• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব

    pi
    বিভাগ : অন্যান্য | ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ | ৪০৭১ বার পঠিত
আরও পড়ুন
করোনা - pi
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • অনিকেত | 24.139.222.45 | ০৮ এপ্রিল ২০১৬ ১৬:১৬507686
  • # গাণিতিক
    প্রতিটি দুঃখ আমাদের জীবনকে দুভাগ করে দেয়
    অসমান; এদিক থেকে আমরা ওপাশের সবুজ ঘাস দেখে
    সুখের বিন্দুদের দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি এই ভেবে যে
    ওই সুখকণাগুলো জানত না কত কাছে ওত পেতে
    আছে ডোরাকাটা বাঘ—
    তবুও আমাদের সেই প্রকৃত আনন্দবিন্দু যাদের কোনো
    দুঃখের স্মৃতি নেই তারা রয়ে যায় ওপাশেই আর
    তাদের দিকে চেয়ে নানারকমের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে
    ফেলতে আমরা পৌঁছে যাই পরবর্তী দুঃখের কাছে
    এবং সেই অনিবার্য্য আসমান ভাগাভাগির একপ্রান্তে
    যার ওপাশে রয়ে গেল কিছু সুখকণা
    যাদের দুঃখভার কম
    এবং এভাবেই জীবন দুঃখে ও আপেক্ষিক সুখে ক্রমাগত
    ভাগ হয়ে চলে (ন+১) সংখ্যক দুঃখিত থেকে দুঃখিততর
    অংশে যেখানে ‘ন’ এর মান ১, ২, ৩ ইত্যাদি হতে পারে।।
  • কান্তবাবু | 215.174.22.20 | ০৮ এপ্রিল ২০১৬ ১৮:৫৫507687
  • ডিডির কবিতার তো আমি বড় ভক্ত, এ কিছু নতুন কথা নয়। সেই যে সেবার কলকাতা থেকে ফিরে এসে লেখা কবিতাগুলি যে কতলোককে শুনিয়েছি, এমনি এমনি রাজী না হলে ল্যামপপোস্টের সঙ্গে বেঁধে শুনিয়েছি।
    তো Date:07 Feb 2016 -- 12:18 AMটা যে একই রকম ভালো লাগবে তাতে আর আশ্চর্য কি। তবে আমি যদি এই কবিতাটা কখনো চুরি করে নিজের নামে চালাই, তাহলে লাস্টের - 'কিন্তু ........................'টা কাটিয়ে দেবো। বলে রাখলাম আরকি।
  • শ্ব | 53.224.129.50 | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ২৩:৩২507688
  • #

    ক্রমশ সব আলাদা করে দেখতে পাই ,

    সবচে বড় কন্টেনারে ,
    পাঁচশো টক দিয়ে দিয়ে তিন পাক ঘুরিয়ে বিয়ার মাগ ভর্তি করে
    গলায় ঢেলে দেবার সময় ইসফেগাসের যেখানে গিয়ে আর স্বাদ রইলো
    না কিন্তু স্পর্শ্ব রয়ে গ্যালো , মায়ের ঠিক ঐখানে সিস্ট ধরা পড়েছে , বায়াপ্সী হয়ে গ্যাছে নিশ্চই , আমাকে বলবেনা ।

    ক্রমশ তিন পাক ঘোরা পাঁচশো টক দই স্টার্নামের নীচে নেবে
    যেতে যেতে আপার ডিওডেনম এর পাশে একটু দাঁড়ায় , অল্প জ্বালা করে,
    মা কতদিন বলত খিদে ফেলে রেখোনা খিদে পরে থাকতে থাকতে পাথর আর
    কাবার্ডে মুখ গুঁজে পরে থাকা জোড়া ফুলদানি ঝেড়ে পুঁছে বের করার সময় আমার হলনা কোনদিন ,অন্য কাকে দোষ দেব ;

    এখন পিপড়েরা আমার বেশ কাছের , অনেকটা নীচু হলে পিপড়ের ও
    ছায়া দেখা যায় , প্রতি টা ছায়ার চূর্ণ ক্রমশই সরে যায় মূল পিপড়ে থেকে, দূর থেকে সেও এক দৃশ্য , তবে ব্যক্তিগত নয় ।।
  • sosen | 177.96.14.251 | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ২৩:৪৭507689
  • ঃ(
  • Tim | 140.126.225.237 | ২০ এপ্রিল ২০১৬ ০০:৪১507690
  • খুব ভালো, একক
  • sosen | 184.64.4.97 | ০৮ মে ২০১৬ ১৯:০৮507691
  • জলটা কেমন করে নীল হচ্ছে, বুঝতে পারি না।
    কিছু কিছু রহস্য সর্বদাই লুকোনো থাকবে
    মাকড়সার ঝুলে ভরা রান্নাঘরে, পুরোনো পিয়ার্সের বাক্সে
    অচিরাৎ রাস্তাঘাটে দেখা হলে
    আমি আর সুচেতার মাকে চিনতে পারবো না,
    শিপ্রামাসি মরে গেছে, অসুখী দিনের ভিড়ে চুপচাপ
    ওর জন্য কাঁদার কেউ ছিল না। কারোর পায়ের নিচে মাটি
    হালকা হয়ে যায়না নিত্যকাকুর দিন শেষ হয়ে আসছে ভেবে
    জৈবিক ফুটপ্রিন্ট কমানোর চক্করে
    ছোটো ছোটো বুদ্বুদের মতো আমরা ভাসছি
    মাটি থেকে ঈষৎ উপরে
    কালের উপর কোনো ছাপ পড়ছে না আমাদের আঙ্গুলের, আমাদের টো-রিং পরা আঙ্গুলের
    আমরা আছি অথচ নেই, ঈশানীদি।
    আমি লিখতে পারি না, কারণ কোনো নাম নিজেদের বদলাতে চায় না
    অংখারে মটমট করে সিগারেট হাতে নিয়ে হেঁটে যায়
    দূর থেকে রাজাবাজারের সন্ধে নাকে টানি,ভালোবাসার শব্দ, নাকি আজানের
    এসব চুপি চুপি গার্লফ্রেন্ড-কোটরে বসে তোকে বলার ছিল
    কিন্তু আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি আর চুপ করে যাচ্ছি রোজদিন
    আরো একটু
    বাঁচা কি বিভ্রম? শেষ নাইন্টি ওয়ানের মতো, খালপাড়ে
    পচা জল আর গমভাঙানোর গন্ধ, পুরোটাই আসলে অলীক
    নষ্টের সময়।চলে যাচ্ছে, স্রোতে স্রোতে ভাগ হয়ে,
    সরু সরু, সিমবায়োসিস,অ্যাস্ট্রাজেনিকা, ফুল-টাইম মম, সিটি কলেজ কিংবা কলকাতা ইউনিভার্সিটি
    বাক্স বাক্স ফ্ল্যাট, শব্দের ছবির মধ্যে সুখ, টিভির মধ্যে সুখ, কাশ্মীর ও নরম শিশুর দেহে মুখ ডুবিয়ে "আমার" বলার চিৎকৃত সুখ
    এই সবই ফুটপ্রিন্ট। যারা ভাসছে তারা জানে
    যাদের পা মাটিতে পড়বে না আর কোনোদিন। টার্কোয়েজ অ্যাঙ্কলেট পরা পা।
    মায়ের সঙ্গে যাদের কোনো ছবি নেই
    শিশুর সাথেও যাদের কোনো ছবি নেই
    ছবিদের ছবি নেই। শুধু হঠাৎ স্বপ্নের মতো সেই সন্ধ্যায় ঝমঝম করে বেজে উঠেছিল অর্গ্যান অচেনা চার্চে
    টেবিলের ধুলোয় চারটে আঙুল রাখা ছিল।
    প্রিন্ট। ধুলো উড়ে গেলে মুছে যাবে
  • শ্ব | 53.224.129.43 | ১৪ মে ২০১৬ ১০:২৩507692
  • গ্লেন
    ----

    জলে মাথা ডুবিয়ে ধরা সকালগুলো ক্রমশ দুরের সবুজ থেকে ক্রোম হলুদ হতে থাকে
    প্রহ্লাদ দের বারান্দায় পার্পল রঙের বুড়োরা বসে ছোট ছোট ডাযোড চিবিয়ে খায়

    আর ,
    পাস দিয়ে হেঁটে গেলে কাছে ডাকে নীল ক্যাপাসিটরেরা ।

    টোরিতে কমলা আছে আমি জানি,
    তীবরের কাছে ; যদিও অনেক দুরে বেজে যায় এইখানে নয় , এখানে সবুজ জল , এখানে
    জলের নীচে মার্কারী ফোঁটা ফোঁটা , উত্তাপে কাছে এসে জমে ;

    আরও নীচে শুয়ে থাকে নীল রং
    কালাশনিকভ , সারা দিন মরে থাকে ওষুধের জল সারা দিন টোটা খায় অসীম কাবারি তার
    তিন হাত বারো নোট্ হাঁটার চলন আর বারবেলা এসে গেলে তখন তো সব চুপ ঘড়িদের কবরের কাছে ।।
  • sosen | 177.96.35.127 | ০৩ জুন ২০১৬ ০১:৩৬507693
  • এসব অন্যের কথা ভ্রাম্যমাণ
    কেবল আগুনটুকু তোর জ্বলে স্থির
    গ্রহের মতন, কালো রাতে।
    চেয়ে আছি, আজো, বৃষ্টির শেষপাতে
    দু-একটা সিগারেট রিং হবে বলে।
    জ্যোৎস্না, বেশরম কাঁথার ভিতরে ঢুকে
    ভিজে ভিজে চুল খুঁজে পেয়ে
    চুপ করে গেছে।
    ছোটো ছোটো গেঁয়ো পথবাঁকে
    গ্যাছে গল্প গড়িয়ে আমার
    স্টিয়ারিং, কাঁচ ও জলের মাঝে কুচো কুচো
    পড়ে আছে পোস্টকার্ড, খাম, ফেসবুক।
    বেনারস নেমে আসছে শরীরের তপ্ত বারান্দায়
    দুই হাতে চেপে রাখি
    খোলসের পিছল শেষ,প্রপাতের ক্লান্ত জলটুকু।
    ছুটি আজ শেষ।
  • অন্য | 125.187.34.161 | ০৩ জুন ২০১৬ ০২:৫৯507694
  • খুব ভালো
  • rivu | 140.203.154.17 | ০৩ জুন ২০১৬ ০৩:৪২507696
  • "প্রহ্লাদ দের বারান্দায় পার্পল রঙের বুড়োরা বসে ছোট ছোট ডাযোড চিবিয়ে খায়" এই শতাব্দীর সেরা পংক্তি :)
  • sosen | 177.96.35.127 | ০৩ জুন ২০১৬ ২৩:৫৬507697
  • কেন লিখতেই হবে? তার চেয়ে এই ঝুল বারান্দায়
    বসে বসে দেখা যাক একাত্তর ছুটে যাচ্ছে করুণাময়ীর দিকে
    সল্টলেকের গায়ে হলুদ আলো পড়েছে
    মেঘ ছিঁড়ে, আর হস্টেলের কুকুরটা কোত্থেকে একটা
    এঁটো পাতা টেনে এনেছে
    খোলা দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে
    রোগা পিঠটা ঘুমুচ্ছে আর একটা ওঠানামা মাথার কাছে বসে আছে
    ওসব লেখা যায় না
    যেমন লেখা যায় না মগ্নতা, কিন্তু কেউ কেউ লেখে অবশ্যই
    ঝাঁপ দিয়েও উঠে আসে পরান্বয়ী নাচের কুশলতায়
    আর আমার অভিমান হয়
    পাতার উপর স্তব্ধ পা ফেলে আমি হেঁটে যাই
    দূরে, উত্তরের দিকে, কুয়াশায় যেখানে
    চিত্রাঙ্গদা বদলে যায়। এই তো সেদিন, বেশিদিন লিখিনি তো তোকে।
  • zuzu | 118.247.127.47 | ০৪ জুন ২০১৬ ০৫:২৯507698
  • নীরবতা

    ছিঁড়ে ফেলো সব চিঠি
    মুছে ফেলো আঁকিবুকি রেখা
    ঝরনায় ভেসে যাক
    বলা ও না বলা সব কথা।

    হাওয়ায় কফির গন্ধ
    জলছায়া নির্জন লেকে
    একান্ত অতীত শুধু
    কে তার খবর ধুর রাখে।

    হাপুস বৃষ্টি ভেজা
    আছে দিন, শেষহীন রাত
    তোমার তুমুল সুখে ,
    নীরবতা, ফোনের ওপাড়।
  • শ্ব | 53.224.129.45 | ১০ জুন ২০১৬ ০৭:২০507699
  • যখ
    ~~

    গোটা পাঁচেক দেয়াল , গোটা তিনেক ছাদ ,
    ভেঙ্গে পড়ছেনা বলে নাম বাড়ি । সামনে আগাছার ঝোপ যাকে তুমি
    বাগান বলে চালাচ্ছো । দুটো নুলো খরগোশ একটা কানা বেজি , আমাদের
    দারোয়ানটার বউ বলে যাকে চেনো ও বাজারের মেয়েমানুষ , দেশে রেখে এসে বলবে মরে গ্যাছে ।

    তিনটে বাদামী কুবো , মাংস বেশিনা , ঢিল ছুঁড়লে সরে যায় ,কালো
    হয়ে আসে বাতাস । ভাবো সন্ধ্যে হলো । কালছে হাওয়া ওড়ে এলোমেলো
    আর গরুর গু মুতের গন্ধ ভেসে আসে রাস্তা থেকে । খেঁকুরে তুলসীগাছে কাটা তেলের
    কুপি আর তার ধোয়া আর তার ধোয়া আর তার ধোয়া , তবু যদি দেখা যেত , যায়না ।

    রাস্তা পেরোলে জল , জলের নীচে পাঁক , মাথা
    গুঁজে থাকা গবেট মাগুর , ঝিন্ঝিট শিঙ্গি , ধুঁধুল শোল । একদিন
    আমাদের বুবুটা মাছ ধরতে গেলো বর্শি ফর্শী নিয়ে সে কত গল্প কত তরিবত ,আর
    কত অন্ধকার পাঁক ,কাদা , জল , জলে ডুবে থাকা খালুশ ,পচা শালুকের নাল , বুবুর ফোলা পেট ।

    আকাশভরা মাটি , এঁটেল চটচটে মেঘ , বিলাইয়ের
    বিষ্ঠার মত সবজে বাতাস ,আমি শ্বাস নেওয়া বন্ধ করেছি বহুদিন । উঠোন বললে সাদা ,
    আর চাদর বললে তোমার মাথা অবধি ঢাকা, চোখে পড়ে।আর মাটির থেকে উঠে আসছে জল
    ঘামে ভিজছে আল্পনার উঠোন , ইঁদুরে খাওয়া শ্রী , শব ডুবে যাচ্ছে সব , তবে খুব ধীরে ধীরে ধীরে ।।
  • nabagata | 24.139.222.66 | ১০ জুন ২০১৬ ১৮:০১507700
  • অগুন্তি রিক্ত দিন ঝরাপাতা অন্ধগলি বেয়ে
    গাছে বউল এলো, মিহিন আদর-মাখা পালক ছেয়ে
    আছে গাঢ় সবুজের পাশে, বিকেলের ক্লান্ত রাজপথ
    ছাদের সারির ফাঁকে এক চিলতে আকাশের দিকে চেয়ে
    খাদের কিনারে হেলা সূর্যের দধীচি-ইচ্ছের আঁচ পেয়ে
    ত্বরিত সম্বিতে ফেরে, ছুটে যায় হাতে হাতে জড়িয়ে শপথ
    হরিত বিদ্যুত জ্বলে, সাহস ছড়ায় অলিগলি, সন্ধানী
    আলো খোঁজে মুখ: উমর, কান্হাই নাকি এস আর গিলানি
    ভালো বেসে এই মাটি, রুখেছে দুর্জয় যারা দানবের রথ
    নিয়ন-বাতিতে জ্বলে মেকি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রীয় পাহারা
    জিয়ন-কাঠির, দ্রোহজ কুসুমের খোঁজে ঘোরে দিশাহারা
    বহু ঊর্ধে, পাতার গহনে, বেপরোয়া লড়াকু হিম্মত
    লোহুতে তোলে ঢেউ, চেতনায় লেখে আজাদীর স্বপ্নিল
    ভাষা, মুক্তমনা বহুস্বরে গড়ে ব্যারিকেড, শকুনি-কুটিল
    পাশা উল্টে দিয়ে, পায়ে পায়ে ঝঞ্ঝা তোলে, এগোয় মিছিল..
  • nabagata | 24.139.222.66 | ১০ জুন ২০১৬ ১৮:০২507701
  • তরল জলরঙে বসন্ত কি আসে?
    ছায়ার উপত্যকা রোদের ক্যানভাসে
    জমাট ঘনশ্যাম অন্ধকার
    অন্ধকার কুঁদে ধারালো সবুজ পাতা
    নাড়ি ছেঁড়া মুকুলের তামাটে রক্তাভা
    চাপ চাপ গাঢ় কৃষ্ণচূড়া
    এসব ই দীর্ঘ আঁচড়ে আঁচড়ে
    শপথের মত সাহসী ড্রাই ব্রাশে
    উজ্জ্বল আকাশে আঁকে
    রোহিত ভেমুলার মুখ
    দ্রোহজ শম্বুক-হাওয়ায় ঘূর্নিঝড়
    পোকা-কাটা মানচিত্র কুটিকুটি করে
    উড়িয়ে দেয় শুখা ফাগুয়া বাতাসে
    অদৃশ্য চরণ এঁকে পোড়া ঘাসে ঘাসে
    এ দেশে বসন্ত আসে
  • nabagata | 24.139.222.66 | ১০ জুন ২০১৬ ১৮:০৪507702
  • আজ ওর লগ্ন এল 
    অনন্তের মুখোমুখি নির্জন দাঁড়াবার 
    আলোর দিগন্তে যে কৃষ্ণ পারাবার 
    শব্দের ওপারে যে মৌন অতল 
    স্মৃতির ভূখন্ড ঘিরে বিস্মৃতির জল 
    ওকে আজ কাছে পেল 
    বালিতে ঠিকরে ওঠা ফেনিল বিস্ময় 
    ভেজা হাতে ছুঁয়ে দিল শিশুর হৃদয় 
    পেছনে আমরা বসে, এই প্রত্যয়ে 
    বাড়ালো দুহাত, যেন ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে 
    অনায়াসে পাড়ি দেবে সময়-উজানে 
    অজানা আঁধার ঠেলে, জীবনের মানে 
    জেনে নিতে নিতে একা; তবে দেরী আছে 
    বালি সরে যাওয়া দেখে আমাদের কাছে 
    এখনো আশ্রয় খোঁজে 
    অচেনার শিহরণে বুকে মুখ গোঁজে 
    ঘরে ফিরে যেতে চায়, তবে আজ ও যে 
    পেয়েছে অসীমকে, অগাধ সঞ্চয় 
    নিয়েছে বুক ভরে, আসবে সময় 
    যাবে ওই পথ ধরে ভিজে বালুময় 
    ঢেকে যাবে পদচিহ্ন, যেরকম হয় 
    সময়-সৈকতে, নিশ্চিন্তির বালিঘর 
    ধুয়ে যাবে  জলে, ঝাউয়ের মর্মর 
    এনে দেবে কানে চেনা তরঙ্গের স্বর 
    যাকে ও জেনেছে আজ বুকের ভেতর 
  • sosen | 50.128.208.34 | ১০ জুন ২০১৬ ১৮:৫৯507703
  • নবাগতর লেখা ভালো লাগল।
  • Tim | 108.228.61.183 | ১০ জুন ২০১৬ ১৯:৪০507704
  • একক ফ্যান্টাস্টিক।

    নবাগতর ২ আর ৩ নম্বর কবিতা ভালো লাগলো।
  • sosen | 184.64.4.97 | ১১ জুন ২০১৬ ০৭:১০507705
  • সন্ধের পর টুকরোটাকরা লাইন কুড়িয়ে
    জড়ো করে
    উনুনের ধারে বসি।
    ডিমের ঝোল, আধখানা ডিমের কুসুম ভেজে শক্ত করে দিলে
    মহাভোজ উপচে পড়ে হ্যারিকেনের পাশে।
    গরম একহাতা বসন্তের মতো
    লুয়ের পরে চোখজ্বালার মতো বিস্মরণ
    হঠাৎ ফিরে আসবে
    জানলার ওপাশ থেকে চুল টেনে দিলে
    শিউরে উঠবো আবার
    আর বুঝতে পারবো ভাঙছে মাটি।

    কিন্তু আমি হাঁটুর মধ্যে মুখ গুঁজে বসে থাকবো
    তুই কোলের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে রাখলেও
    আমার খিদে পায়
    সবুজ শ্যাওলার মধ্যে নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে যাওয়া খিদে।
    বেআক্কেলে মরণের মতো, পুকুরঘাটের মতো
    খিদে আমায় ডাকে, শরীরের ফুটোফাটায় কান পাতলে
    হা হা করে ডাক শুনি
    আগুন দিয়ে, পেঁয়াজ রসুনের গন্ধ দিয়ে, রবার দিয়ে
    ঢেকে রাখতে হয়
    উদ্যত কালো কোটরের খিদে। মা বলে দিয়েছিল
    কারো বাড়ি গেলে খিদের কথা বলতে নেই

    কিন্তু এটা তো আমার বাড়ি, আমার গা, আমার বুক, পেট, ঠোঁট
    এই সবটা জুড়ে খিদে পেলে
    এখন তুমি মুখে নুন দিয়ে
    আমার চিৎকার থামিয়ে দিও না, মা
    এই ফ্যানের হাঁড়িতে ভাগযোগ নেই।
  • শ্ব | 53.224.129.53 | ১১ জুন ২০১৬ ০৭:৪৭507707
  • প্রান্তর
    ------

    ভোর হলো ,
    নিঃশব্দ ঢাকীর আওয়াজ,
    প্রতিটি দরজা খুলে, দেখছো এগিয়ে
    আসা সাদা হাত শিশুমুখ মণিদেশে দৃঢ় অন্ধকার

    ওরা সারারাত হেঁটেছে ,

    সারারাত যজ্ঞের ছাই ,সারারাত ব্রাহ্মন ভোজন
    পূর্ণ থেকে পূর্ণ ঢেলে মিলে যাওয়া চান্দ্রেয়ী হিসেব

    জনকাদি সিদ্ধ তবু পূর্বনির্দিষ্ট
    তাই , দরজা তো খুলতেই হয় ,ওরাও
    অনেক , তার ওপর সারারাত হেঁটে হেঁটে আসা ।।
  • sosen | 184.64.4.97 | ১১ জুন ২০১৬ ১০:৫৬507708
  • ইচ্ছে রটায় চতুর্দিকে, ইচ্ছে তুমি সরিয়ে রাখো
    দূর নদীতে। এখন
    আট প্রহরের ধাঁধা লাগায় চোখে
    রুপোলি মাছ, নাকে নথের সবুজ
    পেটির কাছে ছোট্ট জরুল
    জন্মদাগে অরণ্যানী। এখন তোমার ঠোঁটের মাঝে
    বিষ জমেছে, নেশার মহুল
    কাঁটায় রাধা বিঁধে আছে।
    আটপ্রহরের শেষে
    আকাশে মার্চ গড়িয়ে এলো, মাঝের বেলায়
    মেল ও চিঠি, শনিবারের বারবেলাতে
    অতুলপ্রসাদ
    এদেশ ওদেশ, মাঝখানেতে সমুদ্রজল।
    ধুলোমাখা কম্পিউটার, লম্বা চুলে টানবিনুনি,
    ভাগ্য হাসে দ্বিপ্রহরের কালবেলাতে
    যজ্ঞে কখন লাগলো ধুনি।
  • Nabagata | 11.39.39.242 | ১১ জুন ২০১৬ ১১:৪২507709
  • Amar kobita pore jnara motamot diyechen tnader anek dhannyabad . E patay eto asadharon sob kobita , sosen, shaw, farida aro aneker je alada kore mughdhota janano jai na...ender pashe nijer kobita tulte sottyi besh sonkoch hoy...
  • শ্ব | 53.224.129.54 | ২৭ জুন ২০১৬ ১২:২১507710
  • ইমারতি বাজারের বাড়ি
    ~~~~~~~~~~~~~~~~

    জল খেতে উঠে সোফায় ঘুমিয়ে
    ওকে স্বপ্ন দেখলুম ,ওদের ইমারতি বাজারের বাড়ি
    বড় ছাদ আর অন্ধকার সিঁড়ি পিছলে নেবে আসা আলো
    সবই দেখা হলো , বই রেখেছে যেন
    মুড়ির টিন , বইটা ফেরত দিতেই যাওয়া

    যেটা আবার আমি গেলবার বাড়ি
    বদলের সময় অযুত কার্টনের মাঝে হারিয়ে ফেলি , আর
    রোজই ভাবি খুঁজি দেখবো আর মনে পরে
    সেবার এতো তাড়াহুড়ো করে গেলুম এলুম
    যে দেখা করা- বই নেওয়া - কত গল্প , কথা ছিল - কিছুই হলোনা

    এইসব ভাবছিলুম বারান্দায় দাঁড়িয়ে
    ওদের ইমারতি বাজারের বাড়ি , কার্নিশের
    ধার ধরে গালচে মস আর সেইযে কে এসে : একটু দাঁড়ান ,
    বলে চলে গ্যালো , আমি অবশ্য মুড়ির টিন গোছানোয়
    মন দিয়েছি , বইটা জায়গামতো রেখে দি , নেবার কালে হাত থেকে

    নিয়েছিলুম কি ? মনে পড়েনা , ও ক্রমশ ঘর থেকে এসে
    আলোয় দাঁড়ায় আর বলে : যাক তাহলে ফেরত
    দিতে এসে দেখা হলো, বল ? কত বছরের প্ল্যানিং ! আমরা
    হেসে ফেলি , ওর মুখটি ভারী উজ্জ্বল , চিবুকের তলায়
    ভাঁজ , আমি মনে করিয়ে দিতে যাই যে এটা স্বপ্ন, বইটা

    সেবার নেওয়াই হয়নি , ও দেখি সব জানে , টেনে ছাদে
    নিয়ে যায় , আমরা মসের গালচে পেতে বসি আর
    ইমারতি বাজারের কাকেরা ডায়মন্ড শেপে চক্কর দিতে থাকে
    মাথার ওপর , কথা তো ইমেলেই হয় কত বছর , বরং
    একটু বসে থাকি আয় , ও বলে , কখনো ছবি দেখাস নি ক্যানো ? আমি বলি

    তাহলে তো দেখাই হতোনা , তাই না ? কথা যা কিছু
    বাদ রাখিনি তো কখনো , আর কলকাতায় ইমারতি বাজার
    ম্যাপ খুঁজে এলে কোথায় পেতিস ? তা অবশ্য ঠিক , আমরা
    বাতাসে হেলিয়ে বসি মসের গালচেতে ; কিছুক্ষণ বাদেই আমার
    এলার্ম বাজবে সকালে ওঠার , ওকেও জেগে উঠতে হবে সমুদ্রের ওপারে , ব্যাকইয়ার্ডে

    পার্টি , মেয়ের সুইট সিক্সটিন , মানুষের শব্দের রিয়ালিটির ভীড়ে
    আবার কবে ঘুমের মধ্যে জেগে উঠবে টানেল , জানা নেই , বই ফেরতের
    অছিলাও তো রইলো না আর , বসে থাকি চুপচাপ ; এই যে গন্ধটা পাচ্ছি
    এটা কোলন নয় ওর ঘামের গন্ধ , এই আকাশটা ইমারতি বাজারের , এই নিভন্ত
    সূর্য আর মাথার ওপর স্লো মোশনে নির্বাক শত শত কাক , সাড়ে এগারো মিনিট বাকী এলার্ম বাজতে ।।
  • sinfaut | 11.39.98.209 | ২৮ জুন ২০১৬ ১৩:৩৯507711
  • ছবি হয়েছে ছবি। শুধু ঐ " মানুষের শব্দের রিয়ালিটির ভীড়ে" আর " স্লো মোশনে নির্বাক শত শত কাক " শ্ব মাপ অনুযায়ী আধিক্য বোধ হলো।
  • sinfaut | 11.39.98.209 | ২৮ জুন ২০১৬ ১৩:৪০507712
  • * শ্ব এর মাপ
  • dd | 116.51.225.209 | ০১ জুলাই ২০১৬ ২৩:১৪507713
  • কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। পুরোপুরি নিঃশব্দ। স্তব্ধতা।
    কোন একটা কল থেকে চুপচাপ - ড্রিপ। ড্রিপ। ড্রিপ।
    সেও বহুক্ষণ পরে পরে। আর সুদূর থেকে কোনো স্বপ্নের কুকুর
    ক্ষীণ ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। কখনো সখনো।

    ব্যাস।

    আর থাকে সন্ত্রাসের শব্দ। নাড়ি ভুঁড়ি ছেদ করে হি হি করে ওঠে ভয়।

    এই নিয়েই রয়েছি কালিদা।
  • শ্ব | 53.224.129.48 | ০৮ জুলাই ২০১৬ ০৭:৪৭507714
  • রন্ধনপ্রণালী # ৯
    ~~~~~~~~~~~

    কব্জি থেকে হাত কেটে নেওয়ার স্বপ্ন আমি দেখেছি
    বহুবার মাংস কাটার কালে জ্বালা , তন্তু যন্ত্রনা ও হাড়ের উপর
    ঠুকে ঠুকে চপার চালাবার সময় পিঠের মাঝখানে গিয়ে ধাক্কা লাগে
    তবু আমার হাত কখনো মুঠি হয়না রোগা সরু আঙ্গুল আর লম্বা নখ
    দেখে ঘুমন্ত অবস্থায় যে নেল পালিশ পরিয়ে দিতো তাকেও একদা অপটিক্যালের
    তার কেটে ছেড়ে দি শূন্যে আর অনন্ত পানার ধারে ঘুরে ঘুরে কাক কাক কালো পাখি
    বায়সের দল কোনো কৌলিন্য বিহীন তবু তাকে কাছে ডেকে দধিকর্মা দিতে হয়
    এইরূপ নির্দেশ থাকে পৌরোহিত্যে যদিও প্রাচীন তবু কাকু বলে ডাকার
    সুবাদে ওনার ছবিল মেয়ে নাক দিয়ে পোঁটা পোছে রুমালের আমাকে
    দেখেই যদিও মালসা গন্ধে পাক হয় সুগন্ধী আতপ আর তার
    থেকে নবজাতকের দেহ ধেয়ে আসে ঘাম নাকি উগলানো
    দই তাকেও ভস্মে দিই ডুমো ডুমো কারী কাট করে
  • শ্ব | 53.224.129.48 | ০৮ জুলাই ২০১৬ ০৮:০০507715
  • একটা বিশাল বড় একরিয়ামের দিকে তাকিয়ে আমার দিন কাটে
    আমার ঘরের চেও বড়
    আমার ছাদের চেও উঁচু
    আর এই মুহুর্তে ফিল্টারের পেছনে
    দাঁত কিটকিট করছে যে হাঙ্গর ওকে তিনদিন হলো খেতে দিইনি ।

    পাতলা কাঁচ সীমিত জল মাপা ঢেউ আর শিলান্যাস করা দুটো
    অবুঝ লাইটহাউস
    একটা অন্ধ ভিখিরি
    আর তার এক দল ডুবন্ত ভক্ত
    আমাকে করুণার কথা বলে যদিও আমি হাঙ্গরের পেট থেকে এযাত্রায়

    বেরুবোনা আর -

    খিদে পায় থেকে থেকে খিদে ।।
  • শ্ব | 53.224.129.48 | ০৮ জুলাই ২০১৬ ০৮:৩২507716
  • ।।

    প্রাচীন লিপিতে কোনো যতিচিহ্ন ছিল না যেমন পড়ত লোকে
    পড়তো তেমনই কিন্তু কী হয় পড়তে পড়তে কারো গরু ডাকে
    ঘোড়া থামে ঘাস খেতে মানুষ মুখিয়ে দেখে বেড়ার ওপারে মুখ
    ফিরে এসে ভুলে যায় শুরু শেষ তাই দাঁড়ি এলো যদিও কারোর
    ঘোড়া জিন দেওয়া কারো গরু সন্ধে হলো পাটে কারো বেড়া
    টপকিয়ে পরস্ব ছাগল মুড়িয়ে খেয়েছে কোনো সদ্যের কুঁড়ি আর
    যতির ভিন্নতা বিনা সরাইখানার কোনো যাথার্থ্য থাকেনা প্রবল
    ব্যসনে তাই কমা ড্যাশ কোলনের বিবিধ মিটার মেনে এযাবত
    সভ্যতা শ্রোতার সমস্ত পথ আলো দিয়ে বেড়া দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছে
    সময় পুলিশ আর কোত্থাও কোনখানে এতটুকু নেই বোঝা নেই
    এহেন খন্ডহরে আমি আর কতটুকু পারি নেহাতই হিংসার বশে
    আবোদা পূর্ণের দাগ ঘষে তুলে খান দুই পাইপিং গেঁথে দেওয়া ছাড়া
  • kumu | 132.161.190.195 | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১১:০৫507718
  • অন্যতর বৃত্তে যাব তবে?
    দেওয়াল ও পর্দাঘেরা কৃষ্ণঘর ছেড়ে ওড়া?ঠিক?

    প্রথম দিগন্তছোঁয়া বিহান, শেফালীগন্ধ
    জ্বরতপ্ত চুলে দেবে বিলিবিলি কেটে?

    কাঁসার পায়েসবাটি,মুঠোতে রঙ্গনফুল,ঘুলঘুলি খড়কুটো
    দেবে নিরুচ্চারে আশ্বাস?

    আলোকিত চরাচরে পূর্বমেঘনগরীতে
    ক্ষোভক্লান্তি ধুয়ে যাবে? তাই?

    যাত্রা করা যাক তবে,
    চলো।
  • dd | 116.51.28.126 | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১১:৩৩507719
  • খনি ! খনি !
  • ranjan roy | 132.162.112.91 | ১৩ জুলাই ২০১৬ ১৮:৪১507720
  • গল্প বলার গল্প
    -----------------
    একটা গল্প বলতে গিয়ে আমি
    সোজা উল্টো ঘর বুনে ফেলি,
    একটা গল্প বলতে বলতে শেষে
    সোজা- কাঁটা উল্টো-কাঁটা খেলি।
    এসে পড়ে গল্পের বেড়াল,
    থাবা মারে উলের গোলায়।
    গোলাটি গড়িয়ে যায় দূর
    আমার তখন কান্না পায়।

    গল্পের কাঠামো গেল ভেঙে,
    পড়ে গেছে বেশ ক'টি ঘর।
    মুচড়ে ধরি তার শীর্ণ গলা,
    আমি আজ একান্ত বর্বর।

    তবুও গড়িয়ে চলে গোলা
    যেন এক ইচ্ছেমতী নদী,
    পার হব? কোন দুঃসাহসে?
    নদীকে বাঁধতে পারি যদি!

    সে নদীর পাড়ে আছে বুঝি
    এক ভীষ্ম পিতামহ গাছ।
    কোটরে বেঁধেছে পাখি বাসা
    মাছরাঙা তুলে নিল মাছ।

    'তুলে নিল"? শব্দটি ভাবায়,
    কে কাকে তুলেছে কোন কালে?
    তোমাকে দিয়েছি যেই ফুল,
    আমিই পড়েছি বাঁধা জালে।
    এই বলে ব্যঙ্গমা বুড়োটা
    হাই তোলে বুজে ফেলে চোখ,
    ঘুম নেই ব্যঙ্গমীর চোখে
    --- ও যে চেনে সবার নির্মোক।

    কিন্তু যারা আসে মাঝরাতে,
    লাথিয়ে দরজা ভেঙে ঢোকে,
    তারা নাকি তুলে নিয়ে যায়?
    --মুখ বন্ধ সঙীনে বন্দুকে।
    ========
  • kumu | 132.161.235.204 | ১৮ জুলাই ২০১৬ ০৬:৩৭507721
  • তুলে দিই।লিখুন ।
  • Atoz | 161.141.85.8 | ১৯ জুলাই ২০১৬ ০২:১০507722
  • কই, কুমুদি? লিখবে না?
  • nabagata | 69.97.159.94 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫০507723
  • শাল দ্য গ্যল ২০১৫
    এখানে কি আজো ঝরা ফুল?
    সীতার গহনার মতো ইতস্তত আহত
    অভিমান পথ জুড়ে, অশ্রুর মুক্তোদানা ?
    অথচ, সেদিন তো জানত না
    নীড়ের ঠিকানা ডানার তলায় গুঁজে
    দিয়েছিলো যে উড়াল আকাশে অজানা
    ঈশান কোণে অশনির আভাস খুঁজে
    না পেলেও তো ভেঙেছে খড়কুটো-বাসা
    নিমেষে কালিক মাত্রায় উষ্ণগহ্বরে
    তলিয়ে যাওয়া, ভেসে ওঠা জন্মান্তরে;
    . .......
    মনে হয়, এতো অবহেলা ছিল জমে ?
    পাথরে পাথরে ঘষা খেয়ে যদি জ্বলতো
    আগুন, চেরা-জিভ অন্ধকার মাটি ফুঁড়ে
    উঠতো বাসুকির মতো দুলিয়ে মেদিনী
    তবু মনে হোত, সার্থকতা ছিল কিছু
    স্বল্পায়ু স্বপ্ন-যাপনে, এতো অনায়াসে
    নিবিড় বলয় ছিঁড়ে, বধির আকাশে ?
    অন্য কক্ষপথে, অনিকেত পরাবৃত্তে?
    .... .......
    যুগান্ত পেরিয়ে স্মৃতির জানলা জুড়ে
    তবুও মায়াবী রোদ, বেদনার পলিতে
    অশ্রুর শিশির-স্নেহে ফুটেছে ঘাসফুল
    অলৌকিক বৃষ্টি এসে মাটির বলিরেখা
    মুছে দিচ্ছে, যাবতীয় ফাটল ভরে উঠেছে
    বিন্দু বিন্দু অমৃতরসে, অপসারী পথেরা
    অসীম স্পর্শকতলে বক্রতা বদলে
    ছুঁয়ে যাচ্ছে পরস্পরকে; সময়ও পিছু ফেরে
    অদৃশ্য চরণরেখা ধরে কুড়িয়ে নেয়
    পুঁতির মতো যাপিত মুহূর্ত, মেঘের
    স্তব্ধতা ভেঙে সুর জাগে মন্ত্রের স্বরে :

    আজন্ম-লালিত সাধ ধরণীর প্রাণে
    সোঁদা মাটি ঘাস থেকে উঠে আসা ঘ্রাণে
    গোধূলি-আকাশ জুড়ে নীড়গামী গানে
    সব, সব ভালোবাসা যেটুকু যেখানে
    কুঁড়ি হয়ে জেগেছিলো, কিংবা পূর্ণদল
    স্থিরচিত্রে ধরা থাক সেই মধুপল
    পিছুটান নয়, শুধু হাতে হাত ধরে
    জ্যোtস্না-সুখের রাতে, বিষাদ প্রহরে
    মাঝে মাঝে দু একটি স্মরণীয় ক্ষণে
    এসেছিলো আলো, তাকে বিচ্ছেদে বিজনে
    হারাতে দিও না, রেখো বাহিরে অন্তরে
    নিকটে ও দূরে, প্রেম জাগুক শিয়রে।
  • nabagata | 69.97.159.94 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫১507724
  • স্বেচ্ছা নির্বাসন পর্দা ছিঁড়ে, কতকাল পরে
    চোখ তুলে তাকালাম তোমার দিকে, অমনি
    যেন তীব্র ঈর্ষায় পাতাল ফুঁড়ে শতশির
    দানবের হাঁ মুখ নীল আগুন ছিটিয়ে
    গিলতে এলো তোমায়, অসহায় দর্শকের
    মতো দেখছি পেরিয়ে যাচ্ছ একেকটা সেতু
    আর তারা সশব্দে ভেঙে পড়ছে , অট্টহাসি
    তুমুল তান্ডবে ঝাঁকাচ্ছে মাটি, জিভের আগুনে
    চেটে নিচ্ছে তোমার টাটকা পায়ের দাগ.

    শুধু ভালোবাসা দিয়ে যদি খোলা যেত
    দেশকাল ফুঁড়ে যাওয়া অলৌকিক পথ
    অভেদ্য কবচ হয়ে ঘিরতে পারতাম
    দুরূহ দুর্যোগে বাতি হয়ে....কতদিন
    দেখহ নেই, কথা নেই, একসাথে চলা
    সেই কবে থেমে গেছে, মায়াবী তরঙ্গে
    বিনিময় শুধু, সম্বোধন-হীন, তবু
    দুটি প্রাণ কোনো এক দিন সর্ব অঙ্গে
    মিলেছিল, একসুরে বেজেছিল বলে,
    ওপারে কাঁপলে মাটি নিহিত মৃদঙ্গে
    ঘা পড়ে এপারেও, অন্তর্জাল পাতায়
    অলীক অক্ষর যেন শরীরী সত্ত্বায়
    জেগে ওঠে ঘনঘোর দুর্যোগের রাতে
    শিয়রে আসন পাতে, হাত রাখে হাতে।
  • nabagata | 69.97.159.94 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫২507725
  • Sob khobor bhalo to ? Helping hand ki desh theke firechhen ? Bhutu ar tomar sordid kashi asha kori ektu komechhe. Eid e tomader bodhhoy koyek din chhuti thake, hoyto rajshahi giyechhile....bhutur school ki eki thakle na change korle shesh porjonto janio.

    Amader khobor emnite bhalo. Gopa ekhono ektu weak jodio college o onnyannyo sobi korchhe.

    hothat ekta jaygay buddhadeb basu r bikhhoto kobita potrikar smpurno songrohe pelam, link ta niche. ..

    http://crossasia-repository.ub.uni-heidelberg.de/view/schriftenreihen/sr-248.html

    E chhara amar goto ek der mase lekhha tinte notun kobita pathachi. ar songe pdf attachment e aro koyekta kobita, jegulo r ekta hoyto age pathiyechilam sobgulo noy. Ei attached kobita gulo bibhinno somoye gopa
    r uddeshe lekha, or jonmodin chhilo to koyek din age, card e ei guys
    O collage kore oke dilam . ...

    bhalobasa nio. Bhutuke ador.

    kobita 1

    শাল দ্য গ্যল ২০১৫
    এখানে কি আজো ঝরা ফুল?
    সীতার গহনার মতো ইতস্তত আহত
    অভিমান পথ জুড়ে, অশ্রুর মুক্তোদানা ?
    অথচ, সেদিন তো জানত না
    নীড়ের ঠিকানা ডানার তলায় গুঁজে
    দিয়েছিলো যে উড়াল আকাশে অজানা
    ঈশান কোণে অশনির আভাস খুঁজে
    না পেলেও তো ভেঙেছে খড়কুটো-বাসা
    নিমেষে কালিক মাত্রায় উষ্ণগহ্বরে
    তলিয়ে যাওয়া, ভেসে ওঠা জন্মান্তরে;

    . .......

    মনে হয়, এতো অবহেলা ছিল জমে ?
    পাথরে পাথরে ঘষা খেয়ে যদি জ্বলতো
    আগুন, চেরা-জিভ অন্ধকার মাটি ফুঁড়ে
    উঠতো বাসুকির মতো দুলিয়ে মেদিনী
    তবু মনে হোত, সার্থকতা ছিল কিছু
    স্বল্পায়ু স্বপ্ন-যাপনে, এতো অনায়াসে
    নিবিড় বলয় ছিঁড়ে, বধির আকাশে ?
    অন্য কক্ষপথে, অনিকেত পরাবৃত্তে?

    ..... .......

    যুগান্ত পেরিয়ে স্মৃতির জানলা জুড়ে
    তবুও মায়াবী রোদ, বেদনার পলিতে
    অশ্রুর শিশির-স্নেহে ফুটেছে ঘাসফুল
    অলৌকিক বৃষ্টি এসে মাটির বলিরেখা
    মুছে দিচ্ছে, যাবতীয় ফাটল ভোরে উঠেছে
    বিন্দু বিন্দু অমৃতরসে, অপসারী পথেরা
    অসীম স্পর্শকতলে বক্রতা বদলে
    ছুঁয়ে যাচ্ছে পরস্পরকে; সময়ও পিছু ফেরে
    অদৃশ্য চরণরেখা ধরে কুড়িয়ে নেয়
    পুঁতির মতো যাপিত মুহূর্ত, মেঘের
    স্তব্ধতা ভেঙে সুর জাগে মন্ত্রের স্বরে :

    আজন্ম-লালিত সাধ ধরণীর প্রাণে
    সোঁদা মাটি ঘাস থেকে উঠে আসা ঘ্রাণে
    গোধূলি-আকাশ জুড়ে নীড়গামী গানে
    সব, সব ভালোবাসা যেটুকু যেখানে
    কুঁড়ি হয়ে জেগেছিলো, কিংবা পূর্ণদল
    স্থিরচিত্রে ধরা থাক সেই মধুপল
    পিছুটান নয়, শুধু হাতে হাত ধরে
    জ্যোৎস্না-সুখের রাতে, বিষাদ প্রহরে
    মাঝে মাঝে দু একটি স্মরণীয় ক্ষণে
    এসেছিলো এল, তাকে বিচ্ছেদে বিজনে
    হারাতে দিও না, রেখো বাহিরে অন্তরে
    নিকটে ও দূরে, প্রেম জাগুক শিয়রে।

    kobita 2

    স্বেচ্ছা নির্বাসন পর্দা ছিঁড়ে, কতকাল পরে
    চোখ তুলে তাকালাম তোমার দিকে, অমনি
    যেন তীব্র ঈর্ষায় পাতাল ফুঁড়ে শতশির
    দানবের হাঁ মুখ নীল আগুন ছিটিয়ে
    গিলতে এলো তোমায়, অসহায় দর্শকের
    মতো দেখছি পেরিয়ে যাচ্ছ একেকটা সেতু
    আর তারা সশব্দে ভেঙে পড়ছে , অট্টহাসি
    তুমুল তান্ডবে ঝাঁকাচ্ছে মাটি, জিভের আগুনে
    চেটে নিচ্ছে তোমার টাটকা পায়ের দাগ.

    শুধু ভালোবাসা দিয়ে যদি খোলা যেত
    দেশকাল ফুঁড়ে যাওয়া অলৌকিক পথ
    অভেদ্য কবচ হয়ে ঘিরতে পারতাম
    দুরূহ দুর্যোগে বাতি হয়ে....কতদিন
    দেখহ নেই, কথা নেই, একসাথে চলা
    সেই কবে থেমে গেছে, মায়াবী তরঙ্গে
    বিনিময় শুধু, সম্বোধন-হীন, তবু
    দুটি প্রাণ কোনো এক দিন সর্ব অঙ্গে
    মিলেছিল, একসুরে বেজেছিল বলে,
    ওপারে কাঁপলে মাটি নিহিত মৃদঙ্গে
    ঘা পড়ে এপারেও, অন্তর্জাল পাতায়
    অলীক অক্ষর যেন শরীরী সত্ত্বায়
    জেগে ওঠে ঘনঘোর দুর্যোগের রাতে
    শিয়রে আসন পাতে, হাত রাখে হাতে।

    কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট

    ওপারে কাঁপলেই এধারেও দোলে মাটি, আজো.

    বহুদিন আগে তারা ভিন্ন কক্ষে ছিটকে পড়েছিল
    হৃদয়ের সূক্ষ্ম সংবেদী কণার জগt চাক্ষুষ বাস্তব
    থেকে তো আলাদা, তাই নিগূঢ় কোয়ান্টাম নিয়মে
    একবার ছুঁলে বাঁধা পড়ে যায় চির অমোঘ বন্ধনে
    একই কম্পাঙ্কে জাগে অনুনাদ, নিবিড় স্বননে
    এ পারে মাটি দুলে উঠলেই নিমেষে ওপারে
    বার্তা বয়ে যায়, আলোক-দ্রুতিতে দূর-সঞ্চরণে।
  • nabagata | 69.97.159.94 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫৭507726
  • ভুল করে কবিতা পেস্ট করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ইমেইল এর কিছু অংশ পস্টেড হয়ে গেলো, ইগনোর করবেন প্লিজ। যদি পোস্ট আছে দেয়ার কোনো উপায় থাকে জানাবেন বা করে দিতে paren
  • nabagata | 69.97.159.94 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:০১507727
  • পোস্ট মুছে দেয়ার মিন করেছি
  • dd | 59.207.58.33 | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ২৩:৪০507729
  • একটু খানি ছিরিক আলো,আর সবই তো কালো
    এরই মধ্যে কোন সুজনে হাত খানি বাড়ালে
    কেউ দাঁড়ালো পুকুর পাড়ে, সেই যেখানে পাঁচিল
    তার ঘষটানো ইঁট, নষ্ট লেখা, শ্যাওলা ভেজা পাথর
    বড্ডো গুমোট,হাঁপ ধরে যায়,ভ্যাপসা একটা ব্যাথা
    দেওয়াল জুড়ে দেওয়াল আর সামনে শুধু আড়াল
    কেউ তো তবু পিদিম ধরে, একটু ছিড়িক আলো
  • ranjan roy | 132.176.185.252 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:০৯507730
  • আরে কী আশ্চর্য! ডিডি যে! বহুবছর অজ্ঞাতবাসের পর।
    ভিন্টাজ ডিডি!
    তবে সুক্কুরবারের বদলে শনিবারের সন্ধ্যে!
    তাই কি কবিতার মেজাজে একটু বদলের হাওয়া?
  • b | 135.20.82.164 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৬:০৯507731
  • কারিকুলাম ভিটা
    -------------------

    ঢেউ গুণে সময় কাটায়
    এইখানে বসে একজন
    বাসনা দিয়েছে ছুটি তাই
    মনে বাজে অকালবোধন।

    শব্দের অগোছালো রাশি
    ঢেকে দেয় সুদৃশ্য বাগান
    সন্তানের মুখে ফুটে ওঠে
    পঞ্চমীর চাঁদের আঘ্রাণ।

    ছায়াপথে ফুটে ওঠা নীল
    না পাওয়া সে মায়াবী হরিণ
    কৃষিকাজে আনাড়ি যদিও
    ভালোবাসে মানবজমিন

    পড়শীর সাথে দেখা হবে
    এই ভেবে কাটে বনবাস
    বার বার ভেঙে যায়, তবু
    আরশি নগরে সিসিফাস।
  • ranjan roy | 132.162.177.26 | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৬:৫৪507732
  • ক্যাবাৎ! ক্যাবাৎ!
  • শ্ব | 53.224.129.51 | ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ০৯:৫৬507733
  • যখ # ৩
    --------

    শক্ত ইঁটের মধ্যে
    পাথর , পাথরের মধ্যে গলতে থাকা
    ম্যাগমা , তার ভেতরে দুটো কান ঝোলা খরগোশ
    ভুলগাছের পাতা খেয়ে চোখ ছিরকুটে মরে গ্যালো ।

    হাঁ মুখ থামার আগে
    একটা ঝাঁকুনি , একটা কিচ কিচ আওয়াজ ,
    উবু দাঁতের প্লাস্টিক থেকে -

    ডক্টর সামন্ত পকেটে হাত রেখে বেড়িয়ে আসছেন
    দেখে আমি ভিডিও গেম খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি ,

    কেননা ,যতই মেঘ করুক
    প্রতিটা নোডের বিহেভিয়ার আর প্রপার্টি
    সাজানো হয়ে গেছে , এখন আমার -

    পকেট ভর্তি চিট কোড, বারান্দা ভর্তি হাভাতে ,
    কলাবতী মাটির তলায় ওদের চাপা দেব , সব
    সেট , শুধু কারেন্ট চলে গেলে ক্লান্তিকর :
    ঘড়িও থাকেনা ।।

    [ ১২ কার্তিক ১৪২৩ - কৃষ্ণ চতুর্দশী - চিত্রা নক্ষত্র ]
  • শ্ব | 53.224.129.44 | ০৫ নভেম্বর ২০১৬ ০৭:৫৪507734
  • বারিষুযা
    ~~~~~

    রগে বন্দুক রেখে লিখতে বললে
    অনাগত বারুদের গন্ধ আমাকে
    প্রেমিক করে তোলে ,

    মৃদু ধোয়া , ব্যারেলের উত্তাপ মুছে
    নেওয়া জিন্সের ক্রোচে , এসব দেখবোনা আর ?
    ফিরে তাকাবোনা

    ছেড়ে যেতে যেতে -

    আনত সমাধিস্থলে ,
    সাদা পাথরের গায়ে হেমাটোন ছিটে ?

    নতুন কিছুই নেই , ঘন্টাঘরে
    দারোয়ান দেশে , শুধু এই তীব্র সালফার ভেবে
    প্রতিবার , হে বারিষুযা

    আমার হাতেই স্টক উঠে আসে , দেখবার
    শুধু দেখবার লোভে
    জামা পাল্টাই ফের , তুমি থাকো ,

    আমি ফিরি আসন্ন লোকালয়ে মাঝে ।।
  • ফরিদা | 192.68.167.32 | ০৫ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৪৬507735
  • ফুল নয়, পাতার উৎসব আজ, অসময়ে অসম্ভব কুয়াশায় ছুটি পড়ে গেল
    ঝিল থেকে বাষ্পরা ঘুম ভেঙে উঠে থম মেরে আছে
    ঘন নীল ট্রাম থেকে মানবশাবক নেমে গেল অচেনা স্টপেজে
    ওদিকে রান্নাঘরে মাখন মরিচ মেশে গোলাপি সসেজে।

    তুমি এসো। কয়েকটা পুরনো জামা যদি পারো তুলে এনো
    রথের মেলার কিছু হাবিজাবি, যা তুমি সহজে কেনো ফুটপাথ থেকে-

    ফুল নয় পাতার উৎসব আজ, হঠাৎ ছুটির দিন অকাল কুয়াশা দেখে।
  • ranjan roy | 192.64.117.122 | ০৫ নভেম্বর ২০১৬ ১১:৪১507736
  • --"রগে বন্দুক রেখে লিখতে বললে
    অনাগত বারুদের গন্ধ আমাকে
    প্রেমিক করে তোলে ,

    মৃদু ধোয়া , ব্যারেলের উত্তাপ মুছে
    নেওয়া জিন্সের ক্রোচে , এসব দেখবোনা আর ?
    ফিরে তাকাবোনা

    ছেড়ে যেতে যেতে -

    আনত সমাধিস্থলে ,
    সাদা পাথরের গায়ে হেমাটোন ছিটে ?"
    --শুধু এই প্যারাটুকু লিখতে পারার জন্যে দু'দিন উপবাসে থাকা যায়। আমেন!
  • Ranjan Roy | 132.162.252.39 | ০৭ নভেম্বর ২০১৬ ১২:৪৮507737
  • [শ্রীকান্ত বর্মার "মগধ" কাব্যগ্রন্থ থেকে কিছু নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ। এই কবিতাগুলোকে "জরুরী অবস্থা"কে সমর্থন করার প্রায়শ্চিত্ত/যন্ত্রণা বলে অনেকে বলেন।]

    (১)

    কাশীতে শবদেহ
    ===============
    দেখেছ কাশী,
    যেখানে মৃতদেহ আসে আর যায়
    একই রাস্তায়?

    মড়া নিয়ে কিসের মাথাব্যথা ?
    মড়া আসবে , মড়া যাবে।

    জিজ্ঞেস কর তো --
    ওই দেহটি কার ?
    রোহিতাশ্বের কি ?
    না, না; যত মড়া সব কি করে রোহিতাশ্ব হবে!

    হলে তো দূর থেকে চেনা যাবে,
    দূর থেকে না হলে কাছ থেকে,
    আর কাছ থেকেও যদি চেনা না যায়
    তবে ও রোহিতাশ্বই নয়।
    আর রোহিতাশ্ব হলেই বা কি,
    - কী আসে যায়!

    বন্ধু,
    তোমরা দেখেছ কাশী;
    যেখানে একই পথ দিয়ে মৃতদেহ আসে আর যায়।
    তোমারা সরে গিয়ে রাস্তা দিয়েছ ,
    রাস্তা দিয়েছ আর প্রশ্ন করেছ,
    -- কে যাচ্ছে ?
    সে যেই যাক,
    বা না যাক,
    তোমাদের তাতে কি এসে গেছে ?
  • Ranjan Roy | 132.162.252.39 | ০৭ নভেম্বর ২০১৬ ১৩:৩৪507738
  • (২)
    কোশাম্বী
    ---------------
    বাসবদত্তা শুধোয়--
    কী ছিল কোশাম্বীর আগে?

    শোন বাসবদত্তা।
    কোশাম্বীর আগে ছিল কোশাম্বী;
    কোশাম্বীর পরেও কোশাম্বী,
    কোশাম্বীর বদলে শুধু কোশাম্বীই পাওয়া যায়।

    এইভাবে কোশাম্বীর ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে
    বাসবদত্তা একদিন পৌঁছে গেল
    কোশাম্বীতে।

    (৩)
    হস্তিনাপুর
    ========
    ওই লোকটার কথা একটু ভাব তো,
    যে হস্তিনাপুরে এসে বলতে থাকে
    -- না , না; এ হস্তিনাপুর নয়। এ হস্তিনাপুর হতেই পারে না।

    ভাব একটু সেই লোকটার কথা,
    যে আজ বড় একলা।
    কখনও হয়ত মহাভারতের যুদ্ধে লড়েছিল,
    আজ তাতে কার কি আসে যায়?

    যদি সম্ভব হয় তো একটু ভাব
    হস্তিনাপুরের কথা।
    যার জন্যে কিছু দিন পরে পরেই ভীষণ সব যুদ্ধ হয়ে গেছে।
    কিন্তু তা নিয়ে আজ কারও কোন মাথাব্যথা নেই,
    --শুধু সেই লোকটা;
    যে হস্তিনাপুরের এসেও বারবার বলতে থাকে
    -- না না; এ হস্তিনাপুর নয়।
    -----

    (৪)
    হস্তিনাপুরে কেউ কথা শোনে না
    -------------------------------------
    আমি আবার বলছি-
    ধর্ম না রইলে কিছুই থাকবে না!
    কে শোনে আমার কথা!
    হস্তিনাপুরে কথা শোনার অভ্যেস নেই যে!

    যে শুনছে
    সে হয় বদ্ধ কালা,
    নয় তাকে না শোনার জন্যেই চাকরি দেওয়া হয়েছে।

    আমি আবার বলছি-
    ধর্ম না রইলে কিছুই থাকবে না!
    কে শোনে আমার কথা!

    ওহে হসিনাপুরের বাসিন্দে!
    শোন বা না শোন, আমি বলছি সাবধান হও!
    তোমদের এক শত্রু এখানে গোকুলে বাড়ছে।
    তার নাম-- বিচার!
    আর মনে রেখ,
    আজকাল মহামারীর মত --ছড়াচ্ছে,ছড়িয়ে পড়ছে এই বিচার!
  • ফরিদা | 52.111.79.192 | ০৭ নভেম্বর ২০১৬ ১৫:৩১507740
  • প্রাথমিক সাদা কালো দিন (২য় পর্ব)

    অথবা বোধনমাত্র, তাই সাদা অন্ধকার, হাওয়া নাই, বৃক্ষ নিস্প্রদীপ

    কাগজের পাখিরা রাত জেগে চেঁচিয়েছে কাল অনেকক্ষন ধরে।

    এমন বুভুক্ষা বহুদিন প্রত্যক্ষ করে নি কেউ -

    এমন আকাশ কেউ দেখে নি কো যাতে শুধু মূর্তিমান স্থানু ধুলোদের ঢেউ

    সূর্য আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    এখন মাছ নয়, তৃষ্ণাকে মহার্ঘ করতে ঘোলা হয় পুকুরের জল

    পৃথিবীর যাবতীয় ছেঁদো কথা, ছল যার সবিশেষ উচ্চারণে বারংবার

    উচ্চকিত চির অমরত্ব আকাঙ্খায় মানুষকে মানুষের শত্রু করে তোলে

    এমন স্পর্ধা দেখে প্রাকৃতিক কাল চিল বেগ চেপে ল্যাজ তুলে পালিয়েছে

    এতটুকু ছোঁয়াচ যদি এড়ানই যায় – এমনকি সামান্য বিষ্ঠায়।

    অথবা বোধনমাত্র, টিম টিম করে চলিতেছে বোধ হীন মানুষের অন্তিম শেষ ক-টি সীন -

    মনে থাকে পৃথিবীর, মুক্তির অপেক্ষায় ফের দ্বিতীয় পর্বের প্রাথমিক সাদা-কালো দিন।
  • করোনা ভাইরাস

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত