• টইপত্তর  নাটক

    Share
  • ভারতীয় দূতাবাসের বিবিধ সেক্সি স্টোরিজ, ১৯৮৫ থেকে অদ্যাবধি

    সে
    নাটক | ১৭ জুলাই ২০১৪ | ৫২৩ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন
আরও পড়ুন
- - স। র। খান
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 203.108.233.65 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ১৫:১২647170
  • ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে মূলাকাৎ শুরু হয় ১৯৮৫ থেকে। নানান ব্যাপারে। সেই সম্পর্কে এখনো ছেদ পড়ে নি।
    ভেবেচিন্তে গল্পগুলো এখানে নামানো যায় কিনা দেখছি।
    রেজিস্ট্রেশন, মিডিয়েশন, পাসপোর্ট রিনিউ, বার্থ সার্টিফিকেটের নকল, পাইখানা, ডেডবডি চালান, প্রাইম মিনিস্টারের চায়ের কাপ, চিঠিপত্র, আর্ট ক্রিটিক, রাম পেয়ারী, এনোসি, এইরকম আরো অনেক কিছু; ঝট করে সব মনে পড়ছে না যদিও। লিখছি।
  • সে | 203.108.233.65 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ১৬:১২647181
  • হোয়াইটনার
    ------------

    তখন সোভিয়েত দেশ অবিভক্ত। কিছুদিন আগে অবধি একটাই মিশন ছিলো রাজধানীতে - মস্কোয়। কিন্তু পরিচালনার সুবিধের জন্যে মধ্য এশিয়ার তাশকেন্তে একটা কনসুলেট খোলা হয়েছে। শহরের মধ্যিখানে একটা দোতলা বাড়ী ভাড়া নিয়ে।
    সে খুব মজার ব্যাপার। ভারতীয়রা মামার বাড়ীর আবদারের মতো সেখানে যখন খুশি ঢুকছে বেরোচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে।
    একতলায় বড়ো হলঘরটা হাসি মশকরায় গম্‌গম্‌ করছে।
    দারোয়ান কাম চাকর একজন লোক, একজন পিয়ন, একজন ভাইস কনসুল ও সপরিবারে কনসুল জেনারেল - ছোটো পরিবার।
    কাজকর্ম অল্প বিস্তর হয়তো শুরু হয়েছে, কিন্তু ওখানে গিয়ে আমরা মূলত ভাইস কনসুল ও কনসুল জেনারেল-এর সঙ্গে গল্প আড্ডা করতাম। না ছিলো কোনো ভিজিটিং আওয়ার, না ছিলো কারোর চোখ রাঙানি।
    ওনারা সব কাগজ বাক্স এসব গোছাতেই ব্যস্ত থাকতেন, পাশেই কনসুল জেনারেল -এর অ্যাপার্টমেন্ট। মাঝে মধ্যে ওঁর স্ত্রী ও পাশের দরজার পরদা সরিয়ে এদিকে এসে আড্ডায় যোগ দিতেন, আমরা তাঁকে ম্যাডাম সম্বোধন করে সম্মান জানাতাম। বেশি গদোগদো হলে পর্দার ওপাশে ওঁদের বৈঠকখানায়ও ঢুকে পড়তাম হাসিহাসি মুখ করে।

    তো একদিন অম্লান বদনে আমরা তিনবন্ধু বিকেলের দিকে কনসুল জেনারেল-এর ঘরে ঢুকে দেখলাম তিনি নেই,সেই ঘর পেরিয়ে ভেতরের দরজা দিয়ে তখন ঢুকে গেলাম ভাইস কনসুল এর ঘরটায়।
    ঘরে ঢুকতেই ভদ্রলোক আমাদের দেখে কেমন হকচকিয়ে পেছন ফিরে দেয়ালের দিকে চলে গেলেন। তারপরে সেখানেই পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে দুটো হাত জড়ো করা, কেমন যেন অপ্রস্তুত।
    আমরা ভ্যাবাচাকা খেয়ে ন যযৌ ন তস্থৌ সিচুয়েশন।
    কয়েক সেকেন্ড পরে আমরা ঐ ঘর থেকে চুপচাপ বেরিয়ে এলাম।
    বাইরে এসে আমাদের ডিটেকটিভ মনে তখন সন্দেহের ঘনঘটা। লোকটা অত ঘাবড়ালো কেন?
    কেনই বা আমাদের ফেস করতে ভয় পাচ্ছিলো? কোনো ইল্লিগাল কাজ করছিলো কি যখন আমরা ঢুকেছিলাম ঘরে? মহান ভারতের নাগরিক হিসেবে আমাদের কি কর্তব্য নয় লোকটাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা? নাঃ আবার যাওয়া যাক ভেতরে, চুপিচুপি।
    পা টিপেটিপে আমাদের প্রত্যাগমন। দরজার আড়াল থেকে সন্তর্পনে উঁকি মেরে দেখা গেল তিনি তখনো দেয়ালের দিকে ফিরে (আমরা শুধু পেছনটা দেখতে পাচ্ছি) হাত দিয়ে সামনে কিছু করছেন, হাত নড়ছে যদিও কী করছেন সেটা দেখা যাচ্ছে না। হাইলি সস্‌পিশিয়াস্‌! পেছন থেকে গিয়ে জাপটে ধরব?
    আমাদের মধ্যে সাহসী একজন বলে উঠল, স্যার!
    - উঁ?
    - হাম ওয়েট করেঁ
    - নো, অ্যাকচুয়ালি ছোটাসা প্রবলেম হ্যায়
    -হেল্প চাহিয়ে?

    এবার তিনি আমাদের দিকে ফিরলেন, হাতে পেপার ন্যাপকিন , তাদিয়ে প্যান্টের জীপারের কাছটা ঢেকে রেখেছেন। তড়িঘড়ি কারেকশান হোয়াইটনারের শিশি খুলতে গিয়ে তার অনেকটাই পড়েছে প্যান্টের সামনে, শিশিটাও দেখলাম কেলিয়ে পড়ে রয়েছে টেবিলে। মুছেই চলেছেন, তাতে সাদা রং আরো ছড়াচ্ছে।
    আমাদের মধ্যে সতীশ (সতীশ ভাটিয়া) হাসি চেপে গম্ভীরভাবে বলল, আইয়ে ধো লিজিয়ে।
    পাশেই টয়লেট ভদ্রলোক সেখানে ঢুকে গেলেন, পেছনে পেছনে সতীশ চলল হেল্প করতে।
  • dc | 132.174.19.120 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ১৭:৪৭647192
  • দাদা এটা কিন্তু যাতা রকম কেএলপিডি স্টোরি।
  • কল্লোল | 111.63.199.83 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ১৯:০৩647203
  • উরিঃ। এতো প্রায় মুজতবা আলি লেভেলের।
    আরও চাই।
  • সে | 203.108.233.65 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২১:৩৪647214
  • প্রেজেন্ট
    --------

    ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়া সমস্ত ছাত্রর জন্যে প্রতি বছর মাথাপিছু পাঁচশো ডয়েচ্‌ মার্ক অফিশিয়াল রেটে এক্স্‌চেঞ্জ করবার একটা ব্যাপার ছিলো।
    পাঁচশো ডয়েচ্‌ মার্ক তখন তিনশো ডলারের ইকুইভ্যালেন্ট এবং সেটা আবার অফিশিয়ালি একশো চল্লিশ রুব্‌ল্‌ এর সমান। কিন্তু ব্ল্যাক মার্কেটে তিনশো ডলার হচ্ছে পনেরোশো রুব্‌ল্‌। অর্থাৎ দশগুণ হয়ে যাচ্ছে টাকাটা। এবং এই সুযোগ বছরে একবারই আসে।
    এই ডয়েচ্‌ মার্ক এক্‌স্‌চেঞ্জ করতে দেবার পেছনে ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট-এর ফান্ডা ছিলো এইরকম, যে গরীব ছাত্রগুলো এই টাকায় বইপত্র খাতা পেন্সিল কিনবে, বিদেশ থেকে বই ফই আনাবে, পড়াশুনো করে পন্ডিত হয়ে দেশে ফিরে দেশের নামোজ্জ্বল করবে, উন্নতিসাধনে ব্রতী হবে।
    কিন্তু রিয়েল লাইফে সেসব হয় না। বইপত্র সবই লাইব্রেরীতে দেদার পাওয়া যায়, কেউ পড়েও না, পড়বার দিকে মন নেই কারো।
    টাকা দশগুণ বাড়িয়ে কিছু ছাত্র নিজের খুশিমতো খরচ করে, মদ, মেয়েবাজি, এসবেই সিংহভাগ খরচ হয়ে যায়। অনেকে এই টাকায় লুকিয়ে বিজনেস করে। তাও মনে খুঁতখুঁতানি রয়ে যায়, আরেকটু বেশি টাকা পেলে আরো ভালো হোতো।
    কিন্তু এমনি এমনি তো টাকা দাবী করা যায় না। কারণ দেখাতে হবে।
    অনেক ভেবেচিন্তে কিছু ছাত্র মস্কোর এম্ব্যাসীতে গিয়ে দরবার করল, এত কমে হচ্ছে না, আরো চাই।
    এম্বাসীও কিছু কম চালাক নয়, তারা সবই জানে, সমস্তই ওপেন সিক্রেট।
    তবু অফিশিয়ালি প্রশ্ন করতে হবে, তাই প্রশ্ন করল এম্ব্যাসী - কেনো আরো টাকা চাই? এই টাকায় বইপত্র খুব ভালোভাবে হয়ে যাওয়া উচিৎ, কী এমন বই চাই বলো? তেমন হলে এম্ব্যাসীতে আলাদা করে লাইব্রেরী খুলে দেয়া যাবে।
    ছাত্রের দল ও দমবে কেন? বলে - শুধু কি বই হলেই চলে? বিনোদন, এক্স্‌ট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি? সেগুলোর কি কোনো দামই নেই? আমরা অফ টাইমে গান বাজনা সঙ্গীতচর্চা করতে চাই।
    - বটে?
    - হ্যাঁ। দেশ থেকে বেশ কয়েকটা হারমোনিয়াম আনাবো, তবলা বাঁয়া, খরচ আছে।
    এম্ব্যাসী বুঝে গেছে যে এরা ক্ন্তু গীটার ফিটার চাইছে না, সেসব তো জলের দরে লোকাল মার্কেটেই পাবে, কায়দা করে দেশী বাধ্যযন্ত্র চাইছে। কিন্তু চট্‌ করে কোনো সিদ্ধান্তে এলো না, দেখছি দেখবো করে সে যাত্রা কাটিয়ে দিলো।

    ছেলের দলও চান্স পেলেই কথাটা পাড়ে। এই করতে করতে সত্যিই কিছু ছাত্রের মধ্যে গানবাজনার উৎসাহ চাগাড় দিয়ে উঠলো, টাকা বাড়াবার টপিকটা তারা ভুলে গেছে। এম্ব্যাসীকে গিয়ে ধরল, শহরপ্রতি একটা করে বাদ্যযন্ত্র যে করে হোক পাঠিয়ে দিন, ইন্ডিয়া থেকে ইম্‌পোর্ট করে।

    যন্ত্র অবশেষে একটা এসেছিলো। ঢোল। সেইটা আবার কেউ বাজাতে জানে না। সবাই খুব দুঃখ পেল।
    এমনি সময়ে কি একটা উৎসবে মস্কোয় এসেছিলেন সরোদের গুরুদেব এক ওস্তাদ। সারা দুনিয়াজোড়া তাঁর খ্যাতি। বেশ কয়েকটি শহরে চলেছিলো তাঁর কনসার্ট। টিকিট কেটে ওদেশের মানুষ শুনেছিলো সেই সুরের মূর্চ্ছনা। শাস্ত্রীয় সংগীত বুঝুক না বুঝুক, ভালো সুর ভালো লাগতে বাধ্য।
    ওস্তাদ শিল্পী মানুষ, একটু আধটু অন্য রসের দিকেও আগ্রহ ছিলো। ছাত্রের দল, যারা তাঁর পিছু নিয়েছিলো তাদের কাছেই তিনি অন্য রসের সন্ধান চেয়েছিলেন। ছাত্রের দল তাঁর সে আশা অপূর্ণ রাখে নি, অপ্সরাদের জোগান দেওয়া হয়েছিলো ওস্তাদকে তৃপ্ত করতে।
    ওস্তাদ মহাখুশী। বিনিময়ে কিছু দিতে চান। ছাত্ররা আমতা আমতা করে তাদের মনোবাঞ্ছা জানিয়েই ফেলল - ভালো মিউজিক্যাল ইন্‌স্ট্রুমেন্ট চাই, যদি পারেন স্যার।
    স্যার কথা রেখেছিলেন, কেয়ার অফ ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসীতে ছাত্রদের নাম করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন প্রেজেন্ট। দুটি যন্ত্র।
    ছাত্ররা তো মোড়ক খুলে তাজ্জব। প্রকান্ড বাক্সে রয়েছে সুরবাহার। আরেকটা বাক্স সাইজে ছোটো, সেটাও তারের যন্ত্র। কেউ নাম বলতে পারে না। পরে জানা গেছল, সেটা সন্তুর।

    এই গল্পের একটা করোলারি আছে।

    ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসীর মুখে অমন করে ঝামা ঘষে দেবার পরে ছাত্র সমাজের লোভ আরেকটু বেড়ে যায়। কিন্তু সেই ওস্তাদ তো আর আসবেন না।
    তবু সকলে তক্কে তক্কে থাকে।
    অবশেষে আসিল সুযোগ। সিনেমার শুটিং এর জন্যে এলেন একদল অভিনেতা, হিরো, ভিলেন।
    ছাত্রসমাজ বিপুল আগ্রহে অপ্সরা সাপ্লাইয়ে মন দিলো। বোম্বাইয়ের এক নম্বর ভিলেন অপ্সরা পেয়ে বহৎ খুশ্‌ হুয়া।
    কিন্তু এবার হচ্ছে আসল সমস্যা। কী চাইবে এরা ভিলেনের কাছে "বর" দিতে এলে? ভিলেনপ্রবর তৃপ্ত হয়ে শুধোন, বোল্‌ বেটা ক্যা চাহিয়ে?
    লাজুক ছাত্ররা মুখ চাওয়া চাওয়ি করে, কী চাইবে, রিভলভার?
    ফলে কিছুই চাওয়া হয় না। হেঁট হয়ে চরণের ধুলি এককণা করে নিয়ে নেয় পারহেড।
  • kc | 47.39.77.23 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২১:৪৬647225
  • কেয়াব্বাত। দারুণ হচ্ছে। ভাল লাগছে।
  • সে | 203.108.233.65 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২২:৩২647228
  • কম্‌প্ল্যান বয়
    ------------

    কাজাখস্তানের টপ স্টীল কোম্পানীর মালিক যে লোকটা, সে যখন "লোক" হয়ে ওঠেনি, তখনো একটা "ছেলে" ছিলো - এই গল্প তাকে নিয়েই।
    কদিন আগে স্কাইপে ওর সঙ্গে গল্প হচ্ছিলো, তখন এই গল্পটা বলতেই ফ্যাক্‌ করে হেসে বলল - তোমার এখনো সেসব মনে আছে দিদি?
    - মনে কেন থাকবে না? একি পরীক্ষার পড়া?

    তা সে যাগ্গে, ফ্ল্যাশ্‌ব্যাকে যাই।

    ছেলেটা আমার চেয়ে কয়েক বছরের জুনিয়র, সেই হিসেবে আমি ওর দিদি। প্লাস ও আমায় কোলকাতা থেকেই চিনত।
    নতুন ছাত্রদের মানুষ করবার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভোৎকা দেয়ার রেয়াজ চিরাচরিৎ। সিনিয়রদের সেই আদেশ তারা অগ্রাহ্য করতে সাহস পায় না, কিন্তু এই ছেলেটা আবদার করল ভোৎকা নয় কম্‌প্ল্যান খাবে।
    ওসব ফালতু জিনিস ওদেশে কোথায় পাবো? অতয়েব হট্‌ চকোলেট খাওয়ানো হোলো তাকে। হেভি গুডবয়।
    কিন্তু সময় বয়ে যাচ্ছে, আস্তে আস্তে টিনেজার ছোঁড়াটা প্রেমে পড়েছে এক রাশিয়ান তরুণীর। কবিতা ফবিতাও লিখে ফেলছে রাশিয়ানে।
    ইন্ডিয়ান কন্সুলেট তখন বনে গেছে ইন্ডিয়ান এম্ব্যাসী। ভোল পাল্টে গিয়েছে। মূল বাড়ীটা তখন ফুল ফ্লেজেড এম্ব্যাসী, পাশের বাড়ীটা অ্যাম্বাসাডারের রেসিডেন্স। এলাহী কান্ড। আমাদের হুট্‌হাট্‌ ঢুকে খোশগল্প করবার দিন ফুরিয়েছে।

    সেটা একটা রবিবারের বিকেল। রাস্তাঘাট শুনশান। ছেলেটা প্রেমিকার বাড়ী গিয়েছিলো শহরের অন্য প্রান্তে। এখন প্রেম ট্রেম করে নিজের ডেরা ফেরবার পালা। মাঝপথে বাস বদল করতে নেমেছে শহরের মধ্যিখানে। আর ঠিক তক্ষুনি কোনো ওয়ার্নিং না দিয়ে প্রচন্ড বেগ পেয়েছে। পেট মোচড় দিয়ে উঠছে, মাথা ঘুরে প্রায় পড়ে যায় আরকি।

    ফেরা বাসের অপেক্ষায় থাকলে প্যান্টেই সব হয়ে যাবে। চোখে অন্ধকার দেখছে ছেলেটা। কী উপায়? আস্তে আস্তে হাঁটছে, কিছু দূরেই একটা পার্ক ও তৎসংলগ্ন টয়লেট।
    কিন্তু পারবে কি অতটা হাঁটতে? একটা ট্যাক্সি নিয়ে নেবে কি? কিন্তু পৌঁছবার আগে ট্যাক্সির মধ্যে যদি কিছু হয়ে যায়?

    অল্প দাঁড়িয়ে বেগ সামলায় ছেলেটা। চকিতে মাথায় বুদ্ধি খুলে যায়, আরে! পাশেই তো ক পা হাঁটলে এম্ব্যাসী। ভারতীয় নাগরিকের এই চুড়ান্ত সঙ্কটকালে দূতাবাস কি তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে না।
    সন্তর্পনে পা চালায়, বেগের সঙ্গে ব্যালেন্স রেখে রেখে। দরজার সামনে এসে খেয়াল হয় সেদিন রবিবার। সব বন্ধ শুনশান।
    কিন্তু ছেলেটা বদ্ধপরিকর। একটা ফায়সালা করতেই হবে, হয় এস্‌পার নয় ওস্‌পার। এত সহজে ও হার স্বীকার করবে না।
    পাশের বাড়ীতে বেল টেপে। অ্যাম্বাসাডারের রেসিডেন্স। অ্যাম্বাসাডার স্লীপিং গাউন পরে দোতলার বারান্দায় এসে নীচে দেখেন ছেলেটাকে।
    - কে?
    - স্যার প্লীজ দরজা খুলুন, এমারজেন্সী।

    দরজা খুলে যায়।
    এবার দ্বিতীয় দফার বাক্যালাপ।
    - ক্যান আই ইউজ ইয়োর টয়লেট?
    ভ্যাবাচাকা রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যান তৎক্ষণাৎ।
    - শিয়োর।
    দ্রুতবেগে সে ছুটে যায় পায়খানা করতে। সব হয়ে গেলে বেরিয়ে এসে একগাল হেসে বলে, থ্যাঙ্কিউ স্যার।

    তারপরে সেখান থেকে ফিরে আসে নিজে ডেরার অভিমুখে। কী ভেবে সেখানে না গিয়ে আমার কাছে আসে।
    সমস্ত ঘটনা না বলা অবধি ওর শান্তি নেই।
    - ভালো করে হাত ধুয়েছিস তো?
    - ধুইনি মানে, লিকুয়িড সোপ ছিলো অ্যাম্বাসাডারের টয়লেট বলে কথা।
    - তাহলে হট্‌ চকোলেট করি? খাবি তো?
    - না আজ আর হট্‌ চকোলেট খাবো না, হার্ড ড্রিঙ্ক শুরু করে ফেলি।
    - বলিস কী রে!
    - অ্যাম্বাসাডারকে দিয়ে দরজা খুলিয়ে তার টয়লেটে হেগে এলাম, এটা সেলিব্রেট করতে হবে না?
  • Abhyu | 141.220.2.65 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২২:৪৭647229
  • :))))))))
  • সায়ন | 59.200.242.243 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২২:৫৪647230
  • :-))
    অ্যাম্বাসাডর, রাশিয়া, দূতাবাস - এইসব ভেরিয়েব্‌লগুলো বাদ দিয়ে বাদবাকিটার সঙ্গে একাত্মবোধ করলাম।
  • সায়ন | 59.200.242.243 | ১৭ জুলাই ২০১৪ ২২:৫৯647171
  • আর মানসিক (কিকি নয়) এবং আভ্যন্তরীন (অভ্যু নয়) চাপ - দুইই মানুষকে মূহূর্তে ঘর্মাক্ত কলেবর করে তোলে, এও প্রমাণিত।
  • nina | 78.37.233.36 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ০৪:৩৪647173
  • চলুক চলুক--দারুণ :-D
  • nina | 78.37.233.36 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ০৪:৩৪647172
  • চলুক চলুক--দারুণ :-D
  • কল্লোল | 125.185.150.10 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ০৫:১২647174
  • আগেই বলছি - এ মোটামুটি মুজতবা আলি লেভেলের। সে একটা ফুল ফ্লেজেড "প্ঞ্চতন্ত্র"এর রাশান ভার্সান নামাতে পরে।
    সম্পাদকেরা নজর দিন।
  • dc | 132.174.19.120 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ০৭:৫৪647175
  • অ্যাম্বাসাডরের গল্প/ঘটনাটা পড়ে যে কি ভালোই লাগল! বিশেষ করে এখানটা তো ক্লাসিক, "সন্তর্পনে পা চালায়, বেগের সঙ্গে ব্যালেন্স রেখে রেখে। " ঃ) এটা তার মানে ইউনিভার্সাল ঘটনা, সব দেশে সব শহরে হয়েছে আর হবে।
  • | 24.97.195.82 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ১১:০৮647176
  • :-)))))))))))))))
  • b | 135.20.82.164 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ১১:১৬647177
  • বড়ই একাত্মতা বোধ করলুম, ছাত্রটির সাথে।
  • lcm | 118.91.116.131 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ১১:৪৮647178
  • হা হা হা। দারুণ গপ্পো।
  • সে | 203.108.233.65 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ১৩:৪৬647179
  • যাঁরা পড়ছেন/কমেন্ট করছেন সকলকে থ্যাঙ্ক্‌স্‌। পরেও স্টোরি আসছে (যদিও হাসির স্টোরি নয়)।
  • sm | 122.79.37.30 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ১৪:১৩647180
  • মন বেশ খুশি হয়ে গেল। ইয়েঃ দিল মাঙ্গে মোর।
  • ranjan roy | 24.98.50.34 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ২০:৫২647182
  • গসপদি পমিলুই, তভারিশি! খরসু!
    ( না জেনে যা খুশি বকলাম, এত ভালো লেগেছে!)
    চলুক, চলুক!
  • Arpan | 125.118.76.215 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ২১:০০647183
  • মারুতি, পুরী, মঠ - এইসব ভেরিয়েবলগুলো অ্যাড করে বেশ একাত্মবোধ করলাম। ঃ))
  • শঙ্খ | 217.244.77.20 | ১৮ জুলাই ২০১৪ ২১:৪২647184
  • দারুন লেখা!! কুদোস!
  • nina | 78.37.233.36 | ১৯ জুলাই ২০১৪ ০৫:১৯647185
  • সে কি এলো--
  • kd | 69.93.243.118 | ১৯ জুলাই ২০১৪ ১০:১০647186
  • "সন্তর্পনে পা চালায়, বেগের সঙ্গে ব্যালেন্স রেখে রেখে। "

    রিচার্ড প্রায়র ওনার একটা শো'তে একটি ডান্সটেপ দেখিয়ে বলেছিলেন, এইটি এসেছে সাউথের কালো-সাদা সেগ্রিগেশন ফলে - ওখানে পাব্লিক টয়লেট আলাদা ছিলো, কালোদের টয়্লেটের সংখ্যা বেশ কম, তাই।
  • kiki | 127.194.75.165 | ২৫ জুলাই ২০১৪ ১৪:৪৩647187
  • আহা! বড় দেরি করে এলুম !! কিন্তু বেশ............ আর একি! সায়ন ঐসব বেগের সময়ে আমায় আর অভ্যুকে টানাটানি করছে কেন? :X :X
  • Abhyu | 141.220.2.65 | ২৭ জুলাই ২০১৪ ০৪:০৩647188
  • আর গল্প কই?
  • | 24.97.90.83 | ২৮ জুলাই ২০১৪ ১০:০২647189
  • কই? কই??
  • সে | 203.108.233.65 | ২৮ জুলাই ২০১৪ ১২:০৮647190
  • মনটা ভালো নেই। লিখবো।
  • সে | 203.108.233.65 | ২৮ জুলাই ২০১৪ ২৩:৫৩647191
  • ইলেকশন
    -----------

    যে যে শহরে দশ পনেরোর বেশি ইন্ডিয়ান ছাত্র আছে সেসবখানে দলবাজি তো মাস্ট বটেই, কিন্তু সে শুধু মুখের কথায় বা প্যাঁদাপেঁদি বা চোরাগোপ্তা হানাহানির স্টেজেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তেড়েফুঁড়ে আইনী স্বীকৃতি দাবী করে।
    ব্যাপারটা খুব অর্গ্যানাইজ্‌ড্‌ভাবে হয়। প্রথমে ছাত্ররা একটা "ইন্ডিয়ান স্টুডেন্ট্‌স্‌' অর্গ্যানাইজেশন" বানায় তারপরে গোটা দুতিন বা চারেক দলকে তার মধ্যে লড়িয়ে দেয়। যত বেশি দল, তত মজা। শীতের আগেই ইলেকশানের দিন ঠিক হয়ে যায় এবং কোন দল জিতবে এই নিয়ে গরম গরম মারামারি হতে থাকে। এগুলো রেগুলার প্র্যাক্টিস্‌। এম্ব্যাসীর কাছে সব খবরই পৌঁছয়, কিন্তু খুব্যাক্টা খুনোখুনির স্টেজে ঝামেলা ম্যাচিওর করে না।
    তারপরেই শীত পড়ে যায়, পড়াশুনোর চাপ অল্প বিস্তর বাড়ে, ঠান্ডা, ঝড়, বরফের টাইমে ছাত্ররা অল্প কেলিয়ে পড়ে- তাই শীতের আগেই ইলেকশানের ব্যাপারটা মিটিয়ে নেওয়া হয়।
    সেই আমার প্রথম বিদেশে থাকতে যাওয়া। সেপ্টেম্বর অক্টোবর থেকেই বিভিন্ন দলের সিনিয়ররা আমার কাছে এসে ইলেকশান ক্যাম্পেইন করে গেল। দেশে কখনো ভোট দিই নাই, ভোটাধিকার প্রাপ্তির আগেই দ্শছাড়া হয়েছি।
    বিদেশের মাটিতে পা দিতেই এরকম একটা গর্মাগর্ম ইলেকশান ক্যাম্পেইনে ভোটার হিসেবে প্রচন্ড গুরুত্ব পেলাম। আজ এক সিনিয়র তার ঘরে নিয়ে গিয়ে ডাল রুটি দই খাওয়ায় তো পরের দিনই অন্য সিনিয়র আমায় হাইজ্যাক করে নিয়ে গিয়ে রসম ভাত পেপার ওয়াটার খাইয়ে কাঁদিয়ে দেয়। সেই বার্তা রটে গেলে ফের আগের দল নেমন্তন্ন করে নিয়ে গিয়ে হাতে ভোৎকার গ্লাস ঠুষে দিয়ে অঙ্গীকার করিয়ে নেয় তাদের ক্যান্ডিডেটকে ভোট দেবার।
    সন্ধ্যের দিকের পড়াশোনাটা মাটি হতে থাকে, আবার লাভও হয় ফ্রিতে খাবার, মদ।
    কিন্তু এভাবে কতোদিন?
    মোটামুটি তিনজন ক্যান্ডিডেট খাড়া হয়। রঞ্জন কুমার ফ্রম বিহার। রভিশংকর ফ্রম টামিলনাডু এবং তৃতীয়জন বল্‌বন্‌ৎ সিং দিল্লী থেকে।
    রঞ্জনকুমার অলরেডি আমায় তার ঘরে নিয়ে গিয়ে পড়োসন সিনেমার সেই "সামনেওয়ালি খিড়কি মেঁ" গানটা শুনিয়ে শুনিয়ে মুখস্ত করিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ দাল রোটি দহি খাই ততক্ষণ ব্যাকগ্রাউন্ডে ঐ গানটা চলে, তারপরে আরো একটা গান , "জরুরৎ হ্যায়, জরুরৎ হ্যায়, জরুউরৎ হ্যায় .." এবং ফোরগ্রাউন্ডে রঞ্জনকুমার আমার মগজধোলাই করে, তাকে কেন ভোট দিতে হবে তার নানান যুক্তি ব্যাখ্যান শোনায়, হিন্দি শিখতে চাপ দেয় এবং শভিনিস্ট মার্কা মন্তব্যও করে। আমি চুপচাপ শুনি, তারপরে খাওয়া হয়ে গেলে প্লেট ধুয়ে নিজের ডেরার ফিরে যাই।
    এরপরে হচ্ছে রভিশংকর। সে শান্তশিষ্ট গম্ভীর টাইপ। হিন্দি নিয়ে চাপ নেই, ইংরিজি চমৎকার বলে এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরাও বেশ ভদ্র টাইপ। একেই আমার ক্যান্ডিডেট হিসেবে পছন্দ হোলো, বেশ সোবার লোক। তিন্নং ক্যান্ডিডেট বল্‌বন্‌ৎ সিংকে আমি তখনো দেখিনি। তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা খুবই আন অর্গ্যানাইজ্‌ড্‌ আনতাবড়ি খিস্তি মুখে লেগেই আছে। তবে তারাও জান লড়িয়ে ইলেকশান ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে।
    এই দলের মাস্তানরা হামেশাই "সালা, উস্‌কো পাকড়কে মারেঙ্গে.." টাইপ হুমকির ফুলঝুরি, এরা অধিকাংশই হয় মাল খেয়ে রয়েছে নয়ত এখনি খেতে যাবে গোছের অবস্থায়।
    বল্‌বন্‌ৎ -কে দেখা যেত না। সে হয় মাল খেয়ে আউট, নয়ত গার্লফ্রেন্ডের বাড়িতে পড়ে আছে, কিংবা মারামারি করে আহত - মোটকথা তাকে দেখার কোনো আগ্রহই আমার নেই। ওকে ভোট দেবার প্রশ্নই ওঠে না।
    যথা কালে ভোটের দিন আগত। শনিবারের হাফছুটির পরে সিনিয়ররা পাকড়াও করে নিয়ে গেল আমাদের ভোটের আসরে।
    অদ্ভুত সেই বিকেল। চাপা উত্তেজনা। স্ট্যাক করা আছে মালের বোতল ক্যান্ডিডেটদের ঘরে। রেজাল্ট বেরোনোর পরে যেন মালের অভাবে হাপিত্যেশ করতে না হয়।
    ৮৫ নং হোস্টেলের একতলার হলঘরে তিলধারণের স্পেস নেই। টান টান উত্তেজনা। টোটাল ৫৬ জন ইন্ডিয়ান স্টুডেন্ট ইন্‌ক্লুডিং মী।
    তিনজন ক্যান্ডিডেট।
    ছাপ্পান্ন মাইনাস তিন (ক্যান্ডিডেটরা নিজেরা) হচ্ছে তিপ্পান্ন; সেই তিপ্পান্ন মাইনাস তিন (যারা ক্যান্ডিডেটের নাম প্রোপোজ করবে) অর্থাৎ পঞ্চাশ; এবং ফাইনালি পঞ্চাশ মাইনাস তিন (যারা সেই প্রোপোজাল সেকেন্ড করবে) পড়ে রইল সাতচল্লিশজন ভোটার। তিনটে ক্যান্ডিডেট।
    হাত তুলে ভোট, নো ব্যালট পেপার।
    প্রথম নাম ডাকা হল বল্‌বন্‌ৎ সিং এর। সে টলতে টলতে সামনেটায় গিয়ে দাঁড়ালো, তাকে ধরে রেখেছে দুজন, যে নাম প্রোপোজ করেছে এবং যে সেকেন্ড করেছে।
    এবার ভোট, ঐ তিনজন বাদে আরো তেইশটা হাত গোনা হোলো। টোটাল ছাব্বিশ।
    এরপরে রঞ্জনকুমারের নাম। আজ কোটটাই পরে এসেছে। গোঁফে তা দিতেও দেখলাম এরমধ্যে। সম্ভবত টেনশনে। এবারেও টোটাল ভোট ছাব্বিশ। রঞ্জন ফিস্‌ফিসিয়ে রাগত গলায় আমাকে ডাকল। আমি নির্বিকার।
    নেক্স্‌ট ক্যান্ডিডেট রভিশংকর। মোট ভোট চার, তার একটা আমার।
    কেন এমন হলো?
    ভোটের আগের দিন রাতে রভিশংকর ও বল্‌বন্তের দলের মধ্যে বোঝাপড়া হয়ে যায় যে আলাদা আলাদা লড়লে এদের একজনও জিততে পারবে না, তাই জোট। কিন্তু ক্যান্ডিডেটদের নাম তখন প্রত্যাহার করবার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, তখন প্রত্যেকটা ভোটারকে এই গোপন খবর জানিয়ে দেওয়া হয়, বিশেষতঃ রভিশংকরের ভোটারদের। বাকি রইলাম আমি। আমি কাকে ভোট দেব সেটা এরা শেষ অবধিও টের করতে পারে নি। অন্যদিকে রঞ্জনকুমার খুব কনফিডেন্ট ছিলো।
    জয়েন্টলি দুজন ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস্‌ অ্যাসোসিয়েশানের প্রেসিডেন্ট হতে পারে না।
    দুই বিজয়ী দল চুপচাপ নিজ নিজ আস্তানায় ফিরে গেল। তারপরে ভোৎকা ফুল চার্জ করে সেই রাতেই বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা।
    ঐতিহাসিক সেই প্যাঁদাপেঁদিকে পাবলিক পরবর্তীকালে "এইট্টিফাইভের লড়াই" বলে কোট করত।
    কতোগুলো ফাঁকা মদের বোতল ভাঙ্গা হয়েছিলো তার হিসেব কেউ কষেনি। পুলিশ এসেছিলো কিন্তু বীরপুঙ্গবেরা গা ঢাকা দেওবার ব্যাপারে ছিলো এক একটি ওস্তাদ। কিন্তু প্রবল ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান খতিয়ে দেখতে ইউনিভার্সিটি ও পলিটেকনিকের হত্তাকর্তারা ভারতীয় এম্ব্যাসীকে তলব করে।
    সে এক গমগমে ব্যাপার।
    ফের ইলেকশান। উঁহু, কোনো হোস্টেলের হলঘরে নয়। শহরের তাগড়া থিয়েটারে গদিমোড়া অডিটোরিয়ামে।
    স্টেজের ওপরে মখমলের চেয়ারে বসে রয়েছেন ফার্স্ট সেক্রেটারী ও সেকেন্ড সেক্রেটারী মহাশয় যুগল। মস্কো থেকে আগের রাতের ফ্লাইটেই এসেছেন। দুজনেরই নীল সুট পরণে। নীচে দর্শকের আসনে আমরা সবাই, ভোটার ও ক্যান্ডিডেটসকল। সবাই খুব সেজেগুজে এসেছে। শনিবার নয়, তবুও আমাদের প্রত্যেককে ক্লাস থেকে বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। ঠিক বিয়েবাড়ী অ্যাটমস্‌ফেয়ার। দামী শাড়ীর খশ্‌খশ্‌, বাহারী সুট পরা যুবকের দল, যে যত পেরেছে পারফিউম আফটার্শেভ ঢেলেছে। বল্‌বন্‌ৎ তা সত্ত্বেও প্রায় আউট, কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। রভিশংকর দাঁড়ায় নি। বল্‌বন্‌ৎ ভার্সেস রঞ্জনকুমার। টাই হবার চান্স রাখেনি ইন্ডিয়ানরা। ছাপ্পান্নর বদলে ভোটারের সংখ্যা সেদিন সাতান্ন।
    কীকরে তা সম্ভব? একজন লুকোনো ভোটার ছিলেন, একজন রিসার্চার। নিজে ভারতীয় কিন্তু বিয়ে করেছে পাকিস্তানীকে, তাই তাকে আগে কেও ডাকত না উৎসবে অনুষ্ঠানে। সেদিন তাকে প্রায় গার্ড অফ্‌ অনার দিয়ে আনা হয়েছিলো। ফার্স্ট সেক্রেটারীর সামনে নিজের নেভি ব্লু পাসপোর্ট দেখিয়ে সেই রিসার্চার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে ভোট দিয়েছিলেন।
    রেজাল্ট নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই নি। রঞ্জনকুমার যে হেরেছিলো তাতেই আমাদের আনন্দ।
    সুষ্ঠুভাবে ইলেকশান সম্পন্ন করে মস্কোয় ফিরে যাবার আগে প্রথম ও দ্বিতীয় সচিব নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ছাত্রদের যে পারে জ্ঞান দেয়। তবে একটি লাইন আমার মনে আছে, হুবহু মনে নেই তবে এইরকম- দ্যাখো মদ খেতে বারণ তো করতে পারি কিন্তু তোমরা শুনবে না, তাই বলছি বুঝে শুনে খেও, এদের মতো তাগড়া স্বাস্থ্য তো আমাদের নয়, তাই লিমিট বুঝে খেলেই আর ঝামেলা হয় না।
    এটা সম্ভবতঃ ফার্স্ট সেক্রেটারীই বলেছিলেন। করতালিতে ফেটে পড়েছিলো অডিটোরিয়াম।
  • সে | 203.108.233.65 | ২৯ জুলাই ২০১৪ ০০:০২647193
  • এইটে লিখতে ভুলে গিয়েছি। সেবার থেকেই চালু হয়ে গেলো গোপন ব্যালট পেপার।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত