ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ধর্ষণ ও বিবর্তন নিয়ে কিছু কথা

    sosen
    অন্যান্য | ১৭ অক্টোবর ২০১২ | ৬৬১৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • h | 127.194.232.235 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ০৮:৪৩574925
  • সোসেন, আবার ধন্যবাদ।

    মেল সারকামসিশন নিয়ে যেটা তে যেটা অ্যান্থ্রোপোল্জিস্ট বন্ধু দের কাছে শোনা প্রচলিত ব্যাখ্যা সেটা মোটামুটি এইরকমঃ
    একটা কমিউনিটি তে একটা কিশোর যখন বড় হচ্ছে, তখন তার কমিউনিটির জ্ঞানের আধার হয়ে ওঠার সময় হচ্ছে, অলমোস্ট একটা রি-ইনকারনেশন হচ্ছে, তখন সেইমুহুর্ত টাকে সিগনিফাই করার জন্য তার শরীরের একটা অংশ দিয়ে আসছে, যেন একটা অধ্যায় শেষ হল এরকম ভাবে।
    আরেকটা ব্যাখ্যা শুনেছিলাম, ওয়ারিয়র ট্রেনিং এর প্রথম ভাগ হল, তীব্র স্বল্পস্থায়ী যন্ত্রনা কে সহ্য করতে শেখা।

    কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিসু পড়ি নি।

    ব্যাপারটা অনেকটা পৈতে তে কান ফুটো করার মত, সেটাও শোনা ও দেখা।
  • sosen | 126.203.205.133 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১০:৫০574926
  • মেল সার্কাম্সিসনের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে লম্বা বিতর্ক আছে। বেশি বিশদে না গিয়ে ছোট-খাটো আকারে জেনে যাই।

    ১) ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল মানে প্রায় ২০,০০০ নার্ভ এন্ডিং এর রিমুভ্য়াল। তা সত্ত্বেও সেক্সুয়াল প্লেজার বা masturbation এর বিশেষ কোনো হ্রাস হয়েছে বলে কেউ রিপোর্ট করেন নি। অবশ্যই যেহেতু বেশির ভাগ সারকামসিশন ছোটবেলায় হয়ে থাকে , এর কম্প্যারেটিভ একাউন্ট পাওয়া কঠিন। সারকামসাইজড এবং আনসারকামসাইজড পুরুষের মধ্যে যৌন ক্ষমতার বিশেষ হেরফের হয়না।

    ২) মেল সার্কাম্শিসনের পক্ষে দুটি মূল যুক্তি দেখানো হয়-এক-ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল স্বাস্থ্যকর, কারণ সিবাম গ্রন্থি নি:সৃত স্মেগমা বা লুব্রিক্যান্ট থেকে মাইক্রবিয়াল ইনফেকশন হয়ে থাকে এবং পেনাইল ক্যান্সারের চান্স বাড়ে , দুই-সারকামসাইজড পেনিস মেয়েদের কাছে ভিসুয়ালি ও ওরাল সেক্সের জন্য বেশি আকর্ষণীয়।

    প্রথম যুক্তিটি খুব একটা খাটেনা , কারণ আনসারকামসাইজড পুরুষের মধ্যে ক্যান্সার ও এস টি ডি র চান্স সারকামসাইজড পুরুষের থেকে বেশি নয়।
    দ্বিতীয় যুক্তিটি সংখ্যাতত্ত্বের দিক দিয়ে সঠিক, মাল্টিপল সঙ্গী যাদের রয়েছে এমন মেয়েরা সারকামসাইজড পুরুষকে প্রেফার করেন।

    ৩) ফোরস্কিন রিমুভ্য়াল আত্মরতি কমানোর জন্য শুরু হয়েছিল এমন মত বহুল-সমর্থিত। সারকামসাইজড পুরুষদের মধ্যে আত্মরতির সময় আর্টিফিসিয়াল লুব্রিক্যান্টের ব্যবহার কমন। যদিও প্রাকৃতিক লুব্রিক্যান্টের অভাবে আত্মরতি কমে গেছে তা নয়, সেদিক দিয়ে দেখলে এটিও একটি ফেইলড এটেম্প্ট। পুরুষের ভার্জিনিটির সঙ্গে ফোরস্কিন রিমুভ্য়ালের কিঞ্চিত যোগ থাকতে পারে।

    ৪) এথনিক সমাজে সার্কাম্শিসন কে একটি গ্লোরিফায়েড রিচুয়াল করে তোলা হয়েছে, যার পর থেকে সে সমাজের একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ, সম্পত্তির অধিকারী, যুদ্ধ ও গুপ্তবিদ্যার অধিকারী। বলা হয়, যন্ত্রণা সহ্য করতে শেখা এক যোদ্ধার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ।
    অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ান, জিউ ও ইসলামিক সমাজে পবিত্রতা ও আত্মরতির abolition এর সঙ্গেই সার্কাম্শিসনকে রিলেট করা হয়। এর সবকিছুই সমাজে এক্সেপ্টেড হওয়ার জন্য অবশ্য-কর্তব্য, অর্থাৎ সমাজের ডমিন্যান্স ওভার ইন্ডিভিজুয়ালস সেক্সুয়াল ওয়েজ এন্ড চয়েসেস।

    নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্স কমানোর জন্য মেল সার্কাম্শিসন আর ফিমেল সার্কাম্শিসন একই ভূমিকা পালন করে। যদিও, মেল সার্কাম্শিসন, হয়ত পুরুষের কিছু সুবিধা এবং নারীর প্রেফারেন্সের কারণে অনেক বেশি প্রচলিত, এবং প্রচুর সামাজিক কম্পোনেন্টের সাথে ইভলভ করে। সেইজন্য মেল সার্কাম্শিসন একটি memeplex বলে জ্ঞাত।



    এই ছবিতে দেখা যাবে মেমেপ্লেকস হিসাবে মেল সার্কাম্শিসনের সাথে কি কি ফ্যাক্টর জড়িত।

    মেল সার্কাম্শিসন মেজরিটির সঙ্গে কন্ফর্মিটি, এবং সমাজের সিদ্ধান্তকে ইন্ডিভিজুয়ালের উপর বাধ্যতামূলক ইম্পোজ করার আর একটি উদাহরণ, এবং পৃথিবীর প্রথম প্ল্যানড সার্জারী। মিশর ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় সার্কাম্শিসন ছিল । কেনিয়ায় আজও কোনো আনসারকামসাইজড পুরুষ রাজনৈতিক পজিশন পাবেন না।



    এছাড়াও , বাবা/মা, অথবা সমাজের সিদ্ধান্তকে শিশুর উপরে ইম্পোজ করা আর এক ধরনের মেল লাইন ডমিন্যান্স। সমাজ জানিয়ে দিচ্ছে শিশুকে শারীরিকভাবে একটি নর্মের সাথে কনফর্ম করতে হবে। এবং শিশুর হয়ে তার বাবা/মা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

    আমাদের এখান থেকে জানার কথা এইটুকুই-
    ক।নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্সকে সমাজ পুরুষ ও নারী উভয়ের এক্স্পেন্সেই ডিসকারেজ করছে
    খ। সমাজ শিশুর উপর ডমিন্যান্সও প্র্যাকটিসের মধ্যে নিয়ে আসছে, যাতে উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক পূর্ণাঙ্গতা গড়ে ওঠার আগেই মানুষকে সামাজিক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলা যায় ।
  • ekak | 24.99.174.19 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১১:৩৪574927
  • পচুর পয়েন্ট এ পস্ন আছে । বেসিক জায়গা তে । আপিস - পোস্ট দশেরা গেস্ট -পার্টি ই: সামলে আসছি ।
  • sosen | 125.241.46.0 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১২:১৬574928
  • :) খেয়েসে!
  • sosen | 125.241.46.0 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১২:২১574929
  • শেষের দিকে যাচ্ছি , সুতরাং এবার ধর্ষণের ইতিহাসে ফিরে আসি।
    আমরা দেখলাম-
    ১। প্রানীকুলে ফোর্সড কপুলেশন আছে। তাকে এড়াবার জন্য কিছু মেয়েরা বিশেষ অভিযোজনগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরী করেছে। এবং সঙ্গম যদিও দুই সম্মত নারী ও পুরুষের মধ্যেই প্রত্যাশিত, অসম্মতির সঙ্গমও হয়েই থাকে। দুয়ের মধ্যে প্রানীকুলে একটা ব্যালান্স আছে।
    ২। মানুষের লুকোনো ওভিউলেশন হওয়ার পর যৌনতা সংক্রান্ত আর কোনো বাহ্যিক এডাপটেশন হয়নি।
    ৩। কিন্তু, ক্রমাগত বিবর্তিত ও উন্নত হতে থাকা মস্তিষ্ক মানুষের বিবর্তনের চাবিকাঠি। সে শুধু একটা মিনিমাল সমাজ তৈরী করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার সমাজ একটা ক্রমশ পরিবর্তনশীল এনটিটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বিবর্তন প্রকৃতি তাকে দেয়নি, সেই বিবর্তনগুলি সে নিজের মত বানিয়ে নিতে শুরু করেছে, কালচার এবং রিচুয়ালের সাহায্য নিয়ে।
    ৪। মনুষ্যজাতিতে মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজের ডমিন্যান্স এর তেমন কোনো ব্যাখ্যা করা যায়না। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের সুবিধাগুলি মাতৃতান্ত্রিক সমাজের থেকে কতটা বেশি সেটা বলাও কঠিন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ অনেক বেশি শক্ত ভাবে বাঁধা, এবং হয়ত সেই কারণে সমাজ হিসেবে /গোষ্ঠী হিসেবে বেটার। এখানে ভায়োলেন্স পিতৃতান্ত্রিক সমাজের গঠনগত সিমেন্ট হিসাবে কাজ করে কি না, সেটা একটা ডিবেট, অনেকেই বলেন, করে।
    ৫। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষণ কমন সিনারিও, কারণ মেয়েদের উপর যৌনক্ষেত্রে ডমিন্যান্স excert করা পুরুষের পক্ষে প্রথমে ইন্ডিভিজুয়াল এটেম্প্ট এবং পরে রিচুয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
    ৬। কিন্তু, বিবাহের বাইরে ধর্ষণ শুধু বিজিত গোষ্ঠীর নারীকুলের ওপর করাই প্রচলিত। নারী যেহেতু সম্পত্তির অংশ, তাকে ভাগ করে নেওয়া পুরুষের কাম্য নয়। একই গোষ্ঠীর মধ্যে , স্বামীর বিনা অনুমতিতে নারীর উপর ধর্ষণ প্রচলিত নয়।
    ৭। বিবাহের সম্পর্ক যখন মনগ্যামিতে এসে দাঁড়াল তখন নারীর অধিকার একটি পুরুষের হাতে। এক্ষেত্রে পুরুষের চয়েস কম, সুতরাং নারীর সম্মতি এবং পরবর্তী পেরেন্টাল কেয়ারের এশিওরেন্স , আর্থ সামাজিক স্ট্যাটাস ইত্যাদি রেলিভ্যান্ট হয়ে দাঁড়াল, যা দিয়ে নারী তার নিজের ও সন্তানের জন্য সিকিউরিটি নিশ্চিত করলো।
    ৮। মানুষ তার ক্রমশ ইভলভ হতে থাকা লার্নিং ও রিজনিং এবিলিটি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে এই নবজাত সমাজকে শক্ত করে খাড়া করার চেষ্টা করতে লাগলো। এই ইভলিউসনের কন্ট্রোলিং সেন্টার সেই মস্তিষ্ক। নিচের ছবিতে দুটি কন্ট্রোলিং অংশ দেখানো হলো।

  • aka | 85.76.118.96 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১৬:৪৭574930
  • সোসেন, মেল সারকামসিশনের সাথে নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্সের কোন সম্পর্ক নেই কিন্তু। এটা একটা রিলিজিয়স চয়েজ। উন্নত দেশে এখন সবাইকেই এই চয়েজ দেওয়া হয়। কেউ অ্যাক্সেপ্ট করে, কেউ না। অনেকে মনে করে মেল সারকামসিশন হেলদি অপশন, ডেফিনিট কোন রেজাল্ট ইত্যাদি আছে কিনা জানি না।
  • sosen | 125.241.85.138 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ১৭:১৯574931
  • আকা
    ১। মেল সার্কাম্শিসন রিলিজিয়নের উত্পত্তি হওয়ার আগেই সমাজে এসেছে। অর্থাৎ যে রিলিজিয়ন গুলি অধুনা মেল সার্কাম্শিসন প্র্যাকটিস করে তাদের উত্পত্তি হওয়ার আগেই। মিশরীয় /ব্যাবিলনীয় সভ্যতার উদাহরণ তো দিয়েছি ই। আফ্রিকার বেশির ভাগ এন্ডেমিক উপজাতি মেল সার্কাম্শিসন প্র্যাকটিস করে। এর সঙ্গে তাদের রিলিজিয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আগে একটা প্র্যাকটিস যেটা অতি অবশ্যই যৌন ডমিন্যান্স এর সঙ্গে সম্পর্কিত। পরবর্তী কালে বিভিন্ন রিলিজিয়নের অন্তর্গত হয়ে পড়ে। অধুনা পৃথিবীতে আমরা যে কজালিটি গুলোর কথা জানি সেগুলো এই প্র্যাকটিস শুরুর সময় জানা ছিল না। তাই হেলদি /হেলদি নয় সেগুলো তো এখনকার কথা। প্র্যাকটিস টা কি কারণে এবং কখন সমাজে এসেছে সেটা আমাদের আলোচ্য। অধুনা তার ইমপ্লিকেশন নয়।

    ২। নন-রিপ্রোডাকটিভ সেক্স অর্থে এখানে প্রিভ্য়ালেনস অফ masturbation কমাতে সার্কাম্শিসনের ব্যবহার , যেটা আদিম সমাজের রেসপেক্টে তো দেখা গেছেই, তাছাড়া মধ্যযুগীয় ক্রিশ্চিয়ান লিটারেচারে স্পষ্টই বলা আছে যে masturbation একটা পাপ, যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মেল সার্কাম্শিসন জরুরি। সাটানিক রিচুয়ালে শিশুর ফোরস্কিন এমনকি শ্যাফট পর্যন্ত, পুরুষাঙ্গের শেষ পর্যন্ত রিমুভ করতে দেখা গেছে।

    দু একটা পেপার দিয়ে যাই। কিন্তু স্কলাস্টিক লিটারেচার খুঁজলে ভূরি ভূরি পাবেন। মেল সার্কাম্শিসন এবং masturbation এর সম্পর্ক নিয়ে প্রচুর প্রচুর কাজ হয়েছে। একটু সার্চ দিলেই পাবেন।

    http://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/j.1464-410X.2006.06646.x/abstract;jsessionid=FBDFC3538917951CC893C7E5988B90C4.d02t03

    http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/15097799

    http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16422831

    ৩। ওয়ারিয়রশিপ, এন্ট্রি ইনটু অ্যাডাল্ট ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি ও ভীষণ আলোচিত ও এস্টাবলিশড। আপনি যদি একটু খেয়াল করে এখানে দেওয়া মেমেপ্লেক্স এর ছবিটা দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন কতগুলো স্কুল অফ থট ইনভলভড এবং কোন স্কুলটা থেকে কোন স্কুলটা এসেছে। এস্টাবলিশড বলে প্রতিটা স্কুল আলোচনা করা হচ্ছেনা। আমরা শুধু জানতে চাই প্রাচীনতম সমাজে কেন এই প্র্যাকটিস এলো , কোন স্কুল অফ থট থেকে।

    পরিষ্কার করতে পারলাম আশা করি। একটু খুঁজলেই পাবেন। আমি যে পেপারগুলো দিলাম, ওর ক্রস রেফারেন্সে প্রচুর ডেটা পাবেন।
  • sosen | 111.63.252.35 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ২০:১০574932
  • বেশ। এইবার পাঠককুল বেশ কোমর বেঁধে বসুন, কারণ এবার আমরা আমাদের সময়ের কথা বলব, আর ফোকাস করব সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সে। মাঝে কিছু কিছু জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি কারণ অলরেডি ২৩ পাতা টাইপ করেছি, নট ইনক্লুডিং কমেন্টস।
    _____________________________________________________________________________________
    সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সের প্রকারভেদ

    মোটামুটি সবগুলোই সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স /এসল্ট এবং কয়েকটা টাইপ আমাদের আলোচনার জন্য ওভারল্যাপিং । কিন্তু ক্রিমিনোলজি ও সাইকিয়াট্রি তে আলাদা ভাবে স্টাডি করা হয় বলে আমরা এই প্রকারভেদ গুলো একটু জেনে নেব। এর মধ্যে কিছু হলো ভায়োলেন্ট সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার, আর কিছু হলো সমাজের সেক্স নর্ম এর ভায়োলেশন।

    ধর্ষণ
    স্ট্রেঞ্জার রেপ -অচেনা ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ
    একোয়ান্টেনস রেপ-পরিচিত ও বিশ্বাসার্হ ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ
    পার্টনার রেপ-কারেন্ট বা প্রিভিয়াস পার্টনারের দ্বারা ধর্ষণ
    গ্যাং রেপ
    সেক্সুয়াল এবিউস
    চিলড্রেন সেক্সুয়াল এবিউস
    মেন সেক্সুয়াল এবিউস
    হেট ক্রাইম-জাতিগত, বর্ণগত বা কোনো সমষ্টিগত ধর্মের বিরুদ্ধে হিংসার প্রকাশ ও ধর্ষণ
    স্টকিং-কাউকে ক্রমাগত ফলো করা, বিভিন্ন উপায়ে এবং তার পার্সোনাল স্পেস এ ইনভেশন
    সেক্স নর্ম এর ভায়োলেশন
    ইনসেস্ট (কিছু ব্যতিক্রম আছে)
    কাউকে অন্যের সাথে সঙ্গমে বাধ্য করা
    সেক্সুয়াল স্যাডিজম

    _____________________________________________________________________________________
    আমরা শুধু ধর্ষণের উপর ফোকাস করব, আগেই বলেছি।

    স্ট্রেঞ্জার রেপের মধ্যে পড়ে-

    blitz এপ্রোচ- ধর্ষণকারী কোনো অচেনা মেয়েকে ধর্ষণ করে , কোনো প্রি-মেডিটেটেড প্ল্যান ছাড়াই। এই ধরনের ধর্ষণের সঙ্গে ভিকটিমকে সাবডিউ করতে শারীরিক আঘাত, গ্যাস , কেমিক্যাল ও অস্ত্রের ব্যবহার স্বয়ংসিদ্ধ। এই এপ্রোচ ব্রুটাল, এর মধ্যে ফ্যান্টাসি এলিমেন্ট নেই, ফিজিক্যাল ওভারপাওয়ারিং ধর্ষনকারীকে উত্তেজনা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিমের মৃত্যু / শারীরিক ক্ষতি এর সঙ্গে কাপল্ড।

    কন্ট্যাক্ট এপ্রোচ -কোনো অচেনা মেয়ের সাথে কথা বলে, নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে আইসোলেটেড জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখানে ধর্ষণকারী নিজেকে কোনো অথরিটি ফিগার যেমন পুলিশ অফিসার , হেল্প প্রফেশনাল বলে দাবি করে এবং এই ধর্ষণের সফলতা তার এট্রাক্টিভনেস বা কমিউনিকেশন এবিলিটির উপর ডিপেন্ড করে।

    সারপ্রাইজ এপ্রোচ-এখানে ধর্ষণকারী সাধারণত কিছুদিনের জন্য ভিকটিমকে স্টক করে, এবং সাধারণত ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে বা অন্যভাবে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এই এপ্রোচ কিছুটা পার্সোনাল হতে দেখা গেছে, কারণ এটি একটি হাই রিস্ক এপ্রোচ।

    একোয়ান্টেনস রেপ,পার্টনার রেপ,গ্যাং রেপ এর ব্যাখ্যায় এখন যাচ্ছিনা।
    অধিকাংশ সিরিয়াল রেপিস্ট বিহেভিয়ার স্ট্রেঞ্জার রেপ এর আন্ডারে পড়ে। এর মধ্যেও সবচেয়ে কমন হলো কন্ট্যাক্ট-৪৮%, সারপ্রাইজ ও ব্লিত্জ বেশ কম। অধিকাংশ রেপ ই প্রি -প্ল্যানড ক্রাইম, হঠাত ইমোশনের বশে রেপ করে বসা মানুষ বিরল। প্রায় সকলেই নিজেদের অপরাধ ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। কোনো জেনেটিক ডিসঅর্ডারের ফলে অতিরিক্ত সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স আজ অবধি দেখা যায়নি। রেপ এর ফলে ঘটা প্রেগন্যান্সি কমই হয়ে থাকে, রেপিস্ট দের সন্তান দের মধ্যে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স এর প্রবৃত্তি দেখা যায়না। এই সব দেখে প্রাথমিক ভাবে বলা যায় যে মানুষের মধ্যে রেপকে একটি জেনেটিক ট্রেট বলার কোনো কারণ নেই। আরো বেশি বিশদে আসবো, এ নিয়ে।
  • sosen | 111.63.252.35 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ২০:১৩574933
  • *শ্রেণীবিভাগ এইভাবে পড়তে হবে-

    ধর্ষণ
    ___________
    স্ট্রেঞ্জার রেপ -অচেনা ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ
    একোয়ান্টেনস রেপ-পরিচিত ও বিশ্বাসার্হ ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণ
    পার্টনার রেপ-কারেন্ট বা প্রিভিয়াস পার্টনারের দ্বারা ধর্ষণ
    গ্যাং রেপ

    সেক্সুয়াল এবিউস
    _____________________
    চিলড্রেন সেক্সুয়াল এবিউস
    মেন সেক্সুয়াল এবিউস
    হেট ক্রাইম-জাতিগত, বর্ণগত বা কোনো সমষ্টিগত ধর্মের বিরুদ্ধে হিংসার প্রকাশ ও ধর্ষণ
    স্টকিং-কাউকে ক্রমাগত ফলো করা, বিভিন্ন উপায়ে এবং তার পার্সোনাল স্পেস এ ইনভেশন

    সেক্স নর্ম এর ভায়োলেশন
    ____________________________

    ইনসেস্ট (কিছু ব্যতিক্রম আছে)
    কাউকে অন্যের সাথে সঙ্গমে বাধ্য করা
    সেক্সুয়াল স্যাডিজম
  • kd | 69.93.246.109 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ২০:১৮574935
  • আমার এক জামাইএর (ইহুদী) কাছে শুনেছিলুম - সার্কাম্সিসন প্রথা সেমেটিক জাতির মধ্যে প্রচলিত। তার কারণ এরা প্রাইমারিলি মধ্যপ্রাচ্যের লোক। আর মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিরাট অংশ মরুভূমি - জলের স্কেয়ার্সিটির জন্যে ভালো করে যৌনাঙ্গ পরিস্কার করতে পারতো না আর তার ফলে নানা অসুখ হতো। তাই পন্ডিতেরা এই প্রথা চালু করেন (এবং অন্য অনেক কিছুর মতোই ধর্মের ক্যামোফ্লাজ দিয়ে)।

    মনে হয় সেমেটিকদের শূয়োর না খাওয়াও এমনই ব্যাপার (এক্ষেত্রে ওখানে জ্বালানী কাঠের অভাব)।
  • aka | 85.76.118.96 | ২৭ অক্টোবর ২০১২ ২৩:০৮574936
  • সোসেনকে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলাম, তক্কো, অ্যাটিটিউড, টইয়ের বিষয়, লেখা, আর বলাই বাহুল্য সাবজেক্টের বুৎপত্তি - যদিও তা বিচার করা আমার সাধ্যের বাইরে তাও- সব মিলিয়ে ১০/৫। গুজ্জব।

    সারকামসেশন ইত্যাদি নিয়ে পড়ে দেখব।
  • sosen | 125.242.243.121 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ০৮:৩৩574937
  • ইয়ে আকা কি আমায় দশে পাঁচ দিলেন না পাঁচে দশ দিলেন ? :)
    থেঙ্কু, থেঙ্কু
  • aranya | 78.38.243.161 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ০৮:৫১574938
  • এই ধরনের লেখা গুরু-তে কি এই প্রথম? আম্মো প্রবল হাততালি এবং ৫-এ ১০ :-) ।

    সিরিয়াসলি, জাস্ট টু গুড।
  • aranya | 78.38.243.161 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ০৯:১৮574939
  • তো আমি যেটা ভাবছিলাম, ধরা যাক ধর্ষণ বিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচিত ট্রেইট। প্রাণীজগতে, পুরুষ ওরাং যখন ধর্ষণ করছে, অন্য পুরুষরা নির্বিকার। মনুষ্যজগতে কিন্তু কিছু পুরুষ ধর্ষণকারীকে বাধা দেবার চেষ্টা করবে, যদি তারা অকুস্থলে উপস্থিত থাকে, কখনও হয়ত নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও চেষ্টা করবে। এই যে 'বোকামি', লাইফ রিস্ক নিয়ে অন্যকে হেল্প করার চেষ্টা, এটার কারণ কি বিবর্তন বা বায়োলজিতে পাওয়া যাবে? হয়ত, পরিবেশ , কালচার থেকে আসছে।
  • sosen | 125.242.243.121 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ১০:৩৫574940
  • সিরিয়াল রেপিস্ট কেস স্টাডি- ধর্ষণের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক আলোকপাত
    ___________________________________________________________________________________
    সংখ্যাতত্ত্ব বলছে পার্টনার রেপ ও একোয়ান্টেনস রেপ আদতে ধর্ষণের অনেক বেশি প্রচলিত প্যাটার্ন। এবং আমাদের আলোচনার জন্যও পার্টনার রেপ ও একোয়ান্টেনস রেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইসব ক্ষেত্রে ধর্ষণকারীরা সমাজের পরিসীমার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, নিজেদের সামাজিক অবস্থান অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হচ্ছে , এবং নিজেদের পিঠ বাঁচিয়ে তবেই ধর্ষণে লিপ্ত হচ্ছে। পার্টনার রেপের ক্ষেত্রে সন্তান সম্ভাবনার হার বেশি, প্রজননগত সাফল্য বেশি, ডমিন্যান্স দীর্ঘস্থায়ী। এদের প্রিডেটর-প্রে সম্পর্ক আমাদের আলোচনার জন্য ঢের বেশি রেলিভ্যান্ট।
    দু:খের বিষয়, এই ধর্ষণকারীরা মূলত আনরিপোরটেড। ফলে এদের নিয়ে করা স্টাডির সংখ্যা বেশ কম, রেপ সারভাইভররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো তথ্য বা বিবৃতি দিতে চান না। সেজন্য আমাদের হাতে এই জাতীয় ধর্ষণ নিয়ে ডেটা খুব কম। আমাদের প্রাথমিক স্টাডি ও স্ট্যাট তাই ঘোষিত সিরিয়াল রেপিস্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

    আরেকটি লিমিটেশন হলো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা। বেশিরভাগ জায়গায় রেপ ভিকটিমদের ট্রমা নিয়ে কাজ হয়ে থাকে। রেপিস্টদের প্রোফাইলিং সব দেশেই ক্রিমিনাল বিহেভিয়ার স্টাডির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এই ধারা অনেক বেশি পরিমাণে থিওরির উপর নির্ভরশীল, অরিজিনাল কেস স্টাডির থেকে। আমার উত্সাহ অরিজিনাল কেস স্টাডিতে, কারণ সাবজেক্টকে বায়োলজিক্যালি প্রোফাইল করে কোনো প্যাটার্ন পাওয়া যায় কিনা সেটা আমার বিষয়। এখানে সাবজেক্ট মানে রেপিস্ট। বেশিরভাগ স্টাডি যেগুলো আমি উল্লেখ করব সেগুলো আমেরিকা বেসড; সুতরাং আমাদের স্যাম্পল এ একটা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকছে। অন্যান্য জায়গার স্টাডি ও যতটা পারা যায় কভার করার চেষ্টা করব, কিন্তু ডেটা প্রকৃত অর্থে লিমিটেড। মনে রাখতে হবে ধর্ষণের যেহেতু একটা কালচারাল কন্টেক্স্ট আছে, সেই জন্য রিজিওন-স্পেসিফিসিটি একটা জরুরি এলিমেন্ট।
    মহিলাদের করা রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল অফেন্সের হার এরকম -
    * Strangers: 28%
    * Intimates/Partners: 10%
    * Relatives: 2%
    * Friends/acquaintences: 57%
    * Unknown: 3%( যেখানে অফেন্ডার এর আইডেনটিটি সম্পর্কে কোনো রিপোর্ট হয়নি)
    পুরুষদের করা রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল অফেন্সের হার এরকম -
    * Strangers: 48%
    * Friends/acquaintences: 52%

    ভিকটিমরা ৪০% ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু অনেকেরই মৃত্যুও ঘটে থাকে । তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো পোস্ট -রেপ ট্রমা, যা ভিকটিমের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে নানাভাবে অল্টার করে।

    এবার আমরা কতকগুলো টেক্সটবুক কেস দেখব। মনে রাখতে হবে আমরা সিরিয়াল রেপের ক্ষেত্রে খুব টিপিক্যাল কিছু এক্সপেক্ট করিনা, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিরিয়াল রেপিস্টরা সাইকোপ্যাথ, সামাজিক আউটলায়ার এবং তাদের প্যাথলজি আলাদা আলাদা । কিন্তু, এই প্যাথলজির মধ্যে কিছু কমন আছে কিনা সেটা কৌতুহলোদ্দীপক।
  • sosen | 125.241.33.224 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ১৫:২৪574941
  • তো, সেই এনালিসিসটা করতে গিয়ে আমরা অবশ্যই পরে বাযোলজিক্যাল ডেটায় যাব, কারণ সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে আগে দেখা যাক -

    টেক্সটবুক কেস ১
    ______________
    টেড বান্ডি, গ্রিন রিভার কিলার
    আমেরিকা।
    ৩০ টি ধর্ষণ , ধর্ষণ-উত্তর খুন, অঙ্গচ্ছেদ, এবং মৃতদেহের ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত।

    FBI কেস ফাইল থেকে অনুবাদ করে দিলাম। সেনসিটিভ বর্ণনা এড়ানোর চেষ্টা করলাম।



    " টেড বান্ডি(Theodore Robert "Ted" Bundy )জানুয়ারী ১৯৭৪ এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮ এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে গড়ে প্রতি মাসে এক মহিলার ধর্ষণ এবং প্রাণনাশ করেছিল। ওই সময় সে FBI এর "প্রথম দশজন পলাতক অপরাধীদের" তালিকায় ছিল এবং ওয়াশিংটন, অরিগন, আইডাহো উটাহ, কলোরাডো, এবং ফ্লোরিডাতে কমপক্ষে ৩৬ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
    আমেরিকান ইতিহাসে কুখ্যাততম সিরিয়াল খুনীদের একজন , বানডি প্রায় এক বছরের জন্য আইনের হাত এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াতে সক্ষম হয়। ১৯৭৫ সালের শেষের দিকে পাঁচটি স্টেটের মিলিত ইনভেস্টিগেশনে তার অপরাধের একটি প্যাটার্ন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। বানডি তার শিকার আকর্ষণের জন্য কখনো বা অসহায় , হ্যান্ডিক্যাপড সাজত, কখনো বা অথরিটি ফিগার(পুলিশ, ফায়ার ফাইটার) , তার MO (মোডাস অপারেন্ডি) ছিল সুন্দর চেহারা ও আকর্ষক ব্যবহারের মাধ্যমে ভিকটিমের বিশ্বাস অর্জন। প্রথমদিকে সে ভিকটিমের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে আঘাত করত , এবং ধর্ষণের পর ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালাতো। পরের দিকে তার ক্রাইম অনেক প্ল্যানড হয়ে ওঠে। তখন অনেক ক্ষেত্রেই সে ভিকটিমকে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হত, যেখানে ব্রুটাল মারধর ও ধর্ষণের পর সে ভিকটিমকে হত্যা করত। হত্যার পর সে একটি সেকেন্ডারী সাইটে ভিকটিমের দেহ লুকিয়ে রাখত, রিচুয়াল হিসেবে তার জামাকাপড় খুলে পুড়িয়ে দেবার পর। টেড বান্ডি একজন নেক্রোফিলিক ও ছিল, এবং মৃত ভিকটিমের দেহ সম্পূর্ণ নষ্ট না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সে বার বার ফিরে এসে সেই দেহগুলিকে ধর্ষণ করত। তার ভিক্টিমেরা ছিল সকলেই শ্বেতাঙ্গ, অনেকে কলেজ ছাত্রী , ১২ -২৭ বছর বয়স্ক , সোনালী/লাল চুল মাঝখানে সিঁথি করে আচড়ানো(ছবি দেখুন )।


    জবানবন্দিতে বান্ডি জানায় তার ভিকটিমলজির কারণ হলো, এরা সকলেই অল্পবয়সী ও জেনেরালি এট্রাক্টিভ প্যাটার্নে পড়ে। প্রসঙ্গত, বান্ডির নিজের বান্ধবীর চেহারাও এমন ই ছিল, যদিও এই থিওরি বান্ডি নিজে অস্বীকার করে। বান্ডি হাতকড়াও ব্যবহার করত ভিকটিমকে সাবডিউ করার জন্য, এবং তার গাড়িতে একটি মার্ডার কিট থাকত।



    দুবার বান্ডি পুলিশের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হয়, এবং প্রত্যেকবারেই সেই পালানোতে বুদ্ধিমত্তা ও নিখুঁত প্ল্যানিং এর ছাপ ছিল। দ্বিতীয়বার ছাদের একটি ফোকর দিয়ে গলে পালানোর জন্য সে নিজের ওজন ৩০ পাউন্ড কমিয়ে ফেলেছিল বলে জানা যায়। প্রত্যেকবারই সে ধরা পড়ার পরেও পালানো মাত্র আবার অপরাধ করার চেষ্টা করে। ১৯৮৯ সালে বান্ডি র মৃত্যুদন্ড হয়। মৃত্যুর আগে সে অতিরিক্ত পর্ণগ্রাফি দেখাকে নিজের এই অবস্থার কারণ বলে অভিযুক্ত করে। নিজের অপরাধের জন্য তার কোনো রিমর্স বা গিল্ট দেখা যায় নি। সাইকোপ্যাথ বলেই তাকে চিহ্নিত করা হয়। কোনো রকম ইন্ভেসিভ এক্সপেরিমেন্ট তখন জানা ছিলনা, নিউরোইমেজিং করা সম্ভবপর হয়নি। ফলে কোনো ব্রেন লেসন আছে কিনা তা জানা সম্ভব ছিলনা। এমপ্যাথির অভাবের যে সব সিমপটম বান্ডি র মধ্যে দেখা গেছে তা হলো ম্যানিপুলেশন, নার্সিসিসম, এবং অন্যের , বিশেষত ভিকটিমের উপর , এবং নিজের ছেলেবেলার উপর তার অপরাধের রেসপনসিবিলিটি ঠেলে দেবার প্রবণতা। কিন্তু প্রত্যেক অপরাধের জন্য প্রচুর পরিমাণে সে মদ্যপান করত এবং তার বিহেভিয়ারে কিছু ফ্যান্টাসি এলিমেন্ট এবং পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের চিহ্ন দেখা যায়। সর্বোপরি ভয় পেতে তাকে কখনো দেখা যায়নি। ভয়ের অনুপস্থিতি একটা কন্ডিশন যেটা মানুষকে সামাজিক অনুশাসন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এবং বেশির ভাগ সাইকোপ্যাথিক অপরাধীর মধ্যে ভয়ের অনুপস্থিতি- ১,তাকে অপরাধের কন্সিকয়েনস বুঝতে দেয়না ২, সমাজের অন্যান্য মানুষের অবস্থান ও তাদের বোধগুলিকে বুঝতে দেয়না। নিউরোইমেজিং এর সাহায্যে অধুনা এইরকম ট্রাবলড ব্যবহার বোঝা সম্ভব, এবং শিশুকালেই তা ডিটেক্ট করা সম্ভব। কেস স্টাডি গুলির পর আমরা এইরকম ইমেজিং আলোচনা করব।

    বান্ডির কেস একটি ক্লাসিকাল কন্ট্যাক্ট রেপিস্ট এর কেস, ক্রিমিনলোজিতে অবশ্যপাঠ্য । এই স্ট্র্যাটেজি তে আমরা এক্সট্রিম এন্ড অফ মেল শো অফ, ট্রাস্ট গেইনিং ও পরবর্তী ম্যানিপুলেশন দেখতে পাই। ইমিডিয়েটলি ভিকটিমকে মারবার চেষ্টা করা বুঝিয়ে দিচ্ছে সে ভিকটিমের সাথে পেয়ার-বন্ডিং এ যেতে চায়না, কিন্তু সেই মৃতদেহের কাছে পরে ফিরে যাওয়া এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা একটি হাই রিস্ক বিহেভিয়ার , যা ইন্ডিকেট করে যে এই রেপিস্ট সম্মতিহীন পেয়ার বন্ডিং এ আগ্রহী । একই ধরনের ভিকটিম (ফিজিক্যালি ) বেছে নেওয়া আর একটি বন্ডিং এর উদাহরণ , অর্থাৎ সে যেন সম্মতি না পাওয়া সত্ত্বেও বারংবার একটি ভিকটিমের সাথেই বন্ড করছে। এই জাতীয় সাইকোপ্যাথি কে সোশিওপ্যাথিও বলা হয়ে থাকে, যেখানে সমাজের নর্মকে ডিনাই করা অপরাধীর প্রাথমিক উদ্দেশ্য। বান্ডি জানিয়েছে ধর্ষণের সময় অতিরিক্ত রেজিস্ট্যান্স সে পছন্দ করেনা , এবং সেই ধরনের মেয়েদের avoid করে যারা অতিরিক্ত বাধা দিতে পারে। স্টিমুলাস হিসেবে হাতকড়া ও মদের ব্যবহার এখানে সিগনিফিক্যান্ট।
  • sosen | 125.241.33.224 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ১৫:৩১574942
  • "লাইফ রিস্ক নিয়ে অন্যকে হেল্প করার চেষ্টা" আমার দা-রু-ন পছন্দের সাবজেক্ট। একসময় প্রচুর পড়েছি এ নিয়ে।
    অরণ্যদা, আছে কিছু তথ্য। কিন্তু এই লেখাটা শেষ করি?
  • sosen | 125.242.179.176 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ১৭:০০574943
  • টেক্সটবুক কেস ২
    _________________
    Luis Alfredo GARAVITO CUBILLOS ওরফে tribilin কিলার(ডিজনির গুফি চরিত্রের স্প্যানিশ নাম।)
    কলম্বিয়া
    ১৩৮-১৯২ জন ছোট ছেলেকে (৬ -১২ বছর) ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
    সমকামী ধর্ষক।

    লুই আলফ্রেড গারাভিত্ত কলম্বিয়ার জেনোভো শহরে নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মেছিল। ছোটবেলায় বাবার হাতে এবিউসের শিকার ও দুই প্রতিবেশী পুরুষের দ্বারা ধর্ষিত গারাভিত্তের শৈশব ছিল ট্রাবলড। ১৬ বছর বয়সে সে একটি দোকানে ক্লার্ক হিসবে কাজ করতে শুরু করে এবং পরবর্তীকালে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের ৫৯ টি শহরে স্ট্রিট ভেন্ডার হিসেবে ঘুরে ঘুরে কাজ করে। এই প্রতিটি শহরেই সে প্রচুর পথশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। প্রত্যেক শহরে সে নিজের পোশাক ও এপিয়ারেন্স বদলায়। তার মোডাস অপারেন্ডি ছিল টাকা বা কাজ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুদের ঝোপের আড়ালে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের বেঁধে রেখে ধর্ষণ ও হত্যা। প্রাপ্ত শবদেহগুলির গলায়/ঘাড়ে একটি দীর্ঘ ক্ষত এবং পুরুষাঙ্গ ছিন্ন পাওয়া যায়। স্ক্রু ড্রাইভার বা হ্যামার দিয়ে খুন্গুলি করা হয়।

    গারাভিত্ত বুদ্ধিমান ও হাই রিস্ক বিহেভিয়ার সিরিয়াল কিলার ছিল না। সে সমাজে অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য ভাবে থাকত, এবং লো রিস্ক পথশিশুদের মধ্যে ভিকটিম খুঁজত। দরিদ্র ও বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় পথশিশুদের হারিয়ে যাওয়া কোনো নতুন ঘটনা ছিলনা। পথশিশুদের আই ডি কার্ড থেকে ছবি কেটে গারাভিত্ত তার খুনের ট্রফি ও নোট রাখত। খুব বেশি সাইকোলজিক্যাল স্টাডি না হলেও এটুকু দেখা গেছে যে গারাভিত্ত ভয় পেত, অন্যান্য সাইকোপ্যাথ দের মত ভয়ের অনুপস্থিতি তার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরেই সে কনফেস করে, এবং বার বার বলে যে মুক্তি পেলে সে আর এই কাজ করবে না। সোশ্যালি এক্সেপ্টেবল ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা তার মধ্যে দেখা যায়। বিভিন্ন শহরে গারাভিত্ত সন্তান সমেত মহিলাদের সাথে বসবাস করেছে। তার সোশ্যাল সঙ্গিনীদের বক্তব্য অনুযায়ী সে অত্যন্ত কেয়ারিং ও নন-ভায়োলেন্ট পিতা, এবং সন্তানদের সঙ্গে তার খুব ই ভালো সম্পর্ক। এমনকি এক একটি শহর ছেড়ে যাওয়ার পরেও সে কোনো কোনো সঙ্গিনীকে শিশু ও ফ্যামিলির ভরণপোষণের জন্য টাকা পাঠায়। পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে সে জানায় তার ভিকটিম শিশুরা বাড়িতে এবিউসড হত এবং সেজন্য সে তাদের জন্য দু:খবোধ করে। কিন্তু নিজের হত্যার জন্য কোনো রিমর্স বা গিল্ট তার মধ্যে দেখা যায়নি, সে দাবি করে কোনো সুপারন্যাচারাল শক্তি তাকে দিয়ে এই কাজ করিয়ে নেয়।

    গারাভিত্তর চিন্তা -ভাবনার ফ্লো ছিল ক্যাওটিক। এক চিন্তায় সে বেশিক্ষণ স্থির হয়ে থাকতে পারত না, খুব লজিক্যাল চিন্তা ভাবনা করতে তাকে দেখা যায়নি। কলম্বিয়ার রিসোর্স কম থাকায় খুব বেশি সাইকোলজিক্যাল স্টাডি একে নিয়ে হয় নি, কিন্তু ওয়ান টু ওয়ান ডিসকাশনে যখন অন্যান্য সিরিয়াল কিলারদের কথা বলা হয় তখন সে উত্সাহী হয়ে তারা কতগুলি হত্যা করেছে তার সংখ্যা জানতে চায়। কিন্তু ইম্পেয়ারড থট প্রসেসের জন্যই হয়ত কিছুক্ষণ পরেই সে ইন্টারেস্ট হারিয়ে অন্য কথায় চলে যায়।

    সোশ্যালি একসেপ্টেবল পজিশনে থেকে ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণ করে যাওয়া ইনসাইড বর্ডার লাইন পার্সোনালিটির চিহ্ন। অর্থাৎ সমাজের ভিতরে থাকাই এই ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং সেজন্য সে খুন্গুলিও নিজে করেছে বলে দাবি করে না। কিন্তু তার ক্রমাগত ছবি তোলার অভ্যেস , চেহারা বদলানো ইত্যাদি নার্সিসিজম এরই চিহ্ন। কিন্তু সমাজের প্রতি তার ডিনায়াল সে প্রকাশ করতে চায়না। হয়ত কলম্বিয়া ছাড়া অন্য কোনো উন্নত দেশে তার করা অপরাধ খুব দ্রুত ধরা পড়ে যেত-কারণ অনেকটাই ekoyantens
  • sosen | 125.242.179.176 | ২৮ অক্টোবর ২০১২ ১৭:০৬574944
  • *একোয়ান্টেনস রেপ এর মত প্যাটার্ন , এবং এতগুলি শিশুর নিখোঁজ হওয়াতে পুলিশের যে পরিমাণ একটিভিটি প্রত্যাশিত ছিল তা এক্ষেত্রে হয়নি। সুতরাং , গারাভিত্তকে বর্ডার লাইন সাইকোপ্যাথ বলা যায়। কিন্তু সোশিওপ্যাথ বলা যায়না। সোসাইটিতে তার প্রতি হওয়া এবিউসকে সে কপি করেছে এবং আরো ঘষামাজা করেছে, কিন্তু এটাকে সে সমাজের নর্ম বলেই রেকগনায়জ করেছে। তাই তার কোনো রিমর্স দেখা যায়না।
  • sahana | 127.194.236.74 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ০০:৫৫574946
  • দু নিশ্বাসে পড়ে ফেললাম সোসেনের লেখা । মেমেপ্লেক্স নিয়ে আমার অনেক প্রশ্ন আছে , জানার আছে। তোমার লেখা শেষ হলে জানতে চাইব। এ নিয়ে কোনো সহজপাঠ্য বই থাকলে একটু জানিও।
    কেউ একজন বলেছিল "হতাশা" ধর্ষণের কারণ হতে পারে কিনা, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার ছিল, সোসেন এর লেখা হলে বলার চেষ্টা করব।
    তোমার লেখা চটি হিসেবে পেলে সত্যি ই খুব ভালো হয়। অনবদ্য গোছানো তথ্যনির্ভর, অ্যানালিটিকাল,সহজবোধ্য, মনোগ্রাহী আর আমার পছন্দের বিষয় নিয়ে লেখা। খুউব ভালো লাগছে।অনেক অনেক ধন্যবাদ।
  • sosen | 125.184.55.97 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৭:১৯574947
  • মেমেপ্লেক্স বা মেমে নিয়ে সুজান ব্ল্যাকমোরের একটা পপুলার সায়েন্স বই আছে, দ্য মেমে মেশিন। সহজপাঠ্য।
    তবে অন্য সব লেখাই আমি পেপার ঘেঁটে পড়েছি।
  • kumu | 132.160.159.184 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৭:৪০574948
  • ভারী systematic,অত্যন্ত তথ্যনির্ভর, সহজবোধ্য, এবং সাবলীল লেখা। যথার্থ বিজ্ঞানীর মত নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে পুরো বিষয়্টা দেখা।

    আবার পড়ব।ইটি ইঞ্জিরি করে একটি/দুটি পেপার নামিয়ে দাও।বাংলায় একটি চটি হোক,নইলে হারিয়ে যাবে।
  • sosen | 125.184.3.207 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:১০574949
  • তো আরো সব ভয়াবহ কাহিনী শুনিয়ে সবার ঘুম কেড়ে নেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। তাই এই দুটো উদাহরণ থেকে একটা স্বয়ংসিদ্ধ টানার চেষ্টা করা হোক।
    আগের টেক্সট বুক কেস গুলো থেকে, সিরিয়াল রেপিস্ট /কিলার যারা সমাজের প্রচলিত নর্মের বাইরে গিয়ে ক্রমাগত অপরাধ করে যেতে থাকে তাদের মধ্যে কতগুলো প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। কম ভীতি ও সহানুভূতি। সমাজের রীতিনীতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবহারকে এসোসিয়েট করতে সমস্যা। গিল্ট এবং রিমর্স এর অনুপস্থিতি। ভিকটিমকে ওভারপাওয়ার করার চেষ্টা। সামাজিক কগনিশন প্রসেসে গলদ। এই প্রসেস গুলো সাধারণ মানুষে যেভাবে চলে একজন সাইকোপ্যাথের মধ্যেও কি সেভাবেই চলে? দেখা যাক।

    মানুষের মস্তিষ্ক তার পূর্বপুরুষদের থেকে ক্রমাগত উন্নত হয়েছে এই বলে আগে একখানি ছবি দেখিয়েছিলাম। এবার আর একবার সেখানে ফিরে আসবো।
    মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি বা বৃদ্ধি মূলত ঘটেছে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে, সেরিব্রাল কর্টেক্সে। সেরিব্রাল কর্টেক্সের আয়তন বেড়েছে আদিমমানুষের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ, গাইরেশন বা মস্তিষ্কে ভাঁজ বেড়েছে প্রায় ৬০%(আনুমানিক )। গঠনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যগত স্পেশালাইজেসন বেড়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল এই কম্পিউটারের বেশিরভাগ ফাংশন আমরা জানিনা, যা জানিনা তার মধ্যে অনেকটাই মানুষের সামাজিক ব্যবহারের ব্যাখ্যা। তবুও ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ফাংশনে উঁকি মারার কাজ এগোচ্ছে।

    কোনো মানুষ সামাজিক অপরাধ করে যখন সেই অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে তার ধারণা অপরিষ্কার, অথবা সে সেই শাস্তির পরোয়া করেনা । কিন্তু সামাজিক মানুষ হিসাবে তার সাধারন ভাবে সমাজকে মেনে চলা উচিত-এটা আমি কোনো দার্শনিক ভিউ থেকে বলছিনা । আমরা দেখলাম, বিভিন্ন মেমেপ্লেক্স এর মাধ্যমে , সামাজিক নর্ম কি হওয়া উচিত (মনে রাখতে হবে এটা সমাজ টু সমাজ ভ্যারি করবে )সেটা জেনারেশন টু জেনারেশন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেটা একজন ঠিকঠাক বুঝতে পারবে এবং অন্যজন পারবে না কেন?
    পাঠক মনে রাখবেন সমাজের গড়ে ওঠা , কালচার, রিলিজিয়ন, এথিক্স ইত্যাদি মাল্টিকম্পোনেন্ট বস্তুগুলি এক একটি মেমেপ্লেক্স। এদের সৃষ্টি লার্নিং এন্ড রিজনিং এবং লং টার্ম মেমরির থেকে, যাতে করে মানুষ লার্নিং এবং রিজনিং দিয়ে নর্মগুলি তৈরী করেছে, দীর্ঘসময় সেগুলিকে মস্তিষ্কে প্রসেস করেছে, নর্মের সাথে নিজেকে একাত্ম করলে যে রিওয়ারড পাওয়া যাবে, অর্থাৎ সমাজ আমার কিছু দায়িত্ব নেবে, এবং আমি সুরক্ষিত থাকব, এই বোধ স্মৃতি হিসাবে মস্তিষ্কে সেলাই করেছে। এমন কিছু জিনিসের উদ্ভব করেছে (ধর্ম, রিচুয়াল, সঙ্গীত ) যেগুলি এই কাজে ক্রমাগত সাহায্য করবে। সামাজিক অপরাধে যে শাস্তি হয় সেই শাস্তির মিমিক করে ভবিষ্যতে অপরাধের আগে ভয় পেতে শিখিয়েছে। অর্থাৎ, মানুষ, ব্যক্তি-মানুষের উপর সমাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, সেটি ই মানুষের বিবর্তনের ধারা। এই বিবর্তনকে মানুষের এনাটমি ও ফিজিওলোজি সাপোর্ট করেছে। কিভাবে? মস্তিষ্কের সুপার -ফাস্ট বিবর্তনের মাধ্যমে। সমাজ তাকে অন্য সব প্রাণীর চেয়ে উচ্চমানের এডাপটেশন দিয়েছে। সমাজ তাকে দিয়েছে সুরক্ষা। অন্যের তৈরী করা হাতিয়ার , অন্যের তৈরী করা খাদ্যের ব্যবহার করে মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতেছে-তার নেই শীতের জন্য লোম, গরমের জন্য অতিরিক্ত স্বেদগ্রন্থি, শিশুথলি। শুধুমাত্র মস্তিষ্কের প্রবল বিবর্তনের ক্ষমতা, যার মধ্যে শেয়ারিং এবং বন্ধন দুটি খুব জরুরি কম্পোনেন্ট, তার উপর নির্ভর করে মানুষ এই দীর্ঘ বিবর্তনের পথ পেরোচ্ছে। মনে করুন, একটা ভালো সিনেমা দেখলে আমরা অন্যকে দেখাতে উদগ্রীব হয়ে উঠি। একটা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলে তার ফল সমাজের সকলে পায়। আমরা বিনিময় শিখেছি, এমনকি বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে মুদ্রা তৈরী করেছি। কে শেখালো? কিছুই আকাশ থেকে পড়েনি। সমাজ গঠনের এই তাড়না আমাদের অস্তিত্বের তাড়নার সঙ্গে জড়িত, তার ফিজিক্যাল ডিটারমিন্যান্ট আছে। জেনেটিক শুধু নয়, এপিজেনেটিক এবং স্ট্রাকচারাল, এনাটমিকাল।

    মানুষের মস্তিষ্ক পরিণত হয় প্রায় ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই সময়ের মধ্যে, শিশুর মস্তিষ্কে সামাজিক বোধ গুলি ভিসুয়ালিজেশন, হিয়ারিং, স্মেল এবং লার্নিং এর মাধ্যমে প্রবেশ করানো সমাজের কর্তব্য। পেরেন্টাল সুপার্ভিসন এই জন্য সকল সমাজে একই রকম, এই জন্যই মানুষ পিতামাতা ছেলেপুলের আচার আচরণ সম্পর্কে সদা-সতর্ক। যে পিতামাতা সমাজের সঙ্গে যত একাত্ম বোধ করেন তারা তত প্রটেক্টিভ হয়ে ওঠেন। আর এইজন্যই, শিশু থেকে টিন এজার দের মধ্যে , অপরাধপ্রবণতা , ইমোশনাল স্পাইক, ক্ষণিক উত্তেজনার বশে অসামাজিক কাজকর্ম করা, ড্রাগ ও এলকোহলের প্রবণতা বেশি। শরীর যতই বাড়ুক, এই মানসিক পরিণতি এচিভ করতে আমাদের অনেক সময় লাগে। আবার এক ই কারণে বয়স্ক মা বাবাকে সমাজের নতুন নর্ম এ অভ্যস্ত করতে অসুবিধা হয়। কারণ তাঁদের স্মৃতির উপর নতুন স্মৃতি বসাতে তাঁদের অসুবিধা হয়। তাদের মস্তিষ্ক পরিণত।
  • siki | 24.140.82.133 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:১৬574950
  • আরেকটি ইন্টারেস্টিং কেস স্টাডি হতে পারে আমাদের হাতের কাছে নয়ডার নিঠারি গ্রামের সিরিয়াল কিলিং। মণিন্দার সিং পান্ধের আর তার সহকারি সুরিন্দর কোহলি। পেডিয়াফিলিক এবং নেক্রোফিলিক। এদের টার্গেট ছিল ঐ রকম, গ্রামের একেবারে গরীব কাজের লোক রিক্সাচালকদের ছেলেমেয়েরা। যারা হারিয়ে গেলে জাস্ট কেউ কেয়ার করে না। নিতান্ত লজেন্স টফির লোভ দেখিয়ে এইসব বাচ্চাদের টেনে আনত তারা, পান্ধের রেপ করত জীবন্ত বাচ্চাদের, তাদের মেরে ফেলার পরে মৃতদেহ থেকে যৌনসুখ নিত কোহলি। তারপরে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে কিছু খেয়ে ফেলত, বাকি পেছনের ড্রেনে ফেলে দিত।

    অত্যন্ত হাই প্রোফাইল এই কেস নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেছিল দিল্লি কয়েক বছর আগে, তারপরে কালের নিয়মে সবাই ভুলে গেছে। পান্ধের এক প্রাক্তন আইএএস অফিসার হবার ফলে নিজের প্রভাব খাটিয়ে এখন মুক্ত। কোহলি গাজিয়াবাদের জেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ফাঁসির দিন গুনছে।
  • sosen | 125.242.234.160 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:২৯574951
  • কুমুদি গো আর পেপার লেখার কথা বোলোনা-কাল থেকে আবার সেই ব্যাগার শুরু হবে-
    সিকি, আমি আসলে আরো দু-চারটে ভালো কেস দেবার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু অনেকের ই এতে একটু adverse effect হতে পারে, তাই ভেবে আর বাড়ালাম না। আর নিজেও টাইপিয়ে থকে যাচ্ছি পুরো।
  • | 24.96.9.42 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:৩৯574952
  • টাইপিঙে সমস্যা না থাকলে আমার মনে হয় লেখাটার স্বার্থে যা যা দেওয়া দরকার সব কেস স্টাডিই দেওয়া ভাল। যাদের অসুবিধে হবে, তারা স্ক্রোল করে গেলেই তো হল।
  • siki | 24.140.82.133 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:৫৩574953
  • দ-কে ক।
  • kumu | 132.160.159.184 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ১৯:৫৮574954
  • দ কে ক্ক্ক্ক্ক
  • sosen | 111.63.224.82 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ২০:২৩574955
  • এবার দেখুন এই সামাজিক বোধ এস্টাবলিশ করার জন্য দায়ী মস্তিষ্কের কোন কোন প্রধান অংশ -



    সামনের দিকে রয়েছে ফ্রন্টাল লোব, যেটা আমাদের লার্নিং , রিজনিং, লং টার্ম মেমরির স্টোরেজ ও প্রসেসিং এ সাহায্য করে। টেম্পোরাল লোব কাজ করে for accurate perception and interpretation of social communication । আর এমিগডালা, টেম্পোরাল লোব এর মূলে লুকিয়ে থাকা দুটি নার্ভ গ্যাংলিয়া আমাদের ভয় পেতে শেখায়, যে ভয়ের ভিত্তি আমাদের দীর্ঘ-সঞ্চিত সংস্কারে, বা স্মৃতিতে, অর্থাৎ কিনা, পুরনো স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে,মিথ বা রিচুয়ালের শিক্ষার সাথে মিলিয়ে, (দীর্ঘ এনালিসিসে না গিয়েই) সে ভয়, তার ফলাফল এবং সেই অনুযায়ী আমাদের রিফ্লেক্স একসনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছবিটা আমাদের পরবর্তী আলোচনার জন্য মাথায় রাখতে হবে। মূলত এই অংশগুলির মধ্যে ঠিকঠাক যোগাযোগ চলছে কিনা, তার উপর নির্ভর করে আমাদের সামাজিক নিয়মের বাধ্যতা , পানিশমেন্ট বা রিওয়ারডের বোধ, এবং নীতিগুলি মনে রাখার ও এনালিসিস করবার ক্ষমতা।
  • sosen | 111.63.224.82 | ২৯ অক্টোবর ২০১২ ২০:৩৩574957
  • এই ছবিটা ক্লিক করে বড় করে দেখে নিলে ভালো হয়।

    *********************ডিসক্লেমার : পরবর্তী বিশ্লেষণ গুলি দিয়ে আমি কোনো অপরাধীকে ডিফেন্ড করছিনা, যে অপরাধীর অপরাধ যদি তার ব্রেনের গঠন প্রসূত , জেনেটিক ইত্যাদি হয়, তা হলে সে কি করতে পারে? বা কোনো জাতির মধ্যে ভায়োলেন্সের প্রবণতা বেশি তা বলা মানে কি একধরনের রেসিজম? এই এথিক্যাল প্রশ্নগুলো নিয়ে এমনি ই সারা পৃথিবী তোলপাড়, এবং আমি নিজে এর উত্তর দেবার জায়গায় নেই। তাই অনুরোধ করে যাচ্ছি, এর পর হয়ত আমি এরকম বিতর্কিত তথ্য দিতে থাকব, কিন্তু কেউ দয়া করে আমায় তজ্জন্য রেসিস্ট বা ইমমরাল তকমা দেবেন না। ***************************
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন