পাবার জন্য কোনও ট্রেন-বাসের টিকিট বা ওইরকম কোনও প্রমাণপত্র দেখাতে হয়না।
    পরিষেবা-প্রদানকারী হাসপাতাল/নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কাকে জানাবেন?
    নথিভুক্ত হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে দেখবেন রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবীমা যোজনার একটি বোর্ড বা ব্যানারে RSBY-কার্ড হোল্ডারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য/ হাসপাতালের দায়িত্ব ও অধিকার লেখা আছে। সেখানে জেলার কিয়স্কের নম্বর পাবেন। টোল ফ্রি একটি নম্বর আছে ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮।
    এছাড়া রাজ্যের সর্বোচ্চ নোডাল এজেন্সি-র কথা জেনে রাখুন—
    Director, ESI (MB) Scheme,
    Govt. of West Bengal,
    P-233, C.I.T. Scheme-VIIM, Bagmari Road, Kolkata-700054
    Contact No: (033)2355-6385 /6162 , 033-23556384(RSBY Cell)

    বাস্তবে RSBY-এর সুযোগ গরীব মানুষ কতটা পাচ্ছেন?
    •মাস খানেক আগে কুলপি-তে এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেল। উপস্থিত RSBY-কার্ড হোল্ডারদের অধিকাংশকে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত খরচ করে চিকিৎসা পেতে হয়েছে। অ্যাপেন্ডিসেক্টমি বাবদ কার্ড থেকে কাটা হয়েছে ৬০০০ টাকা, ওষুধ-পথ্য-নার্সিং খরচ ইত্যাদি দেখিয়ে আরও হাজার সাতেক খরচ পকেট থেকে। সিজারের খরচ কার্ড থেকে এসেছে, সঙ্গে লাইগেশনের খরচ নেওয়া হয়েছে দেড় হাজার টাকা। ইত্যাদি, ইত্যাদি...।
    •কার্ড রিনিউয়ালের জন্য অনেকের কাছ থেকে ৫০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যদি এটা বিনামূল্যে করার কথা।
    •মুর্শিদাবাদের নিয়মিত সামাজিক কাজে যান এমন এক সিনিয়ার স্ত্রীরোগবিদের পর্যবেক্ষণ—প্রচুর বেড়ে গেছে জরায়ু-কর্তন অর্থাৎ হিস্টেরেক্টমির হার, স্ত্রীরোগবিদরা দিনে ২-৩টে করে হিস্টেরেক্টমি করছেন—অধিকাংশই যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া। (গত বছর প্রচারিত আমির খানের সত্যমেব জয়তের চতুর্থ এপিসোড মনে করুন। সেখানেও দক্ষিণের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলের কথা বলা হয়েছিল যেখানে মহিলাদের জরায়ু নেই।)
    • একশ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র সুযোগঃ ২০১২ সাল থেকে এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আর একটি প্রকল্প RSBY-এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট তথা MGNREGA – এর একশ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্পে বেশিদিন কাজ করেছেন (১৫ দিন বা তার বেশি) তাঁর ও তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা বছরে ১৫ দিনের বেশি MGNREGA – তে কাজ করেছেন তাঁদের অধিকাংশই গরীব সেটাও ঠিক। কিন্তু এদের আলাদা করে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-তে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারটা গ্রামের গরীব মানুষেরা এখনও বুঝে উঠতে পারেন নি, ফলে এই সুযোগে গ্রামের করিতকর্মা মাতব্বরেরা বেশ কিছু বাবুলোকের নামও এই নিখরচায় স্বাস্থ্য বিমাতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। মাতব্বরেরা অন্যায়ভাবে এইসব বাবুলোকের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ‘জব কার্ড’ করিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর সেগুলো বাৎসরিক আর্থিক চুক্তিতে ভাড়া নেন, আর গ্রামের সব কাজের প্রকল্পেই এদের কার্ডগুলো ব্যবহার করেন। ফলে রেকর্ড অনুযায়ী, ওই কার্ডগুলোর মালিকরা বছরে ১৫ দিনের বেশি MGNREGA – তে কাজ করেছেন। যদিও এঁরা সত্যিকারের কাজ কিছু করেন নি, ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে চাপ দিয়ে কম কাজকে বেশি কাজ বলে জবরদস্তি করে দেখিয়ে সরকারের MGNREGA – র টাকা মেরে দিয়েছেন। কিন্তু খাতায়-কলমে তাঁরা ১৫ দিনের বেশি কাজ করেছেন বলে দেখানো আছে, ফলে তাঁরাই আবার নিখরচায় স্বাস্থ্য বিমার অধিকারী হয়ে যান!
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র কার্ড ও তার সুবিধাভোগীদের নানা অভিজ্ঞতাঃ
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা প্রকল্পের জন্য প্রত্যেক প্রাপকের নামে ছাপানো স্লিপ আসে ও সেগুলো তাঁদের দিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন তাঁরা পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে যেখানে এজেন্সিটি ক্যাম্প করেছে সেখানে এসে ফটো তোলার জন্য লাইন দেন। সকালের দিকে তুলনায় ফাঁকা থাকে, কেননা গ্রামের মানুষ তখন রুজি-রোজগারের ধান্দায় ক্ষেতে খামারে। এখানে প্রথমে ত্রিশটাকা দিয়ে রসিদ নেওয়া, তারপর ঘরের মধ্যে ক্যামেরার সামনে পরিবারের পাঁচজনের ছবি তোলা, পাঁচজনের বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া – পরিবারের কাজ শেষ। গ্রাম-পঞ্চায়েতের একজন কর্মচারী তাঁর বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পরিবারটিকে সনাক্ত করতে সাহায্য করেন। ব্যাস - সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের কর্তার হাতে কার্ডটি তুলে দেওয়া হয়। কার্ডে পরিবার-প্রধানের মুখের ছবি ও নাম থাকে। বিগত বছরগুলোতে কিন্তু কার্ড পরে দেওয়া হতো। অনেক সময় ফটো তোলার পরে কার্ড মিলতে বছর গড়িয়ে যেত। তাই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। যেমন পাট ছাড়ানোর সময়ে মানুষ সকালে আসতে পারেন না, তিনটের পর থেকে ভিড় জমান, আর রাত্রি আটটা পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যায় না।
    কার্ড করতে আসা পরিবারগুলোর কথা থেকে জানা যায়, গত বছর কোনও পরিবার অপারেশন করিয়েছে, টাকা লাগেনি। কেউ হয়তো এসেছেন - কার্ড করানোর পরে তবে তাঁর বাবার চোখের ছানি কাটাতে পারবেন। কিন্তু ছুবান ভাই, পানসুন্দুরী বেওয়ারা অন্য কথা বলেন। কার্ড করে তাঁরা পরিবারের মানুষকে তালিকাভুক্ত নার্সিং হোমে ভর্তি করিয়েছেন, অপারেশন হয়েছে। তারপর ছুটির সময়ে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ কার্ডটি নিয়ে দুঃখ-দুঃখ মুখ করে বলেছেন – আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না, জাল কার্ড? নাকি আঙ্গুলের ছাপটা ভালো করে নেয় নি? যাহোক, তাঁদের তো টাকাটা দিতে হবে। তখন তাঁরা ধার-কর্জ করে টাকা দিয়ে এসেছেন। আসলে নার্সিং হোম কার্ড নিয়ে টাকা বের করে নিল, আর নিরক্ষর মানুষগুলোর কাছ থেকেও টাকা নিল – তাঁরা বুঝতেই পারলেন না।
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা – সব ঠিক আছে কি?
    MGNREGA –তে গ্রামের মাতব্বরেরা অন্যায়ভাবে নানা বাবুলোকের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ‘জব কার্ড’ করিয়ে দেন, তারপর সেগুলো বাৎসরিক আর্থিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে গ্রামের সব কাজের প্রকল্পেই এদের কার্ডগুলো ব্যবহার করেন, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনাতেও সেরকম দুর্নীতি ঘটছে। সরকারের টাকা মারা যাচ্ছে, গরীবের কার্ড হচ্ছে না, হলেও অনেক নার্সিং হোম টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে। এটা একটা চিন্তার বিষয়। বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাউন্টারে কিভাবে কত টাকা নেওয়া হল সেটা সরল গরীব গ্রামীণ মানুষ, যাঁদের অনেকে আবার নিরক্ষর, তাঁরা ধরতেই পারেন না।
    কিছু দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও মুর্শিদাবাদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা আগেই বলেছি।
    •এছাড়া আপনি কার্ড নিয়ে দেখাতে গেলেন—ভর্তির প্রয়োজন নেই তবু ভর্তি করে নেওয়া হল। নামমাত্র চিকিৎসা করে মিথ্যা নথিপত্র দিয়ে বেশি টাকা তুলে নেওয়া হল—এমনটা হচ্ছে।
    •ছোট কোন অপারেশন হল, যার প্যাকেজ-মূল্য কম। নথিপত্রে দেখানো হল বড় অপারেশন হয়েছে। বেশি টাকা কার্ড থেকে কেটে নেওয়া হল। আপনার পকেট থেকে টাকা গেল না বটে, কিন্তু এ বছরের মধ্যে পরিবারের কাউকে যদি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন বরাদ্দ কিন্তু কম হয়ে থাকবে।।
    মানুষকে সচেতন করার জন্য এ লেখা যাতে তাঁরা RSBY-এর সুবিধা নিতে পারেন, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—RSBY-ই কি সমাধান? গরীব মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকার খরচ করছে, কিন্তু সেটা সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয়, বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিং হোমে। সরকার যে খরচ করছে তা কিন্তু জনসাধারণের করের-ই টাকা। তাহলে টাকার অভাবে সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই লক্ষ্যপূরণের উদ্দেশ্যে এগোতে পারছেন না, এটা তো বলা যায় না।
    সরকারই যখন টাকা খরচ করছে, তখন সরকার সরকারি হাসপাতালের উন্নতি ঘটাচ্ছে না কেন, যাতে সেখানেই উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, রোগীকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় যেতে হয় না? উলটে সরকার সরকারি হাসপাতালে যেটুকু ফ্রি ছিল সেসব বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের নাম করে সব লাভ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছে, এমনকি গোটা হাসপাতালটাই দিয়ে দিচ্ছে......।
    দ্বাদশ পরিকল্পনার আগে যোজনা কমিশন ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’-এর লক্ষ্যে কি কি করণীয় সে বিষয়ে সুপারিশ করতে এক উচ্চ-স্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেন। ডা শ্রীনাথ রেড্ডির নেতৃত্বাধীন সে দলের সুপারিশ ছিল সরকার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় সামান্য বাড়িয়ে প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা বিনামূল্যে সমস্ত নাগরিককে দিক। তাঁরা স্বাস্থ্যবিমার বিরুদ্ধে বলেন, স্বাস্থ্যপরিষেবার বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করেন। যোজনা কমিশন বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ মানে নি। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ বাক্যবন্ধটুকু রেখে দিয়ে তারা বলছে সরকার পরিষেবা-প্রদানকারীর ভূমিকা থেকে সরে এসে ব্যবস্থাপনার কাজ করবে। তাদের প্রস্তাব কেবল গরীব মানুষদের জন্য RSBY নয়, সব নাগরিকের জন্যই এমন বিমা ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রিমিয়াম (জনগণের পয়সায়) দেবে সরকার, একটা নির্দিষ্ট সীমা অবধি খরচ কার্ডধারী পাবেন, তার ওপরে খরচ করতে হবে নিজেকে।
    স্বাস্থ্যবিমা সমাধান হতে পারে না, সবার জন্য স্বাস্থ্যের সবটুকু প্রয়োজন সরকারকে মেটাতে হবে এই আমাদের দাবী হওয়া উচিত। কিন্তু যতক্ষণ না তা হচ্ছে, ততদিন RSBY-এর যতটা সুবিধা আপনার প্রাপ্য বুঝে নিন—আপনার প্রাপ্যে যেন ভাগ না বসায় স্বাস্থ্য-ব্যবসায়ী।

    এই রচনায় অফুরান সাহায্য নিয়েছি ডা জয়ন্ত দাসের। তিনি যে পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক সেই ‘স্বাস্থ্যের বৃত্তে’ পত্রিকার দশম সংখ্যায় প্রকাশিত বাবু সাহার রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা বিষয়ক একটি প্রবন্ধের প্রচুর সাহায্য নিয়েছি আমার রচনায়।

    দুর্বার ভাবনা পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০১৩ সংখ্যায় প্রকাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ অক্টোবর ২০১৩ | ১২৭৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০২:২২47124
  • জয়ন্ত সত্যিই বুঝলাম না ঠিক কি বলতে চাইলেন। আমি এইটুকু বুঝেছি।

    ১। কে কে গরীব সেটা আইডেন্টিফাই করে তাদের একটি কার্ড দেবে একটি প্রাইভেট কোম্পানি তাকে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি বলুন বা যাই বলুন। এটার লাভ হল, যে তারা শুধুমাত্র নিজেদের লাভের কথা ভেবেই ভুলভাল লোককে কার্ড দেবে না। যেমন বিপিএল কার্ডের ক্ষেত্রে হয়েছে। আমার নিজের জানা একজন বিপিএল কার্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ায় যার কস্মিনকালেও পাওয়ার কথা নয়। এই কোম্পানিটি এই ম্যানেজমেন্টটি করবে।

    ২। কোম্পানিটি ঠিক কাজ করছে কিনা দেখবে সরকার।

    ৩। যাদের কার্ড আছে তারা সেই কার্ড নিয়ে ডেজিগনেটেড সরকারী বা বেসরকারী হাসপাতালে গেলে নিয়ম অনুযায়ী ফ্রিতে চিকিৎসা পাবে।

    এবারে বলুন এরসাথে সরকারের জায়গায় জায়গায় যে হাসপাতাল আছে বা আরও নতুন নতুন হাসপাতাল করার বিরোধ ঠিক কোথায়?
  • ঈশান | 214.54.36.245 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৩৬47125
  • "RSBY প্রাইভেট ও সরকারী দুই হাসপাতালেই কাজ করে। তক্কোটা সরকারী বনাম বেসরকারীকরণ আদৌ নয়। সরকার যেটা করেছে মধ্যে একটি এন্টিটি ঢুকিয়েছে যারা এটা ম্যানেজ করছে। এর সাথে ইশান বর্ণিত বিপুল অ্যাসেট ব্যবহার না করার কোনো সম্পর্ক নেই। যদি না সবেতেই বেসরকারীকরণের ভুত দেখা যায়।"

    সরকার একটা এনটিটি ঢুকিয়েছে, মানে কী? এর মধ্যে একটা পূর্বসিদ্ধান্ত ঢুকে আছে, যে, সরকার ম্যানেজ করতে অক্ষম, তাই ম্যানেজ করার জন্য একটি বেসরকারি এনটিটি আছে। সেটা কেন? আকা নিজের যুক্তিপরম্পরা অনুসরণ করলেই খুঁজে পাবে, যে, সরকার কুশল নয়, তাই ম্যানেজমেন্টের কুশলতার জন্য বাজার ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে। বাজারই ম্যানেজমেন্টের কুশলতা দিতে পারে, সরকার নয়। অতএব সরকারের বপু কমিয়ে আনতে হবে, তাকে লীন ও ক্ষীণ করতে হবে ইত্যাদি।

    তা, যা দেখা যাচ্ছে, বাজার ব্যবস্থার উপর ভরসা করলেও, সরকারকে কুশল হতেই হবে। ইনস্পেক্টর লাগাতে হবে, কোডিফিকেশন ও তার ইমপ্লিমেন্টেশন করতে হবে, ইনসিওরেন্স কোম্পানিকে ম্যানেজ করতে হবে। এর কোনোটাই কুশলতা ছাড়া চলবেনা। এবং প্রশ্নটা এখানেই, যে, এই কুশলতা যদি অর্জন করতেই হয়, তাহলে সরকারকে, সংজ্ঞানুসারেই "অদক্ষ" বলে চালিয়ে দেওয়াটার পিছনে কোনো যুক্তি নেই। সরকার এতকিছু কুশলতার সঙ্গে ম্যানেজ করলে বাকিটাও পারবে। কেন পারবেনা, এটা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আকা এক লাইনে লিখেছে, যে, সরকারি কর্মচারীদের চাকরি যায়না, তাই। :)

    ক্লান্ত হয়ে ও তারপর একঘুম দিয়ে আকা হয়তো পুরোটা ভুলে গেছে, তাই মনে করিয়ে দিলাম। সরকার কেন পারবেনা, এই প্রশ্নটার উত্তর এখনও পেন্ডিং কিন্তু।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৪৭47126
  • যুক্তি পরম্পরা পড়লেই বোঝা যেত। কিন্তু সে ধৈর্য্য কারই বা আছে।

    যাক খুব সহজ উদাহরণ হাতের কাছে। বিপিএল কার্ড। সরকারই ম্যানেজ করেছে। ফলত সেই কার্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এমএলএ র চ্যালারা, বেশ অবস্থাপন্ন লোকজন। যাদের পাওয়ার কথা তারা পায় না।

    এখানে ইন্সিওরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে এরা শুধুমাত্র নিজেদের প্রফিটের জন্যই এই দাদাদের RSBY কার্ড দেবে না। আর গরীবদের দিচ্ছে কিনা সেটা সরকার দেখবে।

    আগেরটা সরকার নিজেকে সব ম্যানেজ করতে হয়েছিল ফলত ডাউনস্ট্রীম একটা বিরাট সংখ্যক লোককে ম্যানেজ করতে গিয়ে ছড়িয়েছে। লোকাল এমএলএ তাদের চ্যালাচামুণ্ডাদের কন্ট্রোল করতে পারে নি।

    আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একটা সেন্ট্রাল বডি এই কোম্পানি গুলোকে ম্যানেজ করছে। যাদের ইন্সেটিভটা এমন ভাবে ডিজাইন যাতে এই দুর্নীতি না হয়।

    অবশ্য পাঠে ভুল হলে বুঝতে অসুবিধা হয়, আন্ডারস্টুড।
  • cm | 122.79.36.210 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৪৭47105
  • বেসরকারি মানেই চাকরি যাওয়ার ভয় ও দারুণ কাজ। বাঃ তা কি সোনার ডিম বেসরকারি হাঁসে পাড়ল শুনি।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৫৩47127
  • পুণ্যদার মূল লেখাটা থেকে ঃ

    'MGNREGA –তে গ্রামের মাতব্বরেরা অন্যায়ভাবে নানা বাবুলোকের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ‘জব কার্ড’ করিয়ে দেন, তারপর সেগুলো বাৎসরিক আর্থিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে গ্রামের সব কাজের প্রকল্পেই এদের কার্ডগুলো ব্যবহার করেন, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনাতেও সেরকম দুর্নীতি ঘটছে। সরকারের টাকা মারা যাচ্ছে, গরীবের কার্ড হচ্ছে না, হলেও অনেক নার্সিং হোম টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে। এটা একটা চিন্তার বিষয়। বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাউন্টারে কিভাবে কত টাকা নেওয়া হল সেটা সরল গরীব গ্রামীণ মানুষ, যাঁদের অনেকে আবার নিরক্ষর, তাঁরা ধরতেই পারেন না।
    কিছু দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও মুর্শিদাবাদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা আগেই বলেছি।
    • এছাড়া আপনি কার্ড নিয়ে দেখাতে গেলেন—ভর্তির প্রয়োজন নেই তবু ভর্তি করে নেওয়া হল। নামমাত্র চিকিৎসা করে মিথ্যা নথিপত্র দিয়ে বেশি টাকা তুলে নেওয়া হল—এমনটা হচ্ছে।
    • ছোট কোন অপারেশন হল, যার প্যাকেজ-মূল্য কম। নথিপত্রে দেখানো হল বড় অপারেশন হয়েছে। বেশি টাকা কার্ড থেকে কেটে নেওয়া হল। আপনার পকেট থেকে টাকা গেল না বটে, কিন্তু এ বছরের মধ্যে পরিবারের কাউকে যদি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন বরাদ্দ কিন্তু কম হয়ে থাকবে।।'
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:১৮47128
  • 'ইন্সিওরেন্স কোম্পানী নিজের প্রফিটের জন্যই ভুল লোককে কার্ড দেবেনা।'
    তা এই যুক্তিতে নিজের প্রফিটের জন্য এই কার্ড ঠিক লোককে দেবেনা, এটাও তো হতে পারে। সেটা কী করে আটকানো যাবে ? আর সরকার যদি সেটা আটকাতে পারে তো নিজের সিস্টেম ঠিকঠাক করতে পারেনা কেন ?

    এখনো অব্দি প্রচুর বিপিএল লোক এই কার্ড পাননি।
  • ঈশান | 202.43.65.245 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:২৭47129
  • যুক্তি তো পড়াই হচ্ছে।

    "এখানে ইন্সিওরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে এরা শুধুমাত্র নিজেদের প্রফিটের জন্যই এই দাদাদের RSBY কার্ড দেবে না। আর গরীবদের দিচ্ছে কিনা সেটা সরকার দেখবে।"

    গরীবদের দিচ্ছে কিনা সেই সরকারই দেখবে। যদিও সরকার বিরাট সংখ্যক লোককে ম্যানেজ করতে গিয়ে ছড়ায়। এটাই ফ্যালাসি। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। :)
  • riddhi | 146.165.223.196 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৩৫47130
  • ei alochonata closely follow korchhi, khub interesting aar informative. ekhon ekdom somoy nei, pore likhbo. ei rsby ebong anyanyo scheme er sustainaibility niye kichhu bhalo model aachhe..... sorkarer opor kotota burden porbe- tar ekta common estimate achhe, seta besh koyekta paper e replicated.
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:০৯47131
  • পারেনা কেন? কারণ সরকার নিজের লোকজনকে গভর্ণমেন্ট অফিসিয়ালদের, লোকাল রাজনৈতিক দাদাদের কন্ট্রোল করতে পারে না।

    এক্ষেত্রে কোম্পানি সকলকে কার্ড দিল কিনা সেটা অনেক কম সংখ্যক লোককে করতে হবে। অনেক কম সংখ্যক লোককে এফিশিয়েন্ট ও সৎ বুদ্ধির অধিকারী হতে হবে।

    অন্যটিতে অনেক বেশি লোকের এইসব গুণাবলী থাকতে হবে। যে কারণে ১ জন ভালো লোক খুঁজে পাওয়া ১০০ জন ভালো লোক খুঁজে পাওয়ার থেকে প্রোবাবিলিটি বেশি ঠিক সেই কারণেই এই সিস্টেমটি সাকসেসফুল হবার চান্স বেশি। যতজনের এই কার্ড পাওয়ার কথা ততজন এই কার্ড পাচ্ছে কিনা। সেটা খুব সহজে দেখা যায়।

    সরকার জানে একটি জেলায় ১০০ জন দরিদ্র। ইন্সিওরেন্স কোম্পানি কি ১০০ টি কার্ড ইস্যু করেছে? করলে কাকে কাকে করেছে। সিম্পল রিপোর্ট যেটা একজন মিলিয়ে দেখবে। এটা বোঝা না গেলে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:১৩47132
  • সরকার জানে একটা জেলায় ১০০ জন দরিদ্র। ইন্সিওরেন্স কোম্পানীর বেলায় মিলিয়ে কম হলে দেখবে। অথচ নিজে কার্ড ইস্যু করার সময় তার থেকে বেশি হলে মিলিয়ে দেখবে না ঃ)
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:১৬47133
  • দেখবে না কেন? কিন্তু দেখেও কিছু করতে পারবে না। সরকার মানে সেন্ট্রাল বডি খুব ভালো করে জানে বিপিএল কার্ড মিসইউজ হচ্ছে। কিছু করতে পারছে না। কেন? সেটা ভেবে দেখুন, কিছু ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে লাভ হয় না কারুরই।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:২৩47134
  • সেতো RSBYতেও ফ্রড হচ্ছে !
    এটা পড়ে দেখা হোক। http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2013-04-13/lucknow/38510684_1_smart-cards-health-department-duplicate

    ফ্রড আটকাতে সরকার থেকে গ্রিভ্যান্স সেল এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সেটা তো সেই সরকার ই করছে, তো সেটা সরকারের নিজের প্রোজেক্টের বেলায় নয় কেন ? ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ নয়, সত্যি জাস্ট বুঝতে পারছিনা। টাকা খরচের হিসেবটাও বুঝিনি। কেন ঐ টাকা ইন্সিওরেন্স কোং ও বেসরকারি হাসপাতাললকে না দিয়ে সরকারি সিস্টেমে দেওয়া নয় ।
    পুরো যুক্তিটাতেই প্রচণ্ড ফ্যালাসি লাগছে।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৩০47135
  • একটু মন খুলে পড়তে হবে।

    একটা সিস্টেমে - বিপিএলে - মধ্যে সরকারের নিজের লোক, যারা বহুলাংশে করাপ্ট, রাজনৈতিক মোটিভেশনে টিল্টেড, তারা কেউই সেন্ট্রাল বডিকে ডাইরেক্টলি রিপোর্ট করে না, তারা ভুল করলে সেন্ট্রাল বডির কোন উপায় নেই তাদের ঠিক করার। যেমন বিপিএলের ক্ষেত্রে মিসইউজ হচ্ছে জেনেও কেউ কিছু করতে পারে না।

    দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কোম্পানি ভুলভাল করলে সরকার তাকে কাটিয়ে দিয়ে অন্য কোম্পানিকে ধরবে। এক্ষেত্রে ইন্সেটিভগুলো এমন ভাবে অ্যালাইনড যে সরকার দরকার পড়লে কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে অন্যটিতে নয়।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৩২47136
  • ফ্রড নিয়ে একটা চিঠি পড়লাম। এখানে থাক।

    http://www.ipaidabribe.com/reports/bribe-hotline/rsby-scheme-isa-huge-scam-oorest-bigest-2gcwag

    Honorable Sir/ Madam,
    With reference to above ********** Clinic (serving in most tribal pocket of Narmada Dist. With motto of “Service to humanity is service to God” well reciprocated and honored with most prestigious preferred hospital by maximum patients outflow hereby narrates the experiences and share with you with request your honour to go in depth about the scenario the real picture at grassroot level by self explanatory letter written to honorabl govt. etc etc with no result/ inquiry since two years……….!!!!!!!!!!
    Please feel free to call me on ******* ,(02640) 220909 at 24X7 for any query/ explanation / clarification in detail.
    I assure your help in nurturing /cherishing / fulfilling my motto at all levels with guiding me the true line of treatment / action earliest will not only oblige me but will prove me the best guide, friend and well wisher in my whistle blower activities for the poor,needy thriving people for which the govt. is spending crores of Rs with the dream of healthy India.

    My letters attached herewith( though written for asking information under RTI and request to probe investigations ) contains the in depth Analyses and the scenario prevailing with lacunae to be dealt with, punishment to all including govt officers for currupt nexus with pvt, selfish,insurance..co for all illegal, malafide activities so that precious govt. money is not cheated/looted unhumanly and whistle blower is also victimized with cruelty with proof
    in short, ICICI Lombard Pvt.insurance company is doing all malafide illegal tactics to drag maximum profit by paying the minimum claims by all cheating practices from faulty enrollment to terrifying doctors to pressurize them to quit the scheme so that minimum number of BPL card holders (End users) can avail the right of scheme of taking the cash less treatment from their trusted / proffered doctor (by minimizing empanelled most popular trusted hospitals) as detailed in letter annexure 1& implementing authority of the Govt. are doing undue favor to ICICI Lombard for causing loss of government exchequer and violation of conduct rules and gross negligence of duties and inadequate supervision and misuse of official post with violation of prescribed rules regulations, procedures or norms & promoting / helping in malafide tactics of the ICICI Lombard of dragging maximum money illegally by ICICI Lombard of Govt. precious exchequer as mentioned in detail in my letters further queries proofs if needed will be provided by us (Pl. feel free to ask in the best interest of the Govt. & Poor BPL Holder innocent Hospital & the scheme )

    I hope your august authority will read the motto of my letter and act strictly in the best interest of the government, poor BPL families innocent hospitals and the true success of the scheme.
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৪৭47137
  • RSBY র uterus removal scam ঃ

    http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2012-09-01/patna/33534722_1_rsby-bpl-families-rashtriya-swasthya-bima-yojana

    একটু মন দিয়ে পড়া হোক।

    '....Under the RSBY scheme, BPL families are covered for a sum of Rs 30,000. The hospitals and clinics registered under the scheme are entitled to get reimbursement from insurance companies for treatment rendered to members of BPL families. It is alleged that uterus were removed without rhyme and reason and money claimed under the scheme.

    According to an estimate, 16,765 cases of hysterectomy had been performed in 11 districts of the state in last two years. The districts reporting such cases in large numbers are Samastipur, Begusarai, Madhubani and Saran. In Samastipur alone, 8,000 such cases were performed since last year, according to the report of Samastipur DM. In Begusarai and Samastipur, Rs 10 crore and Rs 12 crore, respectively, have been claimed in last one year under the RSBY.

    It has now come to light that majority of hospitals where the surgeries had been conducted belonged to non-doctors or medical practitioners not entitled to do so. Also, most of the hospitals and the nursing homes empanelled under the programme were not of specialized nature. It has been also been found that a large number of operations were performed on women of younger age.

    A health department official said on condition of anonymity, "A committee was constituted at district level comprising representatives of district administration and civil surgeon's office which was to select nursing homes and private hospitals to be empanelled under the RSBY programme launched by the Centre in 2008. However, the Union government passed an order under which the insurance companies got the discretion to select hospitals for the purpose. It was at this stage that things got murkier as the state labour department also gave its nod, The department administers the programme."

    The doctors in panels for selecting hospitals under the programme were not qualified for the purpose. In Patna, one Ayush doctor was kept in the panel, which was in violation to the prescribed norms, the official said and added, "Ads were not widely published by the insurance companies. This resulted in selection of smaller and non-specialized hospitals with little or no infrastructure."

    It has also come to fore that while paying claims under the scheme, proper investigation was not done by the insurance companies. No expert was employed to ascertain whether operations had actually been performed or not, the official said, adding guidelines of the nodal committee at the district level were totally ignored in the process.

    Dr S S Rai, a member of the Patna district's core committee set up for monitoring the scheme and issuing directives from time to time, said, "The state government never chose the hospitals under the programme. This was done by the insurance companies independently. A Union government team had, in 2011, issued instructions to this effect. Even the state nodal agency, which was formed for overseeing the programme implementation, had proved to be ineffective."
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৫৫47138
  • সরকার যদি এই ইন্সিওরেন্স কোম্পানিগুলোকে ঠিকমতন মনিটরিং না করে তাহলে কিছুই হবে না। জালি দেখলে ফাইন থাকবে, আর কাটিয়ে দেবে ব্ল্যাক লিস্ট করে।
  • ঈশান | 202.43.65.245 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:২৮47139
  • "একটা সিস্টেমে - বিপিএলে - মধ্যে সরকারের নিজের লোক, যারা বহুলাংশে করাপ্ট, রাজনৈতিক মোটিভেশনে টিল্টেড, তারা কেউই সেন্ট্রাল বডিকে ডাইরেক্টলি রিপোর্ট করে না, তারা ভুল করলে সেন্ট্রাল বডির কোন উপায় নেই তাদের ঠিক করার। যেমন বিপিএলের ক্ষেত্রে মিসইউজ হচ্ছে জেনেও কেউ কিছু করতে পারে না।

    দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কোম্পানি ভুলভাল করলে সরকার তাকে কাটিয়ে দিয়ে অন্য কোম্পানিকে ধরবে। এক্ষেত্রে ইন্সেটিভগুলো এমন ভাবে অ্যালাইনড যে সরকার দরকার পড়লে কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে অন্যটিতে নয়।"

    -- এইটা কোনো কথা হল? সেই একই সরকার, সেই একই করাপ্ট লোক, সেই একই বিপুল জনসংখ্যা ও হায়ারার্কি, সেখানে সরকার নিজের প্রশাসনকে হ্যান্ডল করতে পারেনা। সেই একই সিস্টেমে বেসরকারি কোম্পানি এলে সব উল্টে যাবে? সেক্টর ফাইভে বাড়ি বানাতে গেলে সেই একই সিস্টেমে দাদাদের তেল এবং তোলা দিয়ে তাদের চলতে হয়। রাস্তা, ব্রিজ বানাতে গেলে সেই একই জায়গায় প্রণামী চড়াতে হয়, আর তারা হঠাৎই সাধুপুরুষ হয়ে যাবে, আর সরকার সব দাদাদের এড়িয় এফিশিয়েন্টলি তাদের হ্যান্ডল করবে? এর চেয়ে অবাস্তব, হাস্যকর, শিশুসুলভ এবং অযৌক্তিক দাবী ভাবা যায়না। এরকম হবে, ভাবার যুক্তিটা কি?

    মনে হচ্ছে, সরকার বলে আর কিছু থাকবেনা। ইন্সপেক্টর, দাদা এদের কাটিয়ে দিয়ে স্রেফ একট বাটন থাকবে, এবং বাটন দাবিয়ে মনিটরিং চলবে। তা, সেটা যদি সম্ভব হয়ই, তাহলে সরকারী প্রশাসনে সেই একই দাওয়াই কেন চলবেনা?
  • ঈশান | 202.43.65.245 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:৫২47140
  • পাইয়ের দেওয়া খবরটা হল, যেটা এতক্ষণ ধরে বলে আসছি, তার সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তব উদাহরণ।

    জেলা স্তরে আপনার প্রশাসনের এতদিন কাজ ছিল কটা সরকারি হাসপাতাল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেখভাল। এখন তার সঙ্গে আপনি ঘাড়ে চাপালেন ১) বেসরকারি হাসপাতালের নজরদারি, ২)বীমা কোম্পানির উপর নজরদারি। তার জন্য যা ছিল তার উপর নতুন দফায় তৈরি হল আরও কিছু কমিটি, টিম। প্রশাসনিক কাজকর্ম বাড়ল, কমলনা। তার দক্ষতার প্রয়োজন, বাড়ল, কমলনা। ওদিকে আমি দাবী করে যাচ্ছি, এতদ্বারা আমি প্রশাসনকে আমি লীন ও ক্ষীণ করে ফেলছি, প্রশাসনের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর কোনো দরকার নেই, এবার বাজার এসব বাজে ঝামেলা থেকে আমাকে উদ্ধার করবে। এই পরস্পরবিরোধিতার ফল যা হবার তাইই হবে। যে প্রশাসন হেলে ধরতে পারছেনা, তার প্রয়োজন এখন কেউটে ধরার, কিন্তু তাকে আমি বলছি, বাপু আর হেলেও ধোরোনা। ওসব মিটে গেছে। এবার কী হবে? প্রশাসন সৎ হলে হাবুডুবু খাবে। আর অসৎ হলে চাট্টি টাকা মারবে। এই তো হবার।

    যে কোনো সিস্টেমই হোক, সরকারি বা বেসরকারি, প্রশাসনকে দক্ষ, কুশল করে তোলা, এফেক্টিভ নজরদারি বানানো, যে কোনো সিস্টেমের সাফল্যেরই পূর্বশর্ত। এটা তো আজ থেকে বলছিনা। সেই খসড়ার আমল থেকে বলছি। কিন্তু লোকেই পাত্তা দেয়না, কী করা যাবে?
  • aka | 79.73.9.7 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:৩৮47106
  • কাল রাতে ক্লান্ত ছিলাম।ভেবে দেখলাম যে এই আজাইরা না কি যেন বলে সেই তক্কের কোন মানে নেই।

    RSBY প্রাইভেট ও সরকারী দুই হাসপাতালেই কাজ করে। তক্কোটা সরকারী বনাম বেসরকারীকরণ আদৌ নয়। সরকার যেটা করেছে মধ্যে একটি এন্টিটি ঢুকিয়েছে যারা এটা ম্যানেজ করছে। এর সাথে ইশান বর্ণিত বিপুল অ্যাসেট ব্যবহার না করার কোনো সম্পর্ক নেই। যদি না সবেতেই বেসরকারীকরণের ভুত দেখা যায়।

    যারা এই বিপুল অ্যাসেট ব্যবহার করতে ইৎসাহী তাদের নিশ্চয়ই ধ্যান ধারাণা আছে কি করে সেসব হবে। দু এক পয়সা যদি পেতাম। সরকারকে এই মায়া পাতায় চাপ? সে এক হাস্যকর প্রস্তাব অসংখ্য পিটিশনের মতন।
  • জয়ন্ত | 127.194.80.35 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১০:২৬47108
  • ঈশান স্কুলের উদাহরণ দিয়েছেন। সেটা কিভাবে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে তা নিয়ে। আমি একটা উদাহরণ দেব। সেটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা। আশা করি 'এটাই চালু পলিটিক্স, আইদার অর, আমরা ওরা' ছকে এটাকে ফেলবেন না। আর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নয় বলেই 'পলিটিক্যাল পশ্চারিং' বলে ভাববেন না। কারণ আমার রাজনৈতিক ধারণার খুব সপক্ষে নয় এই উদাহরণটি।

    আমি ১৯৯৬-এ একবার স্টেট ব্যাংকে হোমলোন নেবার চেষ্টা করেছিলাম। তখন আমি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্বশাসিত সংস্থায় (ESI Corporation) ক্লাস ১ অফিসার, মাইনে ভালই পেতাম। ৪ লাখ টাকা দরকার ছিল। আমার মাইনের চেকটা যেখানে জমা করতাম, সেই ব্রাঞ্চে গেলাম। তখনও ব্যাংকে স্যালারি অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে সরাসরি টাকা জমা পড়ার প্রথা চালু হয়নি। তো এইটাই best approximation to salary a/c বলতে পারি বোধহয়। আমাকে এতো ঘোরালেন আর বসিয়ে রাখলেন সেখানকার কর্মচারীরা যে হতাশ হয়ে পড়লাম। অথচ সেই কর্মচারীরা এনটিটেলমেন্ট না থাকা সত্ত্বেও আমার কাছেই মাঝেমধ্যে হাসপাতালে দেখিয়ে যেতেন।

    তারপর আমার ঘরের কাছেই ইউবিআই তে গেলাম। ম্যানেজার আমার পরিচিত। চেষ্টা করেননি বলব না, কিন্তু দেখলাম পেরে উঠলেন না। কবে লোন দিতে পারবেন, তাও কিছু বলতে পারলেন না। আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করলেন।

    তখন গেলাম HSBC, মানে হংকং ব্যাঙ্ক আর কি। বললে পেত্যয় যাবেনি মহায়, ঐ একই কাগজ দেখে আমার লোন স্যাংশন করে দিল!!!

    তা আমি তখন বেসরকারিকরণের নিউ কনভার্ট হব-হব করছি, আমার স্ত্রী বললেন, ই এম আই কেমন বেশি ঠেকছে না? গোমড়া মুখে কাগজ কলম নিয়ে বসে দেখি, স্টেট ব্যাংক বা ইউবিআই থেকে প্রায় দ্বিগুণ পয়সা বেশি সুদ ইত্যাদি দিতে হচ্ছে। সুদের হার বেশি। প্রসেসিং ফি অত্যন্ত বেশি। যদ্দুর মনে পড়ে, ইন্টারেস্টটা Flat Rate-এ, on Reducing Balance-এ নয়। মানে সব মিলিয়ে স্টেট ব্যাংক বা ইউবিআই-কে আমাকে চার লাখ শোধ করতে গিয়ে হয়তো ছলাখ দিতে হত, হংকং ব্যাংক-কে দিতে হত প্রায় আট লাখ।

    শুনে সুখী হবেন, লোনটা আমি নিই নি। হার্ট অ্যাটাক তো নয়, পেরাইভেট হাসপাতালকে গুনগার না দিয়ে চলবে না?
  • জয়ন্ত | 127.194.80.35 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১০:২৬47107
  • ঈশান স্কুলের উদাহরণ দিয়েছেন। সেটা কিভাবে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে তা নিয়ে। আমি একটা উদাহরণ দেব। সেটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা। আশা করি 'এটাই চালু পলিটিক্স, আইদার অর, আমরা ওরা' ছকে এটাকে ফেলবেন না। আর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নয় বলেই 'পলিটিক্যাল পশ্চারিং' বলে ভাববেন না। কারণ আমার রাজনৈতিক ধারণার খুব সপক্ষে নয় এই উদাহরণটি।

    আমি ১৯৯৬-এ একবার স্টেট ব্যাংকে হোমলোন নেবার চেষ্টা করেছিলাম। তখন আমি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্বশাসিত সংস্থায় (ESI Corporation) ক্লাস ১ অফিসার, মাইনে ভালই পেতাম। ৪ লাখ টাকা দরকার ছিল। আমার মাইনের চেকটা যেখানে জমা করতাম, সেই ব্রাঞ্চে গেলাম। তখনও ব্যাংকে স্যালারি অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে সরাসরি টাকা জমা পড়ার প্রথা চালু হয়নি। তো এইটাই best approximation to salary a/c বলতে পারি বোধহয়। আমাকে এতো ঘোরালেন আর বসিয়ে রাখলেন সেখানকার কর্মচারীরা যে হতাশ হয়ে পড়লাম। অথচ সেই কর্মচারীরা এনটিটেলমেন্ট না থাকা সত্ত্বেও আমার কাছেই মাঝেমধ্যে হাসপাতালে দেখিয়ে যেতেন।

    তারপর আমার ঘরের কাছেই ইউবিআই তে গেলাম। ম্যানেজার আমার পরিচিত। চেষ্টা করেননি বলব না, কিন্তু দেখলাম পেরে উঠলেন না। কবে লোন দিতে পারবেন, তাও কিছু বলতে পারলেন না। আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করলেন।

    তখন গেলাম HSBC, মানে হংকং ব্যাঙ্ক আর কি। বললে পেত্যয় যাবেনি মহায়, ঐ একই কাগজ দেখে আমার লোন স্যাংশন করে দিল!!!

    তা আমি তখন বেসরকারিকরণের নিউ কনভার্ট হব-হব করছি, আমার স্ত্রী বললেন, ই এম আই কেমন বেশি ঠেকছে না? গোমড়া মুখে কাগজ কলম নিয়ে বসে দেখি, স্টেট ব্যাংক বা ইউবিআই থেকে প্রায় দ্বিগুণ পয়সা বেশি সুদ ইত্যাদি দিতে হচ্ছে। সুদের হার বেশি। প্রসেসিং ফি অত্যন্ত বেশি। যদ্দুর মনে পড়ে, ইন্টারেস্টটা Flat Rate-এ, on Reducing Balance-এ নয়। মানে সব মিলিয়ে স্টেট ব্যাংক বা ইউবিআই-কে আমাকে চার লাখ শোধ করতে গিয়ে হয়তো ছলাখ দিতে হত, হংকং ব্যাংক-কে দিতে হত প্রায় আট লাখ।

    শুনে সুখী হবেন, লোনটা আমি নিই নি। হার্ট অ্যাটাক তো নয়, পেরাইভেট হাসপাতালকে গুনগার না দিয়ে চলবে না?
  • জয়ন্ত | 127.194.80.35 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১০:৪৬47109
  • না, গল্পের শেষ হয়নি। ২০০৯ সালে আমি একটা হোমলোন নিয়েছি। পরিমাণটা ১৯৯৬-এর চারলাখের তুলনায় একটু বেশিই হবে। স্টেট ব্যাংক থেকে। স্যাংশন হতে সাতদিনের একটু বেশি সময় লেগেছে, কেননা আমি প্রথমে কথা বলে তারপর নিজের কাগজপত্র ঠিক করেছি। ইএমআই আগে স্টেট ব্যাংক যেরকম হারে বলেছিল, সেইরকমই। ইউবিআই থেকেও পেতে পারতাম।

    এখন, অপদার্থ অকর্মণ্য রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোয় এটুকু পরিবর্তন কেমন করে সম্ভব হল? কর্মচারীদের ওপরে অনেক চাপ বেড়েছে। আন্দোলনের জঙ্গিভাব নেই। বুর‍্যোক্র্যাটিক পথে সমাধান হয়েছে, কিন্তু হয়েছে। অন্যপথে সম্ভব হত কিনা, সেটা নিয়ে এখানে আলোচনা করার মানে নেই।

    কতদিনে গ্যাস কানেক্সান পেতেন আগে? আর এখন? গ্যাস অর্ডার করার কতোদিন পরে সিলিন্ডার আসে? আমার মনে আছে, ১৯৯০তে আবেদন করে গ্যাস কানেকশন পেয়েছি ১৯৯৮তে। পুরনো বাড়ির গ্যাসের সিলিন্ডারের জন্য ১৯৮৭তে লাইনে দাঁড়িয়ে স্লিপ লেখাতে হত, সিলিন্ডার পেতে চার সপ্তাহ সময় লাগত অন অ্যাভারেজ। এখন ফোনে বলি, চারদিনে সিলিনডার আসে।

    টেলিফোন কানেকশন? আমার Non YT Special বা ঐরকম কিছু বিশেষ সুবিধা ছিল, ডাক্তার হবার কারণে। তবু ১৯৯০ এর জানুয়ারির আবেদনে কানেকশন পেয়েছিলাম ১৯৯৩ ডিসেম্বরে। এখন শুনেছি সবাই দু-একমাসে পায়। এখনও আমার টেলিফোন ও ইন্টারনেট দুই-ই বিএসএনএল-এর। দুবছরে খারাপ হয়নি, মাঝে মধ্যে নেট-স্পিড কম থাকে। অন্যঘরে একটা ভোডাফোন ইন্টারনেট আছে, সেটাতে খরচ অনেক বেশি। রেখেছি অন্য কারণে।

    সরকার চাইলে পারে না, এমন নয়। নিজেই চালাতে পারে। লালুপ্রসাদ একবার বলেছিলেন, সরকার না চাইলে তো দাঙ্গা হয় না। ঠিক কথা। আকা, আপনি বোধহয় কল্যাণীর কাছে কোথাও থাকতেন। ১৯৭৯ সালের চাপড়ায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা মনে আছে কি? সরকার চাইলে দাঙ্গা দুদিনে বন্ধ করতে পারে। চাইলে হাসপাতাল চালাতে পারে।

    আমার কথার মধ্যে ইডিওলজি ও রাজনীতি আছে কি নেই সে-তর্কে যাবই না, কেননা থাকেই যদি সেটা এমন কিছু অন্যায় নয় যে 'সরি' বলে ক্ষমা চাইতে হবে। ইডিওলজি আছে ব'লেই সেটা ভুল, তা-তো নয়। ইডিওলজি তো থাকবেই, জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে।

    আকা বলেছেন, "এই আমরা বনাম ওরার লড়াইয়ে আমার আগ্রহ নেই। বরং আমি মনে করি এই বাইপার্টিসান আসলে যেকোন সমস্যাকে মৌলিক ভাবে ভাবতে বাঁধা দেয়।" ঠিকই তো। তবে যদি 'পার্টিসান চরিত্র আমার নেই, অন্যের আছে' এটা ধরে নিই, তাহলে মুশকিল। যে যার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলুন না। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-খাদ্যের ব্যবস্থা সরকারের প্রাথমিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এটা আমার অবস্থান। সেটা সম্ভব না-ই হতে পারে। আমার ভুল হতেই পারে। আপনি অন্যরকম কিছু ভাবতেই পারেন। সেটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা থাকবে না কেন? সেটাকে 'আপনি বলছেন, তাই ভুল' -- এমনটা ভাববই বা কেন?

    আর আকা, আমার কথা -- "আপনি দূরদর্শী লোক, ঠিকই বলেছেন সরকারি ব্যবস্থা হোক আর বেসরকারি, সরকারি ভিজিল্যান্স থাকা দরকার।" এখানে 'দূরদর্শী'-টা আমার বিদ্রূপ নয়, সত্যিই এইটা দেখতে পাওয়া লোক আশেপাশে তেমন দেখি না। বিদ্রূপ মনে হ'লে মাপ চাইছি। তবে পরে আপনাকে একটু হালকা ব্যঙ্গ করেছি।
  • জয়ন্ত | 127.194.80.35 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১০:৫০47111
  • যা-ই লিখছি দুবার করে যাচ্ছে কেন? আর আকা, আজাইরা কথাটা বড্ড চেনা চেনা ঠেকছে। কী বলুনতো ওটা?
  • aka | 79.73.9.7 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১১:০৭47112
  • আজাইরা কথার মানে জানা নেই আমি ঘটি অনেকে ব্যবহার করে দেখে কপি পেস্ট করার চেষ্টা করেছি মাত্র। ঃ)

    একটা প্রশ্ন আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে আপনি মবে করেন সরকার সব দেখবে মানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যের দায়িত্ব সরকারের। খুব ভালো কথা কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে ১৩০ কোটি লোককে এই যোগান দিতে হলে ঠিক কত টাকা ট্যাক্স রেভিনিউ তুলতে হবে এবং তার সোর্স কি? নইলে তা নিছক দাবী হয়েই থাকে। যার উপায় নেই সেই চাওয়ার মানে কি?
  • | 24.96.188.181 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১১:১০47113
  • আজাইর‌্যা হল গিয়ে আজাইর‌্যা প্যাচাল থেকে অপভ্রংশ। আকা তো ঠিক বাঙাল নয়, তাই আর্ধেকটা বলেছে। :-p

    আজাইর‌্যা প্যাচাল হল গিয়ে বাজে বকা বা অর্থহীন বকবকানি।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১২:০০47078
  • ওটা পড়েই লিখেছি।

    কেন করবে লেখাই আছে। এটা দুর্নীতি ধরা পড়লে বরাত যাবে, রিস্কি। বরং অন্য হসপিটাল থাকতে এই রিস্কি বিহেভিয়ারের কি ইন্সিএন্টিভ সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১২:২০47079
  • পড়া যখন হয়েইছে, তাহলে লিখি, ওখানে ঝেড়ে দেবার কথা একেবারেই বলা হয়নি। সেটা বাদ দিয়েই পুরোটা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে চিকিৎসা বা শিক্ষার কোয়ালিটি কমপ্রোমাইজ করা হবে। মানে হাজিরা ঠিকঠাকই থাকবে, কিন্তু পরিষেবার মান নামিয়ে আনা হবে। যেহেতু পরিষেবার মান বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল বীমা কোম্পানির দেখার কথাই নয়, দায়ও নয়, কাজেই তদের কোত্থাও কোনো রিস্ক নেই। বরং ইনসেনটিভ হল প্রফিট। রিস্কহীন। সেটা তাদের না নেবার কী কারণ আছে?

    দুর্নীতি-টুর্নীতি তখনই আসবে, এবং তাতে কিঞ্চিৎ রিস্ক থাকবে, যদি রোগি দেখার, চিকিৎসা করার একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা হয়, এবং বাজার বহির্ভূত একটি সংস্থা সেটি মনিটার ও এনফোর্স করে। নইলে আপনি রোগিকে দুধ দিচ্ছি বলে এক গামলা জলে এক চামচ দুধ দিলেন, না অন্য কিছু করলেন, সেটা বে-আইনী নয়, দুর্নীতি নয়, তাতে কোনো রিস্কও নেই।

    এর পরেও দুর্নীতির প্রশ্ন থাকবে, সেটা এখানে ধরিইনি।
  • aka | 79.73.9.7 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১২:২৮47114
  • আর জয়ন্ত, ইশানের স্কুলের উদাহরণটির মতনও আপনার ব্যাংকের উদাহরণটি ঠিক বুঝলাম না। প্রাইভেট ব্যাংকে ইন্টারেস্ট রেট বেশি থাকতেই পারে সেক্ষেত্রে আপনার চয়েজ যে বেশি ইন্টারেস্ট রেটে লোন নেবেন কিনা। চয়েজ তো ভালো ব্যাপার। আমি নিজেই চড়া সুদে লোন নিয়ে ঘর তুলেছি। খুব ভালো করে জেনে বুঝে নিয়েছি, কারণ তখন আমার কাছে বিভিন্ন কারণে দ্রুত ঘর তোলাটা প্রায়োরিটি ছিল। আবার পরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকেও লোন নিয়েছি। এতে অসুবিধা কি?

    আর তার থেকেও বড় কথা এর সাথে RSBY এর ম্যানেজমেন্ট কিছু ইন্সিওরেন্সের হাতে তুলে দেবার সম্পর্ক নিশ্চয়ই কিছু একটা আছে কিন্তু আর একটু না লিখলে বোঝা যাচ্ছে না সম্পর্কাটা ঠিক কি? ব
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ১২:৪৮47080
  • মানে? অ্যাপেন্ডিক্সের বদলে চুল কেটে ছেড়ে দিলে তো দুর্নীতিই। সেটাই তো সরকারের ধরার কথা। তারজন্যই তো প্রসেসের দরকার। সরকার দেখবে। খুব সহজ, ধরুন কেউ অ্যাপেন্ডিক্সের বদলে চুল কেটে ছেড়ে দিল। তাহলে রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স রইল, ব্যাথাও রইল, সেই ব্যাথার চিকিৎসাও করতে হবে। যে অ্যাপেন্ডিক্স কাটা হয়েছে বলে দাবী করা হচ্ছে তারজন্যই আবার চিকিৎসা কেন? এগুলো শক্ত কিছু না। ভালো করে পড়ে দেখলে দেখবেন আমি রোগ ও রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি কোডিফিকেশনের কথা বলেছি।

    আর পরিষেবা বলতে যদি সফট বলা হয় যেমন পর্যাপ্ত নার্স নেই ইত্যাদি। সে ওভারনাইট যাবে না। অ্যাপোলোতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেও সেই পরিষেবা পাওয়া যায় না। শিক্ষার উদাহরণটি থেকে ঠিক স্পষ্ট নয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঠিক কি কি ভাবে সেটা অ্যাপ্লিকেবল।
  • guru | 69.160.210.2 (*) | ১৫ অক্টোবর ২০১৩ ০১:০০47148
  • এখন দিব্যি ডেট পাওয়া যায়। আগে ইন্টারভিউ ডেট অনলাইনে নিতে হত,স্পটে গিয়ে টাকা দিতে হত। সবাই ডেট নিয়ে রাখত কিন্তু শেষমেষ অনেকেই স্পটে অ্যাটেন্ড করত না। টাকা দেওয়াটা এখন অনলাইন হয়ে গেছে, টাকা জমা দিলে তবেই ডেট নেওয়া যায়। এখন বিশল রাশ কমে গেছে। দিব্যি ডেট পাওয়া যায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন