• টইপত্তর  অন্যান্য

  • একটি কন্ট্রোভার্শিয়াল গল্প

    রূপঙ্কর সরকার
    অন্যান্য | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ | ৬৫০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.200.173 | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২২:৩৪624486
  • অনেকদিন ধরে গল্প টল্প লিখছি। আজ ইচ্ছে হল একটা অ্যাডাল্ট থিম নিয়ে লিখি।
    এ গল্পটা স্টেটাসে দিয়ে বেশ কিছু গালি খেলুম। সত্যিই কি গালি খাওয়ার যোগ্য?
    এখানে কী হয় একটু দেখি -

    ঘেন্না

    দুপুর বেলা, বলাতো যায়না কে এসে বেল টিপছে। সাবধানেই দরজার কাছে গেল ইতু। তবে আসার সময় হয়ে গেছে একজনের। দরজাটা সামান্য ফাঁক করতেই প্রায় ধাক্কা মেরে ঢুকল সে। একটানে আঁচল সরিয়ে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল বুকের ওপর। ইশ্‌শ্‌ - কী হচ্ছে, দেখ দেখ, ব্লাউজটা ছিঁড়েই ফেললি? উম উম করতে করতে শুভ্র পিঠের দিকে অন্তর্বাসের হুক খোলে – তোমার বরের অনেক টাকা উম্‌ম্‌ অনেক ব্লাউজ কিনে দেবে উম্‌ উম্‌ম্‌ - ইশ্‌ দরজাটা বন্ধ করতে দে, কে এসে পড়বে – একথায় কান দেয়ার সময় নেই শুভ্রর। কাটা কলাগাছের মত ইতু পড়ে গেছে বিছানায়। আর যা যা বাধা বিপত্তি ছিল সব সরতে থাকে কোমর থেকে –ইশ্‌ ডাকাত একটা, অস্ফুটে বলে ইতু। শুভ্র জানে কাউকে চোর বললে সেটা গালাগাল, আর ডাকাত বলা মানে গৃহস্থ লুঠপাটের জন্য প্রস্তুত। অতএব কাজে মন দেয় সে। অবশ্য ডাকাত না বললে যে দিতনা তা নয়, ওটা একটু ইয়ে, মানে ইনসেন্টিভ।

    পিতু আর সিতু, এরা কিন্তু দুই ভাই নয় তবে অভিন্নহৃদয় বন্ধু। সেই ছোট্টবেলা থেকে এক স্কুলের এক সেকশনে পড়ে আসছে। হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে যদিও সিতু একটু ভাল মার্কস থাকার দরুণ নামী কলেজে সুযোগ পেয়েছিল আর সিতুর বাবা সেখানে ভর্তিও করে দিয়েছিলেন। সিতু বলল, নাথিং ডুইং। আমি পিতুর কলেজেই পড়ব। ক্যালি থাকলে বনগাঁ থেকেও শেয়াল রাজা বেরোয়। সিতুর বাবা বললেন, এতগুলো টাকা ফালতু খসালি তো। পিতুর ভাল নাম পীতাম্বর জানা, সিতু হচ্ছে শ্বেতশুভ্র ব্যানার্জী। এরা শুধু কলেজে নয়, একসঙ্গে সুনন্দ স্যারের কোচিং এও পড়ে। স্যার দারুন পড়ান। সিতু বলল, জানিস, স্যারের পড়ানো শুনতে শুনতে একটা অন্য জগতে চলে যাচ্ছি মনে হয়না? পিতু বলল, কী জানি বাবা, আমি ওসব বুঝিনা। সিতু বলল, লোকটার ভেতরের ডেপ্‌থটা ফীল করিস? আমি তো প্রেমে পড়ে যাই একেবারে। পিতু বলল, সেরেছে, তুই ব্যাটা গে হয়ে গেলি নাকি রে? সিতু বলল, মারব গাঁড়ে লাথি। গে আবার কী বে? মানুষটা একটা অন্য জগতের মানুষ, এটা বুঝতে পারিস না, কী অসাধারণ।

    একটা অন্য জগতের অসাধারণ মানুষকে ভালবেসে ফেলেছিল ইতু। ইতু সুনন্দ বাগচির কাছে পড়ত। তার চোখের মধ্যে ডুবে যেত ইতু, কী গভীর চাউনি। একমাথা এলোমেলো চুল, ছ’ফুটের ওপর লম্বা লোকটা সামান্য ঝুঁকে হাঁটে সামনের দিকে। তার দিকে তাকালে ইতু পাগল হয়ে যেত। ঐ হিন্দী সিনেমায় ফিদা না কী বলে, তাই। আরো অনেক মেয়েই তো পড়ত, তারাও একই রকম ফিদা হ’ত বোধহয়, কিংবা তারা টের পেতনা সেই চোখের গভীরতা। ইতু পেত, ক্লাস ভাঙলেও ছুতোয় নাতায় দেরী করত। একদিন একটা বিরাট রিস্ক নিয়ে ফেলল, সবাই চলে গেছে, ক্লাসঘর ফাঁকা, ইতু স্যারের গলা জড়িয়ে মুখটা নামিয়ে এনে হঠাৎ তার ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিল। অনেকক্ষণ খেয়েছিল চুমুটা। স্যার ছাড়াবার চেষ্টা করেছিল, পারেনি। ইতুর বজ্র আঁটুনি আলগা হয়নি। বাড়ি গিয়ে মাকে বলল, আমার পাত্র দেখা বন্ধ কর, আমি সুনন্দ স্যারকে বিয়ে করব।

    পিতু আর সিতু ফুটপাথ ধরে হাঁটছে। ইস্কুলে পড়া বয়স থেকেই একটা খেলা তারা অভ্যেস করে ফেলেছে। এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে এল প্রায়, তবু তাদের খেলাটা চলে। পিতু বলল, সাদা রঙের কাক হয়? সিতু বলল, আলবাত হয়, সব প্রাণীই সাদা হতে পারে, তাদের বলে অ্যালবিনো। পিতু বলল, ঠিক আছে, আজ থেকে সাত দিনের মধ্যে একটা সাদা কাক দেখা, তোকে হাজার টাকা দেব। এই অঙ্কটা ইস্কুলে পড়া কালীন প্রথমে দশ ছিল, পরে একশ’য় উঠেছিল। টাকার মূল্যের ক্রমাগত অধোগমনের ফলে ওটা এখন হাজার। পিতু কিছুদিন আগে হাজার টাকা হেরেছে। বলেছিল একদিনের মধ্যে প্যান্ট পরা টানা রিক্‌সোওয়ালা দেখালে হাজার দেব। সেদিন স্যারের বাড়ি থেকে ফেরার পথেই ‘র্যাং লার’ লেখা জিন্‌স পরা একটা ছেলেকে রিক্‌সো টানতে দেখা গেছে। এবার সিতু বলল, আজকাল কেউ বিয়েবাড়ি ছাড়া ধুতি পরে? পিতু বলল, নিশ্চয়ই পরে। হয়ত কম, কিন্তু পরেই। ও জানত এবার হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার একটা চমৎকার সুযোগ তৈরী হওয়ার অপেক্ষায়, কেননা অনেক দূরে গাছের আড়ালে দাঁড়ানো ভদ্রলোকের অবস্থান তার চোখ এড়ানি। সিতু তাঁকে দেখতে পায়নি, সে যে অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে ভদ্রলোককে দেখতে পাওয়ার কথাও নয়। বলল, পাঁচ মিনিটের মধ্যে ধুতি পরা কাউকে দেখা,- ওয়ান থাউজ্যান্ড।

    ভদ্রলোক যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, ওরা হাঁটতে হাঁটতে সেই জায়গায় পৌঁছতেই ভদ্রলোক গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, আচ্ছা ভাই, শ্রী সুনন্দ বাগচি এখানে কোথায় থাকেন তোমরা জান? পিতু ডান হাতের মুঠো বন্ধ করে নিজের দিকে ঝাঁকিয়ে কনুইটা নীচে আছড়ে দিয়ে বলল, ইয়েস্‌স্‌স – ভদ্রলোক ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আমি কি কিছু ভুল বললাম? পিতু বলল, না কাকু, এভ্রিথিং ইজ অলরাইট। আসলে আই অ্যাম গেটিং ব্যাক দি রেড গান্ধী, আহা কী- আনন্দ আকা-শে বা-তাসে -। আসুন আসুন আমরা ওখানেই যাচ্ছি। ধুতিপরা ভদ্রলোক আরো ঘাবড়ে গেলেন, কিন্তু ওদের পেছন পেছন হাঁটতে লাগলেন। স্যার বাইরের ঘরেই ছিলেন। অন্য ছাত্র ছাত্রীরাও অনেকে চলে এসেছে। পিতু চটি খুলতে খুলতে বলল, স্যার, এই কাকু আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।

    রতিক্লান্ত শুভ্রকান্তি পড়ে আছে অসভ্যের মত ভঙ্গিমায়। ইতু কাপড় গোছাতে গোছাতে বলল, ইস্‌ অমন বিস্রী ভাবে – ছিঃ একটু ঢাকাঢুকি দে। শুভ্র বলল হোয়াই ডার্লিং, তোমার কাছে আমার গোপন কিছু আছে কি? ইতুর হঠাৎ খেয়াল হ’ল দরজাটা বন্ধ করা হয়নি। দৌড়ে গিয়ে ছিটকিনি তুলল সে, ইস তুই না – যদি কেউ এসে পড়ত হঠাৎ? শুভ্র বলল, কে আবার আসবে, তোমার বর তো এখন কলেজে ছাত্রীদের চোখের গভীরে ডুব সাঁতার শেখাচ্ছে। আর কাজের মাসি? সে তো সবই – ইতু রেগে গেল, হোয়ট ডু ইউ মীন। আমার বরের ওপর অনেকের ক্রাশ থাকতে পারে, কিন্তু সে অন্য জগতের মানুষ। আজেবাজে কথা একদম বলবিনা। তাছাড়া বয়সও হচ্ছে। সবাই কি তোর মত? শুভ্র বলল, ওমা তাইতো ! শুভ্র একটা লম্পট, একটা উওম্যানাইজার, একটা বিচ্ছিরি রকমের ইয়ে – কিন্তু ব্যাপার হ’ল, শুভ্র ছাড়া আমাদের ইতু বৌদির এক দিনও চলেনা। মাথা ধরলেও বাড়িতে শুয়ে থাকার উপায় নেই, নোকিয়ার রিং টোন বেজে যায় সমানে। আচ্ছা ডার্লিং, আমি কি জিগোলোর ফী চাইতে পারি তোমার কাছে? ইতু বলল, ছিঃ দিন দিন কত ছোটলোক হয়ে যাচ্ছিস, ছিঃ। শুভ্র বলল, মাইরি, তাইলে আগে ভদ্‌রোলোক ছিলাম বল? ঐ সেদিন চৈত্‌রোমাসে আমার চোখে সব্‌বোনাশ দেখার আগে পোয্যন্তো?

    লম্বা সুনন্দ বাগচির এখনও এলোমেলো চুল। বেশি এলোমেলো হলে আঙুল চালিয়ে ঠিক করেন। এমনিই বেশ কয়েকটা চুল পেকেছে, তার ওপর চকের গুঁড়ো ভর্তি আঙুল চালিয়ে আরো সাদা করে ফেলেন চুলের ঢেউ খেলানো গোছা। তাতে আরও আকর্ষণীয় লাগে। তিনি বেরিয়ে এসে বললেন, আমাকে খুঁজছেন? নমষ্কার, বলুন, আমি কী করতে পারি? ছেলে মেয়ে কাউকে ভর্তি করাবেন? তাকে সঙ্গে আনেননি? ভদ্রলোক বললেন, নমষ্কার, আমি পরাশর চন্দ। আসলে আমি একটু মিসেস বাগচির সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমি কি তাঁর সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি? সুনন্দ বললেন, মিসেস বাগচি, মানে ইতু? পরাশর বললেন, আমি ওঁর নাম জানিনা। কিন্তু ওঁর সঙ্গেই দরকার। যদি অনুমতি দেন তো দুটো কত্থা বলেই চলে যাব। সুনন্দ বললেন, আরে না না, আপনি কুড়িটাও বলতে পারেন, আসলে আমি ভাবছিলাম, আপনি ঠিক লোককে পেলেন কিনা। এই পেছনের দরজাটা দিয়ে ভেতরে চলে যান, ইতু আছে। পরাশর তবুও ইতস্তত করেন, মানে ওঁকে একটু ডাকলে হতনা? সুনন্দ আবার বললেন, যান না যান, যদি দেখেন ঠিক লোক তাহলে আর চিন্তা নেই। যদি দেখেন ভুল, তাহলে আবার কোনও বাগচিবাড়ি খুঁজতে হবে। তবে যতদূর জানি এ পাড়ায় আর কোনও বাগচি নেই।

    মানুষটার কোনও কান্ডজ্ঞান নেই, যাকে তাকে ভেতরে পাঠিয়ে দেয়। একটা খবর পাঠানোরও প্রয়োজন দেখেনা। ইতু এখন ঠিকঠাক জামাকাপড়ও পরে নেই, একটা লম্বা জামা, যেটাকে কেউ ম্যাক্সি, কেউ নাইটি বলে অথচ আসলে দুটোর কোনওটাই না, সেটা আবার দক্ষিণ ভারতীয়দের মত হাফ করে গোটানো, মানে মাইক্রোমিনি স্কার্ট টাইপের। এই পরে রান্নাঘর থেকে বেরিয়েই দেখে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মত ড্রেস করা একটা লোক। পরনে কালোপেড়ে ধুতি আর গায়ে একটা হাতগোটানো জামা, সবই সাদা। এমন জামা বানানোর মত দর্জি এখনো আছে এ দেশে? ইতু ভাবল, অনেক বুড়ো দর্জি বোধহয়। তারপরেই খিলখিল করে হেসে নিল ভেতরে ভেতরে, কী সব ভুলভাল চিন্তা রে ভাই! অবশ্য বাইরে কিছুই বোঝা গেলনা। সে বলল, ইয়ে, আপনি? বলেই এক্কেবারে মাকালীকে নকল করে বিশাল একটা জিভ কেটে হাফ জামার উরুর কাছে গিঁট খুলে ফুল করল, একটা গামছা টেনে নিয়ে ওড়নার যায়গায় টেম্পোরারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিল। ধুতি পরা লোকটা বলল, ঠিক আছে ঠিক আছে। ঘাবড়ে গিয়েই বলল বোধহয়, কেননা এর পরেই ইতু বলল, হোয়ট ? ঠিক আছে মানে? কী বলতে চান কি আপনি?

    লোকটা বলল, ইয়ে, না, মানে আমি বলছিলাম অত বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ইতু আরও ক্ষেপে গেল। বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই মানে? প্রয়োজনটা তো আমার। যে কোনও ভদ্র বাড়ির মেয়ের বা বৌয়ের যতটুকু আব্রু লাগে, সেটার দরকার আছে কি নেই, তা আপনি বলে দেবেন? লোকটা বলল, না, মানে আমি বলতে চাইছিলাম যে,- ইতু বলল, যা বলতে চাইছিলেন সেটাই ঠিকঠাক বলার চেষ্টা করবেন এখন থেকে। যাক এখানে কী প্রয়োজন? আচ্ছা দাঁড়ান, আমি ভেতর থেকে আসছি।

    মা একটু গাঁইগুই করেছিল, বলিস কী, ওই প্রোফেসর ? সে তো অনেক বড় তোর চেয়ে। ওর বৌ নেই? ইতু বলল, না মা, বৌ টো নেই, বিয়ে করে উঠতে পারেনি। - কেন, পারেনি কেন? কিসের অসুবিধে। একে কলেজের মাইনে, তার ওপর প্রাইভেট কোচিং, রোজগার তো খারাপ না? ইতু বলল, আসলে ওর বিয়ে দেবার কেউ নেই। পরিবার বাংলাদেশে, এখানে মামার কাছে থেকে পড়াশোনা করত। তিনি মারা গেছেন। মামাতো ভাইরা ওর থেকে অনেক ছোট। তারা তো আর দাদার বিয়ে দেবেনা, তাই তালেগোলে – মা বলল, জানিনা বাপু, আমার মত নেই। তবে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বাপ মার মতের তোয়াক্কা থোড়াই করে। যা পারিস করগে যা। ঠিক হলে বলিস, তোর কাকাকে খবর দেব। তিনি এসে ব্যবস্থা টেবস্থা করবেন। তবু আমি জানিয়ে রাখলাম, আমার একদম মত নেই।

    লোকটা দাঁড়িয়েই ছিল। ইতু সাজুগুজু করতে বেশ খানিকটা সময় নিয়েছে, এসে লজ্জায় পড়ে গেল। ওমা, আপনি সেই থেকে দাঁড়িয়ে আছেন? এখানে বসবার জায়গা নেই? লোকটা বলল, মানে, আপনি দাঁড়াতে বললেন যে – ইতু এবার সত্যি খিলখিল করে হেসে উঠল। আপনি ক্যাসাবিয়াঙ্কার কাকা টাকা কেউ হন নাকি? দাঁড়ান মানে লিটারালি দাঁড়ান কি? দাঁড়ান মানে, অপেক্ষা করুন। ছি ছি কী কান্ড বলুন তো। লোকটা বলল, ঠিক আছে, আমার দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যেস আছে, আমি – ইতু বলল, ইস্কুলে শাস্তি পেতেন নাকি? ওমা, এখনও আপনি দাঁড়িয়ে? বসুন প্লীজ। হ্যাঁ বলুন তো কী ব্যাপার? লোকটা বলল, আমাকে চিনতে পারেন নি, না? সেই বাঞ্ছারামের দোকানে –

    বিয়ের পরই ইতু বুঝে গেল ডিসিশনটা ভুল হয়েছে। সুনন্দ নিজেও খুব একটা রাজি ছিলনা, তাকে দোষ দেয়া যায়না। মানুষের চোখে ডুব দেয়া এক জিনিষ আর বিছানা শেয়ার করা আলাদা ব্যাপার। মন আর শরীর, দুটোর মধ্যে বিরোধ প্রচূর। যে মানুষ মানসিক জগতে বিচরণ করে বেশি, তার ছ’ফুট লম্বা ফ্রেম আর শালপ্রাংশু বাহু দুটো প্রতারণা করে গুণগ্রাহীর চেতনাকে। লোকটা কলেজ ইউনিভার্সিটিতে সাংঘাতিক নম্বর পেয়ে থাকলেও দাম্পত্যে শূণ্য পাবে। শুধু বিছানায় পরাজিত সৈনিক নয়, বাজারে পাঠালে আলু আর পটলের বৈষম্য পরিষ্কার নয় তার কাছে। বার দুয়েক মাছ কিনতে পাঠিয়ে হাপুস নয়নে কাঁদতে হয়েছে ইতুকে। কিন্তু সব কিছুই মেনে নিয়েছিল ইতু। আফটার অল, এমন একটা মানুষ পাওয়া গেছে, যেমন শুধু স্বপ্নে হয়। ফাঁক যেটুকু ছিল তা ভরাট করতে শুভ্র চলে এল অচিরেই। সেও পড়ত সুনন্দর কাছে। ঠিক এই লোকটার মতই হুট করে চলে এসেছিল ভেতরে। বলেছিল, বৌদি ওঘরে জল ফুরিয়ে গেছে, দুটো বোতল দিন তো। ইতুর সেদিনও গায়ে জামাকাপড় কম ছিল। সে দেখল, ছেলেটা চোখ দিয়ে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত চেটেপুটে খেয়ে গেল। তারপর থেকে প্রায়ই জল ফুরিয়ে যেত বাইরের ঘরে, সকালে পল্টুর মাকে দিয়ে ছ’বোতল জল রাখিয়েছিল একদিন ইতু, দেখেছিল ফুরোয় কিনা। সেদিনও ফুরিয়ে ছিল। এরপর সকালে আসা শুরু করে শুভ্র, সুনন্দ কলেজে বেরোনোর পর।

    লোকটা বলল, আমাকে চিনতে পারলেন না? সেইযে বাঞ্ছারামের দোকানে পাটিসাপটা – ইতু বলল, ওওওও – হ্যাঁ হ্যাঁ, শেষ কটা আপনি কিনে নিয়েছিলেন বলে আমি পাইনি। ইস যা রাগ হচ্ছিল, তা আপনি আবার জোর করে আপনার প্যাকেটটাই আমায় গছাতে চাইছিলেন। ছিঃ নিজের বাড়ির জন্য কিনেছিলেন, আমি নিতে পারি কখনও? লোকটা বলল, না না, নিজের বাড়ির জন্য নয়, নিজের বাড়িতে তেমন কেউ নেই আমার। ওটা একজনের বাড়ি যাবার সময়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে অন্য কিছু নিয়ে গেলেও কিছুই হেরফের হতনা। এদিকে আপনি পাটিসাপটা খুব ভালবাসেন, কিন্তু পেলেন না – ইতু বলল, কী করে জানলেন, আমি ভালবাসি? লোকটা বলল, ঐ যে, আপনি বললেন তো, ইস, এই জন্য দু বার বাস পালটে এলাম – ইতু বলল, বাব্বা, আপনি এত সব খেয়াল করেছেন? লোকটা বলল, হ্যাঁ তাই আজ একটু নিয়ে এলাম, এই যে, দয়া করে ফেরাবেন না। ইতু বলল, একি এতগুলো, এতো প্রায় পাঁচশো টাকার মিষ্টি। পাগল নাকি? এ আমি নিতে পারবনা। তাছাড়া আমার বাড়ি চিনলেন কী করে আপনি। সেদিন ফলো করেছিলেন নাকি?

    ইতু মাঝে মাঝে ভাবে, শুভ্রকে আস্কারা দেয়াটা কি উচিত হয়েছিল? একটা চাহিদা তো ছিলই, প্রচন্ড চাহিদা। একটা প্রতিশোধও নেবার ছিল, নিজের সিদ্ধান্তের ওপর প্রতিশোধ। কিন্তু ছেলেটাকে এখন আর ভাল লাগেনা তার। আসলে ভাল কোনওদিনই লাগেনি, একটা জান্তব তাড়নায় ভেসে গিয়েছিল প্রথম প্রথম। এখন এড়ানো যায়না, দরজা খুলবনা ভাবলেও খুলে দিতে হয়। তরপর শরীরে শরীর মিশলে প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে কিছু সময়ের জন্য। পল্টুর মা জেনে ফেলেছে সব, দেখেছেও অনেক কিছু। অন্যায্য মাইনে বাড়াবার দাবীও মেনে নিতে হয়েছে মুখ বুজে। তাতেও যে কথা চলছেনা কলতলায় এমন নিশ্চয়তা নেই। ইতু এখন মাঝে মাঝে বাথরুমে বসে কাঁদে একা একা। সব কেমন হয়ে গেল। আবার একজন হাজির। ইনি আবার বাঙ্গালির ঐতিহ্যবাহক, নিপাট ভদ্রবেশি একজন মৌচোর। মধুর লোভেই যে এসেছেন, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এলেন কী করে? ইতু বলল, সেদিন ফলো করেছিলেন আমায়?

    ভদ্রলোক বললেন, না না, ওই যে আপনি ফোনে কাউকে বললেন না, যে আপনার কর্তার নাম সুনন্দ বাগচি, আমার আবার একজন পরিচিত মেয়ে ওঁর কাছেই পড়ে। তার কাছেই শুনলাম যে চক্রবেড়িয়া রোডে বাড়ি। ইতু বলল, সে যাই হোক, এত টাকার মিষ্টি আমি নিতে পারবনা। ইয়ার্কি নাকি, প্রায় পাঁচশো টাকা – ভদ্রলোক বললেন, আহা ওদের মিষ্টির দাম তো এমনিতেই বেশি। চার পাঁচখানা মিষ্টি নিয়ে তো কারো বাড়ি যাওয়া যায়না। আর যেখানে আপনি এটা খেতে খুব ভালবাসেন – ইতু বলল, তো? আমি ভালবাসি তো কী, আমার সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক? মানে আমি বলছি কানেকশনটা কোথায়? বাই দা ওয়ে আপনার নাম কী? উনি বললেন, আমার নাম পরাশর চন্দ, টালায় থাকি। আর সম্পর্ক তো একটা আছেই, ঐযে বসুধৈব কুটুম্বকম , শোনেননি? মুচকি মুচকি হাসছে আবার। ইতু বলল, ঠিক আছে। কুটুম যখন, এবেলা খেয়ে যাবেন। পাঁচশো টাকার খানিকটা উশুল করাই। গলদা চিংড়ি খান তো? পরাশর বললেন, খাই মানে, পাই কোথায়। বাড়িতে তেমন রান্না বান্না হয়না। একা একা হোটেলে খেতেও মন চায়না। ঠিক আছে খেয়েই যাব। বেশ রাত করেই গেলেন পরাশর। আশ্চর্য, ছুতোয় নাতায় বেশ ক’বার জিজ্ঞেস করতেও নিজের সম্বন্ধে প্রায় কিছুই বললেন না। সুনন্দর তো কোনই ইন্টারেস্ট নেই এসব মামলায়। খাওয়ার টেবিলে একজন বাড়তি লোক পেয়ে খুব খুশি, শেলি বায়রন নিয়ে আলোচনা জুড়ে দিল। লোকটা সেসবও জানে দেখা গেল।

    পরাশর প্রায়ই আসে এখন। মাঝে মধ্যে সকালেও আসে। দুদিন শুভ্র এসে ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে, প্রায় তিন প্যাকেট সিগারেট খেয়ে চলে গেছে। পরাশর আবার সিগারেটের কুফল সম্বন্ধে দীর্ঘ লেকচারও দিয়েছে তাকে। শুভ্র তার উত্তরে বিড়বিড় করে যা বলছিল, ইতু জানে ছাপার অক্ষরে তা কোথাও লেখা যাবেনা কোনওদিন। ইতু বাথরুমে গিয়ে কাঁদত, আজ হা হা হা হা করে নট্ট কোম্পানীর রাবনের মত হেসেছে। রাবনের মত এই কারনে, যে মন্দোদরী হাসতেন কিনা কোনও পালায় তা দেখা যায়নি। একদিন কোমর বেঁধে ইতু পরাশরের সামনে একটা মোড়া নিয়ে বসে চোখে চোখ রাখল সটান। সেও লড়ে যাচ্ছে সমানে, দৃষ্টি ফেরায় নি একবারও। ইতু বলল, পরাশর, তুমি এখানে আস কেন? কী উদ্দেশ্যে, বলতো শুনি? পরাশর বলল, তোমায় দেখতে। ইতু বলল, ব্যাস? পরাশর বলল, ব্যাস। দুজনেই চুপচাপ। ঘড়ি বেজে গেল নীরবে। পল্টুর মা উঁকি মেরে চলে গেল তিনবার কিছু সময়ের ব্যবধানে। আজ রাত্তিরে এমন অদ্ভুত ঘটনা বিশ্লেষণের বারংবার প্রচেষ্টায় তার হার্ট অ্যাটাকও হয়ে যেতে পারে, তা যাক। আবার লোক পাওয়া যাবে। অনেকক্ষণ পর ইতু বলল, তুমি কি আমায় ভালবাস? পরাশর বলল, ভেবে দেখিনি, অত ভাবার সময় নেই আমার।

    সেদিন শুভ্র এসেই দেখল পরাশর বসে আছে যথারীতি, হাতে পাটিসাপটার বাক্স, পরাশর হেসে বলল, আরে শুভ্রবাবু যে, কী খবর? সিগারেট খাওয়া কমিয়েছ? এই নাও পাটিসাপটা খাও, বাঞ্ছারামের মিষ্টির টেস্টই আলাদা, বলে বাক্সটা বাড়িয়ে ধরল শুভ্রর দিকে। শুভ্র এক লাথি মারল পরাশরের হাতে, বাক্সটা উড়ে গেল দু ভাগ হয়ে। পাটিসাপটা গুলো ঘরময় ছিটিয়ে পড়ল। একটা উড়ে গেছিল রান্নাঘরের দিকে। ইতু দৌড়ে এল, কী হচ্ছে এখানে? শুভ্র বলল, অ্যাই শুওর, কী চাই এখানে, খানকির ছেলে? ইতু মাঝখানে চলে এসেছে। শুভ্রর রাগে বিকৃত হয়ে যাওয়া মুখে একদলা থুথু ছুঁড়ে দিল ইতু – থুঃ।

    শুভ্র কাঁপছিল রাগে, এখনো কাঁপছে বিষ্ময়ে। ইতু থুথু দিল মুখে, ইতু? রুমাল বের করে থুথু মুছছে শুভ্র। ইতু বলল, আরে! ঘেন্না করছে? কেনরে? আমার মুখের মধ্যে জিভ ঢুকিয়ে যখন চুমু খেতিস, লালা লাগতনা তোর মুখে? সেই লালাই ছুঁড়ে দিলাম বলে এত ঘেন্না? শুভ্র দেখল, বাঁদিকের ঘরের পর্দা সরিয়ে একটা এলোমেলো চুলের লম্বা লোক ঢুকছে ঘরে। আজ যে সরকারি ছুটি, তা খেয়ালই ছিলনা। ইতু হাঁফাচ্ছিল, থামেনি কিন্তু। সে বলে চলল, আরো কত বিচ্ছিরি বিচ্ছিরি জিনিষ লেগেছে তোর মুখে, তবে আজ এত ঘেন্না কেনরে? অ্যাঁ?

    ওদিকে ডানদিকের দরজার পর্দা সরিয়ে পল্টুর মা দেখছিল সব আর শুনছিল মস্ত বড় হাঁ করে। রাত্তিরে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কিনা সে খবর আর নেয়া হয়নি।
    ০৩/০১/২০১৪
  • | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২২:৪৯624497
  • গপ্পোটা মন্দ কী? :-)
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.200.173 | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২২:৫৪624508
  • যাক বাঁচালেন। :)
  • cm | 122.79.38.177 | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:০৫624511
  • যাঃ এরম বললে গাল দেব কি করে? পিতু আর সিতুকে খামোকা না জড়ালেও পারতেন।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.208.226 | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:১০624512
  • তা অবশ্য ঠিক, কিন্তু পরাশরের ধুতির ভূমিকায় ওদের একটু দরকার ছিল। হ্যাঁ ওদের একটু কম ব্যবহার করলেও চলত।
  • রোবু | 213.147.88.10 | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:১৯624513
  • ভালোই লাগল :-)
  • Ranjan Roy | ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:৪৪624514
  • রূপংকরদা!
    লড়ে যান। ঈর্ষণীয়।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.202.194.92 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ০০:০৭624515
  • রঞ্জন,
    অনেক ধন্যবাদ। সেই ব্রাহ্মণের কাঁধে ছাগল নিয়ে যাওয়ার গল্পটা জান নিশ্চয়ই। ওটাকে প্রায় কুকুর বলে ধরেই নিয়েছিলাম। হৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্যই এ পাড়ায় এলাম। বাঁচালে ভায়া।
  • সিকি | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ০০:১১624516
  • পিতু সিতু, তেমন কিছু ভাবে না বললেও চলত।

    আর রাবণ বানান ভুল আছে।

    বাকি তো দিব্যি লাগল। এইবার একটু বলুন কে কী গালাগাল দিল। মূল নাটকের থেকে আমার পাঠপ্রতিক্রিয়াতে ইন্টারেস্ট বেশি।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.202.194.92 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ০০:২৩624487
  • সিকি, একবার আমার স্টেটাসটা ঘুরে এস। আসলে অনেক ঘুরপথে রাগ মেটানোর জন্য কেউ বেছে নিয়েছে এই মাধ্যম। অন্যরা অনুসরণ করছে মাত্র।
  • রোবু | 213.147.88.10 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:৩৭624488
  • রূপঙ্করদা, ফেবু বা যে কোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট, এমন কী গুরুর সমালোচনার ভিত্তিতেও সাহিত্যের উতকর্ষ যাচাই হয় না। এ অবশ্য আমার চেয়ে আপনি অনেক ভালো জানেন।
    তবে ফেবুতে গল্প নামালে একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যে নী-জারক রিয়াকশন কিন্তু আসবেই। বিভিন্ন কারণে।
  • সিকি | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:৪৬624489
  • ক।
  • sosen | 111.63.136.179 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১০:০৩624490
  • সৈত্যের খাতিরে, গল্পের মেসেজ বা থিম কোনটাই পরিষ্কার হোলোনা আমার কাছে। কন্ট্রোভার্শিয়ালিটির কারণও।
    রূপঙ্করদার গল্প বলার ভঙ্গিটি as usual আকর্ষণীয়, কিন্তু কন্টেন্টে ওঁর কাছে যে প্রত্যাশা থাকে তার ধারেকাছেও গেল না।
  • সুকি | 212.160.18.53 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১০:৩৫624491
  • আমার কাছে ঠিক জমল না - এর থেকে রূপঙ্কর বাবুর অনেক ভালো লেখা আমি পড়েছি এবং আমার মনে হয় পাঠকদের কে কি বলল সেই বিষয়ে খুব বেশী ভেবে নিজের লেখার স্টাইল না পাল্টালেই মনে হয় ভালো হবে।
  • aranya | 154.160.5.25 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১০:৩৮624492
  • সোসেন-কে ক, একই প্রতিক্রিয়া আমারও
  • aranya | 154.160.5.25 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১০:৩৯624493
  • রুপঙ্কর-দা বড় প্রিয় লেখক। তাই প্রত্যাশা বেশী..
  • ম্যাক্সিমিন | 69.93.245.127 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১৬:৩৮624494
  • রুপঙ্কর সরকার আপনার লেখা আগে পড়ি নি। প্রথম পড়লাম। ভালো লেগেছে। গল্পে একাধিক মেসেজ থাকতে পারে। একটা মেসেজ আমি আমার মত করে বুঝে নিয়েছি।

    একটা প্রশ্ন আছে। সিতুর নামও শ্বেতশুভ্র দিয়েছেন, এটা কি অনবধানবশত?
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.193.49 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ১৯:১৮624495
  • ম্যাক্সিমিন।

    না ম্যাডাম, এটা ডেলিবারেট। তবে শুভ্র ও শ্বেতশুভ্র গুলিয়ে যাওয়ার চান্স তো থাকেই। আসলে আমি প্রত্যেকটা গল্পেরই নাম বাছি খুব ইম্পালসিভ ভাবে। প্রথমেই যা মাথায় আসে, তাই। পরে খেয়াল করেছি, যে গোলোযোগ হতে পারে, কিন্তু বদালাইনি। এটা বেশ বড় দোষ।

    আপনি একদম কারেক্ট। মেসেজ ছিল, আপনি পেয়েছেন। যাঁরা পাননি তাঁদের কোনই দোষ নেই। আমার কমিউনিকেশন স্কিল ফেল করেছে এবার।

    সোসেন,
    তাই হবে। এখানে দিয়ে দেখলাম। ওখানকার সমালোচনা পড়ে কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছিলনা। এটা ফেলকরা ছেলে।

    আর সবাই,
    অনেকানেক থ্যাঙ্কস। আসলে গল্পটা আরও অনেকটা বড় ছিল। অ্যাবরাপ্টলি ছাঁটতে গিয়ে কেলো হয়েছে, দুঃখিত।
  • ম্যাক্সিমিন | 69.93.245.127 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ২০:০৮624496
  • অনেক ধন্যবাদ রূপঙ্কর।
  • কল্লোল | 125.242.202.103 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ২০:৪৯624498
  • গল্পটা ভালো তার বলার ভঙ্গীতে। কিন্তু কেন কন্ট্রোভর্সিয়াল সেটা আম্মো বুঝলুম না। পরকীয়া আছে বলে? নাকি শুরুর প্রেমখেলার বিবরণের জন্য? নাকি শেষে ইতুর থুতু সংক্রান্ত ডায়লগের কারনে?
    মেসেজ তো খুবই পষ্টো। ঐ প্লেটোনিক বনাম ইয়ে আর কি।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.183.13 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:০৪624499
  • কল্লোল,

    বললুম যে ওখানে কন্ট্রোভার্সির ঢেউ উঠেছে। 'বটতলার গপ্পো' তাপ্পর 'ঝুলস্য ঝুল' ইত্যাদি বিভূষণ জুটেছে, তাই বললাম আরকি। 'সেক্স অতি পবিত্তো জিনিষ', মেয়েদের অপমান করা হয়েছে, 'মিষ্টি নি‍য়ে আসা লোকটার কোনও ভূমিকাই নেই', ইত্যাদি।

    যখন বললুম, গুরুচন্ডালিতে তো দিলুম, সেখানে কারো ভাল লেগেছে, কারো লাগেনি, ব্যাস এইপর্যন্ত। তখন শুনলাম, গুরুচন্ডালি? সেটা আবার কী বস্তু? এগুলো আবার যে সে লোক নয়, বেশ পোতিষ্ঠিতো ইন্টেলেকচুয়াল নামের দাবীদারদের।

    সব গপ্পো তো আর এখানে দেয়া সম্ভব নয়, কেমন দেখাবে, তাই স্টেটাসেই দিই।
  • su | 86.118.6.148 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৪ ২৩:৪৩624500
  • সেকেন্ড প্যারাগ্রাফ টা একটু ছেঁটে নিলে ভাল হত না ?
  • su | 86.118.6.148 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ০০:২৪624501
  • আর একটা কথা - যে গপ্প গুলো বাঙালি র চিন্তা ও মননের সঙ্গী জাতীয় বড় বড় ম্যাগাজিনে এ ছাপা হয় - আপনার লেখা তার থেকে অনেক উত্কৃষ্ট মানের - এ গল্প টাও তার ব্যতিক্রম নয় ।
  • aranya | 78.38.243.161 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ০১:২৭624502
  • রুপঙ্কর-দা, প্লিজ সব গল্প-ই এখানে দিন। দিব্যি দেখাবে :-) আর আমার মত অনেক পাঠকই এনজয় করবে।
    আর আসল গল্প-টা যদি আরও বড় হয়ে থাকে, তো সেটা পুরোটাই পোস্ট করলে পারতেন। অন্তত গুরুতে লেখার জন্য তো কাট-ছাঁটের দরকার নেই।
    এই গল্প-টার ভাষা, বাচনভঙ্গি, লেখার স্টাইল সব-ই আমার ভাল লেগেছে, জাস্ট থিম-টা ক্লিশে
  • DB | 78.37.136.139 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ০৫:৩৩624503
  • গল্প বলার স্টাইলটা ভাল লাগল তবে বিষয়বস্তুটা অসার ।
  • কল্লোল | 125.242.255.77 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:০১624504
  • রূপঙ্কর। বয়সে আপনি কিছুটা বড় আমার চাইতে। বয়সের কথাটা তোলা একটাই কারনে, আসলে অভিজ্ঞতা শেখায় অনেক কিছু, সেই হিসাবে আপনি আমার চাইতে কিছুটা বেশী শিক্ষিত। এ শিক্ষার সাথে বিদ্যের নয় বরং মননের সম্পর্ক আছে।
    কারা এটাকে - "বটতলার গপ্পো' তাপ্পর 'ঝুলস্য ঝুল' 'সেক্স অতি পবিত্তো জিনিষ', মেয়েদের অপমান করা হয়েছে, 'মিষ্টি নি‍য়ে আসা লোকটার কোনও ভূমিকাই নেই" - এসব বলেছে আমার কোন ধারনা নেই।
    সমালোচনাগুলো নিয়ে আপনার কাছে আমার প্রতিক্রিয়া জানাই।
    ১) বটতলার গপ্পো - ব্যাপারটা হলো এরা বটতলার গপ্পো কি সেটাই জানে না। এদের গৌতম ভদ্রের ন্যাড়া বটতলায় যায় কবার পড়তে বলুন। আর সকালে উঠে রাতে "বটতলার" পাপ কাটানোর জন্য হাতে, মুখে ও অন্য আরও বিশেষ স্থানে তুলসী পাতা দিয়ে শোধন করে নিতে বলুন।
    ২) মেয়েদের অপমান করা হয়েছে, 'মিষ্টি নি‍য়ে আসা লোকটার কোনও ভূমিকাই নেই - এদের ব্রাহ্মী শাক খেতে ও দ্য সেকেন্ড সেক্স পড়তে বলুন।
    ৩) ঝুলস্য ঝুল - নিয়ে বলার কিছু নেই, পসন্দ আপনা আপনা। হ্যাঁ, গল্পের বিষয়বস্তুতে খুব একটা ভাবনা চিন্তার বিষয় নাই। তবে সব সৃষ্টিতেই খুব ফিলোসফি থাকতে হবে এমন কোন মাথার দিব্যি নাই। আমার ব্যাক্তিগতভাবে তেমন লেখা ভালো লাগতেই পারে। ভালো না লাগলে বলবো ভালো লাগে নি। আমি তো বলেছি, "গল্পটা ভালো তার বলার ভঙ্গীতে।" তার মানে এটা পরিষ্কার বিষয়বস্তু আমার মনে দাগ কাটেনি। আসলে আমি কিভাবে আমাকে প্রকাশ করবো সেটা আমার রুচির উপর নির্ভর করে। যার যার রুচি - এই আর কি।
    আর একটা কথা - সৃষ্টি নিয়ে কোন কৈফিয়ৎ নয়। আমার মনে হলো আমি লিখলাম। ভালো লাগলে ভালো, না লাগলে ও চমৎকার। কিন্তু স্রষ্টার দিক থেকে কৈফিয়ৎ? কখনোই নয়। বড়জোর ভুল স্বীকার করতে পারি বা ধন্যবাদ দিতে পারি। ব্যস।
  • রোবু | 213.147.88.10 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:৩১624505
  • নাহ, আমি আবার পরে দেখলাম। লাস্ট প্যারাগ্রাফ (মানে পলটুর মা) এর আগের তিনটে জাস্ট অসাম।
    মিষ্টি নিয়ে আসসা লোকটা গল্পটার সব কিছু।
    পারসোনাল মতে, কনফ্লিক্টটা, শুভ্রর সাথে পরাশরের, আরেকটু সাটলি হলে ভালো হত।
  • kumu | 133.63.112.101 | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ১০:২৮624506
  • রূপঙ্করবাবুর কাছে অনেক প্রত্যাশা।ধানাই পানাই ও আরো গল্প খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি।আমার মনে হয়েছে গল্পটি আরো বড় ছিল, একটু ছোট করা হয়েছে।মেসেজ ও অন্যান্য কথা কল্লোলদা ৯-০২ লিখে দিয়েছেন।ঠিকই স্রষ্টার দায় নেই এত।আপনি মনের আনন্দে লিখুন।
  • সিকি | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ১২:৪৯624507
  • কল্লোলদার সাথে একমত।

    ফ্র্যাঙ্কলি, ফেসবুকের সার্কলটাকে আমি কোনওভাবেই ঠিক গ্রাহ্যে আনি না, জরুরি মতামতের ব্যাপারে। ফেসবুকে ক্ষেত্রবিশেষে পিষ্ঠকণ্ডূয়ন এবং গালিগালাজ দুটোই এক্সট্রিমে চলে, আসল সাবজেক্ট ম্যাটার সেখানে অনেক সময়েই উহ্য রয়ে যায়।
  • Ranjan Roy | ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ ২০:১৭624509
  • কল্লোল,কুমু, রোবু, সিকি সবার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছি। অরণ্যের সঙ্গেও।
    ফেসবুককে পাত্তা না দিয়ে এখানেই লিখুন দাদা!
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন