বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা— এই যোজনায় আপনার কি পাওয়ার কথা? আপনি কি পাচ্ছেন?

    Punyabrata Goon লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ অক্টোবর ২০১৩ | ১২৭৭৮ বার পঠিত
  • ২০০৮-এর ১লা এপ্রিল দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষদের জন্য ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা বা RSBY নামে এক স্বাস্থ্যবিমা চালু করেছেন। অন্য স্বাস্থ্যবিমায় যার নামে বিমা তাকে প্রিমিয়াম দিতে হয়। এই বিমায় কিন্তু সরকার সেই ‘প্রিমিয়াম’ দিয়ে দেন, ও গরীব মানুষ বিনামূল্যে একটা নির্দিষ্ট মূল্যমান অবধি অনেক চিকিৎসা সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেই পেতে পারেন। কিন্তু গরীব মানুষ কি জানেন তাঁর কি পাওয়ার কথা? যা পাওয়ার কথা তা তিনি পাচ্ছেন কি?

    •রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা কাদের জন্য?
    এটা হল গরীব মানুষদের জন্য করা একটা স্বাস্থ্য বিমা। সাধারণত বিমা করলে যিনি বিমা করেন, অর্থাৎ বিমাকারীকে, কিছু টাকা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিমা কোম্পানিকে দিতে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় বিমাকারীকে বিমা কোম্পানিকে কোনও টাকা দিতে হয়না। সরকার সেই টাকাটা দিয়ে দেন। বিমাকারীকে একটা কার্ড করাতে হয়। একে বলে স্মার্ট কার্ড। এই কার্ডে তথ্য সঞ্চিত থাকে—কারা পরিবারের সদস্য, ওই বছরে কতটা টাকা চিকিৎসার জন্য পরিবার ব্যয় করেছে আর কতটা টাকা তাঁরা আরও ব্যয় করতে পারেন, ইত্যাদি সবই ওই স্মার্ট কার্ড থেকে উপযুক্ত যন্ত্র দ্বারা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
    •কিভাবে স্মার্ট কার্ড করাতে হয়?
    সরকার এই কার্ড করার জন্য বিভিন্ন গ্রামে শিবির করেন। দারিদ্র-সীমার নীচে থাকা সমস্ত পরিবারকে আগে থেকে করা তালিকার সাহায্যে চিন্হিত করা থাকে। তাঁদের সবাইকে পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে শিবিরে ডাকা হয়। সেখানে বিমাকারীকে পরিবার-পিছু এককালীন ত্রিশ টাকা দিয়ে কার্ড করাতে হয়। একটি কার্ডে এক পরিবারের পাঁচজন পর্যন্ত বিমার আওতায় আসতে পারেন। কোনও পরিবারে পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকলেও কিন্তু পাঁচজনের বেশি বিমার সুবিধা পাবেন না। কোন পাঁচজন পাবেন সেটা পরিবারের প্রধান ঠিক করে দেন।
    •একটা স্মার্ট কার্ডে ক’টা ফটো থাকে?
    একটিই ফটো থাকে পরিবারের প্রধানের। বাকিদের ফটো তোলা হয়, এবং সরকারি কমপিউটারে সেটি থাকে, যাতে প্রয়োজন হলে বা বিতর্ক হলে দেখা যায় যে অন্যদের সবাই সত্যিই পরিবারের সদস্য কিনা। ফটো ছাড়াও থাকে সবার আঙ্গুলের ছাপ – তারও কাজ ওই একই।
    •স্মার্ট কার্ড করার শিবির অনুষ্ঠিত হবার কতদিনের মধ্যে পরিবারটি স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ পেতে পারেন?
    আগে ফটো তোলার শিবির হবার পরে স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে কয়েক মাস লেগে যেত। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফটো তোলার দিনই ওই শিবির থেকেই স্মার্ট কার্ড হাতে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ পেতে তারপর কয়েকদিনের অপেক্ষা।
    •রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার স্বাস্থ্য বিমার সাহায্যে কী কী চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়?
    যেখানেই হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার দরকার সে সমস্ত ক্ষেত্রেই RSBY-এর স্বাস্থ্য বিমার সাহায্যে চিকিৎসার সুযোগ আছে। হাসপাতাল সরকারি হোক আর বেসরকারি, বা হোক নার্সিং হোম, সবক্ষেত্রেই একই সুযোগ। শুধু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমের ক্ষেত্রে তাদের নামটা রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার তালিকায় নথিভুক্ত থাকতে হবে। যেহেতু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমগুলো সরকার থেকেই পয়সা পেয়ে যায়, এবং সেই পয়সাটা খুব কম কিছু নয়, তাই আজকাল খুব বড় বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোম ছাড়া অধিকাংশ নার্সিং হোম বা বেসরকারি হাসপাতাল RSBY-এর তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করছে। ফলে বহু জায়গায় এই বিমার সুবিধা মিলছে।
    •যেসব ক্ষেত্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার দরকার হয় না সেক্ষেত্রে বিমাকারী কি খরচ পাবেন?
    বেশ কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন না হলেও বিমাকারী সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন। একে পরিভাষায় বলা হয় ‘ডে কেয়ার’। যেমন ধরুন ছানি কাটার অপারেশন করে ডাক্তারবাবু রোগীকে একদিন ভর্তি রাখতে না-ও পারেন। সকালে অপারেশন করে সন্ধ্যেয় ছেড়ে দিতে পারেন। তবু রোগী কিন্তু বিমার পুরো সুবিধা পাবেন। এরকম কতকগুলি বিশেষ ক্ষেত্র আছে—যেমন কিডনির রোগীর জন্য ডায়ালিসিস। এইসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের একটি তালিকা আছে। এর বাইরে অন্য চিকিৎসার জন্য যদি রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হন তো তাঁকে বিমার সুবিধা দেওয়া যাবে না, নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে চিকিৎসা চালাতে হবে।
    •হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে আউটডোর চিকিৎসা অর্থাৎ ডাক্তারের ফি ও ওষুধের খরচ কি তাহলে এই বিমা থেকে পাওয়া যাবে না?
    সাধারণভাবে বলতে গেলে, না, পাওয়া যাবে না। কিন্তু সেখানেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই খরচ পাওয়া যেতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হবার আগে ভর্তি হবার জন্য কিছু পরীক্ষা করাতে হলে বা কিছু ওষুধ খেতে হলে হাসপাতাল সেই বিমাকারীকে সেসব বিনাপয়সায় করিয়ে দিতে পারে – কিন্তু প্রমাণ রাখতে হবে দেখাতে হবে যে তিনি যথাযথ ডাক্তারি পরামর্শক্রমে হাসপাতালে ভর্তি হবার আগের ধাপ হিসেবেই ওই পরীক্ষাগুলি করিয়েছিলেন, এবং পরে নিয়মমাফিক ভর্তিও হয়েছিলেন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় হাসপাতালটি রোগীকে বাড়িতে ব্যবহারের জন্য পাঁচদিনের ওষুধ ইত্যাদি দিয়ে দেবে – সেটার খরচও হাসপাতাল বিমার টাকা থেকেই পেয়ে যাবে।
    •‘প্যাকেজ চার্জ’ ব্যাপারটা কী?
    ‘প্যাকেজ চার্জ’ ব্যাপারটা হল এই যে কিছু বিশেষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে সব কিছু হাসপাতাল নিখরচায় করে দেবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভর্তি হবার আগের ওষুধ, অপারেশন, ভর্তি থাকাকালীন শয্যা, নার্সিং, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার, ও ছেড়ে দেবার পরে দরকারি ওষুধ ও ডাক্তারের কাছে ফলো-আপ – এই সব মিলিয়ে একটা থোক টাকা ধরা থাকে। পুরোটাই হাসপাতাল করে দেবে ও রোগীর কাছ থেকে এক পয়সা নেবে না – পরে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাছ থেকে পুরোটাই পেয়ে যাবে। ‘প্যাকেজ চার্জ’-এর লিস্টে নেই, কিন্তু প্যাকেজে আসতে পারে, এমন কিছু কিছু চিকিৎসাতেও হয়তো হাসপাতাল আগেভাগে অনুমতি নিয়ে রোগীকে ‘প্যাকেজ চার্জ’-এর সুবিধা দিতে পারে।
    •কোন কোন মেডিকাল রোগের ক্ষেত্রে ভর্তির সুবিধা পাওয়া যাবে?
    ব্যাক্টেরিয়াল মেনিঞ্জাইটিস, ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস-ঘটিত ব্রংকাইটিস, জল বসন্ত, ডেঙ্গু-জ্বর, ডিপথেরিয়া, আমাশা, মৃগী, ফাইলেরিয়াসিস, খাদ্য থেকে বিষ-ক্রিয়া, হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া, হাম, প্লেগ, নিউমোনিয়া, সেপ্টিসিমিয়া, সব ধরনের যক্ষ্মা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ভাইরাল জ্বর, মূত্র নালীর জীবাণু-সংক্রমণ, শ্বাসতন্ত্রের নীচের অংশের সংক্রমণ, ইত্যাদি যে সব রোগে ভর্তি থাকার দরকার হতে পারে, সে সব ক্ষেত্রে বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রতিদিনে সর্বোচ্চ মাত্র ৫০০টাকা খরচ বিমা কোম্পানি দেয়।
    •মেডিকাল রোগী কি কি পাবেন?
    জেনেরাল ওয়ার্ডে বেড ভাড়া, সব ধরনের ডাক্তারের ফি, রক্ত, অক্সিজেন, ওষুধ, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা, রোগীর খাবারের দাম ধরা থাকে মেডিকাল রোগীদের প্যাকেজে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির এক দিন আগে থেকে, হাসপাতাল থেকে ছুটির পাঁচ দিন পর অবধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ হাসপাতালের দেওয়ার কথা। কিন্তু বলা বাহুল্য দিনে ৫০০ টাকা এসবের জন্য একান্তই অপর্যাপ্ত।

    •মেডিকাল রোগী আইসিইউ-তে ভর্তি হলে কি পাবেন?

    জেনেরাল ওয়ার্ডের মত সব কিছুই পাবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দিনে ৭০০টাকা অবধি বিমা কোম্পানি দেবে।

    •সার্জিকাল রোগীর কি কি সুবিধা পাওয়ার কথা?

    অধিকাংশ অপারেশনের প্যাকেজ নির্দিষ্ট আছে। এই প্যাকেজে জেনেরাল ওয়ার্ডে বেড ভাড়া, নার্সিং-এর খরচ, শল্যচিকিৎসক, অজ্ঞান করার চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসকের ফি, অজ্ঞান করার গ্যাস ও ওষুধ, রক্ত, অক্সিজেন, ওটি ভাড়া, শল্যচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ওষুধ-পত্র, প্রস্থেসিস ও ইমপ্ল্যান্টের দাম, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা, রোগীর খাবারের দাম ধরা থাকে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির এক দিন আগে থেকে, হাসপাতাল থেকে ছুটির পাঁচ দিন পর অবধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ হাসপাতালের দেওয়ার কথা। সার্জিকাল প্যাকেজগুলোতে অর্থের পরিমাণ কিন্তু পর্যাপ্তই।

    কি অপারেশন?কত দিন ভর্তি থাকবেন?প্যাকেজে অর্থের পরিমাণ (টাকায়)
    ড্যাক্রাওসিস্টোরাইনোস্টমি (নেত্রনালীর অপারেশন)১ ৯০০০
    টনসিল অপারেশন (দুইদিকের)১৭০০০
    টনসিল অপারেশন (একদিকের)১৫৫০০
    অ্যাপেন্ডিসেক্টমি২৬০০০
    অ্যাপেন্ডিক্সের ফোঁড়ার পূঁজ বার করা ২৭০০০
    স্তন কর্তন৩১২,২৫০
    স্তনের টিঊমার কেটে বাদ দেওয়া (একদিকের)২৫০০০/৬২৫০
    পেট কেটে পিত্তথলি বাদ দেওয়া ৩১৩,২৫০
    মলদ্বারের ফিসার কেটে বাদ দেওয়া২৭০০০
    মলদ্বারের পাশে ফিসচুলা অপারেশন২৭৫০০
    এপিগ্যাস্ট্রিক হার্নিয়া ৩১০,০০০
    অপারেশন পরবর্তী ইনসিশনাল হার্নিয়া৩১২,২৫০
    আম্বিলিকাল হার্নিয়া ৩৮৪৫০
    ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া৩৭০০০
    একদিকের হাইড্রোসিল২৩৭৫০/৪০০০
    দুদিকের হাইড্রোসিল২৫০০০
    অর্শ ২৫০০০
    সিবেসিয়াস সিস্ট ভর্তি হবে না১২০০
    পেট কেটে জরায়ু কর্তন৫১০০০০/১২৫০০
    যোনি পথে জরায়ু কর্তন ৫১০০০০
    স্বাভাবিক প্রসব২২৫০০
    সিজারিয়ান সেকশন৩৪৫০০
    ল্যাপ অ্যাপেন্ডিসেক্টমি২১১০০০
    ল্যাপ কোলিসিস্টেক্টমি৩১০০০০
    ছানি (একচোখের)ভর্তি হবে না ৩৫০০
    ছানি (দুই চোখের) ভর্তি হবে না ৫০০০
    বাচ্চাদের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (একদিকের)৩৭০০০
    বাচ্চাদের ইঙ্গুইনাল হার্নিয়া (দুইদিকের) ৩১০,০০০
    মূত্রনালীপথে প্রস্টেট-কর্তন৩১৪,২৫০
    পেট কেটে প্রস্টেট-কর্তন২১৫,৭৫০
    মূত্রনালীকে বাড়ানো (ইউরেথ্রাল ডায়লেটেশন)১২২৫০
    সব প্যাকেজের সাম্প্রতিক অর্থমূল্যের জন্য ওয়েবসাইট দেখুন।

    •হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে গিয়ে রোগী কার সঙ্গে কথা বলে এইসব সুবিধা সম্পর্কে জানবে?
    যে সব হাসপাতাল বা নার্সিং হোম রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় নথিভুক্ত, সেখানকার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হল RSBY-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট কাউন্টার রাখা। সেখানে এইসব সুবিধা কিভাবে পাওয়া যায় সেব্যাপারে রোগীকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এমনকি যদি সেখানকার স্মার্ট কার্ড মেশিনটি কোনও কারণে কাজ না করে, সেই অজুহাতে রোগীকে ফেরানো বা টাকা চাওয়া চলবে না; হাসপাতালের দায়িত্ব হল যেভাবে হোক ওই কার্ডটির ব্যবহার করা। রোগীর দায়িত্ব কেবল যথাযথ কার্ডটি সঙ্গে নিয়ে পৌঁছানো। পরিবারে নথিভুক্ত যে কোনও সদস্যের হাতের ছাপ দিলেই কার্ডটি মেশিনে নথিভুক্ত হবে, কার্ডে কত টাকা আছে জানা যাবে, এবং তত টাকার চিকিৎসা হাসপাতাল বা নার্সিং হোম (ভর্তি রোগীর ক্ষেত্রে) বিনা পয়সায় করাতে বাধ্য। তার চাইতে বেশি টাকা লাগলে সেটা আগেভাগে জানিয়ে রোগীর কাছ থেকেই সেই অতিরিক্ত পয়সাটা নিতে হবে।
    •তার মানে স্মার্ট কার্ড থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগী পকেট থেকে খরচা করবে?
    আগেই বলা হয়েছে, পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্য পিছু বছরে সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা। ধরুন পরিবারে বাবা, মা, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলের হাইড্রোসিল চিকিৎসার জন্য চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এক মেয়ের পিত্তপাথুরির জন্য দশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, মায়ের গর্ভাশয় কেটে বাদ দিতে গেছে চোদ্দহাজার টাকা। তাহলে মোট আটাশ হাজার টাকা একবছরে খরচ হয়েই গেছে। এবার বাবার চোখ অপারেশনের জন্য যদি সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগে তো রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার স্মার্ট কার্ড থেকে দুহাজার টাকার বেশি দেবেনা, বাকি দেড় হাজার টাকা পকেট থেকে দিতে হবে। কিন্তু এই অপারেশনটা যদি সেই বছরের পরে করা যায় তো কার্ডে আবার ত্রিশ হাজার টাকা জমা করবেন সরকার, এবং বাবার চোখ অপারেশনের জন্য সাড়ে তিন হাজার হাজার টাকা পুরোটাই সেখান থেকে পাওয়া যাবে। কার্ডের হিসেবে কবে নতুন বছর শুরু হবে সেটা জানতে হবে। সেটা কার্ড দেবার সময়ে বলে দেওয়া হয়, তাছাড়া হাসপাতালে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাউন্টার থেকেও সেটা জেনে নেওয়া যায়।
    •যে সব অসুখ আগে থেকে আছে সে ক্ষেত্রে কি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে?
    সাধারণত স্বাস্থ্যবিমা করার আগে থেকে কোনও অসুখ থাকলে বিমা কোম্পানিগুলো সেই অসুখ বা তার ফলে উদ্ভূত কোনও অসুখের চিকিৎসার জন্য টাকা দেয় না। ধরা যাক কোনও ডায়াবেটিস রোগী সাধারণ কোম্পানির কাছে পয়সা খরচ করে স্বাস্থ্যবিমা করালেন – বিমা কোম্পানি দেখে নিল বিমা করার আগে থাকতেই তাঁর ডায়াবেটিস রোগ আছে। এবার ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে খরচ করলে বিমা কোম্পানি একপয়সাও দেবে না। শুধু তাই নয়, ধরা যাক তাঁর ডায়াবেটিস-এর ফলে কিডনি নষ্ট হয়ে গেল, ডায়ালিসিস করতে হল। বিমা কোম্পানি ডায়ালিসিস-এর জন্যও একপয়সাও দেবে না। এদিক থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা অনেক বেশি, কেননা বিমা করার আগে থাকতে কোনও অসুখ থাকলেও সেব্যাপারে চিকিৎসার খরচ এই বিমাতে পাওয়া যাবে। তাই এই বিমা করার সময়ে বিমাকারীর কোনও অসুখ আছে কিনা সেসব পরীক্ষাও করা হয়না।
    •প্রসবকালীন খরচ কি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার থেকে পাওয়া যায়?
    হ্যাঁ। আগেই বলেছি স্বাভাবিক প্রসবে প্যাকেজ ২৫০০ টাকার, জটিল প্রসব বা সিজারিয়ান সেকশনে ৪৫০০ টাকা।
    •RSBY-তে রাহা খরচ পাওয়া যায়?
    একটা খরচ রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার থেকে পাওয়া যায়, যা আর কোনও বিমায় পাওয়া যায় না। তা হল হাসপাতালে ভর্তির জন্য যাতায়াতের খরচ, বা রাহাখরচ। প্রতিবার হাসপাতালে ভর্তির জন্য বিমাকারী যাতায়াতের খরচ হিসাবে ১০০ টাকা পান। তবে একটি বিমা চালু থাকা অবস্থায় বিমাকারী পরিবার সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার বেশি রাহাখরচ পাবেন না, তারপর হাসপাতালে ভর্তি হলেও নিজের খরচে যেতে-আসতে হবে। এই রাহাখরচ পাবার জন্য কোনও ট্রেন-বাসের টিকিট বা ওইরকম কোনও প্রমাণপত্র দেখাতে হয়না।
    পরিষেবা-প্রদানকারী হাসপাতাল/নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কাকে জানাবেন?
    নথিভুক্ত হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে দেখবেন রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবীমা যোজনার একটি বোর্ড বা ব্যানারে RSBY-কার্ড হোল্ডারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য/ হাসপাতালের দায়িত্ব ও অধিকার লেখা আছে। সেখানে জেলার কিয়স্কের নম্বর পাবেন। টোল ফ্রি একটি নম্বর আছে ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮।
    এছাড়া রাজ্যের সর্বোচ্চ নোডাল এজেন্সি-র কথা জেনে রাখুন—
    Director, ESI (MB) Scheme,
    Govt. of West Bengal,
    P-233, C.I.T. Scheme-VIIM, Bagmari Road, Kolkata-700054
    Contact No: (033)2355-6385 /6162 , 033-23556384(RSBY Cell)

    বাস্তবে RSBY-এর সুযোগ গরীব মানুষ কতটা পাচ্ছেন?
    •মাস খানেক আগে কুলপি-তে এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেল। উপস্থিত RSBY-কার্ড হোল্ডারদের অধিকাংশকে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত খরচ করে চিকিৎসা পেতে হয়েছে। অ্যাপেন্ডিসেক্টমি বাবদ কার্ড থেকে কাটা হয়েছে ৬০০০ টাকা, ওষুধ-পথ্য-নার্সিং খরচ ইত্যাদি দেখিয়ে আরও হাজার সাতেক খরচ পকেট থেকে। সিজারের খরচ কার্ড থেকে এসেছে, সঙ্গে লাইগেশনের খরচ নেওয়া হয়েছে দেড় হাজার টাকা। ইত্যাদি, ইত্যাদি...।
    •কার্ড রিনিউয়ালের জন্য অনেকের কাছ থেকে ৫০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যদি এটা বিনামূল্যে করার কথা।
    •মুর্শিদাবাদের নিয়মিত সামাজিক কাজে যান এমন এক সিনিয়ার স্ত্রীরোগবিদের পর্যবেক্ষণ—প্রচুর বেড়ে গেছে জরায়ু-কর্তন অর্থাৎ হিস্টেরেক্টমির হার, স্ত্রীরোগবিদরা দিনে ২-৩টে করে হিস্টেরেক্টমি করছেন—অধিকাংশই যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া। (গত বছর প্রচারিত আমির খানের সত্যমেব জয়তের চতুর্থ এপিসোড মনে করুন। সেখানেও দক্ষিণের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলের কথা বলা হয়েছিল যেখানে মহিলাদের জরায়ু নেই।)
    • একশ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র সুযোগঃ ২০১২ সাল থেকে এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আর একটি প্রকল্প RSBY-এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট তথা MGNREGA – এর একশ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্পে বেশিদিন কাজ করেছেন (১৫ দিন বা তার বেশি) তাঁর ও তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা বছরে ১৫ দিনের বেশি MGNREGA – তে কাজ করেছেন তাঁদের অধিকাংশই গরীব সেটাও ঠিক। কিন্তু এদের আলাদা করে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-তে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারটা গ্রামের গরীব মানুষেরা এখনও বুঝে উঠতে পারেন নি, ফলে এই সুযোগে গ্রামের করিতকর্মা মাতব্বরেরা বেশ কিছু বাবুলোকের নামও এই নিখরচায় স্বাস্থ্য বিমাতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। মাতব্বরেরা অন্যায়ভাবে এইসব বাবুলোকের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ‘জব কার্ড’ করিয়ে দিয়েছিলেন, তারপর সেগুলো বাৎসরিক আর্থিক চুক্তিতে ভাড়া নেন, আর গ্রামের সব কাজের প্রকল্পেই এদের কার্ডগুলো ব্যবহার করেন। ফলে রেকর্ড অনুযায়ী, ওই কার্ডগুলোর মালিকরা বছরে ১৫ দিনের বেশি MGNREGA – তে কাজ করেছেন। যদিও এঁরা সত্যিকারের কাজ কিছু করেন নি, ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে চাপ দিয়ে কম কাজকে বেশি কাজ বলে জবরদস্তি করে দেখিয়ে সরকারের MGNREGA – র টাকা মেরে দিয়েছেন। কিন্তু খাতায়-কলমে তাঁরা ১৫ দিনের বেশি কাজ করেছেন বলে দেখানো আছে, ফলে তাঁরাই আবার নিখরচায় স্বাস্থ্য বিমার অধিকারী হয়ে যান!
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা-র কার্ড ও তার সুবিধাভোগীদের নানা অভিজ্ঞতাঃ
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা প্রকল্পের জন্য প্রত্যেক প্রাপকের নামে ছাপানো স্লিপ আসে ও সেগুলো তাঁদের দিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন তাঁরা পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে যেখানে এজেন্সিটি ক্যাম্প করেছে সেখানে এসে ফটো তোলার জন্য লাইন দেন। সকালের দিকে তুলনায় ফাঁকা থাকে, কেননা গ্রামের মানুষ তখন রুজি-রোজগারের ধান্দায় ক্ষেতে খামারে। এখানে প্রথমে ত্রিশটাকা দিয়ে রসিদ নেওয়া, তারপর ঘরের মধ্যে ক্যামেরার সামনে পরিবারের পাঁচজনের ছবি তোলা, পাঁচজনের বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া – পরিবারের কাজ শেষ। গ্রাম-পঞ্চায়েতের একজন কর্মচারী তাঁর বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পরিবারটিকে সনাক্ত করতে সাহায্য করেন। ব্যাস - সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের কর্তার হাতে কার্ডটি তুলে দেওয়া হয়। কার্ডে পরিবার-প্রধানের মুখের ছবি ও নাম থাকে। বিগত বছরগুলোতে কিন্তু কার্ড পরে দেওয়া হতো। অনেক সময় ফটো তোলার পরে কার্ড মিলতে বছর গড়িয়ে যেত। তাই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। যেমন পাট ছাড়ানোর সময়ে মানুষ সকালে আসতে পারেন না, তিনটের পর থেকে ভিড় জমান, আর রাত্রি আটটা পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যায় না।
    কার্ড করতে আসা পরিবারগুলোর কথা থেকে জানা যায়, গত বছর কোনও পরিবার অপারেশন করিয়েছে, টাকা লাগেনি। কেউ হয়তো এসেছেন - কার্ড করানোর পরে তবে তাঁর বাবার চোখের ছানি কাটাতে পারবেন। কিন্তু ছুবান ভাই, পানসুন্দুরী বেওয়ারা অন্য কথা বলেন। কার্ড করে তাঁরা পরিবারের মানুষকে তালিকাভুক্ত নার্সিং হোমে ভর্তি করিয়েছেন, অপারেশন হয়েছে। তারপর ছুটির সময়ে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ কার্ডটি নিয়ে দুঃখ-দুঃখ মুখ করে বলেছেন – আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না, জাল কার্ড? নাকি আঙ্গুলের ছাপটা ভালো করে নেয় নি? যাহোক, তাঁদের তো টাকাটা দিতে হবে। তখন তাঁরা ধার-কর্জ করে টাকা দিয়ে এসেছেন। আসলে নার্সিং হোম কার্ড নিয়ে টাকা বের করে নিল, আর নিরক্ষর মানুষগুলোর কাছ থেকেও টাকা নিল – তাঁরা বুঝতেই পারলেন না।
    রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা – সব ঠিক আছে কি?
    MGNREGA –তে গ্রামের মাতব্বরেরা অন্যায়ভাবে নানা বাবুলোকের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ‘জব কার্ড’ করিয়ে দেন, তারপর সেগুলো বাৎসরিক আর্থিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে গ্রামের সব কাজের প্রকল্পেই এদের কার্ডগুলো ব্যবহার করেন, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনাতেও সেরকম দুর্নীতি ঘটছে। সরকারের টাকা মারা যাচ্ছে, গরীবের কার্ড হচ্ছে না, হলেও অনেক নার্সিং হোম টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে। এটা একটা চিন্তার বিষয়। বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কাউন্টারে কিভাবে কত টাকা নেওয়া হল সেটা সরল গরীব গ্রামীণ মানুষ, যাঁদের অনেকে আবার নিরক্ষর, তাঁরা ধরতেই পারেন না।
    কিছু দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও মুর্শিদাবাদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা আগেই বলেছি।
    •এছাড়া আপনি কার্ড নিয়ে দেখাতে গেলেন—ভর্তির প্রয়োজন নেই তবু ভর্তি করে নেওয়া হল। নামমাত্র চিকিৎসা করে মিথ্যা নথিপত্র দিয়ে বেশি টাকা তুলে নেওয়া হল—এমনটা হচ্ছে।
    •ছোট কোন অপারেশন হল, যার প্যাকেজ-মূল্য কম। নথিপত্রে দেখানো হল বড় অপারেশন হয়েছে। বেশি টাকা কার্ড থেকে কেটে নেওয়া হল। আপনার পকেট থেকে টাকা গেল না বটে, কিন্তু এ বছরের মধ্যে পরিবারের কাউকে যদি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন বরাদ্দ কিন্তু কম হয়ে থাকবে।।
    মানুষকে সচেতন করার জন্য এ লেখা যাতে তাঁরা RSBY-এর সুবিধা নিতে পারেন, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—RSBY-ই কি সমাধান? গরীব মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকার খরচ করছে, কিন্তু সেটা সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয়, বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিং হোমে। সরকার যে খরচ করছে তা কিন্তু জনসাধারণের করের-ই টাকা। তাহলে টাকার অভাবে সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই লক্ষ্যপূরণের উদ্দেশ্যে এগোতে পারছেন না, এটা তো বলা যায় না।
    সরকারই যখন টাকা খরচ করছে, তখন সরকার সরকারি হাসপাতালের উন্নতি ঘটাচ্ছে না কেন, যাতে সেখানেই উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, রোগীকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় যেতে হয় না? উলটে সরকার সরকারি হাসপাতালে যেটুকু ফ্রি ছিল সেসব বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের নাম করে সব লাভ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছে, এমনকি গোটা হাসপাতালটাই দিয়ে দিচ্ছে......।
    দ্বাদশ পরিকল্পনার আগে যোজনা কমিশন ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’-এর লক্ষ্যে কি কি করণীয় সে বিষয়ে সুপারিশ করতে এক উচ্চ-স্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেন। ডা শ্রীনাথ রেড্ডির নেতৃত্বাধীন সে দলের সুপারিশ ছিল সরকার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় সামান্য বাড়িয়ে প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা বিনামূল্যে সমস্ত নাগরিককে দিক। তাঁরা স্বাস্থ্যবিমার বিরুদ্ধে বলেন, স্বাস্থ্যপরিষেবার বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করেন। যোজনা কমিশন বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ মানে নি। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ বাক্যবন্ধটুকু রেখে দিয়ে তারা বলছে সরকার পরিষেবা-প্রদানকারীর ভূমিকা থেকে সরে এসে ব্যবস্থাপনার কাজ করবে। তাদের প্রস্তাব কেবল গরীব মানুষদের জন্য RSBY নয়, সব নাগরিকের জন্যই এমন বিমা ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রিমিয়াম (জনগণের পয়সায়) দেবে সরকার, একটা নির্দিষ্ট সীমা অবধি খরচ কার্ডধারী পাবেন, তার ওপরে খরচ করতে হবে নিজেকে।
    স্বাস্থ্যবিমা সমাধান হতে পারে না, সবার জন্য স্বাস্থ্যের সবটুকু প্রয়োজন সরকারকে মেটাতে হবে এই আমাদের দাবী হওয়া উচিত। কিন্তু যতক্ষণ না তা হচ্ছে, ততদিন RSBY-এর যতটা সুবিধা আপনার প্রাপ্য বুঝে নিন—আপনার প্রাপ্যে যেন ভাগ না বসায় স্বাস্থ্য-ব্যবসায়ী।

    এই রচনায় অফুরান সাহায্য নিয়েছি ডা জয়ন্ত দাসের। তিনি যে পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক সেই ‘স্বাস্থ্যের বৃত্তে’ পত্রিকার দশম সংখ্যায় প্রকাশিত বাবু সাহার রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা বিষয়ক একটি প্রবন্ধের প্রচুর সাহায্য নিয়েছি আমার রচনায়।

    দুর্বার ভাবনা পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০১৩ সংখ্যায় প্রকাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ অক্টোবর ২০১৩ | ১২৭৭৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aka | 81.91.98.87 (*) | ১১ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:২৬47051
  • একটা হসপিটাল আর একটা ইন্সিওরেন্স কোম্পানি হলে এইতার তাও মানে দাঁড়ায়।

    সরকার চেক করবে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা যতটা সম্ভব অটোমেটেড ওয়েতে।

    এতে অ্যাজাম্পশন হল সরকার পক্ষে কিছু এফিশিয়েন্সি, কিছু ভালো লোক আছে। সেটা খুব কম ধরে নিয়ে যতটা পার্সন ইন্ডিপিন্ডেন্ট করা যায়।
  • জয়ন্ত | 127.194.85.147 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৩২47063
  • aka এইবার মনে হয় বোঝা গেছে কোথায় আপনি আর ঈশান মৌলিকভাবে আলাদা। আপনার একটা অ্যাজাম্পশন আছে, যেটা এই প্রতর্ক থেকে উঠে আসেনি। আপনি লিখেছেন, " অ্যাজাম্পশনের আর একটা দিক হল সরকারকে যতটা লীন রাখা যায় [তত ভাল]-সব ক্ষেত্রে না শুধু এই ক্ষেত্রে।" আমি 'তত ভাল' কথাটা যোগ করলাম ব্র্যাকেটে, ঐটাই আপনার মত তথা অ্যাজাম্পশন তো? সেটা একটা বিশেষ (অর্থ)-নৈতিক অবস্থান। আমার অবস্থান অনেকটাই তার বিপরীত।

    আমি মনে করি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-খাদ্যের ব্যবস্থা সরকারের প্রাথমিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এটা অবশ্য আমি অ্যাজাম্পশন বলিনা, বলি আমার মত, আমার অবস্থান। আপনি যে অবস্থানে আছেন, তাতে মনে হয়না একটা বিশেষ বিষয়, যথা RSBY বা ঐরকম অন্য কিছু, নিয়ে আলোচনা করলে একমতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা অল্প। সে চেষ্টা / পন্ডশ্রম করছি না।

    আর একটা মুশকিল হল, আকা বলছেন, "সে যাক আমি অন্য সলিউশন শুনতে আগ্রহী। যদি আদৌ কিছু থাকে।" আবার বলছেন,"ভারতে যেকোনো পসিবল সলিউশন দিন তাতে বহু গলতা চোখে পড়বে।" মানে হয়তো এরকম হতে পারে যখন উনি সমাধান দেবেন, তখন গলতা থাকলে সেটা ভারতের সাধারণ গলতাপ্রবণতার জন্য, আর অন্য কেউ সমাধান দিলে হয়তোবা "হ্যাঁ ঠিক ঠিক। সরকারী হাসপাতালই উপায়। দিকে দিকে আন্দোলন গড়ে তুলুন।" বলে ব্যাঙ্গ করবেন।

    কঠিনভাবে কথা বললাম হয়তো। মাপ করবেন। আর আমার বোঝার ভুল হ'লে, ধরিয়ে দেবেন।

    আর cm এর কমেন্ট থেকে তাঁর মতটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। "বড় লোকের বা তার বাচ্চার জন্য কোন রকম আলাদা ব্যবস্থা নেই।" নেই? কিন্তু আছে তো? আপনি কি বলতে চাইছেন "আলাদা ব্যবস্থা থাকা উচিৎ নয়, থাকবে না।"? আর কয়েন টস করে প্রাথমিক স্তরে স্কুলে ভর্তি সত্যি হয়েছে, তাই সেই সাজেশনটা পুরো ব্যঙ্গ বলতে পারছি না। কি জানি কী মানে করতে চেয়েছেন!
  • cm | 122.79.37.61 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৩৯47064
  • আমি কোন ব্যঙ্গ করিনি যা বলেছি তেমনটাই চাই। শিক্ষা স্বাস্থ্য এসব ক্ষেত্রে কেউ কোন প্রেফারেন্সিয়াল সিস্টেম পাবেন না। আর আমি সব ক্ষেত্রেই সরকারিভাবেই সব চাই। নেপোয় মারে দই যেন কোন মতেই না হয়।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:২৫47052
  • একটা হসপিটাল আর একটা ইনসিওরেন্স কোম্পানি কেন, অর্থনৈতিক যুক্তিটা পারফেক্ট কম্পিটিশনের জন্যও একই ভাবে কাজ করবে। দ্বিমত থাকলে যুক্তি দিয়ে বলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কখনই পারফেক্ট কম্পিটিশন সম্ভব নয়। কারণ বীমাতেও যেমন গুটিকতক বড়ো খেলোয়াড়ই খেলবে, হাসপাতাল/স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও তাই। সবই চেন। এরকম দিবাস্বপ্নে ভোগার কোনো কারণ নেই, লোকালয়ে লোকালয়ে স্থানীয় বিনিয়োগে হাসপাতাল গড়ে উঠবে।

    পারফেক্ট কম্পিটিশনে কেন ব্যাপারটা একই থাকবে, যদি একান্তই বোঝা না যায়, তাহলে আরেকটা অনুরূপ অবস্থার উদাহরণ দিয়ে বলি। ধরুন, ইশকুলে শিক্ষার অবস্থা খুব খারাপ। প্রচুর বাজে খরচ কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা প্রচুর ড্রপ আউট হচ্ছে, প্রচুর বাজে খরচা হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই দেখে সরকার স্থির করল, এবার মনিটারিং এর দায়িত্ব একটা বা একাধিক বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেবে। তাদের হাতে থোক টাকা দেওয়া হবে। ক্লাস পিছু প্রতি ছাত্রপিছু গুণে-গেঁথে তারা ইশকুলকে পয়সা দেবে। সেই দিয়ে ইশকুলকে তার মাস্টারদের মাইনে, খরচ এইসব চালাতে হবে। চাইলে এরপর তারা লাভও করতে পারে।

    এবার, বেসরকারি মনিটারিং কোম্পানিটি/গুলি ধরা যাক, মনিটারিং এর কাজ খুব ভালোভাবে করল। তারা প্রতিটি ছাত্রকে নিখুঁত ভাবে গুণে ইশকুলকে পয়সা দিল। ছাত্ররা ক্লাস করলে ইশকুল পয়সা পেতে লাগল, নইলে নয়। এখানে অগণিত ইশকুল আছে। একটা নয়। তারা টিকে থাকার জন্য কী করবে? তারা প্রত্যেকেই ছাত্রদের ক্লাসে ধরে রাখার চেষ্টা করবে। নইলে পয়সা নাই। এখানে ইশকুলের সংখ্যা অগণিত, মনিটারিং কোং এক আধটি। এবং উভয়েই বাজারের নিয়মে ইনসেনটিভের জন্য কাজ করবে। ইশকুলের জন্য ইনসেনটিভ হল বেশি পয়সা। তাই বেশি ছাত্রকে ইশকুলে ধরে রাখা হবে। আর হিসেবে গোলমাল করলে মনিটারিং কোম্পানির কম লাভ। তাই তারা তাদের ইনসেনটিভ, অর্থাৎ অধিকতর প্রফিটের জন্য ছাত্রদের হিসেবটা নিখুঁতভাবে রাখবে। (ভারতীয় পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেই প্রচুর জালি হবে, কিন্তু সেটা এখান থেকে একদম বাদই দিলাম)।

    এবার প্রশ্ন হল, এই মেকানিজম একদম নিখুঁত ভাবে কাজ করলেও কি শিক্ষার উন্নতি হবে? করবেনা। কারণ ইশকুলের ইনসেনটিভের সংগে ছাত্রসংখ্যার একটা সম্পর্ক আছে। ভোক্তাদের পরিতৃপ্তি (এক্ষেত্রে শিক্ষা)র কোনো সম্পর্ক নাই। শিক্ষার মান বাড়লেও যা ইনসেনটিভ, না বাড়লেও তাই। অতএব তারা কোনোরকমে একবার ছাত্রদের হাজিরা কিকরে দেওয়ানো যায় সেদিকে মনোনিবেশ করবে। তার নানা পদ্ধতি হতে পারে। সহজে পাশ করিয়ে ডিগ্রির লোভ হতে পারে। রোজ এসে হাজিরা দিলে জিলিপি খেতে দেওয়া হবে হতে পারে। মোট কথা হল, ফোকাসটা হয়ে দাঁড়াবে শিক্ষার মান কমিয়ে হাজিরা বাড়ানোর দিকে। একটু এসে বাপু হাজিরাটা দিয়ে যাস, তারপর পাশটাশ আমরা করিয়ে দেব... এইরকম একটা ব্যাপার।

    এটা পুরোটাই ইনসেনটিভ ভিত্তিক মার্কেট মেকানিজমের অনিবার্য ফল। এবার এটা যদি আটকাতে হয়, তো আপনি কী করবেন? কোয়ালিটি কন্ট্রোল, অর্থাৎ পরীক্ষা ব্যবস্থাটি ইশকুলের হাতে ছাড়বেন না। ছাড়লে তারা মুহতে সবাইকে ক্লাস টেন পাশ করিয়ে দেবে। পরিবর্তে আপনি একটি কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করবেন (যথা মাধ্যমিক), যার ফলাফল ইশকুলের পরিষেবার একটি নির্দেশক (মানে ইন্ডিকেটর আরকি)। এবং খুব সম্ভবতঃ ছাত্রদের হাজিরা নয়, পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে আপনি ইনসেনটিভের মেকানিজমটি যোগ করবেন। অর্থাৎ যতজন পাশ করল, তার ভিত্তিতে পয়সা, ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করলে বেশি পয়সা, ইত্যাদি। পরীক্ষা আদর্শ ইন্ডিকেটর কিনা সে নিয়ে তর্ক চলতে পারে, আমি আদর্শ দাবীও করছিনা, কিন্তু মূল কথাটা হল, পরিষেবার মান বা কোয়ালিটির সঙ্গে মার্কেট মেকানিজমকে যোগ করলে তবেই আপনি উন্নতির আশা করতে পারেন, নইলে নয়। এবং আরও একটা জিনিস লক্ষ্যণীয়, যে, কোয়ালিটি কন্ট্রোলটি একটি অলাভজনক/নিরপেক্ষ/সরকারি সংস্থার হাতেই ছাড়তে হবে। তা না করে পরিষেবার মান মাপার দায়িত্ব, এক্ষেত্রে পরীক্ষা নেবার দায়িত্ব যদি ইশকুলের হাতে ছেড়ে দিই, তাহলে তারা অর্থনৈতিক ইনসেনটিভের জন্য পরিষেবার মাত্রার যোগ্যতামানকেই নিজের মতো করে ক্রমশঃ নীচে টেনে আনবে। অর্থাৎ মান মাপার সংস্থাটিকে বাজার-নিরপেক্ষ এবং কুশল হতে হবে (ঘুষ খেলে চলবেনা আর কি)।

    এবার পুরো অ্যানালজিটি স্বাস্থ্যে টেনে আনুন। ইশকুলের জায়গায় হাসপাতাল। মনিটরিং কোং এর জায়হায় বীমা সংস্থা। আর ছাত্রদের জায়গায় রোঘ। বিষয়টা একই। বীমা আর হাসপাতাল, খুব কুশলভাব কাজ করলেও তাদের ইনসেনটিভ হল সংখ্যায়। তারা সেটা বাড়াবে বা কমাবে। কিন্তু পরিষেবা এখানে কোনো প্যারামিটারই নয়। ফলে সেটা কমিয়ে আনা হবে, কাটছাঁট করা হবে। বাজারের নিয়মে। সেটা আটকাতে গেলে একটা কর্মদক্ষ ও বাজার-নিরপেক্ষ মান-নির্ধারক সংস্থা বা মেকানিজম চাই। সেটা কোথায়? কিভাবে আসবে?

    এই মেকানিজমটি দেশে নাই। সেটা আগে বানানো দরকার। তার জন্য আগে মাপকাঠিটি বানানো দরকার। সে মরুক, সে পরে লেখা যাবে। চাট্টি গ্রাফ টাফ দিয়ে লিখলে এটা একটা পেপার হয়ে যেত। :) কিন্তু গ্রাফ দিইনি বলে আকা পড়লনা এমন যেন না হয়। এটা সিরিয়াস সমস্যা। সিরিয়াসলিই ভাবা দরকার।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:২৮47053
  • "আর ছাত্রদের জায়গায় রোঘ" নয়, "আর ছাত্রদের জায়গায় রোগি" হবে।
    বাকি ভুলগুলো আর ঠিক করলাম না। ওগুলো ততটা মারাত্মক নয়। :)
  • aka | 79.73.9.7 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৪৭47054
  • ঃ))))

    হ্যাঁ ঠিক ঠিক। সরকারী হাসপাতালই উপায়। দিকে দিকে আন্দোলন গড়ে তুলুন। ধান ভানতে শীবের গীত গেয়ে লাভ নেই।

    ভারতে টাকা দিয়েও পরিষেবা পাওয়া যায় না। এটুকুর জন্য স্কুল টুল ইত্যাদি আনার দরকার নেই। ভারতে যেকোনো পসিবল সলিউশন দিন তাতে বহু গলতা চোখে পড়বে। জগদ্দল হাসপাতাল ও তার পরিষেবা তো দেখলাম অনেক।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৫৯47055
  • প্রশ্নটা একেবারেই ব্যঙ্গবিদ্রূপের নয়। ধান ভানতে শিবের গীতও নয়। আন্দোলন গড়ে তোলারও নয়। সরকারি হাসপাতাল পরিষেবাও ভেঙে পড়েছে সেতো দেখাই যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন?

    উল্টোদিকে ঢালাও বাজার অর্থনীতি কি কোনো সমাধান? দেখাই যাচ্ছে, নয়। কেন নয়?

    এই দুটো চিহ্নিত না করলে দাবীটা কিসের তোলা হবে? চাইবটাই বা কি? দিকে দিকে সচেতনতা গড়ে উঠুক বলছি, অগ্রগতি হোক বলছি, কিন্তু বাস্তবে চাইবটা কি? কোন সচেতনতা চাইব? আমার মনে হয়, এগুলো নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা দরকার। খিল্লির চেয়ে এরা স্লাইট বেশি গুরুত্ব দাবী করে।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:০৯47056
  • সরকারি হাসপাতাল পরিষেবা ভেঙ্গে পড়ার একটা বড় কারণই তো স্বাস্থ্যের বেসরকারিকরণ। এই বিমা প্রকল্প চালু হলে আরো বেশি করে সেটা হবে।
  • Punyabrata Goon | 151.0.8.141 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৪৮47057
  • শ্রীনাথ রেড্ডি-র চেয়ারম্যা্নশিপে High Level Expert Group on Universal Health Coverage পরিষ্কার ভাবে স্বাস্থ্যবীমার বিরোধিতা করেছে, সরকারী পরিকাঠামোকে মজবুত করে তার মাধ্যমে প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছে।
    rsby-তে মানুষ কতটা পরিষেবা পাচ্ছেন, কিভাবে প্রতারিত হচ্ছেন--আমার জানা-বোঝা লেখার চেষ্টা করেছি।
    surgical illnesses-এ প্যাকেজের সুবিধা আছে, medical illnesses-এ দৈনিক বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল।
    rsby থাকলে রোগীদের out of pocket expenditure করতে হচ্ছে না ব্যাপারটা এমন নয়।
    মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবীমার অসারতা তুলে ধরার জন্যই rsby-এর ব্যাপারে তাঁদের সচেতন করা দরকার বলে মনে হয়।
  • জয়ন্ত | 127.194.86.94 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:০১47058
  • ঈশান যা বলেছেন সেটা যুক্তিসহ মনে হচ্ছে। আকা যা বলেছেন সেটাও যুক্তিসহ, তবে তাঁর ক্ষেত্রে একটা অ্যাজাম্পশন লুকিয়ে আছে বলে মনে হয়। সেটা হল, সরকারি মনিটরিং বেসরকারি ক্ষেত্রে ঠিকই চলবে, সরকারি ক্ষেত্রে কিন্তু চলবে না।

    ভুল বললাম কি, আকা? মানে আপনাকেও তো বলতে হচ্ছে, "সরকার চেক করবে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা যতটা সম্ভব অটোমেটেড ওয়েতে।...এতে অ্যাজাম্পশন হল সরকার পক্ষে কিছু এফিশিয়েন্সি, কিছু ভালো লোক আছে। সেটা খুব কম ধরে নিয়ে যতটা পার্সন ইন্ডিপিন্ডেন্ট করা যায়।"

    মানে আকা ধরে নিয়েছেন সরকারি বন্দোবস্ত করে বেসরকারি ব্যবস্থাকে সুপথে রাখতে পারবে। তা'হলে, সেই আকাই আবার বলছেন কেন, "ভারতের ক্ষেত্রে যেকোন প্রসেসেই লক্ষ্যাধিক গলতা বের করা যেতে পারে। যেমন বিনা পয়সার চিকিৎসা ক্ষেত্রে। সরকার টাকা দিয়ে লোকজন নিয়োগ করল। তারা হপ্তায় দুই দিন সেটা খোলে বাকি পাঁচদিন নিজেদের অন্য কাজ করে। যে দুইদিন খোলে সেই দুইদিনেও লোক এলে পাত্তা দেয় না। বেড নেই বলে তাড়িয়ে দেয়।"

    বলছেন যে, তার কারণ হল তাঁর অভিজ্ঞতা। সরকার তার নিজের ব্যবস্থাকে মনিটরিং করেনি। করতে পারত না, করা সম্ভব নয়, এইটা যদি বলেন, তাহলে ঘুরেফিরে সেই কথাতেই আসতে হবে -- তবে বেসরকারি ব্যবস্থা মনিটরিং সম্ভব ভাবছেন কেন?

    আমার কথাটা এখানেই। সরকার সরকারি ব্যবস্থার মনিটরিং ভাল করে হোক, এইটা চায় কি? ভেবে দেখুন, যে সরকার সবকিছুতে বিলগ্নিকরণ করছে, স্বাস্থ্যবিষয়ে একদিকে আন্তর্জাতিক পুঁজিকে নিজের দেশে ডাকছে, অন্যদিকে নিজের দেশে প্রাইভেট স্বাস্থ্য-ব্যবসা হেলথহাব ইত্যাদি গড়তে দেশীয় পুঁজির বিকাশ হোক, সেটা চাইছে, সেই সরকার কেন ভাল সরকারি হেলথ সিস্টেম চাইবে? সেটা ডিসম্যান্টল করতে গেলে সরকারের ওপর তো বেনেফিসিয়ারিরা চাপ দেবে, যেমন ব্রিটেনে এন এইচ এস ভাঙ্গতে গিয়ে সরকার পিছিয়ে এসেছে।

    আমাদের সরকার যারা চালান, তাঁরা সত্যিই তো বোকা নন, যতই আমরা কমেডি বানাই না কেন তাঁদের নিয়ে। তাঁরা খুবই চালাক। এতোটাই চালাক যে তাঁদের বোকা-বোকা ভাবমূর্তিটাও তাঁরা কাজে লাগান। এই নিয়ে আলাদা থ্রেড, থুড়ি, টই বোধহয়, হতে পারে। সেটা ছেড়ে দিচ্ছি এখন। কথাটা এইটুকু, সরকার চান না সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভাল হোক।

    কিন্তু আমাদের তো ভোটাধিকার আছে। খারাপ স্বাস্থ্যব্যবস্থা হ'লে আমরা কি উলটে দেবনা সরকার? সেটা আটকাতে চাই স্কেপগোট। এমন স্কেপগোট যারা ভাল নন, মানুষের ভাল করছেন না, মানুষ যাঁদের ওপর রেগে কাঁই। ডাক্তার হল সেই স্কেপগোটকুলের প্রধান। এই নিয়ে আরেকটা হই-টই হতে পারে, সুতরাং এই স্টেটমেন্টটা ছুঁড়ে দিয়ে, চলুন অন্য কথায় যাই।

    স্বাস্থ্যবিমা সমাধান নয় সেটা ঈশান থেকে শ্রীনাথ রেড্ডি কমিশন সবাই দেখেছেন। কিন্তু এটার সুবিধে হল, জনগণের ট্যাঁকের ও ট্যাক্সের পয়সায় একটা পপুলার ব্যবস্থা চালানো যাবে, যার উদ্দেশ্য হল ট্যাক্সের পয়সাটা হেলথ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া। আচ্ছে বলুনতো, সরকার শ্রীনাথ রেড্ডি কমিশন তৈরি করল কেন, যখন তার মৌলিক মতামতের ঠিক বিপরীতে গিয়েই নীতিনির্ধারণ করবে?

    মনে হয় আমাদের এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে, তার প্যাঁচে প্যাঁচে, আমাদের মূল কথাগুলো বোঝা যাবে খানিকটা। ধন্যবাদ।
  • aka | 79.73.9.7 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:৫২47059
  • আজ সারাদিন ক্যাম্পে।

    খুব অল্প কথায়।

    ১) ইন্সিওরেন্স কোম্পানির দায় পড়েছে নিজের প্রফিটের টাকা দিয়ে হাসপাতাল টিঁকিয়ে রাখতে। একটি গেলে আরও হাজারটি আছে। এটি একটি অবাস্তব কথা।

    ২) ভারতে কোথাও পরিষেবা ভালো না। টাকা দিয়েও না, না দিয়েও না। লক্ষ লক্ষ টাকা যেখানে দিতে হয় সেখানেও পরিষেবার মান খুব খারাপ। তার সাথে ইন্সিওরেন্স বা না ইন্সিওরেন্সের কোন সম্পর্ক নেই। এবং ইন্সিওরেন্স এসে রাতারাতী সেই অবস্থা বসলে দেবে এই ভাবনা ভুল।

    মূল কথার সাথে কোন সম্পর্ক নেই স্কুলের উদাহরণটির।

    ৩) জয়ন্ত যেকোনো সলিউশনের কিছু কিছু অ্যাজপশন থাকে যেমন সরকার ট্যাক্সের পয়সায় দারুন একটা পরিষেবা চালাবে এর মধ্যেও অ্যাজাম্পশন হল সরকারী ভিজিল্যান্স থাকবে। নয় কি? নইলে কি গ্যারান্টি সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা দিয়ে নিজের প্র্যাকটিস চালাবে না?

    ৪) আবার ইশানকে, সরকারী ব্যন্স্থা ভেঙে পড়ার বড় কারণ হল সরকারী কাচারীদের কর্মসংসকৃতি ও দুর্নীতি। যেকোনো সরকারী দপ্তরে গেলেই বোঝ যায়, একটা পেন্শনের ফাইল বের করতে বছর ঘুরে যায় টাকা লাগে। একথা কারুরই অজানা নয়। শুধুমাত্র বেসরকারী করণ দায়ী বললে ধরে নিতে তার আগে স্বর্গে ছিলাম। আদৌ না সরকাঅরী হাসপাতালের হাল তার আগেও একইরকম ছিল।

    শেষ কথা হল ধরা যাক মেডিকেডে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি চলবে না। সলিউশন কি? এবারে সলিউশন দিন।
  • জয়ন্ত | 127.194.81.216 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ১১:০০47060
  • aka, আপনি লিখছেন, "জয়ন্ত যেকোনো সলিউশনের কিছু কিছু অ্যাজপশন থাকে যেমন সরকার ট্যাক্সের পয়সায় দারুন একটা পরিষেবা চালাবে এর মধ্যেও অ্যাজাম্পশন হল সরকারী ভিজিল্যান্স থাকবে।"

    ঠিকই তো। আপনার এই কথাটা আমি তো সমর্থনই করেছি। যাহোক, আপনার ভিউপয়েন্ট আপনি দুবার তিনবার ছ'বার বলতে পারেন। আমার সমর্থন রয়েছে।

    আকা, আপনি এও বলেছেন, আমি কোট করেছি আপনাকে, "সরকার চেক করবে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা..."। সুতরাং আপনি দূরদর্শী লোক, ঠিকই বলেছেন সরকারি ব্যবস্থা হোক আর বেসরকারি, সরকারি ভিজিল্যান্স থাকা দরকার।

    আমার নিজের অতিরিক্ত কথাটা শুধু এই। সরকারি ভিজিল্যান্স সরকারি ব্যবস্থায় কার্যকর নয়, বেসরকারি ব্যবস্থায় কার্যকর, এইরকম একটা মানে দাঁড়িয়ে যায় বোধহয় আপনার কথার। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আপনি লিখেছেনঃ "যেমন বিনা পয়সার চিকিৎসা ক্ষেত্রে। সরকার টাকা দিয়ে লোকজন নিয়োগ করল। তারা হপ্তায় দুই দিন সেটা খোলে বাকি পাঁচদিন নিজেদের অন্য কাজ করে। যে দুইদিন খোলে সেই দুইদিনেও লোক এলে পাত্তা দেয় না। বেড নেই বলে তাড়িয়ে দেয়।"

    আর বেসরকারি ইনসুরেন্স ব্যবস্থা নিয়ে লিখেছেন (03 October 2013 10:39:02 IST),"সরকারের ক্ষমতা নেই, তাই প্রপার গাইডলাইন মেনে উচিত সেই দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দেওয়া।" তার মানে আমি বুঝেছি, সরকার যখন "চেক করবে ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা" তখন ব্যবস্থাটা সফল হবার সম্ভাবনা বেশি বলে আকা মনে করেন। নইলে খামোকা সরকার তাদের হাতে ব্যবস্থাটা ছাড়বে, এমন সাজেস্ট করবেন কেন? তবে হ্যাঁ, সম্ভাবনাই, সফল হবার নিশ্চয়তা আছে বলে আকা বলেন নি।

    তো, অ্যাজাম্পশন হল সরকারী ভিজিল্যান্স থাকবে, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা হোক আর বেসরকারি। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থায় সেটা কাজ করবে না, বেসরকারি ব্যবস্থায় সেটা কাজ করলেও করতে পারে।

    আমি একমত। তবে আমার ইন্টারপ্রিটেশনটা আলাদা। সরকার চায় সরকারী ভিজিল্যান্স যেন সরকারি ব্যবস্থায় নখদন্তহীন হয়ে পড়ে। নইলে বেনেফিসিয়ারিরা সরকারি ব্যবস্থা চাইবে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে তাঁরা সেটা চাইছেন না। বেসরকারি ব্যবস্থায় সেই নখদন্তহীনতা থাকবে, কিন্তু এখন তা এমন একটা স্তরে থাকবে যে বেনেফিসিয়ারিদের মনে হয়, এই তো মন্দের ভালো।

    তাতে সরকারের বর্তমান বেসরকারিকরণ-ব্যবস্থার খানিক সুবিধাই হবে। ট্যাক্সের পয়সা ব্যবসায়ীদের ঘরে আসবে। আর সরকার, বা যারা সরকার চালান,সেটা চান।

    ঠিক এই কথাটাই অনেকে বলেছেন। যেমন পাই বলেছেন। সরকারের উদ্দেশ্যটা বুঝতে, আমার মনে হয়, খুব অসুবিধা হবার কথা নয়। আর তাই সরকারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরকারি অপদার্থতা।

    মনে হয় অনেকটা পুনারাবৃত্তি করলাম। নিজগুণে মার্জনা করবেন।
  • aka | 80.193.71.29 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ১১:০৯47061
  • জয়ন্ত, ঠিকই যে ব্যবস্থা এমজিতে চলে না সে ব্যবস্থা একটা বা দুটি ইনইওরেন্স কোম্পানি খুলে দিলেই চলবে এমন ভরসা কোথায়। আমারও যে খুব একটা আছে তা নয়। কিন্তু কোথাও একটা শুরু করতে হবে। যেকোন সলিউশন দিতে গেলেই দেখবেন তাতে লক্ষ খানেক সমস্যা। অ্যাজাম্পশনের আর একটা দিক হল সরকারকে যতটা লীন রাখা যায় -সব ক্ষেত্রে না শুধু এই ক্ষেত্রে। সরকার যেমন বিপিএল কার্ড চালায়। যাদের দরকার না পেয়ে পাড়ার দাদারা পায়, অনেক সময় এরকম উদাহরণ ও দেখা গেছে যে রীতিমতন অর্থবান লোকে বিপিএল কার্ড হোল্ড করছে।

    সে যাক আমি অন্য সলিউশন শুনতে আগ্রহী। যদি আদৌ কিছু থাকে।
  • cm | 122.79.37.61 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ১১:৪২47062
  • এইবার আমিও মত দেব।
    ১) বড় লোকের বা তার বাচ্চার জন্য কোন রকম আলাদা ব্যবস্থা নেই।
    ২) অবশ্যই তত ডাক্তার নেই তাই কয়েন টস করে ঠিক হবে কে চিকিৎসা পাবে বা পাবেনা।
    ৩) ও সব ইন্সিয়ুরেন্স সব গাঁজা ওর সাথে লোক ঠকানো ছাড়া আর কিছুর কোন সম্পোক্কো নেই।
    ৪) খালি চিকিৎসা নয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই এই হোমোজেনাইজেশনের নীতি প্রয়োগ করা দরকার।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:০৩47065
  • না জয়ন্ত যেটা বুঝেছেন সেটা অতি সরলীকরণ করে পপুলার যা আইডিয়া বাজারে চালু যেমন আমি বড় সরকারে বিশ্বাসী, বিশ্বাস করি প্রায় সব কিছুই সরকার করুক অর্থাৎ বামপন্থী আর অন্যদিকে রয়েছে ছোটো সরকার সব ছেড়ে দিন বাজারের হাতে, বাজার নিজে নিজেকে ঠিক করে নেবেন অর্থাৎ কিনা ডানপন্থী এই দুই বাকেটের একটিতে একজনকে অন্যটিতে অন্যজনকে ফেলেছেন। এটাই চালু পলিটিক্স, আইদার অর, আমরা ওরা।

    এই আমরা বনাম ওরার লড়াইয়ে আমার আগ্রহ নেই। বরং আমি মনে করি এই বাইপার্টিসান আসলে যেকোন সমস্যাকে মৌলিক ভাবে ভাবতে বাঁধা দেয়।

    যেমন এই থ্রেডে আপনি থেকে শুরু করে ঈশান অবধি সবাই যেই ইন্সিওরেন্সের নাম শুনলেন অমনি তাকে বাজার চলতি যেসব প্রাইভেট ইন্সিওরেন্স আছে তার সাথে কম্পেয়ার করে এককথায় নাকচ করে দিলেন। আপনি এবং ঈশান দুজনেই বললেন ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠকাবে।

    এই থ্রেডে আমরা কি নিয়ে আলোচনা করছি? মেডিকেইড বা দরিদ্রদের জন্য সরকারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা। আমি সেখানে আইসিআইসি লোম্বার্ড কি করে আমার টাকা মেরেছে সেকথা আলোচনা করছি না। চেপে ধরতে বহু হাবিজাবি কথা হয়েছে কিন্তু কিকরে মডেলে - মানে সরকার বছরে বিভিন্ন প্যারামিটারের ওপর নির্ভর করে কিছু কোম্পানিকে মেডিকেইড ম্যানেজ করতে দেবে, সেই কোম্পানিরা দরিদ্রদের নিজের মেম্বার করবে, মেম্বাররা তারবদলে স্বাস্থ্যবীমা পাবে। এক্ষেত্রে মডেলটা সাধারণ ইন্সিওরেন্সের থেকে অনেক অনেক আলাদা। সেটা আপনি থেকে শুরু করে এই থ্রেডের কেউই খুব মন দিয়ে পড়ে দেখার বা ভাবার প্রয়োজন বোধ করেন নি কারণ একটাই আকা বলেছে, এক, ছোটো সরকার, আকা বলেছে ইন্সিওরেন্স। আমরা জানি যে ছোটো সরকার ও ইন্সিওরেন্স দুইই খারাপ, অতএব এও খারাপ। সেটা খুব স্পষ্ট প্রকৃত মডেল থেকে সেটা কেন কিভাবে ভাঙতে পারে সেটা তুলে না ধরার থেকে। যেটা তুলে ধরেছেন সেটা খুব বেসিক, একটা কিছু চলতে গেলে কাউকে কাউকে কাজ করতে হবে, কোনো কোনো সিস্টেম কাজ করতে হবে। আমার মডেলের বেসিক অ্যাজাম্পশন হল সরকারের খুব ছোটো অংশে ভালো - মানে দূর্নীতি থেকে দুরে থাকা লোক, ভালো ওয়ার্ক এথিকস ইত্যাদি আছে। তাদের মনিটর করতে হবে সরকার যে টাকা দিচ্ছে সেই টাকা ঠিকঠাক কাজে লাগানো হচ্ছে। উল্টোদিকের মডেল হল সরকার সব করবে তাতে আমার অ্যাজাম্পশন টা আরও বড় করে লাগবে।

    এবারে আসি আপনার বিশ্বাসের কথায়। আপনার মতে সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি। এটা একটা বিশ্বাস, যতক্ষণ না এটা যুক্তিসংগত ভাবে ব্যাখ্যা করছেন। যেমন ১৩০ কোটি লোকের ঠিকঠাক চিকিৎসা হতে হলে, শিক্ষা দিতে হলে বছরে ঠিক কত টাকা লাগে? সেই টাকার সোর্স কি? কোন ট্যাক্সে কত বাড়ালে এটা হতে পারে? যতক্ষণ না ঠিক এই ভাবনা গুলো ভাবা হয় ততক্ষণ ঐ ভগবান সব করে দেবের সাথে এই ভাবনার কোনো অমিল নেই। আমার কাছে এসবের উত্তর নেই, কি করে কানাডা বা স্ক্যান্ডানেভিয়ান কান্ট্রির মডেল ভারতে চালানো যায় আমি জানি না।

    বাকি রইল ব্যাঙ্গ বিদ্রুপঃ তা ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ কিছু না, কিছুটা হতাশাই বলতে পারেন। ভারতে যেখানে আমার বাস সেখানে একটি সরকারী হাসপাতাল আছে, সেখানে বহুবার গেছিও, তো সেটি সম্বন্ধে আমার অ্যাসেসমেন্ট হল যে সুস্থ লোককে সেখানে ভর্তি করে রাখলে তাকে ২৪ ঘন্টা বাদে ভালো হাসপতালে এমার্জেন্সিতে ভর্তি করতে হবে। জায়গাটা কলকাতা থেকে ৩০-৩৫ কিমি দুরে। ১৯৮৬ সনে আমার দাদুর সেরিব্রাল হয়েছিল, আর ২০১০ সনে বাবার হার্ট অ্যাটাক দুই ক্ষেত্রেই আমাদের যেতে হয়েছিল সেই কলকাতায়। এরমধ্যে যেটুকু যা রিলিফ দিয়েছে তা হল বেসরকারী হাসপাতাল। এখন যদি কেউ আমাকে বলেন সরকার রাতারাতী সব বদলে দারুণ এফিশিয়েন্ট ভালো হয়ে প্রতিটা প্রত্যন্ত জায়গায় দারুণ কাজ করবে, তাহলে মুচকি হাসি। এছাড়া কিছু করার নেই। তাকে আপনার বিদ্রুপ মনে হলে কিছু করার নেই। আর এসব চলতে থাকে, আপনিও যেমন কোথায় আমায় বিচক্ষণ টণ বললেন। এ নিয়ে ভাববেন না, আমি ভাবি না।

    এরপরেও যদি অ্যানালিটিকালি কেউ কোন মডেল খাড়া করতে পারে মেনে নেব। সমস্যার কথা রোজ জানি, নতুন করে জানার বোঝার কিছু নেই। উত্তর চাই, সিস্টেম হিসেবে। যেমন বেলুড় শ্রমজীবি হাসপাতাল খুব ভালো উদ্যোগ এখনও অবধি, তাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু কেউ বুঝিয়ে না বললে সেই একই মডেল কি করে পঃবঃয়ের প্রতিটা গ্রামে চলবে সেটা বুঝি না।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:০৯47066
  • শ্রমজীবী হাসপাতালটা মডেল, সেটা রেপ্লিকেট করে সব গ্রামে এটা চলতে হবে, একথা কেউ বলে না। ওঁরা তো বলেনই না। বেলুড় বা চেঙ্গাইল শ্রমজীবী , ওঁদের বক্তব্য, এই কম খরচে ও অন্যভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব, সেটা ওঁরা দেখিয়েছেন। সরকারের ও এটা পারা ও করা উচিত। সবার স্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকার নিক, সেটাই ওঁদের দাবি।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:১৬47067
  • সরকার একটি লোক নয়। একটি ছোট উদ্যোগে অনেক ভালো লোক কাজ করে একটা জিনিষ দাঁড় করানো, আর কয়েক মিলিয়ন লোককে একই রকম মোটিভেটেড অবস্থায় কাজ করানো এক জিনিষ নয়। সেটা এক্সপ্লেইন না করলে এই দাবী এগেইন কোন মানে রাখে না। শুধু অন পেপার কিছু দাবী হয়।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:২৩47068
  • আকা লিখেছে, "যেমন এই থ্রেডে আপনি থেকে শুরু করে ঈশান অবধি সবাই যেই ইন্সিওরেন্সের নাম শুনলেন অমনি তাকে বাজার চলতি যেসব প্রাইভেট ইন্সিওরেন্স আছে তার সাথে কম্পেয়ার করে এককথায় নাকচ করে দিলেন। আপনি এবং ঈশান দুজনেই বললেন ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ঠকাবে।" আরও লিখেছে, "এক্ষেত্রে মডেলটা সাধারণ ইন্সিওরেন্সের থেকে অনেক অনেক আলাদা। সেটা আপনি থেকে শুরু করে এই থ্রেডের কেউই খুব মন দিয়ে পড়ে দেখার বা ভাবার প্রয়োজন বোধ করেন নি "।

    কথা দুটির একটি একবিন্দুও ঠিক নয়। এই ক্ষেত্রে মেডিকেড জাতীয় বীমার বিপক্ষে আমি একটি অর্থনৈতিক যুক্তি দিয়েছি (যদিও ভারতের ক্ষেত্রে এটা মেডিকেডের ঠিক কপি কিনা আমরা জানিনা)। আকার বক্তব্য আমি খুব মন দিয়ে পড়েছি, কোনো রাজনৈতিক বায়াস থেকে একটি কথাও বলিনি। কোনো জিনিস এক কথায় নাকচ করিনি।

    অর্থনৈতিক যুক্তির বিরোধিতা অর্থনৈতিক বা (অন্য)যুক্তি দিয়েই করতে হয়। আকার লেখায় সেটা দেখিনি। বরং একটা লম্বা যুক্তিপরম্পরাকে পড়ে বা আদপেই না পড়ে এক লাইনে নাকচ করাই দেখলাম ("এটুকুর জন্য স্কুল টুল ইত্যাদি আনার দরকার নেই।") মডেলটির বিরুদ্ধে যে বক্তব্যটি পেশ করা হচ্ছে, সেটা মন দিয়ে পড়ে অর্থনৈতিক যুক্তির সমালোচনা করলে নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে শুনব। না হলে, গুরুত্ব দেওয়া মুশকিল।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৩৮47069
  • আরও দুটো পয়েন্ট। আশা করব একটু মন দিয়ে পড়া হবে।

    ১। " যেমন বেলুড় শ্রমজীবি হাসপাতাল খুব ভালো উদ্যোগ এখনও অবধি, তাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু কেউ বুঝিয়ে না বললে সেই একই মডেল কি করে পঃবঃয়ের প্রতিটা গ্রামে চলবে সেটা বুঝি না।"

    এটা আদপেই বোঝার কথাই নয়। কারণ এরকম দাবী আদৌ কেউ করেনি। ওটা দাবী নয় বলেই অন্যান্য কথাবার্তার অবতারণা।

    ২। "এবারে আসি আপনার বিশ্বাসের কথায়। আপনার মতে সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি। এটা একটা বিশ্বাস, যতক্ষণ না এটা যুক্তিসংগত ভাবে ব্যাখ্যা করছেন। যেমন ১৩০ কোটি লোকের ঠিকঠাক চিকিৎসা হতে হলে, শিক্ষা দিতে হলে বছরে ঠিক কত টাকা লাগে? সেই টাকার সোর্স কি? কোন ট্যাক্সে কত বাড়ালে এটা হতে পারে? যতক্ষণ না ঠিক এই ভাবনা গুলো ভাবা হয় ততক্ষণ ঐ ভগবান সব করে দেবের সাথে এই ভাবনার কোনো অমিল নেই। আমার কাছে এসবের উত্তর নেই, কি করে কানাডা বা স্ক্যান্ডানেভিয়ান কান্ট্রির মডেল ভারতে চালানো যায় আমি জানি না।"

    এর একটা যৌক্তিক উত্তর আমি এখনই দিতে পারি। ছোটো করে লিখিঃ

    ক।১৩০ কোটি লোকের বীমা করতে ধরলাম x টাকা খরচা হয়। সরকার x টাকা দিতে সক্ষম, সেইজন্যই বীমা করার দিকে এগোচ্ছে।
    খ। বীমা কোম্পানি লাভ করার জন্যই ব্যবসা করছে। অতএব চিকিৎসার পিছনে বীমা কোম্পানি x টাকার চেয়ে কম খরচা করছে। নইলে তাদের লাভ হতনা।
    গ। অতএব ১৩০ কোটি লোকের চিকিৎসার প্রকৃত খরচ x এর চেয়ে কম (নইলে বীমা কোম্পানি উঠে যেত)।
    ঘ। সরকার x টাকা খরচা করতে ক্ষক্ষম, অতএব সরকার ১৩০ কোটি লোকের স্বাস্থ্যের খরচ বহন করতে সক্ষম।

    এখানে, বলাবাহুল্য ১৩০ কোটি টি প্লেসহোল্ডার। ওটা যদি "দারিদ্র্যসীমার নীচের লোকেদের সংখ্যা" হয় তাহলে তাই, যদি "সমস্ত ভারতীয়" হয় তাহলে তাই।

    এইটা একটি যৌক্তিক দাবী। রাজনৈতিক নয়। সেটা ঠিক বা ভুল হতে পারে। অসুবিধে থাকলে যুক্তি দিয়ে বিরোধিতা করতে হবে।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৪১47070
  • "আমেরিকার যে পদ্ধতি, সেটা ভালো বা খারাপ যাই হোক, এই মুহূর্তে দেশে চলবেনা। অডিট ফডিট সব করলেও।

    মানে ধরুন, আমি একজন গরীব লোক। আমি বীমার আওতায় পড়ি। আমার বাবদে একটি হাসপাতাল বছরে দশ হাজার টাকা (কথার কথা) পায়। এবার আমি একদিন হাসপাতালে গেলাম। বললাম আমার পেটে ব্যথা। রিসেপশনিস্ট বাবু বা বিবি দেখে অন্য একজনের কাছে পাঠালেন। তিনি গম্ভীরভাবে আমাকে দেখে বললেন, "বাপু তোমার যা অসুখ তার জন্য সরকার আমাদের পয়সা দেয়না"।

    কল্পিত উদাহরণ। কিন্তু এরকম নানা স্তরে হয়েই থাকে। এবার এরকম ফাঁকি দেবার আরও অনেক উপায় থাকতে পারে। প্রশ্ন হল, এইটা আটকানো যাবে কিকরে?"

    এইটা হল একটি উদাহরণ।

    যাক সেকথা, ইশানের যুক্তিটি অর্থনীতির কিনা আমি জানি না, আমার অর্থনীতিতে অত জ্ঞান নেই। কোম্পানি টাকা পায় সরকার থেকে ধরা যাক বছরে ১০০ টাকা। তার আছে ১০ জন মেম্বার। এবারে ১০ জন মেম্বারের বছরে যত খরচ হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে সব দায়িত্ব তার। সে যদি ১১০ টাকা খরচ করে ক্ষতি করবে, আর ৯০ টাকা খরচ করে লাভ করবে। রোগী চিকিৎসার জন্য যাবে কোথায় একটি হাসপাতালে ধরা যাক তার নাম "ক"। "ক" হাসপাতাল চুরি করছে কিনা, ঠিকমতন সার্ভিস দিচ্ছে কিনা সেসব দেখার দায়িত্ব কোম্পানির। কারণ কোম্পানি ১০০ টাকা নিয়ে লড়ে যাচ্ছে লাভ করার জন্য। আর ওদিকে হাসপাতালের লাভ হল যত রোগীকে সেবা দেবে তত টাকা পাবে কোম্পানির থেকে।

    ইশানের লজিক হল এখানে কোম্পানি ও হাসপাতাল প্রচণ্ড সাঁট করে কাউকে কোন সেবা না দিয়ে টাকা ঝেড়ে দেবে। কোম্পানি ১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা হাসপাতালকে দেবে, আর হাসপাতাল ৫০ টাকা নিয়ে অনেক কিছু করেছে এমন দেখাবে।

    এই অর্থনীতির বিশ্লেষণে দুটি জিনিষ অনুপস্থিত।

    ক) কোম্পানি কেন "ক" হাসপাতালকে ৫০ টাকা দেবে? বরং "খ' নামক অন্য হাসপাতাল যারা ঠিক ঠাক কাজ করে মেম্বারদের তাদের কাছে যেতে বলবে।

    খ) এতে করে কোম্পানি যাতে দুর্নীতির দায়ে তাদের বরাত না ফসকে যায় সেই রিস্ক মিনিমাইজ করল। একবছরে ৫০ টাকার লাভের থেকে ১০ বছরের প্রতি বছরে ২০ টাকা লাভ বেশি কাম্য।

    গ) হাসপাতালটিও জানে কোম্পানি এই বোকামোটি করবে না অতএব সেও নিজে বাজার থেকে উঠে যাবার রিস্ক নেবে না।

    এটি কোন নীতি আমার সীমিত জ্ঞানে সেসব জানি না। সাধারণ বুদ্ধিতে এসব বলে আর কি। আর এর ওপর দাঁড়িয়ে চলছে সিস্টেম। জালি টালি আছে, কিন্তু ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে স্বর্গ।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৫৬47071
  • এই খরচের হিসেবটাই আগের একটা পোস্টে দিয়েছিলাম। যদ্দুর মনে আছে, শুনেছিলাম, সরকার এই যোজনার পিছনে ~৪০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। হিসেবটা করে নেওয়া যায়। বিপিএল পপুলেশন x ৬৩০ টাকা। তার মানে এই পরিমাণ টাকা সরকার খরচ করতে পারে। এখনি। কোনোরকম ট্যাক্স না বসিয়ে বা জিডিপির বেশি শতাংশ ধার্য না করেই। সেগুলো করার যাথাযোগ্য দাবি আছে, সে কথাও ধরলাম না। এবার একটা স্টাডি শুনেছি দেখিয়েছে যে, এই চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার মত। বাকিটা পুরোটাই ইন্সিওরেন্স কোম্পানির পেটে। আর ১০০ কোটি টাকাও পেল বেসরকারি হাসপাতালগুলো। এই ৪০০ কোটি টাকাটাই কি যদি সরকারি হাসপাতাল, পরিষেবা , আর সরকারের ইন্সিওরেন্স কোম্পানির মনিটরিং এর বদলে পুরো সরকারি সিস্টেমটা মনিটরিং এর পিছনে লাগানো যেতো না ?
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:০৪47072
  • RSBY তে তো কোন ইন্সিওরেন্স কোম্পানি নেই। ক্যাশলেস সার্ভিস ইন এনি ডেজিগনেটেড হসপিটাল। এইটা বুঝলাম না।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:১২47073
  • মানে ?

    Under RSBY, each district in India is managed by one insurance company, each of which holds a monopoly in that district.
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:২২47074
  • ওঃ গুড, তাহলে তো ঠিক দিকে এগিয়েছে। আমি জানতাম ইএসাই যেমন করে চলে সেইভাবে চলছে। সরকার মনিটর করছে সবকিছু।

    একদম সঠিক পদক্ষেপ। এবারে মনিটরিংটা ঠিক করে চালু করলেই হয়। সেটা না থাকলে কিস্যু হবে না।
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:১৪47075
  • চিকিৎসার জন্য যা খরচ হচ্ছে, তার থেকে অনেক বেশি নিয়ে ট্যাক্সের টাকায় লাভের গুড় খাবে বেসরকারি নার্সিংহোম আর ইন্সিওরেন্স কোম্পানি। আর ওদিকে সরকারি ব্যবস্থার গঙ্গাপ্রাপ্তি হবে। এইটা নাকি গুড ।

    সরকারি ব্যবস্থা পুরো ভেঙ্গে পড়লে বেসরকারি সিস্টেমের পুরো লুটেপুটে নেওয়াটাও কেমন গুড হয়, দেখার অপেক্ষায়।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:২৩47076
  • সরকারী ব্যবস্থা থাকলে তো ভেঙে পড়ার প্রশ্ন। পঃবয়ে যেমন কলকাতার বাইরে সরকারী ব্যবস্থা নন-এক্সিস্টেন্স। কিস্যু নেই জিরো। ভেঙে পড়ার প্রশ্নই নেই। আগে কোন পরিষেবাই ছিল না এখন কিছু লোকে কিছু হলেও পাবে নাই বা হল আইডিয়ালের কাছাকাছি।
  • ঈশান | 60.82.180.165 (*) | ১৩ অক্টোবর ২০১৩ ১১:৪৬47077
  • ইশকুলের কল্পিত উদাহরণ নিয়ে যেটা লিখেছিলাম, সেটা পড়লেই আকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেত। তা, সেটা একবার পড়ে নিতে বলছি। আর আপাততঃ একটা প্রশ্ন করিঃ

    আকর বক্তব্য অনুসারে " কোম্পানি কেন "ক" হাসপাতালকে ৫০ টাকা দেবে? বরং "খ' নামক অন্য হাসপাতাল যারা ঠিক ঠাক কাজ করে মেম্বারদের তাদের কাছে যেতে বলবে।"

    কেন বীমা কোম্পানি এটা করবে? অর্থনৈতিক ইনসেনটিভ টা কী? এটার উত্তর দিলেই বাকিটা এমনিই বোঝা যাবে। "অর্থনৈতিক ইনসেনটিভ" শব্দগুচ্ছটি মাথায় রেখে উত্তর দিতে বলছি। কারণ "দুর্নীতির দায়ে উঠে যাওয়া" একটি বাজার বহির্ভুত মনিটারিং ব্যবস্থা। সেটা অর্থনৈতিক ইনসেনটিভও নয়, মেকানিজমও নয়।
  • aka | 78.190.40.129 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০১:০৩47081
  • তবে এই তাত্ত্বিক চুলচেরা বিশ্লেষণের কিইবা কারণ বুঝি না।

    শুধু যদি পঃবঃয়ের উদাহরণ নেওয়া যায় তাহলে কলকাতার বাইরে সরকারি ব্যবস্থা নেই, জিরো। আমার বাড়ির আশেপাশে সরকারী প্রচেষ্টায় যা হয়েছিল তাহল কল্যাণীর (২০ কিমি হবে) গান্ধী হসপিটাল। প্রথমে খুব ভালো ছিল, গত কুড়ি বছরে মান শুধুই নিম্নগামী। কেউ কাজ করে না। এদ্দিন সিপিএমের ক্যাডার ছিল বলে করত না, এখন তৃণমূলের ক্যাডার বলে করে না।

    এর থেকেও খারাপ জায়্গা আছে সেখানে প্রাইভেট, পাব্লিক কোনরকম পরিষেবাই নেই। সেখানে যদি এই মানি ট্যাপ করার জন্য কিছু পরিষেবা পাওয়া যায় যেমন দরকারে অ্যাস্পিরিন, অ্যান্টিভেনম, দর্কারে এমার্জেন্সি রুম তাহলেই অনেক। অন্ধের কিবা দিন কিবা রাত।
  • জয়ন্ত | 127.194.80.67 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০১:১০47115
  • আকা আমি কিকরে বলব ১৩০ কোটি লোককে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যের জন্য কত টাকা লাগে? এটা কি অফহ্যান্ড বলা যায়? আমি শিক্ষা, খাদ্যের জন্য কত টাকা লাগে জানি না। তবে স্বাস্থ্যের জন্য সরকারি একটা হিসেব আছে।

    ভারতের প্ল্যানিং কমিশন শ্রীনাথ রেড্ডির নেতৃত্বে হাই লেভেল এক্সপার্ট গ্রুপ বলে একটা জিনিস তৈরি করেছিল, আর তার একটা রেকমেন্ডেশন দেখুন। http://planningcommission.nic.in/reports/genrep/rep_uhc0812.pdf

    ওটার ৮ নম্বর পাতায় দেখুন লেখা আছে --

    Recommendation 3.1.1: Government (Central government and states combined) should increase public expenditures on health from the current
    level of 1.2% of GDP to at least 2.5% by the end of the 12th plan, and to at least 3% of GDP by 2022.

    মোটের ওপর ভারতের সবার স্বাস্থ্য -- প্রাইমারি, সেকেণ্ডারি ও টার্শিয়ারি -- হেলথ কেয়ারের জন্য ভারতের জিডিপি-র সাড়ে তিন শতাংশ খরচ করলে হবে বলে মনে করা হয়েছে। এখন খরচ করা হচ্ছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

    কোথা থেকে আসবে এই টাকাটা? জানিনা। তবে মনে হয় না এটা আসম্ভব কিছু। HLEG (হাই লেবেল এক্সপার্ট গ্রুপ) নিজে কী বলছে দেখুন -- (পৃষ্ঠা ২) (UHC মানে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার)

    The HLEG’s vision of UHC transcends the narrow, inadequate and often inequitable view of UHC as merely a system of health insurance. ... the UHC is linked firmly to the Right to Health and converts an aspirational goal into an entitled provision. The HLEG also recognizes that, for such a vision of the UHC to be realized, a tax based system of health financing is essential. This is also the global experience, wherein countries which have introduced UHC have mostly depended on general revenues rather than on unsteady streams of contributory health insurance which offer incomplete coverage and restricted services. For UHC to succeed in India, political and financial commitments are required from the central as well as state governments.

    এখন ভারতের প্ল্যানিং কমিশন নিযুক্ত হাই লেভেল এক্সপার্ট গ্রুপ মনে করছে এটা সম্ভব। আসলে কিভাবে সম্ভব সেটা তো প্রায়োরিটির ব্যাপার। এটা করতে গেলে হয়তো যেসব শিল্পপতি ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ দিচ্ছে না তাদের ধরতে হবে, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে ফ্রান্সের বাতিল পরমাণু শক্তি প্রকল্প আমাদের দেশে বসানোর ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, আরও কিসব করতে হবে যেটা 'সবাই' চাইবেন না। পুনশ্চ শ্রীনাথকোট, "For UHC to succeed in India, political and financial commitments are required from the central as well as state governments."

    সেইজন্যই বলেছি, আমার একটা অবস্থান আছে যে এইগুলো সরকারের ব্যবস্থা করা উচিৎ। অন্য কারও অবস্থান থাকতে পারে পরমাণু শক্তি প্রকল্পর মতো খাসা জিনিস বাতিল করা যাবে না, বা ঋণখেলাপি শিল্পপতিদের কিছু করলে অর্থনীতি ধ্বসে যাবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

    আমার অবস্থানটার একটা ভিত্তি হল ন্যায়-এর ধারণা (যেটা আর কারও সঙ্গে না মিললে আমি বিশেষ কিছু করতে পারি না)। আরেকটা ভিত্তি হল এই 'আন্দাজ' যে খাদ্য শিক্ষা ইত্যাদির ব্যবস্থা করলে দেশের সম্পদের যে প্রবৃদ্ধি ঘটবে তাতে খরচা উঠে কিঞ্চিৎ লাভ হাতে থাকবে। এইটা আমার আন্দাজ মাত্র, ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করলে বাধা দেবার মতো জ্ঞানগম্যি নেই। হয়তো অমর্ত্য বা দ্রেজেকে কোট করতে হবে।
  • cm | 122.79.36.164 (*) | ১৪ অক্টোবর ২০১৩ ০১:১২47082
  • টই খুলে আলোচনা না করলে এর দৈর্ঘ্য অনন্ত হয়ে যাবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন