• ভাটিয়ালি
  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা।

  • comment | 172.69.135.105 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১৮
  • না একলহমা একটা চমৎকার নিক। প্লীজ বদলাবেন না সহসচলের দিব্বি।
  • commentS | 162.158.107.84 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১৮
  • মহারাষ্ট্রে ব্যাপারটা আমার সেরকম মনে হয়নি। অন্তত বম্বেতে বা জেনারালি মারাঠিরা অতটা উগ্র জাত নয়। যেকারণে রাজ ঠাকরের পলিটিক্স চললো না। উদ্ভবকেও সফট হতে হচ্ছে। মুম্বাই মারাত্মক কসমোপলিটান। দুয়েকটা লোকেশান ছাড়া মারাঠিদের খুঁজেই পাওয়া যায়্না। সেটা ক্রমশঃ পুরো মহারাষ্ট্রেই ছড়িয়েছে। এমনিতেও ক্যাপিটাল সবই অন্যদের হাতে। ফলে মহারাষ্ট্রে সেরকম হওয়া মুশকিল আছে। মহারাষ্ট্র থেকে লোক সড়লে যে সেখানকার অর্থনীতির ক্ষতি হবে সেটা ওখানকার লোকেরা বোঝে।
  • commentS | 162.158.107.84 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১২
  • গুজরাতে ২০০২ তেও এইধরনের দাবী ওঠে। গুজরাত ইজ ফর গুজরাতিজ। তখন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয় যে সবথেকে বেশি ইমিগ্রেশান, এমিগ্রেশান হয়েছে গুজরাত থেকেই। সেইকালে বোধয় ডিসকোর্সের অবস্থা একটু বেটার ছিল, তাই সবাই চুপচাপ হয়ে যেত। এখন তো জোড় যার, মুলুক তার। তা যে দুটো গুজরাতিকে দিল্লি পাঠিয়েছে, তাদেরকে ফেরত নিয়ে নিলে আমিও ভেবে দেখবো।

    এখন ট্রাম্পের সাপোর্টাররা আম্রিগায় যেটা বলে সেটা ব্যাঙ্গালোরের লোকেরা আগেই বলতো। অন্য জায়্গার লোকেরা এসে আমাদের চাকরি (আইটি তে) নিয়ে নিল। বেশ একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। বক্তব্য ছিল যে তোমরা না এলে এইসব চাকরি আমাদের লোকেরাই করতো। আর নর্থ ইন্ডিয়ানরা আসার পর ক্রাইম বেড়ে গেছে, বা নর্থ ইন্ডিয়ানদের জন্য ক্রাইম বেড়ে গেছে টাইপের বক্তব্য আগেও ছিল।
  • commentg | 162.158.154.30 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১০
  • ১৫২৬ ও বলতে পারে বা ১১৭৬ ।
  • commentg | 162.158.154.30 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:০৫
  • এগ্রিড।
    ফ্লোরেন্সএ একটা চার্চ এ লেখা আছে, দুয়োমোর ঠিক পেছনে, ওখানে নাকি দান্তে র জন্ম, নাকি ওর মেয়ের জন্ম এগজ্যাক্টলি ভুলে গেছি, একদম ছোট একটা চ্যাপেল। এবার আমি বহুত নেকা সি টাইপের হয়ে ওখানে এতো ক্ষণ ওখানে বসে ছিলাম, যে মাইরি ট্রেন মিস হয়ে গেলো, এবং অল্প দূরে নেয়ামত ডেভিড দেখার বেশি সময় পাওয়া গেল না। তাইতে ক্লিয়ারলি সঙ্গিনী অফেন্ডেড হয়েছিলেন, আমি অবশ্য অসভ্যতামি টি ঐতিহাসিক বলে তেমন রাগ করি নি :-) এবং ছোট হু: জিনিসটা র সঙ্গে রেনেসাঁ` আমলের একটা ধারণা জড়িয়ে আছে শোনা গেছিলো, যে তখন নাকি ধারণা প্রবল হয়, যে ইন্টেলেকচুয়াল পুরুষ এর ইন্সট্রুমেন্ট ছোট হবে, তো আমি অনৈতিহাসিক ভাবে এটা যে কতদিন আগে ফ্রয়েড এর আগে থেকেই জানি সেটা আর গলা উঁচু করে বলিনি , অচেনার একটা আনন্দ থাকা ভালো এই যুক্তি তে ;-)

  • commentb | 141.101.98.9 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:০৩
  • ১৮২৬ বলে নি এটাই ভাগ্য।
  • commentPM | 162.158.7.130 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৫৮


  • "কেন্দ্রের কমিটির সুপারিশে অধিকার হারাবেন আসামের বিপুল অংশের মানুষ

    এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ১৯৫১ সালের পরে ও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে আসামে এসে বসবাসকারী ও তাদের উত্তরাধিকারীরা ভূমিপুত্র নন। তারা আসামে বসবাস করলেও তাদের জমি, চাকরি, রাজনৈতিক, ভাষিক সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।

    ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ ধরে রাজ্যের ভূমিপুত্রের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হোক। ভূমিপুত্রদের জন্য জমি, ভাষা, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক সংরক্ষণ করতে হবে। চাকরিতে ভূমিপুত্রদের ৮০ শতাংশ সংরক্ষণ থাকতে হবে। বিধানসভার দুই তৃতীয়াংশ আসন ভূমিপুত্রদের জন্য সংরক্ষণ থাকতে হবে। ভূমিপুত্রদের জন্য রাজ্য বিধানসভায় উচ্চসদন গঠন করতে হবে। এছাড়া আসামে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) চালু করতে হবে।"

    এগুলো সত্যি হলে তো বিরাট চাপ :(

    এরপর মহারাষ্ট্র , গুজরাট ও এটাই করবে . ওদের মাল সারা ভারতে বেচতে পারবে কিন্তু অন্য্ রাজ্যের লোক ওখানে কাজ কারাতে পারবে না .
  • comment | 162.158.158.180 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৫৬
  • একলহমা ,নিক টা বদলান প্লিজ। ওকালহোমা হয়ে যাচ্ছে মাইরি, টাইপ করতে গেলে।
    মনের কথা বলেছেন। হয়তো অনেকেই এক মত্ হবেন। এখানে। অনেকেই আছেন এই আড্ডায় আর ইন্টারেস্ট পান না, তারা থাকলে আপনার আরও ভালো লাগতো।

    আমি একটা সত্যের সঙ্গে আপাতত রিকনসাইলড, আমি সম্পূর্ণ বাল, সমস্ত অর্থে, এবং উত্তরণ সম্ভাবনাহীন, অন্নচিন্তা কে দোষ দেই না, ঘটে বাংলা মাল নেই। কখনোই দরিদ্র বা সুযোগহীন ছিলাম না, উল্টে অতি সুযোগ পেয়েছি পাবলিক সেক্টর এর আমলের সস্তা রিজনবলি হাই কোয়ালিটি র শিক্ষার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু কিসু করতে পারিনি, এটা ও টা পড়ে একটু চেষ্টা করি ইন্টারেষ্টিম কিসু পেতে, বেশির ভাগ সময়েই পাই না। সেটা সময়াভাব না।

    বাই দা oye, এভরিওয়ান,
    আমিজানি না এটা ক্লিয়ার কিনা, আজ আমি অরিন/অটোজ দের সঙ্গে সুদূই ওমা ড্যাকো আমি দুই পাতা পড়সি, বলার জইন্য, ঝগড়া বাধাতে লম্বা লম্বা পোস্ট করি নি , শুধু মোদ্দা ছিল, কন্টেক্স্ট কে বাদ দিয়ে জীবানানন্দ পড়া ঝাড় , e শুধু ভাষাৰ এমনকি কল্পনার ইমারত না। আলোচনা ঘোরানোর কোন উদ্দেশ্য ছিল না, তাইলে এক ই বিষহয়ে বীরের মতো টাইপো সহ ঢিলে প্যান্টে বাঙ্গালীর দুর্দিন সম সংকট অনুমানে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করতাম না :-)))

  • commentসিএস | 162.158.119.46 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৪৫
  • লিখব বলেছি, কখন লিখব বলিনি । ঃ-)

    একোর মত না হলেও, এটা মনে করি, যে মডার্নিস্টদের সম্বন্ধে বলতে গেলে, এদেশ হোক বা ওদেশ, দান্তেকে এড়িয়ে যাওয়া মুশকিল; বিনা কারণে, এনারা দান্তেকে রেফার করেননি। পাঁচশো-ছশো বছরের আগে হলেও দান্তের সাথে এনারা যুগসখ্যতা খুঁজে পেয়েছিলেন হয়ত, জীবনান্দের প্রবন্ধে তো দান্তের প্রসঙ্গ আছে, মহাভারতের সাথেই।
  • commentAnjan Banerjee | 162.158.118.245 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৪১
  • #সোনালী #গল্প

    অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    ******************

    অনেক অলিগলি পেরিয়ে টালির চালার ঘরটায় পৌঁছন যায়। ঘরটার দুপাশে লেদের কারখানা। সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ঘর্ঘর আওয়াজ। এখানেই এখন শ্যামলী থাকে— শ্যামলী সরকার। অভীক সরকারের বিধবা স্ত্রী। অভীক মার্ডার হয়েছে প্রায় তিনবছর আগে। নাইট ডিউটি ছিল । ফ্যাকট্রির পেছন দিকে গোডাউনের পাশের জায়গাটায় মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। মাথার পেছনে ভারি কিছু দিয়ে মারা হয়েছিল। গোডাউন থেকে নিয়মিত যন্ত্রপাতি লোপাটের রহস্য ধরে ফেলেছিল অভীক। খুব সম্ভবত সেই জন্যই তাকে প্রাণ দিতে হল। যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে সন্দেহভাজন অভিযুক্তদের ছুঁতে পারেনি কেউ। সাক্ষীদেরই বা দোষ কি ? তাদেরও তো প্রাণের মায়া আছে। শ্যামলী তার পরেও হাল ছাড়েনি। দুটো ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে আগলে রেখে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গেছে বছরখানেক।সুবিচারের আশায় ছুটে বেড়িয়েছে এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত। গয়নাগাঁটি বিক্রি করে অবিবেচক উকিলের নিরন্তর চাহিদা মিটিয়েছে। সম্পূর্ণ একাকী লড়াই চালিয়ে গেছে। এর মধ্যে হুমকি আসতে শুরু করল। কি শ্বশুর বাড়ি, কি বাপের বাড়ি কোন দিক থেকেই কোন সাহায্য নেই। সাহায্য করবে কি তারা সব ভয়ে কেঁচো হয়ে আছে। শত্রুপক্ষ থেকে হুমকির মাত্রা বাড়তে থাকল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। মোবাইলে হুমকি, রাস্তায় চলতে চলতে হুমকি অজানা অচেনা লোকের। বুকের রক্ত চলকে ওঠে ভয়ে। শ্যামলী তখনও পিছু হটেনি। পণ ছিল, এর শেষ দেখে তবে ছাড়বে। কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকেরা— যাদের ছেলে খুন হয়েছে তারাই চাপ দিতে লাগল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। স্বয়ং শ্বশুরমশাই বললেন,
    ‘ কি আর হবে ওসব করে । মিছিমিছি শত্রু বাড়ানো.... যে গেছে সে তো গেছেই .... এখন আমরা যদি কটা দিন শান্তিতে বাঁচতে পারি.... ছেড়ে দাও বউমা এসব কারবার।’
    তারা সবসময়ে শত্রুভয়ে কুঁকড়ে থাকত। একটা দু:স্বপ্নের মধ্যে বেঁচে থাকত অষ্টপ্রহর । সেই আতঙ্ক থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য , মানে, অপরাধিদের কাছে নিজেদের বশ্যতা প্রমাণ করার জন্যই বোধহয় দু দুটো বাচ্চা সমেত শ্যামলীকে তার শ্শুরবাডির লোকেরা একদিন বাড়ি থেকে রাস্তায় বের করে দিল। শ্যামলীর মামলা চালাবার আর কোন রাস্তা তো রইলই না উপরন্তু আশ্রয়হীন হয়ে গেল। বাপের বাড়ির লোকেরাও মুখ ফিরিয়ে নিল হাত ধুয়ে ফেলার ভঙ্গীতে। ভয়ের তাড়ায়— এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
    হিমাংশুর সঙ্গে শ্যামলীর যোগাযোগ হল একটু অদ্ভুতভাবে। শ্যামলী ছেলেমেয়েকে নিয়ে হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নিয়েছিল । হলদিয়া থেকে শেষ ট্রেনে হিমাংশু এসে হাওড়ায় নামল সেদিন। বছর দুই আগের ঘটনা।
    নেমে দেখল একজন মহিলা আর দুটো বাচ্চা একজন আর পি এফ-এর খপ্পরে পড়েছে। নানাভাবে জেরা করে জেরবার এবং উত্যক্ত করছে মহিলাকে। বাচ্চা দুটোর করুণ এবং ভয়পীড়িত শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে তার নিজের ছোটবেলা এবং ভাইবোন দুটোর কথা মনে পড়ল। সে এগিয়ে গিয়ে আর পি এফ-এর বন্দুকধারীকে বলল, ‘ কি হয়েছে সাহেব , কি ব্যাপার ? ‘ রেলপুলিশটি হিমাংশুর উপস্থিতিকে কোন গুরুত্বই দিল না। লোকটি বাঙালী। সে শ্যামলীকে তাড়া দিতে লাগল—
    ‘ এ-ই ওঠ ওঠ... তাড়াতাড়ি... চল চল... নক্সা করো না মেলা ‘। হিমাংশু বুঝতে পারল পুলিশটা শ্যামলীদের আর পি এফ অফিসে নিয়ে ফেলতে চাইছে। তারপর নানারকম কেস খাইয়ে দলাই মলাই করার সুবিধে হবে। হিমাংশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে কড়া গলায় বলল, ‘ আপনার কি চাই এখানে বলুনতো....যান যান নিজের কাজে যান.... আমাকে আমার কাজ করতে দিন... ‘
    হিমাংশু পুলিশটার একদম কাছ ঘেঁসে এল। কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, ‘ তুমি তো ভাই একাই আছ .... কত লাগবে ? ‘
    — ‘ আ: , কি যে বিরক্ত করেন না আপনারা.... কাজের সময়... আসুন এ ধারে আসুন... ‘
    হাজার টাকা থেকে দরাদরি শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত সাতশো টাকায় রফা হল।
  • commentঅর্জুন | 162.158.118.235 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৪০
  • জীবনানন্দকে নিয়ে আলোচনা গুলো ভাল লাগছে। কিন্তু জীবনানন্দ নিয়ে সবাই বড্ড সেরিব্রেল হতে চায়। সমালোচকদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। 

  • commentg | 162.158.155.115 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৩৫
  • সি এস তুমি লিখবে বলাতে খুব ই খুশি হোলাম, লিখে ফেল্লে আরো ই খুশি হবো ঃ-))) যা ল্যাদ বাবা। কন্টেম্পোরারি কে অ্যাড্রেস করাই না, শ্বাশ্বত কিসু কে পাত্তা না দেওয় বা যে কোনো স্যান্কটিটি কে সাবভার্ট করাটাও , ইরেভারেন্স এর চর্চাও আধুনিকতার একটা কাজ।

    তোবে তোমার একটু উম্বের্তো ইকো গোছের রোগ আছে মাইরি, কেউ পোস্ট মডার্নিজম এর কোথা বোল্লেই উনি দান্তে তে পোস্ট মডার্নিস্ট ট্রেইট দেখতে পেতেন, অন লিটেরেচার এর সেই প্রবন্ধটার নাম টা আর এখন মোনে নেই।

    তবে দান্তে এক্দোম গুছিয়ে একটু বোলো, বাঙ্গালি ন্যাশনালিস্ট পজিশন থেকে জীবনানন্দ পড়া জায়েজ হোলেও আর যাই হোক ইনসুলার পজিশন থেকে শব্দ সৌকর্যে ভেসে গিয়ে জীবনানন্দ পড়া মুশকিল। ভদ্রলোক ইঙ্গ্রেজি সাহিত্য , ইউরোপ নিয়ে ভাব্তেন, আর মোনে মোনে হয়্তো বুব আর সুধীন দত্ত আর সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য দের কোলকেতে দের সঙ্গে একেবারেই লিম্যা ট্র‌্যাডিশনের পূর্বসূরী দের মতো (মনে মনে) তর্জা করতেন। আমি ভূমেন্দ্র বাবু একতু অয়্ভয়েড কোরি, পার্সোনাল ডিটেল বেশি আছে বোলে, কিন্তু সাইকো অ্যানালিসিসে হোয়্তো ও ছাড়া গোতি নেই। আমার একটা বেম্মো কুন্ঠা আছে মানুষের পার্সোনাল লাইফ সম্পর্কে আগ্রহো প্রকাশে, তবে তাতে যে অ্যানালিসিসে সোর্স সরিয়ে রাখার ভুল হোয় বুঝি। যাই হোক তুমি শুধু লিখবে না বোলে, লিখেই ফেলো। দেখো তার পরে অন্য রা সকলেই দু পয়হা দেবে।
  • comment অপু | 172.69.134.188 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৪৪
  • এল সিএম দার দেওয়া কবিতার টই টা ব্রাউজ করলাম। পরে সময় নিয়ে পড়বো।
  • commentএকলহমা | 162.158.187.54 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৩০
  • @ সি এস
    সে তো চমৎকার কথা! হয়ে যাক না!
  • commentসিএস | 162.158.118.39 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:২৪
  • খ লিখেছে দেখলাম, আধুনিক সাহিত্যের মূল অবস্থানটাই হলো, কনটেম্পোরারিকে অ্যাড্রেস করা, এই নিয়ে দু'টো কথা লেখা যায়। মানে দান্তেকে টেনে এনে আর কি । ঃ-)
  • commentএকলহমা | 108.162.237.129 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:১৬
  • @গ
    অনেক কথা বুঝতে পারিনা। সবচেয়ে ভালভাবে যেটা বুঝি, বেশীর ভাগ কথা আর কোনদিন-ই বোঝা হবে না। সময় সামর্থ্য দুটোই অন্নচিন্তায়, অন্য অন্য চিন্তায় খেয়ে গেছে। এখন একরোখা কোনও বেঁটে লোকে যেমন (নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে, এর আর মার নেই) ভিড়ের পিছন থেকে কখনো এর-ওর বগলের তলা দিয়ে কখনো এর কাঁধ ওর কাঁধ খামচে লাফিয়ে উঠে ভিড়ের মধ্যিখানের আকর্ষণটিকে দেখার জন্য অন্যের অজস্র অসুবিধা ঘটিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষার ট্যান্টালাসীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়, সেইভাবে আমার ঘোঁতঘোঁতে মাথাটা ঢুকিয়ে দিই। তারপরও যে আপনাদের সকলের পরিশ্রমে জারিয়ে তোলা সোনালী তরলের একটু স্বাদ আর অঢেল ঘ্রাণ পাই, সেটা আপনাদের আড্ডাবাজীতেই আনন্দ পাওয়ার অপার আহ্লাদী প্রয়াস আর প্রশ্রয়ের জন্য। আপনাদের জন্যই প্রিয় কবির সাথে দিনটা কাটল দারুণভাবে। ভালবাসা জানবেন।
  • commentg | 162.158.159.49 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:১৫
  • ওরে আকাকে কেউ এক ভালো কপি গৌতম ভদ্র দে। কিছু পাতা ছিড়ে গেছে মনে হয়।

    এই মাইরি, আমি কলকাতা থেকে প্রকাশিত উর্দু মিলস এন্ড বুন গোছের কিছু উপন্যাসের বিরাট সম্ভারের উপরে বেশ কিছু ভালো রেফারেন্স পেয়েছি। পড়ে যদি উদ্ধার কিসু হয় জানাবো। আমার ধারণা ঊনবিংশ শতকের আরবান উর্দু, আওয়াধ এর পতন, আর পরে প্রোগ্রেসিভ রিয়ালিজম এর আমলের উর্দুর মাঝে যে কিশ-উর্দু তার সম্পর্কে কম আলোচনা হয়েছে, ।,
  • commentঅপু | 162.158.22.75 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:১০
  • যা শালা!! ইন্স্যুরেন্স সমস্যা টা রিয়েল। এ মাসেই রিনিয়্যু করতে হবে।

    বোধি দা,তুমি "টোটাল লোক" মাইরি !! :)))
  • commentসিএস | 162.158.118.245 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:০৮
  • এইসব 'বিপথগামিনীদের' লেখাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষেরা লিখত। একটা বড় উদাহরণ হল, মানদা দেবীর 'শিক্ষিতা পতিতার আত্মচরিত'। এক পুরুষের লেখা, মেয়েরা বেশী পড়াশোনা করে সমজে বেরোলে কী ক্ষতি হতে পারে সেই ব্যাপারে সাবধান করার জন্য। সত্যি আত্মজীবনী কিনা সন্দেহ থাকে এইসব লেখার।
  • comment অপু | 162.158.22.75 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:০৭
  • বোঝো !!! :)))))

    "এক ই অঙ্গে এত রূপ!!" :))
  • commentaka | 108.162.238.232 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:০৬
  • ১৮৮০ সনে রচিত এই বই দাদা ও দিদিরা বাঙ্গালী বারাঙ্গনাদের প্রকাশিত রচনার মধ্যে প্রথম কথাসাহিত্য। এ শুধু নিছক প্রেম কাহিনী বা মৃদুভাষী অশ্লীল সাহিত্য (softcore pornography) নয়, হিন্দু সমাজের চিরকালীন অনুসৃত পাপপুণ্যের হিসেব নিকেশও বলা যায়। পড়ে দেখুন, চণ্ডীদাসের আদিরসাত্মক ধারা, বিদ্যাসুন্দরের কাব্যশৈলী অনুসরণে লিখিত এক মরালিটি টেল, দাম মাত্র ২৭৫ টাকা।
  • commentঅপু | 162.158.22.75 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:০৫
  • খুব সম্ভবত: প্রতিভা বসুর আত্মজীবনী তে পড়েছিলাম জীবনানন্দ নাকি একবার ওনাকে জিগিয়েছিলেন
    " আচ্ছা উপন্যাস লিখলে কি বেশী টাকা পাওয়া যায়?"

    ওই লাইন টা পড়ে খুব কষ্ট হয়েছিল
  • commentহনু/খ/গ/জি | 162.158.166.160 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:০০
  • আমি তোর বড়ো জ্যাঠামশাই রে বাঁদর ছেলে - হনু /খ/গ/জি
  • commentg | 162.158.166.160 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৫৮
  • হ্যাঁ` তবে বরাবর ই , জীবদ্দশা সহ, জীবনানন্দ কে বরাবরই ট্রাম শুধু না, গাড়ীর ইনসিওরেন্স এর সঙ্গে কম্পিট করতে হয়েছে :-) তিনি এমনি এমনি পারসিকিউশান ম্যানিয়ায় ভোগেন নি বা তার ইন্টেলেক্ট এর কারণেই মিসান্থ্রপ হয়েছেন :-)))) ওঁকে দেখলে নিজেদের জীবনের বা সময়ের ইন্টেলেকচুয়াল ক্রাইসিস কে (একেবারে নেই তা না) হাস্যকর লাগে।

    :-)))))
  • commentaka | 162.158.187.12 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৫৭
  • আমার কাছে একটি বই আছে, বেশ কদিন আগে কিনেছিলাম অনেক কবিতা আছে, কিছু গদ্যও আছে।

    বটতলা প্রকাশনার “কামিনী কলন্ক“ নবীনকালী দেবীর রচিত। পড়ে দেখতে পারেন ঠকবেন না।

    চেনা লোকের, জানা পদ্যতো দাদাভাই ও দিদিমণিরা অনেক পড়লেন, পড়ে দেখুন এক বিপথগামিনীর কথন, মাত্র ২৭৫ টাকা।
  • commentb | 162.158.159.77 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৫৪
  • নানা, জীবনানন্দের তো এটা ছিলই। ঐ সময়ের অন্য বড় কবি, যেমন বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ (বু ব কি বড়ো কবি? হবেন হয়তো), এনারা সবাই অধ্যাপক + কবি। এটা এক্কেবারে ভেঙে যাচ্ছে কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর লোকজন কবিতা লেখা শুরু করার পরে।
  • comment অপু | 162.158.166.58 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৫২
  • কিন্তু g তোমাকে ঠিক চিনতে পারছি নি। একটু হিন্টস দাও প্লিজ :))
  • comment অপু | 162.158.166.58 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৪৮
  • এলসিএম দা, ধন্যযোগ।
  • commentঅপু | 162.158.166.58 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৪৭
  • g, না না টন্ট করি নি। টন্ট করার কোন যোগ্যতা ই আমার নেই। লিখলাম না কবিতা বুঝতে পারি না। তবে শিখতে চাই। খুব মনযোগী ছাত্র।
    বিভিন্ন বিষয়ে এত কিছ জানতে পারি বলেই গুরুর পাতায় আসা।

    "হঠাৎ দেখা" অত্যন্ত প্রিয় কবিতা।
    হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। তাই জানতে চাইছিলাম এর অন্য কোন অর্থ আছে কিনা ?

    আর "সমর সেন" র গল্প পুরোনো। বিবেকানন্দের সাথে এর পারফেক্ট নেগেটিভ কোরেলেশন। :)))
  • commentg | 172.69.134.14 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৪৬
  • লহমা কে কোনো পোস্টে কেই অনাধিকারী মনে হয় নি। কাউকেই (নিজেকে সহ) অধিকারী ও মনে হয় নি। ইন ফ্যাক্ট আমার তো আপনার পোস্টে অসম্ভব সেনসিবল লাগে ছিল।
  • commento | 172.69.22.205 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৪১
  • আসলে কিছু না, বই নিয়ে গপ্পো করার বিশেষ জায়গা নেই জীবনে। সেদিক থেকে গুরুতে একটা স্পেস পাওয়া গেছে। এই আর কি! ঃ-))) জীবনানন্দের আর সবকিছু ছেড়ে স্রেফ পড়ার পরিধি ভাবলেই রোমাঞ্চ জাগে। 'বিভা' নভেলাটিতে সাহিত্যে অশ্লীলতার একটি ডিসকোর্স উপস্থিত করছেন। সেখানে এলিজাবেথ লোমন্ডের 'আই হ্যাভ বিন ইয়ং' বলে একটি ফেমিনিস্ট উপন্যাসের কথা বলছেন। কে এই লোমন্ড? আমি জানি না। গুগল করে মনে হয় ওয়ান বুক অথর। ভদ্রলোক এইসব সেসময়ে বসে বসে পড়েছিলেন। জীবনানন্দের বেশীরভাগ মেয়ে চরিত্ররা প্রচুর বই পড়ে। এও সেসময়ের লেখকদের লেখায় তেমন দেখিনা। 'কল্যাণী'-তে দেখুন কল্যাণী ধমক খাচ্ছে বাবার কাছে ফরাসী উপন্যাস পড়ার জন্য। নানারকম বইয়ের কথা বারবার এসেছে। ডিকেন্স তো ভারী প্রিয় ছিল বোধহয়। কারুবাসনাতে আছে, আলমারিতে সাজানো ডিকেন্সের বই দেখে একটি নেগেটিভ ধরনের চরিত্র বলছে 'কে হে এই রত্নটি, যার ভোগের থালা দিয়ে তাকখানা সাজিয়ে রেখেছ।' এসব আশ্চর্য ডার্ক হিউমরে জীবনানন্দ ভর্তি। :-)
  • commentg | 162.158.167.193 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:২৮
  • জীবনানন্দ কে শুধুই একটি কবি মনের সীমাহীন -কল্পনা ধরে নিলে , তার ইউরোপীয় সাহিত্যে সযত্ন প্রশিক্ষণ টি কে এবং প্রভূত রেফারেন্স কে অস্বীকার করা হয়। সি এস এর সঙ্গে একেবারেই এক মত।

    সি এস মাইরি, এটা বলে ভালো করলে , আমি জীবনান্দের বিশ্ব সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা কে আমার পোস্টে গুলোতে অন্য ইস্যু আড্রেস করতে গিয়ে আভয়েড করে ফেলেছি।

  • comment | 172.68.146.91 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:২০
  • ও র পোস্টে খুব সুন্দর লাগলো। আমা রো মনে হয়েছে, জীবনান্দের গদ্য হয় আসলে একটা আধুনিকতার ইনএভিটেবল ইমরালিটি কে আভয়েড করার কল, নতুবা গদ্যে বাপু ম্যাজিক চলবে না এরকম একটা প্রি কনসিভড ডিকেনসিয়ান রিয়েলিজম এর বারণ মতো আছে। কিন্তু তাতেই কাকু যা কাপিয়ে গেলেন, এখনো কেঁপে চলেছি।

  • commentg | 172.69.134.248 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:১১
  • ব্রতীন , কবিতা র পাঠক আমিও নই। আমার কোবিতা ভালো লাগে না। কিন্তু জীবনানন্দ কে বাদ দিয়ে, আমি বাংলা ভাষা ভালোবাসি বলাটা প্রথম কবিতা টা পড়ার পর থেকেই কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো, জীবনানন্দ সত্যি বিংশ শতকীয় আধুনিকতার প্রথম সিরিয়াসলি বাংআলি অথেন্টিক ভয়েস। তাছাড়া আমার সোশাল হিস্টরি তে আগ্রহ ছিল বলে, আমার দুটো জিনিস জাস্ট আশ্চর্য্য লাগতো, রবীন্দ্রনাথের পরে, কতখানি ভাবনার ইন্ডিপেন্ডেন্স থাকলে কল্লোল যুগ, বুদ্ধদেব বসু র কবিতা ভবন বা জীবনানন্দ হয়। এটা আমার খানিকটা মার্ক্সবাদী এস্থেটিক্স প্রভাবিত না হলেও ফ্রান্ন্কফুর্ট স্কুল প্রভ্বাবিত অবস্থান বলতে পারিশ , (থিয়োরী পড়েছি অনেক পরে, কিন্তু পরে প্লেস কোরেছি লিটেরারি ক্রিটিসিজম ধারাটা) এর সংস্কৃতি শুধু হিস্টরি অফ আইডিয়ার না, তাকে সোশাল হিস্টরি র এভিডেন্স হিসেবে দেখি, এই জন্যেই শুধু টেক্স্চুয়াল অ্যানালিসিস কে সীমাবদ্ধ লাগে। একটা লেখা পোরে একটা মোমেন্ট অফ রিভিলেশন এর সম্ভাবোনা, বা হিউমান ট্রান্সফর্মেশনের ম্যাজিকের সম্ভাবনা কে অশ্রদ্ধা না করেই বলছি, আধুনিক সাহিত্যের মূল অবস্থান টাই হলো, কনটেম্পোরারি কে অ্যাড্রেস করা, এবঙ্গ সেভাবে জ্ঞানচর্চার এমনকি অনুভূতির স্যাংকটিটি কে চ্যালেঞ্জ কোরা। এমোনকি গভীর ইন্ট্রোস্পেকটিভ লেখার ক্রাফ্ট ও কন্টেম্পোরারি র প্রতিক্রিয়া মাত্র।

    আর বাকি যে টন্ট গুলো করছিস বা আসছে, তাতে বিচলিত হচ্ছি না। আউটসাইডার হিসেবে যে কোনো সাবজেক্ট পড়ার মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি হলো, সেই সাবজেক্ট এর কন্টেম্পোরারি ডিবেট কে ধরে সাবজেক্ট টার চলন বোঝা। বিজ্ঞানচর্চায় এটা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, কিন্তু ইতিহাস , সাহিত্য বা সোশাল সায়েন্স বা লিবেরাল , অ-আর্ট্স পড়ার ক্ষেত্রে অ-প্রশিক্ষিত দৃষ্টিভংগী থেকে পড়ার সময়ে তার কোন প্রয়োজন আছে বলে মোনেই করা হয় না। একটা টেক্স্ট সব শব্দের মানে বোঝা যাচ্ছে, অতএব পড়ে আলো , শান্তি, হোমিওপ্যাথি ইন্টারপ্রেট করাটাকেই শিক্ষিত ভাবনার সআধীনতা বলে মনে করা হয়। এটা টেকনোক্রাটিক একটা চিন্তা, এ মানে বোহুবার বলেছি। তাই টন্ট্স এ অবস্থান বদলাচ্ছে না।

    আর শেষ দিকটা হল, প্রতিযোগিতা মূলক আলোচনা, যে কোনো আলোচনা কেই একটা রোড শো হিসেবে দেখা, কুস্তি হিসেবে দেখা। সেটার থেকেই টন্ট গুলো আসে, বা ইরেলিভান্ট শর্ট নোট লেখা হয় ভাটে, এটাও নতুন কিসু না।

    আমি ফ্রাংকলি জীবনানন্দ র মতো বড় আর্টিস্ট কে বোঝার যোগ্যতা রাখি না, কিন্তু তাঁর লেখা কতগুলো অদ্ভুত আগু পাছু হীন চিত্র কল্প মাত্র নয়, এটুকু বোঝার মত প্রশিক্ষন গ্রহণ কোরেছি। সময় লেগেছে।
  • commentlcm | 162.158.255.33 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:০৫
  • বোতিন,
    একটা বেসিক কবিতা দিয়ে শুরু করো
    ------
    গাব্বু (তারাপদ রায়)

    আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ লেখেনা কবিতা।
    আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ পড়েনা কবিতা।
    আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ বোঝেনা কবিতা।
    আমি জানি গাব্বু ছাড়া আর কেউ শোনেনা কবিতা।

    গাব্বুই গাব্বুর জন্য লিখে যায় গাব্বু-গাব্বু অসংখ্য কবিতা।
    গাব্বুই গাব্বুর সব ভাই-বন্ধু বড় বাবু মাতা কিংবা পিতা।
    গাব্বুর কিছুই নেই শুধু আছে গাব্বু গাব্বু অসংখ্য কবিতা।
    গাব্বুই গাব্বুর জন্যে রেখে যায় গাব্বু-গাব্বু অসংখ্য কবিতা।

    আমি জানি, সবজানি গাব্বুদের গাব্বু-গাব্বু সমস্তই জানি।
    আমি জানি গাব্বু ছাড়া কবিতার বন্ধু নেই সমস্তই জানি।
    কিন্তু আমি এখনো জানি না কিন্তু, আমি কিন্তু এখনো জানি না?
    গাব্বু শব্দের মানে, কোনো মানে, প্রকৃতই কোনো অর্থ আছে কিনা?
    --
    আর এই হল কবিতার টই - https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=11756

    বাই দ্য ওয়ে, এই টইতে দেখলাম তোমার কমেন্ট রয়েছে, কবিতা পড়ে তোমার ভাল লেগেছে বলে পোস্ট করেছ - সুতরাং, অলরেডি তোমার অভ্যেস আছে, z-আনতি পারো নি
  • commentঅপু | 172.68.146.169 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৪৫
  • :))))

    আচ্ছা আটোজ। আমাকে কবিতা পড়ার অভ্যেস করতে হবে। বেটার লেট দ্যান নেভার ।

    আচ্ছা "হঠাৎ দেখা" কিএকমাত্রিক কবিতা? একে কি কবি হারিয়ে যাওয়া কিন্তু ভুলতে না পারা প্রেম হিসেবে দেখিয়েছেন। নাকি কোন গভীরতর ব্যঞ্জনা আছে?
  • commentAtoz | 162.158.186.23 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩৮
  • কিন্তু অপু, কবি কী ভেবে লিখেছেন তা দিয়ে পাঠক কেন লিমিটেড হবে? সে তার নিজের মন অনুযায়ী কল্পনা করে নেবে বা বুঝে নেবে। তবেই তো কবিতা পল্লবিত হয়ে উঠবে, নতুন অর্থ পাবে। তাই নয়?
    (সেই যে প্রোডিউসার বসে বসে বাদাম ফাটিয়ে খাচ্ছিলেন, সিনেমায় তখন শব্দ জোড়া হচ্ছে, সেই বাদামফট গুলির শব্দ হিসেবে সিনেমায় ঢুকে গেল, ওটা আর সরানো হয় নি। কিন্তু সিনেমা-বোদ্ধারা বহুরকম উচ্চমার্গের ব্যাখা করেছেন কেন ওখানে গুলির শব্দ! ঃ-) )
  • comment অপু | 172.68.146.169 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩৮
  • একটা কাজের কথা। আমার গাড়ির ইন্স্যুরেন্স প্রতিবার ই Dewars garrage করিয়ে দেয়। মারুতি ইন্স্যুরেন্স। বাড়িতে এসে চেক নিয়ে যায়। আমি যথারীতি এ ব্যাপারে এখন অবধি চাপ নিই নি। কিন্তু গত কয়েক বছর দেখছি
    ইন্স্যুরেন্স মনোটনিক্যালি ইনক্রিসি ং
    ফা ংশন (স্ট্রিক্টলি)।

    সস্তায় পুষ্টিকর কোন ইন্স্যুরেন্স সাজেস্ট করতে পারেন?
  • commentAtoz | 162.158.186.23 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩৩
  • ওরা চিংড়ি খায় না? রাশিয়ানরা? ঃ-)
  • comment অপু | 162.158.166.160 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩১
  • আমি মূলত বা ংলা লেখা পড়ি। সব ধরনের লেখা ই। কিন্তু
    কবিতা খুব একটা পড়া হয় নি বা বলা ভালো সুবিধে করতে পারি নি। কবিতার ইন বিটুইন লাইনস আমি ঠিক অনুধাবন করতে পারি না। কবি যা ভেবে লিখেছেন সেটি ঠিকঠাক বুঝতে না পারলে কি কবিতা পড়া সার্থক হবে? আমি জানি না।

    আমার মনে হয় কবিতা পড়া একটা অভ্যাস। পড়তে পড়তে এর প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। আর এর রুপ রস গন্ধের সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
  • commento | 172.68.142.214 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৩০
  • রাশিয়ার চিংড়িটা জাস্ট টু গুড! ঃ-)))
  • comment | 172.68.146.169 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:২৬
  • *রাশিয়ার চিঠি, অবশ্য ই রাশিয়ার চিংড়ি না।
    **জীবনানন্দ গুঁতো মেরে বা়ংলা সাহিত্য কে দূই যুদ্ধে র
    র মধ্যবর্তী সময়ে নিয়ে 'আসছেন'। অন্যান্য রবীন্দ্র পরবর্তী ইপোক অতিক্রম করে।বলা যেতে পারে জীবনানন্দ ই যুদ্ধ পরবর্তী আমাদের আধুনিকতার প্রথম বাঙালি অথেনটিক উচ্চারণ।
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:২৩
  • না না অপু, সেইজন্যেই তো ঢাল নিয়ে খাড়া আছি আড়ালে। জীবনের স্রোতে ভাসিয়ে দেবো। ঃ-)
  • commentঅপু | 172.68.146.187 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:২২
  • যা ভয় পাচ্ছিলাম ঠিক তাই হল মানে বিদগ্ধ আর বিস্মৃত কবিশ্রেষ্ঠ সমর সেন চলে এলেন আলোচনায়। এরপরে
    হয়তো অচিরেই ওনার লেখা আমরা দেখতে পাবো গুরুর পাতায়। "শেষের সেদিন" কী ভয়ঙ্কর। :)))))
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১৪
  • "মনিয়ার ঘরে রাত", এই মনিয়া যে কে, সেই নিয়ে একটা নেশ ইন্টারেস্টিং লেখা পড়ছিলাম কিছুদিন আগে।
  • commento | 172.68.141.81 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১৩
  • একটা কথা বারবার মনে হয়। জীবনানন্দের উপন্যাস পড়লেই চোখে পড়ে লম্বা লম্বা সংলাপ। কথা, কথা আর শুধু কথা। কেবল 'নিরুপম যাত্রা' নামের নভেলাটি বাদ দিলে প্রায় সব উপন্যাসে সংলাপের একটা বিরাট উপস্থিতি। কিন্তু কেন? ক্রমাগত স্বাভাবিক একেবারে মুখের ভাষায় সমস্ত অসাবধান শব্দ ও পদের ব্যবহার সমেত সংলাপ লেখবার চেষ্টা করেছেন লেখক। অথচ তাঁর সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচনের কাজে ব্যবহৃত হয় না। চরিত্রেরা কেবল ঘুরে ঘুরে জলের মত কথা বলে চলে। য্যানো সব সংলাপ শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে দাঁড়ায়। এইটে আসলে তাঁর টেকনিক।

    যেকোনো ফিকশনকে যদি এভাবে দেখি যে তা আসলে চরিত্রগুলোর প্রাথমিক অবস্থান থেকে অন্তিম অবস্থানে পৌঁছনোর ট্র্যাজেকটরি, তাহলে সনাতন সাহিত্যতে আমরা এই ট্র্যাজেকটরিটি নিপুণভাবে আঁকবার একটি প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করি। যেমন ধরুন শরৎচন্দ্র। তাঁর চরিত্ররা ঘটনা ঘটায়। ঘটনা তাদের মনোজগতে ছাপ ফ্যালে। তারা আবার প্রত্রিক্রিয়া দেখায়। এভাবে ট্র্যাজেকটরিটি নির্মিত হয়। এই রিয়ালিজমের ওপর সারা পৃথিবীর ক্লাসিক সাহিত্য দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আধুনিক পৃথিবী এত জটিল হয়ে উঠল যে এভাবে সাহিত্যের পক্ষে খুব বেশি গভীরে যাওয়া দুরুহ হয়ে দাঁড়াল। ফলে ঘটনাক্রম সাজিয়ে লেখা গল্পের বদলে শুধু ঘটনার আভাস রচনা করার একটা ধারা তৈরী হল, যেখানে চরিত্রদের অ্যাকশন ও রিয়াকশনের ডিটারমিনিস্টিক ছকটিকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা হল। কাফকার মেটামরফোসিসে পাঠকের আর বোঝবার কোনো উপায় রইল না কেন গ্রেগর সামসা পোকা হয়ে গেল। এইটা আমরা জীবনানন্দের মধ্যে পাই ব্যর্থ সংলাপের ভেতর দিয়ে। মানিকের 'পদ্মানদীর মাঝি' পড়লে প্রায় ফ্রয়েড ধরে ধরে চরিত্রগুলির রিয়াকশন সাজানোর যে প্রচেষ্টা লক্ষ্য করি, জীবনানন্দে তা একেবারে অনুপস্থিত। বোধহয় জল্পাইহাটিতেই 'ফ্রয়েড কী বুঝবেন, উনি তো স্রেফ রোগীদের কফি খাইয়ে গল্প জুড়তেন' এরকম ধরনের একটা কথা আছে। একটা অদ্ভুত মরবিড জগতের ভেতর বসে মাল্যবান আর উৎপলা অজস্র অজস্র কথা বলে যায়। অথচ মাল্যবান আসলে কীরকম বা উৎপলা কীরকম সেটা পাঠকের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

    আরেকটি অদ্ভুত লেখা সুতীর্থ। সুতীর্থ সম্পর্কে আলোচনা পড়ে আমি দেখেছি এটাকে ব্যর্থ উপন্যাস বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে মাল্যবান তবু কিছুটা দুঃখী-দুঃখী বলে পাঠকের মনে দাগ কাটে, সুতীর্থ ওরকম নয়। এ খুবই বিচিত্র সমালোচনা, কিন্তু আমি সত্যিই জানি না সুতীর্থ সার্থক না ব্যর্থ উপন্যাস। সুতীর্থকে য্যানো একেবারেই বোঝা যায় না। তার জটিল মনোজগতের একটা আভাস পাওয়া যায় মাত্র। বাসমতীর উপাখ্যান পড়লে দেখা যায় কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ও এক ছাত্রীর মধ্যে লম্বা একটা সংলাপ। তার মধ্যে অবদমিত যৌনতা, অন্তর্লীন ক্ষমতার স্ট্রাকচার সবই এসেছে, অথচ আসলে তারা কী বলতে চায় তার স্রেফ আভাস মেলে মাত্র। সচরাচর তারা যা বলতে চায়, আসলে তা বলে না। আসলে জীবনানন্দের সব সংলাপ ব্যর্থ।

    না বললে পাপ হবে, এই আভাস রচনা করবার খেলা আরেকজন খেলেছেন খুব মন দিয়ে। তিনি কোর্তাজার। এই খেলার নানারকম টেকনিক পরীক্ষা করে দেখেছেন ভদ্রলোক। অবশ্য একটু ফিলোজফিক্যালি। 'অ্যাক্সলটল'-এ দেখুন একটা লোক রোজ অ্যাকোরিয়ামে গিয়ে পায়ে হাঁটা মাছেদের দ্যাখে এবং একদিন সে নিজেই একটা পায়ে হাঁটা মাছ হয়ে যায়। 'স্টোরি উইথ স্পাইডারস'-এ দেখি দুজন মানুষ সমুদ্রতীরে বাংলোতে নির্জন ছুটি কাটাতে গিয়ে দ্যাখে পাশের ঘরে দু'টি মেয়ে উঠেছে। দেয়ালের এপাশ থেকে মেয়েদুটির ফিসফিসানি শুনতে শুনতে অবসেসড মানুষদুটি মাকড়সায় পরিণত হয়। 'উই লাভ গ্লেন্ডা সো মাচ', তাতেও একদল ফ্যান প্রিয় অভিনেত্রীকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই যে মরবিড জগত কাফকার বা কোর্তাজারের বা জীবনানন্দের, এ য্যানো সাহিত্যের সমস্ত গুরুদায়িত্বকে ঠাট্টা করতে করতে ঢুকে পড়ে গভীর অন্ধকারের ভেতর।
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১২
  • কুড়ি বছর পরে

    আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি!
    আবার বছর কুড়ি পরে—
    হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
    কার্তিকের মাসে—
    তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে— তখন হলুদ নদী
    নরম-নরম হয় শর কাশ হোগলায়— মাঠের ভিতরে।

    অথবা নাইকো ধান খেতে আর;
    ব্যস্ততা নাইকো আর,
    হাঁসের নীড়ের থেকে খড়
    পাখির নীড়ের থেকে খড়
    ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের

    জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
    তখন হঠাৎ যদি মেঠে পথে পাই আমি তোমারে আবার!

    হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে
    সরু-সরু কালো-কালো ডালপালা মুখে নিয়ে তার,
    শিরীষের অথবা জামের,
    ঝাউয়ের— অামের;
    কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে!

    জীবন গিয়েছে চ’লে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
    তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!

    তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে—
    বাবলার গলির অন্ধকারে
    অশথের জানালার ফাঁকে
    কোথায় লুকায় আপনাকে!
    চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে—

    সোনালি-সোনালি চিল— শিশির শিকার ক’রে নিয়ে গেছে তারে—
    কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১১
  • শিকার

    ভোর;
    আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মতো কোমল নীল:
    চারিদিকের পেয়ারা ও নোনার গাছ টিয়ার পালকের মতো সবুজ।
    একটি তারা এখনও আকাশে রয়েছে:
    পাড়াগাঁর বাসরঘরে সব চেয়ে গোধূলি-মদির মেয়েটির মতো;
    কিংবা মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে যে-মুক্তা আমার নীল মদের
    গেলাসে রেখেছিলো
    হাজার-হাজার বছর আগে এক রাতে— তেম্নি—
    তেম্নি একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনও।

    হিমের রাতে শরীর ‘উম্’ রাখবার জন্য দেশোয়ালীরা সারারাত মাঠে
    আগুন জ্বেলেছে—
    মোরগ ফুলের মতো লাল আগুন;
    শুকনো অশ্বত্থপাতা দুমড়ে এখনও আগুন জ্বলছে তাদের;
    সূর্যের আলোয় তার রং কুঙ্কুমের মতো নেই আর;
    হ’য়ে গেছে রোগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ইচ্ছার মতো।
    সকালের আলোয় টলমল শিশিরে চারিদিকের বন ও আকাশ ময়ূরের
    সবুজ নীল ডানার মতো ঝিলমিল করছে।

    ভোর;
    সারারাত চিতাবাঘিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে-বাঁচিয়ে
    নক্ষত্রহীন, মেহগনির মতো অন্ধকারে সুন্দরীর বন থেকে অর্জুনের বনে ঘুরে-ঘুরে
    সুন্দর বাদামী হরিণ এই ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিলো।

    এসেছে সে ভোরের আলোয় নেমে;
    কচি বাতাবী লেবুর মতো সবুজ সুগন্ধি ঘাস ছিঁড়ে-ছিঁড়ে খাচ্ছে;
    নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামলো—
    ঘুমহীন ক্লান্ত বিহ্বল শরীরটাকে স্রোতের মতো একটা আবেগ দেওয়ার জন্য;
    অন্ধকারের হিম কুঞ্চিত জরায়ু ছিঁড়ে ভোরের রৌদ্রের মতো একটা বিস্তীর্ণ
    উল্লাস পাবার জন্য;
    এই নীল আকাশের নিচে সূর্যের সোনার বর্শার মতে জেগে উঠে
    সাহসে সাধে সৌন্দর্যে হরিণীর পর হরিণীকে চমক লাগিয়ে দেবার জন্য।

    একটা অদ্ভুত শব্দ।
    নদীর জল মচকাফুলের পাপড়ির মতো লাল।
    আগুন জ্বললো আবার— উষ্ণ লাল হরিণের মাংস তৈরি হ’য়ে এলো।
    নক্ষত্রের নিচে ঘাসের বিছানায় ব’সে অনেক পুরানো শিশিরভেজা গল্প;
    সিগারেটের ধোঁয়া;
    টেরিকাটা কয়েকটা মহিষের মাথা;
    এলোমেলো কয়েকট বন্দুক— হিম– নিঃস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম।
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:১০
  • আট বছর আগের একদিন

    শোনা গেল লাসকাটা ঘরে
    নিয়ে গেছে তারে;
    কাল রাতে— ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
    যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
    মরিবার হ’লো তার সাধ;

    বধূ শুয়েছিলো পাশে— শিশুটিও ছিলো;
    প্রেম ছিলো, আশা ছিলো— জ্যোৎস্নায়– তবু সে দেখিল
    কোন্ ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেল তার?
    অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল— লাসকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।
    এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি!
    রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি
    আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার;
    কোনোদিন জাগিবে না আর।

    ‘কোনোদিন জাগিবে না অার
    জানিবার গাঢ় বেদনার
    অবিরাম— অবিরাম ভার
    সহিবে না আর—’
    এই কথা বলেছিলো তারে

    চাঁদ ডুবে চ’লে গেলে— অদ্ভুত আঁধারে
    যেন তার জানালার ধারে
    উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে।

    তবুও তো পেঁচা জাগে;
    গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
    আরেকটি প্রভাতের ইশারায়— অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে।

    টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
    চারিদিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা;
    মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে।

    রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি;
    সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কতো দেখিয়াছি।

    ঘনিষ্ঠ আকাশ যেন— যেন কোন্ বিকীর্ণ জীবন
    অধিকার ক’রে আছে ইহাদের মন;
    দুরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ
    মরণের সাথে লড়িয়াছে;
    চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বত্থের কাছে
    এক গাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা-একা;
    যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের— মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা
    এই জেনে।

    অশ্বত্থের শাখা
    করেনি কি প্রতিবাদ? জোনাকির ভিড় এসে সোনালি ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে
    করেনি কি মাখামাখি?
    থুরথুরে অন্ধ পেঁচা এসে
    বলেনি কি: ‘বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে
    চমৎকার!

    ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার!’
    জানায়নি পেঁচা এসে এ তুমুল গাঢ় সমাচার?

    জীবনের এই স্বাদ– সুপক্ব যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের–
    তোমার অসহ্য বোধ হ’লো;
    মর্গে কি হৃদয় জুড়োলো
    মর্গে— গুমোটে
    থ্যাঁতা ইঁদুরের মতো রক্তমাখা ঠোঁটে।

    শোনো
    তবু এ মৃতের গল্প; কোনো
    নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয় নাই;
    বিবাহিত জীবনের সাধ
    কোথাও রাখেনি কোনো খাদ,
    সময়ের উদ্বর্তনে উঠে এসে বধূ
    মধু— আর মননের মধু
    দিয়েছে জানিতে;
    হাড়হাভাতের গ্রানি বেদনার শীতে
    এ-জীবন কোনোদিন কেঁপে ওঠে নাই;
    তাই
    লাসকাটা ঘরে
    চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের ’পরে।

    জানি— তবু জানি
    নারীর হৃদয়— প্রেম— শিশু— গৃহ– নয় সবখানি;
    অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
    আরো-এক বিপন্ন বিস্ময়
    আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
    খেলা করে;
    আমাদের ক্লান্ত করে

    ক্লান্ত— ক্লান্ত করে;
    লাসকাটা ঘরে
    সেই ক্লান্তি নাই;
    তাই
    লাসকাটা ঘরে
    চিৎ হ’য়ে শুয়ে আছে টেবিলের ’পরে।

    তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
    থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে ব’সে এসে
    চোখ পাল্টায়ে কয়: ’বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?
    চমৎকার!
    ধরা যাক্ দু-একটা ইঁদুর এবার—’

    হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
    আমিও তোমার মতো বুড়ো হবো— বুড়ি চাঁদটারে আমি ক’রে দেবো
    কালীদহে বেনোজলে পার;
    আমরা দু-জনে মিলে শূন্য ক’রে চ’লে যাবো জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।
  • commentAtoz | 162.158.187.86 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:০৯
  • আমিও বেশ কিছু রেখে যাই। এখানে পড়া যাবে। ঃ-)
    নগ্ন নির্জন হাত

    আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হ’য়ে উঠছে:
    আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার।

    যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
    অথচ যার মুখ আমি কোনোদিন দেখিনি,
    সেই নারীর মতো
    ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হ’য়ে উঠছে।

    মনে হয় কোনো বিলুপ্ত নগরীর কথা
    সেই নগরীর এক ধূসর প্রাসাদের রূপ জাগে হৃদয়ে।

    ভারতসমুদ্রের তীরে
    কিংবা ভূমধ্যসাগরের কিনারে
    অথবা টায়ার সিন্ধুর পারে
    আজ নেই, কোনো এক নগরী ছিলো একদিন,
    কোনো এক প্রাসাদ ছিলো;
    মূল্যবান আসবাবে ভরা এক প্রাসাদ:
    পারস্য গালিচা, কাশ্মীরী শাল, বেরিন তরঙ্গের নিটোল মুক্তা প্রবাল,
    আমার বিলুপ্ত হৃদয়, আমার মৃত চোখ, আমার বিলীন স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা,
    আর তুমি নারী—
    এই সব ছিলো সেই জগতে একদিন।

    অনেক কমলা রঙের রোদ ছিলো,
    অনেক কাকাতুয়া পায়রা ছিলো,
    মেহগনির ছায়াঘন পল্লব ছিলো অনেক;
    অনেক কমলা রঙের রোদ ছিলো,
    অনেক কমলা রঙের রোদ;
    আর তুমি ছিলে;
    তোমার মুখের রূপ কতো শত শতাব্দী আমি দেখি না,
    খুঁজি না।

    ফাল্গুনের অন্ধকার নিয়ে আসে সেই সমুদ্রপারের কাহিনী,
    অপরূপ খিলান ও গম্বুজের বেদনাময় রেখা,
    লুপ্ত নাসপাতির গন্ধ,
    অজস্র হরিণ ও সিংহের ছালের ধূসর পাণ্ডুলিপি,
    রামধনু রঙের কাচের জানালা,
    ময়ূরের পেখমের মতে রঙিন পর্দায়-পর্দায়
    কক্ষ ও কক্ষান্তর থেকে আরো দূর কক্ষ ও কক্ষান্তরের
    ক্ষণিক আভাস—
    আয়ুহীন স্তব্ধতা ও বিস্ময়।

    পর্দায়, গালিচায় রক্তাভ রৌদ্রের বিচ্ছুরিত স্বেদ,
    রক্তিম গেলাসে তরমুজ মদ!
    তোমার নগ্ন নির্জন হাত;

    তোমার নগ্ন নির্জন হাত।

  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • হরিদাসের বুলবুলভাজা : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • জাগ্রত শাহিন বাগ
    (লিখছেন... বিপ্লব রহমান, আজ সুপ্রিম কোর্টে, Anjan Banerjee)
    জনসন্ত্রাসের রাজধানী
    (লিখছেন... র, pi, রঞ্জন)
    কোকিল
    (লিখছেন... দেবাশিস ঘোষ)
    বিনায়করুকুর ডায়েরি
    (লিখছেন... ^&*, একলহমা , pi)
    মিষ্টিমহলের আনাচে কানাচে - দ্বিতীয় পর্ব
    (লিখছেন... দীপক দাস , দীপক, দীপক)
  • টইপত্তর : সর্বশেষ লেখাগুলি
  • আগামীর অবয়ব
    (লিখছেন... দ্রি, দ্রি, দ্রি)
    নিমো গ্রামের গল্প
    (লিখছেন... সুকি , সুকি , সুকি)
    যুক্তরাস্ট্র নির্বাচন ২০২০
    (লিখছেন... )
    প্রেমিকাকে কোলকাতাতে ফুল পাঠাবো কিভাবে?
    (লিখছেন... pi, pi, সুকি)
    পুরোনো লেখা খুঁজছেন, পাচ্ছেন না - এখানে জিজ্ঞেস করুন
    (লিখছেন... lcm, r2h, দু:শাসন)
  • হরিদাস পালেরা : যাঁরা সম্প্রতি লিখেছেন
  • শ্রী রামকৃষ্ণ : কিছু দ্বন্দ্ব : Sumana Sanyal
    (লিখছেন... রঞ্জন, এলেবেলে, Anjan Banerjee)
    যুদ্ধ : Swapan Majhi
    (লিখছেন... )
    গাধা সময়ের পদাবলী : রোমেল রহমান
    (লিখছেন... Du)
    জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৮ : শিবাংশু
    (লিখছেন... dd, i, শিবাংশু)
    তিরাশির শীত : কুশান গুপ্ত
    (লিখছেন... anandaB, ন্যাড়া, Apu)
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তত্ক্ষণাত্ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ যে কেউ যেকোনো বিষয়ে লিখতে পারেন, মতামত দিতে পারেন৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
  • যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত