এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • পায়ের তলায় সর্ষেঃ জুলে, লাদাখ!

    সিকি
    অন্যান্য | ২৩ জুন ২০১২ | ১২২১৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Nina | 78.34.167.250 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১০:২৪558342
  • একটা কথা মনে গেঁথে গেল রে
    এই জন্যেই তো রাস্তায় নামতে হয়
    মাথা নীচু করা শিখতে---
    ----খুব সুন্দর কথা--তুলে রাখলাম মনে
  • Toba Tek Singh | 131.241.218.132 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১০:২৬558343
  • আমার যে ব্যাগেজ আছে - একমাত্র পথ ঝগড়া করে নিরুদ্দেশ হওয়াঃ-)

    ফটোগুলোতে কমেন্ট করছিলাম - বাংলায়। গুগুল কি ভয়ানক ভয়ানক সব ইংরিজী ট্রান্সলেশন করছে রে বাবা।
  • Toba Tek Singh | 131.241.218.132 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১০:৩৩558344
  • ঠিক করেছি এই পোঁটলা পুঁটলি নিয়েই যাবো। মেয়েটা সবে পাঁচ - তাও এর আগে দু একটা ছোটখাটো হাঁটিয়েছি। সামনের বছর চোপতা-তুঙ্গনাথ-দেওরিয়াতাল ভেবে রেখেছি।

    এসব ঝামেলা না থাকলে তো ব্ল্যাঙ্কিদের দলে ভিড়ে যেতাম কবে।
  • sinfaut | 131.241.218.132 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১৪:০১558345
  • একক ৮.২৮ , হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা।

    আমি অবশ্যি বৌয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কয়েকবার ঘুরেছি, যদিও কাছাকাছি জায়্গায়, সেগুলো দারুন মজার হয়েছিল। সে বোধহয় ওরা ছাত্রছাত্রী বলেই, সোম্সারী লোকেদের সঙ্গ না করাই ভালো। একবার শান্তিনিকেতন গেছিলাম ১৭ জন ছাত্রী, বৌ আর আমি।
  • কাজু | 131.242.160.180 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১৪:০৯558346
  • ১৭ জনই ছাত্রী !! আচ্ছা ! বুঝলাম।
  • sinfaut | 131.241.218.132 | ০৩ জুলাই ২০১২ ১৪:৫৪558347
  • সিকি-র লাস্ট লাইনগুলো শঙ্কুর ডায়েরীর মতন পড়তে লাগছে, হেব্বি হচ্ছে লেখাটা।
  • সিকি | 132.177.186.162 | ০৩ জুলাই ২০১২ ২১:৪৬558348
  • ১৫ জুন ২০১২

    গতকাল ডিস্কিটে নেমেই বমি-টমি করে থেকে অসম্ভব পেটের ব্যথায় কাহিল চৌহানকন্যা। রাতে সে ম্যাগি ছাড়া কিছুই খায় নি। আজ সকালেও যা শুনলাম, তার শরীর ভালো নেই। নাকি বিছানা থেকে উঠতেই কষ্ট হচ্ছে। এই অবস্থায় আমার আর সিকিনীর মাথায় যুগপৎ এক শুভবুদ্ধির উদয় হল। আজ তো এখান থেকেই সামনে এগিয়ে তুর্তুক যাবো, আর কাল এই রাস্তা দিয়েই তো লে ফিরব। চৌহানের মেয়ের যদি আরেকদিন রেস্ট নিলে কিছু উপকার হয়, তা হলে ওরা এখানে ডিস্কিটেই আরেকদিন থেকে যাক, আমরা তুর্তুক ঘুরে আসি, কাল ফেরার পথে এখান থেকেই তুলে নেব।

    তুর্তুকে আমাদের বুকিং করা ছিল, টেন্ট, চৌহানদের ছিল না। কথা ছিল ওখানে গিয়ে আরেকটা টেন্ট বুক করে নেব। খুব খুব কম পরিমাণ লোক ওই পর্যন্ত যায়, সুতরাং জায়গা পাওয়া কোনো বড় প্রবলেম হবে না। সেক্ষেত্রে চৌহানরা যদি তুর্তুক না যায়, তা হলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। এমনিতেও তাদের খুব ভালো লাগবে বলে মনে হয় না, নিছক একটা ছোট গ্রাম বই তো নয় তুর্তুক। তুর্তুকের গল্প অন্য জায়গায়।

    ভারত পাকিস্তান সীমান্তে শিওক নদীর ধারে শেষ ভারতীয় গ্রাম হল তুর্তুক, যেখানে ভারতীয় ট্যুরিস্টরা যেতে পারে। মাত্র ২০১০ সাল থেকে এই জায়গা ট্যুরিস্টদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, অবশ্যই পারমিট সাপেক্ষে। সম্ভবত বিদেশীদের জন্য তুর্তুক এখনো অগম্য। বাকি জম্মু কাশ্মীরের থেকে এই গ্রামের তফাৎ মূলত হল এই যে, পুরো লাদাখ এলাকায় বৌদ্ধ পপুলেশন বেশি হলেও, তুর্তুক পুরোপুরি মুসলিম পপুলেশন। এরা পাকিস্তানের বালটিস্তানী উপজাতি সম্প্রদায়ভূক্ত। বালটিক বলে এদের। ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের আগে পর্যন্ত এই গ্রাম ছিল পাকিস্তানের মধ্যে। তুর্তুক একা নয়, ছিল মোট পাঁচটি গ্রাম। তুর্তুক, তিয়াক্‌শি, থাং, পাচাথাং আর চালুংকা। একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাকে পিছে হটাতে হটাতে নিয়ে যাওয়া হয় আরও পাঁচ ছ কিলোমিটার পেছনে, যেখানে এখন এলওসি। এই পাঁচটা গ্রাম রাতারাতি পাকিস্তান থেকে ভারতের অংশ হয়ে যায়। তারপর অনেক বছর অবিশ্বাস আর সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছিল এদের ওপরে, ভারত সরকার, ভারতীয় সেনা। এরা কাল ছিল পাকিস্তানী, আজ ভারতীয়, এরা ভারতে এসে চরবৃত্তি করবে না তো? তুর্তুকবাসীদের গ্রামের বাইরে বেরোতে দেওয়া হত না। আর্মির সাপ্লাই করা রেশনের ওপর বাঁচিয়ে রাখা হত এদের। এক দু বছর নয়। দীর্ঘ তিন দশক।

    তারপর হল কারগিল যুদ্ধ। ১৯৯৯ সাল। তুর্তুকবাসীরা প্রথম নিজেদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার সুযোগ পেল। মূলত স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় ইন্ডিয়ান আর্মি পাকিস্তানীদের পেটাতে পেটাতে পিছু হঠাতে পারে। অনাস্থার মেঘ কেটে বিশ্বাস ফিরে আসে এই সরল, সাদাসিধে মানুষগুলোর ওপর।

    গাঁয়ের মাঝখান দিয়ে আপনমনে বয়ে গেছে শিওক নদী, নদীর তো কোনো দেশ হয় না, তাই সে আপন খেয়ালে এঁকেবেঁকে ঢুকে গেছে পাকিস্তানে। এই গ্রামের এখনও অনেক লোক আছেন যাঁদের আত্মীয় পরিজন রয়ে গেছেন পাকিস্তানে, আর সীমা পার না করেই, এক পা-ও না হেঁটে এঁরা একদিন পাকিস্তানি ছিলেন, এখন হয়ে গেছেন হিন্দুস্তানী। এখানকার হিন্দিতে উর্দুর প্রভাব স্পষ্ট। বালটিকদের কালচারও সম্পূর্ণ আলাদা, বাকি লাদাখিদের থেকে। এদের প্রিয় খেলা হল, পোলো। গ্রামের মধ্যে একটা পোলো গ্রাউন্ড আছে, সেখানে প্রতি বছর শীতের শেষে, এপ্রিল মাসে পোলো টুর্নামেন্ট হয়।

    এইখানে একটা কথা বলে রাখি, আগে বলতে ভুলে গেছি। আমাদের গাড়ি যেহেতু আর্মির মাধ্যমে বুক করা, তাই আমাদের কোথাও পারমিট নিতে হয় নি। সিকিনী আর চৌহানের ডিফেন্স মিনিস্ট্রির আইকার্ড দেখিয়েই হয়ে গেছিল :)

    তো, ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে তুর্তুকের গুরুত্ব অপরিসীম। সেসব চৌহানদের ভালো না-ও লাগতে পারে। তাই সোনামুখ করে তাদের প্রপোজালটা দিলাম, যে, আপনারা থেকে যান, কাল আপনাদের তুলে নেব।

    কিন্তু চৌহান যদি পিছু ছাড়ত, তা হলে তো তার নাম চৌহান না হয়ে চট্টোপাধ্যায় হত! অতএব, তাদের পারিবারিক গোলটেবিল বৈঠকের পরে স্থির হল তারা আমাদের সাথেই যাবে। মেয়ে এখন নাকি অনেকটাই স্টেবল। আর, মাত্র তো ৯৫ কিলোমিটার পথ, আড়াই ঘণ্টার বেশি লাগবে না, প্রায় পুরোটাই প্লেন রাস্তা, তেমন পাকদণ্ডী নেই, সামলে নেবে।

    নটা নাগাদ বেরনো হল। প্রথমেই নোর্বে দম্পতির কাছে বিদায় নিয়ে আমরা দেখলাম ডিস্কিটের স্থানীয় সেই বুদ্ধমূর্তি, নোর্বের তত্ত্বাবধানে যা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে লাগোয়া লামাদের স্কুল আর মনাস্ট্রিও দেখলাম। ভেতরে গম্ভীর মুখে একজন লামা, হিন্দি সিরিয়ালে যেমন পুঁথি দেখা যায়, অবিকল সেই রকম দেখতে একটা পুঁথি খুলে তিব্বতী ভাষায় লেখা মন্ত্র পড়ে চলেছিলেন দুলে দুলে। আমার মেয়েকে দেখে তার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে হাতে একমুঠো প্রসাদ তুলে দিলেন। প্রসাদটা আর কিছুই নয়, অভ্যু শুনলে খুব খুশি হবে, নকুলদানা।

    পরে যত গুম্ফা দেখেছি, একটা জিনিস খুব কমন দেখেছি। দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় তো সঠিক পুজো উপচার তেমন মেলে না, তাই যে যেমন পারে তাই দিয়ে পুজো দিয়ে যায়, ক্যাডবেরিজের বার, ট্রপিকানার ফ্রুট জুস, টফি, এক কাপ চা, ইত্যাদি।

    নকুলদানা পকেটে পুরে আবার নেমে এলাম গাড়ির দিকে। চৌহানের মেয়েবউ সেই একইভাবে সারা পৃথিবীর অপরিসীম বিরক্তি মুখে মেখে বসে ছিল গাড়িতে, নামে নি। সত্যি বলতে কী, ওই ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দিনের পর দিন দেখে দেখেই বোধ হয় আমার মেয়েটার প্রতি কোনো সহানুভূতি আসে নি মনে। সবসময়ে মুখের ভাবটা এমন, যেন ওকে কেউ ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে, জোর করে গাড়ি থামাচ্ছে, জোর করে রাস্তায় সাইটসিয়িং করছে।

    যাগ্‌গে, পিএনপিসি থাক। ডিস্কিটের মনাস্ট্রি দেখে আমরা এইবারে এগোলাম পরের গন্তব্যের দিকে।

    হুন্ডার।

    ডিস্কিট থেকে সাত কিলোমিটার দূরে আরেকটা ছোট গ্রাম, সামান্য কিছু থাকার জায়গা, ক্যাম্প, হোমস্টে। শিওক নদী এখানে অনেকটা চওড়া, আর পাহাড়ের মাঝে উপত্যকার অনেকখানি এলাকা জুড়ে রয়েছে বালি। মরুভূমি। পৃথিবীর উচ্চতম মরুভূমি। শীতল মরুভূমি। সেইখানে চরে বেড়ায় দুই কুঁজওলা উট। ডাবল হাম্পড ব্যাকট্রিয়ান ক্যামেল। গুগুল করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন, আপাতত এইটুকু জেনে রাখুন, সুপ্রাচীন কালে এদের পূর্বপুরুষরা এসেছিল মঙ্গোলিয়া থেকে, পরে এখানেই রয়ে গেছে। আদি বাসস্থান ছিল এদের গোবি মরুভূমি, আর তাকলামাকান মরুভূমি। রাজস্থানী উটের মত এরা কাঁটা ঝোপ খায় না, গুল্ম ইত্যাদি খায়, এবং বরফ খায়, শরীরে জলের চাহিদা মেটানোর জন্য।

    সেই ডাবল কুঁজওয়ালা উটের পিঠে সাফারি করার জন্য আমরা দাঁড়ালাম গিয়ে হুন্ডার মরুভূমির সামনে। চৌহান এইবারে সামনে এসে বলল, আপনি সার উটে চড়ে একটু ঘুরুন, এইখানে সামনেই একটা মিলিটারি ফিল্ড হসপিটাল আছে, আমি মেয়েটাকে একটু দেখিয়ে আনি। যাব আর আসব।

    এতে আর না করার কী আছে! চৌহান গাড়ি নিয়ে চলে গেল, ছেলেকে রেখে। আর রইলাম আমি, মেয়ে আর সিকিনী। মেয়ে তো সামনে অতবড় উট দেখেই হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিল, কিছুতেই উঠবে না। সিকিনীও উটে উঠেই ঠিক লালমোহনবাবুর মত ভয় পেয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি নেমে গেল। অগত্যা, আমি একাই একশো। দিব্যি উটের পিঠে চড়ে হেলতে দুলতে পনেরো কুড়ি মিনিট চরকিপাক খেয়ে এলাম মরুভূমিতে। উটওয়ালার সাথে গপ্পো জুড়লাম। তোমাদের কদিন চলে সিজন? উটওলা বলল, এই তো, মে থেকে অক্টোবর। তারপরে কী করো? কী আর করব, বাচ্চা উটগুলোকে পরের বছরের জন্য তালিম দিই, আর লে-র দিকে কোনো কাজ থাকলে সেদিকে চলে যাই।

    এতে তোমাদের চলে যায়? ... উটওলা হাসল।

    উটে চড়া শেষ করে ফিরে এলাম। এদিকে রোদ ক্রমশ চড়া হচ্ছে। লাদাখ অঞ্চলে রোদ বড় ভয়ঙ্কর জিনিস। হাওয়া পাতলা বলে ইউভি রশ্মি ফিল্টার হয় না, সরাসরি চামড়া পুড়িয়ে দেয়। খালি চোখে এখানে চলাফেরা করলে চোখ নষ্ট হয়ে যাবার চান্স থাকে, এই জন্য এখানে গরীব থেকে গরীবতর লোকজন চোখে রোদচশমা অতি অবশ্যই ব্যবহার করে।

    আমাদের চোখে রোদচশমা ছিল। পরনের সোয়েটার একে একে খুলে ফেললাম। জল টল সব গাড়িতে রাখা ছিল, সঙ্গে তো কিছু নেই, এখানে ত্রিসীমানায় কিছু নেই। তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু চৌহান বা গাড়ির পাত্তা নেই।

    দাঁড়িয়েই আছি, দাঁড়িয়েই আছি। বারোটা বাজল, সাড়ে বারোটা বাজল, পৌনে একটা বাজল। এখানে বিএসএনএল ছাড়া কোনো মোবাইলের নেটওয়ার্ক নেই। একজন লোকের কাছ থেকে ফোন চেয়ে দোরজিকে ফোন করার চেষ্টা করা হল, কিন্তু ফোন লাগলই না। শেষমেশ চৌহানের ছেলে বলল, আমি এগিয়ে দেখে আসি। হসপিটাল তো এই সামনেই।

    আরো আধঘণ্টা ওয়েট করার পরে গাড়িসমেত চৌহান ফিরল। সিকিনীর ততক্ষণে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। এ কী ব্যবহার? নিজের মেয়েকে ডাক্তার দেখাবে বলে বাকিদের কথা ভুলে যাবে? গাড়িটা তো পাঠিয়ে দিতে পারত আধঘণ্টা বাদে!

    মেজাজ আমারও খারাপ হয়েছিল, তবে আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তাই মুখ খুললাম না। তা ছাড়া ঠিক আছে, মেয়ের অসুস্থতায় হয় তো মাথায় ছিল না এত কিছু, হতেই পারে। আমি তাই কিছু বললাম না। তবে সিকিনী এইবার নিজে থেকেই দুকথা শুনিয়ে দিল। চৌহান বসের কাছে আবার ঝাড় খেয়ে খানিক তো-তো করে বলল, না, আসলে, কর্নেল গুপ্তা আছেন এখানে, তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। আর কদিন বাদেই তো এদের ডায়মন্ড জুবিলি, তাই সবাই ব্যস্ত, সবাইকে ঠিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছিল না, তাই দৌড়োদৌড়ি করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেল।

    বেলা দেড়টার সময়ে আমরা স্টার্ট করলাম ফাইনালি তুর্তুকের জন্য। মাঝে এমনি কোথাও থামা নেই, কেবল থোইস এয়ারস্ট্রিপের ছবি তোলার জন্য এক মিনিটের স্টপেজ নিতে হবে।

    থোইস, একটি মিলিটারি এয়ারবেস। মূলত সিয়াচেন এবং তুর্তুক সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের যুদ্ধের সামগ্রী এবং রসদ লাগাতার পাঠাবার জন্য ব্যবহার করা হয় ভারত সীমান্তের এই শেষতম এয়ারস্ট্রিপটি। ১৯৯৯ সালের কারগিল অনুপ্রবেশের সময়ে পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে এই থোইস পর্যন্ত এলাকা ক্যাপচার করে নিয়েছিল। শিওক নদীর উপত্যকায় বানানো এই এয়ারস্ট্রিপ আসলে একটি অ্যাক্রোনিম। THOISE কথাটার পুরো অর্থ হল Transit Halt Of Indian Soldiers Enroute (to Siachen)।

    থোইস পেরিয়ে, পাহাড়ের কোল দিয়ে সুন্দর আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে, কখনো ছোট ছোট ব্রিজে করে নদীর এপার থেকে ওপার, ওপার থেকে এপার করে করে বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ আমরা পৌঁছলাম তুর্তুকে। যাত্রাপথে যে কত রকম শেপের আর কতরকম রঙের পাথর দেখলাম, তার বিবরণ দেবার ক্ষমতা আমার নেই। গাড়ি থামাতে গেলে তো ধর্মযুদ্ধ বেধে যেত, তাই চলন্ত গাড়ি থেকেই গুটিকয় স্ন্যাপ আপনাদের সামনে রেখেছি।

    নদী, পাহাড় দিয়ে ঘেরা তুর্তুক এক রূপকথার দেশ। সবুজে সবুজে ভরপুর। নীল জল, সবুজ শস্যক্ষেত, আর খয়েরি-সাদা পাথর, সবুজ ব্রিজ, আর নদীর পার ধরে আঁকাবাঁকা পথ, স্বর্গের রাস্তা বোধ হয় এখানেই।

    প্রচুর ক্ষিদে পেয়েছে, প্রথমেই তুর্তুক হলিডে ক্যাম্পে পৌঁছে আমাদের টেন্টে জিনিস রেখে অল্প করে কিছু খাবার খেয়ে নিলাম। এখানে নন ভেজ একেবারেই পাওয়া যাবে না। লে থেকে সাপ্লাই না এলে এখানে কিছুই পাওয়া যায় না। তাই, রুটি, ডাল, আলু মটর দিয়ে জম্পেশ লাঞ্চ করলাম। এর পরে চৌহান গেল ঘুমোতে, আর বাকিরা বেরোলাম গ্রাম দেখতে। সলমান, যে ক্যাম্পের ম্যানেজার, বলে দিয়েছিল, সোজা চলে যান, গ্রামে ঘুরুন, যে কেউ আপনাদের হেল্প করবে, কোনো অসুবিধে নেই। ছোট্ট গ্রাম, হারিয়েও যাবেন না। এখানকার লোক বছরে এই তিনচারমাস বাইরের লোকের মুখ দেখতে পায়, বাইরের লোকেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এরা মুখিয়ে থাকে। ঘুরে আসুন।

    বেরোলাম, প্রথমেই ব্রিজের মুখে দেখা হয়ে গেল একঝাঁক অপূর্ব সুন্দরী হুরীপরীদের সাথে। ছোট ছোট বাচ্চা, আপেলের মত লাল গাল, ফেটে পড়ছে রূপ, অথচ সারা শরীরে দারিদ্র্যের চিহ্ন স্পষ্ট, কিন্তু মুখের হাসিগুলি অমলিন। ফটো তোলার কথা বলতেই সারি সারি দাঁড়িয়ে গেল হাসিমুখে। "কী দেখাবে গো, তোমাদের গাঁয়ে?" -- শুধোতেই তারা বেজায় লজ্জা পেয়ে এদিক ওদিক ছিটিয়ে গেল।

    একজন স্থানীয়ের মুখে শুনলাম, ব্রিজ থেকে ডানদিকে গেলে এক সপ্তম শতাব্দীর মসজিদ দেখা যাবে। দেখে এলাম। এসে দেখি, এক বুড়ো বসে আছে ব্রিজের ওপর। গিয়ে তার পাশে বসলাম, আপনি তো একাত্তরের যুদ্ধের সময়ে এখানেই ছিলেন, না? একটু বলবেন, গল্প?

    বুড়ো, তার নাম মনে নেই, হাসলেন, হ্যাঁ, বহোত ভারি জঙ্গ হুয়া থা। এক দিন পহলে হম পাকিস্তান মে থে, ফির এক দিন বাদ হম হিন্দুস্তানী বন গয়ে।

    আর কারগিল যুদ্ধ? উজ্জ্বল হয়ে উঠল বুড়োর মুখ, আমরাও জঙ্গ লড়েছি তো। ইন্ডিয়ান আর্মির সাথে। তাদের সামান বয়ে নিয়ে গেছি পাহাড়ে, আমাদের গাঁয়ের মেয়েরা ফৌজিদের জন্য রুটি বানিয়ে দিত, ওপার থেকে দুশমন এলে আমরাই খবর পৌঁছে দিতাম ফৌজিদের কাছে।

    ... দুশমন? পাকিস্তানীরা আপনাদের কাছে দুশমন? পাকিস্তানে এখনো আপনাদের রিশতেদারেরা আছেন না? -- পুরো প্রশ্নটা অবশ্য আমি করে উঠতে পারি না, শেষটুকু ছাড়া। উত্তর তো জানা, নেহাতই ভেরিফিকেশনের দায় থেকে একজন বৃদ্ধকে কেন অপমান করব?

    বৃদ্ধ আবারও হাসলেন, আছে। তাদের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ছ বছর আগে, মক্কায় গেছিলাম হজ করতে। ওরাও গেছিল।

    পাকিস্তানে যান না? পাকিস্তান তো মক্কার থেকে কাছে।

    আমাদের পাকিস্তানের ভিসা দেওয়া হয় না। আমাদের পাকিস্তান যাওয়া বারণ। আমরা পুরোদস্তুর হিন্দুস্তানি।

    বৃদ্ধর হাসিতে কি আয়রনি মিশে ছিল? আর কথা না বাড়িয়ে ছবি তুললাম বুড়ো আর তার সঙ্গীসাথিদের। বুড়োর বন্ধু হেসে শুধোলেন, এই ক্যামেরার ছবি তো আমরা দেখতে পাবো না। তাই না?

    কী বলি! বললাম, আমি দিল্লি ফিরে ছবি পাঠিয়ে দেব তুর্তুক হলিডে ক্যাম্পের সলমান ভাইয়ের কাছে। আপনারা ওখানে গিয়ে দেখে আসবেন।

    এরপর তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়ালাম গ্রামটা। যেখানেই যাই, অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির মাঝে অপরিসীম দারিদ্র্য, আর প্রত্যেকের উৎসুক চোখেমুখে অনাবিল সারল্যের হাসি। এখানে ওখানে, যেখানেই এতটুকু ফাঁকা জায়গা পাওয়া গেছে, সেখানে হাসছে গম আর ডালের গাছ। সবুজে সবুজে ভরপুর রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে এক গ্রাম। রংবেরংয়ের ফুল। ইতিউতি নেমে আসা ঝরনা।

    উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ালাম এদিক সেদিক, নদীর পারে বসে, বোল্ডারে বসে খানিক ছবি তুললাম। আস্তে আস্তে সন্ধ্যে নামল। ফিরে এলাম টেন্টে।

    আমাদের টেন্টে বাথরুমের খুব অসুবিধা ছিল। টেন্টে অ্যাটাচ বাথরুম ছিল না, বাইরে আলাদা করে তিনটে সেমি-পাকা টয়লেট বাথরুম ছিল।

    খেতে বসে সলমান ভাইয়ের সঙ্গে গল্প হল খানিক। সলমান ভাই বললেন এখানকার জিনিস হল অ্যাপ্রিকট। সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির অ্যাপ্রিকট আড়াইশো টাকা কিলো, সেটাই দিল্লিতে সাত আটশো টাকা কিলোতে বিক্রি হয়। বলে রাখলাম, পরের দিন যাবার আগে এক কিলো অ্যাপ্রিকট আর একটা অ্যাপ্রিকট জুসের বোতল আনিয়ে রাখতে।

    তুর্তুকে আমরা কোনো দোকান দেখি নি, শুনলাম একটা কি দুটো দোকান আছে। দোকানদারেরা গ্রামে সবার কী লাগবে না লাগবে জেনে নিয়ে একসাথে লে গিয়ে কিনে আনে সব কিছু, একমাসের মত রসদ। আর তা ছাড়া আর্মি থেকে সাপ্লাই দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় জিনিস।

    খুব কম সময়ের জন্য গেছিলাম, নিজের মত ঘোরার বা রিসার্চওয়ার্ক করার তো টাইম পাই নি। বরং এই লেখাটা পড়ুন। অনেক কিছু কমন পাবেন।

    http://www.outlookindia.com/article.aspx?212943

    =======================

    তারপর? তারপর আর কী? পরের দিন সকালে উঠে তল্পিতল্পা বেঁধে আবার ব্যাক টু লে, হুন্ডার, ডিস্কিট পেরিয়ে আর মাঝে দু চারটে নাম না জানা সুন্দর সুন্দর গ্রাম আর তার হুরীপরীদের হাত নেড়ে জুলে জুলে বলতে বলতে।

    ১৬ই জুন বিকেলে লে পৌঁছলাম। ফেরার সময় খারদুংলার পুরো রাস্তাটা মিলিটারি কনভয়ের পেছনে পড়ে গেছিলাম, না হলে আরও আগে ফিরতে পারতাম।

    ছবি? তুলে দিয়েছি তো! ২৯৯ নং থেকে।
  • hu | 22.34.246.72 | ০৩ জুলাই ২০১২ ২২:০৩558349
  • শমীকের লেখাটা পুরো ছবির মত হচ্ছে।
  • I | 24.96.152.208 | ০৪ জুলাই ২০১২ ০১:৩৫558350
  • খুব ভালো লেখা।
    আমার প্রাণে বড় ইচ্ছে সিল্ক রুট ধরে একটা লম্বা এক্সপিডিশন করার। হিউয়েন সাঙের রাস্তায়।খানিকটা অন্ততঃ। চীন তুর্কিস্তান/মঙ্গোলিয়া থেকে শুরু করে যদ্দুর হয়।
    জীবনে এই একটি কাজ করবার ইচ্ছে আছে। আর কোনো বিদেশভ্রমণ করি বা না করি। সিকির লেখা পড়ে ইচ্ছেটা আবার চাগাড় দিয়ে উঠল।
  • Tim | 208.82.21.188 | ০৪ জুলাই ২০১২ ০২:৪৯558352
  • ইন্দোদাকে আমার বাড়ি নেমন্তন্ন করলুম। ঃ-)
  • ঐশিক | 213.200.33.67 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১০:২৯558353
  • ২০১৪ এ আমিও যেতে চাই, সাথে কে কে যাবে এখন থেকেই প্ল্যান বানাতে হবে।শমীকদার লেখা পড়ে আমাকেও লাদাখ পোকা কামড়েছে :(
  • kiki | 69.93.243.248 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৩:৪৯558354
  • সিকি কি সেশ করে দিলো নাকি?

    আমারো অমন বিচ্ছিরি অভিজ্ঞতা হয়েছিলো, তবে সে ভাগ্গিস তেমন জায়গা ছিলো না যে বার বার যাওয়া যাবে না, তাই রক্ষে।ভুলভাল লোকেদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া খুব চাপ। অবিশ্যি আমারতো মাঝে মাঝে নিজের লোকেদের সঙ্গে যাওয়াও চাপ লাগে। লোকে এত ল্যাদ খেতে ভালোবাসে আর আমার এত টো টো করতে ভাল্লাগে। সব সময় ঝামেলা লেগে যায়।
  • Blank | 180.153.65.102 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৩:৫২558355
  • ইন্দো দা যাবে নাকি???
  • ডিডি | 120.234.159.216 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:০৫558356
  • ঐ যে সিকি লিখলো দুর্গম স্থান বলে মনাস্ট্রীতে ক্যাটবেরী,ফ্রুট জুস ইত্যকার বাজারী খাবার দেওয়া হয়, তেমন না। দুর্গম স্থান টান কিছু নয়। বৌদ্ধ ধর্মেই বোধয় শুচি অশুচি খাবার নেই। ঠাকুরকে সবই দেওয়া যায়।

    কুশলনগরে (মাইসোর থেকে অল্পো দুরে, জমজমাট শহর)আছে টিবেটিয়ান মনাস্ট্রি। ওখানেও দেখেছি বুদ্ধকে উপাচারে চিপ্সের প্যাকেট, বিস্কুট,চকোলেট মায় অগুন্তি বীয়ারের বোতোল দেওয়া আছে।

    আর চোহানকন্যার প্যাঁচা মুখের কোনো ছবি নেই ? পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট জানি, কিন্তু না দেখলেও প্রানটা কেমন ছটফট করছে যে।
  • Toba Tek Singh | 131.241.218.132 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:০৯558357
  • সিল্ক রুট তো পেডং থেকে শুরু। ইন্দো সেটার কথা বলছে নাকি অন্য কোনো সিল্ক রুট?
  • Blank | 180.153.65.102 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:১৩558358
  • সিল্ক রুট অনেক কটা আছে। বিভিন্ন সময়ে রুট বদলেছে। তিব্বত দিয়ে লাদাখ হয়ে একটা রুট, হিমাচল হয়ে একটা এমনই আছে।
    হিমাচল প্রদেশ থেকে তিব্বতের রাস্তা স্বাধীনতা অব্দি খোলা ছিল। লোকে ইয়াক কিনে আনতো ঐ রুটে।
  • ডিডি | 120.234.159.216 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:২১558359
  • ইন্দোদা, আমি যেতে পারবো না সিল্ক রুটে। উটে,হেঁটে। আমাকে বাদ দে।

    অতো বোতোল,বরোপ এইসব বইবে কে?
  • Toba Tek Singh | 131.241.218.132 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:২৩558360
  • তা কোনো একটাতে গেলেই হল। উইকিতে দেওয়া ম্যাপে দেখলুম তমলুকও আছে, সেখেনে গেলেই সিল্ক রুটে যাওয়া হয়, আর আমি তো আসল একটাতেই যাবো। থাকাও আবার "সিল্ক রুট"-এই (পেডং-এ) ;-)

    আমার আরো একটা ইচ্ছে ছিলো ইংল্যান্ডে থাকাকালীন - ওদিক থেকে ভারতে আসা, ওই পুরনো ট্রেড রুট ধরে। আর ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে চড়ে এশিয়া অবধি আসা...
  • sinfaut | 131.241.218.132 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:২৯558361
  • সিকি শেষ করে দিলে নাকি? এসব চলবে না, বানিয়ে বানিয়ে লেখো, এত পড়তে ভালো লাগছে, দুম করে শেষ হয়ে গেলে খেলব না।
  • Blank | 180.153.65.102 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:৩৪558364
  • এখুনো পানপাতিয়া রুটেই হাঁটা হলো না। তবে হাঁটবো ওটা, ঠিক। এবছরে হবে না, পরের বা তার পরের টাতে।
  • | 24.96.26.136 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:৪০558365
  • ইন্ডো নিশ্চয় সেই সান শুই যে সিল্ক রুট ধরে এসচিলেন; সেইটে ধরে হাঁটতে চাইছে। ঐটে হলে আম্মো ঝুলে পড়ব ইন্ডোর স্টেথো ধরে। সে ও সঙ্গে নিতে না চাইলেও ওর ল্যাজ ফলো করে চলে যাব।

    হায় ফিজিক্যাল ফিটনেস কেমন মরীচিকার মত ক্রমশ দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে ...... নাইলে আম্মো ব্ল্যাঙ্কির চরে বেড়ানো জায়গাগুলো সবকটায় যেতাম।
    ভেউ ভেউ ভেউ ভেউ
  • Abhyu | 168.227.33.167 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৪:৪৮558366
  • ইন্ডোর ল্যাজের একটা ফোটুক চাই।
  • Blank | 180.153.65.102 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:০০558367
  • দম দি ফিজিকাল ফিটনেস খুব একটা ম্যটার করে না। মনের জোর ই আসল।
  • প্পন | 214.138.240.254 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:০৮558368
  • সেশ কোথায়? সিকি তো লেকগুলো এখনো লেখেনি। সেই বিখ্যাত প্যাংগোং সো। তার গপ্পো হবে তো!
  • শ্রাবণী | 127.239.15.102 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:৩৪558369
  • হ্যাঁ হ্যাঁ, পিকচার আভি অনেক বাকী হ্যায়, আপনারা ধৈর্য্য ধরে থাকুন (কিভাবে ধরবেন সেটা নিজের নিজের ব্যাপার)! লেক রয়েছে, চৌহানেরও গল্প রয়েছে এখনো....ক্লাইম্যাক্সে। শমীক তো রাতে ছাড়া লিখতে পারেনা।
  • গান্ধী | 213.110.246.230 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:৪০558370
  • সিকিদা একটা কথা এখনো লেখেনি, কি করে পার্মিট পাওয় যাবে। আমার কেউ ডিফেন্সে নেই, আমি কি করে পার্মিট পাব??
  • | 24.99.78.171 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:৫০558371
  • ?যেমন করে গুরুদোংমার, জিরো পয়েন্ট বা নাথু-লা'র পারমিট নেয় অমনি করেই হবে।
  • নেতাই | 131.241.98.225 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:৫২558372
  • এই কাহিনীর মেন অ্যাট্রাকশান কিন্তু চৌহান।

    সিকিদা, এই গল্পে কিছু রং চড়িয়ে লিখলে পারো তো।
    যেমন ঐ সিল্ক রুটের তলা দিয়ে সুড়ং খুঁড়ে ড্রাগস পাচার হতো। চৌহান তাদের পান্ডা। তুমি বুদ্ধি লাগিয়ে পট করে তাদের ধরে ফেললে। তারপর উদুম ক্যালালে। দুমদাম ধাঁই ধপ ধপ। করে পুলুশের হাতে তুলে দিলে।

    তাহলে কি হয় তোমার প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে যায়।
  • গান্ধী | 213.110.246.230 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৫:৫৯558373
  • জিরো পয়েন্ট, নাথু-লা কিছুই যাইনি।। কি করে জানব ক্যামনে পারমিট জোগাড় করে??

    নেটে ঘেঁটে দেখলাম বলছে ট্রাভেল এজেন্ট দিয়ে আগেভাগে করিয়ে রাখতে। নাহলে লে পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে না পেলে একটা দিন ঘেঁটে যায়। যাই হোক আমি যাওয়ার অনেকেই ঘুরে আসবে সিকিদার লেখা পড়ে, তখন আরো ডিটেল্সে যেনে যাব
  • গান্ধী | 213.110.246.230 | ০৪ জুলাই ২০১২ ১৬:০০558375
  • তাহলে সিকিদা কাকাবাবু হয়ে যাবে আর কেউ এই টই পড়বেনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন